Categories
নারী কথা প্রবন্ধ

বাংলা ছায়া ছবির জগতে ছায়া দেবী এক কিংবদন্তি অভিনেত্রীর নাম।

ভূমিকা—

বাংলা ছায়া ছবির জগতে ছায়া দেবী এক কিংবদন্তি অভিনেত্রীর নাম।ছায়া দেবী একজন প্রতিভাময়ী ভারতীয় চলচ্চিত্র অভিনেত্রী। স্বর্ণ যুগের এই অভিনেত্রী  বহু সিনেমায় তিনি দক্ষতার সঙ্গে অভিনয় করে তাঁর অভিনয় প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে গিয়েছেন।

 

 

জন্ম ও প্রারম্ভিক জীবন——-

 

ছায়া দেবীর  পিসিমা ছিলেন অভিনেতা অশোককুমার ও কিশোর কুমারের দিদিমা।ছায়া দেবীর জন্ম ৩ জুন ১৯১৯ সালে এই পিসিমার ( সতীশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্ত্রী) ভাগলপুরের রাজবাড়ীতে। পিতা হারাধন গঙ্গোপাধ্যায়।

 

প্রাথমিক শিক্ষা ও অভিনয় জীবনে প্রবেশ—-

 

তার প্রাথমিক শিক্ষা ভাগলপুরের মোক্ষদা গার্লস স্কুলে। ভাগলপুর থেকে বাবার সঙ্গে দিল্লি গিয়ে ইন্দ্রপ্রস্থ গার্লস স্কুলে ভর্তি হন এবং সঙ্গীত চর্চা করতে থাকেন। এগারো বৎসর বয়সে রাঁচির অধ্যাপক ভূদেব চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে বিবাহ হয়। কিন্তু এ বিবাহ কার্যকর হয় না। দশম শ্রেণীর ছাত্রী তিনি বাবার সঙ্গে কলকাতায় এসে কৃষ্ণচন্দ্র দে ও পণ্ডিত দামোদর মিশ্রর কাছে সংগীত শিখতে থাকেন। সেই সঙ্গে বেলা অর্ণবের কাছে নাচের তালিম নিতে থাকেন। নাটক-পাগল দুই পিসতুতো দাদা শ্রীশচন্দ্র ও শৈলেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুপ্রেরণায় তিনি অভিনয় জগতে আসেন।

 

অভিনয় জীবন——-

 

১৯৩৬ খ্রিস্টাব্দেই তিনি দেবকী বসুর ‘সোনার সংসার’ছবিতে নায়িকার ভূমিকায় অভিনয় করেন।  তবে ১৯৩৬ খ্রিস্টাব্দে কনক নামের কিশোরী ছায়া দেবী নাম নিয়ে ‘পথের শেষে’ ছবিতে অন্যতম নায়িকার ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। ১৯৩৯ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য ছবি রাঙা বৌ, ছিন্নহার, প্রভাসমিলন, হাল বাঙলা, বিদ্যাপতি (হিন্দি ও বাংলা), রিক্তা,  জীবন মরণ প্রভৃতি। পথের শেষে – এই ছবিটি হিট হওয়ায় তিনি সোনার মেডেল পেয়েছিলেন।

 

গায়িকা হিসেবে—-

 

অভিনয়ের সঙ্গে সঙ্গে কয়েকটি ছবিতে তিনি গানও গেয়েছেন। ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দে মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি ‘অভয়ের বিয়ে’ ছবিতে তিনি ৪/৫ খানা গান গেয়েছেন।

 

মুম্বই গমন—

 

এর পরে ছায়া দেবী প্রফুল্ল রায়ের আমন্ত্রণে তিনি মুম্বই গিয়ে সেখানে’মেরাগাঁও ‘ ছবিতে গানে ও অভিনয়ে বিশেষ পারদর্শিতা দেখান। ছায়া দেবী প্রায় পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলা, হিন্দী, তামিল ও তেলুগু ভাষায় শতাধিক ছায়াছবিতে প্রধানত পার্শ্ব চরিত্রে অভিনয় করেছেন। ১৯৩৭ খ্রিস্টাব্দে ‘বিদ্যাপতি’ ছায়াছবির জন্য উনি প্রশংসিত হন ও ক্রমে প্রচুর উল্ল্যেখযোগ্য ছবিতে অভিনয় করেন, যেমন বাংলায় পরিচালক তপন সিংহর নির্জন সৈকতে, হাটে বাজারে  এবং আপনজন, সপ্তপদী, মানিক, উত্তর ফাল্গুনী, বা হিন্দীতে অমিতাভ বচ্চনের সাথে আলাপ । বাংলা,হিন্দি ও তামিল তিন ভাষাতেই ‘রত্নদীপ’ ছবিতে তার অভিনয় স্মরণীয়।  ছায়াছবিতে কাজ করার পাশাপাশি বেতার কেন্দ্রে নিয়মিত খেয়াল, ঠুংরি পরিবেশন করেছেন।

তাঁর অভিনীত উল্লেখযোগ্য ছবি সমূহ—

 

প্রায় দু-শোর বেশি ছবিতে তিনি অভিনয় করেন। সাত পাকে বাঁধা, মুখার্জি পরিবার, অন্তরাল, আরোহী, কাঁচ কাটা হীরে, সূর্যতপা,  থানা থেকে আসছি, মণিহার, গল্প হলেও সত্যি, অ্যান্টনি ফিরিঙ্গি, হাটেবাজারে, আপনজন’ (রাষ্ট্রপতি পুরস্কারপ্রাপ্ত), বাঘিনী, কমললতা,  চৌরঙ্গী, কুঁয়াশা, রাতভোর, সাহেব বিবি গোলাম, ত্রিযামা, মায়াবাজার, গলি থেকে রাজপথ, মাণিক, অটলজলের আহ্বান, দেয়ানেয়া, সপ্তপদী, নির্জন সৈকতে, পিতাপুত্র, হারমোনিয়াম, আরোগ্য নিকেতন, রাজা রামমোহন, বাবা তারকনাথ, আলাপ, ধনরাজ তামাং, অরুণ বরণ কিরণমালা, সূর্যসাক্ষী, রঙবেরঙ, প্রায়শ্চিত্ত, রাশিফল, লালগোলাপ, স্বর্ণমণির ঠিকানা, প্রতিকার, বোবা সানাই, প্রতিদান, কলঙ্কিত নায়ক, রাজকুমারী, মুক্তিস্নান, সমান্তরাল, কুহেলী, হার মানা হার, শেষ পর্ব,  পদিপিসির বর্মি বাক্স, দেবীচৌধুরাণী।

 

মৃত্যু—–

 

কিংবদন্তি এই অভিনেত্রী বহু সিনেমায় রেখে গিয়েছেন তাঁর অভিনয় দক্ষতার সাক্ষর।  ২৫ এপ্রিল ২০০১ সালে তিনি প্রয়াত হন। কিন্তু আজও তিনি অমর হয়ে রয়েছেন মানষের হৃদয়ে।

।। তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ

আজ বিশ্ব সাইকেল দিবস, জানুন দিনটি কেন পালিত হয় এবং দিনটি পালনের গুরুত্ব।

বিশ্ব বাইসাইকেল দিবস ২০২৪—-

বিশ্ব বাইসাইকেল দিবস প্রতি বছর ৩ রা জুন সারা বিশ্বে পালিত হয় সাইকেলের বহুমুখিতা এবং স্বতন্ত্রতা, সেইসাথে পরিবহনের একটি মাধ্যম হিসাবে এর নির্ভরযোগ্যতা এবং স্থায়িত্বকে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য।  বিশ্ব বাইসাইকেল দিবস উদযাপন বাইসাইকেলকে সম্মানিত করে যা লোকেদের একটি স্বতন্ত্র, টেকসই এবং টেকসই পরিবহণ ব্যবস্থা প্রদান করার জন্য।  শুক্রবার, 3রা জুন, ২০২৪, বিশ্ব বাইসাইকেল দিবস স্মরণ করা হবে।  এ বছর চতুর্থ বার্ষিক বিশ্ব বাইসাইকেল দিবস।  বিশ্ব বাইসাইকেল দিবস ২০২৪-এর জন্য আগ্রহীদেরও বিষয়টি সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। অধ্যাপক লেসজেক সিবিলস্কি বিশ্ব বাইসাইকেল দিবস তৈরি করেছিলেন, যা 3 জুন, ২০১৮-এ নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে প্রথমবারের মতো স্মরণ করা হয়েছিল। এই দিনের অনন্য দিক  এটি সারা বিশ্বে স্মরণ করা হয়।  সাইকেল চালানো আমাদের জন্য শারীরিক এবং মানসিক উভয় দিক থেকেই ভাল, এবং এটি ঘুরে বেড়ানোর একটি সস্তা এবং সহজ উপায় এবং পরিবহনের একটি পরিবেশগতভাবে বন্ধুত্বপূর্ণ মাধ্যম।  সাইকেল চালানো আপনার জীবনধারাকে স্বাস্থ্যকর করে তুলতে পারে এবং আপনি যদি নিয়মিত জিমের ব্যক্তি না হন তবে এটি একটি দুর্দান্ত ওয়ার্কআউট হিসাবে বিবেচিত হতে পারে।
বিশ্ব বাইসাইকেল দিবস পালন করা হয় মানুষকে তাদের শারীরিক সুস্থতা বজায় রাখতে এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনে উৎসাহিত করার জন্য।  নিয়মিত শারীরিক ক্রিয়াকলাপ ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, মানসিক অসুস্থতা, আর্থ্রাইটিস এবং অন্যান্য সহ বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ ও পরিচালনায় সহায়তা করতে পারে।  আপনি নিয়মিত পুষ্টিকর খাবারের সাথে সাইকেল চালানোর মাধ্যমে অনেক অসুস্থতার ঝুঁকি কমাতে পারেন।  জাতিসংঘ অনেক কারণে বিশ্ব বাইসাইকেল দিবস প্রতিষ্ঠা করে।  এটি যতটা মৌলিক, সমাজে সাইকেলের প্রভাব বেশ রূপান্তরকারী এবং এমনকি সবচেয়ে দরিদ্র মানুষও সাইকেল দিয়ে মৌলিক পরিবহনে অ্যাক্সেস পায়।

 

বিশ্ব বাইসাইকেল দিবসের থিম ২০২৪—

 

২০২৪-এর বিশ্ব বাইসাইকেল দিবসের থিম থাকবে “সাইকেল চালানোর মাধ্যমে স্বাস্থ্য, ইক্যুইটি এবং স্থায়িত্বের প্রচার।”“Promoting Health, Equity, and Sustainability through Cycling.”

