Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

আজ জাতীয় আইনি পরিষেবা দিবস, জানব দিনটির ইতিহাস, তাৎপর্য, থিম এবং উদ্দেশ্য সম্পর্কে কিছু কথা।

ভারতে, ১৯৮৭ সালে আইনী পরিষেবা কর্তৃপক্ষ আইন পাস করার জন্য প্রতি বছর ৯ নভেম্বর জাতীয় আইনি পরিষেবা দিবস হিসাবে চিহ্নিত করা হয়। ১৯৯৫ সালের 9ই নভেম্বর এই আইনের আনুষ্ঠানিক বাস্তবায়ন চিহ্নিত করে।  সেই থেকে, আইনী ব্যবস্থা সম্পর্কে মানুষের বোঝা বাড়াতে ভারতের সমস্ত রাজ্যে আইনি পরিষেবা দিবস পালন করা হয়।  জাতীয় আইনী সেবা দিবস প্রতিষ্ঠার পর জাতীয় আইনী সেবা কর্তৃপক্ষ (NALSA) জাতীয় পর্যায়ে প্রতিষ্ঠিত হয়।  এখানে ২০২৩-এর বিষয়, গুরুত্ব এবং ইতিহাসের আইনি পরিষেবা দিবস সম্পর্কে আরও জানুন।
ভারতে প্রথম আইনি সহায়তা ক্লিনিক প্রতিষ্ঠার স্মরণে প্রতি বছর 9ই নভেম্বর জাতীয় আইনি পরিষেবা দিবস পালন করা হয়।  এই দিনটি তাদের আর্থ-সামাজিক পটভূমি নির্বিশেষে সকল ব্যক্তির জন্য ন্যায়বিচারের সমান অ্যাক্সেসের গুরুত্বের অনুস্মারক হিসাবে কাজ করে।  আইনি অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে এবং বিনামূল্যে আইনি সহায়তা পরিষেবা প্রচারের জন্য সারাদেশে আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষগুলি বিভিন্ন অনুষ্ঠান এবং অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।  লক্ষ্য হল প্রত্যেকের ন্যায়বিচারের অ্যাক্সেস রয়েছে এবং কার্যকরভাবে তাদের মৌলিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারে তা নিশ্চিত করা।

 

আইনি সেবা দিবসের ইতিহাস–

 

আইনি পরিষেবা দিবস ১৯৯৫ সালে সুপ্রিম কোর্ট দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং প্রতি বছর ৯ই নভেম্বর পালিত হয়।  একটি ছয়-সপ্তাহের প্যান ইন্ডিয়া আইনি সচেতনতা এবং আউটরিচ প্রচারাভিযান ২ অক্টোবর থেকে শুরু হয়েছিল এবং ২০২১ সালের ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত চলেছিল। এতে ডোর-টু-ডোর উদ্যোগ, আইনি সহায়তা ক্লিনিক সচেতনতা প্রচার, মোবাইল ভ্যান সচেতনতা প্রচারাভিযান এবং আইনি শিক্ষা কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত ছিল।
উপরন্তু, ৮ নভেম্বর থেকে ১৪ নভেম্বর, ২০২১ পর্যন্ত, “আইনি পরিষেবা সপ্তাহ” অনুষ্ঠিত হয়েছিল, এই সময়ে ৩৮ কোটিরও বেশি ব্যক্তিকে জরিপ করা হয়েছিল, তাদের সাথে জড়িত বা তাদের অধিকার সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছিল।  লিগ্যাল সার্ভিসেস মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনের iOS ভার্সনটি লিগ্যাল এইড অ্যাপ্লিকেশন জমা দেওয়ার জন্য একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম আত্মপ্রকাশ করেছে যা 9 নভেম্বর, 2021 তারিখে 10টি ভাষায় উপলব্ধ ছিল, যেটি আইনি পরিষেবা দিবস।  এই ইভেন্টটি জাতীয় আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষ (NALSA) দ্বারা জাতীয়ভাবে আয়োজিত হয়েছিল।

 

জাতীয় আইনি পরিষেবা দিবস ২০২৩–

 

আইনী ব্যবস্থা সম্পর্কে জনসাধারণের জ্ঞান বৃদ্ধির জন্য, জাতীয় আইনি সেবা দিবস তৈরি করা হয়েছিল।  এই দিনটি ভারতীয় নাগরিকদের তাদের পরিচয় বা উত্স নির্বিশেষে তাদের বিনামূল্যে আইনি প্রতিনিধিত্বের অধিকার সম্পর্কে শিক্ষিত করার জন্য নিবেদিত।  প্রতি বছর ৯ ই নভেম্বর, একটি জাতীয় ছুটি আইনী পরিষেবার জন্য উত্সর্গীকৃত হয়।  জাতীয় আইনী সেবা দিবস প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ক্ষমতায়ন এবং সামাজিক ন্যায়বিচার প্রচারে আইনি সহায়তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা তুলে ধরার একটি প্ল্যাটফর্ম হিসাবে কাজ করে।  এটি এমন একটি দিন যা তাদের আইনী সহায়তা প্রদানের ক্ষেত্রে অগ্রগতি উদযাপন করার এবং একটি ন্যায়সঙ্গত এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজের প্রতি আমাদের প্রতিশ্রুতি পুনর্নিশ্চিত করার জন্য।
এটি প্রায়শই আবিষ্কৃত হয় যে সংখ্যালঘু, মহিলা এবং প্রান্তিক সম্প্রদায়ের সদস্যদের আইনগত বোঝার খুব কম বা কোন ধারণা নেই।  এই লোকেরা তাদের অধিকার এবং বিনামূল্যের আইনি পরিষেবাগুলির বিষয়ে তথ্য পায় যা তারা জাতীয় আইনি পরিষেবা দিবসে সুবিধা নিতে পারে।  এই দিনটির একটি দ্রুত সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া হল: দিনটি বিনামূল্যে আইনি সহায়তা প্রদান এবং আইনি অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষ এবং সংস্থাগুলির অবদানকেও তুলে ধরে।

 

জাতীয় আইনি পরিষেবা দিবস ২০২৩ থিম–

 

আইনি পরিষেবা দিবসে, ব্যক্তিরা একে অপরকে তাদের আইনি দক্ষতা প্রদান করে।  যদিও এই দিনটি সারা দেশে ব্যাপকভাবে পালিত হয়, তবে বার্ষিক অনুষ্ঠানের জন্য কোন নির্দিষ্ট অফিসিয়াল থিম নেই।  যাদের সামর্থ্য নেই তাদের বিনামূল্যে আইনি সেবা প্রদান করাই হল দিনের প্রধান গুরুত্ব।  মানুষ এখন বিনামূল্যে আইনি পরিষেবা, আইনি পরামর্শ এবং আরও অনেক কিছুর অ্যাক্সেস পেয়েছে জাতীয় আইনি পরিষেবা দিবসের ভিত্তি৷  নিষ্পত্তি এবং মধ্যস্থতা পরিষেবাগুলি ব্যবহার করার লক্ষ্য হল ভারতীয় আদালতে এখনও বিচারাধীন মামলাগুলির ব্যাকলগ কমানো।

 

 

 

আইনি সেবা কর্তৃপক্ষ আইন কি?

 

৯ ই নভেম্বর, ১৯৯৫-এ, ভারতের সুপ্রিম কোর্ট জনসাধারণকে বিনামূল্যে আইনি পরিষেবা প্রদানের জন্য আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষ আইন পাস করে।  এই আইন ফেডারেল, রাজ্য এবং স্থানীয় পর্যায়ে সমাজের দুর্বল গোষ্ঠীর সদস্যদের বিনামূল্যে আইনি সহায়তা এবং পরামর্শ প্রদান করে।  এই আইনকে সম্মান জানাতে ৯ নভেম্বর জাতীয় আইনি পরিষেবা দিবস পালন করা হয়, যেদিন এটি আনুষ্ঠানিকভাবে আইনে স্বাক্ষরিত হয়েছিল।  এখানে এটি সম্পর্কে কিছু অতিরিক্ত বিবরণ আছে.

আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষ আইনের যোগ্যতা

শুধুমাত্র সমাজের দুর্বল গোষ্ঠীর যারা আর্থিক সীমাবদ্ধতা বা অন্যান্য কারণের কারণে আইনি পরিষেবাগুলিতে সামান্য বা কোন অ্যাক্সেস নেই তারাই বিনামূল্যে আইনি সহায়তা পাওয়ার যোগ্য।  নিম্নলিখিত ব্যক্তিরা এই মানদণ্ডের সাথে জড়িত:

প্রান্তিক গোষ্ঠীর মানুষ, নারী,  সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর মানুষ।

যাদের মাসিক আয় সরকার বলেছে তার চেয়ে কম।

 

 

 

জাতীয় আইনী সেবা দিবসের উদ্দেশ্য–

 

সাধারণ জনগণের মধ্যে আইনি সমস্যা সম্পর্কে জ্ঞান ছড়িয়ে দেওয়া।

সমাজের সুবিধাবঞ্চিত গোষ্ঠীগুলিকে বিনামূল্যে আইনি সহায়তা প্রদান।

অপরাধীদের ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা।

বিচারিক নিষ্পত্তি, সালিস, সমঝোতা, এবং বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির (ADR) অন্যান্য রূপ প্রদান করা।

লোক আদালত স্থাপন।

 

জাতীয় আইনী সেবা দিবসের তাৎপর্য–

 

ভারতে, যারা দরিদ্র আর্থ-সামাজিক গোষ্ঠীর—যেমন মহিলা, সংখ্যালঘু এবং প্রান্তিক সম্প্রদায়ের সদস্যদের—আইনি পরিষেবাগুলিতে অ্যাক্সেস নেই।  তাদের ত্রাণ সহায়তা করার জন্য ভারতের সুপ্রিম কোর্ট আইনী পরিষেবা কর্তৃপক্ষ আইন প্রণয়ন করেছিল।  এখানে কেন এটি এত গুরুত্বপূর্ণ:

এটি সমাজের দুর্বল দিক থেকে আসা ব্যক্তিদের আইনী সুরক্ষা এবং বিধান দিয়ে আশ্বস্ত করে।

এটি মতবিরোধের সমাধানে সহায়তা করে।

আইনী ব্যবস্থা সম্পর্কে জনসাধারণের জ্ঞান বাড়াতে আইনটি যেদিন পাস করা হয়েছিল সেই দিনেই আইন সেবা দিবস পালন করা হয়।

 

উপসংহার—

 

