Categories
কবিতা

জানা নেই গন্তব্যস্থল : রাণু সরকার।

শরতের আকাশ দেখতে ভীষণ ভালো লাগে,
প্রতি শরতেই আকাশের দিকে তাকিয়ে দেখি
দল বেঁধে কারা যেন চলছে খড়ের আঁটি মাথায় নিয়ে।
অস্পষ্ট দৃষ্টিতে দেখি, অতোদূরে।
কষ্ট করে দৃষ্টিনিক্ষেপ করি,

ওদের গন্তব্যস্থল জানা নেই, চলছে তো চলছেই
দলের মধ্যে বৃদ্ধ বেশি,
কিশোর কম।
আবার কখন দেখি,
তুলোর পুঞ্জ মথায় নিয়ে ধীরগতিতে চলছে বৃদ্ধদের দল-
কিশোররা চলছে ক্ষিপ্রবেগে।

বৃদ্ধদের মুখ গম্ভীর দেখে মনে হচ্ছে অব্যক্ত
কত ভাষা অন্তরালে,
আমি ডেকেছিলাম-
একটু থমকে দাঁড়াল
কীজানি কী মনে হলো, আবার মন্থর গতিতে
চলতে লাগলো।

ওরা যাচ্ছে কোথায়?
আমায় ভাবনারা কুঁড়ে কুঁড়ে খায়!

Share This
Categories
কবিতা

এলে অগ্নিমূর্তি ধারণ করে : রাণু সরকার।

চলে তো গিয়েছিলে,
আবার কেনো এলে-
কুড়ি বছর পর?
কষ্ট গুলোকে সংগ্রহ করতে গিয়ে আরো কষ্ট জন্ম নিলো।

দেখছোনা ওরা জ্বলছে–
দিলেতো সব ভণ্ডুল করে,

নমিত শরীর বারবার ওঠাবসা করতে পারি না যে–
কিছু কষ্ট কোথায় যে লুকিয়ে পড়লো কী জানি–
কিছুক্ষণ আগেও ওরা ছিলো।
ওদেরও ভয় আছে জ্বলার, যে কী জ্বালা একমাত্র আমিই জানি।
ভাবছিলাম বসে,
ওরা কোথায় থাকতে পারে।

তুমি এলে অগ্নিমূর্তি ধারণ করে-
হয়তো তোমার ভয়ে তারা লুকিয়ে পড়েছে।
একটুও পালটাওনি তুমি, আগের মতই আছো।
এই বয়সে এসেও গর্হিত বস্ত্র পরিধান করেছো
যাগ্গে-আমার বলাটাই অপ্রয়োজনীয়,

কষ্ট গুলো ভালোই জ্বলছিলো-
প্রথমে তো আসতেই চাইছিলো না,
জোরপূর্বক জ্বালাতে হলো,
কেনো না এদের সান্নিধ্যে আর থাকতে
পারছি না।

কেনো এলে তুমি?

আমি তো অট্টালিকা ও মূল্যবান যাকিছু ছিলো সব তো দিয়ে এসেছি।
সাথে করে কিছুতো আনিনি,
তবে কেনো এলে আমার জীর্ণ কুটিরে?
এসেই আমার কষ্টের আগুনে দিলে জল ঢেলে।
এই ধোঁয়ায় কষ্ট গুলো ছটফট করছে-
একবারে পুড়ে গেলে এতো কষ্ট হতো না।

এ- তুমি কী করলে অর্ধমৃত করে রেখেদিলে !

Share This
Categories
রিভিউ

আজ ১০ জুলাই, ইতিহাসের আজকের এই দিনে যা ঘটেছিল।

আজ ১০ জুলাই। ইতিহাস ঘেটে দেখা যায় বছরের প্রতিটি দিনে ঘটেছে অনেক উল্লেখযোগ্য ঘটনা। আসুন আজকের দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য কিছু বিষয় একনজরে দেখে নিই।  ইতিহাসের আজকের এই দিনে কী কী ঘটেছিল, কে কে জন্ম নিয়েছিলেন ও মৃত্যুবরণ করেছিলেন——-

 

দিবস—–

 

(ক) জাতীয় মৎস্যচাষী দিবস। (ভারত)

 

আজ যাদের জন্মদিন—-

১৯০২ – নোবেলজয়ী জার্মান রসায়নবিদ কুট আলডার

১৯১৩ – বিশিষ্ট বাঙালি চিত্রশিল্পী রথীন মৈত্র।

১৯১৫ – নোবেলজয়ী মার্কিন ঔপন্যাসিক সল বেলো

১৯১৮ – শুভ গুহঠাকুরতা, প্রখ্যাত রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী ও ‘দক্ষিনী’প্রতিষ্ঠাতা।

১৯২৫ – ডা. মাহাথির মোহাম্মদ, মালয়েশীয় রাজনীতিবিদ ও মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী

১৯২৮ – অ্যান্থনি মাসকারেনহাস, পাকিস্তানি সাংবাদিক, “দ্যা রেইপ অব বাংলাদেশ”খ্যাত লেখক

১৯৩১ – মতি নন্দী, ভারতের বাঙালি লেখক ও ক্রীড়া সাংবাদিক।

১৯৪৬ – সু লিয়ন, মার্কিন অভিনেত্রী।

১৯৪৯ – সুনীল গাভাস্কার, ভারতের জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেট খেলোয়াড়, অধিনায়ক ও প্রথিতযশা ব্যাটসম্যান

১৯৬৮ – মার্কিন অভিনেতা জনাথন গিলবার্ট

১৯৮০ – মার্কিন অভিনেত্রী জেসিকা সিম্পসন

১৮৩৪ – চেক সাহিত্য সমালোচক, কবি ও গল্পকার ইয়ান নেরুদা

১৮৫৬ – নিকোলা টেসলা, বিখ্যাত সার্বীয়-মার্কিন আবিষ্কারক, পদার্থবিজ্ঞানী, প্রকৌশলী

১৮৭১ – মার্সেল প্রুস্ত্‌, ফরাসি বুদ্ধিজীবী, ঔপন্যাসিক, প্রবন্ধকার ও সমালোচক

১৮৮৩ – মন্মথনাথ ঘোষ (বিদ্যাবিনোদ), বাঙালি শিল্পোদ্যোগী ও সাহিত্যিক।

১৮৮৫ – ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, বাংলাদেশী বহুভাষাবিদ, ভাষাবিজ্ঞানী ও বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ

