নীল দরজার ওপারে (তৃতীয় পর্ব)।
তৃতীয় পর্ব — শেষ দরজা লোকটি কয়েক পা এগিয়ে এসে থামলেন। তার মুখে সময়ের গভীর ছাপ। চুলে পাক ধরেছে। চোখের কোণে অসংখ্য রেখা। কিন্তু চোখ দুটো— অদ্রিজা সেই চোখ বহুবার দেখেছে। পুরোনো ছবিতে। মায়ের ডায়েরিতে। নীলবাড়ির দেয়ালে ঝুলে থাকা ছবিতে। অদ্রিজার ঠোঁট কাঁপল। “আপনি…” লোকটি ধীরে বললেন, “আমি অমিতাভ।” সায়ন কয়েক পা এগিয়ে গেল। “আপনি […]
নীল দরজার ওপারে (দ্বিতীয় পর্ব)।
দ্বিতীয় পর্ব — জন্মের রাত ভোরের আলো তখনও পুরোপুরি ফুটেনি। নীলবাড়ির মাটির নিচের ঘরে অদ্রিজা আর সায়ন পাশাপাশি দাঁড়িয়ে। টেলিফোনের ওপাশের কণ্ঠস্বর অনেকক্ষণ আগেই থেমে গেছে। কিন্তু শেষ কথাটা এখনও অদ্রিজার কানে বাজছে— “তোমাদের দুজনের মধ্যে একজন আমার সন্তান নয়।” সায়ন ধীরে ধীরে বলল, “ফোনটা আমাকে দাও।” অদ্রিজা রিসিভারটা এগিয়ে দিল। “ওটা আমার বাবার গলা […]
নীল দরজার ওপারে (প্রথম পর্ব)।
রাত তখন এগারোটা পঁয়তাল্লিশ। শহরের শেষ বাসটাও অনেকক্ষণ আগে চলে গেছে। রাস্তার দু’পাশে বন্ধ দোকানের শাটার। মাঝে মাঝে দূরের কোনো গলিতে কুকুরের ডাক, আর তারও দূরে কোনো অচেনা ট্রেনের হুইসেল। অদ্রিজা ছাতাটা মাথার ওপর ধরে ধীরে ধীরে হাঁটছিল। তার হাতে একটা পুরোনো চাবি। চাবিটা সে পেয়েছিল আজ বিকেলে। একটা অচেনা খামের ভিতরে। খামের ওপর শুধু […]
উপন্যাস : বৃষ্টিভেজা চিঠি (তৃতীয় পর্ব)।
তৃতীয় পর্ব — শেষ চিঠি অন্ধকার সুড়ঙ্গের মধ্যে দাঁড়িয়ে ঋদ্ধি ছবিটার দিকে তাকিয়ে ছিল। হাতে ধরা টর্চের আলো কাঁপছিল। ছবির চারজন মানুষ। একজন যুবক। একজন তরুণী। একটি নবজাতক শিশু। আর শিশুটিকে কোলে নিয়ে দাঁড়িয়ে নীলার বাবা। ছবির পেছনে তারিখ লেখা— ১২ জুন, ১৯৯৮। ঋদ্ধির বুকের মধ্যে অদ্ভুত একটা চাপ অনুভূত হলো। ১৯৯৮। তার জন্মের বছর। […]
উপন্যাস :: বৃষ্টিভেজা চিঠি (দ্বিতীয় পর্ব)।।।
দ্বিতীয় পর্ব — নীলকুঠির পথে রাত তখন সাড়ে দশটা। শিউলি বাড়ির পেছনের সরু পথ ধরে ঋদ্ধি আর বৃদ্ধা এগিয়ে চলেছে। বৃষ্টি একটু কমেছে, কিন্তু চারপাশে এখনও ভেজা মাটির গন্ধ। দূরে কোথাও ব্যাঙ ডাকছে। গাছের পাতায় জমে থাকা জল টুপটাপ করে পড়ছে। ঋদ্ধির হাতে সেই কাগজ। “শিউলি নদীর ওপারে, নীলকুঠি।” নিচে নীলার হাতের লেখা— “আমি তোমার […]
উপন্যাস : বৃষ্টিভেজা চিঠি (প্রথম পর্ব)।