সমাজের প্রান্তিক এবং সুবিধাবঞ্চিত অংশগুলিকে আইনি সহায়তা এবং পরিষেবা প্রদানের গুরুত্বকে স্মরণ করার জন্য প্রতি বছর ৯ই নভেম্বর ভারতে জাতীয় আইনি পরিষেবা দিবস পালন করা হয়।  এই দিনটি অর্থনৈতিক বা সামাজিক অবস্থান নির্বিশেষে সবার জন্য ন্যায়বিচার পাওয়ার মৌলিক অধিকারের অনুস্মারক হিসাবে কাজ করে।  এটির লক্ষ্য হল উপলব্ধ বিভিন্ন আইনি পরিষেবা, যেমন বিনামূল্যে আইনি সহায়তা, কাউন্সেলিং এবং প্রতিনিধিত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা যা সমস্ত নাগরিকের জন্য ন্যায়বিচারের সমান অ্যাক্সেস নিশ্চিত করতে সহায়তা করতে পারে।  ন্যাশনাল লিগ্যাল সার্ভিসেস ডে আইনী পেশাদার, প্যারালিগাল এবং স্বেচ্ছাসেবকদের আইনী সহায়তা প্রদান এবং ব্যক্তিদের তাদের অধিকার ও দায়িত্ব সম্পর্কে জ্ঞানের ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার স্বীকৃতি দেয়।

 

।।তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

আজ ৯ নভেম্বর, ইতিহাসের দিকে চোখ বুলিয়ে দেখে নেব ইতিহাসের এই দিনে বিশিষ্টজনদের জন্ম-মৃত্যু, দিনসহ ঘটে যাওয়া ঘটনা।

আজ ৯ নভেম্বর। এক নজরে দেখে নিই ইতিহাসের এই দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য ঘটনা, বিশিষ্টজনদের জন্ম-মৃত্যু দিনসহ গুরুত্বপূর্ণ আরও কিছু বিষয়।

 

দিবস—–

 

(ক) জাতীয় আইনি পরিষেবা দিবস। (ভারত)

 

আজ যাদের জন্মদিন—-

১৯১৩ – হেডি লেমার, তিনি ছিলেন অস্ট্রীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন চলচ্চিত্র অভিনেত্রী।

১৯১৪ – হেডি লেমার, অস্ট্রীয়-মার্কিন চলচ্চিত্র অভিনেত্রী।

১৯২৯ – ইমরে কার্তেজ, তিনি নোবেল পুরস্কার বিজয়ী হাঙ্গেরিয়ান লেখক।

১৯৩৪ – বিখ্যাত মার্কিন জ্যোতির্বিজ্ঞানী কার্ল সেগান।

১৯৩৬ – মিখাইল তাল, দাবার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন।

১৯৪৫ – হিন্দুস্থানী উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতের প্রখ্যাত শিল্পী শিপ্রা বসু।

 

১৯৪৮ – লুইজ ফেলিপে স্কলারি, তিনি সাবেক ব্রাজিলের ফুটবলার ও ম্যানেজার।

১৯৬৭ – রিকি আটর, তিনি ইংরেজ ফুটবলার।

১৯৭৪ – আলেসান্দ্রো দেল পিয়েরো, তিনি ইতালিয়ান ফুটবলার।

১৯৮৪ – সেভেন, তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার গায়ক, ড্যান্সার ও অভিনেতা।

 

১৮১৮ – রাশিয়ার খ্যাতনামা উপন্যাস লেখক ইভান তুরগেনেভ।

 

১৮৩২ – এমিলে গাবরিয়াউ, তিনি ছিলেন ফরাসি লেখক ও সাংবাদিক।

১৮৪১ – ব্রিটেন ও আয়ারল্যান্ডের রাজা সপ্তম অ্যাডওয়ার্ড।

১৮৬৮ – মারি ড্রেসলার, কানাডীয়-মার্কিন নির্বাক চলচ্চিত্র অভিনেত্রী ও কৌতুকাভিনেতা।

১৮৭৬ – জাপানি অণুজীববিদ হিদেয়ো নোগুচি।

 

১৮৭৭ – স্যার মুহাম্মদ ইকবাল, বিভাগপূর্ব ভারতবর্ষের মুসলিম কবি, দার্শনিক এবং রাজনীতিবিদ।

১৮৮৫ – হেরমান ভাইল, জার্মান গণিতবিদ।

 

১৮৯৭ – রোনাল্ড জর্জ রেফর্ড নোরিশ, তিনি ছিলেন নোবেল পুরস্কার বিজয়ী ইংরেজ রসায়নবিদ ও অধ্যাপক।

 

ইতিহাসের পাতায় আজকের দিনের ঘটনাবলী—-

২০০০ – ভারতে উত্তর প্রদেশ রাজ্যকে খণ্ডিত করে উত্তরাখণ্ড রাজ্য গঠিত হয়।

২০২০ – নাগার্নো-কারাবাখে সংঘাত বন্ধে আজারবাইজান-আর্মেনিয়া শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

১৯০৮ – এলিজাবেথ ন্যারেথ অ্যান্ডারসন বৃটেনের প্রথম মহিলা নির্বাচিত হন।

১৯১৭ – রাশিয়ায় বিপ্লবের পর লেনিনের নেতৃত্বে গঠিত হয় শ্রমিক-কৃষকের প্রথম সরকার।

১৯১৮ – প্রথম বিশ্বযুদ্ধে মিত্র বাহিনীর কাছে জার্মান বাহিনীর একের পর এক পরাজয়ের পরিপ্রেক্ষিতে সেদেশে প্রজাতন্ত্র ঘোষণা করা হয় এবং সর্বশেষ সম্রাট দ্বিতীয় উইল হেলম€Œ পদত্যাগ করেন।

১৯৫৩- ফ্রান্স থেকে কম্বোডিয়া স্বাধীনতা লাভ করে।

১৯৬৫ – ব্রিটেনে হত্যার দায়ে মৃত্যুদন্ড আইন রহিত ঘোষণা করা হয়।

১৯৭২ – মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ২৫ লাখ বছরের পুরনো ফসিল উদ্ধার করা হয়।

১৯৮৯ – পূর্ব ও পশ্চিম জার্মানীকে বিভক্তকারী বার্লিন প্রাচীর ২৮ বছর পর ভেঙ্গে ফেলার কাজ শুরু হয়।

১৯৯০ – নেপালের রাজা বীরেন্দ্র নতুন সংবিধান চালু করে দলহীন পঞ্চায়েত ব্যবস্থার অবসান ঘটান।

১৯৯০ – মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র উপসাগর এলাকায় দুই লক্ষ সেনা পাঠায়।

১৯৯৯ – জাতিসংঘ সংস্থা ইউনেস্কো নির্বাহী পরিষদের নির্বাচনে বাংলাদেশ এশিয়া প্যাসিফিক গ্রুপ থেকে সদস্য নির্বাচিত হয়।

১৭২৯ – স্পেনের সেভিল শহরে ঐতিহাসিক সেভিল চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

১৭৯৮ – ব্রিটিশ গভর্নরের আদেশে কলকাতায় রবিবারে ঘোড়দৌড় ও সব রকম জুয়াখেলা নিষিদ্ধ হয়।

 

এই দিনে মৃত্যুবরণ করেন যারা—-

২০০১ – জিওভান্নি লিওন, ইতালীয় আইনজীবী এবং রাজনীতিবিদ, ইতালির ৬ষ্ঠ প্রেসিডেন্ট।

 

২০০৪ – আইরিস চ্যাং, তিনি ছিলেন আমেরিকান ইতিহাসবিদ, সাংবাদিক ও লেখক।

 

২০০৫ – কে আর নারায়ণন, ভারতীয় সাংবাদিক ও রাজনীতিবিদ, ভারতের ১০ম রাষ্ট্রপতি।

 

২০০৮ – ইমাম সামুডরা, তিনি ছিলেন ইন্দোনেশিয়ান সন্ত্রাসীর।

 

২০১১ – হর গোবিন্দ খোরানা, ভারতীয় বংশোদ্ভূত নোবেল পুরস্কার বিজয়ী মার্কিন বিজ্ঞানী।

২০১২ – সের্গেই নিকলস্কয়, তিনি ছিলেন রাশিয়ান গণিতবিদ ও অধ্যাপক।

২০১৪ – সৌদ বিন মুহাম্মাদ আল থানি, কাতারের যুবরাজ।

১৯১৮ – ফরাসি কবি গিইয়োম আপলিনের।

 

১৯৩৫ – সন্তদাস কাঠিয়াবাবা নিম্বার্ক সম্প্রদায়ের প্রখ্যাত ভারতীয় বাঙালি যোগসাধক, দার্শনিক ও ধর্মগুরু।

 

১৯৫৩ – ইংরেজ কবি ডিলান টমাস।

১৯৫৩ – সৌদি আরবের বাদশাহ আবদুল আজিজ ইবন সৌদ।

১৯৭০ – জেনারেল চার্লস দ্য গল, তিনি ছিলেন ফরাসি সাধারণ ও নীতি ও ১৮ তম প্রেসিডেন্ট।

 

১৯৮০ – উপমহাদেশের বিশিষ্ট কমিউনিস্ট নেতা পূরণচাঁদ যোশী প্রয়াত হন।

১৯৮৫ – মারি-জর্জ পাস্কাল, তিনি ছিলেন ফরাসি অভিনেত্রী।

১৮৪৮ – রবার্ট বলুম, তিনি ছিলেন জার্মান কবি ও রাজনীতিবিদ।

 

১৭৭৮ – গিওভানি বাটিস্টা পিরানেসি, তিনি ছিলেন ইতালিয়ান ভাস্কর ও চিত্রকর।

 

।।তথ্য : সংগৃহীত ইন্টারনেট।।

Share This
Categories
নারী কথা প্রবন্ধ

প্রথাগত ‘‘নারীবাদী লেখক“ তকমার বিরোধী হলেও মেয়েদের কথা বারবার উঠে এসেছে নবনীতার লেখনীতে।

            নবনীতা দেবসেন একজন বাঙ্গালি কবি, লেখক এবং শিক্ষাবিদ।  নবনীতা দেবসেন দক্ষিণ কলকাতায় হিন্দুস্থান পার্কে তার বাবা- মা’র ‘ভালবাসা’ গৃহে জন্মগ্রহণ করেন । পিতা নরেন্দ্র দেব ও মাতা রাধারাণী দেবী সেযুগের বিশিষ্ট কবি দম্পতি। নবনীতা দেবসেনের বাবা নরেন্দ্র দেব, মা রাধারানী দেবী ছিলেন কলকাতার এলিট ঘরানার মানুষ। গত শতকের ত্রিশের দশক বাংলা সাহিত্যে আধুনিক যুগ বলে কথিত। ওই যুগের কবি তাঁরা। রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে ছিল সুসম্পর্ক। রাধারানী দেবী একসময় ‘অপরাজিতা দেবী’ নামে লিখতেন। ওই নামে রবীন্দ্রনাথ, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর পত্রালাপ হয়, যা বাংলা সাহিত্যে বহুল আলোচিত। তাঁদের কন্যা নবনীতা অধিকতর আধুনিকতায় দীপ্ত হবেন, খুব স্বাভাবিক।
একজন নারীর দৃষ্টিভঙ্গি থেকে সাহিত্যকে বিচার-বিশ্লেষণ করার রসদ নবনীতা পেয়েছিলেন মায়ের জীবন এবং সাহিত্যচর্চা থেকে।

 

 

