Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

আজ হিন্দি দিবস, জানুন কেন পালিত হয় দিনটি ও গুরুত্ব।

১৪ সেপ্টেম্বর ১৯৪৯ তারিখের স্মরণে ভারতে হিন্দি দিবস পালিত হয় যেখানে ভারতীয় সংবিধানের খসড়া তৈরির সময়-ভারতীয় প্রজাতন্ত্রে সরকারী মর্যাদা থাকা ভাষাগুলির উপর একটি সমঝোতা হয়েছিল।  খসড়া কমিটির সদস্য কে.এম. মুন্সি এবং এন. গোপালস্বামী আয়ঙ্গার পরে, সাধারণত মুন্সি-আয়ঙ্গার ফর্মুলা নামে অভিহিত সমঝোতা, দুই বিরোধী শিবিরের মধ্যে তিন বছরের বিতর্কের পর ভারতের সাংবিধানিক পরিষদ এর দ্বারা ভোট দেয়।  হিন্দি নায়করা চেয়েছিলেন হিন্দুস্তানি ভাষার আধুনিক স্ট্যান্ডার্ড হিন্দি রেজিস্টারকে ভারতের একমাত্র “জাতীয় ভাষা” হতে (ব্রিটিশ রাজের আগ পর্যন্ত গৃহীত উর্দু মান প্রতিস্থাপন);  দক্ষিণ ভারতের প্রতিনিধিরা সংবিধানে ইংরেজিকে স্থান দেওয়ার জন্য পছন্দ করেছিলেন।  মুন্সি-আয়ঙ্গার সূত্র (i) হিন্দিকে ভারতের ফেডারেল সরকারের “সরকারি ভাষা” হিসেবে ঘোষণা করেছে;  (ii) ইংরেজি ১৫ বছরের জন্য একটি সহযোগী অফিসিয়াল ভাষা হতে হবে যার মধ্যে হিন্দির আনুষ্ঠানিক অভিধান তৈরি করা হবে;  এবং (iii) হিন্দু-আরবি সংখ্যার আন্তর্জাতিক রূপ যাতে সরকারী সংখ্যা।  আপস প্রস্তাব ভারতের সংবিধানের ৩৪৩-৩৫১ অনুচ্ছেদে পরিণত হয়, যা ২৬ জানুয়ারী ১৯৫০ সালে কার্যকর হয়। ১৯৬৫ সালে, যখন ১৫ বছর পূর্ণ হয়, ভারত সরকার ঘোষণা করে যে ইংরেজি ভারতের “ডি ফ্যাক্টো আনুষ্ঠানিক ভাষা” হিসাবে অব্যাহত থাকবে।  ”

 

দিবসটির তাৎপর্য—

 

হিন্দি দিবস  প্ৰতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসের ১৪ তারিখে ভারতের হিন্দি ভাষাভাষী অঞ্চলে পালন করা হয়। সাধারণত এই দিবসটি ভারতের কেন্দ্ৰীয় সরকারের কাৰ্যালয়, ফাৰ্ম, বিদ্যালয় এবং অন্যান্য প্ৰতিষ্ঠানে উদ্‌যাপন করা হয়। হিন্দি ভাষাকে প্রচার এবং চর্চা করা এই দিবসের মূল উদ্দেশ্য। ভোজ-আয়োজন, বিভিন্ন অনুষ্ঠান, প্রতিযোগিতা এবং অন্যান্য কার্যাবলীর মধ্য দিয়ে এই দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরা হয়। হিন্দি ভাষাভাষী লোকদের কাছে তাদের শিখর সন্ধান এবং ঐক্যের বাণী প্রচারের মাধ্যমে এটি তাদের দেশপ্রেমের স্মারকও হয়ে উঠে। ২০০৭ (এবং ২০১০) সালের ন্যাশনাল এনসাইক্লোপেডিনের মতে হিন্দি বিশ্বের প্রায় ২৯৫ (এবং ৩১০) মিলিয়ন লোকের মাতৃভাষা এবং বিশ্বের সবথেকে বেশি ব্যবহৃত ভাষাসমূহের মধ্যে চতুৰ্থ। ১৯৪৯ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর ভারতের সংবিধান প্ৰস্তাবনা পরিষদে দেবনাগরী লিপিতে লিখা হিন্দিকে ভারতের সরকারি ভাষারূপে স্বীকৃতি দেয় বলে হিন্দি দিবস এই দিনে পালন করা হয়।  বাকী ভাষাসমূহ আঞ্চলিক সরকারি ভাষা হিসেবে ব্যবহার হয়।

 

বিভিন্ন অনুষ্ঠান—-

 

বিদ্যালয় এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের অনুষ্ঠান ছাড়াও, এই দিবসের কিছু উল্লেখযোগ্য অনুষ্ঠান হল:

হিন্দি দিবসে নতুন দিল্লীর বিজ্ঞান ভবনে ভারতের রাষ্ট্রপতি,  হিন্দির সাথে সম্পৰ্কিত বিভিন্ন ক্ষেত্রে পারদর্শিতার জন্য পুরস্কার প্রদান করেন।

বিভাগীয় মন্ত্ৰী, বিভাগ, সরকারি প্ৰতিষ্ঠান এবং রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংককে রাজভাষা পুরস্কার প্ৰদান করা হয়।

২৫ মার্চ ২০১৫ তারিখের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক তার আদেশে হিন্দি দিবসে বার্ষিক দুটি পুরস্কারের নাম পরিবর্তন করেছে।  ১৯৮৬ সালে প্রতিষ্ঠিত ‘ইন্দিরা গান্ধী রাজভাষা পুরস্কার’ ‘রাজভাষা কীর্তি পুরস্কার’ এবং ‘রাজীব গান্ধী রাষ্ট্রীয় জ্ঞান-বিজ্ঞান মৌলিক পুস্তক লিখন পুরস্কার’ পরিবর্তিত হয়ে ‘রাজভাষা গৌরব পুরস্কার’-এ পরিবর্তিত হয়েছে।

।।তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া।।

Share This
Categories
নারী কথা প্রবন্ধ রিভিউ

আজ কৌশিকী অমাবস্যা, জানুন কেন পালন করা হয় এই বিশেষ তিথি।

শাস্ত্র অনুযায়ী কৌশিকী অমাবস্যার গুরুত্ব অন্যান্য অমাবস্যার থেকে একটু আলাদা হয়। এই বিশেষ তিথিতে তারাপীঠ মন্দিরে পুজো করা হয় নিষ্ঠা ভরে। কৌশিকী অমাবস্যার অর্থ হল তারা নিশি। এই তিথি তন্ত্র সাধনার এক বিশেষ রাত। অমাবস্যার এই বিশেষ তিথিতে সাধক বামা ক্ষ্যাপা তারাপীঠের মহাশ্মশানের শিমূল গাছের তলায় মা তারার আরাধনা করে সিদ্ধিলাভ করেছিলেন। মনে করা হয়, বিশেষ এই তিথিতে তারাপীঠে তারা মায়ের পুজো করলে সকল মনের ইচ্ছে পূরণ হয়। এই কারনেই কৌশিকী অমাবস্যায় তারাপীঠে হাজার হাজার পূণ্যার্থী আসেন মায়ের আশীর্বাদ পাওয়ার জন্য। এদিন তারাপীঠের শ্মশান এক অন্য রূপ নেয়।
আবার আজকের এই দিনে দশ মহাবিদ্যার অন্যতম দেবী তারা আজ বামদেবের সন্মুখে আবির্ভূত হন।

 

বামদেব পঞ্চমুন্ডির আসনে বসে আজকের দিনেই সিদ্ধিলাভ করেন। পশ্চিমবঙ্গের বীরভুম জেলায় অবস্থিত তারাপীঠ এ আজ এই উপলক্ষ্যে বিশাল উৎসব  হয়, তারা দেবীকে বৌদ্ধ ধর্মের অন্তর্গত বজ্রযানে নীলসরস্বতীও বলা হয়। লোকে বিশ্বাস করে এই তিথিতে ভাত খেতে নেই।

 

