Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

চন্দননগর শহরের ৩ টি দর্শনীয় ভ্রমণ স্থান।

ঘুরতে কে না ভালোবাসে। বিশেষ করে বাঙালিরা সুযোগ পেলেই বেরিয়ে পড়ে ভ্রমনের নেশায়। কেউ পাহাড়, কেউ সমুদ্র আবার কেউ প্রাচীন ঐতিহাসিক স্থান ভালোবাসে ভ্রমণ করতে। প্রকৃতি কত কিছুই না আমাদের জন্য সাজিয়ে রেখেছে। কতটুকুই বা আমরা দেখেছি। এ বিশাল পৃথিবীতে আমরা অনেক কিছুই দেখিনি। তবে সোশ্যাল মিডিয়ার দুনিয়ায় আজ গোটা পৃথিবীটা হাতের মুঠোয়় এলেও প্রকৃতিকে চাক্ষুষ প্রত্যক্ষ করা এ এক আলাদা রোমাঞ্চ, আলাদা অনুভূতি যার রেষ হৃদয়ের মনিকোঠায় থেকে যায় চিরকাল।। তাইতো আজও মানুষ বেরিয়ে পড়়ে প্রকৃতির কে গায়ে মেখে  রোমাঞ্চিত হওয়ার নেশায়। কেউ চায় বিদেশে ভ্রমণে, আবার কেউ চায় দেশের বিভিন্ন স্থান ভ্রমণে। এমনি এক ভ্রমণ এর জায়গা হলো  দাওয়াইপানি।

 

আপনি যখন গ্রীষ্মের তাপ থেকে বাঁচতে চান, তখন আপনার মাথায় সবচেয়ে বেশি চিন্তা আসে কী?  শহর খাদ এবং একটি হিল স্টেশনের দিকে রওনা, তাই না?  যাইহোক, আমাদের নিজস্ব দার্জিলিং-এর দিকে রওনা হওয়া লক্ষাধিক লোকে আপনি যদি হতাশ হয়ে পড়েন, তাহলে হারাবেন না।  আশেপাশে অনেক বিচিত্র ছোট অফ-ট্র্যাক পর্যটন গন্তব্য রয়েছে যা আপনার অবস্থানকে স্মরণীয় করে তুলতে পারে।

যারা দার্জিলিং  এ ঘুরতে যান তারা অবশ্যই দার্জিলিং এ পর্যটকদের ভিড় সম্পর্কে জানেন,তাই অনেকে  দার্জিলিং এর কাছাকাছি অফবিট লোকেশান এর খোজ করেন যেখানে তারা শান্ত মনে প্রকৃতিকে উপভোগ করতে পারবেন ও তার সাথে রাজকীয় কাঞ্চঞ্জঙ্ঘার দর্শন পাওয়া গেলে তো কোন কোথায় হয় না । হ্যাঁ ঠিক এমনি একটি ভ্রমণ স্থান দাওয়াইপানি।দার্জিলিং শহর থেকে প্রায় ২০ কিমি দূরে অবস্থিত একটি অখ্যাত গ্রাম হল এই দাওয়াইপানি, দাওয়াইপানি গ্রামটির উচ্চতা হল ৬৫০০ ফিট । প্রায় ৬ হাজার ফুট উচ্চতা থেকে যে সাদায় মোড়া কাঞ্চনজঙ্ঘার দৃশ্য দেখা যাবে তা বলা বাহুল্য। বরং বলা চলে, দাওয়াইপানি থেকে ধরা দেবে হিমালয়ের এক প্যানোরমিক ভিউ। তার মধ্যে নেপাল ও ভুটান হিমালয়ের নামজাদা শৃঙ্গও রয়েছে।

 

দাওয়াইপানি কথাটির মানে হোল ঔষধের জল , এই গ্রামে একটি স্থানিয় নদি আছে যেটির নাম হোল ‘খোলা’ এই নদীর জল খনিজ পদার্থে পরিপুষ্ট , কোন ক্ষত স্থানে এই জল লাগালে সেটি নিরাময় হয়ে যায়। বহু কাল পূর্বে এক ইংরেজ অফিসার এই গ্রামে এই ঔষধীয় জলের আবিস্কার করেন তারপর থেকে এই স্থানটির নাম হয় দাওাইপানি।

দাওয়াইপানির নীচ দিয়ে বয়ে চলেছে পাহাড়ি খরস্রোতা নদী। সেখানে ব্রিটিশদের তৈরি করা একটি সেতুও রয়েছে। ইচ্ছা হলে পাহাড়ি গ্রামের রাস্তা ধরে ঘুরে নিতে পারেন। যদিও দাওয়াইপানি শান্ত ও স্নিগ্ধ পরিবেশ আপনাকে এই গ্রামের প্রেমে ফেলতে বাধ্য। প্রকৃতির মাঝে কটা দিন কাটিয়ে যাওয়ার এক দুরদান্ত ঠিকানা।

চারিদিকে সবুজ অরণ্যে ঘেরা ,মেঘমুক্ত আকাশ, পাখিদের কোলারব এবং তার সাথে কাঞ্চজঙ্ঘার হাতছানি যা প্রকৃতি প্রেমিদের কাছে সর্গ থেকে কিছু কম নয় এইসব হোল এই দাওয়াইপানির মুল বৈশিষ্ট্য । এখানে দরকার পরবে না কোন Alarm Clock এর পাখিদের মিষ্টি কুঞ্জন আপনাদের ঘুম ভাঙ্গিয়ে তুলবে।
দাওাইপানির হমস্তে রুম থেকেই আকাশ পরিস্কার থাকলে দেখতে পাবেন কাঞ্চজঙ্ঘার গোটা পর্বতশৃঙ্খলা ও তার সাথে পাহাড়ি উপত্যকার এবং তার মাঝ দিয়ে খেলা করা মেঘেদের অসাধারন ভিউ ।

 

দাওয়াইপানি আউটডোর কার্যকলাপ:

ট্রেকিং – যাযাবর হোমস্টে – দাওয়াইপানি থেকে পেশোক রোড পর্যন্ত এক ঘন্টার একটি জনপ্রিয় হালকা ট্রেক।  গুরুতর ট্রেকারদের জন্য মাঝারি থেকে উচ্চ অসুবিধার স্তরের আরও কয়েকটি ট্রেকিং ট্রেইল রয়েছে।
জঙ্গলে হাইক – এই জায়গাটিকে ঘিরে ঘন হিমালয় বনাঞ্চল।  তাই একটি হাইকিং অ্যাডভেঞ্চারে যান এবং প্রকৃতির রহস্যগুলি আবিষ্কার করুন।
পাখি পর্যবেক্ষন – ঘন জঙ্গল হল বিভিন্ন ধরণের পাখির প্রাকৃতিক আবাস।
খামার পরিদর্শন – সবজি এবং ফলের স্থানীয় খামার পরিদর্শন উপভোগ করুন।
ঐতিহ্যবাহী নৃত্য – স্থানীয়দের ঐতিহ্যবাহী নৃত্যের সাক্ষী হয়ে সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ক্রিয়াকলাপে নিমগ্ন হন।

দাওয়াইপানি কাছাকাছি আকর্ষণ:

রিসোর্টটি দার্জিলিং শহর থেকে অল্প দূরত্বে এবং তাই এখান থেকে বেশ কয়েকটি জায়গায় পৌঁছানো সহজ।
দার্জিলিং – পাহাড়ের রাণী রাজকীয় টাইগার হিল ভিউপয়েন্ট থেকে শুরু করে, টয় ট্রেন রাইড, মল এরিয়া শপিং থেকে শুরু করে বিশ্ব বিখ্যাত দার্জিলিং চায়ের সূক্ষ্ম স্বাদ গ্রহণের জন্য সমস্ত ধরণের পর্যটন আকর্ষণ অফার করে।
রিসোর্টটি লামাহাট্টা, সিটং বা ‘কমলা গ্রাম’, কালিম্পং ইত্যাদির মতো অন্যান্য শহরের কাছাকাছিও।

 

কিভাবে যাবেন:
ট্রেনে: হাওড়া বা শিয়ালদহ থেকে ট্রেনে চড়ুন, NJP-এ নামুন।  দাওয়াইপানি গ্রাম থেকে ৭৬ কিমি দূরে।  রাস্তার অবস্থার উপর নির্ভর করে দাওয়াইপানি পৌঁছাতে প্রায় ২ ঘন্টা, ৫০ মিনিট সময় লাগে।
ফ্লাইটে: বাগডোগরা বিমানবন্দরটি গ্রাম থেকে প্রায় ৭৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এবং বিমানবন্দর থেকে পৌঁছাতে প্রায় তিন ঘণ্টা সময় লাগে।

শিলিগুড়ি থেকে দাওয়াইপানির দূরত্ব প্রায় ৭০ কিমি এবং এনজেপি রেল স্টেশন থেকে দূরত্ব প্রায় ৭৬কিমি ও বাগদোগরা বিমানবন্দর থেকে দূরত্ব প্রায় ৭৫ কিমি. ।দার্জিলিং থেকে এক ঘণ্টার পথ দাওয়াইপানি। আর শিলিগুড়ি দিয়ে গেলে গাড়িতে সময় লাগবে মাত্র দেড় ঘণ্টা। দার্জিলিং থেকে বেশ উঁচুতে অবস্থিত হলেও ঘুম স্টেশন থেকে মাত্র কুড়ি মিনিটের মধ্যে পৌঁছে যেতে পারবেন দাওয়াইপানি।

