Categories
বিবিধ

আত্রেয়ী নদীতে নিরাপদ বিসর্জন: হাইড্রোলিক ট্রলি থেকে পরিবেশ রক্ষার উদ্যোগ।

বালুরঘাট, দক্ষিণ দিনাজপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা :- দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাটে আত্রেয়ী নদীতে বিসর্জন চলছে। জেলা পুলিশ ও বালুরঘাট পৌরসভার তত্ত্বাবধানে।
এই মুহূর্তে একে একে প্রতিমা আসতে শুরু করেছে নদীর ঘাটে। পৌরসভার হাইড্রোলিক ট্রলি এবং ম্যানুয়ালি প্রতিমা বিসর্জন চলছে।
পরিবেশ দূষণের দিকেও নজর রাখা হয়েছে পৌরসভার পক্ষ থেকে। ভুল বেলপাতা আলাদা স্থানে সংগ্রহের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি নদীতে প্রতিমা বিসর্জনের সাথে সাথেই তুলে ফেলা হচ্ছে সেই প্রতিমা।

Share This
Categories
বিবিধ

দশমীর আনন্দে মাতলেন রাজনৈতিক ও সমাজকর্মী নেতারা।

নিজস্ব সংবাদদাতা, মালদা—- বিজয়া দশমীতে সিঁদুর খেলায় মাতলেন বিজেপির বিধায়ক গোপালচন্দ্র সাহা ও পুরাতন মালদহ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি রুম্পা রাজবংশী সরকার। পুরাতন মালদহের সমাজ কল্যাণ সমিতিতে এই মুহূর্তে চলছে সিঁদুর খেলা ও নাচ।

Share This
Categories
প্রবন্ধ বিবিধ রিভিউ

গোয়ার দুধসাগর জলপ্রপাত – প্রকৃতির এক বিস্ময়।।

গোয়া মানেই সাধারণত বিচ, নাইটলাইফ আর পার্টি কালচার – কিন্তু প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য গোয়ার অন্যতম রত্ন হলো দুধসাগর জলপ্রপাত (Dudhsagar Waterfalls)। পশ্চিমঘাট পর্বতের কোলে অবস্থিত এই জলপ্রপাত যেন প্রকৃতির এক অপূর্ব উপহার, যা প্রতি বছর অসংখ্য পর্যটককে তার দিকে টেনে আনে।


🏞️ অবস্থান ও সৌন্দর্য

দুধসাগর জলপ্রপাত গোয়া ও কর্ণাটকের সীমান্তে অবস্থিত। এটি ভারতের অন্যতম উঁচু জলপ্রপাত – প্রায় ৩১০ মিটার (১০১৭ ফুট) উঁচু থেকে জল নেমে আসে চার ধাপে। দূর থেকে তাকালে মনে হয় যেন পাহাড় বেয়ে দুধের স্রোত নেমে আসছে, তাই এর নাম “দুধসাগর” – অর্থাৎ দুধের সাগর

বর্ষার সময় যখন মন্ডোভী নদীর জলপ্রবাহ তীব্র হয়, তখন জলপ্রপাতের সৌন্দর্য চরমে পৌঁছায়। চারপাশের সবুজ বন, ঝোপঝাড় আর পাহাড়ের গর্জন মিলিয়ে এক স্বর্গীয় দৃশ্য তৈরি করে।


🚆 যাত্রা ও রোমাঞ্চ

দুধসাগর ভ্রমণের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর অংশ হলো সেখানে পৌঁছানো।

  • ট্রেনপথে: মাদগাঁও থেকে কোল্লেম (Kulem) বা কাসেলরক (Castle Rock) পর্যন্ত ট্রেন ধরে তারপর জঙ্গলপথে হেঁটে যাওয়া যায়। অনেকেই ট্রেনের জানলা থেকে জলপ্রপাতের দৃশ্য দেখতে পছন্দ করেন।
  • জিপ সাফারি: কোল্লেম থেকে জিপ সাফারি নিয়ে জঙ্গলের মধ্য দিয়ে অ্যাডভেঞ্চার ভ্রমণের অভিজ্ঞতা পাওয়া যায়।

