Categories
নারী কথা প্রবন্ধ রিভিউ

রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের জনপ্রিয়তায় আজও জন জোয়ারে রাজবাড়ী, দেবীকে বরণ ডালা দিয়ে বরণ করে সিঁদুর খেলায় মাতলেন রাজবাড়ীর রানিমা।

বিষাদের সুরে উমাকে বিদায়, সকাল থেকেই রাজ বাড়িতে ডালি হাতে নিয়ে হাজার হাজার দর্শনার্থীদের ভিড়। ভক্তবৃন্দদের সাথে সিঁদুর খেলায় মাতলেন রাজবাড়ীর রানিমা।

 

 

নদীয়ার কৃষ্ণনগরের কৃষ্ণচন্দ্র রাজার রাজগৃহে দেবী দুর্গার আরাধনায় মাতোয়ারা হয় গোটা কৃষ্ণনগরবাসী। পূজার পাঁচটা দিন সকাল থেকে রাত্রি কাতারের কাতারের ভক্তদের আনাগোনা লেগেই থাকে রাজবাড়ীতে। তবে দশমীর দিন এক অন্য চিত্র ধরা পড়ে রাজবাড়ীতে।

 

 

শুধু নদীয়া জেলা নয় জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকেও প্রচুর দর্শনার্থী আসেন রানী মাকে একবার দেখার জন্য। যদিও দেবী দুর্গাকে প্রথমে বরণ করেন রাজবাড়ীর বর্তমান রানী মা অমৃতা রায়, এরপর অন্যান্য দর্শনার্থীদের বরণ করার সুযোগ মেলে। এখনো সাবিকি আনার ছোঁয়ায় যেন নজর কারে গোটা রাজবাড়ী।

 

 

তাই সিঁদুর খেলার মধ্যে দিয়ে মন ভার থাকলেও রাজবাড়ির সিঁদুর খেলায় সকলেই যে অংশগ্রহণ করতে চান তা প্রত্যেক বছর এই দশমীর দিনেই অনেকটাই বোঝা যায়।

 

 

তবে যদি নিরঞ্জনের ক্ষেত্রে রাজবাড়ির সেই চিরাচরিত নিয়ম এখনো বজায় রয়েছে। সন্ধ্যের আগেই বেয়ারা দিয়ে দেবীকে রাজবাড়ীর পুকুরে বিসর্জন করা হয়, তবে সাবেকিআনার খামতি থাকে না এক ফোটাও।

Share This
Categories
নারী কথা প্রবন্ধ রিভিউ

দশমীকে কেন বলা হয় ‘বিজয়া’? জানুন আসল কারণ।

বিজয়াদশমী বিভিন্ন কারণে পালন করা হয় এবং ভারতীয় উপমহাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভিন্নভাবে উদযাপন করা হয়।  ভারতের দক্ষিণ, পূর্ব, উত্তর-পূর্ব এবং কিছু উত্তরাঞ্চলীয় রাজ্যে, বিজয়াদশমী দুর্গা পূজার সমাপ্তি চিহ্নিত করে, যা ধর্ম পুনরুদ্ধার ও রক্ষা করার জন্য মহিষের রাক্ষস মহিষাসুরের উপর দেবী দুর্গার বিজয়কে স্মরণ করে।  উত্তর, মধ্য এবং পশ্চিম রাজ্যগুলিতে, এটি রামলীলার সমাপ্তি চিহ্নিত করে এবং রাজা রাবণের উপর ভগবান রামের বিজয়কে স্মরণ করে।  বিকল্পভাবে, এটি দুর্গা বা সরস্বতীর মতো দেবীর একটি দিককে শ্রদ্ধা দেখায়।
বিজয়াদশমী উদযাপনের মধ্যে রয়েছে দুর্গা, লক্ষ্মী, সরস্বতী, গণেশ এবং কার্তিকেয়ের কাদামাটির মূর্তি নিয়ে নদী বা সমুদ্রের দিকে শোভাযাত্রা, গান ও মন্ত্রের সাথে, তারপরে ছবিগুলিকে জলে নিমজ্জিত করা হয় এবং বিদায় জানানো হয়।  অন্যত্র, অশুভের প্রতীক রাবণের সুউচ্চ মূর্তিগুলিকে আতশবাজি দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়, মন্দের ধ্বংসকে চিহ্নিত করে।  উত্সবটি আলোর গুরুত্বপূর্ণ উত্সব দীপাবলির প্রস্তুতিও শুরু করে, যা বিজয়াদশমীর বিশ দিন পরে উদযাপিত হয়।

 

পুরাণ—

প্রাচীনকালে মহিষাসুর নামে এক ভয়ঙ্কর রাক্ষস ব্রহ্মার বর পেয়ে অত্যন্ত শক্তিশালী হয়ে ওঠে।  তিনি স্বর্গ, নশ্বর ও পাতাল তার ক্ষমতাবলে অধিকার করেন।  এমনকি মহিষাসুর দেবতা ইন্দ্রকে স্বর্গ থেকে বিতাড়িত করেছিলেন।  ব্রহ্মা তাকে এমন বর দিয়েছিলেন যে কোন মানুষ তাকে হত্যা করতে পারেনি।  তাই দেবতারা সিদ্ধান্ত নিলেন যে মহিষাসুরকে বধ করতে হলে একজন নারীর সাহায্য নিতে হবে।  কিন্তু এমন নারী কোথায়?  তখন সকল দেবতার সম্মিলিত শক্তি থেকে দেবী দুর্গার আবির্ভাব ঘটে।  পুরাণে মহিষাসুর বধের কাহিনী অনুসারে নয় দিন নয় রাত যুদ্ধ করার পর শুক্লা দশমীতে মা দুর্গা মহিষাসুরকে বধ করেন।  এই বিজয় বিজয়া দশমী হিসাবে চিহ্নিত।

রামায়ণের গল্প—

ত্রেতা যুগে লঙ্কার রাজা দশানন রাবণ শ্রী রামচন্দ্রের স্ত্রী সীতা দেবীকে অপহরণ করেছিলেন।  পূর্বাবস্থায়, দেবী দুর্গার আশীর্বাদে, রাম তার স্ত্রীকে উদ্ধার করতে লঙ্কায় যাত্রা করেন।  তিনি শুক্লা দশমীতে রাবণ বধ করেন।  রাবণের বিরুদ্ধে যুদ্ধে রামের এই বিজয় বিজয়া দশমী হিসাবে চিহ্নিত।

মহাভারতের গল্প—

মহাভারতেও এই বিশেষ তিথির উল্লেখ আছে।  বারো বছরের নির্বাসন এবং এক বছরের অস্পষ্টতার পর, আশ্বিন মাসের শুক্লা দশমী তিথিতে পাঁচ পাণ্ডব তাদের লুকানো অস্ত্রগুলি একটি শমী গাছের খাঁজে উদ্ধার করেন এবং নিজেদের ঘোষণা করেন।মহাভারতে বিজয়াদশমী সেই দিনটিকেও চিহ্নিত করে যেদিন পাণ্ডব যোদ্ধা অর্জুন কৌরবদের পরাজিত করেন । মহাকাব্যটি পাণ্ডব ভাইদের গল্প বলে যারা বিরাটের রাজ্য মৎস্যে গোপন পরিচয়ের অধীনে নির্বাসনের তেরো বছর অতিবাহিত করেছিল বলে জানা যায় । বিরাটে যাওয়ার আগে, তারা এক বছরের জন্য নিরাপদ রাখার জন্য শমী গাছে তাদের স্বর্গীয় অস্ত্রগুলি ঝুলিয়ে রেখেছিল বলে জানা গেছে। এই সময়েই কৌরবরা রাজ্য আক্রমণ করার সিদ্ধান্ত নেন যেখানে অর্জুন শমী গাছ থেকে অস্ত্র উদ্ধার করেন এবং সমগ্র কৌরব বাহিনীকে পরাজিত করেন।

বৌদ্ধ ধর্ম অনুসারে—

অনেকের মনেই বিজয়া দশমীর আসল নাম অশোক বিজয়া দশমী।  অশোক বিজয়া দশমী মৌর্য সম্রাট অশোক বিজয়া উৎসব কলিঙ্গ যুদ্ধে বিজয়ের পর 10 দিন ধরে পালন করেছিলেন।  সেখান থেকেই বিজয়া দশমী নামটি এসেছে।  এবং শুক্লা দশমীতে তিনি বৌদ্ধ ধর্ম গ্রহণ করেন।  তাই এই দিনটি বৌদ্ধদের কাছেও গুরুত্বপূর্ণ।

বিজয়া দশমীর তাৎপর্য-

অনেকের মতে, এই দিনে দেবী মৃত মূর্তি থেকে মুক্তি পান।  তাই এটি বিজয়া দশমী নামে পরিচিত।  দেবী চিন্ময়ীকে মৃন্ময়ী রূপে চারদিন ধরে পূজা করা হয়, দশমীতে অজু করার পর দেবী দুর্গা তার থেকে মুক্তি পান।

 