 

যেহেতু দাওয়াইপানি উচ্চ উচ্চতায় অবস্থিত, তাই সারা বছরই এখানে শীতল আবহাওয়া থাকে।  বর্ষা এখানে বিশ্বাসঘাতক কারণ দাওয়াইপানিতে জুলাই এবং আগস্ট মাসে খুব ভারী বৃষ্টিপাত হয়।  সুতরাং, এই মাসগুলি ব্যতীত, আপনি বছরের যে কোনও সময় আপনার ভ্রমণের পরিকল্পনা করতে পারেন।  একটি সতর্কীকরণ: দাওয়াইপানি পরিদর্শন করার সময় ভারী পশমের সাথে নিজেকে বন্ধন করতে ভুলবেন না।

 

শান্ত, নিরিবিলি, ছোট্ট পাহাড়ি গ্রাম। হাওয়া-জল বদল করতে ঘুরে আসতে পারেন দাওয়াইপানি। ‘দাওয়াই’ কথাটার অর্থ ওষুধ। আর ‘পানি’ মানে জল-হাওয়া। সুতরাং উত্তরবঙ্গের এই গ্রামে এলে আপনার শরীর আর মন দুটোই ভাল হয়ে যাবে নিমেষে।যারা দৈনিক জীবনের একঘেয়েমি কাটিয়ে একটু ফ্রেশ হয়ে নিতে চান তাদের কাছে এই স্থানটি একটি আদশ স্থান হতে পারে, হাতে দু-দিন সময় থাকলে তা অনায়াসে এখানে কেটে যাবে ।

।।তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

চন্দননগর শহরের ৩ টি দর্শনীয় ভ্রমণ স্থান।

ঘুরতে কে না ভালোবাসে। বিশেষ করে বাঙালিরা সুযোগ পেলেই বেরিয়ে পড়ে ভ্রমনের নেশায়। কেউ পাহাড়, কেউ সমুদ্র আবার কেউ প্রাচীন ঐতিহাসিক স্থান ভালোবাসে ভ্রমণ করতে। প্রকৃতি কত কিছুই না আমাদের জন্য সাজিয়ে রেখেছে। কতটুকুই বা আমরা দেখেছি। এ বিশাল পৃথিবীতে আমরা অনেক কিছুই দেখিনি। তবে সোশ্যাল মিডিয়ার দুনিয়ায় আজ গোটা পৃথিবীটা হাতের মুঠোয়় এলেও প্রকৃতিকে চাক্ষুষ প্রত্যক্ষ করা এ এক আলাদা রোমাঞ্চ, আলাদা অনুভূতি যার রেষ হৃদয়ের মনিকোঠায় থেকে যায় চিরকাল।। তাইতো আজও মানুষ বেরিয়ে পড়়ে প্রকৃতির কে গায়ে মেখে  রোমাঞ্চিত হওয়ার নেশায়। কেউ চায় বিদেশে ভ্রমণে, আবার কেউ চায় দেশের বিভিন্ন স্থান ভ্রমণে। এমনি এক ভ্রমণ এর জায়গা হলো  হুগলি নদীর তীরে অবস্থিত চন্দননগর। এর মনোমুগ্ধকর সৌন্দর্য এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ আপনাকে মন্ত্রমুগ্ধ রাখতে বাধ্য।চন্দননগর , এটির পূর্ব নাম চন্দেরনাগর এবং ফরাসি নাম চন্দ্রনাগর দ্বারাও পরিচিতভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের হুগলি জেলার একটি শহর। এটি চন্দননগর মহকুমার সদর দফতর এবং এটি কলকাতা মেট্রোপলিটন ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (কেএমডিএ) দ্বারা আচ্ছাদিত এলাকার একটি অংশ।  হুগলি নদীর পশ্চিম তীরে অবস্থিত এই শহরটি ফরাসি ভারতের পাঁচটি জনবসতির মধ্যে একটি ছিল । ঔপনিবেশিক বাংলোগুলিতে ইন্দো-ফরাসি স্থাপত্য দেখা যায়, যার বেশিরভাগই জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে।।

এই নিবন্ধে আপনি চন্দননগরের নিম্নলিখিত তিনটি জনপ্রিয় ভ্রমণ স্থান সম্পর্কে জানতে পারবেন—

 

(ক) চন্দননগর স্ট্র্যান্ড।

(খ) চন্দননগর মিউজিয়াম।

(খ) পাতাল বাড়ি।

 

আসুন এই স্থানগুলির প্রতিটি বিস্তারিতভাবে দেখি…

 

(ক) চন্দননগর স্ট্র্যান্ড—–

 

চন্দননগর স্ট্র্যান্ড হল চন্দন নগরের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য এবং সুন্দর ভ্রমণের পথ।  চন্দননগর একটি ঐতিহ্যবাহী স্থান। এটি একটি পর্যটন কেন্দ্র হিসেবেও অনেক উন্নত।  এই দৌড় ঝাপ ভরা জীবনে একবেলার ছুটি কাটানোর জন্য চলে আসুন চন্দননগর স্ট্যান্ড ঘাটে। পরিবার পরিজনের সঙ্গে বিকেলের আমেজ উপভোগ করার একটি আদর্শ জায়গা এটি।সুন্দর সারির গাছ এবং আলো দ্বারা সারিবদ্ধ দর্শনীয় গঙ্গা নদী, স্ট্র্যান্ডের আকর্ষণের প্রধান কেন্দ্র। সন্ধ্যার সময় পরিবেশটি শান্তিপূর্ণ থাকে, কারণ চারিদিক আলোকিত হয় এবং হালকা বাতাস বয়ে যায় যা জায়গাটিকে আরও ঐশ্বরিক করে তোলে।চন্দননগর স্ট্র্যান্ড পশ্চিমবঙ্গের সবচেয়ে সুন্দর অলঙ্কৃত নদীপথ হিসাবে স্বীকৃত।  পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী এলাকায় অসংখ্য রেস্টুরেন্ট রয়েছে।হাওড়া থেকে চন্দননগর যাওয়ার যে কোনো ট্রেনে উঠতে হবে। নামতে হবে চন্দননগর স্টেশনে। স্টেশন থেকে অটো অথবা টোটোর মাধ্যমে আপনি পৌঁছাতে পারেন এই ঘাটে। উনবিংশ শতকের চন্দননগরের এক সম্ভ্রান্ত ব্যবসায়ী দুর্গাচরণ রক্ষিত। তিনিই প্রথম ভারতীয় যিনি ফ্রান্সের ‘লিজিয়ঁ দ্য অনার’ সম্মানে সম্মানিত হয়েছিলেন । তাঁর নামেই এই ফলক ।  তাই একদিনের ছুটি কাটানোর জন্য বেশি দেরি না করে চলে আসুন চন্দননগর স্ট্যান্ড ঘাটে।

 

 

(খ) চন্দননগর মিউজিয়াম–

 

হুগলি রেলওয়ে স্টেশন থেকে ৭ কিমি দূরে চন্দননগর মিউজিয়াম হল পশ্চিমবঙ্গের হুগলির চন্দননগর শহরতলিতে অবস্থিত একটি পুরাতন জাদুঘর।  ডুপ্লেক্স প্যালেস নামেও পরিচিত, এটি পশ্চিমবঙ্গের প্রাচীনতম যাদুঘরগুলির মধ্যে একটি এবং হুগলিতে দেখার জন্য সেরা জায়গাগুলির মধ্যে একটি।

চন্দননগর জাদুঘর বা ইনস্টিটিউট ডি চন্দননগর ডুপ্লেক্স হাউসে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, চন্দননগর প্রদেশের ফরাসি গভর্নরের পূর্ববর্তী সরকারি বাসভবন।  ১৯৫১ সালে চন্দননগরের বন্ধের চুক্তির অনুসরণে, ১৯৫২ সালে ভারত সরকার বিদেশ মন্ত্রকের অধীনে ‘মিউজিয়াম অ্যান্ড আর্ট গ্যালারি’ নামে একটি সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করে।  এটি ২৫০ বছরের ফরাসি ঔপনিবেশিক ইতিহাসের ধ্বংসাবশেষ সংরক্ষণ করে এবং উভয় দেশের যৌথ ঐতিহ্যের প্রতীক।

জাদুঘরটি প্রাচীনকালের উপঢৌকন, হরিহর সেট, ‘ফ্রি সিটি অফ চন্দননগর’-এর প্রথম রাষ্ট্রপতি, একজন সমাজ সংস্কারক এবং জনহিতৈষী-এর উপহার থেকে একটি মূল সংগ্রহ নিয়ে স্থাপন করা হয়েছিল।  তিনি ১৯৩৪ সালে ফরাসি সরকার কর্তৃক শেভালিয়ার দে লা লিজিওন ডি’অনারে পুরস্কৃত হন। এটি বিরল ফরাসি প্রাচীন জিনিসের একটি সংগ্রহের গর্ব করে, যেমন অ্যাংলো-ফরাসি যুদ্ধে ব্যবহৃত কামান (জনপ্রিয়ভাবে কর্নাটিক যুদ্ধ নামে পরিচিত), ফরাসি গভর্নর-জেনারেলদের ব্যক্তিগত জিনিসপত্র এবং কাঠের তৈরি জিনিসপত্র, যা বিশ্বের অন্য যেকোন স্থানে খুঁজে পাওয়া কঠিন।  প্রদর্শনীর মধ্যে রয়েছে ডুপ্লেক্সের ব্যবহৃত জিনিসপত্র, যেমন তার একটি মার্বেল আবক্ষ, এবং চন্দননগরের ফরাসি ঔপনিবেশিক ও স্থানীয় ইতিহাসের ধ্বংসাবশেষ।