 

 বিশ্ব বাইসাইকেল দিবসের ইতিহাস—

 

বাইক চালানো একটি শৈশব মাইলফলক হয়ে উঠেছে যেখানে মজা এবং পতন ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত।  কিছু পরিমাণে স্ক্র্যাচ এবং স্মৃতি ধরে রাখে।  ঐতিহাসিক বিবেচনার পাশাপাশি, বাইক চালানো আজ মানুষের জন্য সুবিধা প্রদান করে – শুধুমাত্র ব্যায়ামের একটি ফর্ম হিসাবে নয়, পরিবহনের একটি পরিবেশগতভাবে বন্ধুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসাবেও।
বিশ্ব বাইসাইকেল দিবস তাই সাইকেল চালানোর ধারণাটিকে একটি কার্যকলাপ হিসাবে উদযাপন করতে চায় যা বছরের পর বছর ধরে এবং বিভিন্ন সংস্কৃতি জুড়ে জনপ্রিয়।  ব্যক্তিগত সুখ উপভোগ করা ছাড়াও, এটি স্বাস্থ্যের উন্নতি এবং স্থায়িত্ব লালন করার জন্য মানুষ এবং পরিবেশে সুখ তৈরি করে।

 

বিশ্ব বাইসাইকেল দিবস ২০২৪ তাৎপর্য—

 

বিশ্ব বাইসাইকেল দিবসের পেছনের ধারণাটি হল সাইকেলের বহুমুখিতা এবং স্বতন্ত্রতা, সেইসাথে পরিবহনের একটি মাধ্যম হিসাবে এর নির্ভরযোগ্যতা এবং স্থায়িত্বকে স্বীকৃতি দেওয়া।  বিশ্ব বাইসাইকেল দিবস সাইকেল চালানোর সুবিধার একটি অনুস্মারক হিসাবে কাজ করে।  এটি কেবল পেশী শক্তির উন্নতি করে এবং শরীরের চর্বি কমায় না, তবে এটি একটি সুস্থ হৃদয় রক্ষণাবেক্ষণে সহায়তা করে।  শারীরিক সুবিধা অনেক।  যদিও দিবসটির গুরুত্ব তার স্বাস্থ্যগত সুবিধার চেয়ে অনেক বেশি।  বাইসাইকেল একটি কম খরচে এবং পরিবেশগতভাবে উপকারী পরিবহনের মাধ্যম।  উচ্চ দূষণের সময়ে, এমনকি সাইকেল চালানোর মতো মৌলিক কিছু ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য পরিবেশ সংরক্ষণে সাহায্য করতে পারে।  এর সহজলভ্যতা এবং সহজলভ্যতা এটিকে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তদের মধ্যে পরিবহনের একটি জনপ্রিয় মাধ্যম করে তুলেছে, যা তাদের পরিবহনের একটি স্বায়ত্তশাসিত মোড প্রদান করে।

 

।। তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ

প্রখ্যাত সংবাদ পাঠক আবৃত্তিকার ও বাচিক শিল্পী দেবদুলাল বন্দ্যোপাধ্যায় – প্রয়াণ দিবসে শ্রদ্ধাঞ্জলি।

আবৃত্তিকার তথা কিংবদন্তি বাচিক শিল্পী দেবদুলাল বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন আকাশবাণীর সংবাদ পাঠক, ঘোষক। আজও তিনি আমর হয়ে আছেন মানুষের মনে।

জন্ম——

 

দেবদুলাল বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্ম ১৯৩৪ খ্রিস্টাব্দের ২৫ জুন পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার শান্তিপুরে। পিতার নাম নন্দদুলাল বন্দ্যোপাধ্যায় ও মাতা নীহারবালা।

 

শিক্ষা—–

 

স্কুলের পড়াশোনার পর ১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দে প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ভর্তি হন কলকাতার সুরেন্দ্রনাথ কলেজে। কিন্তু সংসারের অর্থকষ্ট মেটাতে তিনি বন্ধ করেছিলেন পড়াশুনা।

কর্ম জীবন—

 

রোজগারের জন্য তখন যা পেতেন তাই করতেন। কখনো গৃহশিক্ষকতা, টাইপিস্ট, স্টোরকিপার এবং চায়ের দোকানেও কাজ করতে হয়েছে অর্থকষ্ট এতটাই ভয়াবহ ছিল।সারাদিন চায়ের দোকানে কাজ করতেন।১৯৬০ খ্রিস্টাব্দে তিনি ঘোষক হিসাবে আকাশবাণীর চাকরিতে প্রবেশ করেন। তারপর একটানা বত্রিশ বছর আকাশবাণীতে নিজেকে উজাড় করে দিয়েছিলেন।

 

সংবাদ পাঠক রূপে নিজেকে তুলে ধরা—–

 

অচিরেই কুশলতায় হয়ে ওঠেন আকাশবাণীর সংবাদ ও ভাষ্যপাঠক। ১৯৬৪ খ্রিস্টাব্দে তিনি দিল্লীতে বাংলা বিভাগে সংবাদ পাঠক রূপে নির্বাচিত হন। তারপর ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের শেষদিকে ফিরে আসেন কলকাতার বেতার কেন্দ্রে। তার কণ্ঠে ‘ কলকাতার আকাশবাণীতে ‘‘আকাশবাণী কলকাতা, খবর পড়ছি দেবদুলাল বন্দ্যোপাধ্যায়’’—ভরাট কণ্ঠের এই সম্ভাষণ যে কি প্রভাবে মানুষকে আচ্ছন্ন করত তা বিশেষ প্রশংসার দাবি রাখে। আর সংবাদ পাঠকে তিনি এমন একটা জায়গায় নিয়ে গিয়েছিলেন যে, ঘরে ঘরে সংবাদ পরিক্রমা শোনার জন্য রেডিও খোলা হতো।

 

সম্মাননা—–

 

বাঙলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭২ খ্রিস্টাব্দে ভারত সরকার তাঁকে “পদ্মশ্রী” সম্মানে ভূষিত করে।  বাংলাদেশ গঠিত হওয়ার পর তিনি ১৯৭২ খ্রিস্টাব্দে ১০ ই জানুয়ারি বাংলাদেশে গেলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁকে জড়িয়ে ধরে আলিঙ্গন করেন ও সংবর্ধনা জানান।

সম্পাদনা——

 

অবসরের পর যৌথ বা একক ভাবে সম্পাদনা করেছেন বিভিন্ন বিষয়ের বই। সেগুলি হল- বিষয়:আবৃত্তি (অমিয় চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে যৌথভাবে), বাংলাদেশের গল্প, একাত্তরের যুদ্ধে ভারত-পাকিস্তান ও বাংলাদেশ।

 

মৃত্যু—–

 

দক্ষিণ কলকাতার ল্যানসডাউনে নিজের বাসভবনে ২০১১ খ্রিস্টাব্দের ২ রা জুন ৭৭ বৎসর বয়সে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

 

।। তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ

আজ তেলেঙ্গানা গঠন দিবস, জানুন দিনটির গুরুত্ব।

তেলেঙ্গানা গঠন দিবস ২০২৪—

এই চলতি বছরের ২রা  জুন তেলেঙ্গানা গঠন দিবস ২০২৪ তেলেঙ্গানা জনগণ পালন করে।  এটি একটি জাতীয় অনুষ্ঠান যা অন্ধ্র প্রদেশ থেকে তেলেঙ্গানা রাজ্য গঠিত হওয়ার দিনটি উদযাপন করতে প্রতি বছর ২ রা জুন উদযাপন করা হয়।  তেলেঙ্গানা গঠন দিবস তেলেঙ্গানা দিবস নামেও পরিচিত।  অন্ধ্র প্রদেশের বাইরে একটি পৃথক রাজ্য গঠনে জনগণের অবদানকে চিহ্নিত করতে তেলেঙ্গানা তার গঠন দিবস উদযাপন করে।  তেলেঙ্গানা প্রতিষ্ঠা দিবস ভারতের তেলেঙ্গানায় একটি সরকারী ছুটির দিন, যা রাজ্য গঠনের সম্মানে। তেলেঙ্গানার প্রতিষ্ঠা তেলেঙ্গানা আন্দোলনের সাফল্যের ইঙ্গিত দেয়।  এটি অন্ধ্র প্রদেশ থেকে তেলেঙ্গানার আনুষ্ঠানিক স্বাধীনতা চিহ্নিত করে।  তেলেঙ্গানা ভারতের দক্ষিণ অংশে অবস্থিত, মহারাষ্ট্র এবং কর্ণাটকের সাথে এর উত্তর সীমান্ত ভাগ করে নিয়েছে।  ২রা জুন, ২০১৪-এ তেলেঙ্গানা গঠিত হয় এবং হায়দ্রাবাদ তার রাজধানী হয়।  রাজ্যটি ১,১২,০৭৭ বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে 33টি জেলা নিয়ে গঠিত।  ২ রা জুন, ২০১৪ ছিল যখন ভারতীয় সংসদ একটি নতুন রাজ্যের জন্ম দেওয়ার জন্য একটি সংশোধনী বিল পাস করেছিল – তেলেঙ্গানা৷  “তেলেঙ্গানা” নামটি ত্রিলিঙ্গ দেশা শব্দটিকে বোঝায়, যা কালেশ্বরম, শ্রীশৈলম এবং দ্রাক্ষরামমের তিনটি প্রাচীন শিব মন্দিরের উপস্থিতির কারণে অর্জিত হয়েছিল।  “তেলিঙ্গা” শব্দটি সময়ের সাথে সাথে “তেলেঙ্গানা” তে পরিবর্তিত হয় এবং “তেলেঙ্গানা” নামটি পূর্ববর্তী হায়দ্রাবাদ রাজ্যের প্রধানত তেলুগু-ভাষী অঞ্চলটিকে এর প্রধানত মারাঠি-ভাষী, মারাঠওয়াড়া থেকে আলাদা করার জন্য মনোনীত করা হয়েছিল।

 

তেলেঙ্গানা গঠন দিবসের ইতিহাস —

 

১ নভেম্বর ১৯৫৬-এ, তেলেঙ্গানা অন্ধ্র প্রদেশের সাথে একীভূত হয়ে একটি একীভূত রাজ্য গঠন করে বিশেষ করে তেলেগু-ভাষী জনগণের জন্য পূর্ববর্তী মাদ্রাজ থেকে সেই রাজ্যটিকে ভাস্কর্য করে।

১৯৬৯ সালে, তেলেঙ্গানা অঞ্চল একটি নতুন রাজ্যের জন্য একটি বিক্ষোভের সাক্ষী হয় এবং ১৯৭২ সালে, একটি স্বতন্ত্র অন্ধ্র প্রদেশ গঠিত হয়।

ফেব্রুয়ারী ২০১৪ সালে, প্রায় ৪০ বছরের আন্দোলনের পর কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটি এবং ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) লোকসভায় তেলেঙ্গানা বিল প্রণয়ন করে।

২০১৪ সালে, ভারতীয় সংসদে বিলটি পেশ করা হয় এবং একই বছর, অন্ধ্র প্রদেশ পুনর্গঠন আইন পাস হয়।  বিল অনুসারে উত্তর-পশ্চিম অন্ধ্র প্রদেশের ১০ টি জেলা নিয়ে তেলেঙ্গানা গঠিত হবে।

 

তেলেঙ্গানা গঠন দিবস ২০২৪ থিম—-

 

