Categories
বিবিধ

গড়বেতায় বিজেপির সভা, তৃণমূলকে নিশানায় দিলীপ ঘোষ।

।পশ্চিম মেদিনীপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা:- ঝাড়গ্রাম,পশ্চিম মেদিনীপুর সহ জঙ্গলমহল থেকে সাফ হয়ে যাবে তৃণমূল। সোমবার বিকেলে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার গড়বেতার ধাদিকা ময়দানে গড়বেতা বিধানসভা কেন্দ্রের BJP প্রার্থী প্রদীপ লোধার সমর্থনে জনসভা করতে এসে সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ঠিক এভাবেই মন্তব্য করলেন দাপুটে বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। পাশাপাশি আলু চাষীদের দুর্ভিক্ষের পরিস্থিতি নিয়ে বর্তমান সরকারকে নিশানা করলেন দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন আলু চাষের সঙ্গে যুক্ত ৪০ থেকে ৫০ বছর যুক্ত প্রদীপ লোধা,তাকে প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে, তিনি আলুর চাষীদের পাশে থেকে আন্দোলন করেছেন। মমতা ব্যানার্জি না গেলে আলু চাষীদের মুক্তি নেই, এবার বিদায়ের পর্ব এসে গেছে। অন্যদিকে গড়বেতা বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী উত্তরা সিংহ হাজরার সমর্থনে রোড শো এবং জনসভা করেছেন সায়নী ঘোষ,সেই ভোট প্রচারে সেই রকম মানুষকে লক্ষ্য করা যায়নি, সেই বিষয় নিয়ে কটাক্ষ ছুঁড়ে দিলেন দিলীপ ঘোষ, তিনি বলেন,কে তাকে দেখতে যাবে,কেন যাবে ? যারা এখানকার গরীব মানুষদের তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করেন,সারা জঙ্গলমহলকে ভিখারী বানিয়ে দিয়েছেন, সেইসব লোক তাদেরকে দেখতে যাবে না।

Share This
Categories
বিবিধ

গড়বেতায় তৃণমূলের শক্তি প্রদর্শন, রোড শোতে সায়নী।

পশ্চিম মেদিনীপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা:—
গড়বেতা বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী উত্তরা সিংহ হাজরার সমর্থনে জোরদার প্রচারে নামলেন Saayoni Ghosh। সোমবার তিনি রোড শো ও জনসভা করে নির্বাচনী প্রচারে গতি আনেন।
এদিন রাধানগর হাটতলা শিব মন্দিরে পুজো দিয়ে কর্মসূচি শুরু করেন Saayoni Ghosh। এরপর এলাকাজুড়ে রোড শো করেন, যেখানে তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের ব্যাপক উপস্থিতি চোখে পড়ে।
জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে একাধিক ইস্যুতে সরব হন। পাশাপাশি গড়বেতা বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী উত্তরা সিংহ হাজরাকে বিপুল ভোটে জয়ী করার আহ্বান জানান।
এই কর্মসূচিকে ঘিরে এলাকায় উৎসাহ ও রাজনৈতিক উত্তেজনা ছিল চোখে পড়ার মতো।

