Categories
প্রবন্ধ বিবিধ রিভিউ

ইতালির পিসা — হেলানো টাওয়ারের শহরে ইতিহাসের হাতছানি।

ইতালির হৃদয়ে, টাস্কানি প্রদেশের এক শান্ত শহর পিসা (Pisa) — নাম শুনলেই সবার মনে ভেসে ওঠে সেই বিস্ময়কর হেলানো টাওয়ার, যা সারা পৃথিবীর মানুষের কাছে এক অদ্ভুত স্থাপত্য বিস্ময় হিসেবে পরিচিত। কিন্তু পিসা কেবল এই টাওয়ারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, এর প্রতিটি গলিতে লুকিয়ে আছে রোমান সাম্রাজ্যের ইতিহাস, শিল্প, সংস্কৃতি এবং এক অপরূপ ইউরোপীয় সৌন্দর্যের ছোঁয়া।


🏙️ পিসা শহরের পরিচয়

পিসা অবস্থিত আরনো নদীর তীরে, ফ্লোরেন্স থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার দূরে। একসময় এটি ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী, যা রোমান আমল থেকেই ইউরোপের বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত ছিল। আজ পিসা তার সমৃদ্ধ অতীতের স্মৃতি বুকে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে এক ঐতিহাসিক ও শিক্ষানগরী হিসেবে — কারণ এখানেই রয়েছে বিখ্যাত University of Pisa, ইউরোপের প্রাচীনতম বিশ্ববিদ্যালয়গুলির একটি।


🕍 লিনিং টাওয়ার অফ পিসা — বিস্ময়ের প্রতীক

পিসা শহরের কেন্দ্রবিন্দু হলো Piazza dei Miracoli (Square of Miracles) — অর্থাৎ “অলৌকিক চত্বর”। এই চত্বরে দাঁড়িয়ে আছে চারটি বিশ্ববিখ্যাত স্থাপনা —
1️⃣ The Cathedral (Duomo di Pisa)
2️⃣ The Baptistery
3️⃣ The Camposanto Monumentale (শ্মশান উদ্যান)
4️⃣ এবং সর্বাধিক পরিচিত Leaning Tower of Pisa

হেলানো এই টাওয়ারটির নির্মাণ শুরু হয় ১১৭৩ সালে, কিন্তু মাটি দুর্বল হওয়ায় এটি ধীরে ধীরে এক পাশে হেলতে থাকে। টাওয়ারের উচ্চতা প্রায় ৫৬ মিটার, এবং আজ এটি প্রায় ৪ ডিগ্রি কোণে হেলানো। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বিজ্ঞানী ও স্থপতিরা চেষ্টা করেছেন এটি স্থিতিশীল রাখতে, আর এখন এটি নিরাপদভাবে দাঁড়িয়ে আছে — পৃথিবীর অন্যতম স্থাপত্য আশ্চর্য হিসেবে।

যখন আপনি টাওয়ারের নিচে দাঁড়িয়ে তাকান, মনে হয় যেন আকাশের দিকে ঝুঁকে পড়েছে এক বিশাল সাদা মার্বেলের স্তম্ভ। আর টাওয়ারে উঠতে উঠতে যখন চারপাশে শহরের দৃশ্য চোখে পড়ে, তখন মনে হয় — ইতিহাসের বুক থেকে যেন এক নতুন পৃথিবী জেগে উঠেছে।


The Cathedral of Santa Maria Assunta — ধর্মীয় ঐশ্বর্যের নিদর্শন

হেলানো টাওয়ারের পাশেই রয়েছে Duomo di Pisa, এক অপূর্ব রোমানেস্ক স্থাপত্যশৈলীর গির্জা। এর বাহিরের মার্বেল কারুকাজ, অভ্যন্তরের সোনালি মোজাইক ও গম্বুজের শিল্পকর্ম প্রতিটি দর্শককে বিমোহিত করে। এখানে দাঁড়িয়ে যেন অনুভব করা যায় মধ্যযুগীয় ইউরোপের শিল্প ও ধর্মের মিলন।


💧 The Baptistery — সুরের মন্দির

Duomo-র সামনে দাঁড়িয়ে আছে Baptistery of St. John, যা ইউরোপের সবচেয়ে বড় ব্যাপ্টিস্ট্রি। এর ভেতরের গম্বুজে এমন অনন্য শব্দ প্রতিফলন ঘটে যে, একজন গায়ক একা দাঁড়িয়ে গান গাইলেও শুনতে পাওয়া যায় বহুস্বরের সুর। এই স্থাপনাটি শিল্প, সঙ্গীত ও ধর্মের এক অপূর্ব সংমিশ্রণ।