পশ্চিমবঙ্গে বিজয়া দশমীকে বিজয়া দশমী হিসাবে পালন করা হয়, নবমীর পরপরই ( দুর্গা পূজার নবম এবং শেষ দিন )। এটি শোভাযাত্রার দ্বারা চিহ্নিত যেখানে প্রতিমাগুলিকে একটি পুকুর, নদী বা সমুদ্রে নিয়ে যাওয়া হয় দেবী দুর্গাকে বিদায় জানানোর জন্য, আতশবাজি ফাটানো, নাচ, ঢোল বাজানো, সঙ্গীত এবং আনন্দের সাথে। অনেকে তাদের মুখ সিঁদুর দিয়ে চিহ্নিত করে ( সিন্দুর ) বা লাল পোশাক পরে। এটি কিছু ভক্তদের জন্য, বিশেষ করে বাঙালি হিন্দুদের জন্য এবং এমনকি অনেক নাস্তিকদের জন্য একটি আবেগপূর্ণ দিন কারণ মণ্ডলী বিদায়ের গান গায়। শোভাযাত্রাটি জলে পৌঁছলে দুর্গা ও তার চার সন্তানের মাটির মূর্তিগুলোকে বিসর্জন দেওয়া হয়; কাদামাটি দ্রবীভূত হয় এবং তারা শিবের সাথে কৈলাশ পর্বতে এবং সাধারণভাবে মহাজগতে ফিরে আসে বলে বিশ্বাস করা হয়। লোকেরা মিষ্টি এবং উপহার বিতরণ করে এবং বন্ধু, আত্মীয়স্বজন এবং পরিবারের সদস্যদের সাথে দেখা করতে তাদের “শুভ বিজয়া” শুভেচ্ছা জানায়।

।।তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

জোশ গ্রামীণ মহিলাদের গল্প তুলে ধরতে এনজিও বিন্দি ইন্টারন্যাশনালের সাথে হাত মিলিয়েছে।

Josh, একটি ভারতীয় বংশোদ্ভূত সংক্ষিপ্ত ভিডিও প্ল্যাটফর্ম, একটি বড় এবং উৎসাহী ব্যবহারকারী সম্প্রদায়ের সাথে তার আধিপত্যকে সুসংহত করে বাজারে নেতা হিসাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে।  ব্যবহারকারীরা স্রষ্টা বা দর্শক হোক না কেন, তারা সর্বজনীনভাবে অ্যাপের দেওয়া সামগ্রীর প্রশংসা করে।

 

একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক হিসেবে, জোশ সম্প্রতি আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত এনজিও, বিন্দি ইন্টারন্যাশনালের সাথে আন্তর্জাতিক গ্রামীণ নারী দিবস উপলক্ষে সহযোগিতা করেছেন, যার লক্ষ্য গ্রামীণ নারীদের গল্প তুলে ধরা এবং কীভাবে তারা জীবনে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হতে বিভিন্ন টেকসই কার্যক্রমে নিযুক্ত হচ্ছেন।

 

 

সহযোগিতার অংশ হিসেবে, সোম্য শেখাওয়াত, দীপ্তি শর্মা, দীপক যাদব এবং গোবিন্দ বিশুকর্মা নামে চারজন হিন্দি সম্প্রদায়ের প্রভাবশালীরা রাজস্থানের কিশানগড়ের ডিজিটাল কমিউনিটি স্কুল এবং হারমারা গ্রামের বিন্দি ইন্টারন্যাশনাল ক্যাম্পাস উভয়ই পরিদর্শন করেছেন।

 

পরিদর্শনকালে, জোশের প্রভাবশালীরা গ্রামীণ নারীদের সাথে ডিজিটাল শিক্ষা, সৌর প্রশিক্ষণ, এবং স্যানিটারি প্যাড উৎপাদন সহ উদ্ভাবনী উদ্যোগের সাথে অর্থপূর্ণ মিথস্ক্রিয়া করেছে।  লাইভ স্ট্রীম এবং চিত্তাকর্ষক ভিডিওগুলির মাধ্যমে, তারা এই মহিলাদের দ্বারা নিযুক্ত উদ্ভাবনী পদ্ধতিগুলি তুলে ধরে।  কিশানগড়ের ডিজিটাল কমিউনিটি স্কুলে তাদের পরিদর্শনের সময়, বিষয়বস্তু নির্মাতারা শিশুদের সাথে নিযুক্ত হন এবং তাদের চিত্তাকর্ষক ডিজিটাল সাক্ষরতা দেখে বিস্মিত হন।  সহযোগিতার বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে, বিন্দি ইন্টারন্যাশনালের হেড অফ কমিউনিকেশনস, স্বপ্না সরিতা মোহান্তি বলেন, “জোশের মাধ্যমে, আমরা আমাদের এনজিও এবং এই গ্রামীণ মহিলাদের দূর-দূরান্তে গৃহীত উদ্যোগগুলিকে তুলে ধরতে সোশ্যাল মিডিয়া এবং প্রভাবশালী বিপণনের শক্তিকে কাজে লাগাতে চাই৷  আমরা আশা করি এই একীকরণ এই ধরনের বেশ কয়েকটি গ্রামীণ সম্প্রদায়ের মনোবলকে এগিয়ে আসতে এবং তাদের ভাগ্য নির্ধারণ করতে সাহায্য করবে।”

 

 

জোশ অ্যাপটিতে #WonderWomen প্রচারাভিযান প্রবর্তন করেছেন, বিষয়বস্তু নির্মাতাদের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে লোকেরা কীভাবে এগিয়ে যেতে পারে এবং এই শক্তিশালী মহিলাদের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করতে পারে তা আলোকিত করতে।  জোশের স্রষ্টা গোবিন্দ, যিনি দিল্লি থেকে সমস্ত পথ বিন্দি ক্যাম্পাস পরিদর্শন করেছেন, তার অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন এবং বলেছেন, “আমাকে এমন একটি হৃদয়গ্রাহী উদ্যোগের অংশ করার জন্য আমি জোশের কাছে কৃতজ্ঞ। এই গ্রামীণ মহিলাদের সাথে যোগাযোগ করা খুবই আনন্দদায়ক অভিজ্ঞতা ছিল।  এবং বাচ্চারা।”

 

Here is the challenge link:

https://share.myjosh.in/challenge/edb40945-053b-43f7-8434-479a82e626f6 Josh creators beautifully captured their on-ground visit. Here are the links: https://share.myjosh.in/video/947ee379-e4bb-478f-b48b-68d1e9c493c6?u=0xed5455a5ab39e987 https://share.myjosh.in/content/30822679-ae04-47cf-89af-2941eba647fe?ref_action=click&flow_id=36affe17-6334-4453-a5a8-445a640b4066 https://share.myjosh.in/content/9a45d49e-d591-4ff2-a245-aeb065759fcd?ref_action=click&flow_id=e14cdf22-31bb-49e7-a9c0-498bd8905589 https://share.myjosh.in/content/79f89416-89a3-49fa-b2ff-27333615b009?ref_action=click&flow_id=69ae59b9-2539-4374-80a2-997827e6cee8

Share This
Categories
নারী কথা প্রবন্ধ রিভিউ

পূর্বপুরুষের শতবর্ষ প্রাচীন দুর্গাপূজার ঐতিহ্য পরম্পরা ধরে রাখতে লন্ডন থেকে এ প্রজন্মের সাহেব মেমেরা শান্তিপুরের আগা বাড়িতে।

লন্ডনের বাসিন্দা এরিন ,জেনি ,সাশা এরা কেউই জন্মসূত্রে ভারতীয় নয়, এমনকি তার মা দেবী পাল বর্নও নয়, তবে দাদু উৎপলেন্দু পাল নদীয়ার শান্তিপুরের বাসিন্দা ছিলেন। আর সেই সূত্রেই হয়তো তাদের রক্তে বইছে বাঙালিয়ানা। তাইতো সুদূর লন্ডন থেকে দাদুর সাথে বাবা লরেন্স মা দেবিপাল এর সাথে শান্তিপুরের তিলিপাড়ায় শতবর্ষ প্রাচীন দুর্গাপূজা দেখতে এসেছে। তাদের জীবনে এই প্রথম ভারতে আসা এবং দুর্গাপূজা দেখাও। তবে মা দেবী পাল ছোটবেলায় একবারই এসছিলেন বাবা উত্তলেন্দু পালের সাথে।
তিলিপাড়ার এই বাড়ি স্থানীয় আগা বাড়ি নামেই পরিচিত। শোনা যায় উৎপলেন্দু বাবুর দাদু নগেন্দ্র পাল একসময় বাংলাদেশের বাসিন্দা ছিলেন সেখানেই জমিদারদের বিভিন্ন কাজে নিযুক্ত শ্রমিকদের তত্ত্বাবধান করতেন পালকির আগে আগে চলতেন বলেই জমিদারদের দেওয়া উপাধি “আগা”।
তবে উৎপলেন্দু বাবু ছোট থাকাকালীন তার বাবা প্রবোধ রঞ্জন পালের হাত ধরে শান্তিপুরে আসা। বাবার সাথে ইংরেজদের সুসম্পর্কের কারণে তিনি আসামসহ দেশের বাইরে ইমারতী ব্যবসায়ী হিসাবে সুপ্রসিদ্ধ হয়ে ওঠেন অল্পদিনের মধ্যেই। ছেলে উৎপলেন্দু কে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে পাঠান ইউনাইটেড কিংডমে।

 

 