Share This
Categories
নারী কথা প্রবন্ধ বিবিধ রিভিউ

 সামাজিক উন্নয়নে নারীদের ভূমিকা: এক গভীর বিশ্লেষণ। 

✨ ভূমিকা
সামাজিক উন্নয়ন বলতে আমরা বুঝি একটি সমাজের সামগ্রিক অগ্রগতি—অর্থনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সংস্কৃতি ও নৈতিকতার উন্নতি। এই উন্নয়নের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হলো নারী। যুগে যুগে নারীরা সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন, যদিও অনেক ক্ষেত্রেই তাদের অবদান যথাযথ স্বীকৃতি পায়নি।
বর্তমান যুগে নারী আর শুধু গৃহস্থালির কাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; তারা সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে সক্রিয় অংশগ্রহণ করছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, রাজনীতি, অর্থনীতি—সব ক্ষেত্রেই নারীদের অবদান সামাজিক উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করছে।
📜 ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
প্রাচীন সমাজে নারীরা অনেক ক্ষেত্রে অবহেলিত ছিলেন। তবে কিছু মহান নারী ইতিহাসে তাদের অবদান রেখে গেছেন, যেমন রানি লক্ষ্মীবাই, বেগম রোকেয়া এবং সারোজিনী নাইডু।
বিশেষ করে বেগম রোকেয়া নারীশিক্ষার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তার প্রচেষ্টায় নারীরা শিক্ষার অধিকার লাভ করে, যা সামাজিক উন্নয়নের প্রথম ধাপ।
🎓 শিক্ষাক্ষেত্রে নারীদের ভূমিকা
📚 শিক্ষিত নারী, উন্নত সমাজ
একজন শিক্ষিত নারী শুধু নিজেকে নয়, পুরো পরিবারকে শিক্ষিত করে। তাই বলা হয়—“একজন পুরুষ শিক্ষিত হলে একজন মানুষ শিক্ষিত হয়, কিন্তু একজন নারী শিক্ষিত হলে একটি পরিবার শিক্ষিত হয়।”
বর্তমানে নারী শিক্ষার হার বৃদ্ধি পাওয়ায় সমাজে সচেতনতা বেড়েছে। নারীরা শিক্ষক, অধ্যাপক, গবেষক হিসেবে কাজ করছেন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে গড়ে তুলছেন।
🌍 প্রভাব
শিশুদের শিক্ষার হার বৃদ্ধি
বাল্যবিবাহ কমানো
স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি
💼 অর্থনৈতিক উন্নয়নে নারীদের অবদান
💰 কর্মসংস্থান ও স্বনির্ভরতা
নারীরা আজ বিভিন্ন পেশায় যুক্ত—ব্যবসা, চাকরি, কৃষি, শিল্প ইত্যাদি। বিশেষ করে স্বনির্ভর গোষ্ঠী (Self Help Group) নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
📊 অর্থনীতিতে প্রভাব
পরিবারের আয় বৃদ্ধি
দারিদ্র্য হ্রাস
স্থানীয় অর্থনীতির উন্নতি
🏥 স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবায় নারীদের ভূমিকা
নারীরা স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। গ্রামীণ এলাকায় আশাকর্মী, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মীরা মানুষের প্রাথমিক চিকিৎসা ও সচেতনতা বৃদ্ধি করছেন।
👩‍⚕️ অবদান
মাতৃ ও শিশুমৃত্যুর হার কমানো
টিকাকরণ কর্মসূচি সফল করা
স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি
🏛️ রাজনীতি ও নেতৃত্বে নারীদের ভূমিকা
নারীরা আজ রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। স্থানীয় পঞ্চায়েত থেকে শুরু করে জাতীয় সংসদ—সব জায়গায় তাদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
উদাহরণ হিসেবে বলা যায় ইন্দিরা গান্ধী ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর কথা, যারা দেশের ও রাজ্যের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
🗳️ প্রভাব
নারীদের অধিকার রক্ষা
সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা
নীতিনির্ধারণে বৈচিত্র্য
🌱 সামাজিক সংস্কার ও সচেতনতায় নারীদের ভূমিকা
নারীরা সমাজে বিভিন্ন কুসংস্কার দূর করতে কাজ করছেন। তারা বাল্যবিবাহ, যৌতুক প্রথা, নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হচ্ছেন।
🔊 উদ্যোগ
সচেতনতা ক্যাম্প
শিক্ষা কার্যক্রম
সামাজিক আন্দোলন
⚖️ চ্যালেঞ্জ ও প্রতিবন্ধকতা
যদিও নারীরা অনেক এগিয়েছে, তবুও এখনও অনেক সমস্যা রয়ে গেছে—
লিঙ্গ বৈষম্য
শিক্ষা ও কর্মসংস্থানে বাধা
নিরাপত্তার অভাব
এই সমস্যাগুলো দূর করতে সমাজের সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন।
🚀 ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
নারীদের সঠিক সুযোগ ও সমর্থন দিলে তারা সমাজকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে। প্রযুক্তি, শিক্ষা ও নীতিগত সহায়তা নারীদের ক্ষমতায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
🎯 উপসংহার
সামাজিক উন্নয়নে নারীদের ভূমিকা অপরিসীম। তারা শুধু একটি পরিবারের নয়, পুরো সমাজের ভিত্তি। নারীর ক্ষমতায়ন ছাড়া কোনো সমাজের উন্নয়ন সম্ভব নয়।
একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও সমানাধিকার ভিত্তিক সমাজ গড়ে তুলতে হলে নারীদের যথাযথ মর্যাদা ও সুযোগ দিতে হবে। তাহলেই আমরা একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়তে পারব।
নারীই শক্তি, নারীই সম্ভাবনা—এই বিশ্বাস নিয়েই এগিয়ে যেতে হবে আমাদের। 💪✨