১৮৯৩ – কেশবচন্দ্র নাগ, বাংলার প্রখ্যাত গণিতজ্ঞ ও গণিতের সর্বাধিক প্রচলিত পাঠ্যপুস্তক রচয়িতা।

১৬৩৫ – রবার্ট হুক, ইংরেজ বিজ্ঞানী।

১৪৫২ – স্কটল্যান্ডের রাজা তৃতীয় জেমস।

 

ইতিহাসের পাতায় আজকের দিনের ঘটনাবলী—-

১৯০০ – অস্ট্রেলিয়ায় সংবিধান গৃহীত হয়।

১৯২১ – মঙ্গোলিয়া নিজেকে স্বাধীন রাষ্ট্র ঘোষণা করে।

১৯৪০ – দ্বিতীয় মহাযুদ্ধ চলাকালে মার্শাল হেনরি পেটেইন ফ্রান্সের শাসনভার গ্রহণ করেন।

১৯৪২ – দুরারোগ্য ব্যাধিতে কাজী নজরুল ইসলাম চিরতরে স্তব্ধ হয়ে যান।

১৯৪৬ – ঢাকা মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা ৷

১৯৫৭ – ড.হীরালাল চৌধুরীর গবেষণায় ভারতে মাছ চাষে প্রণোদিত প্রজনন পদ্ধতি উদ্ভাবিত হয়।

১৯৬২ – যোগাযোগ উপগ্রহ ‘টেলিস্টার’ মহাশূন্যে উৎক্ষেপণ করা হয়।

১৯৬৬ – মহাকাশযান জেমিনি ১০ উৎক্ষেপন করা হয়।

১৯৬৮ – আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়ার সান্টাক্লারাতে ইন্টেল কর্পোরেশন প্রতিষ্ঠিত হয়।

১৯৭৩ – ৩০০ বছর ব্রিটিশ শাসনাধীন থাকার পর বাহামাস দ্বীপপুঞ্জ স্বাধীনতা লাভ করে।

১৯৭৬ – গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিক গেমসের ইতিহাসে রুমানিয়ার জিমন্যাস্ট নাদিয়া কোমিনিচি প্রথমবারের মতো পারফেক্ট ১০ স্কোর করেন।

১৯৮৯ – বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে সংবিধানের ৯ম সংশোধনী পাস।

১৯৯১ – বরিস ইয়েলৎসিন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন।

১৯৯২ – হানা সচুকা পোল্যান্ডের প্রথম মহিলা সরকার প্রধান নির্বাচিত।

১৮৪২ – নোটারি স্ট্যাম্প আইন পাস হয়।

১৮৫৪ – স্যর চার্লস উডের বিখ্যাত ডেসপ্যাচ প্রকাশিত হয়।

১৮৫৭ – মিরাটে সিপাহী বিদ্রোহের সূত্রপাত।

১৮৭১ – কলকাতা ও অন্যান্য পৌরসভার রাস্তাঘাট তৈরি রক্ষার খরচনির্বাহের জন্য নীতিনির্ধারক আইন চালু হয়।

১৭৪১ – ডেনমার্কের নাগরিক ভিতুস ব্রিংক আলাস্কা ভূখণ্ড আবিষ্কার করেন।

১৫২০ – রাজা পঞ্চম চার্লস ও রাজা অষ্টম হেনরি শান্তিচুক্তি সম্পাদন করেন।

১৫২৬ – পানিপথের যুদ্ধে জয় লাভ করে মোগল সম্রাট বাবর আগ্রায় পদার্পণ করেন।

১৫৫৩ – লেডি জেন গ্রে ইংল্যান্ডের রানি হন।

৮৭৪ – নরওয়ের জেলেরা উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরের দ্বীপ দেশ আইসল্যান্ড আবিষ্কার করে।

৭১৫ – মুহাম্মদ বিন কাসেম সিন্ধু বিজয়ী মুসলিম সেনাপতি এর মৃত্যু।

 

এই দিনে মৃত্যুবরণ করেন যারা—-

২০০১ – হুমায়ূন রশীদ চৌধুরী, বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের স্পীকার ও কূটনীতিবিদ।

২০১৪ -জোহরা সেহগল, ভারতীয় অভিনেত্রী, নৃত্যশিল্পী এবং নৃত্য পরিচালক ছিলেন।

১৯৭৭ – প্রখ্যাত বাঙালি চিত্রশিল্পী অতুল বসু প্রয়াত হন।

১৮১৭ – জেন অস্টেন, একজন ইংরেজ ঔপন্যাসিক।

১৮৯৩ -শিক্ষানুরাগী ও সমাজসেবক নওয়াব আব্দুল লতিফ।

 

।।তথ্য : সংগৃহীত ইন্টারনেট।।

Share This
Categories
রিভিউ

আজ ৯ জুলাই, ইতিহাসের আজকের এই দিনে যা ঘটেছিল।

আজ ৯ জুলাই। ইতিহাস ঘেটে দেখা যায় বছরের প্রতিটি দিনে ঘটেছে অনেক উল্লেখযোগ্য ঘটনা। আসুন আজকের দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য কিছু বিষয় একনজরে দেখে নিই।  ইতিহাসের আজকের এই দিনে কী কী ঘটেছিল, কে কে জন্ম নিয়েছিলেন ও মৃত্যুবরণ করেছিলেন——-

 

আজ যাদের জন্মদিন—-

১৯১৬ – এডওয়ার্ড হিথ, যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী।

১৯২১ – সৈয়দ মুহাম্মদ আহসান, পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর।

১৯২৫ – গুরু দত্ত নামে পরিচিত বসন্ত কুমার শিবশঙ্কর পাদুকোন, ভারতীয় চলচ্চিত্র পরিচালক, প্রযোজক ও অভিনেতা।

