Categories
বিবিধ

টোটো চালাতে ‘চেইন’-এর টাকা দাবির অভিযোগ, তোলাবাজির প্রতিবাদে হবিবপুরে শ্রমিক সংগঠনের আন্দোলন।

মালদা, নিজস্ব সংবাদদাতা:—- টোটো চালকের কাছ থেকে তোলা আদায় বন্ধের দাবীতে সোমবার মালদার হবিবপুর ব্লকে আন্দোলন করল আরএস.পির শ্রমিক সংগঠন ইউটিইউসি অনুমোদিত মালদা জেলা টোটো ই-রিক্সা মজদুর ইউনিয়ন। আন্দোলনের অঙ্গ হিসেবে এদিন আইহো স্ট্যান্ড থেকে সংগঠনভুক্ত টোটো চালকরা টোটো নিয়ে মিছিল করে হবিবপুর থানায় যান। সেখানে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিকের নিকট তাদের ডেপুটেশন পেশ করেন। এদিনের এই আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন আর.এস.পির জেলা সম্পাদক সর্বানন্দ পান্ডে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, তাদের সংগঠনভুক্ত টোটো চালকদের কাছ থেকে আইহো স্ট্যান্ডে এক হাজার টাকা করে তোলা দাবী করছে কিছু টোটো চালক দুষ্কৃতকারী। এছাড়াও টোটো চালানোর জন্য চেইন বাবদ টাকা দাবী করছে তারা। এর প্রতিবাদেই সোমবার তারা হবিবপুর থানায় এসে তোলাবাজি অবিলম্বে বন্ধ করার দাবী জানাতে ডেপুটেশন মাধ্যমে লিখিত অভিযোগ তুলে ধরেন।

Share This
Categories
বিবিধ

রতুয়ায় তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে ‘ডিম থেরাপি’, থানার বাইরে বিক্ষোভ বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের।

মালদা, নিজস্ব সংবাদদাতা : – থানা থেকে কোর্টে যাওয়ার পথে পিজন ভ্যানে ওঠে পুলিশকে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়েছিল তৃণমূল নেতা। এবারে এই তৃণমূল নেতাকেই লক্ষ্য করে চলল ডিম থেরাপি। আজ পুলিশি হেফাজত শেষে তাকে পুনরায় কোটে নিয়ে যাওয়ার পথে মালদহের রতুয়া থানা চত্বরেই এই তৃণমূল নেতাকে লক্ষ্য করে ডিম ছুঁড়ে বিজেপি কর্মী সমর্থকরা। উল্লেখ্য কয়েকদিন আগেই তোলাবাজি এবং কাঠ মানির অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন রতুয়া বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল বিধায়ক সমর মুখার্জি ঘনিষ্ঠ তথা সামসি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাক্তন প্রধান শ্রবণ কুমার দাস। গ্রেপ্তার হওয়ার পর এই তৃণমূল নেতা প্রকাশ্য দিবালোকে পুলিশকে হুমকি দেয় এই সরকার থাকবে না! পাঁচ বছর পর দেখে নিব।
আদালতের নির্দেশে তিন দিনের পুলিশি হেফাজতের পর আজ সোমবার পুনরায় আদালতে তোলার জন্য রতুয়া থানা থেকে বের করতে তাকে লক্ষ্য করে চোর চোর স্লোগান পাশাপাশি চলল ডিম থেরাপি।