Share This
Categories
প্রবন্ধ বিবিধ

 দীঘার তিন রত্ন: মেরিন অ্যাকোয়ারিয়াম, অমরাবতী পার্ক ও চন্দনেশ্বর মন্দির।

দীঘা ভ্রমণ মানেই শুধু সমুদ্রসৈকত নয়—এই অঞ্চলে এমন কিছু বিশেষ দর্শনীয় স্থান রয়েছে যা আপনার ভ্রমণকে সম্পূর্ণ করে তোলে। এর মধ্যে অন্যতম হলো মেরিন অ্যাকোয়ারিয়াম ও রিসার্চ সেন্টার, অমরাবতী পার্ক এবং চন্দনেশ্বর মন্দির। প্রকৃতি, বিনোদন ও আধ্যাত্মিকতার এক অনন্য মেলবন্ধন এই তিনটি স্থান।
🐠 মেরিন অ্যাকোয়ারিয়াম ও রিসার্চ সেন্টার: সমুদ্রজগতের বিস্ময়
দীঘার অন্যতম আকর্ষণ এই মেরিন অ্যাকোয়ারিয়াম। এটি এশিয়ার বৃহত্তম অ্যাকোয়ারিয়ামগুলির মধ্যে একটি হিসেবে পরিচিত। এখানে প্রবেশ করলেই মনে হবে যেন আপনি সমুদ্রের গভীরে প্রবেশ করেছেন।
🐟 কী কী দেখবেন এখানে?
এই অ্যাকোয়ারিয়ামে রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ, কচ্ছপ, কাঁকড়া, জেলিফিশ এবং আরও অনেক অদ্ভুত প্রাণী। ছোট ছোট কাচের ট্যাঙ্কের ভেতরে রঙিন মাছেরা যেভাবে সাঁতার কাটে, তা একেবারে মনমুগ্ধকর।
ক্লাউন ফিশ
সি হর্স
স্টার ফিশ
শার্কের ছোট প্রজাতি
এই সবকিছুই পর্যটকদের কাছে বিশেষ আকর্ষণ।
🔬 গবেষণার গুরুত্ব
এটি শুধু একটি প্রদর্শনী কেন্দ্র নয়, বরং একটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা কেন্দ্রও। এখানে সামুদ্রিক জীববিজ্ঞান নিয়ে গবেষণা করা হয়। বিভিন্ন প্রজাতির সংরক্ষণ এবং তাদের জীবনচক্র সম্পর্কে জানা যায়।
🎯 কেন যাবেন?
যদি আপনি প্রকৃতিপ্রেমী হন বা নতুন কিছু শিখতে চান, তবে এই জায়গাটি আপনার জন্য আদর্শ। শিশুদের জন্য এটি শিক্ষামূলক একটি অভিজ্ঞতা।
🎡 অমরাবতী পার্ক: বিনোদনের এক সবুজ স্বর্গ
দীঘার ব্যস্ততার মাঝেও একটুকরো শান্তির জায়গা হলো অমরাবতী পার্ক। এখানে প্রকৃতি ও বিনোদনের এক সুন্দর মিশ্রণ দেখা যায়।
🚣‍♂️ বোটিংয়ের আনন্দ
পার্কের ভেতরে একটি সুন্দর লেক রয়েছে যেখানে বোটিং করা যায়। নৌকায় চড়ে চারপাশের সবুজ প্রকৃতি উপভোগ করা এক অনন্য অভিজ্ঞতা।
🎢 রোপওয়ে ও অন্যান্য আকর্ষণ
এই পার্কের অন্যতম আকর্ষণ হলো রোপওয়ে। উপর থেকে পুরো পার্কটিকে দেখলে মনে হয় যেন সবুজের সমুদ্রের মধ্যে ভাসছি।
শিশুদের খেলার জায়গা
সুন্দর বাগান
