Categories
গল্প প্রবন্ধ

ভাদু উৎসব, একটি বিশেষ পর্যালোচনা : দিলীপ রায়।

আমরা জানি,  বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ । আর এই তেরো পার্বণের অন্যতম পার্বণ হচ্ছে  ভাদু উৎসব । ভাদু হল ভাদ্র মাসের উৎসব । পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, বীরভূম, পশ্চিম মেদিনীপুর এই জেলাগুলিতেই প্রধানত এই অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে । তবে ইদানীং রাজ্যের অন্যান্য জেলায়ও এই অনুষ্ঠানের ব্যাপ্তি দেখা যায় । যেমন মুর্শিদাবাদ জেলায় সালার শহরের কাছে ঝামটপুরে ভাদু উৎসব দেখা যায় । বিশেষ করে ভাদ্র মাসের শেষদিন বড় উৎসব যেটা মেলার আকার নেয় । এই অনুষ্ঠানকে অন্য কথায় মেয়েলি ব্রত বলা যেতে পারে   ।  অনেকে মনে করেন  ভাদ্র মাস থেকেই ‘ভাদু ‘ শব্দের উৎপত্তি হয়েছে । আবার অনেকে মনে করেন,  ভাদু মানে  লক্ষ্মী । বিভিন্ন মাসে লক্ষ্মী বিভিন্ন রূপে যেহেতু  পুজিত হন, তাই ভাদ্রমাসেও ভাদু উৎসবের মাধ্যমে লক্ষ্মীদেবী  পুজিত হন । তবে এই উৎসবের অনেক মতান্তর রয়েছে । পুরুলিয়া  জেলার কাশীপুর রাজপরিবারের  ভাদু বা ভদ্রেশ্বরী নামক এক রাজকন্যার কাহিনী থেকে এর উদ্ভব । শোনা যায়, কাশীপুর রাজের কন্যা ভাদুর এক রাজকুমারের সাথে বিয়ে ঠিক হয় । কিন্তু বিয়ের দিন বর বেশে বিয়ে করতে আসার সময় তিনি মারা যান । এরপরই ভাদু মৃত্যুবরণ করে । ভাদু উৎসব নিয়ে মানভূম অঞ্চলে বেশ কিছু লোককাহিনী প্রচলিত । আবার আরও একটি জনশ্রুতি, পঞ্চকোট রাজ পরিবারের নীলমণি সিংদেও’এর  তৃতীয়া কন্যা ভদ্রাবতী বিবাহ স্থির হওয়ার পর তার ভাবী স্বামীর অকালমৃত্যু হলে মানসিক আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে তিনি আত্মহত্যা করেন, এই কাহিনী মানভূম অঞ্চলে সর্বাধিক প্রচারিত ।

 

 

বিয়ে করতে আসার সময় ভদ্রাবতীর হবু স্বামী ও তার বরযাত্রী ডাকাতদলের হাতে খুন হলে ভদ্রাবতী চিতার আগুনে প্রাণ বিসর্জন করেন বলে ১৯৮৫ খ্রিষ্টাব্দে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ওয়েস্ট বেঙ্গল ডিস্ট্রিক্ট গেজেটিয়ার পুরুলিয়া গ্রন্থে প্রকাশিত হয় । ভদ্রাবতীকে জনমানসে স্মরণীয় করে রাখার জন্য নীলমণি সিংদেও ভাদু গানের প্রচলন করেন ।  অনেকেই তার সাথে কৃষ্ণভক্তি পরায়ণা মীরার মিল খুঁজে পান । তবে রাজকন্যা ভাদুকে নিয়ে অনেক মতান্তর রয়েছে । রাজকন্যার স্মৃতিকে অমর করে রাখার উদ্দেশে ভাদু উৎসব  প্রচলিত  । এমনকি ভদ্রাবতীকে জনমানসে স্মরণীয় করে রাখার জন্য নীল সিংদেও ভাদু গানের প্রচলন করেন ।
ভাদু উৎসব কৃষি প্রধান উৎসবও বটে । মাঠজুড়ে তখন  নতুন ধান রোপণ করা হয় । তবে এই উৎসবের অন্যতম বিষয় হল এই পুজোয় কোনো মন্ত্রের প্রয়োজন নেই  । ভাদু উৎসবে পূজারীরা ভদ্রেশ্বরীর একটি মূর্তি তৈরি করে এবং সারা মাস ধরে তার সম্মুখে নৃত্যগীত পরিবেশন করে । ভদ্রেশ্বরী কখনও কন্যা আবার কখনও জননীরূপেও পুজিত  হন । পয়লা ভাদ্র কুমারী মেয়েরা গ্রামের কোন বাড়ীর কুলুঙ্গী  পরিষ্কার করে ভাদু প্রতিষ্ঠা করেন । আগে ভাদুর কোনো মূর্ত রূপ ছিল না ।  একটি পাত্রে ফুল রেখে ভাদুর বিমূর্ত রূপ কল্পনা করে তারা সমবেত কন্ঠে ভাদু গীত গেয়ে থাকেন । পরবর্তীকালে বিভিন্ন রকমের মূর্তির প্রচলন হয়েছে ।  ভাদ্র সংক্রান্তির সাত দিন আগে ভাদুর মূর্তি ঘরে নিয়ে আসা হয় । শোনা যায়, মূর্তিগুলি সাধারণত হংস বা  ময়ূর বাহিনী বা পদ্মের ওপর উপবিষ্টা মূর্তির গায়ের রঙ হলুদ, মাথায় মুকুট, হাতে পদ্মফুল, গলায় পদ্মের মালা ও হাতের তলায় আলপনা থাকে । কখনো মূর্তির কোলে কৃষ্ণ বা রাধা-কৃষ্ণের যুগল মূর্তি থাকে ।  ভাদ্র সংক্রান্তির পূর্ব রাত্রিতে ভাদুর জাগরণ পালিত হয়ে থাকে । মাইক বাজিয়ে গান শুনে খাবার তৈয়ারী করে নিজেদের মতো করে জাগরণের রাত পাড়ার ছেলেরা সমবেতভাবে অতিবাহিত করে । এর মাধ্যমে সামাজিক সৌভ্রাতৃত্ববোধ উন্মেষ হয় । যা সমাজ থেকে বর্তমানে হারিয়ে যেতে বসেছে ।  এই লৌকিক ও সামাজিক উৎসব সমাজে বেঁচে থাক । সমাজে টুসু, ঝুমুর, ভাদু গানের কদর বাড়ুক  । সুতরাং ভাদু জাগরণের আরও ব্যাপ্তি ঘটুক ।   এই রাত্রে রঙিন কাপড় বা কাগজের ঘর তৈরী করে এই মূর্তি স্থাপন করে তার সামনে মিষ্টান্ন সাজিয়ে রাখা হয় । এরপর রাত্রিতে ভাদু গীত গাওয়া হয় । কুমারী ও বিবাহিত মহিলারা গ্রামের প্রতিটি মঞ্চে গেলে তাদের মিষ্টান্ন দিয়ে আপ্যায়ন করা হয় ও  তারা এই সব মঞ্চে ভাদু গীত পরিবেশন করে থাকেন ।

 

‘ভাদু ভাসান’ পর্ব অত্যন্ত বিষাদময় । ভাদ্র-সংক্রান্তিতে উপাসকরা মূর্তিসহ নদীর তীরে সমবেত হয়ে মূর্তি বিসর্জন দেন । এই উৎসবের অন্যতম লোকসংস্কৃতি হল ভাদু গান । সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে মানভূমের লোকসংস্কৃতি পুরুলিয়ার ভাদুগানেও পরিবর্তন হয়েছে । এই উৎসব উপলক্ষে মিষ্টির দোকানগুলিতে নানা রকমের মিষ্টি তৈরী ও  বিক্রি হয় ।
টুসু ও ঝুমুর গানের বিপরীতে ভাদু গানগুলিতে প্রেম এবং রাজনীতি সর্বতোভাবে বর্জিত । সাধারণতঃ গৃহনারীদের জীবনের কাহিনী এই গানগুলির মূল উপজীব্য । পৌরাণিক ও সামাজিক ভাদু গানগুলি বিভিন্ন পাঁচালির সুরে গীত হয় । বর্তমানে সচেতনামূলক ভাদু গান পরিবেশিত হচ্ছে ।
ভাদু উৎসবের উৎপত্তি নিয়ে বহু মতান্তর রয়েছে । কবে থেকে এবং কীভাবে এই অনুষ্ঠান শুরু তার সঠিক তথ্য আজও  অজানা  । পরিশেষে  ভাদু দেবীর কাছে  প্রার্থনা,  চাষের   জমি ফসলে   ভরে  উঠুক ও  মানুষের মধ্যে শান্তি বিরাজ করুক ।

 

(তথ্যসূত্রঃ সংগৃহীত)

Share This
Categories
রিভিউ

১৮ সেপ্টেম্বর, ইতিহাসের দিকে চোখ বুলিয়ে দেখে নেব ইতিহাসের এই দিনে বিশিষ্টজনদের জন্ম-মৃত্যু দিনসহ ঘটে যাওয়া কিছু ঘটনা।

আজ ১৮ সেপ্টেম্বর। এক নজরে দেখে নিই ইতিহাসের এই দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য ঘটনা, বিশিষ্টজনদের জন্ম-মৃত্যু দিনসহ গুরুত্বপূর্ণ আরও কিছু বিষয়।

 

দিবস—–

 

(ক) বিশ্ব জল পর্যবেক্ষণ দিবস।

জল সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরি করতেই প্রতিবছর ১৮ই সেপ্টেম্বর পালন করা হয় ‘বিশ্ব জল পর্যবেক্ষণ দিবস।

 

(খ) প্রথম প্রেম দিবস আজ। ২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে দিবসটির যাত্রা শুরু হয়।

আজ ১৮ সেপ্টেম্বর, প্রথম প্রেম দিবস। ২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে দিবসটির যাত্রা শুরু হয়। এরপর থেকে প্রতিবছরই উদ্‌যাপিত হচ্ছে দিবসটি।

 

আজ যাদের জন্মদিন—-

১৯০৫ – গ্রেটা গার্বো, সুয়েডীয়-মার্কিন অভিনেত্রী।

১৯০৭ – এডউইন মাটিসন ম্যাকমিলান, নোবেল বিজয়ী মার্কিন পদার্থবিজ্ঞানী।

 

১৯৫০ – শাবানা আজমি, একজন ভারতীয় অভিনেত্রী।

শাবানা আজমি একজন ভারতীয় অভিনেত্রী। চলচ্চিত্রে অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি সমাজকল্যাণমূলক কাজে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছেন। তিনি উর্দু ভাষার কবি কাইফি আজমি ও মঞ্চ অভিনেত্রী শওকত কাইফির কন্যা। তার স্বামী কবি, গীতিকার ও চিত্রনাট্যকার জাভেদ আখতার। তিনি পুনের ভারতীয় চলচ্চিত্র ও দূরদর্শন সংস্থানের প্রাক্তন শিক্ষার্থী।

 

১৯৫৪ – স্টিভেন পিংকার, মার্কিন মনোবিজ্ঞানী।

স্টিভেন আর্থার পিঙ্কার (জন্ম ১৮ সেপ্টেম্বর, ১৯৫৪) হলেন একজন কানাডিয়ান-আমেরিকান জ্ঞানীয় মনোবিজ্ঞানী, মনোভাষাবিদ, জনপ্রিয় বিজ্ঞান লেখক এবং জন বুদ্ধিজীবী।  তিনি বিবর্তনীয় মনোবিজ্ঞান এবং মনের গণনামূলক তত্ত্বের একজন উকিল।

 

১৯৭০ – ড্যারেন গফ, ইংলিশ ক্রিকেটার।

ড্যারেন গফ ইংরেজ ক্রিকেটার এবং ইয়র্কসায়্যার ক্রিকেট ক্লাবের অধিনায়ক। তাকে বব উইলিস এর পরে ইংল্যান্ডের সবচেয়ে ভাল পেস বলার হিসেবে মনে করা হয়। তিনি ৫৮ টেস্ট ম্যাচে ২২৯ উইকেট নেন, তিনি ইংল্যান্ডের ৮তম সফল উইকেট গ্রহীতা।

 

১৯৭৬ – রোনালদো, ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার।

রোনাল্ডো লুইস নাজারিও ডি লিমা, রোনালদো বা রোনালদো নাজারিও নামে পরিচিত, একজন ব্রাজিলিয়ান ব্যবসায়িক মালিক এবং সেগুন্ডা ডিভিশন ক্লাব রিয়াল ভ্যালাডোলিডের সভাপতি, ব্রাসিলিরো সেরি এ ক্লাব ক্রুজেইরোর মালিক এবং একজন প্রাক্তন পেশাদার ফুটবলার যিনি একজন স্ট্রাইকার হিসেবে খেলেন।

১৮১৯ – জাঁ বার্নার্ড লিওঁ ফুকো, ফরাসি পদার্থবিদ। 

জাঁ বার্নার্ড লিওঁ ফুকো (১৮ই সেপ্টেম্বর, ১৮১৯ – ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ১৮৬৮) একজন ফরাসী পদার্থবিদ ছিলেন। তিনি পৃথিবীর আহ্নিক গতির প্রদর্শনের জন্য ফুকোর দোলক উদ্ভাবন করেন।

 

১৮৬৯ – জগদানন্দ রায়,ঊনবিংশ শতাব্দীর বাঙালি বিজ্ঞান কল্পকাহিনী লেখক।

জগদানন্দ রায় একজন বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ লেখকের পাশাপাশি বাঙালি কল্পবিজ্ঞান লেখক ছিলেন।  তার রচনাগুলি প্রাথমিকভাবে কিশোরদের জন্য লেখা হয়েছিল।  নদীয়ার কৃষ্ণনগরের একটি সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন, তিনি একটি মিশনারি স্কুলে শিক্ষকতা করতে যান এবং বিজ্ঞানের উপর জনপ্রিয় নিবন্ধ লিখেছেন।

 

১৮৮৪ – মন্মথনাথ ঘোষ, প্রখ্যাত জীবনীকার। 

মন্মথনাথের জন্ম বৃটিশ ভারতের কলকাতায় ১৮৮৪ খ্রিস্টাব্দের ১৮ ই সেপ্টেম্বর। পিতা অতুলচন্দ্র ঘোষ ছিলেন বহু ভাষাবিদ সাহিত্যসেবী। মাতা সুরবালা ঘোষ ছিলেন ‘মধুরা’ কাব্য গ্রন্থের রচয়িত্রী। মন্মথনাথের পড়াশোনা কলকাতায়। ১৯০০ খ্রিস্টাব্দে তিনি সেন্ট্রাল কলেজিয়েট স্কুল থেকে প্রথম বিভাগে এন্ট্রান্স, ১৯০২ খ্রিস্টাব্দে জেনারেল অ্যাসেমব্লিজ ইনস্টিটিউশন (বর্তমানে স্কটিশ চার্চ কলেজ) থেকে শ্রেষ্ঠ বাংলা রচনার জন্য বঙ্কিমচন্দ্র পদক সহ এফ. এ পাশ করেন। ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দে গণিতে স্নাতক হন এবং বিশুদ্ধ গণিতে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় হতে এম. এ পাশ করেন।

 

১৮৮৬ – যাদুগোপাল মুখোপাধ্যায়, ভারতীয় উপমহাদেশের ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের বিপ্লবী, অনুশীলন সমিতির অবিসংবাদী নেতা ও প্রখ্যাত চিকিৎসক।

যাদুগোপাল মুখোপাধ্যায় ছিলেন ভারতীয় উপমহাদেশের ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের একজন অন্যতম চমকপ্রদ চরিত্র, বিপ্লবী অনুশীলন সমিতির অবিসংবাদী নেতা ও প্রখ্যাত চিকিৎসক। রাজনীতিক্ষেত্রে তিনি বাঘা যতীন, অরবিন্দ ঘোষ, মানবেন্দ্রনাথ রায়, মতিলাল রায় প্রভৃতির ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন।

 

১৭০৯ – স্যামুয়েল জনসন, ইংরেজি সাহিত্যের কবি, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক, সাহিত্য সমালোচক, জীবনীকার, সম্পাদক ও ভাষাতাত্ত্বিক।

স্যামুয়েল জনসন (১৮ সেপ্টেম্বর ১৭০৯ – ১৩ ডিসেম্বর ১৭৮৪), যাকে প্রায়ই ডক্টর জনসন বলা হয়, তিনি ছিলেন একজন ইংরেজ লেখক যিনি একজন কবি, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক, নৈতিকতাবাদী, সাহিত্য সমালোচক, ধর্মপ্রচারক, জীবনীকার, সম্পাদক এবং অভিধানকার হিসেবে দীর্ঘস্থায়ী অবদান রেখেছিলেন।  অক্সফোর্ড ডিকশনারি অফ ন্যাশনাল বায়োগ্রাফি তাকে “ইংরেজি ইতিহাসের অক্ষরের সবচেয়ে বিশিষ্ট ব্যক্তি” বলে অভিহিত করেছে।

 

ইতিহাসের পাতায় আজকের দিনের ঘটনাবলী—-

২০০৭ – পাকিস্তানের সামরিক শাসক জেনারেল পারভেজ মোশাররফ নির্বাচনের পর সেনাবাহিনীর প্রধান পদ ছাড়ার ঘোষণা দেন।

পারভেজ মুশাররফ পাকিস্তানের সাবেক রাষ্ট্রপতি, এবং সাবেক সেনাপ্রধান। ১৯৯৯ সালের ১২ই অক্টোবর তারিখে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে নওয়াজ শরীফকে ক্ষমতাচ্যুত করে মোশাররফ রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে নেন। পরে ২০০১ সালের ২০শে জুন তারিখে তিনি রাষ্ট্রপতির পদ গ্রহণ করেন।

 

১৯০৬ – টাইফুন ও সুনামিতে হংকংয়ে প্রায় ১০ হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটে।

১৯১৯ – নেদারল্যান্ডস নারীদের ভোটাধিকার দেয়।

১৯২২- কলকাতার রঙ্গমঞ্চে ‘শারদোৎসব’-এ রবীন্দ্রনাথের অভিনয়।

১৯২৩ – ভারতের জাতীয় কংগ্রেসের আইন অমান্য আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়।

 

১৯২৪ – হিন্দু-মুসলমান সম্প্রীতির জন্য মহাত্মা গান্ধী অনশন শুরু করেন।

১৯৩১ – জাপানের সেনা বাহিনী চীনের উত্তর পূর্বাঞ্চলিয় ভূখণ্ড মানচুরী দখল করে নেয় ।

১৯৩৪ – ইউএসএসআর লিগ অব নেশনসের অন্তর্ভুক্ত হয়।

১৯৩৪ – মুসোলিনির শাসনে ৮ থেকে ৫৫ বছরের ইতালীয়দের সামরিক প্রশিক্ষণ নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়।