Share This
Categories
গল্প

গল্প : নদীর ওপারের আলো।।

পশ্চিমবঙ্গের এক প্রত্যন্ত গ্রাম—চরনদী। গ্রামের একদিকে বিস্তীর্ণ নদী, অন্যদিকে ধানক্ষেত। বর্ষাকালে নদী ফুলে-ফেঁপে উঠলে গ্রামের সঙ্গে পাশের শহরের যোগাযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে যেত।
নদীর ওপারে ছিল একটি ছোট হাসপাতাল। তাই গ্রামের মানুষের কাছে নদী শুধু জলধারা নয়—জীবন-মরণের সীমানা।
সেই নদীতে নৌকা চালাতেন গদাধর মাঝি। বয়স ষাটের বেশি। তাঁর ছোট্ট কাঠের নৌকার নাম ছিল “আলো”।
নৌকার সামনের দিকে তিনি প্রতিদিন সন্ধ্যায় একটি কেরোসিনের বাতি জ্বালিয়ে রাখতেন।
গ্রামের সবাই জানত—
নদীর ওপারে যদি রাতের অন্ধকারে সেই আলো দেখা যায়, তাহলে বুঝতে হবে গদাধর মাঝি এখনও নদীতে আছেন।
আলোর গল্প
একদিন গ্রামের স্কুলছাত্র অভি গদাধর মাঝিকে জিজ্ঞেস করল,
— “মাঝিকাকু, আপনার নৌকার নাম ‘আলো’ কেন?”
গদাধর কিছুক্ষণ নদীর দিকে তাকিয়ে রইলেন।
তারপর বললেন,
— “অনেক বছর আগে এক রাতে আমার স্ত্রী অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। তখন এই নদীতে কোনো নৌকা ছিল না। অনেক দেরিতে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে পেরেছিলাম। কিন্তু তাকে আর বাঁচানো যায়নি।”
অভি চুপ করে গেল।
গদাধর আবার বললেন,
— “সেই রাত থেকে ঠিক করেছি, আমার নৌকা যতদিন চলবে, কোনো অসুস্থ মানুষ যেন শুধু নদীর কারণে হাসপাতালে পৌঁছতে দেরি না করে।”
অভি বলল,
— “তাই নৌকার নাম ‘আলো’?”
— “হ্যাঁ। কারণ সেদিন যদি নদীর ওপারে একটা আলো থাকত, হয়তো আমার জীবনটাও অন্যরকম হতো।”
ঝড়ের রাত
এক বর্ষার রাতে হঠাৎ প্রচণ্ড ঝড় শুরু হলো।
বৃষ্টি, বজ্রপাত আর তীব্র বাতাসে নদী উত্তাল হয়ে উঠল।
সব নৌকা ঘাটে তুলে রাখা হলো।
গদাধর মাঝিও নৌকা বেঁধে বাড়ি ফিরছিলেন।
ঠিক তখনই গ্রামের এক যুবক ছুটে এসে বলল,
— “কাকা! রমেনদার বউয়ের প্রসববেদনা উঠেছে। অবস্থা খুব খারাপ। হাসপাতালে নিতে হবে।”
সবাই নদীর দিকে তাকাল।
এমন নদীতে নৌকা চালানো প্রায় অসম্ভব।
কেউ বলল,
— “আজ আর যাওয়া যাবে না।”
গদাধর কিছুক্ষণ চুপ করে রইলেন।
তারপর নিজের নৌকার দিকে এগিয়ে গেলেন।
— “আলোটা জ্বেলে দাও।”
একজন বলল,
— “কাকা, নদী আজ খুব খারাপ।”
গদাধর উত্তর দিলেন,
— “আমি জানি। কিন্তু ওই মেয়েটার জন্য নদী আজ একটু কম খারাপ হতে হবে।”
অন্ধকার নদী
নৌকায় উঠলেন গদাধর, রমেন এবং তাঁর স্ত্রী।
বাতাসে নৌকা বারবার দুলছিল।
রমেন ভয়ে কাঁপছিল।
— “কাকা, যদি কিছু হয়?”
গদাধর বললেন,
— “আমার দিকে তাকিও না। ওই আলোটার দিকে তাকিয়ে থাকো।”
নৌকার সামনে ছোট্ট কেরোসিনের বাতিটি ঝড়ের মধ্যে দুলছিল।
কখনও মনে হচ্ছিল নিভে যাবে।
আবার মুহূর্ত পরে জ্বলে উঠছিল।
গদাধর দাঁড় শক্ত করে ধরে নদীর স্রোতের সঙ্গে লড়াই করতে লাগলেন।
হঠাৎ বিশাল একটি ঢেউ নৌকার ওপর আছড়ে পড়ল।
রমেনের স্ত্রী চিৎকার করে উঠলেন।
নৌকা প্রায় উল্টে যাচ্ছিল।
গদাধর সমস্ত শক্তি দিয়ে দাঁড় সামলে নিলেন।
তিনি বললেন,
— “ভয় পেও না। আলো এখনও জ্বলছে।”
হাসপাতালে পৌঁছনো
প্রায় এক ঘণ্টার সংগ্রামের পর নৌকা নদীর ওপারে পৌঁছাল।
হাসপাতালের কর্মীরা দ্রুত মহিলাটিকে ভেতরে নিয়ে গেলেন।
গদাধর বাইরে বসে ভিজতে ভিজতে অপেক্ষা করতে লাগলেন।
কিছুক্ষণ পর ডাক্তার বেরিয়ে এসে হাসলেন।
— “মা ও সন্তান দুজনেই ভালো আছে।”
রমেন গদাধরের পা জড়িয়ে ধরল।
— “কাকা, আপনি না থাকলে…”
গদাধর তাকে থামিয়ে দিলেন।
— “আমার কিছু করিনি। নৌকাটা করেছে।”
তারপর নৌকার দিকে তাকিয়ে বললেন,
— “আর ওই আলোটা।”
আলোর উত্তরাধিকার
বছর কেটে গেল।
অভি বড় হয়ে ইঞ্জিনিয়ার হলো। শহরে চাকরি পেল।
কিন্তু গ্রামের সঙ্গে তার সম্পর্ক কখনও ছিন্ন হয়নি।
একদিন সে জানতে পারল, গদাধর মাঝি আর নৌকা চালাতে পারছেন না।
বয়স হয়েছে।
নৌকাটিও পুরোনো হয়ে গেছে।
অভি শহর থেকে গ্রামে ফিরে এল।
সে গ্রামের কয়েকজন যুবককে নিয়ে একটি নতুন নৌকা তৈরি করল।
নৌকাটির নাম রাখা হলো—
“নতুন আলো”।
এটি শুধু যাত্রী পারাপারের জন্য নয়, জরুরি রোগী পরিবহনের জন্যও ব্যবহার করা হবে।
নৌকায় রাখা হলো—
প্রাথমিক চিকিৎসার বাক্স, অক্সিজেন সিলিন্ডার, জরুরি ওষুধ এবং একটি শক্তিশালী আলো।
উদ্বোধনের দিন অভি গদাধর মাঝির হাতে নৌকার প্রথম দাঁড়টি তুলে দিল।
গদাধরের চোখে জল এসে গেল।
— “আমি তো ভাবিনি আমার ছোট্ট নৌকার আলো এত দূর যাবে।”
অভি বলল,
— “আলো কখনও এক জায়গায় থাকে না কাকা। একজন জ্বালালে অন্যজন তা নিয়ে এগিয়ে যায়।”
শেষ রাত
কয়েক বছর পর গদাধর মাঝি অসুস্থ হয়ে পড়লেন।
এক শীতের রাতে তিনি বিছানায় শুয়ে জানালার বাইরে তাকিয়ে ছিলেন।
দূরে নদীর ওপারে একটি আলো দেখা যাচ্ছিল।
তিনি ছেলেকে জিজ্ঞেস করলেন,
— “ওটা কী?”
ছেলে বলল,
— “নতুন আলোর নৌকা। আজও একজন রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছে।”
গদাধর মৃদু হাসলেন।
চোখ বন্ধ করে বললেন,
— “তাহলে আলোটা এখনও জ্বলছে।”
সেটাই ছিল তাঁর শেষ কথা।
আজ চরনদীর নদীতে রাত নামলে একসঙ্গে অনেক আলো দেখা যায়।
একটি নৌকা এপারে আসে।
আরেকটি ওপারে যায়।
কেউ বাজার থেকে ফেরে।
কেউ হাসপাতালে যায়।
কেউ বাড়ি ফিরছে।
কিন্তু গ্রামের মানুষ জানে—
এই সব আলোর শুরু হয়েছিল একটি ছোট্ট কেরোসিনের বাতি থেকে।
একজন মানুষ নিজের হারানো জীবনের কষ্টকে অন্য মানুষের বাঁচার আশায় পরিণত করেছিলেন।
নদীর ওপারে আজও সন্ধ্যার পর আলো জ্বলে।
আর সেই আলো যেন দূর থেকে বলে—
“অন্ধকার যত গভীরই হোক, একজন মানুষের ছোট্ট সাহসও অন্য কারও কাছে পথের দিশা হয়ে উঠতে পারে।”
নদী বয়ে চলে।
সময়ও বয়ে চলে।
মানুষ আসে, মানুষ চলে যায়।
কিন্তু কিছু আলো—
নদীর ওপারেও পৌঁছে যায়।
সমাপ্ত। 🪔🌊❤️

Share This
Categories
নারী কথা প্রবন্ধ রিভিউ

সরোজিনী নাইডু: কবিতার কোমলতা ও স্বাধীনতা সংগ্রামের অদম্য সাহস—এক মহীয়সী নারীর জীবনকথা।

ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসে এমন কিছু নারী ছিলেন, যাঁরা একই সঙ্গে সাহিত্য, সমাজসংস্কার, রাজনীতি এবং দেশসেবার ক্ষেত্রে অসামান্য ভূমিকা পালন করেছেন। সরোজিনী নাইডু তাঁদের মধ্যে অন্যতম। তাঁর কণ্ঠে ছিল কবিতার মাধুর্য, আর তাঁর কথায় ছিল স্বাধীনতার দাবির দৃঢ়তা।
তিনি ছিলেন কবি, স্বাধীনতা সংগ্রামী, নারী অধিকারকর্মী এবং স্বাধীন ভারতের প্রথমদিকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নারী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। তাঁর কবিতার জন্য তিনি যেমন ‘ভারতের নাইটিঙ্গেল’ নামে পরিচিত হন, তেমনই স্বাধীনতা সংগ্রামে তাঁর সাহস তাঁকে জাতীয় ইতিহাসে একটি বিশেষ মর্যাদা দিয়েছে।
জন্ম ও পরিবার
সরোজিনী নাইডুর জন্ম ১৮৭৯ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি হায়দরাবাদে।
তাঁর পিতা অঘোরনাথ চট্টোপাধ্যায় ছিলেন একজন শিক্ষাবিদ, বিজ্ঞানী ও সমাজসংস্কারক।
তাঁর মা বরদাসুন্দরী দেবী ছিলেন একজন কবি।
অর্থাৎ ছোটবেলা থেকেই সরোজিনীর পরিবারে শিক্ষা, সাহিত্য ও চিন্তার একটি সমৃদ্ধ পরিবেশ ছিল।
এই পরিবেশ তাঁর ব্যক্তিত্ব গঠনে গভীর প্রভাব ফেলেছিল।
ছোটবেলা থেকেই অসাধারণ মেধা
সরোজিনী ছোটবেলা থেকেই অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন।
মাত্র বারো বছর বয়সে তিনি ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষায় অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেন বলে তাঁর জীবনীতে উল্লেখ রয়েছে।
কৈশোরেই তিনি কবিতা ও সাহিত্যচর্চায় গভীরভাবে আগ্রহী হয়ে ওঠেন।
তাঁর প্রতিভা দেখে পরিবারও বুঝতে পেরেছিল যে এই মেয়েটির ভবিষ্যৎ সাধারণ পথে সীমাবদ্ধ থাকবে না।
বিদেশে উচ্চশিক্ষা
সরোজিনী নাইডু উচ্চশিক্ষার জন্য ইংল্যান্ডে যান।
তিনি লন্ডনের কিংস কলেজ এবং পরে কেমব্রিজের গার্টন কলেজে পড়াশোনা করেন।
বিদেশে থাকার সময় তিনি পাশ্চাত্য সাহিত্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হন।
তবে বিদেশি পরিবেশে থেকেও তাঁর লেখায় ভারতীয় জীবন, প্রকৃতি, সংস্কৃতি এবং মানুষের অনুভূতি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
কবি হিসেবে আত্মপ্রকাশ
সরোজিনী নাইডুর কবিতায় ভারতীয় প্রকৃতি, মানুষের জীবন, প্রেম, উৎসব, দুঃখ ও দেশপ্রেমের অনুভূতি ফুটে উঠেছে।
তাঁর কবিতার ভাষা ছিল সুরেলা ও আবেগময়।
তাঁর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে The Golden Threshold, The Bird of Time এবং The Broken Wing।
তাঁর সাহিত্যিক প্রতিভার জন্য তিনি ভারতীয় ইংরেজি সাহিত্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কবি হিসেবে পরিচিত হন।
‘ভারতের নাইটিঙ্গেল’
সরোজিনী নাইডুর কবিতার সুরেলা ভাষা ও সংগীতময়তার কারণে তাঁকে ‘Nightingale of India’, অর্থাৎ ‘ভারতের নাইটিঙ্গেল’ বলা হয়।
তাঁর কবিতায় শুধু সৌন্দর্য ছিল না; ছিল দেশপ্রেমও।
ক্রমে তাঁর সাহিত্যিক পরিচয় রাজনৈতিক পরিচয়ের সঙ্গে মিশে যায়।
ব্যক্তিজীবনে সাহসী সিদ্ধান্ত
সরোজিনী নাইডুর বিবাহ হয় ড. গোবিন্দরাজুলু নাইডুর সঙ্গে।
তাঁদের বিবাহ ছিল আন্তঃজাতিগত বিবাহ।
সেই সময় এ ধরনের বিবাহ সামাজিকভাবে সহজভাবে গ্রহণ করা হতো না।
কিন্তু সরোজিনী নিজের জীবন সম্পর্কে নিজের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সাহস দেখিয়েছিলেন।
এটিও তাঁর স্বাধীনচেতা ব্যক্তিত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।
রাজনীতিতে প্রবেশ
সরোজিনী নাইডুর রাজনৈতিক জীবনের সূচনা হয় ধীরে ধীরে।
তিনি প্রথমে নারীশিক্ষা, নারী অধিকার এবং সামাজিক সংস্কারের বিষয় নিয়ে কথা বলতে শুরু করেন।
পরবর্তীকালে ভারতীয় জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত হন।
তাঁর অসাধারণ বক্তৃতা ক্ষমতা তাঁকে দ্রুত জাতীয় রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ মুখে পরিণত করে।
গান্ধিজির সঙ্গে সম্পর্ক
মহাত্মা গান্ধির নেতৃত্বে স্বাধীনতা আন্দোলনে সরোজিনী নাইডু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
গান্ধির অহিংস আন্দোলনের প্রতি তাঁর গভীর বিশ্বাস ছিল।
তিনি ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে মানুষকে স্বাধীনতা আন্দোলনে অংশগ্রহণের জন্য উৎসাহিত করেন।
তাঁর বক্তৃতা ছিল আবেগপূর্ণ, যুক্তিপূর্ণ এবং মানুষের হৃদয় স্পর্শ করার মতো।
নারী অধিকার নিয়ে কাজ
সরোজিনী নাইডু বিশ্বাস করতেন, দেশের স্বাধীনতার পাশাপাশি নারীর স্বাধীনতাও জরুরি।
তিনি নারীদের ভোটাধিকার, শিক্ষা এবং সামাজিক মর্যাদার পক্ষে কথা বলেন।
তিনি চেয়েছিলেন ভারতীয় নারীরা শুধু স্বাধীনতা আন্দোলনের দর্শক না থেকে সক্রিয় অংশগ্রহণকারী হোক।
নারীসমাজকে সংগঠিত করা
সরোজিনী বিভিন্ন সভা ও সম্মেলনে নারীদের সংগঠিত করেন।
তিনি তাঁদের ঘরের বাইরে এসে জাতীয় আন্দোলনে অংশ নিতে উৎসাহিত করেন।
তাঁর বক্তৃতায় একটি বিষয় বারবার ফিরে আসত—
দেশের স্বাধীনতার সংগ্রাম শুধু পুরুষদের সংগ্রাম নয়।
নারীরাও দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে সমানভাবে ভূমিকা রাখতে পারে।
ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতি
১৯২৫ সালে সরোজিনী নাইডু ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের কানপুর অধিবেশনে সভাপতি নির্বাচিত হন।
তিনি ছিলেন কংগ্রেসের প্রথম ভারতীয় মহিলা সভাপতি।
এর আগে অ্যানি বেসান্ত কংগ্রেসের প্রথম মহিলা সভাপতি হয়েছিলেন।
সরোজিনীর এই নেতৃত্ব ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।
