Categories
বিবিধ

বাংলা আবাসের ঘর জোটেনি, সঞ্চয়ে গড়া আশ্রয়ও পুড়ে ছাই—মানিকচকে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা।

মালদা, নিজস্ব সংবাদদাতা:— বোবা বিধবার বাড়িতে আগুন লেগে সমস্ত কিছু পুড়ে ছারখার।দুই বিধবা বোন একই ঘরে থাকে।ঘটনা সম্পর্কে জানা গেছে মালদার মানিকচক ব্লকের চৌকি মির্দাদপুর অঞ্চলের রাজনগর গ্রামে দুই বিধবা বোন মতেজা বেওয়া ও জরিনা বিবি একই ঘরে থাকেন। সোমবার রাতে পাটকাঠি দিয়ে উনুনে রান্না করেছিলেন। সেই উনুন থেকেই আগুন বাতাসে করে ঘরের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। বাড়িতে রাখা নগদ প্রায় ৩০ হাজার টাকা সহ বাড়ির সমস্ত সামগ্রী আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এ বাড়ি ও বাড়ি কাজ করে চলত দুই বিধবার সংসার।বিধবাদের কপালে বাংলা আবাস যোজনার ঘর না জুটেলে ও কিছু কিছু টাকা সঞ্চয় করে কোনো রকমে বসবাস করার মতো ভাঙা ইট ও বাঁশ দিয়ে একটি ঘর বানিয়েছিলেন।সেই ঘর আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায়। আগুন লাগার ঘটনা চারিদিকে চাউর হতে স্থানীয়রা হাত লাগাই আগুন নেভাতে। স্থানীয়দের সহযোগিতায় আগুন কিছুক্ষন পর নেভানো গেলেও কিছু বাঁচানো সম্ভব হয়নি।ঘটনা স্থলে সেই সময় পৌছায় মানিকচক থানার পুলিশ।

Share This
Categories
বিবিধ

চন্দ্রকোনারোড ও শালবনীতেও মিলল ট্রেনের নতুন স্টপেজ।।

পশ্চিম মেদিনীপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা:- পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার গড়বেতা,চন্দ্রকোনারোড, শালবনী স্টেশনে দীঘা-আসানসোল স্টপেজ দেওয়ার দাবি তুলেছিল খড়গপুর আদ্রা রেলওয়ে প্যাসেঞ্জার অ্যাসোসিয়েশন। অবশেষে রবিবার থেকে এইসব স্টেশনে স্টপেজ দিতে শুরু করল দীঘা-আসানসোল,এতে সাধারণ মানুষের অনেক সুবিধা হবে যাতায়াতের ক্ষেত্রে, এই দিন ছোট্ট অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে রেল কর্মীদের সম্বর্ধনা জানানো হয় অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে। তবে অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয় আগামী দিনে সাধারণ মানুষের স্বার্থে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

Share This
Categories
বিবিধ

বিজেপি শাসিত রাজ্যে নিরাপত্তা ইস্যুতে তৃণমূলের তীব্র কটাক্ষ।।

পশ্চিম মেদিনীপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা:- বিজেপি শাসিত মহারাষ্ট্রে এই রাজ্যের পুরুলিয়া জেলার খগেন মাহাতো নামে এক পরিযায়ী শ্রমিককে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনা ঘটে। রবিবার বিকেলে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার কেশপুর ব্লকের এক নম্বর অঞ্চলের বাজার আঁড়রা এলাকায় ধিক্কার মিছিল ও পথসভা করল তৃণমূল নেতাকর্মীরা। এই দিন এই ধিক্কার কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি প্রদ্যুৎ পাঁজা,পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ দুর্লভ ঘোষ, অঞ্চল তৃনমূল কংগ্রেসের সভাপতি নারায়ণ মন্ডল,বলরাম নিয়োগী,রাজকুমার মল্লিক, কর্মদক্ষ চন্ডী কারক সহ অন্যান্য তৃণমূল নেতাকর্মীরা।এই দিন এই ধিক্কার মিছিল ও পথসভায় কয়েকশো তৃণমূল কর্মী সমর্থক পা মিলিয়েছেন।