যদিও সেখানেই সু প্রতিষ্ঠিত হয়ে তিনি বিবাহ করেন সে দেশের মেম। চাকুরিরত সময়কালের মধ্যে কয়েক বছর বাদে বাদে কলকাতায় বাগবাজারের বাড়ি চট্টগ্রামের জমি জমা সম্পত্তি এবং শান্তিপুরের এই বাড়িসহ নতুনহাট ডাকঘর এলাকায় তাদের বিষয় সম্পত্তি দেখাশোনা করা এবং সেই সাথে এই দুর্গা পুজোর আয়োজন করতেন মাঝে মাঝে। তবে অবসর গ্রহণের পর প্রায় প্রত্যেক বছরই তিনি এই দুর্গা পুজোতে আসেন। কাটিয়ে যান দীর্ঘ সময়, থাকেন দূর্গা পূজার লক্ষ্মীপূজো কালীপুজো পর্যন্ত।
মেয়ে জামাই দু নাতনি নিয়ে আসা 89 বছর বয়সী মনের দিক থেকে তরতাজা এই যুবক উৎপলেন্দু পাল জানান,
তার ঠাকুর দাদা নগেন্দ্র পাল এই বাড়িতে দুর্গা পুজোর সূচনা করেন ছোটবেলায় এই বাড়িতে পুজোর কটা দিন এক দেড়শ পরিবার সদস্যদের ভিড় থাকতো সবসময়।

 

 

বর্তমানে পেশার কাজে বাইরে থাকার সুবাদে কিংবা এ প্রজন্মের ছেলেমেয়েদের মধ্যে আবেগ কমে যাওয়ার কারণে এখন শান্তিপুরে থাকা দুটি পরিবার কলকাতার এক পরিবার এবং লন্ডনে থাকা তাদের পরিবারের সদস্যরা এ কটা দিন একসঙ্গে মজা করেন।যদিও দুর্গাপুজোর আগে কালী পূজার সূচনা হয়, বাড়ির এই ঠাকুরদালান স্থাপিত হয়েছে ১৩৪৮ সালে অর্থাৎ ঠাকুরদালানের বয়স ৮২ বছর। কিন্তু দুর্গা বা কালি দুই পুজোই শতাব্দী প্রাচীন। তবে বাবার হাতে কার্তিক পূজার সূচনা। বাংলাদেশ থেকে এ দেশে বর্তমান এই বাড়িতে শুধুমাত্র একটি মাটির ঘর ছিলো ।
সেই সময় থেকে বাড়ির রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা পরিবারের বর্তমান প্রজন্মের নিমাই দাস জানান। যেহেতু শূদ্রের ঘরে দুর্গাপুজো তাই আজও তিলি পাড়ার বারোয়ারির তত্ত্বাবধানে ব্রাহ্মণ দিয়ে ভোগ রান্না করিয়ে মাকে দেওয়া হয়।
উৎপলেন্দু বাবুর ভাই স্বরাজ পালের পুত্র সৌমক এ প্রজন্মের ছেলে, তার স্ত্রী গৌরবীকে সাথে নিয়ে এ পুজোর ধারাবাহিকতা রেখে চলেছে ছোটবেলা থেকে।

 

 

মফস্বলের সকলে ঠাকুর দেখতে কলকাতা মুখি হলেও স্ত্রী পুত্রসহ পূজোর কটা দিন শান্তিপুরের বাড়ির পুজোর দিকে থাকে মন। সৌমক বলে মায়ের কাছে প্রতিবারই তিনি প্রার্থনা করেন সন্তান যেন এই পুজোর ধারাবাহিকতা আগামীতে বজায় রাখতে পারেন।
অ্যাংলো ইন্ডিয়ান ননদ নন্দাই এবং তাদের মেয়েদের প্রসঙ্গে বাড়ির বউ গৌরবী বলেন, ঢাক কাঁসর উলু শঙ্খ ধ্বনি দেওয়া পুজোর যাবতীয় জোগাড় করা পর্যন্ত তারা নিজেদের আগ্রহে শিখে নিয়েছে এই দুদিনেই। বাঙালি খাদ্য খাবার থেকে শুরু করে কিছুটা ইংরেজি মেশানো কথাবার্তা এবং আকার ইঙ্গিততে ওরা আমরা অভ্যস্ত হয়ে উঠেছি। তবে এবার পুজোর বাড়তি পাওনা সকলকে একসাথে পাওয়ার খুশি। তবে কলকাতায় মেয়ে এবং শ্বশুর বাড়ি হয়েও আদি শশুর বাড়ি শান্তিপুরেই পূজোর সেরা আনন্দ পাওয়া যায় ।

Share This
Categories
প্রবন্ধ

প্রখ্যাত ভারতীয় বাঙালি সুরশিল্পী, সঙ্গীত পরিচালক – রাইচাঁদ বড়াল, ভারতে প্রথম কার্টুন চিত্রের নির্মাতা হিসাবে আজও স্মরণীয়।

রাইচাঁদ বড়াল একজন বাঙালি সুরকার ছিলেন যিনি একজন সঙ্গীত পরিচালক এবং সঙ্গী হিসেবে বিখ্যাত। তিনি ১৯৪০ এবং ১৯৫০ এর দশকে অনেক বাংলা এবং হিন্দি চলচ্চিত্রের গান রচনা করেছিলেন। ১৯৭৯ সালে, তিনি ভারতীয় চলচ্চিত্রের সর্বোচ্চ সম্মান দাদাসাহেব ফালকে জিতেছিলেন।

রাইচাঁদ বড়াল ব্রিটিশ ভারতের কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন।

বাবা ছিলেন সঙ্গীত শিল্পী লালচাঁদ বড়াল। রাইচাঁদ ছিলেন তাঁর তিন পুত্রের মধ্যে কনিষ্ঠ। বাকি দুজন হলেন বিষানচাঁদ ও কিষাণচাঁদ। বাবার কাছ থেকে সঙ্গীত শিক্ষা। প্রেমচাঁদ বড়াল স্ট্রীটের ১/১-এ তাদের বাড়িটি তখন উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতের আখড়ায় পরিণত হয়েছিল। বিশ্বনাথ রাও, রাধিকা গোস্বামী, মিয়া রমজান খানের মতো গুণী সঙ্গীতশিল্পীরা যখন বাড়িতে গান গাইতে আসেন, তখন রাইচাঁদের হৃদয় ডুবে যায়।

অল্প বয়সে, রাইচাঁদ কলকাতার সঙ্গীত আসরে তবলায় আমাদের সঙ্গী করেন এনায়ে খান, হাফিজ আলী খান, জদ্দন বাই, গো জান, জ্ঞান গোঁসাই, ভীষ্মদেব প্রমুখ। ১৯২৭ সালে কলকাতায় ডিও প্রতিষ্ঠিত হলে, বেতারে যোগ দেন। মজুমদারের নির্দেশনায় কেন্দ্র ও গানের প্রযোজক হন। 1930 সালে চলচ্চিত্র জগতে এবং নির্বাক চলচ্চিত্র ‘চাসার মায়ি’-এর মাধ্যমে তিনি প্রথম সঙ্গীত জগতে আত্মপ্রকাশ করেন।

সবাক যুগের অসামান্য সঙ্গীত সংগঠন হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। এদেশে সচিত্র বিবর্তনে তাঁর অর্জন বিশেষ। নির্বাক চলচ্চিত্রের যুগে আন্তর্জাতিক নৈপুণ্যে তিনি ‘চোর কান্ত’ ও ‘চাষা মে’ চলচ্চিত্র প্রদর্শনের সময় ফিগারের সাহায্যে উপযুক্ত আবহসংগীত তৈরি করেন। ১৯৩২ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত “চণ্ডীদাস”-এ তিনি এদেশের প্রথম পরিবেষ্টিত সঙ্গীতকে জনপ্রিয় করেছিলেন। প্রায় এলাকা-শো চলচ্চিত্রে সুরসুর। ১৯৩৫ সালে, নিউ থিয়েটার্সের সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার মুকুল বোসের সহায়তায়, গান রেকর্ড করার সময় যে অসুবিধা হয়েছিল তার সাথে ‘ভাগ্যচ’ ফিল্ম যুক্ত করে নৃত্য ও গিটার রেকর্ড করার একটি নতুন পদ্ধতি কাটিয়ে ওঠে। ভারতের প্রথম কার্টুন নির্মাতা হিসেবেও তিনি উল্লেখযোগ্য। ডব্লিউ. ডিজনি দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে, তিনি ১৯৩৪ সালে নিউ থিয়েটার্সের ব্যানারে “পি ব্র্যাড” তৈরি করেন। স্থানীয় পঙ্কজকুমার মল্লিক, কুন্দনলাল সায়গল, কৃষ্ণচন্দ্র দেব, কান দেবী, চন্দ্রাবতী দেবী, উমাশ, পরী সান্যাল প্রাচীন মহিলাদের গানে রায়চাঁদের সুরেলা গুণাবলী।

রাইচাঁদ বড়াল রচিত বা পরিচালিত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র হল-

