Categories
রিভিউ

আজ ১০ জুন, ইতিহাসের আজকের এই দিনে যা ঘটেছিল।

আজ ১০ জুন। ইতিহাস ঘেটে দেখা যায় বছরের প্রতিটি দিনে ঘটেছে অনেক উল্লেখযোগ্য ঘটনা। আসুন আজকের দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য কিছু বিষয় একনজরে দেখে নিই।  ইতিহাসের আজকের এই দিনে কী কী ঘটেছিল, কে কে জন্ম নিয়েছিলেন ও মৃত্যুবরণ করেছিলেন——-

 

আজ যাদের জন্মদিন—-

১৯৮১ – আলবি মরকেল, দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেটার।

১৯৮৯ – ডেভিড মিলার, দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেটার।

১৯৮৯ – আলেক্সান্দ্রা স্তান, রোমানীয় সঙ্গীত শিল্পী এবং সঙ্গীত লেখক।

১৯১৫ – সল বেলো, কানাডীয়-আমেরিকান লেখক।

১৯১৮ – ফররুখ আহমদ, বাঙালি কবি।

১৯২২ – জুডি গারল্যান্ড, মার্কিন গায়িকা ও অভিনেত্রী ছিলেন।

১৯৪২ – আমানুল্লাহ আসাদুজ্জামান, তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের (বর্তমান: বাংলাদেশ) একজন শহীদ ছাত্রনেতা।

১৯৫৫ – প্রকাশ পাডুকোন, ভারতের অন্যতম ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড়।

১৯৬০ – নন্দমুরি বলকৃষ্ণ, ভারতের তেলুগু চলচ্চিত্র শিল্পের একজন অভিনেতা।

১৯৬৫ – এলিজাবেথ হার্লি, ইংরেজ অভিনেত্রী ও মডেল।

১৯৭২ – এরিক উপশান্ত, শ্রীলঙ্কান সাবেক আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার।

১৮৩২ – নিকোলাস অটো, জার্মান প্রকৌশলী।

 

ইতিহাসের পাতায় আজকের দিনের ঘটনাবলী—-

২০০১- মিডিয়া সম্রাট সিলভিও বালুসকনি দ্বিতীয়বারের মতো ইতালির প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত।

১৯০৫- অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উদ্যোগে বঙ্গীয় শিল্পকলা তথা বেঙ্গল স্কুল অব আর্ট গঠিত হয়।

১৯১৬ – হুসাইন বিন আলি উসমানীয় সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে আরব বিদ্রোহের ঘোষণা দেন।

১৯২৬- তুরস্কে সর্বশেষ জানেসারী বিপ্লবের সূচনা।

১৯৪০- ইংল্যান্ড ও ফ্রান্সের বিরুদ্ধে ইতালির যুদ্ধ ঘোষণা।

১৯৪০- উইনস্টন চার্চিল তার নতুন মন্ত্রিসভা গঠন করেন।

১৯৭২- ভারতের প্রথম তাপানুকূল যাত্রীবাহী জাহাজ হর্ষবর্ধনের সমুদ্রযাত্রা।

১৮৮১- রাশিয়ার বিখ্যাত লেখক কাউন্ট লিও তলস্তয় চাষির ছদ্মবেশে একটি মঠের দিকে তীর্থযাত্রা শুরু করেন।

১৮৯০ – আজকের দিন রবিবার ছিল। এদিন থেকেই ভারতে সাপ্তাহিক ছুটি রবিবার নির্ধারিত হয় এবং এখনও অপরিবর্তিত রয়েছে।

১৭৫২- বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিন ঘুড়ি উড়িয়ে বজ্র থেকে বিদ্যুৎ আহরণ করতে সক্ষম হন।

১৭৯০- ইংরেজ সেনাবাহিনী মালয় নামে পরিচিত বর্তমানকালের মালয়েশিয়ার ওপর হামলা চালায়।

১৬১০- গ্যালিলিও শনি গ্রহের দ্বিতীয় চক্র আবিষ্কার করেন।

১১৯০ -তৃতীয় ক্রুসেড: প্রথম ফ্রেডেরিক বারবারোসা জেরুজালেমের দিকে একটি বাহিনীর নেতৃত্ব দেয়ার সময় গোকসু নদীতে ডুবে যান।

 

এই দিনে মৃত্যুবরণ করেন যারা—-

২০০০ – (ক) হাফেজ আল-আসাদ, সিরিয়ার রাষ্ট্রপতি ছিলেন।

(খ) – ব্রায়ান স্ট্যাদাম, ইংলিশ ক্রিকেটার।

২০০১ – লেইলা পাহলভি, ইরানের রাজকন্যা।

২০১৪ – গ্যারি গিলমোর, প্রখ্যাত অস্ট্রেলীয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার ছিলেন।

২০১৯ – গিরিশ কারনাড, ভারতীয় ভাষাবিজ্ঞানী ও চলচ্চিত্র পরিচালক।

২০২১ – বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত, ভারতীয় বাঙালি কবি ও চলচ্চিত্র পরিচালক।

১৯০২ – জ্যাসিন্ট ভার্ডাগুয়ের, কাতালান কবিদের মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি।

১৯২৬ – অ্যান্টনি গাউদি, স্প্যানিশ কাতালান স্থপতি ছিলেন।

১৯৪৮- বাঙালি লেখক অতুলচন্দ্র সেন।

১৯৪৯ – সিগ্রিড উন্ড্‌সেট, নরওয়ান ঔপন্যাসিক।

১৯৫১ – এস ওয়াজেদ আলি, বাঙালি সাহিত্যিক।

১৯৬৫ – অতীন্দ্রনাথ বসু, ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনকারী বাঙালি বিপ্লবী।

১৯৬৭ – স্পেন্সার ট্রেসি, মার্কিন অভিনেতা।

১৯৮২ – রাইনার ভের্নার ফাসবিন্ডার, পশ্চিম জার্মান চলচ্চিত্র নির্মাতা, অভিনেতা এবং নাট্যকার।

১৯৮৭ – এলিজাবেথ হার্টম্যান, মার্কিন মঞ্চ ও চলচ্চিত্র অভিনেত্রী।

১৯৯৩ – বিশিষ্ট বাঙালি বিজ্ঞানী ও চিকিৎসক সুধীরনাথ সান্যাল।

১৯৯৬ – জো ভ্যান ফ্লিট, আমেরিকান অভিনেত্রী।

১৮৩৬ – অঁদ্রে-মারি অম্পেয়্যার, ফরাসি পদার্থবিজ্ঞানী।

১৮৬৮- সার্বিয়ার রাজা তৃতীয় মাইকেল।

১৮৭৭ – বাংলার অগ্রগণ্য সমাজপতি মহারাজা রমানাথ ঠাকুর।

১১৯০- রোম সম্রাট ফ্রেডরিক বারবারোসা।

৭৫৪ – আস-সাফাহ, প্রথম আব্বাসীয় খলিফা।

৩২৩ খ্রিস্টপূর্বাব্দ – মহান আলেকজান্ডার, প্রাচীন গ্রিক রাজ্য শাসনকারী আর্গিয়াদ রাজবংশের একজন রাজা।

 

।।তথ্য : সংগৃহীত ইন্টারনেট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ

জানুন, বজ্রবিদ্যুৎ মাথায় নিয়েও কেমন করে প্রাণকৃষ্ণ বাবা ভাগবত কথা বলতে থাকলেন : রাধাবিনোদিনী বিন্তি বণিক।

শ্রীপ্রাণকৃষ্ণ  দাস বাবাজী মহারাজ প্রভুপাদ প্রাণগোপাল গোস্বামীর শিষ্য। ত্রিপুরা জেলার ভবানীপুর গ্রামে দেবশর্মা বংশে জন্মগ্রহণ করেন প্রাণকৃষ্ণ দাস বাবাজী। পিতার নাম দীননাথ ও মাতা রেবতীদেবী। বৈশাখ মাসে শুভ পূর্ণিমা তিথিতে আবির্ভূত হন তিনি। বিদ‍্যাধ্যয়নেও গভীর মনোযোগী ছাত্র ছিলেন । অকস্মাৎ মাতৃবিয়োগ হয় কিশোর বয়সে। পিতার বাৎসল‍্যে বড় হতে থাকেন।
দৈবেচ্ছায় একদিন স্বপ্নে গিরীধারীর দর্শন পেলেন। আর তবে থেকেই মনের সুপ্ত ভজন সংস্কারের উদ্গম হল। মন সর্বক্ষণ উচাটন থাকে কতদিনে সাক্ষাৎভাবে সেই নয়নাভিরাম ব্রজেন্দ্রনন্দনের দর্শন পাবেন এই ভাবাবেগে। বিধি কৃপাময় হলেন। দর্শন পেলেন তিনি প্রভুপাদ প্রাণগোপাল গোস্বামীপাদের। দর্শন মাত্র আত্মসমর্পণ করে দিলেন প্রভুপাদের পদারবিন্দে। মনে হল এই তো সেই ঈপ্সিত ধন, যাঁর জন্য এত ব‍্যাকুলভাবে অপেক্ষা করছিলেন এতকাল। তাঁর অস্থির মন সুস্থির হল। মন বলতে থাকলো, এই তো সেই যোগ্য কান্ডারী, যিনি তাঁকে অনায়াসে ভবনদী পার করে গিরিধারীর নিত‍্যদেশে নিয়ে যাবেন।
সেসময় প্রভুপাদ প্রাণগোপাল গোস্বামী নদীতে স্নান করছিলেন। আর প্রাণকৃষ্ণ বাবা খেয়া-পারাপার করে এপারে আসছিলেন। তিনি নৌকা থেকেই দেখলেন স্নানরত প্রভুপাদকে। নৌকা থেকে নেমে অপেক্ষা করতে থাকলেন কতক্ষণে প্রভুপাদ স্নান করে নদী থেকে উঠে আসবেন। যে মুহুর্তে তিনি সিক্ত বদনে উঠে এসেছেন প্রাণকৃষ্ণ বাবা লুটিয়ে পড়লেন তাঁর চরণে। কিশোর প্রাণকৃষ্ণের লাবণ্যময় অঙ্গ, শান্ত ভাব, অপরূপ কান্তি, তেজোময় দীপ্তি দেখে মন ভরে গেল প্রভুপাদের। তিনি নাম, পরিচয়, দেশ, কী কারণে আগমন সব একে একে ধীরে ধীরে জানলেন। সঙ্গে করে নিয়ে এলেন নিজের আলয়ে। তাঁর মাতা তথা শ্রীগুরুদেবী সারদা সুন্দরী দেবীর কাছে অর্পণ করলেন। বড়মাতাও প্রাণকৃষ্ণের ভাব দেখে প্রসন্ন হলেন তাঁর প্রতি। প্রভুপাদের গৃহেতেই প্রাণকৃষ্ণ থাকতে লাগলেন। প্রাণকৃষ্ণ বাবা নিজের অভিলাষের কথা ইতিমধ্যেই ব্যক্ত করেছেন। অর্থাৎ, তিনি যে প্রাণগোপাল প্রভুর পদাশ্রয় করে ভজন পরায়ণ হতে চান তা জানিয়েছেন। নিবেদন করেছেন দীক্ষা প্রদানের জন্য। বড় মাতা সারদা সুন্দরী দেবীর সন্তান যেমন প্রভুপাদ, তেমন শিষ্যও আবার।তাই বড়মাতা সব শুনে হাসলেন।

 

