Categories
বিবিধ রিভিউ

“রাজনগর পর্যটন কেন্দ্র হলে এলাকার আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন নিশ্চিত” — ইতিহাসপ্রেমীদের ঐক্যবদ্ধ দাবি।

বীরভূম, নিজস্ব সংবাদদাতাঃ- বীরভূম জেলা অতীত রাজধানী ও ঐতিহাসিক কেন্দ্র রাজনগরকে একটি পর্যটন কেন্দ্র রূপে গড়ে তোলা খুবই জরুরি৷ আগেও এই দাবি তুলে ধরা হয়েছে৷ পুনরায় একই দাবি জানাচ্ছেন রাজনগর রাজ পরিবারের সদস্য থেকে স্থানীয় বাসিন্দা ও ইতিহাসপ্রেমী মানুষজনেরা৷ এই রাজনগর এলাকায় প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলির যথাযথ সংস্কারের দাবিও জানাচ্ছেন রাজবংশের প্রতিনিধি ও বাসিন্দারা৷ পর্যটন কেন্দ্র রুপে এটিকে গড়ে তোলা হলে এলাকার আর্থ সামাজিক উন্নয়নও ঘটবে তা বলার অপেক্ষা রাখেনা৷ লেখক, গবেষক তথা ঐতিহাসিকদের বিবরণ থেকে জানা যায়, সুদূর অতীতে বীরভূমের রাজধানী ছিল রাজনগর৷ সেই সময় বর্তমানের বীরভূম সহ বিহার, সাঁওতাল পরগণা, বর্ধমান ও মুর্শিদাবাদের কিছুটা অংশ রাজনগর রাজ স্টেটের অন্তর্ভুক্ত ছিল৷ এখানে উড়িষ্যার রাজা নরসিংহ দেব, লক্ষণ সেনদের বংশের সেন রাজারা, বীররাজা ওরফে রাজা বীরচন্দ্র ও পরবর্তীতে সুদূর আফগানিস্তান থেকে আসা পাঠান রাজারা রাজত্ব করেন৷ পাঠান রাজ বংশের উত্তরসুরীরা আজও এখানে বসবাস করেন৷ রাজনগর রাজবাড়ি, ইমামবাড়া, হামাম, টেরাকোটার বীরভূমের রাজনগর – কারুকার্য মন্ডিত মতিচূড়া মসজিদ, ঐতিহাসিক কালীদহ পুকুর, পুকুরের মাঝে হাওয়াখানা বা হাওয়ামহল, সাঁওতাল বিদ্রোহের স্মৃতি বিজড়িত ঐতিহাসিক গাবগাছ, ফাঁসিঘর প্রভৃতি দেখতে আজও দেশ বিদেশের বহু পর্যটক ও ইতিহাসপ্রেমী মানুষজন প্রায়শ আসেন৷ ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলির কয়েকটি সামান্য কিছু সংস্কার হলেও তা যথাযথ নয় বলে অভিযোগ৷ বাকিগুলিরও সংস্কার জরুরি৷ সেই দাবিতে সোচ্চার রাজ পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি বাসিন্দা, ইতিহাস ও ঐতিহ্যপ্রেমীরা৷ মাঝে মধ্যে দেশ বিদেশ থেকে আসা পর্যটকরা কেউ কেউ বলেন, “রাজনগর পর্যটন কেন্দ্র হলে সারা বছরই পর্যটকরা এখানে আসার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করবেন৷ তার আগে ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলির যথাযথ সংস্কার ও সেগুলিকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে হবে সরকারী প্রচেষ্টায়৷ একই সাথে পর্যটকদের সব ধরণের সুযোগ সুবিধা ও পরিষেবা প্রদানের বিষয়টিও সুনিশ্চিত করা দরকার৷”

Share This
Categories
বিবিধ রিভিউ

পতিরামের সাহিত্যচর্চার ধারাবাহিকতা বজায় রেখে প্রকাশিত হলো “পতিভাষ”-এর নবম সংখ্যা, আসছে দশম সংখ্যা পঁচিশে বৈশাখে।

দক্ষিণ, নিজস্ব সংবাদদাতাঃ- আজ একটি অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পতিভাষ সাহিত্য পত্রিকার নবম সংখ্যা প্রকাশিত হলো। এবারের সংখ্যায় প্রবাসীর চোখে পতিরাম বিভাগে লিখেছেন কলকাতা নিবাসী সুজয় মন্ডল, ফিরে দেখা পতিরাম বিভাগে লিখেছেন প্রাক্তন প্রধান রঞ্জিত মালাকার, ইতিহাসের পাতায় পতিরাম বিভাগে লিখেছেন নির্মল চৌধুরি। শিশু কিশোর কিশোরী বিভাগে অঙ্কণে রয়েছেন অণ্বেষা মন্ডল ও লেখাতে রয়েছেন অর্পিতা সাহা। গল্প লিখেছেন মৌমিতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সৌরভ চট্টোপাধ্যায়, শংকর সাহা, অনিরুদ্ধ মন্ডল। কবিতা লিখেছেন ঈশিতা চক্রবর্তী, অনন্যা মন্ডল, নার্গিস বেগম, প্রীতি শীল, ভূষণ বর্মণ, শ্যাম সাহা, সোহেল ইসলাম, কানাই চৌহান, দেবব্রত দাস, অলক কুমার মুখোপাধ্যায়, অপর্ণা দাস, ছবি বর্মণ, চুমকি সরকার, রাজশ্রী মালাকার, বিশ্বজিৎ প্রামাণিক, নির্মল রঞ্জন চৌধুরি। গল্পের প্রচ্ছদ এঁকেছেন নওসিন আলম। নবম সংখ্যার প্রচ্ছদ এঁকেছেন নার্গিস বেগম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রতণ কুমার ব্যানার্জি। অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী সংগীত পরিবেশন করেন রাজশ্রী মালাকার। আবৃত্তি পরিবেশন করেন সমৃদ্ধি মন্ডল, সুরশ্রী সরকার, রাতুল মুন্সী, জিতোশ্রী প্রামাণিক। স্বরচিত কবিতা পাঠ করেন ছবি বর্মণ। বক্তব্য রাখেন সোহেল ইসলাম, বিশ্বজিৎ প্রামাণিক, দেবজিৎ চৌধুরি, নার্গিস বেগম, সৌরভ চট্টোপাধ্যায় সহ অনেকেই। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সন্দীপ গোস্বামী, রানা সরকার, জলি মুন্সী, স্মৃতি প্রামাণিক, পূবালি সরকার, নিবেদিতা সাহা, শংকর সাহা, অঞ্জলি মন্ডল, সুধা বিশ্বাস, স্মৃতি বিশ্বাস, রাজু মালাকার সহ অনেকেই। এরপর দশম সংখ্যা প্রকাশিত হবে পঁচিশে বৈশাখ তারিখে। পত্রিকার সহ-সম্পাদক কবি সোহেল ইসলাম জানান, ‘আমরা ধারাবাহিক ভাবে বছরে দুটো সংখ্যা প্রকাশ করছি। আমাদের মূল উদ্দেশ্যই হলো পত্রিকায় যেন ভেসে ওঠে পতিরামের ছবি, সেই চেষ্টায় করে চলেছি।’

পতিভাষ-পতিরামের সাহিত্য বিষয়ক পত্রিকা।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