স্বাধীনতা আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা
সরোজিনী নাইডু অসহযোগ আন্দোলন, আইন অমান্য আন্দোলন এবং বিভিন্ন জাতীয় আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।
তিনি ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তুলতে দেশজুড়ে বক্তৃতা করেন।
তাঁকে বহুবার গ্রেফতারও করা হয়।
কিন্তু কারাবাস তাঁকে থামাতে পারেনি।
লবণ সত্যাগ্রহ
১৯৩০ সালের লবণ সত্যাগ্রহে সরোজিনী নাইডু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
গান্ধিজির নেতৃত্বে শুরু হওয়া এই আন্দোলন ব্রিটিশ সরকারের লবণ আইনের বিরুদ্ধে এক বিশাল গণআন্দোলনে পরিণত হয়।
গান্ধিজির গ্রেফতারের পর আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রেও সরোজিনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
কারাবরণ
স্বাধীনতার দাবিতে আন্দোলন করার কারণে সরোজিনী নাইডুকে ব্রিটিশ সরকার একাধিকবার কারাবন্দি করে।
কারাগারের জীবন তাঁর জন্য কঠিন ছিল।
তবুও তিনি নিজের আদর্শ থেকে সরে যাননি।
তাঁর কাছে স্বাধীনতা শুধু একটি রাজনৈতিক শব্দ ছিল না; এটি ছিল মানুষের মর্যাদা ও আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার।
ভারত ছাড়ো আন্দোলন
১৯৪২ সালে ‘ভারত ছাড়ো আন্দোলন’ শুরু হলে সরোজিনী নাইডুও এই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
বয়স বাড়লেও তাঁর রাজনৈতিক সক্রিয়তা কমেনি।
স্বাধীনতার শেষ পর্যায় পর্যন্ত তিনি জাতীয় আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
স্বাধীন ভারতের প্রথম নারী রাজ্যপালদের অন্যতম
ভারত স্বাধীন হওয়ার পর সরোজিনী নাইডু নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
তিনি যুক্তপ্রদেশের রাজ্যপাল হন, যা বর্তমানে উত্তরপ্রদেশ নামে পরিচিত।
তিনি ভারতের প্রথমদিকের নারী রাজ্যপালদের মধ্যে অন্যতম এবং স্বাধীন ভারতের প্রশাসনিক কাঠামোতে নারীর নেতৃত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।
সাহিত্য ও রাজনীতি—দুই জগতের সমন্বয়
সরোজিনী নাইডুর বিশেষত্ব ছিল তিনি একই সঙ্গে কবি ও রাজনীতিক ছিলেন।
তাঁর কবিতায় সৌন্দর্য ও আবেগ ছিল।
আর রাজনৈতিক বক্তৃতায় ছিল স্বাধীনতার আহ্বান।
এই দুই ভিন্ন জগতকে তিনি অসাধারণভাবে একত্রিত করেছিলেন।
তাঁর বক্তৃতার শক্তি
সরোজিনী নাইডু ছিলেন অসাধারণ বক্তা।
তিনি কঠিন রাজনৈতিক বিষয়ও সহজ ভাষায় মানুষের কাছে তুলে ধরতে পারতেন।
তাঁর কণ্ঠে ছিল আবেগ।
তাঁর কথায় ছিল দেশপ্রেম।
তাঁর বক্তৃতা শুনে বহু মানুষ স্বাধীনতা আন্দোলনে অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন।
ব্যক্তিত্বের বৈশিষ্ট্য
সরোজিনী নাইডুর ব্যক্তিত্বে কয়েকটি বৈশিষ্ট্য বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
সাহস
ব্রিটিশ সরকারের ভয় তাঁকে দমিয়ে রাখতে পারেনি।
সৃজনশীলতা
তিনি সাহিত্যকে সামাজিক ও জাতীয় চেতনা জাগানোর মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করেছেন।
নেতৃত্ব
তিনি জাতীয় কংগ্রেসের নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং স্বাধীন ভারতের প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেছেন।
মানবিকতা
দেশের সাধারণ মানুষের দুঃখ ও অধিকার নিয়ে তিনি গভীরভাবে চিন্তা করতেন।
নারীমুক্তির ভাবনা
তিনি বিশ্বাস করতেন, দেশের উন্নতি নারীর উন্নতি ছাড়া সম্ভব নয়।
বর্তমান প্রজন্মের জন্য শিক্ষা
সরোজিনী নাইডুর জীবন আজও আমাদের অনেক কিছু শেখায়।
প্রথমত, একজন মানুষ একই সঙ্গে একাধিক ক্ষেত্রে সফল হতে পারেন।
দ্বিতীয়ত, প্রতিভা ও শিক্ষাকে সমাজের বৃহত্তর কল্যাণে ব্যবহার করা উচিত।
তৃতীয়ত, নারীদের নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ দিতে হবে।
চতুর্থত, অন্যায়ের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ ও সংগঠিতভাবে প্রতিবাদ করা যায়।
পঞ্চমত, দেশের স্বাধীনতা ও সামাজিক ন্যায় একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত।
তাঁর মৃত্যু
সরোজিনী নাইডু ১৯৪৯ সালের ২ মার্চ লখনউতে মৃত্যুবরণ করেন।
স্বাধীন ভারতের মাত্র কয়েক বছর পর তাঁর মৃত্যু হয়।
তাঁর জীবন ছিল ব্রিটিশ ভারতের ঔপনিবেশিক শাসন থেকে স্বাধীন ভারতের জন্ম পর্যন্ত এক দীর্ঘ ঐতিহাসিক যাত্রার সাক্ষী।
তাঁর উত্তরাধিকার
আজও ভারতের স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে সরোজিনী নাইডুর জীবন পড়ানো হয়।
তাঁর কবিতা সাহিত্যপ্রেমীদের কাছে সমাদৃত।
স্বাধীনতা সংগ্রামে তাঁর ভূমিকা ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
আর নারী নেতৃত্বের ক্ষেত্রে তাঁর জীবন আজও একটি অনুপ্রেরণা।
উপসংহার
সরোজিনী নাইডু ছিলেন এক অসাধারণ সমন্বয়ের নাম।
তিনি ছিলেন কবি, কিন্তু শুধু কবিতার জগতে আটকে থাকেননি।
তিনি ছিলেন রাজনীতিক, কিন্তু শুধু ক্ষমতার রাজনীতি করেননি।
তিনি ছিলেন স্বাধীনতা সংগ্রামী, কিন্তু শুধু প্রতিবাদ করেননি—মানুষকে সংগঠিত করেছেন।
তিনি ছিলেন নারী অধিকারকর্মী, কিন্তু শুধু নারীদের জন্য নয়—সমগ্র দেশের স্বাধীনতার জন্য লড়েছেন।
সরোজিনী নাইডুর জীবন তাই আমাদের শেখায়—একজন নারীর কণ্ঠ যখন জ্ঞান, সাহস ও মানবিকতার সঙ্গে যুক্ত হয়, তখন সেই কণ্ঠ শুধু একটি পরিবারকে নয়, একটি জাতিকেও জাগিয়ে তুলতে পারে।
তাঁর জীবন যেন আজও আমাদের বলে—
“স্বপ্ন দেখো, কথা বলো, অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াও এবং নিজের প্রতিভাকে মানুষের কল্যাণে ব্যবহার করো—তবেই জীবন সত্যিকার অর্থে অর্থপূর্ণ হয়ে ওঠে।”

