গল্প : নদীর ওপারের আলো।।
পশ্চিমবঙ্গের এক প্রত্যন্ত গ্রাম—চরনদী। গ্রামের একদিকে বিস্তীর্ণ নদী, অন্যদিকে ধানক্ষেত। বর্ষাকালে নদী ফুলে-ফেঁপে উঠলে গ্রামের সঙ্গে পাশের শহরের যোগাযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে যেত। নদীর ওপারে ছিল একটি ছোট হাসপাতাল। তাই গ্রামের মানুষের কাছে নদী শুধু জলধারা নয়—জীবন-মরণের সীমানা। সেই নদীতে নৌকা চালাতেন গদাধর মাঝি। বয়স ষাটের বেশি। তাঁর ছোট্ট কাঠের নৌকার নাম ছিল “আলো”। নৌকার […]
পুরোনো বইয়ের দোকান।।
কলকাতার কলেজ স্ট্রিট। বইয়ের গন্ধে ভরা এক অনন্য জগৎ। নতুন বইয়ের ভিড়ের মাঝেই একটি ছোট্ট, প্রায় ভুলে যাওয়া দোকান ছিল—”জ্ঞানদীপ বুক স্টল”। দোকানটি এতটাই ছোট যে একসঙ্গে তিনজনের বেশি ঢুকলে নড়াচড়া করাও কঠিন হয়ে যেত। দোকানের মালিক ছিলেন নির্মলবাবু। বয়স প্রায় আশি। সাদা ধুতি, ধূসর পাঞ্জাবি, নাকে গোল চশমা। তিনি শুধু বই বিক্রি করতেন না, […]
রেলস্টেশনের বেঞ্চ।
পশ্চিমবঙ্গের এক ছোট্ট রেলস্টেশন—সুবর্ণপুর। প্রতিদিন মাত্র কয়েকটি লোকাল ট্রেন সেখানে থামত। স্টেশনটি বড় ছিল না, কিন্তু তার এক কোণে রাখা একটি পুরোনো কাঠের বেঞ্চ যেন বহু বছরের ইতিহাস বয়ে নিয়ে চলেছিল। বেঞ্চটির রং উঠে গেছে, কাঠে ফাটল ধরেছে, তবু প্রতিদিন ভোরে একজন বৃদ্ধ এসে ঠিক সেই বেঞ্চেই বসতেন। তাঁর নাম শিবনাথ রায়। বয়স পঁচাত্তর। সাদা […]
বাঁশিওয়ালার সুর।
পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার একটি ছোট্ট গ্রাম—মাধবপুর। চারদিকে সবুজ ধানের ক্ষেত, কাঁচা রাস্তা, পুকুর আর তালগাছ। সন্ধ্যা নামলেই গ্রামের আকাশে ভেসে আসত এক অপূর্ব বাঁশির সুর। কেউ জানত না, বাঁশিটি কে বাজায়। গ্রামের মানুষ শুধু জানত, প্রতিদিন সূর্য ডুবে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর সেই সুর শোনা যায়। আর আশ্চর্যের বিষয়, সেই সুর শুনলেই মানুষের মন যেন অদ্ভুত […]
গল্প : বৃষ্টিভেজা ছাতা।।
আষাঢ় মাসের এক সকাল। কলকাতার আকাশ কালো মেঘে ঢাকা। কিছুক্ষণের মধ্যেই শুরু হলো মুষলধারে বৃষ্টি। রাস্তায় মানুষের ছোটাছুটি, বাসস্ট্যান্ডে ভিড়, দোকানের সামনে আশ্রয় নেওয়া মানুষ—চারদিকে শুধু বৃষ্টির শব্দ। শহরের এক কোণে থাকতেন অমরেশ চৌধুরী, অবসরপ্রাপ্ত একজন স্কুলশিক্ষক। বয়স বাহাত্তর। স্ত্রী মারা গেছেন পাঁচ বছর আগে। একমাত্র ছেলে চাকরির সূত্রে বেঙ্গালুরুতে থাকেন। অমরেশবাবুর সঙ্গী বলতে ছিল […]