শৈশব থেকে এক বিশেষ সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক পরিবেশে তিনি বড় হয়েছেন। বাংলা ও ইংরেজি ছাড়া উনি হিন্দি, ওড়িয়া, অসমীয়া, ফরাসী, জার্মান, সংস্কৃত এবং হিব্রু ভাষাগুলি পড়তে পারেন। গোখলে মেমোরিয়াল গার্লস, লেডি ব্রেবোর্ণ ও প্রেসিডেন্সি কলেজ, যাদবপুর , হার্ভার্ড, ইণ্ডিয়ানা (ব্লুমিংটন) ও কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা ও গবেষণা করেছেন। ১৯৭৫- ২০০২ তিনি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনামূলক সাহিত্যের অধ্যাপিকা ও বেশ কিছুকাল বিভাগীয় প্রধান ছিলেন। এছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপেরও কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিজিটিং প্রফেসর ছিলেন। তাকে তুলনামূলক সাহিত্যের একজন বিশিষ্ট অথরিটি মানা হয়। যাদবপুরে তিনি কবি বুদ্ধদেব বসু ও সুধীন্দ্রনাথ দত্তের স্নেহধন্য ছাত্রী ছিলেন। ১৯৯৯ সালে তিনি সাহিত্য একদেমি পুরস্কার পান তার আত্মজীবনী মূলক রম্যরচনা ‘নটী নবনীতা’ গ্রন্থের জন্যে। এছাড়াও তিনি মহাদেবী বর্মা ও ভারতীয় ভাষা পরিষদ ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান থেকেও বিভিন্ন পুরস্কার পেয়েছেন।

 

নবনীতার প্রতিভার বিচ্ছুরণ ঘটেছে জীবনের একাধিক ক্ষেত্রে। গল্প, উপন্যাস, কবিতা, গবেষণা, প্রবন্ধ,  ভ্রমণকাহিনী, অনুবাদসাহিত্য, শিশুসাহিত্যে এক উজ্জ্বল উপস্থিতি ছিল তাঁর। ১৯৫৯ এ তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘প্রথম প্রত্যয়’ প্রকাশিত হয় দেশ পত্রিকায় অমিয় বাগচী ও প্রণবেন্দু দাশগুপ্তের আগ্রহে। প্রথম উপন্যাস ‘আমি অনুপম’ ১৯৭৬-এ। কবিতা, প্রবন্ধ, রম্যরচনা, ভ্রমণ কাহিনী, উপন্যাস মিলে তার প্রকাশিত গ্রন্থ সংখ্যা ৩৮।নবনীতা ছিলেন ভার্সেটাইল লেখক। বিংশ-একবিংশ শতকের বাংলা সাহিত্যে নবনীতা দেবসেন একজনই। তিনি উচ্ছল, সহাস্য, সুদূরপিয়াসী, কখনো তির্যক, কখনো ক্রুদ্ধ, প্রয়োজনে কঠোর। ছেলেভোলানো রূপকথা থেকে অচঞ্চল কবিতা, সরস ট্রাভেলগ থেকে প্রশ্নাত্মক অ্যাকাডেমিক রচনা – সবকিছুতেই তাঁর অনায়াস বিচরণ। তিনি ঠিক যতটাই ধ্রুপদি, ততটাই আধুনিক বা সমকালীন।
কলকাতার একটি পত্রিকার রোববারের ম্যাগাজিনে ‘ভালো-বাসার বারান্দা’ নামে তাঁর ধারাবাহিক রচনা অতি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল, যেটি পরে বই হিসেবেও প্রকাশিত হয়। তাঁর উল্লেখযোগ্য বই : কবিতা – প্রথম প্রত্যয়, স্বাগত দেবদূত, তুমি মনস্থির করো; উপন্যাস – আমি অনুপম, প্রবাসে দৈবের বশে, অন্য দ্বীপ; গল্প – মঁসিয়ে হুলোর হলিডে, গল্পগুজব, খগেন বাবুর পৃথিবী, নাটক – অভিজ্ঞান দুষ্মন্তম; শিশু-কিশোর – পলাশপুরে পিকনিক, চাকুম চুকুম, স্বপ্নকেনার সওদাগর; গবেষণা – ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দ্বী, সীতা থেকে শুরু।
ভ্রমণ আর ভ্রমণ রচনায় সিদ্ধপা, সিদ্ধহস্ত ছিলেন। ট্রাকবাহনে ম্যাকমাহনে তাঁর একটি অসাধারণ ভ্রমণবিষয়ক গ্রন্থ।

 

 

ভ্রমণ-সাহিত্যে যেমন ছিলেন অনন্য, তেমনি ছিল তাঁর অসাধারণ রসবোধ। রসজ্ঞান ছিল রুচিসম্মত। ‘সেন্স অব হিউমার’ শব্দটার বোধহয় একটাই সংজ্ঞা, নবনীতা দেবসেন। নিজেকে নিয়েও রসিকতা করতেন।

নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়েছিল ১৯৫৯ সালে।  ১৯৭৬ সালে তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে যায়। তবে আমৃত্যু তাঁরা ভালো বন্ধু ছিলেন। তাদের দুই কন্যা। অন্তরা দেবসেন এবং নন্দনা সেন।জ্যেষ্ঠা অন্তরা সাংবাদিক ও সম্পাদক এবং কনিষ্ঠা নন্দনা অভিনেত্রী ও সমাজকর্মী।

 

বর্ণময় জীবন নবনীতার। নবনীতাই একমাত্র বাঙালি লেখক, যিনি ভারতীয় নানা সাহিত্য পুরস্কার কমিটির বিচারক-সদস্য ছিলেন। যেমন জ্ঞানপীঠ, সাহিত্য অ্যাকাডেমি, বিশ্ববিদ্যালয় (কেন্দ্রীয়) গ্রান্টস কমিশন। বাংলা একাডেমির সঙ্গেও তিনি আমরণ যুক্ত ছিলেন। অসংখ্য গল্প, কবিতা, রম্যরচনা ও উপন্যাসের স্রষ্টা নবনীতা দেবসেন পদ্মশ্রী(২০০০ সাল) , সাহিত্য অ্যাকাডেমি, কমলকুমারী জাতীয় পুরস্কারে ভূষিত হন।

 

 

প্রথাগত ‘‘নারীবাদী লেখক“ তকমার বিরোধী হলেও মেয়েদের কথা বারবার উঠে এসেছে নবনীতার লেখনীতে।
নবনীতা মনে করতেন মেয়েদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হওয়া এবং সেই অধিকারকে বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করতে তাঁদের প্রয়োজনীয় সাহায্য জোগানোটাই ফেমিনিজ়মের নির্যাস। সারা জীবন অসংখ্য বিষয়ে কলম ধরেছেন, তার মধ্যে সামাজিক সমস্যা, দেশভাগের যন্ত্রণা যেমন আছে, তেমনই আছে সমকাম, এইডস বা বার্ধক্যের মতো বিষয়। তাঁর একাধিক রূপকথার গল্পের কেন্দ্রেও রাজপুত্র নয়, থেকে গেছেন রাজকন্যারাই!

 

অসুস্থতা নিত্যসঙ্গী ছিল তাঁর, কিন্তু কোনও অসুস্থতাকে কখনও নিজের সামনে বাধা হয়ে দাঁড়াতে দেননি অত্যন্ত ঋজু মনের মানুষটি। ক্যান্সারের মতো মারণরোগকেও চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন নিজের কলামে, মৃত্যুর চোখে চোখ রেখে হেসে উঠেছেন। ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার পরও রসিকতা করতেন নিজেকে নিয়ে। লিখেছিলেন, ‘এই যে এত লম্বা জীবনটা কাটালুম, এর একটা যথাযথ সমাপন তো দরকার। পাঁজি-পুঁথি দেখে শুভদিন, শুভলগ্ন স্থির করে, স্বজন-বান্ধব খাইয়ে তবেই তো শুভযাত্রা।’ নিজের মৃত্যু নিয়ে এমন রসিকতা অল্প মানুষই করতে পারে। তাঁর প্রাণ ভরপুর ছিল রসের স্ফূর্তিতে, সঙ্গে ছিল বুদ্ধির দীপ্তি। আর কী আশ্চর্য, চলেও গেলেন পাঁজি-পুঁথি দেখে ক্যানসার সচেতনতা দিবসে। ২০১৯ সালের ৭ নভেম্বর ৮১ বছর বয়সে কলকাতায় তার নিজের বাড়িতে প্রয়াত হন তিনি।

 

।। তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবপেজ।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

আজ বিশ্ব নগরবাদ দিবস, জানুন দিনটি সম্পর্কে কিছু কথা ।

বিশ্ব শহর পরিকল্পনা দিবস WTPD,  যা  বিশ্ব নগরবাদ দিবস নামেও পরিচিত।  ছুটির দিনটি প্রতি বছর 8ই নভেম্বর পালন করা হয় এবং এর উদ্দেশ্য হল বাসযোগ্য শহুরে সম্প্রদায় তৈরিতে পরিকল্পনার ভূমিকা প্রচার করা।  বিশ্ব নগরবাদ দিবস শহর এবং অঞ্চলগুলির উন্নয়নের দ্বারা সৃষ্ট পরিবেশগত প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করে।  WTPD পেশাদার পরিকল্পনাবিদ এবং সাধারণ সম্প্রদায়কে একত্রিত করে তা দেখতে কিভাবে আমরা বিশ্বকে একটি আদর্শ জায়গায় রূপ দিতে পারি যেখানে আমরা থাকতে এবং কাজ করতে চাই।

 

বিশ্ব নগর পরিকল্পনা দিবসে, প্রতি বছর  ৮নভেম্বর, সারা বিশ্বের পরিকল্পনাকারীরা এবং সম্প্রদায়গুলি একত্রিত হয়ে উদযাপন করে যে কীভাবে ভাল পরিকল্পনা মানুষের জীবনকে উন্নত করে এবং সমাজকে বৃহত্তরভাবে উপকৃত করে, যেখানে বসবাস, কাজ এবং একসাথে খেলার জায়গা তৈরি করে।
আর্জেন্টিনার অধ্যাপক কার্লোস মারিয়া ডেলা পাওলেরা, প্যারিসের ইনস্টিটিউট ডি আরবানিজমের একজন স্নাতক, 1949 সালে বুয়েনস আইরেসে বিশ্ব শহর পরিকল্পনা দিবস শুরু করেছিলেন।
বিশ্ব শহর পরিকল্পনা দিবস প্রতি নভেম্বরে চারটি মহাদেশের ৩০টি দেশে পালিত হয়।  এটি স্বাস্থ্যকর, সমৃদ্ধ সম্প্রদায় তৈরিতে পরিকল্পনাকারীদের ভূমিকা এবং পরিকল্পনার স্বীকৃতি এবং প্রচার করার একটি বিশেষ দিন।
এপিএ সদস্যদের এই দিনে সারা বিশ্বের সহকর্মীদের সাথে তাদের জ্ঞান এবং নেতৃস্থানীয় অনুশীলনগুলি ভাগ করে নেওয়ার জন্য এবং সবার জন্য আবাসনে আন্তর্জাতিক সাফল্যের গল্প থেকে শেখার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে;  শহরের স্থিতিস্থাপকতা তৈরি করা;  শহুরে সংকটের প্রতিক্রিয়া পরিকল্পনা;  অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং উচ্চাভিলাষী জলবায়ু ব্যবস্থা এবং অন্যান্য ক্ষেত্র যা মার্কিন পরিকল্পনা অনুশীলনকে উন্নত করবে।

 

নগর পরিকল্পনা কি?