Share This
Categories
বিবিধ

পঞ্চায়েত সমিতি সভাপতির উপস্থিতিতে আটচালার আনুষ্ঠানিক সূচনা।।

পশ্চিম মেদিনীপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা:- পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার গড়বেতা তিন নম্বর ব্লকের চন্দ্রকোনারোড বিলা মহাশ্মশানের মন্দিরের আটচালার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হলো রবিবার। এই দিন এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গরবেতা তিন নম্বর পঞ্চায়েত সমিতি সভাপতি চিন্ময় সাহা, পাঁচ নম্বর এবং ৬ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান মনিকাঞ্চন রায়,জ্ঞানাঞ্জন মন্ডল,স্থানীয় বিশিষ্ট সমাজসেবী রামচন্দ্র পাল, বাচ্চু নিয়োগী, তন্ময় বোস সহ অন্যান্য ব্যক্তিবর্গ। জানা গিয়েছে এর আগে এই মহাশ্মশানে হরি মন্দিরের আটচালার অবস্থা ছিল বেহাল,এরপর স্থানীয় বিশিষ্ট সমাজসেবীদের উদ্যোগে নতুন করে তৈরি করা হলো আটচালা। এই আটচালার সমস্ত ব্যয়ভার বহন করেন পাঁচ নম্বর সাত বাঁকুড়া গ্রাম পঞ্চায়েত।

Share This
Categories
বিবিধ

“সারদা-নারদা নয়, সরকারি জায়গায় টাকা রাখুন”—মঞ্চ থেকে বার্তা।

গঙ্গারামপু-দক্ষিণ দিনাজপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা:- শাখা থেকে উপ ডাকঘর, উদ্বোধন করলেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার গঙ্গারামপুরের কালদিঘি শাখা ডাকঘর থেকে উপ ডাকঘরের উদ্বোধন করেন তিনি।
” সারদা নারদা নয় সরকারি জায়গায় টাকা রাখুন”উদ্বোধনী মঞ্চ থেকে সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে বার্তা সুকান্তর।
শনিবার দুপুরে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার গঙ্গারামপুরের কালদিঘি শাখা ডাকঘর এখন থেকে উপ ডাকঘরে রূপান্তরিত হলো, আর যে উপ ডাকঘরের উদ্বোধন করতে আসেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী তথা বালুরঘাটের সাংসদ সুকান্ত মজুমদার। এদিন ফিতে কেটে ও প্রদীপ প্রজ্জলনের মধ্যে দিয়ে কালদিঘি উপ ডাকঘরের উদ্বোধন করেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার।যেখানে ডাক বিভাগের উচ্চ পদস্থ আধিকারিকেরা উপস্থিত ছিলেন।
এদিন গঙ্গারামপুর কালদিঘি উপ ডাকঘর উদ্বোধনী মঞ্চ থেকে কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার জানান, সারদা নারোদায় নয় সরকারি জায়গায় টাকা রাখুন এতে আপনার টাকা সুরক্ষিত থাকবে। পাশাপাশি কালদিঘী উপ ডাকঘর উদ্বোধন হওয়ায় এই এলাকার সাধারণ মানুষ ডাক বিভাগের একাধিক সুযোগ সুবিধা পাবেন। সাধারণ মানুষ সুবিধা অনুযায়ী টাকা আদান-প্রদান করতে পারবেন। আগামী দিনে আধার কার্ড সংক্রান্ত সমস্ত কাজ এই ডাকঘর থেকে হবে বলে তিনি জানান। তিনি বলেন এমন উপ ডাকঘর জেলায় আরো করা হবে। মানুষের সুবিধার্থে
গঙ্গারামপুরের কালদিঘিতে এমন উপ ডাকঘর উদ্বোধন হওয়ায় খুশি এলাকাবাসী।

