Categories
নারী কথা প্রবন্ধ

ব্রিটিশ শাসনাধীন ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে কবি নজরুল ইসলামের ভূমিকা : কামনা দেব।।।

১৮৯৯ সালের ২৪ মে কবি নজরুল ইসলাম জন্মগ্রহণ করেন অবিভক্ত ভারতবর্ষের পশ্চিমবঙ্গের চুরুলিয়া গ্রামে।  আর যখন ভারতবর্ষ স্বাধীনতা লাভ  করে দ্বিখণ্ডিত হয়, তখন বিদ্রোহী কবি নজরুল ইসলামের বয়স মাত্র  ৪৮ বছর দুই মাস ৯ দিন ।

কবি নজরুল ইসলামের কাব্যজীবন ,সাহিত্য ও গান তাঁর সৃষ্টি বিশ্লেষণে দেখা যায় কবি নজরুল ইসলামকে দলগত কিংবা ব্যক্তিগতভাবে কখনোই বিদ্রোহী বলা যায় না। প্রকৃতপক্ষে কবি নজরুল ইসলাম কোন রাজনৈতিক দলের ছিলেন না বা  বিদ্রোহী দলও গঠন করেননি বা কোনো বিদ্রোহী সন্ত্রাসী দলে যোগদানও করেন নাই।
তৎকালীন সময়ে কবির সবচেয়ে নিকটের বন্ধু ছিলেন  ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টির নেতা কমরেড মুজফর আহম্মেদ।  কবি তাঁর সংস্পর্শে থেকেও কিন্তু কমিউনিস্ট পার্টিতে যোগদান করেন নাই।

কবিকে আত্মাভিমানী বললে ভুল বা কখনোই অত্যুক্তি হবে না, যদি বা কবি নজরুল তাত্ত্বিক বা দার্শনিক হিসেবে গণ্য নন, কিন্তু তাঁর সাম্যবাদী, ঈশ্বর, মানুষ, পাপ, বারাঙ্গনা, নারী, কুলি-মজুর প্রভৃতি কবিতায় সুস্পষ্টভাবে অভেদ মানবতত্ত্ব এবং সাম্যবাদী চৈতন্যের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছেন। এসব ক্ষেত্রে তাঁর মানবিক সংশোধনের প্রাচুর্যই বেশি চোখে পড়ে।
কবির নান্দনিক কাব্যিক শৈল্পিক দৃষ্টিভঙ্গিতে তাঁর অভিমান ও ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে , দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অসাম্যের কারণে।
তাই বোধকরি তাকে বিদ্রোহ কবি বলে গণ্য করা হয়েছে। কিন্তু তাঁর রচনাসমগ্র বিশ্লেষণ করলে চোখে পড়ে যে,তিনি একাধারে বিদ্রোহের উন্মাদনা তৎসঙ্গে অন্যধারে প্রেমের অবাধ্য আকুতি।
এই পরস্পরবিরোধী দ্বৈত অবস্থানের চৌম্বিকতায় একপর্যায়ে লক্ষ্যণীয় সৃষ্টি কবি নজরুলের ‘বিদ্রোহী’ কবিতা..যেমন,
আমি চির দুর্দ্দম, দুর্বিনীত, নৃশংস,
মহা প্রলয়ের আমি নটরাজ,
আমি সাইক্লোন, আমি ধ্বংস!…আমি দুর্বার ,
আমি ভেঙে করি সব চুরমার।
আমি অনিয়ম উচ্ছৃঙ্খল,
আমি দলে যাই যত বন্ধন, যত নিয়মকানুন শৃঙ্খল!
আমি মানি নাকো কোন আইন…

বৃটিশরাজের আমলাতান্ত্রিক ঔপনিবেশিক শাসন ব্যবস্থায় রাজা-প্রজার এতই ব্যবধান যে সাধারণত রাজার সম্মান ছিল ঈশ্বরেরই সমকক্ষ তৎসঙ্গে রাজকর্মচারীরা নিজেদেরকে রাজার প্রতিভূ অর্থাৎ জনগণের তথা প্রজার প্রভু বলে মনে করত নিজেদের আর তাদের আচার-আচরণও ছিল রাজন্যবর্গসুলভ। নজরুল এই অবস্থানকে কটাক্ষ করে লিখেছেন সেই কথাগুলো এবং উপসংহারে ঘোষণা করেছিলেন ,–
গণতন্ত্রের জয়,বন্ধু, এমনি হয়-
জনগণ হ’ল যুদ্ধে বিজয়ী,রাজার গাহিল জয়!
প্রজারা যোগায় খোরাক- পোশাক,
কি বিচার বলিহারি,
প্রজার কর্মচারী নন তাঁরা রাজার কর্মচারী!
মোদেরি বেতনভোগী চাকরেরে সালাম করিব মোরা,
ওরে পাবলিক সার্ভেন্টদের আয় দেখে যাবি তোরা!..

এরপর নজরুল আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেছিলেন,-
“-এ আশা মোদের দুরাশাও নয়,সেদিন সুদূরও নয়,
সমবেত রাজ-কণ্ঠে যেদিন শুনিব প্রজার জয়।”

কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন মূলত বিদ্রোহী কবি। তার বিদ্রোহ ছিল সমাজ ও রাষ্ট্রের সব অন্যায়, অত্যাচার, অবিচার ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে। আর সেই বিদ্রোহকে কেন্দ্র করেই তার স্বাধীনচেতা হৃদয়ের আগুন প্রজ্বলিত হয়েছিল আপন পরাধীন দেশের স্বাধীনতা কামনায়। এমন সরাসরি স্বাধীনতার প্রবক্তা হওয়া সেই আমলে আর কোনো কবির পক্ষে সেকালে সম্ভব হয়নি। কারণ, প্রভু ইংরেজরা অসন্তুষ্ট হবেন এমন কোনো কথা উচ্চারণ করার।
অথচ সেই সময় বিশের দশকে কবি নজরুল ইসলাম ধূমকেতু পত্রিকা বের করেছেন তখন সংবাদপত্রে “স্বাধীনতা”র কথা বলা রীতিমতো ছিল ঝুঁকিপূর্ণ। সেখানে কংগ্রেসের জাঁদরেল নেতা সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় বক্তৃতা প্রসঙ্গে অটোনমি বা স্বায়ত্তশাসন আর সেলফ গভর্নমেন্টের কথা বললেন, ঋষি অরবিন্দও তাই বলেছিলেন, আর স্বয়ং মহাত্মা গান্ধীও বলেছিলেন।
অথচ ১৯২১ সালের শেষ সপ্তাহে আহমেদাবাদে মুসলিম লীগ ও কংগ্রেসের বার্ষিক সম্মেলনে প্রখ্যাত ঊর্দু কবি ফজলুল হাসান হসরৎ মোহানী তার বক্তব্যে ভারতের পূর্ণ স্বাধীনতার দাবি করেছিলেন।

১৯২২ সালের ১৩ অক্টোবর নজরুল ইসলামের সম্পাদিত ধূমকেতু পত্রিকার ১ম বর্ষ ১৩শ সংখ্যায় “ধূমকেতুর পথ” প্রবন্ধে সেদিন লিখেছিলেন,
–“সর্বপ্রথম ধূমকেতু পত্রিকাতেই ভারতের পূর্ণ স্বাধীনতা চাওয়া হয়েছিল। লিখেছিলেন, —
“স্বরাজ টরাজ বুঝি না, কেননা ও কথাটার মানে এক এক মহারথী এক এক রকম করে থাকেন। ভারতবর্ষের এক পরমাণু অংশও বিদেশির অধীনে থাকবে না। ভারতবর্ষের সম্পূর্ণ স্বাধীনতা রক্ষা ও শাসনভার সমস্তই থাকবে ভারতীয়দের হাতে। তাতে কোনো বিদেশি মোড়লীর অধিকারটুকু পর্যন্ত থাকবে না। যারা এখন রাজা বা শাসক হয়ে এদেশে মোড়লী করে দেশকে শ্মশান ভূমিতে পরিণত করেছেন তাদের পাততাড়ি গুটিয়ে বোঁচকা পুটুলি বেঁধে সাগর পাড়ে পাড়ি দিতে হবে। প্রার্থনা বা আবেদন-নিবেদন করলে শুনবো না। তাদের অতটুকু সুবুদ্ধি হয়নি এখনো যে, আমাদের এই প্রার্থনা করার, ভিক্ষে করার কুবুদ্ধিটুকুকে ওদের দূর করতে হবে।”

সেইসময় সংবাদপত্রে এমন দুঃসাহসিক স্বাধীনতা ঘোষণার কথা উচ্চারণ, বোধ করি ভারতের স্বাধীনতার ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।

নজরুল ইসলামের লড়াই ছিল সমাজে সাম্যবাদ প্রতিষ্ঠার সর্বাত্মক প্রচেষ্টায়।তাই কবির সাহিত্যে সকল বঞ্চিত ব্যথিত মানুষের মুক্তির লক্ষ্যে ছিল আপসহীন সংগ্রামে অধিকার সমন্বিত।
নজরুল ইসলাম নিঃস্বার্থ সাম্যবাদের আলো জ্বালিয়ে জগতকে আলোকিত করতে চেয়েছিলেন।