‘পরিত্রাণ’ (১৯৫২), ‘মা’ (১৯৫২), ‘নীলাচল মহাপ্রভু’ (১৯৫৭), ‘দেনা পাওনা’ (১৯৩১), ‘পুনর্জন্ম’ (১৯৩২), ‘কপালকুণ্ডলা’ (১৯৩৩), ‘মীরাবাঈ’ (১৯৩৩), ‘রূপলেখা’ (১৯৩৪), ‘চণ্ডীদাস'(১৯৩২), ‘রাজরানী মীরা’ (১৯৩২), ‘মাসতুতো ভাই’ (১৯৩৩), ‘ভাগ্যচক্র’ (১৯৩৫), ‘গৃহদাহ’ (১৯৩৬), ‘বডবাবু’ (১৯৩৭), ‘দিদি’ (১৯৩৭), ‘চিরকুমার সভা (১৯৩২), ‘পল্লীসমাজ’ (১৯৩২), ‘বিদ্যাপতি’ (১৯৩৭), ‘পরাজয়’ (১৯৩৯), ‘অভিনেত্রী’ (১৯৪০), ‘সাথী’ (১৯৩৮), ‘সাপুডে’ (১৯৩৯), ‘পরিচয়’ (১৯৪১), ‘উদয়ের পথে’ (১৯৪৪), ‘বিরাজ বৌ’ (১৯৪৬), ‘মন্ত্রমুগ্ধ’ (১৯৪৯), ‘বিষ্ণুপ্রিয়া’ (১৯৪৯), ‘বড় বৌ’ (১৯৫০), ‘সাগর সঙ্গমে’ (১৯৫৯), ‘নতুন ফসল’ (১৯৬০), ‘রজত জয়ন্তী’ (১৯৩৯)।

রাইচাঁদ বড়াল ২৫শে নভেম্বর ১৯৮১-এ ৭৮ বছর বয়সে মারা যান। বাবুল সুপ্রিয় হলেন রাইচাঁদ বড়ালের নাতি, একজন বিখ্যাত কণ্ঠশিল্পী এবং ভারত সরকারের মন্ত্রী।

।।তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ

প্রবীণ গান্ধীবাদী এবং সর্বোদয় নেতা চারুচন্দ্র ভাণ্ডারী’র জন্মদিনে শ্রদ্ধাঞ্জলি।।

ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন ছিল কিছু মানুষের অব্যর্থ পরিশ্রম যার ফলেই ব্রিটিশদের থেকে ভারত রাজনৈতিক দিক থেকে মুক্তি পেয়েছে। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে বহু মনুষ এই অন্দলনে সামিল হয়েছিলেন। ভারত উপমহাদেশের বিংশ শতাব্দীতে ব্রিটিশ সম্রাজ্যবাদ বিরোধী যে লড়াই-সংগ্রাম সংগঠিত হয় এবং যার ধারাবাহিকতায় ভারত স্বাধীন হয়, তার মূলে যে সকল বিপ্লবীর নাম সর্বজন স্বীকৃত তাঁদের মধ্যে চারুচন্দ্র ভান্ডারী প্রথমসারির একজন অন্যতম বিপ্লবী ছিলেন।চারুচন্দ্র ভান্ডারী ভারতীয় উপমহাদেশের ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনে এক উল্লেখযোগ্য নাম, যিনি দেশমতৃকার শৃঙ্খল মুক্তির জন্য নিজেকে সঁপে দিয়েছিলেন সম্পূর্ণ রূপে।

চারুচন্দ্র ভান্ডারী ছিলেন ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের একজন অক্লান্ত কর্মী। চারুচন্দ্র ভান্ডারী ছিলেন একজন নিবেদিতপ্রাণ কংগ্রেস কর্মী, প্রবীণ গান্ধীবাদী এবং সর্বোদয় নেতা। তিনি আচার্য বিনোবা ভাবের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে বাংলায় সর্বোদয় আন্দোলনের প্রধান প্রচারক ছিলেন এবং ভূদান আন্দোলনে সক্রিয় অংশ নিয়েছিলেন।

জন্ম ও শিক্ষা জীবন—

চারুচন্দ্র ভান্ডারী ১৮৯৬ সালের ১৯ অক্টোবর বর্তমান ব্রিটিশ ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলার ডায়মন্ড হারবার মহকুমার কুলপি থানার অন্তর্গত শ্যামসুরচক গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

কর্মজীবন-

১৯৩০ সালে সারা দেশে লবণ সত্যাগ্রহ আন্দোলন শুরু হলে চারুচন্দ্র ভান্ডারী মহাত্মা গান্ধীর নির্দেশে সুন্দরবনে আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন। তিনি আইনজীবী পেশা ত্যাগ করে পুরোপুরি স্বাধীনতা সংগ্রামে যোগ দেন। লবণ সত্যাগ্রহে অংশ নেওয়ায় চারুচন্দ্রও পুলিশের হাতে ধরা পড়েন। জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর দক্ষিণ ২৪ পরগনার হাটুগঞ্জ, ডায়মন্ড হারবার, কুলপি, করঞ্জলি, হরিণাভি সহ সুন্দরবনের বিভিন্ন জায়গায় খাদি মন্দির তৈরি করা হয়। স্বাধীনতা সংগ্রামী বিশ্বরঞ্জন সেন ডায়মন্ড হারবারে ‘খাদি মন্দির’ প্রতিষ্ঠায় তার সহযোগীদের একজনের ভূমিকা পালন করেছিলেন। সে সময় সুন্দরবন সংলগ্ন গ্রামের অর্থনীতির ভিত্তি হয়ে উঠেছিল এই খাদি মন্দির। সেখানে চরকা থেকে তৈরি কাপড় গ্রামে গ্রামে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। সেই খাদি মন্দির থেকেই চারুচন্দ্র তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ঠিক করেন।

১৯৪২ সালে ভারত ছাড়ো আন্দোলনের সময়, মহাত্মা গান্ধী চারুচন্দ্রের আমন্ত্রণে ডায়মন্ড হারবারে বর্তমান মহকুমা শাসকের অফিস সংলগ্ন ময়দানে একটি জনসভা করেছিলেন।
চারুচন্দ্র মহাত্মা গান্ধীর আন্দোলনের সাংগঠনিক ও সেবামূলক কাজের সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত ছিলেন।
তিনি গান্ধীবাদী আদর্শে জন্মগ্রহণকারী আধুনিক বাংলাদেশের কুমিল্লায় প্রতিষ্ঠিত অভয় আশ্রমের সাথেও যুক্ত ছিলেন।
চারুচন্দ্র ভান্ডারী আচার্য ছিলেন বিনোবা ভাবের একজন উল্লেখযোগ্য শিষ্য। চারুচন্দ্র পশ্চিমবঙ্গে তাঁর সর্বোদয় আন্দোলনের অন্যতম প্রধান প্রবর্তক ছিলেন। তাঁর মতে, সমবায় গ্রাম দান ও জমি দান আন্দোলনের মূলনীতি। চারুচন্দ্র ভান্ডারী বিনোবা ভাবের নীতিকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করেছিলেন। গয়াতে অনুষ্ঠিত সর্বোদয় সম্মেলনে তিনি আরও অনেকের সাথে জীবন ব্রত নিয়েছিলেন। তিনি ডায়মন্ড হারবারে পশ্চিমবঙ্গ ভূদানযজ্ঞ সমিতি প্রতিষ্ঠা করেন।

চারুচন্দ্র ভান্ডারী বঙ্গীয় আইনসভার সদস্য ছিলেন। ১৯৪৭ সালের ২০শে জুন তিনি বাংলার অবিভক্ত বিভাগ এবং পশ্চিমবঙ্গ প্রতিষ্ঠার পক্ষে কথা বলেন। ১৯৫১ সালে স্বাধীন ভারতের প্রথম সাধারণ নির্বাচনে, চারুচন্দ্র ভান্ডারী ডায়মন্ড হারবার বিধানসভা কেন্দ্র থেকে কিষান মজদুর প্রজা পার্টি (KMPP) এর সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন। তিনি প্রফুল্ল চন্দ্র ঘোষের মন্ত্রিসভায় প্রথম খাদ্যমন্ত্রী হন।

তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ—

ভূদানযজ্ঞ কি ও কেন (১৯৫৫), কোর-আন সার (আসামের অশান্তি প্রসঙ্গে (১৯৬১),

আমাদের জাতীয় শিক্ষা (১৯৬২)

সম্মাননা—

তার মৃত্যুর পর ডায়মন্ড হারবারে তার স্মরণে চারুচন্দ্র স্মৃতি কমিটি গঠন করা হয়। ডায়মন্ড হারবার শহরের ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের ‘গার্লস স্কুল রোড’ পৌরসভা কর্তৃক ‘চারচন্দ্র ভান্ডারী সরণি’ নামকরণ করা হয়েছে এবং ডায়মন্ড হারবার মেইন রোড ও চারুচন্দ্র ভান্ডারী সরণির সংযোগস্থলে চারুচন্দ্র ভান্ডারীর আবক্ষ মূর্তি স্থাপন করা হয়েছে।