🏛️ Camposanto Monumentale — ইতিহাসের নিঃশব্দ সাক্ষী

চত্বরের শেষ প্রান্তে রয়েছে Camposanto, যেখানে পবিত্র মাটিতে বহু বিখ্যাত ব্যক্তির সমাধি। এর দেয়ালে মধ্যযুগীয় চিত্রকর্মগুলো একসময়ে ইউরোপীয় শিল্পের মহিমা প্রকাশ করত।


🎓 জ্ঞান ও বিজ্ঞানের শহর

পিসা শুধু ঐতিহাসিক স্থাপত্যের জন্যই নয়, বরং তার বিজ্ঞান ও শিক্ষার ঐতিহ্যের জন্যও বিখ্যাত। এখানেই জন্ম নিয়েছিলেন গ্যালিলিও গ্যালিলেই, যিনি পদার্থবিজ্ঞান ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের নতুন যুগের সূচনা করেছিলেন। কিংবদন্তি আছে, গ্যালিলিও নাকি পিসার টাওয়ার থেকেই তার বিখ্যাত ‘free fall’ পরীক্ষা করেছিলেন!


🌇 নদীর ধারে পিসার সন্ধ্যা

সন্ধ্যার সময় যখন আরনো নদীর তীরে সূর্যের আলো ম্লান হয়ে আসে, তখন নদীর ওপরের সেতুগুলি, পুরোনো বাড়িগুলি আর ক্যাফেগুলির আলো ঝিলিক দেয়। নদীর ধারে বসে এক কাপ ইতালীয় কফি হাতে, পর্যটকের মনে জেগে ওঠে এক অদ্ভুত প্রশান্তি।


🍕 ইতালীয় স্বাদের আসর

পিসায় আসলে অবশ্যই চেখে দেখতে হয় স্থানীয় ইতালিয়ান খাবার — পাস্তা, পিজ়া, তিরামিসু, এবং জেলাটো আইসক্রিম। ছোট ছোট রেস্টুরেন্ট বা “Trattoria”-তে বসে স্থানীয় ওয়াইন আর সুস্বাদু খাবারের সঙ্গে উপভোগ করা যায় শহরের উষ্ণ আতিথেয়তা।


শেষ কথা

পিসা কেবল একটি পর্যটনকেন্দ্র নয়, এটি ইউরোপীয় ইতিহাস ও বিজ্ঞানের এক জীবন্ত প্রতীক। এখানে একদিকে রয়েছে ধর্ম ও শিল্পের ঐতিহ্য, অন্যদিকে জ্ঞানের আলোকশিখা। হেলানো টাওয়ারটি যেন সময়ের প্রতীক — যে বলছে, সবকিছুই হেলে পড়তে পারে, কিন্তু সৌন্দর্য ও ইতিহাস কখনো পতিত হয় না।

 

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

ইতালির নেপলস — আগ্নেয়গিরি, সমুদ্র আর শিল্পের মিলনভূমি।

🇮🇹 ইতালির নেপলস — আগ্নেয়গিরি, সমুদ্র আর শিল্পের মিলনভূমি 🌋🌊

ইতালির দক্ষিণ অংশে অবস্থিত এক ঐতিহাসিক শহর নেপলস (Naples) — যাকে বলা হয় “দক্ষিণ ইতালির প্রাণকেন্দ্র”। এটি এমন এক শহর যেখানে অতীতের রাজকীয় ইতিহাস, ভূমধ্যসাগরের নীল জলরাশি, আগ্নেয়গিরির রহস্য আর ইতালীয় খাবারের সুবাস একসঙ্গে মিশে গেছে এক জাদুকরী অভিজ্ঞতায়। নেপলস মানেই রোমান সভ্যতার ছায়ায় বেঁচে থাকা এক পুরনো ইউরোপীয় শহর, যা আজও প্রাণবন্ত, রঙিন এবং অনন্ত জীবন্ত।


