Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

কার্শিয়াং এক অনুভূতির নাম।

কার্শিয়াং—নামটুকুই যেন পাহাড়ি কুয়াশার ভেতর থেকে ভেসে আসা এক শান্ত আহ্বান। দার্জিলিং জেলার বুকে অবস্থিত এই ছোট্ট পাহাড়ি শহরটি বহুদিন ধরেই পর্যটকদের কাছে তুলনামূলকভাবে নীরব, নিরিবিলি ও আত্মমগ্ন এক গন্তব্য। দার্জিলিং বা কালিম্পঙের মতো অতিরিক্ত ভিড় নয়, আবার একেবারে অচেনাও নয়—কার্শিয়াং ঠিক মাঝামাঝি এক অনুভূতির নাম। এই প্রবন্ধে আমরা কার্শিয়াং-এর প্রকৃতি, ইতিহাস, সংস্কৃতি, দর্শনীয় স্থান, খাবার, মানুষের জীবনধারা ও ভ্রমণ-অভিজ্ঞতার গভীরে প্রবেশ করব।

নামের উৎস ও ইতিহাস

কার্শিয়াং নামটির উৎস নিয়ে নানা মত প্রচলিত। অনেকে বলেন, লেপচা ভাষায় ‘খারসাং’ শব্দ থেকে এসেছে কার্শিয়াং—যার অর্থ ‘কালো অর্কিড’। আবার কেউ কেউ মনে করেন, এটি কোনও প্রাচীন পাহাড়ি গাছ বা স্থানের নাম থেকে উদ্ভূত। ব্রিটিশ আমলে এই অঞ্চলটি বিশেষ গুরুত্ব পায়, কারণ দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ের (DHR) একটি গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন ছিল কার্শিয়াং। ১৮৮০-এর দশকে যখন ‘টয় ট্রেন’ পাহাড় বেয়ে উঠতে শুরু করে, তখন কার্শিয়াং হয়ে ওঠে এক বিশ্রাম ও প্রশাসনিক কেন্দ্র।

কার্শিয়াং শুধু একটি পর্যটন শহর নয়; এটি ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসেও স্মরণীয়। দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাস, বিপ্লবী যতীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় (বাঘা যতীন) এবং বিশেষত নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু—এই শহরের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। নেতাজির পিতা জানকীনাথ বসুর বাড়ি আজও কার্শিয়াং-এ সংরক্ষিত, যা ইতিহাসপ্রেমীদের কাছে এক পবিত্র তীর্থস্থান।

ভৌগোলিক অবস্থান ও প্রকৃতি

কার্শিয়াং সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৪৮৬৪ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত। চারদিকে সবুজ পাহাড়, চা-বাগান, পাইন ও ওক গাছের সারি, আর দূরে তিস্তা ও মহানন্দার উপত্যকা—সব মিলিয়ে প্রকৃতি এখানে যেন নীরব কবিতা লিখে চলে। সকালে কুয়াশার চাদর, দুপুরে রোদের মৃদু উষ্ণতা আর সন্ধ্যায় ঠান্ডা হাওয়া—এই তিনের মেলবন্ধনেই কার্শিয়াং-এর দৈনন্দিন জীবন।

বর্ষাকালে কার্শিয়াং আরও সবুজ হয়ে ওঠে, যদিও ভূমিধসের ঝুঁকি থাকে। শীতকালে কনকনে ঠান্ডা, তবে তুষারপাত সাধারণত হয় না। বসন্ত ও শরৎকাল ভ্রমণের জন্য সবচেয়ে আদর্শ।

টয় ট্রেন ও রেল-রোমাঞ্চ

কার্শিয়াং ভ্রমণের এক অনন্য আকর্ষণ হলো দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে বা টয় ট্রেন। ইউনেস্কো স্বীকৃত এই ঐতিহ্যবাহী রেলপথ পাহাড়ের বুক চিরে এগিয়ে যায় ধীরে ধীরে। কার্শিয়াং স্টেশনটি নিজেই এক ঐতিহাসিক নিদর্শন। কাঠের বেঞ্চ, পুরনো সাইনবোর্ড, লাল-হলুদ রঙের ছোট ইঞ্জিন—সব মিলিয়ে যেন সময় থমকে আছে।