এছাড়াও, যাদুঘরটি প্রবেশদ্বারের ঠিক পাশে অবস্থিত মারিয়ানের (ফ্রান্সের জাতীয় প্রতীক) একটি সুন্দর বাগান এবং একটি মূর্তি রক্ষণাবেক্ষণ করেছে।  এছাড়াও, জাদুঘর এবং ইনস্টিটিউট নিয়মিত ফরাসি ক্লাস অফার করে।

 

পশ্চিমবঙ্গের সেরা এবং প্রাচীনতম যাদুঘরগুলির মধ্যে একটি হল চন্দননগর মিউজিয়াম। অতএব, আপনি যদি ফরাসি ঔপনিবেশিক নিয়মের ইতিহাসে আগ্রহী হন তবে এই যাদুঘরটি দেখার মতো স্থান।

 

 

(গ) পাতাল বাড়ি—

 

পাতাল বাড়ি চন্দননগরের স্থাপত্য এবং নান্দনিক সৌন্দর্যের একটি অত্যাশ্চর্য চিত্র। ভবনটি সেই আগের দিনের মানুষের স্থাপত্যের জ্ঞান এবং নান্দনিক বোধের অগ্রগতির আরেকটি সুন্দর উদাহরণ।  এর নিচতলা গঙ্গা নদীতে নিমজ্জিত।  মহান সমাজ সংস্কারক ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর এবং নোবেল বিজয়ী রবীন্দ্র নাথ ঠাকুর চন্দননগর সফরের সময় এই বাড়িতেই থাকতেন।
নোবেল বিজয়ী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রায়ই জায়গাটি পরিদর্শন করেন এবং ভবনটির অনেক প্রশংসা করেন।  তিনি অনুভব করেছিলেন যে স্থানটি তাকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করেছে এবং তার বুদ্ধিবৃত্তিক ক্ষমতাকে প্রসারিত করেছে।  তিনি তাঁর বহু বিখ্যাত উপন্যাসে পাতাল-বাড়ির কথা উল্লেখ করেছেন।  বাড়িটির মালিক ছিল পাশের বাঁশবেড়িয়ার শাসক পরিবারের।  এই রহস্যময় সুন্দর জায়গাটি চন্দননগরের একটি প্রাচীন মনোমুগ্ধকর স্থান যা আপনাকে অবশ্যই দেখতে হবে।

 

।। তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
রিভিউ

আজ ২৫ জুলাই, ইতিহাসের আজকের এই দিনে যা ঘটেছিল।

আজ ২৫ জুলাই। ইতিহাস ঘেটে দেখা যায় বছরের প্রতিটি দিনে ঘটেছে অনেক উল্লেখযোগ্য ঘটনা। আসুন আজকের দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য কিছু বিষয় একনজরে দেখে নিই।  ইতিহাসের আজকের এই দিনে কী কী ঘটেছিল, কে কে জন্ম নিয়েছিলেন ও মৃত্যুবরণ করেছিলেন——-

 

আজ যাদের জন্মদিন—-

১৯০১ – মনোজ বসু, (ভারতীয় বাঙালী সাহিত্যিক)।

১৯০৫ – এলিয়াস ক্যানেটি, (নোবেল পুরস্কার বিজয়ী বুলগেরিয়ান বংশোদ্ভূত সুইস লেখক ও নাট্যকার)।

১৯০৮ – বিল বোস, (ইংরেজ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট তারকা)।

১৯২০ – রোজালিন্ড ফ্রাঙ্কলিন, (ব্রিটিশ ভৌত রসায়নবিদ ও কেলাসবিজ্ঞানী)।

১৯২২ – লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী, বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক নোবেল পুরস্কার বিজয়ী জন বি গুডএনাফ।

১৯২৩ – সুইডিশ লেখক মারিয়া গ্রাইপ।

১৯২৯ – সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়, (ভারতীয় বাঙালি রাজনীতিবিদ)।

১৯৩০ – মারে চ্যাপেল, নিউজিল্যান্ডীয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার।

১৯৩৬ – গ্লেন মার্কাট, (অস্ট্রেলিয়ান স্থপতি)।

১৯৩৯ – আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ, (বাংলাদেশী শিক্ষাবিদ, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব)।

১৯৫৬ – ফ্রান্সিস আর্নল্ড, (আমেরিকান বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলী)।

১৯৭৪ – রিফাত বিন সাত্তার, (গ্র্যান্ডমাস্টার খেতাব বিজয়ী বাংলাদেশী দাবাড়ু)।

১৯৮৬ – হাক (ফুটবলার), (ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার)।

১৯৮৮ – পাওলিনিয়ো, (ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার)।

১৮৪৪ – টমাস এয়াকিনস, (মার্কিন বাস্তবতাবাদী চিত্রশিল্পী, ফটোগ্রাফার, ভাস্কর ও চারুকলা শিক্ষক)।

১৮৭৫ – জিম করবেট, (ইংলিশ শিকারী ও সংরক্ষনবাদী প্রকৃতিবিদ)।

১৮৯২ – প্রভাত কুমার মুখোপাধ্যায়, (প্রখ্যাত রবীন্দ্রজীবনীকার)।

১৮৯৪ – ওয়াল্টার ব্রেনান, (মার্কিন অভিনেতা)।

১৮৯৪ – গাভ্রিলো প্রিন্সিপ, (অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরি সাম্রাজ্যের যুবরাজ আর্চডিউক ফ্রান্ত্‌স ফার্দিনান্দ ও তার স্ত্রীর আততায়ী)।

১৮৯৯ – চলচ্চিত্র পরিচালক আর্থার লুবিন।

১৭৯৭ – ডাচেস অব কেমব্রিজ প্রিন্সেস অগাস্টা।

১৭৯৯ – স্কটিশ উদ্ভিদবিদ ডেভিড ডগলাস।

১১০৯ – ডোম আফোনসো হেনরিকস, পর্তুগালের প্রথম রাজা।

 

ইতিহাসের পাতায় আজকের দিনের ঘটনাবলী—-

২০০৭ – প্রতিভা পাতিল, ভারতের ত্রয়োদশ রাষ্ট্রপতির (ও প্রথম মহিলা রাষ্ট্রপতি) দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

১৯০৯ – লুই ব্ল্যারিয়ট বিমানে ইংলিশ চ্যানেল পার হন।

১৯৩৮ – ফিলিস্তিনের জনাকীর্ণ বাজারে দুটি পৃথক বোমা বিস্ফোরণে ৬২ জন বেসামরিক ফিলিস্তিনী নিহত ও প্রায় এক’শ জন আহত হয়।

১৯৪৩ – মুসোলিনকে পদত্যাগে বাধ্য করে ইতালিতে ফ্যাসিবাদী সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়।

১৯৪৬ – প্যারিসে এক ফ্যাশন শোতে প্রথম বিকিনি প্রদর্শিত হয়।

১৯৪৮ – পশ্চিমা দেশগুলোতে ব্রাসেলস চুক্তি কার্যকর।

১৯৫৭ – ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) গঠিত হয়।

১৯৭৫ – বিশ্বের প্রথম টেস্ট-টিউব শিশু লুইস ব্রাউন জন্ম গ্রহণ করে।

১৯৭৮ – মাতৃগর্ভের বাইরে প্রথম নবজাতক ভ্রূণ শিশুর জন্ম।

১৯৭৯ – জার্মানির কান শহরে ফিলিস্তিনী সংগঠন আল সায়েকের তৎকালীন মহাসচিব যাহির মোহসেন, ইহুদিবাদী ইসরাইলের গুপ্তচর সংস্থা মোসাদের অনুচরদের হাতে নিহত হন।

১৯৯৩ – দখলদার ইসরাইলী বাহিনী লেবাননে প্রচন্ড হামলা চালায়।

১৮১৪ – জর্জ স্টিফেনশন প্রথম বাষ্পচালিত ইঞ্জিনের সাফল্যজনক কার্যকারিতা প্রদর্শন করেন।

১৮৪৮ – অস্ট্রিয়া ও ইতালির মধ্যে প্রথম কুস্তোৎসার যুদ্ধ সংঘটিত হয়।

১৮৯৪ – চীন ও জাপানের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়।

১৭৬৩ – মীরজাফর দ্বিতীয় বারের জন্য মুর্শিদাবাদ এর নবাব হয়।

১৭৯৪ – ফরাসী কবি আঁদ্রে শেলিয়েকে গিলোটিনে হত্যা করা হয়।

১৭৯৯ – আবুকিরের কাছে তুর্কিরা নেপোলিয়নের কাছে পরাস্ত হয়।

১৫৮১ – হল্যান্ডের ৭টি প্রদেশ স্পেনের অধিকার থেকে স্বাধীনতা ঘোষণা করে।

১৪০৯ – সিসিলির রাজা প্রথম মার্টিনের মৃত্যু।

১২১৫ – দ্বিতীয় ফ্রেডরিক জার্মানির রাজা হিসেবে অভিষিক্ত হন।

 

