Categories
কবিতা

অপেক্ষার জানালা।

জানালার পাশে বসে আছি,
বিকেল নামে ধীরে,
মেঘের ভাঁজে রোদ লুকিয়ে
স্বপ্ন আসে ফিরে।

একটা পাখি ডেকে ওঠে
অচেনা কোনো সুরে,
মনে হয়, সে খবর এনেছে
হারিয়ে যাওয়া দূরে।

পথের দিকে তাকিয়ে থাকি,
চেনা পায়ের আশায়,
সময় যেন থমকে থাকে
নীরব ভালোবাসায়।

যে মানুষটি আসবে বলে
দিন গুনেছি কত,
তার জন্যই বুকের মাঝে
জ্বলে ছোট্ট প্রদীপ যত।

হয়তো সে আর আসবে না,
হয়তো ভুলেছে পথ,
তবু কেন মনটা আজও
শোনে তারই রথ?

অপেক্ষা বড় অদ্ভুত জিনিস—
আশা রাখে বাঁচিয়ে,
হারিয়ে গেলেও মানুষকে
রাখে মনে সাজিয়ে।

তাই তো জানালাটা খোলা,
আকাশটাও নীল—
হয়তো কোনো এক সন্ধ্যায়
ফিরবে হারানো শীল।

Share This
Categories
কবিতা

নদীর মতো জীবন।

জীবন যেন নদীর মতো,
বয়ে চলে অবিরাম,
কখনও শান্ত, কখনও উন্মাদ,
কখনও হারায় নিজের নাম।

পথের মাঝে পাথর আসে,
আসে কত বাঁক,
তবু নদী থামে না কখনও,
ভাঙে নীরব ফাঁক।

কখনও তার জলে ভাসে
শিউলির মিষ্টি গন্ধ,
কখনও আবার ঝড়ের রাতে
জাগে ভয়ানক ছন্দ।

কত তীর তাকে ডাকে,
কত সেতু দেয় বাধা,
তবু সে জানে—চলতে হবে,
এটাই তার সাধনা।

মানুষও তো নদীর মতো,
হারায়, আবার গড়ে,
কখনও চোখে বৃষ্টি নামে,
কখনও স্বপ্ন ঝরে।

শেষে যখন সাগর ডাকে
অজানা নীল দেশে,
তখন বুঝি—জীবন মানে
চলা, ভালোবাসা, ভেসে।

Share This
Categories
কবিতা

বৃষ্টির কাছে ফেরা।

বৃষ্টি নামে নিঃশব্দে,
শহরের ক্লান্ত রাস্তায়,
ভেজা পাতার গন্ধ মিশে
হারিয়ে যাওয়া কথায়।

জানালার কাঁচে জলের ধারা,
মনে পড়ে কত মুখ,
কেউ এসেছে অল্প সময়,
কেউ দিয়েছে গভীর দুঃখ।

ছাদের কোণে জমা জলে
আকাশ নেয় তার ছবি,
মেঘের ভাঁজে লুকিয়ে থাকে
অচেনা কোনো কবি।

বৃষ্টির ফোঁটা বলে যেন—
“সব হারানো শেষ নয়,
শুকনো মাটির বুকেও একদিন
সবুজ পাতার জন্ম হয়।”

তাই তো আজ মন খারাপের
দরজাটা দিই খুলে,
পুরনো যত অভিমান
যাক না বৃষ্টিজলে ধুয়ে।

যে পথ একদিন থেমেছিল,
সেই পথেই ফিরব আবার,
মেঘ পেরিয়ে সূর্য উঠবে—
এই বিশ্বাসটুকুই আমার।