১৯৬১ – সুইডিস রাজনীতিবিদ ও জাতিসঙ্ঘের দ্বিতীয় মহাসচিব দ্যাগ হেমার শোল্ড এক বিমান দূর্ঘটনায় নিহত হন।

১৯৮২ – পশ্চিম বেইরুটে ছাটিলা ও সাবগার প্যালেস্তিনীয় উদ্বাস্তু শিবিরে গণহত্যা চলে।

১৯৮৮- সামরিক অভ্যুত্থানের পর বার্মা রাষ্ট্রের নাম হয় মিয়ানমার।

১৯৮৯ – বার্মায় সামরিক অভ্যুত্থান ঘটে এবং বার্মা রাষ্ট্রের নাম হয় মিয়ানমার।

১৯৯১ – বাংলাদেশে সংসদীয় সরকার পদ্ধতি পুনঃপ্রবর্তিত।

১৮১০ – স্পেনীয় শাসন থেকে মুক্তিলাভের জন্য চিলির স্বাধীনতা ঘোষিত হয়।

১৮১৮ – চিলি স্পেনের কাছ থেকে স্বাধীনতা অর্জন করে ।

১৮৫১ – ‘নিউ ইয়র্ক টাইমস’ পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত।

১৭৩০ – ফ্রান্স ও স্পেন শান্তিচুক্তি করে।

১৬৩৫ – সম্রাট দ্বিতীয় ফার্দিনান্দ ফ্রান্সের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন।

 

১৫০২ – ক্রিস্টোফার কলম্বাস কোস্টারিকা আবিষ্কার করেন।

ক্রিস্টোফার কলম্বাস ছিলেন জেনোয়া প্রজাতন্ত্রের একজন ইতালীয় অভিযাত্রী এবং নেভিগেটর যিনি ক্যাথলিক রাজাদের দ্বারা স্পনসরকৃত আটলান্টিক মহাসাগর জুড়ে চারটি স্প্যানিশ ভিত্তিক সমুদ্রযাত্রা সম্পন্ন করেছিলেন, আমেরিকার বিস্তৃত ইউরোপীয় অনুসন্ধান এবং ইউরোপীয় উপনিবেশের পথ খুলে দিয়েছিলেন।

 

১৪৩৭ – ট্রানসালভানিয়োতে কৃষক বিদ্রোহ হয়।

১১৮০ – ফিলিপ আগাস্তাস ফ্রান্সের রাজা হন।

 

এই দিনে মৃত্যুবরণ করেন যারা—-

২০২০ – শাহ আহমদ শফী, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ও দারুল উলুম হাটহাজারীর আচার্য।

শাহ আহমদ শফী (৫ এপ্রিল ১৯৩০ – ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০) ছিলেন একজন বাংলাদেশী সুন্নি ইসলামিক স্কলার, হেফাজত-ই-ইসলাম বাংলাদেশের প্রধান, আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম হাটহাজারীর রেক্টর এবং বাংলাদেশ কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানও ছিলেন।  .  তিনি ১৯৩০ সালে রাঙ্গুনিয়া, চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এবং হাটহাজারী মাদ্রাসা এবং দারুল উলূম দেওবন্দে শিক্ষা লাভ করেন।

 

১৯৪১ – ফ্রেড কার্নো, ব্রিটিশ কৌতুকাভিনেতা ও গীতিমঞ্চ পরিচালক।

ফ্রেড কার্নো (২৬শে মার্চ, ১৮৬৬ – ১৮ই সেপ্টেম্বর, ১৯৪১) ছিলেন একজন ব্রিটিশ গীতিমঞ্চ পরিচালক। স্ল্যাপস্টিক কৌতুকাভিনেতা হিসেবে তিনি কাস্টার্ড-পাই-ইন-দ্য-ফেস গ্যাগ ধারাটিকে জনপ্রিয় করতে ভূমিকা রাখেন। ১৮৯০ এর দশকে মঞ্চে সেন্সরশিপের কারণে কার্নো সংলাপহীন এক ধরনের স্কেচ কৌতুকাভিনয়ের উদ্ভব ঘটান।

 

১৯৫৬ – মোতাহের হোসেন চৌধুরী, বাংলাদেশি সাহিত্যিক।

মোতাহের হোসেন চৌধুরী ছিলেন একজন বাঙালি লেখক, চিন্তাবিদ ও শিক্ষাবিদ।  তিনি ১৯০৩ সালে ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির নোয়াখালীতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৫৬ সালে পাকিস্তানের পূর্ব পাকিস্তানের চট্টগ্রামে মৃত্যুবরণ করেন।

 

১৯৬৭ – জন কক্‌ক্রফট, নোবেল পুরস্কার বিজয়ী ব্রিটিশ পদার্থবিজ্ঞানী।

জন ডগলাস কক্‌ক্রফ্‌ট একজন ব্রিটিশ পদার্থবিজ্ঞানী। তিনি ১৯৫১ সালে আর্নেস্ট টমাস সিন্টন ওয়াল্টনের সাথে যৌথভাবে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। কৃত্রিমভাবে ত্বরিত পারমাণবিক কণার মাধ্যমে পরমাণুর কেন্দ্রভাগের ট্রান্সমিউটেশন নিয়ে গবেষণার কারণে তারা নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন।

 

১৯৬৮ – ফ্রাঞ্চট টোন, মার্কিন অভিনেতা, পরিচালক ও প্রযোজক।

স্টেনিস্লাউস পাসকেল ফ্রাঞ্চট টোন (জন্ম: ২৭ ফেব্রুয়ারি ১৯০৫ – ১৮ সেপ্টেম্বর ১৯৬৮) ছিলেন একজন মার্কিন অভিনেতা, পরিচালক ও প্রযোজক। তিনি মঞ্চ, চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন কাজ করেছেন। তিনি ক্লার্ক গেবল ও চার্লস লটনের সাথে মিউটিনি অন দ্য বাউন্টি (১৯৩৫) চলচ্চিত্রে অভিনয় করে শ্রেষ্ঠ অভিনেতা বিভাগে একাডেমি পুরস্কারের মনোনয়ন লাভ করেন। তার অভিনীত অন্যান্য উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র হল ড্যান্সিং লেডি (১৯৩৩), দ্য লাইভস্‌ অব আ বেঙ্গল ল্যান্সার (১৯৩৫), ডেঞ্জারাস (১৯৩৫), ফাইভ গ্রেভস টু কায়রো (১৯৪৩), অ্যাডভাইস অ্যান্ড কনসেন্ট (১৯৬২), ও ইন হার্ম্‌স ওয়ে (১৯৬৫)।

 

১৯৯২ – মেনকা ঠাকুর, খ্যাতনামা রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী।

মেনকা ঠাকুর (বিবাহের পূর্বে মেনকা মুখোপাধ্যায়) (১৯১৭ – ১৮ সেপ্টেম্বর ১৯৯২) ছিলেন একজন খ্যাতনামা ভারতীয় বাঙালি রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী ও শিক্ষিকা। রবীন্দ্রসঙ্গীত জগতে তিনি ‘মিন্টুদি’ নামে পরিচিত ছিলেন।

 

১৮৯৯ – রাজনারায়ণ বসু, বাঙালি চিন্তাবিদ এবং সাহিত্যিক।

রাজনারায়ণ বসু ছিলেন একজন ভারতীয় লেখক এবং বঙ্গীয় রেনেসাঁর বুদ্ধিজীবী।  তিনি ২৪ পরগণার বোরালে জন্মগ্রহণ করেন এবং কলকাতা, বাংলার হেয়ার স্কুল অ্যান্ড হিন্দু কলেজে অধ্যয়ন করেন।  অন্তরে একেশ্বরবাদী, রাজনারায়ণ বসু বিশ বছর বয়সে ব্রাহ্মধর্মে ধর্মান্তরিত হন।

 

১৭৮৩ – লেওনার্ড অয়লার, সুইস গণিতজ্ঞ ও পদার্থবিদ।

লেওনার্ড অয়লার (১৫ এপ্রিল, ১৭০৭, বাসেল, সুইজারল্যান্ড – ১৮ই সেপ্টেম্বর, ১৭৮৩, সেন্ট পিটার্সবার্গ, রাশিয়া) একজন সুইস গণিতবিদ এবং পদার্থবিজ্ঞানী। তিনি ক্যালকুলাস, সংখ্যাতত্ত্ব, অন্তরক সমীকরণ, গ্রাফ তত্ত্ব ও টপোগণিতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। আধুনিক গণিতে ব্যবহৃত অনেক পরিভাষা ও ধারণা তার অবদান। গাণিতিক বিশ্লেষণে ব্যবহৃত গাণিতিক ফাংশন-এর ধারণা তারই আবিষ্কার। অয়লার e , পাই এর জন্য π , যোগের জন্য Σ চিহ্নের প্রবর্তন করেন। তিনি বলবিজ্ঞান, আলোকবিজ্ঞান ও জ্যোতির্বিজ্ঞানেও অবদান রাখেন। সমসাময়িককালে তার মত প্রকাশনা সম্পন্ন কোনো গণিতবিদ ছিলেন না। এমনকি মুদ্রণ ব্যবস্থার উন্নতি হওয়ার পরও তার সমপরিমাণ প্রকাশনা সম্পন্ন বিজ্ঞানীর সংখ্যা খুবই কম।

 

১১৮০ – ফ্রান্সের রাজা সপ্তম লুই।

ফ্রান্সের লুই সপ্তম ফ্রান্সের রাজা লুই ষষ্ঠের পুত্র হিসেবে ১১২০ সালের দিকে জন্মগ্রহণ করেন।  রাজার দ্বিতীয় পুত্র হিসাবে, প্রিন্স লুই প্রাথমিকভাবে একটি গির্জার কর্মজীবনের জন্য নির্ধারিত ছিল।  যাইহোক, তার বড় ভাই ফিলিপ ১১৩১ সালে মারা যাওয়ার পর, লুই তার বাবার নতুন উত্তরাধিকারী হন।  ১১৩৭ সালে লুই ষষ্ঠের মৃত্যুর আগে, রাজা তার ছেলেকে অ্যাকুইটাইনের ধনী উত্তরাধিকারী এলেনরকে বিয়ে করেছিলেন।  তাদের বিবাহের পরে, রাজ্যের অঞ্চল দক্ষিণে পিরেনিস পর্বতমালা পর্যন্ত প্রসারিত হয়েছিল।

 