🏛️ নেপলসের পরিচয় ও ইতিহাস

নেপলসের প্রাচীন নাম ছিল Neapolis, যার অর্থ “নতুন শহর”। এটি প্রতিষ্ঠিত হয় খ্রিস্টপূর্ব অষ্টম শতকে গ্রিকদের দ্বারা। রোমান সাম্রাজ্যের সময় থেকেই নেপলস ছিল সংস্কৃতি ও বাণিজ্যের এক প্রধান কেন্দ্র। ইউরোপের অনেক রাজা, শিল্পী ও চিন্তাবিদ এই শহরে এসে অনুপ্রেরণা পেয়েছেন।

দীর্ঘ ইতিহাসে এটি একাধিকবার রাজ্য পরিবর্তনের মুখ দেখেছে — রোমান, নরম্যান, স্প্যানিশ, ফরাসি — সবাই কোনো না কোনো সময় শাসন করেছে এই ভূমি। সেই ইতিহাস আজও লুকিয়ে আছে নেপলসের দুর্গ, গির্জা, প্রাসাদ আর গলিগুলির মাঝে।


🌋 মাউন্ট ভিসুভিয়াস — আগুনের পাহাড়ের রহস্য

নেপলস শহরের কাছে দাঁড়িয়ে আছে বিশ্বের অন্যতম বিখ্যাত আগ্নেয়গিরি Mount Vesuvius। খ্রিস্টাব্দ ৭৯ সালে এর ভয়ংকর অগ্নুৎপাতেই ধ্বংস হয়েছিল পম্পেই ও হারকুলেনিয়াম — দুটি সমৃদ্ধ রোমান শহর। আজ সেই স্থানগুলো প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘরে পরিণত হয়েছে, যেখানে সময় যেন থেমে আছে।

ভিসুভিয়াসের গায়ে চড়ে যখন পর্যটকরা উপরে ওঠেন, নিচে তখন দেখা যায় নেপলস উপসাগরের অপূর্ব দৃশ্য — একদিকে সমুদ্র, অন্যদিকে পাহাড়, আর মাঝখানে এক জীবন্ত শহর।


🏰 নেপলস শহরের দর্শনীয় স্থানসমূহ

🕍 Castel Nuovo (নিউ ক্যাসেল)

নেপলস বন্দরের কাছে দাঁড়িয়ে আছে এই বিশাল মধ্যযুগীয় দুর্গ, যা ১৩শ শতকে নির্মিত। কালো পাথরে গড়া এই দুর্গের মধ্য দিয়ে হেঁটে গেলে মনে হয় যেন রণক্ষেত্রের রাজ্যে প্রবেশ করেছেন।

🎭 Teatro di San Carlo

ইউরোপের প্রাচীনতম ও অন্যতম সুন্দর অপেরা হাউস। এর অভ্যন্তরের সোনালি অলংকরণ ও শিল্পসম্ভার আজও সঙ্গীতপ্রেমীদের মুগ্ধ করে রাখে।

Naples Cathedral (Duomo di San Gennaro)

এই গির্জাটি শহরের রক্ষাকর্তা সেন্ট জানুয়ারিও-এর নামে নির্মিত। প্রতি বছর সেপ্টেম্বর মাসে এখানে তাঁর অলৌকিক “রক্ত তরল হওয়ার” উৎসব পালিত হয়, যা হাজারো ভক্তের ভিড় টানে।

🏛️ National Archaeological Museum of Naples

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘর, যেখানে সংরক্ষিত আছে পম্পেই ও হারকুলেনিয়ামের অবশিষ্ট শিল্পকর্ম, মূর্তি, ও প্রাচীন রোমান ফ্রেস্কো।


🌊 নেপলস উপসাগর — নীল জলের শহর

Gulf of Naples ইউরোপের সবচেয়ে সুন্দর উপসাগরগুলির একটি। এখানে ভেসে থাকা ছোট ছোট দ্বীপ — Capri, Ischia, Procida — যেন সমুদ্রের বুকের রত্নখানি।
ক্যাপ্রি দ্বীপের Blue Grotto গুহায় ঢুকে যখন সূর্যের আলো নীল জলে প্রতিফলিত হয়, তখন মনে হয়, প্রকৃতি নিজেই যেন সংগীত বাজাচ্ছে।


🍕 নেপলস — পিজ্জার জন্মভূমি! 🍕

নেপলস মানেই Pizza Napoletana। এখানেই জন্মেছিল বিশ্বের প্রথম আসল পিজ্জা — Margherita, যা বানানো হয় টমেটো, মোজারেলা চিজ এবং তুলসীপাতা দিয়ে।
শহরের পুরোনো পাথুরে গলিতে বসে যখন এক টুকরো গরম পিজ্জা হাতে নেওয়া হয়, তখন বোঝা যায় — খাবারও হতে পারে ইতিহাসের অংশ।