বড় মাতা একদিন প্রাণগোপাল প্রভুপাদকে আদেশ করলেন দীক্ষা অর্পণ করতে প্রাণকৃষ্ণ বাবাকে। তিনি বললেন, “প্রাণগোপাল, তুমি প্রাণকৃষ্ণকে দীক্ষা দাও। আমি ওর মধ্যে মহাজনসুলভ চিহ্ন দেখতে পেরেছি। সদা অনুরাগী ভক্ত সে। সেবা অভিলাষী। ভোগে বিন্দুমাত্র আশা নেই। বৈরাগ্য ভাব ওর। আমার বিশ্বাস এ তোমার উপযুক্ত শিষ্য হবে। তোমার মুখোজ্জ্বল করবে একদিন। তুমি একে অঙ্গীকার করে নাও।”
মাতার আদেশ পেয়ে হৃষ্টমনে এক শুভদিনে যুগলমন্ত্রে দীক্ষা দিলেন প্রাণগোপাল প্রভু প্রাণকৃষ্ণ  বাবাকে। তিনি আত্মসাৎ করে নিলেন তাঁকে। আর প্রাণকৃষ্ণ বাবা তো প্রথম দিনই দর্শন মাত্র আত্মসমর্পণ করেছিলেন, এখন দীক্ষা মন্ত্র পাবার পর বাহ‍্যজ্ঞানশূন্য হয়ে কায়মনোবচনে সেবা শুরু করলেন সর্বভাবে দ্বিধাহীন চিত্তে। তাঁর নিষ্ঠাভক্তি দেখে বড় মাতা সারদা সুন্দরী দেবীও শক্তি সঞ্চার করে দিলেন আপন প্রশিষ্যকে। আর প্রভুপাদ প্রাণগোপালের তো কথাই নেই। তিনি সর্বশক্তি উজাড় করে দিলেন প্রিয় শিষ্য প্রাণকৃষ্ণকে। তাঁর কাছে থেকেই নিত্য, বাদ্য, গীত শিক্ষা করলেন প্রাণকৃষ্ণ বাবা। প্রভুপাদের কাছে ভক্তিগ্রন্থ অধ্যয়ন করে পাণ্ডিত্য অর্জন করলেন। মহানন্দে ভজন করতে থেকে ভজনানন্দী হলেন।
এমন করে বহুকাল কাটলো। তারপর একসময় প্রাণগোপাল প্রভুর থেকে আদেশ পেয়ে নবদ্বীপ ধাম ভ্রমণ করে তীর্থ পর্যটনে বের হলেন প্রাণকৃষ্ণ বাবা। নানা তীর্থ দর্শন করে, উপনীত হলেন বৃন্দাবনে রাধাকুণ্ডতটে। সেখানে তখন ভজন করতেন সিদ্ধ বাবা গৌরকিশোর মহারাজ। তিনি কোন শিষ্য করতেন না। সদা নিগূঢ় ভজনানন্দী মহাত্মা। তাঁর গুণগাথা ভক্ত মুখে শ্রবণ করে একদিন তাঁর চরণ দর্শন করতে এলেন প্রাণকৃষ্ণ বাবা। তাঁকে দর্শন করে, নিত্য সঙ্গ-সান্নিধ্য লাভ করে এত অনুপ্রাণিত হলেন যে, তিনি গৌরকিশোর বাবার কাছে বেশাশ্রয় ভিক্ষা করলেন। নিত্য তাঁর নিষ্ঠাভরা সেবায় গৌরকিশোর  বাবার চিত্ত ততদিনে করুণায় সম্পৃক্ত হয়ে গেছে তাঁর প্রতি। কিন্তু, তিনি যেহেতু শিষ্য করেন না তাই প্রথমে সম্মত হননি। অবশেষে প্রাণকৃষ্ণ বাবার নিষ্ঠা, কাকুতি-মিনতি, আর্তির কাছে বশীভূত হলেন।

 

প্রাণকৃষ্ণ বাবার দু’নয়ন দিয়ে অবিরাম প্রেমাশ্রু ঝড়তো। সুখ-দুঃখ বলে কোন ব্যাপার ছিল না। সদা-সর্বদা গৌরনাম নিতেন। অনন‍্য রতি তাঁর ছিল শ্রীগৌরাঙ্গের পদে। তাঁর অনুরাগ দেখে  ভেকপ্রদানে আর অরাজী থাকতে পারলেন না গৌরকিশোর বাবা। তিনি ভেকপ্রদান করলেন প্রাণকৃষ্ণ বাবাকে। ভেকাশ্রয়ী  হয়ে প্রাণকৃষ্ণ বাবার প্রেমানুরাগ আরও বহুলাংশে বৃদ্ধি পেল। গৌরকিশোর বাবার কৃপা শক্তিতে না জানি কী বল পেলেন ভজনে তিনি, কখনো হাসেন, কখনো কাঁদেন, অদ্ভুত প্রেম প্রকাশ পেল তাঁর মধ্যে। অনুক্ষণ বাবা মহারাজের সেবায় তিনি নিমজ্জিত থাকেন । বাবা মহারাজও মহা প্রসন্ন হন এহেন প্রেমানুরাগী, নিষ্ঠাবান, সেবাপরায়ণ শিষ্য পেয়ে।
অবশেষে একদিন গৌরকিশোর বাবার থেকে অনুমতি নিয়ে মহা উদাসীন প্রাণকৃষ্ণ বাবা তীর্থ পযর্টনে যাত্রা করলেন। করঙ্গ-কৌপীন, ছেড়া কাঁথা সঙ্গে নিয়ে, ছিন্নবাস পরিধান করে প্রাণকৃষ্ণ বাবা ভ্রমণ করতে থাকলেন। যেখানে সেখানে রাত কাটান, কখনো ভক্ষণ, কখনো উপবাসে থাকেন, কখনো নৃত‍্য-গীত করেন, কখনো বা হুঙ্কার পারেন, কভু দ্রুত পদচারণা,  তো কখনো অতি ধীরে যাত্রা। প্রেমেতে সদা তাঁর টলমল দশা, ভাবাবেশে বিহ্বল তিনি। এভাবে নানা তীর্থ ভ্রমণ করে এবার উদ্দেশ্য দ্বারকায় গমন। কত নদী, কত পাহাড় অতিক্রম করে, কত জনপদ পিছু রেখে অবশেষে শ্রীমতীর ইচ্ছায় তিনি পথভ্রষ্ট হলেন। দ্বারকার পরিবর্তে উপনীত হলেন মরুভূমির দেশে। তাঁর সঙ্গে আরও তিনজন ছিলেন। বহু পরিশ্রমে মরুভূমি অতিক্রম করে সিন্ধুর দর্শন পেলেন। দু’জন তো ক্লান্ত হয়ে ফিরে গেলেন। কিন্তু প্রাণকৃষ্ণ বাবা প্রেমাবেশে চলতে চলতে সেই দুর্লঙ্ঘ্য পথের যাত্রায় থেকে গেলেন। তৃষ্ণায় আকুল হয় প্রাণ। জলের দেখা কোথাও পাবার সম্ভাবনা নেই। কিন্তু, রাধারাণীর কৃপায়, অবশেষে জলের সন্ধান পেলেন সেই মহা মরুভূমিতেও। বাবা এক খেজুর বৃক্ষের যৎসামান্য ছায়ায় বসে যখন ক্লান্ত-অবসন্ন দেহে ভাবছেন যে এবার বুঝি প্রাণ চলে যাবে জলতেষ্টায়, তখন দেখেন অদূরে কিছু ভাটপত্র পড়ে আছে। তিনি সেই ভাটপত্রের কাছে কী মনে হতে গেলেন। আর ভাটপত্রের কাছে যেতেই দেখেন সেটি আসলে এক জলকুন্ড। সুশীতল  বারিতে পরিপূর্ণ সেই কুন্ড। কুন্ডের বারিতে স্নান-পান করে তখন তাঁর জীবনরক্ষা হল শ্রীমতীর কৃপায়। দেহের ক্লান্তি দূরীভূত হলে আবার যাত্রা শুরু করলেন শ্রীগৌরচরণ স্মরণ করে। গৌরনাম করেন, গৌরপদ ধ্যান করেন আর পদব্রজে চলতে থাকেন।
চলতে চলতে তিন দিন অতিক্রান্ত হল আরও। উপবাসে অনাহারে আছেন। পেলেন এক মহাবন পথে। সেই দুর্গম বনপথে চলে চলেছেন। হঠাৎ দেখলেন সুবিশাল বৃক্ষের তলায় এক মহাযোগী বসে আছেন। অতি দীর্ঘ জটা তাঁর, অপরূপ অঙ্গকান্তি, বিপিন ঝলক বপু থেকে, দর্শনেই মন-প্রাণ হরণ হয়ে যায়। আশ্চর্য হলেন প্রাণকৃষ্ণ বাবা তাঁকে দেখে। অমন দুর্গম বনে একাসনে বসে সাধনা করে চলেছেন দিবারাত্র ! তিনি প্রণত হলেন, স্তব-স্তুতি করে সেখানে করজোড়ে দাঁড়িয়ে থেকে যোগী বাবার ধ্যান ভাঙ্গার অপেক্ষা করতে থাকলেন। এক সময় চোখ খুললেন যোগী বাবা। তিনি বললেন, “এই গভীর বনে তো কোন মানুষ আসে না, ঢোকে না।  তুমি কী ভাবে এলে?” প্রাণকৃষ্ণ বাবা বললেন আমি তীর্থ দর্শন করতে বেরিয়ে ভ্রমণ করতে করতে এখানে এসে পড়েছি। জানি না এ স্থান কোথায়, কী নাম! যোগীবর বললেন, “আমি এখানেই বারো বছর ধরে সাধনা করছি। এই প্রথম কোন মানুষের দেখা পেলাম। আচ্ছা, তুমি ক্ষিদেতে কষ্ট পাচ্ছ তো! যাও, ওখানে এক কূপ আছে , স্নান করে আসো।”
প্রাণকৃষ্ণ বাবা যোগীবরের  কথা মতন স্নান করে এলেন। যোগীবর ধ্যান করে এক কামধেনু আনালেন। কামধেনুর বাটের তলায় পাত্র পেতে দিতে আপনা থেকে সে পাত্র দুগ্ধপূর্ণ হয়ে গেল।যোগীবর সে পাত্র অর্পণ করলেন প্রাণকৃষ্ণ বাবাকে। বাবা পান করতেই দেহের সব ক্লান্তি দূর  হয়ে গিয়ে মহাবল ফিরে পেলেন যেন । তবে পানের আগে যোগীবরকেও সেধেছিলেন তিনি।তখন যোগীবর জানান যে তিনি সন্ধ্যার সময় পান করবেন, তার আগে পান করেন না। সেদিন সারারাত কৃষ্ণকথা রসে মজলেন তাঁরা দু’জন। পরদিন প্রভাতে যোগীবর পথ বলে দিলেন। সেই পথে যাত্রা শুরু করলেন আবার প্রাণকৃষ্ণ বাবা। তিনি মহানন্দে গমন করতে করতে যখন পিছন ফিরে আবার একবার যোগীবরকে দর্শন করে নিতে গেলেন শেষবারের মতন, দেখেন কোথায় কী! সব উধাও! যোগীবর আর নেই সেই স্থানে। এমনকি সেই মহা বিশাল বটবৃক্ষও  নেই। ক্ষণিকের মধ্যে অন্তর্দ্ধান করেছে সব‌। অত্যন্ত আশ্চর্য হয়ে গেলেন প্রাণকৃষ্ণ বাবা  এ ঘটনায় ।
নানান ভাবনায় নিমজ্জিত হয়ে তিনি পথ দিয়ে যাচ্ছেন। যেতে যেতে হঠাৎ দেখেন বিশাল এক দীর্ঘ দেহের বাঘ বসে সামনে। হঠাৎ করে চোখে পড়ায় প্রথমে তিনি চমকে ওঠেন স্বাভাবিকভাবেই। কিন্তু পরমুহুর্তেই নিজেকে সামলে নিয়ে যেই না তিনি “জয় নিত্যানন্দ” বলে এক হুঙ্কার পেরেছেন, অমনি বাঘ লম্ফ দিয়ে সে স্থান ত‍্যাগ করে পালিয়েছে প্রাণভয়ে। নিতাই নামের ধ্বনির এমনই মাহাত্ম্য। নাম মহিমার প্রমাণ পেলেন প্রাণকৃষ্ণ বাবা। তিনি নামানন্দে মজে নিশ্চিন্তে আবার যাত্রা করতে থাকলেন। এবার নির্বিঘ্নে নিরাপদে এক লহমায় বনপথ অতিক্রম করে ফেললেন যেন তিনি। প্রেমভরে নাম নিতে নিতে কখন যে বনপথ পার করে ফেলেছেন বুঝতেই পারেন নি। দেখলেন অনতিদূরে এক জনবসতি।
গ্রামে পৌঁছে জানালেন, সেখানে নিকটে এক সাধু থাকেন। লোকমুখে প্রশংসা শুনে তাঁর কাছে গেলেন। তিনি সারাদিন গুহায় বসে ধ‍্যান করেন, আর সন্ধ‍্যের পর গুহা থেকে বেড়িয়ে এসে গভীর বনে প্রবেশ করে যান। সাধু কুটিয়া থেকে বেড়োতেই প্রাণকৃষ্ণ বাবা দন্ডবৎ প্রণাম করলেন। অনেক স্তব-স্তুতি করলেন। তারপর নিবেদন করলেন, “বাবা, আমাকে একটু কৃপা করুন, যাতে আমি ভজন পথে অগ্রসর হতে পারি।” সাধু বাবা বললেন, “কৃপা চাও! তবে যাও ঐ কুয়োতে ঝাঁপ দাও।” এই বলে অঙ্গুলি নির্দেশ করে পাশের একটি কুয়ো দেখিয়ে দিলেন। আর তার মুখের বাক্য শেষ হওয়া মাত্র প্রাণকৃষ্ণ বাবা গিয়ে কুয়োতে ঝাঁপ দিলেন। কুয়োর গভীর জলের মধ্যে পড়ে প্রভু যখন ছটফটাচ্ছেন, দেখলেন কুয়োর মধ্যে শূন‍্যপথে ভাসছেন সাধুবাবা। সাধুবাবা হাত বাড়িয়ে তুলে নিলেন প্রাণকৃষ্ণ বাবাকে। কুয়োর বাইরে এনে নিজের গুহার মধ্যে প্রবেশ করতে দিলেন বাবাকে। তারপর বন থেকে আনা কন্দ খেতে দিলেন। সে কন্দ খেয়ে এক অদ্ভুত ব‍্যাপার ঘটেছিল। টানা সাতদিন ক্ষুধা-তৃষ্ণা কিছু পেয়েছিল না প্রাণকৃষ্ণ বাবার। প্রেমে মত্ত ছিলেন। সেদিন সারারাত্রি কৃষ্ণকথা আলাপ করে কাটলো। প্রভাত হতে আবার বাবা যাত্রা শুরু করেন। সাধুবাবাই পথনির্দেশ করে দিয়েছিলেন এক মন্দিরের। সেই পথ ধরে যেতে যেতে একসময় দর্শন পেলেন এক বিপ্রের। প্রাণকৃষ্ণ বাবা তাঁকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন আর কতদূর গেলে মন্দির দর্শন হবে। বিপ্র বললেন, “আর বেশী দূরে নেই। আপনি ধৈর্য ধরে আর কিছু পথ গেলেই দর্শন পাবেন। আমি তো ওই মন্দিরেরই পূজারী। পূজা দিয়ে ফিরছি। নিন্ প্রসাদ খান।” এই বলে প্রাণকৃষ্ণ বাবার হাতে ধরিয়ে দিলেন একটি লাড্ডু। ভগবানের প্রসাদ পেয়ে মহানন্দিত হলেন বাবা। দিব‍্য সে প্রসাদের সুগন্ধ এমন যে মন-প্রাণ হরণ করে নেয়। নানা ভাবের স্ফূরণ হল তাঁর প্রসাদ পেতে পেতে। এরপরই তিনি পিছনে ফিরে দেখেন বিপ্র নেই আর। বিস্মিত হলেন তিনি, ভাবলেন তবে কী পেয়েও হারালাম আমার ইষ্টদেবকে!” তিনি সত্বর মন্দিরের পথে পা বাড়ালেন। কিন্তু অনেক খোঁজ করেও বিপ্রের কোন সংবাদ পেলেন না। শ্রীমন্দিরে বিগ্রহ দর্শন করে আবার যাত্রা শুরু করলেন। এভাবে তাঁর চলার পথে  নানাভাবে দয়াময় শ্রীকৃষ্ণ কৃপা করেছেন কখনো অলক্ষ্যে কখনো বা অন্য রূপ ধরে এসে।