টয় ট্রেনে বসে জানালা দিয়ে বাইরে তাকালে দেখা যায় চা-বাগানের ঢেউ, পাহাড়ি ঘরবাড়ি, আর হাসিমুখ শিশুদের হাত নাড়ার দৃশ্য। এই যাত্রা কেবল এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাওয়া নয়; এটি এক আবেগী অভিজ্ঞতা।

দর্শনীয় স্থান

নেতাজি ভবন (নেতাজি মিউজিয়াম): কার্শিয়াং-এর অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। এখানে নেতাজির ব্যবহৃত জিনিসপত্র, চিঠি, ছবি ও নথি সংরক্ষিত আছে। ইতিহাসের পাতায় ফিরে যাওয়ার এক দুর্লভ সুযোগ।

ঈগলস ক্র্যাগ (Eagle’s Crag): এখান থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা না দেখা গেলেও উপত্যকার বিস্তৃত দৃশ্য মনকে ভরিয়ে দেয়। সূর্যাস্তের সময় এই স্থান বিশেষ মনোরম।

ডাও হিল (Dow Hill): কার্শিয়াং-এর কাছে অবস্থিত এই পাহাড়টি রহস্য ও প্রকৃতির মিশেলে অনন্য। এখানে রয়েছে ঐতিহাসিক ডাও হিল ফরেস্ট ও একটি পুরনো বোর্ডিং স্কুল। অনেকেই জায়গাটিকে ‘হন্টেড’ বলেন, যদিও প্রকৃতপক্ষে এটি শান্ত ও গভীর সবুজে ঢাকা।

চা-বাগান: কার্শিয়াং-এর চারপাশে ছড়িয়ে থাকা চা-বাগানগুলো ভ্রমণকারীদের জন্য এক স্বর্গ। সকালবেলা চা-পাতা তোলার দৃশ্য, কারখানায় প্রক্রিয়াকরণ—সবই দেখার মতো।

সংস্কৃতি ও মানুষের জীবন

কার্শিয়াং-এ বসবাস করেন নেপালি, লেপচা, ভুটিয়া ও বাঙালি সম্প্রদায়ের মানুষ। এই বৈচিত্র্যই শহরের সংস্কৃতিকে করেছে সমৃদ্ধ। দুর্গাপূজা, দশাইন, লোসার, বড়দিন—সব উৎসবই এখানে মিলেমিশে পালিত হয়।

মানুষজন শান্ত, অতিথিপরায়ণ ও পরিশ্রমী। পাহাড়ি জীবনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া এক ধীরস্থির জীবনধারা এখানে দেখা যায়। সকালে দোকান খুলে সন্ধ্যায় তাড়াতাড়ি বন্ধ—শহরের গতি যেন প্রকৃতির সঙ্গে তাল মিলিয়েই চলে।

খাবার ও স্বাদ

কার্শিয়াং-এর খাবার মানেই পাহাড়ি স্বাদ। মোমো, থুকপা, ফাক্সা, শা-ফালে—এই সব নেপালি ও তিব্বতি খাবার সহজেই পাওয়া যায়। সঙ্গে অবশ্যই চাই গরম দার্জিলিং চা। স্থানীয় বেকারির কেক ও পাউরুটি এখানকার আরেক আকর্ষণ।

থাকার ব্যবস্থা ও যাতায়াত

কার্শিয়াং-এ ছোট-বড় নানা হোটেল, গেস্টহাউস ও হোমস্টে রয়েছে। বিলাসিতা কম, কিন্তু আরাম ও আন্তরিকতার অভাব নেই। দার্জিলিং, শিলিগুড়ি বা নিউ জলপাইগুড়ি থেকে সড়ক ও রেলপথে সহজেই কার্শিয়াং পৌঁছানো যায়।