নাটক নিয়ে দুটি কথা : দিলীপ রায় (৯৪৩৩৪৬২৮৫৪) ।

আমরা জানি, নাটক সাহিত্য ও সংস্কৃতির অঙ্গ । নাটক জীবনেরই সুদৃশ্য রূপায়ণ । যাকে বলে নাটক জীবনের দর্পন । মঞ্চে অভিনেতা অভিনেত্রীদের সাহায্যে মানবজীবনের সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না, আনন্দ-বেদনা যখন সংলাপের আশ্রয়ে দর্শকের সামনে উপস্থিত করা হয়, তখন নাটক । “নাটক” শব্দটির মধ্যে রয়েছে সত্যের ইঙ্গিত । নট, নাট্য, নাটক এই তিনটি শব্দের মূল হলো নট । আর নট্‌ অর্থ হলো নড়াচড়া করা, অঙ্গচালনা করা, ইত্যাদি । নাটক বলতে আমরা বুঝি এমন একটা ফলিত শিল্পকলা, যা অভিনয়-মঞ্চসজ্জা-রূপসজ্জা—ধ্বনি-প্রেক্ষাপট-দর্শক দ্বারা প্রত্যক্ষভাবে সম্পর্কিত । নাটকের ইংরেজি প্রতিশব্দ “Drama“র মধ্যেই একই সত্য আমরা খুঁজে পাই । “Drama” শব্দের মূলে রয়েছে গ্রীক শব্দ Dracin, যার অর্থ “to-do“ অর্থাৎ কিছু করা । তাই নাটককে জীবনের দর্পন বলা হয় ।
( ২ )
বাংলা নাটকের উদ্ভব দুইশত বছরেরও পূর্বে । পাশ্চাত্য রঙ্গমঞ্চের অনুকরণে বাংলা রঙ্গমঞ্চ স্থাপিত হওয়ার ফলেই বাংলা নাটক বিদেশী নাটকের মৌলধর্মাবলম্বন করেই আত্মপ্রকাশ । সংস্কৃত ও ইংরেজি নাটকের অনুবাদের মধ্য দিয়েই বাংলা নাটকের সূচনা । তাই বাংলা নাটকের আবির্ভাবের সময়কাল তিনটে । ১৭৯৫ থেকে ১৮৭২ পর্যন্ত “আদি যুগ”, ১৮৭৩ থেকে ১৯০০ পর্যন্ত “মধ্যযুগ” এবং ১৯০০ থেকে “আধুনিক যুগ” । যতটুকু জানা যায়, ১৭৯৫ সালের ২৭শে নভেম্বর কাল্পনিক সংবদল নামক একটি বাংলা অনুবাদ — প্রথম বাংলা নাটক মঞ্চস্থ হয় (কলকাতা ডোমতলায়) । আবার কোথাও জানা যায়, বাংলা নাটক প্রথম মঞ্চে অভিনীত হয় ১৮৩১ খ্রিষ্টাব্দে । এই প্রসঙ্গে জানিয়ে রাখি, “শর্মিষ্ঠা”কে (১৮৫৯) প্রথম সার্থক ও আধুনিক নাটক হিসেবে আখ্যায়িত করা হয় , যার রচয়িতা মাইকেল মধুসূদন দত্ত । পরবর্তীকালের কয়েকটি উল্লেখযোগ্য নাটকের নাম এখানে দেওয়া হলো । যেমন রামনারায়ণ তর্করত্নের “কুলীনকুলসর্বস্ব”, মধুসূদন দত্তের “কৃষ্ণকুমারী” ও “বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রো”, দীনবন্ধু মিত্রের “নীলদর্পন”, গিরিশ চন্দ্র ঘোষের “প্রফুল্ল”, দ্বিজেন্দ্র লাল রায়ের “সাহাজাহান”, ইত্যাদি ।
বাংলা সাহিত্যে বাংলা “নাটক”এর উদ্ভব বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ । জীবনকে প্রত্যক্ষ দেখতে, জানতে, বুঝতে নাটকের বিকল্প নেই । নাটক মানুষের জীবন নিয়ে রচিত । তাই সমাজের জীবনের নানা সমস্যা ও সংকটের শিল্পীত রূপ নাটকে প্রতিফলিত হচ্ছে । বাংলা সাহিত্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি শাখা হচ্ছে বাংলা নাটক । গল্প, উপন্যাস, কবিতা, ছড়া, প্রবন্ধ সাহিত্যের এইসব বিচিত্র শাখার মধ্যে নাটক এখন জনপ্রিয় শিল্পমাধ্যম । নাটক হচ্ছে একইসঙ্গে দেখার ও শোনার বিষয় ।
( ৩ )
এবার দেখা যাক, আগেকারদিনে নাটকের উৎপত্তি কীভাবে ঘটলো । নাটক শব্দ একটি গ্রীক শব্দ থেকে এসেছে যার অর্থ “কাজ” বা “কাজ” যা “I do” থেকে নেওয়া । নাটকের সাথে যুক্ত দুটি মুখোশ কমেডি এবং ট্রাজেডির মধ্যে প্রচলিত জেনেরিক বিভাজনের প্রতিনিধিত্ব করে । যাই হোক পাশ্চাত্য সাহিত্যের প্রথম নাট্যকার হলেন প্রাচীন গ্রীকরা । প্রাচীন গ্রীকদের জন্য নাট্য রচনার সাথে জড়িত ছিল পোয়েসিস, অর্থাৎ নির্মিত কাজ (poesis — the act of making) । খ্রিষ্টপূর্ব ৪র্থ শতাব্দীতে অ্যারিস্টটল নাটকের উপাদানগুলি বিবেচনা করেছিলেন — প্লট (mythos), চরিত্র (ethos), চিন্তা (dianoia i.e. thought), ডিকশন (lexis), সঙ্গীত (melodia ), ইত্যাদি । চরিত্র পছন্দ এবং কর্মধারা নির্ধারিত হয় ট্রাজেডি যেটা হলো মাইমেসিস – একটি কাজের অনুকরণ যা গুরুতর (Tragedy is mimesis – “the imitation of an action that is serious.) অ্যারিস্টটল স্থান-কাল-পাত্রের সুসম ঐক্যের কথা বলেছেন ।
এবার আসছি নাটকের উপাদান বলতে আমরা কী বুঝি ? আগেই বলি — বিষয় ও পরিণতির দিক থেকে নাটক দুই প্রকার – বিয়োগান্তক নাটক (Tragedy) এবং মিলনান্তক নাটক (Comedy) । উপাদানগুলির মধ্যে অন্যতম মূল ভাবনা, প্লট, চরিত্র, সংলাপ, দৃশ্য ও সঙ্গীত । অন্যদিকে নাটকের শ্রেণী বিভাগ যেমন — ভাব সংবেদনা রীতি অনুসারে (ট্রাজেডি, কমেডি,), বিষয়বস্তুর উৎসরীতি অনুসারে (পৌরাণিক, ঐতিহাসিক, সামাজিক, পারিবারিক), বৈশিষ্ট্য অনুসারে (গীতিনাট্য বা অপেরা, নৃত্যনাট্য ), আয়তন অনুসারে (মহানাটক, নাটক), গঠনরীতি অনুসারে (ক্লাসিক্যাল, রোমান্টিক), রচনারীতি অনুসারে (পদ্যনাটক, গদ্যনাটক), ইত্যাদি ।
( ৪ )
পরিশেষে বলা যায়, বাংলা নাটক এখন অনেক বেশী জনপ্রিয় । যদিও দর্শকদের রুচির পরিবর্তনের সাথে সাথে নাট্য ভাবনার, নাটকের প্লটের পরিবর্তন ঘটছে এবং সমান তালে দর্শকও বাড়ছে । ইদানীং আঞ্চলিক ভাষার নাটকের কদর বাড়ছে । সম্পূর্ণ মহিলাদের নিয়ে নাট্য গ্রুপ “সেঁজুতি” ভাল কাজ করছে, যার প্রভাব সারা বাংলায় ছড়িয়ে পড়ছে । সুতরাং বাংলা সংস্কৃতিতে বাংলা নাটকের কদর দিন দিন বাড়বে বই কমবে না । (তথ্যসূত্রঃ সংগৃহীত) ।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

রামোজি ফিল্ম সিটি — যেখানে প্রতিটি ফ্রেমে লুকিয়ে থাকে ভারতের সৃজনশীলতার দীপ্তি।

ভারতের দক্ষিণের মনোরম রাজ্য তেলেঙ্গানার রাজধানী হায়দরাবাদের উপকণ্ঠে অবস্থিত রামোজি ফিল্ম সিটি। এটি শুধুমাত্র একটি পর্যটন কেন্দ্র নয়, বরং এক বিস্ময়কর দুনিয়া — যেখানে বাস্তবের সঙ্গে মিশে যায় রূপালি পর্দার কল্পনা। বিশ্বের বৃহত্তম ফিল্ম সিটি হিসেবে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে নাম থাকা রামোজি ফিল্ম সিটি যেন এক জাদুর দেশ, যেখানে প্রতিটি ইটের গায়ে লেখা আছে সিনেমার গল্প।


📍 কীভাবে পৌঁছানো যায়

রামোজি ফিল্ম সিটি হায়দরাবাদ শহর থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। হায়দরাবাদ বিমানবন্দর, রেলস্টেশন বা বাসস্ট্যান্ড থেকে ট্যাক্সি, ক্যাব কিংবা ট্যুর বাসে সহজেই এখানে পৌঁছানো যায়। যারা নিজস্ব গাড়িতে ঘুরতে ভালোবাসেন, তাদের জন্য ভালো রাস্তা ও স্পষ্ট দিকনির্দেশনা আছে।


🎬 ফিল্ম সিটির ইতিহাস

১৯৯৬ সালে বিশিষ্ট চলচ্চিত্র প্রযোজক রামোজি রাও-এর উদ্যোগে নির্মিত হয় এই ফিল্ম সিটি। তাঁর স্বপ্ন ছিল এমন একটি জায়গা গড়ে তোলা, যেখানে একসঙ্গে সিনেমা নির্মাণ, সেট ডিজাইন, সম্পাদনা এবং প্রদর্শনের কাজ সম্পূর্ণভাবে করা যাবে। আজ সেই স্বপ্নই পরিণত হয়েছে এক আন্তর্জাতিক পর্যটন কেন্দ্রে, যেখানে প্রতিবছর লক্ষ লক্ষ মানুষ ভিড় জমায়।


🌆 রামোজি ফিল্ম সিটির বিস্ময়কর দুনিয়া

রামোজি ফিল্ম সিটি প্রায় ২০০০ একর জমির ওপর বিস্তৃত। এখানে আছে বিশাল ফিল্ম সেট, কৃত্রিম শহর, বিদেশি লোকেশনের প্রতিরূপ, বাগান, থিম পার্ক এবং থ্রিল রাইড — সব মিলিয়ে যেন এক মায়াবী জগৎ।

🎥 ফিল্ম সেট ও শ্যুটিং জোন

এখানে আপনি দেখতে পাবেন মুম্বাইয়ের রাস্তা, দিল্লির রাস্তাঘাট, বিদেশি শহরের অনুকরণে তৈরি ইউরোপীয় বিল্ডিং, বিমানবন্দর, রেলস্টেশন, গ্রামীণ বাজার থেকে শুরু করে রাজকীয় প্রাসাদ পর্যন্ত। ভাগ্য ভালো থাকলে চলমান কোনো সিনেমার শ্যুটিংও দেখতে পেতে পারেন!