 

চলতে চলতে প্রাণকৃষ্ণ বাবা পুনরায় ফিরে এলেন বৃন্দাবনের কুণ্ডতটে। শ্রীরাধাকুণ্ডতটে গভীর সাধনায় মগ্ন হলেন তিনি টানা পাঁচ বছর। কেবলমাত্র বৃক্ষের পত্র ভক্ষণ করে কাটিয়ে অষ্টকালীন লীলা স্মরণ করে ভজন করেছেন। পাঁচ বছর পর বৃন্দাবনের সকল মহিমাময় স্থানে কুঞ্জে-কুঞ্জে বিহার করেছেন। সকল লীলাস্থলী দর্শন করেছেন একে একে। প্রতিটি গ্রামে গেছেন যেখানে যেখানে যুগল লীলা করেছেন, আর দৈন্য ভরে প্রার্থনা করেছেন যাতে তাঁরা প্রকট হয়ে দর্শন দেন তাঁকে।
বৃন্দাবনের বন ভ্রমণ করতে করতে একসময় মিলন হল পরম রসিক কৃপাসিন্ধু মহারাজের সঙ্গে। রসিক রসিককে পেয়ে মহারসের পারাবার উথলিত হল। উভয়ে ইষ্টগোষ্ঠী করে দারুণ সুখে দিন কাটাতে থাকলেন। এদিকে প্রভুপাদ প্রাণগোপাল গোস্বামী জানতে পারলেন যে তাঁর প্রিয় শিষ্য বৃন্দাবনে ফিরে এসেছে। তিনি অবিলম্বে নিজে গিয়ে কৃপা করে দেখা দিলেন শিষ্যকে। বললেন, “প্রাণকৃষ্ণ, আর মনে দ্বিধা না রেখে আমার আজ্ঞা শিরে নিয়ে এবার তুমি বঙ্গদেশে গমন কর। জানোতো, ধন অনেক উপার্জন করার পর যদি ধনবান তাঁর ধন দীনজনকে না বিতরণ করে, তবে তা কৃপণের কর্ম হয়। তুমি প্রেমধনে ধনী হয়ে গেছো অনেক। এবার তো তোমার বিতরণ করার পালা। নিত‍্য একা একা প্রেমফল খাবে, অপরকে দেবে না, তা তো উচিৎ কর্ম হবে না ! সুধীজনেরা অন্যকে ভোজন করিয়ে নিজে সুখী হয়। কেউ আচার করে, কেউ বা প্রচার করে। তুমি আচার-প্রচার দুটোই কর এবার একসাথে। স্বয়ং শ্রীগৌরাঙ্গ আদেশ দিয়েছেন যে, নিজে খাও, অপরকে প্রেমফল বিলাও। এবার তো মহাপ্রভুর আদেশ পালন করতে হবে তোমায়।”
প্রাণকৃষ্ণ বাবা তখন বললেন, “আমি কী পারবো!”
প্রভু প্রাণগোপাল গোস্বামীপাদ বললেন, “কেন পারবে না! আমি তোমায় কৃপাশীষ করছি তুমি অতি সহজেই সকলকে প্রেমে ডোবাতে পারবে।”
শ্রীগুরুআজ্ঞা মেনে প্রাণকৃষ্ণ বাবা বঙ্গদেশে ফিরে এলেন। তিনি প্রভুপাদের সঙ্গেই নানা স্থানে বিহার করে নাম-প্রেম প্রচার করতে থাকলেন। কত পাষন্ডী, কত তার্কিক উদ্ধার হল। গৌরগুণগানে মত্ত হল লোকে। মায়া-মোহে আচ্ছন্ন কত লোক ভক্তিপথের সন্ধান পেল বাবার ভাগবত ব‍্যাখ‍্যা শ্রবণ করে, তাঁর সঙ্গে নামে মজে। বাবা নিজে কেঁদে অপরকে কাঁদালেন। নিজের শক্তিবলে বিশুদ্ধ ভক্তির সন্ধান দিয়ে ধন‍্য করলেন কত মানুষের ভজন জীবন।
অনেক বৎসর পর আবার এলেন বৃন্দাবন ধাম। শ্রীল লোকনাথ গোস্বামীর চরণ সমীপে থাকলেন। শ্রীরাধাবিনোদ দর্শন করে বশীভূত হলেন বিগ্রহের প্রেমে। এরপর গেলেন গোকুলানন্দ ঘেরায়। সেখানে ভেটনামায় ঘর নিয়ে নীলু ভক্ত ও অন‍্যান‍্য ভক্তদের সঙ্গে একসাথে বিহার করলেন। কিছুদিন কাটালেন সেখানে। এরপর এলেন গোপেশ্বর মহল্লায়। সেখানে ভক্তিকুঞ্জের প্রকাশ করলেন। সদা নাম-পাঠ-গানে ব‍্যস্ত থাকেন। অযাচিত ভাবে প্রেম প্রদান করেন স্ত্রী-পুরুষ, শূদ্র-ব্রাহ্মণ নির্বিশেষে সকলকে। তিনি পূর্ববঙ্গের যশোহর, খুলনা, নোয়াখালি, ত্রিপুরায়, পশ্চিমে নানা স্থানে প্রেমপ্রদান করেছেন। গৌরপ্রেম প্রচার করেছেন। শ্রীগুরু বলে বলীয়ান প্রাণকৃষ্ণ বাবা পুনরায় বৃন্দাবনে আসেন। পাথর পুরায় এসে ভক্তি মন্দির প্রকাশ করলেন। শ্রীমদনগোপাল বিগ্রহের সেবার প্রারম্ভ করলেন। প্রতিবছর সেখানে মহা মহোৎসব করতেন, ঝুলন যাত্রা ও অন‍্যান‍্য তিথি পালিত হত। চৌষট্টি মোহান্তের ভোগ লাগতো। কতশত বৈষ্ণবরা উপস্থিত হতেন সেসকল মহোৎসবে। পরম যত্নে বৈষ্ণব সেবা করে কৃতকৃতার্থ  হতেন প্রাণকৃষ্ণ বাবা।

 