।।তথ্য : সংগৃহীত ইন্টারনেট।।

Share This
Categories
উপন্যাস

দামাল মেয়ে কুহেলি (ধারাবাহিক উপন্যাস, পঞ্চদশ পর্ব) : দিলীপ রায় (৯৪৩৩৪৬২৮৫৪)।

মন্দিরের পুরোহিতের কাছে কুহেলি সব খুলে বলায় শর্তসাপেক্ষে মন্দিরে থাকার অনুমতি । সকালে ঘুম থেকে উঠে মন্দিরে কিছু কাজকর্ম থাকে । কুহেলি বাগান ঘুরে ঘুরে পুজোর ফুল সংগ্রহ করে । সেই ফুলে সকালে ঠাকুর পুজা । কুহেলি বাগানের সমস্ত ধরনের ফুল সংগ্রহ করে পুরোহিত ঠাকুরকে পৌঁছে দেয় । পুরোহিত ঠাকুর ঠিক সকাল সাতটা পনের মিনিটে পুজোয় বসেন । তিনি খুব নিষ্ঠাবান পুরোহিত ঠাকুর । তাই তিনি অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে পুজো সারেন । পুজোয় বসলে তিনি শুধুমাত্র ঠাকুরের প্রতি ধ্যান দেন । অন্যদিকের আনুসঙ্গিক কাজকর্ম বা ভাবনা-চিন্তা তার মাথা থেকে বেরিয়ে যায় । প্রতিদিন সকালে পুজোর সময় অনেকেই মন্দির চত্বরে ভিড় করেন । পুজো শেষে প্রসাদ বিতরণ ।
পুজোর পর মন্দিরে পোষা হাঁসগুলি দেখার দায়িত্ব কুহেলির । কুহেলি হাঁসগুলি নিয়ে মন্দিরের পুকুরে ছেড়ে দিয়ে আসে । গোটা বাইশটি হাঁসের মধ্যে পাঁচটি রাজহাঁস । খাঁচা থেকে হাঁসগুলি বের করলে কুহেলির বেশ লাগে । একটা অদ্ভূত সুন্দর আওয়াজ করতে করতে দল বেঁধে তারা পুকুরে নামে । পুকুরের জল পরষ্কার পরিচ্ছন্ন । পুকুরের পার পরিপাটিভাবে সাজানো । পারে অনেক ধরনের গাছ-গাছালি । পুকুরটি নিয়ে অনেক ইতিহাস । এখনও পুকুরের জলে ভক্তরা স্নান সারেন । পুকুরটিতে হাঁস ছেড়ে দিয়ে কুহেলির সকালের ব্রেকফার্স্ট । সকালের জলখাবারে বেশীর ভাগ দিন দুটো রুটি ও সবজির তরকারি । তারপর নিজের কিছু কাজ সেরে রান্নাঘরে ঢুকতে হয় । রান্নার টুকিটাকি কিছু জিনিস কিনতে হলে কুহেলি সেগুলি আনতে ছুটতে হয় । তারপর স্নান সেরে দুপুরের খাবার । বিকেলে কাজ নেই বললেই চলে । শুধুমাত্র সন্ধার আগে হাঁসগুলি পুকুর থেকে এনে খাঁচায় বন্দি করে তবেই মুক্তি ! এই অবসর সময়ে কুহেলি আশেপাশের এলাকা ঘুরে দেখে । কোচবিহার শহরটার আনাচে-কানাচে ঘোরাঘুরি করে । অনেক সময় একাই ঘোরে । তবে মাঝে মাঝে পুবালী সঙ্গী হয় । তবে বাইরে বের হলে মুসলিম নারীদের মতো বোরখার ন্যায় মুখ ঢেকে বের হয় । নতুবা দুর্বৃত্তদের চোখে পড়ে যাওয়ার ভয় থাকে । কোনো কারণে তাদের চোখে পড়লে আর রক্ষে নেই । পুবালীর পরামর্শমতো কুহেলি কিছুতেই পুলিশকে তাদের ঘটনাটা জানায়নি । পাছে অহেতুক টানাপোড়েনের ভয়ে । এমনকি কুহেলি ইচ্ছা করে জগন্নাথের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে না । ফোনের টাউয়ার ধরে পুলিশ অনায়াসে কুহেলিদের ধরে ফেলবে । তাতে হিতে বিপরীত হওয়ার সম্ভাবনা । তাই আপাতত পুলিশের টানাপোড়েন থেকে দূরে থাকতে চায় ।
কুহেলি সন্ধ্যাবেলায় মন্দিরে থাকবেই । সন্ধ্যাবেলার আরতি দেখতে কুহেলির মন টানে । যেখানেই থাকুক না কেন, সে সন্ধ্যার সময় মদন মোহন মন্দিরে এসে সন্ধ্যারতি দেখবেই । সেই সময় স্থানীয় অনেক মানুষ মন্দিরের সামনে ভিড় করেন । স্থানীয় মানুষের বিশ্বাস, মদন মোহন জাগ্রত ঠাকুর । এখানে মানত করলে তাঁদের মনোবাঞ্ঝা পূরণ হবেই । একদিন সন্ধ্যারতির সময় কুহেলি ভাবলো, তাকে মদন মোহন মন্দিরের ইতিহাস জানতে হবে । তাই গবেষণার মতো মদন মোহন মন্দির সম্বন্ধে জানতে শুরু করলোঃ-
উত্তরবঙ্গের একটা ছোট্ট জেলা হল কোচবিহার, আর এই জেলার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো মদনমোহন মন্দির। এমনিতেই ‘বারো মাসে তেরো পার্বন’ উদযাপন করার বদনাম বাঙালিদের চিরকালের সঙ্গী । তার উপর যদি আনুসঙ্গিক মেলা বা আনন্দোৎসব হয়, তাহলে তো কথাই নেই । স্থান-কাল-পাত্র ভেদে বাঙালির উৎসবেরও রকমফের আছে ! তেমনই এক বহু চর্চিত উৎসব হল কোচবিহারের মদনমোহন বাড়ির রাস উৎসব । এই রাস উৎসব কেবলমাত্র উত্তরবঙ্গেই নয়, বরং সমগ্র দেশে এবং দেশের বাইরেও পরিচিত । রাস উপলক্ষ্যে সমগ্র কোচবিহারবাসী যেমন উৎসবে মেতে উঠেন, তেমনি কোচবিহারের বাইরের মানুষও ছুটে আসেন ।
এই রাস উৎসব সম্পর্কে যেটুকু জানা যায়, কোচবিহারের দ্বিতীয় মহারাজা বিক্রমাদিত্য নর নারায়ণ অসমের বৈষ্ণব ধর্মগুরু শ্রীমন্ত শঙ্করদেবের নির্দেশানুসারে বংশীধারীর অষ্টধাতুর বিগ্রহ তৈরী করিয়েছিলেন । এরপর পণ্ডিত অনন্ত কন্দলির সহায়তায় মাঘ মাসের উত্তরায়ণ সংক্রান্তির পূর্ণিমা তিথিতে মহারাজা সেই বিগ্রহের প্রতিষ্ঠা সম্পন্ন করেন । পরবর্তীকালে অবশ্য সেই বিগ্রহটি চুরি হয়ে যায় এবং নতুন করে একটি অষ্টধাতুর বিগ্রহ পুনরায় প্রতিষ্ঠা করা হয় । প্রাথমিক ভাবে এই বিগ্রহের বেশ কিছু নাম ছিল, যেমন ‘বংশীধারী’ বা ‘লক্ষ্মীনারায়ণ’ বা ‘শ্রী শ্রী মদনমোহন’। কিন্তু এই নাম নিয়েও তৎকালীন ভক্তমহলে দ্বিমত ছিল । শঙ্করদেবের মতাদর্শ অনুসরণকারী বৈষ্ণবদের মতে “শ্রীকৃষ্ণের সাথে রাধা রাণী পুজিতা হন না”, তাই একক ত্রিভঙ্গমুরারী রূপে পুজো করা শুরু হয়েছিল শ্রীকৃষ্ণের । কিন্তু কোচবিহারের সমস্ত মানুষ শ্রী শ্রী মদনমোহন দেব নামেই পুজো করতে শুরু করেন “বংশীধারী”কে । জানা যায়, পরবর্তীতে মহারাজা হরেন্দ্রনারায়ণ ভূপের আমলে, রাজধানী কোচবিহারে বিভিন্ন ভৌতিক ঘটনা ঘটতে শুরু করে । এই সমস্ত ঘটনার জন্য মহারাজা নিজের রাজধানী স্থানান্তরিত করেন ভেটাগুড়িতে । সম্ভবত ১৮১২ খ্রিস্টাব্দের অগ্রহায়ণ মাসের পূর্ণিমা তিথিতে মানসাই নদী পেরিয়ে নিজের নতুন রাজধানীতে গৃহপ্রবেশ করেন মহারাজা হরেন্দ্রনারায়ণ এবং সেদিনই সেখানে গৃহদেবতা শ্রী শ্রী মদনমোহনের রাসমেলার সূচনা করেন । সম্ভবত তখন থেকেই এই স্থানান্তরের প্রথা শুরু হয়েছিল । এরপর থেকে যখনই কোচ-রাজারা নিজেদের রাজধানী স্থানান্তরিত করতেন, তখনই তাদের গৃহদেবতা শ্রী শ্রী মদনমোহন ঠাকুরেরও স্থান পরিবর্তন হত ।
যতোদূর জানা যায় যে ১৮৯০ খ্রিস্টাব্দে হরেন্দ্রনারায়ণের প্রপৌত্র মহারাজা নৃপেন্দ্রনারায়ণের রাজত্বকালে, কোচবিহারের বৈরাগী দীঘির পারে বর্তমান চারচালা আকৃতির মদনমোহন মন্দিরটি তৈরির কাজ সম্পন্ন হয় । ওই বছরের একুশে মার্চ নবনির্মিত মন্দিরে রাজপরিবারের কূলদেবতার বিগ্রহ সহ অন্যান্য দেবদেবীর বিগ্রহ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল । মন্দিরের মোট পাঁচটি কক্ষ রয়েছে । একেক কক্ষে একেক দেবীর বিগ্রহ । পূর্ব প্রান্তে জয়তারা । পশ্চিম প্রান্তে কালী বিগ্রহ । আরেক পাশে ভবানী বিগ্রহ । অন্য দিকে নাটমন্দির । নাটমন্দিরে দুর্গাপুজো হয় । মন্দির স্থাপিত হওয়ার পর থেকেই মন্দির সংলগ্ন এলাকায় রাস পূর্ণিমার দিন থেকে মেলার প্রচলন হয় যা কিনা আজ পর্যন্ত চলে আসছে । তবে মাঝের এই দীর্ঘ সময়ে এই মেলা সম্পর্কিত নানান রকম ঘটনার সাক্ষ্য বহন করতে হয়েছে কোচবিহার শহরকে । সময়টা ১৯১২ খ্রিস্টাব্দ, কোচবিহারে সেসময় কলেরা রীতিমত মহামারী আকার ধারণ করে। তখন বৈরাগী দীঘির জলকে দূষণ মুক্ত রাখার জন্য রাজ আদেশে মেলাকে প্যারেড গ্রাউন্ডে সরিয়ে নেওয়া হয় । এছাড়াও একটা সময় ছিল যখন এই রাস মেলাতে এসে জুয়ার নেশায় পড়ে আশেপাশের গ্রামের মানুষগুলোকে রীতিমত সর্বশান্ত হয়ে ফিরতে হত । সম্ভবত ১৯২২ খ্রিস্টাব্দে তৎকালীন মহারাজা জিতেন্দ্র নারায়ণ ভূপবাহাদুরের নির্দেশে কড়া ব্যবস্থা নিয়ে এই সমস্ত জুয়ার আড্ডা বন্ধ করে দেওয়া হয় ।
এরপর ধীরে ধীরে বৈদ্যুতিক আলোর প্রচলন হয় এবং মেলার জৌলুসও বাড়তে শুরু করে । রাজ পরিবারের শাসনকালে সাধারণত রাজারাই নিয়ম করে রাসচক্র ঘুরিয়ে, মদনমোহন ঠাকুর সহ সমস্ত বিগ্রহকে প্রণাম করে মেলার উদ্বোধন করতেন । প্রণামি দিতেন চোদ্দ টাকা । ১৯৬৯ সাল অর্থাৎ শেষ স্বাধীন মহারাজা জগদ্দীপেন্দ্র নারায়ণের সময় পর্যন্ত এই নিয়মেই চলছিল রাসমেলার উদ্বোধন । তবে পরবর্তী সময় কালের নিয়মে সমস্তটাই বদলে যায় । বর্তমানে রাসমেলা উদ্বোধনের দায়িত্ব গিয়ে পড়ে কোচবিহারের জেলাশাসকের ওপর । রাজ আমলে রাজারা যজ্ঞে বসতেন কিনা জানা যায়নি । কিন্তু পরবর্তী সময় থেকে দেবোত্তর ট্রাস্টের সভাপতি হওয়ার সূত্রে কোচবিহারের জেলাশাসকেরাই প্রতি বছর পুজো, যজ্ঞ ও উদ্বোধন করে আসছেন । রাসমেলা এখন শ্রী শ্রী মদনমোহন বাড়ি থেকে শুরু করে, জেনকিন্স স্কুল সংলগ্ন রাস্তা ও সামনের রাসমেলার মাঠ পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকা জুড়ে । এই মেলার বিবরণ দেওয়ার আগে রাস উৎসব সম্পর্কে কিছু কথা জানিয়ে রাখা জরুরি। মদনমোহন ঠাকুর ছাড়াও কোচবিহারের এই রাস উৎসবের মূল আকর্ষণ হল রাসচক্র । বৌদ্ধ ধর্মচক্রের আদলে বাঁশের তৈরি প্রায় ৩০ থেকে ৪০ ফুট উঁচু এবং ৮-১০ ফুট ব্যাস বিশিষ্ট চোঙাকৃতি কাঠামোর ওপর কাগজের সূক্ষ্ণ কারুকাজ করে এই রাসচক্র তৈরি করা হয় । এর বিশেষত্ব হল প্রতি বছর লক্ষ্মীপুজোর দিন থেকে নিয়ম করে, একমাস নিরামিষ খেয়ে কোচবিহারের বাসিন্দা আলতাফ মিঞা ও তাঁর পরিবারের সদস্যেরা বংশপরম্পরায় এই রাসচক্র তৈরি করে আসছেন । এই রাসচক্রে দক্ষ হাতের নানারকম নকশার সাথে সাথে বিভিন্ন দেবদেবীর রঙিন ছবিও থাকে । কোচবিহারের মানুষের আবেগের সাথে জড়িয়ে থাকা এই রাসচক্র একই সাথে হিন্দু, মুসলিম ও বৌদ্ধ ধর্মের সমন্বয়ের প্রতীক হিসেবে ঐতিহ্য বহন করে আজও আসছে ।
মদন মোহন মন্দিরের ঘটনাবলী জেনে কুহেলি আনন্দে আহ্লাদিত ।
মন্দির প্রাঙ্গনে বেশ কিছুদিন কেটে যাওয়ার পর কুহেলি ভাবছে, তাদের এবার বাড়ি ফেরার পালা । কুহেলি ভেবেছিল, নারী পাচার চক্রের দল সত্বর ধরা পড়বে । চক্রটা ধরা পড়লে তাদের বাড়ি ফেরার ক্ষেত্রে কোনো অসুবিধার সম্মুক্ষীণ হতে হতো না । কিন্তু পাচারকারী চক্রের ধরা পড়ার কোনো খবর নেই । খবর নেওয়ার জন্য প্রতিদিন খবরের কাগজ পড়ে । প্রথম থেকে শেষ পৃষ্ঠা পর্যন্ত চোখ বোলানো কুহেলির অভ্যাস । অথচ তাদের মধ্যে বাড়ি ফিরে যাওয়ার একটা তাগাদা অনুভব হচ্ছে । কাঞ্চন নগরের মোড়ে কুহেলির দোকান এখন বন্ধ । দোকানের কী পরিস্থিতি তার কোনো খবর নেই । জগন্নাথের সাথে যোগাযোগ রাখছে না, পাছে পুলিশে তাদের ধরে । এই মুহূর্তে পুলিশে ধরলে কুহেলির অনুমান, তাদেরকে পুলিশের জেরার মুখে পড়তে হবে । কেননা পুলিশ চাইবে কুহেলিদের কাছ থেকে পাচার চক্রের কোনো হদিস পাওয়া যায় কিনা ? সেই ক্ষেত্রে আরও বিড়ম্বনা ! কেননা তাদের পুলিশ হেফাজতে থেকে পুলিশদের সহযোগিতা করতে হবে ।
তখন মন্দিরে সন্ধ্যাবেলার সন্ধ্যারতি চলছে । হঠাৎ মন্দিরের একজন কর্মকর্তা, সুরেশবাবু মন্দির প্রাঙ্গনে হাজির । তাঁর সাথে কুহেলির কয়েকবার দেখা হয়েছে । কারণ মন্দিরের টাকা পয়সার হিসাব তাঁর কাছে থাকে । বাজারের খরচা বাবদ সুরেশবাবুর কাছ থেকে টাকা নিতে গিয়ে এবং খরচার হিসাব দিতে গিয়ে সুরেশবাবুর সাথে কয়েকবার কথা হয়েছে । সুরেশবাবু কুহেলির খুব কাছে এলেন । সেই সময় কুহেলি হাত জোড় করে ঠাকুরের প্রতি গভীর শ্রদ্ধায় মগ্ন ।
কুহেলির কানের কাছে গিয়ে বললেন, “তুমি একটু বাইরে এসো । তোমার সাথে আমার জরুরি কথা আছে !”
কুহেলি ঘাবড়ে গেলো । সুরেশবাবু হঠাৎ কী কথা বলবেন । এযাবৎ যতো টাকা নিয়েছিল সব টাকার হিসাব কুহেলি সুরেশবাবুকে দিয়ে দিয়েছে । তবে কেন তিনি ডাকছেন ? গভীর চিন্তায় পড়ে গেলো কুহেলি । তবুও সুরেশবাবু ডাকছেন, সুতরাং তাকে সুরেশবাবুর কথা শুনতেই হবে । কারণ তারা এই মন্দিরে আশ্রিতা । বাইরে বেরিয়ে এলো কুহেলি ।
এবার সুরেশবাবুর দিকে তাকিয়ে কুহেলি বললো, “স্যার, বলুন কী বলবেন ?”
সুরেশবাবু তখন কুহেলিকে বলতে শুরু করলেন, “থানা থেকে পুলিশ আধিকারিকেরা এসেছিলেন । তাঁরা বললেন, “নারী পাচার চক্রের দলের মানুষ যেভাবে হোক জানতে পেরেছে, তোমরা মন্দিরে প্রাঙ্গনে আশ্রয় নিয়েছো ।“ …………
( চলবে )

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

আজ ১৭ সেপ্টেম্বর, ইতিহাসের দিকে চোখ বুলিয়ে দেখে নেব ইতিহাসের এই দিনে বিশিষ্টজনদের জন্ম-মৃত্যু, দিনসহ ঘটে যাওয়া ঘটনা।

আজ ১৭ সেপ্টেম্বর। এক নজরে দেখে নিই ইতিহাসের এই দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য ঘটনা, বিশিষ্টজনদের জন্ম-মৃত্যু দিনসহ গুরুত্বপূর্ণ আরও কিছু বিষয়।

 

দিবস—–

(ক)  ঐতিহাসিক শিক্ষা দিবস৷

(খ) বিশ্ব সাইক্লিং দিবস।

 

আজ যাদের জন্মদিন—-

১৮২৬ – বের্নহার্ট রিমান, বিখ্যাত জার্মান গণিতবিদ।

১৮৬৭ – গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুর, ভারতীয় বাঙালি চিত্রশিল্পী, শিল্পরসিক এবং মঞ্চাভিনেতা।

১৯১৫ – মকবুল ফিদা হুসেন, অত্যন্ত জনপ্রিয় ভারতীয় চিত্রশিল্পী।

১৯১৮ – সত্য চৌধুরী প্রখ্যাত বাঙালি সঙ্গীতশিল্পী ও সুরকার।

১৯২২ – হরিপদ কাপালী, বাংলাদেশী কৃষক, হরি ধানের উদ্ভাবক।

১৯২৫ – পিটার ল্যাডিফোগিড, ইংরেজ-মার্কিনী ভাষাবিজ্ঞানী।

১৯৩৪ – বিনয় মজুমদার, বাঙালি কবি।

১৯৪৪ – (ক)  বিভু ভট্টাচার্য, বাঙালি অভিনেতা।

(খ)রেইনহোল্ড মেসনার, ইতালিয়ান পর্বতারোহী এবং অভিযাত্রী।

১৯৫০ – নরেন্দ্র মোদী, ভারতের ১৫দশ প্রধানমন্ত্রী।

 

ইতিহাসের পাতায় আজকের দিনের ঘটনাবলী—-

১৬৩০ – আমেরিকার বোস্টন শহর প্রতিষ্ঠিত হয়।

১৭৮৭ – ফিলাডেলফিয়ার পেনিসেলভেনিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান স্বাক্ষরিত হয়।

১৮৪৬ – সাপ্তাহিক ‘দর্পণ’ প্রকাশিত হয়।

১৮৪৮ – সাপ্তাহিক সংবাদপত্র ‘সাপ্তাহিক অরুণোদয়’ প্রকাশিত হয়।

১৮৭১ – সুইজারল্যান্ড মন্ট সেনিস রেলওয়ে টানেল উদ্বোধন করা হয়।

১৯০৫ – বঙ্গভঙ্গের প্রতিবাদে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচনা করেন ‘বাংলার মাটি বাংলার জল’ গানটি।

১৯১৪ – গ্রিস ও এশিয়া মাইনরে প্রচন্ড ভূমিকম্পে ৩ হাজারেরও বেশি লোকের প্রাণহানি ঘটে।

১৯২০ – প্রবাসে [তাসখন্দে] ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি গঠিত হয়।

১৯২৪ – হিন্দু মুসলমান সম্প্রীতির জন্য মহাত্মা গান্ধীর অনশন।

১৯৩৬ – ইরান-তুরস্ক শান্তি চুক্তি সম্পাদিত হয়।

১৯৪০ – মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধীর নেতৃত্বে ব্যক্তিগত সত্যাগ্রহ শুরু হয়।

১৯৪৪ – ওস্টল্যান্ড হতে এস্তোনিয়া স্বাধীনতা লাভ করে।

১৯৪৮ – আরব ইসরাইল যুদ্ধ এবং ফিলিস্তিন সংকট বিষয়ক জাতিসঙ্ঘের মধ্যস্ততাকারী কেন্ট বার্ণাডোট বায়তুল মোকাদ্দাসে ইহুদী অধ্যুষিত এলাকায় ইহুদীবাদীদের হাতে নিহত হয়েছিলেন।

১৯৫৭ – মালয়েশিয়া জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভ করে।

১৯৬২ – গণবিরোধী হামুদুর রহমান শিক্ষা কমিশনের রিপোর্টের বিরুদ্ধে পূর্ব বাংলায় ছাত্র আন্দোলন ও হরতাল পালিত হয়।

১৯৬৩ – জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে জেনিভা নিরস্ত্রীকরণ সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী যুক্তরাষ্ট্র আর সোভিয়েত ইউনিয়নসহ ১৭টি দেশের উত্থাপিত একটি প্রস্তাব অনুমোদিত হয়। এই প্রস্তাবে সকল দেশের উদ্দেশ্যে পরমাণু অস্ত্র অথবা অন্য যে কোনো গণ বিধ্বংসী অস্ত্র পৃথিবীর কক্ষপথে মোতায়েন না করার আহ্বান জানানো হয়।

১৯৭০ – জর্দান সেনা বাহিনী ফিলিস্তিনীদের উপর ব্যাপক গণহত্যা অভিযান শুরু করেছিল।

১৯৭৪ – বাংলাদেশ, গ্রানাডা এবং গিনি-বিসাউ জাতিসংঘে যোগদান করে।

১৯৮০ – নিকারাগুয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট আনাসতোসিও সমোজা দেবাইলি প্যারাগুয়েতে নিহত হন।

১৯৮০ – ইরানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শহীদ মোহাম্মাদ আলী রাজাই জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সম্মেলনে দেয়া ভাষণে তার দেশের ওপর ইরাকের ব্যর্থ সরকারের চাপিয়ে দেয়া যুদ্ধের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে বিশদ ব্যাখ্যা দেন।

১৯৮২ – হানাদার ইসরাইলী সেনারা লেবাননের সাবরা ও শাতিলা শরণার্থী শিবিরে আশ্রয়গ্রহণকারী নিরিহ ফিলিস্তিনীদের উপর ব্যাপক গণহত্যা চালায়।

১৯৮৩ – ভ্যানেসা উইলিয়াম প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ মিস আমেরিকান হন।

১৯৮৮ – সিউলে ১৬০টি দেশের অংশ গ্রহণে ২৪তম অলিম্পিক গেমসের উদ্বোধন হয়।

১৯৮৯ – যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোনির্য়া উত্তরাঞ্চলে প্রচন্ড ভূমিকম্প হয়। অনেক সড়ক আর সেতু এই ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত হয় । এই ভূমিকম্পে কমপক্ষে ২৭১ জনের মৃত্যু হয়। তা ছাড়া, দুর্গত এলাকায় কমপক্ষে ৫০০ জন আহত হন।

১৯৯১ ‌ – উন্মুক্ত সোর্সকোড ভিত্তিক কম্পিউটার অপারেটিং সিস্টেম লিনাক্স কার্নেলের প্রথম সংস্করণ (0.01 Version) ইন্টারনেটে প্রকাশিত হয়।

১৯৯১ – এস্তেনিয়া, লাতভিয়া, লিথুয়ানিয়া, উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়া, মাইক্রোনেশিয়া জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভ করে।

১৯৯৪ – চীনের শিনচিয়াংএর চিওহো প্রাচীন নগরে চীনের হ্যান রাজবংশের সমাধি সংগ্রহশালা আবিষ্কার করা হয়।

২০০৫ – বাংলাদেশে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি থেকে বাণিজ্যিক ভাবে কয়লা উত্তোলন শুরু।

 

এই দিনে মৃত্যুবরণ করেন যারা—-

১৬৬৫ – স্পেনের রাজা চতুর্থ ফিলিপ।

১৯৪৮ – এমিল লুধউইক জার্মানীর খ্যাতনামা জীবনীকার।

১৯৫৪ – যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত, বাংলা ভাষার কবি।

১৯৬১ – আদনান মেন্দেরেস, তুরস্কের সাবেক প্রধানমন্ত্রী।

১৯৬৪ – নরেশচন্দ্র সেনগুপ্ত,বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক।

১৯৬৯ – চীনের ছিং রাজবংশের শেষ রাজা ফুই।

১৯৭৭ – উইলিয়াম টলবোট, ইংরেজ উদ্ভাবক ও ফটোগ্রাফির পুরোধা।

২০১২ – হেনরি ফ্রিডলাডের, জার্মান বংশোদ্ভূত আমেরিকান ইতিহাসবিদ ও লেখক।

২০১২ – আলেক্সান্দ্র কশক্যন, রাশিয়ান মুষ্টিযোদ্ধা।

২০২১ – আব্দেল-আজিজ বউটেফ্লিকা, আলজেরীয় সৈনিক, রাজনীতিক ও ৫ম প্রেসিডেন্ট।

 