মৃত্যু—

চারুচন্দ্র ভান্ডারী ১৯৮৫ সালের ২৪ জুন মারা যান।

।।তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ

লালন শাহ স্মরণে : সুরভি জাহাঙ্গীর।

মানবতার সাধক ফকির লালন শাহের আজ ১৭ অক্টোবর ১৩০তম প্রয়াণ দিবস। তাঁকে জানাই হৃদয়ের শ্রদ্ধাঞ্জলি। লালন শাহ ছিলেন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী। তিনি ফকির লালন, লালন সাঁই, লালন শাহ, মহাত্মা লালন, সাঁইজী লালন ইত্যাদি নামেও পরিচিত ছিলেন। একাধারে তিনি ছিলেন আধ্যাত্মিক বাউল সাধক, মানবতাবাদী, সমাজ সংস্কারক এবং দার্শনিক। তিনি অসংখ্য গানের গীতিকার, সুরকার ও গায়ক ছিলেন। লালনকে বাউল গানের অন্যতম অগ্রদূত হিসেবে বিবেচনা করা হয় এবং ‘বাউল-সম্রাট’ হিসেবেই তাঁকে আখ্যায়িত করা হয়। তারূ গানের মাধ্যমেই ঊনিশ শতকে বাউল গান সর্বোচ্চ জনপ্রিয়তা অর্জন করে।

লালন ছিলেন একজন মানবতাবাদী সাধক। তিনি ধর্ম-বর্ণ-গোত্রসহ সকল প্রকার জাতিগত বিভেদ থেকে সরে এসে মানবতার ধর্মকে সর্বোচ্চ স্থান দিয়েছিলেন। অসাম্প্রদায়িক এ মনোভাব থেকেই তিনি তাঁর গান রচনা করেছেন। তাঁর গান ও দর্শন যুগে যুগে প্রভাবিত করেছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম ও অ্যালেন গিন্সবার্গের মতো বহু খ্যাতনামা কবি, সাহিত্যিক, দার্শনিক, বুদ্ধিজীবীসহ অসংখ্য মানুষকে। গান্ধীরও ২৫ বছর আগে ভারত উপমহাদেশে সর্বপ্রথম, তাঁকে ‘মহাত্মা’ উপাধি দেয়া হয়েছিল।
#জন্ম_বিতর্ক
লালনের জীবন সম্পর্কে বিশদ কোনো বিবরণ পাওয়া যায় না। তাঁর জন্ম কোথায়, তা নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। লালন নিজে কখনো তা প্রকাশ করেননি। কিছু সূত্রে পাওয়া যায়, লালন ১৭৭৪ সালের ১৭ অক্টোবর যশোর জেলার ঝিনাইদহ মহাকুমার হরিণাকুন্ডু থানার হারিশপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। অবশ্য কোনো কোনো লালন গবেষক মনে করেন, লালন কুষ্টিয়ার কুমারখালী থানার ভাড়ারা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। এ তথ্যের সাথেও অনেকে দ্বিমত পোষণ করেন। বাংলা ১৩৪৮ সালের আষাঢ় মাসে প্রকাশিত মাসিক মোহম্মদী পত্রিকায় এক প্রবন্ধে লালনের জন্ম যশোর জেলার ফুলবাড়ি গ্রামে বলে উল্লেখ করা হয়।
#ছেউড়িয়ায়_লালন
হিতকরী পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ নিবন্ধে বলা হয়েছে, লালন তরুণ বয়সে একবার তীর্থভ্রমণে বের হয়ে পথিমধ্যে গুটিবসন্ত রোগে আক্রান্ত হন। তখন তাঁর সাথীরা তাঁকে মৃত ভেবে পরিত্যাগ করে চলে যায়। কালিগঙ্গা নদীতে ভেসে আসা মুমূর্ষু লালনকে উদ্ধার করেন মলম শাহ। তিনি ও তাঁর স্ত্রী মতিজান তাঁকে বাড়িতে নিয়ে সেবা-শুশ্রূষা দিয়ে সুস্থ করে তোলেন। এরপর লালন তাঁর কাছে দীক্ষিত হন এবং কুষ্টিয়ার ছেউড়িয়াতে স্ত্রী ও শিষ্যসহ বসবাস শুরু করেন। গুটিবসন্ত রোগে একটি চোখ হারান লালন। ছেউড়িয়াতে তিনি দার্শনিক গায়ক সিরাজ সাঁইয়ের সান্নিধ্যে আসেন এবং তাঁর দ্বারা প্রভাবিত হন।
#ধর্মবিশ্বাস
লালনের ধর্মবিশ্বাস নিয়ে গবেষকদের মাঝে বেশ মতভেদ রয়েছে, যা তাঁর জীবদ্দশায়ও বিদ্যমান ছিল। তাঁর মৃত্যুর পর প্রকাশিত প্রবাসী পত্রিকার ‘মহাত্মা লালন’ নিবন্ধে লালনের প্রথম জীবনী রচয়িতা বসন্ত কুমার পাল উল্লেখ করেন, ‘সাঁইজি হিন্দু কি মুসলমান, এ কথা আমিও স্থির বলিতে অক্ষম।’ বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়, লালনের জীবদ্দশায় তাঁকে কোন ধরনের ধর্মীয় রীতি-নীতি পালন করতেও দেখা যায়নি। লালনের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ছিল না। নিজ সাধনাবলে তিনি সনাতন, ইসলাম ও বিভিন্ন ধর্ম সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করেন। তাঁর রচিত গানে এর পরিচয় পাওয়া যায়। প্রবাসী পত্রিকার এক নিবন্ধে বলা হয়েছে, ‘লালনের সব ধর্মের লোকের সাথেই সুসম্পর্ক ছিল। মুসলমানদের সাথে সুসম্পর্কের কারণে অনেকে তাঁকে  মুসলমান মনে করতেন। আবার বৈষ্ণবধর্মের আলোচনা করতে দেখে হিন্দুরা তাঁকে বৈষ্ণব মনে করতেন। প্রকৃতপক্ষে লালন ছিলেন মানবতাবাদী এবং তিনি ধর্ম, জাত, কূল, বর্ণ, লিঙ্গ ইত্যাদি অনুসারে মানুষের ভেদাভেদ বিশ্বাস করতেন না।’

তবে বাংলা ১৩৪৮ সালের আষাঢ় মাসে প্রকাশিত মাসিক মোহম্মদী পত্রিকায় এক প্রবন্ধে লালনকে জন্মসূত্রে মুসলিম উল্লেখ করা হয়। আবার কোন কোন লেখক লালন শাহকে হিন্দু বলেও উল্লেখ করেছেন। লালনের ধর্মবিশ্বাস সম্পর্কে কবি ও ঔপন্যাসিক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় বলেছেন, ‘লালন ধার্মিক ছিলেন। তবে তিনি কোনো বিশেষ ধর্মের রীতিনীতি পালনে আগ্রহী ছিলেন না। সব ধর্মের বন্ধন ছিন্ন করে তিনি মানবতাকে সর্বোচ্চ স্থান দিয়েছিলেন।’ লালনের পরিচয় দিতে গিয়ে সুধীর চক্রবর্তী লিখেছেন, ‘কাঙাল হরিনাথ তাঁকে জানতেন, মীর মশাররফ তাঁকে চিনতেন, ঠাকুরদের হাউসবোটে যাতায়াত ছিল, লেখক জলধর সেন বা অক্ষয় কুমার মৈত্রেয় তাঁকে সামনাসামনি দেখেছেন কতবার, গান শুনেছেন, তবু জানতে পারেননি লালনের জাত-পরিচয়, বংশধারা বা ধর্ম।’