🐾 প্রকৃতি ও বন্যপ্রাণী

দুধসাগর জলপ্রপাত ভগবান মহাবীর ওয়াইল্ডলাইফ স্যাংচুয়ারির অংশ। তাই এখানে বানর, হরিণ, পাখি, এমনকি বন্য মোষের ঝাঁকও দেখা যায়। প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য এটি এক স্বর্গরাজ্য।


📸 ফটোগ্রাফির স্বর্গ

জলপ্রপাতের কাছাকাছি গেলে চারপাশে জলকণা ছড়িয়ে পড়ে, যা এক অদ্ভুত অনুভূতি তৈরি করে। এখানে দাঁড়িয়ে ছবি তোলা, ভিডিও করা এক অনন্য অভিজ্ঞতা – বিশেষত ট্রেন যখন জলপ্রপাতের সামনের সেতু পেরিয়ে যায়, তখন সেই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরার জন্য অনেক পর্যটক অপেক্ষা করে।


🏖️ ভ্রমণ টিপস

  • সেরা সময়: জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর (বর্ষাকাল) – জলপ্রপাত তখন সবচেয়ে মনোমুগ্ধকর থাকে।
  • নিরাপত্তা: বৃষ্টির সময় পিচ্ছিল পথ সাবধানে চলতে হবে।
  • প্রস্তুতি: সঙ্গে জলরোধী ব্যাগ, হালকা খাবার ও ক্যামেরা রাখতে ভুলবেন না।

🏁 উপসংহার

দুধসাগর জলপ্রপাত শুধু একটি প্রাকৃতিক বিস্ময় নয়, এটি এক অনন্য অ্যাডভেঞ্চার। জঙ্গলের পথ, পাহাড়ের সৌন্দর্য আর গর্জনরত জলপ্রপাতের দৃশ্য আপনার মনকে পরিপূর্ণ আনন্দ দেবে। গোয়া ভ্রমণে যদি একটু অফবিট অভিজ্ঞতা চান, তাহলে দুধসাগর জলপ্রপাত আপনার ট্রাভেল লিস্টে অবশ্যই থাকা উচিত।

Share This
Categories
প্রবন্ধ বিবিধ রিভিউ

গোয়ার মোলেম ন্যাশনাল পার্ক – প্রকৃতি ও বন্যপ্রাণীর স্বর্গ।।

গোয়ার নাম শুনলেই আমাদের চোখে ভেসে ওঠে সমুদ্রসৈকত, পার্টি আর রঙিন রাতের ছবি। কিন্তু যারা প্রকৃতিপ্রেমী, বন্যপ্রাণী দেখতে ভালোবাসেন এবং শান্ত-নিরিবিলি পরিবেশ খোঁজেন, তাদের জন্য গোয়া একটি আলাদা রত্ন লুকিয়ে রেখেছে – সেটি হলো মোলেম ন্যাশনাল পার্ক (Mollem National Park)। পশ্চিমঘাটের সবুজ অরণ্যের মাঝে অবস্থিত এই পার্ক প্রকৃতি, বন্যপ্রাণী এবং অ্যাডভেঞ্চারের এক অপূর্ব মেলবন্ধন।


📍 অবস্থান ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য

মোলেম ন্যাশনাল পার্ক গোয়ার দক্ষিণ-পূর্ব অংশে, কর্ণাটক সীমান্তের কাছে অবস্থিত। এটি বৃহত্তর ভগবান মহাবীর বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের অংশ। প্রায় ২৪০ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এই পার্কে ঘন অরণ্য, ছোট ছোট নদী, ঝর্ঝর ঝর্ণা এবং পাহাড়ের সারি মিলিয়ে এক অপরূপ দৃশ্য তৈরি করে।

সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো – এখান থেকেই শুরু হয় বিখ্যাত দুধসাগর জলপ্রপাতের ট্রেক


🐾 বন্যপ্রাণীর ভাণ্ডার

এই পার্ক প্রকৃত অর্থেই জীববৈচিত্র্যের এক স্বর্গ। এখানে আপনি দেখতে পাবেন –

  • স্তন্যপায়ী প্রাণী: বন্য মোষ, চিতা, বন্য শূকর, হরিণ, ভারতীয় বাইসন (গৌর), স্লথ বিয়ার
  • পাখি: মালাবার পিয়েড হর্নবিল, কিংফিশার, উল্লুক, প্যারাকিট
  • সরীসৃপ: কিং কোবরা, পাইথন, মনিটর লিজার্ড
  • প্রজাপতি ও পোকামাকড়: নানা রঙের প্রজাপতি ও অদ্ভুত কীটপতঙ্গ

🚙 ভ্রমণের অভিজ্ঞতা

মোলেম ন্যাশনাল পার্কে প্রবেশ করার জন্য কোল্লেম (Kulem) গ্রাম থেকে জিপ সাফারি বুক করা যায়। জিপে করে ঘন জঙ্গল পেরিয়ে যখন আপনি পার্কের ভেতরে প্রবেশ করবেন, তখন প্রকৃতির রহস্যময়তা আপনাকে ঘিরে ফেলবে।

অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমীদের জন্য এখানে রয়েছে –

  • ট্রেকিং ট্রেইল
  • বাইক রাইডিং রুট
  • বন্যপ্রাণী ফটোগ্রাফির সুযোগ

🌿 বিশেষ আকর্ষণ

  • দুধসাগর জলপ্রপাত: মোলেম থেকে জঙ্গলের ভেতর দিয়ে গিয়ে দুধসাগরের ঝর্ণার গর্জন উপভোগ করা এক অনন্য অভিজ্ঞতা।
  • তাম্বডি সুরলা মহাদেব মন্দির: ১২শ শতকের এই প্রাচীন মন্দিরটি এই পার্কের কাছেই অবস্থিত এবং গোয়ার ঐতিহাসিক স্থাপত্যের অন্যতম নিদর্শন।

🏖️ সেরা সময় ও ভ্রমণ টিপস

  • সেরা সময়: অক্টোবর থেকে মার্চ – আবহাওয়া শীতল ও আরামদায়ক থাকে।
  • কি নেবেন: দূরবীন, ক্যামেরা, হালকা খাবার, পর্যাপ্ত জল এবং আরামদায়ক জুতো।
  • নিরাপত্তা: গাইডের নির্দেশ মেনে চলা খুবই জরুরি, কারণ এটি বন্যপ্রাণীর এলাকা।

🏁 উপসংহার

মোলেম ন্যাশনাল পার্ক শুধুমাত্র একটি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য নয়, এটি প্রকৃতির এক উন্মুক্ত পাঠশালা। এখানে এসে আপনি বুঝতে পারবেন প্রকৃতির সৌন্দর্য ও বন্যপ্রাণীর সংরক্ষণ কতটা গুরুত্বপূর্ণ। সমুদ্রসৈকতের বাইরে গোয়ার এই সবুজ অরণ্যে একবার ঘুরে এলে আপনার ভ্রমণ হবে আরও রঙিন ও স্মরণীয়।

Share This
Categories
প্রবন্ধ বিবিধ

গোয়ার বন্ডলা ওয়াইল্ডলাইফ স্যাংচুয়ারি – প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য এক শান্ত আশ্রয়।।

গোয়া মানেই অনেকের মনে প্রথমে ভেসে ওঠে সমুদ্রসৈকত, ক্যাসিনো আর পার্টির রঙিন ছবি। কিন্তু যারা প্রকৃতির সান্নিধ্যে সময় কাটাতে ভালোবাসেন, তাদের জন্য গোয়ার পাহাড়ি অরণ্যের কোলে রয়েছে এক শান্ত, সবুজ অভয়ারণ্য – বন্ডলা ওয়াইল্ডলাইফ স্যাংচুয়ারি (Bondla Wildlife Sanctuary)। এটি ছোট হলেও প্রকৃতিপ্রেমী, বন্যপ্রাণীপ্রেমী ও পরিবার নিয়ে বেড়াতে আসা পর্যটকদের কাছে সমান জনপ্রিয়।