তেলেঙ্গানা গঠন দিবস উদযাপন বিভিন্ন সাংস্কৃতিক উৎসবে ভরা।  প্রকৃতপক্ষে, একাধিক সংস্থার ইভেন্ট এবং সম্মেলন রয়েছে যা তেলেঙ্গানার সংস্কৃতি উদযাপন করে।   রাজ্যের ৩০ টি জেলা জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে এই দিনটি উদযাপন করে।  লোকেরা তেলেঙ্গানা আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী ছাত্র এবং সরকারী কর্মচারীদের স্মরণ করে এবং তাদের শ্রদ্ধা জানায়।  রাজ্য সরকার বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

 

 তেলেঙ্গানা গঠন দিবস ২০২৪ তাৎপর্য—

 

অন্ধ্র প্রদেশের বাইরে একটি পৃথক রাজ্য গঠনে জনগণের অবদানকে চিহ্নিত করতে তেলেঙ্গানা তার গঠন দিবস উদযাপন করে।  তেলেঙ্গানার প্রতিষ্ঠা তেলেঙ্গানা আন্দোলনের সাফল্যের প্রতিনিধিত্ব করে।  এটি অন্ধ্র প্রদেশ রাজ্য থেকে তেলেঙ্গানার আনুষ্ঠানিক স্বাধীনতাকে চিহ্নিত করে।  2 শে জুন, ২০১৪-এ, একটি ৫৭ বছর বয়সী আন্দোলন সমাপ্ত হয়, যা তেলেঙ্গানার জনগণের ইচ্ছাকে বাস্তবায়িত করে।  প্রচারণাটি শুধুমাত্র এই অঞ্চলের বাসিন্দাদের একটি স্বতন্ত্র পরিচয়ই দেয়নি বরং ভারতের মানচিত্রও পরিবর্তন করেছে, যা এখন রাজ্যের সীমানা প্রতিফলিত করে।  বছরের পর বছর ধরে তেলেঙ্গানা আন্দোলনের জন্য রাজ্যের ইতিহাসে দিনটি তাৎপর্যপূর্ণ।  তেলেঙ্গানা রাজ্য গঠন দিবস ২ জুন ২০২০-এ কামারেডি জেলাগুলিতে উদযাপন করা হয়েছিল।

 

।। তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
নারী কথা প্রবন্ধ

আজ আন্তর্জাতিক যৌনকর্মী দিবস, জানুন দিনটি কেন পালিত হয়, দিনটির ইতিহাস ও ISWD এর মিশন।

আন্তর্জাতিক যৌনকর্মী দিবস বা আন্তর্জাতিক পতিতা দিবস হল একটি বার্ষিক দিবস, এটি প্রতি বছরের ২ জুন পালিত হয়। বিশ্বজুড়ে যৌনকর্মীদের চ্যালেঞ্জ এবং অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে প্রতি বছর আন্তর্জাতিক যৌনকর্মী দিবস পালিত হয়।আন্তর্জাতিক যৌনকর্মী দিবস সারা বিশ্বে যৌনকর্মীদের অধিকার এবং কল্যাণ মনে রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন।  প্রতি বছর, ২ জুন, আমরা যৌনকর্মীদের কৃতিত্ব উদযাপন করি এবং তাদের অধিকার সমর্থন করার জন্য কাজ করে।
ISWD উদযাপন করার অনেক কারণ রয়েছে।  প্রথমত, যৌনকর্মীদের প্রায়ই প্রান্তিক করা হয় এবং তাদের সাথে অন্যায় আচরণ করা হয়।  তারা প্রায়ই তাদের ক্লায়েন্ট এবং নিয়োগকর্তাদের হাতে সহিংসতা এবং শোষণের সম্মুখীন হয়।  ISWD হল তাদের চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে এবং তাদের অধিকারের পক্ষে সমর্থন করার জন্য একসাথে কাজ করার একটি সুযোগ।
মূলত, যৌনকর্মীদের ক্ষমতায়ন এবং তাদের কণ্ঠস্বর উত্থাপন করার উপায় হিসাবে দিবসটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।  সেই সময়ে, অনেক যৌনকর্মীকে শোষণ ও পাচার করা হয়েছিল এবং তারা অনুভব করেছিল যে তাদের কাছে কথা বলার জন্য কোনও কণ্ঠস্বর বা আউটলেট ছিল না।
বর্তমানে সারা বিশ্বে আন্তর্জাতিক যৌনকর্মী দিবস পালিত হচ্ছে।  যৌনকর্মীদের একত্রিত হওয়া এবং তাদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করা এবং তাদের অধিকারের পক্ষে কথা বলার জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন।
আন্তর্জাতিক যৌনকর্মী দিবসে যৌনকর্মীরা যে বৈচিত্র্যময় পরিসরে কাজ করে তা উদযাপনের জন্য অনেক ঘটনা ঘটছে।  এই ইভেন্টগুলির মধ্যে রয়েছে সমাবেশ, সিম্পোজিয়াম এবং আলোচনা গোষ্ঠী।  তাদের লক্ষ্য যৌনকর্মীদের একত্রিত করা যাতে তারা ধারণা ভাগ করে নিতে পারে এবং একে অপরের কাছ থেকে শিখতে পারে।
আন্তর্জাতিক যৌনকর্মী দিবস প্রত্যেকের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন যারা মানবাধিকার এবং স্বাধীনতার কথা চিন্তা করেন।  এটি আমাদের সকলের জন্য যৌনকর্মী সহ যে কোনও ব্যক্তির বৈষম্য এবং শোষণের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর একটি সুযোগ।

আন্তর্জাতিক যৌনকর্মী দিবসের উদ্দেশ্য হল যৌনকর্মীদের এবং তাদের সহযোগীদেরকে সকল যৌনকর্মীদের জন্য অপরাধমুক্তকরণ, সামাজিক সুরক্ষা এবং স্বাস্থ্য পরিষেবার দাবিতে একত্রিত করা।
সাম্প্রতিক বছরগুলিতে, আন্তর্জাতিক যৌনকর্মী দিবসও যৌনকর্মীদের জন্য পতিতাবৃত্তি বিরোধী আইন এবং কাজের অবস্থার প্রতিবাদ করার একটি দিন হয়ে উঠেছে।  আন্তর্জাতিক যৌনকর্মী দিবসের সমর্থকরা যুক্তি দেন যে এই আইনগুলি যৌনকর্মীদের অপরাধীকরণ এবং নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যবহৃত হয়, তাদের নির্দিষ্ট এলাকায় বা নির্দিষ্ট সময়ে কাজ করা নিষিদ্ধ করে।  তারা আরও যুক্তি দেয় যে এই আইনগুলি যৌনকর্মীদের শোষণ বা সহিংসতা থেকে রক্ষা করে না।
আন্তর্জাতিক যৌনকর্মী দিবস মানবাধিকার কর্মী এবং যারা সারা বিশ্বে যৌনকর্মীদের কল্যাণের কথা চিন্তা করেন তাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন।

 

 

১৯৭০-এর দশকে, ফরাসি পুলিশ যৌনকর্মীদের ক্রমবর্ধমান চাপের মধ্যে রেখেছিল। পুলিশের প্রতিশোধমূলক আচরণ যৌনকর্মীদের গোপনে কাজ করতে বাধ্য করে। ফলস্বরূপ, যৌনকর্মীদের সুরক্ষা হ্রাস হতে থাকে এবং তাদের বিরুদ্ধে সহিংসতা আরও বাড়তে থাকে। দুটি হত্যাকাণ্ড হয়ে যাবার পরেও পরিস্থিতির কোন উন্নতি না হওয়ায় এবং সেই বিষয়ে সরকারের কোন আগ্রহ না থাকায়, লিয়নের যৌন কর্মীরা রুয়ে দে ব্রেস্টের সেন্ট-নিজিয়ার গির্জা দখল করে ধর্মঘট শুরু করে। ধর্মঘটী যৌনকর্মীরা রাজনৈতিক সঙ্গীত গেয়েছিল এবং শালীন কাজের পরিবেশের দাবি করার সাথে সাথে কলঙ্ক অবসানের দাবি জানিয়েছিল।
এই ঘটনা জাতীয় এবং আন্তর্জাতিকস্তরে ব্যাপকভাবে সাড়া ফেলেছিল, শ্রম এবং নারীবাদীদের মত সংগঠনগুলির কাছ থেকে এই প্রতিবাদ সমর্থন পেয়েছিল। দখলের ৮ দিন পর, ১০ই জুন, পুলিশ জোরপূর্বক গির্জা থেকে মহিলাদের সরিয়ে দেয়, কিন্তু এই ঘটনার মাধ্যমে যৌন কর্মীদের অধিকারের জন্য তাদের একটি আন্তর্জাতিক আন্দোলনের সূচনা হয়।

এর পর থেকে আন্তর্জাতিক যৌনকর্মী দিবস এর সূচনা হয়। এর মাধ্যমে যৌনকর্মীদের সম্মান প্রদান করা হয় এবং তাদের কাজের অবস্থায় যে প্রায়ই তাদের শোষণ হয় তা স্বীকার করে নেওয়া হয়। এই দিবসটি পালনের মাধ্যমে স্মরণ করা হয় ১৯৭৫ সালের ২রা জুন শতাধিক যৌনকর্মী দ্বারা লিয়নের এগ্লিস সেন্ট-নিজিয়ের দখল। তাঁরা এটি করেছিলেন তাঁদের অমানবিক কাজের অবস্থার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য। এটি ১৯৭৬ সাল থেকে প্রতি বছর পালিত হয়ে আসছে।

ভারতের সুপ্রিম কোর্ট যৌনকর্মকে পেশা হিসাবে স্বীকার করে নির্দেশিকা জারি করে জানিয়ে দেয় যে, যৌনকর্মীদের মর্যাদা এবং সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে। ঠিক যেমন ভাবে অন্যান্য যে কোনও পেশার ক্ষেত্রে রয়েছে।

 

 

আসলে যৌনকর্মীরা তাঁদের জীবন যাপনের জন্য এই পেশা বেঁছে নিয়েছে। তাই তাঁদের অন্যান্য কর্মীদের মতোই ভাবুন।
যৌনকর্মীরা টাকার জন্য কাজ করে। তাঁরা কারও কাছে অনুগ্রহ চাই না, নিজেদের মানসিক, শারীরিক শ্রম বিনিময়ে তাঁরা টাকা উপার্জন করে। যৌনকর্মীদের নিয়ে সমাজে সচেনতা বাড়ান।তাঁদের কথা শুনে জেন আপনার মাথা হেট না হয়, বরং তাঁদের অধিকার নিয়ে কথা বলুন যাতে সমাজে তাঁদের প্রতি সজেতনতা গড়ে ওঠে।

 

 

 

 

সর্বপরি দিনটি যৌনকর্মীদের শোষিত কাজের অবস্থার স্বীকৃতি দেয়। কখনও কখনও তারা নিষ্ঠুরতার শিকার হয় এবং তারা সহিংসতারও সম্মুখীন হয়।  যৌনকর্মীরা আইনত তাঁদের  অধিকার পেলেও অন্যান্য কর্মীর মতো সম্মান কি তাঁরা পান! বছরের পর বছর ধরে ওঁরা লড়ে চলছে সমাজে নিজের প্রাপ্য সম্মান ও অধিকার পেতে। যৌনকর্মীদের  সম্মান জানিয়ে প্রতি বছর আন্তর্জাতিক যৌনকর্মী দিবস (International Sex Workers Day) পালিত হয়। তাই দিনটি সকল মানবজাতিকে তাদের প্রতি সম্মান করতে শেখায়।