কবি নজরুল ছিলেন জ্ঞানবান সাম্যবাদী মানুষ যার লড়াই ছিল অন্যায়ের বিরুদ্ধে, অসাম্যের বিরুদ্ধে, অবিচারের বিরুদ্ধে এবং সর্বোপরি অত্যাচারীর বিরুদ্ধে যেখানে মানুষের জ্ঞানালোকিত স্বাধীনতা থাকবে অবাধ ও পক্ষপাত বিবর্জিত। যেখানে অন্যায়ের কণাটুকুও ঠাঁই পাবে না মনুষ্যত্বের আধারে। নজরুলের সাম্যে ধর্ম-বর্ণ শ্রেণীহীন সমাজ ব্যবস্থায় সব মানুষ সমান, যেখানে অর্থনৈতিক বৈষম্য নেই, যেখানে ধর্মের ব্যবধান নেই, কোনো বিভেদ নেই বর্ণের…
“গাহি সাম্যের গান
বুকে বুকে হেথা তাজা সুখ ফোটে,
মুখে মুখে তাজা প্রাণ।
বন্ধু এখানে রাজা-প্রজা নাই, নাই দরিদ্র ধনী,
হেথা পায় নাকো’ কেহ খুদ ঘাঁটা,কেহ দুধ-সর-ননী।

ভারতের স্বাধীনতা অর্জনের প্রেক্ষাপটে তিনি সম্যক উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন যে ভারতের দুই বৃহৎ ধর্মীয় সম্প্রদায় তথা হিন্দু ও মুসলমান যদি একতাবদ্ধ হয়ে একদেহে একই স্বার্থে স্বাধীনতার লড়াই চালিয়ে যেতে সক্ষম হয় তাহলে বৈরী অমানবিক শক্তি নস্যাৎ হতে বাধ্য। তাই তিনি গান বেঁধেছিলেন ,–
“কাণ্ডারী হুঁশিয়ার”
দুর্গম গিরি কান্তার-মরু, দুস্তর পারাবার
লঙ্ঘিতে হবে রাত্রি-নিশীতে, যাত্রীরা হুঁশিয়ার।
এখানে আরো লিখেছেন–
“হিন্দু না ওরা মুসলিম?” ওই জিজ্ঞাসে কোন জন?
কাণ্ডরী! বল, ডুবিছে মানুষ, সন্তান মোর মা’র।”

বিদেশি শত্রুর মোকাবেলা করতে হলে চাই জাতির ঐক্যবদ্ধ সংগ্রাম। তাই স্বাধীনতার পক্ষে কবি নজরুল ইসলাম চেয়েছিলেন, সমগ্র জাতি তথা হিন্দু-মুসলমান উভয় সম্প্রদায়ের ঐকান্তিক মিলন।

১৯২৬ সালের এপ্রিল মাসে কৃষ্ণনগরে অনুষ্ঠিত বঙ্গীয় প্রাদেশিক সম্মেলনে নজরুল সামরিক কায়দায় যে স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী গড়ে তোলেন তাদের সমবেত কণ্ঠে উদ্বোধনী সঙ্গীতও ছিল এই “কান্ডারী হুঁশিয়ার”।

আজ আমরা সাম্যের গান শুধুই মুখে গাই বলি। হৃদয় থেকে গাই না …!!

গাহি সাম্যের গান
মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাই,
নহে কিছু মহীয়ান।
নাই দেশ-কাল পাত্রের ভেদ,
অভেদ ধর্ম জাতি;
সব দেশে, সব কালে,
ঘরে ঘরে তিনি মানুষের জ্ঞাতি।

সব শেষে আবারো বলি আমাদের সুমতি হোক্ আমরা আমাদের জীবনে কবি নজরুলের সত্য-সুন্দর , সাম্য আদর্শকে উপজীব্য করে বাঁচতে শিখি, মানুষকে ভালোবাসতে শিখি আর মানুষের অধিকারকে লুণ্ঠিত লাঞ্ছিত না করে যথার্থ সম্মান করতে শিখি । তবেই আমরা যেমন গৌরবান্বিত হবো, তেমনি প্রকৃত শ্রদ্ধাজ্ঞাপনও করা হবে কবির প্রতি …

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

বিশ্ব থাইরয়েড দিবস – একটি বিশেষ পর্যালোচনা।

বিশ্ব থাইরয়েড দিবস প্রতি বছর ২৫ মে থাইরয়েড গ্রন্থি এবং এটিকে প্রভাবিত করে এমন পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে পালন করা হয়।  থাইরয়েড গ্রন্থি হল একটি ছোট, প্রজাপতি আকৃতির গ্রন্থি যা ঘাড়ের গোড়ায় ঘাড়ের গোড়ার কাছে অবস্থিত।  এটি দুটি হরমোন, থাইরক্সিন এবং ট্রাইওডোথাইরোনিন উৎপাদনের জন্য দায়ী, যা শরীরের স্বাভাবিক কার্য যেমন বিপাক, বৃদ্ধি ও বিকাশ এবং প্রজননের জন্য অপরিহার্য।
থাইরয়েডের ব্যাধি ঘটে যখন থাইরয়েড গ্রন্থি এই হরমোনগুলির পর্যাপ্ত বা খুব বেশি উত্পাদন করে না।  হাইপোথাইরয়েডিজম হল এমন একটি অবস্থা যেখানে থাইরয়েড গ্রন্থি পর্যাপ্ত হরমোন তৈরি করে না যখন হাইপারথাইরয়েডিজম হল এমন একটি অবস্থা যেখানে থাইরয়েড গ্রন্থি এই হরমোনগুলির খুব বেশি উৎপাদন করে।  বিশ্ব থাইরয়েড দিবস ২০২৪ এর থিম, ইতিহাস, তাৎপর্য, পর্যবেক্ষণের উপায় এবং উদ্ধৃতি জানুন।

বিশ্ব থাইরয়েড দিবস ২০২৪ : থিম—

বিশ্ব থাইরয়েড দিবস (WTD) ২০২৪-এর থিম হল “অসংক্রামক রোগ (NCDs)”  “Non-Communicable Diseases (NCDs)”.   থিমটি হাইলাইট করে যে থাইরয়েড সমস্যাগুলি বিশ্বব্যাপী সবচেয়ে সাধারণ অন্তঃস্রাবী ব্যাধিগুলির মধ্যে, ডায়াবেটিসের পরে দ্বিতীয়।  এই থিমটি থাইরয়েড সমস্যা সম্বন্ধে সচেতনতা বাড়ায় এবং প্রাথমিক থাইরয়েড রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসায় সাহায্য করে।

বিশ্ব থাইরয়েড দিবস ২০২৪ : ইতিহাস—

বিশ্ব থাইরয়েড দিবস 2007 সালে থাইরয়েড ফেডারেশন ইন্টারন্যাশনাল (TFI) দ্বারা থাইরয়েড গ্রন্থির গুরুত্ব এবং এটিকে প্রভাবিত করে এমন পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে প্রথম প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।  ১৯৬৫ সালে ইউরোপীয় থাইরয়েড অ্যাসোসিয়েশন (ETA) এর প্রতিষ্ঠার স্মরণে ২৫ মে বেছে নেওয়া হয়েছিল। ইটিএ প্রথম সংস্থা যা বিশ্ব থাইরয়েড দিবসকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়
TFI হল একটি অলাভজনক সংস্থা যা থাইরয়েড স্বাস্থ্য এবং গবেষণার প্রচারে কাজ করে।  বিশ্বের ১০০ টিরও বেশি দেশ থেকে সংস্থাটির সদস্য রয়েছে।  TFI-এর লক্ষ্য হল “থাইরয়েড রোগের প্রতিরোধ, নির্ণয় এবং চিকিত্সার প্রচার করা এবং থাইরয়েড রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করা।”

বিশ্ব থাইরয়েড দিবস ২০২৪: তাৎপর্য——

বিশ্ব থাইরয়েড দিবস থাইরয়েড গ্রন্থি এবং এর সাথে সম্পর্কিত স্বাস্থ্য সমস্যাগুলি বোঝার জন্য একটি উল্লেখযোগ্য উপলক্ষ হিসাবে কাজ করে।  ঘাড়ের গোড়ার কাছাকাছি অবস্থিত, এই গ্রন্থিটি আকারে প্রজাপতির মতো।  এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার মধ্যে থাইরক্সিন এবং ট্রায়োডোথাইরোনিন হরমোন উৎপাদন জড়িত, যা বিপাক, বৃদ্ধি, বিকাশ এবং প্রজননের মতো মৌলিক শারীরিক প্রক্রিয়াগুলির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
থাইরয়েড ব্যাধি সাধারণ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আনুমানিক ২০ মিলিয়ন মানুষকে প্রভাবিত করে।  সবচেয়ে সাধারণ থাইরয়েড ডিসঅর্ডার হল হাইপোথাইরয়েডিজম, যা ঘটে যখন থাইরয়েড গ্রন্থি যথেষ্ট হরমোন তৈরি করে না।  হাইপোথাইরয়েডিজম ক্লান্তি, ওজন বৃদ্ধি, কোষ্ঠকাঠিন্য এবং বিষণ্নতা সহ বিভিন্ন উপসর্গের কারণ হতে পারে।
বিশ্ব থাইরয়েড দিবস হল থাইরয়েড গ্রন্থি এবং এটিকে প্রভাবিত করে এমন অবস্থা সম্পর্কে আরও জানার একটি সুযোগ।  এটি থাইরয়েড রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের সমর্থন দেখানোর এবং প্রাথমিক রোগ নির্ণয় এবং চিকিত্সাকে উত্সাহিত করারও একটি সময়।

।। তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

তোয়ালে দিবস, লেখক ডগলাস অ্যাডামসের স্মরণে, লেখকের ভক্তরা, প্রথম পালন শুরু করেন।

তোয়ালে দিবস হল এমন একটি দিন যা The Hitchhiker’s Guide to the Galaxy লেখক ডগলাস অ্যাডামসকে উৎসর্গ করা হয়। প্রতি বছর ২৫ মে পালিত হয়, এটি ভক্তদের একত্রিত হয়ে শ্রদ্ধা জানানোর একটি সুযোগ।

তবে কেন একটি তোয়ালে হিচহাইকারস গাইডের প্রতীকী এবং কেন ভক্তরা এই দিনে অ্যাডামসকে উদযাপন করেন?

 

ডগলাস অ্যাডামস কে ছিলেন?

 

ডগলাস অ্যাডামস ১১ মার্চ, ১৯৫২ সালে ইংল্যান্ডের কেমব্রিজে জন্মগ্রহণ করেন।  তিনি একজন কমিক লেখক ছিলেন যিনি The Hitchhiker’s Guide to the Galaxy সিরিজের কমিক সাই-ফাই বই লেখার জন্য সবচেয়ে বেশি পরিচিত, যেটি তার মূল রেডিও নাটকের উপর ভিত্তি করে তৈরি, তবে তিনি BBC এর জন্যও লিখেছেন, এবং মন্টি পাইথন এবং ডক্টর হু এর মতো আইকনিক সিরিজ।

লেখক একজন প্রখর পরিবেশবিদও ছিলেন।

তিনি ক্যালিফোর্নিয়ায় ১১ মে, ২০০১-এ 4৪৯9 বছর বয়সে হার্ট অ্যাটাকে মারা যান।

 

তোয়ালে দিবস কখন?

 

ডগলাস অ্যাডামস মারা যাওয়ার ঠিক দুই সপ্তাহ পর ২৫ মে, ২০০১ সাল থেকে তোয়ালে দিবস বার্ষিকভাবে পালিত হচ্ছে।

 

তোয়ালে দিবস কি?

 

তোয়ালে দিবস উদযাপন করে দ্য হিচহাইকারস গাইড টু দ্য গ্যালাক্সি লেখক ডগলাস অ্যাডামস।

ভক্তরা অ্যাডামসের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে একটি তোয়ালে বহন করা বেছে নিয়েছিলেন কারণ, দ্য হিচহাইকারস গাইড অনুসারে, এটি “একজন আন্তঃনাক্ষত্রিক হিচহাইকার বহন করতে পারে এমন সবচেয়ে ব্যাপকভাবে দরকারী জিনিস”।

শুধুমাত্র একটি তোয়ালে ব্যবহারিক নয় – “আপনি উষ্ণতার জন্য এটিকে আপনার চারপাশে জড়িয়ে রাখতে পারেন যেমন আপনি জগলান বিটার ঠান্ডা চাঁদ জুড়ে আবদ্ধ হন”, উদাহরণস্বরূপ – তবে এটির “অত্যন্ত মনস্তাত্ত্বিক মূল্য”ও রয়েছে।

গাইড বলেছেন যে একজন নন-হিচহাইকার ভাববেন যে “যে কোনও মানুষ যে গ্যালাক্সির দৈর্ঘ্য এবং প্রস্থকে আটকাতে পারে, এটিকে রুক্ষ করতে পারে, এটিকে বস্তি করতে পারে, ভয়ানক প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারে, জয়লাভ করতে পারে এবং এখনও জানে যে তার গামছাটি কোথায় আছে, সে স্পষ্টতই একটি  মানুষ হিসাবে গণ্য করা হবে”.

 

 

ভক্তরা কিভাবে গামছা দিবস উদযাপন করবেন?

 

The Hitchhiker’s Guide to the Galaxy-এর ভক্তরা আজ একটি তোয়ালে বহন করে উদযাপন করবে৷  তারা #TowelDay হ্যাশট্যাগ দিয়ে সোশ্যাল মিডিয়াতে তাদের তোয়ালে সহ নিজেদের ছবি শেয়ার করবে।

ভক্তরাও সোশ্যাল মিডিয়াতে তাদের প্রিয় উদ্ধৃতিগুলি ভাগ করতে পারেন, বা উপন্যাসগুলি পুনরায় পড়তে বা সিরিজ বা চলচ্চিত্রটি পুনরায় দেখার জন্য সময় ব্যয় করতে পারেন।

 

 তোয়ালে দিবসের শ্রদ্ধাঞ্জলি—

 

২০১৮ সালে, স্টিফেন ফ্রাই টুইট করেছিলেন “শুভ #TowelDay world, galaxy and cosmos” এবং ২০১৯ সালে, তিনি বলেছিলেন: “শুভ #TowelDay one and all… আজ আমরা ডগলাস নোয়েল অ্যাডামস ১৯৫২-এর উপহারের জন্য মহাবিশ্বকে স্মরণ করি এবং ধন্যবাদ জানাই-  ২০০১, একজন মহান বন্ধু, একজন মহান মানুষ।”
২০১৬ সালে, রয়্যাল ইনস্টিটিউশন আইএসএস-এ থাকা মহাকাশচারী টিম পিককে “আতঙ্কিত হবেন না” বাক্যাংশ সহ একটি তোয়ালে পাঠিয়েছিল, দ্য হিচহাইকারস গাইড টু দ্য গ্যালাক্সির প্রচ্ছদে শব্দগুলি উল্লেখ করে যে চরিত্রটি ফোর্ড প্রিফেক্ট তার সাথে বহন করে এবং এটিও।  ডগলাস এবং সিরিজের একটি বইয়ের শিরোনাম।
স্টিফেন ম্যাঙ্গান ২০১৬ সালে বলেছিলেন: “প্রথম দিকে মহাবিশ্ব সৃষ্টি হয়েছিল।  এটি অনেক লোককে খুব ক্ষুব্ধ করেছে এবং ব্যাপকভাবে একটি খারাপ পদক্ষেপ হিসাবে বিবেচিত হয়েছে৷  #টাওয়েলডে।”

Share This
Categories
নারী কথা প্রবন্ধ

বাংলা সিনেমার জগতে সুমিত্রা মুখোপাধ্যায় এক কিংবদন্তির নাম।

বাংলা সিনেমার জগতে সুমিত্রা মুখোপাধ্যায় এক অতি পরিচিত নাম।  সুমিত্রা মুখোপাধ্যায়  একজন খ্যাতনামা ভারতীয় বাঙালি অভিনেত্রী যিনি বাংলা সিনেমায় তাঁর কাজের জন্য পরিচিত ছিলেন। বহু অভিনেতার সঙ্গে তিনি অভিনয় করে তাঁর দক্ষতার পরিচয় রেখে গিয়েছেন। রঞ্জিত মল্লিক, উত্তম কুমার, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, সন্তু মুখোপাধ্যায় এবং দীপঙ্কর দে-র মতো অভিনেতাদের সাথে তাঁর অন-স্ক্রিন জুটি খুব জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল যা মানুষের হৃদয়ে আজও দাগ কেটে রয়েছে।

কর্মজীবন—–

সুমিত্রা মুখোপাধ্যায়ের জন্ম ৩০ মার্চ ১৯৪৯ সালে।অভিনয়ের প্রতি ছিলো তাঁর অমোঘ টান। ১৯৭২ সালে
শ্রীমতি সুমিত্রা মুখোপাধ্যায়ের প্রথম চলচ্চিত্র “আজকের নায়ক”  মুক্তি পেয়েছিল।  তাঁর অভিনয় দক্ষতা দর্শক-প্রশংসা পেয়েছে । অনাবিল অভিনয়র মধ্য দিয়ে তিনি প্রতিটি বাঙালীর হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন। তাঁর অভিনীত কয়েকটি উল্লেখ্যযোগ্য বই হলো – অগ্নিশ্বর, শ্রীকান্তের উইল, দেবদাস, ওগো বধূ সুন্দরী, দেবী চৌধুরাণী, বসন্ত বিলাপ – যা আজও অমর হয়ে রয়েছে। তিনি প্রায় ৪০০ টি ছবিতে অভিনয় করেছেন। নীচে আমরা দেখে নেবো তাঁর অভিনিত ছবি গুলির নাম—