উপসংহার

কার্শিয়াং কোনও চমকপ্রদ পর্যটন কেন্দ্র নয়; এটি ধীরে ধীরে অনুভব করার এক জায়গা। এখানে এসে মনে হয়, পাহাড় শুধু দেখার নয়—শোনার, ছোঁয়ার ও অনুভব করার বিষয়। কুয়াশার ভেতর দিয়ে হেঁটে যাওয়া, টয় ট্রেনের হুইসেল শোনা, গরম চায়ের কাপ হাতে পাহাড়ের দিকে তাকিয়ে থাকা—এই সব ছোট ছোট মুহূর্তই কার্শিয়াং ভ্রমণের আসল প্রাপ্তি। যারা ভিড় এড়িয়ে শান্ত পাহাড় খুঁজছেন, তাদের জন্য কার্শিয়াং নিঃসন্দেহে এক আদর্শ গন্তব্য।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

পথচলার গল্প: সুন্দরবনের পথে।

ভূমিকা

বাংলার মানচিত্রে দক্ষিণ ২৪ পরগনা এক রহস্যময় নাম। নদী, খাঁড়ি, জঙ্গল, চর, লোনা হাওয়া আর মানুষের নিরন্তর লড়াই—এই সবকিছুর সম্মিলিত পরিচয় দক্ষিণ ২৪ পরগনা। এটি শুধুমাত্র একটি জেলা নয়, এটি একটি জীবন্ত অনুভূতি। এই ভ্রমণ প্রবন্ধে দক্ষিণ ২৪ পরগনার প্রকৃতি, ইতিহাস, মানুষ, সংস্কৃতি ও সংগ্রামের গল্প একসাথে ধরা পড়বে।


ইতিহাসের পটভূমি

দক্ষিণ ২৪ পরগনার ইতিহাস বহু প্রাচীন। পাল যুগ থেকে শুরু করে সেন, সুলতানি ও মুঘল শাসনের ছাপ এখানে স্পষ্ট। পরবর্তীকালে ব্রিটিশ শাসন এই জেলাকে নতুন প্রশাসনিক রূপ দেয়। সুন্দরবনের গভীর জঙ্গলে এখনও ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা প্রাচীন মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ সেই ইতিহাসের সাক্ষ্য বহন করে।


নদী ও ভূপ্রকৃতি

এই জেলার প্রাণ হল নদী—গঙ্গা, বিদ্যাধরী, মাতলা, ঠাকুরান, রায়মঙ্গল। জোয়ার-ভাটার নিয়মেই এখানকার মানুষের জীবন চলে। নদীর পাড়ে গড়ে ওঠা জনপদ, নৌকা, খেয়াঘাট—সব মিলিয়ে দক্ষিণ ২৪ পরগনা যেন জল ও স্থলের এক অদ্ভুত সহাবস্থান।


সুন্দরবন: অরণ্যের রাজ্য

দক্ষিণ ২৪ পরগনার সর্বশ্রেষ্ঠ পরিচয় সুন্দরবন। বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বনভূমি এই জেলা গর্ব করে ধারণ করেছে। রয়েল বেঙ্গল টাইগার, কুমির, চিত্রা হরিণ, অসংখ্য পাখির আবাস এই অরণ্য। জঙ্গলের ভিতর দিয়ে বয়ে যাওয়া নদীপথে নৌকাভ্রমণ এক অনন্য অভিজ্ঞতা।


মানুষ ও জীবনযাত্রা

এখানকার মানুষ প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করেই বাঁচে। মাছ ধরা, মধু সংগ্রহ, কাঁকড়া ধরা, কৃষিকাজ—সবই ঝুঁকিপূর্ণ। তবুও জীবনের প্রতি অদম্য আকর্ষণ তাদের থামতে দেয় না। বনবিবি ও দক্ষিণ রায়ের পূজা এখানকার মানুষের বিশ্বাসের কেন্দ্র।


লোকসংস্কৃতি ও বিশ্বাস

দক্ষিণ ২৪ পরগনার লোকসংস্কৃতি অত্যন্ত সমৃদ্ধ। বনবিবির পালা, ভাটিয়ালি গান, কীর্তন—সবকিছুতেই নদী ও জঙ্গলের ছাপ। ধর্মীয় বিশ্বাসে হিন্দু ও মুসলিম সংস্কৃতির এক অনন্য মেলবন্ধন এখানে দেখা যায়।