অনেককাল পরে এলেন বঙ্গদেশের কুমারহট্টে শ্রীগৌরাঙ্গের শ্রীগুরুদেব শ্রীঈশ্বরপুরী পাদের জন্মভিটায়। সেই স্থানে তখন শ্রীমন্ মহাপ্রভুর শ্রীহস্তে খোদিত চৈতন‍্যডোবা। ‘মম জীবন প্রাণ’ বলে পুরীজীর জন্মভিটাকে স্তুতি করেছিলেন মহাপ্রভু —–একথা জেনে ব্যাকুল প্রাণে চৈতন্যডোবা দর্শন করতে এসেছিলেন প্রাণকৃষ্ণ বাবা। সেস্থানে এসে দেখেন অরণ্যে আবৃত্ত চারিপাশ, লুপ্ততীর্থ প্রায়। কীভাবে জন্মভিটার সন্ধান পাবেন! শুরু করলেন সংকীর্তন। যে স্থানে চৈতন্যডোবাটি ছিল সেই স্থানে কীর্তন কালে অন্তরে মহাপ্রভুর নির্দেশ পেলেন। প্রাণকৃষ্ণ বাবা অনুভব করলেন যে, ওই স্থানেই ছিল পুরীজীর জন্মভিটা। সেই স্থান তিনি ক্রয় করে নিলেন। আপ্রাণ চেষ্টা করে নিজ হাতে জঙ্গলাদি পরিষ্কার করে জমি সংস্কার করলেন। তারপর মন্দির স্থাপন করলেন। মন্দিরে শ্রীরাধাবিনোদসহ নিতাই-গৌর বিগ্রহ স্থাপন করলেন। প্রেম সেবার সূচনা করে শিষ্য-ভক্তদের নিয়ে উৎসব করলেন। সেবার পরিপাটি দেখে আঁখি জুড়িয়ে যায়। প্রতিবছর ফাল্গুন মাসের কৃষ্ণা তৃতীয়া দিবসে গৌর আগমন স্মরণোৎসবের আয়োজন করতেন। অত্যাদ্ভুত কীর্তন লীলা, নৃত্য-গীত যাঁরা দেখতেন, শুনতেন, অংশগ্রহণ করতেন ধন্য হয়ে যেতেন। সারা বৎসরের সকল ব্রত, তিথি মহোৎসব পালন হত শ্রীমন্দিরে নিষ্ঠা ও প্রেমসহ।
ইতিমধ্যে প্রভুপাদ প্রাণগোপাল গোস্বামী গুরুতর অসুস্থ হলেন। শিষ্য প্রাণকৃষ্ণ বাবা সবিনয়ে সে রোগ গ্রহণ করতে চাইলেন। তিনি বললেন, “প্রভু আপনি রোগে কষ্ট পাবেন, আর আমি এই রোগহীন হয়ে সুখে ঘুরে বেড়াব এ কখনোই হতে পারে না। আমি আপনার শিষ্য, তাই আপনার বোঝা বহন করার দায়িত্ব আমার। আপনি কৃপা করে অধিকার দিন।” এরপরই প্রাণগোপাল প্রভু সুস্থ হয়ে যান আর প্রাণকৃষ্ণ বাবা সেই রোগে অসুস্থ হন। তিনি সেই রোগচিহ্ন নিয়েই নাম-সংকীর্তন , পাঠ-প্রবচন, নর্তন করতেন। আর আশ্চর্যের বিষয়, যখন তিনি এসব করতেন, তখন সেই রোগের প্রকোপ তাঁর দেহে থাকতো না।
প্রাণগোপাল বাবা নোয়াখালিতে হাজিপুরের কাছে বিশ বিঘা জমিতে এক উৎসবের আয়োজন করেছিলেন। সেই মহা মহোৎসবে অগণিত লোক অংশ নিয়েছিলেন, অসংখ্য কীর্তনের দল এসেছিলেন। প্রায় ৬০০ জন লোক কেবল রন্ধনের কার্য‍্যেই ব‍্যস্ত ছিলেন। অতএব, কত জনসমাগম যে হয়েছিল তা সহজেই অনুভূত হয়। টানা সাত দিন বাবার ক্ষিদে-তেষ্টা বলে কিছু ছিল না। কখনো তিনি তদারকি করছেন সবের, কখনো বা নৃত‍্য-গীতে ব‍্যস্ত, আবার কখনো সমাধি মগ্ন। সে এক পরম অদ্ভুত আবেশ তাঁর ভিতর।
আর একবার তো এক অলৌকিক কান্ড ঘটালেন। ফেনীর উত্তর দিকে পাঠাঙ্গর গ্রামে, যখন তিনি ব‍্যাসাসনে বসে প্রবচন দিচ্ছেন তখন হঠাৎ করে বজ্রবিদ্যুৎ পতন শুরু হয় ভয়ানক ভাবে। ভক্তরা প্রাণভয়ে ভীত হচ্ছে দেখে তিনি সকলকে আশ্বস্ত করলেন এই বলে যে, “তোমরা চিন্তা করো না। যে ইন্দ্রদেব এই ঘটনা ঘটাচ্ছেন, তিনিও ভক্তদেরকে মান্য করেন। তোমরা স্থিরভাবে বসে পাঠে মন দাও। দেখবে সকল বিপদ দূরে সরে যাবে।” বাস্তবিক তাই হল। সেই স্থান বাদ দিয়ে সকল স্থানে ভারী বর্ষণ হল, কিন্তু, উৎসবের স্থানে এক ফোটাও বৃষ্টি হল না। বাবার নির্দেশমত সকলে স্থির চিত্তে গভীর মনোযোগ দিয়ে পাঠে মনোনিবেশ করে বসেছিলেন। পাঠাঙ্গর গ্রামের সেই মহোৎসব শেষে সকল গ্রামবাসী প্রেমপ্রাপ্ত হয়ে ধুলায় গড়াগড়ি দিয়েছিলেন। চতুর্দিক ধন্য ধন্য করেছিল তাঁর লীলা দেখে।
প্রাণকৃষ্ণ বাবার বৈরাগ্য ছিল অপরিসীম। তিনি ধাতুপাত্র বর্জন করে, মৃৎপাত্রে প্রসাদ পেতেন, ভূমিতলে শয়ন করতেন, দিবানিশি নামে মজে থাকতেন।
যেদিন বাবা লীলাসঙ্গোপন করলেন সেদিন মহোৎসব শেষে সকল ভক্তদের প্রসাদ পাবার পর তিনি শয়নে গেলেন। বললেন যে, তাঁর দেহ অবশ, আর তিনি উঠবেন না, সেই তাঁর শেষ শয‍্যা। তাই শেষ পূজা দিয়ে নিতে চান। তাঁর আজ্ঞামত তাঁর বক্ষের ওপর রেশমী আসন পাতা হল। তারপর, তাঁর গুরুদেবের চিত্রপট বসানো হল সেই আসনের ওপর। তিনি পূজা করলেন। তাঁর নির্দেশমত পঞ্চতত্ত্ব চিত্রপটও বসানো হল তাঁর বক্ষের ওপর। তিনি পূজা করলেন। এরপর, রাধাবিনোদ বিগ্রহ বসানো হল তিনি পূজা দিলেন। বিগ্রহ নামানো হল বক্ষ থেকে। তিনি ধ‍্যানমগ্ন হলেন শয়ন অবস্থাতেই। লীলা সম্বরণ করলেন বাবা। তখন ছিল আষাঢ় মাসের শেষে শুক্লা চতুর্দশীর রাত্রে চতুর্থ প্রহর। সকল  শিষ্য-ভক্তরা চতুর্দিক অন্ধকার দেখলেন তাঁর অদর্শনে।
প্রসঙ্গত, লিখছি, প্রাণকৃষ্ণ বাবা এ অধমার পরাৎপর গুরুদেব। আমার পরমগুরু শ্রীগুরুপদ দাস বাবা প্রাণকৃষ্ণ বাবার জীবনীকথা বলেছিলেন আমার গুরুদেব শ্রীকিশোরীদাস বাবাকে। গুরুপদ দাস বাবার আজ্ঞায় কিশোরীবাবা প্রকাশ করেছিলেন তাঁর লেখনীতে। আর এখন আমি কিশোরীদাস বাবার আজ্ঞায় লেখার ক্ষুদ্র প্রয়াস করলাম। দোষ-ত্রুটি তাঁদের ক্ষমাসুন্দর নয়নে দেখবেন এই প্রার্থনা জানালাম তাঁদের পদ-পঙ্কজে।

Share This
Categories
রিভিউ

আজ ৯ জুন, ইতিহাসের আজকের এই দিনে যা ঘটেছিল।

আজ ৯ জুন। ইতিহাস ঘেটে দেখা যায় বছরের প্রতিটি দিনে ঘটেছে অনেক উল্লেখযোগ্য ঘটনা। আসুন আজকের দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য কিছু বিষয় একনজরে দেখে নিই।  ইতিহাসের আজকের এই দিনে কী কী ঘটেছিল, কে কে জন্ম নিয়েছিলেন ও মৃত্যুবরণ করেছিলেন——-

 

দিবস—–

 

(ক) আর্ন্তজাতিক আর্কাইভস দিবস।

 

আজ যাদের জন্মদিন—-

১৯১৫ – লেস পল, মার্কিন জ্যাজ, কান্ট্রি এবং ব্লুজ গিটারবাদক, গীতিকার এবং আবিষ্কারক।

১৯১৬ – রবার্ট ম্যাকনামারা, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ছিলেন।

১৯৩১ – নন্দিনী শতপতি, একজন ভারতীয় রাজনীতিবিদ এবং লেখক ছিলেন।

১৯৪৯ – কিরণ বেদি, অবসরপ্রাপ্ত ভারতীয় পুলিশ পরিষেবা কর্মকর্তা এবং সামাজিক কর্মী।

১৯৬৩ – জনি ডেপ, মার্কিন অভিনতা, চলচ্চিত্র প্রযোজক এবং সুরকার।

১৯৭৫ – অ্যান্ড্রু সাইমন্ডস, ইংল্যান্ডের বার্মিংহামে জন্মগ্রহণকারী অস্ট্রেলিয়ার সাবেক আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার।

১৯৭৭ – উসমান আফজাল, পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত সাবেক ইংরেজ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার।

১৯৭৮ – মিরোস্লাভ ক্লোসা, জার্মান ফুটবলার।

১৯৮১ – ন্যাটালি পোর্টম্যান, ইসরায়েলী-মার্কিন চলচ্চিত্র অভিনেত্রী।

১৯৮৪ – মাসুদ শোজেই, ইরানি ফুটবলার।

১৯৮৪ – ওয়েসলি স্নাইডার, ডাচ ফুটবলার।

১৯৮৫ – সোনম কাপুর, ভারতীয় অভিনেত্রী।

১৯৮৭ – মুশফিকুর রহিম, বাংলাদেশী ক্রিকেটার।

১৮৩৬ – ইংল্যান্ডের প্রথম নারী মেয়র এলিজাবেথ গ্যারেট অ্যান্ডারসন।

১৮৪৩ – বের্টা ফন জুটনার, অস্ট্রীয় ঔপন্যাসিক এবং শান্তিতে নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রথম নারী কবি।

১৮৭৫ – হেনরি ডেল, ইংরেজ ওষুধবিজ্ঞানী ও শারীরতত্ত্ববিদ।

১৭৮১ – জর্জ স্টিফেনসন, বৃটিশ প্রকৌশলী ও লোকোমোটিভ আবিষ্কারক।

১৬৪০ – রোমান শাসক লিওপড।

১৬৭২ – রাশিয়ার প্রথম পিটার, ১৬৮২ থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত রাশিয়া শাসন করেন।

 

ইতিহাসের পাতায় আজকের দিনের ঘটনাবলী—-

১৯১৫ – আমেরিকান গিটারিস্ট ‘লিস পল’ জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ইলেক্ট্রিক গিটারের বর্তমান রূপের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

১৯২৪ – বুলগেরিয়ায় সামরিক অভ্যুত্থানে জনপ্রিয় সংস্কারবাদী আলেঙ্গান্দার নিহত এবং তার সরকার উৎখাত।

১৯৩১ – প্রথম ডোনাল্ড ডাক কার্টুন প্রদর্শিত হয়।

১৯৪০ – নরওয়ে জার্মানির কাছে আত্মসমর্পণ করে।

১৯৫৬ – আফগানিস্তানে ভূমিকম্পে ৪০০ জনের মৃত্যু হয়।

১৯৫৭ – ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি ইডেন পদত্যাগ করেন।

১৯৬০ – চীনে টাইফুন মেরি আঘাত হানে। এক হাজার ৬০০ জনের মৃত্যু হয়।

১৯৬৭ – ইসরাইলের সঙ্গে যুদ্ধে পরাজয়ের পর মিসরের প্রেসিডেন্ট কামাল আবদেল নাসেরের পদত্যাগ।

১৯৭৩ – স্পেনে এডমিরাল রানেকা প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শপথ গ্রহণ করেন।

১৭৫২ – ভারতের ত্রিচিনোপলিতে ইংরেজদের কাছ ফরাসি সৈন্যরা আত্মসমর্পণ করে।

১৫৩৫ – স্পেনীয় সৈন্যবাহিনী ল্যাতিন আমেরিকার দেশ প্যারাগুয়ে দখল করে। এর মধ্য দিয়ে দেশটিতে ২৭৬ বছরের স্পেনীয় ঔপনিবেশিক শাসনের সূচনা হয়।

৬৮ – রোমান সম্রাট নিরো আত্মহত্যা করেন।

৫৩ – রোমান সম্রাট নিরো ক্লডিয়া অক্টাভিয়াকে বিয়ে করেন।

 

এই দিনে মৃত্যুবরণ করেন যারা—-

২০১১ – মকবুল ফিদা হুসেন, ভারতের জনপ্রিয় চিত্রশিল্পী।

২০১২ – ভারতীয় বাঙালি কবি, ঔপন্যাসিক ও কৃত্তিবাস পত্রিকার অন্যতম প্রথম সম্পাদক আনন্দ বাগচী।

২০১৫ – হেমন্ত কানিদকর, ভারতীয় ক্রিকেটার।

২০২২ – ম্যাট জিমারম্যান, কানাডিয়ান অভিনেতা।

১৯০০ – বিরসা মুন্ডা, ভারতের রাঁচি অঞ্চলের মুন্ডা আদিবাসী ও সমাজ সংস্কারক।

১৯৫৮ – রবার্ট ডোনাট, ইংরেজ চলচ্চিত্র ও মঞ্চ অভিনেতা।

১৯৫৯ – এডলফ অটো রিনহোল্ড উইনদস, নোবেলজয়ী জার্মান রসায়ন বিজ্ঞানী।

১৯৬৮ – বঙ্কিমচন্দ্র সেন, বাঙালি সাংবাদিক ও দেশ (পত্রিকা)র সম্পাদক।

১৯৮৯ – জর্জ ওয়েলস বিডেল, মার্কিন জিনবিজ্ঞানী।

১৮৩৪ – উইলিয়াম কেরী, বৃটিশ খ্রিস্টান ধর্মপ্রচারক ও বাংলা গদ্যরীতির প্রবর্তক।

১৮৭০ – চার্লস ডিকেন্স, ঊনবিংশ শতকের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ইংরেজ ঔপন্যাসিক।