এই দিনে মৃত্যুবরণ করেন যারা—-

২০০২ – সৈয়দ আলী আহসান (খ্যাতনামা কবি-সাহিত্যিক, শিক্ষাবিদ জাতীয় অধ্যাপক সৈয়দ আলী আহসান ২০০২ সালের ২৫ জুলাই মৃত্যুবরণ করেন। তিনি একজন খ্যাতনামা সাহিত্য সমালোচক, অনুবাদক, প্রাবন্ধিকও)।

২০০৩ – জন শ্লেসিঞ্জার, (ইংরেজ চলচ্চিত্র ও মঞ্চ পরিচালক ও অভিনেতা)।

২০১৪ – সাংবাদিক, সংসদ সদস্য বেবী মওদুদ।

১৯০৯ – ভারতের বিশিষ্ট আইনজীবী ও কানাড়া ব্যাঙ্কের প্রতিষ্ঠাতা আম্মেম্বল সুব্বা রাও পাই।

১৯৩৬ – জার্মান দার্শনিক হাইনরিখ রিখার্ট।

১৯৫৩ – পণ্ডিত লক্ষ্মীকান্ত মৈত্র (অন্যতম সাংসদ,আইনজ্ঞ, বাগ্মী)।

১৯৬৩ – ইতালীয় মনোবিজ্ঞানী উগো কারলেত্তি।

১৯৭৩ – লুই সেন্ট লরেন্ট, (কানাডার দ্বাদশ প্রধানমন্ত্রী)।

১৯৮০ – বিনয় ঘোষ, (বাঙালি সমাজবিজ্ঞানী, সাহিত্য সমালোচক, সাহিত্যিক, লোকসংস্কৃতি সাধক, চিন্তাবিদ ও গবেষক)।

১৯৮৬ – ভিনসেন্ট মিনেলি, (মার্কিন মঞ্চ ও চলচ্চিত্র পরিচালক। ১৮৩৪ – স্যামুয়েল টেইলর কোলরিজ ইংরেজ কবি, সাহিত্য সমালোচক এবং দার্শনিক)।

১৮৪৩ – চার্লস ম্যাকিনটোস, ( জল নিরোধক কাপড়ের উদ্ভাবক )।

।।তথ্য : সংগৃহীত ইন্টারনেট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ

মহা নায়ক উত্তম কুমার, বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি, প্রয়াণ দিবসে শ্রদ্ধাঞ্জলি।

উত্তম কুমার ভারতীয় চলচ্চিত্রের বাংলা সিনেমার একজন কিংবদন্তী এবং সর্বশ্রেষ্ঠ মহানায়ক রূপে পূজিত। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বাংলার প্রথম সুপারস্টার হলেন উত্তম কুমার। তার সময়ে তাকে ম্যাটিনি আইডল বলা হত।উত্তম কুমার, যিনি মহানায়ক নামে পরিচিত, ছিলেন একজন ভারতীয় চলচ্চিত্র অভিনেতা, প্রযোজক, পরিচালক, চিত্রনাট্যকার, সুরকার এবং গায়ক যিনি মূলত বাংলা সিনেমায় কাজ করতেন।  কুমার অ্যান্টনি ফিরিঙ্গি (১৯৬৭), এবং চিরিয়াখানা (১৯৬৭) ছবিতে কাজের জন্য সেরা অভিনেতার জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান।  কুমার ছিলেন বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসের অন্যতম সফল এবং প্রভাবশালী অভিনেতা।  কুমারের কর্মজীবন ১৯৪০-এর দশকের শেষ থেকে ১৯৮০ সালে তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত তিন দশক ধরে বিস্তৃত ছিল।
তিনি ২০০ টিরও বেশি চলচ্চিত্রে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন, এবং তার কিছু বিখ্যাত কাজ হল অগ্নি পরীক্ষা, হারানো সুর, বিচারক, সপ্তপদী, ঝিন্দর বান্দি, দেয়া নেয়া, লাল পাথর, জতুগৃহ, থানা থেকে আসছি।

 

জন্ম ও পরিবার—

 

অরুণ কুমার চট্টোপাধ্যায় ১৯২৬ সালের ৩ সেপ্টেম্বর উত্তর কলকাতার আহিরীটোলায় মাতৃগৃহে জন্মগ্রহণ করেন।  তাঁর পিতা সাতকড়ি চট্টোপাধ্যায় এবং মা চপলা দেবী।  তিনি মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান ছিলেন।  তার দুই ভাই ছিল, বরুণ কুমার ও তরুণ কুমার।  তার ছোট ভাই তরুণ কুমারও একজন অভিনেতা ছিলেন।  “উত্তম” ডাকনাম তাকে তার মাতামহ দিয়েছিলেন।

 

ছেলেবেলা—-

উত্তম কুমারকে চক্রবেরিয়া হাই স্কুলে ভর্তি করা হয় এবং পরে সাউথ সাবারবান স্কুলে ভর্তি হন যেখানে তিনি ম্যাট্রিকুলেশন পাস করেন।  স্কুলে পড়ার সময় তিনি “লুনার ক্লাব” নামে একটি নাট্যদলের নেতৃত্ব দেন।  কুমারের প্রথম ভূমিকা ছিল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মুকুটে।  দশ বছর বয়সে, তিনি নাটকে তার ভূমিকার জন্য একটি ট্রফি জিতেছিলেন।  তিনি তার উচ্চ শিক্ষার জন্য গোয়েঙ্কা কলেজ অফ কমার্স অ্যান্ড বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনে যোগদান করেছিলেন, কিন্তু তার পরিবারের আর্থিক অসুবিধার কারণে এই শিক্ষাটি সম্পূর্ণ করতে পারেননি।  তারপর তিনি কলকাতা পোর্ট ট্রাস্ট কে ক্লার্ক হিসেবে যোগদান করেন, যেখানে তিনি প্রতি মাসে ৭৫ টাকা বেতন পেতেন। নিদানবন্ধু ব্যানার্জির কাছে গান শেখেন।  তিনি লাঠি খেলা শিখেছিলেন এবং কুস্তি অনুশীলন করতেন।  তিনি পরপর তিন বছর ভবানীপুর সুইমিং অ্যাসোসিয়েশনে সাঁতারে চ্যাম্পিয়ন হন।  তার পরিবার সুহৃদ সমাজ নামে একটি অপেশাদার নাট্যদলে যুক্ত হন।

 

 

কর্মজীবন—-

 

নিম্ন মধ‍্যবিত্ত পরিবারে জন্ম হয়েছিলেন। তাই পারিবারিক আর্থিক অনটনের জন‍্য চলচ্চিত্র জগতে আসা সহজ ছিলো না। তাই এক সাধারণ পরিবারের বড়োছেলে হিসেবে সংসারের হাল ধরতে চাকরির খোঁজ শুরু করেন তিনি। অনেক খুঁজে ১৯৪৬ সালে কলকাতা বন্দরে কেরানির চাকরি নেন উত্তম কুমার। চাকরি করার জন‍্য কলেজ শেষ করতে পারেননি তিনি। যখন তিনি শেষ বর্ষের ছাত্র তখন তাঁকে কলেজ ছাড়তে হয় কাজের চাপে। পড়াশোনা খুব বেশি দূর করতে না পারার আক্ষেপ ছিলো তাঁর বরাবর। কলকাতা বন্দরে কেরানির চাকরিতে মাসিক ২৭৫ টাকা মাইনে দিয়ে কর্মজীবন শুরু হয় তাঁর। তবে চাকরি করলেও অভিনয় থেকে বিরত থাকতে পারেননি।

 

চলচ্চিত্র ক্যারিয়ার—

 

শুরুতে অরুণ কুমার নামে কিছু বানিজ্যিক ভাবে অসফল সিনেমা দিয়ে নিজের কেরিয়ার শুরু করলেও কিছু সময় পর খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি হয়ে ওঠেন বাংলার সব থেকে জনপ্রিয় নায়ক।  কুমার ১৯৪৭ সালে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে প্রবেশ করেন, হিন্দি ফিল্ম মায়াডোরে অতিরিক্ত হিসেবে উপস্থিত হয়েছিলেন, যেটি কখনও মুক্তি পায়নি।  তার প্রথম মুক্তিপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র ছিল ১৯৪৮ সালের চলচ্চিত্র দৃষ্টিদান, যা নিতিন বোস পরিচালিত এবং অসিত বারান অভিনীত।  পরের বছর, তিনি কামোনা ছবিতে নায়ক হিসেবে আবির্ভূত হন, আবার তার নাম পরিবর্তন করে উত্তম চ্যাটার্জি রাখা হয়।  পরে তিনি আবার নিজের নাম পরিবর্তন করে অরুণ কুমার রাখেন।  পাহাড়ী সান্যালের পরামর্শে ১৯৫১ সালের ছবি সহযাত্রী প্রথম যেখানে তিনি উত্তম কুমার নামটি ব্যবহার করেছিলেন।  কুমারের প্রথম দিকের অনেক ছবিই ফ্লপ ছিল এবং তাকে ডাকনাম দেওয়া হয়েছিল “ফ্লপ মাস্টার জেনারেল”।
১৯৫২ সালে, নির্মল দে পরিচালিত বাসু পরীবারে কুমারের একটি সহায়ক ভূমিকা ছিল, যেটি ছিল তার প্রথম ভূমিকা যা প্রশংসা লাভ করে।  পরের বছর, তিনি একই স্টুডিও এবং পরিচালকের সাথে শেরে চুয়াত্তর চলচ্চিত্রে কাজ করেন, যেটি তার প্রথমবার সুচিত্রা সেনের সাথে জুটি বেঁধেছিল। তার প্রথম যুগান্তকারী ভূমিকা ছিল ১৯৫৪ সালে অগ্রদূতের চলচ্চিত্র অগ্নিপরীক্ষাতে।