অভিনীত চলচ্চিত্রের তালিকা—-

আমি ও মা, নটি বিনোদিনী, তপস্যা, ৩ভ্রান্ত পথিক, ক্রান্তিকাল, পেন্নাম কলকাতা, অহংকার, গড়মিল, ব্যবধান, মহাপীঠ তারাপীঠ, অভিসার, অপরাহৃ-এর আলো, বিদায়, প্রতীক, আগমন, আগুন, ওরা চারজন, অবৈধ, সাথী, পারমিতার এক দিন, সপ্তমী, প্রতিরোধ, মেজ বৌ, মোহিনী, কলঙ্কিনী নায়িকা, অমর কন্টক, দাবার চাল, স্বর্ণময়ীর ঠিকানা, মহামিলন, ডাক্তার বৌ, পরিনতি, স্বর্গ সুখ, আমার পৃথিবী, ভালোবাসা ভালোবাসা, তিল থেকে তাল, মিলন তিথী, বৈকুন্ঠের উইল, সোনার সংসার, দিদি, অগ্নি শুদ্ধি, মোহনার দিকে, দাদামণি, সম্পত্তি, ইন্দিরা, জীবন মরণ, অর্পিতা, অভিনয় নয়, সংসারের ইতিকথা, প্রায়শ্চিত্ত, অমৃত কুম্ভের সন্ধানে, প্রফুল্ল, মায়ের আশীর্বাদ, বদনাম, কপাল কুন্ডলা, ন্যায়ের অন্যায়, দেবদাস, মান অভিমান, তিলোত্তমা, তুশি, ডাক দিয়ে যাই, ময়না, বনসারি, সন্ধ্যার রাগ, এই পৃথিবী পান্থ নিয়াস, মন্ত্রমুগ্ধ, এক যে ছিলো দেশ, দত্তা, রাগ অনুরাগ, অগ্নিশ্বর, ছেড়া তামসুখ, বিকেলে ভোরের ফুল, দেবী চৌধুরাণী, সঙ্গিনী, বসন্ত বিলাপ, আজকের নায়ক, ওগো বধূ সুন্দরী, স্বামী স্ত্রী, বৈশাখী মেঘ, প্রিয়তমা, সমাধান, শ্রীকান্তের উইল, নৌকাডুবি, চিরন্তন, গণদেবতা প্রভৃতি ।

পুরস্কার——-

অভিনয়ের জন্য তিনি বেশকিছু পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন–

বিজয়ী – বেঙ্গল ফিল্ম জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন – দেবী চৌধুরানীর পক্ষে সেরা সহায়ক অভিনেত্রীর পুরস্কার (১৯৭৫);  বিজয়ী – বেঙ্গল ফিল্ম জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন – অন্বেষণ – এর জন্য সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার (১৯৮৬); বিজয়ী – ফিল্মফেয়ার পুরস্কার পূর্ব – বৈশাখী মেঘ – সেরা অভিনেত্রী।

২১ মে ২০০৩ সালে কিংবদন্তি এই অভিনেত্রী প্রয়াত হন।

।। তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ

স্মরণে বাংলা সাহিত্যের প্রথম সুপ্রসিদ্ধ গীতিকবি হিসেবে সুপরিচিত বিহারীলাল চক্রবর্তী। 

বাংলা সাহিত্যের প্রথম গীতিকবি হিসেবে সুপরিচিত বিহারীলাল চক্রবর্তী ছিলেন বাংলা ভাষার সুপ্রসিদ্ধ একজন কবি।  তার সব কবিতাই বিশুদ্ধ গানের কথা।  মনোবীণার মনোবীণার নিভৃত ঝংকারে তার কবিতার সৃষ্টি।  বাঙালি কবি মানসের বহির্মুখী দৃষ্টিকে অন্তর্মুখী করতে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য।  খুব অল্প সময়ে তিনি বাংলা কবিতার প্রচলিত ধারা পরিবর্তন করে তীব্র অনুভূতি প্রকাশের মাধ্যমে গীতিকবিতার ধারা প্রবর্তন করেন।  এ বিষয়ে তিনি সংস্কৃত ও ইংরেজি সাহিত্যের দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত হয়েছিলেন।  তিনি তাঁর কবিতায় ভাবের প্রকাশের প্রাচুর্যকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছেন।  প্রকৃতি ও প্রেম, সঙ্গীতের উপস্থিতি, সরল ভাষা বিহারীলালের কবিতাকে দিয়েছে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য। রবীন্দ্রনাথ তাকে বাংলা গীতি কাব্য-ধারার ‘ভোরের পাখি’ বলেছেন।

জন্ম ও শৈশব——

বিহারীলাল চক্রবর্তী ২১ মে, ১৮৩৫ তারিখে কলকাতার জোড়াবাগান অঞ্চলে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম দীননাথ চক্রবর্তী। মাত্র চার বছর বয়সে মাতা মারা যান।

শিক্ষাজীবন——

বিহারীলাল চক্রবর্তী শৈশবে নিজ গৃহে সংস্কৃত ইংরেজি ও বাংলা সাহিত্যে জ্ঞান অর্জন করেন। তিনি কলকাতার সংস্কৃত কলেজে তিন বছর অধ্যয়ন করেন।

বিবাহ——-

বিহারীলাল চক্রবর্তী উনিশ বছর বয়সে দশ বছরের অভয়া দেবীর সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।

কর্মজীবন———

বিহারীলাল এর প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ হল “স্বপ্নদর্শন”(১৮৫৮)। তার রচনাবলীর মধ্যে “স্বপ্নদর্শন” (১৮৫৮), “সঙ্গীত শতক” (১৮৬২), “বঙ্গসুন্দরী” (১৮৭০), “নিসর্গসন্দর্শন “(১৮৭০), “বন্ধুবিয়োগ “(১৮৭০), “প্রেম প্রবাহিনী” (১৮৭০), “সারদামঙ্গল “(১৮৭৯), ” দেবরানী” (১৮৮২), “বাউলবিংশতি” (১৮৮৭), “সাধের আসন” (১৮৮৯), ” ধূূমকেতু “(১৮৯৯) ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। তিনি “পূর্ণিমা” (১২৬৫ বঙ্গাব্দ), “সাহিত্য সংক্রান্তি”(১৮০৬),” অবোধবন্ধু “(১৮৬৩)ইত্যাদি তার সম্পাদিত পত্রিকা। সাহিত্য পত্রিকার সম্পাদক হিসেবেও তিনি যোগ্যতার পরিচয় দিয়েছেন।

“সারদামঙ্গল ” কবি বিহারীলাল চক্রবর্তীর শ্রেষ্ঠ কাব্য। আখ্যানকাব্য হলেও এর আখ্যানবস্তু সামান্যই। মূলত গীতিকবিতাধর্মী কাব্য এটি। সমালোচক শিশিরকুমার দাশের মতে, “মহাকাব্যের পরাক্রমধারার পাশে সারদামঙ্গল গীতিকাব্যের আবির্ভাব এবং শেষপর্যন্ত গীতিকাব্যের কাছে মহাকাব্যের পরাজয়ের ইতিহাসে সারদামঙ্গল ঐতিহাসিক তাৎপর্যপূর্ণ কাব্য। তার প্রথম স্বার্থক গীতিকাব্য “বঙ্গসুন্দরী “(১৮৭০)। এই কাব্যটি দশটি সর্গে বিভক্ত।কবি এই কাব্যে বঙ্গ নারীর বন্দনা করেছেন। কাব্যের দশটি সর্গ হল “উপহার”, “নারী বন্দনা”, “সুরবালা”, “চিরপরাধিনী” “করুনাসুন্দরী”, “বিষাদিনী”, “প্রিয়সখী”, “বিরহিনী”, “প্রিয়়়তমা” ও ” অভাগিনী”।
“পূর্ণিমা” (১২৬৫ বঙ্গাব্দ) নামে একটি পক্ষিক সাহিত্য পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। এছাড়াও অবোধ বধূ ও সাহিত্য সংক্রান্তি তার সম্পাদিত পত্রিকা।

মৃত্যু—-

বিহারীলাল চক্রবর্তী ২৪ মে, ১৮৯৪ সালে প্রয়াত হন।

।। তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

আজ বিশ্ব মেট্রোলজি দিবস, জানুন দৈনন্দিন জীবনে মেট্রোলজির গুরুত্ব।

বিশ্ব মেট্রোলজি দিবস 2024: প্রতি বছর 20 মে বিশ্ব মেট্রোলজি দিবস পালিত হয়। এই দিনটি পরিমাপের বিজ্ঞান এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে এর ভূমিকার জন্য উত্সর্গীকৃত। এটি আমাদের দৈনন্দিন জীবনে মেট্রোলজির গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর একটি সুযোগ।