 

।।তথ্য : সংগৃহীত ইন্টারনেট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ

আর্ন্তজাতিক আর্কাইভস দিবস কি, কেন পালিত হয় জানুন।

আজ আন্তর্জাতিক আর্কাইভস দিবস। ইন্টারন্যাশনাল কাউন্সিল অন আর্কাইভস (আইসিএ) এর উদ্যোগে ২০০৮ সাল থেকে প্রতি বছরের ৯ জুন দিবসটি পালিত হচ্ছে। এ দিবসের মূল লক্ষ্য, সাধারণ মানুষ ও নীতিনির্ধারকদের মধ্যে আর্কাইভস ও নথি ব্যবস্থাপনা বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো। জাতীয় আর্কাইভসে জমা থাকে দেশের সব সরকারি সংস্থা, বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে বেসরকারি সংস্থা ও ব্যক্তির ঐতিহাসিক তথ্যের রেকর্ড বা নথি। এগুলোকে বলা যায় জাতির স্মৃতির আকর। একটি দেশ বা জাতির অস্তিত্বের বেড়ে ওঠার বৈশিষ্ট্য সংরক্ষণ করে জাতীয় আর্কাইভস।
আন্তর্জাতিক আর্কাইভস দিবস। ১৯৪৮ সালের ৯ জুন ইউনেস্কোর অঙ্গ সংগঠন ইন্টারন্যাশনাল কাউন্সিল অন আর্কাইভস (আইসিএ) এর যাত্রা শুরু হয়। আইসিএ’র উদ্যোগেই ২০০৮ সাল থেকে পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক আর্কাইভ দিবস।

মূলত ইতিহাস-ঐতিহ্য সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরি আর প্রশাসনের নীতিনির্ধারকদের সামনে আর্কাইভসের গুরুত্ব তুলে ধরার জন্যই এ দিবসের সূচনা করে আইসিএ।
, ‘আর্কাইভস সিদ্ধান্ত, কাজ ও স্মৃতিকে ধারণ করে। আর্কাইভস একটি অনন্য ও অপ্রতিকল্পনীয় ঐতিহ্য, যা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে বহমান থাকে। আর্কাইভস তার মূল্যবোধ ও মান সংরক্ষণের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। আর্কাইভস তথ্যের বিশ্বাসযোগ্য উৎস, যা প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডের জবাবদিহি ও স্বচ্ছতার ভিত্তি নির্মাণ করে। এটি ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর স্মৃতি সংরক্ষণের মাধ্যমে সমাজ উন্নয়নে প্রয়োজনীয় ভূমিকা রাখে। আর্কাইভসে প্রবেশাধিকার উন্মুক্ত রাখার মাধ্যমে মানবসমাজ সম্পর্কে আমাদের জ্ঞানকে সমৃদ্ধ করে, গণতন্ত্রকে সচল রাখে, নাগরিকের অধিকার সুরক্ষা করে এবং জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি করে।’

উদ্দেশ্য—–

আর্কাইভস হলো ঐতিহাসিক গুরুত্বসম্পন্ন সরকারি ও বেসরকারি নথিপত্র, দলিলাদি, পুরনো বিরল পুস্তকাদি, পান্ডুলিপি ইত্যাদির সংগ্রহশালা। বস্তুনিষ্ঠ ইতিহাস চর্চা, শিক্ষা ও গবেষণা, রেফারেন্স ইত্যাদি ক্ষেত্রে জাতীয় আরকাইভসের গুরুত্ব অপরিসীম। সম্ভবত প্রাচীন গ্রিক সভ্যতায় আর্কাইভ জাতীয় প্রতিষ্ঠানসমূহের উদ্ভব হয় এবং মধ্যযুগেও এগুলির অস্তিত্ব বজায় থাকে। গ্রিক ‘আর্কিয়ন’ শব্দ থেকে আর্কাইভস এর উদ্ভব, যা দ্বারা বোঝায় কোনো দফতরের আয়ত্তাধীন কর্মপ্রণালী। আর্কিয়ন এসেছে ‘আর্ক’ শব্দ থেকে যা দ্বারা আবার প্রারম্ভ, উদ্ভব, সর্বময় কর্তৃত্ব, সাম্রাজ্য, ম্যাজিস্ট্রেসি, দফতর ইত্যাদি বোঝায়। ল্যাতিন ‘আর্কিভিয়াম’ এসেছে গ্রিক আর্কিয়ন শব্দ থেকে, আর ল্যাতিন থেকে এসেছে ফরাসি ল্যা-আর্কাইভ। বিভিন্ন বস্তুর সন্নিবেশ বোঝাতে ফরাসি থেকে ইংরেজি ‘আর্কাইভ’ শব্দটির উৎপত্তি। অক্সফোর্ড ইংরেজি অভিধান আর্কাইভসকে সজ্ঞায়িত করেছে এমন একটা স্থান হিসেবে যেখানে সংরক্ষণের নিমিত্ত সরকারি নথিপত্র বা ঐতিহাসিক দলিলাদি সংগৃহীত হয়। টি.আর. শ্যালেনবার্গ আর্কাইভস-এর আধুনিক সংজ্ঞা দিয়েছেন এভাবে, যে কোনো সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সেই সকল নথিপত্র যেগুলি কোনো গবেষণায় তথ্য-উপাত্ত হিসেবে প্রয়োগের উদ্দেশ্যে স্থায়ী সংরক্ষণের উপযুক্ত বলে বিবেচনা করে সেভাবে কোনো সংগ্রহশালায় রক্ষিত হয়েছে বা রক্ষণের জন্য বাছাই করা হয়েছে। আর্কাইভ এখন একটা দেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সংরক্ষণাগার; একটা জাতির স্মৃতিময় তথ্যের ভান্ডার।

আরকাইভসের গুরুত্ব—

আরকাইভসের গুরুত্ব তুলে ধরতে ১৯৪৮ সালের এ দিনে ইউনেস্কোর অঙ্গ সংগঠন ইন্টারন্যাশনাল কাউন্সিল অন আর্কাইভস (আইসিএ) যাত্রা শুরু করে। ২০০৪ সালে অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় বিশ্বব্যাপী আর্কিভিস্টদের বা নথিরক্ষকদের একটি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এই সম্মেলনে বিভিন্ন দেশ থেকে দুই হাজার প্রতিনিধি যোগ দেন। সম্মেলন শেষে তাঁরা একটি সিদ্ধান্ত নেন যে তাঁরা জাতিপুঞ্জকে (ইউনাইটেড নেশন্স) অনুরোধ করবেন যেন বিশ্বব্যাপী একটি দিবস ‘আন্তর্জাতিক আর্কাইভস দিবস’ হিসেবে পালন করা হয়। এরই মধ্যে বেশ কিছু দেশ তাদের দেশে ‘জাতীয় আর্কাইভস’ বা জাতীয় দলিলপত্র দিবস পালন করছে। দিবসটি পালন করার উদ্দেশ্য হচ্ছে জনগণের মধ্যে আর্কাইভস বা দলিলপত্র সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং একই সঙ্গে দেশের নীতিনির্ধারকদের আর্কাইভসের গুরুত্ব সম্পর্কে ওয়াকিফহাল করানো। ইতিহাস-ঐতিহ্য সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরি আর প্রশাসনের নীতিনির্ধারকদের সামনে আর্কাইভসের গুরুত্ব তুলে ধরার জন্যই এ দিবসের সূচনা করে আইসিএ। মূলত ইন্টারন্যাশনাল কাউন্সিল অন আর্কাইভস (আইসিএ) এর উদ্যোগে ২০০৮ সাল থেকে প্রতি বছরের ৯ জুন দিবসটি পালিত হচ্ছে।

।।তথ্য : সংগৃহীত ইন্টারনেট।।

Share This
Categories
অনুগল্প

সুন্দর এক নারীর কাহিনী : রাণু সরকার।

জীর্ণ বস্ত্র, শীর্ণ গাত্র, বেশভূষা মলিন, কোমরে কাপড় গোঁজা, হাতে একটা ছেঁড়াফাটা ব্যাগ, পায়ে দু’রঙের চটি দড়ি দিয়ে বাঁধা, ভালো করে চলতে পারছে না, কোমরে কাপড় গোঁজা, এলোমেলো চুলে বেঁধেছে খোঁপা ঝুলে আছে ঘাড়ের উপর।

ক্ষুধায় কন্ঠ ক্ষীণ, আদরের মানিক কোলে সেও ক্ষুধার জ্বালায় মা মা কোরে মায়ের চোখে মুখে হাত বুলায়, কখনো মায়ের গালে গাল ঠেকায়, তখন মায়ের দু’চোখের কোলে জলের ফোঁটা এই বুঝি গড়িয়ে পড়বে গালে।

আদরের মানিককে চুমু দেয় আর বলে- এই তো সোনা আমরা খাবো, একটু বাকি আছে আমাদের গন্তব্য আসতে।

কষ্ট হয় ভীষণ এই নারীদের দেখলে। তবুও চোখ ফেরাতে পারছি না তার রূপের সৌন্দর্য দেখে। সে দেখতে ভালো না অথচ তার রূপ যেন গা গড়িয়ে পড়ছে।

সুন্দর নারী নিয়ে লেখা হয় অনেক কাব্য কিন্তু এই নারীটির সৌন্দর্য কারোর হয়তো চোখে পড়েনা ধরা, বড্ড কঠিন তার সৌন্দর্যকে অনুভব করা।

কিন্তু সে ক্ষুধার জ্বালায় জর্জরিত ।
বেদনার সুর কাব্যে ঝঙ্কৃত। তারা যে পথচারী, দয়ার দান হলো অন্ন বস্ত্র।

আজও দেখি প্রত্যন্ত রাস্তায় প্লাস্টিকের ছাউনিতে থাকা মানুষ। নেই কোন আলোর ব্যবস্থা রাস্তার পোস্টের আলোতে করে বাস। ধুলো মাটিতে কত কুসুম ভূমিষ্ঠ হয় কি করুণ জীবন এদের।
কোন ভবিষ্যত্ নেই ওদের জন্য কিছু করতে যদি না পারি তবে ওদের সঙ্গে আমার চোখের দুফোটা জল তো ঢালতে পারি। দারিদ্র ওদের নিত্যসঙ্গী।
তবুও আদরের মানিক কোলের দৃশ্য আমায় কুঁড়ে কুঁড়ে খায় এতো সৌন্দর্য  দারিদ্রতায় আমার চোখে ধরা পড়ে।

Share This
Categories
রিভিউ

আজ ৮ জুন, ইতিহাসের আজকের এই দিনে যা ঘটেছিল।

আজ ৮ জুন। ইতিহাস ঘেটে দেখা যায় বছরের প্রতিটি দিনে ঘটেছে অনেক উল্লেখযোগ্য ঘটনা। আসুন আজকের দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য কিছু বিষয় একনজরে দেখে নিই।  ইতিহাসের আজকের এই দিনে কী কী ঘটেছিল, কে কে জন্ম নিয়েছিলেন ও মৃত্যুবরণ করেছিলেন——-

 

দিবস—–

 

(ক) বিশ্ব মহাসাগর দিবস ৷

(খ) আজ আন্তর্জাতিক আল-কুদস দিবস।

 

আজ যাদের জন্মদিন—-

১৩১৮ – রাজা দ্বিতীয় এডওয়ার্ডের কন্যা ইলিওনা প্ল্যান্টাগ্যানেট।

১৮৯৭ – বাঙালি লেখক ও ঔপন্যাসিক মণীন্দ্রলাল বসু।

১৯০৪ – বীরেশচন্দ্র গুহ ভারতের প্রখ্যাত বাঙালি প্রাণরসায়ণ বিজ্ঞানী।

১৯১৬ – ফ্রান্সিস ক্রিক, ইংরেজ পদার্থবিদ, আণবিক জীববিজ্ঞানী এবং স্নায়ুবিজ্ঞানী।

১৯৫৫ – টিম বার্নার্স-লি, ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েবের জনক।