📍 অবস্থান ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য

বন্ডলা স্যাংচুয়ারি গোয়ার উত্তর-পূর্ব অংশে, পন্ডা (Ponda) শহরের কাছে অবস্থিত। প্রায় ৮ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে এই সংরক্ষিত বনভূমি এক সবুজ গালিচার মতো। ঘন স্যাল, টিক ও অন্যান্য গাছপালার ছায়ায় ঢাকা এই বন যেন শহরের কোলাহল থেকে পালিয়ে আসা মানুষের জন্য প্রকৃতির কোলে বিশ্রামের স্থান।


🐒 বন্যপ্রাণীর ভাণ্ডার

এখানকার প্রধান আকর্ষণ হলো এর মিনি-জু এবং ডিয়ার সাফারি পার্ক। এখানে আপনি খুব কাছ থেকে দেখতে পারবেন –

  • স্তন্যপায়ী প্রাণী: চিতল হরিণ, সাম্বার হরিণ, ভারতীয় বাইসন (গৌর), স্লথ বিয়ার
  • প্রাণবন্ত পাখি: ময়ূর, মালাবার ট্রোগন, প্যারাকিট, ড্রোঙ্গো, উডপেকার
  • সরীসৃপ: পাইথন, মনিটর লিজার্ড, কচ্ছপ
  • প্রজাপতি: রঙিন নানা প্রজাতির প্রজাপতি যা বসন্তের সময় পুরো বনকে রঙিন করে তোলে।

এখানে একটি ছোট্ট রেসকিউ সেন্টার রয়েছে যেখানে আহত বা অসুস্থ প্রাণীদের সেবা ও চিকিৎসা করা হয়।


🌳 বিশেষ আকর্ষণ

  • ডিয়ার সাফারি: খোলা জায়গায় হরিণদের মুক্তভাবে ঘুরে বেড়াতে দেখা এক অনন্য অভিজ্ঞতা।
  • ন্যাচার ট্রেইল ও গাইডেড ট্যুর: জঙ্গলের ভেতর ছোট ছোট হাঁটার পথ রয়েছে, যা প্রকৃতিপ্রেমীদের খুব পছন্দ।
  • শিক্ষামূলক কেন্দ্র: স্কুলের বাচ্চাদের জন্য এখানে বন্যপ্রাণী সম্পর্কে শিক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা আছে।

🚙 ভ্রমণের অভিজ্ঞতা

বন্ডলা স্যাংচুয়ারি খুব বড় নয়, তাই একদিনেই এটি ঘুরে দেখা সম্ভব। পরিবারের ছোট সদস্যদের জন্যও এটি নিরাপদ এবং আনন্দদায়ক। এখানে পিকনিক স্পট, গার্ডেন এবং ভিউপয়েন্ট রয়েছে, যেখানে বসে আপনি প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেন।


🏖️ সেরা সময় ও ভ্রমণ টিপস

  • সেরা সময়: নভেম্বর থেকে মার্চ – আবহাওয়া মনোরম থাকে।
  • প্রবেশ সময়: সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা (সোমবার বন্ধ থাকে)।
  • টিপস: আরামদায়ক জুতো পরুন, পানি ও ক্যামেরা সঙ্গে নিন, বাচ্চাদের নিয়ে গেলে খাবারের ব্যবস্থা করে যান।