 

নগর পরিকল্পনা একটি প্রযুক্তিগত এবং রাজনৈতিক উভয় প্রক্রিয়া যা শহুরে সম্প্রদায়ের জমি এবং নকশার ব্যবহার দেখে।  নগর পরিকল্পনা নিশ্চিত করে যে মানব ও স্যাটেলাইট সম্প্রদায়ের সুশৃঙ্খল বিকাশ রয়েছে।  যেহেতু আধুনিক সমাজ টেকসই উন্নয়ন, জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মুখোমুখি হচ্ছে, নগর পরিকল্পনা একটি ক্রমবর্ধমান গুরুত্বপূর্ণ দিক হয়ে উঠেছে।

 

এই বছরের থিম—

 

এই বছরের থিম হল Learn Globally, Apply Locally, এবং এটি বিশ্বব্যাপী পরিকল্পনা ও পরিকল্পনা সংস্কৃতি থেকে শেখার মূল্যের উপর ফোকাস করবে, বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় উদ্ভাবনী, টেকসই এবং ন্যায়সঙ্গত সমাধানকে উৎসাহিত করবে।

 

বিশ্ব শহর পরিকল্পনা দিবসের ইতিহাস—

 

বিশ্ব নগরবাদ দিবস ১৯৪৯ সালে বুয়েনস আইরেস বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কার্লোস মারিয়া ডেলা পাওলেরা দ্বারা তৈরি করা হয়েছিল।  তিনি আঞ্চলিক এবং বিদেশে উভয় পরিকল্পনায় জনসাধারণের এবং পেশাগত আগ্রহকে এগিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্য করেছিলেন।  প্রফেসর কার্লোস বাসযোগ্য পরিস্থিতি তৈরিতে পরিকল্পনাকারীদের দ্বারা পরিচালিত ভূমিকা প্রচারের আশা করেছিলেন।
আমেরিকান ইনস্টিটিউট অফ সার্টিফাইড প্ল্যানার্স এই দিনটিকে সমর্থন করে এবং প্রতি বছর বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে এটিকে প্রচার করে।  ইনস্টিটিউট বাসযোগ্য শহুরে সম্প্রদায় তৈরিতে তাদের ভূমিকার জন্য আমেরিকান পরিকল্পনাবিদদের কৃতিত্বকে স্বীকৃতি দেয় এবং প্রশংসা করে।
চারটি মহাদেশের ৩০টি দেশ বিশ্ব নগরবাদ দিবস পালন করে আজ, অনুষ্ঠানটি বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে।

 

কিভাবে বিশ্ব শহর পরিকল্পনা দিবস উদযাপন করা যায়

স্থানীয় ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে জনসাধারণকে একাধিক বিষয় বুঝতে সাহায্য করার জন্য পরিকল্পনা সমিতি এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন শিক্ষামূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।  আপনার এলাকার আশেপাশে যদি এমন কোনো ঘটনা ঘটে থাকে, তাহলে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনা করুন।  যাইহোক, যদি কোনটি না থাকে, আপনি এখনও অনলাইনে কিছু প্রচারণা দেখতে পারেন।  ওয়ার্ল্ড টাউন প্ল্যানিং ডে অনলাইন কনফারেন্স প্রায়ই ইভেন্ট, প্রচারাভিযান, এবং প্রাসঙ্গিক ক্রিয়াকলাপগুলি সারা বিশ্ব জুড়ে সকলের দেখার জন্য সম্প্রচার করে।
আপনার স্থানীয় আশেপাশে, অফিস, এমনকি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও একটি ইভেন্ট আয়োজনের উদ্যোগ নিন।  ইভেন্টে কিছু পেশাদার পরিকল্পনাবিদ, পণ্ডিত এবং রাজনীতিবিদদের আমন্ত্রণ জানান।  পেশাদারদের সাথে একত্রে, জনসাধারণকে সঠিক পরিকল্পনা কী তা বুঝতে সাহায্য করুন এবং আমরা এবং ভবিষ্যত প্রজন্ম যেখানে বাস করতে চাই এমন জায়গা তৈরিতে কীভাবে প্রত্যেকে অবদান রাখতে পারে।  তারপরে আপনি লেখকদের সবচেয়ে উদ্ভাবনী ধারণা দিয়ে পুরস্কৃত করতে পারেন।
আপনি আপনার সম্প্রদায়গুলিতে পরিকল্পনার তাৎপর্য সম্পর্কে সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়ার এই সুযোগটিও নিতে পারেন।  #WorldUrbanismDay, #WTPD, বা #WorldTownPlanningDay হ্যাশট্যাগের মাধ্যমে সোশ্যাল মিডিয়াতে আপনার চিন্তা শেয়ার করুন।  আপনি আপনার এলাকার বেশিরভাগ লোকের অজ্ঞতার স্তরে বিস্মিত হবেন।

 

কেন বিশ্ব শহর পরিকল্পনা দিবস উদযাপন করব?

 

বিশ্ব নগরবাদ দিবস পালন করার অনেক কারণ রয়েছে।  এই দিনটি উদযাপনের মাধ্যমে, পরিকল্পনা পেশাদার এবং সাধারণ জনগণ উভয়ের কাছে নগর এবং আঞ্চলিক পরিকল্পনার আদর্শের বিশ্বব্যাপী কভারেজ রয়েছে।  বিশ্ব নগর পরিকল্পনা দিবস সারা বিশ্বে নগর ও আঞ্চলিক পরিকল্পনার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের প্রতিও দৃষ্টি আকর্ষণ করে।  সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, WTPD বিশ্বব্যাপী মানব বসতি এবং ব্যবস্থায় যথাযথ পরিকল্পনার অবদানগুলি তুলে ধরে।

 

।। তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ

কাফি খাঁ নামে পরিচিত প্রখ্যাত বাঙালি ব্যঙ্গচিত্রশিল্পী প্রফুল্লচন্দ্র লাহিড়ী, জন্মজন্মদিনে শ্রদ্ধাঞ্জলি।

প্রফুল্ল চন্দ্র লাহিড়ী, ‘কাফি খান’ বা পিসিয়েল নামে পরিচিত, একজন বাঙালি কার্টুনিস্ট। তিনি ছিলেন বাংলা কার্টুনের পথিকৃৎ গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুরের যোগ্য উত্তরসূরি। তিনি বাংলার প্রথম সম্পাদকীয় কার্টুনিস্ট।

প্রফুল্ল চন্দ্র লাহিড়ীর জন্ম ৮ নভেম্বর, ১৯০০, ঢাকায়, ব্রিটিশ ভারতের, বর্তমানে বাংলাদেশ। পিতার নাম ফণীন্দ্রনাথ লাহিড়ী। ছোটবেলায় পড়ালেখায় ভালো ছিল। ইতিহাসের ছাত্র হিসেবে প্রথম শ্রেণীতে এমএ পাস করেন। হাতের লেখা, অঙ্কন এবং মানচিত্র তৈরির জন্য সর্বদা ক্লাসে পুরস্কার জিতেছে। ইতিহাসে এমএ পাস করার পর তিনি ফেনী কলেজে ইতিহাস ও নাগরিক বিজ্ঞানের অধ্যাপনা করে কর্মজীবন শুরু করেন। কলেজের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের সঙ্গেও যুক্ত থাকতেন। ভালো বেহালা বাজাতেন। ভারতীয় শিল্প এবং মুসলমনি শাস্ত্রীয় সঙ্গীত চর্চা করেছেন।

সেই সঙ্গে চলছিল চিত্রাঙ্কনও। শিক্ষকতা করার সময়, তাঁর প্রথম কার্টুনগুলি প্র-চ-লা ছদ্মনামে শনিবারের চিঠি পত্রিকায় প্রকাশিত হতে শুরু করে। তাঁর প্রতিভা ইতিমধ্যেই সম্পাদক সজনীকান্ত দাসের নজরে এসেছিল। প্রফুল্ল চন্দ্র তাঁর আহ্বানে এবং তাঁর কলেজ সহকর্মী গোপাল হালদারের পরামর্শে ১৯৩৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে কলকাতায় চলে আসেন। সেই বছরের ১১ নভেম্বর দেশপ্রেমিক যতীন্দ্রমোহন সেনগুপ্তের ‘অ্যাডভান্স’ পত্রিকায় শ্যামা হকের তৎকালীন মন্ত্রীসভার ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশিত হয়, Diogenes ছদ্মনামে এবং পত্রিকায় নিয়মিত আঁকতে থাকে।

১৯৩৬ খ্রিস্টাব্দ থেকে প্রায় তিন দশক ধরে, অমৃতবাজার পত্রিকায় প্রতি মঙ্গলবার তার মনসপুত্র, গোঁফওয়ালা প্রৌঢ়ের  – ‘খুরো’-এর জীবনের প্রতিদিনের মজাদার অসঙ্গতিগুলি নিয়ে উঁকি দিত। ১৯৩৭ খ্রিস্টাব্দে যুগান্তর পত্রিকা চালু হলে তিনি ‘কাফি খাঁ’ ছদ্মনামে ‘শেয়াল পণ্ডিত’-এর স্ট্রিপ কার্টুন এবং রাজনৈতিক কার্টুন আঁকতে শুরু করেন। ‘খুড়ো’ এবং ‘শেয়াল পণ্ডিত’-এর মতো দুটি অবিস্মরণীয় কমিক-স্ট্রিপ চরিত্র তাঁকে খ্যাতি এনে দেয়। পরে, প্রতি রবিবার, তিনি রামায়ণ এবং মহাভারত, পুরানো বাণী এবং শিক্ষামূলক বিষয়গুলির উপর স্কেচ আঁকতেন। দুটি মহাকাব্যের ঘটনা ও চরিত্র সন্নিবেশিত করে মজাদার ও নাটকীয় পরিবেশ সৃষ্টিতে তিনি ছিলেন অতুলনীয়।

তাঁর উল্লেখযোগ্য চিত্রকাহিনিগুলি হল –

‘মহাভারতের বনপর্ব’, ‘দুই বোকার গল্প’ ‘মাস্টারবাবু’, ‘ট্রলিবাবু’, ‘রিকশাওয়ালা’,, ‘মহাভারতের কথা’,, ‘সবজান্তা রাজা’,, ‘ভীমের গল্প’, ‘কুম্ভকর্ণের কাণ্ড’, ইত্যাদি।

এ সময় তিনি বিভিন্ন গণমাধ্যমে নিয়মিত কাজ করেন। সিগারেট, মাথার তেল, গুঁড়ো মশলা, কত পণ্যের জন্য তিনি কার্টুন এঁকেছেন তার কোনো হিসেব নেই। তিনিই প্রথম দেশে বিজ্ঞাপনে কার্টুন ব্যবহার করেন।