বসার জায়গা
সব মিলিয়ে এটি একটি পারিবারিক বিনোদনের আদর্শ স্থান।
🌿 কেন যাবেন?
যদি আপনি সমুদ্রের পাশাপাশি একটু শান্ত পরিবেশে সময় কাটাতে চান, তবে অমরাবতী পার্ক অবশ্যই আপনার তালিকায় থাকা উচিত।
🛕 চন্দনেশ্বর মন্দির: ভক্তির এক পবিত্র তীর্থস্থান
দীঘা থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত চন্দনেশ্বর মন্দির ভক্তদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র স্থান। এখানে ভগবান শিবের পূজা করা হয়।
🙏 ধর্মীয় গুরুত্ব
এই মন্দিরটি ভগবান শিব-এর প্রতি উৎসর্গীকৃত। বিশেষ করে চৈত্র মাসে এখানে বিশাল মেলা বসে, যেখানে হাজার হাজার ভক্ত সমাগম হয়।
🎉 চন্দনেশ্বর মেলা
চৈত্র সংক্রান্তির সময় এখানে যে মেলা হয়, তা অত্যন্ত বিখ্যাত। ভক্তরা দূর-দূরান্ত থেকে এখানে আসেন এবং ভগবানের আশীর্বাদ লাভ করেন।
🧘 আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতা
মন্দিরে প্রবেশ করলেই এক ধরনের শান্তি অনুভূত হয়। ধূপের গন্ধ, ঘণ্টার শব্দ এবং ভক্তদের ভক্তি—সব মিলিয়ে এক অন্যরকম পরিবেশ তৈরি করে।
🌈 ভ্রমণের অভিজ্ঞতা: তিন জগতের মিলন
এই তিনটি স্থান একসাথে ঘুরলে মনে হবে যেন আপনি তিনটি ভিন্ন জগতে ভ্রমণ করছেন—
মেরিন অ্যাকোয়ারিয়ামে বিজ্ঞানের জগৎ
অমরাবতী পার্কে আনন্দ ও প্রকৃতির জগৎ
চন্দনেশ্বর মন্দিরে আধ্যাত্মিক জগৎ
🚗 কীভাবে ঘুরবেন?
দীঘায় অবস্থান করলে সহজেই একদিনে এই তিনটি স্থান ঘুরে দেখা যায়। টোটো, অটো বা গাড়ি ভাড়া করে আরামসে ঘোরা যায়।
🌤️ সেরা সময়
শীতকাল (অক্টোবর–ফেব্রুয়ারি) এই স্থানগুলি ভ্রমণের জন্য সবচেয়ে ভালো। তবে চন্দনেশ্বর মেলা দেখতে চাইলে চৈত্র মাসে যেতে হবে।
⚠️ কিছু পরামর্শ
ভিড়ের সময় সতর্ক থাকুন
পরিবেশ পরিষ্কার রাখুন
স্থানীয় নিয়ম মেনে চলুন
🎯 উপসংহার
দীঘা ভ্রমণকে যদি সম্পূর্ণ করতে চান, তবে এই তিনটি স্থান অবশ্যই ঘুরে দেখুন। মেরিন অ্যাকোয়ারিয়াম ও রিসার্চ সেন্টার আপনাকে দেখাবে সমুদ্রের গভীর রহস্য, অমরাবতী পার্ক দেবে আনন্দ ও শান্তি, আর চন্দনেশ্বর মন্দির আপনাকে ছুঁয়ে যাবে আধ্যাত্মিক অনুভূতিতে।
এই তিনটি অভিজ্ঞতা একসাথে মিলে আপনার ভ্রমণকে করে তুলবে সত্যিই স্মরণীয় ও পূর্ণতা-প্রাপ্ত। 🌊✨