১৯৩২ – যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ডোনাল্ড রামসফেল্ড।

১৯৩৩ – অলিভার স্যাক্স, একজন স্নায়ু বিশেষজ্ঞ৷

১৯৩৮ – সঞ্জীব কুমার, একজন ভারতীয় অভিনেতা যিনি বলিউড চলচ্চিত্রে অভিনয় করতেন।

১৯৫৬ – টম হ্যাংক্‌স্, মার্কিন চলচ্চিত্র অভিনেতা।

১৯৫৭ – টিম ক্রিং, মার্কিন চিত্রনাট্য রচয়িতা এবং টেলিভিশন প্রযোজক।

১৮১৯ – সেলাই মেশিনের মার্কিন উদ্ভাবক এলিয়াস হাউ।

১৮৫৮ – জার্মান-মার্কিন নৃবিজ্ঞানী ফ্রান্স বোয়াস।

১৭৮৬ – জার্মান ভাস্কর রুডলফ শ্যাডো।

 

ইতিহাসের পাতায় আজকের দিনের ঘটনাবলী—-

২০০২ – আফ্রিকার দেশগুলোর নেতৃবৃন্দ অর্গানাইজেশন অব আফ্রিকান ইউনিটির স্থলে আফ্রিকান ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেন।

২০১১ – সুদান থেকে পৃথক হয়ে যায় দক্ষিণ সুদান।

১৯১৯ – জার্মানির ভার্সাই চুক্তি অনুমোদন।

১৯৪১ – সোভিয়েত ইউনিয়নের পসকভ অঞ্চল জার্মান নাৎসি বাহিনীর দখলে চলে যায়।

১৯৪৬ – শ্যামদেশের রাজা আনন্দ মাইদল আততায়ীর হাতে নিহত।

১৯৪৮ – এক মাস যুদ্ধ বিরতির পর আরব ও ইহুদিবাদী ইসরাইলের মধ্যে নতুন করে যুদ্ধ শুরু হয়।

১৯৫৫ – নিউক্লিয়াস অস্ত্র প্রতিযোগিতার বিরুদ্ধে রাসেল আইনস্টাইনের ইশতেহার প্রকাশ।

১৯৬৯ – বাঘকে ভারতের জাতীয় পশু হিসাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

১৯৭১ – মরক্কোর বাদশা হোসেনের জন্মদিন অনুষ্ঠানে হামলা। ১০০ লোক নিহত।

১৯৭২ – দখলদার ইসরাইলের গুপ্তচর সংস্থা মোসাদের সদস্যরা ফিলিস্তিনের সংগ্রামী লেখক গাসান কানানিকে হত্যা করে।

১৯৭৩ – বাহামা স্বাধীনতা লাভ করে।

১৯৮৯ – আর্জেন্টিনায় ৬০ বছরের মধ্যে প্রথম বেসামরিক প্রেসিডেন্ট হিসেবে কার্লোস মেনেমের শপথ গ্রহণ।

১৯৯১ – মেক্সিকোতে দীর্ঘস্থায়ী (৫৮ সেকেন্ড) সূর্যগ্রহণ। ২০৩২ সালের আগে এতো দীর্ঘ সূর্যগ্রহণ হবে না বলে ধারণা।

১৯৯৬ – বরিস ইয়েলৎসিন পুনরায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ায় রাশিয়ার পুনরায় চেচনিয়া আক্রমণ।

১৯৯৭ – শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে হলিফিল্ডের কানে কামড় দেয়ায় মাইক টাইসন এর লাইসেন্স বাতিল। ৩০ লাখ ডলার জরিমানা।

১৮১০ – নেপোলিয়ানের অধীনে হল্যান্ড ফরাসী সাম্রাজ্যের অধিভুক্ত হয়।

১৮১৬ – আর্জেন্টিনা স্পেনের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভ করে।

১৮৭৭ – উইম্বলডন প্রতিযোগিতার উদ্বোধন হয়।

৭৪২ – ইমাম ইবন শিহাব যুহরীর মৃত্যুবরণ ।

৬২৮ – হযরত রাসূলুল্লাহ (সা.) কর্তৃক রাজন্যবর্গের নামে পত্র প্রেরণ।

 

এই দিনে মৃত্যুবরণ করেন যারা—-

২০১৭ – সুমিতা সান্যাল, ভারতীয় বাঙালি চলচ্চিত্রাভিনেত্রী।

২০২০ – (ক) সাহারা খাতুন, বাংলাদেশি আইনজীবী ও রাজনীতিবিদ, বাংলাদেশের প্রথম নারী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

(খ) রঞ্জন ঘোষাল, ভারতীয় বাঙালি সঙ্গীতশিল্পী, গায়ক, গীতিকার, লেখক ও নাট্যব্যক্তিত্ব।

১৯১১ – রাজকুমার সর্বাধিকারী, বাঙালি সাংবাদিক, লেখক ও হিন্দু প্যাট্রিয়ট পত্রিকার সম্পাদক।

১৯২২ – ওগাই মোরি, জাপানি সাহিত্যিক।

১৯৩৪ – দীনেশচন্দ্র মজুমদার ভারতীয় উপমহাদেশের ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম ব্যক্তিত্ব এবং অগ্নিযুগের শহীদ বিপ্লবী।

১৯৬৯ – সুখলতা রাও, শিশু সাহিত্যিক।

১৯৮৫ – কবি ও সাহিত্যিক আহসান(?)।

১৯৯৪ – কিম ইল সুং, উত্তর কোরীয় রাষ্ট্রনায়ক।

১৯৯৯ – অশোক মিত্র, ভারতীয় দক্ষ প্রশাসক, সমাজ বিজ্ঞানী, গবেষক, প্রাবন্ধিক, বিশিষ্ট শিল্প ঐতিহাসিক ও শিল্প সমালোচক।

১৮৫০ – জ্যাকারি টেইলার, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দ্বাদশ রাষ্ট্রপতি।

১৮৫৬ – আমাদিও আভোগাদ্রো, ইতালীয় রসায়নবিদ।

১৭৯৭ – এডমান্ড বার্ক, অ্যাংলো-আয়ারল্যান্ডীয় লেখক, রাজনৈতিক তত্ত্ববিদ ও দার্শনিক।

৮৭৪ – হযরত বায়েজীদ বোস্তামী, সুফি ও ইসলাম ধর্মপ্রচারক।

 