রচনা—

দেশের মনীষীদের জীবন নিয়ে লিখেছেন, সুভাষ-আলেখ‍্য, দধীচির অস্থি, সত‍্যের সন্ধানে, In Search of Truth। ছোটদের জন‍্য তিনি বেশ কিছু বই লিখেছিলেন। তার আঁকায় ও লেখায় সমৃদ্ধ ‘ছবি কথা’ বইটিতে পাতায় পাতায় ছবি এঁকে বুঝিয়েছিলেন কী ভাবে রেলইঞ্জিন কাজ করে, মোটরগাড়ি চলে বা এরোপ্লেন ওড়ে।

জীবনাবসান—

প্রফুল্লচন্দ্র লাহিড় ১৯৭৫ খ্রিস্টাব্দের ২৭ শে অক্টোবর ৭৫ বৎসর বয়সে প্রফুল্লচন্দ্র লাহিড়ী পরলোক গমন করেন।

।। তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ

নোবেলজয়ী বিজ্ঞানী ভারতরত্ন সি ভি রমন, যিনি রামন ক্রিয়া আবিষ্কারের জন্য বিখ্যাত হয়ে আছেন।

স্যার চন্দ্রশেখর ভেঙ্কট রমন, ভারতীয় বিজ্ঞানী যিনি রামন প্রভাব আবিষ্কারের জন্য বিখ্যাত।  তিনি ১৯৩০ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার জিতেছিলেন। নোবেল পুরস্কারের বিষয় ছিল আলোর বিচ্ছুরণের ক্ষেত্রে তার মৌলিক আবিষ্কার।  তাঁর ভাইপো সুব্রহ্মণ্যন চন্দ্রশেখরও ১৯৮৩ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার জিতেছিলেন।

 

রামনের জন্ম হয়েছিল ১৮৮৮ খ্রিষ্টান ৭ই নভেম্বর তামিলনাড়ুর তিরুচিরপল্লী শহরের তিরুবনইক্কবল গ্রামে। তাঁর পিতা চন্দ্রশেখর আইয়ার ছিলেন পদার্থবিদ্যার অধ্যাপক।  আট ভাইবোনের মধ্যে পালন ছিলেন মেজ।

মায়ের নাম পার্বতী তিনি খুব সংস্কৃতিমনা মহিলা ছিলেন ।

রামন শৈশবকাল থেকেই ছিলেন খুব বুদ্ধিমান ও জ্ঞানপিপাসু । মাত্র ১২ বছর বয়সে তিনি ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষায় কৃতকার্য হন। ১৯০৪ সালে মাত্র ষােল বছর বয়সে মাদ্রাজের প্রেসিডেন্সী কলেজ থেকে প্রথম শ্রেণীতে বি- এ পাস করেন । সেবার তিনি একাই প্রথম শ্রেণী পেয়েছিলেন ।

রামন উক্ত কলেজ থেকেই পূর্বের সমস্ত রেকর্ড ভঙ্গ করে পদার্থবিজ্ঞানে প্রথম শ্রেণীতে প্রথম হয়ে এম . এ . পাস করেন ।

 

অল্প বয়সে, রমন বিসাখাপত্তনম শহরে চলে যান এবং সেন্ট আলয়সিয়াস অ্যাংলো-ইন্ডিয়ান হাইস্কুলে অধ্যয়ন করেন। তিনি ১১ বছর বয়সে ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন এবং ১৩ বছর বয়সে বৃত্তির মাধ্যমে এফ.এ পরীক্ষার পাশ করেন (আজকের ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষার সমতুল্য, পিইউসিপিডিসি এবং +২)।

১৯০২ সালে রমণ মাদ্রাজে (বর্তমানে চেন্নাই) প্রেসিডেন্সী কলেজ, চেন্নাই যোগ দেন যেখানে তাঁর পিতা গণিত ও পদার্থবিজ্ঞানে একজন অধ্যাপক ছিলেন। ১৯০৪ সালে তিনি মাদ্রাজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাচেলর অব আর্টস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। তিনি প্রথম স্থান অধিকার করেন এবং পদার্থবিদ্যায় স্বর্ণপদক পান। ১৯০৭ সালে সর্বোচ্চ ডিস্টিংসান নিয়ে তিনি মাস্টার অফ সায়েন্স ডিগ্রী অর্জন করেন।

 

এম . এ . পাস করার পর কলকাতার এ্যাকাউন্ট্যান্ট জেনারেলের অফিসে একটা মর্যাদাসম্পন্ন চাকরি গ্রহণ করেন ।

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য স্যার আশুতােষ মুখােপাধ্যায় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁকে একটা অধ্যাপনার পদে চাকরি দিতে চাইলেন । রামন তাঁর মােটা বেতনের সরকারী চাকরি ছেড়ে দিয়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজ্ঞানের অধ্যাপক পদে যােগদান করেন ।

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞানের প্রথম অধ্যাপক পদে নিযুক্ত হওয়ার পর ১৯১৭ সালে রমন সরকারি চাকরি থেকে পদত্যাগ করেন। একই সময়ে, তিনি ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য কালটিভেশন অব সায়েন্স (আইএসিএস) -এ গবেষণা চালিয়ে যান, যেখানে তিনি অবৈতনিক সচিব ছিলেন। রমন তার কর্মজীবনের এই সময়টিকে সুবর্ণ যুগ হিসাবে উল্লেখ করেছিলেন। অনেক শিক্ষার্থী আইএসিএস এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর নিকট সমবেত হন। ১৯২৬ সালে অধ্যাপক রমন ভারতীয় পদার্থবিজ্ঞানের সাময়িক পত্রিকা প্রতিষ্ঠিত করেন এবং তিনি প্রথম সম্পাদক ছিলেন। সাময়িক পত্রিকার দ্বিতীয় খণ্ডে রমন প্রভাব আবিষ্কারের প্রতিবেদন সমেত তাঁর বিখ্যাত নিবন্ধ “একটি নতুন বিকিরণ” প্রকাশিত হয়।

১৯২৮ সালের ২৮ শে ফেব্রুয়ারি, তারিখে রমন সহযোগীদের সহায়তায় আইএসিএস-এ কেএএসএস কৃষ্ণানসহ আলোর বিচ্ছ্ররনের ওপর পরীক্ষানিরীক্ষার নেতৃত্ব দেন যেসময় তিনি যা আবিষ্কার করেন তা বর্তমানে রমন প্রভাব বলে জানা যায়।  এই সময়ের একটি বিস্তৃত বিবরণ জি ভেঙ্কটরমনের জীবনীর নথীতে পাওয়া যায়।  এটি তাৎক্ষনিকভাবে পরিষ্কার ছিল যে এই আবিষ্কারটি অতীব প্রয়োজনীয় ছিল। এটি আলোর কোয়ান্টাম প্রকৃতির আরও প্রমাণ দিয়েছে । রমনের কে.এস. কৃষ্ণানের সঙ্গে জটিল পেশাদার সম্পর্ক ছিল, যিনি আশ্চর্যজনকভাবে পুরস্কারটি ভাগাভাগি করেননি, কিন্তু নোবেল বক্তৃতাও উল্লেখযোগ্যভাবে উল্লেখ করেছেন।

রমন স্পেকট্রোস্কোপি এই ঘটনাটির উপর ভিত্তি করে এসেছিল, এবং আর্নেস্ট রাদারফোর্ড ১৯২৯ সালে রয়েল সোসাইটিতে তাঁর রাষ্ট্রপতির বক্তৃতায় উল্লেখ করেছিলেন। রমন ১৯২৯ সালে ভারতীয় বিজ্ঞান কংগ্রেসের ১৬ তম অধিবেশনের সভাপতি ছিলেন। তাকে একটি নাইটহুড এবং পদক প্রদান করা হয় এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় দ্বারা সম্মানসূচক ডক্টরেট প্রদান করা হয়। রমণ পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার জেতায় আত্মবিশ্বাসী ছিলেন, তবে ১৯২৪ সালে নোবেল পুরস্কার ওলিন রিচার্ডসন এবং ১৯২৬ সালে লুই ডি ব্রোগি পাওয়াতে হতাশ হয়েছিলেন। ১৯৩০ সালে তিনি পুরস্কার জেতার এতটাই আত্মবিশ্বাসী ছিলেন, যে তিনি জুলাইতে টিকেট কিনেছিলেন, যদিও পুরস্কারগুলি নভেম্বরে ঘোষণা করা হতো, এবং যদি সংবাদটি না আসে সেই ভাবনাকে উড়িয়ে দিয়ে, পুরস্কারের ঘোষণার খবরের জন্য প্রতিটি দিনের সংবাদপত্র খুঁটিয়ে দেখতেন। অবশেষে তিনি ১৯৩০ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন “আলোর বিকিরণ এবং রমন প্রভাব আবিষ্কারের জন্য”।  বিজ্ঞানের নোবেল পুরস্কার পাওয়ার জন্য তিনি প্রথম এশীয় এবং প্রথম অ-শ্বেতাঙ্গ ছিলেন। তাঁর আগে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (ভারতীয়) সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন ১৯১৩ সালে।

১৯৭০ সালের ২১শে নভেম্বর রমনের মৃত্যু হয়।

রমন এফেক্ট আবিষ্কারের দিনটি স্মরণে ২৮শে ফেব্রুয়ারি ভারতের জাতীয় বিজ্ঞান দিবস ঘোষণা করা হয়। ১৯৮৮ সাল থেকে প্রতি বছর এ দিনটিতে সারা ভারতের সবগুলো বিজ্ঞান গবেষণাগার সবার জন্য খুলে দেওয়া হয়। জাতীয় পর্যায়ে বিজ্ঞানের প্রচার ও প্রসারে এ দিনটির ভূমিকা অনেক ।

 

।।সংগৃহীত : উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েব পেজ।।

Share This
Categories
নারী কথা প্রবন্ধ

“আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের মা” হিসাবে পরিচিত মারি ক্যুরি প্রথম মহিলা বিজ্ঞানী যিনি নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।

মেরি কুরি ছিলেন আধুনিক বিশ্বের প্রথম সত্যিকারের বিখ্যাত নারী বিজ্ঞানী । তেজস্ক্রিয়তা সম্পর্কে গবেষণায় তাঁর অগ্রণী কাজের জন্য তিনি “আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের মা” হিসাবে পরিচিত ছিলেন , একটি শব্দ যা তিনি তৈরি করেছিলেন। তিনি ছিলেন পিএইচডি প্রাপ্ত প্রথম মহিলা। ইউরোপের গবেষণা বিজ্ঞানে এবং সোরবনে প্রথম মহিলা অধ্যাপক। মাদাম কুরী একবার নয় , দু’বার বিজ্ঞান গবেষণায় অনন্যসাধারণ কৃতিত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ যে মহীয়সী নারী নােবেল পুরস্কারে ধন্য হয়েছিলেন  । বিশ্বের কোনাে নারীর ভাগ্যে এমনটি আর ঘটেনি । এমন কি দু’বার নােবেল পুরস্কার পেয়েছেন একই ক্ষেত্রে , এমন নজির বিশ্বে বিরল । কুরি পলোনিয়াম এবং রেডিয়াম আবিষ্কার করেন এবং বিচ্ছিন্ন করেন এবং বিকিরণ এবং বিটা রশ্মির প্রকৃতি প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি ১৯০৩ (পদার্থবিদ্যা) এবং ১৯১১ (রসায়ন) নোবেল পুরস্কার জিতেছিলেন এবং নোবেল পুরস্কারে ভূষিত প্রথম মহিলা এবং দুটি ভিন্ন বৈজ্ঞানিক শাখায় নোবেল পুরস্কার জয়ী প্রথম ব্যক্তি ছিলেন তেজস্ক্রিয়তা গবেষণা এবং পোলোনিয়াম এবং রেডিয়াম আবিষ্কার। তিনি ছিলেন প্রথম মহিলা যিনি নোবেল পুরস্কার জিতেছিলেন এবং প্রথম ব্যক্তি যিনি দ্বিতীয় নোবেল পুরস্কার জিতেছিলেন, এ জন্যে তাঁকে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানী বলা হয়ে থাকে ।