Share This
Categories
নারী কথা প্রবন্ধ

অমৃতা শের-গিল: রঙ, ক্যানভাস আর নিজের পরিচয়ের সন্ধানে এক অসাধারণ নারীর জীবন।

ভারতীয় শিল্পের ইতিহাসে কিছু নাম সময়কে অতিক্রম করে যায়। তাঁদের শিল্প শুধু ছবি হয়ে থাকে না—তা হয়ে ওঠে একটি যুগের দলিল। অমৃতা শের-গিল এমনই এক শিল্পী। মাত্র ২৮ বছরের জীবনে তিনি ভারতীয় আধুনিক শিল্পকলার যে ভিত্তি তৈরি করে গিয়েছিলেন, তার প্রভাব আজও গভীর।
তাঁর জীবনের বিশেষত্ব শুধু এই নয় যে তিনি অসাধারণ প্রতিভাবান চিত্রশিল্পী ছিলেন। তাঁর জীবনের আসল আকর্ষণ হলো—তিনি নিজের শিল্পের ভাষা খুঁজতে কখনও স্থির থাকেননি। ইউরোপীয় শিল্পের শিক্ষা নিয়েও তিনি শেষ পর্যন্ত নিজের শিকড়, ভারতীয় মানুষ এবং ভারতীয় জীবনের দিকে ফিরে তাকিয়েছিলেন।
অমৃতার ক্যানভাসে ভারত কোনো সাজানো স্বপ্নের দেশ ছিল না। সেখানে ছিল সাধারণ মানুষের জীবন, নীরবতা, দারিদ্র্য, অপেক্ষা, বিষণ্ণতা এবং নারীর অস্তিত্ব। তাঁর ছবির মানুষগুলো যেন দর্শকের দিকে তাকিয়ে কোনো কথা না বলেও অনেক কথা বলে যায়।
দুই সংস্কৃতির মিলনে জন্ম
অমৃতা শের-গিলের জন্ম ১৯১৩ সালের ৩০ জানুয়ারি বুদাপেস্টে, তখনকার অস্ট্রো-হাঙ্গেরীয় সাম্রাজ্যে।
তাঁর পিতা উমরাও সিং শের-গিল মাজিথিয়া ছিলেন একজন পণ্ডিত, আলোকচিত্রী ও সংস্কৃতজ্ঞ।
তাঁর মা মেরি অ্যান্টোনিয়েট গটেসম্যান ছিলেন হাঙ্গেরীয় বংশোদ্ভূত।
অমৃতার পরিবারে ভারতীয় ও ইউরোপীয় সংস্কৃতির একটি অনন্য মেলবন্ধন ছিল।
এই দ্বৈত সাংস্কৃতিক পরিবেশ পরবর্তীকালে তাঁর শিল্পীসত্তাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে।
তিনি একদিকে ইউরোপীয় শিল্পের রীতি ও কৌশল শিখেছিলেন, অন্যদিকে ভারতীয় মানুষের জীবন তাঁর শিল্পের প্রধান বিষয় হয়ে উঠেছিল।
শৈশবের অস্বাভাবিক প্রতিভা
অমৃতা ছোটবেলা থেকেই ছবি আঁকতেন।
তাঁর প্রতিভা এতটাই স্পষ্ট ছিল যে পরিবারের মানুষ বুঝতে পেরেছিলেন, এটি নিছক শিশুসুলভ শখ নয়।
তিনি পিয়ানোও বাজাতেন এবং সংগীতের প্রতিও আগ্রহী ছিলেন।
কিন্তু শেষ পর্যন্ত ছবি আঁকাই তাঁর জীবনের প্রধান পরিচয় হয়ে ওঠে।
মাত্র কিশোরী বয়সেই তাঁর মধ্যে শিল্পী হিসেবে নিজস্ব পরিচয় তৈরি করার প্রবল আকাঙ্ক্ষা দেখা যায়।
ইউরোপে শিল্পশিক্ষা
কৈশোরে অমৃতা ইতালিতে শিল্পশিক্ষার সুযোগ পান।
পরবর্তীকালে তিনি প্যারিসে যান এবং École des Beaux-Arts-এ পড়াশোনা করেন।
প্যারিস তখন আধুনিক শিল্পের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র।
সেখানে তিনি ইউরোপীয় চিত্রকলার ঐতিহ্য, বিশেষ করে রেনেসাঁ ও আধুনিক শিল্পের বিভিন্ন প্রবণতা সম্পর্কে গভীরভাবে পরিচিত হন।
তাঁর শিল্পীজীবনের প্রথম পর্যায়ে ইউরোপীয় প্রভাব অত্যন্ত স্পষ্ট ছিল।
আত্মপ্রতিকৃতিতে নিজের সন্ধান
অমৃতা শের-গিলের শিল্পজীবনে আত্মপ্রতিকৃতির বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।
তিনি নিজেকে বারবার এঁকেছেন।
কিন্তু এই আত্মপ্রতিকৃতি শুধুমাত্র নিজের চেহারা আঁকার কাজ ছিল না।
নিজেকে আঁকার মাধ্যমে তিনি যেন নিজের পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন করছিলেন।
তিনি কে?
ইউরোপীয় না ভারতীয়?
শিল্পী হিসেবে তাঁর নিজস্ব ভাষা কী?
নারী হিসেবে সমাজ তাঁকে কীভাবে দেখছে?
এই প্রশ্নগুলো তাঁর শিল্পের ভেতরে নানা ভাবে ফিরে এসেছে।
প্যারিসের সাফল্য
প্যারিসে পড়াশোনার সময় অমৃতা দ্রুতই শিল্পী হিসেবে পরিচিত হতে শুরু করেন।
১৯৩৩ সালে তাঁর ‘Young Girls’ ছবির জন্য তিনি École des Beaux-Arts-এর মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার লাভ করেন।
এই সাফল্য তাঁর শিল্পীজীবনের একটি বড় স্বীকৃতি।
তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র বিশ বছর।
একজন তরুণ ভারতীয় বংশোদ্ভূত নারী হিসেবে ইউরোপীয় শিল্পজগতে এমন স্বীকৃতি ছিল অসাধারণ ঘটনা।
কিন্তু ইউরোপেই থেমে থাকেননি
অমৃতার সামনে তখন ইউরোপে শিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সুযোগ ছিল।
তবু তিনি ধীরে ধীরে উপলব্ধি করেন, শুধু ইউরোপীয় শিল্পরীতির অনুকরণ করে তাঁর নিজের শিল্পীসত্তা সম্পূর্ণ হবে না।
তাঁর নিজের ভেতরে ভারতকে জানার একটি আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়।
তিনি ভারতে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেন।
এই সিদ্ধান্ত তাঁর শিল্পজীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
ভারতে ফিরে নতুন অমৃতা
১৯৩৪ সালে অমৃতা ভারতে ফিরে আসেন।
ভারত তাঁকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে।
তিনি ভারতীয় গ্রাম, সাধারণ মানুষ, নারী ও দৈনন্দিন জীবনকে নতুন চোখে দেখতে শুরু করেন।
ইউরোপীয় শিল্পশিক্ষা তাঁর চোখকে প্রশিক্ষিত করেছিল।
কিন্তু ভারতীয় জীবন তাঁকে দিয়েছিল তাঁর শিল্পের বিষয়।
এই দুইয়ের মিলনেই তৈরি হয় অমৃতা শের-গিলের নিজস্ব শিল্পভাষা।
ভারতীয় মানুষের দিকে ফিরে তাকানো