প্রথম পর্ব — যে চিঠি কখনও পাঠানো হয়নি শহরটা বৃষ্টিতে ভিজছিল। জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহ। সারাদিনের গরমের পর সন্ধ্যা নামতেই আকাশ কালো হয়ে এসেছিল। তারপর হঠাৎ এমন বৃষ্টি নামল, যেন আকাশের বহুদিনের জমে থাকা অভিমান একসঙ্গে ঝরে পড়ছে। কলকাতার পুরনো উত্তর শহরের সরু গলিগুলো জলমগ্ন। রাস্তার দু’পাশের বাড়িগুলোর পুরনো দেওয়াল বেয়ে জল নামছে। কোথাও জানালার কাচে […]
উপন্যাস : শেষ ট্রেনের যাত্রী (তৃতীয় পর্ব )।
তৃতীয় পর্ব — যে ফিরে এসেছিল “তোমার নাম অর্ণব। আর আজ থেকে ঠিক পঁচিশ বছর আগে তুমি এই বাড়িতে মারা গিয়েছিলে।” মেঘলার কথাটা যেন ঘরের চার দেওয়ালে ধাক্কা খেয়ে বারবার ফিরে আসছিল। অর্ণব। মারা গিয়েছিল। পঁচিশ বছর আগে। অর্ক কিছুতেই কথাগুলোর অর্থ মিলিয়ে নিতে পারছিল না। সে মেঘলার হাতটা সরিয়ে দিল। “এসব কী বলছ তুমি?” […]
উপন্যাস :: শেষ ট্রেনের যাত্রী (দ্বিতীয় পর্ব )।।।
দ্বিতীয় পর্ব — নির্ভয়পুরের বাড়ি রাত তখন প্রায় একটা। ট্রেনটা অন্ধকার পাহাড়ের বুক চিরে এগিয়ে চলেছে। জানালার বাইরে তাকিয়ে অর্ক শুধু কালো পাহাড়ের ছায়া দেখতে পাচ্ছিল। মাঝেমধ্যে দূরে কোনো অজানা গ্রামের দু-একটা আলো দেখা যাচ্ছিল, তারপর মুহূর্তের মধ্যেই সেগুলো অন্ধকারে হারিয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু অর্কের চোখ বাইরে ছিল না। তার চোখ আটকে ছিল সামনের সিটে। সেই […]
উপন্যাস :::: শেষ ট্রেনের যাত্রী (প্রথম পর্ব)।।
প্রথম পর্ব — যে মেয়েটি রাত বারোটায় এসেছিল বাইরে তখন অঝোরে বৃষ্টি। স্টেশনের ঘড়িতে রাত ১১টা ৪৭ মিনিট। পুরো প্ল্যাটফর্ম প্রায় ফাঁকা। দূরে স্টেশনমাস্টারের ঘরের জানালা দিয়ে হলুদ আলো বেরিয়ে এসে ভিজে প্ল্যাটফর্মের ওপর একটা লম্বা রেখা তৈরি করেছে। মাঝে মাঝে বিদ্যুতের ঝলকানিতে চারপাশটা কয়েক মুহূর্তের জন্য দিনের মতো উজ্জ্বল হয়ে উঠছে, তারপর আবার সবকিছু […]
অপেক্ষার ছায়া।
অধ্যায় ১: প্রথম দেখা কলকাতার গরমে হাঁপিয়ে ওঠা এক দুপুর। কলেজ স্ট্রিটের বইপাড়ায় ভিড় জমজমাট। অরণ্য দাঁড়িয়ে পুরনো বই ঘাঁটছে। হঠাৎ করেই পাশ থেকে এক মেয়ে এসে ধাক্কা দিল। “সরি!” – মেয়েটি লজ্জায় বলল। অরণ্য তাকিয়ে দেখল, সাদামাটা সালোয়ার-কামিজ পরা এক মেয়ে, চুল এলোমেলো। “কিছু হয়নি,” অরণ্য মৃদু হাসল। এটাই তাদের প্রথম পরিচয়। মেয়েটির নাম […]