🏁 উপসংহার

বন্ডলা ওয়াইল্ডলাইফ স্যাংচুয়ারি ছোট হলেও এটি গোয়ার এক অমূল্য রত্ন। যারা শান্ত, পরিচ্ছন্ন, পরিবার-বান্ধব প্রকৃতির কোলে কিছু সময় কাটাতে চান, তাদের জন্য এই জায়গাটি একেবারে উপযুক্ত। এখানে এসে বুঝতে পারবেন যে গোয়া শুধু সমুদ্রসৈকতের রাজ্য নয়, এটি প্রকৃতির এক চিরসবুজ ভান্ডার।

Share This
Categories
প্রবন্ধ বিবিধ রিভিউ

🌿 গোয়ার কোটিগাও ওয়াইল্ডলাইফ স্যাংচুয়ারি – প্রকৃতির এক অমূল্য রত্ন।।

গোয়া শুধুই সমুদ্রসৈকত, পার্টি এবং ইতিহাসের জন্য বিখ্যাত নয়; প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য গোয়ার অরণ্য এবং বন্যপ্রাণীর অভয়ারণ্যও এক অপূর্ব আকর্ষণ। এর মধ্যে অন্যতম হলো কোটিগাও ওয়াইল্ডলাইফ স্যাংচুয়ারি (Cotigao Wildlife Sanctuary)। এটি গোয়ার দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত এবং প্রকৃতি ও বন্যপ্রাণীর সঙ্গে এক অনন্য সংযোগ তৈরি করে।


📍 অবস্থান ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য

কোটিগাও ওয়াইল্ডলাইফ স্যাংচুয়ারি সাওসিমে এবং কর্নারিমের কাছে অবস্থিত। এটি প্রায় ২৯০ হেক্টর বিস্তৃত এবং ঘন সবুজ বনভূমি, পাহাড়ি পথ ও ছোট নদীর ছায়া মিলিয়ে এক শান্তিপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি করে। বনাঞ্চলের মধ্যে বিভিন্ন প্রজাতির টিক, সাল, হরিতকি এবং অন্যান্য অরণ্য গাছ দেখা যায়।

জঙ্গলপথে হাঁটার সময় চারপাশে পাখির কিচিরমিচির, ঝর্ণার কলকল শব্দ এবং গাছের ছায়া প্রকৃতিপ্রেমীদের মনকে ভরে দেয়।


🐾 বন্যপ্রাণীর বৈচিত্র্য

কোটিগাও স্যাংচুয়ারি মূলত বনাঞ্চল ও পাহাড়ি অঞ্চলের জন্য পরিচিত। এখানে রয়েছে –

  • স্তন্যপায়ী প্রাণী: চিতা, হরিণ, বুনো শূকর, বুনো মোষ, লাংউর বানর
  • পাখি: মালাবার হর্নবিল, কিংফিশার, প্যারাকিট, পাখির বিভিন্ন প্রজাতি
  • সরীসৃপ ও প্রজাপতি: পাইথন, মনিটর লিজার্ড এবং রঙিন প্রজাপতি

এছাড়া এখানে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর বনজ সম্পদএথনিক সংস্কৃতি পর্যটকদের জন্য একটি বিশেষ আকর্ষণ।


🚶‍♂️ ভ্রমণের অভিজ্ঞতা

কোটিগাও স্যাংচুয়ারি পুরোপুরি অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমীদের জন্য।

  • ট্রেকিং ট্রেইল: বনাঞ্চলের ভেতরে বিভিন্ন হাঁটার পথ রয়েছে যা ভ্রমণকে স্মরণীয় করে তোলে।
  • নেচার ওয়াক: গাইডের সঙ্গে হাঁটতে গেলে বনভূমির জীববৈচিত্র্য সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায়।
  • ফটোগ্রাফি: বন্যপ্রাণী ও জঙ্গলের ছবির জন্য এটি স্বর্গরাজ্য।

এখানে গেলে পর্যটকরা শহরের কোলাহল থেকে দূরে এসে প্রকৃতির মাঝে এক শান্তিপূর্ণ সময় উপভোগ করতে পারেন।


