Categories
নারী কথা প্রবন্ধ রিভিউ

আজ আন্তর্জাতিক সিডও দিবস, জানুন দিনটি কেন পালিত হয় এবং গুরুত্ব।

 

আজ আন্তর্জাতিক সিডও দিবস। শতাব্দীব্যাপী নারী আন্দোলনের অভিযাত্রা ও বিংশ শতাব্দীর মানবাধিকার আন্দোলনের অনুকূল পরিবেশে জাতিসংঘ নারী আন্দোলনের অগ্রগতির নানা উদ্যোগের ফসল ‘সিডও সনদ’। এই সনদ প্রণয়ন বা কার্যকর করার লক্ষ্যে বিভিন্ন ওয়ার্কিং গ্রুপ নারী জাতির মর্যাদাবিষয়ক কমিশন ও সাধারণ পরিষদের মধ্যে পাঁচ বছর ধরে বিভিন্ন সময় আলোচনা ও পর্যালোচনার পর গৃহীত হয় ‘সিডও সনদ’। বিভিন্ন রাষ্ট্র সনদে স্বাক্ষর শুরু করে ১৯৮০ সালে।

নারীর বিরুদ্ধে সকল প্রকার বৈষম্য দূর করার কনভেনশন (CEDAW) হল একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি যা 1979 সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ কর্তৃক গৃহীত হয়।  নারীর অধিকারের একটি আন্তর্জাতিক বিল হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, এটি 3 সেপ্টেম্বর 1981 সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং 189টি রাজ্য এটি অনুমোদন করেছে।  কনভেনশনটি অনুসমর্থনকারী পঞ্চাশটিরও বেশি দেশ কিছু ঘোষণা, সংরক্ষণ এবং আপত্তির সাপেক্ষে তা করেছে, যার মধ্যে 38টি দেশ রয়েছে যারা প্রয়োগকারী নিবন্ধ 29 প্রত্যাখ্যান করেছে, যা কনভেনশনের ব্যাখ্যা বা প্রয়োগ সম্পর্কিত বিরোধ নিষ্পত্তির উপায়গুলিকে সম্বোধন করে।  অস্ট্রেলিয়ার ঘোষণায় তার ফেডারেল সাংবিধানিক ব্যবস্থার ফলে কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা উল্লেখ করা হয়েছে।  মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং পালাও স্বাক্ষর করেছে, কিন্তু চুক্তিটি অনুমোদন করেনি।  হলি সি, ইরান, সোমালিয়া, সুদান এবং টোঙ্গা CEDAW-তে স্বাক্ষরকারী নয়।

 

জাতিসংঘের উদ্যোগে প্রতিবছর ‘সিডও’ দিবস পালিত হয়। নারীর প্রতি সব ধরনের বৈষম্য বিলোপ সনদ Convention on the Elimination of All forms of Discrimination(CEDAW)।নারীর মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে ১৯৭৯ সালের ১৮ ডিসেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে গৃহীত হয়  Convention on the Elimination of All Forms of Discrimination against Women, সংক্ষেপে যা  CEDAW হিসেবে পরিচিত। বাংলায় এটিকে চিহ্নিত করা হয় ‘নারীর প্রতি সব বৈষম্য বিলোপ সনদ (সিডও)’। ১৯৭৯ সালে জাতিসংঘ কর্তৃক সনদটি গৃহীত হলেও ১৯৮১ সালের ৩ সেপ্টেম্বর থেকে তা কার্যকর করা শুরু হয়।

 

মহিলাদের বিরুদ্ধে বৈষম্য দূরীকরণ সংক্রান্ত কমিটি, সাধারণত ‘CEDAW কমিটি’ হিসাবে সংক্ষেপে, জাতিসংঘের (UN) চুক্তি সংস্থা যা নারীর বিরুদ্ধে সকল প্রকার বৈষম্য দূরীকরণের কনভেনশন (CEDAW) তত্ত্বাবধান করে।  এই কমিটির গঠনটি CEDAW-এর 17 অনুচ্ছেদে রূপরেখা দেওয়া হয়েছিল, যা কমিটির নিয়ম, উদ্দেশ্য এবং পরিচালনা পদ্ধতিও প্রতিষ্ঠা করে।  CEDAW-তে বর্ণিত নিয়মগুলি অনুসরণ করা হচ্ছে তা নিশ্চিত করতে কমিটি তার কার্যকালের পুরো বছর ধরে একাধিক সেশন করেছে।  সময়ের সাথে সাথে কমিটির অনুশীলনগুলি নারীর অধিকার সংক্রান্ত বিষয়গুলির উপর বর্ধিত ফোকাসের কারণে বিকশিত হয়েছে।

 

CEDAW কার্যকর হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় 20টি অনুমোদন পাওয়ার পর 3 সেপ্টেম্বর 1981-এ মহিলাদের বিরুদ্ধে বৈষম্য দূরীকরণ সংক্রান্ত কমিটি গঠিত হয়েছিল৷  CEDAW-এর 17 অনুচ্ছেদ কমিটি গঠন করেছে যাতে CEDAW-এর বিধানগুলি যে দেশগুলি স্বাক্ষর করেছে এবং এর দ্বারা আবদ্ধ হতে সম্মত হয়েছে তাদের দ্বারা অনুসরণ করা হয়েছে।  কমিটির প্রথম নিয়মিত অধিবেশন 18 থেকে 22 অক্টোবর 1982 পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়। এই অধিবেশনে কমিটির প্রথম কর্মকর্তারা সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা দ্বারা নির্বাচিত হন, মঙ্গোলিয়ার মিসেস এল. ইদার চেয়ারপারসন হন।  নির্বাচিত অন্য কর্মকর্তারা হলেন তিনজন ভাইস-চেয়ারপারসন: কানাডার এম. ক্যারন, যুগোস্লাভিয়ার জেড ইলিক এবং রুয়ান্ডার এল. মুকাইরাঙ্গা।  কমিটির প্রতিনিধি হিসেবে গিয়ানার ডি.পি. বার্নার্ড নির্বাচিত চূড়ান্ত কর্মকর্তা ছিলেন।  এই অধিবেশন চলাকালীন, কমিটি সর্বসম্মতিক্রমে তার প্রক্রিয়ার নিয়মগুলি গ্রহণ করার জন্য অনুমোদন করেছে৷

 

এর মূল বিষয় হচ্ছে, নারীর প্রতি সকল প্রকার বৈষম্য বিলোপ বা দূরীকরণ। যেখানে রাজনৈতিক, সামাজিক, পারিবারিক সব ক্ষেত্রে নারীর মানবাধিকার নিশ্চিত করার বিষয়টি স্পষ্ট করে বলা হয়েছে। এটি আইনগত ভিত্তি নিয়ে একটি কনভেনশন আকারে রূপ লাভ করেছে। এ সনদটি মূলত তিনটি প্রেক্ষিত থেকে সমস্যা সমাধানের নির্দেশ দেয়। ক. নারীর নাগরিক অধিকার ও আইনি সমতা নিশ্চিতকরণ, যার মাধ্যমে নারী গণজীবনে ও সমাজে পুরুষের সমপর্যায়ে সব সুবিধা ভোগ করতে পারবেন। খ. নারীর প্রজনন ভূমিকাকে সামাজিক ভূমিকা হিসেবে গণ্য করা, যাতে প্রজননের কারণে নারীকে কোণঠাসা না করে এ ক্ষেত্রে নারীর অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়া। গ. আচার-প্রথা, সংস্কার ও বিধি যা নারীর জেন্ডার ভূমিকা নির্ধারণ করে, তা বাতিল করা। পরিবার ও সমাজে শুধু ‘মানুষ’ হিসেবে নারীকে গণ্য করা এবং পুরুষের ক্ষমতাভিত্তিতে তার অধিকার প্রতিষ্ঠা করা। সিডও একমাত্র আন্তর্জাতিক চুক্তি বা সনদ, যা শুধু নারী সংক্রান্ত।

 

।।তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

আজ বিশ্ব নারিকেল দিবস, জানুন দিনটি কেন পালিত হয় এবং দিনটি পালনের গুরুত্ব।

নারকেল একটি অর্থকারী ফসল। এর উপকার, গুণাগুণ হিসেবের বাহিরে। জীবন জীবিকায় এর ভূমিকা আনস্বীকার্য। যে কোন দেশের অর্থনীতিটে নারকেল এক গুরুত্বপূর্ণ আবদান রাখে। এ এমন এক গাছ যার শুরু থেকে শেষ প্রতিটি অঙ্গই কাজেলগে কোনোনা কোনো ক্ষেত্রে। তাই এর গুরুত্ব বোঝাতে প্রতি বছর ২ সেপ্টেম্বর বিশ্ব জুড়ে পালিত হয় বিশ্ব নারকেল দিবস। এই দিনটা পালন করার মূল উদ্দেশ্য হল নারকেলের গুরুত্ব সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করা এবং এর উপকারিতা বোঝানো।

 

নারকেল নামটি পর্তুগিজ শব্দ কোকো থেকে এসেছে। যার অর্থ মাথা বা মাথার খুলি এবং বলা বয় যে এটি ইন্দো-মালয় অঞ্চলের কোথও উদ্ভুত হয়েছে। নারকেল গাছের বৈজ্ঞানিক নাম Cocos Nucifera। ৮২ ফুট বা ২৫ মিটার উচ্চতা হয়ে থাকে এই গাছের। বিশ্বব্যাপী নারকেল সবচেয়ে বেশি উৎপাদিত হয় তিনটি দেশে। যথা ভারত, ইন্দোনেশিয়া ও ফিলিপিন। সংস্কৃত ভাষায় নারকেল গাছটিকে কল্পবৃক্ষ বা স্বর্গের গাছ হিসেবেও উল্লেখ করা হয়।

 

নারকেল হচ্ছে পৃথিবীর অন্যতম ভার্সেটাইল ফল, এর একাধিক উপকারিতা আছে। এটা যেমন খাওয়া যায়, তেমনই আবার এর তেল রান্না থেকে ত্বক পরিচর্চায় ব্যবহার করা যায়। এই দিনটি সাধারণত এশীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় রাষ্ট্রগুলিতে বিশেষ ভাবে পালিত হয়। কারণ এই অঞ্চলগুলিতে অধিক পরিমাণে নারকেল উৎপাদন হয়ে থাকে। নারকেলের স্বাস্থ্যোপযোগিতা ও বাণিজ্যিক লাভ সম্পর্কে জন সচেতনতা গড়ে তোলার জন্য বিশ্ব নারকেল দিবস পালিত হয়। ২০০৯ সালে এই দিনটি প্রথম পালিত হয়। তার পর থেকে প্রতিবছর ২ সেপ্টেম্বর বিশ্ব নারকেল দিবস পালিত হয়ে আসছে।