Share This
Categories
কবিতা

হৃদয়ের গোপন চিঠি।।

তোমাকে লেখা এই চিঠিটা
হয়তো কোনোদিন তোমার হাতে পৌঁছাবে না,
তবুও প্রতিটি শব্দে লুকিয়ে আছে
আমার অগোচর ভালোবাসা।
অনেকবার ভেবেছি বলবো—
তুমি আমার কতটা প্রিয়,
কিন্তু তোমার সামনে গেলেই
সব কথা এলোমেলো হয়ে যায়।
তখন শুধু হৃদয়টা নীরবে বলে ওঠে,
“এই মানুষটার মাঝেই আমার সমস্ত সুখ।”
জানো,
রাত গভীর হলে আমি আজও তোমার কথা ভাবি।
জানালার পাশে বসে আকাশ দেখি,
আর মনে মনে তোমার নাম লিখে রাখি তারার ভিড়ে।
তুমি হয়তো বুঝতেই পারো না,
তোমার ছোট্ট একটা হাসি
আমার পুরো দিনটা বদলে দিতে পারে।
তোমার কণ্ঠ শুনলেই
মনে হয় পৃথিবীটা হঠাৎ অনেক সুন্দর হয়ে গেছে।
আমি তোমাকে নিয়ে কোনো বড় স্বপ্ন দেখি না,
শুধু চাই—
একটা বিকেলে তোমার পাশে বসে
চুপচাপ আকাশ দেখতে।
চাই বৃষ্টির দিনে একসাথে ভিজতে,
চাই অভিমানের পর তোমার হাতটা শক্ত করে ধরতে।
তোমার চোখে মাঝে মাঝে এক অদ্ভুত বিষণ্নতা দেখি,
তখন খুব ইচ্ছে করে
তোমার সব কষ্ট নিজের করে নিতে।
তুমি জানো?
ভালোবাসা আসলে খুব শান্ত একটা অনুভূতি।
এটা চিৎকার করে নয়,
নিঃশব্দে হৃদয়ের ভেতর বেঁচে থাকে।
ঠিক যেমন তুমি বেঁচে আছো আমার মধ্যে—
অগোচরে, গভীরে, প্রতিটি নিঃশ্বাসে।
এই চিঠিটা হয়তো কোনোদিন পাঠাবো না,
তবুও লিখে রাখলাম।
কারণ কিছু কথা না বললেও
ভালোবাসা কখনও কমে যায় না।
আর যদি কোনোদিন
তুমি হঠাৎ জানতে চাও—
“কেউ কি সত্যিই আমাকে এতটা ভালোবেসেছিল?”
তাহলে আকাশের দিকে তাকিয়ো,
হয়তো বাতাস নিঃশব্দে বলে দেবে—
কেউ একজন আজও
তোমার নাম হৃদয়ের গোপন চিঠিতে লিখে রাখে।

Share This
Categories
কবিতা

শেষ বিকেলের প্রেম।

শেষ বিকেলের নরম রোদে তোমায় প্রথম দেখেছিলাম,
আকাশজুড়ে কমলা রঙ, আর বাতাসে ছিল এক অদ্ভুত শান্তি।
তুমি জানালার পাশে দাঁড়িয়ে দূরে তাকিয়ে ছিলে,
আর আমি নিঃশব্দে হারিয়ে যাচ্ছিলাম তোমার মায়াভরা চোখে।
সেদিন সূর্যটা ধীরে ধীরে ডুবছিল পশ্চিম আকাশে,
ঠিক যেমন ধীরে ধীরে আমি ডুবে যাচ্ছিলাম তোমার ভালোবাসায়।
চারপাশে পাখিরা ফিরছিল নিজেদের ঘরে,
আর আমার মন খুঁজে নিচ্ছিল তোমাকেই নিজের ঠিকানা করে।
তুমি হেসে বলেছিলে,
“বিকেলগুলো কেন এত সুন্দর জানো?”
আমি তোমার চোখের দিকে তাকিয়ে বলেছিলাম,
“কারণ এই সময়টায় তোমাকে সবচেয়ে বেশি সুন্দর লাগে।”
তোমার চুলে তখন রোদের শেষ আলো খেলছিল,
মনে হচ্ছিল কোনো কবিতা নীরবে জন্ম নিচ্ছে।
তুমি চুপচাপ পাশে বসেছিলে,
আর আমার হৃদয় হাজার গল্প লিখে যাচ্ছিল তোমাকে নিয়ে।
শেষ বিকেলের হাওয়ায় ছিল কদম ফুলের গন্ধ,
ছিল অদ্ভুত এক নরম বিষণ্নতা।
কারণ বিকেল মানেই তো ধীরে ধীরে ফুরিয়ে যাওয়া,
তবুও সেই ফুরিয়ে যাওয়ার মাঝেই লুকিয়ে থাকে সবচেয়ে সুন্দর ভালোবাসা।
আমি তোমার হাতটা আলতো করে ধরেছিলাম,
তুমি কিছু বলোনি, শুধু মৃদু হেসেছিলে।
সেই হাসির মধ্যেই ছিল হাজারটা অনুভূতি,
যা আজও আমার হৃদয়ে বেঁচে আছে।
সূর্যটা যখন একেবারে হারিয়ে গেল আকাশের কোণে,
তুমি ধীরে বলেছিলে,
“একদিন যদি আমি হারিয়ে যাই?”
আমি তখন নিঃশব্দে বলেছিলাম,
“তাহলে প্রতিটি শেষ বিকেলে আমি তোমাকেই খুঁজবো।”
আজও যখন বিকেলের আলো ধীরে ধীরে ফিকে হয়ে আসে,
আমি তোমার কথাই ভাবি।
আকাশের রঙ বদলাতে দেখলে মনে হয়,
তুমি হয়তো এখনো কোথাও বসে সেই একই আকাশ দেখছো।
শেষ বিকেলের সেই ভালোবাসা
আজও আমার সবচেয়ে প্রিয় স্মৃতি।
কারণ কিছু ভালোবাসা কখনও শেষ হয় না,
তারা শুধু বিকেলের রঙ হয়ে হৃদয়ে থেকে যায় চিরকাল।