মেট্রোলজি হল সঠিক এবং নির্ভরযোগ্য পরিমাপ পাওয়ার প্রক্রিয়া। এটি বৈজ্ঞানিক, শিল্প এবং আইনি দিক সহ পরিমাপের সমস্ত দিককে অন্তর্ভুক্ত করে। মেট্রোলজি পণ্য ও পরিষেবার গুণমান মূল্যায়ন, বাণিজ্যিক লেনদেনে ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে এবং নিরাপত্তা ও গুণমানকে উন্নীত করতে ব্যবহৃত হয়। আসুন বিশ্ব মেট্রোলজি দিবস 2024-এর থিম, ইতিহাস, তাৎপর্য এবং ক্রিয়াকলাপগুলি দেখে নেওয়া যাক।

 

বিশ্ব মেট্রোলজি দিবস 2024: থিম

 

20 মে 2024-এ প্রথমবারের মতো বিশ্ব মেট্রোলজি দিবস পালিত হবে। এই উপলক্ষে, ইউনেস্কো 14 মে প্যারিস সদর দফতরে “আমরা একটি টেকসই আগামীকালের জন্য আজ পরিমাপ করি” থিম নিয়ে একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

 

বিশ্ব মেট্রোলজি দিবস: ইতিহাস

 

ইন্টারন্যাশনাল ব্যুরো অফ ওয়েটস অ্যান্ড মেজারস (বিআইপিএম) 1875 সালে মিটার কনভেনশন স্বাক্ষরের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। বিআইপিএম হল একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা যা প্রমিত পরিমাপ ব্যবস্থার ব্যবহার প্রচারের জন্য নিবেদিত। মিটার কনভেনশন পরিমাপের মানগুলির উপর আন্তর্জাতিক সহযোগিতার জন্য একটি কাঠামো প্রতিষ্ঠা করেছে। এর ফলে কিলোগ্রামের আন্তর্জাতিক প্রোটোটাইপ (IPK) ভরের মানক একক হিসেবে গড়ে ওঠে। ইন্টারন্যাশনাল প্রোটোটাইপ অফ দ্য মিটার (IPM) দৈর্ঘ্যের আদর্শ একক হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছিল।

 

বিশ্ব মেট্রোলজি দিবস 2024: তাৎপর্য

 

বিশ্ব মেট্রোলজি দিবসের তাৎপর্য বোঝা যায় যে এটি বিভিন্ন ক্ষেত্রে মেট্রোলজির গুরুত্ব তুলে ধরার একটি প্ল্যাটফর্ম হিসাবে কাজ করে। এটি বৈজ্ঞানিক উদ্ভাবন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং সামাজিক কল্যাণ প্রচারে এর ভূমিকার উপর জোর দেওয়ার একটি সুযোগ। উপরন্তু, বিশ্ব মেট্রোলজি দিবস মেট্রোলজিস্টদের দক্ষতা প্রদর্শন এবং সমাজে তাদের অবদান প্রচার করার একটি সুযোগ প্রদান করে।

একজনকে সচেতন হওয়া উচিত যে মেট্রোলজির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলির মধ্যে রয়েছে প্রমিত পরিমাপ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা, তথ্য সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াকরণের জন্য যন্ত্র এবং পদ্ধতির বিকাশ, এবং বাণিজ্য, শিল্প, পরিবহন এবং জল সম্পদের মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে মেট্রোলজির প্রয়োগ। .

বিশ্ব মেট্রোলজি দিবস 2024 উদযাপনের উপায়

  1. একটি সম্মেলনে যোগ দিন- বিশ্ব মেট্রোলজি দিবস উদযাপনের একটি ভাল উপায় হল মেট্রোলজি সম্পর্কে একটি সম্মেলনে যোগদান করা। আপনি দৈনন্দিন জীবনে মেট্রোলজির গুরুত্ব এবং প্রয়োগ সম্পর্কে আরও জানতে পারেন।
  2. মেট্রোলজি সম্পর্কে আরও জানুন- আপনি যদি মেট্রোলজি সম্পর্কে অনিশ্চিত হন তবে আপনি এটি সম্পর্কে আরও জানতে পারেন। মেট্রোলজি আমাদের দৈনন্দিন জীবনে গুরুত্বপূর্ণ এবং এর প্রয়োগ বিভিন্ন মূল শিল্পে দেখা যায়। সুতরাং এটি সম্পর্কে শেখা দিনটি উদযাপন করার একটি দুর্দান্ত উপায়।
  3. সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন- আপনি সোশ্যাল মিডিয়াতে দিনটি সম্পর্কে আরও লোকেদের জানাতে পারেন৷ আপনি পোস্টার বা ইনফোগ্রাফিক্স তৈরি করতে পারেন যাতে অন্যরা মেট্রোলজি এবং এর গুরুত্ব সম্পর্কে আরও জানতে এবং শেয়ার করতে পারে।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য–

 

ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন অফ লিগাল মেট্রোলজি সদর দপ্তর: প্যারিস, ফ্রান্স।

ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন অফ লিগাল মেট্রোলজি প্রতিষ্ঠিত: ১৯৫৫।

 

।।তথ্য ঋণ  : অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ও ইন্টারনেট।।

 

Share This
Categories
প্রবন্ধ

বিশ্ব তথ্য সমাজ দিবস, জানুন দিনটি কেন পালিত হয় এবং গুরুত্ব।

বিশ্ব টেলিযোগাযোগ দিবস 2024–

প্রতি বছর 17 মে বিশ্বব্যাপী বিশ্ব টেলিযোগাযোগ দিবস উদযাপন করা হয়।  এই বিশেষ দিনটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় তথ্য সোসাইটির বিশ্ব শীর্ষ সম্মেলনের সময় যে দৃষ্টিভঙ্গি সেট করা হয়েছিল।  লক্ষ্য হল এমন একটি সমাজ তৈরি করা যা মানুষের উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং মৌলিক মানবাধিকারের উপর ভিত্তি করে উন্নয়নের লক্ষ্য রাখে।

তথ্যের শক্তি—-

 

বিশ্ব টেলিযোগাযোগ দিবসের উদ্দেশ্য হল কীভাবে তথ্য ও যোগাযোগ সমাজকে পরিবর্তন করতে পারে সে সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করা।  ধারণাটি হল ব্যক্তিদের তাদের পূর্ণ সম্ভাবনায় পৌঁছানোর জন্য তথ্য এবং জ্ঞান তৈরি, অ্যাক্সেস, ব্যবহার এবং ভাগ করে নিতে সহায়তা করা।  ইউনেস্কোর মতো সংস্থাগুলি এই দিনের লক্ষ্যগুলিকে সমর্থন করে এমন বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে সক্রিয়ভাবে লোকেদের উত্সাহিত করে৷

 

জনসাধারণকে জড়িত করা—-

 

কিছু ছুটির দিন থেকে ভিন্ন, বিশ্ব টেলিযোগাযোগ দিবস একটি ছুটির দিন নয়।  যাইহোক, আমাদের সংযুক্ত বিশ্বে তথ্য এবং যোগাযোগের গুরুত্ব তুলে ধরার জন্য বিশ্বজুড়ে লোকেরা বিভিন্ন ক্রিয়াকলাপে অংশগ্রহণ করে।

 

বিশ্ব টেলিযোগাযোগ দিবস 2024 থিম—

 

2024 সালের বিশ্ব টেলিকমিউনিকেশন অ্যান্ড ইনফরমেশন সোসাইটি ডে (WTISD) এর জন্য নির্বাচিত থিম হল “টেকসই উন্নয়নের জন্য ডিজিটাল উদ্ভাবন।”“Digital Innovation for Sustainable Development.”।

 

বিশ্ব টেলিযোগাযোগ দিবসের ইতিহাস—

 

এই দিনের উৎপত্তি এই দিবসে ফিরে যায়, যা 1865 সালের 17 মে আন্তর্জাতিক টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়ন (আইটিইউ) এর প্রতিষ্ঠাকে চিহ্নিত করেছিল। 2006 সালে, জাতিসংঘ 17 মেকে এই দিবস হিসাবে ঘোষণা করেছিল।  প্রথম উদযাপন 17 মে, 2006-এ হয়েছিল, বিশ্বব্যাপী মানুষের সাথে সংযোগ স্থাপনে ITU-এর ভূমিকাকে স্বীকৃতি দিয়ে।

মূলত, বিশ্ব টেলিযোগাযোগ দিবস, 1969 সালে শুরু হয়, বিশ্বব্যাপী যোগাযোগের চ্যালেঞ্জগুলির উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে।  প্রযুক্তির বিকাশের সাথে সাথে, জাতিসংঘ উদযাপনটিকে বিশ্ব টেলিযোগাযোগ ও তথ্য সোসাইটি দিবসে প্রসারিত করেছে।  উদ্দেশ্য হ’ল ইন্টারনেট এবং অন্যান্য প্রযুক্তি কীভাবে সমাজ এবং অর্থনীতিকে উপকৃত করতে পারে এবং গুরুত্বপূর্ণভাবে, ডিজিটাল বিভাজনের সেতুবন্ধন করতে পারে সে সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা।