এশিয়া প্যাসিফিক কোকোনাট কমিউনিটি (APCC) ২০০৯ সালে এই দিবসটি প্রথম উদযাপন করে। তারপর থেকে, প্রতি বছর UN-ESCAP (United nations economic and social commission for Asia Pacific) এবং APCC একত্রে এই দিবসটি উদযাপন করে। দিবসটি পালনের লক্ষ্য হল, এই ফলের প্রচার এবং এর স্বাস্থ্য উপকারিতা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা।

আমরা জানি,  বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ফলগুলির মধ্যে একটি হল নারকেল, পাশপাশি এই ফলের বহুমুখী প্রকৃতি এটিকে বাকি ফলের থেকে আলাদা করে তোলে। নারকেল বা ডাব আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য কতটা উপকারি, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। নারকেলের জল, দুধ এবং তেল আমাদের স্বাস্থ্য, ত্বক, চুলের জন্য অত্যন্ত উপকারি। ডাব বা নারকেল দিয়ে বিভিন্ন সুস্বাদু খাবারও তৈরি করা যায়। নারকেল দিবসে, নারকেল থেকে তৈরি বিভিন্ন প্রকার মিষ্টান্ন, নারকেল গাছ থেকে তৈরি বিভিন্ন সামগ্রী এই প্রদর্শনী তে রাখা হয়।

সারা বিশ্বে প্রায় অনেকগুলো দেশেই নারকেলের চাষ হয়। তার মধ্যে, মইক্রোনেসিয়া, ফিজি,ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া,থাইল্যান্ড,ভারত,ব্রাজিল, শ্রীলঙ্কা, ফিলিপিন্স অন্যতম। এর মধ্যে সর্বাধিক নারকেল উৎপাদন হয়, ইন্দোনেশিয়া, ভারত, ফিলিপিন্স, শ্রীলঙ্কা, ও ব্রিজেলে।
এটা বিশ্বের একটি অন্যতম দরকারি গাছ এবং এটিকে প্রায়ই “জীবনের গাছ” হিসাবে উল্লেখ করা হয়। এটি মানুষ খাদ্য, জ্বালানী, প্রসাধনী, ভেষজ ঔষধ সরবরাহ, দালান নির্মান সামগ্রী হিসেবে ব্যবহার করে এবং এর রয়েছে আরও নানাবিধ ব্যবহার।

নারকেল চাষের উপর ভারতের প্রায় কোটি মানুষের জীবিকা নির্ভর করে।  ভারতের কেরল,অন্ধ্রপ্রদেশ, কর্ণাটক এবং তামিলনাড়ু তে সর্বাধিক নারকেলের চাষ দেখা যায়। দেশের প্রায় ৯০ শতাংশ নারকেল এখানেই চাষ হয়। সমুদ্রের পার্শবর্তী স্থানে,লবনাক্ত মাটিতেই নারকেলের চাষ ভালোভাবে হয়।
নারকেল এমন একটি ফল, যা পৃথিবীর সব প্রান্তের মানুষের কাছে খুবই জনপ্রিয়। এই গাছের কাঠ থেকে শুরু করে, পাতা, নারিকেলের ছোবড়া, জল, দুধ, মালা, সবটাই ব্যবহৃত হয় কোনও না কোনও কাজে। তাই অর্থনীতিতে নারিকেলের ভূমিকা যে অসীম তা কিন্তু অস্বীকার করা যায় না।

একটি নারকেল গাছে প্রত্যেক বছর ৭০-১০০ টি নারকেল উৎপন্ন হয়। ভারতবর্ষে প্রায় দেড় কোটি গাছ শুধুমাত্র কেরলেই আছে ,যার কারণে কেরল কে কোকোনাট ল্যান্ডও বলা হয়।

 

ডাব বা নারকেলের জল কয়েকটি উপকারিতা সম্পর্কে আলোচনা করা যাক—

 

নারকেল একটি সুস্বাদু পুষ্টিকর ফল। এই ফল কাঁচাও খাওয়া যায়, এবং এর থেকে বিভিন্ন ধরনের খাবার ও তৈরি হয়,যেমন কেক, লাড্ডু, বরফি ইত্যাদি। তাছাড়া বিভিন্ন অনুষ্ঠানে, পুজো তে, এবং রান্নাতেও ব্যাবহার করা হয়।

নারকেলের পাতা জ্বালানির কাজে ব্যবহার করা হয়,নারকেলের পাতা থেকে তৈরি হয় ঝাঁটা যা সর্বত্রই ব্যবহার করা হয়।
নারকেলের ছোবা থেকে তৈরি হয় দড়ি,সোফা, পাদানি এবং বিভিন্ন ব্যাবহারিক জিনিস।

নারকেল গাছ ও জ্বালানির কাজে ব্যবহার করা হয় এবং নারকেল গাছ চেরাই করে ছোটখাটো আসবাবপত্র ও তৈরি করা হয়।

নারকেল থেকে তৈরি হয় নারকেল তেল যা আমাদের চুলের জন্য উপযোগী।  যার ব্যবহার ভারতে এবং অন্যান্য দেশেও রয়েছে।
নারকেলের জল আমাদের শরীরের পক্ষে প্রচুর মাত্রায় উপযোগী।

নারকেলের জলে রয়েছে গ্লুকোজ, ভিটামিন সি,পটাসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম যা আমাদের শরীরের ব্লাড প্রেসার কে নিয়ন্ত্রণে সহায়তা প্রদান করে।

কোলেস্টল এবং ফ্যাট ফ্রী হবার দরুন এটি হৃদয়ের পক্ষেও লাভদায়ক। এর মধ্যে থাকা আন্টি-অক্সিডেন্টের গুন শরীরের রক্ত সঞ্চালন কে সক্রিয় রাখে। এবং এটি শরীরের ওজন কমানোর ক্ষেত্রেও কার্যকর।

নারকেলের জল আমাদের শরীরের থাইরয়েড হরমোন কে নিয়ন্ত্রণে রাখে।

নারকেলের জল আমাদের কিডনির পক্ষেও উপযোগী, যদি প্রতিদিন নারকেলের জল খাওয়া যায় তাহলে কিডনিতে পাথর হবার সম্ভাবনা থাকে না।

তাছাড়া নারকেলের জল রূপচর্চার ক্ষেত্রেও ব্যবহার করা হয়।

 

নারকেল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়—

 

নিয়মিত নারকেল খাওয়া ওজন কমাতে সাহায্য করে। কারণ এতে অনেক ফাইবার থাকে।
ত্বকের প্রাকৃতিক ঔজ্জ্বল্য বজায় রাখে- নারকেল বা ডাবের জল এই জল পান করলে বলিরেখা ও ফাইন লাইন কমানো যায় এবং ত্বকের টানটান ভাব বজায় থাকে। ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে নারকেল। নিয়মিত নারিকেল খেলে ত্বক কোমল ও সুন্দর হয়। এছাড়াও নারকেল খেলে ত্বকে বলিরেখা পড়ে না।

হাড় মজবুত করে- ডাবের জল হাড় মজবুত এবং ঘনত্ব বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। এর ফলে অল্প বয়সে অস্টিওপোরোসিস, আর্থ্রাইটিস, অস্টিওপেনিয়া ইত্যাদি হাড়ের রোগের সমস্যা রোধ করা যায়।
অ্যাসিডিটি প্রতিরোধ করে- ডাবের জল শরীরের পিএইচ স্তরে ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। এটি অ্যাসিডিটি ও বুক জ্বালার হাত থেকে স্বস্তি দেয়।
চুলের টনিকের কাজ করে- চুল ঝরার সমস্যা থাকলে ডাবের জল পান করা শুরু করে দিন।
হজম শক্তি উন্নত করে- ডাবের জল প্রাকৃতিক উপায়ে সতেজতা প্রদান করে। পাশাপাশি শরীরে ব্লটিং ও গ্যাসের জন্য দায়ী সোডিয়ামের পরিমাণও কম করে। ফাইবার সমৃদ্ধ হওয়ায় এটি পাচনতন্ত্রকেও মজবুত করে।
ডিহাইড্রেশন প্রতিরোধ করে, হজম শক্তি উন্নত করার পাশাপাশি ডাবের জল শরীররে হাইড্রেট রাখে। এটি শরীরের হারিয়ে যাওয়া পুষ্টি উপাদানগুলিকে পুনঃস্থাপিত করে।
নিয়মিত নারকেল খেলে স্তন ক্যানসার, কোলন ক্যানসারসহ অন্যান্য ক্যানসারেরও ঝুঁকি কমে।
ডাবের জল পান করলে শরীরে রক্ত জমাট বাঁধার প্রবণতা কমে ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।
হজম প্রক্রিয়ায় সহায়তা করে নারকেল।
নারকেলের দুধ  হেপাটাইটিস সি, জন্ডিস ও লিভারের বিভিন্ন অসুখ সারাতে নারকেল দুধ কার্যকরী।
নিয়মিত নারকেল খেলে মাথায় খুশকি ও শুষ্কতা দূর হয়। এছাড়াও নারকেল তেল ব্যবহারে চুল পড়া বন্ধ হয়।
নারকেলে বেশি ক্যালোরি থাকায় তা দ্রুত শরীরে শক্তি যোগায়। তাই কাজের মাঝে ক্লান্তি আসলে বা হালকা খিদে পেলে নারকেল খেলে তাৎক্ষণিক অ্যানার্জি বাড়বে।
নারকেলে থাকে স্বাস্থ্যকর ফ্যাট। যা কোলেস্টেরল বাড়ায় না বরং আথেরোসক্লেরোসিসের ঝুঁকি কমিয়ে হার্ট ভালো রাখতে সহায়তা করে।হৃদযন্ত্র ভালো রাখে নারকেল। এটি রক্তে কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমিয়ে হৃদরোগের সমস্যা দূর করে।
নারকেল রক্তের ইনসুলিনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে। এ কারণে ডায়াবেটিস রোগীরাও পরিমিত নারকেল খেতে পারেন। এতে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

