Categories
কবিতা

খেদ : রাণু সরকার।।

আমায় এতো যত্ন করে ছিলো আমি ভাষাহীন,
দন্তবিকাশে অনুগত ছিলাম;

অনেক গুলো বছর পর অকস্মাৎ স্মরণে আসাতে গতানুশোচনা হলো,
সময় ঢের খরচ করেও সেই রকম দন্তবিকাশ সম্ভব হয়নি-

আদতে এখানে দ্বিতীয় কেউ ছিলো না তো অভিনিবেশ করার তাই হয়তো হবে!

Share This
Categories
কবিতা

কনক রাত :: রাণু সরকার।।

এলোপাথাড়ি পথে প্রচুর হেঁটেছে দু’পা
ধূলোমাটির সাথে হলো অন্তরঙ্গ!
তবুও বাদলের সাথে হলোনা সাক্ষাৎকার!

নিখোঁজ হতেই তো চেয়েছিলাম-
খরার প্রখর তাপে রাতের লাবণ্য গেছে হারিয়ে!
শেষ থেকে সূচনায় আসতে কনক রাতে খোয়া যায় তারুণ্যের উদ্যম!

তার সন্ধান করতে গিয়ে চলে এলো বার্ধক্য-
ধুলোর সাথে ঘনিষ্ঠ প্রীতি!

Share This
Categories
কবিতা

সুধা : রাণু সরকার।

যখন তুমি থাকো কাজের ভিড়ে
আমি দেখি দু’চোখ ভরে!

এলো চুলে আসবে বাঁশ ঝাড় দিয়ে
দেখবো কেশপাশ ঝুলছে দু’কাধ বেয়ে!

দৃষ্টিক্ষুধা দৃষ্টিতে নেবো সুধা পিয়ে
অনুচিন্তায় ভরবো হৃদয়ে!

আধাঁরে মিশে হবে একাকার বিহানে
বাঁশ ঝাড় দাঁড়িয়ে!
অস্পষ্ট দৃষ্টিতে শ্বেত বস্ত্র গায়ে!

Share This
Categories
কবিতা

তৃষ্ণালু : রাণু সরকার।

বশীকৃত এ মন কিসের ছলনে
হলো মতিভ্রংশ,
ইতস্তত ভ্রমণে দেখেছি বহুবিচিত্র
বর্ণের সমারোহ।

হায় রে- তটিনী তুমি গর্ভিণী
এই তো বিহান বেলায় ছিলে
ঋতুমতী!

স্নেহদৃষ্টি আছে পরিপূর্ণ কিন্তু
বড্ড তৃষ্ণালু!
কোন ঘাটে মিটবে সম্ভোগ?
ক্ষরণশীল হলে রসসম্ভোগে
হতো পরিতৃপ্ত!

Share This
Categories
কবিতা

বার্তাবাহিকা : রাণু সরকার।।

শোন কোকিলা-
ও পারেতে সোনা বন্ধু আছে একেলা,
আমার কথা বলবি তাকে চিন্তা যেন না করে,
ভালো আছি, কিন্তু তার জন্য মনটা আমার আনচান করে!

এই নে চিঠি, সাবধানেতে পৌঁছে দিস-
বন্ধু যদি ঘুমিয়ে থাকে-
জাগিয়ে তবেই হাতে দিস!

চিঠি পড়ে সোনা বন্ধুর আসবে চোখে জল
ঠোঁটে করে খানিকটা পারবি আনতে বল?

যাবার বেলায় চুম্বন করতে গেছে ভুলে
ঠোঁটের থেকে একটু লালা আনবি তুলে!

আমার হয়ে এক কলি গান শুনিয়ে দিস,
এই কোকিলা, কাজটা যদি করে দিস-
আমার বাতাবি লেবুর গাছটি তুই নিয়ে নিস!
মেঘেদের বেড়েছে খুব আনাগোনা
কখন বর্ষা নামবে ওর কথা বলা যায় না!

বর্ষা যদি আসে ধেয়ে
পারবি কি তুই? একটু লালা আনতে বয়ে?
যতক্ষণ তুই না আসবি
মাথায় চিন্তা থাকবে ছেয়ে!