অমৃতার ছবিতে ভারতীয় মানুষের উপস্থিতি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি রাজপ্রাসাদের ঐশ্বর্য বা কেবল পৌরাণিক দৃশ্য আঁকার দিকে ঝুঁকেননি।
তিনি সাধারণ মানুষের জীবন দেখেছেন।
বিশেষ করে গ্রামীণ নারী তাঁর ছবিতে বারবার ফিরে এসেছে।
তাঁদের মুখে ছিল নীরবতা।
চোখে ছিল ক্লান্তি।
শরীরের ভঙ্গিতে ছিল জীবনের ভার।
এই বাস্তবতাকে তিনি সৌন্দর্যের প্রচলিত ধারণার বাইরে নিয়ে গিয়েছিলেন।
‘Three Girls’
অমৃতার অন্যতম বিখ্যাত চিত্র ‘Three Girls’।
ছবিতে তিন তরুণী পাশাপাশি বসে আছে।
তাদের পোশাক, মুখের অভিব্যক্তি এবং বসার ভঙ্গিতে কোনো নাটকীয়তা নেই।
কিন্তু ছবিটির মধ্যে এক ধরনের গভীর বিষণ্ণতা রয়েছে।
তাঁরা যেন কোনো এক অজানা ভবিষ্যতের অপেক্ষায়।
এই ছবির মধ্য দিয়ে অমৃতা ভারতীয় নারীর জীবনকে এক বিশেষ মানবিক দৃষ্টিতে তুলে ধরেছিলেন।
‘Bride’s Toilet’
‘Bride’s Toilet’ ছবিতে ভারতীয় নারীদের বিয়ের প্রস্তুতির একটি দৃশ্য ফুটে উঠেছে।
এখানে বিয়ের সাজসজ্জার আনন্দের পাশাপাশি নারীর জীবনের পরিবর্তনের একটি গভীর অনুভূতিও আছে।
অমৃতার শিল্পে নারী কখনও শুধু সৌন্দর্যের বস্তু নয়।
নারী সেখানে একজন মানুষ—যার নিজের অনুভূতি, ভয়, স্বপ্ন এবং নীরবতা রয়েছে।
‘Young Girls’ থেকে ‘Three Girls’—শিল্পের পরিবর্তন
তাঁর ইউরোপীয় সময়ের কাজ এবং ভারতে ফিরে আসার পরের কাজের মধ্যে বড় পার্থক্য দেখা যায়।
প্রথমদিকে তাঁর ছবিতে ইউরোপীয় কৌশল ও রঙের প্রভাব বেশি ছিল।
ভারতে ফিরে এসে তাঁর ছবিতে রঙ আরও সংযত হয়।
মানুষের শরীরের ভঙ্গি ও মুখের অভিব্যক্তি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
তাঁর ছবির মধ্যে এক ধরনের স্থিরতা ও নীরবতা তৈরি হয়।
ভারতীয় শিল্পের নতুন ভাষা
অমৃতা শের-গিল ভারতীয় ঐতিহ্যকে অন্ধভাবে অনুকরণ করেননি।
তিনি ভারতীয় শিল্পের বিভিন্ন ঐতিহ্য, বিশেষ করে পাহাড়ি ও মুঘল চিত্রকলার সঙ্গে পরিচিত হন।
কিন্তু তিনি সেগুলোকে নিজের শিল্পের সঙ্গে মিলিয়ে নতুন ভাষা তৈরি করেন।
এ কারণেই তাঁকে ভারতীয় আধুনিক শিল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথিকৃৎ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
নারী হিসেবে শিল্পী হওয়ার সংগ্রাম
অমৃতা এমন একটি সময়ে শিল্পীজীবন শুরু করেছিলেন, যখন ভারতীয় সমাজে নারীদের জন্য স্বাধীন শিল্পীজীবন খুব সাধারণ বিষয় ছিল না।
একজন নারী নিজের ইচ্ছায় শিল্পচর্চা করবেন, ভ্রমণ করবেন, বিদেশে পড়বেন এবং নিজের জীবন সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেবেন—এটি ছিল অনেকটাই ব্যতিক্রমী।
অমৃতা নিজের জীবনকে প্রচলিত সামাজিক ছাঁচে আটকে রাখেননি।
ব্যক্তিত্বে স্বাধীনতা
অমৃতা শের-গিল ছিলেন অত্যন্ত স্বাধীনচেতা।
তিনি নিজের পোশাক, জীবনযাপন, সম্পর্ক, শিল্প এবং পেশা সম্পর্কে নিজের সিদ্ধান্ত নিতেন।
তাঁর ব্যক্তিত্ব নিয়ে সমসাময়িক সমাজে নানা আলোচনা ও সমালোচনাও ছিল।
কিন্তু তিনি নিজের শিল্পীসত্তাকে সামাজিক অনুমোদনের ওপর নির্ভরশীল করেননি।
বিবাহ
অমৃতা ১৯৩৮ সালে তাঁর হাঙ্গেরীয় আত্মীয় ভিক্টর এগান-কে বিয়ে করেন।
বিবাহের পর তাঁরা ভারতে বসবাস করেন।
তাঁদের জীবন ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে কাটে।
এই সময়েও অমৃতা নিয়মিত ছবি আঁকতেন।
সিমলায় শিল্পচর্চা
সিমলার সঙ্গে অমৃতার গভীর সম্পর্ক ছিল।
তাঁর পরিবার সেখানে বসবাস করত এবং তিনি দীর্ঘ সময় সিমলায় কাটিয়েছেন।
সিমলার পরিবেশ, মানুষ এবং পাহাড়ি সংস্কৃতি তাঁর শিল্পে প্রভাব ফেলেছিল।
ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে ভ্রমণ তাঁর শিল্পীসত্তাকে আরও সমৃদ্ধ করে।
দক্ষিণ ভারতের প্রভাব
অমৃতা দক্ষিণ ভারত ভ্রমণ করেন এবং সেখানকার মানুষের জীবন তাঁকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে।
এই সময় তাঁর ছবিতে ভারতীয় মানুষের জীবন আরও শক্তিশালীভাবে উঠে আসে।
তিনি বুঝতে শুরু করেছিলেন যে ভারতকে কেবল প্রাসাদ, মন্দির বা ঐতিহাসিক স্মৃতিস্তম্ভ দিয়ে বোঝা যায় না।
ভারতকে বুঝতে হলে সাধারণ মানুষের জীবন দেখতে হবে।
সাধারণ মানুষের প্রতি আকর্ষণ
অমৃতার শিল্পের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল সাধারণ মানুষের প্রতি তাঁর গভীর আগ্রহ।
তিনি এমন মানুষদের আঁকতেন, যাঁদের সাধারণত শিল্পের প্রধান বিষয় হিসেবে দেখা হতো না।
কৃষক, শ্রমজীবী মানুষ, গ্রামীণ নারী—তাঁদের জীবন তাঁর ক্যানভাসে জায়গা পেয়েছিল।
এটি তাঁর শিল্পকে অন্যদের থেকে আলাদা করে দেয়।
সৌন্দর্যের প্রচলিত ধারণার বাইরে
সৌন্দর্য মানেই নিখুঁত মুখ, হাসি কিংবা সাজসজ্জা—অমৃতার শিল্প এই ধারণাকে প্রশ্ন করে।
তাঁর ছবির মানুষের মুখে অনেক সময় বিষণ্ণতা থাকে।
শরীরের ভঙ্গি শান্ত।
রঙ মৃদু।
কিন্তু সেই নীরবতার মধ্যেই গভীর সৌন্দর্য তৈরি হয়।
এ যেন জীবনের বাস্তব সৌন্দর্য।
তাঁর শিল্পে নারী
অমৃতার ছবিতে নারীরা শুধু কোনো দৃশ্যের অংশ নয়।
তাঁরা ছবির কেন্দ্র।
তাঁদের শরীর, মুখ, বসার ভঙ্গি এবং নীরবতা—সবকিছুই গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি নারীদের এমনভাবে দেখিয়েছেন, যেন তাঁদের ভেতরের জীবনও ছবির অংশ।