অবশ্য কিছু লালন অনুসারী যেমন মন্টু শাহের মতে, তিনি হিন্দু বা মুসলমান কোনটিই ছিলেন না বরং তিনি ছিলেন ওহেদানিয়াত নামক একটি নতুন ধর্মীয় মতবাদের অনুসারী। ওহেদানিয়াতের মাঝে বৌদ্ধধর্ম এবং বৈষ্ণব ধর্মের সহজিয়া মতবাদ এবং সুফিবাদসহ আরও অনেক ধর্মীয় মতবাদ বিদ্যমান। লালনের অনেক অনুসারী লালনের গানসমূহকে এই আধ্যাত্মিক মতবাদের কালাম বলে অভিহিত করে থাকে।
#আখড়া_স্থাপন
লালন কুষ্টিয়ার কুমারখালির ছেউড়িয়াতে একটি আখড়া তৈরি করেন, যেখানে তিনি তাঁর শিষ্যদের নীতি ও আধ্যাত্মিক শিক্ষা দিতেন। তাঁর শিষ্যরা তাকে “সাঁই” বলে সম্বোধন করতেন। তিনি প্রতি শীতকালে আখড়ায় একটি ভান্ডারা বা মহোৎসব এর আয়োজন করতেন। সেখানে সহস্রাধিক শিষ্য ও সম্প্রদায়ের লোক জড়ো হতেন এবং সেখানে সংগীত ও আলোচনা হতো। চট্টগ্রাম, রংপুর, যশোর এবং পশ্চিমে অনেক দূর পর্যন্ত বাংলার ভিন্ন ভিন্ন স্থানে বহুসংখ্যক লোক লালন ফকিরের শিষ্য ছিলেন। শোনা যায় তাঁর শিষ্যের সংখ্যা প্রায় দশ হাজারের বেশি ছিল।
#ঠাকুর_পরিবারে
কলকাতার জোড়া সাঁকোর ঠাকুর পরিবারের অনেকের সঙ্গে লালনের পরিচয় ছিল বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়। বিরাহিমপুর পরগনায় ঠাকুর পরিবারের জমিদারিতে ছিল তাঁর বসবাস এবং ঠাকুর-জমিদারদের প্রজা ছিলেন তিনি। ঊনিশ শতকের শিক্ষিত সমাজে লালন শাহের প্রচার ও গ্রহণযোগ্যতার পেছনে ঠাকুর পরিবার বড় ভূমিকা রাখে। কিন্তু এই ঠাকুরদের সঙ্গে লালনের একবার সংঘর্ষও ঘটে। কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালির কাঙাল হরিনাথ মজুমদার গ্রামবার্তা প্রকাশিকা নামে একটি পত্রিকা প্রকাশ করতেন। এরই একটি সংখ্যায় তখন ঠাকুর-জমিদারদের প্রজাপীড়নের সংবাদ ও তথ্য প্রকাশের সূত্র ধরে উচ্চপদস্থ ইংরেজ কর্মকর্তারা বিষয়টির প্রত্যক্ষ অনুসন্ধানে আসেন। এতে করে কাঙাল হরিনাথ মজুমদারের ওপর বেশ ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন ঠাকুর-জমিদারেরা। তাঁকে শায়েস্তা করার উদ্দেশ্যে লাঠিয়াল পাঠালে শিষ্যদের নিয়ে লালন শাহ সশরীরে তা মোকাবিলা করেন এবং লাঠিয়াল বাহিনী পালিয়ে যায়।
লালনের জীবদ্দশায় তাঁর একমাত্র স্কেচটি তৈরি করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভ্রাতা জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর। লালনের মৃত্যুর বছরখানেক আগে ৫ মে ১৮৮৯ সালে পদ্মায় তাঁর বোটে বসিয়ে তিনি এই পেন্সিল স্কেচটি করেন- যা ভারতীয় জাদুঘরে সংরক্ষিত আছে। যদিও কারো কারো দাবী এই স্কেচটিতে লালনের আসল চেহারা ফুটে ওঠেনি।
#দেহাবসান
১৮৯০ সালের ১৭ অক্টোবর লালন ১১৬ বছর বয়সে কুষ্টিয়ার কুমারখালির ছেউড়িয়াতে নিজ আখড়ায় মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর প্রায় একমাস আগে থেকে তিনি পেটের সমস্যা ও হাত পায়ের গ্রন্থির সমস্যায় ভুগছিলেন। অসুস্থ অবস্থায় তখন তিনি দুধ ছাড়া অন্য কিছু খেতেন না। এ সময়ে তিনি মাছ খেতে চাইতেন। মৃত্যুর দিন ভোর ৫টা পর্যন্ত তিনি গান-বাজনা করেন এবং এক সময় তাঁর শিষ্যদের বলেন, ‘আমি চলিলাম’ এবং এর কিছু সময় পরই তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর নির্দেশ বা ইচ্ছা না থাকায় তাঁর মৃত্যুর পর হিন্দু বা মুসলমান কোন ধর্মেরই রীতিনীতি পালন করা হয়নি। তাঁরই উপদেশ অনুসারে ছেউড়িয়ায় তাঁর আখড়ার মধ্যে একটি ঘরের ভিতর তাঁকে সমাধিস্থ করা হয়। তাঁর মৃত্যুর ১২ দিন পর তৎকালীন পাক্ষিক পত্রিকা মীর মশাররফ হোসেন সম্পাদিত হিতকরী-তে প্রকাশিত একটি রচনায় সর্বপ্রথম তাঁকে ‘মহাত্মা’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।
#লালনতত্ত্ব
লালনের গানে মানুষ ও তাঁর সমাজই ছিল মুখ্য। লালন বিশ্বাস করতেন সকল মানুষের মাঝে বাস করে এক মনের মানুষ। আর সেই মনের মানুষের সন্ধান পাওয়া যায় আত্মসাধনার মাধ্যমে। দেহের ভেতরেই মনের মানুষ থাকে, যাকে তিনি অচিন পাখি বলেছেন। সেই অচিন পাখির সন্ধান মেলে পার্থিব দেহ সাধনার ভেতর দিয়ে দেহোত্তর জগতে পৌঁছানোর মাধ্যমে। এটাই বাউলতত্ত্বে ‘নির্বাণ’ বা ‘মোক্ষ’ বা ‘মহামুক্তি’ লাভ বলে। তিনি সবকিছুর ঊর্ধ্বে মানবতাবাদকে সর্বোচ্চ স্থান দিয়েছেন। তাঁর বহু গানে এই মনের মানুষের প্রসঙ্গ উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি বিশ্বাস করতেন মনের মানুষ এর কোন ধর্ম, জাত, বর্ণ, লিঙ্গ, কূল নেই। মানুষের দৃশ্যমান শরীর এবং অদৃশ্য মনের মানুষ পরস্পর বিচ্ছিন্ন, কিন্তু শরীরেই মনের বাস। সকল মানুষের মনে ঈশ্বর বাস করেন। লালনের এই দর্শনকে কোন ধর্মীয় আদর্শের অন্তর্গত করা যায় না। তিনি মানব আত্মাকে বিবেচনা করেছেন এক রহস্যময়, অজানা এবং অস্পৃশ্য সত্তা রূপে। খাঁচার ভিতর অচিন পাখি গানে তিনি মনের অভ্যন্তরের সত্তাকে তুলনা করেছেন এমন এক পাখির সাথে, যা সহজেই খাঁচারূপী দেহের মাঝে আসা যাওয়া করে কিন্তু তবুও একে বন্দি করে রাখা যায় না।

আধ্যাত্মিক ভাবধারায় তিনি প্রায় দুই হাজার গান রচনা করেছেন। তার সহজ-সরল শব্দময় গানে মানবজীবনের রহস্য, মানবতা ও অসাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ পেয়েছে। মানবতাবাদী লালন দর্শনের মূল কথা হচ্ছে মানুষ। আর এই দর্শন প্রচারের জন্য তিনি শিল্পকে বেছে নিয়েছিলেন। লালনকে অনেকে সাম্প্রদায়িক বলতে চেয়েছেন।
তবে লালন সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন,
‘লালন ফকির নামে একজন বাউল সাধক হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, জৈন ধর্মের সমন্বয় করে কী যেন একটা বলতে চেয়েছেন- আমাদের সবারই সেদিকে মনোযোগ দেওয়া উচিত।’
#লালনের_প্রভাব
লালনের গান ও দর্শনের দ্বারা অনেক বিশ্বখ্যাত কবি, সাহিত্যিক, দার্শনিক প্রভাবিত হয়েছেন। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ লালনের মৃত্যুর ২ বছর পর তার আখড়া বাড়িতে যান এবং লালনের দর্শনে প্রভাবিত হয়ে ১৫০টি গান রচনা করেন। তাঁর বিভিন্ন বক্তৃতা ও রচনায় তিনি লালনের প্রসঙ্গ তুলে ধরেছেন। লালনের মানবতাবাদী দর্শনে প্রভাবিত হয়েছেন সাম্যবাদী কবি কাজী নজরুল ইসলাম। এছাড়া আমেরিকান কবি এলেন গিন্সবার্গ লালনের দর্শনে প্রভাবিত হন এবং তাঁর রচনাবলিতেও লালনের রচনাশৈলীর অনুকরণ দেখা যায়। তিনি আফটার লালন (After Lalon) নামে একটি কবিতাও রচনা করেন। লালনের সংগীত ও ধর্ম-দর্শন নিয়ে দেশ-বিদেশে নানা গবেষণা হয়েছে ও হচ্ছে।
#লালনস্মরণে
লালন স্মরণে অসংখ্য গল্প, কবিতা ও উপন্যাস রচিত হয়েছে এবং সিনেমাও নির্মিত হয়েছে।
লালন সাঁইজির জীবনীর নির্ভরযোগ্য তথ্য ও লালন-দর্শনের মূল কথা নিয়ে সাইমন জাকারিয়া রচনা করেছেন ‘উত্তরলালনচরিত’ শীর্ষক নাটক। নাটকটি ঢাকার সদর প্রকাশনী হতে প্রকাশিত হয়েছে। রণজিৎ কুমার লালন সম্পর্কে সেনবাউল রাজারাম নামে একটি উপন্যাস রচনা করেছেন। পরেশ ভট্টাচার্য রচনা করেছেন বাউল রাজার প্রেম নামে একটি উপন্যাস। কবি ও ঔপন্যাসিক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় লালনের জীবনী নিয়ে রচনা করেছেন মনের মানুষ উপন্যাস। এই উপন্যাসে কোন নির্ভরযোগ্য সূত্র ব্যতিরেকেই লালনকে হিন্দু কায়স্থ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছ, নাম দেয়া হয়েছে লালন চন্দ্র কর। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত উপন্যাস ‘গোরা’ শুরু হয়েছে লালনের গান ‘’খাঁচার ভিতর অচিন পাখি কেমনে আসে যায়’ দিয়ে। ১৯৩৬ সালে সুনির্মল বসু লালন ফকিরের ভিটে নামে একটি ছোট গল্প রচনা করেন। শওকত ওসমান ১৯৬৪ সালে রচনা করেন দুই মুসাফির নামের একটি ছোটগল্প।
লালনকে নিয়ে কয়েকটি চলচ্চিত্র ও তথ্যচিত্র নির্মিত হয়েছে। ১৯৭২ সালে সৈয়দ হাসান ইমাম পরিচালনা করেন লালন ফকির চলচ্চিত্রটি। শক্তি চট্টোপাধ্যায় ১৯৮৬ সালে একই নামে একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন। ম. হামিদ ১৯৮৮ সালে পরিচালনা করেন তথ্যচিত্র দ্যাখে কয়জনা, যা বাংলাদেশে টেলিভিশনে প্রদর্শিত হয়। তানভীর মোকাম্মেল ১৯৯৬ সালে পরিচালনা করেন তথ্যচিত্র অচিন পাখি। ২০০৪ সালে তানভীর মোকাম্মেলের পরিচালনায় লালন নামে একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করা হয়। এ চলচ্চিত্রে লালনের ভূমিকায় অভিনয় করেন রাইসুল ইসলাম আসাদ এবং এটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করে।এছাড়া ২০১০-এ সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের উপন্যাস অবলম্বনে গৌতম ঘোষ মনের মানুষ নামে একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন, যা ২০১০ সালে ৪১তম ভারতীয় চলচ্চিত্র উৎসবে সেরা চলচ্চিত্রের পুরস্কার লাভ করে। উল্লেখ্য, চলচ্চিত্রে লালনকে কোন উল্লেখযোগ্য সূত্র ছাড়াই হিন্দু হিসাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এই চলচ্চিত্রটি অনেক সমালোচনার মুখোমুখি হয়। ২০১১ সালে মুক্তি পায় হাসিবুর রেজা কল্লোল পরিচালিত ‘অন্ধ নিরাঙ্গম’ নামের চলচ্চিত্র। এ চলচ্চিত্রে লালনের দর্শন ও বাউলদের জীবনযাপন তুলে ধরা হয়েছে। (অসম্পূর্ণ)