🚶‍♀️ নেপলসের গলিপথে হাঁটাহাঁটি

নেপলসের পুরোনো শহর Spaccanapoli যেন জীবন্ত এক জাদুঘর। সরু গলিগুলিতে ঝুলে থাকা কাপড়, মোটরবাইক, বাজারের ডাক, গির্জার ঘণ্টাধ্বনি, আর কোণায় কোণায় ছড়িয়ে থাকা রাস্তার কফিশপ — সব মিলিয়ে এক অসাধারণ ইউরোপীয় প্রাণচাঞ্চল্য।

রাতের বেলায় এই গলিগুলো আরও জীবন্ত হয়ে ওঠে — আলো, গান আর মানুষের উচ্ছ্বাসে।


🌅 নেপলসের সূর্যাস্ত

যখন সূর্য ধীরে ধীরে ভূমধ্যসাগরের জলে মিশে যায়, তখন দূরে আগ্নেয়গিরির ছায়া আর শহরের আলো মিলে তৈরি করে এক অপূর্ব চিত্র। সেই দৃশ্য দেখতে দেখতে বুঝতে পারা যায় — এই শহর ধ্বংসের মুখ দেখেছে, আবার নতুন জীবনে ফিরে এসেছে বারবার।


শেষ কথা

নেপলস এমন এক শহর, যেখানে ইতিহাস ও আধুনিকতা পাশাপাশি হাঁটে। একদিকে প্রাচীন ধ্বংসস্তূপ, অন্যদিকে সজীব রাতের রাস্তা। আগ্নেয়গিরির ছায়ায় গড়ে উঠেও এই শহর বারবার পুনর্জন্ম নিয়েছে।
তাই বলা যায় —
“নেপলস শুধু দেখা যায় না, নেপলসকে অনুভব করতে হয়।” 🌋🌊

 

Share This
Categories
বিবিধ

ভাঙা স্ল্যাব থেকে শুরু বচসা, শেষ মারধরে! ইসলামপুরে কাউন্সিলরের প্রতিনিধির নামে লিখিত অভিযোগ।

ইসলামপুর, নিজস্ব সংবাদদাতাঃ- ইসলামপুরে স্ল্যাব মেরামতকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য। অভিযোগ, শনিবার সকালে ইসলামপুর থানার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলরের প্রতিনিধি রঞ্জিত দে এক ব্যক্তিকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি ও মারধর করেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, চিরঞ্জিত পাল নামে এক ব্যক্তি পাড়ার একটি ভাঙা স্ল্যাব মেরামতের আবেদন জানাতে যান রঞ্জিত দে-র কাছে। তিনি অভিযোগপত্রের রিসিভ কপি চাইলে, সেখান থেকেই শুরু হয় বচসা। অভিযোগ, এরপরই রঞ্জিত দে তাঁকে গালাগালি করে মারধর করেন।

পরবর্তীতে চিরঞ্জিত পাল ইসলামপুর পৌরসভার চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। চেয়ারম্যান বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন।

অন্যদিকে, কাউন্সিলরের প্রতিনিধি রঞ্জিত দে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, “রিসিভ করার কোনও ক্ষমতা আমার নেই। পৌরসভার চেয়ারম্যানই সেটি করেন।” পাশাপাশি তিনি জানান, “যে স্ল্যাবটির কথা বলা হচ্ছে, সেটি তাঁরই গাড়ি ঢোকার সময় ভেঙে গিয়েছিল। সেটি দ্রুত মেরামতের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।”

Share This
Categories
বিবিধ

নির্বাচনী নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন, ক্লাব থেকে ভোটার ফর্ম বিলি করায় উত্তাল উনসানি।

হাওড়া, নিজস্ব সংবাদদাতা:- দক্ষিণ হাওড়া বিধানসভা কেন্দ্রের উনসানি সর্দারপাড়ায় ঘটেছে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা। স্থানীয় একটি ক্লাবের বাইরে ঝুলছে তৃণমূল কংগ্রেসের ব্যানার— “বাংলার ভোট রক্ষা শিবির” এবং “এসআইআর বিষয়ক বিশেষ প্রশিক্ষণ শিবির”— আর সেই ক্লাবের ভেতরেই বসে ভোটার তালিকা সংশোধনের এনুমারেশন ফর্ম বিলি করছেন এক বিএলও!