১৯৭৫ – শিল্পা শেঠী, ভারতীয় অভিনেত্রী৷

 

ইতিহাসের পাতায় আজকের দিনের ঘটনাবলী—-

 

২০০২ – বাংলাদেশ পূর্ব তিমুরকে স্বীকৃতি দেয়।

১৯২৩ – বুলগেরিয়ায় ফ্যাসিস্ট বাহিনী ষড়যন্ত্রমূলকভাবে ক্ষমতায় আসে।

১৯৩০ – রুমানিয়ার রাজা দ্বিতীয় ক্যারালের সিংহাসন পুনর্দখল।

১৯৩৬ – ইন্ডিয়ান স্টেট ব্রডকাস্টিং সার্ভিসের নাম বদলে অল ইন্ডিয়া রেডিও রাখা হয়।

১৯৩৮ – জাপান চীনে বোমা বর্ষণ শুরু করে। চীনে জাপানের এই বোমা বর্ষণ দশ দিন ধরে অব্যাহত ছিল।

১৯৩৯ – ইংল্যান্ডের রাজা ষষ্ঠ জর্জ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফরে যান।

১৯৪৮ – ভারত-ব্রিটেন আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল শুরু।

১৯৪৯ – শ্যাম দেশের নাম বদলে থাইল্যান্ড রাখা হয়।

১৯৫৩ – টর্নেডোতে মিশিগান ও ওহাইয়োতে ১১০ জনের মৃত্যু।

১৯৫৯ – মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বে পারমাণবিক শক্তিচালিত প্রথম সাবমেরিন তৈরি করে।

১৯৬৩ – আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন ধূমপানবিরোধী প্রচার শুরু করে।

১৯৬৮ – বারমুডার সংবিধান গৃহীত হয়।

১৯৬৮ – মার্কিন সিনেটর রবার্ট এফ কেনেডি আর্লিংটনে চিরনিদ্রায় শায়িত হন।

১৯৭০ – আর্জেন্টিনায় সামরিক বাহিনী ক্ষমতা দখল করে।

১৯৮৮ – নাইজেরিয়ায় একনায়ক সানি আবাচারের আকস্মিক মৃত্যুর মধ্য দিয়ে দেশটিতে গণতন্ত্রের পথ উন্মুক্ত।

১৯৯০ – ৪৪ বছরের মধ্যে চেকোশ্লোভাকিয়ায় প্রথম অবাধ নির্বাচন অনুষ্ঠিত। ডাকলাভ হাভেল প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত।

১৯৯১ – পাকিস্তানের ঘোটকিতে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় কমপক্ষে ১০০ লোক নিহত হয়।

১৯৯২ – ইহুদিবাদী ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ প্যারিসে অবস্থানরত একজন ফিলিস্তিনী নেতাকে হত্যা করে।

১৯৯৫ – সাইপ্রাসে ৯৯% ভোটার পৃথক তুর্কী সাইপ্রিয়ট রাষ্ট্রের পক্ষে রায় দেয়।

১৮৩০ – জার্মান আবিস্কারক কামবোর্জ দিয়াশলাই আবিষ্কার করেন।

১৮৫৫ – পর্তূগালের রাজধানী লিসবনে এক ভয়াবহ ভূমিকম্প হলে সেখানে অগ্নিকাণ্ড ছড়িয়ে পড়ে এবং এর ফলে শহরটির অধিকাংশ স্থাপনা ধ্বংস হয়ে যায়।

১৭০০ – ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি সুতানুটির বদলে ক্যালকাটা লেখা শুরু করে।

১৬২৪ – পেরুতে ভূমিকম্প আঘাত হানে।

১৬৫৮ – পুত্র আওরঙ্গজেব পিতা মোগল সম্রাট শাহজাহানকে ৫ দিন অন্তরীণ রেখে আগ্রা দুর্গ দখল করেন!

 

এই দিনে মৃত্যুবরণ করেন যারা—-

২০১২ – সুভাষ চৌধুরী বিশিষ্ট রবীন্দ্র সংগীত শিক্ষক গবেষক  ও সমালোচক।

১৯৬৯ – হলিউডের খ্যাতনামা অভিনেতা রবার্ট টেলরের মৃত্যু।

১৯৭০ – আব্রাহাম মাসলো, একজন আমেরিকান মনোবিজ্ঞানী।

১৯৯১ – বিমলকৃষ্ণ মতিলাল, বাঙালি দার্শনিক অধ্যাপক ।

১৯৯৮ – সানি আবাচা, নাইজেরিয়ার সাবেক রাষ্ট্রপতি।

১৮০৯ – টমাস পেইন, বৃটেনের বিখ্যাত লেখক ও দার্শনিক।

১৮৪৫ – এন্ড্রু জ্যাক্‌সন,মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সপ্তম রাষ্ট্রপতি।

৬৩২ – মুহাম্মাদ,ইসলাম ধর্মের প্রবর্তক।

 

।।তথ্য : সংগৃহীত ইন্টারনেট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

আজ ৮ জুন, বিশ্ব মহাসাগর দিবস, জানুন দিবসটি পালনের মূল উদ্দেশ্য ও গুরুত্ব।

বিশ্ব মহাসাগর দিবস হল একটি আন্তর্জাতিক দিন যা প্রতি বছর ৮ জুন অনুষ্ঠিত হয়।  ধারণাটি মূলত ১৯৯২ সালে কানাডার ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ওশান ডেভেলপমেন্ট (ICOD) এবং ওশান ইনস্টিটিউট অফ কানাডা (OIC) আর্থ সামিটে – ইউএন কনফারেন্স অন এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (UNCED) ব্রাজিলের রিও ডি জেনেরিওতে প্রস্তাব করেছিল।  মহাসাগর প্রকল্পটি ২০০২ সালে বিশ্ব মহাসাগর দিবসের বিশ্বব্যাপী সমন্বয় শুরু করে৷ “বিশ্ব মহাসাগর দিবস” আনুষ্ঠানিকভাবে ২০০৮ সালে জাতিসংঘ কর্তৃক স্বীকৃত হয়েছিল৷ আন্তর্জাতিক দিবসটি বিশ্বব্যাপী টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (SDGs) বাস্তবায়নকে সমর্থন করে এবং সুরক্ষায় জনস্বার্থকে উৎসাহিত করে৷  সমুদ্র এবং এর সম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনা।

 

বিশ্ব মহাসাগর দিবস মানুষকে সমুদ্রের গুরুত্ব এবং দৈনন্দিন জীবনে তারা যে প্রধান ভূমিকা পালন করে তা স্মরণ করিয়ে দেওয়ার জন্য স্মরণ করা হয়। জাতিসংঘের মতে, দিবসটি সমুদ্রের উপর মানুষের ক্রিয়াকলাপের প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সমুদ্রের প্রজাতির জন্য একটি ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলার উদ্দেশ্য। এছাড়াও, বিশ্বব্যাপী সমুদ্র এবং সম্পদের টেকসইতাকে উন্নীত করার জন্য সমুদ্র এবং এর সম্পদ সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে দিবসটি পালন করা হয়। দিবসটি সমুদ্র থেকে মানবজাতির উৎসারিত বিভিন্ন সম্পদ, সেইসাথে সমুদ্র যে বিভিন্ন হুমকির সম্মুখীন হয় তা তুলে ধরার উদ্দেশ্য।

 

গোটা বিশ্বে সমুদ্র ও উপকূলবর্তী এলাকার উদ্ভিদ ও প্রাণিজগত আজ বিপন্ন প্রায়। অথচ পৃথিবীতে মানব জাতির টিকে থাকার অন্যতম চাবিকাঠি হল সাগর। খাদ্য, ওষুধসহ বিভিন্ন উপাদানের সঙ্গে আমাদের বেঁচে থাকার প্রয়োজনীয় অক্সিজেনের একটি বড় অংশ আসে মহাসাগর থেকে। তাছাড়া মহাসাগরগুলো বায়ুমণ্ডলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ দখল করে আছে। কিন্তু মানুষের নানাবিধ কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি জলবায়ুর বৈরী থাবায় মহাসাগরগুলোর প্রতিবেশ ব্যবস্থা প্রতিনিয়ত বদলে যাচ্ছে। ধ্বংস হচ্ছে এর জীববৈচিত্র্য।

 

আমাদের অক্সিজেনের সবচেয়ে বড় জোগানদাতা হলো সাগর-মহাসাগর। পৃথিবীর ফুসফুস বলা হয় এসব সাগর-মহাসাগরকে। সমুদ্রের এই অবদান, আবেদন, প্রয়োজনীয়তা আর উপকারিতাকে স্বতন্ত্রভাবে বিশ্বের সবার সামনে তুলে ধরতে প্রতি বছর ৮ জুন পালন করা হয় বিশ্ব সমুদ্র দিবস।দিবসটি পালনের মূল উদ্দেশ্য হলো, সাগর-মহাসাগর সম্পর্কে মানুষের সচেতনতা বাড়িয়ে তোলা। এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় ‘জোয়ার পরিবর্তনে স্পন্দন হারাচ্ছে সমুদ্র’  -২০২৩।

 

ইতিহাস—

 ১৯৮৭-১৯৯২

Brundtland Commission (এছাড়াও বিশ্ব কমিশন অন এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট নামে পরিচিত) ১৯৮৭ Brundtland রিপোর্টে উল্লেখ করেছে যে অন্যান্য সেক্টরের তুলনায় সমুদ্র সেক্টরে একটি শক্তিশালী কণ্ঠস্বরের অভাব রয়েছে।
১৯৯২ সালে প্রথম বিশ্ব মহাসাগর দিবসে, উদ্দেশ্যগুলি ছিল সমুদ্রকে আন্তঃসরকারি এবং এনজিও আলোচনা এবং নীতির কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া এবং বিশ্বব্যাপী সমুদ্র এবং উপকূলীয় নির্বাচনী এলাকার কণ্ঠস্বরকে শক্তিশালী করা।

 

২০০২-২০০৮

 

বিশ্বব্যাপী সমন্বিত প্রচেষ্টাগুলি The Ocean Project এবং World Ocean Network সহযোগীতার মাধ্যমে শুরু হয়েছিল এবং ইভেন্টের সংখ্যা কয়েক ডজন।  এই সময়ের মধ্যে, www.WorldOceanDay.org চালু হয়েছে, সাগরের প্রোফাইল বাড়াতে এবং আমাদের নীল গ্রহের জন্য যুক্ত হওয়ার এবং একটি পার্থক্য করার সুযোগ দেওয়ার সুযোগের প্রচারে সহায়তা করতে।  ওয়েবসাইটটি ইভেন্ট সংগঠকদের তাদের সম্প্রদায়গুলিতে সাহায্য করার উপায়গুলি প্রদান করে এবং শিক্ষামূলক এবং কার্যকরী সংস্থান, ধারণা এবং সরঞ্জামগুলির প্রচারের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী সম্পৃক্ততা তৈরি করে, সর্বদা প্রত্যেকের জন্য তারা যে কোনও উপায়ে বিশ্ব মহাসাগর দিবস উদযাপন করতে ব্যবহার করার জন্য বিনামূল্যে।  ২০০৪ সালে, The Ocean Project এবং World Ocean Network চালু করেছে “আমাদের মহাসাগর গ্রহের জন্য একটি পার্থক্য করতে সাহায্য করুন!”  ৮ জুনকে বিশ্ব মহাসাগর দিবস হিসাবে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য জাতিসংঘের কাছে একটি পিটিশনে স্বাক্ষর করার জন্য অনলাইন এবং ব্যক্তিগত উভয় সুযোগের সাথে।  ডিসেম্বর ২০০৮ সালে, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ আনুষ্ঠানিকভাবে দিবসটিকে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য একটি ঘোষণা পাস করে।

 

বার্ষিক থিম—

 

জাতিসংঘ দিবসটির জন্য নিম্নলিখিত বার্ষিক থিমগুলি বেছে নিয়েছে:

২০০৯: “আমাদের মহাসাগর, আমাদের দায়িত্ব”

২০১০: “আমাদের মহাসাগর: সুযোগ এবং চ্যালেঞ্জ”

২০১১: “আমাদের মহাসাগর: সবুজ আমাদের ভবিষ্যত”

২০১২: “UNCLOS @ 30” — United Nations Convention on the Law of the Sea (UNCLOS)

২০১৩: “মহাসাগর এবং মানুষ”

২০১৪: “সমুদ্রের স্থায়িত্ব: আসুন একসাথে নিশ্চিত করি যে মহাসাগরগুলি ভবিষ্যতে আমাদের টিকিয়ে রাখতে পারে”

২০১৫: “স্বাস্থ্যকর মহাসাগর, স্বাস্থ্যকর গ্রহ”

২০১৬: “স্বাস্থ্যকর মহাসাগর, স্বাস্থ্যকর গ্রহ ⁠- একটি টেকসই গ্রহের জন্য ভ্রমণ: হোকুলে’র আগমন”

২০১৭: “আমাদের মহাসাগর, আমাদের ভবিষ্যত”

২০১৮: “আমাদের মহাসাগর পরিষ্কার করুন!”