নারকেল সম্পর্কে তথ্য—

(ক) ‘coconut’ শব্দটি ‘nut’ এবং পর্তুগিজ শব্দ ‘coco’ এর সমন্বয়ে উদ্ভূত।
(খ) বিশ্বে নারকেল উৎপাদনের ৯০ শতাংশই আসে এশিয়া থেকে।
(গ) ইন্দোনেশিয়া, Philippines, ব্রাজিল এবং শ্রীলঙ্কার পাশাপাশি ভারত বিশ্বের অন্যতম বড় রপ্তানিকারক দেশ।

(ঘ) নারকেল পুরোপুরি পরিপক্ক হতে এক বছর সময় লাগে।

(ঙ) একটি নারকেল গাছ প্রতি বছর কমকরে প্রায় ১০০টি নারকেল দেয়।
তাই বর্তমানে স্বাস্থ্য সচেতন ব্যক্তিরা ডাবের জলকে অধিক গুরুত্ব দিচ্ছেন। এই জল ত্বক, হৃদয়, চুল, রক্তচাপ এবং হজমের পক্ষে বিশেষ উপকারী। সমীক্ষায় জানা গিয়েছে যে, স্পোর্টস ড্রিঙ্কসের তুলনায় এটি অনেক বেশি স্বাস্থ্যকর, কম ক্যালরি সম্পন্ন। তাই আজ এই বিশেষ দিনটিতে ডাব বা নারকেলের জল কয়েকটি উপকারিতা সম্পর্কে আলোচনা করা হলো ।
ভারতসহ মোট ১৮টি দেশ নিয়ে এপিসিসি সংস্থাটি গঠিত। এ দিবসের মূল লক্ষ্য হচ্ছে নারকেল শিল্পের উন্নতির মাধ্যমে একটি দেশের অর্থ ব্যবস্থাকে মজবুত করা। নারকেলের মূল্য ও উপকারিতা সম্পর্কে জনসাধারণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধিতে পালিত হয় দিনটি। খাদ্য, জ্বালানি, ওষুধ, প্রসাধনী, নির্মাণ সামগ্রী ও অন্যান্য নানা কারণে ব্যবহৃত হয় নারকেল। এই নারকেল গাছকে প্রায়শই ‘Tree Of Life’ নামে উল্লেখ করা হয়ে থাকে। এশিয়া প্যাসিফিক কোকোনাট কমিউনিটি (এপিসিসি) নারকেলের মূল্য ও সমাজে তাদের প্রভাবের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করতে এই দিনটির প্রচার শুরু করে।

 

।। তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও  বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

ইতিহাস গর্ভে ফিরে দেখা! : তন্ময় সিংহ রায়।।।

”ভাইয়ের কপালে দিলাম ফোঁটা, যমের দুয়ারে পড়ল কাঁটা।
যমুনা দেয় যমকে ফোঁটা, আমি দিই আমার ভাইকে ফোঁটা!”

 

এই রাখি’র বন্ধনে কিভাবে মানুষ বাঁধা পড়ল? পুরাণ থেকে ইতিহাস গর্ভে এ নিয়ে
রয়ে গেছে বেশ কিছু রহস্যময় ও উল্লেখযোগ্য ঘটনাসমূহ!
এবারে উঁকি মারা যাক পৌরাণিক সেই কাহিনীগুলি’র দরজায়!
প্রথমত, হিন্দু ধর্মের মহাকাব্যদ্বয়ের মধ্যে মহাভারতে লুকিয়ে থাকা রাখি বন্ধনের যে ঘটনা আমরা দেখতে পাই তা হল,
কথিত আছে রাজসূয় যজ্ঞের সময় শিশুপালকে হত্যার পরে স্বয়ং শ্রী-কৃষ্ণের একটি আঙুল কেটে ঝরতে থাকে রক্ত!
এমতবস্থায়, পঞ্চপান্ডবের স্ত্রী দ্রৌপদী
তখন তাঁর শাড়ির আঁচল খানিকটা ছিঁড়ে কৃষ্ণের আঙুলে বেঁধে দেন ও অভিভূত কৃষ্ণ তাঁর অনাত্মীয়া, কিন্তু বোন হিসাবে মেনে নেওয়া দ্রৌপদীকে পরিবর্তে
প্রতিশ্রুতি দেন যে, ভবিষ্যতে সর্বরকম বিপদে তিনি রক্ষা করবেন তাঁকে।
এই ঘটনার বহু বছর পর, পাশাখেলায় হারের মাধ্যমে কৌরবরা যখন দ্রৌপদীকে অপমান করে তাঁর বস্ত্রহরণ করতে উদ্যত হন, সে মুহুর্তে  কৃষ্ণ অসমাপ্ত বস্ত্র সরবরাহের দ্বারা দ্রৌপদীর সম্মান রক্ষা করে বজায় রাখেন সেই প্রতিদান।

দ্বিতীয়ত, যমুনা তাঁর ভাই স্বয়ং যমের হাতে  বেঁধে দিয়েছিলেন রাখি।

তৃতিয়ত, শুভ ও লাভ নামে গণেশের পুত্রদ্বয়
এক সময় বায়না ধরে যে, নিজেদের বোনের হাতে তারা পরাতে চায় রাখি!
এ পরিস্থিতিতে উপায়ান্তর না দেখে গণেশ তাঁর দুই স্ত্রী ঋদ্ধি ও সিদ্ধি’র অন্তর থেকে নির্গত অগ্নি থেকে সৃষ্টি করেন বোনরূপি সন্তোষী মা-কে, যিনি সন্তোষের অধিষ্ঠাত্রী দেবী নামে অভিহিত হিন্দুধর্মের একজন অ-শাস্ত্রীয় ও লৌকিক নবীন দেবী।

এবারে আলোকপাত করা যাক কিংবদন্তী’র ইতিহাস কি বলছে সে বিষয়ে,
প্রথমত, শত্রুর হাত থেকে নিজের রাজ্যের মান-মর্যাদা রক্ষা করার একান্ত উদ্দ্যেশ্যে,
মুঘল সম্রাট বাবর পুত্র সম্রাট হুমায়ুনের কাছে একবার সাহায্যপ্রার্থী হন চিতোরের বিধবা রানি কর্ণবতী এবং সেই সময়ে তিনি একটি রাখিও পাঠান হুমায়ুনকে। এ বিষয়কে কেন্দ্র করেই পরবর্তীতে এই ঘটনা পরিনত হয় উৎসবে এবং এর জনপ্রিয়তা হতে থাকে ক্রমবর্ধমান!

দ্বিতীয়ত, গ্রীক বীর আলেকজান্ডারের ভারত আক্রমণ ভারতের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় বিশেষত এই কারণে বলে আমার মনে হয় যে, এর ফলে গ্রিকদের সভ্যতা, সংস্কৃতি ও চিন্তাধারার সাথে পরিচিত হয়ে ওঠার একটি সুযোগ আমরা পাই।
যাইহোক, বর্তমান ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হওয়া ঝিলাম নদী (ঋগ্বেদে বিতস্তা নদী) সংলগ্ন উপকূলে গ্রিকদের বশ্যতা স্বীকার না করা ঝিলাম রাজ পুরুর সাথে ৩২৬ খ্রিস্টপূর্বাব্দে আলেকজান্ডারের তুমুল যুদ্ধের ফলে সেই যুদ্ধে পরাজিত হয়েছিলেন পুরু।
কিন্তু ইতিহাস বলছে, তাঁর স্বামীর প্রাণ সংশয় হতে পারে, এই আশঙ্কা করে আলেকজান্ডারের স্ত্রী রোক্সানা পুরুর কাছে যান এবং তাঁর হাতে বেঁধে দেন একটি পবিত্র সুতো ও পরিবর্তে পুরু
আলেকজান্ডারের কোনও ক্ষতি করবেন না বলে কথাও দেন।

এদিকে আধুনিক ইতিহাসে চোখ রাখলে আমরা দেখতে পাই,
১৯ শতকে বাংলায় জাতীয়তাবাদী আন্দোলন চরম পর্যায়ে থাকাটা ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের কাছে হয়ে উঠেছিল অপরিমিত ভয়ের একটি বিশেষ কারণ, আর যে কোনো উপায়ে এই  আন্দোলনকে দমন করার বিভিন্ন পথ খুঁজতে গিয়েই ব্রিটিশ সরকার সিদ্ধান্ত নেয়, তারা বাংলাকে দুই ভাগে ভাগ করে ঐক্য শক্তিকে হ্রাস করবে। এ হেন জটিল ও মর্মান্তিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে রবীন্দ্রনাথ সহ গোটা ভারতের বিভিন্ন বিশিষ্টজন ও নেতৃবৃন্দ এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা ও সমালোচনা করেছিলেন এবং শুরু করেছিলেন বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে এক সংঘবদ্ধ প্রতিবাদী আন্দোলন!
অতএব ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ প্রতিরোধের উদ্দ্যেশ্যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কোলকাতা, সিলেট
ও ঢাকা ইত্যাদি থেকে হাজার হাজার হিন্দু ও মুসলিম ভাই-বোনকে আহ্বান করেছিলেন ঐক্যতার প্রতীক হিসাবে রাখি বন্ধন উৎসব পালন করার জন্যে!
বলাবাহুল্য সে সময় দেশে ধর্মীয় অসহিষ্ণুতাও যেন পৌঁছেছিল একেবারে চরম পর্যায়ে!
বলার আর কোনো অপেক্ষা রাখে না যে,
ধর্মীয় অরাজকতা সে সময়েও ছিল, আজও বজায় আছে তা বহাল তবিয়তে!