রবিবার সকালে এই দৃশ্য দেখা যায় উনসানির ২ নম্বর বুথ এলাকায়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিএলও শেখ খাজা খইরুল ইসলাম ওই ক্লাবের মেঝেতে বসে স্থানীয় বাসিন্দাদের নিজে হাতে ফর্ম দিচ্ছিলেন। সেই সময় তাঁকে ঘিরে ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের বিএলএ ও অন্যান্য কর্মীরা। তবে আশ্চর্যের বিষয়, বিরোধী দলের কোনো প্রতিনিধিকে সেখানে দেখা যায়নি।

নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, বিএলওদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার তালিকার ফর্ম বিতরণ ও সংগ্রহ করার কথা। কিন্তু কেন তিনি রাজনৈতিক দলের ব্যানারঘেরা ক্লাব থেকে ফর্ম বিলি করছিলেন, সেই প্রশ্ন উঠছে এলাকায়।

এ বিষয়ে বিএলও শেখ খাজা খইরুল ইসলামের বক্তব্য, “আমি ওখানে বসে ফর্ম বাছাই করছিলাম। তখন আশেপাশের কয়েকজন বাসিন্দা এসে সুবিধার জন্য ফর্ম নিয়ে যান। বাইরে যে ব্যানার ছিল, সেটা আমি খেয়াল করিনি।”

তৃণমূলের বিএলএ জানান, “বিএলও বাড়ি বাড়ি গিয়েছিলেন। পরে স্থানীয়রা তাঁকে ক্লাবে বসতে বলেন। সেখানেই প্রায় পঞ্চাশজনকে ফর্ম দেওয়া হয়েছে। কে বাইরে ব্যানার টাঙিয়েছে, সেটা আমরা জানি না।”

অন্যদিকে, বিরোধী রাজনৈতিক শিবিরের অভিযোগ, সরকারি কাজের নামে তৃণমূল তাদের দলীয় কর্মসূচির আড়ালে ভোটার এনুমারেশন প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে।

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের তরফে এখনো কোনও সরকারি প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে ঘটনার জেরে এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়েছে।

Share This
Categories
বিবিধ

গাড়ির হুকে আটকে গেল শাড়ির আঁচল, বাইক উল্টে মৃত্যু সিভিক ভলেন্টিয়ারের স্ত্রীর।

পশ্চিম মেদিনীপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা: এক মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন এক সিভিক ভলেন্টিয়ারের স্ত্রী। শনিবার ক্ষীরপাই থেকে রামজীবনপুর রাজ্য সড়কের কাছে ঘটে দুর্ঘটনাটি। মৃতার নাম পিউ মলস (২৪)।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সেদিন সকালে স্বামী ও সন্তানকে নিয়ে বাইকে চেপে বাপের বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন পিউ। তার স্বামী একজন সিভিক ভলেন্টিয়ার। পথেই হঠাৎ চলন্ত একটি গ্যাসবাহী গাড়ির হুকে পিউ-এর শাড়ির আঁচল আটকে যায়। মুহূর্তের মধ্যে ভারসাম্য হারিয়ে উল্টে যায় মোটরবাইকটি। গুরুতর আহত অবস্থায় পিউ মাটিতে পড়ে যান এবং ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।

দুর্ঘটনায় অল্প আহত হন পিউ-এর স্বামী তথা সিভিক ভলেন্টিয়ার এবং তাঁদের ছোট সন্তান। স্থানীয়রা ছুটে এসে তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।

ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। এই দুর্ঘটনায় এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

Share This
Categories
বিবিধ

ঐতিহ্যের শহরে তীব্র বিস্ফোরণ! লালকেল্লা চত্বরে আগুন, ছুটছে দমকল ও পুলিশ।

নয়াদিল্লি, নিজস্ব সংবাদদাতা: রাজধানী দিল্লির বুকেই নেমে এল আতঙ্ক! সোমবার সন্ধ্যা সাতটার কিছু আগে লালকেল্লার সামনে ভয়াবহ বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল গোটা এলাকা। পরপর তিনটি গাড়ি উড়ে যায় আগুনে। মুহূর্তে আগুনের লেলিহান শিখা ছড়িয়ে পড়ে আশপাশে। এখনও পর্যন্ত অন্তত ১০ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে, আহতের সংখ্যা বহু।