।।তথ্য : সংগৃহীত ইন্টারনেট।।

Share This
Categories
উপন্যাস

দামাল মেয়ে কুহেলি (ধারাবাহিক উপন্যাস, দশম পর্ব) :  দিলীপ রায়।

কাঞ্চন নগরের ঢোকার আগে রাস্তার বাঁকে পৌঁছে কুহেলি ভয়ে, আতঙ্কে দিশাহারা । চারিদিকে অন্ধকার । রাস্তা সুনসান । জনমানব শূন্য । অন্ধকারে জোনাকি পোকার আনাগোনা । তাদের জ্যোৎস্নার মতো আলোর ঝিকিমিকি । হঠাৎ ! হঠাৎ মাথার উপর দিয়ে সম্ভবত বাদুড় উড়ে গেলো । বাদুড়ের কালো পাখনা মাথা ছুঁয়ে যাওয়ায় অত্যন্ত ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পড়লো কুহেলি । দূরে গাড়িটা দাঁড়িয়ে । আবার সেই মৃদুমন্দ স্বরে ডাক ভেসে আসলো, “কুহেলি !”
এবার সত্যি সত্যিই ভয় পেয়ে গেলো কুহেলি । এই রকম গা-ছমছম পরিস্থিতিতে কুহেলি প্রথম । ইতিপূর্বে এর চেয়েও ভয়ংকর পরিস্থিতি সামলেছে কুহেলি । শুধু তাই নয়, একাই সামলেছে । তখন একটিবারের জন্য নিজেকে দুর্বল মনে হতো না । কুহেলি বরাবর একটু অতিরিক্ত সাহসী । শরীরের জোরও তেমনি শক্তিশালী । চেহারাটা বলা চলে মারকুটে চেহারা । ভয়ডর কম । কুহেলির চেহারায় তারুণ্যের ছাপ স্পষ্ট । তার যৌবনকালের চেহারার গঠন এতটাই সুন্দর যেটা দেখে পথচলতি পুরুষেরা কুহেলির দিকে একবার হলেও তাকাবে । কোনো পথচলতি ছেলে-ছোকরা কুহেলিকে অবাঞ্ছিত শব্দ প্রয়োগ করলে, তাকে কুহেলির কাছে উচিত শিক্ষা পেতেই হবে । উচিত শিক্ষা দেওয়ার ব্যাপারে কুহেলির ভয়ডর কম । কেউ তাকে তার অসতর্ক মুহূর্তে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করলে সেই বান্দা কুহেলির হাত থেকে রেহাই পাবে না । কয়েক ঘা না দিলে কুহেলির মনে শান্তি আসে না । এহেন কুহেলি এই মুহূর্তে ভয়ে ভীতিতে শঙ্কিত !
ভয় পাওয়ার আরও একটা কারণ সেটা হচ্ছে থানার বড়বাবু তাকে সতর্ক করে বলেছেন, কটা দিন সাবধানে চলাফেরা করতে । রাতে বাড়ির বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন । এমনকি বলেছেন, নারী পাচারকারীর টার্গেট সে নিজে । তাই বড়বাবুর কথা যতো ভাবছে, ততোই কুহেলি ভয়ে কাতর, আতঙ্কগ্রস্ত ।
কী করবে, কিছুই বুঝে উঠতে পারছে না । রাস্তা দিয়ে এগিয়ে গেলে নির্ঘাত গাড়ির খপ্পরে পড়তে হবে । গাড়িতে কারা ওত পেতে বসে আছে সেটা কুহেলির কাছে অজানা । তাই রাস্তার উপরে রাত্রির অন্ধকারে খানিকক্ষণ দাঁড়িয়ে ব্যাপারটা আন্দাজ করার চেষ্টা করতে লাগলো । গাঁয়ের মানুষ জমি জায়গায় সারাদিন খাটাখাটুনির পর অল্প রাত্রিতে ঘুমিয়ে পড়েন । যার জন্য রাস্তায় লোক চলাচল নেই । রাস্তা দিয়ে লোক চলাচল করলে তাদের পেছন পেছন কুহেলি ঠিক বাড়ি পৌঁছে যেতে পারতো । কিন্তু সেটাও হবার নয় । কুহেলি আতঙ্কে দিশাহারা । আজ নির্ঘাত নারীপাচার চক্রের শিকার সে হবেই । কীভাবে নিজেকে বাঁচাবে, সেই চিন্তায় অস্থির !
হঠাৎ !
হঠাৎ দূরে পায়ের শব্দ ! মনে হচ্ছে বেশ কিছু মানুষ ছুটছে ! আওয়াজটা ক্রমশ বাড়ছে । আওয়াজটা তার দিকেই ধেয়ে আসছে । বুটজুতোর শব্দ ! চমকে গেলো কুহেলি ! কুহেলি ভাবছে, লোকগুলি কী তাকে ধরার জন্য ধেয়ে আসছে ! ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেলো কুহেলি । কী করবে বুঝতে পারছে না । নিজেকে কীভাবে বাঁচাবে তার কূল-কিনারা পাচ্ছে না । অথচ অন্ধকারে মনে হচ্ছে দুর্বৃত্তগুলি প্রায় তার কাছাকাছি এসে গেছে । উপায়ান্তর না দেখে কুহেলি রাস্তা থেকে নেমে গিয়ে ঝোপঝাড়ের আড়ালে লুকালো । এমনভাবে লুকালো, তাকে অন্তত রাস্তা থেকে কেউ দেখতে পাবে না ।