।।তথ্য : সংগৃহীত ইন্টারনেট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

আজ ১৬ সেপ্টেম্বর, ইতিহাসের দিকে চোখ বুলিয়ে দেখে নেব ইতিহাসের এই দিনে বিশিষ্টজনদের জন্ম-মৃত্যু, দিনসহ ঘটে যাওয়া ঘটনা।

আজ ১৬ সেপ্টেম্বর। এক নজরে দেখে নিই ইতিহাসের এই দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য ঘটনা, বিশিষ্টজনদের জন্ম-মৃত্যু দিনসহ গুরুত্বপূর্ণ আরও কিছু বিষয়।

 

দিবস—–

(ক)  বিশ্ব ওজোন স্তর রক্ষা দিবস ৷

(খ) স্বাধীনতা দিবস – পাপুয়া নিউ গিনি ১৯৭৫ সালে অস্ট্রেলিয়ার নিকট থেকে স্বাধীনতা লাভ করে।

 

আজ যাদের জন্মদিন—-

১৫০৭ – জিয়াজিং, চীন সম্রাট।

১৭৪৫ – মিখাইল কুটুযোভ, রাশিয়ান ফিল্ড মার্শাল।

১৮৫৩ – অ্যালব্রেচ্‌ট কোসেল, জার্মান প্রাণরসায়নবিজ্ঞানী এবং জিনতত্ত্ব অধ্যয়নের অন্যতম পথিকৃৎ।

১৮৫৮ – বোনার ল্‌, কানাডিয়ান স্কটস-মহাজন, রাজনীতিবিদ ও যুক্তরাজ্য প্রধানমন্ত্রী।

১৮৫৯ – ইউয়ান সিকাই, চীনা সাধারণ ও রাজনীতিবিদ ও চীন প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রপতি।

১৮৮৮ – ফ্রান্স ঈমিল সিল্লানপা, নোবেল পুরস্কার বিজয়ী ফিনিশ লেখক।

১৮৯৩ – আলবার্ট সযেন্ট-গায়র্গী, নোবেল পুরস্কার বিজয়ী হাঙ্গেরিয়ান বংশোদ্ভূত আমেরিকান শারীরবিজ্ঞানী ও প্রাণরসায়নবিদ।

১৮৯৩ – গিরিজাপতি ভট্টাচার্য, বিজ্ঞান গবেষক ও সাহিত্যিক।

১৯১৩ – দীনেশ দাস , বিশ শতকের ভারতের বাঙালি কবি।

১৯১৬ – এম এস শুভলক্ষ্মী , ভারত রত্নে সম্মানিত কর্ণাটকী শাস্ত্রীয় সংগীতের বিশিষ্ট সংগীত শিল্পী।

১৯২৩ – লি কুয়ান ইউ, সিঙ্গাপুরের আইনজীবী, রাজনীতিবিদ ও ১ম প্রধানমন্ত্রী।

১৯২৪ – লরেন বাকল, মার্কিন অভিনেত্রী। (মৃ. ২০১৪)

১৯২৭ – পিটার ফক, আমেরিকান অভিনেতা, গায়ক ও প্রযোজক।

১৯৩২ – মিকি স্টুয়ার্ট, ইংরেজ সাবেক ক্রিকেটার ও কোচ।

১৯৫২ – মিকি রুর্ক, আমেরিকান বক্সার এবং অভিনেতা।

১৯৫৬ – ডেভিড কপারফিল্ড (জাদুকর), আমেরিকান যাদুকর এবং অভিনেতা।

১৯৫৯ – ডেভিড জন রিচার্ডসন, দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটার, ম্যানেজার ও আইনজীবী।

১৯৬৬ – অশঙ্কা প্রদীপ গুরুসিনহা, শ্রীলংকান ক্রিকেটার।

১৯৬৮ – ওয়াল্ট বেকার, আমেরিকান পরিচালক, প্রযোজক ও চিত্রনাট্যকার।

১৯৬৮ – মার্ক এন্থনি, আমেরিকান গায়ক, গীতিকার, অভিনেতা ও প্রযোজক।

১৯৭১ – এমি পোয়েহলের, আমেরিকান অভিনেত্রী, কৌতুকাভিনেতা ও প্রযোজক।

১৯৭৬ – টিনা বারেট, ইংরেজ গায়ক, গীতিকার ও অভিনেত্রী।

১৯৮১ – ফ্যান বিংবিং, চীনা অভিনেত্রী, গায়ক ও প্রযোজক।

১৯৮১ – অ্যালেক্সিস বলেডেল, আমেরিকান অভিনেত্রী।

১৯৮৪ – সেরগিনহ কাটারিনেন্সে, ব্রাজিলিয়ান ফুটবল খেলোয়াড়।

১৯৮৪ – কেটি মেলুয়া, জর্জিয়ান বংশোদ্ভূত ইংরেজ গায়ক, গীতিকার ও গিটার।

১৯৯২ – নিক জোনাস, আমেরিকান গায়ক, গীতিকার ও গিটার।

 

ইতিহাসের পাতায় আজকের দিনের ঘটনাবলী—-

১৮১২ – মস্কো শহরে এক অগ্নিকাণ্ডে এক দিনে প্রায় তিন-চতুর্থাংশ শহর পুড়ে গিয়েছিল।

১৯০৮ – জেনারেল মোটরস কর্পোরেশনের প্রতিষ্ঠা।

১৯২০ – ওয়াল স্ট্রিটে জেপি বিল্ডিংয়ের সামনে শক্তিশালী বোমা বিস্ফোরণ হলে ৩৮ জন মারা যায় এবং প্রায় ৪০০ লোক আহত হয়।

১৯৩১ – হিজলি জেলে রাজবন্দিদের ওপর পুলিশ গুলি চালায়।

১৯৩১ – লিবিয়ায় ইতালীর উপনিবেশ বিরোধী স্বাধীনতাকামী নেতা ওমর মুখতারকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করা হয়।

১৯৩৯ – দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরুর প্রথম মাসে জার্মানীর সেনারা পোল্যান্ডের রাজধানী ওয়ারশো অবরুদ্ধ করে ফেলে।

১৯৪০ – মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ২১ থেকে ৩৫ বছর বয়স্ক পুরুষদের সেনাবাহিনীতে যোগদান বাধ্যতামূলক করা হয়।

১৯৪১ – ইরানের রেজা শাহ পাহলভি সিংহাসন পরিত্যাগ করেন।

১৯৫৩ – যুক্তরাষ্ট্রের রক্সি থিয়েটারে বিশ্বের প্রথম সিনেমাস্কোপ চলচ্চিত্র ‘দ্য রোব’ প্রদর্শিত।

১৯৫৫ – আন্তর্জাতিক কপিরাইট কনভেনশন চালু হয়।

১৯৭৫ – পাপুয়া নিউ গিনি স্বাধীনতা লাভ করে।

১৯৭৮ – রিখটার স্কেলে ৭.৫-৯ মাত্রার ভূমিকম্পে ইরানের তারা শহরে প্রায় ২৫ হাজার লোকের মৃত্যু হয়।

১৯৮৭ – বিশ্বের ২৭টি দেশ ভূ-পৃষ্ঠের বায়ু মন্ডলকে রক্ষা করার জন্য ক্লোরোফ্লোরো কার্বন গ্যাস ব্যবহারে বিধিনিষেধ প্রয়োগে চুক্তিবদ্ধ হয়।

 

এই দিনে মৃত্যুবরণ করেন যারা—-

০৩০৭ – ফ্লাভিউস ভ্যালেরিয়াস সেভেরাস, রোমান সম্রাট।

১৭৩৬ – ড্যানিয়েল গ্যাব্রিয়েল ফারেনহাইট, পোলিশ ডাচ পদার্থবিদ, প্রকৌশলী ও থার্মোমিটার উদ্ভাবক।

১৭৮২ – ফারিনেলি, ইতালীয় গায়ক।

১৮৭৫ – আনন্দচন্দ্র বেদান্তবাগীশ ব্রাহ্মসমাজের কর্মকর্তা ও বাঙালি লেখক।

১৯২৫ – আলেক্সান্দ্র্ আলেক্সান্দ্রোভিচ ফ্রিদমান, রাশিয়ান পদার্থবিদ ও গণিতবিদ।

১৯৩১ – (ক)  ওমর মুখতার, প্রখ্যাত লিবীয় স্বাধীনতাকামী যোদ্ধা।

(খ) সন্তোষ কুমার মিত্র, ভারতীয় উপমহাদেশের ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের একজন বিপ্লবী শহীদ।

(গ) তারকেশ্বর সেনগুপ্ত,ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনকারী,সূর্য সেনের বিপ্লবী দলের সদস্য ও চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুন্ঠনের অন্যতম কর্মী।

১৯৩২ – রোনাল্ড রস, নোবেল পুরস্কার বিজয়ী স্কটিশ চিকিৎসক।

১৯৪২ – খ্যাতিমান আইনজীবী, চিন্তাশীল লেখক এবং বিশিষ্ট পণ্ডিত হীরেন্দ্রনাথ দত্ত।

১৯৪৪ – গুস্টাভ বাউয়ের, জার্মান সাংবাদিক, রাজনীতিবিদ ও ১১তম চ্যান্সেলর।

১৯৪৬ – জেমস জিনস, প্রখ্যাত ইংরেজ প্রাবন্ধিক ও বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী লেখক।

১৯৫৭ – কই বাইসই, চীনা চিত্রশিল্পী।

১৯৬৫ – ফ্রেড কুইম্বি, প্রখ্যাত মার্কিন এ্যানিমেশন নির্মাতা।

১৯৭৩ – ভিক্টর হারা, চিলির গায়ক, গীতিকার, কবি ও পরিচালক।

২০০৭ – রবার্ট জর্ডান, আমেরিকান প্রকৌশলী ও ‘হুইল অব টাইম’ সিরিজ বইয়ের লেখক।

২০০৯ – টিমোথি বেটসন, ইংরেজ অভিনেতা।

 

।।তথ্য : সংগৃহীত ইন্টারনেট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

১৫ সেপ্টেম্বর, ইতিহাসের দিকে চোখ বুলিয়ে দেখে নেব ইতিহাসের এই দিনে বিশিষ্টজনদের জন্ম-মৃত্যু, দিনসহ ঘটে যাওয়া ঘটনা।

আজ ১৫ সেপ্টেম্বর। এক নজরে দেখে নিই ইতিহাসের এই দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য ঘটনা, বিশিষ্টজনদের জন্ম-মৃত্যু দিনসহ গুরুত্বপূর্ণ আরও কিছু বিষয়।

 

দিবস—–

 

(ক) আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস।

 

 

(খ) জাতীয় ইঞ্জিনিয়ার দিবস – ভারত

 

আজ যাদের জন্মদিন—-

১৯০৪ – ইতালির রাজা দ্বিতীয় উমবার্তো।

 

Umberto II (১৫ সেপ্টেম্বর ১৯০৪ – ১৮ মার্চ ১৯৮৩), ছিলেন ইতালির শেষ রাজা।  তিনি ৩৪ দিন রাজত্ব করেছিলেন, ৯ মে ১৯৪৬ থেকে ১২ জুন ১৯৪৬ তারিখে তার আনুষ্ঠানিক পদত্যাগ পর্যন্ত, যদিও তিনি ১৯৪৪ সাল থেকে প্রকৃত রাষ্ট্রপ্রধান ছিলেন। তার সংক্ষিপ্ত রাজত্বের কারণে, তাকে মে কিং ডাকনাম দেওয়া হয়েছিল।

 

১৯০৭ – ফায় ওরায়, কানাডিয়ান বংশোদ্ভূত আমেরিকান অভিনেত্রী।

 

১৯০৯ – সি.এন. আন্নাদুরাই,ভারতীয় রাজনীতিবিদ,ভালো বাগ্মী,মাদ্রাজ প্রদেশের সর্বশেষ ও তামিলনাড়ুর প্রথম মুখ্যমন্ত্রী।

কনজিভরম নটরাজন আন্নাদুরাই (১৫ সেপ্টেম্বর ১৯০৯ – ৩ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯), জনপ্রিয়ভাবে আন্না নামে পরিচিত, যিনি আরিগনার আন্না বা পেরারিগনার আন্না (আন্না, পণ্ডিত বা বড় ভাই) নামেও পরিচিত ছিলেন, ছিলেন একজন ভারতীয় রাজনীতিবিদ যিনি চতুর্থ এবং শেষ মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন  ১৯৬৭ থেকে ১৯৬৯ পর্যন্ত মাদ্রাজ রাজ্য এবং মৃত্যুর আগে ২০ দিনের জন্য তামিলনাড়ুর প্রথম মুখ্যমন্ত্রী (মাদ্রাজ রাজ্যের নাম পরিবর্তন করে তামিলনাড়ু করা হয়েছিল)।  তিনি দ্রাবিড় দলের প্রথম সদস্য যিনি যেকোনো একটি পদে অধিষ্ঠিত হন।

 

১৯১৪ – আডোলফো বিওয় কাসারইয়েস, আর্জেন্টিনার সাংবাদিক ও লেখক।

১৯১৬ – রুমানিয়ার খ্যাতনামা লেখক ও গবেষক কনষ্ট্যান্টিন ভারযিল গিওরগো ৷

 

১৯২৯ – মারি গেল-ম্যান, নোবেলজয়ী মার্কিন পদার্থবিদ।

মারি গেল-ম্যান একজন মার্কিন পদার্থবিজ্ঞানী। মৌলিক কণাসমূহের পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ে মৌলিক গবেষণার জন্য তিনি ১৯৬৯ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। তার জন্ম মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক সিটির ম্যানহাটনে।

 

১৯৩৭ – রবার্ট এমারসন লুকাস, নোবেল পুরস্কার বিজয়ী মার্কিন অর্থনীতিবিদ।

 

১৯৪৬ – অলিভার স্টোন, একাডেমী পুরস্কার বিজয়ী মার্কিন চলচ্চিত্র পরিচালক, চিত্রনাট্য লেখক।

উইলিয়াম অলিভার স্টোন (জন্ম ১৫ সেপ্টেম্বর, ১৯৪৬) একজন আমেরিকান চলচ্চিত্র পরিচালক, প্রযোজক এবং চিত্রনাট্যকার।  স্টোন একজন বিতর্কিত কিন্তু প্রশংসিত পরিচালক হিসেবে পরিচিত, যিনি ভিয়েতনাম যুদ্ধ এবং আমেরিকান রাজনীতি থেকে শুরু করে মিউজিক্যাল বায়োপিক এবং ক্রাইম ড্রামা পর্যন্ত বিষয়বস্তু নিয়ে কাজ করেন।  তিনি চারটি একাডেমি পুরস্কার, একটি BAFTA পুরস্কার, একটি প্রাইমটাইম এমি পুরস্কার এবং পাঁচটি গোল্ডেন গ্লোব পুরস্কার সহ অসংখ্য প্রশংসা পেয়েছেন।

 

১৯৫৪ – হ্রান্ট ডিঙ্ক, তুর্কি সাংবাদিক।

হ্রান্ট ডিঙ্ক (১৫ সেপ্টেম্বর ১৯৫৪ – ১৯জানুয়ারী ২০০৭) ছিলেন একজন তুর্কি-আর্মেনিয়ান বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক, সহ- সাংবাদিক , সহ-সম্পাদক।  দ্বিভাষিক তুর্কি-আর্মেনিয়ান সংবাদপত্র আগোসের প্রধান সম্পাদক হিসেবে , ডিঙ্ক ছিলেন তুরস্কের আর্মেনিয়ান সংখ্যালঘুদের একজন বিশিষ্ট সদস্য যিনি তুর্কি-আর্মেনিয়ান পুনর্মিলন এবং তুরস্কে মানব ও সংখ্যালঘু অধিকারের পক্ষে সবচেয়ে বেশি পরিচিত । তিনি প্রায়ই তুরস্কের উভয়ের সমালোচনা করতেনআর্মেনিয়ান গণহত্যা এবং আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির জন্য আর্মেনিয়ান প্রবাসীদের প্রচারণাকে অস্বীকার করা । তুর্কি জাতীয়তাবাদীদের কাছ থেকে অসংখ্য প্রাণনাশের হুমকি পেয়ে তুরস্কের অবমাননা করার জন্য ডিঙ্কের বিরুদ্ধে তিনবার মামলা করা হয়েছিল ।

 

১৯৬৫ – রবার্ট ফিকো, স্লোভাক রাজনীতিবিদ, অধ্যাপক ও ১৪ তম প্রধানমন্ত্রী।

রবার্ট ফিকো (জন্ম ১৫ সেপ্টেম্বর ১৯৬৪) একজন স্লোভাক রাজনীতিবিদ যিনি ২০০৬ থেকে ২০১০ এবং ২০১২ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত (যখন তিনি পদত্যাগ করেন) স্লোভাকিয়ার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।  তিনি ১৯৯৯ সাল থেকে নির্দেশ – সোশ্যাল ডেমোক্রেসি (স্মের) পার্টির প্রথম নেতা। ১৯৯২ সালে পার্লামেন্টে প্রথম নির্বাচিত হন (যদিও চেকোস্লোভাকিয়ার মধ্যে), তিনি পরে ইউরোপের কাউন্সিল-এ নিযুক্ত হন।  ২০০৬ সালের সংসদ নির্বাচনে তার দলের বিজয়ের পর, তিনি প্রথম ফিকো মন্ত্রিসভা গঠন করেন।

 

 

১৯৭১ – নাথান অ্যাসলে, নিউজিল্যান্ডের অলরাউন্ডার।

নাথান জন অ্যাসলে, এমএনজেডএম ক্রাইস্টচার্চে জন্মগ্রহণকারী সাবেক নিউজিল্যান্ডীয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার। নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট দলে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। নাথান অ্যাসলে মূলত ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। ডানহাতে মিডিয়াম পেস বোলিংয়েও পারদর্শিতা দেখিয়েছেন তিনি।

 