Share This
Categories
কবিতা

তোমার চোখে হারিয়ে যাই।

তোমার চোখে প্রথম যেদিন তাকিয়েছিলাম,
মনে হয়েছিল পুরো পৃথিবী থেমে গেছে।
চারপাশের কোলাহল, মানুষের ভিড়,
সবকিছু যেন এক মুহূর্তে নিঃশব্দ হয়ে গিয়েছিল।
শুধু তোমার চোখ দুটো কথা বলছিল—
গভীর, শান্ত, অদ্ভুত এক মায়ার ভাষা।
যেখানে আমি নিজেকে হারিয়ে ফেলেছিলাম
অজান্তেই, নিঃশব্দেই।
তোমার চোখে ছিল নীল আকাশের বিস্তৃতি,
ছিল সমুদ্রের গভীরতা,
আর ছিল এমন এক ভালোবাসা,
যা শব্দ দিয়ে কখনও বোঝানো যায় না।
আমি যখন ক্লান্ত হয়ে পড়ি জীবনের ভিড়ে,
তোমার চোখের দিকেই তাকাতে ইচ্ছে করে।
কারণ সেখানে আমি খুঁজে পাই শান্তি,
খুঁজে পাই বেঁচে থাকার নতুন কারণ।
তুমি হয়তো জানো না,
তোমার চোখের হাসি আমার সবচেয়ে প্রিয় দৃশ্য।
যখন তুমি চুপচাপ তাকিয়ে থাকো,
আমার হৃদয় তখন হাজার কবিতা লিখে ফেলে।
রাতের আকাশে যত তারা জ্বলে,
তার থেকেও বেশি স্বপ্ন লুকিয়ে আছে তোমার চোখে।
আমি সেই স্বপ্নগুলোর মাঝে
নিজের একটা ছোট্ট ঠিকানা খুঁজে নিতে চাই।
তোমার চোখে কখনও অভিমান জমে,
কখনও বৃষ্টি নামে নিঃশব্দে।
আর আমি তখন খুব যত্ন করে
তোমার সব কষ্ট মুছে দিতে চাই।
তোমার চোখে তাকালে মনে হয়—
ভালোবাসা সত্যিই খুব সুন্দর একটা অনুভূতি।
যেখানে কোনো ভয় নেই,
কোনো মিথ্যে নেই,
শুধু দুটো হৃদয়ের নীরব বন্ধন আছে।
আমি হারিয়ে যেতে চাই বারবার
তোমার সেই মায়াভরা চোখের গভীরে।
যেখানে সময় থেমে যায়,
আর পৃথিবীটা শুধু তুমি আর আমি হয়ে থাকে।