🌿 বিশেষ আকর্ষণ

  • প্রকৃতির সৌন্দর্য: পাহাড়ি বন, ছোট নদী ও ঝর্ণার সংমিশ্রণে এক অপূর্ব পরিবেশ তৈরি হয়।
  • বন্যপ্রাণী দেখা: কিছু পর্যটক ভাগ্যবান হলে চিতা, লাংউর বা পাখি খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ পান।
  • শান্তি ও প্রশান্তি: এটি একটি কম ভিড়ের স্থান, তাই প্রকৃতিপ্রেমীরা এখানে শান্তি ও নিরিবিলি উপভোগ করতে পারেন।

🏖️ ভ্রমণ টিপস

  • সেরা সময়: নভেম্বর থেকে মার্চ – আবহাওয়া শীতল ও মনোরম থাকে।
  • প্রবেশ সময়: সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা
  • টিপস: আরামদায়ক পোশাক, জুতো, ক্যামেরা এবং পর্যাপ্ত জল সঙ্গে রাখুন।

🏁 উপসংহার

কোটিগাও ওয়াইল্ডলাইফ স্যাংচুয়ারি গোয়ার একটি নীরব, সবুজ অভয়ারণ্য। যারা প্রকৃতির মাঝে সময় কাটাতে, বন্যপ্রাণী দেখার এবং শহরের কোলাহল থেকে পালাতে চান, তাদের জন্য এটি এক অমূল্য স্থান। এখানে এসে ভ্রমণকারীরা প্রকৃতির সঙ্গে এক গভীর সংযোগ অনুভব করেন এবং মনভরে শান্তি ও আনন্দ পান।

Share This
Categories
প্রবন্ধ বিবিধ রিভিউ

গোয়া’র আরামবোল বিচ – শান্তি, সুর আর সমুদ্রের জাদু।।

গোয়ার সমুদ্রতটের ভিড়ে এক বিশেষ নাম আরামবোল বিচ। যাকে অনেক ভ্রমণপিপাসু “গোয়ার লুকানো স্বর্গ” বলে থাকেন। উত্তর গোয়ার অশ্বেম ও কেরিম বিচের মাঝখানে অবস্থিত এই সমুদ্রতট, যেখানে সমুদ্র, পাহাড়, বালি আর প্রকৃতির অপূর্ব মেলবন্ধন তৈরি করে এক অন্যরকম আবহ।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের টান

আরামবোল বিচ মূলত শান্তিপ্রেমী ও প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য আদর্শ স্থান। এখানে ভিড় কম, ফলে সমুদ্রের নির্জন সৌন্দর্য উপভোগ করা যায় নিরবচ্ছিন্নভাবে। বিস্তীর্ণ বালুকাবেলা, নীলাভ সাগরের জল আর পেছনের সবুজ পাহাড় যেন ছবির মতো এক মনোমুগ্ধকর পরিবেশ তৈরি করে। সূর্যাস্তের সময় সমুদ্রতটের রূপ আরও অপূর্ব হয়ে ওঠে, যেন আকাশ আর জল মিলে একাকার হয়ে যায়।

বিশেষ আকর্ষণ

আরামবোল বিচের আশেপাশে একটি প্রাকৃতিক ফ্রেশওয়াটার লেক রয়েছে, যেটি “আরামবোল সুইট ওয়াটার লেক” নামে পরিচিত। সমুদ্রের এত কাছে মিষ্টি জলের লেক সত্যিই বিস্ময়কর। এছাড়াও কাছেই রয়েছে একটি সালফার স্প্রিং, যার জলে স্বাস্থ্যকর গুণাগুণ আছে বলে স্থানীয়রা বিশ্বাস করেন।

আরেকটি আকর্ষণ হলো এখানকার ছোট ছোট গুহা এবং প্রাকৃতিক হাঁটার পথ। ভ্রমণকারীরা প্রায়ই পাহাড়ি পথে ট্রেক করে সমুদ্র ও লেকের সৌন্দর্য উপভোগ করেন।