🌺 গার্ডেন ও থিম পার্ক

মার্বেল গার্ডেন, মুঘল গার্ডেন, এবং নানা রঙের ফুলে ভরা “ফ্লোরাল কিংডম” প্রকৃতিপ্রেমীদের মন ভরিয়ে দেয়। শিশুদের জন্য রয়েছে ফান-টাইম থিম পার্ক, যেখানে রোলার কোস্টার, ৪ডি শো, জঙ্গল বুক অ্যাডভেঞ্চার এবং স্টান্ট শো দর্শকদের চমকে দেয়।

🏰 ইউরোপীয় ও জাপানি স্টাইলের সেট

রামোজি ফিল্ম সিটির অন্যতম আকর্ষণ হল ইউরোপীয় ক্যাফে, জাপানি গার্ডেন এবং আমেরিকান টাউনশিপের নিখুঁত কপি। এই স্থানগুলোতে ঘুরে বেড়ালে মনে হবে যেন আপনি এক মুহূর্তে ভারত থেকে ইউরোপে পৌঁছে গেছেন।


🎭 শো এবং বিনোদন

প্রতিদিন সকালে থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এখানে চলে বিভিন্ন স্টান্ট শো, ম্যাজিক শো, ডান্স পারফর্মেন্স, এবং লাইভ সিনেমা সেট ট্যুর। সন্ধ্যার পর লাইট অ্যান্ড সাউন্ড শো-তে ফিল্ম সিটির সৌন্দর্য নতুন রূপ পায় — ঝলমলে আলোয় পুরো এলাকা যেন রূপকথার শহরে পরিণত হয়।


🍴 খাবার ও বিশ্রাম

ফিল্ম সিটির ভেতরেই রয়েছে অসংখ্য রেস্তোরাঁ ও ফুড কোর্ট। দক্ষিণ ভারতীয় দোসা-ইডলি থেকে শুরু করে উত্তর ভারতীয় থালি, চাইনিজ ও কন্টিনেন্টাল খাবার — সবই পাওয়া যায়। যারা রাত কাটাতে চান, তাদের জন্য আছে বিলাসবহুল হোটেল যেমন Sitara Luxury HotelTara Comfort Hotel, যা নিজেই এক অভিজ্ঞতা।


🛍️ শপিং ও স্মারক সংগ্রহ

ফিল্ম সিটির ভেতরে ছোট ছোট দোকানে পাওয়া যায় সিনেমা-থিমযুক্ত পণ্য, স্থানীয় হস্তশিল্প ও স্মারক সামগ্রী। “মেমরি লেন” থেকে আপনি নিতে পারেন এই জাদুর রাজ্যের এক টুকরো স্মৃতি।


🌄 ভ্রমণ পরামর্শ

  • সকাল সকাল পৌঁছালে পুরো ফিল্ম সিটি ঘোরা সম্ভব।
  • আরামদায়ক জুতো পরুন, কারণ হাঁটাহাঁটি বেশ করতে হয়।
  • টিকিট অনলাইনে বুক করা সুবিধাজনক।
  • ফটো তোলার সুযোগ প্রচুর, তাই ক্যামেরা সঙ্গে রাখুন।

🌠 শেষ কথা

রামোজি ফিল্ম সিটি শুধু একটি পর্যটন কেন্দ্র নয়, এটি এক রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা। এখানে বাস্তব ও স্বপ্ন একাকার হয়ে যায়। শিশু থেকে প্রবীণ — সকলের জন্যই এই স্থান আনন্দ ও বিস্ময়ের উৎস। যদি আপনি কখনও সিনেমার ভেতরে প্রবেশ করার স্বপ্ন দেখে থাকেন, তবে রামোজি ফিল্ম সিটি আপনাকে সেই স্বপ্ন স্পর্শ করার সুযোগ দেবে।


✈️ রামোজি ফিল্ম সিটি — যেখানে প্রতিটি ফ্রেমে লুকিয়ে থাকে ভারতের সৃজনশীলতার দীপ্তি।

Share This
Categories
বিবিধ রিভিউ

মালদায় ১৩ অক্টোবর থেকে শুরু বাজি বাজার, পরিবেশবান্ধব গ্রীন ক্রেকারসহ ৫২ জন ব্যবসায়ী অংশ নেবেন।

মালদা, নিজস্ব সংবাদদাতাঃ-মালদা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগ এবং মালদা মার্চেন্টস চেম্বার অব কমার্সের সহযোগিতায় ১৩ অক্টোবর থেকে শুরু হতে চলেছে বাজি বাজার। চলবে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত।
ইংরেজবাজার পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের বি এল আর ও অফিস সংলগ্ন ফার্ম ময়দানে খোলা হবে বাজি বাজার।
ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে বাজি বাজারের কাজ। টিনের সেড দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে অস্থায়ী স্টল।
নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে অস্থায়ী বাজি বাজার তৈরি করা হচ্ছে মালদা শহরের ফার্ম ময়দানে।
ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে বাজার তৈরির কাজ।
সেখানে পাওয়া যাবে পরিবেশ বান্ধব গ্রীন ক্রেকার বাজি।
এই বিষয়ে মালদা মার্চেন্টস চেম্বার অফ কমার্সের সম্পাদক উত্তম বসাক বলেন, নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে মালদা শহরের ফার্ম ময়দানে অস্থায়ী বাজি বাজার খোলার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে।
আগামী ১৩ অক্টোবর সন্ধ্যায় আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হবে বাজি বাজারের।চলবে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত। এবছর ৫২ জন ব্যবসায়ী অংশগ্রহণ করবে বাজি বাজারে। লটারির মাধ্যমে বন্টন করা হয় স্টল। তিনজন মহিলাও বাজি বাজারে অংশ নিবেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন প্রশাসনিক আধিকারিক ও জনপ্রতিনিধিরা ।
বাজি বাজারে পাওয়া যাবে পরিবেশ বান্ধব গ্রীন ক্রেকার বাজি।

Share This
Categories
বিবিধ রিভিউ

গড়বেতা সাহিত্য সংসদের ‘গনগনি’- শারদ সংখ্যার চতুর্থ বর্ষের লিপি বন্ধন উন্মোচন হলো গড়বেতার এক বেসরকারি আবাসনে।

পশ্চিম মেদিনীপুর, নিজস্ব সংবাদদাতাঃ- পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার গড়বেতা সাহিত্য সংসদের ‘গনগনি’- শারদ সংখ্যার চতুর্থ বর্ষের লিপি বন্ধন উন্মোচন হলো গড়বেতার এক বেসরকারি আবাসনে।এইদিন এই অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করেন গড়বেতার বিধায়ক উত্তরা সিংহ হাজরা। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সাহিত্য সংসদের সভাপতি বিশিষ্ট সাহিত্যিক সুভাষ চট্টোপাধ্যায়।লিপি উন্মোচন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শান্তনু দে,দোলন কর হাজরা,নির্মল চালক,মিঠু প্রতিহার,দেবদুলাল মন্ডল,সৌমেন দত্ত,দোলন তেওয়ারি দে,সুপ্রিয়া কুণ্ডু,অনির্বাণ পাল, কৃষ্ণা চন্দ্র,সুস্মিতা রানা পাল,কাঞ্চন দে,কুন্তল তেওয়ারি,মৃন্ময় কোলে,অপূর্বা মিশ্র, স্বর্নেন্দু ব্রহ্ম, লক্ষ্মণ মাইতি,অনির্বাণ চট্টোপাধ্যায়,সম্পাদক রাজীব ঘোষ সহ জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা কবি – সাহিত্যিকদের উপস্থিতিতে।নাচ -গান,কবিতা পাঠে সভাগৃহ বর্ণময় হয়ে উঠে।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

