Categories
কবিতা

কালো রঙের সানগ্লাস : মহীতোষ গায়েন। 

বেশ কিছুদিন ধরে ভোরের স্বপ্নে
আসছে কালো রঙের সানগ্লাস…
এর কারণ বুঝি নি,বুজলাম গতকাল;
যা হয়তো হওয়ার ছিল না,ঘটার ছিল না।

কোথা থেকে কি হলো বোঝা যায় নি,সে রাতে চোখে ঘুম ছিল না পাখিরা রোজকার মত রাত ৩টেয় দক্ষিণ জানালার ধারে বকুল গাছে মিঠে সুরে ডেকে ডেকে ঘুম পাড়াতো,আজ পারে নি।

নির্ঘুম রাতে বাথরুমের জানালা দিয়ে দেখি
চাঁদ ডুবে যাচ্ছে চরাচরে,এভাবে কত কিছু
ডুবে যায়,কেউ তার খোঁজ রাখে না,যতদিন তোমার রঙ আছে,ক্ষমতা আছে,মূল্য আছে।

কালো সানগ্লাস পরলে অন্যেরা দেখতে
পাবে না তোমার চোখে সমুদ্র,তোমার বুক
মোচড়ানো ব্যথার অভিব্যক্তি,তবে এতে
দেখা যায় বেশ কিছু মানুষের রঙ,অভিনয়।

কালো রঙের সানগ্লাস ব্যবহার করছি…
অনেক কিছু দেখছি,জানছি, বুঝছি;
কোথায় কি হচ্ছ?কেন কিছু হয়নি তাও
বোঝা যায়,তবে সময় তো সব বলবে।

কালো রঙের সানগ্লাস পরে এখনো
শিখছি,দেখছি, দিবারাত্রির কাব্য-মানুষ;
এই চশমায় অনেক সময় বুঝে নেওয়া যায়
অনেক কিছুই হচ্ছে এবং হবে কালো।

একদিন আসবে ঠিকই,তোমাকেও
পরতে হবে কালো রঙের সানগ্লাস,
তোমরা না চিনলেও তোমাদের চিনে নেবে
ভূবনডাঙায় পড়ে থাকা কালো রঙের সানগ্লাস।

Share This
Categories
কবিতা

শুধু মনে রেখো : মহীতোষ গায়েন।

সব দেখো শান্ত ভাবে,উপলব্ধি
করো,ঝড় দেখ, উড়ে যেও না,
বৃষ্টি দেখ,গায়ে মেখো না হঠাৎ
মেঘ দেখ কিন্তু ভয় পেয়ো না।

সব নারীকে দেখ ,সমঝে চলো
সব পুরুষকে দেখ,মেলে ধরো না,
কান্না বুকে চেপে রাখো,কষ্ট মনে পুষে রাখো,বলো না,অবিরত পরীক্ষা নাও।

যে শুধু তোমার জন্য ভাবে,কষ্ট পায় গোপনে শুধু তাকে বলো মনের কথা,সংসারকে নয়..
যে তোমার অসুস্থ শরীরে হাতটা ধরে এগিয়ে তোলে,প্রতিষ্ঠার জন্য লড়ে,সে তোমার ঐশ্বরিক প্রেম।

যে কষ্টে আছে,তাকে স্বান্তনা দাও-
যে তোমার কপালে স্নেহের চুম্বন দেয়;
তাকে বলো,যে তোমার মাথার যন্ত্রণার
সময় শুধু শরীরে দৃষ্টি দেয়,তাকে ত্যাগ করো।

যে তোমার অসুস্থতার খোঁজ নেয় অহরহ
সময়ে খাচ্ছো কিনা,রাত জাগছো কিনা ;
তার খোঁজ নেয়,যে তোমার অস্থিরতা,রাগ,
অভিমান,জেদ মেনে নেয়,তাকে মনে রেখো।

যে তোমার মুখে হাসি,মনে শান্তি আনতে মাথায় হাত বুলিয়ে দেয় কখনো,তাকে বলো তোমার কষ্টের কথা দুঃখের কথা,যন্ত্রণার কথা তাকে শুধু মনে রেখো;দিন রাত্রি দিন সে ভালোবাসা অপ্রকাশিত।
———–