Share This
Categories
প্রবন্ধ বিবিধ রিভিউ

🌊 উদয়পুর সৈকত: সীমান্তের নীরবতায় এক অপূর্ব সমুদ্রযাত্রা।

পশ্চিমবঙ্গ ও ওড়িশার সীমানায় অবস্থিত এক অপরূপ সমুদ্রসৈকত হলো উদয়পুর সৈকত। দীঘা থেকে মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরে এই নিরিবিলি স্থানটি যেন প্রকৃতির এক অজানা ধনভাণ্ডার। যেখানে ভিড় নেই, কোলাহল নেই—আছে শুধু সমুদ্রের গর্জন, ঝাউবনের সোঁদা গন্ধ আর শান্তির এক গভীর অনুভূতি।
📜 ইতিহাস ও অবস্থান
উদয়পুর সৈকত মূলত একটি সীমান্তবর্তী এলাকা। একদিকে পশ্চিমবঙ্গের দীঘা, অন্যদিকে ওড়িশার ভূখণ্ড। এই অঞ্চলের ইতিহাস মূলত জেলেদের জীবনযাত্রা এবং স্থানীয় সংস্কৃতির সঙ্গে জড়িত।
দীঘা জনপ্রিয় হওয়ার পর ধীরে ধীরে পর্যটকদের নজরে আসে উদয়পুর। তবে এখনও এটি অনেকটাই অপরিচিত, যার ফলে তার স্বাভাবিক সৌন্দর্য অক্ষুণ্ণ রয়েছে।
🏖️ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের বর্ণনা
🌅 সূর্যোদয়ের জাদু
উদয়পুর সৈকতের সূর্যোদয় যেন এক জীবন্ত চিত্রকর্ম। ভোরের প্রথম আলো যখন সমুদ্রের জলে প্রতিফলিত হয়, তখন পুরো পরিবেশ সোনালী আভায় ভরে ওঠে। জেলেদের নৌকা, ঢেউয়ের শব্দ আর পাখির ডাক—সব মিলিয়ে এক অপার্থিব অভিজ্ঞতা।
🌿 ঝাউবনের শান্তি
উদয়পুর সৈকতের অন্যতম আকর্ষণ হলো বিস্তীর্ণ ঝাউবন। এই গাছগুলো শুধু সৌন্দর্য বাড়ায় না, বরং সমুদ্রের ঝড়ো হাওয়া থেকেও রক্ষা করে। ঝাউবনের ভেতর দিয়ে হাঁটলে মনে হয় যেন প্রকৃতির কোলে হারিয়ে গেছি।
🌊 শান্ত সমুদ্র
দীঘার তুলনায় এখানে সমুদ্র অনেক শান্ত। ঢেউ তুলনামূলক কম, তাই যারা নিরিবিলি বসে সমুদ্র উপভোগ করতে চান, তাদের জন্য এটি আদর্শ।
🎯 প্রধান আকর্ষণ
১. নির্জনতা ও নিস্তব্ধতা
উদয়পুর সৈকতের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো এর নির্জনতা। এখানে ভিড় নেই, দোকানের কোলাহল নেই—শুধু প্রকৃতির সঙ্গে নিজের একান্ত সময় কাটানোর সুযোগ।