ক্রমবিবর্তনের মধ্যে দিয়ে একবিংশের ঠিক যে জায়গায় এসে পৌঁছেছে এই উৎসব তা এরূপ,
শ্রাবণ মাসের পূর্ণিমা তিথিতে হিন্দু ভাই-বোনদের মধ্যে অত্যন্ত নিষ্ঠাভরে পালন করা হয় এই রাখী বন্ধন নামক উৎসবটি!
উৎসবের ধরণ হিসাবে উল্লেখ্য, সেই বিশেষ দিনে দিদি বা বোনেরা তাঁদের ভাই বা দাদা’র আ-জীবন মঙ্গল কামনা’র উদ্দ্যেশ্যে হাতের কব্জিতে বেঁধে দেয় রাখী নামক একটি পবিত্র সুতোর বন্ধন! পরিবর্তে ভাই বোনকে দেয় কিছু উপহার ও শপথগ্রহণ করে বা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয় সারাজীবন বোনকে রক্ষা করায়!
এখানে একটি বিষয় জানানো ভালো, সেই ভাই-বোন যে একই মায়ের গর্ভের হতে হবে এমন কোনো কথা নেই।
হিন্দু ছাড়াও জৈন ও শিখ প্রভৃতিরা পালন করে থাকেন এই উৎসব!
সর্বশেষ এই যুক্তি পরিলক্ষিত যে, রাখিকে ভাই-বোনের উত্‍সব হিসাবে মনে করা হলেও ইতিহাসে কিন্তু, পুরুষকে সব বিপদ থেকে রক্ষা করার শুভ প্রতীক হিসাবে তাঁদের কব্জিতে মহিলাদের সুতো বেঁধে দেওয়ার একটি যোগসূত্র থেকেই যাচ্ছে।
আর হয়তো এগুলিই পরে রূপ নেয় রাখি বন্ধন উত্‍সবের!!

Share This
Categories
প্রবন্ধ

আজ আন্তর্জাতিক ভিকটিমস অব এনফোর্সড ডিজঅ্যাপেয়ারেন্স দিবস, জানুন দিনটি পালনের গুরুত্ব ও তাৎপর্য।

বলপ্রয়োগকৃত নিখোঁজের শিকারদের আন্তর্জাতিক দিবসটি প্রতি বছর ৩০ আগস্ট পালিত হয়। এই উদযাপনটি বিশ্বব্যাপী জোরপূর্বক অন্তর্ধানের গুরুতর সমস্যা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য নিবেদিত।  জোরপূর্বক অন্তর্ধান বলতে বোঝায় গ্রেপ্তার, আটক, অপহরণ, বা রাষ্ট্রের এজেন্ট বা ব্যক্তি/গোষ্ঠী কর্তৃক অনুমোদিত, সমর্থিত বা সহ্য করা ব্যক্তিদের স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত করা।  এটি প্রায়শই একজন ব্যক্তির আটকের বিষয়টি স্বীকার করতে বা তাদের ভাগ্য বা অবস্থান সম্পর্কে তথ্য প্রদান করতে ইচ্ছাকৃতভাবে প্রত্যাখ্যানের দ্বারা অনুসরণ করা হয়, যাতে তাকে আইনি সুরক্ষা এবং সুরক্ষা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

 

১৮ ডিসেম্বর, ১৯৯২-এ সাধারণ পরিষদের রেজোলিউশন ৪৭/১৩৩ এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত বলপূর্বক নিখোঁজ থেকে সমস্ত ব্যক্তির সুরক্ষা সম্পর্কিত ঘোষণাপত্রে বর্ণিত হিসাবে, বলপূর্বক অন্তর্ধান নিম্নলিখিত উপাদানগুলির দ্বারা চিহ্নিত করা হয়েছে:
“ব্যক্তিদের তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে গ্রেফতার করা হয়, আটক করা হয় বা অপহরণ করা হয় বা অন্যথায় সরকারের বিভিন্ন স্তর বা শাখার কর্মকর্তাদের দ্বারা, বা সংগঠিত গোষ্ঠী বা ব্যক্তিগত ব্যক্তিদের পক্ষে কাজ করে বা সরাসরি সমর্থন দিয়ে তাদের স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত করা হয়।  বা পরোক্ষ, সরকারের সম্মতি বা সম্মতি।  এর পরে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভাগ্য বা অবস্থান প্রকাশ করতে ইচ্ছাকৃতভাবে অস্বীকার করা বা তাদের স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে তা স্বীকার করতে অস্বীকার করা।  ফলস্বরূপ, এই ব্যক্তিরা আইনের সুরক্ষা থেকে বাদ পড়েছেন।”

 

 

 

বলপূর্বক নিখোঁজের শিকারদের আন্তর্জাতিক দিবসের ইতিহাস—-

 

২১শে ডিসেম্বর, ২০১০-এ জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ, রেজোলিউশন ৬৫/২০৯ এর মাধ্যমে, বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন অঞ্চলে বলপূর্বক বা অনিচ্ছাকৃত অন্তর্ধানের ক্রমবর্ধমান ঘটনা সম্পর্কে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

এর মধ্যে গ্রেপ্তার, আটক এবং অপহরণের সাথে জড়িত পরিস্থিতি অন্তর্ভুক্ত ছিল, যেগুলিকে একত্রিত করা হলে বা বলপূর্বক অন্তর্ধানের পরিমাণ, একটি গুরুতর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

রেজোলিউশনটি নিখোঁজ হওয়ার প্রত্যক্ষদর্শী বা নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্বজনদের দ্বারা হয়রানি, দুর্ব্যবহার এবং ভয় দেখানোর ক্রমবর্ধমান প্রতিবেদনগুলিও তুলে ধরে।

তদুপরি, সাধারণ পরিষদ জোরপূর্বক অন্তর্ধান থেকে সকল ব্যক্তির সুরক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক কনভেনশন গ্রহণকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানিয়েছে।  এই জটিল সমস্যা মোকাবেলার প্রতিশ্রুতি অনুসারে, অ্যাসেম্বলি 30 আগস্টকে বলপ্রয়োগকৃত নিখোঁজের শিকারদের আন্তর্জাতিক দিবস হিসাবে মনোনীত করেছে।  এই বার্ষিক পালনটি 2011 সালে শুরু হয়েছিল এবং এর উদ্দেশ্য হল বলপূর্বক গুমের দ্বারা ক্ষতিগ্রস্তদের দুর্দশার উপর আলোকপাত করা এবং মানবাধিকারের এই গুরুতর লঙ্ঘন সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা।

 

বলপূর্বক গুম হওয়া ভিকটিমদের আন্তর্জাতিক দিবসের তাৎপর্য–

 

এনফোর্সড ডিসপিয়ারেন্সের শিকারদের আন্তর্জাতিক দিবস একটি আন্তর্জাতিক পালন যা প্রতি বছর ৩০ আগস্ট অনুষ্ঠিত হয়।  এটি জাতিসংঘ কর্তৃক স্থাপিত হয়েছিল বলপূর্বক গুমের অপরাধ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য এবং ভিকটিম ও তাদের পরিবারকে সম্মান জানানোর জন্য।
জোরপূর্বক অন্তর্ধান হল রাষ্ট্রের এজেন্টদের দ্বারা বা রাষ্ট্রের অনুমোদন, সমর্থন বা সম্মতি নিয়ে কাজ করে এমন ব্যক্তি বা ব্যক্তিদের গোষ্ঠী দ্বারা গ্রেফতার, আটক, অপহরণ বা স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত করার অন্য কোন প্রকার, এবং তারপরে স্বীকার করতে অস্বীকার করা।  স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত করা বা নিখোঁজ ব্যক্তির ভাগ্য বা অবস্থান সম্পর্কে তথ্য দেওয়া, দীর্ঘ সময়ের জন্য আইনের সুরক্ষা থেকে তাদের অপসারণের অভিপ্রায়ে।
বলপ্রয়োগকৃত নিখোঁজের শিকারদের আন্তর্জাতিক দিবস এই অপরাধের শিকারদের স্মরণ করার এবং তাদের এবং তাদের পরিবারের জন্য ন্যায়বিচারের আহ্বান জানানোর একটি দিন।  এটি বলপূর্বক গুমের অপরাধ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে এবং এটি প্রতিরোধে পদক্ষেপ নিতে সরকারকে আহ্বান জানানোরও একটি দিন।

।। তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

আজ জাতীয় ক্রীড়া দিবস, জানুন দিনটি কেন পালিত হয় এবং দিনটির গুরুত্ব।

হকি খেলোয়াড় ধ্যান চাঁদের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে প্রতিবছর ২৯ আগস্ট ভারতে জাতীয় ক্রীড়া দিবস উৎযাপিত হয়।খেলার জগতের প্রতিটি খেলোয়াড় দের জীবনে এই দিনটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ দিন হিসেবে বিবেচিত হয়। এই বিশেষ দিন টিতেই অর্জুন, দ্রোনাচার্জ, রাজীব খেলরত্ন, ধ্যান চাঁদ পুরস্কার বিতরণ করা হয়। প্রতিটি ব্যক্তির জীবনে খেলাধুলা এবং খেলাধুলার গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য প্রতি বছর এই দিবসটি উদযাপিত হয়। আসলে দিনটি কিংবদন্তি হকি খেলোয়াড় মেজর ধ্যান চাঁদের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে অনুষ্ঠিত হয়।

 

উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজে (এলাহাবাদ) ১৯০৫ সালের ২৯ অগাস্ট জন্ম হয়  ধ্যানচাঁদের। ব্রিটিশ ইন্ডিয়ান আর্মির হয়ে হকি খেলেছিলেন ধ্যানচাঁদের পরিবারের সদস্যরা। বাবা সোমেশ্বর সিংহ সেনাবাহিনীতে চাকরি করতেন।  মাত্র ১৬ বছর বয়সে ১৯২২ সালে ব্রিটিশ ইন্ডিয়ান আর্মিতে যোগ দিয়েছিলেন ধ্যানচাঁদ। সময়ের অভাবে রাতের দিকে অনুশীলনে মগ্ন থাকতেন কিংবদন্তি এই হকি তারকা। রাতের দিকে অনুশীলন করতেন বলে তাঁর সতীর্থরা ‘চাঁদ’ নামে সম্বোধন করতেন ধ্যানচাঁদকে। তিনি পঞ্জাব রেজিমেন্টের মেজর পদে উন্নিত হয়েছিলেন।  ১৯৩২ সালে গোয়ালিয়রের ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে স্নাতক পাশ করেন ধ্যানচাঁদ। একদম ছোটবেলায় কুস্তিতে মূলত আগ্রহ ছিল ধ্যানচাঁদের। যদিও পরে হকিতে মনোনিবেশ করেন।

 