কৌশিকী অমাবস্যা, অন্য সব অমাবস্যার থেকে একটু আলাদা, কারণ তন্ত্র মতে ও শাস্ত্র মতে ভাদ্র মাসের এই তিথিটি একটু বিশেষ। অনেক কঠিন ও গুপ্ত সাধনা এই দিনে করলে আশাতীত ফল মেলে। সাধক কুলকুণ্ডলিনী চক্রকে জয় করে। বৌদ্ধ ও হিন্দু তন্ত্রে এই দিনের এক বিশেষ মাহাত্ম্য আছে। তন্ত্র মতে এই রাতকে ‘তারা রাত্রি’ও বলা হয়৷ এক বিশেষ মুহূর্তে স্বর্গ ও নরক দুইয়ের দরজা মুহূর্তের জন্য খোলে ও সাধক নিজের ইচ্ছা মতো ধনাত্মক অথবা ঋণাত্মক শক্তি সাধনার মধ্যে আত্মস্থ করেন ও সিদ্ধি লাভ করেন৷
শ্রীশ্রীচণ্ডীতে বর্ণিত মহা সরস্বতী দেবীর কাহিনীতে বলা আছে, পুরাকালে একবার শুম্ভ ও নিশুম্ভ কঠিন সাধনা করে ব্রহ্মাকে তুষ্ট করলে চতুরানন তাঁদের বর দেন, কোনও পুরুষ তাঁদের বধ করতে পারবেন না৷ শুধু কোনও অ-যোনি সম্ভূত নারী তাঁদের বধ করতে পারবেন। অর্থাৎ এমন এক নারী, যিনি মাতৃগর্ভ থেকে জন্ম নেননি, তাঁর হাতেই এই দুই অসুর ভাই-এর মৃত্যু হবে। পৃথিবীতে এমন নারী কোথায়? আদ্যা শক্তি মহামায়াও মেনকা রানির গর্ভে জন্ম নিয়েছেন, তাই তিনিও ওঁদের নাশ করতে পারবেন না। তা হলে উপায়?
পূর্ব জন্মে পার্বতী যখন সতী রূপে দক্ষ যজ্ঞ স্থলে আত্মাহুতি দেন, তার কারণে এই জন্মে ওঁর গাত্র বর্ণ কালো মেঘের মতো। তাই ভোলানাথ তাঁকে কালিকা ডাকতেন। একদিন দানব ভাইদের দ্বারা পীড়িত ক্লান্ত দেবতারা যখন কৈলাশে আশ্রয় নিলেন, শিব সব দেবতাদের সামনেই পার্বতীকে বললেন, “কালিকা তুমি ওদের উদ্ধার করো।” সবার সামনে ‘কালী’ বলে ডাকায় পার্বতী অত্যন্ত ক্ষুব্ধ, অপমানিত ও ক্রোধিত মনে মানস সরোবরের ধারে কঠিন তপস্যা করলেন।তপস্যান্তে শীতল মানস সরোবরের জলে স্নান করে নিজের দেহের সব কালো পরিত্যাগ করলেন ও পূর্ণিমার চাঁদের মতো গাত্র বর্ণ ধারণ করলেন। ওই কালো কোশিকাগুলি থেকে এক অপূর্ব সুন্দর কৃষ্ণবর্ণ দেবীর সৃষ্টি হয়। ইনি দেবী কৌশিকী। আজ সেই তিথি, যে দিন এই দেবীর উৎপত্তি হয় এবং তিনি শুম্ভ ও নিশুম্ভকে বধ করেন। তাই এই অমাবস্যার নাম কৌশিকী অমাবস্যা। আবার আজকের এই দিনে দশ মহাবিদ্যার দ্বিতীয়া স্তরের অন্যতম দেবী তারা মর্ত ধামে আবির্ভূত হন। বীরভুম জেলায় অবস্থিত তারাপীঠে এই উপলক্ষে বিশাল উত্‍সব হয়।
বলা হয়, এই অমাবস্যা তিথিতে ক্ষণিকের জন্য খুলে যায় স্বর্গ এবং নরক এই দুইয়েরই দ্বার। আর আমাদের জন্য তার যে কোনও একটি নির্দিষ্ট হয় কর্মফলের উপরে ভিত্তি করে, বিশেষত এই অমাবস্যা তিথিতে আমরা কী করেছি, তার উপরে ভিত্তি করে। দেবী তারা অল্পতুষ্টা, কিন্তু মহাঋষি বশিষ্ঠকে রীতিমতো নিয়ম মেনে তাঁকে সাধনা করতে হয়েছিল তারাপীঠে, তবেই আবির্ভূতা হয়েছিলেন দেবী। তাই এই কৌশিকী অমাবস্যায় সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কী কী করা উচিত আর কী একেবারেই পরিহার করা উচিত, জেনে রাখা জরুরি।

শুচিতা

যে কোনও সাধনারই মূল কথা হল শুচিতা- শুধু নিজের নয়, একই সঙ্গে স্থানেরও। তাই এই দিন যেমন নিজেকে, তেমনই পরিষ্কার রাখতে হবে ঘরবাড়ি। সকালে উঠে ঘর ধুয়ে-মুছে স্নান করে নিতে পারলে ভাল, না হলে দিনের যে কোনও সময়েই তা করে নেওয়া যায়। এর পরেই শুরু হবে আরাধনা।

সিঁদুর, জবা

মহাতিথির পূজায় কিন্তু মহা আড়ম্বরের প্রয়োজন নেই। শুধুমাত্র সিঁদুর আর জবাফুল দেবীর পায়ে অর্পণ করলেই হল। চাইলে ওম তারে তুত্তারে তুরে স্বাহা বীজমন্ত্র জপ করা যায়।

আহারে সংযম

তন্ত্রের মূল ভিত্তি পঞ্চ ম-কার। সেই রীতি মেনে মায়ের ভোগে তারাপীঠে অবশ্যই দেওয়া হবে মৎস্যভোগ, নিবেদন করা হবে মদ। কিন্তু তন্ত্রে এর রয়েছে দার্শনিক গুরুত্ব। তাই দেবীকে দেওয়া হচ্ছে বলেই আমরা কিন্তু এদিন মাছ বা আমিষ, মদ কোনওটাই গ্রহণ করতে পারব না। উপবাসে থাকতে পারলে ভাল, না হলে নিরামিষ আহারে সংযম পালন করতে হবে।
কৌশিকী অমাবস্যায় ভুলেও আমিষ ভোজন করতে বারণ করা হয়। শাস্ত্র মতে, এই দিনে আমিষ ভোজন করলে শরীরে নেগেটিভ এনার্জি বেড়ে যায়। এ দিন আমিষ ভোজন করলে চর্মরোগ এবং পেট-পাকস্থলী সম্পর্কিত নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে, এমনটাই শাস্ত্রে বর্ণিত রয়েছে।

শারীরিক সংযম

পঞ্চ ম-কারের অন্যতম হল মৈথুন। কিন্তু গৃহস্থ যেহেতু তন্ত্রমতে আরাধনা করেন না, তাই এই তিথিতে শারীরিক সংযমে নিজেকে বাঁধতে হবে। মৈথুনে লিপ্ত হওয়া যাবে না। দৈবাৎ লিপ্ত হলে তা জীবনে বিড়ম্বনা ডেকে আনবে, গর্ভে সন্তান এলে তার জীবনও হয়ে উঠবে অশুভ।

দূরে যাত্রা নয়—

গর্ভবতী মহিলাদের এদিন বাড়ি থেকে বের হতে নিষেধ করা হয়। কারণ এই নেগেটিভ এনার্জির প্রভাব গর্ভস্থ সন্তানের উপর পড়তে পারে। গেলে সঙ্গে রাখতে হবে তুলসিপাতা।

দীপদান–

দীপাবলি অমাবস্যার মতো কৌশিকী অমাবস্যাতেও দীপদানের রীতি আছে। এক্ষেত্রে দুটি তিলের তেলের প্রদীপ সন্ধ্যায় রাখতে হয় বাড়ির দরজার দুই পাশে, তা অশুভ শক্তিকে গৃহে প্রবেশে বাধা দেয়।

গোপন আচার—

বলা হয়, একটি জলশূন্য নারকেল নিয়ে, তাতে একটি ফুটো করে, সেই ফুটোর মধ্যে দিয়ে নারকেলে চিনি ভরে, ফুটো উপরের দিকে রেখে নারকেলটা যদি বাড়ি থেকে কিছু দূরে পুঁতে দেওয়া যায়, তবে জীবন থেকে সব বাধা দূর হয়। অসুবিধা হল- এই আচার পালন করতে হবে গোপনে, কেউ দেখে ফেলে লাভ হবে না।

দুধদান—

দীপদানের মতোই কৌশিকী অমাবস্যায় যদি কোনও কুয়ো বা গর্তে এক চামচ দুধ নিবেদন করা যায়, তবে তা জীবনে মঙ্গল বয়ে আনে।

তন্ত্র শাস্ত্রের ব্যাখা অনুযায়ী, এই তিথিতে মা তারার পুজো দিয়ে দ্বারকা নদীতে স্নান করলে শত জন্মের পুন্যলাভ হয়। আর এই কারণেই তারাপীঠে এই তিথিতে আয়োজন করা হয় বিশেষ পুজোর।

 

এই কৌশিকী অমাবস্যার দিন তান্ত্রিকরা তন্ত্র সাধনার জন্য বেছে নেন। এই সাধনা চলে গোটা রাত জুড়ে। তবে অনেকেই বলেন কৌশিকী অমাবস্যা নাকি ভীষণ জাগ্রত। এই দিনেই নাকি কিছুক্ষণের জন্য খুলে যায় স্বর্গের দরজা। এই নিয়েও রয়েছে অনেক কাহিনি।তন্ত্রের মাধ্যমেই সিদ্ধিলাভের আসায়  সারা রাত ধরে শ্মশানে তন্ত্র সাধনাতে মগ্ন হন সাধকরা। সারা রাত ধরে শ্মশানে চলা সাধনা ফলদায়ী হয়।  অনেকে বলেন শ্মশানের মধ্যে একটি হল মণিকর্ণিকা ঘাট। বিভিন্ন কারণের জন্যই কৌশিকী অমাবস্যার দিনটি আলাদা বলে ধরা হয়। এবং তারাপীঠের এই শ্মশানকেই বলা হয় মহাশ্মশান।

।। তথ্য : সংগৃহীত ইন্টারনেট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ

ক্রিকেটের কিংবদন্তী, ক্রিকেটের বরপুত্র, শেন ওয়ার্ন এক বর্ণময় চরিত্রের নাম।

ক্রিকেট খেলা কেনা ভালোবাসে। আর যারা ক্রিকেট ভালোবাসেন তাদের কাছে শেন ওয়ার্ন এক অতি পরিচিত নাম। যেমন তার ক্রিকেট জীবন তেমনই বর্ণময় তার ব্যক্তিগত জীবন।