বিস্ফোরণের ঠিক আগেই হরিয়ানার ফরিদাবাদে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক উদ্ধার হওয়ায় জঙ্গি হামলার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না বলে মনে করছে নিরাপত্তা বাহিনী। ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে গিয়েছে ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (NIA) ও ন্যাশনাল সিকিউরিটি গার্ড (NSG)-এর বিশেষ দল।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, লালকেল্লা মেট্রো স্টেশনের ১ নম্বর গেটের কাছে পার্কিং লটে দাঁড়িয়ে থাকা তিনটি গাড়িতে আচমকাই পরপর বিস্ফোরণ হয়। আশপাশের দুটি মন্দির — জৈন মন্দির ও উমাশঙ্কর মন্দির — থেকে বেরোচ্ছিলেন বহু মানুষ। ফলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে, সৃষ্টি হয় হুড়োহুড়ি।

দমকলের একাধিক ইঞ্জিন আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে, তবে সম্পূর্ণ পরিস্থিতি এখনও নিয়ন্ত্রণে আসেনি। পুলিশ গোটা এলাকা ঘিরে রেখেছে, বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে মেট্রো স্টেশনের প্রবেশপথ।

প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, এটি পূর্বপরিকল্পিত জঙ্গি নাশকতা হতে পারে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক ইতিমধ্যেই দিল্লি পুলিশের কমিশনারের কাছ থেকে বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়েছে।

👉 ঘটনার তদন্তে একসঙ্গে নেমেছে এনআইএ ও দিল্লি পুলিশ।
👉 হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা।

চলছে উদ্ধারকাজ ও ফরেনসিক পরীক্ষা — রাজধানীর বুকে ফের একবার জঙ্গি আতঙ্ক!

Share This
Categories
বিবিধ

রাজ্য সংগীত গাওয়া বাধ্যতামূলক — নির্দেশ মেনে উদাহরণ স্থাপন নিউ ফরাক্কা হাই স্কুলের।

মুর্শিদাবাদ, নিজস্ব সংবাদদাতা:- রাজ্য সরকারের নতুন বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী এখন থেকে প্রতিটি বিদ্যালয়ে জাতীয় সংগীতের পর রাজ্য সংগীত গাওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সেই নির্দেশ মেনেই শুক্রবার মুর্শিদাবাদের ফরাক্কার নিউ ফরাক্কা হাই স্কুল (উচ্চ মাধ্যমিক)-এ দেখা গেল এক অনন্য দৃশ্য।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনিরুল ইসলামের নেতৃত্বে শিক্ষক-শিক্ষিকা ও ছাত্র-ছাত্রীরা একত্রে জাতীয় সংগীতের পাশাপাশি রাজ্য সংগীত পরিবেশন করেন। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ জুড়ে তখন দেশাত্মবোধ ও রাজ্যপ্রেমের আবহ।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, রাজ্য সরকারের এই উদ্যোগে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে দেশ ও রাজ্যের প্রতি ভালোবাসা আরও গভীর হবে। এই পদক্ষেপে শিক্ষার্থীদের সাংস্কৃতিক চেতনা ও ঐক্যের মূল্যবোধও বিকশিত হবে বলে মত প্রকাশ করেছেন শিক্ষক-শিক্ষিকারাও।

Share This
Categories
বিবিধ

মানুষ নয়, হাতি শাবকই এবার ফুটবলার! জলদাপাড়ায় ভাইরাল মিষ্টি মুহূর্ত।

আলিপুরদুয়ার, নিজস্ব সংবাদদাতাঃ- জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের পিলখানায় এক হস্তি শাবকের ফুটবল খেলছে। ছোট্ট এই শাবককে দেখা যাচ্ছে ফুটবলটি শুঁড় দিয়ে ঠেলে, কখনও পায়ে ঠোকর মেরে খেলতে। উপস্থিত বনকর্মীরা এই দৃশ্য দেখে মুগ্ধ হয়ে পড়েন। বনকর্মী সূত্রে খবর, এই হস্তি শাবকটি পিলখানায় বড় হচ্ছে অভিভাবক হাতিদের সান্নিধ্যে। শাবকটির খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ দেখে বনকর্মীরাও মাঝে মাঝে তাকে বল এনে দেন। তাদের কথায়, “মানুষের মতোই এই শাবক খেলতে ভালোবাসে, বিশেষ করে বল নিয়ে।”