 

 

উত্তম কুমার ১৯৬৬ সালে নায়ক ছবিতে প্রথমবার সত্যজিৎ-এর সাথে কাজ করেন।  নায়ক-এ কুমারকে দেখার পর, অভিনেত্রী এলিজাবেথ টেলর তার অভিনয়ে মুগ্ধ হয়েছিলেন এবং কাজ করতে চেয়েছিলেন এবং তার সাথে দেখা করতে চেয়েছিলেন।
১৯৬৭ সালে, উত্তম কুমার রায়ের সাথে চিরিয়াখানায় কাজ করেন।  ভারত সরকার যখন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রবর্তন করে, তখন উত্তম কুমার ছিলেন প্রথম অভিনেতা যিনি চিরিয়াখানা এবং অ্যান্টনি ফিরিঙ্গিতে অভিনয়ের জন্য ১৯৬৮ সালে ১৫তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে শ্রেষ্ঠ অভিনেতার জন্য জাতীয় পুরস্কারে ভূষিত হন।

 

উত্তম কুমার প্রায় তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলা সিনেমায় কাজ করেছেন, ১৯৪৮ সালে তাঁর মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি দৃষ্টিদান থেকে ১৯৮০ সাল পর্যন্ত তাঁর মুক্তিপ্রাপ্ত ছবির সংখ্যা মোট ২০২টি, যার মধ‍্যে ১৫টি হিন্দি ছবিও আছে। তাঁর মুক্তিপ্রাপ্ত ছবিগুলির মধ‍্যে অগ্নিপরীক্ষা, হারানো সুর, সপ্তপদী, ঝিন্দের বন্দী, জতুগৃহ, লাল পাথর, থানা থেকে আসছি, রাজদ্রোহী, নায়ক, এন্টনী ফিরিঙ্গি, চৌরঙ্গী, এখানে পিঞ্জর, স্ত্রী, অমানুষ, অগ্নীশ্বর, সন্ন‍্যাসী রাজা ইত্যাদি অন‍্যতম। উত্তম কুমার ভারতের প্রথম অভিনেতা যিনি ১৯৬৮ সালে জাতীয় পুরস্কার শ্রেষ্ঠ অভিনেতার সম্মান পান। ১৯৬৭ সালের চলচ্চিত্র চিড়িয়াখানা ও এন্টনী ফিরিঙ্গির জন‍্য, তাঁকে বাংলা চলচ্চিত্রের সবচাইতে জনপ্রিয় ও সফল অভিনেতা হিসেবে ধরা হয়।

 

উত্তম কুমারের সাথে জুটি—

 

উত্তম-সুচিত্রা—

সুচিত্রা সেন উত্তম কুমার – এই জুটি বাংলা সিনেমার অমর জুটি নামে খ্যাত। তারা দুজন এক সাথে প্রায় ৩০টি ছবিতে অভিনয় করেছেন এবং সবক’টি ছবি চুড়ান্ত সাফল্যলাভ করেছে। তাদের অভিনীত কিছু উল্লেখযোগ্য ছবি হল – হারানো সুর, অগ্নী পরীক্ষা, প্রিয় বান্ধবী, শাপমোচন, ইন্দ্রাণী, সপ্তপদী ইত্যাদি।

 

উত্তম-সুপ্রিয়া—

সোনার হরিণ থেকে তাদের জুটির জয়যাত্রা শুরু। এরপর তারা একে একে উত্তরায়ণ, কাল তুমি আলেয়া, সন্যাসী রাজা, বন পলাশীর পদাবলী, বাঘ বন্দীর খেলা ইত্যাদি জনপ্রিয় ছবিতে অভিনয় করেন।

 

উত্তম-সাবিত্রী—

শেষ দিকে উত্তম কুমারের সাথে সাবিত্রী চ্যাটার্জীর জুটি খুবই জনপ্রিয় হয়। তাদের করা উল্লেখ যোগ্য কিছু ছবি হল হাত বাড়ালেই বন্ধু, দুই ভাই, নিশি পদ্ম, মমের আলো ইত্যাদি। ধন্যি মেয়ে বা মৌচাকের মত কমেডি ছবিতে সাবিত্রীর সাথে জুটি বেঁধে উত্তম কুমারের হাসির অভিনয় আজও সকল দর্শকের মন জয় করে।

 

ব্যক্তিগত জীবন—

 

তিনি ১৯৪৮ সাল থেকে ১৯৬৩ সাল পর্যন্ত গৌরী দেবীর বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ ছিলেন। এবং গৌতম চট্টোপাধ্যায় নামে এক সন্তান ছিল। তবে গৌতম চট্টোপাধ্যায়  পরবর্তীকালে ক্যান্সারে মারা যান। ১৯৬৩ সালে তিনি পরিবার ছেড়ে চলে যান এবং জীবনের শেষ ১৭ বছর তিনি অভিনেত্রী সুপ্রিয়া দেবীর সাথেই ছিলেন। উত্তম কুমারের সঙ্গে সুপ্রিয়া দেবীর গভীর সম্পর্কে ছিল। শোনা যায় তিনি সুপ্রিয়া দেবীকে বিয়েও করেছিলেন।

 

পুরস্কার এবং স্বীকৃতি—

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার—

 

১৯৬১: বাংলায় দ্বিতীয় সেরা ফিচার ফিল্মের জন্য সার্টিফিকেট অফ মেরিট – সপ্তপদী (প্রযোজক হিসেবে)

১৯৬৩: বাংলায় সেরা ফিচার ফিল্মের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার – উত্তর ফাল্গুনী (প্রযোজক হিসেবে)

১৯৬৭: সেরা অভিনেতার জন্য জাতীয় পুরস্কার – অ্যান্টনি ফিরিঙ্গি, চিরিয়াখানা।

 

প্রয়াণ—-

 

বাংলা সিনেমার মহানায়ক উত্তম কুমার টলিউডকে কার্যত খ্যাতির শিখরে নিয়ে গিয়েছিলেন তিনিই। অথচ মাত্র ৫৪ বছর বয়সেই আচমকা কাউকে কিছু টের পেতে না দিয়েই খাতির মধ্য গগনে থাকতে থাকতেই প্রয়াত হন তিনি। সেই সময় ওগো বঁধু সুন্দরী সিনেমার শুটিং করছিলেন। শেষ দিনের শুটিং চলাকালীন হার্ট অ্যাটাকে তার মৃত্যু হয়। তারকার মতই নিঃশব্দে মৃত্যু হয়েছিল তার। ১৯৮০ সালের ২৪শে জুলাই, তারিখটা টলিউডের এর জন্য একটা কালো দিন। কারণ এই দিনেই প্রয়াত উত্তম কুমার। তার মৃত্যু বাংলা সিনেমা জগতে নেমে আসে এক গভীর শোকের ছায়া। তার অন্তিম যাত্রায় সারা কলকাতা রাজ পথে বেরিয়ে আসে।  তার অপ্রত্যাশিত মৃত্যুতে কলকাতার বহু মানুষ শোক প্রকাশ করেন। বাংলা সিনেমা যতদিন থাকবে উত্তম কুমার মহানায়ক হয়েই রয়ে যাবেন সকল বাঙালীর মনে।

 

।।তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

 

Share This
Categories
রিভিউ

আজ ২৪ জুলাই, ইতিহাসের আজকের এই দিনে যা ঘটেছিল।

আজ ২৪ জুলাই। ইতিহাস ঘেটে দেখা যায় বছরের প্রতিটি দিনে ঘটেছে অনেক উল্লেখযোগ্য ঘটনা। আসুন আজকের দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য কিছু বিষয় একনজরে দেখে নিই।  ইতিহাসের আজকের এই দিনে কী কী ঘটেছিল, কে কে জন্ম নিয়েছিলেন ও মৃত্যুবরণ করেছিলেন——-

 

আজ যাদের জন্মদিন—-

১৯০০ – জেল্ডা ফিট্‌জেরাল্ড, মার্কিন সমাজকর্মী, ঔপন্যাসিক, চিত্রশিল্পী ও নৃত্যশিল্পী।

১৯১১ – পান্নালাল ঘোষ, ভারতীয় বাঙালী বাঁশী বাদক ও সুরকার।

১৯১৭ – জ্যাক মরনি, প্রথিতযশা অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটার।

১৯৩০ – প্রথম বাঙালি মহিলা ইঞ্জিনিয়ার এবং প্রথম ভারতীয় মহিলা মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার ইলা ঘোষ মজুমদার।

১৯৩১ – প্রখ্যাত বাঙালি সুরকার অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়।