শেন কিথ ওয়ার্ন (১৩ সেপ্টেম্বর ১৯৬৯ – ৪ মার্চ ২০২২) ছিলেন একজন অস্ট্রেলিয়ান আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার, যার ক্যারিয়ার ১৯৯২ থেকে ২০০৭ পর্যন্ত চলেছিল। ওয়ার্ন ভিক্টোরিয়া, হ্যাম্পশায়ার ও হ্যাম্পশায়ারের হয়ে ডানহাতি লেগ স্পিন বোলার এবং ডানহাতি ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলেছিলেন।  খেলাধুলার ইতিহাসের অন্যতম সেরা বোলার হিসেবে বিবেচিত, তিনি ১৪৫ টেস্টে উপস্থিত ছিলেন, ৭০৮ উইকেট নিয়েছিলেন এবং টেস্ট ক্রিকেটে যে কোনো বোলারের সবচেয়ে বেশি উইকেট নেওয়ার রেকর্ড গড়েছিলেন, এই রেকর্ডটি ২০০৭ সাল পর্যন্ত তার ছিল। ওয়ার্ন ছিলেন  ১৯৯৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপ জয়ী অস্ট্রেলিয়ান দলের একজন সদস্য।
ওয়ার্ন ছিলেন একজন দরকারী নিম্ন-অর্ডার ব্যাটসম্যান যিনি ৩০০০-এর বেশি টেস্ট রান করেছিলেন, যার সর্বোচ্চ স্কোর ছিল ৯৯। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে অস্ট্রেলিয়ার ২০০৬-০৭ অ্যাশেজ সিরিজ জয়ের শেষে তিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেন।  ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) প্রথম চারটি মৌসুমে, ওয়ার্ন রাজস্থান রয়্যালস-এর একজন খেলোয়াড়-প্রশিক্ষক ছিলেন এবং উদ্বোধনী মৌসুমে দলকে জয়ের জন্য অধিনায়কত্ব করেছিলেন।  ওয়ার্ন তার কর্মজীবনে মাঠের বাইরে কেলেঙ্কারিতে জড়িত ছিলেন;  তার নিন্দার মধ্যে একটি নিষিদ্ধ পদার্থের জন্য ইতিবাচক পরীক্ষার জন্য ক্রিকেট থেকে নিষেধাজ্ঞা এবং যৌন অবজ্ঞার অভিযোগ এবং খেলাটিকে অসম্মানে আনার অন্তর্ভুক্ত ছিল।
ওয়ার্ন তার লেগ স্পিনে দক্ষতার সাথে ক্রিকেট চিন্তায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছিলেন, যাকে তখন একটি মৃতপ্রায় শিল্প হিসেবে গণ্য করা হয়।  অবসর গ্রহণের পর, তিনি নিয়মিত ক্রিকেট ধারাভাষ্যকার হিসেবে কাজ করেন এবং দাতব্য প্রতিষ্ঠানের জন্য এবং বাণিজ্যিক পণ্য অনুমোদন করেন।  তার দক্ষতার স্বীকৃতিস্বরূপ, মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ড (MCG) এর বাইরে ওয়ার্ন বোলিংয়ের একটি মূর্তি স্থাপন করা হয়েছিল, যেখানে তাকে একটি রাষ্ট্রীয় স্মারক পরিষেবা দিয়ে সম্মানিত করা হয়েছিল, সেইসাথে তার সম্মানে একটি গ্র্যান্ডস্ট্যান্ড নামকরণ করা হয়েছিল।  ওয়ার্নকে ক্রিকেটে তার সেবার জন্য মরণোত্তর অফিসার অফ দ্য অর্ডার অফ অস্ট্রেলিয়া (AO) হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছিল।

 

জীবনের প্রথমার্ধ—

 

ওয়ার্ন ১৩ সেপ্টেম্বর ১৯৬৯ তারিখে মেলবোর্নের একটি শহরতলী ভিক্টোরিয়ার আপার ফার্নট্রি গালিতে জন্মগ্রহণ করেন, তিনি ব্রিগেট এবং কিথ ওয়ার্নের পুত্র।  তার মা ছিলেন জার্মান।  মেন্টোন গ্রামারে যোগ দেওয়ার জন্য স্পোর্টস স্কলারশিপের প্রস্তাব পাওয়ার আগে তিনি হ্যাম্পটন হাই স্কুলে ৭-৯ গ্রেড থেকে পড়াশোনা করেছিলেন, যেখানে তিনি তার শেষ তিন বছর স্কুলে কাটিয়েছিলেন।

 

ঘরোয়া পেশা—

 

মেলবোর্নের জংশন ওভালে ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ভিক্টোরিয়ার হয়ে ০/৬১ এবং ১/৪১ নিয়ে ১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৯১-এ ওয়ার্ন তার প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেক করেন।
ওয়ার্ন ২০০০ মৌসুমে ইংল্যান্ডের হ্যাম্পশায়ার কাউন্টি ক্রিকেট ক্লাবের হয়ে খেলার জন্য $৪০০,০০০ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।  তিনি ২০০৪ থেকে ২০০৭ সালের মৌসুমে হ্যাম্পশায়ারে অধিনায়ক হিসেবে ফিরে আসেন। হ্যাম্পশায়ারের হয়ে তিনি তার মাত্র দুটি প্রথম-শ্রেণীর সেঞ্চুরি করেন এবং ২৫.৫৮ গড়ে ২৭৬ উইকেট নেন।

 

টেস্ট ক্যারিয়ার—-

 

ভারতের বিপক্ষে টেস্ট ম্যাচ দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তার অভিষেক হয় ১৯৯২ সালের ২রা জানুয়ারি। ১৪৫ টি টেস্ট ম্যাচের ২৭৩ টি ইনিংসে তিনি ৭০৮টি উইকেট নিয়েছেন। এছাড়াও, লোয়ার অর্ডারে ১৯৯ ইনিংসে ব্যাট করে তুলেছেন ১২ টি হাফ সেঞ্চুরি। তার ইনিংস সেরা বোলিং ফিগার ছিলো ৮/৭১। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তিনি টেস্ট ক্যারিয়ারে সর্বোচ্চ ৯৯ রান করেন। ২০০৭ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তিনি শেষ টেস্ট ম্যাচ খেলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেন। ৩ ডিসেম্বর, ২০০৭ সালে ‪‎মুরালিধরন‬ তাকে টপকাবার আগ পর্যন্ত তিনিই ছিলেন টেস্ট ইতিহাসের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি।

 

ওয়ানডে ক্যারিয়ার—

 

ওয়ানডেতে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ২৯৩ টি উইকেট নেন তিনি। তার অসাধারণ পারফরমেন্সে অস্ট্রেলিয়া ১৯৯৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপ জিতে, যেখানে তিনি সেমিফাইনাল ও ফাইনালের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ বিশ্বকাপের রানার্সআপ দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি।

 

টি২০ ক্যারিয়ার—–

 

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের পরে ওয়ার্ন আইপিএল ও বিগ ব্যাশে টি ২০ লীগ খেলতে থাকেন, তার নেতৃত্বেই রাজস্থান রয়েলস প্রথম আইপিএল চ্যাম্পিয়ন হয়, যেখানে তার অধিনায়কত্ব প্রশংসিত হয়েছিল। বিগ ব্যাশে তিনি মেলবোর্ন স্টার্সের অধিনায়ক ছিলেন। ২০১৩ সালে তিনি বিগ ব্যাশ খেলে সব ধরনের ক্রিকেট থেকে অবসর নেন।

 

ব্যক্তিগত জীবন—

 

ওয়ার্নের সম্পূর্ণ হেটেরোক্রোমিয়া ছিল, যার ফলস্বরূপ তার একটি চোখ নীল এবং অন্যটি সবুজ। ওয়ার্নের প্রাক্তন স্ত্রী সিমোন ক্যালাহানের সাথে তিনটি সন্তান ছিল।  দম্পতি ১৯৯৫ থেকে ২০০৫ পর্যন্ত বিবাহিত ছিলেন। এর পরেও তিনি বহু সম্পর্কে জড়িয়ে বিতর্কে ছিলেন।

 

বিতর্ক—-

 

২০০৩ সালের বিশ্বকাপের আগে তার ক্রিকেট খেলার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি হয়। বিশ্বকাপের আগে তার ডোপ টেস্টে ফলাফল পজিটিভ আসে, ২০০৪ সালে তিনি ক্রিকেটে ফিরেন, অস্ট্রেলিয়ার হয়ে আর ওয়ানডে না খেললেও টেস্ট খেলে যান।

 

সম্মাননা ও স্বীকৃতি—

 

২০০০ সালে শতাব্দীর সেরা অস্ট্রেলীয় ক্রিকেট বোর্ড দলে তাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।  ২০০৭ সালে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া ও শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ড ওয়ার্ন ও মুত্তিয়া মুরালিধরনের সম্মানে অস্ট্রেলিয়া-শ্রীলঙ্কা টেস্ট ক্রিকেট সিরিজের নাম ওয়ার্ন-মুরালিধরন ট্রফি রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।

 

মৃত্যু—

 

হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ২০২২-এর ৪ মার্চ থাইল্যান্ডে মৃত্যুবরণ করেন তিনি। একই দিনে মারা যান আরেক অস্ট্রে্লীয় ক্রিকেট তারকা রড মার্শ, যাকে ওয়ার্ন তার নিজের মৃত্যুর কয়েক ঘন্টা আগে একটি টুইট বার্তায় শ্রদ্ধা জানিয়েছিলেন। মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৫২ বছর।

 

।। তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ

৬৩ দিন অনশনের পর মৃত্যু, ভারত মাতার বীর সন্তান ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের শহীদ বিপ্লবী, যতীন্দ্র নাথ দাস।

ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন ছিল কিছু মানুষের অব্যর্থ পরিশ্রম যার ফলেই ব্রিটিশদের থেকে ভারত রাজনৈতিক দিক থেকে মুক্তি পেয়েছে। ভারত উপমহাদেশের বিংশ শতাব্দীতে ব্রিটিশ সম্রাজ্যবাদ বিরোধী যে সশস্ত্র বিপ্লববাদী লড়াই-সংগ্রাম সংগঠিত হয় এবং যার ধারাবাহিকতায় ভারত স্বাধীন হয়, তার মূলে যে সকল বিপ্লবীর নাম সর্বজন স্বীকৃত তাঁদের মধ্যে যতীন্দ্র নাথ দাস প্রথমসারির একজন অন্যতম বিপ্লবী ছিলেন। যতীন্দ্র নাথ দাস ভারতীয় উপমহাদেশের ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনে এক উল্লেখযোগ্য নাম, যিনি দেশমতৃকার শৃঙ্খল মুক্তির জন্য নিজেকে সঁপে দিয়েছিলেন সম্পূর্ণ রূপে।

 

সূচনা—

 

যতীন্দ্র নাথ দাস, যতীন দাস নামেই বেশি পরিচিত, ছিলেন একজন ভারতীয় স্বাধীনতা কর্মী এবং বিপ্লবী যিনি ব্রিটিশ রাজ থেকে ভারতকে স্বাধীন করতে কাজ করেছিলেন এবং হিন্দুস্তান সোশ্যালিস্ট রিপাবলিকান অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য ছিলেন। জেলবন্দীদের অধিকারের দাবিতে ওই বছরই ১৩ই জুলাই অনশন শুরু করেন তিনি। ৬৩ দিন অনশনের পর ১৩ই সেপ্টেম্বর মাত্র ২৪ বছর বয়সে লাহোর কেন্দ্রীয় কারাগারে মারা যান।।
স্বাধীনতার পর তার সম্মানে কলকাতা মেট্রোর হাজরা অঞ্চলের মেট্রো স্টেশনটির নামকরণ করা হয় যতীন দাস পার্ক মেট্রো স্টেশন।

জন্ম শৈশব ও শিক্ষা—-

 

যতীন্দ্রনাথ দাস ১৯০৪ সালে কলকাতায় মানিকগঞ্জ, ঢাকা (বর্তমানে বাংলাদেশে) একটি দাস পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম বঙ্কিমবিহারী দাস এবং মাতার নাম সুহাসিনী দেবী। তিনি ম্যাট্রিকুলেশন ও ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হন।  ১৯২০ সালে ভবানীপুর মিত্র ইন্সটিটিউশন থেকে ম্যাট্রিক পাস করে কংগ্রেসের সদস্য হয়ে অসহযোগ আন্দোলনে যোগ দেন। ১৯২৮-২৯ সনে বঙ্গবাসী কলেজের ছাত্র ছিলেন।

 

বিপ্লবী জীবন—–

 

তিনি বাংলার একটি বিপ্লবী গোষ্ঠী অনুশীলন সমিতিতে যোগদান করেন এবং ১৭ বছর বয়সে ১৯২১ সালে মহাত্মা গান্ধীর অসহযোগ আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন।  কলকাতার বঙ্গবাসী কলেজে, দাসকে তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য গ্রেফতার করা হয় এবং ময়মনসিংহের কারাগারে বন্দী করা হয়।  সেখানে বন্দি থাকাকালীন, তিনি রাজনৈতিক বন্দীদের প্রতি অশোভন আচরণের প্রতিবাদে অনশন করেন।  বিশ দিন অনশন করার পর জেল সুপার ক্ষমা চেয়ে অনশন ছেড়ে দেন।  শচীন্দ্র নাথ সান্যাল তাকে বোমা বানাতে শিখিয়েছিলেন।
১৪ জুন ১৯২৯ তারিখে, তিনি আবার বিপ্লবী কার্যকলাপের জন্য গ্রেফতার হন এবং সম্পূরক লাহোর ষড়যন্ত্র মামলার বিচারের জন্য লাহোর কারাগারে বন্দী হন। পরবর্তী সময়ে এরা জেলের ভেতর রাজনৈতিক বন্দিদের মর্যাদার দাবীতে এবং মানবিক সুযোগ সুবিধার আন্দোলনে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছিল। তারা ১৩ জুলাই থেকে ভগৎসিং ও বটুকেশ্বর দত্তের সমর্থনে অনশন সংগ্রাম আরম্ভ করে। যতীন দাস ছাড়া আর কারো অনশন আন্দোলনের অভিজ্ঞতা ছিল না। ভাবাবেগে চালিত হয়ে অনশন সংগ্রামে যোগ দিতে নিষেধ করেছিল অন্য সাথীদের। সে বলল, রিভলবার পিস্তল নিয়ে লড়াই করাই চেয়ে অনেক বেশি কঠোর এক অনশন সংগ্রামে আমরা নামছি। অনশন সংগ্রামীকে তিল তিল করে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যেতে হয়।

 

লাহোর ষড়যন্ত্র মামলা ও অনশন—

 

১৯২৩ সনে বিপ্লবী শচীন্দ্রনাথ সান্যাল কলকাতার ভবানিপুরে ঘাঁটি করলে তিনি এই দলে যোগ দেন। পরে দক্ষিণেশ্বরের বিপ্লবী দলের সংগেও তার যোগাযোগ হয়। ১৯২৪ সালে দক্ষিণ কলকাতায় “তরুণ সমিতি” প্রতিষ্ঠা করেন এবং এই সময় গ্রেপ্তার হয়ে ঢাকা জেলে প্রেরিত হন। জেল কর্তৃপক্ষের আচরণের প্রতিবাদে ২৩ দিন অনশন করেন। ১৯২৯ সালের ১৪ জুন লাহোর ষড়যন্ত্র মামলার অন্যতম আসামি হিসেবে লাহোর সেন্ট্রাল জেলে প্রেরিত হন। এখানে রাজবন্দিদের উপর জেল কর্তৃপক্ষের দুর্ব্যবহারের জন্য অনশন শুরু করেন। এই সময় তাকে বহুবার জোর করে খাওয়াবার চেষ্টা করা হয়।দাসের অনশন ১৩ জুলাই ১৯২৯ সালে শুরু হয় এবং ৬৩ দিন স্থায়ী হয়।  জেল কর্তৃপক্ষ তাকে এবং অন্যান্য স্বাধীনতা কর্মীদের জোর করে খাওয়ানোর ব্যবস্থা নেয়।  অবশেষে, জেল কর্তৃপক্ষ তাকে নিঃশর্ত মুক্তির সুপারিশ করে, কিন্তু সরকার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে এবং তাকে জামিনে মুক্তি দেওয়ার প্রস্তাব দেয়। ৬৩ দিন অনশনের পর তিনি ১৩ সেপ্টেম্বর ১৯২৯ তারিখে মারা যান। দুর্গাবতী দেবী অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার নেতৃত্ব দেন, যা ট্রেনে লাহোর থেকে কলকাতা পর্যন্ত গিয়েছিল।  দাসকে শ্রদ্ধা জানাতে হাজার হাজার মানুষ রেলস্টেশনে ভিড় করেন।  কলকাতায় দুই মাইল দীর্ঘ মিছিল কফিনটি শ্মশানে নিয়ে যায়।  সুভাষ চন্দ্র বসু, যিনি হাওড়া রেলস্টেশনে দাসের কফিন গ্রহণ করেছিলেন এবং শ্মশানে শবযাত্রার নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।  কারাগারে দাসের অনশন ছিল অবৈধ আটকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। অনশন চলাকালীন শান্তিনিকেতনে তপতী নাটকের মহড়া চলছিল, এই ঘটনায় মর্মাহত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নাটকের মহড়া বন্ধ রাখেন এবং সেই রাতেই রচনা করেন ‘সর্ব খর্ব তারে দহে তব ক্রোধ দাহ’ গানটি , যেটি পরে ‘তপতী’ নাটকে অন্তর্ভুক্ত হয়। এইভাবে মৃত্যুবরণ করার ফলে রাজবন্দিদের উপর অত্যাচার প্রশমিত হয়েছিলো। এই বীর শহিদের মৃতদেহ কলকাতায় আনা হলে দুই লক্ষ লোকের এক বিরাট মিছিল নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর নেতৃত্বে শোকযাত্রায় কেওড়াতলা শ্মশানঘাট পর্যন্ত অনুগমন করে।

 