 

বিশ্ব টেলিযোগাযোগ দিবসের তাৎপর্য——

 

যদিও টেলিযোগাযোগ দিবসের জন্য নির্দিষ্ট কোনো প্রতীক নেই, তবুও এই দিনটি কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা দেখানোর জন্য ইউনেস্কো আধুনিক প্রযুক্তির ছবি ব্যবহার করে।  এই চিহ্নগুলি দৃশ্যত আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে আমাদের বিশ্ব গঠনে তথ্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ।

 

17 মে 2024 বিশেষ দিন—-

 

17 মে বিশ্ব টেলিযোগাযোগ দিবস একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, জন-কেন্দ্রিক তথ্য সমাজের দৃষ্টিভঙ্গির পিছনে বিশ্বব্যাপী একত্রিত হওয়ার একটি অর্থবহ সুযোগের প্রতিনিধিত্ব করে।  এই সংযোগ-কেন্দ্রিক অনুষ্ঠানের প্রতীকী সময় ডিজিটাল ইক্যুইটির দিকে অগ্রাধিকার পুনরুদ্ধার করার নিখুঁত সুযোগ উপস্থাপন করে, একটি মানবাধিকার হিসাবে অ্যাক্সেসের জন্য গভীর উপলব্ধি বৃদ্ধি করে এবং একটি ন্যায্য ডিজিটাল ভবিষ্যতের জন্য আশাবাদ প্রকাশ করে।  ইনফরমেশন সোসাইটির বিশ্ব শীর্ষ সম্মেলন যেমন সার্বজনীন অধিকারের উপর ভিত্তি করে উন্নয়নের জন্য উচ্চাকাঙ্খী লক্ষ্য নির্ধারণ করে, বিশ্ব টেলিযোগাযোগ দিবস সম্মিলিত আশাকে পুনর্নবীকরণ করে এবং এমন একটি সমাজ তৈরি করার আমাদের ভাগ করা ক্ষমতার প্রতি বিশ্বাসকে পুনরুজ্জীবিত করে যেখানে কেউ পিছিয়ে থাকবে না।  এই বিশেষ দিনে একত্রিত হওয়ার মাধ্যমে, আমরা সংহতির চেতনা জাগিয়ে তুলতে পারি যা প্রযুক্তির সম্ভাবনায় ভরপুর একটি ভবিষ্যতের সূচনা করে যা সকল মানুষকে ক্ষমতায়ন এবং সংযুক্ত করতে পারে।

 

।। তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

 

Share This
Categories
প্রবন্ধ

১৯শে মে বাংলা ভাষা অন্দোলনের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি : দিলীপ রায় (৯৪৩৩৪৬২৮৫৪) ।

আজ ১৯শে মে । ১৯৬১ সালের আজকের দিনে বাংলা মাতৃভাষা অন্দোলনে  অসম রাজ্যের শিলচরে ১১ জন তরতাজা প্রাণ দিয়েছিলেন ।
প্রথমেই বলে রাখি অসম রাজ্যে দুটি উপত্যকা — একটি ব্রহ্মপুত্র উপত্যকা যেমন গুয়াহাটি ও আশপাশ এলাকা এবং অন্যটি হচ্ছে বরাক উপত্যকা । ভারতের উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় অসম রাজ্যের অন্তর্গত বাংলাভাষী ভূ-খণ্ড বরাক উপত্যকার মধ্যে রয়েছে করিমগঞ্জ, হইলাকান্দি, বদরপুর, শিলচর প্রভৃতি বাঙালি অধ্যুষিত শহর  । দেশ বিভাগের আগে অবিভক্ত সিলেট জেলাসহ এই বরাকের অধিবাসী বাঙালিরাই পুরো আসাম প্রদেশের নেতৃত্ব দিয়েছে । আপনাদের হয় তো মনে থাকবে,  অবিভক্ত অসম রাজ্য ভেঙে তৈরি হয় ত্রিপুরা, মিজোরাম, নাগাল্যান্ড, মণিপুর, মেঘালয় ও  অরুণাচল প্রদেশ রাজ্য ।
আসামের বরাক উপত্যকার বাংলা ভাষার আন্দোলন ছিল আসাম সরকারের অসমীয়া ভাষাকে সরকারি ভাষা হিসেবে চাপিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে । ১৯৬০-৬১ সালের ঘটনা । তৎকালীন আসাম  প্রদেশ সরকার সিদ্ধান্ত নিলো, বাংলাভাষী অধ্যুষিত এই অঞ্চলের সরকারি ভাষা হবে অসমীয়া । বরাক উপত্যকার সাধারণ মানুষ হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে এই সিদ্ধান্তকে ভাল চোখে দেখলেন না । তাই  বাংলা ভাষার স্বীকৃতির জন্যে তাঁরা মরণপণ আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়লেন । এই গণ আন্দোলনের প্রধান উল্লেখযোগ্য ঘটনাটি ঘটে ১৯৬১ সালের ১৯ মে । সেদিন ১১ জন প্রতিবাদীকে শিলচর রেলওয়ে স্টেশনে আসাম পুলিশ গুলি করে হত্যা করে । সেই আন্দোলনের জেরে শেষপর্যন্ত আসাম সরকার পিছু হটতে বাধ্য হয়েছিল ।  শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে তারপর থেকে  ১৯শে মে, বাংলা ভাষা শহীদ দিবস হিসেবে দিনটি পালিত  হচ্ছে  সারা দেশে ।
এবার পেছনের দিকে আসা যাক ।   আমরা জানি, পাকিস্তান সরকারের উর্দু ভাষা চাপিয়ে দেওয়ার প্রতিবাদে বাংলাদেশের রক্তক্ষয়ী ভাষা অন্দোলনের কথা । ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বরকত-সালাম-জব্বারেরা শহিদ হয়েছিলেন বাংলা ভাষার মর্যাদা অক্ষুন্ন রাখতে । তারপর ধাপে ধাপে বাংলা ভাষার নিরিখে ১৯৭১ সালে জন্ম নিয়েছিল একটি রাষ্ট্র, নাম বাংলাদেশ ।
এবারে আসছি তৎকালীন আসাম রাজ্যের বাঙালী অধ্যুষিত বরাক উপত্যকায় অসমীয়া ভাষা চাপিয়ে দেওয়ার ঘৃণ্য চক্রান্ত প্রসঙ্গে । ১৯৬০ সালের এপ্রিলে আসাম প্রদেশ কংগ্রেস কমিটিতে অসমীয়া ভাষাকে প্রদেশের একমাত্র সরকারি ভাষা হিসেবে ঘোষণা করার একটি প্রস্তাবের সূচনা হয় । তারপর ১০ অক্টোবর, ১৯৬০ সালের  তদানীন্তন আসামের মুখ্যমন্ত্রী বিমলা প্রসাদ চলিহা অসমীয়াকে আসামের একমাত্র সরকারী ভাষা হিসাবে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রস্তাব উত্থাপন করেন । যদিও  উত্তর করিমগঞ্জ-এর  বিধায়ক রণেন্দ্রমোহন দাস এই প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করেছিলেন । কিন্তু তা সত্ত্বেও ২৪ অক্টোবর প্রস্তাবটি বিধানসভায় গৃহীত হয় ।
তারপর অসমীয়া ভাষা চাপিয়ে দেওয়ার বিরূদ্ধে বরাক উপত্যকার মানুষদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা শুরু হয় । মানুষ প্রতিবাদে গর্জে ওঠেন । ফলশ্রুতি হিসাবে বরাক উপত্যকার মানুষেরা সরকারের প্রতিবাদ করতে ১৯৬১ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি  কাছাড় গণ সংগ্রাম পরিষদ নামে একটি সংগঠন গড়ে তোলেন ।  আসাম  সরকারের এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে ১৪ এপ্রিল  শিলচর, করিমগঞ্জ ও  হাইলাকান্দির মানুষেরা  সংকল্প দিবস হিসাবে পালন করেন ।  বরাকের জনগণের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করার জন্য গণ সংগ্রাম পরিষদ  ২৪ এপ্রিল  দীর্ঘ পদযাত্রা শুরু করেছিল । ২মে  শেষ হওয়া এই পদযাত্রাটিতে অংশ নেওয়া অন্দোলনকারিরা  প্রায় ২০০ মাইল উপত্যকাটির গ্রামে গ্রামে ঘুরে প্রচার চালিয়েছিলেন । পদযাত্রার শেষে সিদ্ধান্ত হয়, ১৯ মে তাঁরা ব্যাপক হরতাল করবেন  । ১৯ মে  শিলচর, করিমগঞ্জ ও হাইলাকান্দিতে হরতাল ও  পিকেটিং শুরু হয় । করিমগঞ্জে আন্দোলনকারীরা সরকারী কার্যালয়, রেলওয়ে স্টেশন, কোর্ট,  ইত্যাদিতে পিকেটিং করেন । শিলচরে তারা রেলওয়ে স্টেশনে সত্যাগ্রহ করেছিলেন । বিকেল ৪টার সময়সূচির ট্রেনটির সময় পার হওয়ার পর হরতাল শেষ করার কথা ছিল । ভোর ৫:৪০ এর ট্রেনটির একটিও টিকিট বিক্রি হয়নি । সকালে হরতাল শান্তিপূর্ণ ভাবে অতিবাহিত হয়েছিল । কিন্তু বিকালে স্টেশনে অসম রাইফেল এসে উপস্থিত হয় । বিকেল প্রায় ২:৩৫ নাগাদ স্টেশনে   আন্দোলনকারীদেরকে  বন্দুক ও লাঠি  দিয়ে মারতে শুরু করে । এরপর সাত মিনিটের ভিতর তারা ১৭ রাউণ্ড গুলি আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে  চালায় ।  ন’জন সেদিনই নিহত হয়েছিলেন,  দু’জন পরে মারা যান । (নীচে শহীদদের ফটোসহ নাম দেওয়া হলো ) । সবচেয়ে যেটি গুরুত্বপূর্ণ,  প্রথম একজন মহিলা ভাষা অন্দোলনে শহীদ হয়েছিলেন, নাম কমলা ভট্টাচার্য ।
সেই আন্দোলনের জেরে শেষ পর্যন্ত  আসাম সরকার পিছু হটতে বাধ্য হয়েছিল এবং আসাম সরকার বরাক উপত্যকায় বাংলাকে সরকারী ভাষা হিসাবে ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছিল  । তারপর সেই ঘটনার পর থেকে ১৯শে মে বাংলা ভাষা শহীদ দিবস হিসেবে পালিত হচ্ছে সারা দেশে । উল্লেখ থাকে যে বরাক উপত্যকায়  শুধু নয়,  পৃথিবীর আপামর বাংলা ভাষাভাষীর মানুষ ১৯ মে কে বাংলা ভাষা শহীদ দিবস হিসাবে পালন করে আসছে  যথাযোগ্য মর্যাদার সঙ্গে । তাই বলা চলে,  ১৯৬১ সালের ১৯শে মে বরাক উপত্যকার শিলচরের ভাষা অন্দোলন — বিশ্বের মাতৃভাষা আন্দোলনের অন্যতম দৃষ্টান্ত ।  (তথ্যসূত্রঃ সংগৃহীত)
১৯শে মে ভাষা দিবসের শহীদদের প্রতি আমার বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি ।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