জীবন ও সংগ্রাম : গ্রাম থেকে শহরে সংগ্রামে ও শপথে অধ্যাপক মহীতোষ গায়েন।

অবিভক্ত চব্বিশ পরগনার ৫২টি স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত বিনোদ বিহারী গায়েনের কনিষ্ঠ পুত্র মহীতোষ।পঞ্চম শ্রেণিতে হাফ প্যান্ট পরে বন্ধুর সঙ্গে নদী তীরে মাছ ধরার আনন্দ,অন্যের দোকান ঘর পাহার দেওয়া, নদীতীরে মোটর বোট তুলতে বড়দের সঙ্গে শ্রমের শরিক হয়ে ৪টাকা উপার্জন ছিল বড়ই আনন্দের,
এটিই ছিল তার জীবনের প্রথম উপার্জন,তখন ৪টাকা মানে বেশ খুশি হওয়ার মত।ষষ্ঠ শ্রেণিতে অন্যের বাড়িতে থেকে মাঝে মধ্যে গোয়াল ঘরে শোওয়ার নিয়তি যার কৈশোরে । পঞম শ্রেণিতে বাবা ভর্তি করেন বাবারই প্রতিষ্টিত স্কুল সন্দেশখালি রাধারাণী হাইস্কুলে।সন্দেশখালিতে বাবার হাতে গড়া শিক্ষক হরিবিলাস সিংহের বাড়িতে বাবা রেখেছিলেন। সেখানেই পড়া শুরু। জ্বর অবস্থায় একা একা বাড়িতে ছেড়ে দেওয়ার কারণে তার বাবা ষষ্ঠ শ্রেণিতে
ছোট মোল্লাখালি স্কুলে ভর্তি করেন,সেখানে জামাইবাবুর বাড়িতে থাকা, কিন্তু রাজনৈতিক সন্ত্রাসের কারণে পুণরায় সন্দেশখালিতে, আবার অষ্টম শ্রেণিতে কালীননগর স্কুলে বাবা ভর্তি করেন, সেখানে হস্টেলে থেকে পড়াশোনার জন‌্য।
অর্থ সঙ্কটের কারণে অষ্টম, নবম ,দশম শ্রেণিতে পড়ার সময় খিদের জ্বালায় স্কুল সংলগ্ন যাত্রাপালার মাঠে বাদাম কুড়িয়ে খেতে হয়েছে, সকাল বেলায় প্রার্থনার পর হস্টেলের অবস্থাপন্ন দাদাদের টিফিন এনে দেওয়ার বিনিময়ে খাবারের ভাগ পাওয়ার আনন্দের লড়াই ছিল অবশ্য তার বেদনার তৃপ্তি।
যদিও এই অর্থ সংকটের মধ্যে পড়াটাও এক নির্মম নিয়তি। বাবা ছিলেন সুন্দরবনের স্থানীয় এক স্কুলের প্রধান শিক্ষক। মাত্র ৮বছর শিক্ষকতা করে সুন্দরবন তথা অবিভক্ত ২৪ পরগনার মানুষদের মধ্যে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে,সমাজ গড়ার কাজের জন্য স্বেচ্ছায় চাকরি ছেড়ে দিলেন, সংসারে নেমে এলো তীব্র অর্থ সংকটের কালোমেঘ। তীব্র প্রতিকূলতাকে জয় করে একে একে ৫২টি স্কুল গড়ে তুললেন তিনি।