।।তথ্য : সংগৃহীত ইন্টারনেট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ

আজ বিশ্ব মনোসংযোগ দিবস, জানুন দিনটি কেন পালিত হয় ও গুরুত্ব।

আজ বিশ্ব মনোসংযোগ দিবস।  প্রতি বছর, ১২ই সেপ্টেম্বরকে মাইন্ডফুলনেস ডে হিসেবে পালন করা হয়, যাতে মননশীলতার অন্তর্দৃষ্টিপূর্ণ মূল্য এবং উপকারিতা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা হয়।মাইন্ডফুলনেস ডে হল একটি উদীয়মান বার্ষিক ইভেন্ট, যা ১২ সেপ্টেম্বর উদযাপিত হয়, যেদিন মননশীলতার গভীর মূল্য এবং উপকারিতা সম্পর্কে সাধারণ জনগণকে সচেতন করার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন কর্মশালা এবং মেডিটেশন গ্রুপগুলি অনুষ্ঠিত হয়।  ২০১১ সালে, মাইন্ডফুলনেস ডে উইজডম পাবলিকেশন্স দ্বারা ১২ সেপ্টেম্বর হিসাবে মনোনীত করা হয়েছিল।

 

মাইন্ডফুলনেস ডে তৈরি করা হয়েছিল মননশীলতার মূল্য এবং সুবিধা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে এবং এটিকে প্রশিক্ষণের উপায় সম্পর্কে লোকেদের শিক্ষিত করতে।  এই দিনে, লোকেদের মননশীলতা উপভোগ করার এবং এটিকে তাদের জীবনে সংহত করার জন্য তাদের নিজস্ব উপায় খুঁজে পেতে সাহায্য করার জন্য ধ্যান গ্রুপ এবং কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

 

মনোযোগের গুরুত্ব ও এর প্রতি মানুষের সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক উইজডম পাবলিকেশন্সের উদ্যোগে পালন করা হয় দিবসটি। বিভিন্ন দেশে মানুষ ওয়ার্কশপ, সেমিনার, মেডিটেশন ইত্যাদির মাধ্যমে দিবসটি পালন করে। মাইন্ডফুল ডট ওআরজি ওয়েবসাইটে দিবসটি উদযাপনের কিছু বিষয় তুলে ধরেছে। এর মধ্যে মেডিটেশন বা যোগব্যায়ামের কথা রয়েছে সর্বাগ্রে। এ ছাড়া একসঙ্গে চা খাওয়া, হাঁটা, ব্যায়াম করা ইত্যাদির কথাও বলা হয়েছে।এর সহজ স্তরে, মননশীল হওয়া হল উদ্দেশ্যের দিকে মনোযোগ দেওয়া।  সচেতন হতে হবে, শ্বাস, স্থির থাকতে।

 

আসলে মাইন্ডফুলনেস হল এমন একটি ধারণা যা অনেক সুস্থতার অনুশীলন অন্তর্ভুক্ত করে এবং সঙ্গত কারণে – আপনি যদি মননশীলভাবে জীবনযাপন করেন, তাহলে আপনি আপনার বর্তমান মানসিক, শারীরিক এবং মানসিক সুস্থতার বিষয়ে সক্রিয়ভাবে সচেতন থাকেন।  এই সচেতনতা শেষ পর্যন্ত আরও উদ্দেশ্যমূলক এবং মনোযোগী জীবনের দিকে পরিচালিত করে।

 

 

দিবসটি আসলে বুদ্ধের ধ্যান অনুসরণে এসেছে। উইজডম প্রকাশনী বিশেষত বুদ্ধের ওপর লিখিত বইয়ের প্রধান পৃষ্ঠপোষক। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রতিটি কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য মনোযোগের বিকল্প নেই। দিবসটি তার গুরুত্বই বোঝানোর চেষ্টা করছে।

 

মাইন্ডফুলনেস ডে তৈরি করা হয়েছিল মননশীলতার মূল্য এবং সুবিধা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে এবং এটিকে প্রশিক্ষণের উপায় সম্পর্কে লোকেদের শিক্ষিত করতে।  এই দিনে, লোকেদের মননশীলতা উপভোগ করার এবং এটিকে তাদের জীবনে সংহত করার জন্য তাদের নিজস্ব উপায় খুঁজে পেতে সাহায্য করার জন্য ধ্যান গ্রুপ এবং কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

 

 

।।তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট ।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

আজ বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস, জানুন দিনটি কেন পালিত হয় ও গুরুত্ব।

বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস (WSPD) ২০০৩ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)-এর সাথে মিলিত হয়ে আত্মহত্যা প্রতিরোধের জন্য আন্তর্জাতিক সমিতি দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।  প্রতি বছর ১০ সেপ্টেম্বরের লক্ষ্য এই বিষয়ের উপর মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করা, কলঙ্ক কমানো এবং সংগঠন, সরকার এবং জনসাধারণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা, একটি একক বার্তা দেয় যে আত্মহত্যা প্রতিরোধযোগ্য।

 

বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস (WSPD) হল একটি সচেতনতা দিবস যা সর্বদা প্রতি বছর ১০ সেপ্টেম্বর পালন করা হয়, আত্মহত্যা প্রতিরোধে বিশ্বব্যাপী প্রতিশ্রুতি এবং পদক্ষেপ প্রদানের জন্য, ২০০৩ সাল থেকে বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন কার্যক্রম। আত্মহত্যা প্রতিরোধের জন্য আন্তর্জাতিক সংস্থা (IASP) সহযোগিতা করে।  বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এবং World Federation for Mental Health (WFMH)-এর সাথে বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবসের আয়োজন করা।  ২০১১ সালে আনুমানিক ৪০ টি দেশ এই উপলক্ষে সচেতনতামূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল।  ২০১৪ সালে প্রকাশিত WHO-এর মানসিক স্বাস্থ্য অ্যাটলাস অনুসারে, কোনো নিম্ন-আয়ের দেশে জাতীয় আত্মহত্যা প্রতিরোধের কৌশল নেই, যেখানে নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশগুলির ১০%-এরও কম এবং উচ্চ-মধ্যম ও উচ্চ-আয়ের দেশগুলির প্রায় এক তৃতীয়াংশ ছিল৷

 

১০ সেপ্টেম্বর দুনিয়াজুড়ে পালিত হয় বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস। গোটা দুনিয়াজুড়ে আত্মহত্যার বিরুদ্ধে সচেতনতা গড়ে তোলার উদ্দেশ্যেই পালিত হয় দিনটি। ২০২২ সালের বিশ্ব আত্মহত্যা বিরোধী দিবসের স্লোগান ‘কাজের মাধ্যমে আশা তৈরি করা’। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা WHO-এর দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতি বছর গোটা বিশ্বে ৭ লক্ষ ৩ হাজার জন মানুষ আত্মঘাতী হন। এর বাইরেও কয়েক কোটি মানুষ রয়েছেন, যাঁরা ভয়াবহ অবসাদের সঙ্গে লড়াই চালাতে চালাতে প্রতিনিয়ত আত্মহত্যার কথা ভাবেন।

গত বছর, অর্থাৎ, ২০২১ সালে ভারতে মোট ১ লক্ষ ৬৪ হাজার মানুষ আত্মহত্যা করেন। এর আগে, এক বছরে এত মানুষ আত্মহত্যা করেননি কখনও এই দেশে। NCRB রিপোর্টে আরও একটি উদ্বেগজনক তথ্য সামনে এসেছে। কোভিড অতিমারির আগে দেশজুড়ে আত্মহত্যার সংখ্যা ২০২০ ও ২০২১ সালে দেশজুড়ে আত্মহত্যার সংখ্যার থেকে কম ছিল। কোভিডের ফলে বেড়েছে সামগ্রিক অবসাদ।

তবু, আত্মহত্যার থেকে নিজেকে রক্ষা করা সম্ভব। নিজের মানসিক স্বস্থ্যকে গুরুত্ব দিতে হবে সবসময়। দরকারে সাহায্য নিতে হবে কাউন্সেলারের। একে অপরের কাছে পৌঁচে গিয়ে, পাশে দাঁড়িয়ে, হাতে হাত ধরে গড়ে তুলতে হবে আত্মহত্যা-মুক্ত এক দুনিয়া- এমন আশার সুরও শোনা যায় এই বিশেষ দিনটিতে।

“কর্মের মাধ্যমে আশা তৈরি করা”

আত্মহত্যা একটি প্রধান জনস্বাস্থ্য সমস্যা যার সুদূরপ্রসারী সামাজিক, মানসিক এবং অর্থনৈতিক পরিণতি রয়েছে।  এটি অনুমান করা হয় যে বর্তমানে বিশ্বব্যাপী প্রতি বছর ৭০০০০০ টিরও বেশি আত্মহত্যা হয় এবং আমরা জানি যে প্রতিটি আত্মহত্যা আরও অনেক লোককে গভীরভাবে প্রভাবিত করে।
২০২১-২০২৩ সাল পর্যন্ত বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবসের ত্রিবার্ষিক থিম হল “কর্মের মাধ্যমে আশা তৈরি করা”।  এই থিমটি কর্মের জন্য একটি শক্তিশালী আহ্বান এবং অনুস্মারক হিসাবে কাজ করে যে আত্মহত্যার একটি বিকল্প রয়েছে এবং আমাদের কর্মের মাধ্যমে আমরা আশাকে উত্সাহিত করতে পারি এবং প্রতিরোধকে শক্তিশালী করতে পারি।
কর্মের মাধ্যমে আশা তৈরি করার মাধ্যমে, আমরা আত্মঘাতী চিন্তার সম্মুখীন হওয়া লোকেদের কাছে ইঙ্গিত দিতে পারি যে আশা আছে এবং আমরা তাদের যত্ন করি এবং তাদের সমর্থন করতে চাই।  এটি আরও পরামর্শ দেয় যে আমাদের কাজগুলি, যত বড় বা ছোট হোক না কেন, যারা সংগ্রাম করছে তাদের আশা দিতে পারে।
অবশেষে, এটি একটি অনুস্মারক হিসাবে কাজ করে যে আত্মহত্যা প্রতিরোধ একটি জনস্বাস্থ্য অগ্রাধিকার এবং আত্মহত্যার মৃত্যুর হার হ্রাস করার জন্য জরুরি পদক্ষেপ প্রয়োজন।  WHO তার অংশীদারদের সাথে কাজ চালিয়ে যাবে যাতে দেশগুলিকে এই দিকে সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা নিতে সহায়তা করে।
।।তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