Share This
Categories
বিবিধ

সকাল থেকে মাইকিং, সন্ধ্যায় জানানো হল বন্ধ হবে না।

মালদা, নিজস্ব সংবাদদাতা :– জেলা জুড়ে ২৪ ঘন্টা ব্যবসায়ী বনধ ডেকেছে মালদা মার্চেন্ট চেম্বার অব কমার্স।গত কয়এক দিন আগে, মালদহে বুলডোজার দিয়ে দোকান ভাঙচুরের ঘটনায় এবারে ২৪ ঘন্টার বনধ ডাকল জেলা বণিক মহল। সোমাবার সকাল থেকে মাইকিং করে গোটা জেলা জুড়ে ২৪ ঘন্টা জন্য এই ব্যবসায়ী বনধ ডেকেছে মালদা মার্চেন্ট চেম্বার অব কমার্স। সোমাবার সন্ধ্যায় ইতিমধ্যে মার্চেন্ট চেম্বার অব কমার্স এর তরফ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয় বন্ধ হচ্ছে না। কারণ হিসাবে জানানো হয় সামনে রয়েছে শিবরাত্রি ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা বনধের জেরে কোন সমস্যা না হয় পরীক্ষা দিছে কে শুরু করে সাধারণ মানুষের।

Share This
Categories
বিবিধ

গড়বেতা তিন নম্বর ব্লকের ঘাগরা মৈত্রী সংঘ ক্লাবের প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে পাঁচ কিলোমিটার দৌড় প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।

পশ্চিম মেদিনীপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা:- পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার গড়বেতা তিন নম্বর ব্লকের ঘাগরা মৈত্রী সংঘ ক্লাবের প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে পাঁচ কিলোমিটার দৌড় প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয় রবিবার,জানা গিয়েছে এই দিন সকালে কেয়ামাচা থেকে শুরু হয় এই দৌড় প্রতিযোগিতা এবং শেষ হয় ক্লাব প্রাঙ্গনে,এই দিন পাঁচ জন মহিলা সহ ৫০ জন প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করে এই দৌড় প্রতিযোগিতায়। এই দিন এই দৌড় প্রতিযোগিতায় প্রথম হয়েছে অনুপম মাহাতো, দ্বিতীয় হয়েছে প্রদীপ মাহাতো,তৃতীয় হয়েছে হিমাংশু পাল।এই দিন প্রথম দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকারকারী কে পুরস্কৃত করা হয় ক্লাব প্রাঙ্গনে,এইদিন এমনটাই জানিয়েছেন ক্লাব সংগঠনের সভাপতি প্রতীক কোলে, ক্লাব সম্পাদক সমিত কোলে,এই পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি চিন্ময় সাহা,এলাকার বিশিষ্ট সমাজসেবী রামচন্দ্র পাল সহ স্থানীয় বিশিষ্ট সমাজসেবীরা।