Share This
Categories
বিবিধ

বাইক নিয়ে বিবাদ, দাদা গুলি করল ভাইকে — উত্তেজনা মঙ্গলবাড়ি এলাকায়।

মালদা, নিজস্ব সংবাদদাতাঃ — মালদা ফের শুট আউটের ঘটনা ঘটলো এবার মালদা থানা এলাকায়।ভাইকে শুট করল দাদা। মালদায় শুট আউট ঘটনা চাঞ্চল্য। এবারে ভাইকে গুলি করল দাদা! ঘটনায় গুলিবিদ্ধ ভাই বর্তমানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন হাসপাতালে। শনিবার বিকালে চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে পুরাতন মালদা পৌরসভার ১৩নং ওয়ার্ডের মঙ্গলবাড়ি খৈহাট্টা এলাকায়। জানা গেছে, গুলিবিদ্ধ ভাইয়ের নাম প্রকাশ দত্ত। এবং অভিযুক্ত দাদার নাম মদন দত্ত। স্থানীয় সূত্রে খবর, দাদা-ভাইয়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই টাকা-পয়সা এবং বাইক নিয়ে ঝামেলা চলছিল। এরই মধ্যে শনিবার বিকালে দাদা মদন দত্ত ভাই প্রকাশ দত্তের কাছে তার বাইক চাইতে যায়। কিন্তু ভাই প্রকাশ দত্ত বাইকে দিতে অস্বীকার করে। আর এই কারণেই মদন তার ভাই প্রকাশকে গুলি করে চম্পট দেয় বলে খবর। গুলি লাগে প্রকাশের কাঁধের নিচের অংশে। তাই স্থানীয়রা সঙ্গে সঙ্গে তাকে উদ্ধার করে মালদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। বর্তমানে তিনি সেখানেই আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন। এদিকে এই ঘটনার খবর পেয়ে তড়িঘড়ি মালদা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে ছুটে এবং তদন্ত শুরু করে।

Share This
Categories
বিবিধ

পূর্ব বর্ধমানে ফর্ম বিলির চাপে অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীর মর্মান্তিক মৃত্যু, অভিযোগ উঠল প্রশাসনের বিরুদ্ধে।

পূর্ব বর্ধমান, নিজস্ব সংবাদদাতা :- রাজ্যের SIR (সোশ্যাল আইডেন্টিটি রেজিস্টার) ফর্ম বিলিকে কেন্দ্র করে মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটল এক বি.এল.ও কর্মীর। ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়।

ঘটনাটি ঘটেছে মেমারি থানার অন্তর্গত বোহার ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের চক বলরাম বাঙাল পুকুর এলাকায়। মৃতার নাম নমিতা হাঁসদা (৫০), পেশায় অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী এবং এনুমারেশন দায়িত্বে ছিলেন বি.এল.ও হিসেবে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল বিকেলে নমিতা দেবী SIR এনুমারেশন ফর্ম বিলি করছিলেন। সেই সময় হঠাৎই অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। তড়িঘড়ি তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় কালনা মহকুমা হাসপাতাল, যেখানে রাতেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

রবিবার কালনা শ্মশানঘাটে মৃতার শেষকৃত্যের সময় তাঁর স্বামী মাধব হাঁসদা সংবাদমাধ্যমের সামনে অভিযোগ তোলেন —

> “বিডিও অফিস থেকে আমার স্ত্রীকে প্রচণ্ড চাপ দেওয়া হচ্ছিল। ফর্ম বিলি শেষ না হলে অফিস থেকে হুমকি আসত। গতকাল রাত অবধি কাজ করছিল ও, অতিরিক্ত চাপ সহ্য করতে না পেরে ব্রেন স্ট্রোকে মারা গেল।”

 

এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। স্থানীয়রা প্রশ্ন তুলেছেন,
সরকারি কর্মীদের উপর এমন অমানবিক চাপ সৃষ্টি করে কাজ করানো কি যুক্তিযুক্ত?

প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক মন্তব্য মেলেনি, তবে সূত্রের খবর, জেলা প্রশাসন গোটা ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে।

এনুমারেশন ফর্ম বিলিকে কেন্দ্র করে এমন মর্মান্তিক পরিণতি রাজ্যজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।

Share This