কুহেলির দৃষ্টি রাস্তার দিকে । ঘনকালো অন্ধকারে যেটা বুঝতে পারলো, সামনে চারজন নারী পাচারকারী দুর্বৃত্ত প্রচণ্ড গতিবেগে ছুটছে, আর পেছনে তিনজন পুলিশ রাইফেল হাতে দুর্বৃত্তদের ধরার জন্য মরিয়া । কুহেলি চোখ দুটি মুছে ভাল করে তাকিয়ে দেখে থানার বড়বাবু সঙ্গে আছেন । দুর্বৃত্তদের খবর পেয়ে তিনি চটজলদি পুলিশ নিয়ে জোর তল্লাশিতে নেমে পড়েছেন । বড় রাস্তার দিকে ঠিক যেখানে তার চায়ের দোকান, সেদিকে ছুটছেন ।
ইতিমধ্যে কুহেলি যেখানে ঝোপের মধ্যে লুকিয়ে রয়েছে সেই সোজা বরাবর আরও দুইজন পুলিশ এসে দাঁড়ালেন । দাঁড়িয়ে কুহেলিকে ডাকছেন, “কুহেলি ম্যাডাম ! শিগ্‌গির আমাদের গাড়িতে উঠুন ।“
কুহেলি থানার পুলিশ দেখে আশ্বস্ত হলো । তাঁদের কথা মতো বিনা বাক্যে গাড়িতে গিয়ে উঠলো ।
থানার পুলিশ কুহেলিকে বললেন, “আপাতত আপনার দোকানের কাছে আমরা যাচ্ছি । পরিস্থিতি বুঝে সময় মতো আপনাকে বাড়ি পৌঁছে দিয়ে আসবো । আপনি ঘাবড়াবেন না । স্বয়ং বড়বাবু আমাদের পুলিশ টীমকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন ।“
কুহেলি ভয়ে ভয়ে পুলিশের কাছে জানতে চাইলো, “ঐ দুর্বৃত্তেরা এতক্ষণ কোথায় ছিল ?”
উত্তরে পুলিশ জানালেন, তাহলে শুনুন ঘটনাটা ।
“আপনি যখন ভরতপুর ছাড়লেন, ঠিক সেই সময় আমাদের গোপন-সংবাদদাতা (ইনফর্মার) খবর দিলো নারী পাচারকারী দুর্বৃত্তেরা দলে চার জন এবং তারা কাঞ্চন নগরে ঢোকার মুখে ঘোরাঘুরি করছে । একজনের মুখে অনেক দাড়ি । সম্ভবত তাদের টার্গেট কুহেলি । সঙ্গে সঙ্গে আমরা বড়বাবুকে জানাই । বড়বাবু তখন মহাকুমা আধিকারিকের সঙ্গে মিটিংয়ে ব্যস্ত ছিলেন । খবর পাওয়া মাত্র তিনি ছুটে এলেন । আমরা পাঁচজনের টীম বেরিয়ে পড়ি । বড়বাবু আসতে একটু সময় লাগার কারণে আমাদের পৌঁছাতে রাত্রি হয়ে গেলো । মোড়ে এসে দেখি আপনি তখনও দোকানে কাজকর্ম সারছেন । আমরা আপনাকে বিরক্ত করিনি, এমনকি জানাইনি !”
এইটুকু শোনার পর কুহেলি পুলিশকে থামিয়ে দিয়ে বললো, “স্যার, আমাকে জানালেন না কেন ?”
বলছি, সব বলছি । গাড়িতে রাখা জলের বোতল থেকে জল খেয়ে বললেন, “আমরা আপনাকে খবর দিইনি তার একটাই কারণ আপনি আমাদের সাথে থাকলে এবং সেটা দুর্বৃত্তরা জেনে গেলে তাদের ধরা বা তাদের ধাওয়া করা সম্ভব হতো না । কেননা দুর্বৃত্তদের টার্গেট ছিলেন আপনি । আমাদের কাছে খবর ছিল, আপনাকে তুলে পাচার করার সমস্তরকম ব্যবস্থা তাদের পাকা ! তা ছাড়া আমাদের বিশ্বাস ছিল, আপনি বাড়ির দিকে রওনা দিলে দুর্বৃত্তরা আপনাকে ধরার জন্য মরিয়া হয়ে উঠবে । সেই সময় আমাদের অভিযান চালানো সহজ হবে এবং দুর্বৃত্তদের অবস্থান ও মুভমেন্ট সম্বন্ধে আমরা ওয়াকিবহাল হয়ে যাবো । সেইজন্য আমরা আপনার পাহাড়ায় ছিলাম । যাতে তারা আপনাকে কোনোভাবেই তুলে নিয়ে পালাতে না পারে । আর বড়বাবু সহ আরও দুইজন গিয়েছিলেন আপনাদের কাঞ্চন নগরে ঢোকার বাদিকের জলাশয়ের দিকে । বিশেষ একটি সূত্রে বড়বাবু জানতে পেরেছিলেন, দুর্বৃত্তরা নির্ঘাত জলাশয়ের আশেপাশে লুকিয়ে রয়েছে ।“
“জলাশয়ের আশেপাশে নারী পাচারকারী দুর্বৃত্তেরা লুকিয়ে রয়েছে, বড়বাবু কীভাবে টের পেলেন ? তাঁর টের পাওয়ার সূত্রটা কী ?” আবার কুহেলি প্রশ্ন করলো ?
অন্ধকারে ঝোপঝাড়ের মধ্যে থেকে বিড়ি খাওয়ার ধোঁয়া উড়ছিল । সেইটাই দুর্বৃত্তদের কাল হলো । ধোঁয়া নিশানা করে বড়বাবু দুর্বৃত্তদের হদিশ পেয়ে গেলেন । বড়বাবু খুব সন্তর্পণে এগোচ্ছিলেন । তারপর দুর্বৃত্তরা যেভাবে হোক টের পায়, পুলিশ তাদের ধাওয়া করছে । তাদের ধরার জন্য পুলিশি অভিযান বুঝতে পেরে, তখন তারা বেপরোয়া । বাঁচার জন্য মরিয়া । পালাবার জন্য প্রচণ্ড গতিতে দুর্বৃত্তরা ছুটছিল । ইতিমধ্যে আমরা খবর পেয়েছি, দুর্বৃত্তদের গাড়ি নোনাই নদীর ব্রিজ পার হয়ে একটু দূরে দাঁড়িয়ে রয়েছে । সেখানে নিকটবর্তী থানা থেকে আরও পুলিশ এসে হাজির । তাঁরা দুর্বৃত্তদের গাড়ি ঘিড়ে মোতায়েন রয়েছেন । আজ বাছাধনদের রেহাই নেই, ধরা পড়তেই হবে । আমাদের ফাঁদ পাতা থেকে কিছুতেই নারীপাচার চক্রের দুর্বৃত্তরা পালাতে পারবে না ।“