মহীতোষের কথায়- “আমাদের সব কষ্ট জল হয়ে গেল মানুষের কল্যাণে বাবার এই ব্রত ও সমাজকল্যাণকর কাজে।জমি জমা এক এক সব বিক্রি হয়ে গেল,কাজের বিনিময়ে কোন অর্থ নিতেন না বাবা।কালীনগর হস্টেলে অষ্টম শ্রেণি থেকে থাকতাম,স্টাইপেন্ড পেতাম,সে টাকা থেকে হস্টেলে মাসের থাকা খাওয়ার খরচের টাকা কেটে নেওয়া হত,কারণ বাবার আর্থিক সঙ্গতি ছিল না মাসের টাকা দেওয়ার মতো,কারণ তিনি যে পরোপকারী সংসার সন্ন্যাসী।একদিন এক রুমমেট এর সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। তুচ্ছ এই কারণে সুপারের ঘরে ডেকে আমাকে বেত দিয়ে ভীষণ প্রহার করা হয়,মারতে মারতে সেই শিক্ষকের মুখ দিয়ে বেরিয়ে পড়ে এক অদ্ভুত বাণী,”বিনা পয়সায় খেতে লজ্জা করে না, টাকা দিতে পারিস না আবার বাহাদুরি?” তিনি ছিলেন জীবনবিজ্ঞানের শিক্ষক,নামটি আর বলছি না,
সেদিন থেকেই আমার তীব্র জেদ বাসা বাঁধে রক্তে, রক্ত গরম হয়ে যায়,মুখ বুজে নির্মম প্রহার সহ্য করেছি, সেদিন থেকেই শপথ নিলাম আমাকে কিছু একটা করে দেখাতে হবে।মাধ্যমিকের টেস্ট পরীক্ষা অংকে মাত্র ১৩পেয়েছিলাম (Unlike thirteen ).। বাবাকে ডেকে পাঠানো হয়। প্রধান শিক্ষক বলেন,” স্যার ,(প্রধান শিক্ষক ছিলেন শশাঙ্ক শেখর মন্ডল, যিনি বাবারই ছাত্র ছিলেন) আমরা কোন বিষয়ে ফেল করা ছাত্রদের হস্টেলে রাখি না,কারণ এতে স্কুলের বদনাম হয়। বাবা বলেছিলেন, ছেলেকে আমি নিয়ে যাব ঠিকই, কিন্তু যাওয়ার আগে একটা কথা বলে যাই,” শশাঙ্ক, আমার মাথা খারাপ(বুদ্ধি) তা আমার ছেলের মাথা আর কত ভালো হবে?” আর ঠিক সেদিন মাথায় বিদ্যুৎ চমকে ওঠে, কঠিন প্রত্যয়ে মনে মনে স্থির করি, কিছু একটা করতেই হবে, প্রধান শিক্ষককে ছাপিয়ে যেতে হবে ।মনের অগোচরে তীব্র জেহাদ কষ্টের মধ্যে থেকে বাড়তে লাগলো । যথারীতি মাধ্যমিক পাশ করলাম ৫৪ শতাংশ নম্বর পেয়ে, অংকে ৪৫ পেলাম, গুরুদেব শিক্ষক দিলীপ দেববর্মণ এর কাছে শিখলাম গ্রাফ ও মিডল টার্ম ফ্যাক্ট, ভালো করে রপ্ত করলাম, এই গুরুদেবই আমার কৈশোরের মন্ত্রদাতা পুরোহিত।তখন জীবনের অংকে সমানে পীড়া দিচ্ছে, বিজ্ঞান নিয়ে পাটানখালি কলেজে ভর্তি হলাম,তখন থেকেই ছাত্র রাজনীতিতে, নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে ড্র,পরে Re Counting ১ভোটে হারিয়ে দেওয়া হলো, পরীক্ষায় রেজাল্ট খারাপ হলো অগত্যা বাড়ি ছেড়ে অজানার উদ্দেশ্যে পালাতে হলো,৩/৪ দিন পর মা এর কান্না আর দাদার সন্ধ্যানে ধরা দিয়ে বাড়ি ফিরলাম। এবার নতুন উদ্যমে তৈরি হওয়ার জন্য আদা জল খেয়ে লাগার পালা। দক্ষিণ বারাসত কলেজে দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়ার সময়ে মেসের মালিক দিলীপ পুরকাইতের বদান্যতায় ভোটের সময় সেক্টর অফিসে এক দিনের হোম গার্ড হয়ে ৩৫০ টাকা আমার দ্বিতীয় উপার্জন, কাউকেই যেন সেই তৃপ্তি পেতে না হয়,ঈশ্বরের কাছে এ আমার করুণ আর্তি!!! এক জামা এক প্যান্ট অর্থাৎ ছেঁড়া স্কুল ড্রেস পরে শীত গ্রীষ্ম অতিবাহিত করা, পুজোর সন্ধ্যায় রাস্তার ধারে বসে নতুন পোশাকের এর আশায় অশ্রু মিশ্রিত স্বপ্নময় আনন্দরা মিছিল করে মন ও মননে আজও ধাক্কা দেয়,এখনো বঞ্চনা ও মর্যাদার লড়াই চলছে আজও এবং অবিরত।” তাই মরমী
কবি জয় গোস্বামীর কবিতার লাইন মনে পড়ে আজও বারবার….
” ঝাড় খেতে খেতে শেষ হয়ে গেছি
ঝাড় খেতে খেতে শুরু;
অনেক কষ্টে উঠে দাঁড়িয়েছি গুরু”।
তবে আমার এই উঠে দাঁড়ানো কারো ঈর্ষা ও হিংসার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে ,যা কাম্য নয়, মাঙ্গলিক বীণার তারটা বারবার ছিঁড়ে যাচ্ছে , ভুবনভাঙার মাঠে একটি পঞ্চম শ্রেণির ছোট্ট ছেলের কান্না কেউ না শুনতে পেলেও চরাচর,আকাশ,বাতাস, বাংলার মাঠ -ঘাট ,ফুল,পাখি ও নদী আজও স্বাক্ষ‌্য বহন করে চলছে।অনন্ত গোধূলিতে আজও সে সুর অদৃশ্য হয়ে বেড়ায়।”
“সবার জন্য শুভকামনা জানিয়ে বলতে হয়…
আমি ঈশ্বরের সৃষ্টি ,কালের রাখাল। তবে মানুষের মঙ্গলের জন্য দরকার রাজনৈতিক স্বীকৃতি অর্থাৎ জন প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ, যদি তার সারবত্তা কতখানি তার হদিস হয়তো ঈশ্বরেরও জানা নেই।
আমার শ্রদ্ধেয় শিক্ষক প্রথিতযশা কবি সুবোধ সরকারের কবিতা মনে পড়ে “দুঃখ ছিল গ্রামেও কিন্তু রাগ ছিল না নিশীথ কালে/যে দুঃখটা ভারত জুড়ে,সে দুঃখটা চালে ডালের” সেই দুঃখ কীভাবে মোচন হবে জানি না,তবে অপেক্ষায় রইলাম কালের রাখালের মত”
মহীতোষ উচ্চ মাধ্যমিকে ভালো রেজাল্ট করে কলকাতার সিটি কলেজ থেকে ইতিহাসে অনার্স নিয়ে পাস করে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৯৪ সালে এম.এ পাস করে। ছাত্র রাজনীতিতে তখন তার দাপট,পর পর দু’বার ছাত্র সংসদের নির্বাচিত হয়েছেন।এরপর কর্মসংস্থান এর খোঁজ, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের এমফিলে ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম হয়েও চান্স না পেয়ে রীতিমতো চ্যালেঞ্জ করে, আন্দোলন করে ভর্তি হলেন এম.ফিলে ,সোনারপুর মেসে থেকে চাকরির পড়াশোনা করতে করতে অন্ন সংস্থানের জন্য দিশা না পেয়ে বাণীপুর বিএড কলেজ ভর্তি,এম.ফিল ডিগ্রি অর্জন আর হলো না দৈব দুর্বিপাকে।বাণীপুর বিএড কলেজ থেকে ফাস্ট ক্লাস পেয়ে বন্ধুর সহায়তায় অশোকনগরে একটি এক কামরার ছোট্ট ঘরভাড়া নিয়ে নিজের হাতে রান্না করে খেয়ে সারা দিন রাত টিউশনি করে খরচ চালাতে থাকলেন, ইতোমধ্যেই এম.এ ক্লাসের সহপাঠী মৌসুমীকে রেজিস্ট্রি করে বন্ধনে জড়িয়ে পড়লেন। টিউশনি করে খরচ চালাতে শুরু করলেন। এভাবেই দিন কাটছিল, হঠাৎ এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ থেকে কল পেয়ে অশোকনগর বয়েজ সেকেন্ডারি স্কুলে শিক্ষকতার চাকরি পান ১৯৯৭ এর নভেম্বরে,তার আগেই এপ্রিল মাসে সামাজিক ভাবে বিবাহ সম্পন্ন হয়। অশোকনগর বয়েজ সেকেন্ডারি স্কুলে সুনামের সাথে শিক্ষকতা করেন দীর্ঘ সাড়ে ১২ বছর, শিক্ষক রাজনীতিতে পূর্ণমাত্রায় জড়িয়ে পড়লেন, স্কুল শিক্ষকতা করতে করতে সেট পরীক্ষায় ইতিহাসে ৩৯জনের মধ্যে ১৩তম স্থান পেলেন ২০০৮ এ , কলেজ সার্ভিস কমিশনে ইন্টারভিউ দিয়ে উত্তীর্ণ হয়ে ২০১০- এর এপ্রিলে হুগলির শ্রীরামকৃষ্ণ সারদা বিদ্যামহাপীঠ (কামারপুকুর কলেজ) অধ্যাপনা শুরু করেন, ইতিহাসের অধ্যাপক হিসেবে। ২০১৫-১৬ কামারপুকুর কলেজ তখন ছাত্র রাজনীতির গোষ্ঠী দ্বন্দ্বে জেরবার। মারামারি রক্তপাত দেখে স্থায়ী প্রিন্সিপাল চাকরিতে ইস্তফা দিয়ে পুরানো কলেজ চলে গেলেন,তখন ছাত্র ভর্তি চলছে। কেউ ভয়ে টিচার ইনচার্জ হতে চাইলেন না,সবাই Un Willing দিলেন, অগত্যা ১৪নম্বর সিনিয়র হিসেবে মহীতোষ দায়িত্ব নিলেন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের,২০১৬ এর ৫অক্টোবর,১০ মাস সেই দায়িত্ব নিষ্ঠার সাথে পালন করলেন, গোষ্ঠী দ্বন্দ্ব সূকৌশলে বন্ধ করে কলেজের স্থিতাবস্থা ফেরালেন, উচ্চ শিক্ষা দপ্তর থেকে ৩৬ লক্ষ টাকা অনুদান যোগাড় করলেন, কলেজে সিসি ক্যামেরা বসালেন, নতুন বিল্ডিং হলো সেই অর্থে, ৮ জন
শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী দীর্ঘ ৮বছর ধরে কাগজপত্রের সমস্যার জন্য পেনশন পাচ্ছিলেন না, তারই অদম্য প্রয়াসে তাঁরা পেনশন পেলেন, ফুলের বাগান করলেন,আজকের কামারপুকুর কলেজের যে সাজানো পরিপাটি রূপ,তা তাঁর অবদান,মাত্র ১০ মাস ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ থাকাকালীন বাড়ির পাশে আসার জন্য ।কলেজ সার্ভিস কমিশনে ইন্টারভিউ দিয়ে ২০১৭ সালের ৬জুলাই সিটি কলেজ এ জয়েন করলেন,২০২২ এর মে মাসে হায়ার এডুকেশন কাউন্সিল বিলের এক ধারা অনুযায়ী উচ্চ শিক্ষা দপ্তর থেকে ভাইস প্রিন্সিপাল এর নিয়োগপত্র পেলেন। ভাইস প্রিন্সিপাল হওয়াতে সবচেয়ে খুশি হয়েছিলেন তার কলেজের প্রিয় শিক্ষিকা শর্মিলা রায় ও প্রিয় শিক্ষক প্রথিতযশা কবি সুবোধ সরকার। বর্তমানে মহীতোষ সেখানেই কর্মরত ,২০২৫ এ দীর্ঘ ২৮ বছর তার এই শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা।