Share This
Categories
নারী কথা প্রবন্ধ

বর্তমান সমাজে নারীদের ভূমিকা।

ভূমিকা:- মানবসভ্যতার সূচনা থেকে নারী ও পুরুষ একসঙ্গে সমাজ গড়ে তুলেছে। তবু দীর্ঘকাল ধরে নারীরা নানা সামাজিক বাধা, বৈষম্য ও অবহেলার শিকার হয়েছে। সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে নারীর অবস্থান ও ভূমিকা আমূল বদলেছে। বর্তমান সমাজে নারী আর কেবল গৃহকেন্দ্রিক পরিচয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; তিনি আজ শিক্ষায়, অর্থনীতিতে, রাজনীতিতে, বিজ্ঞান-প্রযুক্তিতে, সংস্কৃতিতে এবং নেতৃত্বে সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। আধুনিক সমাজের অগ্রগতির সঙ্গে নারীর অংশগ্রহণ অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত।
শিক্ষাক্ষেত্রে নারীর অগ্রগতি
একসময় নারীদের শিক্ষালাভ ছিল সীমিত। কিন্তু আজ শিক্ষাক্ষেত্রে নারীরা অসাধারণ সাফল্য অর্জন করছে। বিদ্যালয় থেকে বিশ্ববিদ্যালয়—সব ক্ষেত্রেই নারীদের অংশগ্রহণ ক্রমবর্ধমান। চিকিৎসা, প্রকৌশল, আইন, গবেষণা, প্রশাসন—প্রায় প্রতিটি পেশায় নারীরা নিজেদের দক্ষতার প্রমাণ দিচ্ছেন।
শিক্ষা নারীদের আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে, সিদ্ধান্ত গ্রহণে সক্ষম করেছে এবং সমাজে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করার শক্তি দিয়েছে। শিক্ষিত নারী শুধু নিজের জীবন নয়, একটি পরিবারের ভবিষ্যৎও আলোকিত করতে পারেন।
অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে নারীর ভূমিকা
বর্তমান বিশ্বে অর্থনৈতিক উন্নয়নে নারীর অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চাকরি, ব্যবসা, শিল্প, কৃষি, ক্ষুদ্র উদ্যোগ—সব ক্ষেত্রেই নারীরা সক্রিয়। গ্রামীণ অর্থনীতিতে স্বনির্ভর গোষ্ঠী ও ক্ষুদ্রঋণ প্রকল্পে নারীদের অংশগ্রহণ দারিদ্র্য দূরীকরণে বিশেষ ভূমিকা রাখছে।
শহুরে সমাজে কর্পোরেট সংস্থা, ব্যাংকিং, তথ্যপ্রযুক্তি খাতেও নারীরা নেতৃত্ব দিচ্ছেন। বহু নারী উদ্যোক্তা নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করছেন। অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা নারীদের সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি করেছে এবং আত্মনির্ভর জীবনের পথ খুলে দিয়েছে।
রাজনীতি ও নেতৃত্বে নারীর অংশগ্রহণ
রাজনৈতিক অঙ্গনেও নারীরা আজ গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে পৌঁছেছেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নারী রাষ্ট্রপ্রধান, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। নেতৃত্বের ক্ষেত্রে নারীরা সংবেদনশীলতা, দৃঢ়তা ও দূরদর্শিতার এক অনন্য সমন্বয় উপস্থাপন করেছেন।
ভারতের ইতিহাসে ইন্দিরা গান্ধী এক শক্তিশালী নারী নেতৃত্বের উদাহরণ। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে অ্যাঞ্জেলা মের্কেল দীর্ঘদিন জার্মানির নেতৃত্ব দিয়ে বিশ্বরাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রেখেছেন। তাঁদের মতো ব্যক্তিত্ব প্রমাণ করেছেন যে নেতৃত্বের ক্ষমতা লিঙ্গনির্ভর নয়।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে নারীর অবদান
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির জগতে নারীরা আজ অনন্য সাফল্য অর্জন করছেন। গবেষণা, মহাকাশ অভিযান, চিকিৎসাবিজ্ঞান—সব ক্ষেত্রেই তাঁদের অবদান স্মরণীয়।