Share This
Categories
কবিতা

বৃষ্টিভেজা ভালোবাসা।

বৃষ্টি নেমেছিল সেদিন খুব নিঃশব্দ রাতে,
তুমি এসেছিলে ভেজা চুল নিয়ে আমারই পথে।
চারদিকে কেবল জলরঙা অন্ধকার,
আর তোমার চোখে ছিল এক সমুদ্র ভালোবাসার।
জানালার কাঁচ বেয়ে গড়িয়ে পড়া বৃষ্টির ফোঁটা,
মনে হচ্ছিল যেন আমাদের গল্পের ছোট্ট কথা।
তুমি চুপচাপ দাঁড়িয়ে ছিলে নীল শাড়ি পরে,
আমি শুধু তাকিয়ে ছিলাম তোমার চোখের গভীরে।
হঠাৎ এক ঝলক বিদ্যুৎ আকাশ ছুঁয়ে গেল,
তোমার মুখের মায়া তখন আরো উজ্জ্বল হলো।
বৃষ্টির শব্দে ঢাকা পড়ে গিয়েছিল পৃথিবী,
শুধু হৃদয় দুটো কথা বলছিল নীরবেই।
তুমি বলেছিলে,
“এভাবে সারাজীবন পাশে থাকবে তো?”
আমি মৃদু হেসে বলেছিলাম,
“বৃষ্টি যতদিন নামবে, ততদিন ভালোবাসবো।”
তারপর ভেজা রাস্তায় পাশাপাশি হাঁটা,
হাতে হাত রেখে স্বপ্ন দেখার ব্যস্ততা।
পথের ধারের কদম ফুলের গন্ধ মেখে,
ভালোবাসা নেমে এসেছিল নরম বৃষ্টির ডেকে।
তোমার চুলে আটকে থাকা জলের ফোঁটা,
আজও আমার কবিতার সবচেয়ে সুন্দর কথা।
তোমার হাসিতে মিশে ছিল শ্রাবণের গান,
যা আজও বাজে আমার হৃদয়ের গভীর টান।
বৃষ্টি থেমে গেলেও সেই রাত থামেনি,
তোমার স্মৃতি আজও হৃদয় ছেড়ে যায়নি।
আজও যখন আকাশ ভেঙে বৃষ্টি নামে,
তখন তোমার কথাই মনে পড়ে অবিরামে।
আমি আজও জানালার ধারে দাঁড়িয়ে থাকি,
হয়তো আবার তুমি আসবে ভেজা চোখে ডাকি।
হয়তো আবার বলবে,
“চলো হারিয়ে যাই বৃষ্টিভেজা শহরে,”
আর আমি আবার তোমার হাত ধরবো
পুরনো সেই ভালোবাসার নরম ঘোরে।