আন্তর্জাতিক জাদুঘর দিবস 2024: তারিখ, থিম, ইতিহাস, তাৎপর্য এবং কার্যকলাপ।

আন্তর্জাতিক জাদুঘর দিবস 2024: প্রতি বছর 18 মে আন্তর্জাতিক জাদুঘর দিবস পালিত হয়। দিবসটি 1977 সালে ইন্টারন্যাশনাল কাউন্সিল অফ মিউজিয়াম (আইসিওএম) দ্বারা সমাজে জাদুঘরের ভূমিকা প্রচারের জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।

সামগ্রিকভাবে, জাদুঘর দিবস হল জাদুঘরের বিশ্ব উদযাপন করার এবং সমাজে তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাকে স্বীকৃতি দেওয়ার একটি দিন। জাদুঘর আমাদের বিভিন্ন সংস্কৃতি, ইতিহাস এবং প্রাকৃতিক বিস্ময় সম্পর্কে জানতে সাহায্য করে। তারা প্রতিফলন এবং সৃজনশীলতার জন্য স্থান প্রদান করে। আসুন ইতিহাস, তাৎপর্য, থিম এবং আন্তর্জাতিক জাদুঘর দিবস 2024 উদযাপনের উপায় সম্পর্কে আরও জানি।

 

আন্তর্জাতিক জাদুঘর দিবস 2024: থিম

 

আন্তর্জাতিক জাদুঘর দিবস 2024-এর থিম হল  “শিক্ষা ও গবেষণার জন্য জাদুঘর”

 

আন্তর্জাতিক জাদুঘর দিবস 2024: তাৎপর্য

 

আন্তর্জাতিক জাদুঘর দিবস উদযাপনের উদ্দেশ্য হল জাদুঘরগুলি কীভাবে সমাজে অবদান রাখে সে সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করা এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়, বৈচিত্র্য এবং অন্তর্ভুক্তি প্রচার করা। জাদুঘরগুলি মানুষকে একত্রিত করতে এবং উদযাপনের জন্য একটি থিমের সাথে তাদের আবদ্ধ করতে একটি অবিচ্ছেদ্য ভূমিকা পালন করে। প্রতি বছরের আন্তর্জাতিক জাদুঘর দিবসের থিম একটি বার্তা বহন করে যা একটি নির্দিষ্ট বিষয় এলাকার গুরুত্বকে প্রতিফলিত করে।

জাদুঘর হল এমন জায়গা যেখানে লোকেরা বিভিন্ন সংস্কৃতি , ইতিহাস এবং প্রাকৃতিক বিস্ময় সম্পর্কে জানতে পারে । তারা প্রতিফলন এবং সৃজনশীলতার জন্য স্থান প্রদান করে। আমরা কেন জাদুঘর দিবস উদযাপন করি তার একটি প্রধান কারণ হল সমাজ গঠনে যাদুঘরের মূল্যকে উপলব্ধি করা। জাদুঘরগুলি আমাদের চারপাশের জগতকে বুঝতে এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের অন্যান্য মানুষের সাথে সংযোগ স্থাপন করতে সাহায্য করে।

তারা ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। জাদুঘরগুলি বিভিন্ন সংস্কৃতির লোকেদের মধ্যে ঐক্য ও বোঝাপড়ার প্রচারের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ স্থান। জাদুঘরগুলি জ্ঞান ভাগ করে নেওয়া এবং বিশ্বের একটি সাধারণ দৃষ্টিভঙ্গি প্রচারের জন্য নিবেদিত৷

যাদুঘরগুলি পরিবেশ রক্ষা এবং টেকসই অনুশীলনের প্রচারের জন্য নিবেদিত। সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণেও তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

 

কিভাবে আন্তর্জাতিক জাদুঘর দিবস 2024 উদযাপন করবেন?

 

আন্তর্জাতিক জাদুঘর দিবস উদযাপনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপায় হল একটি জাদুঘর পরিদর্শন করা। একা বা বন্ধু বা পরিবারের সাথে কাছাকাছি একটি জাদুঘরে যান৷ আপনার আগ্রহের একটি যাদুঘর দেখার জন্য আপনি একটি ভিন্ন শহরে ভ্রমণের মাধ্যমে দিনটিকে স্মরণ করতে পারেন৷

আন্তর্জাতিক জাদুঘর দিবস উদযাপনের আরেকটি উপায় হল আপনার স্থানীয় যাদুঘরে একটি সংগ্রহ, শিল্পের অংশ, উত্তরাধিকার বা অর্থ দান করা। এটি আপনার স্থানীয় জাদুঘরকে সমর্থন করার এবং ভবিষ্যত প্রজন্মেররাও এটি উপভোগ করতে সক্ষম হবে তা নিশ্চিত করার একটি দুর্দান্ত উপায়।

আপনার যদি আন্তর্জাতিক জাদুঘর দিবস উদযাপনের অন্য কোন পরিকল্পনা থাকে, যেমন একটি ইভেন্ট বা কর্মশালায় যোগদান করা, তবে আজ একটি জাদুঘর পরিদর্শন করা এবং একটি পার্থক্য করা গুরুত্বপূর্ণ। আপনার পরিদর্শন জাদুঘরের গুরুত্ব এবং সমাজে তাদের ভূমিকা সম্পর্কে আপনার মন পরিবর্তন করতে পারে।

 

আন্তর্জাতিক যাদুঘর দিবস: ইতিহাস

 

আন্তর্জাতিক জাদুঘর দিবস আনুষ্ঠানিকভাবে 1977 সালে রাশিয়ার মস্কোতে ICOM সাধারণ পরিষদে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।

আন্তর্জাতিক জাদুঘর দিবসের ধারণাটি 1951 সালে মস্কোতে জাদুঘরের জন্য ক্রুসেডের বৈঠকের সময় প্রথম রূপরেখা দেওয়া হয়েছিল। মিটিং, যা যাদুঘর এবং শিক্ষার থিমের উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে, যাদুঘর অ্যাক্সেসযোগ্যতার জন্য একটি কাঠামোর উন্নয়নের ভিত্তি স্থাপন করে।

1977 সালে, কাঠামোটি ICOM সাধারণ পরিষদ দ্বারা গৃহীত হয়েছিল এবং 1979 সালে, ইভেন্টের প্রথম অফিসিয়াল পোস্টার চালু করা হয়েছিল। “সাংস্কৃতিক পণ্যে অবৈধ ট্রাফিকের বিরুদ্ধে লড়াই” শিরোনামের পোস্টারটি 28 টি দেশ দ্বারা অভিযোজিত হয়েছে।