এবার আসি তার সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক জীবনের বর্তমান দ্বিতীয় অধ্যায়ের। তার বাবা কংগ্রেস রাজনীতি করতেন ইউনিয়ন বোর্ডের প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হয়ে দীর্ঘ ১৫ বছর সন্দেশখালি ইউনিয়ন বোর্ডের দায়িত্ব সামলেছেন। দীর্ঘ ১৪ বছর ছিলেন আলিপূর জাজেস কোর্টে জুরির বিচারক। এরপর পর কংগ্রেস রাজনীতিতে বীতশ্রদ্ধ হয়ে মনোরঞ্জন শূরের আহ্বানে সিপিআই তে যোগ দেন।১৯৭১ সালে হিঙ্গলগঞ্জ কেন্দ্রে টিকিট পান। কিন্তু সিপিএম -এর ভোট জালিয়াতির শিকার হন, বিনোদ বিহারীর পক্ষে পড়া ভোটের ব্যালট বাক্স সিপিএম পুকুরে ফেলে দিয়ে মাত্র একহাজার ভোটে জালিয়াতি করে বিনোদ বিহারীকে হারায় । ২০১১-র জানুয়ারিতে মহীতোষ এর পিতা প্রয়াত হন।২০১১ তে ভোট আসন্ন, বাংলায় পালা বদলের বছর এটি। সিপিআই এর সাংসদ গুরুদাস দাশগুপ্ত সিপিআই এর উত্তর ২৪ পরগনা জেলা সম্পাদক স্বপন ব্যানার্জীকে প্রস্তাব দিলেন ,বিনোদদা এতগুলো স্কুল করেছেন, দক্ষ রাজনীতিবিদ, ভালো মানুষ তার কনিষ্ঠ পুত্র কামারপুকুর কলেজের অধ্যাপক, ছাত্র ও শিক্ষক রাজনীতিতে দক্ষ, সুবক্তা ও বিনয়ী তাকে এবার হিঙ্গলগঞ্জ কেন্দ্রের টিকিট দেওয়া হোক ।স্বপন ব্যানার্জী বললেন, ওনার ছেলে সিপিআই এর পার্টি মেম্বার নয় , সিপিএম এর পার্টি মেম্বার নয়,পত্রপাঠ খারিজ হলো প্রস্তাব। বিনোদ বিহারীর রাজনৈতিক শিষ্য পার্টি মেম্বার আনন্দ মন্ডল যথারীতি টিকিট পেলেন, মন্ত্রী গৌতম দেবও বলেছিলেন সিপিআই নেতাদের, ‘আপনাদের প্রার্থী নির্বাচন ঠিক হয়নি, আনন্দ মন্ডল এর নামে কেসও আছে।তাই মহীতোষকে টিকিট দেওয়া হোক ,সে স্বচ্ছ ভাবমূর্তির লড়াকু অধ্যাপক’, সিপিআই নেতৃত্ব আরো রেগে আনন্দ মন্ডলকেই টিকিট দিলেন। আনন্দ মন্ডল অবশ্য বিনোদ গায়েনের ভাবমূর্তি ভাঙিয়ে খুলনা অঞ্চলের ১হাজার ভোটে জয়ী হন।
মহীতোষ বামফ্রন্টের প্রতি তীব্র অসন্তুষ্ট হয়ে
কংগ্রেস দলে যোগ দেন ২০১২ তে এবং সন্দেশখালি ২ নম্বর ব্লক কংগ্রেসের সহ সভাপতি পদ দেন সভাপতি অনিল সরকার। তৃণমূল কংগ্রেস একক সংখ্যাগরিষ্ঠতায় জয়লাভ করলো,৩৪ বছরের বাম জমানার অবসান ঘটিয়ে জননেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হলেন মুখ্যমন্ত্রী।

মহীতোষ অবশ্য ২০১২ র ডিসেম্বরে ওয়েবকুপার প্রথম রাজ্য সম্মেলনের থেকে অর্থাৎ ওয়েবকুপার শুরু থেকেই ওয়েবকুপা করছেন। ওয়েবকুপার তখন তত্ত্বাবধায়ক, শিক্ষা সেলের দায়িত্বে মুকুল রায়, কৃষ্ণকলি বসু হলেন প্রেসিডেন্ট। শিক্ষামন্ত্রী তখন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। মহীতোষ ইতিমধ্যেই কামারপুকুর কলেজের ওয়েবকুপার ইউনিট কনভেনার নির্বাচিত হন। ২০১৩ সালে পঞ্চায়েত নির্বাচন এসে গেল, কংগ্রেসের প্রদীপ ভট্টাচার্য্যের নজরে আসেন মহীতোষ, তিনি বলেন, “আপনি ভালো অধ্যাপক, এখন পঞ্চায়েত নির্বাচন, আপনি আমাদের প্রার্থী হন’
পঞ্চায়েত সমিতির প্রার্থী হিসেবে টিকিট দিলেন মহীতোষকে, কংগ্রেস সংগঠন তখন খুব দূর্বল জেনেও ভালো ফল করলেন, দীর্ঘ বছর জেতা সিপিএম প্রার্থী তপন প্রামাণিক সেই কারণেই পরাজিত হন,ফলে তৃণমূল জয়লাভ করলো। তখন
সন্দেশখালি তৃণমূল কংগ্রেসের ২নম্বর ব্লক সভাপতি লক্ষ্মন অধিকারী, তিনি মহীতোষকে ও কংগ্রেসের স্থানীয় শিক্ষক সঞ্জয় মন্ডলকে তৃণমূলে যোগ দিতে আহ্বান জানান, তিনি ভালো ফল করার জন্যে মহীতোষকে ও সঞ্জয়বাবাবুকে সন্দেশখালিতে এক বিরাট সমাবেশে সুন্দরবন উন্নয়ন মন্ত্রী মন্টুরাম পাখিরা দুজনের হাতে তৃণমূল কংগ্রেসের পতাকা তুলে দিলেন ,মহীতোষকে জয়েন্ট সেক্রেটারি ও সঞ্জয়বাবাবুকে সহ সভাপতির পদ দিলেন। মহীতোষ তখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাবাদর্শে উদ্দীপ্ত হয়ে চুটিয়ে মিটিং, মিছিল পথসভা করে যাচ্ছেন। প্রতি সপ্তাহে পার্টি অফিসে বসছেন। ইতিমধ্যে বছর অতিক্রান্ত হলো, একদিন পার্টি অফিসে গিয়ে জানতে পারলেন তাকে সহ আরো ১৩ জনকে ব্লক থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিনা নোটিশে না জানিয়ে বিনা কারণে এই ঘটনায় খুব দুঃখ পেলেও অসন্তোষ প্রকাশ না করে পার্টি অফিসে যাওয়া বন্ধ করে দিলেও দলের কর্মসূচিতে যোগ দিতেন মহীতোষ,দলকে ভালোবেসে ,জননেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি আকর্ষণ ও মুগ্ধতা থেকে দল ছাড়েন নি, সেই থেকেই আজও একনিষ্ঠ ভাবে দলের কাজ করে যাচ্ছেন অক্লেশে। মহীতোষ অবশ্য মনস্থির করলেন স্থানীয় রাজনীতিতে আবিষ্ট না থেকে অধ্যাপক সংগঠনটা ভালো করে করি,যা ভাবা তাই কাজ, সেই ২০১২ থেকেই শুরু করে ২০১৩ থেকে রাত দিন এক করে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে তৈরি লোগো, দলনেত্রীর স্বপ্নের ওয়েবকুপার তিনি আজও অতন্দ্র নিষ্ঠাবান স্বচ্ছ ভাবমূর্তির সৈনিক, মিটিং মিছিল,দলের হয়ে নির্বাচনী প্রচারে সদা ব্যস্ত তিনি, নিজের কর্নিমষ্ঠার দ্বারা রাজ্য কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত হলেন, সমস্ত সাংগঠনিক কর্মসূচিতে তিনি আজও সক্রিয়। ২০২১ এর নতুন রাজা কমিটিতে অ্যাসোসিয়েট সেক্রেটারি হলেন মহীতোষ। শিক্ষা সেলের চেয়ারম্যান তখন অধ্যাপক ব্রাত্য বসু।২০২৪ সালে অধ্যাপক ব্রাত্য বসু দায়িত্ব পেলেন ওয়েবকুপার নতুন সভাপতির, তার নেতৃত্বে ওয়েবকুপায় এলো প্রাণের সঞ্চার,রাজ্য সম্মেলন হলো গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে।সহ সভাপতি তখন মণিশঙ্কর মন্ডল ও সুমন বন্দ্যোপাধ্যায়, মণিশঙ্কর মন্ডল নানান সাংগঠনিক বিশৃঙ্খলায় যুক্ত,নতুন রাজ্য কমিটি গঠিত হলো। নতুন রাজ্য কমিটিতে মণিশঙ্কর মন্ডল তার সাংগঠনিক শৃঙ্খলা অবমাননার জন্য বাদ পড়লেন ,সহ সভাপতি হলেন্ সেলিমা বক্স মন্ডল ও সুমন বন্দ্যোপাধ্যায়।। ২০২৫ এর ৭ ফেব্রুয়ারি নবরূপে অধ্যাপক ব্রাত্য বসুর নির্দেশনায় নতুন রাজ্য কমিটি পুনর্গঠন হলো দলের অনুমোদনে, জেনারেল সেক্রেটারি হলেন কৃষ্ণকলি বসু, যিনি আজ প্রয়াত, নতুন সভাপতি অধ্যাপক ব্রাত্য বসু ,সহ সভাপতি বাড়ালেন তিনি ,৩জন সহসভাপতির মধ্যে জায়গা পেলেন মহীতোষ।ওয়েবকুপায় এলো নবজাগরণ,
১মার্চ যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হলো ৫হাজার অধ্যাপকদের নিয়ে বার্ষিক সাধারণ সভা ও সেমিনার।
যা ওয়েবকুপার ইতিহাসে প্রথম নিদর্শন।
সেদিনের ঘটনা রাজ্য রাজনীতিতে সাড়া ফেলে দেয়, অধ্যাপক ব্রাত্য বসুর উপর হলো হুলিগানদের আক্রমণ, তিনি আহত হলেন।মহীতোষ, অধ্যাপকদের নিয়ে মিছিল করলেন।অতি অল্প সময়ে ৩৫টি সাংগঠনিক জেলা কমিটি ও ২২টি বিশ্ববিদ্যালয় কমিটি গঠিত হলো। সভাপতির নির্দেশনায়। হঠাৎ করে ২৫সেপ্টেম্বর দল নানা অভিযোগে শিক্ষা সেল ভেঙে পুজোর পর নতুন রাজ্য ও জেলা কমিটি গঠনের ঘোষণা করলো দলীয় ভাবে।