Share This
Categories
কবিতা

নীল আকাশে তোমার নাম।

নীল আকাশে তোমার নাম লিখেছি একদিন,
মেঘের ভাঁজে লুকিয়ে রেখেছি হৃদয়ের রঙিন ঋণ।
বাতাস যখন ছুঁয়ে যায় সন্ধ্যার নরম আলো,
তখন মনে হয় তুমি আছো খুব কাছাকাছি ভালো।
চাঁদের সাদা আলোয় ভিজে থাকে পথ,
তোমার কথা ভাবলেই জেগে ওঠে শত রথ।
তারারাও যেন তোমার চোখের ভাষা বোঝে,
আমার সমস্ত স্বপ্ন তোমার কাছেই খোঁজে।
তুমি এলে বসন্ত নামে শুকনো হৃদয় জুড়ে,
ভালোবাসা নদীর মতো বয়ে যায় ধীরে ধীরে।
তোমার হাসি শুনলে সকাল নেমে আসে,
দুঃখগুলো হারিয়ে যায় অচেনা কোনো পাশে।
আমি তোমার নাম লিখেছি বৃষ্টির ফোঁটার গায়ে,
যেন প্রতিটি বর্ষা তোমার গল্পই গেয়ে যায়।
আমি তোমার নাম এঁকেছি নদীর জলের ঢেউয়ে,
যেন প্রতিটি স্রোত এসে তোমাকেই ছুঁয়ে দেয়।
তুমি কি জানো—
রাতের গভীরে যখন পৃথিবী ঘুমিয়ে পড়ে,
আমি তখন তোমার স্মৃতি নিয়ে বসে থাকি জানালার ধারে।
চাঁদকে বলি, “তাকে একটু দেখে এসো,”
তারারা হেসে বলে, “সে তো তোমার হৃদয়েরই দেশ।”
তোমার চোখে আমি দেখেছি নীল সমুদ্রের ডাক,
যেখানে ডুবে যেতে চায় আমার প্রতিটি হাহাকার।
তোমার কণ্ঠে শুনেছি শান্ত বিকেলের গান,
যেন পৃথিবীর সব সুখ লুকিয়ে আছে তাতে অবিরাম।
তুমি যখন অভিমান করো,
আকাশটা হঠাৎ মেঘে ঢেকে যায়।
তুমি যখন একটু হাসো,
সূর্যের আলো আবার পৃথিবীতে নেমে আসে।
আমার প্রতিটি কবিতা তোমাকে নিয়েই লেখা,
প্রতিটি ছন্দে তোমারই মায়ার দেখা।
শব্দেরা কাঁপে তোমার নাম শুনলেই,
হৃদয়টা হারিয়ে যায় তোমার চোখের খেলায়।
তুমি আমার নীল আকাশের শেষ বিকেল,
তুমি আমার ভোরের প্রথম রোদ্দুর মেখে নেওয়া চিঠি।
তুমি আমার নির্ঘুম রাতের স্বপ্ন,
তুমি আমার অদেখা ভালোবাসার সৃষ্টি।
যেদিন প্রথম তোমার হাত ধরেছিলাম,
মনে হয়েছিল পৃথিবী থেমে গেছে এক মুহূর্তের জন্য।
সময় যেন চুপচাপ দাঁড়িয়ে ছিল,
আর বাতাস শুধু তোমার চুল উড়িয়ে যাচ্ছিল ধীরে।
আমি তখন বুঝেছিলাম—
ভালোবাসা আসলে কোনো শব্দ নয়,
এটা এক অনুভূতি,
যা শুধু হৃদয় দিয়ে ছুঁয়ে দেখা যায়।
তুমি দূরে গেলে মনটা বড় একা হয়ে যায়,
চারপাশে এত মানুষ থেকেও শূন্য লাগে হায়।
তোমার অনুপস্থিতি যেন শুকনো মরুভূমি,
যেখানে বেঁচে থাকে শুধু তোমার স্মৃতির ভূমি।
তবুও আমি অপেক্ষা করি—
হয়তো কোনো এক বৃষ্টিভেজা বিকেলে,
তুমি আবার ফিরে আসবে নীল শাড়ি পরে।
হয়তো আবার বলবে,
“এত ভালোবাসো কেন আমায়?”
আর আমি হেসে বলবো,
“কারণ তোমার মাঝেই আমার পৃথিবী খুঁজে পাই।”
নীল আকাশ আজও তোমার গল্প বলে,
বাতাস আজও তোমার নাম ভাসিয়ে চলে।
আমার হৃদয় আজও তোমার পথ চেয়ে থাকে,
ভালোবাসা আজও তোমার ছোঁয়া মেখে রাখে।
যদি কোনোদিন আমি হারিয়ে যাই দূরে,
তবুও আমার কবিতাগুলো তোমার কাছেই ঘুরে।
কারণ আমার প্রতিটি শব্দে তুমি আছো,
আমার প্রতিটি নিঃশ্বাসে তোমারই ভালোবাসা বাঁচো।
আমি তোমার নাম লিখবো আকাশের শেষ তারায়,
যেন পৃথিবী জানে—
একজন মানুষ সত্যিই কাউকে এতটা ভালোবেসেছিল।
নীল আকাশে আজও তোমার নাম জ্বলজ্বল করে,
আমার সমস্ত ভালোবাসা হয়ে।
আর আমি আজও দাঁড়িয়ে আছি সেই একই পথে,
যেখানে প্রথম তোমায় দেখে হৃদয় বলেছিল—
“এই মানুষটাই আমার চিরকালের ভালোবাসা।”