২০১৯: “লিঙ্গ এবং মহাসাগর”

২০২০: “টেকসই মহাসাগরের জন্য উদ্ভাবন”

২০২১: “The Ocean: Life & Livelihoods”

২০২২: “পুনরুজ্জীবন: মহাসাগরের জন্য যৌথ কর্ম”

২০২৩: “প্ল্যানেট ওয়াসেন: জোয়ার পরিবর্তন হচ্ছে।

 

বিশ্বের খাদ্য ও ওষুধের অন্যতম ভাণ্ডার এই মহাসাগর। ফলে যেভাবেই হোক রক্ষা করতেই হবে সমুদ্রকে। পৃথিবীর মোট ৭০ শতাংশেরও বেশি অংশ জুড়ে রয়েছে মহাসাগর। পৃথিবীর প্রায় ৯৪ শতাংশ প্রাণী প্রজাতি বাস করে সমুদ্রের নীচে!মহাসাগরগুলি পৃথিবীর প্রায় ৭০ শতাংশ অক্সিজেন উৎপাদন করে। কারণ সমুদ্রের নীচে থাকা সামুদ্রিক প্রজাতিই এই অক্সিজেন উৎপাদন করে।

 

তাই বিশ্বের পরিবেশ সুরক্ষার কাজে মহাসাগরের অবদান খুবই গুরুত্বপূর্ণ ।প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রাখার ক্ষেত্রে মহাসাগরের তুলনা নেই। আন্তর্জাতিক মহাসাগর দিবসে যাতে আমরা মহাসাগরের গুরুত্ব আরো বেশি করে উপলব্ধি করতে পারি সেজন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করার একটি বিশেষ দিন।

 

।।তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

 

 

 

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

বিশ্ব নিরাপদ খাদ্য দিবস কেন পালিত হয় এবং পালনের গুরুত্ব, জানুন।

মানুষের মৌলিক চাহিদার মধ্যে প্রথমেই রয়েছে খাদ্য। সেই খাদ্যকে গুরুত্ব দিতেই ৭ জুনকে বিশ্ব নিরাপদ খাদ্য দিবস হিসেবে পালন করা হয়  যাতে খাদ্যজনিত ঝুঁকি প্রতিরোধ, সনাক্তকরণ ও ব্যবস্থাপনা এবং মানব স্বাস্থ্যের উন্নতির জন্য দৃষ্টি আকর্ষণ এবং পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়।এই বছরের বিশ্ব খাদ্য নিরাপত্তা দিবস ২০২৩-এর থিম হল “খাদ্য মান জীবন বাঁচায়।”  বেশির ভাগ মানুষই তাদের খাদ্য নিরাপদ কিনা তা জানার জন্য ভোগ্য সামগ্রীর প্যাকেজিংয়ের তথ্যের উপর নির্ভর করে। এই খাদ্য নিরাপত্তা মানগুলি কৃষক এবং যারা খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ করে তাদের গাইড করে।  সংযোজন, দূষক, কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ এবং পশুচিকিত্সা ওষুধের পরিমাণ যা আমাদের দ্বারা নিরাপদে সেবন করা যায়, পরিমাপ করা, প্যাকেজিং এবং পরিবহন করা যায়, সেগুলিও এই মানগুলির অধীনে নির্ধারিত হয়৷ পুষ্টি এবং অ্যালার্জেনের লেবেলগুলি গ্রাহকদের একটি জ্ঞাত সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করে৷

WHO প্রতি বছরের বিশ্ব খাদ্য নিরাপত্তা দিবসের থিম ঘোষণা করে বিশ্বব্যাপী অংশগ্রহণকে অনুপ্রাণিত করার জন্য সংগঠিত প্রচারাভিযান চালু করেছে। নিরাপদ খাদ্য সুস্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গ্যারান্টারগুলির মধ্যে একটি।  অনিরাপদ খাবার অনেক রোগের কারণ এবং অন্যান্য খারাপ স্বাস্থ্যের অবস্থার জন্য অবদান রাখে, যেমন প্রতিবন্ধী বৃদ্ধি এবং বিকাশ, মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টের ঘাটতি, অসংক্রামক বা সংক্রামক রোগ এবং মানসিক অসুস্থতা।  বিশ্বব্যাপী, প্রতি দশজনের মধ্যে একজন খাদ্যবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়।  ক্যাম্পেইনটি বেশিরভাগ খাদ্যবাহিত রোগ প্রতিরোধ করার জন্য একটি টেকসই পদ্ধতিতে উন্নত স্বাস্থ্য সরবরাহ করার জন্য খাদ্য ব্যবস্থার রূপান্তর করার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেয়।  খাদ্য ব্যবস্থার নীতি-নির্ধারক, অনুশীলনকারী এবং বিনিয়োগকারীদের স্বাস্থ্যের ফলাফলের উন্নতির জন্য নিরাপদ খাদ্যের টেকসই উৎপাদন এবং ব্যবহার বাড়ানোর জন্য তাদের কার্যক্রম পুনর্বিন্যাস করার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়।
বিশ্ব খাদ্য নিরাপত্তা দিবস এর ইতিহাস–

 

কোডেক্স অ্যালিমেন্টারিয়াস কমিশন (সিএসি), যা এফএও/ডব্লিউএইচও ফুড স্ট্যান্ডার্ড প্রোগ্রাম বাস্তবায়ন করে, ২০১৬ সালে বিশ্ব খাদ্য নিরাপত্তা দিবস উদযাপনের একটি প্রস্তাবকে সমর্থন করে। এক বছর পরে, জুলাই মাসে, খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) সম্মেলন।  এর ৪০ তম অধিবেশন ডব্লিউএইচও দ্বারা সমর্থিত একটি রেজোলিউশন গ্রহণ করে ধারণাটিকে সমর্থন করেছে।
অবশেষে, ২০ ডিসেম্বর, ২০১৮ তারিখে, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ তার রেজোলিউশন ৭৩/২৫০ দ্বারা বিশ্ব খাদ্য নিরাপত্তা দিবস প্রতিষ্ঠা করে।  আরও, বিশ্ব স্বাস্থ্য পরিষদ বিশ্বব্যাপী খাদ্য নিরাপত্তা, খাদ্যজনিত অসুস্থতা প্রতিরোধ এবং বিশ্বব্যাপী খাদ্য নিরাপত্তা সম্পর্কে সর্বাত্মক সচেতনতা সৃষ্টির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ হিসেবে বিশ্ব খাদ্য নিরাপত্তা দিবসের গুরুত্বকে স্বীকৃতি দিতে এবং তুলে ধরার জন্য 3 আগস্ট, ২০২০ তারিখে WHA73.5 রেজুলেশন পাস করে।  খাদ্য নিরাপত্তা বজায় রাখার জন্য বিশ্বব্যাপী প্রচেষ্টা জোরদার করা।

 

বিশ্ব খাদ্য নিরাপত্তা দিবস এর তাৎপর্য—

 

আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি খাদ্যে কীটনাশক, রাসায়নিক এবং সংযোজন বৃদ্ধির দিকে পরিচালিত করেছে যা নিয়ন্ত্রিত না হলে ভোক্তাদের ক্ষতি করবে।  পানি দূষণও একটি বড় সমস্যা।  বিশ্ব খাদ্য নিরাপত্তা দিবস নিশ্চিত করে যে সমস্ত ভোক্তাদের জন্য সর্বোত্তম স্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে খাদ্যের মান মেনে চলা হয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য মতে, প্রতিবছর প্রায় ৬০ কোটি মানুষ দূষিত খাবার খেয়ে অসুস্থ হয়। এ কারণে প্রতিবছর মারা যায় ৪ লাখ ৪২ হাজার মানুষ। এ ছাড়া পাঁচ বছরের চেয়ে কম বয়সী শিশুদের ৪৩ শতাংশই খাবারজনিত রোগে আক্রান্ত হয়। এর মধ্যে প্রতিবছর প্রাণ হারায় ১ লাখ ২৫ হাজার শিশু।
পরিবেশ দূষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে কমে গেছে জীববৈচিত্র্য। অর্থাৎ, ফসলের জন্য উপকারী কীটপতঙ্গ কমে গেছে, বেড়েছে কিছু ক্ষতিকর পতঙ্গ। যার ফলে ব্যবহৃত হচ্ছে পতঙ্গনাশক ও রাসায়নিক সার। তাই প্রতি বছর খাদ্যজনিত সমস্যায় প্রায় ৬ কোটি মানুষ অসুস্থতায় ভোগেন। তাই নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতরকণ বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

খাদ্যজনিত অসুস্থতা সাধারণত সংক্রামক ও বিষাক্ত পদার্থের কারণে হয়ে থাকে। ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, পরজীবী ও নানা রাসায়নিক পদার্থের কারণে খাদ্য অনিরাপদ হয়ে পড়ে। আর, এই অনিরাপদ খাদ্য গ্রহণের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করে রোগ জীবাণু ও দূষিত পদার্থ, যা অসুস্থতা এমনকি মৃত্যুরও কারণ হতে পারে।

পরিবেশ দূষণ দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে জমির মাটি ও ফসল। একই সাথে দূষিত পদার্থ প্রবেশ করছে শস্যের মাঝে।   পরিবেশ দূষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে কমে গেছে জীববৈচিত্র্য। অর্থাৎ, ফসলের জন্য উপকারী কীটপতঙ্গ কমে গেছে, বেড়েছে কিছু ক্ষতিকর পতঙ্গ। যার ফলে ব্যবহৃত হচ্ছে পতঙ্গনাশক ও রাসায়নিক সার। যা পরোক্ষ ভাবে আমাদের ই শরীরে প্রবেশ করছে। এতে মানুষের শরীরে ক্ষতি ছাড়া লাভ কিছু হচ্ছে না।

 

তাই মানুষের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে নিরাপদ খাদ্যের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনিরাপদ খাদ্য সৃষ্টি করে নানা রকম রোগ-বালাই ও দুর্বল দেহ। যেমন, শিশুর দুর্বল বা অক্ষম হয়ে বেড়ে ওঠা, পুষ্টির অভাব, সংক্রামক কিংবা অসংক্রামক রোগের সৃষ্টি এবং মানসিক অসুস্থতা।

তাই প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) উদ্যোগে ৭ই জুন পৃথিবীব্যাপী দিবসটি পালন করা হচ্ছে। খাদ্যজনিত রোগের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ, চিহ্নিতকরণ, প্রতিরোধ ও তার ব্যবস্থা গ্রহণ এবং মানুষের স্বাস্থ্যের উন্নতির জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করতে এই দিনটি আয়োজিত হয়।

।।তথ্য : সংগৃহীত ইন্টারনেট ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
নারী কথা প্রবন্ধ

লাবণ্যপ্রভা দত্ত : ভারতীয় উপমহাদেশে স্বাধীনতা সংগ্রামের এক অন্যতম ব্যক্তিত্ব ও অগ্নিকন্যা।