মহীতোষ ২০১৪ থেকেই ২০২৪ এর সমস্ত নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর হয়ে মিটিং, মিছিল, জনসভায় পথসভায় বক্তব্য রাখা, দলের হয়ে নিরবধি কাজ করে যেতে থাকলেন বিভিন্ন জেলায় জেলায় বিভিন্ন দলীয় ও সাংগঠনিক কর্মসূচিতে নিবেদিতপ্রাণ মহীতোষ । দলের কাছে কখনোই কোনো পদের জন্য দাবি করেন নি। অত্যন্ত বিনয়ী, বিচক্ষণ, দক্ষ এহেন অধ্যাপক দলের ও সংগঠনের সব কাজে ঝড়,জল, বৃষ্টিতে দিবারাত্র তার পেশাগত দায়িত্ব পালন করেও অবিরাম অবিরত দীর্ঘ ১২ বছর ধরে জননেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও জননেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলীয় আদর্শকে পাথেয় করে একনাগাড়ে আজও করে চলেছেন দল ও সংগঠন। পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষা, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক জগৎ -এ এক নিষ্ঠাবান, স্বচ্ছ ভাবমূর্তির সুপরিচিত মুখ তিনি ,এজন্যই সংগঠনের অধিকাংশ অধ্যাপকের প্রিয় ও ভালোবাসার পাত্র তিনি।
শুধুমাত্র এই আত্মতুষ্টিতে থাকবেন তিনি?শিক্ষা, সংগঠন, দলের কোন গুরুত্বপূর্ণ পদ বা জনপ্রতিনিধিত্ব করার দাবি কখনো করেন নি বা চান নি তিনি বা সে বিষয়ে কোনো প্রস্তাবও দলীয় ভাবে আসে নি কখনো। জননেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়,দল নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি ও সাংগঠনিক ঊর্ধ্ব নেতৃত্বের প্রতি পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস আছে তার। তাদের ভালোবাসা, শ্রদ্ধা নিবেদন এবং দলীয় ও সাংগঠনিক কাজ করে যাচ্ছেন নীরবে এক যুগ ধরে তিনি।এই আত্মতুষ্টি নিয়েই কী কাটবে কর্মযোগী জনহিতৈষী এই অধ্যাপকের বাকিটা জীবন? নাকি ২৯৪ এর কোন কেন্দ্রে প্রার্থী হিসেবে দেখা যাবে তাকে বা কোন গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে, মা মাটি -মানুষের গুঞ্জনে ,সেই প্রশ্ন ভুবন ডাঙার মাঠে অনুরণিত।

কলমে : হিমাদ্ৰী শেখর মণ্ডল,দিব্যেন্দু সরকার ও রাজীব দত্ত।

(সন্দেশখালি,কামারপুকুর, কলকাতা )

Share This
Categories
প্রবন্ধ বিবিধ রিভিউ

গোয়ার দুধসাগর জলপ্রপাত – প্রকৃতির এক বিস্ময়।।

গোয়া মানেই সাধারণত বিচ, নাইটলাইফ আর পার্টি কালচার – কিন্তু প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য গোয়ার অন্যতম রত্ন হলো দুধসাগর জলপ্রপাত (Dudhsagar Waterfalls)। পশ্চিমঘাট পর্বতের কোলে অবস্থিত এই জলপ্রপাত যেন প্রকৃতির এক অপূর্ব উপহার, যা প্রতি বছর অসংখ্য পর্যটককে তার দিকে টেনে আনে।


🏞️ অবস্থান ও সৌন্দর্য

দুধসাগর জলপ্রপাত গোয়া ও কর্ণাটকের সীমান্তে অবস্থিত। এটি ভারতের অন্যতম উঁচু জলপ্রপাত – প্রায় ৩১০ মিটার (১০১৭ ফুট) উঁচু থেকে জল নেমে আসে চার ধাপে। দূর থেকে তাকালে মনে হয় যেন পাহাড় বেয়ে দুধের স্রোত নেমে আসছে, তাই এর নাম “দুধসাগর” – অর্থাৎ দুধের সাগর

বর্ষার সময় যখন মন্ডোভী নদীর জলপ্রবাহ তীব্র হয়, তখন জলপ্রপাতের সৌন্দর্য চরমে পৌঁছায়। চারপাশের সবুজ বন, ঝোপঝাড় আর পাহাড়ের গর্জন মিলিয়ে এক স্বর্গীয় দৃশ্য তৈরি করে।


🚆 যাত্রা ও রোমাঞ্চ

দুধসাগর ভ্রমণের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর অংশ হলো সেখানে পৌঁছানো।

  • ট্রেনপথে: মাদগাঁও থেকে কোল্লেম (Kulem) বা কাসেলরক (Castle Rock) পর্যন্ত ট্রেন ধরে তারপর জঙ্গলপথে হেঁটে যাওয়া যায়। অনেকেই ট্রেনের জানলা থেকে জলপ্রপাতের দৃশ্য দেখতে পছন্দ করেন।
  • জিপ সাফারি: কোল্লেম থেকে জিপ সাফারি নিয়ে জঙ্গলের মধ্য দিয়ে অ্যাডভেঞ্চার ভ্রমণের অভিজ্ঞতা পাওয়া যায়।

🐾 প্রকৃতি ও বন্যপ্রাণী

দুধসাগর জলপ্রপাত ভগবান মহাবীর ওয়াইল্ডলাইফ স্যাংচুয়ারির অংশ। তাই এখানে বানর, হরিণ, পাখি, এমনকি বন্য মোষের ঝাঁকও দেখা যায়। প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য এটি এক স্বর্গরাজ্য।


📸 ফটোগ্রাফির স্বর্গ

জলপ্রপাতের কাছাকাছি গেলে চারপাশে জলকণা ছড়িয়ে পড়ে, যা এক অদ্ভুত অনুভূতি তৈরি করে। এখানে দাঁড়িয়ে ছবি তোলা, ভিডিও করা এক অনন্য অভিজ্ঞতা – বিশেষত ট্রেন যখন জলপ্রপাতের সামনের সেতু পেরিয়ে যায়, তখন সেই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরার জন্য অনেক পর্যটক অপেক্ষা করে।


🏖️ ভ্রমণ টিপস

  • সেরা সময়: জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর (বর্ষাকাল) – জলপ্রপাত তখন সবচেয়ে মনোমুগ্ধকর থাকে।
  • নিরাপত্তা: বৃষ্টির সময় পিচ্ছিল পথ সাবধানে চলতে হবে।
  • প্রস্তুতি: সঙ্গে জলরোধী ব্যাগ, হালকা খাবার ও ক্যামেরা রাখতে ভুলবেন না।

🏁 উপসংহার

দুধসাগর জলপ্রপাত শুধু একটি প্রাকৃতিক বিস্ময় নয়, এটি এক অনন্য অ্যাডভেঞ্চার। জঙ্গলের পথ, পাহাড়ের সৌন্দর্য আর গর্জনরত জলপ্রপাতের দৃশ্য আপনার মনকে পরিপূর্ণ আনন্দ দেবে। গোয়া ভ্রমণে যদি একটু অফবিট অভিজ্ঞতা চান, তাহলে দুধসাগর জলপ্রপাত আপনার ট্রাভেল লিস্টে অবশ্যই থাকা উচিত।

Share This
Categories
প্রবন্ধ বিবিধ রিভিউ

গোয়ার মোলেম ন্যাশনাল পার্ক – প্রকৃতি ও বন্যপ্রাণীর স্বর্গ।।

গোয়ার নাম শুনলেই আমাদের চোখে ভেসে ওঠে সমুদ্রসৈকত, পার্টি আর রঙিন রাতের ছবি। কিন্তু যারা প্রকৃতিপ্রেমী, বন্যপ্রাণী দেখতে ভালোবাসেন এবং শান্ত-নিরিবিলি পরিবেশ খোঁজেন, তাদের জন্য গোয়া একটি আলাদা রত্ন লুকিয়ে রেখেছে – সেটি হলো মোলেম ন্যাশনাল পার্ক (Mollem National Park)। পশ্চিমঘাটের সবুজ অরণ্যের মাঝে অবস্থিত এই পার্ক প্রকৃতি, বন্যপ্রাণী এবং অ্যাডভেঞ্চারের এক অপূর্ব মেলবন্ধন।