খাদ্যাভ্যাস

মাছ এখানকার প্রধান খাদ্য। ইলিশ, ভেটকি, পার্শে, ট্যাংরা—নানান স্বাদের মাছ রান্না হয় ঘরে ঘরে। নারকেল, সর্ষে ও লঙ্কার ব্যবহারে তৈরি হয় স্বতন্ত্র রান্নার ধারা।


দুর্যোগ ও সংগ্রাম

ঘূর্ণিঝড় আইলা, আমফান, ইয়াস—প্রাকৃতিক দুর্যোগ দক্ষিণ ২৪ পরগনার মানুষের জীবনে নিয়মিত অতিথি। বাঁধ ভাঙে, জল ঢোকে গ্রামে। তবুও মানুষ আবার ঘুরে দাঁড়ায়। এই লড়াইই এই জেলার সবচেয়ে বড় পরিচয়।


পর্যটন সম্ভাবনা

সাগরদ্বীপ, বকখালি, হেনরি আইল্যান্ড, ঝড়খালি—পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় স্থান। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও গ্রামীণ জীবনের স্বাদ নিতে এই জেলা অনন্য।


উপসংহার

দক্ষিণ ২৪ পরগনা শুধুমাত্র ভ্রমণের স্থান নয়, এটি উপলব্ধির জায়গা। এখানে প্রকৃতি নিষ্ঠুর আবার মমতাময়ী। এই জেলার প্রতিটি ঢেউ, প্রতিটি গাছ, প্রতিটি মানুষের চোখে লুকিয়ে আছে জীবনের গভীর দর্শন।

Share This
Categories
বিবিধ

নোনা মাটির নন্দনতত্ত্ব ও আর্তের সেবা: দক্ষিণ ২৪ পরগনার সাংস্কৃতিক জাগরণে লিটন রাকিব।

তিতাস চট্টোপাধ্যায়:- দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার ক্যানিং ও সুন্দরবনের লোনা মাটির ঘ্রাণ আর মাতলা নদীর পলি যেখানে জীবনের আখ্যান লেখে, সেখানেই জন্ম নেয় এক অনন্য শিল্পবোধ। এই অঞ্চলের সমকালীন সাহিত্য, নির্ভীক সাংবাদিকতা ও সমাজকর্মের ইতিহাসে লিটন রাকিব একটি বলিষ্ঠ নাম। ২০২৬ সালের প্রেক্ষাপটে তিনি কেবল একজন কবি বা সংবাদকর্মী নন, বরং আর্তমানবতার সেবায় নিবেদিতপ্রাণ এক সামাজিক যোদ্ধা।

সাংবাদিকতা ও সত্য উদঘাটন: সংবাদ জগতের নির্ভীক কণ্ঠস্বর

লিটন রাকিব দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে এক বিশ্বস্ত ও আপসহীন নাম। একাধিক প্রথম সারির দৈনিক সংবাদপত্রের মাধ্যমে তিনি দীর্ঘকাল ধরে সুন্দরবনের প্রান্তিক মানুষের কণ্ঠস্বর তথা বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন মানুষের অদিকারের দাবী তুলে ধরছেন। সত্য উদঘাটনে তাঁর সাহসিকতা এবং জনসমস্যাগুলোকে প্রশাসনের নজরে আনার ভূমিকা তাঁকে জেলার অন্যতম প্রধান সংবাদকর্মী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

সমাজসেবা ও মানবিকতা: বিপর্যয়ের দিনে অতন্দ্র প্রহরী

লিটন রাকিবের সমাজসেবার রূপটি সবচেয়ে উজ্জ্বল হয়ে উঠেছিল মানবজাতির চরম সংকটের সময়ে।

করোনাকালীন ও প্রাকৃতিক বিপর্যয় বিধ্বস্ত সময়ের ভূমিকা: অতিমারি এবং আমফান বা ইয়াসের মতো প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে যখন সাধারণ মানুষের জীবন বিপর্যস্ত, তখন তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। কমিউনিটি কিচেন পরিচালনার মাধ্যমে ক্ষুধার্ত মানুষের মুখে অন্ন তুলে দেওয়া এবং ত্রাণ পরিষেবা প্রদানের মাধ্যমে তিনি দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার অন্যতম অগ্রগণ্য সমাজকর্মী হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।