১৯৭৯ – কার্লোস রুইজ, গুয়াতেমালার ফুটবলার।

কার্লোস হাম্বারতো রুইজ গুতেরেস (জন্ম ১৫ সেপ্টেম্বর ১৯৭৯), প্রাথমিকভাবে এল পেসকাদিটো বা “দ্য লিটল ফিশ” ডাকনাম হলেও পরে এল পেসকাডো বা “দ্য ফিশ” হয়ে ওঠেন (এমনকি স্প্যানিশ-ভাষীরাও), একজন গুয়াতেমালার প্রাক্তন পেশাদার ফুটবলার যিনি একজন স্ট্রাইকার হিসেবে খেলেন। . সিএসডি মিউনিসিপ্যাল ​​এর যুব একাডেমির একটি পণ্য , রুইজ পাঁচটি এমএলএস ক্লাবের হয়ে খেলেছেন ( লস অ্যাঞ্জেলেস গ্যালাক্সি , এফসি ডালাস , টরন্টো এফসি , ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়ন , এবং ডিসি ইউনাইটেড ), ১৮২টি এমএলএস নিয়মিত-সিজন ম্যাচে 88টি গোল করেছেন এবং পোস্টে ১৬টি গোল করেছেন। -ঋতু, যেটি এমএলএস ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বাধিক পোস্ট-সিজন গোল। ২০০২ সালে, তিনি এমএলএস-এর মৌসুমের সবচেয়ে মূল্যবান খেলোয়াড় নির্বাচিত হন।

 

১৯৮৮ – চেলসিয়া কেন, আমেরিকান অভিনেত্রী ও গায়িকা।

চেলসি কেন স্টাব (জন্ম ১৫ সেপ্টেম্বর, ১৯৮৮) একজন আমেরিকান অভিনেত্রী এবং গায়ক।  তিনি ডিজনি চ্যানেলের সিটকম টেলিভিশন সিরিজ জোনাসে স্টেলা ম্যালোন এবং ফ্রিফর্ম সিটকম, বেবি ড্যাডি-তে রিলি পেরিন-এর ভূমিকার জন্য পরিচিত।  এছাড়াও তিনি ডিজনি চ্যানেল অ্যানিমেটেড সিটকম ফিশ হুকস-এ বি গোল্ডফিশবার্গে কণ্ঠ দিয়েছেন।

 

১৮৫৭ – উইলিয়াম হাওয়ার্ড ট্যাফ্‌ট্‌, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ২৭তম রাষ্ট্রপতি ও ১০ম প্রধান বিচারপতি।

উইলিয়াম হাওয়ার্ড ট্যাফ্‌ট্‌ (William Howard Taft) (সেপ্টেম্বর ১৫, ১৮৫৭– মার্চ ৮, ১৯৩০) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ২৭তম রাষ্ট্রপতি ও ১০ম প্রধান বিচারপতি।

 

 

১৮৬০ – ভারতরত্ন এম. বিশ্বেশ্বরায়া, ভারতের প্রখ্যাত সিভিল ইঞ্জিনিয়ার, দক্ষ প্রশাসক ও দূরদর্শী রাষ্ট্রনেতা।

স্যার এম (মোক্ষগুন্ডম) বিশ্বেশ্বরায়া KCIE এফএএসসি, (স্যার এমভি (১৫ সেপ্টেম্বর ১৮৬০ – ১৪ এপ্রিল ১৯৬২) নামে বেশি পরিচিত) ছিলেন একজন ভারতীয় সিভিল ইঞ্জিনিয়ার ও রাষ্ট্রনায়ক। ১৯১২ খ্রিস্টাব্দ হতে ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দ সময়ে তিনি মহীশূর রাজ্যের ১৯তম দেওয়ান ছিলেন। তিনি দেশের পুনে অবস্থিত  তৎকালীন সর্বোত্তম ও এশিয়ার তৃতীয় প্রাচীন ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ  হতে ডিগ্রি লাভ করেন।  জনসেবার স্বীকৃতি স্বরূপ বৃটিশ ভারত সরকারের পঞ্চম জর্জ  “নাইট” ও ১৯৫৫ খ্রিস্টাব্দে স্বাধীন ভারত সরকার  দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান ভারতরত্ন প্রদান করে। তাঁকে সম্মান জানাতে তার জন্মদিন ১৫ ই সেপ্টেম্বর প্রতি বছর  ভারত, শ্রীলঙ্কা ও  তানজানিয়ায় ‘ইঞ্জিনিয়ার্স ডে’ হিসাবে পালিত  হয়। মহীশূর শহরের উত্তর-পশ্চিম শহরতলিতে ‘ কৃষ্ণ রাজা  সাগর’ জলাধার ও বাঁধের ডিজাইন তিনি করেন। হায়দ্রাবাদ শহরের বন্যা  সুরক্ষা ব্যবস্থাপনায় প্রধান ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন তিনি।

 

 

১৮৭৬ – শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় জনপ্রিয় বাঙালি কথাসাহিত্যিক।

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ৩১শে ভাদ্র, ১২৮৩ – ২রা মাঘ, ১৩৪৪ রবিবার ছিলেন একজন বাঙালি লেখক, ঔপন্যাসিক, ও গল্পকার। তিনি দক্ষিণ এশিয়া এবং বাংলা ভাষার অন্যতম জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক। তার অনেক উপন্যাস ভারতবর্ষের প্রধান ভাষাগুলোতে অনূদিত হয়েছে।

 

১৮৯০ -আগাথা ক্রিস্টি,‘দ্য কুইন অব ক্রাইম’ ডাকনামে পরিচিত ইংরেজ অপরাধ কল্পকাহিনী লেখক।

ডেম আগাথা ম্যারি ক্লারিসা ক্রিস্টি, লেডি মালোওয়ান, ডিবিই একজন ইংরেজ লেখিকা ছিলেন। তিনি ৬৬টি গোয়েন্দা উপন্যাস ও ১৪টি ছোটগল্প সংকলন-সহ মোট ৮০টি বই লেখেন। তার রচিত বইগুলোর মধ্যে গোয়েন্দা এরকুল পোয়ারো ও মিস মার্পল-এর কাহিনিগুলো অন্যতম।

 

১৮৯৪ – জঁ রনোয়ার, ফরাসি চলচ্চিত্র পরিচালক, অভিনেতা ও লেখক।

জিন রেনোয়ার (১৫ সেপ্টেম্বর ১৮৯৪ – ১২ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৯) একজন ফরাসি চলচ্চিত্র পরিচালক, চিত্রনাট্যকার, অভিনেতা, প্রযোজক এবং লেখক ছিলেন।  একজন চলচ্চিত্র পরিচালক এবং অভিনেতা হিসেবে, তিনি নীরব যুগ থেকে ১৯৬০ এর দশকের শেষ পর্যন্ত চল্লিশটিরও বেশি চলচ্চিত্র তৈরি করেছেন।  তার চলচ্চিত্র লা গ্র্যান্ডে ইলিউশন (১৯৩৭) এবং দ্য রুলস অফ দ্য গেম (১৯৩৯) প্রায়শই সমালোচকদের দ্বারা নির্মিত সর্বশ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্রগুলির মধ্যে উল্লেখ করা হয়।  ২০০২ সালে সমালোচকদের BFI-এর দৃষ্টি ও শব্দ জরিপে তিনি সর্বকালের চতুর্থ সেরা পরিচালক হিসেবে স্থান পান।  তার জীবদ্দশায় অর্জিত অসংখ্য সম্মানের মধ্যে, তিনি চলচ্চিত্র শিল্পে তার অবদানের জন্য ১৯৭৫ সালে লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাকাডেমি পুরস্কার পান।  রেনোয়ার ছিলেন চিত্রশিল্পী পিয়েরে-অগাস্ট রেনোয়ার এবং চিত্রগ্রাহক ক্লদ রেনোয়ারের কাকা।  তিনি ছিলেন প্রথম চলচ্চিত্র নির্মাতাদের মধ্যে একজন যিনি একজন অট্যুর হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

 

১৭৮৯ – জেমস ফেনিমোর কুপার, The Last of the Mohicans খ্যাত কথাসাহিত্যিক।

জেমস ফেনিমোর কুপার (সেপ্টেম্বর ১৫, ১৭৮৯ – ১৪ সেপ্টেম্বর, ১৮৫১) ছিলেন ১৯ শতকের প্রথমার্ধের একজন আমেরিকান লেখক, যার ১৭ থেকে ১৯ শতক পর্যন্ত ঔপনিবেশিক এবং আদিবাসী চরিত্রগুলিকে চিত্রিত করে ঐতিহাসিক রোম্যান্স তাকে খ্যাতি ও খ্যাতি এনে দেয়।  তিনি তার শৈশব এবং জীবনের শেষ পনেরো বছর কুপারস্টাউন, নিউ ইয়র্ক-এ কাটিয়েছেন, যেটি তার পিতা উইলিয়াম কুপার তার মালিকানাধীন সম্পত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন।  কুপার তার মৃত্যুর কিছুদিন আগে এপিস্কোপাল চার্চের সদস্য হয়েছিলেন এবং এতে উদারভাবে অবদান রেখেছিলেন।  তিনি ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ে তিন বছর পড়াশোনা করেছেন, যেখানে তিনি লিনোনিয়ান সোসাইটির সদস্য ছিলেন।

 

১৫০৫ – হাঙ্গেরির রানি মারিয়া।

 

১২৫৪ – মার্কো পোলো – ইতালির ভেনিস অঞ্চলের একজন বণিক ও বিখ্যাত পরিব্রাজক।

মার্কো পোলো একজন ভেনিসীয় পর্যটক এবং বণিক। পশ্চিমাদের মধ্যে সর্বপ্রথম সিল্ক রোড পাড়ি দিয়ে চীন দেশে এসে পৌঁছানো লোকজনের মধ্যে তিনি ছিলেন অন্যতম। ইউরোপীয়দের কাছে চীনের তৎকালীন নাম ছিল ক্যাথে। এছাড়া তিনি সর্বপ্রথম ইউরোপীয় হিসেবে মঙ্গোলদের সাম্রাজ্যে পদার্পণকারীদের অন্যতম।

 

ইতিহাসের পাতায় আজকের দিনের ঘটনাবলী—-

২০০৮ – আমেরিকার বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান লেহম্যান ব্রাদার্স দেউলিয়া ঘোষিত হয়, যা আমেরিকায় এ যাবৎকালের বৃহত্তম দেউলিয়ার ঘটনা।

 

১৯১৬ – বিশ্বযুদ্ধে প্রথমবারের মত ট্যাঙ্ক ব্যবহৃত হয়৷

ট্যাঙ্কের ইতিহাস প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সাথে শুরু হয় , যখন পরিখা যুদ্ধের সমস্যার প্রতিক্রিয়া হিসাবে সাঁজোয়া অল-টেরেন ফাইটিং যানবাহন চালু করা হয়েছিল , যা যান্ত্রিক যুদ্ধের একটি নতুন যুগের সূচনা করে । যদিও প্রাথমিকভাবে অশোধিত এবং অবিশ্বস্ত, ট্যাঙ্কগুলি শেষ পর্যন্ত স্থল সেনাবাহিনীর প্রধান ভিত্তি হয়ে ওঠে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মধ্যে , ট্যাঙ্কের নকশা উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয়েছিল এবং যুদ্ধের সমস্ত ল্যান্ড থিয়েটারে ট্যাঙ্কগুলি পরিমাণে ব্যবহৃত হয়েছিল। শীতল যুদ্ধ আধুনিক ট্যাংক মতবাদের উত্থান এবং সাধারণ-উদ্দেশ্য প্রধান যুদ্ধ ট্যাংকের উত্থান দেখেছিল । ট্যাঙ্কটি এখনও ২১ শতকে ল্যান্ড কম্প্যাট অপারেশনের মেরুদণ্ড প্রদান করে।

 

১৯১৭ – আলেকজান্ডার কেরেনস্কি রাশিয়াকে প্রজাতন্ত্র ঘোষণা করেন।

আলেকজান্ডার ফিডোরোভিচ কেরেনস্কি (৮ মে  ২২ এপ্রিল ১৮৮১ – ১১ জুন ১৯৭০) একজন রাশিয়ান আইনজীবী এবং বিপ্লবী যিনি রাশিয়ান অস্থায়ী সরকার এবং স্বল্পকালীন রাশিয়ান প্রজাতন্ত্রের জুলাইয়ের শেষ থেকে ১৯১৭ সালের নভেম্বরের প্রথম দিকে তিন মাস নেতৃত্ব দিয়েছিলেন ।

 

 

১৯২৮ – আলেকজান্ডার ফ্লেমিং পেনিসিলিন আবিষ্কার করেন।

স্যার আলেকজান্ডার ফ্লেমিং FRS FRSE FRCS ছিলেন এক বিশ্ববিশ্রুত স্কটিশ চিকিৎসক, অণুজীব বিজ্ঞানী, বিশ্বের প্রথম অ্যান্টিবায়োটিক ‘বিংশ শতকের বিস্ময়’ পেনিসিলিন আবিষ্কারের জন্য সমধিক পরিচিত ছিলেন। ১৯২৮ খ্রিস্টাব্দের তার এই আবিষ্কার পরবর্তীতে বেঞ্জিলপেনিসিলিন তথা পেনিসিলিন-জি নামে নামাঙ্কিত হয়।

 

১৯৩৫ – (ক)  নুরেমবার্গ আইনের মাধ্যমে জার্মান ইহুদীদের নাগরিকত্ব বাতিল করে।

(খ)  – জার্মানীর স্বস্তিকাযুক্ত নতুন পতাকা চালু করে।

১৯৪৬ – বুলগেরিয়া গণপ্রজাতন্ত্র ঘোষিত হয়।

১৯৪৭ – তমদ্দুন মজলিস ‘পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু’ নামে একটি পুস্তিকা প্রকাশ করে।

১৯৫২ – জাতিসংঘ আফ্রিকার দেশ ইথিওপিয়াকে ইরিত্রিয়া দান করে। পরবর্তীতে ইরিত্রিয়া স্বাধীন হয়।

 

১৯৫৮ – (ক) আকাশবাণী কলকাতার বেতার কেন্দ্র ইডেন গার্ডেন্সের নিজস্ব “আকাশবাণী ভবন”- স্নানান্তরিত হয়।

(খ) চিকিৎসা বিজ্ঞানের ইতিহাসে ‘ত্রাকোমি’ নামে চোখের বিপজ্জনক সংক্রামক রোগের ভাইরাস আবিস্কৃত হয় ৷

১৯৫৯ – (ক)  দূরদর্শন (সংক্ষেপে ডিডি)ভারতে প্রথম টেলিভিশন সম্প্রচার শুরু হয়।

(খ) নিকিতা ক্রশেভ প্রথম সোভিয়েত নেতা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র সফরে যান।

১৯৭৩ – বাংলাদেশকে স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয় মিশর ও সিরিয়া।

১৯৮১ – প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র ভানুয়াতু জাতিসংঘের সদস্য হয়।

১৯৮২ – লেবাননের রাষ্ট্রপতি বাসির গামায়েল আততায়ীর হাতে নিহত হন।

১৯৮৯ – পাকিস্তান কমনওয়েলথে ফিরে আসে৷

১৯৯১ – (ক)  দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের মেসিডোনিয়া সাবেক ইউগোশ্লাভিয়া থেকে আলাদা হয়ে স্বাধীনতা লাভ করে৷

(খ)  – বাংলাদেশে গণভোটে সংসদীয় পদ্ধতির পক্ষে গণ রায় প্রদান।

 

১৯৯৬ – ক্রিকেটে বাংলাদেশ এসিসি ট্রফি জয় করে।

১৯৯৮ – আমেরিকার টেলিকম্যুনিকেশন কোম্পানী ওয়ার্ল্ডকম ও এমসিআই যুক্ত হয়ে এমসিআই ওয়ার্ল্ডকম নামে একটি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়, যা ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম সংযুক্তি (Merger)।

 

১৮১২ – (ক)  নেপোলিয়নের ফরাসি বাহিনী মস্কোর ক্রেমলিনে তাঁবু গাড়ে।

(খ)  – ফরাসি দখলদারি প্রতিহত করতে রুশরা মস্কোয় আগুন লাগিয়ে দেয়।

১৮২১ – মধ্য আমেরিকার দেশ গুয়াতেমালা, এল সালভাদর, হন্ডুরাস, নিকারাগুয়া ও ঝকোস্টারিকা স্পেনের উপনিবেশ থেকে মুক্ত হয়ে স্বাধীনতা লাভ করে৷

১৮৩৫ – ভারতে মুদ্রণযন্ত্রকে সংবাদ পরিবেশনের কাজে ব্যবহারের অনুমতি প্রদান করে ‘লিবার্টি অব দ্য প্রেস অ্যাক্ট’ স্বাক্ষরিত হয়।

১৮৯৪ – পিয়ং ইয়ংয়ের যুদ্ধে জাপানের কাছে চীন পরাস্ত হয়।

১৭৭৬ – ব্রিটেন ম্যানহাটান দখল করে।

১৬৫৬ – ইংল্যান্ড ও ফ্রান্স শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর করে।

 

এই দিনে মৃত্যুবরণ করেন যারা—-

২০০৬ – নিতুন কুণ্ডু, বাংলাদেশী চিত্রশিল্পী ও উদ্যোক্তা।

নিতুন কুন্ডুু ছিলেন একজন বাংলাদেশি চিত্রশিল্পী, নকশাবিদ, ভাস্কর, মুক্তিযোদ্ধা ও শিল্প-উদ্যোক্তা। তিনি সাবাশ বাংলাদেশ, সার্ক ফোয়ারা প্রমূখ বিখ্যাত ভাস্কর্যের স্থপতি। তিনি আসবাবপত্র প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান অটবি স্থাপন করেন ও সফলতা লাভ করেন।

 

২০০৮ – স্টাভরস পারাভাস, গ্রিক অভিনেতা।

স্ট্যাভ্রোস পারভাস (১৫ এপ্রিল, ১৯৩৫ – ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০০৮) একজন গ্রীক অভিনেতা ছিলেন।  তিনি ১৫ এপ্রিল, ১৯৩৫ সালে এথেন্সের তুরকোউনিয়ায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন।  তার বাবা-মা ছিলেন এশিয়া মাইনর থেকে আসা দরিদ্র উদ্বাস্তু, এবং তিনি তার পরিবারকে বিচিত্র কাজ করতে আর্থিকভাবে সাহায্য করেছিলেন।  একটি সফল অডিশনের পর, তিনি বিনামূল্যে কে. মিচাইলিডিসের ড্রামা স্কুলে প্রবেশ করেন।
স্বৈরশাসনের সময়, শাসনের বিরুদ্ধে বিরোধিতার জন্য তাকে গ্রেফতার করা হয় এবং গায়ারোসে নির্বাসিত করা হয়।
তিনি একজন ব্রিটিশ ভদ্রমহিলা অ্যানকে বিয়ে করেন এবং জোনাথন, মার্থা এবং ভেনেসা নামে তিনটি সন্তানকে বড় করেন।  প্রথম সন্তান জোনাথন হঠাৎ পরে মারা যায়।
ফেব্রুয়ারী ২০০৬-এ, তিনি গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছিলেন যার মধ্যে মাথাব্যথা এবং ফুসফুসের হৃদযন্ত্রের সমস্যা সহ বহু বছর ধরে তিনি ভাল অনুভব করেছিলেন।
তিনি ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০০৮ তারিখে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান এবং দুই দিন পরে তাকে সমাহিত করা হয়।