উদাহরণস্বরূপ, মারি কুরি বিজ্ঞানের ইতিহাসে এক উজ্জ্বল নাম, যিনি রেডিয়াম আবিষ্কারের মাধ্যমে বিশ্বকে নতুন দিশা দেখিয়েছেন। ভারতের মহাকাশ গবেষণায় নারীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। এই সাফল্য ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করছে।
সামাজিক ও পারিবারিক জীবনে নারীর গুরুত্ব
নারী শুধু কর্মক্ষেত্রে নয়, পারিবারিক জীবনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। একজন মা, বোন, স্ত্রী বা কন্যা হিসেবে তিনি পরিবারকে একত্রে ধরে রাখেন। সন্তানদের নৈতিক শিক্ষা, মানবিক মূল্যবোধ ও সামাজিক সচেতনতা গড়ে তুলতে নারীর ভূমিকা অপরিসীম।
বর্তমান সমাজে অনেক নারী একই সঙ্গে পেশাজীবী ও গৃহিণীর দায়িত্ব পালন করেন। এই দ্বৈত ভূমিকা সহজ নয়; তবু দক্ষতার সঙ্গে তাঁরা তা সামলান। এতে তাঁদের সহনশীলতা, পরিশ্রম ও মানসিক শক্তির পরিচয় মেলে।
সংস্কৃতি ও সৃজনশীলতায় নারীর অবস্থান
সাহিত্য, সংগীত, চিত্রকলা, চলচ্চিত্র, ক্রীড়া—সব ক্ষেত্রেই নারীরা সাফল্যের ছাপ রেখে চলেছেন।
বাংলা সাহিত্যে মহাশ্বেতা দেবী তাঁর লেখনীর মাধ্যমে সমাজের প্রান্তিক মানুষের কথা তুলে ধরেছেন। ক্রীড়াক্ষেত্রে বহু নারী আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের সম্মান বৃদ্ধি করেছেন। সংস্কৃতির জগতে তাঁদের সৃজনশীলতা সমাজকে সমৃদ্ধ করেছে।
চ্যালেঞ্জ ও প্রতিবন্ধকতা
অগ্রগতির পরও নারীরা এখনও নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। লিঙ্গবৈষম্য, পারিশ্রমিকের অসাম্য, সামাজিক কুসংস্কার, সহিংসতা—এসব সমস্যা এখনও বিদ্যমান। অনেক ক্ষেত্রে নারীদের কর্মক্ষেত্রে নিজেদের প্রমাণ করতে দ্বিগুণ পরিশ্রম করতে হয়।
তবে সচেতনতা বৃদ্ধি, আইনি সুরক্ষা ও শিক্ষার প্রসার এই বাধাগুলো কমাতে সহায়তা করছে। নারী অধিকার নিয়ে সামাজিক আন্দোলন ও আন্তর্জাতিক উদ্যোগ নারীর মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
প্রযুক্তি ও ডিজিটাল যুগে নারীর নতুন সম্ভাবনা
ডিজিটাল যুগ নারীদের জন্য নতুন সুযোগের দ্বার খুলে দিয়েছে। অনলাইন শিক্ষা, ফ্রিল্যান্স কাজ, ই-কমার্স ব্যবসা—এসবের মাধ্যমে নারীরা ঘরে বসেই অর্থনৈতিকভাবে স্বনির্ভর হতে পারছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নারীদের মত প্রকাশের ক্ষেত্রও প্রসারিত করেছে।
এই পরিবর্তন নারীর কণ্ঠকে আরও শক্তিশালী করেছে এবং বিশ্বব্যাপী সংযোগের সুযোগ সৃষ্টি করেছে।
ভবিষ্যতের পথ
নারীর পূর্ণ সম্ভাবনা বিকাশের জন্য প্রয়োজন—
সমান শিক্ষার সুযোগ
নিরাপদ কর্মপরিবেশ
সামাজিক সচেতনতা
পারিবারিক সহযোগিতা
সমাজের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য নারী-পুরুষের সমান অংশগ্রহণ অপরিহার্য। নারীকে অবমূল্যায়ন করা মানে সমাজের অর্ধেক শক্তিকে অবহেলা করা।
উপসংহার
বর্তমান সমাজে নারীর ভূমিকা বহুমাত্রিক ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি সৃষ্টির প্রতীক, শিক্ষার আলোকবর্তিকা, অর্থনীতির চালিকাশক্তি এবং সমাজের নৈতিক ভিত্তি। পরিবর্তিত সময়ে নারীরা প্রমাণ করেছেন—তাঁরা কেবল সহযাত্রী নন, বরং উন্নয়নের প্রধান শক্তি।
একটি সমৃদ্ধ, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক সমাজ গড়ে তুলতে নারীর মর্যাদা ও অধিকার নিশ্চিত করা অপরিহার্য। কারণ নারী এগিয়ে গেলে সমাজ এগোয়, দেশ এগোয়, মানবসভ্যতা এগোয়।