Share This
Categories
কবিতা

লেনিনগড়ে মায়ার চাঁদ : মহীতোষ গায়েন।

তখন লেলিনগড়ের রাত্রির আকাশ জোৎস্নাময়-
বাজার সেরে ফিরছে ছেলেটা মোটর ভ্যানে,চিন্তাহীন সুখে,আস্ত একটা চাঁদ,ভ্যান চলছে,চলছে চাঁদ সাথে সাথে দক্ষিণ হাওয়া চুমু দিলো এই মুখে, মায়া বুকে।

ঐ চাঁদ আমার ভারতবর্ষ,লেলিনগড় আমার বাংলা, এখানে ইজরায়েল,ইরানে হানা নেই,নেই সেই ক্ষতি,অস্ত্রের ঝলকানি,অথছ ইরানে হাজার শিশুর লাশ! আমেরিকা আর কবে থামাবে নারকীয় শক্তি।

যে ছেলেটা হস্টেলে থেকে অভাবে বড় হয়েছে
খিদের জ্বালায় মাঠে পড়া বাদাম কুড়িয়ে খায়,
পড়ার জন্য শিক্ষকের বাড়িতে গোয়াল ঘরেও শোয় কে তাকে নিলো,কে সরালো তার কি আসে যায়?

ছেঁড়া জামা পরে স্কুল যেত রোজ,পুজোর সময়
ছেঁড়া পোষাকে রাস্তায় বসে গুমরে একা কাঁদে ,
১৬বছরে ভোটে হোমগার্ড হয়ে ১৫০-র মধ্যে আশি টাকায় ফর্ম ফিলাপ করে,কেন সে পড়বে ফাঁদে ?

এখনো ছেলেটি জীবন একা একাই ঘরে ও বাইরে লড়াই সংগ্রামে জীবন গড়েছে,এখন প্রতিষ্ঠিত ,রুটি রুজির সংস্থান করেছে একা একাই লড়ে বন্ধুহীন,প্রেমহীন রয়ে গেল,সে কখনো হয়নি ভীত।

যে ছেলেটা হস্টেলের নিয়মিত ফী দিতে পারে নি বলে জীববিজ্ঞানের স্যার অন্য অছিলায় বেদম পেটায়, রাতে বিছানায় শুয়ে গুমরে গুমরে কাঁদে,আর শপথ নেয়,প্রতিষ্ঠিত হবে,একার লড়াই,কেউ পাশে ছিল না।

ছেলেটি অবশেষে প্রতিষ্টিত হয়েছে, শিক্ষক থেকে অধ্যাপক, পিএইচডি করেছে,তার লড়াই সংগ্রাম এখনো জারি আছে,মানুষের ভালোর জন্য,মা ও মাটির জন্য,ঐ চাঁদ তার প্রেরণা,সূর্য তার শক্তি।

লেনিন গড়ে চাঁদ উঠেছে,ঐ চাঁদ ছেলেটির ভাত,
ঐ চাঁদ তার ভালোবাসা,ঐ চাঁদ তার প্রেম,ঐ চাঁদ তার মায়া,সে মায়া একমাত্রিক,সে লড়াই বিশ্বজনীন,মায়ার চাঁদ নিঃশেষ করুক হিংসা দ্বেষ,আনুক শান্তি চরাচরে।

Share This
Categories
কবিতা

খেদ : রাণু সরকার।।

আমায় এতো যত্ন করে ছিলো আমি ভাষাহীন,
দন্তবিকাশে অনুগত ছিলাম;

অনেক গুলো বছর পর অকস্মাৎ স্মরণে আসাতে গতানুশোচনা হলো,
সময় ঢের খরচ করেও সেই রকম দন্তবিকাশ সম্ভব হয়নি-

আদতে এখানে দ্বিতীয় কেউ ছিলো না তো অভিনিবেশ করার তাই হয়তো হবে!

Share This
Categories
কবিতা

কনক রাত :: রাণু সরকার।।

এলোপাথাড়ি পথে প্রচুর হেঁটেছে দু’পা
ধূলোমাটির সাথে হলো অন্তরঙ্গ!
তবুও বাদলের সাথে হলোনা সাক্ষাৎকার!

নিখোঁজ হতেই তো চেয়েছিলাম-
খরার প্রখর তাপে রাতের লাবণ্য গেছে হারিয়ে!
শেষ থেকে সূচনায় আসতে কনক রাতে খোয়া যায় তারুণ্যের উদ্যম!