১৯৩৪ – প্রখ্যাত বাঙালি সঙ্গীতশিল্পী সুবীর সেন।

১৯৬৯ – মার্কিন সংগীতশিল্পী ও অভিনেত্রী জেনিফার লোপেজ।

১৮০২ – আলেক্সাঁদ্র্ দ্যুমা, বিখ্যাত ফরাসি ঔপন্যাসিক।

১৮২৪ – হরিশচন্দ্র মুখোপাধ্যায়, প্রখ্যাত বাঙালি সাংবাদিক ও সমাজসেবক।

১৮৫৭ – ডেনমার্কের নোবেলজয়ী লেখক হেইনরিখ পন্টোপিডান।

১৮৬৭ – ফ্রেড টেট, ইংরেজ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার।

১৮৮৮ – আর্থার রিচার্ডসন, অস্ট্রেলীয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার ও আম্পায়ার।

১৮৯৭ – অ্যামেলিয়া এয়ারহার্ট, একজন মার্কিন বিমান অগ্রগামী এবং লেখিকা।

১৭৮৩ – সিমন বলিভার, দক্ষিণ আমেরিকার বিপ্লবী সামরিক ও রাজনৈতিক নেতা।

 

ইতিহাসের পাতায় আজকের দিনের ঘটনাবলী—-

১৯১১ – মার্কিন অভিযাত্রী পেরুর ষোড়শ শতকের ইনকা সভ্যতার অন্যতম প্রতীক মাচু পিচু শহর আবিষ্কার করেন।

১৯২১ – ফিলিস্তিন, ইরাক, ও পূর্ব জর্দান বৃটিশদের অধীনে এবং সিরিয়া ও লেবানন ফরাসী সরকারের অধিনে চলে আসে।

১৯৩২ – কলকাতায় রামকৃষ্ণ মিশন সেবা প্রতিষ্ঠান স্থাপিত হয়।

১৯৩৩ – ২৭ বছর ধরে ধারাবাহিক প্রচারিত নাটক ‘দ্য রোমাঞ্চ অব হেলেন ট্রেন্ট’-এর প্রথম পর্ব প্রচারিত হয়।

১৯৪৪ – দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে বৃটিশ বিমান বাহিনী জার্মানীর হামবুর্গ বন্দরে নজিরবিহীন ও ভয়াবহ বোমা বর্ষণ করে।

১৯৪৬ – সমুদ্র তলদেশে প্রথম পারমাণবিক বোমা বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।

১৯৭৬ – ঢাকায় প্রেসিডেন্টের গার্ড রেজিমেন্ট প্রতিষ্ঠিত হয়।

১৯৮৫ – অত্যন্ত ব্যয়বহুল ওয়াল্ট ডিজনির ‘দ্য ব্ল্যাক কলড্রন’ সিনেমা হলে মুক্তি পায়।

১৯৮৬ – এডিনবয়ায় কমনওয়েলথ গেমস শুরু। ৩১ টি দেশের ক্রীড়া বর্জন।

১৮১৪ – ক্যালকাটা স্কুল সোসাইটি প্রতিষ্ঠিত হয়।

১৮২৩ ‌- চিলিতে দাসত্ব প্রথা বিলোপ।

১৮৬১ – নীলদর্পণ নাটকের ইংরেজি অনুবাদ প্রকাশের দায়ে পাদ্রি জেমস লঙ কারারুদ্ধ হন।

১৮৬৮ – মার্কিন বিজ্ঞানী ও গবেষক ‘জন ওয়েসলি হিট’ প্লাস্টিক তৈরীর জন্য নতুন ধরনের উপাদান তৈরী করতে সক্ষম হন।

১৮৭৯ – মি. ফিউরি কলকাতায় প্রথম বৈদ্যুতিক বাতি প্রদর্শন করেন।

১৫৩৪ – ফরাসি অভিযাত্রী কানাডায় তরী ভিড়িয়ে সেটিকে ফ্রান্সের অঞ্চল বলে ঘোষণা করেন।

১২০৬ – কুতুবুদ্দিন আইবেক সিংহাসনে আরোহণ করেন।

 

এই দিনে মৃত্যুবরণ করেন যারা—-

২০০০ – আহমাদ সামলো, ইরানি কবি ও সাংবাদিক।

২০০৩ – সমিত ভঞ্জ, ভারতীয় বাঙালি  চলচ্চিত্র অভিনেতা।

২০০৯ – আলপনা বন্দ্যোপাধ্যায়, ভারতীয় বাঙালি সঙ্গীতশিল্পী।

২০১২ – জন আটা মিলস, ঘানার আইনজীবী, রাজনীতিবিদ ও ৩য় রাষ্ট্রপতি।

২০২০ (ক) দেলোয়ার হোসেন, মুক্তিযোদ্ধা ও রাজনীতিবিদ, সাবেক সংসদ সদস্য।

(খ) অমলাশংকর, ভারতীয় ব্যালে নর্তকী।

১৯৩৯ – স্যার আবদুল করিম গজনভি, বাঙালি রাজনীতিবিদ, অবিভক্ত বাংলার মন্ত্রী।

১৯৭৪ – স্যার জেমস চ্যাডউইক, নোবেল পুরস্কার বিজয়ী ব্রিটিশ পদার্থবিদ।

১৯৭৫ – অরুণাচল বসু, বাঙালি কবি ও অনুবাদক।

১৯৮০ – উত্তম কুমার, বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম জনপ্রিয় নায়ক।

১৯৮০ – বিনয় ঘোষ, সমাজবিজ্ঞানী ও সাহিত্য-সমালোচক।

১৯৮৬ – ফিৎস লিপম্যান, নোবেল পুরস্কার বিজয়ী মার্কিন জৈবরসায়নবিদ।

১৯৯১ – আইজ্যাক সিঙ্গার, নোবেল পুরস্কার বিজয়ী সুইডিশ ঔপন্যাসিক।

১৯৯৯ – বাদশাহ হাসান, মরক্কোর বাদশাহ।

১৮৭০ – কালীপ্রসন্ন সিংহ, ঊনবিংশ শতকের সাহিত্যিক, মহাভারতের বাংলা অনুবাদক।

১৮৮৪ – প্রখ্যাত বাঙালি সাংবাদিক, বাগ্মী ও রাজনীতিক, হিন্দু প্যাট্রিয়ট পত্রিকার সম্পাদক রায়বাহাদুর কৃষ্ণদাস পাল।

 

।।তথ্য : সংগৃহীত ইন্টারনেট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

শমিত ভঞ্জ : বাংলা সিনেমার প্রথম ‘আধুনিক নায়ক’; প্রয়াণ দিবসে শ্রদ্ধাঞ্জলি।

শমিত ভঞ্জ একজন বাঙালি চলচ্চিত্র অভিনেতা। তাঁর পিতা প্রীতিময় ভঞ্জ এবং মা শীলা ভঞ্জ। তাদের তৃতীয় পুত্র শমিতের জন্ম হয় ১৯৪৪ এর জানুয়ারি মাসে মেদিনীপুরের তমলুকে। তাঁর উপরে দুই দাদা এবং এক ছোট বোন ছিল।

ছেলেবেলা—-

ছোটবেলা থেকেই খুব ডাকাবুকো স্বভাবের ছিলেন শমিত। শৈশবে একবার তাঁর ছোটবোন কৃষ্ণাকে এক সহপাঠী চড় মেরেছিল। তাতে রেগে গিয়ে সেই সহপাঠীকে বালির মধ্যে পুঁতে দিয়েছিল ছোট্ট শমিত। তার বয়স তখন সাত। শেষে শিক্ষকরা এসে তাকে উদ্ধার করেন। খেলতে গিয়ে মাথা ফেটে গেছে… একমুঠো মাটি তুলে সেখানে ঘষে দিয়ে আবার খেলতে শুরু করেছে এমনই দুরন্তপনা ছিল তাঁর।

 

অভিনয়ের জন্য বড়ি ছাড়া— .

স্বভাব চিরকালই ডানপিটে ধরণের। এখনকার ভাষায়, একটু ‘দাদাগিরি টাইপের’। অভিনয় করবেন বলে বাবার সঙ্গে ঝগড়া করে বাড়ি ছেড়েছিলেন। নিজের বেকারত্বকে পাত্তা না দিয়ে কলেজ পড়ুয়া প্রেমিকাকে বিয়ে করেছিলেন জেদের বশে। অনুমতির তোয়াক্কা না করে, তপন সিংহের মতো নামী পরিচালকের ঘরে ধাক্কা দিয়ে ঢুকে বলেছিলেন, “অভিনয় করতে চাই।”

 

কর্মজগৎ—

অভিনেতা হিসেবে তিনি আজও প্রতিটি বাঙালি হৃদয়ে বেঁচে আছেন। কতটা দক্ষ অভিনেতা তিনি ছিলেন তা বুঝিয়েছেন অভিনয়ের মধ্যদিয়ে। তবে এতটা সহজ ছিলনা তাঁর পথচলা। কারন, তিনি যে সময়ে বাংলা ছবিতে অভিনয় করতে এসেছিলেন তখন বাংলা চলচ্চিত্র আকাশে সূর্য হয়ে বিরাজমান ছিলেন উত্তমকুমার। উত্তম আলোয় তখন ঢাকা পড়ে যাচ্ছিল সব। বাঙালির হৃদয় জুড়ে তখন উত্তম আর উত্তম। তার পাশাপাশি আবার সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ও তখন বাঙালির মনে আলোড়ন তুলেছেন। তাঁদের অভিনয়ে, ক্যারিশমায় বাঙালি দর্শক থেকে পরিচালকরা পর্যন্ত বিভোর।