Share This
Categories
প্রবন্ধ বিবিধ রিভিউ

লাভা : মেঘের ভেতর লুকিয়ে থাকা উত্তরবঙ্গের নীরব পাহাড়।

পাহাড়ে যাওয়ার কথা উঠলেই অনেকের মনে ভেসে ওঠে জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রের নাম। কিন্তু যারা ভিড়ের বাইরে, প্রকৃতির গভীর নীরবতার মধ্যে নিজেকে খুঁজে নিতে চান, তাঁদের জন্য উত্তরবঙ্গের ছোট্ট হিল স্টেশন লাভা এক অনন্য আশ্রয়। এখানে নেই বড় শহরের কোলাহল, নেই পর্যটনের অতিরিক্ত ব্যস্ততা; আছে শুধু মেঘের ভেসে বেড়ানো, পাইন বনের গন্ধ, আর দূরে তুষারঢাকা শিখরের আবছা হাসি।
পাহাড়ে পৌঁছোনোর অনুভূতি
শিলিগুড়ি ছেড়ে পাহাড়ি পথে গাড়ি যখন ধীরে ধীরে ওপরে উঠতে থাকে, তখনই বদলে যেতে শুরু করে দৃশ্যপট। সমতলের গরম হাওয়া মিলিয়ে যায়, তার জায়গায় আসে ঠান্ডা, স্নিগ্ধ বাতাস। বাঁক নিতে নিতে রাস্তা একসময় ঢুকে পড়ে গভীর সবুজের ভেতর। সেই সবুজের মাঝেই কোথাও যেন লুকিয়ে আছে লাভা।
সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় সাত হাজার ফুট উচ্চতায় অবস্থিত এই ছোট্ট পাহাড়ি জনপদটি উত্তরবঙ্গের অন্যতম উঁচু বসতি অঞ্চল। পথের দু’ধারে পাইন, ওক আর শ্যাওলাধরা গাছের সারি, মাঝেমধ্যে কুয়াশা এসে ঢেকে দেয় চারপাশ। মনে হয়, যেন প্রকৃতি নিজেই এখানে পর্দা টেনে রেখেছে—শুধু ধৈর্য ধরলেই ধীরে ধীরে উন্মোচিত হবে তার রূপ।
নিওরা ভ্যালির সবুজ রহস্য
লাভার অন্যতম আকর্ষণ হলো পাশেই অবস্থিত নিওরা ভ্যালি ন্যাশনাল পার্ক। এই সংরক্ষিত অরণ্য উত্তরবঙ্গের সবচেয়ে সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্যের ভাণ্ডারগুলোর একটি। ঘন বন, উঁচু গাছ, অদ্ভুত নীরবতা—সব মিলিয়ে এক রহস্যময় পরিবেশ।
ভোরবেলায় যদি কেউ জঙ্গলের কিনারে দাঁড়ায়, শুনতে পাবে অচেনা পাখির ডাক। ভাগ্য ভালো হলে দেখা মিলতে পারে বিরল লাল পান্ডার, কিংবা দূরে হিমালয়ান কালো ভালুকের উপস্থিতির চিহ্ন। এই অরণ্য শুধু প্রাণীজগতের আশ্রয় নয়, প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্যও এক বিশাল শিক্ষালয়। এখানে দাঁড়ালে বোঝা যায়, মানুষের চেয়ে প্রকৃতির অস্তিত্ব কত বড়, কত গভীর।
ভোরের কাঞ্চনজঙ্ঘা
লাভায় রাত নামে দ্রুত। সন্ধ্যার পর পাহাড়ি হাওয়ায় শীত বাড়তে থাকে, আর আকাশ ভরে যায় তারায়। কিন্তু প্রকৃত বিস্ময় অপেক্ষা করে ভোরবেলায়। আকাশ পরিষ্কার থাকলে দূরে দেখা যায় মহিমান্বিত কাঞ্চনজঙ্ঘা।
প্রথম সূর্যালোক যখন তুষারঢাকা চূড়ায় পড়ে, তখন সেই সাদা বরফ সোনালি আভায় ঝলমল করে ওঠে। চারপাশে তখনও মেঘের আস্তরণ, কিন্তু শিখর যেন আলোয় জেগে ওঠে। সেই মুহূর্তে মনে হয়, পৃথিবীর সব শব্দ থেমে গেছে—শুধু পাহাড় আর আকাশের নীরব সংলাপ চলছে।
লাভা মনাস্ট্রির শান্তি