।।তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

শিশুরা বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ এবং ভবিষ্যতের জন্য তার সেরা আশা – একটি বিশেষ পর্যালোচনা।

আন্তর্জাতিক শিশু দিবস হল ১লা জুন উদযাপিত একটি বার্ষিক ছুটি। এটি বিশ্বব্যাপী শিশুদের মঙ্গল এবং অধিকার প্রচার করে। দিবসটির লক্ষ্য শিশুদের মুখোমুখি হওয়া চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং অপব্যবহার থেকে সুরক্ষা সহ তাদের অধিকারের পক্ষে সমর্থন করা। দিবসটি উদযাপনের জন্য বিভিন্ন কার্যক্রম এবং ইভেন্টের আয়োজন করা হয়, যার মধ্যে রয়েছে সম্প্রদায়ের সমাবেশ, শিক্ষামূলক অনুষ্ঠান এবং শিশুদের সহায়তাকারী সংস্থাগুলিতে দাতব্য দান। আন্তর্জাতিক শিশু দিবস একটি অনুস্মারক হিসাবে কাজ করে যে প্রতিটি শিশু একটি সুখী, স্বাস্থ্যকর শৈশব পাওয়ার যোগ্য এবং তাদের মঙ্গল নিশ্চিত করতে আমাদের অবশ্যই একসাথে কাজ করতে হবে।

আন্তর্জাতিক শিশু দিবসের ইতিহাস—

আন্তর্জাতিক শিশু দিবস হল একটি ছুটির দিন যা প্রতি বছর ১লা জুন পালিত হয়। ১৯২৫ সালে জেনেভা, সুইজারল্যান্ডে শিশুদের কল্যাণের জন্য বিশ্ব সম্মেলনের সময় ছুটিটি প্রথম প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। ছুটির উদ্দেশ্য ছিল সারা বিশ্বে শিশুদের অধিকার ও কল্যাণ প্রচারের গুরুত্বের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা। এটি মূলত বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন দিনে পালিত হত, কিন্তু ১৯৫৪ সালে, আন্তর্জাতিক গণতান্ত্রিক ফেডারেশন অফ উইমেন প্রস্তাব করেছিল যে 1লা জুন বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক শিশু দিবস হিসাবে স্বীকৃত হবে। তারপর থেকে, ছুটির দিনটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রতি বছর পালন করা হয়। ১৯৫৯ সালে, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ শিশু অধিকারের ঘোষণাপত্র গৃহীত হয়, যা শিশুদের অধিকারের প্রচার ও সুরক্ষার গুরুত্বকে স্বীকৃতি দেয়। আন্তর্জাতিক শিশু দিবস শিশুদের অধিকার এবং কল্যাণের জন্য সমর্থন এবং সমর্থন করার চলমান প্রয়োজনীয়তার অনুস্মারক হিসাবে কাজ করে।

সামগ্রিকভাবে, আন্তর্জাতিক শিশু দিবসটি প্রতি বছর 1লা জুন শিশুদের অধিকার এবং কল্যাণ প্রচারের জন্য পালিত হয়, যা ১৯২৫ সালে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় শিশুদের কল্যাণের জন্য বিশ্ব সম্মেলনের সময় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।

 

আন্তর্জাতিক শিশু দিবসের গুরুত্ব—

 

আন্তর্জাতিক শিশু দিবস বিভিন্ন কারণে গুরুত্বপূর্ণ:

সচেতনতা বাড়ায়: আন্তর্জাতিক শিশু দিবস সারা বিশ্বে শিশুদের মুখোমুখি হওয়া সমস্যা এবং চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ায়।

শিশুদের অধিকারের জন্য উকিল: দিবসটি শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং অপব্যবহার থেকে সুরক্ষা সহ শিশুদের অধিকার এবং কল্যাণের পক্ষে সমর্থন করার একটি প্ল্যাটফর্ম হিসাবে কাজ করে।

শিশুদের উদযাপন: এটি শৈশবের আনন্দ এবং শিশুরা বিশ্বে নিয়ে আসা নির্দোষতা এবং বিস্ময় উদযাপন করার একটি দিন। ঐক্য ও শান্তি প্রচার করে: দিবসটি সকল শিশুর মঙ্গল নিশ্চিত করার একটি অভিন্ন লক্ষ্যে কাজ করার জন্য মানুষকে একত্রিত করার মাধ্যমে ঐক্য ও শান্তির প্রচার করে।

কাজকে অনুপ্রাণিত করে: আন্তর্জাতিক শিশু দিবস ব্যক্তি ও সংস্থাগুলিকে শিশুদের জীবনকে উন্নত করার জন্য পদক্ষেপ নিতে অনুপ্রাণিত করে, তা অনুদান, স্বেচ্ছাসেবক বা নীতি পরিবর্তনের পক্ষে সমর্থন করে।

সামগ্রিকভাবে, আন্তর্জাতিক শিশু দিবস শিশুদের অধিকার এবং কল্যাণের জন্য সমর্থন এবং সমর্থন করার চলমান প্রয়োজনীয়তার অনুস্মারক হিসাবে কাজ করে।

আন্তর্জাতিক শিশু দিবসের কার্যক্রম——

আন্তর্জাতিক শিশু দিবসের ক্রিয়াকলাপগুলি উপলব্ধ অবস্থান এবং সংস্থানগুলির উপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হতে পারে তবে এখানে কিছু ধারণা রয়েছে:

গেমস, মিউজিক এবং খাবারের সাথে বাচ্চাদের পার্টি বা ইভেন্টের আয়োজন করুন।

তাদের কাছে শিশুদের বই এবং গল্প পড়ুন, অথবা তাদের নিজে থেকে পড়তে উত্সাহিত করুন।

বাইরের ক্রিয়াকলাপ এবং ব্যায়ামের জন্য বাচ্চাদের পার্ক বা খেলার মাঠে নিয়ে যান।

বাচ্চাদের একটি নতুন দক্ষতা শেখান, যেমন রান্না বা বাগান করা।

একটি শিশু-বান্ধব গন্তব্যে একটি পারিবারিক ভ্রমণ বা ছুটির পরিকল্পনা করুন।

সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের খেলনা বা বই দান করুন বা স্থানীয় শিশুদের দাতব্য প্রতিষ্ঠানে স্বেচ্ছাসেবক করুন।

শিশুদের সৃজনশীলতাকে উদ্দীপিত করতে তাদের সাথে শিল্প প্রকল্প বা কারুশিল্প তৈরি করুন।

প্রয়োজনে সাহায্য করার জন্য শিশুদের কমিউনিটি সেবা বা স্বেচ্ছাসেবক প্রকল্পে অংশগ্রহণ করতে উৎসাহিত করুন।

শিক্ষামূলক কার্যক্রম এবং খেলার মাধ্যমে শিশুদের বিভিন্ন সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সম্পর্কে শেখান।

বাচ্চাদের সাথে মানসম্পন্ন সময় কাটান, তাদের চিন্তাভাবনা এবং ধারণাগুলি শুনুন এবং তাদের ভালবাসা এবং সমর্থন দেখান।

সংক্ষেপে, আন্তর্জাতিক শিশু দিবসের মধ্যে রয়েছে অনুষ্ঠান আয়োজন করা, শিশুদের পড়া, নতুন দক্ষতা শেখানো, দাতব্য প্রতিষ্ঠানে দান করা, শিল্প প্রকল্প তৈরি করা এবং শিশুদের সাথে মানসম্পন্ন সময় কাটানো। সামগ্রিকভাবে, আন্তর্জাতিক শিশু দিবস সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সমর্থনের মাধ্যমে শিশুদের মঙ্গল ও অধিকার প্রচার করে এবং বিভিন্ন কার্যক্রম এবং অনুষ্ঠানের মাধ্যমে উদযাপিত হয়।

।। তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ

রমেশচন্দ্র সেন, প্রগতিবাদী লেখক ও প্রতিষ্ঠাবান কবিরাজ – প্রয়াণ দিবসে শ্রদ্ধাঞ্জলি।

সাহিত্য জগতে এক অতি পরিচিত নাম রমেশচন্দ্র সেন।

তিনি ছিলেন একজন বাঙালি প্রগতিশীল লেখক ও আয়ুর্বেদিক পণ্ডিত। লব্ধপ্রতিষ্ঠ কবিরাজ হিসাবে যথেষ্ট খ্যাতি ও প্রতিপত্তি লাভ করেছিলেন। মাদ্রাজে অনুষ্ঠিত নিখিল ভারত আয়ুর্বেদ সম্মেলনে সংস্কৃত ভাষায় বক্তৃতা দিয়ে বিদ্যানাধি উপাধিতে ভূষিত হন, ১৯১৮ খ্রিস্টাব্দে।

জন্ম —-

 

১৮৯৪ খ্রিস্টাব্দের ২২ আগস্ট বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির কলকাতায় রমেশচন্দ্র সেনের জন্ম । পৈতৃক নিবাস ছিল অধুনা বাংলাদেশের ফরিদপুরের কোটালীপাড়ার পিঞ্জরী গ্রামে।  কলকাতার খ্যাতনামা কবিরাজ ক্ষীরোদচন্দ্র সেন ও তার স্ত্রী বরদাসুন্দরীর জ্যেষ্ঠ সন্তান এই রমেশচন্দ্র।

 

শিক্ষা জীবন——

 

সংস্কৃত শিক্ষা শুরু হয় পিতার কাছে। প্রথমে তিনি পিতার কাছে ও পরে হাতিবাগানের পণ্ডিত সীতানাথ সাংখ্যতীর্থের চতুষ্পাঠীতে সংস্কৃত শিক্ষা নেন। সংস্কৃত ব্যাকরণের দ্বিতীয় পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন ১৯১১ খ্রিস্টাব্দে। যখন তিনি টোলে পাঠরত, সেই অবস্থায় তিনি প্রাইভেট ছাত্র হিসাবে প্রবেশিকা পরীক্ষায় সসম্মানে উত্তীর্ণ হন (১৯১৩ খ্রিস্টাব্দে) । এর পরে তিনি বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে ইংরাজীতে অনার্স সহ বি.এ পাশ করেন ( ১৯১৭ খ্রিস্টাব্দে )। বাংলা সাহিত্যের পত্রে তিনি প্রথম স্থান অধিকার করেছিলেন। কিন্তু এরপর আবার হঠাৎ পিতার মৃত্যুতে (১৯১৮ খ্রিস্টাব্দ) তাকে ইংরাজী ভাষা ও সাহিত্যে এম.এ পড়া স্থগিত করে পৈতৃক আয়ুর্বেদীয় চিকিৎসাতে আত্মনিয়োগ করতে হয়, যদিও এই পেশায় তার অতোটা আগ্রহ ছিল না।

 

পারিবারিক জীবন——-

 

১৯১৬ খ্রিস্টাব্দে বনলতাকে বিবাহ করেন রমেশচন্দ্র সেন। তাদের পাঁচ পুত্র ও নয়টি কন্যাসন্তান ছিল।