আজ আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস, জানুন দিনটি কেন পালিত হয় এবং দিনটি পালনের গুরুত্ব।

আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস হলো জাতিসংঘ শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা বা ইউনেস্কো-ঘোষিত একটি আন্তর্জাতিক দিবস। ১৯৬৬ সালের ২৬ অক্টোবর ইউনেস্কোর সাধারণ সম্মেলনের ১৪তম অধিবেশনে ৮ সেপ্টেম্বর তারিখকে “আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস” হিসেবে ঘোষণা করা হয়।ব্যক্তি, সম্প্রদায় এবং সমাজের জন্য সাক্ষরতার গুরুত্ব এবং আরও সাক্ষর সমাজের প্রতি তীব্র প্রচেষ্টার প্রয়োজনীয়তা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে স্মরণ করিয়ে দেওয়ার জন্য 1966 সালে UNESCO কর্তৃক 8ই সেপ্টেম্বরকে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস (ILD) হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছিল। ১৯৬৭ সালে প্রথমবারের মতো দিবসটি উদ্‌যাপিত হয়। দিবসটির লক্ষ্য ব্যক্তি, সম্প্রদায় এবং সমাজের কাছে সাক্ষরতার গুরুত্ব তুলে ধরা। বর্তমানে জাতিসংঘের সকল সদস্য রাষ্ট্র এ দিবসটি উদ্‌যাপন করে থাকে।জাতিসংঘের শিক্ষা, বৈজ্ঞানিক ও সাংস্কৃতিক সংস্থা বা ইউনেস্কোর ঘোষণার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল “মর্যাদা এবং মানবাধিকারের বিষয় হিসাবে সাক্ষরতার গুরুত্ব জনগণকে স্মরণ করিয়ে দেওয়ার জন্য।”

 

পৃথিবীর প্রায় ৭৭৫ মিলিয়ন অধিবাসীর ন্যূনতম প্রয়োজনীয় অক্ষরজ্ঞানের অভাব রয়েছে। প্রাপ্তবয়স্ক প্রতি পাঁচ জনে একজন এখনও শিক্ষিত নন এবং এই জনগোষ্ঠীর প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই নারী। বিশ্বের প্রায় ৬০.৭ মিলিয়ন শিশু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত এবং আরও অনেকের শিক্ষায় অনিয়মিত বা শিক্ষা সমাপ্ত হওয়ার আগেই ঝরে পড়ে।

প্রথম আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবসের পর থেকে পঞ্চাশ বছরেরও বেশি সময় সাক্ষরতার হারের উন্নতিতে অনেক অগ্রগতি সাধিত হলেও, নিরক্ষরতা একটি বৈশ্বিক সমস্যা রয়ে গেছে।  বিশ্বজুড়ে 750 মিলিয়নেরও বেশি প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিরা পড়তে পারেন না বলে মনে করা হয়।  নিরক্ষরতার অভিশাপ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সহ পৃথিবীর কোনো জাতি বা সংস্কৃতিকে রেহাই দেয় না, যেখানে আনুমানিক 32 মিলিয়ন আমেরিকান প্রাপ্তবয়স্ক নিরক্ষর। ইউনেস্কোর “সকলের জন্য শিক্ষার বৈশ্বিক নিরীক্ষণ রিপোর্ট (২০০৬)” অনুসারে, অঞ্চলভিত্তিতে দক্ষিণ এশিয়ায় প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে সাক্ষরতার হার সবচেয়ে কম (৫৮.৬%); এরপরেই রয়েছে সাব-সাহারান আফ্রিকা অঞ্চলের অবস্থান (৫৯.৭%)। বিশ্বের সবচেয়ে কম সাক্ষরতার হারের দেশগুলো হলো বুর্কিনা ফাসো (১২.৮%), নাইজার (১৪.৪%) ও মালি (১৯%)। প্রতিবেদনে দেশগুলোর নিরক্ষরতার হারের সাথে চরম দারিদ্র‍্য এবং নারীদের সামাজিক অবস্থানের সাথে নিরক্ষতার সুস্পষ্ট সম্পর্ক পরিলক্ষিত হয়।

 

26 অক্টোবর 1966 তারিখে যখন ইউনেস্কো বিশ্বব্যাপী নিরক্ষরতার সমস্যাগুলি দূর করার জন্য 8 সেপ্টেম্বরকে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস হিসাবে ঘোষণা করেছিল।  মূল উদ্দেশ্য ছিল শুধুমাত্র নিরক্ষরতার বিরুদ্ধে লড়াই করা নয় বরং এটিকে ব্যক্তি ও সমগ্র সম্প্রদায়ের ক্ষমতায়নের একটি হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা।  এই দিবসের মূল লক্ষ্য ছিল সাক্ষরতা বৃদ্ধি করা।  বিশ্বব্যাপী প্রতিটি স্থানীয় সম্প্রদায়ের নিরক্ষরতা দূর করাই হল আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস।

 

।। তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ

আজ ডায়াবেটিস সেবা দিবস, জানুন দিনটি কেন পালিত হয়।

আজ ডায়াবেটিস সেবা দিবস। অধ্যাপক ডা. মো. ইব্রাহিমের মৃত্যু দিবস স্মরণীয় করে রাখতে প্রতিবছর ডায়াবেটিক হাসপাতালগুলোতে ৬ সেপ্টেম্বর দিবসটি পালন করা হয়। অধিকাংশ দেশেই ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা ব্যাপকভাবে বাড়ছে, যদিও কিছু উন্নত দেশ এ বৃদ্ধির হারে লাগাম টানতে পেরেছে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে উদ্বেগজনক হারে ডায়াবেটিসের রোগী বাড়ছে।  ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যার ক্রমবর্ধমান বৃদ্ধি, ডায়াবেটিসজনিত স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি জটিলতা এবং এতে মৃত্যু ব্যাপকহারে বেড়ে যাওয়ার কারণে ২০১২ সালে আন্তর্জাতিক ডায়াবেটিস ফেডারেশন ডায়াবেটিসকে বৈশ্বিক মহামারি হিসাবে ঘোষণা করে।

শহুরে জনসংখ্যার তুলনায় গ্রামাঞ্চলে ডায়াবেটিক রোগী কম দেখা যায়, যা খাদ্য গ্রহণের পার্থক্যের কারণে হতে পারে । এই রোগ প্রতিরোধে শুধু সচেতনতা নয়, জীবনযাত্রার পরিবর্তনও জরুরি । বিশেষজ্ঞদের মতে, অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস এবং কম শারীরিক পরিশ্রমের কারণে ডায়াবেটিস রোগীদের শহরে বেশি দেখা যায় । ডায়াবেটিস হওয়ার পেছনে যেসব বিষয় জড়িত, সেগুলোকে দুটি ভাগে ভাগ করা যায় : পরিবর্তনযোগ্য-জীবনযাত্রা সম্পর্কিত বিষয় যেমন স্থূলতা, অলস জীবনযাপন, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, মানসিক চাপ, ওষুধ ইত্যাদি; পূর্বে চিহ্নিত প্রি-ডায়াবেটিস এবং গর্ভকালীন অপুষ্টি। অপরিবর্তনীয়-পারিবারিক ও বয়স/লিঙ্গ। গবেষণালব্ধ তথ্য ও প্রমাণসাপেক্ষে এটা মোটামুটি নিশ্চিত যে, টাইপ-২ ডায়াবেটিস এবং এর জটিলতাগুলো প্রতিরোধ করা সম্ভব। এ জন্য প্রয়োজন সচেতনতা ও সমন্বিত প্রচেষ্টা।
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ ও চিকিৎসা উপলক্ষে এ রোগের আধুনিকতম গবেষণার সঙ্গে ক্লিনিক্যাল চিকিৎসার বাস্তব প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার পথিকৃৎ ডা. ইব্রাহিম ।
ঢাকার সেগুনবাগিচাতে নিজস্ব চিকিৎসা কক্ষে এবং ব্যক্তিগত যন্ত্রপাতি দিয়ে তিনি ডায়াবেটিক চিকিৎসার সূচনা করেছিলেন। ১৯৮৯ সালের এইদিনে জাতীয় অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ ইব্রাহিম মৃত্যুবরণ করেন।জাতীয় অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ ইব্রাহিম মৃত্যুবরণের দিনের স্মরণে এ দিবসটি পালন করা হয়ে থাকে।এদিন রোগীদের মধ্যে ডায়াবেটিস রোগ নিয়ে সচেতনতা তৈরি করা, কীভাবে একে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায় সে বিষয়ে রোগীদের জানানো হয়।