প্রাতিষ্ঠানিক সেবা: তাঁর প্রতিষ্ঠিত সংগঠন ‘আলোপথ’ এবং অনাথ শিশু শিক্ষা আশ্রম  আজও সুন্দরবনের পিছিয়ে পড়া শিশুদের ভবিষ্যৎ গড়ার কাজ করে যাচ্ছে।

নোনা মাটির নন্দনতত্ত্ব: সাহিত্যিক অবদান

তাঁর কাব্যে সুন্দরবনের ভৌগোলিক বাস্তবতা ও মানুষের আবেগ মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়। ‘ঋতুর দান’ এবং ‘ব্যথাদের আলো-গান’ কাব্যগ্রন্থ দুটিতে তিনি প্রান্তিক জীবনের যন্ত্রণাকে নন্দনতাত্ত্বিক মহিমায় ফুটিয়ে তুলেছেন। তাঁর সম্পাদিত লিটল ম্যাগাজিন ‘তরঙ্গ’ এবং গবেষণাগ্রন্থ ‘গ্রামনগর’ এই অঞ্চলের সাংস্কৃতিক চেতনার প্রসারে এক বিশেষ ভূমিকা পালন করে। এছাড়া অতি নেই নরওয়ে থেকে প্রকাশিত সময় কি পত্রিকার সাহিত্য সম্পাদক হিসেবে কাজ করেছেন এবং বর্তমানে সময়ের শব্দ পত্রিকা ও প্রকাশনের সম্পাদনার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।

বহুমুখী প্রতিভা ও সাংস্কৃতিক নেতৃত্ব:

শুধু সাহিত্য বা সেবা নয়, লিটন রাকিব সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা এবং সুন্দরবনের পরিবেশ রক্ষায় নিরন্তর কাজ করে চলেছেন। তাঁর বাচনভঙ্গি ও মঞ্চ উপস্থাপনা জেলার সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানগুলোতে এক অনন্য মাত্রা যোগ করে। তিনি কেবল নিজে সৃষ্টি করেন না, বরং তরুণ প্রজন্মের মধ্যে সাহিত্য ও সাংবাদিকতার বীজ বপন করে চলেছেন।

পরিশেষে বলা যায়, লিটন রাকিবের পরিচিতি কেবল শব্দের কারুকার্যে সীমাবদ্ধ নয়; তাঁর কাজের পরিধি বিস্তৃত মানুষের হৃদয়ে। ‘নোনা মাটির নন্দনতত্ত্ব ও আর্তের সেবা’—এই দুই জীবনদর্শনকে পাথেয় করে তিনি দক্ষিণ ২৪ পরগনার এক উজ্জ্বল অভিভাবক ও আলোকবর্তিকা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

Share This
Categories
কবিতা

খেদ : রাণু সরকার।।

আমায় এতো যত্ন করে ছিলো আমি ভাষাহীন,
দন্তবিকাশে অনুগত ছিলাম;

অনেক গুলো বছর পর অকস্মাৎ স্মরণে আসাতে গতানুশোচনা হলো,
সময় ঢের খরচ করেও সেই রকম দন্তবিকাশ সম্ভব হয়নি-

আদতে এখানে দ্বিতীয় কেউ ছিলো না তো অভিনিবেশ করার তাই হয়তো হবে!

Share This
Categories
কবিতা

কনক রাত :: রাণু সরকার।।

এলোপাথাড়ি পথে প্রচুর হেঁটেছে দু’পা
ধূলোমাটির সাথে হলো অন্তরঙ্গ!
তবুও বাদলের সাথে হলোনা সাক্ষাৎকার!

নিখোঁজ হতেই তো চেয়েছিলাম-
খরার প্রখর তাপে রাতের লাবণ্য গেছে হারিয়ে!
শেষ থেকে সূচনায় আসতে কনক রাতে খোয়া যায় তারুণ্যের উদ্যম!

তার সন্ধান করতে গিয়ে চলে এলো বার্ধক্য-
ধুলোর সাথে ঘনিষ্ঠ প্রীতি!