২. সীমান্ত অভিজ্ঞতা
একই সাথে দুই রাজ্যের সীমানায় দাঁড়িয়ে সমুদ্র উপভোগ করার অভিজ্ঞতা সত্যিই বিরল। একদিকে পশ্চিমবঙ্গ, অন্যদিকে ওড়িশা—এই ভৌগোলিক বৈচিত্র্য উদয়পুরকে বিশেষ করে তোলে।
৩. ফটোগ্রাফির স্বর্গ
প্রকৃতিপ্রেমী ও ফটোগ্রাফারদের জন্য এটি এক স্বর্গরাজ্য। সূর্যোদয়, সূর্যাস্ত, ঝাউবন, সমুদ্র—সবই যেন ক্যামেরাবন্দি করার মতো।
🍤 খাবারের স্বাদ
উদয়পুর সৈকতে বড় বড় রেস্তোরাঁ কম থাকলেও ছোট ছোট দোকানে তাজা মাছ ভাজা, চিংড়ি, কাঁকড়া পাওয়া যায়। এই সরল খাবারের স্বাদই আলাদা।
দীঘা থেকে খাবার নিয়ে আসাও অনেক পর্যটক পছন্দ করেন।
🚗 কীভাবে যাবেন
🚆 ট্রেনে
প্রথমে দীঘা পৌঁছাতে হবে। সেখান থেকে টোটো বা গাড়িতে সহজেই উদয়পুর যাওয়া যায়।
🚌 বাসে
কলকাতা থেকে দীঘা পর্যন্ত বাস পরিষেবা রয়েছে। এরপর স্থানীয় যানবাহন ব্যবহার করতে হবে।
🚘 গাড়িতে
নিজস্ব গাড়িতে গেলে দীঘা হয়ে সরাসরি উদয়পুর পৌঁছানো যায়।
🏨 থাকার ব্যবস্থা
উদয়পুরে থাকার ব্যবস্থা সীমিত। তাই বেশিরভাগ পর্যটক দীঘা-তেই থাকেন এবং সেখান থেকে ঘুরে আসেন।
🌤️ ভ্রমণের সেরা সময়
অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারি—এই সময়ে আবহাওয়া মনোরম থাকে এবং ভ্রমণের জন্য উপযুক্ত।
⚠️ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ
সন্ধ্যার পর নির্জন জায়গায় না থাকাই ভালো
খাবার ও জল সঙ্গে রাখা উচিত
পরিবেশ পরিষ্কার রাখুন
🎯 উপসংহার
উদয়পুর সৈকত এমন একটি জায়গা, যেখানে গেলে মনে হয় সময় যেন থমকে গেছে। এখানে নেই শহরের ব্যস্ততা, নেই শব্দদূষণ—আছে শুধু প্রকৃতির সঙ্গে একাত্ম হয়ে যাওয়ার সুযোগ।
যদি আপনি সত্যিই শান্তি খুঁজে পেতে চান, যদি নিজের সঙ্গে কিছু সময় কাটাতে চান, তবে উদয়পুর সৈকত আপনার জন্য এক আদর্শ গন্তব্য।
সমুদ্রের ঢেউয়ের শব্দে, ঝাউবনের ছায়ায়, আর সূর্যাস্তের রঙে—উদয়পুর আপনাকে এক অন্য জগতে নিয়ে যাবে। 🌊