ডায়াবেটিস হলে শরীরে প্রয়োজনীয় ইনসুলিনের মাত্রা কমে যায়, শরীর ইনসুলিন তৈরি করতে পারে না, প্রস্রাবের সঙ্গে শর্করা বেরিয়ে যায়। এতে রোগী দুর্বল হয় ও ধীরে ধীরে শরীরের অন্যান্য অঙ্গেও ছড়িয়ে যায়।
এ রোগ সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। শুধু তাতেই থেমে থাকেন নি এ চিকিৎসক। এটিকে একাধারে গবেষণা ও গবেষণা ফলাবর্তনানুসারী ক্লিনিক্যাল চিকিৎসার উপায় ও উপলক্ষ নির্মাণ করেছিলেন, প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গড়ে তুলেছিলেন। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ ও চিকিৎসা উপলক্ষে এ রোগের আধুনিকতম গবেষণার সঙ্গে ক্লিনিক্যাল চিকিৎসার বাস্তব প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার পথিকৃৎ ডা. ইব্রাহিম ।
ঢাকার সেগুনবাগিচাতে নিজস্ব চিকিৎসা কক্ষে এবং ব্যক্তিগত যন্ত্রপাতি দিয়ে তিনি ডায়াবেটিক চিকিৎসার সূচনা করেছিলেন। প্রাথমিকভাবে মাত্র ২৩ জন রোগীর ওপর গবেষণা ও তাদের চিকিৎসা অগ্রগতি তথা তাদের ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের মাত্রা ও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা তিনি চালু করেছিলেন। পরে রোগীর সংখ্যা বেড়ে গেলে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও অন্যান্য চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় ও সমঝোতার মাধ্যমে রোগী রেফার করে চিকিৎসা করতেন।
১৯৮২ সালে যে বিশাল স্থাপনা ক্রমান্বয়ে গড়ে ওঠে, তা পরে ইব্রাহিম সেন্টার তথা অধুনা বারডেম নামে সুনাম ও সুখ্যাতি অর্জন করে।
বর্তমান জীবনধারায় ডায়াবেটিস একটি বড় সমস্যা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। পরিবারে এখন দু-একজন ডায়াবেটিক থাকা যেন খুবই স্বাভাবিক । শুধু বয়স্করাই নয়, তরুণরাও ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হচ্ছেন । আমাদের দেশেও তরুণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে অনেক ডায়াবেটিস রয়েছে এবং এই সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। তাই ডায়াবেটিস সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য আজকের দিনট পালিত হয়।

।।তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ

আমাদের বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থায় ডঃ সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণনের চিন্তাধারা ও শিক্ষাদর্শন এখনো সমানভাবে  পাথেয়।

একদিকে ভারতীয় অধ্যাত্মবাদ,অন্যদিকে পাশ্চাত্য চিন্তাধারা –দুই মিশ্রনে পরিপূর্ণ আধুনিক প্রগতিবাদী মানুষ ছিলেন ডঃ সর্বপল্লীরাধাকৃষ্ণন। নেহেরুজীর মতে,রাধাকৃষ্ণন ছিলেন ‘আধুনিক বিশ্বদর্শনের প্রতিভূ। ……….তিনি বিভিন্নভাবে দেশের সেবা করেছেন।কিন্তু সর্বোপরি তিনি একজন মহৎ শিক্ষক।তাঁর নিকট হতে আমরা অনেক কিছু শিখেছি এবং আজও শিখতে থাকবো।’ নেহেরুজী সত্য কথাই বলেছেন। রাধাকৃষ্ণনের চিন্তাধারা ও শিক্ষাদর্শন আমাদের বত’মান যুগেও সমান প্রাসঙ্গিক এবং  পথচলার পাথেয়।তিনি যে সমস্ত উপদেশ ও শিক্ষা দিয়ে গেছেন তা আমরা যদি ঠিকমত গ্রহণ করতে পারি তাহলে আমাদের পথ চলা সুগম হবে,আমাদের জীবনে উত্তরণ ঘটবে।
অত্যন্ত সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারে নিরন্তর দারিদ্রের সাথে সংগ্রাম করেও তিনি দেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রপতি পদ অলংকৃত করেছিলেন।দুঃখ-দারিদ্রকে জয় করে তিনি অতি সহজেই বলতে পেরেছেন- ‘Often suffering is not punishment but discipline’.

 

তিনি বলেছেন ,-‘মানুষের জীবন চলমান কর্মের এক ধারাবাহিক প্রকৃতি-এক মুহূর্ত নষ্ট করা চলবেনা।’ রাষ্ট্রপতির সুমহান ঐতিহ্য পালন করতে গিয়ে অনেক সময় তাঁকে বিবেকের দংশনে দংশিত হতে হয়েছিল,তবুও তিনি কখনও সত্যের পথ থেকে বিচ্যুত হননি।তিনি কখনও নিজের আত্মগরিমা প্রকাশ করেননি,তিনি ছিলেন সহজ সরল ও অমায়িক।
তিনি গীতাঞ্জলির ইংরাজি অনুবাদ ‘Song Offerings’ পড়ে রবীন্দ্রনাথের প্রতি গভীর ভাবে আকৃষ্ট হন।রবীন্দ্রনাথের কবিতা “বিপদে মোরে রক্ষা করো এ নহে মোর প্রার্থনা,
বিপদে আমি না যেন করি ভয়।
দুঃখ তাপে ব্যাথিত চিত্তে নাইবা দিলে সান্ত্বনা,
দুঃখে যেন করিতে পারি জয়।”
এই কবিতাটি তাঁর মনে গেঁথে যায়,তিনি বুঝতে পারেন দুঃখের মধ্য দিয়ে যে জয়লাভ তা জীবনের চরম সার্থকতা নিয়ে আসে-
এই উপলব্ধির সঙ্গে উপনিষদের দর্শনতত্ত্বের মিল খুঁজে পেয়েছিলেন রাধাকৃষ্ণন।
উপনিষদের শ্লোকটি হল-
অসতো মা সদগময়
অসতো মা জ্যোতির্গময়,
মৃতোর্মা অমৃতগময়।”
অর্থাৎ অসত্য থেকে সত্য,অন্ধকার থেকে আলোকে এবং মৃত্যু থেকে অমৃতে চলো।
ডঃ রাধাকৃষ্ণনের জীবনের মর্মবাণী ছিল – “দেবমন্দির হচ্ছে নিত্য পবিত্র মন্দির,আর সেই মন্দিরে তুমি নিজেই, যেমন মৃগের দেহের মধ্যেই কস্তুরি বিরাজ করে।আমরা  একাগ্রচিত্তে মনের মালিন্য দূর করবো।” তাঁর মতে ,জন্ম হোক যেখানে সেখানে,কর্মের মাধ্যমেই আমরা বিশ্বমানব হতে পারি। তিনি বলেছেন-“একান্ত নীরবতার মধ্যে বন্দীর বন্ধন মুক্তির জন্য করুন ক্রন্দনের মতো এবং অন্তরকে পাওয়ার জন্য কাতর ক্রন্দনধ্বনির মতো আমাদের কানে ভেসে আসে ব্যাথিত আত্মার সবিলাপ কণ্ঠস্বর।”
তাঁর শিক্ষাদশ’নও আমাদের ভালভাবে উপলব্ধি করা প্রয়োজন।তিনি বলেছেন – “A good Teacher is a candle,it consumes itself to light the way for others.” তাঁর মতে –একজন মানুষের সফলতা,চরিত্র ও ভাল ব্যক্তিত্ব গড়ার পিছনে শিক্ষকের অবদান রয়েছে।একজন শিক্ষককে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে।তিনি শুধুমাত্র পুঁথিগত হবেন তা নয়,তিনি জীবনের যে কোনো ক্ষেত্রের শিক্ষক হতে পারেন।তিনি বলবান,গুনবান ও চরিত্রবান করে তুলতে ছাত্রকে সাহায্য করবেন।সমাজগড়ার কারিগর হিসাবে শিক্ষকের গুরুত্ব অনেকখানি।তাঁর মতে, -“Every one acknowledges how a teacher shapes the life of students and we should be ever greatful to them”
জ্ঞানতপস্বী রাধাকৃষ্ণন কয়েকটি অনবদ্য বাণী রেখে গেছেন-সেগুলি নিম্নরূপ –
১। বইয়ের তাৎপর্য হলো আমাদের সংস্কৃতির মধ্যে সেতু নির্মান করা।
২। সহনশীলতা হলো শ্রদ্ধা,যা সীমিত মন অসীমতায় পৌঁছানোর জন্য প্রয়োজন।
৩। জীবনের আনন্দ ও সুখ শুধুমাত্র জ্ঞান ও বিজ্ঞানের ভিত্তিতে সম্ভব।
৪। সত্যিকারের শিক্ষক তাঁরাই,যাঁরা নিজের জন্য চিন্তা করতে শেখায়।
৫। একজন পরামর্শদাতা শিক্ষক একজন ব্যক্তিকে সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ দেখাতে ক্ষমতায়ন করেন।
৬। যখন আমরা মনে করি আমরা সব জানি,তখনই আমাদের শিখতে হবে।
৭। কেবল নিখুঁত মনের মানুষেরই জীবনে আধ্যাত্মিকতার অর্থ বুঝতে পারেন,নিজের সত্যতা,আধ্যাত্মিক একনিষ্ঠতার পরিচয়।
৮। জ্ঞানও বিদ্যার ফল হলো অনুভব।
৯। মানুষের স্বভাব মূলত ভাল এবং আত্মজ্ঞানের প্রচেষ্টা সমস্ত খারাপকে দূরে ঠেলে ফেলে দেবে।
১০। যদি মানুষ দানবে পরিনত হয় তাহলে তার হার হয়,
যদি মানুষ মহামানব হয়ে যায়,তাহলে এটি তার চমৎকার,
যদি মানুষ মানুষে পরিনত হয় তাহলে এটি তার জয়লাভ।
শিক্ষা সম্পর্কে তিনি খুব সুন্দর কথা বলেছেন – ‘জনগণকে শুধুমাত্র নাগরিক হওয়ার জন্য প্রশিক্ষণ দেবেনা, তাকে মানুষ হওয়ার জন্য প্রশিক্ষণ দেব।’
শিক্ষা সম্পর্কে বিবেকানন্দ প্রায় একই কথা বলেছেন –
“Man making is my mission.”
পরিশেষে বলি, ডঃ রাধাকৃষ্ণন একজন পূর্ণমানব-জ্ঞানের এক অতল সমুদ্র।ঋষির মতো প্রাজ্ঞ,জ্ঞানসাগরের অতল তলের ডুবুরী।সারা পৃথিবীর মানুষ তাঁর পান্ডিত্যের ঝরনা ধারায় স্নাত হয়ে উপলব্ধি করেছেন তাঁর দর্শন,শিক্ষা,সংস্কৃতি,সমাজচিন্তা ও দেশত্ববোধ।আজও তিনি দর্শনের মধ্য দিয়ে বটবৃক্ষের মতো আমাদের ছায়া দিয়ে রেখেছেন।সারাজীবন বহু উচ্চপদে অধিষ্ঠিত হয়েও যেহেতু তিনি প্রথম জীবনে শিক্ষক ছিলেন সেইহেতু তিনি শিক্ষকসমাজকে ভুলে যান নি।তাই তাঁর নিজের জন্মদিনটিকে ‘শিক্ষক-দিবস’ হিসাবে পালন করতে নির্দেশ দিয়ে গেছেন।তিনি পুঁথি সর্বস্ব শিক্ষা দানের বিরোধী ছিলেন এবং তিনি ছাত্রদের প্রকৃত মানুষ গড়ার কথা বলেছিলেন, তাই শিক্ষকদের কঠোর পরিশ্রম করতে হবে সে কথাও উল্লেখ করেছিলেন।
তাই বর্তমান শিক্ষকদের উচিত তাঁর প্রদর্শিত পথে ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষাদান করা।আজ শিক্ষক দিবসে শিক্ষক সমাজকে  তাই আবার নতুন করে শপথ গ্রহণের মাধ্যমে  তাঁর উপদেশ মতো কঠোর পরিশ্রম করার মানসিকতা নিয়ে প্রকৃত মানুষ গড়ার জন্য সচেষ্ট হতে হবে।তবেই তাঁর জন্মদিনে আমাদের সকলের শিক্ষাগুরুর প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন সার্থক হবে।
এই সত্যসন্ধানী জ্ঞানতপস্বী দীর্ঘ ৮৭ বছর কর্মময় জীবন কাটিয়ে ১৯৭৫ সালের ১৭ই এপ্রিল অমরলোকে যাত্রা করেন।আজ তিনি আমাদের মধ্যে নাই।কিন্তু তিনি আমাদের জন্য রেখে গেছেন তাঁর মূল্যবান বাণী সমূহ ও দর্শন শাস্ত্রের অমূল্য গ্রন্থসমূহ-যেগুলির সাহায্যে পরমার্থিক সত্ত্বার দিব্যজ্যোতি বিদ্যুতের   মতো আমাদের অন্তরকে স্পর্শ করবে।
আসুন,আমরা আজ এই মহামনীষীর শুভজন্মদিন ৫ই সেপ্টেম্বরে বিনম্রচিত্তে তাঁর উদ্দেশ্যে শ্রদ্ধা জানিয়ে বলি –
আমার মাথা নত করে দাও হে
তোমার চরণ ধুলির তলে।