 

১৯২৬ – রুডল্‌ফ ক্রিস্টফ অয়কেন, নোবেল পুরস্কার বিজয়ী জার্মান দার্শনিক।

রুডল্‌ফ ক্রিস্টফ অয়কেন (জানুয়ারি ৫, ১৮৪৬ – ১৯২৬) জার্মান দার্শনিক, সাহিত্যিক এবং শিক্ষক। তাঁকে ১৯০৮ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার প্রদান করা হয়। তার নোবেল পুরস্কার প্রাপ্তির কারণ হিসেবে নোবেল কমিটি থেকে উল্লেখ করা হয়েছে, “তার সত্য অনুসন্ধানের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা, চিন্তা করার অপ্রতিরোধ্য ক্ষমতা, বিভিন্ন স্তরে দৃষ্টিভঙ্গি বিশ্লেষণের যোগ্যতা এবং উপস্থাপনের ক্ষেত্রে উষ্ণ শক্তিময়তার স্বীকৃতিস্বরূপ যা তার বিপুল সংখ্যক রচনায় প্রকাশ পেয়েছে। এর মাধ্যমে তিনি জীবনের একটি আদর্শিক দর্শনরূপ প্রতিষ্ঠা করেছেন”।

 

১৯৩৮ – টমাস ওয়লফে, আমেরিকান লেখক।

থমাস ক্লেটন উলফ (৩ অক্টোবর, ১৯০০ – সেপ্টেম্বর ১৫, ১৯৩৮) ছিলেন ২০ শতকের প্রথম দিকের একজন আমেরিকান ঔপন্যাসিক।  উলফ চারটি দীর্ঘ উপন্যাসের পাশাপাশি অনেক ছোট গল্প, নাটকীয় কাজ এবং উপন্যাস লিখেছেন।  তিনি আত্মজীবনীমূলক লেখার সাথে অত্যন্ত মৌলিক, কাব্যিক, র্যাপসোডিক এবং ইম্প্রেশনিস্টিক গদ্যের মিশ্রণের জন্য পরিচিত।  ১৯২০ থেকে ১৯৪০ এর দশক পর্যন্ত তাঁর লেখা এবং প্রকাশিত বইগুলি আমেরিকান সংস্কৃতি এবং সেই সময়ের আরও কিছু বিষয়কে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত করে, উলফের সংবেদনশীল, পরিশীলিত এবং অতি-বিশ্লেষণমূলক দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে ফিল্টার করা হয়েছে।
উলফের মৃত্যুর পর, সমসাময়িক লেখক উইলিয়াম ফকনার বলেন যে উলফ হয়ত তাদের প্রজন্মের সবচেয়ে বড় প্রতিভা ছিলেন অন্য যেকোন লেখকের চেয়ে উচ্চ লক্ষ্য রাখার জন্য।  উলফের প্রভাব বিট জেনারেশনের লেখক জ্যাক কেরোয়াক এবং লেখক রে ব্র্যাডবেরি এবং ফিলিপ রথের লেখা পর্যন্ত বিস্তৃত।  তিনি আধুনিক আমেরিকান সাহিত্যে একজন গুরুত্বপূর্ণ লেখক হিসেবে রয়ে গেছেন, আত্মজীবনীমূলক কথাসাহিত্যের প্রথম মাস্টারদের একজন হিসেবে এবং উত্তর ক্যারোলিনার সবচেয়ে বিখ্যাত লেখক হিসেবে বিবেচিত।

 

১৯৪৫ – অ্যান্টন ওয়েবেরন, অস্ট্রীয় সুরকার ও পথপ্রদর্শক।

অ্যান্টন ফ্রেডরিখ উইলহেলম ফন ওয়েবর্ন (৩ ডিসেম্বর 1883 – ১৫ সেপ্টেম্বর ১৯৪৫), অ্যান্টন ওয়েবার নামে বেশি পরিচিত, ছিলেন একজন অস্ট্রিয়ান সুরকার এবং কন্ডাক্টর।  তার সঙ্গীত তার নিছক সংক্ষিপ্ত এবং অবিচলিত আলিঙ্গন এবং ক্রমবর্ধমান কঠোর পদ্ধতিতে উপন্যাসের অ্যাটোনাল এবং বারো-টোন প্রযুক্তির প্রয়োগের ক্ষেত্রে তার পরিবেশের মধ্যে সবচেয়ে আমূল ছিল, কিছুটা ফ্রাঙ্কো-ফ্লেমিশ স্কুলে তার গাইডো অ্যাডলারের অধীনে পড়াশোনার পরে।  তার পরামর্শদাতা আর্নল্ড শোয়েনবার্গ এবং তার সহকর্মী আলবান বার্গের সাথে, ওয়েবর্ন সেকেন্ড ভিয়েনিস স্কুলের বৃহত্তর বৃত্তের মধ্যে যারা ছিলেন তাদের মূলে ছিলেন।  তিনি তাদের মধ্যে প্রথম এবং সর্বাগ্রে এমন একটি শৈলীতে লিখেছিলেন যেটি শোয়েনবার্গ এর অ্যাফোরিজম এবং প্রকাশবাদের জন্য প্রশংসিত হয়েছিল।

 

 

১৯৮৯ – রবার্ট পেন ওয়ারেন, আমেরিকান কবি, লেখক ও সমালোচক।

রবার্ট পেন ওয়ারেন ছিলেন একজন মার্কিন কবি, সাহিত্য সমালোচক এবং উপন্যাসিক। তিনি নতুন সমালোচনার একজন অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। তিনি ফেলোশিপ অফ সাউদার্ন রাইটার্স এর একজন চার্টার্ড সদস্য ছিলেন। তিনি ১৯৩৫ সালে দ্য সাউদার্ন রিভিউ নামে একটি সাহিত্য জার্নাল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং এটির সহ – প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন সালেংথ ব্রুকস ।

 

১৮৫৯ – ইসামবারড কিংডম ব্রুনেল, ইংরেজ প্রকৌশলী ও গ্রেট পশ্চিম রেলওয়ে ডিজাইনার।

ইসামবার্ড কিংডম ব্রুনেল (৯ এপ্রিল ১৮০৬ – ১৫ সেপ্টেম্বর ১৮৫৯) একজন ইংরেজ প্রকৌশলী ছিলেন।  তিনি পোর্টসিয়া, পোর্টসমাউথে জন্মগ্রহণ করেন।  তিনি গ্রেট ওয়েস্টার্ন রেলওয়ে তৈরি করেছেন।  তিনি অনেক স্টিমশিপ এবং অনেক ব্রিজ ও টানেল তৈরি করেছিলেন।  তার ডিজাইন পাবলিক ট্রান্সপোর্ট এবং আধুনিক প্রকৌশলে বিপ্লব ঘটিয়েছে।
তার কর্মজীবনে, ব্রুনেল অনেক ইঞ্জিনিয়ারিং “প্রথম” অর্জন করেছিলেন।  তিনি একটি বড় নদীর তলদেশে প্রথম টানেল নির্মাণে সহায়তা করেছিলেন।  তিনি এসএস গ্রেট ব্রিটেনের ডিজাইন করেছিলেন, প্রথম প্রপেলার-চালিত সমুদ্রগামী লোহার জাহাজ, সেই সময়ে (১৮৪৩) সর্বকালের বৃহত্তম জাহাজ।  তিনি ক্লিফটন সাসপেনশন ব্রিজের প্রথম ডিজাইনার।  সেতুটির একটি জটিল ইতিহাস ছিল।  এটি অ্যাভন নদীর উপর একটি বড় উচ্চতায় একটি দীর্ঘ সেতু।  ব্রুনেল ব্রিজটি সম্পূর্ণ হওয়ার আগে এবং তার জাহাজ এসএস গ্রেট ইস্টার্নের প্রথম সমুদ্রযাত্রার আগে মারা যান।

 

 

।।তথ্য : সংগৃহীত ইন্টারনেট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

আজ আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস, জানুন দিনটি কেন পালিত হয় ও গুরুত্ব।

“Where you see wrong or inequality or injustice, speak out, because this is your country. This is your democracy. Make it. Protect it. Pass it on.”

——-Thurgood Marshall

 

 

আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবসটি বিশ্ব গণতন্ত্র দিবস নামেও পরিচিত প্রতি বছর ১৫ সেপ্টেম্বর পালন করা হয়।  এটি এমন একটি দিন যা গণতন্ত্রের সঠিক কার্যকারিতার জন্য সমস্ত সদস্যের অংশগ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরে।

আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস জাতিসংঘ কর্তৃক ২০০৭ সাল থেকে সদস্যভূক্ত দেশগুলোতে গনতন্ত্র সম্পর্কে আগ্রহ সৃষ্টি এবং গনতন্ত্র চর্চাকে উৎসাহিত করার জন্য প্রচলিত একটি বিশেষ দিন, যা প্রতি বছর ‘১৫ সেপ্টেম্বর’ তারিখে পালিত হয়।

জাতিসংঘের (ইউএন) মতে, আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস বিশ্বের গণতন্ত্রের অবস্থা পর্যালোচনা করার সুযোগ দেয়।
“গণতন্ত্র একটি লক্ষ্য হিসাবে একটি প্রক্রিয়া, এবং শুধুমাত্র আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, জাতীয় প্রশাসনিক সংস্থা, সুশীল সমাজ এবং ব্যক্তিদের পূর্ণ অংশগ্রহণ এবং সমর্থনের মাধ্যমেই গণতন্ত্রের আদর্শকে বাস্তবে পরিণত করা যেতে পারে যা সবাই উপভোগ করতে পারে,  সর্বত্র,” জাতিসংঘের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট পড়ে।

 

 

আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস: ইতিহাস

 

ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়ন (আইপিইউ) অনুসারে, আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবসটি ২০০৭ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ কর্তৃক গৃহীত একটি প্রস্তাবের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এতে আরও বলা হয়েছে যে ১৫ সেপ্টেম্বর ২০০৮ তারিখে ৪৬টি জাতীয় সংসদ দ্বারা প্রথম আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস পালন করা হয়েছিল।

 

আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস: তাৎপর্য

 

আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবসের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য হলো গণতন্ত্রকে শক্তিশালী ও সুসংহত করতে সরকারকে উৎসাহিত করা।  মানবাধিকার রক্ষা ও কার্যকর বাস্তবায়নের জন্য গণতন্ত্র অপরিহার্য।  এই দিনটি সংসদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা তুলে ধরতে এবং ন্যায়বিচার, শান্তি, উন্নয়ন এবং মানবাধিকার প্রদানে তাদের সক্ষমতা ও দায়িত্ব পালনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। গণতন্ত্রের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে, গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রচার করতে এবং বিশ্বব্যাপী গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের জন্য লড়াই করা লোকদের সংগ্রাম ও অর্জনকে স্বীকৃতি দিতে প্রতি বছর ১৫ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস পালিত হয়।

 

।। তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

আজ হিন্দি দিবস, জানুন কেন পালিত হয় দিনটি ও গুরুত্ব।

১৪ সেপ্টেম্বর ১৯৪৯ তারিখের স্মরণে ভারতে হিন্দি দিবস পালিত হয় যেখানে ভারতীয় সংবিধানের খসড়া তৈরির সময়-ভারতীয় প্রজাতন্ত্রে সরকারী মর্যাদা থাকা ভাষাগুলির উপর একটি সমঝোতা হয়েছিল।  খসড়া কমিটির সদস্য কে.এম. মুন্সি এবং এন. গোপালস্বামী আয়ঙ্গার পরে, সাধারণত মুন্সি-আয়ঙ্গার ফর্মুলা নামে অভিহিত সমঝোতা, দুই বিরোধী শিবিরের মধ্যে তিন বছরের বিতর্কের পর ভারতের সাংবিধানিক পরিষদ এর দ্বারা ভোট দেয়।  হিন্দি নায়করা চেয়েছিলেন হিন্দুস্তানি ভাষার আধুনিক স্ট্যান্ডার্ড হিন্দি রেজিস্টারকে ভারতের একমাত্র “জাতীয় ভাষা” হতে (ব্রিটিশ রাজের আগ পর্যন্ত গৃহীত উর্দু মান প্রতিস্থাপন);  দক্ষিণ ভারতের প্রতিনিধিরা সংবিধানে ইংরেজিকে স্থান দেওয়ার জন্য পছন্দ করেছিলেন।  মুন্সি-আয়ঙ্গার সূত্র (i) হিন্দিকে ভারতের ফেডারেল সরকারের “সরকারি ভাষা” হিসেবে ঘোষণা করেছে;  (ii) ইংরেজি ১৫ বছরের জন্য একটি সহযোগী অফিসিয়াল ভাষা হতে হবে যার মধ্যে হিন্দির আনুষ্ঠানিক অভিধান তৈরি করা হবে;  এবং (iii) হিন্দু-আরবি সংখ্যার আন্তর্জাতিক রূপ যাতে সরকারী সংখ্যা।  আপস প্রস্তাব ভারতের সংবিধানের ৩৪৩-৩৫১ অনুচ্ছেদে পরিণত হয়, যা ২৬ জানুয়ারী ১৯৫০ সালে কার্যকর হয়। ১৯৬৫ সালে, যখন ১৫ বছর পূর্ণ হয়, ভারত সরকার ঘোষণা করে যে ইংরেজি ভারতের “ডি ফ্যাক্টো আনুষ্ঠানিক ভাষা” হিসাবে অব্যাহত থাকবে।  ”

 

দিবসটির তাৎপর্য—

 

হিন্দি দিবস  প্ৰতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসের ১৪ তারিখে ভারতের হিন্দি ভাষাভাষী অঞ্চলে পালন করা হয়। সাধারণত এই দিবসটি ভারতের কেন্দ্ৰীয় সরকারের কাৰ্যালয়, ফাৰ্ম, বিদ্যালয় এবং অন্যান্য প্ৰতিষ্ঠানে উদ্‌যাপন করা হয়। হিন্দি ভাষাকে প্রচার এবং চর্চা করা এই দিবসের মূল উদ্দেশ্য। ভোজ-আয়োজন, বিভিন্ন অনুষ্ঠান, প্রতিযোগিতা এবং অন্যান্য কার্যাবলীর মধ্য দিয়ে এই দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরা হয়। হিন্দি ভাষাভাষী লোকদের কাছে তাদের শিখর সন্ধান এবং ঐক্যের বাণী প্রচারের মাধ্যমে এটি তাদের দেশপ্রেমের স্মারকও হয়ে উঠে। ২০০৭ (এবং ২০১০) সালের ন্যাশনাল এনসাইক্লোপেডিনের মতে হিন্দি বিশ্বের প্রায় ২৯৫ (এবং ৩১০) মিলিয়ন লোকের মাতৃভাষা এবং বিশ্বের সবথেকে বেশি ব্যবহৃত ভাষাসমূহের মধ্যে চতুৰ্থ। ১৯৪৯ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর ভারতের সংবিধান প্ৰস্তাবনা পরিষদে দেবনাগরী লিপিতে লিখা হিন্দিকে ভারতের সরকারি ভাষারূপে স্বীকৃতি দেয় বলে হিন্দি দিবস এই দিনে পালন করা হয়।  বাকী ভাষাসমূহ আঞ্চলিক সরকারি ভাষা হিসেবে ব্যবহার হয়।

 

বিভিন্ন অনুষ্ঠান—-

 

বিদ্যালয় এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের অনুষ্ঠান ছাড়াও, এই দিবসের কিছু উল্লেখযোগ্য অনুষ্ঠান হল:

হিন্দি দিবসে নতুন দিল্লীর বিজ্ঞান ভবনে ভারতের রাষ্ট্রপতি,  হিন্দির সাথে সম্পৰ্কিত বিভিন্ন ক্ষেত্রে পারদর্শিতার জন্য পুরস্কার প্রদান করেন।

বিভাগীয় মন্ত্ৰী, বিভাগ, সরকারি প্ৰতিষ্ঠান এবং রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংককে রাজভাষা পুরস্কার প্ৰদান করা হয়।

২৫ মার্চ ২০১৫ তারিখের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক তার আদেশে হিন্দি দিবসে বার্ষিক দুটি পুরস্কারের নাম পরিবর্তন করেছে।  ১৯৮৬ সালে প্রতিষ্ঠিত ‘ইন্দিরা গান্ধী রাজভাষা পুরস্কার’ ‘রাজভাষা কীর্তি পুরস্কার’ এবং ‘রাজীব গান্ধী রাষ্ট্রীয় জ্ঞান-বিজ্ঞান মৌলিক পুস্তক লিখন পুরস্কার’ পরিবর্তিত হয়ে ‘রাজভাষা গৌরব পুরস্কার’-এ পরিবর্তিত হয়েছে।

।।তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া।।

Share This
Categories
নারী কথা প্রবন্ধ রিভিউ

আজ কৌশিকী অমাবস্যা, জানুন কেন পালন করা হয় এই বিশেষ তিথি।

শাস্ত্র অনুযায়ী কৌশিকী অমাবস্যার গুরুত্ব অন্যান্য অমাবস্যার থেকে একটু আলাদা হয়। এই বিশেষ তিথিতে তারাপীঠ মন্দিরে পুজো করা হয় নিষ্ঠা ভরে। কৌশিকী অমাবস্যার অর্থ হল তারা নিশি। এই তিথি তন্ত্র সাধনার এক বিশেষ রাত। অমাবস্যার এই বিশেষ তিথিতে সাধক বামা ক্ষ্যাপা তারাপীঠের মহাশ্মশানের শিমূল গাছের তলায় মা তারার আরাধনা করে সিদ্ধিলাভ করেছিলেন। মনে করা হয়, বিশেষ এই তিথিতে তারাপীঠে তারা মায়ের পুজো করলে সকল মনের ইচ্ছে পূরণ হয়। এই কারনেই কৌশিকী অমাবস্যায় তারাপীঠে হাজার হাজার পূণ্যার্থী আসেন মায়ের আশীর্বাদ পাওয়ার জন্য। এদিন তারাপীঠের শ্মশান এক অন্য রূপ নেয়।
আবার আজকের এই দিনে দশ মহাবিদ্যার অন্যতম দেবী তারা আজ বামদেবের সন্মুখে আবির্ভূত হন।

 

বামদেব পঞ্চমুন্ডির আসনে বসে আজকের দিনেই সিদ্ধিলাভ করেন। পশ্চিমবঙ্গের বীরভুম জেলায় অবস্থিত তারাপীঠ এ আজ এই উপলক্ষ্যে বিশাল উৎসব  হয়, তারা দেবীকে বৌদ্ধ ধর্মের অন্তর্গত বজ্রযানে নীলসরস্বতীও বলা হয়। লোকে বিশ্বাস করে এই তিথিতে ভাত খেতে নেই।

 