সংস্কৃতি ও আবহ

আরামবোল বিচ শুধু প্রকৃতির নয়, সংস্কৃতিরও মিলনস্থল। এখানে প্রায়ই ছোটখাটো লাইভ মিউজিক পারফরম্যান্স, ড্রাম সার্কেল, যোগা ও মেডিটেশন সেশন হয়। বিদেশি পর্যটকেরা এখানে এসে দীর্ঘদিন থাকেন শান্ত পরিবেশে আত্ম-অন্বেষণের খোঁজে। প্রতি সন্ধ্যায় সমুদ্রতটে ড্রাম বাজিয়ে গান, নাচ আর হাসিখুশির পরিবেশ তৈরি হয়, যা একেবারেই ভোলার নয়।

করণীয় কাজ

  • সাগরের ধারে সূর্যস্নান ও সাঁতার কাটা।
  • প্রাকৃতিক লেকে গিয়ে স্নান করা।
  • ড্রাম সার্কেলে যোগ দিয়ে সঙ্গীতের মুগ্ধতায় ভেসে যাওয়া।
  • স্থানীয় দোকান থেকে হ্যান্ডমেড গয়না, বাদ্যযন্ত্র বা পোশাক কেনা।
  • যোগা, মেডিটেশন ও প্যারাগ্লাইডিং-এর মতো অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টসে অংশ নেওয়া।

উপসংহার

যদি ভিড়ভাট্টার বাইরে গিয়ে শান্ত, নির্জন অথচ প্রাণবন্ত কোনো জায়গায় সময় কাটাতে চান, তাহলে গোয়ার আরামবোল বিচ আপনার জন্য আদর্শ গন্তব্য। প্রকৃতির কোলে বসে সূর্যাস্ত দেখা, স্থানীয় সংস্কৃতির সাথে মিশে যাওয়া আর সাগরের ঢেউয়ের সুরে হারিয়ে যাওয়া—আরামবোল বিচ সেই অভিজ্ঞতা দেয় যা সারাজীবন মনে গেঁথে থাকে।

Share This
Categories
বিবিধ

আনন্দ-বিষাদের মিশেলে মালদায় বিজয়া দশমীর বিদায় অনুষ্ঠান।

নিজস্ব সংবাদদাতা, মালদাঃ—আজ বিজয়া দশমী।
সিঁদুর রাঙিয়ে উমাকে বিদায় জানানোর পালা।আনন্দের মাঝেও বিষাদের সুর। এই মুহূর্তে চলছে দশমীর শেষ লগ্নের পুজো। সাথে সিঁদুর খেলা ও ঢাকের তালে নাচ। আজ উমা বাবার বাড়ি ছেড়ে কৈলাসে ফিরবেন। সকলের মন ভারাক্রান্ত। পুরাতন মালদহের কালুয়াদীঘি পল্লীশ্রী পুজো মন্ডপে চলছে এই মুহূর্তে মাকে বিদায় জানানোর পালা।প্রকৃতিও সেজে উঠেছিল শরৎরানীর রূপে।
ছেলেপুলে নিয়ে কটাদিনের জন্য বাপের বাড়ি আসা।
অবশেষে কটাদিনের মায়া কাটিয়ে কৈলাসে ফিরে যাওয়ার পালা। বিজয়ার পুজো সমাপন হলে মহিলারা একে অপরকে সিঁদুরে রাঙিয়ে বিদায়ের বিষাদ ভুলে ঘরের মেয়ে উমাকে ভালোবাসা জানান।

Share This
Categories
বিবিধ

মহিলা পরিচালিত নেতাজিনগরের দুর্গোৎসব, বুনিয়াদপুরে সাংস্কৃতিক সূচনা।।

দক্ষিণ দিনাজপুর, নিজস্ব সংবাদদাতাঃ- দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বুনিয়াদপুর শররে মহিলা পরিচালিত নেতাজি নগর সার্বজনীন দুর্গোৎসব এই বছর নবম বর্ষে পদার্পণ করল। মহা সপ্তমীর সন্ধ্যায় প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মধ্য দিয়ে সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার শুভ সূচনা করেন বুনিয়াদপুর পৌরসভার পৌর প্রশাসক কমল সরকার সহ বিশিষ্ট গুণীজনেরা।