লাভার কেন্দ্রে দাঁড়িয়ে আছে একটি বৌদ্ধ মঠ, পরিচিত লাভা মনাস্ট্রি নামে। রঙিন প্রার্থনাধ্বজা বাতাসে উড়তে থাকে, মাঝে মাঝে শোনা যায় প্রার্থনার ঘণ্টাধ্বনি। মঠের ভেতরে প্রবেশ করলে যে প্রশান্তি অনুভূত হয়, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন।
লাল-হলুদ রঙের দেয়াল, প্রার্থনার চাকা, ধূপের মৃদু গন্ধ—সব মিলিয়ে এক আধ্যাত্মিক পরিবেশ। এখানে বসে অনেকেই ধ্যান করেন, কেউ বা শুধু চুপচাপ বসে থাকেন। পাহাড়ি নীরবতার সঙ্গে এই প্রার্থনাস্থলের মিলন যেন মনকে অন্য এক স্তরে নিয়ে যায়।
গ্রামের জীবন ও মানুষ
লাভার মানুষজন সরল, আন্তরিক এবং অতিথিপরায়ণ। লেপচা, ভুটিয়া ও নেপালি সম্প্রদায়ের মানুষেরাই এখানে প্রধানত বসবাস করেন। তাঁদের জীবন প্রকৃতিনির্ভর। ছোট চাষের জমি, পশুপালন, আর পর্যটকদের জন্য হোমস্টে—এই নিয়েই তাঁদের দৈনন্দিন জীবন।
হোমস্টেতে থাকলে বোঝা যায় পাহাড়ি জীবনের প্রকৃত স্বাদ। সকালের গরম চা, ঘরে তৈরি খাবার, আর পরিবারের সদস্যদের আন্তরিকতা—সব মিলিয়ে মনে হয় যেন আত্মীয়ের বাড়িতে এসেছি। পাহাড়ের ঠান্ডা রাতে আগুন জ্বালিয়ে গল্প করার আনন্দ শহুরে জীবনে দুর্লভ।
ঋতুর বদলে বদলে লাভা
লাভার রূপ ঋতুভেদে বদলে যায়।
বসন্তকালে রডোডেনড্রনের লাল ফুল পাহাড়কে রাঙিয়ে তোলে। গ্রীষ্মে আবহাওয়া মনোরম, আর কুয়াশা ভোরবেলায় নরম চাদরের মতো ছেয়ে থাকে। বর্ষায় চারদিক সবুজে ভরে ওঠে, যদিও তখন রাস্তা কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। শীতে তাপমাত্রা অনেকটাই নেমে যায়; কখনও কখনও হালকা তুষারপাতও হয়, যা পাহাড়কে আরও রূপকথার মতো করে তোলে।
খাবার ও পাহাড়ি স্বাদ
লাভার খাবার সাদামাটা হলেও স্বাদে অনন্য। গরম মোমো, থুকপা, পাহাড়ি সবজির ঝোল—এইসব খাবার ঠান্ডায় শরীর গরম রাখে। চা এখানে শুধু পানীয় নয়, এক অনুভূতি। সকালের কুয়াশার মধ্যে ধোঁয়া ওঠা চায়ের কাপ হাতে দাঁড়ালে মনে হয়, এই মুহূর্তটাই জীবনের সবচেয়ে শান্ত সময়।
নীরবতার মূল্য
লাভার সবচেয়ে বড় সম্পদ তার নীরবতা। এখানে রাত গভীর হলে শুধু বাতাসের শব্দ শোনা যায়। শহরের হর্ন, যানজট বা কোলাহল নেই। এই নীরবতাই মানুষকে নিজের ভেতরে ফিরিয়ে নিয়ে যায়।
অনেকেই বলেন, পাহাড় মানুষকে বদলে দেয়। লাভায় কয়েকদিন কাটালে বোঝা যায় কথাটা মিথ্যে নয়। এখানে সময়ের গতি ধীর, চিন্তাভাবনা স্বচ্ছ, আর মন অকারণেই হালকা হয়ে যায়।
উপসংহার
লাভা কোনও ঝাঁ-চকচকে পর্যটনকেন্দ্র নয়। এটি এক শান্ত পাহাড়ি গ্রাম, যেখানে প্রকৃতি এখনো তার প্রাচীন রূপ ধরে রেখেছে। যারা সত্যিকারের পাহাড়ের স্বাদ নিতে চান—মেঘের ভেতর হাঁটতে চান, ভোরের আলোয় তুষারশিখর দেখতে চান, কিংবা নিঃশব্দে বসে নিজের সঙ্গে সময় কাটাতে চান—তাঁদের জন্য লাভা এক অনন্য গন্তব্য।
পাহাড় সবসময় বড় নয়, উঁচু নয়, বিখ্যাতও নয়—কখনও কখনও পাহাড় মানে শুধু শান্তি। আর সেই শান্তির আরেক নাম—লাভা।