ইতিমধ্যে কুহেলিদের গাড়ি বড় রাস্তার উপরে পৌঁছালো ।
বন্দুকের গুলির জোরালো শব্দে কুহেলির কান ঝালাপালা !
গুলি চলছে । পুলিশ ও দুর্বৃত্তদের মধ্যে বন্দুকের গোলাগুলি । ভীষণ আওয়াজ ! নারী পাচারকারী দুর্বৃত্তরা সহজে ছেড়ে দিতে নারাজ !
গোলাগুলির সময় দুইজন দুর্বৃত্ত বাবলা নদীর দিকে পালিয়ে বাঁচে । তাদের ধরতে পারেননি থানার বড়বাবুরা । দুজনকে ধরে গাড়িতে তুললো। তবে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক ! অন্যদিকে থানার নির্মলবাবু দুর্বৃত্তদের সাথে ধ্বস্তাধ্বস্তির জন্য পায়ে ভীষণ চোট পেয়েছেন । যার জন্য যন্ত্রণায় ছটফট । বড়বাবু থানার নির্মলবাবুর জন্য উদ্বিগ্ন । আর একজন পুলিশের মুখ থেকে যেটুকু জানতে পেরেছে, নারী পাচারের দলটা ভিন্‌ রাজ্য থেকে এসেছে । তারা টীম ভাগ হয়ে বিভিন্ন জায়গায় মেয়েদের পাচার করার জন্য অল্প বয়সী মেয়েদের বেছে বেছে ধরছে । এটা নাকি শক্তিশালী নারী পাচারকারী দল । শোনা যায়, এই দলের সাথে দেশের প্রভাবশালী মানুষের যোগাযোগ । যার জন্য পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে নারী পাচারের মতো জঘন্য কাজ তারা নির্দ্বিধায় করে যাচ্ছে । কিন্তু প্রশাসনিক তৎপরতা বেড়ে যাওয়ায় তারা এখন অশ্বস্তিতে ।
পরক্ষণেই খবর এলো, বড়বাবু দুজন দুর্বৃত্তকে থানার লক্‌ আপে ঢুকিয়ে দিয়ে ছুটেছেন হাসপাতালে । হাসপাতালের ডাক্তারবাবুকে ঘুম থেকে তুলে নির্মলবাবুর পায়ের চিকিৎসা করালেন । তিনি হাসপাতাল থেকে নির্দেশ দিলেন, “কুহেলিকে স-সম্মানে বাড়িতে পৌঁছে দিতে ।“ সেই মোতাবেক পুলিশ দুইজন গাড়ি ঘুরিয়ে ঐ রাত্রিতে সোজা কুহেলিদের বাড়ি । রাত্রিবেলায় পুলিশের গাড়িতে কুহেলিকে দেখে কানাই কাকা ঘাবড়ে গেলো । চোখ মুখে আতঙ্কের ছাপ ! তার ভাইঝির কী হলো । তার সঙ্গে পুলিশ কেন ? কৌতুহলি দৃষ্টিতে একজন পুলিশকে কানাই কাকা জিজ্ঞাসা করলো, “তার ভাইঝির কী হয়েছে ?”
“আপনার ভাইঝি নারীপাচারকারী দলের খপ্পরে পড়ে যাচ্ছিলো । আমাদের থানার পুলিশের সক্রিয় তৎপরতার জন্য এই যাত্রায় কুহেলি দেবী বেঁচে গেলেন । তবে বিপদ এখনও কাটেনি । পুরো দলটি যতক্ষণ ধরা না পড়ছে ততক্ষণ বিপদ কাটছে না, বরং বিপদ থেকেই যাচ্ছে । সুতরাং আপনার ভাইঝিকে একটু সাবধানে রাখবেন । বেগতিক ওলট-পালট কিছু বুঝলে আমাদের খবর দিতে ভুলবেন না । আপনার অবগতির জন্য জানাই, আমাদের তৎপরতার জন্য এখানকার দুই জন দুর্বৃত্ত ধরা পড়েছে । তাদের কাছ থেকে অনেক কিছু জানা যাবে ।“ তারপর পুলিশ হাত জোড় করে কানাই কাকাকে বললেন, “আমরা এবার চলি ।“
কানাই কাকা মাথা নেড়ে সম্মতি জানালো ।
পরেদিন খবরের কাগজে কুহেলির ছবিসহ খবর হেডলাইন !
বেশী বেলা করে ঘুম থেকে উঠলো কুহেলি । খবরের কাগজ হাতে নিয়ে গাঁয়ের গোলাপী এসে হাজির । গোলাপী ও কুহেলি প্রায় সমবয়সী । পেপার দেখে কুহেলি তাজ্জব !
খবরের কাগজে খবর হওয়ায় কুহেলির বাড়িতে নানান জায়গার মানুষের ঢল । সকলের চোখে উদ্বিগ্নতার ছাপ । গাঁয়ের বয়স্ক মানুষেরা কুহেলির কাছে তার শারীরিক অবস্থার খুঁটিনাটীর খোঁজখবর নিচ্ছেন । উপযাজক হয়ে গাঁয়ের মাসি, কাকি, জেঠিমা কুহেলির খোঁজ খবর নিচ্ছেন । সকলকে কুহেলির একটাই কথা, “থানার পুলিশের আন্তরিক প্রয়াসের জন্য আমি বেঁচে বাড়ি ফিরেছি । তাই আমি থানার পুলিশের কাছে কৃতজ্ঞ !”
 (চলবে)