Share This
Categories
কবিতা

সুধা : রাণু সরকার।

যখন তুমি থাকো কাজের ভিড়ে
আমি দেখি দু’চোখ ভরে!

এলো চুলে আসবে বাঁশ ঝাড় দিয়ে
দেখবো কেশপাশ ঝুলছে দু’কাধ বেয়ে!

দৃষ্টিক্ষুধা দৃষ্টিতে নেবো সুধা পিয়ে
অনুচিন্তায় ভরবো হৃদয়ে!

আধাঁরে মিশে হবে একাকার বিহানে
বাঁশ ঝাড় দাঁড়িয়ে!
অস্পষ্ট দৃষ্টিতে শ্বেত বস্ত্র গায়ে!

Share This
Categories
কবিতা

তৃষ্ণালু : রাণু সরকার।

বশীকৃত এ মন কিসের ছলনে
হলো মতিভ্রংশ,
ইতস্তত ভ্রমণে দেখেছি বহুবিচিত্র
বর্ণের সমারোহ।

হায় রে- তটিনী তুমি গর্ভিণী
এই তো বিহান বেলায় ছিলে
ঋতুমতী!

স্নেহদৃষ্টি আছে পরিপূর্ণ কিন্তু
বড্ড তৃষ্ণালু!
কোন ঘাটে মিটবে সম্ভোগ?
ক্ষরণশীল হলে রসসম্ভোগে
হতো পরিতৃপ্ত!

Share This
Categories
কবিতা

বার্তাবাহিকা : রাণু সরকার।।

শোন কোকিলা-
ও পারেতে সোনা বন্ধু আছে একেলা,
আমার কথা বলবি তাকে চিন্তা যেন না করে,
ভালো আছি, কিন্তু তার জন্য মনটা আমার আনচান করে!

এই নে চিঠি, সাবধানেতে পৌঁছে দিস-
বন্ধু যদি ঘুমিয়ে থাকে-
জাগিয়ে তবেই হাতে দিস!

চিঠি পড়ে সোনা বন্ধুর আসবে চোখে জল
ঠোঁটে করে খানিকটা পারবি আনতে বল?

যাবার বেলায় চুম্বন করতে গেছে ভুলে
ঠোঁটের থেকে একটু লালা আনবি তুলে!

আমার হয়ে এক কলি গান শুনিয়ে দিস,
এই কোকিলা, কাজটা যদি করে দিস-
আমার বাতাবি লেবুর গাছটি তুই নিয়ে নিস!
মেঘেদের বেড়েছে খুব আনাগোনা
কখন বর্ষা নামবে ওর কথা বলা যায় না!

বর্ষা যদি আসে ধেয়ে
পারবি কি তুই? একটু লালা আনতে বয়ে?
যতক্ষণ তুই না আসবি
মাথায় চিন্তা থাকবে ছেয়ে!

Share This
Categories
কবিতা

দারিদ্র্য : রাণু সরকার।

খুবই দারিদ্রপীড়িত
তাই তো অনটনের চাপে পিঞ্জরের হাড় দুমড়ে গিয়ে নিরন্তর কাঁপে।
দিবসে তপনতাপে পিপাসা মেটে না,
নিশাতে ক্ষুধিত আর্তনাদের ধ্বনি শ্রবণেন্দ্রিয়ে হয় বিলিন।

পুরোন স্মৃতি জলে সেবন করে কাটে রাত,
দু’চোখে নোনা জল শুক্ল বর্ণের,
আস্তরণে উত্তরীয় যায় ঢেকে-
একমুঠো সোহাগে অনটনের হবে অবসান,
তা না হলে পিঞ্জরে অনন্ত অনটনের ত্রাণ।

Share This
Categories
কবিতা

ত্যাগ : রাণু সরকার।

শান্তিতে ঘুমিয়ে পড়া কিছু পুরুষ আছে তারা কখনোই জানেন না –
একটি রাত না ঘুমানোর কষ্ট কত গভীর হতে পারে একটি নারীর-

নিঃশব্দে কাঁদা চোখ জোড়া প্রতিদিন
ভোর দেখে- তারপর হাসিমুখে সংসারের
প্রতিটি কাজ সামলায়–
এটাই বুঝি একজন নারীর নীরব ত্যাগ।

Share This