📍 অবস্থান ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য

মোলেম ন্যাশনাল পার্ক গোয়ার দক্ষিণ-পূর্ব অংশে, কর্ণাটক সীমান্তের কাছে অবস্থিত। এটি বৃহত্তর ভগবান মহাবীর বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের অংশ। প্রায় ২৪০ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এই পার্কে ঘন অরণ্য, ছোট ছোট নদী, ঝর্ঝর ঝর্ণা এবং পাহাড়ের সারি মিলিয়ে এক অপরূপ দৃশ্য তৈরি করে।

সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো – এখান থেকেই শুরু হয় বিখ্যাত দুধসাগর জলপ্রপাতের ট্রেক


🐾 বন্যপ্রাণীর ভাণ্ডার

এই পার্ক প্রকৃত অর্থেই জীববৈচিত্র্যের এক স্বর্গ। এখানে আপনি দেখতে পাবেন –

  • স্তন্যপায়ী প্রাণী: বন্য মোষ, চিতা, বন্য শূকর, হরিণ, ভারতীয় বাইসন (গৌর), স্লথ বিয়ার
  • পাখি: মালাবার পিয়েড হর্নবিল, কিংফিশার, উল্লুক, প্যারাকিট
  • সরীসৃপ: কিং কোবরা, পাইথন, মনিটর লিজার্ড
  • প্রজাপতি ও পোকামাকড়: নানা রঙের প্রজাপতি ও অদ্ভুত কীটপতঙ্গ

🚙 ভ্রমণের অভিজ্ঞতা

মোলেম ন্যাশনাল পার্কে প্রবেশ করার জন্য কোল্লেম (Kulem) গ্রাম থেকে জিপ সাফারি বুক করা যায়। জিপে করে ঘন জঙ্গল পেরিয়ে যখন আপনি পার্কের ভেতরে প্রবেশ করবেন, তখন প্রকৃতির রহস্যময়তা আপনাকে ঘিরে ফেলবে।

অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমীদের জন্য এখানে রয়েছে –

  • ট্রেকিং ট্রেইল
  • বাইক রাইডিং রুট
  • বন্যপ্রাণী ফটোগ্রাফির সুযোগ

🌿 বিশেষ আকর্ষণ

  • দুধসাগর জলপ্রপাত: মোলেম থেকে জঙ্গলের ভেতর দিয়ে গিয়ে দুধসাগরের ঝর্ণার গর্জন উপভোগ করা এক অনন্য অভিজ্ঞতা।
  • তাম্বডি সুরলা মহাদেব মন্দির: ১২শ শতকের এই প্রাচীন মন্দিরটি এই পার্কের কাছেই অবস্থিত এবং গোয়ার ঐতিহাসিক স্থাপত্যের অন্যতম নিদর্শন।

🏖️ সেরা সময় ও ভ্রমণ টিপস

  • সেরা সময়: অক্টোবর থেকে মার্চ – আবহাওয়া শীতল ও আরামদায়ক থাকে।
  • কি নেবেন: দূরবীন, ক্যামেরা, হালকা খাবার, পর্যাপ্ত জল এবং আরামদায়ক জুতো।
  • নিরাপত্তা: গাইডের নির্দেশ মেনে চলা খুবই জরুরি, কারণ এটি বন্যপ্রাণীর এলাকা।

🏁 উপসংহার

মোলেম ন্যাশনাল পার্ক শুধুমাত্র একটি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য নয়, এটি প্রকৃতির এক উন্মুক্ত পাঠশালা। এখানে এসে আপনি বুঝতে পারবেন প্রকৃতির সৌন্দর্য ও বন্যপ্রাণীর সংরক্ষণ কতটা গুরুত্বপূর্ণ। সমুদ্রসৈকতের বাইরে গোয়ার এই সবুজ অরণ্যে একবার ঘুরে এলে আপনার ভ্রমণ হবে আরও রঙিন ও স্মরণীয়।

Share This
Categories
প্রবন্ধ বিবিধ রিভিউ

🌿 গোয়ার কোটিগাও ওয়াইল্ডলাইফ স্যাংচুয়ারি – প্রকৃতির এক অমূল্য রত্ন।।

গোয়া শুধুই সমুদ্রসৈকত, পার্টি এবং ইতিহাসের জন্য বিখ্যাত নয়; প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য গোয়ার অরণ্য এবং বন্যপ্রাণীর অভয়ারণ্যও এক অপূর্ব আকর্ষণ। এর মধ্যে অন্যতম হলো কোটিগাও ওয়াইল্ডলাইফ স্যাংচুয়ারি (Cotigao Wildlife Sanctuary)। এটি গোয়ার দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত এবং প্রকৃতি ও বন্যপ্রাণীর সঙ্গে এক অনন্য সংযোগ তৈরি করে।


📍 অবস্থান ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য

কোটিগাও ওয়াইল্ডলাইফ স্যাংচুয়ারি সাওসিমে এবং কর্নারিমের কাছে অবস্থিত। এটি প্রায় ২৯০ হেক্টর বিস্তৃত এবং ঘন সবুজ বনভূমি, পাহাড়ি পথ ও ছোট নদীর ছায়া মিলিয়ে এক শান্তিপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি করে। বনাঞ্চলের মধ্যে বিভিন্ন প্রজাতির টিক, সাল, হরিতকি এবং অন্যান্য অরণ্য গাছ দেখা যায়।

জঙ্গলপথে হাঁটার সময় চারপাশে পাখির কিচিরমিচির, ঝর্ণার কলকল শব্দ এবং গাছের ছায়া প্রকৃতিপ্রেমীদের মনকে ভরে দেয়।


🐾 বন্যপ্রাণীর বৈচিত্র্য

কোটিগাও স্যাংচুয়ারি মূলত বনাঞ্চল ও পাহাড়ি অঞ্চলের জন্য পরিচিত। এখানে রয়েছে –

  • স্তন্যপায়ী প্রাণী: চিতা, হরিণ, বুনো শূকর, বুনো মোষ, লাংউর বানর
  • পাখি: মালাবার হর্নবিল, কিংফিশার, প্যারাকিট, পাখির বিভিন্ন প্রজাতি
  • সরীসৃপ ও প্রজাপতি: পাইথন, মনিটর লিজার্ড এবং রঙিন প্রজাপতি

এছাড়া এখানে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর বনজ সম্পদএথনিক সংস্কৃতি পর্যটকদের জন্য একটি বিশেষ আকর্ষণ।


🚶‍♂️ ভ্রমণের অভিজ্ঞতা

কোটিগাও স্যাংচুয়ারি পুরোপুরি অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমীদের জন্য।

  • ট্রেকিং ট্রেইল: বনাঞ্চলের ভেতরে বিভিন্ন হাঁটার পথ রয়েছে যা ভ্রমণকে স্মরণীয় করে তোলে।
  • নেচার ওয়াক: গাইডের সঙ্গে হাঁটতে গেলে বনভূমির জীববৈচিত্র্য সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায়।
  • ফটোগ্রাফি: বন্যপ্রাণী ও জঙ্গলের ছবির জন্য এটি স্বর্গরাজ্য।

এখানে গেলে পর্যটকরা শহরের কোলাহল থেকে দূরে এসে প্রকৃতির মাঝে এক শান্তিপূর্ণ সময় উপভোগ করতে পারেন।


🌿 বিশেষ আকর্ষণ

  • প্রকৃতির সৌন্দর্য: পাহাড়ি বন, ছোট নদী ও ঝর্ণার সংমিশ্রণে এক অপূর্ব পরিবেশ তৈরি হয়।
  • বন্যপ্রাণী দেখা: কিছু পর্যটক ভাগ্যবান হলে চিতা, লাংউর বা পাখি খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ পান।
  • শান্তি ও প্রশান্তি: এটি একটি কম ভিড়ের স্থান, তাই প্রকৃতিপ্রেমীরা এখানে শান্তি ও নিরিবিলি উপভোগ করতে পারেন।

🏖️ ভ্রমণ টিপস

  • সেরা সময়: নভেম্বর থেকে মার্চ – আবহাওয়া শীতল ও মনোরম থাকে।
  • প্রবেশ সময়: সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা
  • টিপস: আরামদায়ক পোশাক, জুতো, ক্যামেরা এবং পর্যাপ্ত জল সঙ্গে রাখুন।

🏁 উপসংহার

কোটিগাও ওয়াইল্ডলাইফ স্যাংচুয়ারি গোয়ার একটি নীরব, সবুজ অভয়ারণ্য। যারা প্রকৃতির মাঝে সময় কাটাতে, বন্যপ্রাণী দেখার এবং শহরের কোলাহল থেকে পালাতে চান, তাদের জন্য এটি এক অমূল্য স্থান। এখানে এসে ভ্রমণকারীরা প্রকৃতির সঙ্গে এক গভীর সংযোগ অনুভব করেন এবং মনভরে শান্তি ও আনন্দ পান।

Share This