ইংরেজদের অধীনস্ত ভারতীয় হকি দলের হয়ে ১৯২৮, ১৯৩২ ও ১৯৩৬ অলিম্পিক খেলেন।  প্রতিবারই দেশকে সোনা এনে দিয়েছিলেন তিনি। ১৯২৬—১৯৪৯ পর্যন্ত তার ক্যারিয়ার জীবনে তিনি মোট ৫৭০টি গোল করেন।
আন্তর্জাতিক হকি অঙ্গনে ভূমিকা রাখার পাশাপাশি তিনি একাধিকবার তার দেশকে সাফল্যের শীর্ষে নিতে অবদান রেখেছেন। তিনি ভারতীয় এবং বিশ্ব হকির এক কিংবদন্তিতুল্য ব্যক্তিত্ব। তার স্মরণে ভারতের ক্রীড়াঙ্গনে আজীবন কৃতিত্বের জন্য সর্বোচ্চ পুরস্কার— মেজর ধ্যানচাঁদ পুরষ্কারের প্রবর্তন করা হয়েছে এবং তার জন্মদিনেই দেশটিতে জাতীয় ক্রীড়া দিবস উৎযাপন করা হয়।  শোনা যায়, হিটলার ধ্যানচাঁদের খেলা দেখে এতটাই মুগ্ধ হয়েছিলেন যে তাঁকে জার্মান নাগরিকত্ব দিতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তা নিতে অস্বীকার করেন ধ্যানচাঁদ। তাকে মেডেল পরিয়ে পুরষ্কৃত করেন রাষ্ট্র নায়ক হিটলার । তার পর স্টেডিয়ামে থেকে জিজ্ঞাসা করেন হিটলার, ভারতে কি করেন তিনি ? ধ্যান চাঁদ বলেন ভারতের সেনাবাহিনী তে যুক্ত তিনি । তারপর হিটলার তাকে জার্মানির সেনাবাহিনী তে উচ্চ পদের জন্য আমন্ত্রণ জানান । তবে ধ্যান চাঁদ তার আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করেন । তার আত্মজীবনী ” গোল ” বই টিতে এই ঘটনার কথা লিপিবদ্ধ আছে ।

 

কিংবদন্তি এই হকি তারকার নামে অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় মূর্তি গড়া হয়েছে।

১৯৫৬ সালে তিনি ভারত সরকারের পক্ষ থেকে পদ্মভূষণ সম্মানে ভূষিত হন।

১৯২৮ সালের আমস্টারডাম অলিম্পিক্সে সর্বোচ্চ গোলদাতা ছিলেন ধ্যানচাঁদ। সেবারই হকির জাদুকর হিসেবে নামকরণ হয় ধ্যানচাঁদের।

নয়া দিল্লিতে তার নামে একটি জাতীয় হকি স্টেডিয়াম প্রতিষ্ঠা করা হয়। ঝাঁসি তে তার নামেই রয়েছে জাতীয় হকি একাডেমি।

 

আজকের দিনেই রাষ্ট্রপতি অর্জুন ও রাজীব খেলরত্ন পুরস্কার, দ্রোণাচার্য পুরস্কার তুলে দেন ক্রীড়াজগতে দেশের কৃতিদের হাতে। ক্রীড়া সচেতনতা বৃদ্ধি এবং দেশের ক্রীড়া সংস্কৃতি ও জাতীয় ক্রীড়া দলগুলোর প্রতি শ্রদ্ধাবোধ বাড়াতে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে , স্কুলে এই দিন টি পালন করা হয়। তবে ভারতের মতন জাতীয় ক্রীড়া দিবস বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন সময়ে উৎযাপিত হয়ে থাকে।

 

।।তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ

আজ আন্তর্জাতিক পারমাণবিক পরীক্ষা বিরোধী দিবস , জানুন দিনটি কেন পালিত হয় এবং গুরুত্ব।

সারা বিশ্বে ২৯ আগস্ট পারমাণবিক পরীক্ষা বিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস হিসেবে পালন করা হয় বিশ্ববাসীর মধ্যে পরমাণু অস্ত্র বিরোধী সচেতনতা গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে। ২০০৯ সালের ২ ডিসেম্বর রাষ্ট্রসঙ্ঘের সাধারণ সভার ৬৪তম অধিবেশনে ২৯ আগস্ট দিনটিকে পারমাণবিক পরীক্ষা বিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

 

পারমাণবিক পরীক্ষা শুধু মানব সমাজেরই নয়, পরিবেশ, উদ্ভিদ ও প্রাণীজগতেরও ব্যাপক ক্ষতি করে।  পারমাণবিক পরীক্ষার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক দিবস আমাদের এই বিষয়ে সতর্ক হয়ে একটি নিরাপদ পারমাণবিক অস্ত্র-মুক্ত ভবিষ্যত নিশ্চিত করতে হবে। পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষার বিধ্বংসী প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে ২৯শে আগস্ট আন্তর্জাতিক পরমাণু পরীক্ষার বিরুদ্ধে দিবস পালন করা হয়।  এই বছর ইভেন্টের ত্রয়োদশ বার্ষিকী চিহ্নিত করে।  এই দিনে, জাতিসংঘ একটি ইভেন্টের আয়োজন করে যা পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষা এবং বিস্ফোরণের প্রভাব সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরি করে এবং এই ধরনের পারমাণবিক পরীক্ষা বন্ধ করার প্রয়োজনীয়তাকে আরও হাইলাইট করে।

 

বেশিরভাগ দেশ যারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করে তারা তাদের পারমাণবিক অস্ত্রের কার্যকারিতা এবং বিস্ফোরক ক্ষমতা পরীক্ষা করার জন্য পরমাণু পরীক্ষা চালায়।  পারমাণবিক পরীক্ষা একটি দেশের পারমাণবিক শক্তির লক্ষণ।  মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রথম ১৯৪৫ সালের জুলাই মাসে এবং ১৯৪৯ সালে প্রাক্তন সোভিয়েত ইউনিয়ন দ্বারা পরীক্ষা করে। এটি ১৯৫২ সালে যুক্তরাজ্য, ১৯৬০ সালে ফ্রান্স এবং ১৯৬৪ সালে চীন দ্বারা অনুসরণ করা হয়েছিল। ভারত ১৯৯৮ সালে পোখরান-২ পরীক্ষা করেছিল যা ছিল  দ্বিতীয়টি  ভারত প্রথমবার পরীক্ষা করেছিল ১৯৭৪ সালে।

 

পরমাণু পরীক্ষার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক দিবসটি জাতিসংঘ কর্তৃক মনোনীত প্রতি বছর ২৯শে আগস্ট পালন করা হয়।  রেজোলিউশনে “পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষার বিস্ফোরণ বা অন্য কোনো পারমাণবিক বিস্ফোরণের প্রভাব এবং পারমাণবিক অস্ত্র-মুক্ত বিশ্বের লক্ষ্য অর্জনের অন্যতম উপায় হিসাবে তাদের বন্ধ করার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সচেতনতা এবং শিক্ষা বৃদ্ধির আহ্বান জানানো হয়েছে।”  দিবসটি জাতিসংঘ, সদস্য রাষ্ট্র, আন্তঃসরকারি ও বেসরকারী সংস্থা, একাডেমিক প্রতিষ্ঠান, যুব নেটওয়ার্ক এবং মিডিয়াকে একটি নিরাপদ বিশ্ব অর্জনের জন্য একটি মূল্যবান পদক্ষেপ হিসাবে পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষা নিষিদ্ধ করার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে অবহিত, শিক্ষিত এবং সমর্থন করার জন্য উদ্বুদ্ধ করা।  .

 

পারমাণবিক পরীক্ষার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক দিবস: ইতিহাস

২ ডিসেম্বর ২০০৯-এ, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৬৪তম অধিবেশন ২৯ আগস্টকে তার রেজুলেশন ৬৪/৩৫ সর্বসম্মতভাবে গৃহীত করার মাধ্যমে পারমাণবিক পরীক্ষার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক দিবস ঘোষণা করে।  প্রস্তাবের প্রস্তাবনায় জোর দেওয়া হয়েছে যে “মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্যের উপর ধ্বংসাত্মক এবং ক্ষতিকারক প্রভাব এড়াতে পারমাণবিক পরীক্ষা বন্ধ করার জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা করা উচিত” এবং “পরমাণু পরীক্ষার সমাপ্তি হল পারমাণবিক পরীক্ষাগুলি অর্জনের অন্যতম প্রধান উপায়।  একটি পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত বিশ্বের লক্ষ্য।”
ট্রিনিটি নামক প্রথম পারমাণবিক পরীক্ষাটি ১৬ জুলাই, ১৯৪৫ সালে নিউ মেক্সিকোতে একটি মরুভূমিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী দ্বারা পরিচালিত হয়েছিল।  ম্যানহাটন প্রকল্পের জে. রবার্ট ওপেনহেইমারের অধীনে পারমাণবিক প্রযুক্তি তৈরি করা হয়েছিল।  প্রথম পারমাণবিক পরীক্ষার পর, ১৯৪৫ সালের ৬ এবং ৯ আগস্ট যথাক্রমে হিরোশিমা এবং নাগাসাকিতে পারমাণবিক বোমা হামলা হয়, যা কয়েক লক্ষ মানুষের জীবন দাবি করে।  জাপানের সেই শহরগুলির পরের প্রজন্মগুলি বিকিরণ-প্ররোচিত ক্যান্সার এবং জন্মগত ত্রুটিতে ভুগছিল।
পরবর্তীতে, তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন ১৯৪৯ সালে, যুক্তরাজ্য ১৯৫২ সালে, ফ্রান্স ১৯৬০ সালে এবং চীন 1964 সালে পারমাণবিক পরীক্ষা চালায়। শীতল যুদ্ধের পর্বে (১৯৪৭-১৯৯১) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে পারমাণবিক অস্ত্রের প্রতিযোগিতা দেখা যায়।

 

নিউক্লিয়ার টেস্টিং এর বিপদ–

 