জীবনের শুরুতে দুঃখ দারিদ্র্য আর প্রিয় ব্যক্তিকে কাছে পাওয়ার মর্মবেদনায় যিনি আত্মহত্যা করতে চেয়েছিলেন , বলেছিলেন এই ঘৃণিত পৃথিবী থেকে বিদায় নিলে ক্ষতি খুব সামান্যই হবে — সেই অভিমানী তরুণীটিই নিজের প্রচেষ্টায় পরবর্তীকালে হয়েছিলেন জগদ্বিখ্যাত বিজ্ঞানী এবং বিশ্বের সর্বকালের সেরা মানুষদের একজন ।

মারি ক্যুরি ১৮৬৭ সালের ৭ই নভেম্বর পোল্যান্ডের ওয়ারশতে জন্মগ্রহণ করেন, যেটি তখন রাশিয়ান সাম্রাজ্যের অংশ ছিলো। মারি কুরি ওয়ারশর গোপন ভাসমান বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করেছিলেন এবং ওয়ার্সাতেই তার ব্যবহারিক বৈজ্ঞানিক প্রশিক্ষণ শুরু করেছিলেন। ১৮৯১ সালে ২৪ বছর বয়সে সে তাঁর বড় বোন ব্রোনিস্লাভাকে অনুসরণ করে প্যারিসে পড়তে যান। সেখানেই সে তার পরবর্তি বৈজ্ঞানিক কাজ পরিচালিত করেছিলেন। ১৯০৩ সালে মারি কুরি তাঁর স্বামী পিয়েরে কুরি এবং পদার্থবিদ হেনরি বেকেরেলের সাথে পদার্থ বিদ্যায় নোবেল পুরস্কার জেতেন। তিনি এককভাবে ১৯১১ সালে রসায়নেও নোবেল পুরস্কার জেতেন।
পদার্থবিজ্ঞানে তিনি নোবেল পান তেজষ্ক্রিয়তা নিয়ে কাজ করার জন্য। আর রসায়নে নোবেল পান পিচব্লেন্ড থেকে রেডিয়াম পৃথক করার জন্য।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় হাসপাতালগুলোতে এক্স-রের সরঞ্জামের ঘাটতি ছিল। যুদ্ধাহত রোগিদের এক্স রে সঠিকভাবে করানোর অর্থ যোগাতে তিনি তহবিল সংগ্রহে নামেন। এসময় অসুস্থ শরীর নিয়ে তিনি ২২০ টি রেডিওলোজি স্টেশন গড়ে তোলেন। এর মধ্যে ২০০ টি ছিল বিভিন্ন জায়গায় স্থায়ী ছিল, এবং ২০ টি ছিল ভ্রাম্যমাণ। এগুলো তিনি বিভিন্ন ধনী মহিলাদের কাছ থেকে গাড়ি ধার নিয়ে তৈরী করেছিলেন। তিনি নিজেও বিভিন্ন স্টেশনে এক্সেরে করতে সাহায্য করতেন এবং যুদ্ধের সময় তার গড়া এই রঞ্জনবিদ্যা ইনস্টিটিউটগুলোয় প্রায় ১০ লাখ যুদ্ধাহতের এক্স রে করা হয়েছিল।
পোল্যান্ডের রাজধানী ওয়ারসতে নিজের গড়া রেডিয়াম ইনস্টিটিউটসহ তিনি অন্য একটি রেডিয়াম ইনস্টিটিউটে কাজ করতেন। রেডিয়াম বিষয় নিয়ে রেডিয়াম ইনস্টিটিউটে গবেষণা করে তিনি তাঁর মেয়ে ইরিন, মেয়ের স্বামী ফ্রেডরিক জুলিয়েটের সাথে যৌথভাবে নোবেল পান।

 

 

ফ্রান্সের একজন নাগরিক হিসেবে থাকা অবস্থায়ও মারি স্ক্লদভস্কা ক্যুরি (তিনি তাঁর দুটো উপাধিই লিখতেন ) তিনি কখনোই তার পোলিশ পরিচয় ভুলে যাননি। তিনি তাঁর কন্যাদের পোলিশ ভাষা শিখিয়েছিলেন এবং তাদের পোল্যান্ডে নিয়েও গিয়েছিলেন। তিনি নিজে প্রথম যে মৌলটি আবিষ্কার করেন, তাঁর জন্মভূমির নামানুসারে ঐ মৌলের নাম দেন পোলনিয়াম।

মারি ক্যুরি ইউনিভার্সিটি (প্যারিস ৬) এবং ১৯৪৪ সালে লুবলিনে প্রতিষ্ঠিত মারি ক্যুরি-স্ক্লদভস্কা ইউনিভার্সিটিকে সহযোগিতা দিয়েছিলেন। ১৯৪৮ সালে ব্রিটেনে অসুস্থতার শেষ সীমার রোগীদের জন্য মারি ক্যুরি ক্যান্সার কেয়ার আয়োজন করা হয়। মারি ক্যুরিকে উৎসর্গ করে ২টি জাদুঘর আছে। ১৯৬৭ সালে ওয়ার্সর “নিউ টাউনে” উলিকা ফ্রেটা (ফ্রেটা সড়ক) অর্থাৎ মারি ক্যুরির জন্মস্থানে মারিয়া স্ক্লদভস্কা-ক্যুরি মিউজিয়াম প্রতিষ্ঠা করা হয়।প্যারিসে তাঁর গবেষণাগারটি মিউজি ক্যুরি হিসেবে সংরক্ষিত যা ১৯৯২ সালে উন্মুক্ত করা হয়।
তাঁর প্রতিকৃতি হিসেবে অনেক চিত্রকর্ম তৈরি করা হয়েছে। ১৯৩৫ সালে পোলিশ প্রেসিডেন্ট ইগান্সি মজচিকের স্ত্রী মিচালিনা মজচিকা ওয়ার্সর রেডিয়াম ইন্সটিটিউটের সামনে মারি ক্যুরির একটি প্রতিকৃতি বা মূর্তি উন্মুক্ত করেন। ১৯৪৪ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে নাৎসি জার্মানিদের বিরুদ্ধে ওয়ার্স জাগরণ ঘটে এবং গোলাগুলিতে প্রতিকৃতিটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যুদ্ধের পর প্রতিকৃতি ও এর পাদস্তম্ভে গুলির চিহ্ন রেখে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ১৯৫৫ সালে জোযেফ মাজুর কাচ দিয়ে মারি ক্যুরির প্রতিকৃতি মারিয়া স্ক্লদভস্কা-ক্যুরি মেডালিয়ন নির্মাণ করেন যা ইউনিভার্সিটি অফ বুফালোর পোলিশ রুমের বিশেষ আকর্ষণ।
তাঁকে উৎসর্গ করে বেশকিছু জীবনী লেখা হয়। ১৯৩৮ সালে তাঁর মেয়ে ইভ ক্যুরি মাদাম ক্যুরি প্রকাশ করেন। ১৯৮৭ সালে ফ্রাঙ্কইজ গিরৌড লিখেন মারি ক্যুরি: আ লাইফ। ২০০৫ সালে বারবারা গোল্ডস্মিথ লিখেন অবসেসিভ জিনিয়াস: দ্য ইনার ওয়ার্ল্ড অফ মারি ক্যুরি । ২০১১ সালে লরেন রেডনিজ প্রকাশ করেন রেডিওএকটিভ: মারি এবং পিয়েরে ক্যুরি, এ টেল অফ লাভ অ্যান্ড ফলআউট।
১৯৪৩ সালে গ্রির গারসন এবং ওয়াল্টার পিজন অস্কারের জন্য মনোনীত আমেরিকান চলচ্চিত্র মাদাম ক্যুরি (চলচ্চিত্র)-তে অভিনয় করেন।সাম্প্রতিককালে ১৯৯৭ সালে পিয়েরে ও মারি ক্যুরির উপর একটি ফরাসি চলচ্চিত্র উন্মুক্ত করা হয় যার নাম লেস পামেস ডি এম. সুতজ। এটি একই নামে একটি লিখিত একটি নাট্যগ্রন্থের উপর রচিত। এখানে ইসাবেলে হাপার্ট মারি ক্যুরির ভূমিকা পালন করেন।
লরেন্স আরনোভিচের ‘’ফলস এজাম্পসন্স’’ নাটকে মারি ক্যুরির ভূমিকা দেখা যায়, যেখানে অন্য তিন মহিলা বিজ্ঞানীর ভূত তাঁর জীবনের ঘটনাবলী পর্যবেক্ষণ করে। সুসান মারি ফ্রন্তচজাক তাঁর এক-নারীর নাটক মানিয়া: দ্য লিভিং হিস্টোরি অফ মারি ক্যুরি-এ মারি ক্যুরিকে উপস্থাপন করেন যা ২০১৪ সাল নাগাদ যুক্তরাষ্ট্রের ৩০টি রাজ্য ও নয়টি দেশে প্রদর্শন করা হয়।
বিশ্বজুড়ে বিল, ডাকটিকিট এবং মুদ্রায় ক্যুরির ছবি দেখা গেছে। পোল্যান্ডে ১৯৮০ পরবর্তী সময়ের ব্যাংকনোট জিটটিতে মারি ক্যুরির ছবি দেখা গিয়েছিল এমনকি ইউরো প্রচলনের পূর্বে ফ্রান্সের সর্বশেষ ৫০০-ফ্রাংক নোটে ক্যুরির ছবি ছিল।  দারুণ বিষয় হল মালি, টোগো প্রজাতন্ত্র, জাম্বিয়া, এবং গিনি প্রজাতন্ত্রে ডাকটিকিটে পল স্ক্রোডার পরিচালিত ২০০১ সালের ছবিতে সুসান মারি ফ্রন্তচজাকের মারি ক্যুরির ভুমিকায় অভিনয়ের দৃশ্য দেখা যায়।
২০১১ সালে মারি ক্যুরির দ্বিতীয় নোবেল পুরস্কার প্রাপ্তির শতবর্ষ পূর্তিতে ওয়ার্সতে তার জন্মস্থানের সদর দরজায় একটি রূপক (বা প্রতীকী) দেয়ালচিত্র দেখা যায়। এতে দেখা যায় শিশু মারিয়া স্ক্লদভস্কা ক্যুরি একটি টেস্টটিউব ধরে ছিলেন যা থেকে দুইটি পদার্থ নির্গত হচ্ছিল যেগুলো তার প্রাপ্তবয়স্কে আবিষ্কারের কথা: পোলোনিয়াম এবং রেডিয়াম।
এছাড়া ২০১১ সালে ভিস্তুলা নদীর উপর নতুন একটি ওয়ার্স ব্রিজের নাম তার নামে রাখা হয়।

