নীরবতার ভাষা।
কলেজের লাইব্রেরির শেষ কোণের টেবিলটায় প্রতিদিন এসে বসত মেয়েটা। সাদা সালোয়ার, চোখে গোল ফ্রেমের চশমা, আর সামনে সবসময় একটা খোলা খাতা। অর্ণব প্রথম দিন থেকেই লক্ষ্য করেছিল তাকে। অদ্ভুত ব্যাপার হলো, মেয়েটা কারও সঙ্গে কথা বলত না। শুধু মৃদু হেসে মাথা নাড়ত। একদিন লাইব্রেরিয়ান কাকু বললেন, — “ওর নাম তৃষা। ছোটবেলায় অসুস্থতার পর থেকে কথা […]
চাঁদের আলোয় প্রতিশ্রুতি।
গ্রামের শেষ প্রান্তে ছোট্ট নদীর ধারে একটা পুরোনো ঘাট ছিল। পূর্ণিমার রাতে সেখানে বসতে খুব ভালোবাসত নীল আর ঐশী। দু’জনেই স্বপ্ন দেখত— একদিন শহরে গিয়ে নিজেদের মতো একটা জীবন গড়বে। সেদিনও আকাশভরা চাঁদ। নদীর জলে রুপালি আলো ঝিলমিল করছে। ঐশী হঠাৎ বলল, — “যদি কোনোদিন আমরা আলাদা হয়ে যাই?” নীল মৃদু হেসে তার হাতটা ধরল। […]
শেষ ট্রেনের যাত্রী।
রাত তখন প্রায় বারোটা। শিয়ালদহ থেকে ছেড়ে যাওয়া শেষ লোকাল ট্রেনটা প্রায় ফাঁকা। অভ্র জানালার পাশে বসে ছিল। ক্লান্ত চোখে বাইরে অন্ধকার শহরটা দেখছিল সে। সারাদিনের কাজের পর এই নিঃশব্দ ট্রেনযাত্রাটুকুই যেন তার নিজের সময়। হঠাৎ পরের স্টেশনে এক মেয়ে উঠে এসে তার সামনের সিটে বসল। কালো শাল জড়ানো, ভেজা চুল, আর হাতে ছোট্ট একটা […]
হারিয়ে যাওয়া ডায়েরি।
পুরোনো বইয়ের দোকানটা শহরের এক কোণে আজও নিঃশব্দে দাঁড়িয়ে আছে। ধুলো জমা তাক, হলদেটে পাতা আর পুরোনো কাগজের গন্ধে ভরা ছোট্ট দোকানটায় খুব কম লোকই আসে। সেদিন বিকেলে বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচতে দোকানে ঢুকেছিল ঋতম। বই ঘাঁটতে ঘাঁটতে হঠাৎ একটা পুরোনো নীল ডায়েরি তার হাতে এলো। মলাটের ওপর ছোট করে লেখা— “যদি কখনো হারিয়ে যাই, […]
এক কাপ চায়ের গল্প।
কলকাতার পুরোনো এক গলির মোড়ে ছোট্ট একটা চায়ের দোকান ছিল। দোকানটার নাম কেউ জানত না, সবাই শুধু বলত— “কাকুর দোকান।” প্রতিদিন বিকেল পাঁচটায় সেখানে এসে বসত অর্ণব। এক কাপ লাল চা আর খবরের কাগজ— এটাই ছিল তার অভ্যাস। আর ঠিক সেই সময়েই আসত একটি মেয়ে। সাদা কুর্তি, কাঁধে ঝোলা ব্যাগ, মুখে অদ্ভুত শান্ত একটা হাসি। […]
নীল শাড়ির মেয়ে।
প্রতিদিন সকাল আটটার লোকাল ট্রেনে একই মেয়েটাকে দেখত সৌরভ। নীল শাড়ি, খোলা চুল, আর হাতে একটা সাদা ডায়েরি। জানালার পাশে বসে সে কখনো বাইরে তাকিয়ে থাকত, কখনো ডায়েরিতে কিছু লিখত। অদ্ভুত ব্যাপার হলো, পুরো ট্রেনে এত ভিড়ের মাঝেও মেয়েটার মধ্যে এক ধরনের নীরবতা ছিল। যেন সে অন্য এক জগতে থাকে। সৌরভ প্রতিদিন ঠিক তার উল্টো […]
ফেলে আসা বিকেল।
বহু বছর পর আজ আবার সেই মাঠটার পাশ দিয়ে হাঁটছিল অনির্বাণ। শহর বদলেছে, রাস্তা বদলেছে, শুধু পুরোনো বটগাছটা এখনও আগের মতো দাঁড়িয়ে আছে। এই মাঠেই প্রতি বিকেলে দেখা হতো তাদের। মেঘলা সবসময় আগে এসে বসে থাকত। হাতে একটা গল্পের বই, চুলে হালকা বাতাস। আর অনির্বাণ দৌড়ে এসে বলত, — “আবার এত তাড়াতাড়ি চলে এলে?” মেঘলা […]
অচেনা স্টেশনের মানুষ।
রাত প্রায় সাড়ে এগারোটা। ছোট্ট নির্জন স্টেশনটায় ট্রেন দাঁড়িয়ে আছে মাত্র পাঁচ মিনিটের জন্য। চারপাশে হালকা কুয়াশা, চায়ের দোকান থেকে ধোঁয়া উঠছে। ঈশিতা জানালার পাশে বসে বাইরে তাকিয়ে ছিল। হঠাৎ তার চোখ পড়ল প্ল্যাটফর্মের এক কোণে দাঁড়ানো একজন মানুষের দিকে। কালো শাল গায়ে, হাতে পুরোনো একটা ব্যাগ। লোকটা বারবার ট্রেনের প্রতিটা জানালার দিকে তাকাচ্ছিল, যেন […]
জানালার ওপারে তুমি।।
প্রতিদিন রাত ঠিক ন’টায় মীরা জানালার পাশে এসে দাঁড়ায়। সামনের বাড়িটার দ্বিতীয় তলার জানালায় তখন আলো জ্বলে ওঠে। সেখানে একটা ছেলে বসে থাকে। কখনো বই পড়ে, কখনো গিটার বাজায়, কখনো শুধু চুপচাপ বাইরে তাকিয়ে থাকে। দু’জনের কখনো কথা হয়নি। পরিচয়ও নেই। তবু অদ্ভুত এক অভ্যাস তৈরি হয়ে গিয়েছিল। মীরা অপেক্ষা করত আলো জ্বলার জন্য। আর […]
বৃষ্টিভেজা বারান্দা।
পুরোনো বাড়িটার ছোট্ট বারান্দায় আজও বৃষ্টি পড়লে মেঘলা এসে দাঁড়ায়। হাতে ধোঁয়া ওঠা চায়ের কাপ, চোখ দূরের রাস্তায়। এই বারান্দাতেই একদিন অর্ণব বলেছিল, — “যেদিন খুব একা লাগবে, বৃষ্টির দিনে এখানে দাঁড়িয়ে আমাকে মনে করো।” তারপর কেটে গেছে পাঁচ বছর। সম্পর্ক ভেঙেছে, শহর বদলেছে, মানুষ বদলেছে। শুধু বদলায়নি এই বারান্দা আর বৃষ্টির শব্দ। সেদিন সন্ধ্যায় […]