Share This
Categories
প্রবন্ধ

মূল্যবান মনুষ্য জীবন ও মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি : স্বামী আত্মভোলানন্দ।

ওঁ নমঃ শ্রী ভগবতে প্রণবায় ।

 

***পৃথিবীতে আমরা মানুষই একমাত্র প্রাণী কাঁদতে কাঁদতে জন্ম গ্রহণ করি। কিন্তু জীবন ও মৃত্যুর মধ্যবর্তী সময়টা  অভাব, অভিযোগ,প্রতিবাদ, প্রতিরোধ করতে করতে বাঁচি। আর অবশেষে আমরা অনুশোচনা, আফসোস করতে করতে  মৃত্যু বরন করি। আমাদের মানুষের সৌন্দর্য অনেকটা  হৃদয়ও মস্তিষ্কে বসবাস করে, মানুষের শরীরে নয়, তাই, যার মস্তিষ্কের ভাবনা যত সুন্দর, সে মানুষ হিসেবেও ঠিক ততটাই সুন্দর ৷ আমাদের জীবন ও মৃত্যুর কোনও সূত্র ভগবান আমাদের  দেন নি৷ তাই জীবন ও মৃত্যুর মধ্যবর্তী সময়টা চিরন্তন আনন্দ উপভোগ করার জন্য৷ জন্ম ও মৃত্যুর মধ্যবর্তী সময়টা মহান কাজএ  ব্যবহার করার জন্য৷ কারণ, একজন চমৎকার, বিস্ময়কর  মানুষ  সবসময় আমাদের স্মৃতিতে থাকে, একজন ভালো মানুষ সবসময় আমাদের স্বপ্নে থাকে। কিন্তু একজন আন্তরিক মানুষ সবসময় আমাদের হৃদয়ে থাকবে।  তাই, নিজের জীবন  মহান করে তুলুন৷ সৎ  মানুষের জীবনে ধন, সম্পত্তি, পদমর্যাদা নয়,  সবথেকে প্রয়োজনীয় জিনিস হলো নিরোগ দেহ, পরিতৃপ্ত মন, সততা ও মানসিক প্রশান্তি পূর্ণ জীবন। ধন, জন, যৌবন ও নাম-যশ  সব নশ্বর। বন্ধুত্ব ও প্রেম ক্ষণস্থায়ী। ঈশ্বর সদগুরুদেব একমাত্র আমাদের পথ প্রদর্শক।
তাই:-
স্বামী বিবেকানন্দ বলেছেন:-“ধর্ম এমন একটি ভাব, যাহা পশুকে মনুষ্যত্বে ও মানুষকে দেবত্বে উন্নীত করে।”

স্বামী প্রণবানন্দজী বলেছেন:-“যাহা তোমাকে তোমার লক্ষ্যস্থলে পৌঁছাইয়া দিবে তাহাই প্রকৃত কর্ম ও সাধনা।”

মানুষের জীবনের ছোট ছোট জিনিসগুলোই সবচেয়ে খুব দামি এবং গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের নিজের যা আছে তার প্রশংসা করা এবং ঈশ্বর প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা উচিত! বন্ধুত্ব এবং শান্তির প্রতীক  আমাদের হাসি এবং সন্তুষ্টি বিশ্বের সাথে  শেয়ার করা দরকার। কারণ, যখন আমাদের জীবনে সুখের একটি দরজা বন্ধ হয়ে যায়, সুখের অন্য দরজাটি খোলে, কিন্তু প্রায়শই আমরা বন্ধ দরজার দিকেই এতক্ষণ তাকিয়ে থাকি যে আমরা আমাদের জন্য খোলা সুখের অন্য দরজাটি দেখতে পাই না। কারণ, আমাদের হৃদয়ে পবিত্রতা, মনে স্বচ্ছতা, কর্মে আন্তরিকতা এবং মানসিক তৃপ্তি হল মানুষের জীবনে আসল সুখের,শান্তির সূত্র।
ওঁ গুরু কৃপা হি কেবলম্ ।
স্বামী আত্মভোলানন্দ

Share This
Categories
প্রবন্ধ

সাতকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়, ভারতীয় উপমহাদেশের ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের সংগ্রামী ও সশস্ত্র বিপ্লবী।

ভূমিকা—

 

ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন ছিল কিছু মানুষের অব্যর্থ পরিশ্রম যার ফলেই ব্রিটিশদের থেকে ভারত রাজনৈতিক দিক থেকে মুক্তি পেয়েছে। ভারত উপমহাদেশের বিংশ শতাব্দীতে ব্রিটিশ সম্রাজ্যবাদ বিরোধী যে সশস্ত্র বিপ্লববাদী লড়াই-সংগ্রাম সংগঠিত হয় এবং যার ধারাবাহিকতায় ভারত স্বাধীন হয়, তার মূলে যে সকল বিপ্লবীর নাম সর্বজন স্বীকৃত তাঁদের মধ্যে সাতকড়ি  ব্যানার্জী প্রথমসারির একজন অন্যতম বিপ্লবী ছিলেন।সাতকড়ি  ব্যানার্জী  ভারতীয় উপমহাদেশের ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনে এক উল্লেখযোগ্য নাম, যিনি দেশমতৃকার শৃঙ্খল মুক্তির জন্য নিজেকে সঁপে দিয়েছিলেন সম্পূর্ণ রূপে। সাতকড়ি  ব্যানার্জী ছিলেন ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের একজন অক্লান্ত কর্মী। সাতকড়ি  ব্যানার্জী ছিলেন ভারতীয় উপমহাদেশের ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের একজন সংগ্রামী এবং সশস্ত্র বিপ্লবী।

 

ছাত্রজীবন—-

 

বিপ্লবী সাতকড়ি ব্যানার্জি ব্রিটিশ ভারতের দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলার বেহালায় ১৭ অক্টোবর ১৮৮৯ সালে জন্মগ্রহণ করেন।  তাঁর পিতার নাম মন্মথ নাথ ব্যানার্জী।  ছাত্র হিসাবে, তিনি বিপ্লবী আন্দোলনের দিকে ঝুঁকে পড়েছিলেন এবং হরিণাভি স্কুলে পড়ার সময় ১৯০৫ সালে সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়কে স্বাগত জানানোর জন্য মানবেন্দ্রনাথ রায়ের সাথে স্কুল থেকে বহিষ্কৃতদের মধ্যে ছিলেন।  এরপর তিনি যুগান্তর দলের প্রবীণ বিপ্লবীদের সংস্পর্শে আসেন।

 

জার্মান ষড়যন্ত্রে —–

 

১৯১৪ সালে, যখন গদর পার্টির বিপ্লবীরা ‘কোমাগাটামারু’ জাহাজে চড়ে আসেন, তখন তিনি গোপনে তাদের সাহায্য করেন।  তিনি প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় গেরিলা যুদ্ধের মানচিত্র এবং নকশাও সংগ্রহ করেছিলেন। ১৯১৫ সালে, বিপ্লবী বাঘা যতীন তাকে অস্ত্র আনলোড করার দায়িত্ব দিয়ে একটি জার্মান গানশিপের সাথে যোগাযোগ করতে হ্যালিডে দ্বীপে পাঠান।  তবে বিভিন্ন কারণে জাহাজটি অবতরণ করতে পারেনি।  এই বছরই বাঘা যতীনের দূত হিসাবে নিরালাম্বা স্বামীর সাথে পরামর্শ করতে গিয়েছিলেন।  তিনি যুগান্তর দলের পররাষ্ট্র বিভাগের দায়িত্বে ছিলেন।