Share This
Categories
গল্প

খুঁটি : দিলীপ রায়।

দুলি সমীরনকে চেপে ধরলো । যেভাবে হোক তাকে বিয়ে করতে হবে । নতুবা দুলির বাবা চৌরিগাছার নিতাইয়ের সাথে বিয়ে দিয়ে দেবেন । সমীরন ছাড়া অন্য নিতাই, বেতাই, খেতাই, কেতাই, কাউকে দুলির পছন্দ না । সমীরনকে দুলির সাফ কথা, “এখনি তাকে বিয়ে করতে হবে ।“ সমীরন পড়ে গেলো মহা ফাঁপরে । দুলিকে অন্তর দিয়ে ভালবাসে এটা ঠিক, কিন্তু এই মুহূর্তে দুলিকে বিয়ে করা সমীরনের ভাবনার বাইরে । স্বাভাবিকভাবে সমীরন পড়লো দুশ্চিন্তায় । কী করবে, সিদ্ধান্তে দোদুল্যমান ?
তাদের ভালবাসা, হাই স্কুল থেকে । অনেকদিন এমন হয়েছে, স্কুল ফাঁকি দিয়ে দুজনে নানান জায়গায় ঘুরে বেড়িয়ে ঠিক স্কুল ছুটির সময় বাড়ি ফিরেছে । কেউ কিচ্ছুটি টের পায়নি । একমাত্র জানতো যুথিকা । যুথিকা দুলির কাছের বান্ধবী । সমীরন ও দুলির ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক যুথিকা জানলেও, ঘুণাক্ষরে কখনই তাদের বাড়িতে জানিয়ে দিতো না । অন্যদিকে দুলির মা-বাবা শুধুমাত্র জানতেন, যুথিকার সাথে দুলির প্রগাঢ় বন্ধুত্ব দীর্ঘদিনের ।
বিয়ের সম্বন্ধটা দুলির বাবার মতে, রাজযোটক । নিতাই নিজের গ্রামে প্রাইমারী স্কুলের শিক্ষক । বাবার একমাত্র ছেলে । নিতাইয়ের কোনো বোন নেই । নির্ঝঞ্ঝাট পরিবার । তা ছাড়া চাষের জমি জায়গা যথেষ্ট । গাঁয়ে সচ্ছল পরিবার । হালের বলদ ছাড়া গাই গরু তিনটে । দুধ কিনে খেতে হয় না । বাড়ির আশেপাশে বিভিন্ন রকমের ফলের গাছে । আম, জাম, কাঠাল, লিচু, পেয়ারা, ছাড়া নারিকেল, পাতিলেবু, জামরুল, ইত্যাদি ফলের গাছ । তাই দুলির বাবা এই বিয়ের সম্বন্ধটা কিছুতেই হাত ছাড়া করতে চাইছেন না । দুলির টালবাহানা লক্ষ করে দুলির বাবা ঝুঁকি নিলেন না । সেই কারণে, দুলির প্রিয় বন্ধু যুথিকাকে বাড়িতে ডাকলেন এবং দুলিকে বিয়েতে রাজী করাতে বললেন ।
সমীরন দুশ্চিন্তায় ছটফট ! সদ্য তার স্নাতকোত্তর ডিগ্রী । দুলি বি-এ পাশ । অথচ কেউ চাকরি পাওয়ার মতো অবস্থায় নেই । চাকরি না পেয়ে বিয়ে করলে সমীরনের বাবা তাকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেবেন । সমীরনের বাবা রাশভারি মানুষ । একদম ধানাই পানাই পছন্দ করেন না । তাঁর মোদ্দা কথা, “চাকরি পেলেই তবে বিয়ে !” ভীষণ দুশ্চিন্তায় আচ্ছন্ন সমীরন ।
বিয়ে করার ব্যাপারে সমীরনের অযথা ঢিলেমি অবলোকন করে দুলি ভীষণ উতলা হয়ে উঠলো । দুলি সর্বদা চনমনে । যার জন্য দুলির ঢাকঢাক গুড়গুড় একদম নাপসন্দ । দুলির নিজের উপর অগাধ আস্থা । তার আত্নবিশ্বাস ষোলোআনা । যার জন্য প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নিতে দুলি এক-মিনিটও সময় নষ্ট করে না ।
( ২ )
তাই সমীরনকে ডাকলো দুলি ।
হঠাৎ জরুরি তলব ?
“আমাদের বিয়ের ব্যাপারে কী ভাবলে ?” দুলি সোজাকথা সোজাভাবে সরাসরি সমীরনকে জিজ্ঞাসা করলো ?
“কয়েকটা দিন সময় দাও ?” সমীরনের কন্ঠে শৈথিল্যের সুর ।
তোমার সময় চাওয়ার অজুহাত আমার ভাল লাগছে না । তোমার অযথা ঢিলেমির কারণ খুঁজে পাচ্ছি না ! তুমি আমাকে ভালবাসো, আমি তোমাকে ভালবাসি । এটাই যথেষ্ট ! সুতরাং বিয়েতে তোমার গড়িমসি কেন ?
“কিন্তু বিয়ের পরে পেট্‌ চলবে কী করে ?” উদ্বিগ্ন মুখে সমীরন দুলির দিকে তাকিয়ে বললো ।
সেই চিন্তায় বসে থাকলে তোমার দুলি হাত-ছাড়া হয়ে যাবে । বেপাড়ার নিতাই এসে দুলিকে বিয়ে করে পালাবে । তখন বুঝবে মজা ! গালে হাত দিয়ে বসে থাকা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না ।
“তাই বলে বিয়ের পরে তোমাকে নিয়ে ভিক্ষা করবো ?”
মহা আহাম্মকের পাল্লায় পড়লাম ! এতই যখন ভীতু কার্তিক, তাহলে উপার্জনের ভাবনা আমার উপর ছেড়ে দাও ?
সমীরন মৃদু হেসে বলল, “তুমি আমাকে ফাঁসিকাঠে ঝোলাবে !”
সবাই জানে, বিয়ে করাটাই ফাঁসিকাঠে ঝোলার ন্যায় । দায়িত্বের বোঝা কাঁধে চাপে । তুমি কী সেটা বোঝো না, নাকি ‘না-বোঝার’ ভান করো ?
( ৩ )
তারপর নিতাইয়ের সাথে দুলির বিয়ের কথা পাকা । বিয়ের দিন দ্রুত এগিয়ে আসছে । দুলি বারবার নিষেধ করা সত্ত্বেও তার বাবা একরোখা । মেয়ের বিয়ে তিনি নিতাইয়ের সঙ্গে দেবেন । দুলির নিষেধ করার পেছনে যুক্তি ছিলো যথেষ্ট । কেননা সে চেয়েছিলো এম-এ পাশ করার পর নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে তবেই বিয়ের পিঁড়িতে বসবে । কিন্তু কে শোনে কার কথা ! বাবা তাঁর নিজের সিদ্ধান্তে অটল ।
তারপর সমীরনের ঢিলেঢালা মনোভাব অবলোকন করে সাহসী দুলি বিয়ের আগের রাত্রে বাড়ি থেকে পালিয়ে সোজা সমীরনের শোওয়ার ঘরে !
দুলিকে অতো রাত্রিতে নিজের ঘরে দেখে সমীরন ভয়ে ভ্যাবাচ্যাকা ! আতঙ্কে দিশেহারা । সমীরন ভাবছে, বাড়িতে কেউ দুলিকে তার ঘরে দেখলে বিপদের শেষ নেই । সমীরনের বাবা কোনোরকমে জানতে পারলে তাকে আস্ত রাখবেন না । ভীষণ কড়া মেজাজের মানুষ ।
দুলি আর সাতপাঁচ না ভেবে সমীরনের ডান হাত ধরে বললো, “চলো ।“
“কোথায় ?” তখনও সমীরন কিংকর্তব্যবুমূঢ় । সিদ্ধান্তে দিশাহারা !
‘কোথায় যাবো জানা নেই, তবুও আমার সঙ্গে চলো । তোমার মুরোদ আমার বোঝা হয়ে গেছে । তুমি একটা ভীতু ক্যাবলা-কার্তিক ! সুতরাং সিদ্ধান্ত আমাকেই নিতে হবে । আমার উপর ভরসা রাখো ।
“বলবে তো, কোথায় গিয়ে উঠবো ?” সমীরনের ভয়ার্ত কন্ঠ !
“জাহান্নামে … ?” রাগের সুরে ধমক দিলো সমীরনকে । তাকে কথা বলার সুযোগ দিলো না । সমীরনের ডান হাতটা হ্যাঁচকা টান দিয়ে দুলি বললো, “ চোখ বুজে আমার সাথে চলো ।“
দুলির জেদে ঐ রাত্রিতে দুজন অজানা পথে পাড়ি দিলো । সমীরন তখনও সিদ্ধান্তে দ্বিধাগ্রস্থ ! দুলির তাড়নায় বাড়ি থাকে বের হয়ে দূরপাল্লার বাসে উঠে বসলো । ভোর বেলায় দুজনে, পলাশীতে ।
( ৪ )
অজানা, অচেনা জায়গা । গাঁয়ে গঞ্জের মাঝখানে পলাশী শহর ।
অগত্যা তারা পলাশী রেলওয়ে স্টেশনের প্লাটফর্মে আশ্রয় নিলো ।
সমীরনের শরীর কূঁড়েমিতে ভরা । কাজে কর্মে ঢিলা । গুরুত্বপূর্ণ কোনো ব্যাপারেই তার আঁটোসাঁটো মনোভাব নেই । বড় বড় কথা, অথচ কথার বাস্তবায়নে অপারগ । তাই দুলি নিজেই নিজেদের বেঁচে থাকার পথ ভাবতে লাগলো, অতঃপর কী করা যায় ?
হাতে মাত্র জমানো কয়েকটা টাকা ।
সমীরনের উপর ভরসা না করে দুলি পলাশী স্টেশনের ১নম্বর প্লাটফর্মে আটার রুটি ও তরকারির দোকান খুললো । স্বল্প পুঁজিতে দোকানের শুভযাত্রা । মাথার উপর বড় ছাতা টাঙিয়ে তাদের দোকানের শুভারম্ভ । নিমেষেই, বলা চলে, এক সপ্তাহের মধ্যে দোকানের হালহকিকৎ চাঙা ! দোকানের জনপ্রিয়তা দেখে সমীরন অবাক ! তাই অবাক বিস্ময়ে দুলিকে জিজ্ঞাসা করেই ফেললো, “তোমার এতটা আত্নবিশ্বাসের রহস্য কী ?”
সবটাই মা । মা আমাদের শিখিয়েছেন, “আত্ননির্ভরতা মানুষকে কীভাবে বাঁচতে শেখায় ! আত্নবিশ্বাস কতো বড় পথ চলার খুঁটি ।“
———–০———-