Share This
Categories
বিবিধ রিভিউ

দক্ষিণ দিনাজপুরে জেলা প্রাণী সম্পদ বিকাশ দপ্তরের উদ্যোগে পালিত হলো বিশ্ব জলাতঙ্ক দিবস এবং প্রাণী কল্যাণ পক্ষ ২০২৫-২৬।

বালুরঘাট, নিজস্ব সংবাদদাতা :- প্রাণীর সুরক্ষা ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সারা রাজ্যের পাশাপাশি বালুরঘাটেও দক্ষিণ দিনাজপুরে জেলা প্রাণী সম্পদ বিকাশ দপ্তরের উদ্যোগে পালিত হলো বিশ্ব জলাতঙ্ক দিবস এবং প্রাণী কল্যাণ পক্ষ ২০২৫-২৬। ১৩ই ফেব্রুয়ারী শুক্রবার আয়োজিত এই বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রাণী সুরক্ষা, জলাতঙ্ক প্রতিরোধ, এবং সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এইদিন জেলা পর্যায়ে আয়োজিত বিভিন্ন কর্মসূচির শুরুতে জনসাধারণের মধ্যে প্রাণী সুরক্ষা, জলাতঙ্ক প্রতিরোধ, এবং সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য বালুরঘাট শহরে একটি পথপরিক্রমার আয়োজন করা হয়। এরপর প্রাণী সুরক্ষা, জলাতঙ্ক প্রতিরোধ, এবং সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। আলোচনা সভায় বিশেষজ্ঞরা জলাতঙ্ক রোগ প্রতিরোধ এবং প্রাণী কল্যাণ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেন। পথকুকুর এবং পোষা প্রাণীদের জলাতঙ্ক প্রতিরোধক টিকা প্রদান করা হয়।

দক্ষিণ দিনাজপুর প্রাণীসম্পদ বিকাশ বিভাগের উপ-অধিকর্তা ডাঃ জয়দেব বেরা জানিয়েছেন – জলাতঙ্ক একটি মারাত্মক রোগ, যা প্রাণী থেকে মানুষের মধ্যে ছড়ায়। এই রোগ প্রতিরোধে সচেতনতা এবং টিকাদান অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা প্রাণী সম্পদ বিকাশ দপ্তরের এই উদ্যোগ জনসাধারণের মধ্যে প্রাণী কল্যাণ এবং জলাতঙ্ক প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

এই ধরনের উদ্যোগ শুধু প্রাণীদের সুরক্ষিত রাখে না, বরং মানুষের স্বাস্থ্যও সুরক্ষিত করে। জেলা প্রশাসনের এই প্রচেষ্টা ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে আয়োজন করার দাবি তুলেছে স্থানীয় মানুষ।

প্রাণী কল্যাণ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির এই উদ্যোগ দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় প্রাণী সুরক্ষার প্রতি একটি ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দিয়েছে। এর ফলে জনসাধারণের মধ্যে জলাতঙ্ক প্রতিরোধ ও প্রাণীদের প্রতি যত্নশীল হওয়ার মানসিকতা গড়ে উঠবে বলে আশা করা যায়।

Share This