পারমাণবিক পরীক্ষা স্বাস্থ্যের জন্য বিপদ ডেকে আনে কারণ এটি তেজস্ক্রিয় পদার্থ নির্গত করে যা সাধারণত বাতাসে এবং পৃথিবীর পৃষ্ঠে ছড়িয়ে পড়ে।  ১৯৪৫ সাল থেকে বায়ুমণ্ডলে, ভূগর্ভস্থ বা জলের নীচে সমস্ত পরিবেশে পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষা করা হয়েছে।  এই পরীক্ষার অবশিষ্ট বর্জ্য অনেক বছর ধরে থাকে। বিকিরণের এক্সপোজার অঙ্গ, হাড়, ত্বক এবং চোখের ক্ষতি করতে পারে।  বিকিরণ বিশেষ করে লিউকেমিয়া, থাইরয়েড, ফুসফুস এবং স্তন ক্যান্সারের মতো ক্যান্সারের প্রকোপ বৃদ্ধির সাথে যুক্ত। বিকিরণ একজন ব্যক্তির জিনেও মিউটেশন ঘটাতে পারে।  এই জিনগুলি তাদের সন্তানদের কাছে প্রেরণ করা যেতে পারে, যার ফলে জেনেটিক ব্যাধি হওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়।  পৃষ্ঠের তেজস্ক্রিয় পদার্থ উদ্ভিদের শিকড়ে প্রবেশ করতে পারে এবং ফলস্বরূপ প্রাণীদের দ্বারা গ্রাস করতে পারে।  দূষিত গাছপালা এবং প্রাণীজ খাদ্যের উৎস খাওয়া পরোক্ষভাবে মানুষের স্বাস্থ্যেরও ক্ষতি করতে পারে।

।।তথ্য : সংগৃহীত ইন্টারনেট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ

২৭ আগস্ট, ইতিহাসের আজকের এই দিনে যা ঘটেছিল।

২৭ আগস্ট। ইতিহাস ঘেটে দেখা যায় বছরের প্রতিটি দিনে ঘটেছে অনেক উল্লেখযোগ্য ঘটনা। আসুন আজকের দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য কিছু বিষয় একনজরে দেখে নিই।  ইতিহাসের আজকের এই দিনে কী কী ঘটেছিল, কে কে জন্ম নিয়েছিলেন ও মৃত্যুবরণ করেছিলেন——-

 

দিবস—–

 

(ক)  রাযী দিবস (ইরান)

(খ) স্বাধীনতা দিবস (মলদোভা)।

 

আজ যাদের জন্মদিন—-

১৯০৮ – (ক) স্যার ডোনাল্ড জর্জ ব্র্যাডম্যান ,ক্রিকেটের ইতিহাসে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যাটসম্যান হিসেবে বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত অস্ট্রেলীয় ক্রিকেট তারকা ।

(খ) লিন্ডন বি. জনসন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৩৬তম রাষ্ট্রপতি।

১৯২৬ – ক্রিস্টেন নিগার্ড, নরওয়েজীয় গণিতবিদ, কম্পিউটার প্রোগ্রামিং ভাষা মুঘল ও রাজনীতিবিদ।

১৯৩১ – শ্রী চিন্ময়, বাঙালি মহাত্মা ও হিন্দুধর্মের সংস্কারক, লেখক, শিল্পী, কবি ও সঙ্গীতজ্ঞ।

১৯৭৪ – মোহাম্মদ ইউসুফ, পাকিস্তানের ক্রিকেটার।

১৮৪৭ – নগেন্দ্রপ্রসাদ সর্বাধিকারী, ভারতে ফুটবল খেলার জনক।

১৭৭০ – গেয়র্গ ভিলহেল্ম হেগল, জার্মান দার্শনিক।

 

ইতিহাসের পাতায় আজকের দিনের ঘটনাবলী—-

১৯১৬ – অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে রোমানিয়া।

১৯২৮ – প্যারিসে ১৭টি দেশের যুদ্ধ পরিত্যাগ করার ঘোষণা চুক্তি স্বাক্ষর হয়।

১৯৩২ – আমস্টারডামে যুদ্ধবিরোধী শান্তি কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়।

১৯৪২ – ভারত ছাড়ো আন্দোলনের সময় কংগ্রেসের গোপন বেতার কেন্দ্র কংগ্রেস রেডিও প্রচার শুরু করে।

১৯৫৮ – সোভিয়েত ইউনিয়ন দুটি কুকুরসমেত স্পুটনিক-৩ উৎক্ষেপণ করে।

১৯৬৯ – ইসরায়েলের কমান্ডোরা মিসরের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে নীল উপত্যকায় মিসরীয় সেনাবাহিনীর সদর দপ্তরে মর্টার হামলা চালায়।

১৯৭১ – লন্ডনে বাংলাদেশ মিশন উদ্বোধন।

১৯৭৫ – বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় ওমান।

১৯৮৮ – প্রবল বন্যায় বাংলাদেশে শতাধিক প্রাণহানি ঘটে।

১৯৯১ – (ক)  সোভিয়েত ইউনিয়নভুক্ত মোলদাভিয়া পূর্ণ স্বাধীনতা লাভ করে।

(খ) – ইউরোপিয়ান কমিউনিটি এস্তোনিয়া, লাটভিয়া ও লিথুয়ানিয়াকে স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

১৮১৩ – ড্রেসডেনের যুদ্ধে নেপোলিয়ন অস্ট্রীয়দের পরাজিত করেন।

১৮৭০ – শশীপদ বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথম শ্রমজীবী সংঘ প্রতিষ্ঠা করেন।

১৮৮৩ – ইন্দোনেশিয়ায় বন্যা/জলোচ্ছ্বাসে ৩৬ হাজার প্রাণহানি ঘটে।

১৮৮৯ – প্রথম বারের মত সেলুলয়েড রোল ফিল্ম প্রস্তুত করা হয়।

১৭৮১ – পাল্লিলোরে হায়দার আলী ব্রিটিশ সৈন্যদের সঙ্গে যুুদ্ধে লিপ্ত হন।

১৭৮৯ – ফরাসী জাতীয় পরিষদে বিশ্বখ্যাত মানবাধিকার ঘোষণা।

১২২৭ – মুসলমানদের প্রথম নৌ যুদ্ধ সংঘটিত হয়।

 

এই দিনে মৃত্যুবরণ করেন যারা—-

২০০৬ – হৃষিকেশ মুখার্জী  হিন্দি চলচ্চিত্রের প্রখ্যাত ভারতীয় বাঙালি পরিচালক।

১৯৬৫ – সুইস স্থপতি ও নগর পরিকল্পনাবিদ লে করবুসিয়ের।

১৯৭৬ – মুকেশ চন্দ মাথুর ,ভারতীয় হিন্দি চলচ্চিত্রের সঙ্গীত শিল্পী।

১৯৮২ – শ্রী আনন্দময়ী মা ,ভারতের বাঙালি হিন্দু আধ্যাত্মিক সাধিকা ।

১৯৯০ – তপোবিজয় ঘোষ, বিশিষ্ট বাঙালি সাহিত্যিক।

 

।।তথ্য : সংগৃহীত ইন্টারনেট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ

আজ মাদ্রাজ (চেন্নাই) দিবস, জানুন দিনটি কেন পালিত হয় এবং এর ইতিহাস।

মাদ্রাজ,  (যা বর্তমানে চেন্নাই নামে পরিচিত) ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি দ্বারা ২২শে আগস্ট প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। মাদ্রাজ দিবস হল ভারতের তামিলনাড়ুতে মাদ্রাজ শহরের প্রতিষ্ঠার স্মরণে আয়োজিত একটি উৎসব।  এটি প্রতি বছর ২২ আগস্ট পালিত হয়, ২২ আগস্ট ১৬৩৯ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ফ্যাক্টর অ্যান্ড্রু কোগান এবং ফ্রান্সিস ডে মাদ্রাসপত্তনম বা চেন্নাপত্তনম গ্রাম কেনার জন্য ব্যাপকভাবে সম্মত তারিখ হিসেবে বিজয়নগর ই.এম.পি.-এর ভাইসরয় ডামারলা ভেঙ্কটাদ্রি নায়কা থেকে।  মাদ্রাজ দিবসের ধারণাটি প্রথমে চেন্নাই-ভিত্তিক সাংবাদিক ভিনসেন্ট ডি’সুজা, সম্পাদক, Mylapore Times (একটি স্থানীয় সংবাদপত্র) এবং সাশি নায়ার, পরিচালক ও সম্পাদক, Press Institute of India, একটি কথোপকথনের সময় ইতিহাসবিদ এস. মুথিয়াকে প্রস্তাব করেছিলেন। তারপর থেকে, মাদ্রাজ দিবস উদযাপন প্রতি বছর অনুষ্ঠিত হয়, এর হাইলাইটগুলি হল প্রদর্শনী, বক্তৃতা, চলচ্চিত্র প্রদর্শন এবং কুইজ।  মাদ্রাজ দিবস উৎসব বছরের পর বছর জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পেয়েছে।  ২০১৪ এবং ২০১৯-এর মধ্যে, সংস্করণগুলি আগস্ট মাস পর্যন্ত স্থায়ী হয়েছিল এবং ১২০-এরও বেশি প্রোগ্রামের সাথে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বর্ধিত হয়েছিল, মাদ্রাজ দিবসের নাম মাদ্রাজ সপ্তাহ বা এমনকি মাদ্রাজ মাস হিসাবে রাখার দাবি জানানো হয়েছিল।
একটি বিতর্ক রয়েছে যে ক্রয়ের দলিলটি আসলে ২২ জুলাই ১৬৩৯ তারিখে ছিল, ২২ আগস্ট নয়।

 

মাদ্রাজ দিবস শহর, এর ইতিহাস, এর অতীত এবং বর্তমানের উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে এবং অনুঘটকের মূল দল শহরের সম্প্রদায়, গোষ্ঠী, কোম্পানি এবং ক্যাম্পাসগুলিকে শহর উদযাপন করে এমন ইভেন্টগুলি হোস্ট করতে অনুপ্রাণিত করে।  উদযাপনের মধ্যে রয়েছে হেরিটেজ ওয়াক, পাবলিক বক্তৃতা, প্রদর্শনী, কবিতা পাঠের সেশন, পাবলিক পারফরমেন্স, ফুড ফেস্টিভ্যাল এবং স্থানীয় রেডিওতে বিশেষ অনুষ্ঠান।  এটিতে টি-শার্ট ডিজাইনিং, ডকুমেন্টারি ফিল্ম প্রতিযোগিতা, স্কুলের জন্য মাল্টিমিডিয়া উপস্থাপনা এবং তামিল ও ইংরেজি উভয় ভাষায় কুইজের মতো প্রতিযোগিতাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।  অনুষ্ঠান উপলক্ষে টি-শার্টও প্রকাশ করা হয়।  সপ্তাহব্যাপী উদযাপন উপলক্ষে দেওয়া আলোচনায় সাধারণত শহরের ঐতিহ্য এবং ইতিহাস ব্যাখ্যা করে বক্তৃতা দেওয়া হয়।  অবসরপ্রাপ্ত নাগরিকদের জন্যও ইভেন্ট রয়েছে যেখানে তারা মাদ্রাজ দিবসের ওয়েবসাইটে “মাদ্রাজ সম্পর্কে গল্প” বিভাগে তাদের বছর আগের জীবন সম্পর্কে পোস্ট করতে পারে এবং মাদ্রাজ কীভাবে আজকের চেন্নাইতে পরিণত হয়েছে সে সম্পর্কে তাদের মতামত শেয়ার করতে পারে।