শুরুটা হয়েছিল ২০১৭ সালে, বুনিয়াদপুর পৌর শহরের বুকে নবনির্মিত একটি পাড়ার বাসিন্দারা একত্রিত হয়ে শুরু করেছিল এই মাতৃ আরাধনা। ধীরে ধীরে এই পাড়ার শ্রী বৃদ্ধি হয়েছে, ছোট্ট নেতাজিনগর এখন এক সু বিশাল পরিবার। বুনিয়াদপুর পৌর শহরের বুকে পাড়ার পুজো গুলোর মধ্যে অন্যতম এই পুজা।

এদিন সন্ধ্যায় এই পুজো মন্ডপে উপস্থিত হয়েছিলেন বুনিয়াদপুর পৌরসভার পৌর প্রশাসক আমল সরকার, উপ পৌর প্রশাসক জয়ন্ত কুন্ডু সহ বিশিষ্ট গুণীজনেরা।

Share This
Categories
বিবিধ

একশো পঞ্চাশ বছরের পথ পেরিয়ে রিস্তারা গ্রামে অটুট সরকার পরিবারের দুর্গোৎসব।

বালুরঘাট, নিজস্ব সংবাদদাতা :- দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাট ব্লকের রিস্তারা এলাকা। সেখানে সরকার পরিবারের ঠাকুরবাড়ি এ বছর অতিক্রম করল এক ঐতিহাসিক মাইলফলক—দেড়শ বছরেরও বেশি সময়ের পূজা পরম্পরা। ১২৮২ বঙ্গাব্দে পরিবারের জোতদার রূপকান্ত সরকার এলাকার মঙ্গল ও পরিবারের কল্যাণ কামনায় শুরু করেছিলেন এই দুর্গোৎসব। সেই সূত্রেই আজও অবিচলিত থেকে গিয়েছে পূজা, বংশ পরম্পরায়।

পরিবারের সদস্য ব্রতময় সরকার জানালেন, এই পুজোর পুরোহিত ও ঢাকিদের ধারাও বংশানুক্রমে চলে আসছে। অন্য পুজোগুলির তুলনায় আলাদা স্বাদ রয়েছে এই আয়োজনের। বৈষ্ণব মতে নিরামিষ ভোগেই দেবীকে আহ্বান জানানো হয় এখানে। ষষ্ঠী থেকে দশমী পর্যন্ত পরিবারের সকল সদস্যরাই নিরামিষ ভক্ষণ করেন। শুধু তাই নয়, পাঁচদিন ধরে মঙ্গলচণ্ডীর গান আর বিজয়া দশমীতে ঐতিহ্যবাহী চামুণ্ডা নাচ এই পুজোর অন্যতম আকর্ষণ।

ব্রতময় সরকারের কথায়, একসময় এই পূজোকে ঘিরে গোটা এলাকায় বসত জমজমাট মেলা। আশপাশের গ্রাম থেকে ভিড় জমত হাজারে হাজারে। সময়ের স্রোতে সেই মেলার উজ্জ্বল দিন আজ ইতিহাসে মিলিয়ে গেলেও, পরিবারের মানুষ ও গ্রামবাসীর সক্রিয় অংশগ্রহণে পূজো আজও আগের মতোই অটুট।

একশো পঞ্চাশ বছরেরও বেশি পথ পেরিয়ে এই পূজা আজ আর শুধু একটি পরিবারের নয়, গোটা এলাকার ঐতিহ্য। ইতিহাসের সেই সোনালি অধ্যায়কে বুকে নিয়ে এখনও রঙিন হয়ে ওঠে রিস্তারা গ্রাম, দুর্গোৎসবের আবহে।

Share This