Share This
Categories
কবিতা

প্রকৃত জন্মদিনের কাহিনি : মহীতোষ গায়েন।।

প্রকৃত জন্মদিন সবাই কি মনে রাখতে পারে?
পারে না,আসলে বহু মানুষ আছে তারা জানে
না তাদের প্রকৃত জন্মদিনের কথা,তারা জানে
না কখন সূর্য ওঠে,কখন অস্ত যায় সূর্য ও সুখ।

এখনো বহু মানুষ জানতে পারেনি ভালোবাসা
কাকে বলে,প্রকৃত ভালোবাসা আদৌ কেউ কি
জানে,প্রকৃত শব্দটি এখন অর্থহীন হয়ে পড়ছে;
পেটের জ্বালা আর বেঁচে থাকার লড়াইয়ে মৃত।

যে মা আজীবন স্বার্থহীনভাবে নিজের সুখ
চাওয়া পাওয়া বিসর্জন দিয়েছে অবলীলায়
একাধিক সন্তানের মুখে অন্ন যোগাতে গিয়ে
সে ভুলে গেছে ভারতবর্ষ তার নিজের দেশ।

যে ছেলেটি আশৈশব দারুণ অর্থ সংকটের
মধ‍্যে বেড়ে উঠছে,প্রতিনিয়ত লড়াই করেছে
নিজের ভাগ্যের সঙ্গে,তার জন্মদিন পালন কে
করবে?কে বুঝবে তার হৃদয়ের অনুভূতি,স্বপ্ন?

প্রকৃত জন্মদিন গোপনে পালিত হলো,খোলা
আকাশের নীচে,ফুল,পাখি,গাছ সবাই সানন্দে
শুভেচ্ছা জানালো;প্রেম,ভালোবাসা,সৃজন ও
মননে এখন শুধু চাওয়া পাওয়া স্বার্থ সদৃশ।

Share This
Categories
কবিতা

কালো রঙের সানগ্লাস : মহীতোষ গায়েন। 

বেশ কিছুদিন ধরে ভোরের স্বপ্নে
আসছে কালো রঙের সানগ্লাস…
এর কারণ বুঝি নি,বুজলাম গতকাল;
যা হয়তো হওয়ার ছিল না,ঘটার ছিল না।

কোথা থেকে কি হলো বোঝা যায় নি,সে রাতে চোখে ঘুম ছিল না পাখিরা রোজকার মত রাত ৩টেয় দক্ষিণ জানালার ধারে বকুল গাছে মিঠে সুরে ডেকে ডেকে ঘুম পাড়াতো,আজ পারে নি।

নির্ঘুম রাতে বাথরুমের জানালা দিয়ে দেখি
চাঁদ ডুবে যাচ্ছে চরাচরে,এভাবে কত কিছু
ডুবে যায়,কেউ তার খোঁজ রাখে না,যতদিন তোমার রঙ আছে,ক্ষমতা আছে,মূল্য আছে।

কালো সানগ্লাস পরলে অন্যেরা দেখতে
পাবে না তোমার চোখে সমুদ্র,তোমার বুক
মোচড়ানো ব্যথার অভিব্যক্তি,তবে এতে
দেখা যায় বেশ কিছু মানুষের রঙ,অভিনয়।

কালো রঙের সানগ্লাস ব্যবহার করছি…
অনেক কিছু দেখছি,জানছি, বুঝছি;
কোথায় কি হচ্ছ?কেন কিছু হয়নি তাও
বোঝা যায়,তবে সময় তো সব বলবে।

কালো রঙের সানগ্লাস পরে এখনো
শিখছি,দেখছি, দিবারাত্রির কাব্য-মানুষ;
এই চশমায় অনেক সময় বুঝে নেওয়া যায়
অনেক কিছুই হচ্ছে এবং হবে কালো।

একদিন আসবে ঠিকই,তোমাকেও
পরতে হবে কালো রঙের সানগ্লাস,
তোমরা না চিনলেও তোমাদের চিনে নেবে
ভূবনডাঙায় পড়ে থাকা কালো রঙের সানগ্লাস।

Share This