 

 

কিন্তু তার পরেও অভিনয় দক্ষতার দিয়ে উত্তমকুমার, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, অনিল চট্টোপাধ্যায়, স্বরূপ দত্তের পাশাপাশি শমিত ভঞ্জের নাম এবং খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে। তিনি সত্যজিৎ রায়, মৃণাল সেন, তপন সিংহ, গৌতম ঘোষ প্রমুখ চলচ্চিত্র পরিচালকদের সাথে কাজ করেছেন।  তপন সিংহের মতো পরিচালক ও তাঁর অভিনয়ে মুগ্ধ হয়ে সুযোগ দেন “আপনজন” ছবিতে। আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাঁকে। একে একে নতুন ছবিতে সুযোগ পেতে থাকেন। অভিনয় করেছেন সত্যজিৎ রায় (অরণ্যের দিনরাত্রি), তরুণ মজুমদার(ফুলেশ্বরী, দাদার কীর্তি, গণদেবতা), বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত (ফেরা) -এর মতো বিখ্যাত পরিচালকদের ছবিতে।

 

 

অভিনীত ছবি—

 

বহু বাংলা ছবিতে অভিনয় করেছিলেন শমিত ভঞ্জ।
তাঁর অভিনিত ছবি গুলি হলো  হাটে বাজারে (১৯৬৭), আপনজন (১৯৬৮), পরিণীতা (১৯৬৯), নতুন পাতা (১৯৬৯), বনজ্যোৎস্না (১৯৬৯), অরণ্যের দিনরাত্রি (১৯৭০), গুড্ডি (১৯৭১), যবন (১৯৭২), আজকের নায়ক (১৯৭২), ফুলেশ্বরী (১৯৭৪), অসতী (১৯৭৪), মৃগয়া (১৯৭৬), দত্তা (১৯৭৬), কবিতা (১৯৭৭), স্ট্রাইকার (চলচ্চিত্র) (১৯৭৮), গণদেবতা (১৯৭৯), দাদার কীর্তি (১৯৮০), শহর থেকে দূরে (১৯৮১), আবার অরণ্যে (২০০৩)।
শুধু বাংলা নয়, হৃষিকেশ মুখোপাধ্যায় পরিচালিত বিখ্যাত ছবি “গুড্ডি”-তে নায়কের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন তিনি।

 

 

মৃত্যু–

 

অভিনেতা হিসেবে তাঁর জায়গা হওয়া উচিত ছিল হলিউডের ক্লিন্ট ইস্টউড, লি ভন ক্লিফ বা ডেনজেল ওয়াশিংটনের মতো অভিনেতাদের পাশেই। কিন্তু কপালদোষে বাংলা সিনেমার প্রথম ‘আধুনিক নায়ক’কে সে দিন চিনতে পারেননি কেউ। উত্তম মোহে তখনও বিভোর বাংলার পরিচালক থেকে দর্শককুল। তবু হতাশা তাঁকে গ্রাস করতে পারেনি। সমৃদ্ধ করেছেন বাংলা সিনেমাকে। জীবনের শেষ সিনেমা “আবার অরণ্যে”-তে যখন অভিনয় করেছিলেন তখন তিনি ক্যানসারের শেষ স্টেজে। কিন্তু তাই নিয়েই কাজ সম্পূর্ণ করেছিলেন তিনি। এমনই ছিল তাঁর কাজের প্রতি নিষ্ঠা, অভিনয়ের প্রতি ভালোবাসা। ২০০৩ সালের ২৪ জুলাই ক্যানসারে তার মৃত্যু হয়।

 

।। তথ্য সংগৃহীত : উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েপেজ।।

 

 

Share This
Categories
কবিতা

এলে অগ্নিমূর্তি ধারণ করে :::: রাণু সরকার।।।

চলে তো গিয়েছিলে,
আবার কেনো এলে-
কুড়ি বছর পর?
কষ্ট গুলোকে সংগ্রহ করতে গিয়ে আরো কষ্ট জন্ম নিলো।

দেখছোনা ওরা জ্বলছে–
দিলেতো সব ভণ্ডুল করে,

নমিত শরীর বারবার ওঠাবসা করতে পারি না যে–
কিছু কষ্ট কোথায় যে লুকিয়ে পড়লো কী জানি–
কিছুক্ষণ আগেও ওরা ছিলো।
ওদেরও ভয় আছে জ্বলার, যে কী জ্বালা একমাত্র আমিই জানি।
ভাবছিলাম বসে,
ওরা কোথায় থাকতে পারে।

তুমি এলে অগ্নিমূর্তি ধারণ করে-
হয়তো তোমার ভয়ে তারা লুকিয়ে পড়েছে।
একটুও পালটাওনি তুমি, আগের মতই আছো।
এই বয়সে এসেও গর্হিত বস্ত্র পরিধান করেছো
যাগ্গে-আমার বলাটাই অপ্রয়োজনীয়,

কষ্ট গুলো ভালোই জ্বলছিলো-
প্রথমে তো আসতেই চাইছিলো না,
জোরপূর্বক জ্বালাতে হলো,
কেনো না এদের সান্নিধ্যে আর থাকতে
পারছি না।

কেনো এলে তুমি?

আমি তো অট্টালিকা ও মূল্যবান যাকিছু ছিলো সব তো দিয়ে এসেছি।
সাথে করে কিছুতো আনিনি,
তবে কেনো এলে আমার জীর্ণ কুটিরে?
এসেই আমার কষ্টের আগুনে দিলে জল ঢেলে।
এই ধোঁয়ায় কষ্ট গুলো ছটফট করছে-
একবারে পুড়ে গেলে এতো কষ্ট হতো না।

এ- তুমি কী করলে অর্ধমৃত করে রেখেদিলে !

Share This
Categories
কবিতা

প্রেমের বন্ধনে ::: রাণু সরকার।।

তুমি আকাশ পটের
বনগোলাপের ঝাড়।
আমাকে প্রেমের বন্ধনে
রেখেছো বেঁধে,
নিষ্প্রাণের মত
শৈত্য দৃষ্টিতে।

আমার কাব্য ক্ষুদ্র হয়ে নিজে হয় শাণিত,
তখন হৃদয়ে কাটে আঁচড়।
তুমি ধ্বনিশূন্য থেকে নিজেকে ঘায়েল
করতে পছন্দ কর,
তাইতো বলো কাব্য?

বিরল এক সৌন্দর্য ছড়িয়ে পড়ে চতুর্দিকে।

আমিও তখন চলি নিজেকে ঘায়েল করতে,
অদৃষ্টক্রমে কেউ না কেউ দেখে,
তখন অ-দীক্ষত হই আমি।

919330728724

Share This
Categories
কবিতা

দুজনায় :: রাণু সরকার।।

এক শ্রাবণের সন্ধ্যায় বসে ছিলাম দু’জনে,
চিন্তান্বিত ছিলাম আপন সংলাপে!
ঝিরঝির পড়ছিলো বর্ষা,
কখন যে লুকিয়ে রেখেছিলো সে
আমার বুকের ভাঁজে একটি গোলাপ আমি স্পর্শদ্বারাও অনুভব করতে পারিনি, এতোটাই মগ্ন ছিলাম কাব্যে-কথায়!

এক রাশ আনন্দ নিয়ে বাড়ি ফিরছি,
পোশাক খুলতেই সে যেনো পড়তেই চায় না,
জাপটে আছে বুকে!
আমি অবাক হয়ে ভাবছি কখন এ কাজ করলো একটুও বুঝতে পেলাম না-
এতোটাই ছিলাম পরিপ্লুত!
পুরনো স্মৃতি মৃত হলেও মাঝে মাঝে তারা জেগে ওঠে,
স্মৃতিরা অগোছালো হয়, ওদের কি গুছিয়ে রাখা যায়?

সুসংবদ্ধ আলাপচারিতার কোন নথীভুক্তি থাকে না,
আমার স্মৃতিগুলো খুব উচ্ছৃঙ্খল,
বোঝালেও বোঝে না,
মানে না দিনরাত,
যখন তখন যে কোন রাগে
গলা ছেড়ে গাইতে শুরু করে।

আকাঙ্ক্ষা ছিলো বুড়ো আগুনে পুড়ে হব ছাই-
কবে সদ্যজাত ঘাসের ডগায় জেগে উঠবে কে জানে।
এখন গোলাপ দিলে সেটা স্মৃতি হওয়া সময়সাপেক্ষ!