 

ইতিহাস–

 

মাদ্রাজ প্রতিষ্ঠার প্রথম নথিভুক্ত উদযাপনটি ছিল ১৯৩৯ সালে এর ত্রিশশতবার্ষিকী উদযাপন। পরবর্তী বার্ষিকীগুলির বিপরীতে, উদযাপনটি আনুষ্ঠানিকভাবে ব্রিটিশ সরকার দ্বারা স্পনসর করা হয়েছিল এবং নেতৃস্থানীয় বিশেষজ্ঞদের দ্বারা রচিত মাদ্রাজ শহরের বিভিন্ন দিকের প্রবন্ধ সহ একটি বিশেষ ত্রিশশতবার্ষিকী স্মারক ভলিউম জারি করা হয়েছিল।  সময়.  মাদ্রাজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর দিওয়ান বাহাদুর এস.ই. রুঙ্গানাধন ছবি, প্রতিকৃতি, মানচিত্র, রেকর্ড এবং মুদ্রার একটি প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন এবং একটি ছোট নাটক লেখার প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।
১৯৮৯ সালে ৩৫০ তম বার্ষিকী পুনামল্লী হাই রোড এবং নিউ আভাদি রোডের সংযোগস্থলে নির্মাতা ফ্রাঙ্কপেট ফার্নান্দেজের ক্লাসিক্যাল স্টাইলে নির্মিত “মাদ্রাজ ৩৫০” নামে একটি স্মারক স্মৃতিস্তম্ভ খোলার মাধ্যমে উদযাপন করা হয়েছিল।  অন্যান্য প্রধান ইভেন্টগুলির মধ্যে রয়েছে এস. মুথিয়া-এর একটি বইয়ের কমিশন করা যার নাম মাদ্রাজ — মুরুগাপ্পা গ্রুপের দ্য গ্রেসিয়াস সিটি যেটি প্রথম মাদ্রাজ কুইজের আয়োজন করেছিল যা আজ পর্যন্ত অব্যাহত রয়েছে।
প্রতি বছর শহরের জন্ম উদযাপনের ধারণার জন্ম হয়েছিল যখন সাংবাদিক শশী নায়ার এবং ভিনসেন্ট ডি’সুজা এস. মুথিয়ার সাথে তার বাসভবনে কফির জন্য দেখা করেছিলেন।  এটি ময়লাপুর ফেস্টিভ্যাল নামে আরেকটি ইভেন্টের সাফল্যের উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছিল যা ডি’সুজা প্রতি বছর জানুয়ারিতে আয়োজন করত।  ২০০৪ সাল থেকে মাদ্রাজ দিবস উদযাপন শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল এই তিনজন।  ধারণাটি প্রাথমিকভাবে ২০০৪ সালে প্রায় পাঁচটি ইভেন্ট দিয়ে শুরু হয়েছিল কিন্তু ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পায়।  ২০০৫ সালে দ্বিতীয় সংস্করণে সপ্তাহজুড়ে ঘটনা ছিল।  ২০০৮ সালে, মোট ৬০টি ইভেন্ট পরিচালিত হয়েছিল।  ২০০৭ সালে, মাদ্রাজ দিবস উদযাপনের অংশ হিসাবে ফোর্ট সেন্ট জর্জে একটি অনুষ্ঠানে তামিলনাড়ু সার্কেলের চিফ পোস্টমাস্টার-জেনারেল কর্তৃক একটি স্মারক পোস্টাল কভার প্রকাশ করা হয়েছিল, যার ফলে একটি ঐতিহ্যের উদ্বোধন করা হয়েছিল যা পরবর্তী সংস্করণগুলির মাধ্যমে অব্যাহত ছিল।  ২০১০ উদযাপনটি এক সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হয়েছিল এবং পরবর্তী সপ্তাহেও ভালভাবে প্রসারিত হয়েছিল।

 

৩৭৫ তম মাদ্রাজ দিবসটি ১০ ​​আগস্ট থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৪ পর্যন্ত চলমান শতাধিক ইভেন্টের সাথে পালিত হয়েছিল। তবে, বিপরীতে প্রত্যাশা থাকা সত্ত্বেও, তামিলনাড়ু সরকারী বিভাগগুলি উদযাপনে অংশগ্রহণ করেনি যা তারা “ঔপনিবেশিক ঐতিহ্য” বলে মনে করেছিল।  উদযাপনগুলিকে একটি গর্জনকারী সাফল্য হিসাবে বিবেচনা করা হয়েছিল এবং ইভেন্টগুলি প্রথমবারের মতো দেশব্যাপী কভারেজ পেয়েছে।  “দ্য মাদ্রাজ গান” এই উপলক্ষকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য তৈরি করা হয়েছিল এবং শহরের বাসিন্দাদের জন্য তাদের নাগরিক অভিযোগ তুলে ধরার জন্য অনলাইন পিটিশন তৈরি করার জন্য দ্য হিন্দু শিরোনামে friendsofchennai.com একটি ওয়েবসাইট চালু করেছে।  ইতিহাসবিদ এবং উদ্যোক্তা ভি. শ্রীরামও চেন্নাই পাস্ট ফরওয়ার্ড নামের একটি মোবাইল অ্যাপ ডিজাইন করেছেন যাতে ব্যবহারকারীরা শহরের ঐতিহ্যের সাথে ট্র্যাক রাখতে পারেন।
৩৭৬ তম মাদ্রাজ দিবসের উদযাপনটি আরও বড় ছিল এবং তাম্বারামের মতো শহরতলিতেও ইভেন্টগুলি অনুষ্ঠিত হয়েছিল৷  হেরিটেজ ওয়াক ছাড়াও, ২০১৫ সংস্করণে এল.ভি. প্রসাদ ফিল্ম স্টুডিওগুলির হাঁটাও অন্তর্ভুক্ত ছিল৷  যাইহোক, ফোকাস ছিল কোওভাম নদীর পুনরুদ্ধারের উপর এবং ১৫ আগস্ট লেখিকা আনুশা ভেঙ্কটেশ এর মাদ্রাজ লিটারারি সোসাইটিতে কুওভাম নদীর ইতিহাস ও ঐতিহ্যের উপর একটি উপস্থাপনা অনুষ্ঠিত হয়েছিল।  দ্য সাইক্লিং যোগিস, একটি চেন্নাই সাইক্লিস্টদের গ্রুপ, ১৬ আগস্ট ২০১৫-এ কুওম নদীর সাথে ৭২ কিমি সাইকেল রাইড পরিচালনা করে।
৩৭৭ তম মাদ্রাজ দিবস উদযাপন একটি জমকালোভাবে দ্য হিন্দু গ্রুপ তাদের মাদ্রাজ বিটস ২০১৬ গানের মাধ্যমে শুরু করেছিল।  Opus g7 দ্বারা রচিত এবং সঞ্চালিত হয়েছে, একটি ব্যান্ড যা দ্য হিন্দু দ্বারা প্রবর্তিত একটি প্রতিযোগিতার মাধ্যমে বিজয়ী হিসাবে নির্বাচিত হয়েছিল, “এন্ড্রুম পড়িনারু” গানটি ২১ আগস্ট ২০১৬ এ লঞ্চ করা হয়েছিল এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছিল৷

।। তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

আজ বিশ্ব প্রবীণ নাগরিক দিবস, জানুন কেন পালন করা হয় এবং দিনটির তাৎপর্য ।

বিশ্ব প্রবীণ নাগরিক দিবস প্রতি বছর ২১ আগস্ট পালিত হয়।  ১৯৯১ সালে প্রথমবারের মতো উদযাপনটি হয়েছিল। স্বাস্থ্যের অবনতি এবং বয়স্কদের নির্যাতনের মতো বয়স্ক প্রাপ্তবয়স্কদের প্রভাবিত করে এমন কারণ এবং সমস্যাগুলির বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে এই দিনটি।  এটি সমাজে বয়স্ক ব্যক্তিদের অবদানকে স্বীকৃতি ও স্বীকৃতি দেওয়ারও একটি দিন।

 

মানব সমাজে প্রবীণদের অবদান তুলে ধরা এবং তাদের সম্মান জানানোর জন্য এই বিশেষ দিনটি পালন করা হয়ে থাকে। বয়স্কদের প্রভাবিত করে এমন বিভিন্ন বিষয়ের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য দিনটি উদযাপন করা হয়। যেমন, স্বাস্থ্য সমস্যা এবং অল্প বয়সী ব্যক্তিদের দ্বারা নির্যাতন, পরিবারে হোক কিংবা বহিরাগত ব্যক্তিদের দ্বারা নির্যাতন।

 

প্রবীণ মানুষের বিষয়গুলিকে আলাদা করে গুরুত্ব দিয়ে বিশ্ব প্রবীণ নাগরিক দিবসটি পালন করা হয়। এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জাতীয় সিনিয়র সিটিজেনস ডে নামেও পরিচিত।প্রতি বছর সারা বিশ্বে এই দিনটি পালিত হয়। ভারতও ব্যতিক্রম নয়। এদেশেও পালন করা হয় বিশ্ব প্রবীণ নাগরিক দিবস।

বয়স্ক মানুষের জীবনের স্বাভাবিক ছন্দকে প্রভাবিত করে এমন সমস্যাগুলি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে এই দিনটি পালন করা হয়। কিন্তু এই দিনটি পালনের আরও কিছু উদ্দেশ্যও রয়েছে।