Share This
Categories
কবিতা

দারিদ্র্য : রাণু সরকার।

খুবই দারিদ্রপীড়িত
তাই তো অনটনের চাপে পিঞ্জরের হাড় দুমড়ে গিয়ে নিরন্তর কাঁপে।
দিবসে তপনতাপে পিপাসা মেটে না,
নিশাতে ক্ষুধিত আর্তনাদের ধ্বনি শ্রবণেন্দ্রিয়ে হয় বিলিন।

পুরোন স্মৃতি জলে সেবন করে কাটে রাত,
দু’চোখে নোনা জল শুক্ল বর্ণের,
আস্তরণে উত্তরীয় যায় ঢেকে-
একমুঠো সোহাগে অনটনের হবে অবসান,
তা না হলে পিঞ্জরে অনন্ত অনটনের ত্রাণ।

Share This
Categories
কবিতা

ত্যাগ : রাণু সরকার।

শান্তিতে ঘুমিয়ে পড়া কিছু পুরুষ আছে তারা কখনোই জানেন না –
একটি রাত না ঘুমানোর কষ্ট কত গভীর হতে পারে একটি নারীর-

নিঃশব্দে কাঁদা চোখ জোড়া প্রতিদিন
ভোর দেখে- তারপর হাসিমুখে সংসারের
প্রতিটি কাজ সামলায়–
এটাই বুঝি একজন নারীর নীরব ত্যাগ।

Share This
Categories
কবিতা

যুদ্ধক্ষেত্র : রাণু সরকার।

আসবে তুমি-
আমার জীবনের যুদ্ধক্ষেত্রে?
পথটা কিন্তু রক্তরঞ্জিত ভীতিপ্রদ বেদনাবহ,
দিন কাটে যন্ত্রণাগ্রস্ত।
রাত? সে তো নিস্তব্ধ কৃষ্ণবর্ণের ভস্ম!
পারবে তুমি আসতে?
সর্বাঙ্গ চূর্ণবিচূর্ণ–
পারবে এই হৃদয় স্পর্শ করতে?

তোমার উপস্থিতি-

এই গহন রাত তোমার উপস্থিতি কাম্য!
অসবে তুমি রক্তরঞ্জিত যুদ্ধক্ষেত্রে?

Share This
Categories
কবিতা

দামোদর ব্যারেজের কথা : মহীতোষ গায়েন।।

দামোদর ব্যারেজে সকাল১০ টা,আমরা নেমেছি একটু চা জলপানের জন্য,জল,চা খেলাম,সঙ্গে উপাদেয় চপ ও মুড়ি,পাশে তপন সেনের পানের দোকান,পান খেলাম।

তপনদার সঙ্গে কিছু গল্প হলো,তখন কুয়াশার চাদরের দফারফা করছে সূর্য,পান বেচে তপনদার মাসিক ৫০০০আয়ে ৪জনের চলে;খাদ্যসাথী প্রকল্প আছে।

আমাদের গাড়ি বাঁকুড়ার দিকে,
সংসদ সেমিনার যাব,এখানে ফিতা বিখ্যাত,কিনবো,কিন্তু বিনা পয়সায় কিনলাম তপনদার মন,তপনদাও তাই,
চরাচরে তখন বিরাজমান শান্তি।

এটাই পশ্চিমবঙ্গ,এখানে মা মাটি মানুষের প্রাণ,এখানে মণিপুর,বাংলাদেশের নির্মমতা নেই, জঙ্গলের পাশ দিয়ে গাড়ি চলছে,জানালা দিয়ে মিষ্টি হাওয়া মুখ‌ ছোঁয় প্রেমের আভা,দামোদরও মমতাময়।

————-

Share This
Categories
কবিতা

জ্বলে ওঠা আগুন।।

যে দেয়াল চেপে ধরে শ্বাস,
আমি সেই দেয়াল ভাঙব আজই—
রক্তের ভেতর জ্বলে ওঠা আগুন
দমাতে পারে কারা, বলো, কই?

যে হাত করে শৃঙ্খল শক্ত,
আমি সেই হাতেই আগুন ধরাব—
এক ফোঁটা অন্যায়ের ছায়াও যদি পড়ে,
মাটি কাঁপিয়ে উত্তর দেব, দাঁড়াব।

শব্দ চুরি ক’রে নেবে?
শ্বাস আটকে রাখবে?
না—আমার বুকের ভেতর বজ্র গর্জে ওঠে,
যে গর্জন থামানোই যায় না, রেখে।

আমি জন্মেছি শুধু বাঁচতে নয়,
লড়তে—ভাঙতে—নতুন পথ বানাতে।
অতীতের কাঁটাঝোপ পুড়িয়ে
সকালের আলো নিজেই জ্বালাতে।

যারা ভেবে বসে ভয় দেখালে থেমে যাব,
তাদের ভুল ভাঙবে আজই—
আমার চোখের আগুন দেখে
তারাই শিখবে বিদ্রোহ কাকে বলে, ঠিক আজই।

Share This