919330728724

Share This
Categories
রিভিউ

২৩ জুলাই, ইতিহাসের আজকের এই দিনে যা ঘটেছিল।

আজ ২৩ জুলাই। ইতিহাস ঘেটে দেখা যায় বছরের প্রতিটি দিনে ঘটেছে অনেক উল্লেখযোগ্য ঘটনা। আসুন আজকের দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য কিছু বিষয় একনজরে দেখে নিই।  ইতিহাসের আজকের এই দিনে কী কী ঘটেছিল, কে কে জন্ম নিয়েছিলেন ও মৃত্যুবরণ করেছিলেন——-

 

আজ যাদের জন্মদিন—-

১৯০০ – জুলিয়েট ব্র্যান্ডনসান, (সুইস লেখক ও ইতিহাসবিদ)।

১৯০৬ – ভ্লাডিমির প্রেলগ, (ক্রোয়েশীয়-সুইস জৈব রসায়নবিদ)।

১৯০৬ – চন্দ্রশেখর আজাদ, (ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের বিপ্লবী)।

১৯২৫ – তাজউদ্দীন আহমদ, (বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী ও স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম নেতা)।

১৯৪৯ – ক্লাইভ রাইস, (দক্ষিণ আফ্রিকান আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার)।

১৯৫০ – অ্যালান টার্নার, (অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার)।

১৯৫২ – পল হিবার্ট, (অস্ট্রেলীয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার)।

১৯৫৩ – গ্রাহাম গুচ, (ইংল্যান্ডের সাবেক ও বিখ্যাত আন্তর্জাতিক ক্রিকেট তারকা)।

১৯৫৭ –  থিও ভ্যান গগ, (হল্যান্ডের প্রখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা)।

১৯৬১ – উডি হ্যারেলসন, (মার্কিন অভিনেতা ও নাট্যকার)।

১৯৬৫ – স্ল্যাশ, (ব্রিটিশ সঙ্গীতশিল্পী ও গীতিকার)।

১৯৬৭ – ফিলিপ সিমোর হফম্যান, (আমেরিকান অভিনেতা, পরিচালক এবং প্রযোজক।

১৯৭২ – ফ্লয়েড রেইফার, (বিশিষ্ট বার্বাডিয়ান ক্রিকেটার)।

১৯৭৬ – ইয়েহুডিট পোল্‌গার, (হাঙ্গেরীয় দাবাড়ু)।

১৯৮২ – পল ওয়েসলি, (আমেরিকান অভিনেতা, পরিচালক এবং প্রযোজক)।

১৯৮৬ – মেহদী হাসান খান, (অভ্র কী-বোর্ড-এর প্রোগ্রামার)।

১৯৮৯ – ড্যানিয়েল র‌্যাডক্লিফ, (ইংরেজ অভিনেতা)।

১৮০৮ – হরচন্দ্র ঘোষ,( উনিশ শতকের বাঙালি জজ)।

১৮৪৩ – রায়বাহাদুর কালীপ্রসন্ন ঘোষ, (বাঙালি সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও বাগ্মী)।

১৮৫৬ – বাল গঙ্গাধর তিলক, (ভারতের জাতীয়তাব্দী নেতা, সমাজ সংস্কারক, আইনজীবী ও স্বাধীনতা কর্মী)।

১৮৭৮ – ইরাকের কাজেমাঈন শহরে বিখ্যাত আলেমে দ্বীন আয়াতুল্লাহ সাদরুদ্দিন সাদর।

১৮৮৪ – এমিল জ্যানিংস, (জার্মান অভিনেতা)।

১৮৮৬ – ওয়াল্টার হার্মান শটকি, (জার্মান পদার্থবিজ্ঞানী)।

১৮৮৮ – রেমন্ড চ্যান্ডলার, (ব্রিটিশ-মার্কিন ঔপন্যাসিক এবং চিত্রনাট্যকার)।

১৮৯২ – হাইল স্যালেসি, (ইথিওপীয় সম্রাট)।

১৮৯৫ – পণ্ডিত লক্ষ্মীকান্ত মৈত্র, (অন্যতম সাংসদ, আইনজ্ঞ, বাগ্মী)।

১৮৯৮ – তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, (বিংশ শতকের বিশিষ্ট বাঙালি কথাসাহিত্যিক)।

 

ইতিহাসের পাতায় আজকের দিনের ঘটনাবলী—-

২০০৭ – বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিতে পরিণত।

১৯০০ -প্রথম প্যান-আফ্রিকা সম্মেলনের আয়োজন।

১৯০৩ – ফোর্ড মোটরগাড়ি কোম্পানি ডেট্রয়েটে প্রথম গাড়ি বিক্রি করেছে।

১৯১৪ – সার্বিয়াকে চরমপত্র দেয় অস্ট্রিয়া।

১৯২১ – চীনের কমিউনিস্ট পার্টির প্রথম প্রতিনিধি সম্মেলনের আয়োজন।

১৯২৩ – মিত্র ও সহযোগী শক্তির সাথে তুরস্কের নতুন লুজান চুক্তি (Traité de Lausanne) স্বাক্ষরিত।

১৯২৭ – ব্যক্তিগত উদ্যোগে ভারতের বোম্বাইয়ে প্রথম বেতার সম্প্রচার শুরু হয়।

১৯৩৪ – ব্রিটিশ সরকার ভারতের কমিউনিস্ট পার্টিকে বেআইনি ঘোষণা করে।

১৯৪২ – বুলগেরিয়ার কবি ও সমাজতান্ত্রিক নিকোলা ভ্যাপসারভকে ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে হত্যা করা হয়।

১৯৪২ – ব্রিটিশ সরকার ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়।

১৯৫২ – জেনারেল মহম্মদ নেগুইবের নেতৃত্বে সামরিক অভ্যুত্থানে মিশরের রাজা ফারুক ক্ষমতাচ্যুত হন।

১৯৯২ – জর্জিয়ার কাছ থেকে আবখাইজয়া স্বাধীনতা ঘোষণা করে।

১৯৯৫ – হেল-বপ ধূমকেতু আবিষ্কার হয়। পরের বছরের শুরুতে সেটি খালি চোখে দৃশ্যমান হয়।

১৮২৯ – আমেরিকাতে উইলিয়াম অস্টিন বার্ড টাইপরাইটারের পূর্বসুরী টাইপোগ্রাফার পেটেন্ট করেন।

১৮৮১ – আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংস্থা সমূহের মধ্যে সবচেয়ে পুরাতন আন্তর্জাতিক জিমন্যাস্টিক ফেডারেশন প্রতিষ্ঠিত হয়।

১৮৯৩ – কলকাতায় বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ পূর্বতন বেঙ্গল একাডেমি অব লিটারেচার স্থাপিত হয়।

১৭৯৩ – ফ্রান্স‌-এর হাত থেকে মেইনজ পুনরুদ্ধার করে প্রুশিয়া।

 

এই দিনে মৃত্যুবরণ করেন যারা—-

২০০৪ – মেহমুদ, (ভারতীয় অভিনেতা, গায়ক, পরিচালক এবং প্রযোজক)।

২০০৭ – মুহাম্মদ জহির শাহ, (আফগানিস্তানের শেষ বাদশাহ)।

২০১২ – ক্যাপ্টেন ডাক্তার লক্ষ্মী সেহগল, (আজাদ হিন্দ ফৌজের রাণী ঝাঁসি রেজিমেন্টের প্রধান)।

২০১২ – স্যালি রাইড, (আমেরিকান মহাকাশচারী এবং প্রকৃতিবিজ্ঞানী)।

২০১৩ – দালমা সান্তোস, (ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার)।

২০১৮ – বাসবী নন্দী, (ভারতীয় বাঙালি মঞ্চ ও চলচ্চিত্রাভিনেত্রী)।

২০২১ -( একুশে পদকপ্রাপ্ত গণসংগীত শিল্পী, স্বাধীন বাংলা বেতার শব্দসৈনিক বীর মুক্তিযোদ্ধা) ফ‌কির আলমগীর।

১৯১৬ ‌- স্যার উইলিয়াম র‍্যামজি, (স্কটিশ রসায়নবিদ, নোবেল পুরস্কার বিজয়ী বিজ্ঞানী)।

১৯৩৩ – যতীন্দ্রমোহন সেনগুপ্ত, (ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের সশস্ত্র বিপ্লবী ও আইনজীবী)।

১৯৪২ – অ্যান্ডি ডুকাট, (বিখ্যাত ইংরেজ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট তারকা ও ফুটবলার)

১৯৪৮ – ডি ডব্লিউ গ্রিফিথ, (প্রভাবশালী মার্কিন চলচ্চিত্র পরিচালক)।

১৯৫৭ – ইতালীয় কথাসাহিত্যিক জুজেপ্পে লাম্পাদুজার।

১৯৬৩ – নৃপেন্দ্রকৃষ্ণ চট্টোপাধ্যায় বাঙালি শিশুসাহিত্যিক,লেখক ও বাংলা চলচ্চিত্র জগতের এক অন্যতম ব্যক্তিত্ব।

১৯৬৬ – মন্টগামারি ক্লিফট, (মার্কিন চলচ্চিত্র, মঞ্চ ও বেতার অভিনেতা)।

১৯৬৮ – হেনরি ডেল, (ইংরেজ ওষুধবিজ্ঞানী ও শারীরতত্ত্ববিদ)।

১৯৭১ – ভ্যান হেফলিন, (মার্কিন মঞ্চ, বেতার ও চলচ্চিত্র অভিনেতা)।

১৯৮৫ – জনি ওয়ারডল, (বিখ্যাত ইংরেজ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট তারকা)।

১৯৯৯ – এস এম আহমেদ হুমায়ুন, (বাঙালি লেখক ও সাংবাদিক)।

১৯৯৯ – মরক্কোর বাদশা দ্বিতীয় হাসান।

১৮৮৫ – ইউলিসিস এস. গ্রান্ট, (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অষ্টাদশ রাষ্ট্রপতি)।

 

।।তথ্য : সংগৃহীত ইন্টারনেট।।

Share This