Share This
Categories
বিবিধ

বিজেপিকে তোপ, উন্নয়নের ডাক—ইংরেজবাজারে দেবের সভা ঘিরে উচ্ছ্বাস।

মালদা, নিজস্ব সংবাদদাতা:– ইংরেজবাজার বিধানসভার তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থীর সমর্থনে জনসভায় বাংলার বিখ্যাত অভিনেতা সাংসদ দীপক অধিকারী (দেব)। রবিবার রাতে মালদা শহরের ২নম্বর গভমেন্ট কলোনি ইউনাইটেড ক্লাবের মাঠে প্রার্থী আশীষ কুন্ডুর সমর্থনে ৩নম্বর ৪ নম্বর ওয়ার্ডে উদ্যোগে জনসভার আয়োজন করা হয়। জনসভায় প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অভিনেতা দেব। তিনি ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ইংরেজবাজার পৌরসভার পৌর প্রধান কৃষ্ণেন্দু নারায়ন চৌধুরী, উপ পৌর প্রধান সুমালা আগরওয়াল, চার নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর অশোক সাহা, তিন নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মনীষা সাহা মন্ডল, কাউন্সিলর শুভময় বসু, সন্ধ্যা দাস, পূজা দাস, যুব নেতা এমডি অভিষেক সহ অন্যান্য নেতৃত্ব।
সাংসদ দেব মঞ্চে উপস্থিত হতেই কর্মীর সমর্থকদের ভীড় উপচে পড়ে জনসভায়। তিনি বলেন, এখন সারা দেশে রাজনীতি ধর্মের মেরুকরণে হচ্ছে উন্নয়নের কথা কেউ বলে না। আমি ভোট চাইতে আসিনি, আপনারা এমন কাউকে ভোট দিন যে রাস্তাঘাট, জল, শিক্ষা শিক্ষা , মেডিকেল কলেজ ও বিভিন্ন ধরনের উন্নয়নমূলক কাজ সহ সাধারণ মানুষের উন্নয়নের কথা ভাবে তাকে ভোট দিন। মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ১৫ বছরের সরকার সকলের জন্য অনেক উন্নয়নমূলক কাজ করেছে তাই ২০২১ সালের নির্বাচনে যে আসন পেয়েছিলেন তার থেকে পাঁচটি আসন হলেও বেশি পাবেন তৃণমূল কংগ্রেস। তাই মুখ্যমন্ত্রীর স্নেহধন্য ইংরেজবাজার বিধানসভার প্রার্থী আশীষ কুন্ডুকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করুন। কারণ বিগত দিনে এই আসনে বিজেপি জিতেছিল, কোন উন্নয়নমূলক কাজ করেনি।

Share This
Categories
বিবিধ

বালুরঘাটে বাম ঘাঁটি ফের শক্ত করার বার্তা অর্ণব চৌধুরীর।

দক্ষিণ দিনাজপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা:—বালুরঘাট বিধানসভা কেন্দ্রের বামফ্রন্ট মনোনীত আরএসপি প্রার্থী Arnab Chowdhury জোরকদমে নির্বাচনী প্রচারে নেমেছেন। খানপুর, শালগ্রাম, অযোধ্যা, ঝিনাইপোতা, হাসইল সহ একাধিক এলাকায় পথসভা, মিছিল এবং বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করেন তিনি।
লাল পতাকার ছত্রছায়ায় আয়োজিত এই প্রচারে আরএসপি কর্মী-সমর্থকদের উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রচার চলাকালীন Arnab Chowdhury এলাকার পানীয় জলের সংকট, কৃষি সমস্যার সমাধান এবং অবকাঠামো উন্নয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু তুলে ধরেন।
তিনি সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগ মনোযোগ সহকারে শোনেন এবং সমস্যাগুলির দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেন। পাশাপাশি তাঁর দাবি, বালুরঘাটে বামফ্রন্টের শক্ত ঘাঁটিকে পুনরায় মজবুত করাই তাঁর মূল লক্ষ্য।
আরএসপি কর্মীদের উদ্দীপনা ও সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এলাকায় নির্বাচনী আবহ ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। Arnab Chowdhury আশাবাদী, এই জনসমর্থনই তাঁকে ভোটের লড়াইয়ে এগিয়ে রাখবে এবং বালুরঘাটে বামফ্রন্টের জয়ের পথ প্রশস্ত করবে।