গল্প : হারিয়ে যাওয়া ঘড়ি।
হুগলি জেলার ছোট্ট শহর শ্রীরামপুর। শহরের পুরোনো বাজারের এক কোণে ছিল একটি ছোট্ট ঘড়ির দোকান—”সময় ঘর”। দোকানটির মালিক ছিলেন হেমন্ত মিত্র। বয়স প্রায় সত্তর। শহরের মানুষ তাঁকে শুধু ঘড়ি মেরামতকারীর জন্য নয়, একজন সৎ ও নির্ভরযোগ্য মানুষ হিসেবেও চিনত। হেমন্তবাবুর দোকানে দেওয়াল ঘড়ি, হাতঘড়ি, পকেট ঘড়ি—কত রকমের ঘড়িই না ছিল! কেউ বলত, তাঁর হাতে নাকি […]
সেই পুরোনো বটগাছ।
নদিয়ার একটি ছোট্ট গ্রাম—বেলতলা। গ্রামের প্রবেশমুখে দাঁড়িয়ে ছিল একটি বিশাল বটগাছ। কেউ বলতে পারত না, গাছটির বয়স কত। গ্রামের সবচেয়ে বৃদ্ধ মানুষটিও বলতেন, তাঁর জন্মের আগেও নাকি গাছটি ছিল। বটগাছটি শুধু একটি গাছ ছিল না, যেন পুরো গ্রামের নীরব অভিভাবক। তার ছায়াতেই বসত গ্রামের আড্ডা, সালিশি সভা, কীর্তন, কবিগান, নাটকের মহড়া। দুপুরে কৃষকেরা বিশ্রাম নিত, […]
মাটির ঘরের আলো।
গ্রামের নাম শালবনি। চারদিকে সবুজ ধানক্ষেত, কাঁচা রাস্তা, তালগাছ আর বাঁশঝাড়। গ্রামের শেষ প্রান্তে একটি ছোট্ট মাটির ঘর। বাইরে থেকে দেখলে মনে হতো, যেন সামান্য ঝড়েই ভেঙে পড়বে। কিন্তু সেই ঘরের ভেতরেই বাস করত এমন এক স্বপ্ন, যা কোনো ঝড় ভাঙতে পারেনি। সেই ঘরেই থাকত রাহুল, তার মা সাবিত্রী দেবী এবং বৃদ্ধ দাদু হরনাথ। রাহুলের […]
রূপকথার শেষ রাজকুমারী।
অনেক অনেক বছর আগে, সাত পাহাড় আর সাত নদীর ওপারে ছিল এক সমৃদ্ধ রাজ্য—স্বর্ণপুর। চারদিকে সবুজ বন, নীল হ্রদ, উঁচু প্রাসাদ আর সুখী প্রজাদের নিয়ে রাজ্যটি যেন এক জীবন্ত রূপকথা। সেই রাজ্যের রাজা ছিলেন মহারাজ আদিত্যবীর, আর রানি মৃণালিনী দেবী। তাদের একমাত্র কন্যা ছিল রাজকুমারী অনিন্দিতা। ছোটবেলা থেকেই অনিন্দিতা ছিল দয়ালু, সাহসী এবং জ্ঞানপিপাসু। সে […]
নীল ডায়েরির রহস্য।
শহর থেকে অনেক দূরে, নদী আর সবুজ মাঠে ঘেরা একটি ছোট্ট গ্রাম—বকুলতলা। গ্রামটির মাঝখানে প্রায় একশো বছরের পুরোনো একটি পাঠাগার। একসময় এটি ছিল গ্রামের গর্ব, কিন্তু এখন ধুলো জমা তাক, ছেঁড়া বই আর ভাঙা জানালার কারণে খুব কম মানুষই সেখানে যেত। ইতিহাসের ছাত্র ঋত্বিক গবেষণার কাজে গ্রামে এসেছিল। তার কাজ ছিল পুরোনো গ্রন্থাগারগুলোর ইতিহাস সংগ্রহ […]