2011 সালে, ICOM আন্তর্জাতিক জাদুঘর দিবসের জন্য একটি ওয়েবসাইট এবং যোগাযোগ কিট তৈরি করেছে। এই উদ্যোগটি প্রথমবারের মতো চিহ্নিত করেছে যে ICOM ইউরোপীয়ান নাইট অফ মিউজিয়ামের পৃষ্ঠপোষক ছিল। ইভেন্টটি, যা প্রতি বছর 18 মে অনুষ্ঠিত হয়, যাদুঘরের কার্যকলাপে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং যাদুঘর সংস্কৃতি সম্পর্কে জনসাধারণের সচেতনতা উদযাপন করে।

 

Share This
Categories
প্রবন্ধ

বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে মৃণাল সেনের অবদান।।।।

প্রখ্যাত ভারতীয় বাঙালি চলচ্চিত্র পরিচালক, চিত্রনাট্যকার ও লেখক মৃণাল সেন এমন একজন ব্যক্তিত্ব ছিলেন, যিনি তাঁর ছবির মধ্য দিয়ে মানুষের কথা, তাদের দুঃখ-বেদনা, হেরে যাওয়ার কথা, আর সেই হেরে যাওয়া থেকে লড়াই করে উঠে আবার বেঁচে ওঠার কথা  বলেছেন।  তৎকালীন যে তিন স্তম্ভ (সত্যজিৎ রায়, ঋত্বিক ঘটক এবং মৃণাল সেন এই ত্রিশঙ্কু), বাংলা চলচ্চিত্র কে বিশ্বের দরবারে প্রতিষ্ঠা করেছিল, তাদের মধ্যে একজন ছিলেন মৃণাল সেন। আজ তার জন্ম দিবস।

 

 

জন্ম–

 

১৯২৩ সালের ১৪ মে মৃণাল সেন তৎকালীন ব্রিটিশ ভারত পূর্ব বঙ্গের (বর্তমান বাংলাদেশ) ফরিদপুরের একটি শহরে বৈদ্যব্রাহ্মণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।

 

প্রথমিক জীবন —

ফরিদপুরে থাকাকালীন সময়ে তিনি সেখানেই উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষা সম্পন্ন করেন। এরপর তিনি পড়াশোনার জন্য কলকাতায় আসেন এবং স্কটিশ চার্চ কলেজ এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থবিদ্যা পড়াশোনা করেন। ছাত্রাবস্থায় তিনি কমিউনিস্ট পার্টির সাংস্কৃতিক শাখার সঙ্গে যুক্ত হন। যদিও তিনি কখনও কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য হন নি। চল্লিশের দশকে তিনি সমাজবাদী সংস্থা আইপিটিএর (ইন্ডিয়ান পিপ্‌লস থিয়েটার অ্যাসোসিয়েশন) সঙ্গে যুক্ত হন এবং এর মাধ্যমে তিনি সমমনভাবাপন্ন মানুষদের কাছাকাছি আসেন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করবার পর তিনি একজন সাংবাদিক, একজন ওষুধ বিপননকারী এবং চলচ্চিত্রে শব্দ কলাকুশলী হিসাবে কাজ করেন। চলচ্চিত্র নির্মাণে আগ্রহী হন কলকাতার ন্যাশনাল লাইব্রেরীতে, এক জার্মান লেখক রুডল্ফ আর্নহেইম লেখা, ‘ফিল্ম এস আর্ট’ বইটি পড়ে। চলচ্চিত্র জগতে তাঁর প্রথম হাতেখড়ি ঘটে, কলকাতার টলিপাড়ার একটি স্টুডিওতে অডিও টেকনিশিয়ান হিসেবে। যদিও সে কাজটি তাঁর একেবারেই পছন্দ ছিল না।

 

 

কর্ম জিবন—

 

মৃণাল সেন বাংলা, হিন্দি, ওড়িয়া ও তেলুগু ভাষায় চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছেন। তিনি কখনও কঠোর বাস্তব, তো কখনও মানুষের মনের থেকে স্বপ্ন ও দুঃস্বপ্নকে নিংড়ে নিয়ে এসে পর্দায় তৈরি করতেন এক অদ্ভুত ছবি।আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক বেড়াজালে, যে মানুষগুলোর ভাষা হারিয়ে গেছিল, সেন হয়ে উঠেছিলেন তাদের কণ্ঠস্বর, তাদের প্রতিবাদের ভাষা।
১৯৫৫ সালে মৃণাল সেনের প্রথম পরিচালিত ছবি রাত-ভোর মুক্তি পায়। তবে এই ছবিটি বেশি সাফল্য না পেলেও তার দ্বিতীয় ছবি নীল আকাশের নিচে তাকে স্থানীয় পরিচিতি এনে দেয়। আর তার তৃতীয় ছবি বাইশে শ্রাবণ থেকে তিনি আন্তর্জাতিক পরিচিতি পান।
১৯৬৯ সালে মুক্তি পায় তার পরিচালিত ছবি ভুবন সোম।অনেকের মতে এই ছবিটি মৃণাল সেনের শ্রেষ্ঠ ছবি। তৎকালীন অন্যান্য বাংলা চলচ্চিত্র পরিচালকদের মত সেনের ছবিতেও ধরা পড়েছিল শহর কলকাতা। তিনটি ছবি  ‘সাক্ষাৎকার’ , ‘কলকাতা 71’ ,  এবং ‘পদাতিক’, বিভিন্ন কলকাতাকেন্দ্রিক ছবিগুলির মধ্যে সেরা ছবি হিসেবে পরিগণিত হয়। প্রথাগত ধারণার ঊর্ধ্বে এই ছবিগুলি, দারিদ্র, দুর্ভিক্ষ, বেকারত্বের মতন বাস্তব বিষয়গুলি নিয়ে ভাবতে বাধ্য করেছিল। মৃণাল সেন মধ্যবিত্ত সমাজের নীতিবোধকে তুলে ধরেন তার দুটি ছবি এক দিন প্রতিদিন (১৯৭৯) এবং খারিজ (১৯৮২) এর মাধ্যমে। খারিজ ১৯৮৩ সালের কান আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে বিশেষ জুরি পুরস্কার পেয়েছিল। ১৯৮০ সালের চলচ্চিত্র আকালের সন্ধানে। এই ছবিতে দেখানো হয়েছিল একটি চলচ্চিত্র কলাকুশলীদলের একটি গ্রামে গিয়ে ১৯৪৩ খ্রীষ্টাব্দের দুর্ভিক্ষের উপর একটি চলচ্চিত্র তৈরির কাহিনী। আকালের সন্ধানে ১৯৮১ সালের বার্লিন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে বিশেষ জুরি পুরস্কার হিসাবে রুপোর ভালুক জয় করে। মৃণাল সেনের পরবর্তীকালের ছবির মধ্যে উল্লেখযোগ্য মহাপৃথিবী (১৯৯২) এবং অন্তরীন (১৯৯৪)। এখনও অবধি তার শেষ ছবি আমার ভুবন মুক্তি পায় ২০০২ সালে।

 

 

মৃণাল সেন শুধু বাংলা নয় ওড়িয়া এবং তেলেগু ছবিও তৈরি করেছিলেন, যেগুলি একই রকম প্রশংসার অধিকারী। সত্যজিৎ রায়, তার তেলেগু ছবি, ‘ওকা ওরি কথা’, দেখার পর বলেছিলেন, মৃণাল সেনের ছবি এবং তার তৈরীর ধরন দেখে তিনি ঈর্ষান্বিত।মৃনাল সেন বেশকিছু ডকুমেন্টারি ও শর্ট ফিল্ম তৈরি করেছিলেন, যেগুলি বেশিরভাগই আন্তর্জাতিক উৎসবে জায়গা করে নিয়েছিল।

ভারত সরকার দ্বারা তিনি, ‘পদ্মভূষণ’ (১৯৮১) এবং ‘দাদাসাহেব ফালকে’( ২০০৫) পুরস্কার এ ভূষিত হন। এছাড়া তিনি ১৯৯৮ থেকে ২০০৩ অবধি ভারতীয় সংসদের সাম্মানিক সদস্যপদ লাভ করেন। ফরাসি সরকার তাকে কম্যান্ডার অফ দি অর্ডার অফ আর্টস অ্যান্ড লেটারস (Ordre des Arts et des Lettres ) সম্মানে সম্মানিত করেন। এই সম্মান ফ্রান্সের সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মান। ২০০০ সালে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন তাকে অর্ডার অফ ফ্রেন্ডশিপ সম্মানে ভূষিত করেন।

মৃণাল সেন ২০১৮ সালের ডিসেম্বর মাসের ৩০ তারিখ রবিবার সকালে নিজ বাসভবনে ৯৫ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন।

 

।।তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবপেজ।।

Share This