তার সন্ধান করতে গিয়ে চলে এলো বার্ধক্য-
ধুলোর সাথে ঘনিষ্ঠ প্রীতি!

Share This
Categories
কবিতা

সুধা : রাণু সরকার।

যখন তুমি থাকো কাজের ভিড়ে
আমি দেখি দু’চোখ ভরে!

এলো চুলে আসবে বাঁশ ঝাড় দিয়ে
দেখবো কেশপাশ ঝুলছে দু’কাধ বেয়ে!

দৃষ্টিক্ষুধা দৃষ্টিতে নেবো সুধা পিয়ে
অনুচিন্তায় ভরবো হৃদয়ে!

আধাঁরে মিশে হবে একাকার বিহানে
বাঁশ ঝাড় দাঁড়িয়ে!
অস্পষ্ট দৃষ্টিতে শ্বেত বস্ত্র গায়ে!

Share This
Categories
কবিতা

তৃষ্ণালু : রাণু সরকার।

বশীকৃত এ মন কিসের ছলনে
হলো মতিভ্রংশ,
ইতস্তত ভ্রমণে দেখেছি বহুবিচিত্র
বর্ণের সমারোহ।

হায় রে- তটিনী তুমি গর্ভিণী
এই তো বিহান বেলায় ছিলে
ঋতুমতী!

স্নেহদৃষ্টি আছে পরিপূর্ণ কিন্তু
বড্ড তৃষ্ণালু!
কোন ঘাটে মিটবে সম্ভোগ?
ক্ষরণশীল হলে রসসম্ভোগে
হতো পরিতৃপ্ত!

Share This
Categories
কবিতা

বার্তাবাহিকা : রাণু সরকার।।

শোন কোকিলা-
ও পারেতে সোনা বন্ধু আছে একেলা,
আমার কথা বলবি তাকে চিন্তা যেন না করে,
ভালো আছি, কিন্তু তার জন্য মনটা আমার আনচান করে!

এই নে চিঠি, সাবধানেতে পৌঁছে দিস-
বন্ধু যদি ঘুমিয়ে থাকে-
জাগিয়ে তবেই হাতে দিস!

চিঠি পড়ে সোনা বন্ধুর আসবে চোখে জল
ঠোঁটে করে খানিকটা পারবি আনতে বল?

যাবার বেলায় চুম্বন করতে গেছে ভুলে
ঠোঁটের থেকে একটু লালা আনবি তুলে!

আমার হয়ে এক কলি গান শুনিয়ে দিস,
এই কোকিলা, কাজটা যদি করে দিস-
আমার বাতাবি লেবুর গাছটি তুই নিয়ে নিস!
মেঘেদের বেড়েছে খুব আনাগোনা
কখন বর্ষা নামবে ওর কথা বলা যায় না!

বর্ষা যদি আসে ধেয়ে
পারবি কি তুই? একটু লালা আনতে বয়ে?
যতক্ষণ তুই না আসবি
মাথায় চিন্তা থাকবে ছেয়ে!

Share This
Categories
কবিতা

দারিদ্র্য : রাণু সরকার।

খুবই দারিদ্রপীড়িত
তাই তো অনটনের চাপে পিঞ্জরের হাড় দুমড়ে গিয়ে নিরন্তর কাঁপে।
দিবসে তপনতাপে পিপাসা মেটে না,
নিশাতে ক্ষুধিত আর্তনাদের ধ্বনি শ্রবণেন্দ্রিয়ে হয় বিলিন।

পুরোন স্মৃতি জলে সেবন করে কাটে রাত,
দু’চোখে নোনা জল শুক্ল বর্ণের,
আস্তরণে উত্তরীয় যায় ঢেকে-
একমুঠো সোহাগে অনটনের হবে অবসান,
তা না হলে পিঞ্জরে অনন্ত অনটনের ত্রাণ।

Share This
Categories
কবিতা

ত্যাগ : রাণু সরকার।

শান্তিতে ঘুমিয়ে পড়া কিছু পুরুষ আছে তারা কখনোই জানেন না –
একটি রাত না ঘুমানোর কষ্ট কত গভীর হতে পারে একটি নারীর-

নিঃশব্দে কাঁদা চোখ জোড়া প্রতিদিন
ভোর দেখে- তারপর হাসিমুখে সংসারের
প্রতিটি কাজ সামলায়–
এটাই বুঝি একজন নারীর নীরব ত্যাগ।

Share This