স্বামীর শােক এবং দীর্ঘদিনের একটানা পরিশ্রমে মাদাম কুরীর শরীর ভেঙে পড়ে । ১৯৩৪ সালের মে মাসে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং এর দু’মাস পরেই জুলাই মাসে ৬৭ বছর বয়সে পরলােক গমন করেন । জানা যায় , রেডিয়ামের তেজস্ক্রিয়তাই তার অকাল মৃত্যুর কারণ ছিলাে ।
বিশ্বের বিজ্ঞানের ইতিহাসে এই মহীয়সী নারীর নাম চিরস্মরণীয় শুধু তাই নয় , প্রাতঃস্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

 

তথ্য : সংগৃহীত ইন্টারনেট ও বিভিন্ন ওয়েবপেজ।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

জাতীয় ক্যান্সার সচেতনতা দিবস কি, জানুন দিনটি কেন পালিত হয় এবং দিনটির গুরুত্ব।

২০১৪ সাল থেকে প্রতি বছর ভারতে ৭ই নভেম্বর জাতীয় ক্যান্সার সচেতনতা দিবস পালন করা হয় ক্যান্সারের প্রাথমিক সনাক্তকরণ, প্রতিরোধ এবং চিকিৎসা সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরি করার জন্য। এই দিনে, বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা সংস্থা, সরকারী সংস্থা এবং অলাভজনক গোষ্ঠীগুলি জাতীয় ক্যান্সার সচেতনতা দিবস উপলক্ষে সচেতনতা প্রচারণা, সেমিনার এবং স্ক্রিনিংয়ের আয়োজন করতে এবং দেশব্যাপী ক্যান্সারের বোঝা কমানোর জন্য কাজ করে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মতে, ক্যান্সার মানুষের মধ্যে মৃত্যু ঘটায় দ্বিতীয় সবচেয়ে মারাত্মক রোগ।  ক্যান্সারে মারা যাওয়া মানুষের অবস্থা ভারতের জন্য একটি গুরুতর হুমকি।

জাতীয় ক্যান্সার সচেতনতা দিবস ২০২৩: জাতীয় ক্যান্সার সচেতনতা দিবস ৭ নভেম্বর বিশ্বব্যাপী পালিত হয়।  WHO এর পরিসংখ্যান অনুসারে, নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলি ক্যান্সারজনিত মৃত্যুর প্রায় ৭০% জন্য দায়ী।  বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মতে, ক্যান্সার মানুষের মধ্যে মৃত্যু ঘটায় দ্বিতীয় সবচেয়ে মারাত্মক রোগ।  এই দিনটি উদযাপনের উদ্দেশ্য হল মারণ রোগ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা।

জাতীয় ক্যান্সার সচেতনতা দিবস ২০২৩: ইতিহাস—-

২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডঃ হর্ষ বর্ধন প্রথম জাতীয় ক্যান্সার সচেতনতা দিবস ঘোষণা করেছিলেন। তিনি রাজ্য স্তরে একটি ক্যান্সার প্রতিরোধ আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন এবং বিনামূল্যে স্ক্রিনিংয়ের জন্য পৌরসভার ক্লিনিকগুলিতে যাওয়ার জন্য নাগরিকদের অনুরোধ করেছিলেন।

জাতীয় ক্যান্সার নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি, যা ১৯৭৫ সালে সারা দেশে ক্যান্সার চিকিৎসায় প্রবেশের সুবিধার্থে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, এই মারাত্মক রোগের বিরুদ্ধে জাতির লড়াইয়ে একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি চিহ্নিত করেছে।  ১৯৮৪-১৯৮৫ সালে, প্রাথমিক ক্যান্সার সনাক্তকরণ এবং প্রতিরোধের উপর জোর দেওয়ার জন্য পরিকল্পনার পদ্ধতিটি দশ বছর পরে সংশোধিত হয়েছিল।

 

 

জাতীয় ক্যান্সার সচেতনতা দিবস ২০২৩: তাৎপর্য–

 

 

কারণ ভারতে প্রচুর ক্যান্সারের ঘটনা পরবর্তী পর্যায়ে আবিষ্কৃত হয়, যা বেঁচে থাকার সম্ভাবনা কমিয়ে দেয়, এই অবস্থা সম্পর্কে সচেতনতার প্রয়োজন রয়েছে।  এই দিবসটির জাতীয় উদযাপনের লক্ষ্য হল ক্যান্সার রোগ সম্পর্কে জনসাধারণের জ্ঞান ও বোঝাপড়া বৃদ্ধি করা এবং সরকার সহ সকল স্টেকহোল্ডারকে পদক্ষেপ নিতে উৎসাহিত করা।

এটি রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমাতে আমরা যে পদক্ষেপগুলি নিতে পারি তার রূপরেখা দেয় এবং লক্ষণগুলি সম্পর্কে আমাদের অবহিত করে।  ক্যান্সার সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে কারণ এটি মৃত্যুর অন্যতম সাধারণ কারণ।

মেরি কুরি পোল্যান্ডের ওয়ারশতে ৭ নভেম্বর, ১৮৬৭ সালে জন্মগ্রহণ করেন।  তিনি রেডিয়াম এবং পোলোনিয়াম আবিষ্কারের জন্য দায়ী ছিলেন, যা রেডিওথেরাপি তৈরি করতে সাহায্য করেছিল, যা ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি।

 

 

জাতীয় ক্যান্সার সচেতনতা দিবস “থিম” ২০২৩ কি?

প্রতি বছর, জাতীয় ক্যান্সার সচেতনতা দিবস ক্যান্সার সচেতনতা এবং প্রতিরোধের বিভিন্ন দিকের উপর জোর দিয়ে একটি অনন্য থিম গ্রহণ করে।  উদাহরণস্বরূপ, ২০২২ সালে, থিম ছিল ‘ক্যান্সার বৈষম্য করে না,’ জোর দিয়ে যে ক্যান্সার প্রত্যেককে প্রভাবিত করে, বয়স, লিঙ্গ বা সামাজিক অবস্থান নির্বিশেষে।  ২০২৩ সালে, থিম হল ‘ক্লোজ দ্য কেয়ার গ্যাপ’, সবার জন্য সমান ক্যান্সারের যত্নের গুরুত্বের উপর জোর দেওয়া।

 

 

ক্যান্সারের জন্য প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা—

 

 

ক্যান্সারের প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার লক্ষ্য ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি হ্রাস করা এবং ক্যান্সারের ধরণের উপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হতে পারে।  ক্যান্সারের ঝুঁকি হ্রাস করা যেতে পারে:—

তামাক পরিহার করা।

একটি স্বাস্থ্যকর শরীরের ওজন বজায় রাখা

ফল এবং শাকসবজি সহ একটি স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া।

নিয়মিত শারীরিক কার্যকলাপ করা।

অ্যালকোহল সেবন এড়ানো বা হ্রাস করা।

অতিবেগুনী বিকিরণ এক্সপোজার এড়ানো।

ক্যান্সার স্ক্রীনিং পরীক্ষার সময়সূচী।

 

জাতীয় ক্যান্সার সচেতনতা দিবস ২০২৩: শুভেচ্ছা-

 

রাত যতই গাঢ় হোক না কেন, ভোর হতেই হবে।  লড়াই যতই বেদনাদায়ক হোক না কেন, ক্যান্সার অবশ্যই যেতে হবে যাতে আপনি বেঁচে থাকতে পারেন।  শীঘ্রই সুস্থ হয়ে উঠুন!

তোমার কষ্টের মধ্য দিয়ে আমি তোমাকে বলতে চাই যে আমি তোমার জন্য প্রার্থনা করছি।  সমস্ত স্বাচ্ছন্দ্যের ঈশ্বর আপনাকে ধরে রাখুন এবং আপনাকে প্রতিদিনের মধ্য দিয়ে যাওয়ার শক্তি দিন।

ক্যান্সারের সাথে লড়াই করার যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যাওয়া আমি জানি, এবং আপনিও কঠিন।  আমি এটা মাধ্যমে আপনার জন্য এখানে,  আপনার সুস্থ মন এবং সুস্থতার জন্য প্রার্থনা।

আসল বিষয়টি হ’ল ক্যান্সারে মারা যাওয়া লোকের তুলনায় বেশি লোক ক্যান্সারের সাথে লড়াই করছে এবং এতে বেঁচে আছে।  কখনো আশা ছাড়বেন না।

জাতীয় ক্যান্সার সচেতনতা দিবস ২০২৩ : উক্তি–

“ক্যান্সার একটি যাত্রা, কিন্তু আপনি একা রাস্তায় হাঁটুন।  পথে থামার এবং পুষ্টি পাওয়ার জন্য অনেক জায়গা রয়েছে, আপনাকে কেবল এটি গ্রহণ করতে ইচ্ছুক হতে হবে।”- এমিলি হলেনবার্গ

“ক্যান্সার আমার সমস্ত শারীরিক ক্ষমতা কেড়ে নিতে পারে।  এটি আমার মনকে স্পর্শ করতে পারে না, এটি আমার হৃদয়কে স্পর্শ করতে পারে না এবং এটি আমার আত্মাকে স্পর্শ করতে পারে না।”- জিম ভালভানো

“সর্বোপরি, ক্যান্সার একটি আধ্যাত্মিক অনুশীলন যা আমাকে বিশ্বাস এবং স্থিতিস্থাপকতা সম্পর্কে শেখায়।” – ক্রিস কার

“আপনার জীবন যাপন করার দুটি উপায় আছে।  কিছুই একটি অলৌকিক ঘটনা যেন এক হয়।  অন্যটি যেন সবকিছুই অলৌকিক।” – আলবার্ট আইনস্টাইন

“সময় সংক্ষিপ্ত হচ্ছে।  তবে প্রতিদিন যে আমি এই ক্যান্সারকে চ্যালেঞ্জ করি এবং বেঁচে থাকি তা আমার জন্য বিজয়।”- ইনগ্রিড বার্গম্যান

 

 

জাতীয় ক্যান্সার সচেতনতা দিবস হল এমন একটি দিন যা ব্যক্তিদের তাদের স্বাস্থ্যের নিয়ন্ত্রণ নিতে এবং ক্যান্সারে আক্রান্ত ব্যক্তিদের সমর্থন করার জন্য একত্রিত করার, শিক্ষিত করার এবং ক্ষমতায়নের জন্য।  সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমে, প্রতিরোধ ব্যবস্থার জন্য পরামর্শ দিয়ে এবং সহায়তা দেওয়ার মাধ্যমে, আমরা সম্মিলিতভাবে এমন একটি বিশ্বে অবদান রাখতে পারি যেখানে ক্যান্সার প্রাথমিকভাবে সনাক্ত করা যায় এবং কার্যকরভাবে চিকিত্সা করা হয়।

ক্যান্সার নির্মূল করার জন্য আমাদের এমনকি ছোট উদ্যোগ এবং দয়ার কাজগুলি এই নিরলস রোগের সাথে লড়াইকারীদের জীবনে একটি বিশাল প্রভাব ফেলতে পারে।  একসাথে, আমরা যারা প্রয়োজন তাদের আশা এবং সাহায্য প্রদান করতে পারি, বিশ্বকে সবার জন্য একটি ভাল জায়গা করে তুলব।

 

তাই, যখন আপনি আশা রাখবেন, তখনই সব সম্ভব হবে!

ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াই করা আমাদের লক্ষ্য।  আমরা এটা করতে পারি এটা আমাদের আত্মায় আছে! ক্যান্সার শেষ নয়, লড়াই চালিয়ে যান। লড়াই করুন, প্রতিকার খুঁজুন।

 

তাই এটি একটি প্রধান জনস্বাস্থ্য উদ্বেগ হওয়ার কারণে, জাতীয় ক্যান্সার সচেতনতা দিবসটি রোগের ঝুঁকির কারণ, সাধারণ ক্যান্সারের ধরন যা জীবনযাত্রার মানকে প্রভাবিত করে এবং লক্ষণগুলি দেখা দেওয়ার সাথে সাথে চিকিৎসা সহায়তা চাওয়ার তাৎপর্য সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করার জন্য পালন করা হয়।

।। তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

 

।।সংগৃহীত : ইন্টারনেট ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ

হারাধন বন্দ্যোপাধ্যায় – বাংলা সিনেমার এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, একটি বিশেষ পর্যালোচনা।

হারাধন বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন একজন ভারতীয় বাংলা চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন অভিনেতা। অতিব পরিচিত একজন মুখ তিনি।  ১৯৪৮ সালে অতনু ব্যানার্জির দেবদূত চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তিনি চলচ্চিত্রে আত্মপ্রকাশ করেন। সত্যজিৎ রায় পরিচালিত বেশ কিছু ছবিতে অভিনয় করেন তিনি

হারাধন বন্দ্যোপাধ্যায়  ছিলেন একজন ভারতীয় বাংলা চলচ্চিত্র এবং টেলিভিশন অভিনেতা। ১৯৪৮ সালে অতনু বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি দেবদূত দিয়ে চলচ্চিত্রে তাঁর আত্মপ্রকাশ ঘটে। তিনি সত্যজিত্‍ রায়ের পরিচালিত একাধিক ছবিতে অভিনয় করেন। আজ তাঁর জন্মদিন। এই বিশেষ দিনে জেনে নেবো তাঁর সম্পর্কে কিছু কথা।

 

প্রারম্ভিক জীবন—-

 

অবিভক্ত বাংলার তৎকালীন কুষ্টিয়া মহকুমায় মিলপাড়াই ১৯২৬ সালের ৬ই নভেম্বর হারাধন বন্দ্যোপাধ্যায় জন্মগ্রহণ করেন। ম্যাট্রিক পাস করেন ১৯৪৪ সালে৷ আই-এ-তে ভর্তি হন কলকাতার সিটি কলেজে৷ স্নাতক হওয়ার পর চাকরিজীবনের শুরু গান অ্যান্ড শেল কোম্পানিতে৷ ১৯৪৬-এ যোগ দেন বিমা সংস্থায়৷ সেখান থেকেই অবসর নেন৷

 

অভিনয় জীবন—

 

প্রথম অভিনয় ১৯৪৮ সালে অতনু বন্দ্যোপাধ্যায়ের দেবদূত ছবিতে৷ অভিনয় করেছেন হিন্দি সিনেমাতেও। সত্যজিৎ রায়ের কাপুরুষ, মহানগর, সোনার কেল্লা, জয় বাবা ফেলুনাথ প্রভৃতি ছবিতে অভিনয় করেন। হিন্দি ভাষার ‘পরিনীতা’ হারাধন বন্দ্যোপাধ্যায় অভিনীত উল্লেখযোগ্য সিনেমা।৷ তিনি টেলিভিশন ও মঞ্চ নাটকেও অভিনয় করেছেন।২০০৫ সালে ক্রান্তিকাল সিনেমায় অভিনয়ের সুবাদে সহ-অভিনেতা হিসেবে চলচ্চিত্রে ভারতের জাতীয় পুরস্কার পান তিনি। ২০১১ সালে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার তাকে বঙ্গবিভূষণ সম্মানে ভূষিত করে।

 

পুরস্কার—-

 

উল্টো রথ ম্যাগাজিন কর্তৃক শ্রেষ্ঠ স্টেজ শিল্পী পুরস্কার, শ্রেষ্ঠ সহভিনেতার জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার (ভারত), কলাকার পুরস্কার এবং পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার কর্তৃক বঙ্গবিভূষণ সম্মানে ভূষিত হন।

 

মৃত্যু—-

 

তিনি কিছুদিন নিউমোনিয়ায় ভুগছিলেন। ২০১৩ সালের ৫ জানুয়ারি  কলকাতার এক বেসরকারি নার্সিংহোমে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর।

 

।।তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ

নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায় – এক জন সাহিত্যিকের শিক্ষক হিসাবে জনপ্রিয়তার বিরল দৃষ্টান্ত।

নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়, ভারতীয় বাঙালি লেখক।  নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায় ১৯১৮ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি দিনাজপুর জেলার তৎকালীন ঠাকুরগাঁও মহকুমার (বর্তমানে ঠাকুরগাঁও জেলা) বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন।  তাঁর বাবা প্রমথনাথ গঙ্গোপাধ্যায় ছিলেন একজন পুলিশ অফিসার।  তার পৈতৃক বাড়ি বরিশালের বাসুদেব পাড়া গ্রামে।  তিনি দিনাজপুর, ফরিদপুরের রাজেন্দ্র কলেজ, বরিশালের ব্রজমোহন কলেজ ও কলকাতায় শিক্ষাজীবন অতিবাহিত করেন।  ১৯৪১ সালে, তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ ডিগ্রি লাভ করেন।  তিনি প্রথম শ্রেণীতে প্রথম স্থান অধিকার করেন এবং ১৯৬০ সালে ডক্টরেট পান। এরপর তিনি জলপাইগুড়ি কলেজ, সিটি কলেজ এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেন।

 

নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায় ছেলেবেলা থেকেই লেখালেখি শুরু করেন। তাঁর প্রথম লেখা ছাপা হয় মাস পয়লা শিশু মাসিকে। সন্দেশ, মুকুল, পাঠশালা, শুকতারা প্রভৃতি পত্রিকায় তিনি নিয়মিত লিখেছেন।নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের অমর খ্যাতি বড়দের জন্য রচিত উপন্যাস ও গল্পের জন্য। কিন্তু শিশু-কিশোর সাহিত্য রচনায় তাঁর খ্যাতি বড়দের চেয়ে কোন অংশে কম নয়। টেনিদা তাঁর অনন্য সৃষ্টি। এছাড়াও শিশুদের জন্যে অজস্র ছোটগল্প লিখেছেন। তাঁর রচিত পদ্মপাতার দিন, পঞ্চাননের হাতি, লালমাটি, তারা ফোটার সময়, ক্যাম্বের আকাশ, বাংলা গল্প বিচিত্রা, ঘণ্টাদার কাবলু কাকা, খুশির হাওয়া, কম্বল নিরুদ্দেশ, চারমূর্তির অভিযান, ঝাউবাংলার রহস্য ও ছোটদের শ্রেষ্ঠ গল্প বাংলা শিশু-কিশোর সাহিত্যে নতুন সংযোজন।

 

কবিতা চর্চার মধ্য দিয়ে তাঁর সাহিত্যজীবন শুরু হয়।  পরে গল্প-উপন্যাস লেখা শুরু করেন।  প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য লেখা প্রথম প্রকাশিত ‘উপনিবেশ’ মাসিক ভারতবর্ষে ছাপা হয়েছিল।  এটি ১৯৪৩ খ্রিস্টাব্দে গ্রন্থকায় প্রকাশিত হয়।  সুধাংশুকুমার রায়চৌধুরী, বিজয়লাল চট্টোপাধ্যায়, উপেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায়, পবিত্র গঙ্গোপাধ্যায়, মন্মথ সান্যাল, সজনীকান্ত দাস এবং ফণীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় তাঁর উপন্যাস ও ছোটগল্পকে অনুপ্রাণিত করেছিলেন।

 

বড়দের জন্য রচিত তাঁর উল্লেখযোগ্য বইগুলো হলো:— একতলা, কালা বদর, কৃষ্ণপক্ষ, গন্ধরাজ, পন্নন্তর, ট্রফি, তিমির তীর্থ, দুঃশাসন, গদসঞ্চার, বনজ্যোৎন্সা, বিদিশা, বীতংস, বৈতালিক, ভাঙাবন্দর, চন্দ্রমুখর, মহানন্দা, রামমোহন, শিলালিপি, শ্বেতকমল, সাগরিকা, স্বর্ণ সীতা, সূর্যসারথী, সঞ্চারিণী, সম্রাট ও শ্রেষ্ঠী, সাপের মাথায় মণি, আশিধারা, ভাটিয়ালী, আগন্তুক, অমাবস্যার গান, বিদুষক, সাহিত্যে ছোটগল্প, বাংলা সাহিত্য পরিচয়, ছোটগল্পের সীমারেখা ও কথাকোবিদ রবীন্দ্রনাথ।

এবার জেনে নেবো তাঁর সকল গ্রন্থ তালিকা সমূহ —

উপন্যাস–

মহানন্দা, স্বর্ণসীতা, ট্রফি, উপনিবেশ -১, উপনিবেশ -২, উপনিবেশ -৩, সম্রাট ও শ্রেষ্ঠী, মন্দ্রামুখর, লালমাটি, কৃষ্ণপক্ষ, আলোকপর্ণা, পদসঞ্চার, আমাবস্যার গান, বৈতালিক, শিলালিপি, অসিধারা, ভাটিয়ালী।

 

কিশোর উপন্যাস ও ছোটগল্প—

 

চারমূর্তি, চারমূর্তির অভিযান, টেনিদা ও সিন্ধুঘোটক, কম্বল নিরুদ্দেশ, ঝাউবাংলোর রহস্য, অব্যর্থ লক্ষভেদ, জয়ধ্বজের জয়রথ, নবডঙ্কা, অন্ধকারের আগন্তুক, পঞ্চাননের হাতি, রাঘবের জয়যাত্রা।

 

তাঁর লেখা নাটক সমূহ—

 

ভীম বধ, রাম মোহন, ভাড়াটে চাই, আগুন্তক, পরের উপকার করিও না, বারো ভূতে।

 

ছোটগল্প সংকলন—

 

বীতংস (১৯৪৫)(প্রথম গল্প সংকলন), দুঃশাসন (১৯৪৫) ভোগবতী (১৯৪৭), বীতংস (১৯৪৫)(প্রথম গল্প সংকলন), দুঃশাসন (১৯৪৫), ভোগবতী (১৯৪৭)। তিনি ছোট গল্প বিষয়ে ডি.লিট ডিগ্রি লাভ করেন।

নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায় ১৯৭০ খ্রিষ্টাব্দে ৬ই নভেম্বর ৫২ বছর বয়সে মারা যান।

।।তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

 

 

Share This