কৌশিকী অমাবস্যা, অন্য সব অমাবস্যার থেকে একটু আলাদা, কারণ তন্ত্র মতে ও শাস্ত্র মতে ভাদ্র মাসের এই তিথিটি একটু বিশেষ। অনেক কঠিন ও গুপ্ত সাধনা এই দিনে করলে আশাতীত ফল মেলে। সাধক কুলকুণ্ডলিনী চক্রকে জয় করে। বৌদ্ধ ও হিন্দু তন্ত্রে এই দিনের এক বিশেষ মাহাত্ম্য আছে। তন্ত্র মতে এই রাতকে ‘তারা রাত্রি’ও বলা হয়৷ এক বিশেষ মুহূর্তে স্বর্গ ও নরক দুইয়ের দরজা মুহূর্তের জন্য খোলে ও সাধক নিজের ইচ্ছা মতো ধনাত্মক অথবা ঋণাত্মক শক্তি সাধনার মধ্যে আত্মস্থ করেন ও সিদ্ধি লাভ করেন৷
শ্রীশ্রীচণ্ডীতে বর্ণিত মহা সরস্বতী দেবীর কাহিনীতে বলা আছে, পুরাকালে একবার শুম্ভ ও নিশুম্ভ কঠিন সাধনা করে ব্রহ্মাকে তুষ্ট করলে চতুরানন তাঁদের বর দেন, কোনও পুরুষ তাঁদের বধ করতে পারবেন না৷ শুধু কোনও অ-যোনি সম্ভূত নারী তাঁদের বধ করতে পারবেন। অর্থাৎ এমন এক নারী, যিনি মাতৃগর্ভ থেকে জন্ম নেননি, তাঁর হাতেই এই দুই অসুর ভাই-এর মৃত্যু হবে। পৃথিবীতে এমন নারী কোথায়? আদ্যা শক্তি মহামায়াও মেনকা রানির গর্ভে জন্ম নিয়েছেন, তাই তিনিও ওঁদের নাশ করতে পারবেন না। তা হলে উপায়?
পূর্ব জন্মে পার্বতী যখন সতী রূপে দক্ষ যজ্ঞ স্থলে আত্মাহুতি দেন, তার কারণে এই জন্মে ওঁর গাত্র বর্ণ কালো মেঘের মতো। তাই ভোলানাথ তাঁকে কালিকা ডাকতেন। একদিন দানব ভাইদের দ্বারা পীড়িত ক্লান্ত দেবতারা যখন কৈলাশে আশ্রয় নিলেন, শিব সব দেবতাদের সামনেই পার্বতীকে বললেন, “কালিকা তুমি ওদের উদ্ধার করো।” সবার সামনে ‘কালী’ বলে ডাকায় পার্বতী অত্যন্ত ক্ষুব্ধ, অপমানিত ও ক্রোধিত মনে মানস সরোবরের ধারে কঠিন তপস্যা করলেন।তপস্যান্তে শীতল মানস সরোবরের জলে স্নান করে নিজের দেহের সব কালো পরিত্যাগ করলেন ও পূর্ণিমার চাঁদের মতো গাত্র বর্ণ ধারণ করলেন। ওই কালো কোশিকাগুলি থেকে এক অপূর্ব সুন্দর কৃষ্ণবর্ণ দেবীর সৃষ্টি হয়। ইনি দেবী কৌশিকী। আজ সেই তিথি, যে দিন এই দেবীর উৎপত্তি হয় এবং তিনি শুম্ভ ও নিশুম্ভকে বধ করেন। তাই এই অমাবস্যার নাম কৌশিকী অমাবস্যা। আবার আজকের এই দিনে দশ মহাবিদ্যার দ্বিতীয়া স্তরের অন্যতম দেবী তারা মর্ত ধামে আবির্ভূত হন। বীরভুম জেলায় অবস্থিত তারাপীঠে এই উপলক্ষে বিশাল উত্‍সব হয়।
বলা হয়, এই অমাবস্যা তিথিতে ক্ষণিকের জন্য খুলে যায় স্বর্গ এবং নরক এই দুইয়েরই দ্বার। আর আমাদের জন্য তার যে কোনও একটি নির্দিষ্ট হয় কর্মফলের উপরে ভিত্তি করে, বিশেষত এই অমাবস্যা তিথিতে আমরা কী করেছি, তার উপরে ভিত্তি করে। দেবী তারা অল্পতুষ্টা, কিন্তু মহাঋষি বশিষ্ঠকে রীতিমতো নিয়ম মেনে তাঁকে সাধনা করতে হয়েছিল তারাপীঠে, তবেই আবির্ভূতা হয়েছিলেন দেবী। তাই এই কৌশিকী অমাবস্যায় সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কী কী করা উচিত আর কী একেবারেই পরিহার করা উচিত, জেনে রাখা জরুরি।

শুচিতা

যে কোনও সাধনারই মূল কথা হল শুচিতা- শুধু নিজের নয়, একই সঙ্গে স্থানেরও। তাই এই দিন যেমন নিজেকে, তেমনই পরিষ্কার রাখতে হবে ঘরবাড়ি। সকালে উঠে ঘর ধুয়ে-মুছে স্নান করে নিতে পারলে ভাল, না হলে দিনের যে কোনও সময়েই তা করে নেওয়া যায়। এর পরেই শুরু হবে আরাধনা।

সিঁদুর, জবা

মহাতিথির পূজায় কিন্তু মহা আড়ম্বরের প্রয়োজন নেই। শুধুমাত্র সিঁদুর আর জবাফুল দেবীর পায়ে অর্পণ করলেই হল। চাইলে ওম তারে তুত্তারে তুরে স্বাহা বীজমন্ত্র জপ করা যায়।

আহারে সংযম

তন্ত্রের মূল ভিত্তি পঞ্চ ম-কার। সেই রীতি মেনে মায়ের ভোগে তারাপীঠে অবশ্যই দেওয়া হবে মৎস্যভোগ, নিবেদন করা হবে মদ। কিন্তু তন্ত্রে এর রয়েছে দার্শনিক গুরুত্ব। তাই দেবীকে দেওয়া হচ্ছে বলেই আমরা কিন্তু এদিন মাছ বা আমিষ, মদ কোনওটাই গ্রহণ করতে পারব না। উপবাসে থাকতে পারলে ভাল, না হলে নিরামিষ আহারে সংযম পালন করতে হবে।
কৌশিকী অমাবস্যায় ভুলেও আমিষ ভোজন করতে বারণ করা হয়। শাস্ত্র মতে, এই দিনে আমিষ ভোজন করলে শরীরে নেগেটিভ এনার্জি বেড়ে যায়। এ দিন আমিষ ভোজন করলে চর্মরোগ এবং পেট-পাকস্থলী সম্পর্কিত নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে, এমনটাই শাস্ত্রে বর্ণিত রয়েছে।

শারীরিক সংযম

পঞ্চ ম-কারের অন্যতম হল মৈথুন। কিন্তু গৃহস্থ যেহেতু তন্ত্রমতে আরাধনা করেন না, তাই এই তিথিতে শারীরিক সংযমে নিজেকে বাঁধতে হবে। মৈথুনে লিপ্ত হওয়া যাবে না। দৈবাৎ লিপ্ত হলে তা জীবনে বিড়ম্বনা ডেকে আনবে, গর্ভে সন্তান এলে তার জীবনও হয়ে উঠবে অশুভ।

দূরে যাত্রা নয়—

গর্ভবতী মহিলাদের এদিন বাড়ি থেকে বের হতে নিষেধ করা হয়। কারণ এই নেগেটিভ এনার্জির প্রভাব গর্ভস্থ সন্তানের উপর পড়তে পারে। গেলে সঙ্গে রাখতে হবে তুলসিপাতা।

দীপদান–

দীপাবলি অমাবস্যার মতো কৌশিকী অমাবস্যাতেও দীপদানের রীতি আছে। এক্ষেত্রে দুটি তিলের তেলের প্রদীপ সন্ধ্যায় রাখতে হয় বাড়ির দরজার দুই পাশে, তা অশুভ শক্তিকে গৃহে প্রবেশে বাধা দেয়।

গোপন আচার—

বলা হয়, একটি জলশূন্য নারকেল নিয়ে, তাতে একটি ফুটো করে, সেই ফুটোর মধ্যে দিয়ে নারকেলে চিনি ভরে, ফুটো উপরের দিকে রেখে নারকেলটা যদি বাড়ি থেকে কিছু দূরে পুঁতে দেওয়া যায়, তবে জীবন থেকে সব বাধা দূর হয়। অসুবিধা হল- এই আচার পালন করতে হবে গোপনে, কেউ দেখে ফেলে লাভ হবে না।

দুধদান—

দীপদানের মতোই কৌশিকী অমাবস্যায় যদি কোনও কুয়ো বা গর্তে এক চামচ দুধ নিবেদন করা যায়, তবে তা জীবনে মঙ্গল বয়ে আনে।

তন্ত্র শাস্ত্রের ব্যাখা অনুযায়ী, এই তিথিতে মা তারার পুজো দিয়ে দ্বারকা নদীতে স্নান করলে শত জন্মের পুন্যলাভ হয়। আর এই কারণেই তারাপীঠে এই তিথিতে আয়োজন করা হয় বিশেষ পুজোর।

 

এই কৌশিকী অমাবস্যার দিন তান্ত্রিকরা তন্ত্র সাধনার জন্য বেছে নেন। এই সাধনা চলে গোটা রাত জুড়ে। তবে অনেকেই বলেন কৌশিকী অমাবস্যা নাকি ভীষণ জাগ্রত। এই দিনেই নাকি কিছুক্ষণের জন্য খুলে যায় স্বর্গের দরজা। এই নিয়েও রয়েছে অনেক কাহিনি।তন্ত্রের মাধ্যমেই সিদ্ধিলাভের আসায়  সারা রাত ধরে শ্মশানে তন্ত্র সাধনাতে মগ্ন হন সাধকরা। সারা রাত ধরে শ্মশানে চলা সাধনা ফলদায়ী হয়।  অনেকে বলেন শ্মশানের মধ্যে একটি হল মণিকর্ণিকা ঘাট। বিভিন্ন কারণের জন্যই কৌশিকী অমাবস্যার দিনটি আলাদা বলে ধরা হয়। এবং তারাপীঠের এই শ্মশানকেই বলা হয় মহাশ্মশান।

।। তথ্য : সংগৃহীত ইন্টারনেট।।

Share This
Categories
রিভিউ

আজ ১৪ সেপ্টেম্বর, ইতিহাসের দিকে চোখ বুলিয়ে দেখে নেব ইতিহাসের এই দিনে বিশিষ্টজনদের জন্ম-মৃত্যু, দিনসহ ঘটে যাওয়া ঘটনা।

আজ ১৪ সেপ্টেম্বর। এক নজরে দেখে নিই ইতিহাসের এই দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য ঘটনা, বিশিষ্টজনদের জন্ম-মৃত্যু দিনসহ গুরুত্বপূর্ণ আরও কিছু বিষয়।

 

দিবস—–

 

(ক) হিন্দি দিবস। (ভারত)

 

হিন্দি দিবস প্ৰতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসের ১৪ তারিখে ভারতের হিন্দি ভাষাভাষী অঞ্চলে পালন করা হয়। সাধারণত এই দিবসটি ভারতের কেন্দ্ৰীয় সরকারের কাৰ্যালয়, ফাৰ্ম, বিদ্যালয় এবং অন্যান্য প্ৰতিষ্ঠানে উদ্‌যাপন করা হয়। হিন্দি ভাষাকে প্রচার এবং চর্চা করা এই দিবসের মূল উদ্দেশ্য।

 

আজ যাদের জন্মদিন—-

১৯০৯ – সুবোধ ঘোষ, ভারতীয় বাঙালি লেখক ও বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক।

সুবোধ ঘোষ একজন ভারতীয় বাঙালি লেখক ও বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক। বিহারের হাজারিবাগে ১৯০৯ সালে জন্মগ্রহণ করেন। আদি নিবাস অধুনা বাংলাদেশের ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের বহর গ্রামে। হাজারিবাগের সেন্ট কলম্বাস কলেজের ছাত্র ছিলেন। বিশিষ্ট দার্শনিক ও গবেষক মহেশ ঘোষের লাইব্রেরীতে পড়াশোনা করতেন।

 

১৯১৩ – জাকোব আর্বেঞ্জ, গুয়াতেমালার বিশিষ্ট বিপ্লবী ও ভূমিসংস্কার আন্দোলনের পুরোধা।

জুয়ান জ্যাকোবো আরবেনজ গুজমান (১৪ সেপ্টেম্বর ১৯১৩ – ২৭ জানুয়ারী ১৯৭১) ছিলেন একজন গুয়াতেমালার সামরিক কর্মকর্তা এবং রাজনীতিবিদ যিনি গুয়াতেমালার ২৫ তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।  তিনি ১৯৪৪ থেকে ১৯৫০ সাল পর্যন্ত জাতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ছিলেন, ১৯৫১ থেকে ১৯৫৪ সাল পর্যন্ত তিনি গুয়াতেমালার দ্বিতীয় গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে। তিনি দশ বছরের গুয়েতেমালান বিপ্লবের একজন প্রধান ব্যক্তিত্ব ছিলেন, যেটি প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের কয়েক বছরের কিছু প্রতিনিধিত্ব করেছিল।  গুয়াতেমালার ইতিহাসে।  কৃষি সংস্কারের যুগান্তকারী কর্মসূচী আর্বেনজ রাষ্ট্রপতি হিসাবে প্রণীত হয়েছিল তা ল্যাটিন আমেরিকা জুড়ে অত্যন্ত প্রভাবশালী ছিল।

 

১৯২০ – লরেন্স রবার্ট ক্লাইন, নোবেল পুরস্কার বিজয়ী আমেরিকান অর্থনীতিবিদ।

লরেন্স রবার্ট ক্লেইন (সেপ্টেম্বর ১৪, ১৯২০ – অক্টোবর ২০, ২০১৩) একজন আমেরিকান অর্থনীতিবিদ ছিলেন।  পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে অর্থনীতির প্রবণতা পূর্বাভাস দেওয়ার জন্য কম্পিউটার মডেল তৈরিতে তার কাজের জন্য, তিনি ১৯৮০ সালে অর্থনৈতিক বিজ্ঞানে নোবেল মেমোরিয়াল পুরস্কারে ভূষিত হন বিশেষভাবে “তাদের ইকোনোমেট্রিক অ্যাপ্লিকেশন তৈরির জন্য  অর্থনৈতিক ওঠানামা এবং অর্থনৈতিক নীতির বিশ্লেষণের জন্য।”  তার প্রচেষ্টার কারণে, এই ধরনের মডেল অর্থনীতিবিদদের মধ্যে ব্যাপক হয়ে উঠেছে।  হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির প্রফেসর মার্টিন ফেল্ডস্টেইন ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে বলেছেন যে ক্লেইন “প্রথম এমন পরিসংখ্যান মডেল তৈরি করেছিলেন যেটি কিনসিয়ান অর্থনীতিকে মূর্ত করে,” টুলগুলি এখনও ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক এবং অন্যান্য কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলি ব্যবহার করে৷

 

 

১৯২৮ – আলবের্তো কোর্দা, কিউবান আলোকচিত্র শিল্পী।

আলবের্তো কোর্দা (সেপ্টেম্বর ১৪, ১৯২৮ – মে ২৫, ২০০১) একজন কিউবান আলোকচিত্র শিল্পী। ১৯৬০ সালের মার্চ মাসে অনুষ্ঠিত এক শোকসভায় তিনি বিপ্লবী নেতা চে গেভারার একটি ছবি তোলেন যেটি পরবর্তীকালে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করে। অনেক সমালোচকের মতে “গেরিইয়েরো এরোইকো” নামে চে’র সেই প্রতিকৃতিটি হচ্ছে আলোকচিত্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বিখ্যাত ছবি এবং বিংশ শতাব্দীর একটি অসামান্য প্রতীক।

 

১৯৩৬ – ফরিদ মুরাদ, নোবেল পুরস্কার বিজয়ী আমেরিকান চিকিৎসক ও ফার্মাকোলজিস্ট।

ফরিদ মুরাদ (জন্ম: ১৪ সেপ্টেম্বর, ১৯৩৬) একজন আলবেনীয় চিকিৎসক এবং ফার্মাকোলজিস্ট। তিনি ১৯৯৮ সালে চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। মুরাদ ১৯৩৬ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর ইন্ডিয়ানায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি কেস ওয়েস্টার্ন রিজার্ভ ইউনিভার্সিটি থেকে ডক্টর অব মেডিসিন-পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি ১৯৭০ সালে ভার্জিনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে স্কুল অব মেডিসিনে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে যোগদান করেন। ১৯৭৫ সালে পূর্ণ অধ্যাপক পদে উন্নীত হন। ১৯৮১ সালে স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় এ অধ্যাপক হিসেবে যোগদান করেন।

 

 

১৯৪১ – রাম চাঁদ গোয়ালা, বাংলাদেশের প্রথম বাম-হাতি স্পিনার।

রাম চাঁদ গোয়ালা একজন বাংলাদেশী ক্রিকেটার ও প্রশিক্ষক। দেশের প্রথম বাঁহাতি স্পিনার হিসাবে পরিচিত রাম চাঁদ বাংলাদেশের পক্ষে সবচেয়ে বেশি বয়সে প্রতিনিধিত্ব করার রেকর্ডের অধিকারী।

 

১৯৪৭ – স্যাম নিইল, আইরিশ নিউজিল্যান্ড অভিনেতা ও পরিচালক।

স্যার নাইজেল জন ডার্মট “স্যাম” নিল কেএনজেডএম ওবিই (জন্ম ১৪ সেপ্টেম্বর ১৯৪৭) একজন নিউজিল্যান্ড অভিনেতা।  নিলের ৫৩ বছরের ক্যারিয়ারে নাটক এবং ব্লকবাস্টার উভয় ক্ষেত্রেই প্রধান ভূমিকা রয়েছে।  একজন “আন্তর্জাতিক নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি” হিসাবে বিবেচিত, তাকে তার প্রজন্মের অন্যতম বহুমুখী অভিনেতা হিসাবে বিবেচনা করা হয়।

 

১৯৫৬ – কোস্তাস কারামানলিসের, গ্রিক আইনজীবী, রাজনীতিবিদ ও ১৮১ তম প্রধানমন্ত্রী।

কনস্টানটিনোস এ. কারামানলিস ( জন্ম ১৪ সেপ্টেম্বর ১৯৫৬), সাধারণত কোস্টাস কারামানলিস নামে পরিচিত, একজন গ্রীক অবসরপ্রাপ্ত রাজনীতিবিদ যিনি গ্রীসের ১০ তম প্রধানমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন ২০০৪ থেকে ২০০৯। এছাড়াও তিনি কেন্দ্রীয়-ডান নিউ ডেমোক্রেসি পার্টির সভাপতি ছিলেন , যেটি তার চাচা কনস্টান্টিনোস কারামানলিস দ্বারা প্রতিষ্ঠিত, ১৯৯৭ থেকে ২০০৯ পর্যন্ত এবং ১৯৮৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত হেলেনিক পার্লামেন্টের সদস্য হিসাবে।