এ কারণে তাঁর শিল্পকে নারীজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃশ্যমান দলিল হিসেবেও দেখা যায়।
অমৃতা ও আধুনিক ভারত
অমৃতা এমন সময়ে শিল্প সৃষ্টি করছিলেন যখন ভারত রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে গভীর পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল।
দেশ স্বাধীনতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল।
ঔপনিবেশিকতার বিরুদ্ধে জাতীয়তাবাদী চেতনা বাড়ছিল।
এই পরিবর্তনের সময় ভারতীয় শিল্পেরও একটি নতুন ভাষা প্রয়োজন ছিল।
অমৃতার কাজ সেই সন্ধিক্ষণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
শিল্প সম্পর্কে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি
অমৃতা মনে করতেন শিল্পীর নিজের পরিচয় থাকা জরুরি।
অন্যের শিল্পরীতি অনুকরণ করে বড় শিল্পী হওয়া যায় না।
নিজের অভিজ্ঞতা, নিজের সমাজ এবং নিজের সময়কে শিল্পে প্রকাশ করতে হয়।
এই ধারণাই তাঁকে ভারতীয় মানুষের দিকে ফিরিয়ে নিয়ে যায়।
অল্প জীবনে অসাধারণ কাজ
অমৃতা শের-গিলের জীবন ছিল অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত।
মাত্র ২৮ বছর বয়সে তাঁর মৃত্যু হয়।
কিন্তু এই অল্প সময়ে তিনি অসংখ্য চিত্রকর্ম সৃষ্টি করেন।
তাঁর শিল্পের মূল্য তাঁর মৃত্যুর পর আরও ব্যাপকভাবে স্বীকৃত হয়।
আজ তাঁর বহু কাজ ভারতীয় শিল্পের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হিসেবে বিবেচিত।
আকস্মিক মৃত্যু
১৯৪১ সালে লাহোরে অমৃতা শের-গিল অসুস্থ হয়ে পড়েন।
মাত্র ২৮ বছর বয়সে ৫ ডিসেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়।
তাঁর মৃত্যুর কারণ নিয়ে ঐতিহাসিকভাবে নানা আলোচনা থাকলেও, নিশ্চিতভাবে বলা যায় তাঁর জীবন অসময়ে থেমে গিয়েছিল।
তখনও তাঁর শিল্পীজীবনের সামনে ছিল অসংখ্য সম্ভাবনা।
যদি আরও কিছু বছর বাঁচতেন?
অমৃতার মৃত্যু ভারতীয় শিল্পের জন্য এক বিরাট ক্ষতি।
তিনি যদি আরও কয়েক দশক বেঁচে থাকতেন, তাহলে ভারতীয় আধুনিক শিল্প কোন দিকে যেত—এ নিয়ে আজও কৌতূহল রয়েছে।
কারণ তিনি যে পথ তৈরি করেছিলেন, সেটি তখনও সম্পূর্ণ বিকশিত হয়নি।
আজকের শিল্পে তাঁর গুরুত্ব
আজ অমৃতা শের-গিলকে ভারতীয় আধুনিক শিল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
তাঁর ছবির মূল্য শুধু অর্থনৈতিক নয়।
তাঁর শিল্প ভারতীয় সমাজের একটি নির্দিষ্ট সময়কে ধরে রেখেছে।
বিশেষ করে নারীর জীবন ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতি তাঁর শিল্পকে আলাদা মাত্রা দিয়েছে।
বর্তমান প্রজন্মের জন্য শিক্ষা
অমৃতা শের-গিলের জীবন থেকে সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো—নিজের পরিচয় খুঁজে নিতে হয়।
অন্যের প্রশংসা পাওয়ার জন্য নিজের শিল্প বা চিন্তাকে বদলে ফেললে নিজের স্বাতন্ত্র্য হারিয়ে যেতে পারে।
তিনি ইউরোপে শিক্ষা নিয়েছিলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত নিজের শিকড়ের দিকে ফিরে তাকিয়েছিলেন।
এটি আজকের তরুণ প্রজন্মের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা।
বিশ্বের জ্ঞান গ্রহণ করতে হবে, কিন্তু নিজের সংস্কৃতি ও বাস্তবতাকে ভুলে গেলে চলবে না।
একজন নারী শিল্পীর স্বাধীনতা
অমৃতা শের-গিলের জীবন নারী স্বাধীনতার আলোচনাতেও গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি নিজের পেশা বেছে নিয়েছিলেন।
নিজের শিল্পের বিষয় বেছে নিয়েছিলেন।
নিজের জীবনযাপন সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।
সমাজ কী বলবে—এই প্রশ্নকে তিনি নিজের সৃষ্টিশীলতার চেয়ে বড় হতে দেননি।
তাঁর উত্তরাধিকার
অমৃতা শের-গিলের মৃত্যুর বহু দশক পরেও তাঁর শিল্প নিয়ে গবেষণা চলছে।
তাঁর ছবি বিশ্বের বিভিন্ন প্রদর্শনীতে আলোচিত হয়েছে।
ভারতীয় শিল্পের ইতিহাসে তাঁর নাম একটি বিশেষ অধ্যায় হিসেবে স্থান পেয়েছে।
তাঁর জীবন নিয়ে বই লেখা হয়েছে, গবেষণা হয়েছে এবং নতুন প্রজন্মের শিল্পীরা তাঁর কাজ থেকে অনুপ্রেরণা নিয়েছেন।
উপসংহার
অমৃতা শের-গিলের জীবন ছিল মাত্র ২৮ বছরের।
কিন্তু সেই জীবন ছিল রঙে, চিন্তায় এবং সাহসে পূর্ণ।
তিনি ইউরোপীয় শিল্পের কাছ থেকে শিখেছিলেন, কিন্তু নিজের শিল্পকে ভারতীয় বাস্তবতার সঙ্গে যুক্ত করেছিলেন।
তিনি নারীদের এঁকেছিলেন, কিন্তু শুধু তাঁদের বাহ্যিক সৌন্দর্য দেখেননি—তাঁদের নীরব জীবনও দেখেছিলেন।
তিনি সাধারণ মানুষকে ক্যানভাসে এনেছিলেন, যাঁদের অনেকেই তখন শিল্পের কেন্দ্রে ছিলেন না।
অমৃতা শের-গিল তাই শুধু একজন চিত্রশিল্পী নন; তিনি ভারতীয় আধুনিক শিল্পের এক সেতু—যেখানে ইউরোপীয় শিল্পশিক্ষা, ভারতীয় জীবন এবং এক স্বাধীনচেতা নারীর নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি একসঙ্গে মিলিত হয়েছে।
তাঁর জীবন আমাদের শেখায়—
“নিজের চোখে পৃথিবীকে দেখার সাহসই একজন সত্যিকারের শিল্পীর সবচেয়ে বড় পরিচয়।”