 

কলমে : শ্রী প্রশান্ত কুমার দাস।
শিক্ষারত্ন প্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ,বাজিতপুর উচ্চ বিদ্যালয়(উঃমাঃ),
পোঃ-পাথাই, ময়ূরেশ্বর-১,বীরভূম ।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

আজ আন্তর্জাতিক দাতব্য দিবস, জানুন দিনটি কেন পালিত হয় এবং গুরুত্ব।

মাদার তেরেসার  ৫ সেপ্টেম্বর ১৯৯৭ সালে ইহধাম ত্যাগ করে দিব্যধামে পদার্পণ করেন। মহীয়সী এই ব্যক্তিত্বের মৃত্যু দিনটিকে বিশেষ মর্যাদা দিয়ে জাতিসংঘের ২০১২ সালের ১৭ ডিসেম্বর সাধারণ পরিষদের রেজুলেশন নং- এ/আরইএস/৬৭/১০৫: খসড়া এ/৬৭/এল.৪৫ ধারায় গৃহীত সিদ্ধান্ত মোতাবেক ৫ সেপ্টেম্বর বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক দাতব্য দিবস পালনের ঘোষণা দেয়।

 

আন্তর্জাতিক দাতব্য দিবস হল একটি আন্তর্জাতিক দিবস যা প্রতি বছর ৫ সেপ্টেম্বর পালন করা হয়।  এটি ২০১২ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের দ্বারা ঘোষণা করা হয়েছিল। আন্তর্জাতিক দাতব্য দিবসের প্রধান উদ্দেশ্য হল সচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং সারা বিশ্বে ব্যক্তি, দাতব্য, জনহিতকর ও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলির জন্য তাদের নিজস্ব জন্য দাতব্য সংক্রান্ত কার্যকলাপের জন্য একটি সাধারণ প্ল্যাটফর্ম প্রদান করা  স্থানীয়, জাতীয়, আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদ্দেশ্য।

আন্তর্জাতিক দাতব্য দিবসটি ২০১১ সালে হাঙ্গেরিয়ান পার্লামেন্ট এবং সরকার দ্বারা সমর্থিত একটি হাঙ্গেরিয়ান নাগরিক সমাজের উদ্যোগ হিসাবে কল্পনা করা হয়েছিল, দৃশ্যমানতা বাড়ানোর জন্য, বিশেষ ইভেন্টগুলি সংগঠিত করতে এবং এইভাবে সংহতি, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং দাতব্যের জন্য জনসমর্থন বৃদ্ধি করতে।
5 সেপ্টেম্বর কলকাতার মাদার তেরেসার মৃত্যু বার্ষিকীকে স্মরণ করার জন্য বেছে নেওয়া হয়েছিল, যিনি ১৯৭৯ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছিলেন “দারিদ্র্য এবং দুর্দশা কাটিয়ে ওঠার সংগ্রামে গৃহীত কাজের জন্য, যা শান্তির জন্য হুমকিস্বরূপ।”
১৭ ডিসেম্বর ২০১২-এ, হাঙ্গেরির একটি প্রস্তাবের প্রতিক্রিয়ায়, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ৫ সেপ্টেম্বরকে আন্তর্জাতিক দাতব্য দিবস হিসেবে মনোনীত করার জন্য সর্বসম্মতিক্রমে একটি প্রস্তাব গ্রহণ করে।  রেজোলিউশনটি ৪৪টি জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্র (আলবেনিয়া, অ্যাঙ্গোলা, অস্ট্রেলিয়া, বেলারুশ, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, বুলগেরিয়া, কম্বোডিয়া, চিলি, ক্রোয়েশিয়া, ডোমিনিকান রিপাবলিক, ইরিত্রিয়া, এস্তোনিয়া, জর্জিয়া, হরিয়া, উং-ডুয়ে-এ, উং-ডুয়ে-এ, জর্জিয়া-তে সহ-স্পন্সর করেছে।  , আয়ারল্যান্ড, ইসরায়েল, ইতালি, জর্ডান, কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, লাটভিয়া, লেবানন, লিথুয়ানিয়া, লাক্সেমবার্গ, ম্যাসিডোনিয়া, মাদাগাস্কার, মাল্টা, মন্টিনিগ্রো, পাকিস্তান, পোল্যান্ড, সাইউব কোরিয়া, সাইউব কোরিয়া, রোপনিয়ার কোরিয়া , সিঙ্গাপুর, স্লোভাকিয়া, স্লোভেনিয়া  , থাইল্যান্ড, তুরস্ক, ইউক্রেন) জাতিসংঘের পাঁচটি আঞ্চলিক গ্রুপের প্রতিনিধিত্ব করে।
তার রেজোলিউশনে, সাধারণ পরিষদ সদস্য রাষ্ট্র, জাতিসংঘ ব্যবস্থার সংস্থা এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সংস্থা, স্টেকহোল্ডারদের পাশাপাশি নাগরিক সমাজের এনজিওগুলিকে দাতব্য প্রতিষ্ঠানকে উত্সাহিত করে একটি উপযুক্ত পদ্ধতিতে আন্তর্জাতিক দাতব্য দিবস উদযাপনের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছে, শিক্ষা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি কার্যক্রম সহ।

 

।।তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া।।

Share This