কর্মজীবন—–

 

চিকিৎসাশাস্ত্রের চেয়ে তার সাহিত্যচর্চায় বেশি আগ্রহ ছিল। তিনি বাংলা সাহিত্যে শুধু নিজের অবদান রাখেন নি, তিনি তৈরি করে গেছন বহু বাঙালি সাহিত্যিককে। ১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দ হতে ১৯৬২ খ্রিস্টাব্দে তার মৃত্যু কাল অবধি তিনি নিয়মিত লিখে গেছেন। ১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দে (১৩৫২ বঙ্গাব্দে) প্রকাশিত তার প্রথম রচিত উপন্যাস শতাব্দী বিশেষ প্রশংসিত হয়েছিল। তার অন্যান্য উল্লেখযোগ্য প্রকাশিত গ্রন্থগুলি হল-

চক্রপাক (১৯৪৫), কুরপালা (১৯৪৬), কাজল (১৯৪৯), গৌরীগ্রাম (১৯৫৩), মালঙ্গীর কথা (১৯৫৪), পূব থেকে পশ্চিম (১৯৫৬), সাগ্নিক (১৯৫৯), নিঃসঙ্গ বিহঙ্গ (১৯৫৯), অপরাজেয় (১৯৬০), পূর্বরাগ (১৯৬১)।

 

ছোটগল্প হল – “মৃত ও অমৃত”, “তারা তিন জন”, “সাদা ঘোড়া”, “রাজার জন্মদিন”, “ডোমের চিতা” ইত্যাদি।

 

তার রচিত কিছু গল্প ইংরাজি, হিন্দি ও চেকোশ্লোভাক প্রভৃতি বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছিল।

জীবনাবসান—–

 

বাংলা সাহিত্যের অন্যতম স্থপতি রমেশচন্দ্র সেন ১৯৬২ খ্রিস্টাব্দের ১জুন কলকাতায় পরলোক গমন করেন।

 

।। তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ

গ্রামোন্নয়নে  কৃষির ভূমিকা  —একটি সমীক্ষা : দিলীপ  রায়।।

আমরা জানি, ভারত সরকার আত্মনির্ভর ভারতের লক্ষ্যে গ্রামের মানুষের জীবিকার নিরাপত্তা ও আর্থিক ক্ষমতা বাড়ানোর পক্ষপাতী । এই কথা মাথায় রেখে, সরকার গ্রামে সকলের অন্তর্ভুক্তিমূলক বিকাশের দিকে নজর দিয়ে কৃষি ও গ্রামোন্নয়ন ক্ষেত্রে রূপান্তর ত্বরান্বিত করার কৌশলগত পদক্ষেপ নিয়েছে বা নিচ্ছে  । এটা ঘটনা, কেন্দ্রিয় সরকার ঘোষিত কল্যাণ প্রকল্প ও কর্মসূচিগুলোর লক্ষ্য হচ্ছে গ্রামাঞ্চলকে লাভ, উৎপাদনশীলতা ও সমৃদ্ধির কেন্দ্র হিসাবে গড়ে তোলা । এই লক্ষ্য পূরণে বাজেট বরাদ্দ সেইভাবে বাড়ানো হচ্ছে । তৈল বীজ ও ডাল উৎপাদন বাড়াতে এবং রান্নার তেলে স্বনির্ভর হতে দেশকে সাহায্য করার জন্য আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রী সমবায় সমিতিগুলোকে ডাক দিয়েছেন (০৩-০৭-২০২৩) । এখানে একটা ঘটনা জানিয়ে রাখি, খাদ্যশস্য উৎপাদনের ক্ষেত্রে আমাদের দেশে  ২০২২-২৩ সালে  শস্য ও শাক, সবজি, ফুল ও ফলের ফলন রেকর্ড পরিমাণে বেড়েছে । গত বছরের চেয়ে শস্যের উৎপাদন বেড়েছে ৪ শতাংশের বেশি । আর অন্যদিকে শাক, সবজি, ফুল ও ফল ফলেছে ১শতাংশের বেশি । প্রধান খাদ্যশস্য ধান ও গমের ফলনের রেকর্ডও  উল্লেখযোগ্য  । ধান ও গম উৎপাদন (২০২২-২৩) যথাক্রমে ১৩ কোটি ৫০ লক্ষ টন এবং ১১ কোটি টন । (তথ্যসূত্রঃ যোজনা-১২/২৩) । সুতরাং খাদ্যশস্য উৎপাদনে আমাদের দেশ একটা আত্মসন্তুষ্টির জায়গায় রয়েছে ।
এই কথাগুলি তুলে ধরার একটাই উদ্দেশ্য, গ্রামীণ বিকাশে কৃষিজাত ফসলের  উৎপাদন বৃদ্ধির সরকারি দৃষ্টির  ইতিবাচক  দিকগুলির উপর এবং বাস্তব অবস্থান সম্পর্কে  একটা ধারণা ।  আর একটি পরিসংখ্যানে (নীচে উল্লেখ করা হলো)  দেখা যাচ্ছে আমাদের দেশে  দারিদ্রতার হার কমছে ।
ন্যাশনাল স্যাম্পল সার্ভের প্রকাশিত ফ্যাক্টশিট থেকে দেখা যাচ্ছে, ২০১১-১২’এর তুলনায় ২০২২-২৩ সালে ভারতীয় পরিবারগুলির মাথাপিছু মাসিক ব্যয় অনেক বেড়েছে । একই সঙ্গে দারিদ্রের হার নেমে গেছে ২২.৯% থেকে ৫শতাংশের কাছাকাছি ।  এখন জানা যাক, দরিদ্র কাদের বলা হচ্ছে ? যে পরিবারের দৈনিক মাথাপিছু খরচ ২.১৫ ডলার বা তার কম, বিশ্ব ব্যাঙ্ক তাকে দরিদ্র বলছে । অর্থাৎ কোনো পরিবারের মাসিক মাথাপিছু খরচ ১৪৭৬ টাকা বা তার কম হলে বিশ্ব ব্যাঙ্কের মাপকাঠি অনুযায়ী তাকে দরিদ্র বলা যায় । বিনামূল্যে পাওয়া ভোগ্যবস্তু বাদে তাদের ব্যয় মাসে ১৩৭৩ টাকা, বিনামূল্যের পণ্য ধরলে তা ১৪৪১ টাকা । অর্থাৎ ন্যাশনাল স্যাম্পল সার্ভের নতুন তথ্য অনুযায়ী দারিদ্রের হার ৫%-এ নেমে এসেছে । (সূত্রঃআঃবঃপঃ২৪.০৫.২০২৪) । সুতরাং আমরা যদি  গ্রামীণ এলাকার মানুষের দিকে চোখ রাখি তাহলে আমরা বুঝতে পারব, সত্যিই কী দারিদ্রের হার কমেছে !
( ২ )
আমাদের দেশ মূলত কৃষিপ্রধান দেশ । তাই অনেক অর্থনীতিবিদ   মনে করেন, কর্মসংস্থান-ভিত্তিক বিকাশের ক্ষেত্রে কৃষি অগ্রগণ্য । তাই গ্রামোন্নয়নের মূল স্তম্ভ হচ্ছে কৃষি । বলা চলে গ্রামীণ অর্থনীতি প্রায় সম্পূর্ণভাবে কৃষিনির্ভর । কৃষিই  গ্রামীণ মানুষের জীবিকার মূল অবলম্বন । অধিকাংশ মানুষ সরাসরি চাষবাস করে জীবিকা নির্বাহ করে । অনেকে আবার কৃষির সঙ্গে যুক্ত আনুসঙ্গিক কাজ কর্মে নিয়োজিত । তাই কৃষি গ্রামীণ  অর্থনীতির মেরুদন্ড । বিভিন্ন সমীক্ষার রিপোর্টে জানা গেছে, কৃষি থেকে প্রায় ৬৯ শতাংশ মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জীবিকা নির্বাহ করে । এটাও ভাববার বিষয়, কম জমিতে বেশি ফলন কীভাবে করা যায় ?  তাই কৃষি অঞ্চল যেমন বাড়াতে হবে তেমনি উৎপাদনশীলতার উপর জোর দিতে হবে । যেমন পাঞ্জাবে ধান ও গম ফসলের যখন আবর্তন শুরু হয়, তখন খড় পোড়ানো শুরু হয়  । একটাই উদ্দেশ্য জমির উর্বরতা বাড়ানো । যেখানেই এই ধান ও গমের আবর্তন রয়েছে, সেখানেই প্রয়োজন একটি রাইস বয়ো পার্কের । রাইস বয়ো পার্ক মানে ধানের প্রতিটি অংশ যেমন গাছ, খড়, খোসা, তুষ, পাতা, সবকিছুকেই কাজে লাগানো । এখানে একটা কথা বলা প্রয়োজন, খড় পোড়ানোর ব্যাপারটা আবার দক্ষিণ ভারতে নেই । চাষি পরিবারে এখনও খড় ছোট ছোট করে কেটে গরুকে খাওয়ানোর রেওয়াজ বর্তমান । সুতরাং আমরা বলতে পারি এগুলির অর্থনৈতিক মূল্য রয়েছে  । অতএব গ্রামীণ  উন্নয়নে ও আর্থিক দৃষ্টিভঙ্গীতে  এই জাতীয় অর্থকরী ফসলের রক্ষণাবেক্ষণ খুব জরুরি । শুধু তাই নয়, জমিতে উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে যথাযথ ধ্যান দেওয়া আশুকর্তব্য । (তথ্যসূত্রঃ যোজনা-১১/২৩) ।
কৃষিক্ষেত্রে  উন্নয়নের আরও ধাপ হিসাবে আমরা দেখতে পাই  উচ্চ ফলনশীল বীজের ব্যবহার, সার ও ঔষধের প্রয়োগ ।  তা ছাড়া বহুফসলি চাষের ক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তির উপর জোর দেওয়া  । কিন্তু বাস্তবে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের ব্যাপকতা সেভাবে বাড়েনি । যার জন্য কৃষি ব্যবস্থা এখনও অনুন্নত এবং সেকেলের ।  শীর্ণদেহি বলদের কাঁধে লাঙ্গল জোয়াল জুড়িয়ে চলছে কৃষিকাজ । তবে একটা কথা এখানে প্রাসঙ্গিক, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের জন্য খাদ্য শস্যের উৎপাদন যেমন ধান, গম , জোয়ার, বাজরা, ভুট্টা  অনেকটাই বেড়ে গেছে । মহাজনি প্রথা বিলোপের জন্য কৃষি ঋন দেওয়ার ক্ষেত্রে সমবায় গঠনের উপর জোর দেওয়া হয়েছে । কৃষি ঋনের সহজলভ্যতার জন্য রয়েছে  “জাতীয় কৃষি ও গ্রামোন্নয়ন ব্যাঙ্ক”  (NABARD) । শস্যবীমা ও শস্যের ন্যুনতম দাম বেঁধে দেওয়ার ফলে গরীব কৃষকেরা অনিশ্চয়তার হাত থেকে যদিও কিছুটা রক্ষা পাচ্ছে । কিছুটা হলেও বর্তমানে চিরাচরিত কৃষি প্রথার বদলে আধুনিক পদ্ধতিতে চাষের উপর ঝোঁক দেখা যাচ্ছে ।  অন্যদিকে এটাও ঘটনা, কৃষিজাত দ্রব্যের দাম কিন্তু অন্যান্য দ্রব্যের দামের সঙ্গে সমানতালে বাড়ে না । অথচ যত  দিন যাচ্ছে চাষিদের চাষের খরচ ক্রমান্বয়ে বাড়ছে । চাষে নিযুক্ত কৃষি শ্রমিকের দাম যেমন বাড়ছে, তেমনি চাষের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র অর্থাৎ রাসায়নিক সার, ফসলের পোকা-মাকড় মারবার ঔষধপত্রের দামও বাড়ছে । ফলে চাষ থেকে উঠে আসা লভ্যাংশ ক্রমহ্রাসমান । চাষীর চাষজাত ফসলের দামের উপর গ্রামীণ অর্থনীতি নির্ভরশীল । অর্থকরী ফসলের উৎপাদনের অবস্থা তথৈবচ । আমরা জানি, অর্থকরী ফসল বলতে বিশেষ করে বাংলায় পাট চাষ । পাটের বাজারের তীব্র মন্দার কারণে পাট চাষও তলানীতে । সুতরাং গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙ্গার স্বার্থে কৃষির উপর যথাযথ গুরুত্ব আরোপ ভীষণ জরুরি  ।
( ৩ )
এবার আসছি কৃষিকাজে সারের ব্যবহারে । নিয়মিত জমির মাটির  স্বাস্থ্য পরীক্ষা চাষযোগ্য জমিতে উৎপাদন বাড়ানোর তাগিদে বাঞ্ছনীয় । মাটি পরীক্ষার পর সঠিক সার নির্ধারন চাষের পক্ষে উপোযোগী । যার জন্য মাটি পরীক্ষার চাহিদা দিন দিন বাড়ছে । এই কারণেই ‘রাষ্ট্রীয় কৃষি বিকাশ যোজনা’ চালু হয়েছে । মাটির স্বাস্থ্য কার্ড বিলি ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে । আমরা জানি, কৃষিজমিতে জৈব সার ব্যবহার ফসলের ফলনকে বাড়াতে সাহায্য করে । এই প্রসঙ্গে একটা কথা খুব জরুরি, খাদ্যের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে গেলে খাদ্যের যোগান-বৃদ্ধি অবশ্যম্ভাবী । আবার কিছু কিছু ফসল আছে যেগুলো সরাসরি খাদ্যের ব্যবহারে আসে না, যেমন  তুলো, ইত্যাদি । তবুও আমাদের দেশের কৃষক সমাজ লাভের কথা মাথায় রেখে প্রযুক্তির সাহায্যে তুলো চাষকে লাভযোগ্য ফসল হিসাবে চাষ করছে । এইভাবে চাষের উন্নয়ন গ্রামীণ অর্থনীতির বিকাশে প্রভাব ফেলবে ।
এবার দেখা যাক কৃষিক্ষেত্রকে চাঙ্গা করার স্বার্থে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলির ভূমিকা । কেন্দ্রিয় সরকারের তথ্য থেকে দেখা যায় মোট প্রদত্ত ঋনের মধ্যে কৃষিক্ষেত্রে বিভিন্ন ব্যাঙ্কগুলির ঋনের পরিমান ২০১০-১১ সালে মাত্র ২১.৭৬ শতাংশ । পশ্চিম বঙ্গে ২০১২-১৩ সালে (এপ্রিল—ডিসেম্বর) তথ্যে প্রকাশ,  বাণিজ্যিক ব্যাঙ্কগুলি কৃষিঋন প্রকল্পে নির্দ্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ৪৯ শতাংশ ঋন প্রদান করেছে । আঞ্চলিক ব্যাঙ্কগুলি লক্ষ্যমাত্রার ২৮ শতাংশ ও সমব্যয় ব্যাঙ্কগুলি ৫০ শতাংশ ঋনপ্রদানে সাফল্যে লাভ করেছে । এছাড়া সমব্যয় ব্যাঙ্কগুলি রাজ্যের প্রাথমিক  কৃষিঋন সমব্যয় সমিতিগুলির (প্যাকস্‌) মাধ্যমে কৃষিঋন ও কৃষিকাজের অন্যান্য উপাদানের জন্যে ঋন প্রদান করে । নাবার্ড উৎপাদনের মাধ্যমে সম্পদ সৃষ্টি করার ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক, জমি ভাড়া বা ইজারা নিয়ে চাষ করে এমন কৃষক  ও ভাগচাষিদের ঋন পরিষেবা দেবার জন্য প্রকল্প গ্রহন করেছে । এতে কৃষি উৎপাদন ও উৎপাদনশীলতা বাড়বে । দেশের আর্থিক উন্নয়নের হার বৃদ্ধির সুবিধা হবে (তথ্যসূত্রঃ যোজনা -৬/১৪) ।
( ৪ )
এবার একঝলক ভারতীয় অর্থনীতির চিত্রটা দেখে নেওয়া যাক । ভারতের অর্থনীতি বৈচিত্র্যময় । কৃষিকাজ, হস্তশিল্প, বস্ত্রশিল্প, উৎপাদন এবং বিভিন্ন সেবা ভারতের অর্থনীতির অংশ । ভারতের খেটে খাওয়া মানুষের দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ প্রত্যক্ষভাবে কিংবা পরোক্ষভাবে কৃষিজমি থেকে জীবিকা নির্বাহ করে । এখনও ভারতের অর্থনৈতিক পরিকাঠামো ৬৯ শতাংশ কৃষির উপর নির্ভরশীল । তবে সেবাখাত ক্রমশ প্রসারলাভ করছে, ফলে ভারতীয় অর্থনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠছে । ডিজিটাল যুগের আর্বিভাবের পর শিক্ষিত লোকের সহজলভ্যতাকে কাজে লাগিয়ে ভারত আউটসোর্সিং  ও কারিগরি সহায়তাদানের একটি গুরুত্বপূর্ণ দেশ হিসাবে  পরিণত হয়েছে বা হচ্ছে । এটা ঘটনা, ভারত সফটওয়্যার ও আর্থিক  সেবার ক্ষেত্রে সারা বিশ্বে অতি দক্ষ শ্রমিক সরবরাহ করে থাকে । এছাড়া  ঔষধ শিল্প, জীবপ্রযুক্তি, ন্যানোপ্রযুক্তি, টেলিযোগাযোগ, জাহাজ নির্মাণ, পর্যটন শিল্পগুলিতে জোড়ালো প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা ।
এবার আসছি আমাদের রাজ্যের দৃষ্টিভঙ্গিতে কৃষিব্যবস্থা । রাজ্যে কোনো অর্থকরী ফসলের জন্য সংশ্লিষ্ট কৃষককে আর বিমার প্রিমিয়াম দিতে হবে না ।  রাজ্য সরকার (পঃবঃ) এই সংক্রান্ত খরচ বহন করবে । বিধানসভায় কৃষি মন্ত্রী একথা জানিয়ে আরও বলেছেন, আগামী অর্থবর্ষের শুরুতে আলুসহ সমস্ত অর্থকরী ফসলের চাষীরা এই সুবিধা পাবেন । তিনি আরও বলেছেন, ২০২৩ সালের খারিফ মরশুমে প্রায় ৬০ লক্ষ কৃষক বাংলার শস্য বীমা যোজনা প্রকল্পের আওতায় নাম নথিভুক্ত করেছেন । আরও জানা যায়, ২০১৯ সালে এই প্রকল্প শুরু হওয়ার পর থেকে এপর্যন্ত ৯৮ লক্ষ কৃষককে এই প্রকল্পের আওতায় ফসলের ক্ষতি বাবদ ২৮৩৮ কোটি টাকা প্রদান করা হয়েছে । (তথ্যসূত্রঃ যোজনা-৩/২৪) ।
কোনো একটা সূত্র থেকে জানা গেছে কেন্দ্রের সরকার  কৃষকদের সব ধরনের সমস্যা দূর করতে উদ্যোগী হয়েছে । পিএম কিষাণ সম্মাননিধির আওতায় প্রত্যেক কৃষককে নগদ মূল্য দিয়ে সহযোগিতা করার উদ্যোগ নিয়েছে । কৃষিপণ্যের গুদামজাত করার সুবিধা বৃদ্ধির পাশাপাশি খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্পের উন্নতিতে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে । আরও জানা গেছে বর্তমানে কৃষকরা তাঁদের উৎপাদিত অড়হর ডাল বিক্রির ক্ষেত্রে অন লাইনে সরাসরি সরকারকে বিক্রি করার সুযোগ পাচ্ছে  । এতে কৃষকরা ভাল দাম পাচ্ছেন । (তথ্যসূত্রঃ যোজনা-২/২৪) ।
এই মুহূর্তে যেটা দরকার, কৃষিজাত ফসলের সঠিক দাম । ফসলের ন্যায্য দাম নিয়েই কৃষকদের মধ্যে যতো অশান্তি । ফসলের ন্যায্য দামের জন্য চাই ‘কৃষি বাজার’ । আমাদের দেশের চাষিরা উপযুক্ত বাজারের অভাবে তাঁদের বহু  কষ্টার্জিত ফসলের দাম ঠিকমতো পায় না । ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষিরা যাতে না ঠকে, তার জন্য চাই সুসংহত কৃষি বিপননের পরিকাঠামো । প্রয়োজনে কৃষি-বাণিজ্য নীতির খোলনলচে পাল্টানো । যাতে কৃষকের কৃষি-পণ্যের জন্য সরকার কর্তৃক উপযূক্ত “লাভজনক দাম” বা সংগ্রহ মূল্যের নির্ধারন ও নিশ্চয়তা প্রদান সম্ভব হয়  । সবশেষে যেটা জরুরি, সেটা হচ্ছে কৃষি বীমার  সম্প্রসারণ । কৃষি কাজ খুবই ঝুঁকিপূর্ণ । কৃষি ক্ষেত্রে অনেক অর্থ ও শ্রম বিনিয়োগ করে আশানুরূপ ফল না পেলে কৃষকের দুর্দশা বাড়ে । এজন্য শস্য বীমা, কৃষি বীমা, ইত্যাদি বীমার আরও জোরদার করা সময়োপযোগী । বীমার আওতায় যাতে সমস্ত ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষি আসে সেদিকে সরকারি সক্রিয় দৃষ্টিভঙ্গি আশুকর্তব্য ।
পরিশেষে কৃষি ব্যবস্থাকে চাঙ্গা করতে পারলে গ্রামীণ অর্থনীতি আরও চাঙ্গা হবে  । কৃষি ব্যবস্থা চাঙ্গা হলে গ্রামোন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত হবে । অন্যদিকে গ্রামীণ  অর্থনীতি চাঙ্গা হলে গ্রামীণ মানুষদের মধ্যে স্বাচ্ছন্দ্যে বাড়বে । তাঁদের মুখে হাসি ফুটবে।

কলমেঃ  দিলীপ  রায়   (+৯১ ৯৪৩৩৪৬২৮৫৪)