সূচনা—

ভারতের স্বাধীনতা অন্দোলনে কত বীর সন্তান যে শহীদ হয়েছেন তার হিসেব মেলা ভার। স্বাধীনতার ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যাবে বহু নারী এই সংগ্রামে সমান ভাবে আহুতি দিয়েছিলেন নিজেদের। ভলোকরে  ইতিহাস ফিরে দেখলে তার খোঁজ পাওয়া যাবে। চিরস্মরণীয় মহিলা স্বাধীনতা সংগ্রামীদের তালিকায় রয়েছেন মাতঙ্গিনী হাজরা, বীণা দাস, কল্পনা দত্ত, প্রীতিলতা ওয়দ্দেদার, শন্তি ঘোষ, কমলা দেবী আরো কতো নাম। অনেকের নাম আবার অনেকেই জানেনা। তেমনি এক নমস্য বিপ্লবী বীরাঙ্গনা নারী ছিলেন
লাবণ্যপ্রভা দত্ত (১৮৮৮ ― ৬ জুন, ১৯৭১)। যিনি ছিলেন ভারতীয় উপমহাদেশের ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের একজন ব্যক্তিত্ব ও অগ্নিকন্যা। তাঁর সেই বিরত্বের কাহিনী আজও স্বর্ণাক্ষরে লেখা রয়েছে ইতিহাসের পাতায়।

জন্ম ও পরিবার—-

লাবণ্যপ্রভা দত্ত ১৮৮৮ সালে বহরমপুরে পিতার মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। কিন্তু পিতৃভূমি ছিল মুর্শিদাবাদ এর বহরমপুরে। তার পিতার নাম হেমচন্দ্র রায় ও মাতার নাম কুসুমকুমারী দেবী। স্বামীর নাম ছিল যতীন্দ্রনাথ দত্ত। ৯ বছর বয়সে খুলনার যতীন্দ্রনাথ দত্তের সঙ্গে বিবাহ হয়। অগ্ৰজ সুরেন্দ্রনাথ রায়ের কাছে রাজনৈতিক কর্মে অনুপ্রেরণা পান। ১৯০৬ খ্ৰী. স্বদেশী যুগে তিনি স্বদেশী দ্রব্য ব্যবহার করতেন এবং স্বদেশী ছেলেদের অর্থ দিয়ে সাহায্য করতেন। ২৩ বছর বয়সে বিধবা হয়ে বহুদিন পুরী ও নবদ্বীপে কাটান। ১৯২৯ খ্রী. লাহোর জেলে যতীন দাসের মৃত্যুর ঘটনায় আবার তিনি দেশসেবার কাজে এগিয়ে আসেন।

সংগ্রামী জীবন—-

জমিদার বাড়ির মেয়ে ছিলেন তিনি, বিভিন্ন অন্যায় দেখে ছোট থেকে প্রতিবাদী হয়েছেন। তার বড় ভাই সুরেন্দ্রনাথ রায়ের দ্বারা তিনি প্রভাবিত হয়েছেন। ১৯০৬ সালে স্বদেশী আন্দোলনে যুক্ত হন। স্বদেশী কাজে যুক্ত ছেলেদের অর্থ দিয়ে সাহায্য করতেন। তিনি নিজের স্বামীকে প্রভাবিত করেছিলেন স্বদেশীভাবাপন্ন করতে। ১৯৩০ খ্রী. তিনি ও তাঁর কন্যা শোভারানী দেশসেবা ও জনসেবার আদর্শ নিয়ে ‘আনন্দমঠ’ নামে এক সংস্থা প্ৰতিষ্ঠা করেন এবং দেশসেবার কাজে নিজেকে নিয়োজিত করেন। ১৯৩৩ সালে ‘নারী সত্যাগ্রহ সমিতি’ গঠন করেন। তিনি দক্ষিণ কলকাতার কংগ্রেসের সেক্রেটারি ও চব্বিশ-পরগনার কংগ্রেসের ভাইস-প্রেসিডেন্ট ছিলেন। আইন অমান্য আন্দোলন এর কাজ করার সময় তিনি গ্রেপ্তার হন ও তিনমাস জেল খাটেন।

১৪ দিন অনশন —-

১৯৩২ খ্রী. আইন অমান্য আন্দোলনে তাঁর ১৮ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড হয়। প্রেসিডেন্সী জেলের ভিতর ফিমেল ওয়ার্ডে বিধবাদের নিজেদের রান্না করে খাবার অধিকার পাবার জন্য ঐ জেলে ১৪ দিন অনশন করে সফল হন। দক্ষিণ কলিকাতা কংগ্রেসের সেক্রেটারী, চব্বিশ পরগনা কংগ্রেস কমিটির ভাইস-প্রেসিডেন্ট, বিপিসিসি-র মহিলা সাব-কমিটির সেক্রেটারী (১৯৩৯), বিপিসিসি’র সভানেত্রী (১৯৪০ – ১৯৪৫) ছিলেন।

মৃত্যু—

মহান এই স্বাধীনতা সংগ্রামী ১৯৭১ সালে ৬ জুন প্রয়াত হন।

।।তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

“বিশ্ব পরিবেশ দিবস” সম্পর্কে দুটি কথা : কলমেঃ দিলীপ রায় (+৯১ ৯৪৩৩৪৬২৮৫৪)।

“আজ বাঁচাও সবুজ, জাগাও সবুজ,
ঘোচাও হিংসার রেশ
মনের সবুজ বাঁচলে তবেই
বাঁচবে এ পরিবেশ ।“

বিশ্ব পরিবেশ দিবসের তাৎপর্য হলো, দিবসটি বিশ্বের বা একটি নির্দিষ্ট দেশের সম্মুখীন পরিবেশগত সমস্যা সম্পর্কে বিশ্বব্যাপী সচেতনতা সৃষ্টি করতে পালন করা ।
প্রথমেই আমরা জেনে নিই, পরিবেশ কাকে বলে । উদ্ভিদ, মানুষ যে পারিপার্শ্বিক অবস্থার মধ্যে জীবন যাপন করে এবং যে দৃশ্য ও অদৃশ্য উপাদান মানুষের জীবন জীবিকার উপর প্রভাব বিস্তার করে — সম্মিলিতভাবে তাকে পরিবেশ বলে ।
মানুষের চারিদিকে যে প্রাকৃতিক ও মানবিক স্পর্শ রয়েছে যাদের ছাড়া মানুষের অস্তিত্ব সম্ভব নয়, সেসব বিষয়গুলিকে একত্রিতভাবে বলা হয় পরিবেশ ।
সোজা কথা – আমাদের চারপাশে যা কিছু আছে তাই আমাদের পরিবেশ । অর্থাৎ মাটি, জল, বায়ু, গাছপালা, জীবজন্তু, ইত্যাদি আমাদের পরিবেশ । পরিবেশ সম্পর্কে মাসটন বেটস্‌ বলেছেন, “পরিবেশ হলো সেসব বাহ্যিক অবস্থার সমষ্টি যা জীবনের বৃদ্ধি ও সমৃদ্ধিকে প্রভাবিত করে ।“
এবার দিবসটির ইতিহাসের দিকে নজর দেওয়া যাক । ১৯৬৮ সালের ২০শে মে জাতিসংঘের অর্থনীতি ও সামাজিক পরিষদের কাছে একটি চিঠি পাঠায় সুইডেন সরকার । চিঠির বিষয়বস্তু ছিল প্রকৃতি ও পরিবেশ দূষণ সম্পর্কে তাঁদের গভীর উদ্বেগের কথা । সে বছরই জাতিসংঘের পক্ষ থেকে পরিবেশ রক্ষার বিষয়টি সাধারণ অধিবেশনের আলচ্যসূচিতে অন্তর্ভূক্ত করা হয় । পরের বছর জাতিসংঘের পক্ষ থেকে পরিবেশ রক্ষার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা এবং সমাধানের উপায় খুঁজতে সদস্য রাষ্ট্রগুলীর সম্মতিতে সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমে ১৯৭২ সালে ৫ থেকে ১৫ জুন জাতিসংঘের মানব পরিবেশ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় । সম্মেলনটি ইতিহাসের প্রথম পরিবেশ-বিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের স্বীকৃতি পায় । ১৯৭৪ সালে সম্মেলনের প্রথম দিন ৫ই জুনকে জাতিসংঘ “পরবেশ দিবস” হিসেবে ঘোষণা করে । বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো আমাদের দেশেও আজ পালিত হচ্ছে বিশ্ব পরিবেশ দিবস । প্রতি বছর ৫ জুন ‘পরিবেশ’ দূষণের হাত থেকে এ বিশ্বকে বাঁচানোর অঙ্গীকার নিয়ে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে । বিশ্ব পরিবেশ দিবস প্রতি বছর ৫ই জুন বিশ্বব্যাপী রাজনৈতিক কর্মোদ্যোগ আর জনসচেতনতার মাধ্যমে পরিবেশ সচেতনতার লক্ষ্যে পালিত দিবস ।
প্রাকৃতিক ভারসাম্য ঠিকমতো বজায় রেখে মানুষ যাতে এই পৃথিবীর বুকে অন্যান্য সমস্ত জীবের সাথে একাত্ম হয়ে এক সুন্দর পরিবেশে বেঁচে থাকে সেজন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করাই বিশ্ব পরিবেশ দিবসের মূল উদ্দেশ্য ।
এবার আসছি পরিবেশবিদরা কী বলছেন ? বিভিন্ন পরিবেশবিদরা বলছেন, পর্যাপ্ত গাছের অভাবে জলের বাতাসে কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ বেড়ে গেছে, এর ফলে এখানে মাইক্রোক্লাইমেট তথা আশেপাশের এলাকা থেকে ভিন্ন জলবায়ু পরিস্থিতি বিরাজ করছে । গাছ না লাগালে আগামী ২০বছর পর এখানে অক্সিজেনের স্বল্পতা দেখা দিতে পারে ।
অনেক পরিবেশবিদরা বলছেন, গাছ মূলত ‘বাষ্পমোচন ও ঘনীভবন’ — এই দুটি প্রক্রিয়ায় বৃষ্টি আনতে সাহায্য করে । গাছ তার শোষিত জলের ১০ শতাংশ সালোকসংশ্লেষণে ব্যবহার করে । আর বাকী ৯০ শতাংশই প্রকৃতিতে বাষ্পমোচন করে দেয় । এতে বাতাসে ভাসমান জলীয়কণার পরিমান বাড়ে, যা বৃষ্টির প্রধান উপাদান । বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, এখন গাছও কম, তাই বৃষ্টি কম ।
“দূষণ মুক্ত সবুজ পৃথিবী গড়তে
গাছ লাগান, প্রাণ বাঁচান ।“
এখানে একটি ঘটনার উল্লেখ না করে পারলাম না । জানেন কি, এক টাকাও খরচ না করে দেশের স্বচ্ছতম নদীর তকমা পেয়েছে মেঘালয়ের এক পাহাড়ি নদী । শুধুমাত্র স্থানীয় মানুষের সচেতনতার ফল । মেঘালয়ের পশ্চিম জয়ন্তিয়া পাহাড় জেলায় অবস্থিত ছোট্টো পরিচ্ছন্ন এবং তকতকে শহর ডাউকি । ভারত বাংলাদেশ সীমান্তে অবস্থিত ডাউকি কিন্তু দেশের আর পাঁচটা সীমান্তের মতো সবসময় উত্তপ্ত থাকে না । পরিবেশ যেন সর্বদাই মনোরম। যদিও সেনা টহল সবসময় । ডাউকির কাছেই অবস্থিত এশিয়ার সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন গ্রাম মাওলিনং । ডাউকির সবচেয়ে আকর্ষণীয় স্থান হল উমঙ্গট নদী ।
অথচ গঙ্গা দূষণ রোধে ও পরিবেশ রক্ষায় না জানি ভারত সরকার কত হাজার কোটি টাকা খরচ করে যাচ্ছে ! অথচ ফল কী হচ্ছে, আজও মানুষেরা অজানা !
এবছরের বিশ্ব পরিবেশ দিবসের থিম – প্লাস্টিক-দূষণ মোকাবিলার পথ সন্ধান করা । ২০২৩ সালের বিশ্ব পরিবেশ দিবসের প্রতিপাদ্য হলো “প্লাস্টিক দূষণ সমাধানে সামিল হই সকলে ।“ দিবসের স্লোগান নির্ধারন হয়েছে, “সবাই মিলে করি পণ, বন্ধ হবে প্লাস্টিক দূষণ ।“ দেশের সুশীল নাগরিক সমাজও পরিবেশ দিবসের স্লোগানের সাথে সামিল হন, আবেদন রইলো । (তথ্যসূত্রঃ সংগৃহীত)
——-০———–

Share This