 

রাজনৈতিক হত্যার চক্রান্ত—

 

১৯৩০ সালে, সাতকড়ি অত্যাচারী পুলিশ কমিশনার চার্লস ট্যাগার্টের হত্যা প্রচেষ্টায় জড়িত ছিল।  যুগান্তরের বারুইপুর শাখার নেতা থাকাকালে শহীদ কানাইলাল ভট্টাচার্যের স্থানীয় গুরু ছিলেন সাতকড়ি।  ১৯৩১ সালের ২৭ জুলাই কানাইলাল তার পরামর্শে ‘বিমল গুপ্ত’ নামে বিচারক গার্লিককে হত্যা করেন।

 

কারাগার জীবন ও মৃত্যু—

 

১৯১৬ সালের ৪ মার্চ সাতকড়ি ব্যানার্জীকে বন্দী করা হলে, তাকে আলিপুর সেন্ট্রাল জেলে রাখা হয়, পরে তাকে উত্তর প্রদেশের নাইনি জেলে পাঠানো হয়, যেখানে তিনি রাজকীয় বন্দীদের সাথে খারাপ আচরণের প্রতিবাদে ৬৭ দিনের অনশনে গিয়েছিলেন।  ১৯২০ সালের ১৩ জানুয়ারি মুক্তি পাওয়ার পর তিনি আবার সংগঠনের কাজে নিযুক্ত হন।  ১৯২৪ সালে পুলিশ তাকে আবার গ্রেফতার করে এবং তিন বছরের জন্য কারারুদ্ধ করে।  যদিও তিনি ১৯২৭ সালে মুক্তি পান, সরকার তাকে ১৯৩০ সালে তার বিপ্লবী কার্যকলাপের জন্য গৃহবন্দী করে রাখে এবং পরে তাকে সম্পূর্ণরূপে গ্রেফতার করে এবং ১৯৩২ সালে তাকে রাজস্থানের দেউলি কারাগারে প্রেরণ করে। ৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯৩৭ সালে, সাতকড়ি ব্যানার্জী জেলে অসুস্থ হয়ে মারা যান।

 

।।তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

আজ আন্তর্জাতিক দারিদ্র্য বিমোচন দিবস, জানুন দিনটির ইতিহাস, তাৎপর্য ও গুরুত্ব ।

আজ, ১৭ অক্টোবর, জাতিসংঘ ঘোষিত দারিদ্র্য দূরীকরণের জন্য আন্তর্জাতিক দিবস।  জাতিসংঘের উদ্যোগে প্রতি বছর এই দিনে সারা বিশ্বে দিবসটি পালিত হয়।  দিবসটির মূল লক্ষ্য বিশ্বব্যাপী দারিদ্র্য, ক্ষুধা ও মানবিক বৈষম্য দূর করা।  আমাদের দেশেও দিবসটি গুরুত্বের সঙ্গে পালিত হয়।

 

১৯৯৫ সালকে জাতিসংঘ দারিদ্র্য দূরীকরণের জন্য আন্তর্জাতিক বছর হিসাবে ঘোষণা করেছে।  জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের পর্যবেক্ষণে দেশে দারিদ্র্য ও বঞ্চনার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।  ১৯৯০-এর দশকে উন্নয়নশীল দেশগুলিতে দারিদ্র্য ও বঞ্চনা দূরীকরণ একটি অগ্রাধিকার হয়ে ওঠে।  এ ক্ষেত্রে দারিদ্র্য ও বঞ্চনা দূরীকরণে সচেতনতা বৃদ্ধির বিষয়টি মাথায় রেখে ১৯৯২ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে এ বিষয়ে কয়েকটি এনজিওর উদ্যোগকে সাধুবাদ জানানো হয়।
বিশেষ করে, ফরাসি ভিত্তিক এনজিও এটিডি ফোর্থ ওয়ার্ল্ড সহ চরম দারিদ্র্য নির্মূলের জন্য তাদের আন্দোলনের সাফল্যের জন্য ১৭ অক্টোবরে আন্তর্জাতিক দারিদ্র্য দূরীকরণ দিবস উদযাপনের পর্যালোচনা করা হয়েছিল।  এই আলোকে সাধারণ পরিষদও উল্লিখিত বৈঠকে ১৭ অক্টোবরকে আন্তর্জাতিক দারিদ্র্য দূরীকরণ দিবস হিসেবে ঘোষণা করেছে।

 

দারিদ্র্য দূরীকরণের জন্য আন্তর্জাতিক দিবসের লক্ষ্য হল দারিদ্র্য এবং সমাজে বসবাসকারী মানুষের মধ্যে বোঝাপড়া এবং সংলাপকে উন্নীত করা।  এটি একটি অনুস্মারক হিসাবে কাজ করে যে দারিদ্র্য একটি জটিল, বহুমুখী সমস্যা যা আয়ের অভাবের পরিবর্তে স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা এবং সামাজিক অন্তর্ভুক্তির মতো বিষয়গুলিকে প্রভাবিত করে৷  যদিও দারিদ্র্য নির্মূল করা একটি কঠিন কাজ, সমস্যাটি মোকাবেলা করা পণ্য-নির্ভর অঞ্চলে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, বহুমুখীকরণ এবং টেকসই প্রবৃদ্ধির দিকে এগিয়ে যেতে পারে।  দিবসটি দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সহযোগিতা, মানবাধিকার এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের মূল্য তুলে ধরে।  এটি একটি গুরুতর তবে আশাব্যঞ্জক উপলক্ষ।  থিম থেকে ইতিহাস পর্যন্ত, দিনটি সম্পর্কে আরও জানতে নিচে স্ক্রোল করুন।

 

দারিদ্র্য দূরীকরণের জন্য আন্তর্জাতিক দিবস ২০২৩ থিম—-

 

দারিদ্র্য দূরীকরণের জন্য এই বছরের আন্তর্জাতিক দিবসের প্রতিপাদ্য হল “শালীন কাজ এবং সামাজিক সুরক্ষা: সকলের জন্য চর্চায় মর্যাদা রাখা,” যার লক্ষ্য হল শালীন কাজের সর্বজনীন প্রবেশাধিকার এবং সমস্ত মানুষের জন্য মানবিক মর্যাদা সমুন্নত রাখার উপায় হিসাবে সামাজিক সুরক্ষা।

 

 

 

দারিদ্র্য দূরীকরণের জন্য আন্তর্জাতিক দিবসের ইতিহাস—-

 

দারিদ্র্য দূরীকরণের জন্য আন্তর্জাতিক দিবসটি প্রথম ১৭ অক্টোবর, ১৯৮৭ তারিখে পালিত হয়েছিল। সেই দিন ১০০০০০ এরও বেশি লোক প্যারিসের ট্রোকাডেরোতে উপস্থিত হয়েছিল, যা ১৯৪৮ সালের মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণাপত্র লেখার স্থান ছিল, যারা তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে।  চরম দারিদ্র্য, সহিংসতা এবং ক্ষুধায় মারা গিয়েছিল।  তারা যুক্তি দিয়েছিল যে দারিদ্র্য মানবাধিকার লঙ্ঘন করে এবং সেই অধিকারগুলি সমুন্নত রাখতে সহযোগিতা প্রয়োজন।  তারপর থেকে, ১৭ অক্টোবর, বিভিন্ন বয়স, ধর্ম এবং সামাজিক ব্যাকগ্রাউন্ডের লোকেরা তাদের প্রতিশ্রুতি পুনর্নিশ্চিত করতে এবং সুবিধাবঞ্চিতদের প্রতি তাদের সহানুভূতি দেখাতে একত্রিত হয়েছে।  জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের রেজুলেশন ৪৭/১৯৬, ২২ ডিসেম্বর, ১৯৯২ তারিখে গৃহীত হয়েছে, ১৭ অক্টোবরকে দারিদ্র্য দূরীকরণের জন্য আন্তর্জাতিক দিবস হিসাবে ঘোষণা করেছে।

 

দারিদ্র্য দূরীকরণের জন্য আন্তর্জাতিক দিবস তাৎপর্য—

 

 

 

এই দিনটি অত্যন্ত তাৎপর্য বহন করে কারণ এটি তার সমস্ত মাত্রায় দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধের বিশ্বব্যাপী অনুস্মারক হিসাবে কাজ করে।  এটি এই বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের দ্বারা ক্ষতিগ্রস্তদের দুঃখকষ্ট দূর করার জন্য সম্মিলিত পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দিয়ে দারিদ্র্য থেকে উদ্ভূত গভীর সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং মানবাধিকারের সমস্যাগুলি মোকাবেলার প্রতিশ্রুতির উপর জোর দেয়।  এই দিনটি সংহতি এবং টেকসই, অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের অন্বেষণের আহ্বান জানায় যা নিশ্চিত করে যে কেউ পিছিয়ে থাকবে না, কারণ আমরা এমন একটি বিশ্বের জন্য সংগ্রাম করি যেখানে দারিদ্র্য ব্যক্তিদের মর্যাদা, সুযোগ এবং আশার জীবনযাপনে আর বাধা দেয় না।

 

।।তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This