(তথ্যসুত্রঃ সংগৃহীত ও উল্লেখিত যোজনা)  ।

Share This
Categories
প্রবন্ধ

দেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে অগ্রনী বিপ্লবী রাসবিহারী বসু – একটি বিশেষ পর্যালোচনা।।

ভারতে ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতাকামী আন্দোলনের একজন অগ্রগণ্য বিপ্লবী নেতা এবং ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল আর্মির অন্যতম সংগঠক ছিলেন রাসবিহারী বসু। রাসবিহারী বসু ১৮৮৬ খ্রীষ্টাব্দের ২৫ শে মে অধুনা পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব বর্ধমান জেলায় অবস্থিত তার পৈতৃক গ্রাম সুবলদহে জন্মগ্রহণ করেন৷ পিতা বিনোদবিহারী বসু এবং তার মায়ের নাম ভুবনেশ্বরী দেবী। তিনকড়ি দাসী ছিলেন তার ধাত্রী মাতা৷ তার পিতামহ নাম ছিলেন কালীচরণ বসু৷ এই বসু পরিবারের আদিবাস ছিল অধুনা পূর্ব বর্ধমান জেলার সুবলদহেতে৷ তাঁদের পূর্বপুরুষ নিধিরাম বসুই সর্বপ্রথম সুবলদহে বসবাস শুরু করেন৷ রাসবিহারী বসুকে তার নামটি দিয়েছিলেন পিতামহ কালীচরণ বসু। গর্ভাবতী অবস্থায় তার মা ভুবনেশ্বরী দেবী কঠিন রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন।

তাই সুবলদহ গ্রামের পশ্চিম পাড়াতে অবস্থিত বিষ্ণুমন্দির বা কৃষ্ণ মন্দিরে তার নামে প্রার্থনা(মানত) করা হয়েছিল যাতে তিনি(ভুবনেশ্বরীদেবী) সুস্থভাবে সন্তানের জন্ম দেন, তাই পরবর্তীকালে তার নাতির নাম রাখেন, কৃষ্ণের অপর নামে। রাসবিহারী হল কৃষ্ণের অপর নাম। রাসবিহারী বসু এবং তার ভগিনী সুশীলা সরকারের শৈশবের বেশির ভাগ সময় কেটেছিল সুবলদহ গ্রামে। তারা সুবলদহ গ্রামে বিধুমুখী দিদিমণির ঘরে বসবাস করতেন। বিধুমুখী ছিলেন একজন বাল্যবিধবা, তিনি ছিলেন কালিচরণ বসুর ভ্রাতৃবধূ। রাসবিহারী বসুর শৈশবের পড়াশোনা সুবলদহের গ্রাম্য পাঠশালায় (বর্তমানে সুবলদহ রাসবিহারী বসু প্রাথমিক বিদ্যালয়) ঠাকুরদার সহচর্যে সম্পন্ন হয়েছিল। রাসবিহারী বসু শৈশবে লাঠিখেলা শিখেছিলেন সুবলদহ গ্রামের শুরিপুকুর ডাঙায়। তিনি সুবলদহ গ্রামে তার ঠাকুরদা কালিচরণ বসু এবং তার শিক্ষকদের কাছ থেকে বিভিন্ন জাতীয়তাবাদী গল্প শুনে তার বিপ্লবী আন্দোলনের অনুপ্রেরণা পেয়েছিলেন। তিনি ছিলেন গ্রামবাসীদের নয়নের মণি। শোনা যায় যে, তিনি ইংরেজদের মূর্তি তৈরি করতেন এবং লাঠি খেলার কৌশলে সেই মূর্তিগুলোকে ভেঙে ফেলতেন। তিনি ডাংগুলি খেলতে খুব ভালোবাসতেন। তিনি শৈশবে সুবলদহ গ্রামে ১২ থেকে ১৪ বছর ছিলেন, এছাড়াও তিনি পরবর্তীকালে ব্রিটিশদের চোখে ধুলো দিয়ে প্রয়োজনে সুবলদহ গ্রামে এসে আত্মগোপন করতেন। পিতা বিনোদবিহারী বসুর কর্মক্ষেত্র ছিল হিমাচল প্রদেশের সিমলায়। তিনি সুবলদহ পাঠশালা, মর্টন স্কুল ও ডুপ্লে কলেজের ছাত্র ছিলেন। জীবনের প্রথম দিকে তিনি নানা বিপ্লবী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং আলিপুর বোমা বিস্ফোরণ মামলায় ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দে অভিযুক্ত হন। পরবর্তীকালে তিনি দেরাদুনে যান এবং সেখানে বন্য গবেষণা ইনস্টিটিউটে হেড ক্লার্ক হিসেবে কাজে যোগদান করেন। দেরাদুনে তিনি গোপনে বাংলা, উত্তর প্রদেশ ও পাঞ্জাবের বিপ্লবীদের সংস্পর্শে আসেন।বিপ্লবী হিসেবে তার অন্যতম কৃতিত্ব বড়লাট হার্ডিঞ্জের ওপর প্রাণঘাতী হামলা। বিপ্লবী কিশোর বসন্ত বিশ্বাস তার নির্দেশে ও পরিকল্পনায় দিল্লিতে ১৯১২ খ্রিস্টাব্দে বোমা ছোড়েন হার্ডিঞ্জকে লক্ষ্য করে। এই ঘটনায় পুলিশ তাকে কখনোই গ্রেপ্তার করতে পারেনি। সমগ্র ভারতব্যাপী সশস্ত্র সেনা ও গণ অভ্যুত্থান গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছিলেন রাসবিহারী বসু। জনৈক বিশ্বাসঘাতকের জন্যে সেই কর্মকাণ্ড ফাঁস হয়ে যায়। বহু বিপ্লবী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকায় তিনি ব্রিটিশ সরকারের সন্দেহভাজন হয়ে ওঠেন এবং শেষ পর্যন্ত দেশত্যাগে বাধ্য হন। ১৯১৩ খ্রিস্টাব্দে তিনি বন্যা বিধ্বস্ত সুবলদহ গ্রামে ফিরে আসেন এবং ত্রাণ বিলির উদ্যোগ নেন।[৯] ১৯১৫ খ্রিস্টাব্দের ১২ মে কলকাতার খিদিরপুর বন্দর থেকে জাপানি জাহাজ ‘সানুকি-মারু’ সহযোগে তিনি ভারতবর্ষ ত্যাগ করেন। তার আগে নিজেই পাসপোর্ট অফিস থেকে রবীন্দ্রনাথের আত্মীয়, রাজা প্রিয়নাথ ঠাকুর ছদ্মনামে পাসপোর্ট সংগ্রহ করেন।
তারই তৎপরতায় জাপানি কর্তৃপক্ষ ভারতীয় জাতীয়তাবাদীদের পাশে দাঁড়ায় এবং শেষ পর্যন্ত ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে সক্রিয় সমর্থন যোগায়। ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দের ২৮-২৯ মার্চ টোকিওতে তার ডাকে অনুষ্ঠিত একটি সম্মেলনে ইন্ডিয়ান ইন্ডিপেন্ডেন্স লীগ বা ভারতীয় স্বাধীনতা লীগ গঠনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ভারতের স্বাধীনতা অর্জনের লক্ষ্যে তিনি সেই সম্মেলনে একটি সেনাবাহিনী গঠনের প্রস্তাব দেন। ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দের ২২ জুন ব্যাংককে তিনি লীগের দ্বিতীয় সম্মেলন আহ্বান করেন। সম্মেলনে সুভাষচন্দ্র বসু কে লীগে যোগদান ও এর সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণের আমন্ত্রণ জানানোর প্রস্তাব গৃহীত হয়। যেসব ভারতীয় যুদ্ধবন্দি মালয় ও বার্মা ফ্রন্টে জাপানিদের হাতে আটক হয়েছিল তাদেরকে ইন্ডিয়ান ইন্ডিপেন্ডেন্স লীগে ও লীগের সশস্ত্র শাখা ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল আর্মিতে যোগদানে উৎসাহিত করা হয়। কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে জাপানি সেনাকর্তৃপক্ষের একটি পদক্ষেপে তার প্রকৃত ক্ষমতায় উত্তরণ ও সাফল্য ব্যাহত হয়। তার সেনাপতি মোহন সিংকে ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল আর্মির নেতৃত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। কিন্তু তার সাংগঠনিক কাঠামোটি থেকে যায়। রাসবিহারী বসু ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল আর্মি (আজাদ হিন্দ ফৌজ নামেও পরিচিত) গঠন করেন। জাপানে সোমা নামে এক পরিবার তাকে আশ্রয় দেয়। ওই পরিবারেরই তোশিকা সোমাকে তিনি বিবাহ করেন। রাসবিহারী বসুকে জাপান সরকার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মান ‘সেকেন্ড অর্ডার অব দি মেরিট অব দি রাইজিং সান’ খেতাবে ভূষিত করে। জানুয়ারি ২১, ১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দে জাপানে রাসবিহারী বসুর মৃত্যু হয়।

তথ্য : সংগৃহীত ইন্টারনেট ও উইকিপিডিয়া।

Share This
Categories
প্রবন্ধ

ব্রিটিশ শাসনাধীন ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে কবি নজরুল ইসলামের ভূমিকা।।।

১৮৯৯ সালের ২৪ মে কবি নজরুল ইসলাম জন্মগ্রহণ করেন অবিভক্ত ভারতবর্ষের পশ্চিমবঙ্গের চুরুলিয়া গ্রামে।  আর যখন ভারতবর্ষ স্বাধীনতা লাভ  করে দ্বিখণ্ডিত হয়, তখন বিদ্রোহী কবি নজরুল ইসলামের বয়স মাত্র  ৪৮ বছর দুই মাস ৯ দিন ।

কবি নজরুল ইসলামের কাব্যজীবন ,সাহিত্য ও গান তাঁর সৃষ্টি বিশ্লেষণে দেখা যায় কবি নজরুল ইসলামকে দলগত কিংবা ব্যক্তিগতভাবে কখনোই বিদ্রোহী বলা যায় না। প্রকৃতপক্ষে কবি নজরুল ইসলাম কোন রাজনৈতিক দলের ছিলেন না বা  বিদ্রোহী দলও গঠন করেননি বা কোনো বিদ্রোহী সন্ত্রাসী দলে যোগদানও করেন নাই।
তৎকালীন সময়ে কবির সবচেয়ে নিকটের বন্ধু ছিলেন  ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টির নেতা কমরেড মুজফর আহম্মেদ।  কবি তাঁর সংস্পর্শে থেকেও কিন্তু কমিউনিস্ট পার্টিতে যোগদান করেন নাই।