Share This
Categories
কবিতা

তোমার কাছে চাওয়া : রাণু সরকার।

পিপাসিত হয়ে যখন আসবো-
বাদল হয়ে তুমি এসো–
আমায় ভিঁজিয়ে দিও,হবো পরিতৃপ্ত!

মন যখন প্রদীপ্ত
দূরদৃষ্ট–অন্তরঙ্গ করে প্রতিচ্ছায়া দিও
দু’হাত বিস্তার করে—
উফ্! কী তুষারপাত শান্তি!

মন যখন বিষাদযুক্ত হবে–
গভীর সোহাগে কঠিন করে
রেখো বেঁধে,
বিষাদ ভাবনাগুলো যেন যায় চলে–
সবটা জুড়ে থাকবে তুমি- শুধুই তুমি!

Share This
Categories
কবিতা

একটি রাত : রাণু সরকার।

আমি ঋণগ্রস্ত,
কে দেবে দেনার দায় থেকে রেহাই?
বিলম্ব হবে না পরিশোধ করতে!
পাওনাদার প্রতিদিন দৈহিক নির্যাতন করছে-

একটি রাতের জন্য চাই,
দেবে কী?
ঋণের পরিমাণের উপর যে মূল্য-
তার বেশি আমি দেবো!

নেবো শুধু তোমার হাতে-
ঋণের দায় থেকে তবেই পাবো
নিষ্কৃতি!
শুধু একটি রাতের জন্য!

আমার একটু চাওয়া আছে-
যেভাবে অসত্য বলো-
সব শিখবো এক রাতে,
উড়ে বেড়াতে পটু-
প্রচরণশীল বিহগের মতো-
কখন অমতে ঐকাত্ম্য হতে চাওয়া!

Share This
Categories
কবিতা

হইনি আশাহত : রাণু সরকার।

দুঃখ, তুমি কত সুন্দর
হৃদয়টাকে ভেঙে কত না করছো খণ্ড বিখণ্ড,
তবুও হইনি আশাহত, নিজেই ভাঙা হৃদয়টাকে দিয়েছি জোড়াতালি।

তুমি আমার জীবনে আসাতে হয়েছি লাভবান,
তোমার থেকে পেয়েছি অনেক শিক্ষা।
মনে রাখার জন্য কিছু রেখেছি আলগাভাবে।
এই ক্ষতচিহ্ন গুলো আমায় উৎসাহ দেয়
দ্রুতগতিতে চলতে আমার গন্তব্যপানে।

দুঃখ, সত্যিই তুমি সুন্দর, তুমি তো নাও আসতে পারতে আমার জীবনে, ভাগ্যিস তুমি পাশে ছিলে
তাই তো সব কিছুর মানে আমার কাছে আজ হয়েছে সহজবোধ্য।

Share This
Categories
কবিতা

সে : রাণু সরকার।

সে খুব ভালো, সত্যিই ভালো,
—আমার বলা ভুল হবে।

কোন একদিন ছিল মেঘের ঘনঘটা-
ঠিক সন্ধ্যায় সে আমাকে স্পর্শ করে।
কিন্তু আমার একটুও ভালো লাগেনি,
ভালো কিছু করলে হৃদয়ে থাকতো।

সে আমার উদ্দেশ্যে গানের দু’কলি গেয়েছিলো,
কিন্তু আমার কাছে এসে তো গায়নি-
সেই সুর আমার কানে আজো বাজে, যন্ত্রণা দেয়।

Share This