Share This
Categories
বিবিধ

জলমগ্ন গ্রাম, ভেঙেছে বাড়ি—অতি ভারী বৃষ্টিতে কেশপুরে চরম দুর্ভোগে বাসিন্দারা।

পশ্চিম মেদিনীপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা:- অতি ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার কেশপুর ব্লকের একাধিক গ্রাম। টানা বৃষ্টির জেরে জলমগ্ন হয়ে পড়েছে বিস্তীর্ণ এলাকা। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বহু পরিবার।

মঙ্গলবার স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কেশপুর ব্লকের বাগপোতা, গোবিন্দপুর, কদমপাট-সহ একাধিক গ্রামের মানুষ ব্যাপক সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন। প্রবল বৃষ্টির কারণে বেশ কয়েকটি মাটির বাড়ি ভেঙে পড়েছে। বহু পরিবারের ঘরে জল ঢুকে যাওয়ায় নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, টানা বৃষ্টির কারণে এলাকার পরিস্থিতি ক্রমশ খারাপের দিকে যাচ্ছে। অনেক জায়গায় জল নেমে না যাওয়ায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। এদিন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন মণ্ডল ও জেলা বিজেপি নেতৃত্ব। তাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন এবং পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন। পাশাপাশি, প্রশাসনের কাছে দ্রুত ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানোর দাবি জানান বিজেপি নেতৃত্ব।

Share This
Categories
বিবিধ

রেগিংয়ের কুফল নিয়ে পড়ুয়াদের পাঠ, গড়বেতা কলেজের সচেতনতা শিবিরে পুলিশ-প্রশাসনের আধিকারিকরা।।

পশ্চিম মেদিনীপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা:- রেগিংয়ের মতো সামাজিক ব্যাধি রোধে মঙ্গলবার পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার গড়বেতা কলেজে একটি সচেতনতা শিবিরের আয়োজন করা হয়। কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানা।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা পুলিশের অন্যান্য উচ্চপদস্থ আধিকারিক, গড়বেতা কলেজের অধ্যক্ষ ডঃ হরিপ্রসাদ সরকার, শ্যামল মহাপাত্র এবং কলেজের অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষিকারা।
এই দিন বৃক্ষরোপণের মধ্য দিয়ে সচেতনতা শিবিরের শুভ সূচনা করা হয়। অনুষ্ঠানে রেগিংয়ের কুফল সম্পর্কে ছাত্র-ছাত্রীদের সচেতন করা হয় এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সুস্থ ও বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার বার্তা দেওয়া হয়।

Share This
Categories
বিবিধ

দলছুট হাতির দাপটে ভাঙল স্কুলের দরজা-জানালা, ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের ধানজমিও।

পশ্চিম মেদিনীপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা:- গত দু’দিনের টানা বৃষ্টিতে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার সবং, নারায়ণগড়, মোহনপুর, দাঁতন ব্লক এবং কেশিয়াড়ির কিছু অংশ এখনও জলমগ্ন। বিশেষ করে কেলেঘাই নদীর জলস্তর বৃদ্ধি পাওয়ায় বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। জেলার জেলাশাসক বিজন কৃষ্ণ জানিয়েছেন, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মোহনপুর ও সবং ব্লক। দুর্গত মানুষের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৩০টি সরকারি ত্রাণশিবির খোলা হয়েছে। ত্রাণ বিতরণ ও উদ্ধারকাজে বিশেষ দল মোতায়েন করা হয়েছে। মঙ্গলবার নতুন করে বৃষ্টি না হওয়ায় জেলার বেশ কয়েকটি এলাকায় জলস্তর কিছুটা কমেছে। অনেক মানুষ ত্রাণশিবির ছেড়ে নিজেদের বাড়িতে ফিরতে শুরু করেছেন। তবে পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি।
সবংয়ের দশগ্রাম, সারতা, বিষ্ণুপুর-সহ একাধিক অঞ্চলের গ্রামীণ রাস্তায় এখনও কোমরসমান জল জমে রয়েছে। ফলে বহু এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। জলমগ্নতার কারণে বেশ কয়েকটি স্কুলে আপাতত পঠন-পাঠন বন্ধ রাখা হয়েছে। অন্যদিকে, বিঘার পর বিঘা চাষের জমি এখনও জলের তলায় থাকায় কৃষকদের মধ্যে ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে। জলবন্দি মানুষের দৈনন্দিন জীবনও বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। অনেকের কাজকর্ম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাড়িতেই সময় কাটছে। আবার জীবিকার তাগিদে অনেকে জমে থাকা জলে মাছ ধরতে নামছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাস্তা ও বসতবাড়ির আশপাশে জল জমে থাকায় যাতায়াত থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজকর্ম করতে চরম সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে। বৃষ্টি থেমে যাওয়ায় কিছুটা স্বস্তি মিললেও, বিস্তীর্ণ এলাকা থেকে জল পুরোপুরি না নামা পর্যন্ত দুর্ভোগ যে কাটছে না, তা একপ্রকার স্পষ্ট।

Share This
Categories
বিবিধ

গড়বেতায় চার হাতির হানায় আতঙ্ক, প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ধানজমি—ক্ষয়ক্ষতির মুখে এলাকা।

পশ্চিম মেদিনীপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা:- সোমবার গভীর রাতে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার গড়বেতা তিন নম্বর ব্লকের নয়াবসত রেঞ্জের ঢেঙ্গাদহ প্রাথমিক বিদ্যালয় তান্ডব চালানো চারটি দলছুট হাতি। এই তাণ্ডবের ফলে বিদ্যালয়ের দরজা ও জানালা সহ বিভিন্ন জিনিসপত্র ক্ষতিগ্রস্ত করে। পাশাপাশি বেশ কিছু জমির ধান ক্ষতি করেছে বলে মঙ্গলবার সকালে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। ইতিমধ্যেই ক্ষতিপূরণের আর্জি জানিয়েছে ক্ষতিগ্রস্ত চাষিরা।

Share This
Categories
বিবিধ

ভক্তদের সেবায় জটেশ্বরে বিশেষ উদ্যোগ, প্রসাদ হিসেবে খিচুড়ি ও শরবত বিতরণ।

আলিপুরদুয়ার, নিজস্ব সংবাদদাতা:- শ্রাবণ মাসের শেষ সোমবার উপলক্ষে জটেশ্বরে কাওরিয়া বমের উদ্যোগে প্রতিবারের মতো এবারও পুণ্যার্থীদের জন্য বিশেষ ভান্ডারার আয়োজন করা হয়। এদিন জটেশ্বর শিব মন্দির চত্বর এলাকায় আয়োজিত এই ভান্ডারায় শিবের দর্শনে আসা অসংখ্য পুণ্যার্থী অংশ নেন।শিবের দর্শনে আসা পুণ্যার্থীদের জন্য প্রসাদ হিসেবে শরবত ও খিচুড়ির ব্যবস্থা করা হয়। ভক্তদের মধ্যে প্রসাদ বিতরণের পাশাপাশি সুষ্ঠুভাবে গোটা আয়োজন সম্পন্ন করেন উদ্যোক্তারা।
উদ্যোক্তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ধর্মীয় ভাবাবেগ ও মানুষের সেবার উদ্দেশ্যে আগামী দিনেও এই ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।

Share This