Share This
Categories
বিবিধ

সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে মাঠে প্রশাসন।।

আলিপুরদুয়ার, নিজস্ব সংবাদদাতা :- ফালাকাটা ব্লকের পশ্চিম দেওগাঁওয়ে শুক্রবার রাতের নির্বাচনী সংঘর্ষের ঘটনার পর শনিবার এলাকার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে পৌঁছান জেলা পুলিশ সুপার অমিত কুমার সাউ। তাঁর সঙ্গে ছিলেন কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশ প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরাও। এদিন এলাকায় রুট মার্চ করা হয় পাশাপাশি, পুলিশ সুপার নিজে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং ভোটারদের কাছে গিয়ে খোঁজ নেন তাঁদের কোনও সমস্যা বা নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে কি না।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়, ভয়মুক্ত পরিবেশে এবং সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে সকলেই তাঁদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। এই উদ্যোগের ফলে এলাকায় তৈরি হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তাবোধ ও আস্থার পরিবেশ। আসন্ন নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

Share This
Categories
কবিতা

প্রকৃত জন্মদিনের কাহিনি : মহীতোষ গায়েন।।

প্রকৃত জন্মদিন সবাই কি মনে রাখতে পারে?
পারে না,আসলে বহু মানুষ আছে তারা জানে
না তাদের প্রকৃত জন্মদিনের কথা,তারা জানে
না কখন সূর্য ওঠে,কখন অস্ত যায় সূর্য ও সুখ।

এখনো বহু মানুষ জানতে পারেনি ভালোবাসা
কাকে বলে,প্রকৃত ভালোবাসা আদৌ কেউ কি
জানে,প্রকৃত শব্দটি এখন অর্থহীন হয়ে পড়ছে;
পেটের জ্বালা আর বেঁচে থাকার লড়াইয়ে মৃত।

যে মা আজীবন স্বার্থহীনভাবে নিজের সুখ
চাওয়া পাওয়া বিসর্জন দিয়েছে অবলীলায়
একাধিক সন্তানের মুখে অন্ন যোগাতে গিয়ে
সে ভুলে গেছে ভারতবর্ষ তার নিজের দেশ।

যে ছেলেটি আশৈশব দারুণ অর্থ সংকটের
মধ‍্যে বেড়ে উঠছে,প্রতিনিয়ত লড়াই করেছে
নিজের ভাগ্যের সঙ্গে,তার জন্মদিন পালন কে
করবে?কে বুঝবে তার হৃদয়ের অনুভূতি,স্বপ্ন?

প্রকৃত জন্মদিন গোপনে পালিত হলো,খোলা
আকাশের নীচে,ফুল,পাখি,গাছ সবাই সানন্দে
শুভেচ্ছা জানালো;প্রেম,ভালোবাসা,সৃজন ও
মননে এখন শুধু চাওয়া পাওয়া স্বার্থ সদৃশ।

Share This
Categories
বিবিধ

গড়বেতার আগরাতে বিজেপির প্রতিষ্ঠা দিবস পালনের পাশাপাশি ভোট প্রচার বিজেপি প্রার্থীর।

গড়বেতা, নিজস্ব সংবাদদাতা:-  ৬ই এপ্রিল অর্থাৎ সোমবার বিজেপির প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে এই দিন সকালে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার গড়বেতা এক নম্বর ব্লকের ৬ নম্বর অঞ্চলের আগরা এলাকায় শিব মন্দিরে পুজো দিয়ে ভোট প্রচারে বেরিয়ে মন্দির প্রাঙ্গণে বিজেপির দলীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠা দিবস পালন করল গড়বেতা বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী প্রদীপ লোধা,এছাড়াও উপস্থিত ছিল একাধিক বিজেপির নেতাকর্মীরা। এই দিন অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট প্রচার এবং কর্মীদের নিয়ে কর্মী বৈঠক করেন বলে এই দিন বিজেপি প্রার্থী জানিয়েছেন।

Share This