কবিকে আত্মাভিমানী বললে ভুল বা কখনোই অত্যুক্তি হবে না, যদি বা কবি নজরুল তাত্ত্বিক বা দার্শনিক হিসেবে গণ্য নন, কিন্তু তাঁর সাম্যবাদী, ঈশ্বর, মানুষ, পাপ, বারাঙ্গনা, নারী, কুলি-মজুর প্রভৃতি কবিতায় সুস্পষ্টভাবে অভেদ মানবতত্ত্ব এবং সাম্যবাদী চৈতন্যের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছেন। এসব ক্ষেত্রে তাঁর মানবিক সংশোধনের প্রাচুর্যই বেশি চোখে পড়ে।
কবির নান্দনিক কাব্যিক শৈল্পিক দৃষ্টিভঙ্গিতে তাঁর অভিমান ও ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে , দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অসাম্যের কারণে।
তাই বোধকরি তাকে বিদ্রোহ কবি বলে গণ্য করা হয়েছে। কিন্তু তাঁর রচনাসমগ্র বিশ্লেষণ করলে চোখে পড়ে যে,তিনি একাধারে বিদ্রোহের উন্মাদনা তৎসঙ্গে অন্যধারে প্রেমের অবাধ্য আকুতি।
এই পরস্পরবিরোধী দ্বৈত অবস্থানের চৌম্বিকতায় একপর্যায়ে লক্ষ্যণীয় সৃষ্টি কবি নজরুলের ‘বিদ্রোহী’ কবিতা..যেমন,
আমি চির দুর্দ্দম, দুর্বিনীত, নৃশংস,
মহা প্রলয়ের আমি নটরাজ,
আমি সাইক্লোন, আমি ধ্বংস!…আমি দুর্বার ,
আমি ভেঙে করি সব চুরমার।
আমি অনিয়ম উচ্ছৃঙ্খল,
আমি দলে যাই যত বন্ধন, যত নিয়মকানুন শৃঙ্খল!
আমি মানি নাকো কোন আইন…

বৃটিশরাজের আমলাতান্ত্রিক ঔপনিবেশিক শাসন ব্যবস্থায় রাজা-প্রজার এতই ব্যবধান যে সাধারণত রাজার সম্মান ছিল ঈশ্বরেরই সমকক্ষ তৎসঙ্গে রাজকর্মচারীরা নিজেদেরকে রাজার প্রতিভূ অর্থাৎ জনগণের তথা প্রজার প্রভু বলে মনে করত নিজেদের আর তাদের আচার-আচরণও ছিল রাজন্যবর্গসুলভ। নজরুল এই অবস্থানকে কটাক্ষ করে লিখেছেন সেই কথাগুলো এবং উপসংহারে ঘোষণা করেছিলেন ,–
গণতন্ত্রের জয়,বন্ধু, এমনি হয়-
জনগণ হ’ল যুদ্ধে বিজয়ী,রাজার গাহিল জয়!
প্রজারা যোগায় খোরাক- পোশাক,
কি বিচার বলিহারি,
প্রজার কর্মচারী নন তাঁরা রাজার কর্মচারী!
মোদেরি বেতনভোগী চাকরেরে সালাম করিব মোরা,
ওরে পাবলিক সার্ভেন্টদের আয় দেখে যাবি তোরা!..

এরপর নজরুল আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেছিলেন,-
“-এ আশা মোদের দুরাশাও নয়,সেদিন সুদূরও নয়,
সমবেত রাজ-কণ্ঠে যেদিন শুনিব প্রজার জয়।”

কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন মূলত বিদ্রোহী কবি। তার বিদ্রোহ ছিল সমাজ ও রাষ্ট্রের সব অন্যায়, অত্যাচার, অবিচার ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে। আর সেই বিদ্রোহকে কেন্দ্র করেই তার স্বাধীনচেতা হৃদয়ের আগুন প্রজ্বলিত হয়েছিল আপন পরাধীন দেশের স্বাধীনতা কামনায়। এমন সরাসরি স্বাধীনতার প্রবক্তা হওয়া সেই আমলে আর কোনো কবির পক্ষে সেকালে সম্ভব হয়নি। কারণ, প্রভু ইংরেজরা অসন্তুষ্ট হবেন এমন কোনো কথা উচ্চারণ করার।
অথচ সেই সময় বিশের দশকে কবি নজরুল ইসলাম ধূমকেতু পত্রিকা বের করেছেন তখন সংবাদপত্রে “স্বাধীনতা”র কথা বলা রীতিমতো ছিল ঝুঁকিপূর্ণ। সেখানে কংগ্রেসের জাঁদরেল নেতা সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় বক্তৃতা প্রসঙ্গে অটোনমি বা স্বায়ত্তশাসন আর সেলফ গভর্নমেন্টের কথা বললেন, ঋষি অরবিন্দও তাই বলেছিলেন, আর স্বয়ং মহাত্মা গান্ধীও বলেছিলেন।
অথচ ১৯২১ সালের শেষ সপ্তাহে আহমেদাবাদে মুসলিম লীগ ও কংগ্রেসের বার্ষিক সম্মেলনে প্রখ্যাত ঊর্দু কবি ফজলুল হাসান হসরৎ মোহানী তার বক্তব্যে ভারতের পূর্ণ স্বাধীনতার দাবি করেছিলেন।

১৯২২ সালের ১৩ অক্টোবর নজরুল ইসলামের সম্পাদিত ধূমকেতু পত্রিকার ১ম বর্ষ ১৩শ সংখ্যায় “ধূমকেতুর পথ” প্রবন্ধে সেদিন লিখেছিলেন,
–“সর্বপ্রথম ধূমকেতু পত্রিকাতেই ভারতের পূর্ণ স্বাধীনতা চাওয়া হয়েছিল। লিখেছিলেন, —
“স্বরাজ টরাজ বুঝি না, কেননা ও কথাটার মানে এক এক মহারথী এক এক রকম করে থাকেন। ভারতবর্ষের এক পরমাণু অংশও বিদেশির অধীনে থাকবে না। ভারতবর্ষের সম্পূর্ণ স্বাধীনতা রক্ষা ও শাসনভার সমস্তই থাকবে ভারতীয়দের হাতে। তাতে কোনো বিদেশি মোড়লীর অধিকারটুকু পর্যন্ত থাকবে না। যারা এখন রাজা বা শাসক হয়ে এদেশে মোড়লী করে দেশকে শ্মশান ভূমিতে পরিণত করেছেন তাদের পাততাড়ি গুটিয়ে বোঁচকা পুটুলি বেঁধে সাগর পাড়ে পাড়ি দিতে হবে। প্রার্থনা বা আবেদন-নিবেদন করলে শুনবো না। তাদের অতটুকু সুবুদ্ধি হয়নি এখনো যে, আমাদের এই প্রার্থনা করার, ভিক্ষে করার কুবুদ্ধিটুকুকে ওদের দূর করতে হবে।”

সেইসময় সংবাদপত্রে এমন দুঃসাহসিক স্বাধীনতা ঘোষণার কথা উচ্চারণ, বোধ করি ভারতের স্বাধীনতার ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।

নজরুল ইসলামের লড়াই ছিল সমাজে সাম্যবাদ প্রতিষ্ঠার সর্বাত্মক প্রচেষ্টায়।তাই কবির সাহিত্যে সকল বঞ্চিত ব্যথিত মানুষের মুক্তির লক্ষ্যে ছিল আপসহীন সংগ্রামে অধিকার সমন্বিত।
নজরুল ইসলাম নিঃস্বার্থ সাম্যবাদের আলো জ্বালিয়ে জগতকে আলোকিত করতে চেয়েছিলেন।

কবি নজরুল ছিলেন জ্ঞানবান সাম্যবাদী মানুষ যার লড়াই ছিল অন্যায়ের বিরুদ্ধে, অসাম্যের বিরুদ্ধে, অবিচারের বিরুদ্ধে এবং সর্বোপরি অত্যাচারীর বিরুদ্ধে যেখানে মানুষের জ্ঞানালোকিত স্বাধীনতা থাকবে অবাধ ও পক্ষপাত বিবর্জিত। যেখানে অন্যায়ের কণাটুকুও ঠাঁই পাবে না মনুষ্যত্বের আধারে। নজরুলের সাম্যে ধর্ম-বর্ণ শ্রেণীহীন সমাজ ব্যবস্থায় সব মানুষ সমান, যেখানে অর্থনৈতিক বৈষম্য নেই, যেখানে ধর্মের ব্যবধান নেই, কোনো বিভেদ নেই বর্ণের…
“গাহি সাম্যের গান
বুকে বুকে হেথা তাজা সুখ ফোটে,
মুখে মুখে তাজা প্রাণ।
বন্ধু এখানে রাজা-প্রজা নাই, নাই দরিদ্র ধনী,
হেথা পায় নাকো’ কেহ খুদ ঘাঁটা,কেহ দুধ-সর-ননী।

ভারতের স্বাধীনতা অর্জনের প্রেক্ষাপটে তিনি সম্যক উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন যে ভারতের দুই বৃহৎ ধর্মীয় সম্প্রদায় তথা হিন্দু ও মুসলমান যদি একতাবদ্ধ হয়ে একদেহে একই স্বার্থে স্বাধীনতার লড়াই চালিয়ে যেতে সক্ষম হয় তাহলে বৈরী অমানবিক শক্তি নস্যাৎ হতে বাধ্য। তাই তিনি গান বেঁধেছিলেন ,–
“কাণ্ডারী হুঁশিয়ার”
দুর্গম গিরি কান্তার-মরু, দুস্তর পারাবার
লঙ্ঘিতে হবে রাত্রি-নিশীতে, যাত্রীরা হুঁশিয়ার।
এখানে আরো লিখেছেন–
“হিন্দু না ওরা মুসলিম?” ওই জিজ্ঞাসে কোন জন?
কাণ্ডরী! বল, ডুবিছে মানুষ, সন্তান মোর মা’র।”

বিদেশি শত্রুর মোকাবেলা করতে হলে চাই জাতির ঐক্যবদ্ধ সংগ্রাম। তাই স্বাধীনতার পক্ষে কবি নজরুল ইসলাম চেয়েছিলেন, সমগ্র জাতি তথা হিন্দু-মুসলমান উভয় সম্প্রদায়ের ঐকান্তিক মিলন।

১৯২৬ সালের এপ্রিল মাসে কৃষ্ণনগরে অনুষ্ঠিত বঙ্গীয় প্রাদেশিক সম্মেলনে নজরুল সামরিক কায়দায় যে স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী গড়ে তোলেন তাদের সমবেত কণ্ঠে উদ্বোধনী সঙ্গীতও ছিল এই “কান্ডারী হুঁশিয়ার”।

আজ আমরা সাম্যের গান শুধুই মুখে গাই বলি। হৃদয় থেকে গাই না …!!

গাহি সাম্যের গান
মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাই,
নহে কিছু মহীয়ান।
নাই দেশ-কাল পাত্রের ভেদ,
অভেদ ধর্ম জাতি;
সব দেশে, সব কালে,
ঘরে ঘরে তিনি মানুষের জ্ঞাতি।

সব শেষে আবারো বলি আমাদের সুমতি হোক্ আমরা আমাদের জীবনে কবি নজরুলের সত্য-সুন্দর , সাম্য আদর্শকে উপজীব্য করে বাঁচতে শিখি, মানুষকে ভালোবাসতে শিখি আর মানুষের অধিকারকে লুণ্ঠিত লাঞ্ছিত না করে যথার্থ সম্মান করতে শিখি । তবেই আমরা যেমন গৌরবান্বিত হবো, তেমনি প্রকৃত শ্রদ্ধাজ্ঞাপনও করা হবে কবির প্রতি …

Share This