বিশ্ব প্রবীণ নাগরিক দিবসের তাৎপর্য —

এই দিনে প্রবীণ নাগরিকদের সম্মান জানানো উচিত, তাঁদের আত্মত্যাগ, উৎসর্গ, কৃতিত্ব এবং তাঁরা সারা জীবন যে পরিষেবা দিয়েছেন, তার জন্য। এই দিনটিতে তাঁদের প্রশংসা করতে হবে।
যে কোনও সমাজের জন্য অবশ্যই প্রবীণ নাগরিকরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ যে কোনও সমাজ তার প্রবীণ নাগরিকদের থেকে জ্ঞান অর্জন করে এবং এগিয়ে চলে। আমরা যে বিশ্বে বাস করি, তা নির্মাণে প্রবীণ মানুষের অবদান অনস্বীকার্য।তাঁদের সেই অবদানকে সম্মান করতে শিখতে হবে।
এই দিনটি জনগণ এবং সরকারকে কল্যাণের জন্য কাজ করার এবং প্রবীণ নাগরিকদের সমর্থন করার প্রতিশ্রুতি দেওয়ার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। আমাদের সমাজের প্রবীণরা তাঁদের বয়সের কারণে যে সমস্যাগুলির সম্মুখীন হন, তা তরুণদের দ্বারা স্বীকার করা এবং সেই সমস্যাগুলি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করার একটি প্রচেষ্টাও এই দিনের অঙ্গ।

বিশ্ব প্রবীণ নাগরিক দিবসের ইতিহাস—

 

বিশ্ব প্রবীণ নাগরিক দিবসের ইতিহাস ১৯৮৮ সালে। এটি আনুষ্ঠানিকভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি, রোনাল্ড রেগান দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।  তিনি ১৯ আগস্ট, ১৯৮৮-এ স্বাক্ষর করেছিলেন, ৫-এর৮৪৭ ঘোষণা, যা ২১ আগস্ট তৃতীয় যুগের জাতীয় দিবস হিসাবে উপস্থিত হয়েছিল।  রোনাল্ড রিগান ই প্রথম তৃতীয় যুগের প্রথম জাতীয় দিবস ঘোষণা করেন।রোনাল্ড রেগান বলেছিলেন, ‘আমাদের প্রবীণ নাগরিকরা সারাজীবনে যা অর্জন করেছেন এবং তাঁরা যা করে চলেছেন, তার জন্য আমরা তাঁদের প্রতি আমাদের কৃতজ্ঞতা এবং আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই।’ তার পর থেকেই এই দিনটি সারা পৃথিবী জুড়ে পালন করা হচ্ছে।

 

তাই বলা চলে ওয়ার্ল্ড সিনিয়র সিটিজেনস ডে হল একটি সুযোগ উদযাপন এবং প্রবীণ নাগরিকদের তাদের সেবা, কৃতিত্ব এবং উৎসর্গের জন্য প্রশংসা করার জন্য বিশেষ পালনীয় দিন যা তারা তাদের জীবনে দিয়েছে দেশ ও সমাজের জন্য।

 

।।তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবপেজ।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

আজ বিশ্ব মশা দিবস, জানুন দিন’টি কেন পালিত হয় এবং দিনটির গুরুত্ব।

বিশ্ব মশা দিবস বা বিশ্ব মশক দিবস প্রতিবছর ২০শে আগস্ট পালিত একটি দিবস। মশা বাহিত রোগগুলি অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বিপজ্জনক, এ কারণে প্রতিবছর বহু মৃত্যু হয়। ভারতবর্ষে শুধু নয় সারা বিশ্বে শুধু মশার আক্রমণে প্রতিবছর বহু মানুষের মৃত্যু হয়। তাই বিশ্বজুড়ে ম্যালেরিয়া মুক্ত বিশ্ব গড়ার টার্গেট নিয়েই এই মশা দিবস পালন করা হয় ।

 

২০শে আগস্ট ‘মশা দিবস’ পালন করা হয় মূলত চিকিৎসক রোনাল্ড রসের আবিষ্কারকে সম্মান জানানোর জন্য।

দীর্ঘদিন গবেষণার পর ভারতীয় মেডিকেল সার্ভিসের মেডিকেল অফিসার রোনাল্ড রস ১৮৯৭ সালে প্রমাণ করেন অ্যানোফিলিস মশা ম্যালেরিয়া পরজীবী বহন করতে পারে। তিনি ২০ আগস্ট তার আবিষ্কারের এই দিনটিকে ‘মশা দিবস’ বলে অভিহিত করেন।  পরবর্তীকালে তিনি এই আবিষ্কারের জন্য ‘নোবেল’ পুরস্কারে ভূষিত হয়েছিলেন।১৯৩০-এর দশক থেকে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। লন্ডন স্কুল অব হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিন তার আবিষ্কারের তাৎপর্য তুলে ধরতে ২০ আগস্ট বিশ্ব মশা দিবসের নামকরণ করেন।

বিভিন্ন ভয়াবহ অসুখের মধ্যে মশা বাহিত ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু উল্লেখযোগ্য। তাই ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু ইত্যাদি মশাবাহিত রোগের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে জনসাধারণকে বিশেষভাবে সচেতন করার জন্য এই দিন সারা বিশ্ব জুড়ে পালিত হয়। মশা বাহিত রোগ থেকে সাবধান হওয়ার জন্য, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য এই দিনে সমগ্র বিশ্ব জুড়ে বেশ কিছু সচেতনতামূলক কর্মসূচি পালন করা হয়।

 

দিন দিন মশাবাহিত রোগের প্রকোপ বাড়ছে। এর জন্য চাই সচেতনতা। সচেতন না হলে এর পরিসংখ্যান বাড়বে। আমরা জানি মশাবাহিত রোগের প্রকোপ বেশী দেখা দেয় বর্ষায়। আর

বর্ষাকালের সময় মশাবাহিত রোগশোক গুলি খুব দ্রুত বৃদ্ধি পায়। বর্ষাকাল মশাদের প্রজননের সময়। অতএব বর্ষার সময় মশার উপদ্রব দেখা যায় বেশি। তাই এই সময় আমাদের সচেতন থাকতে হবে অনেক বেশি।  তাই মশার কামড় থেকে বাঁচার জন্য কিছু জরুরী বিষয় মেনে চলা আমাদের দরকার–

 

(ক) মশার হাত থেকে বাঁচতে হলে আমাদের প্রথম পালনীয় কর্তব্য হলো পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা। আমাদের আশপাশে সর্বদা পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।  বাড়ি ও তার আশেপাশে কোথাও জল জমতে দেবেন না জমা জল বা আবর্জনা জমতে দেওয়া মানেই মশার বংশবৃদ্ধির সুযোগ করে দেওয়া। তাই কেবল বাড়ি পরিষ্কার রাখলেই চলবে না, সতর্ক দৃষ্টি রাখুন আশপাশের এলাকার প্রতিও। ঠিকমতো জঞ্জাল পরিষ্কার করুন, ড্রেন পরিষ্কার করে রাখতে হবে। বাড়ির মধ্যে থাকা টবে জল জমতে দেবেন না, অ্যাকোয়ারিয়াম এর জল নিয়মিত পরিষ্কার করুন, ছেড়ে রাখুন গাপ্পির মতো মাছ যা মশার লার্ভা খেয়ে নেয়৷

 

(খ) বাড়ীর পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন বজায় রাখুনঃ বাড়ির ছাদে, বাগানে বা বাড়ি সংলগ্ন স্থানে জল জমা হতে দেবেন না। কারণ এই জলেই প্রজনন করে মশা। তা ছাড়াও অপ্রয়োজনে দরজা, জানালা খোলা রাখবেন না। সপ্তাহে একদিন অন্ততঃ আমাদের বাড়ির ভেতর এবং বাইরে ঘুরে দেখা উচিৎ কোথাও কোন পাত্রে জল জমা আছে কিনা, যদি থাকে তাহলে সেটি ফেলে দেই অথবা উল্টিয়ে রাখি অথবা সেখানে মশা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

(গ) পাশাপাশি বর্ষাকালে ডেঙ্গি, ম্যালেরিয়ার মতো রোগ দেখা যায় সবচেয়ে বেশি। তাই জ্বর, ঠান্ডা লাগা, গাঁটে ব্যথা, বমির মতো লক্ষণ দেখা গেলে একদম দেরী না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। যথা সময়ে সঠিক পরামর্শ নিয়ে নিজেকে সুস্থ রাখুন।

 

 

 

মশা থেকে বাঁচতে কিছু ঘরোয়া উপায়—

 

তুলসী গাছ লাগান—

 

অনেকেই বিশ্বাস করে যে বাড়িতে তুলসী গাছ থাকলে নাকি মশা বা মাছি ঘরে ঢুকতে পারে না। ব্যালকনিতে বা জানলার কাছে তুলসী গাছ রেখে দেখতে পারেন।

 

মশা তাড়াতে রসুন কার্যকর–

 

কয়েক কোয়া রসুন নিয়ে থেঁতো করে নিন। তার পর সেটা খুব ভালো করে ফুটিয়ে নিন তিন কাপ জলে। জল ফুটে অর্ধেক হলে নামিয়ে ছেঁকে বোতলে ভরে রাখুন। ঠান্ডা হলে ঘরের কোণে কোণে স্প্রে করে দিন এই মিশ্রণ।

 

মশারি খাটিয়ে ঘুমোনো উচিৎ—

 

মশার কামড় থেকে বাঁচে হলে অতি অবশ্যই মশারি ব্যবহার করুন। এর কোন বিকল্প নেই। এখনো অনেকেই রাতে ঘুমোনর সময় মশারি ব্যবহার করেন না। এটা মোটেই ঠিক নয়। ঘুমোনোর সময় নিয়মিত মশারি খাটিয়ে ঘুমোনো উচিৎ এবং সকল মানুষ কে এই বিষয়ে সচেতন করা উচিৎ।

 

সর্বপরি বলাচলে সাধারণ মানুষের সচেতনতা এবং সম্পৃক্ততা মশা নিয়ন্ত্রণে মুখ্য ভূমিকা পালন করবে এবং মশাবাহিত রোগ থেকে মুক্ত থাকবে পরিবার, পরিবেশ ও দেশ।

তাই, বিশ্বব্যাপী মশাবাহিত রোগের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে জনসাধারণকে বিশেষভাবে সচেতন করার জন্য প্রতিবছর ২০ আগস্ট দিবসটি পালন করা হয়ে আসছে।

 

।।তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।

Share This