 

 

১৯৬৫ – দিমিত্রি মেদভেদেভ, রাশিয়ান আইনজীবী, রাজনীতিবিদ ও ৩য় রাষ্ট্রপতি।

দিমিত্রি আনাতোলিয়েভিচ মেদভেদেভ লেনিনগ্রাদে জন্মগ্রহণকারী রাশিয়ার বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ। ২০১২ সাল থেকে রাশিয়ার দশম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এরপূর্বে ২০০৮ থেকে ২০১২ সাল মেয়াদে রাশিয়ার তৃতীয় রাষ্ট্রপতি হিসেবে দেশ পরিচালনা করেন দিমিত্রি মেদভেদেভ।

 

১৯৮৫ – আয়া উয়েটো, জাপানি অভিনেত্রী ও গায়ক।

আয়া উয়েটো হচ্ছেন একজন জাপানি অভিনেত্রী, গায়িকা এবং টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব। ১৯৯৭ সালে, আয়া উয়েটো সপ্তম জাপান বিশোজো প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেন, যেখানে তিনি বিশেষ জুরি পুরস্কার জিতেছিলেন। এর পরপরই, আয়া উয়েটো প্রতিভা সংস্থা অস্কার প্রমোশনে যোগদান করে এবং গান, নাচ ও অভিনয়মূলক শিক্ষা গ্রহণ শুরু করেন।

 

১৯৮৮ – কার্স্টেন হাগলুন্ড, আমেরিকান মডেল, ২০০৮ মিস আমেরিকা।

কার্স্টেন ইওরা মুলার-ডাবারম্যান (নি হ্যাগ্লুন্ড ; জন্ম ১৪ সেপ্টেম্বর, ১৯৮৮) একজন পাবলিক স্পিকার, খাওয়ার ব্যাধি সচেতনতা কর্মী, ভাষ্যকার এবং কার্স্টেন হ্যাগলুন্ড ফাউন্ডেশনের সভাপতি। তিনি মিস আমেরিকা ২০০৮ হিসাবে কাজ করেছেন ।

 

 

১৮৬৪ – রবার্ট সীসিল, নোবেল পুরস্কার বিজয়ী ইংরেজি আইনজীবী ও রাজনীতিবিদ।

এডগার অ্যালগারনন রবার্ট সেসিল (সেপ্টেম্বর ১৪, ১৮৬৪-নভেম্বর ২৪, ১৯৫৮) ব্রিটিশ আইনজীবী, সংসদ সদস্য এবং মন্ত্রিপরিষদ মন্ত্রী, লীগ অফ নেশনস এর অন্যতম স্থপতি এবং এর বিশ্বস্ত ডিফেন্ডার, তিনি ছিলেন সেলিসবারির তৃতীয় মার্কেসের বিশিষ্ট পুত্র, যে  একজন ব্যক্তি যিনি তার কর্মজীবনে, দেশের সর্বোচ্চ পদগুলি দখল করেছেন: ডিসরাইলের অধীনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, তিনবার প্রধানমন্ত্রী (১৮৮৫, ১৮৮৬-১৮৯২ এবং ১৮৯৫-১৯০২)।

 

১৮৭১ – ইয়োসেফ ব্লক, জার্মান সমাজতন্ত্রবাদী সাংবাদিক।

ইয়োসেফ ব্লক (ইংরেজি: Joseph Bloch) (১৪ সেপ্টেম্বর, ১৮৭১ – ১৪ ডিসেম্বর, ১৯৩৬) ছিলেন একজন জার্মান সমাজতান্ত্রিক সাংবাদিক। তিনি দীর্ঘদিন “Sozialistischen Monatshefte” পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। তিনি জার্মানির সমাজ-গণতান্ত্রিক দলের সবচেয়ে প্রভাবশালী ডানপন্থী ব্যক্তি ছিলেন।

 

 

১৮৮৮ – অনুকূলচন্দ্র ঠাকুর, বাঙালি ধর্ম সংস্কারক।

অনুকূলচন্দ্র চক্রবর্তী যিনি ঠাকুর অনুকূলচন্দ্র নামেও পরিচিত ছিলেন একজন বাঙালি ধর্মগুরু। অনুকূলচন্দ্র সৎসঙ্গ নামক সংগঠনের প্রবর্তক। তিনি ব্রিটিশ ভারতের বঙ্গ প্রদেশের পাবনা জেলার হিমায়তপুরে জন্মগ্রহণ করেন, যা বর্তমানে বাংলাদেশের অন্তর্গত। ঝাড়খণ্ডের দেওঘরে মৃত্যুবরণ করেন।

 

১৭৬৯ – আলেকজান্ডার ফন হুমবোল্‌ড্‌ট্, জার্মানীর খ্যাতনামা সমাজ বিজ্ঞানী।

আলেকজান্ডার ফন হুমবোল্‌ড্‌ট্ একজন জার্মান অভিযাত্রী ও বিজ্ঞানী। তিনি উদ্ভিজ্জ ভূগোলের উপর প্রচুর গবেষণা করেন যার মাধ্যমে জীবভূগোলের গোড়া পত্তন ঘটে আর তার ফলশ্রুতিতে বর্তমানে আমরা মানবীয় ভূগোল নামে ভূগোলের একটি নব শাখার বর্ণনা পাই।

 

১৭৯১ – ফ্রান্ৎস বপ, জার্মান ভাষাবিজ্ঞানী।

ফ্রান্‌ৎস বপ (জার্মান: Franz Bopp) (১৪ই সেপ্টেম্বর, ১৭৯১—২৩শে অক্টোবর, ১৮৬৭) একজন জার্মান ভাষাবিজ্ঞানী। তিনি ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষাসমূহের তুলনামূলক গবেষণার একজন অগ্রপথিক ছিলেন। এ বিষয়ে তিনি বিপুল কাজ করেন। বপ সংস্কৃত ভাষা শিক্ষার জন্য ১৮১২ সালে প্যারিসে যান এবং সেখানে দীর্ঘ ৫ বছর তিনি ভাষাটি অধ্যয়ন করেন।

 

ইতিহাসের পাতায় আজকের দিনের ঘটনাবলী—-

২০০০ – মাইক্রোসফট উইন্ডোজ এমই ( ME) বাজারে ছাড়ে।

২০০৩ – ইউরোপীয় ইউনিয়নে এস্তোনিয়ার অন্তর্ভুক্তি অনুমোদিত হয়।

১৯১৭ – রাশিয়াকে রিপাবলিক ঘোষণা করা হয়।

১৯৪৯ – ড. অ্যাডেনর জার্মানির প্রথম চ্যান্সেলর নিযুক্ত হন।

১৯৫৯ – প্রথম মহাশূন্যযান সোভিয়েতের লুনিক-২ চাঁদে অবতরণ করে।

১৯৬০ – ‘অর্গানাইজেশন অব পেট্রোলিয়াম এক্সপোর্টিং কাউন্ট্রিস’ (ওপেক) প্রতিষ্ঠিত হয়।

১৯৭৯ – আফগানিস্তানের রাষ্ট্রপতি নূর মোহাম্মদ তারাকি সামরিক অভ্যুত্থানে নিহত হন।

১৯৮২ – লেবাননের রাষ্ট্রপতি বাসির গামায়েল নিহত হন।

 

১৯৮৪ – কলকতায় পাতাল ট্রেন চালু হয়।

১৯৮৪ সালে চালু হওয়া কলকাতা মেট্রো ভারতের প্রথম মেট্রো রেল পরিষেবা (দ্বিতীয় মেট্রো পরিষেবা দিল্লি মেট্রো চালু হয় ২০০২ সালে)। প্রাথমিকভাবে ঊনবিংশ শতাব্দীর বিশের দশকে এর পরিকল্পনা করা হলেও সত্তরের দশকে এর নির্মাণকাজ শুরু হয়৷ ১৯৮৪ খ্রিস্টাব্দে চালু হওয়া কলকাতা মেট্রোর প্রথম ধাপটি ছিলো ভবানীপুর (বর্তমান নেতাজি ভবন) থেকে এসপ্ল্যানেড অবধি দীর্ঘায়িত ছিল। এটি দিল্লি মেট্রো, হায়দ্রাবাদ মেট্রো, চেন্নাই মেট্রো এবং নাম্মা মেট্রোর পর বর্তমানে ভারতের কর্মক্ষম পঞ্চম দীর্ঘতম মেট্রো যোগাযোগ ব্যবস্থা।

 

১৯৮৯ – এফ ডব্লু ডি ক্লার্ক দক্ষিণ আফ্রিকার রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।

১৯৯৫ –  কলকাতায় পাতাল রেল চালু হয়।

১৮০৪ – আবহাওয়া গবেষণার কাজে প্রথম বেলুন ব্যবহার করা হয়।

১৮১২ – রাশিয়ার রাজধানী মস্কোয় পৃথিবীর ইতিহাসের অন্যতম একটি ভয়াবহ অগ্নীসংযোগের ঘটনা ঘটে।

১৮৬৭ – কার্ল মার্ক্স দাস কাপিটাল প্রকাশিত হয়।

১৩৮৯ – ওসমানিয় সৈন্যরা বাল্টিক অঞ্চলের সার্বিয়া অধিগ্রহণ করেন।

০৭৮৬ – আল হাদির মৃত্যুর পর তার ভাই হারুন অর রশিদ আব্বাসীয় খলিফা নিযুক্ত হন।

 

এই দিনে মৃত্যুবরণ করেন যারা—-

২০০৫ – ভ্লাদিমির ভল্কঅফ, ফরাসি লেখক।

২০১২ – ডন বিননি, নিউজিল্যান্ড চিত্রশিল্পী।

 

২০২০ – বাংলাদেশের বর্ষীয়ান চলচ্চিত্র অভিনেতা সাদেক বাচ্চু।

মাহবুব আহমেদ সাদেক একজন বাংলাদেশী চলচ্চিত্র অভিনেতা, নাটক রচয়িতা, নাট্য নির্দেশক ও ডাক বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছিলেন। তিনি সাদেক বাচ্চু মঞ্চনামে সর্বাধিক পরিচিত। বাংলা চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য পরিচিতি লাভ করলেও মঞ্চ, বেতার, টেলিভিশনে অভিনয় করেছেন।

 

২০২০ – মহিউদ্দিন বাহার, বাংলাদেশী টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব অভিনেতা ও সরকারি কর্মকর্তা।

মহিউদ্দিন বাহার (১৯৪৭-২০২০) একজন বাংলাদেশী টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব অভিনেতা ও সরকারি কর্মকর্তা ছিলেন। তিনি ২০০৫ সালে বাংলাদেশ সরকারের সিনিয়র সহকারী সচিব হিসেবে অবসর নেন। তিনি দীর্ঘ ২৬ বছর ধরে জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ইত্যাদিতে সমাজের নানা অসংগতি নিয়ে নির্মিত নাটিকায় অভিনয় করেছেন। নোয়াখালীর আঞ্চলিক ভাষায় তার স্বভাবসুলভ অভিনয় দর্শকদের নজর কাড়তো।

 

 

১৯০১ – উইলিয়াম ম্যাকিন্‌লি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ২৫তম রাষ্ট্রপতি। 

উইলিয়াম ম্যাকিন্‌লি (William McKinley) (জানুয়ারি ২৯, ১৮৪৩ – সেপ্টেম্বর ১৪, ১৯০১) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ২৫তম রাষ্ট্রপতি। ১৮৯৭ থেকে ১৯০১ সালে আততায়ীর গুলিতে নিহত হওয়ার আগ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন।

 

 

১৯১৬ – হোসে এচেগারাই, নোবেল পুরস্কার বিজয়ী স্প্যানিশ প্রকৌশলী, গণিতবিদ ও নাট্যকার।

হোসে এচেগারাই স্পেনের বিখ্যাত নাট্যকার, পুরপ্রকৌশলী, গণিতবিদ এবং রাজনীতিবিদ। তিনি ১৯০৪ সালে অক্সিটান ভাষার খ্যাতিমান ফরাসি কবি ফ্রেদেরিক মিস্ত্রালের সাথে যৌথভাবে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। তিনিই প্রথম স্পেনীয় নাগরিক যিনি নোবেল পুরস্কারের সম্মানে ভূষিত হয়েছেন।

 

 

১৯২৭ – ইসাডোরা ডানকান, খ্যাতনাম্নী মার্কিন নৃত্যশিল্পী।

অ্যাঞ্জেলা ইসাডোরা ডানকান ছিলেন একজন মার্কিন নৃত্যশিল্পী। তিনি ইউরোপ জুড়ে নৃত্য পরিবেশন করে বিপুল খ্যাতি অর্জন করেন। ক্যালিফোর্নিয়ায় জন্মগ্রহণ করা ও বেড়ে ওঠা ডানকান ২২ থেকে ৫০ বছর পর্যন্ত পশ্চিম ইউরোপ ও সোভিয়েত ইউনিয়নের বসবাস করতেন এবং নৃত্য পরিবেশন করতেন।

 

১৯৪০ – নীরদাকান্ত লাহিড়ী চৌধুরী, খ্যাতনামা সেতারবাদক।

নীরদাকান্তের জন্ম ১৯০০ খ্রিস্টাব্দের ১৭ জুলাই ব্রিটিশ ভারতের অধুনা বাংলাদেশের ময়মনসিংহের কালীপুরে। পিতা ছিলেন জমিদার প্রমদাকান্ত লাহিড়ী চৌধুরী। তার সঙ্গীত শিক্ষা শুরু হয় অগ্রজ জ্ঞানদাকান্তের কাছে। যিনি “বঙ্গীয় ভাতখণ্ডে” নামে সুপরিচিত ছিলেন। পরে ওস্তাদ এনায়েত খাঁর (১৮৯৪-১৯৩৮) শিষ্যত্ব গ্রহণ করে সেতার বাজনা শেখেন। তিনি ইমদাদখানি শৈলীর বিশিষ্ট ধারক ও বাহক হিসাবে ভারতীয় সঙ্গীত সমাজে খ্যাতি অর্জন করেন। ১৯৩৯ খ্রীষ্টাব্দে এলাহাবাদে অনুষ্ঠিত নিখিল ভারত সঙ্গীত সম্মেলনে তার সেতারবাদন উচ্চ প্রশংসিত হয়। তিনি আকাশবাণী কলকাতা বেতার কেন্দ্রের একজন নিয়মিত সঙ্গীতশিল্পী ছিলেন।
অতি অল্প বয়সে ১৯৪০ খ্রিস্টাব্দের ১৪ সেপ্টেম্বর নীরদাকান্তের প্রয়াণ ঘটে।

 

১৯৭০ – রুডলফ করেনাপ, জার্মান দার্শনিক।

রুডলফ কার্নাপ (১৮ মে ১৮৯১ – ১৪ সেপ্টেম্বর ১৯৭০) ছিলেন একজন জার্মান-ভাষী দার্শনিক যিনি ১৯৩৫ সালের আগে ইউরোপ এবং তার পরে যুক্তরাষ্ট্রে সক্রিয় ছিলেন।  তিনি ভিয়েনা সার্কেলের একজন প্রধান সদস্য এবং লজিক্যাল ইতিবাচকতাবাদের প্রবক্তা ছিলেন।  তাকে “বিংশ শতাব্দীর দার্শনিকদের মধ্যে একজন দৈত্য” হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

 

 

১৯৭১ – তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, বাঙালি কথাসাহিত্যিক। 

তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন বিংশ শতাব্দীর এক বিশিষ্ট ভারতীয় বাঙালি কথাসাহিত্যিক। তিনি ৬৫টি উপন্যাস, ৫৩টি ছোটোগল্প-সংকলন, ১২টি নাটক, ৪টি প্রবন্ধ-সংকলন, ৪টি স্মৃতিকথা, ২টি ভ্রমণকাহিনি, একটি কাব্যগ্রন্থ এবং একটি প্রহসন রচনা করেন।

 

১৯৭৪ – ওয়ারেন হুল, আমেরিকান অভিনেতা ও গায়ক।

 

১৯৭৫ -নরেন্দ্রনাথ মিত্র, বাংলা ভাষার অন্যতম ঔপন্যাসিক ও গল্পলেখক।

নরেন্দ্রনাথ মিত্র (30 জানুয়ারী 1916 – 14 সেপ্টেম্বর 1975) একজন ভারতীয় লেখক এবং কবি, যিনি বাংলা ভাষায় ছোট গল্পের জন্য সবচেয়ে বেশি পরিচিত। সত্যজিৎ রায় পরিচালিত মহানগরের মতো তার বেশ কিছু কাজ চলচ্চিত্রে রূপান্তরিত হয়েছে ।

 

১৯৭৯ – নূর মোহাম্মদ তারাকি, আফগান সাংবাদিক, রাজনীতিবিদ ও ৩য় প্রেসিডেন্ট।

নূর মুহাম্মদ তারাকি (১৫ জুলাই ১৯১৭ – ১৪ সেপ্টেম্বর ১৯৭৯) ছিলেন একজন আফগান রাজনীতিবিদ। কাবুল বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষ করার পর তিনি সাংবাদিক হিসেবে কাজ শুরু করেন। পরবর্তীতে পিপল’স ডেমোক্রেটিক পার্টি অব আফগানিস্তান (পিডিপিএ) গঠনের সময় তিনি অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন। দলের প্রথম কংগ্রেসে তিনি মহাসচিব নির্বাচিত হয়েছিলেন। ১৯৬৫ সালের আফগান সংসদীয় নির্বাচনে তিনি প্রার্থী হলেও জয়ী হতে পারেননি। ১৯৬৬ সালে তিনি দলের খবরের কাগজ খালকের প্রথম সংখ্যা প্রকাশ করেন। এর অল্পকাল পরে আফগান সরকার পত্রিকাটি বন্ধ করে দেয়। মীর আকবর খাইবারের হত্যাকান্ডের পর তারাকি, হাফিজউল্লাহ আমিন ও বাবরাক কারমাল সাওর বিপ্লবের সূত্রপাত করে আফগানিস্তানে কমিউনিস্ট শাসনের সূচনা করেন।

 

১৯৮২ – বাসির গামায়েল, লেবাননের রাষ্ট্রপতি।

Bachir Pierre Gemayel১০নভেম্বর ১৯৪৭ – ১৪ সেপ্টেম্বর ১৯৮২) ছিলেন একজন লেবানিজ মিলিশিয়া কমান্ডার যিনি লেবাননের গৃহযুদ্ধে কাতায়েব পার্টির সামরিক শাখা লেবাননের বাহিনীকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন এবং 1982 সালে লেবাননের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।

 

১৯৮৪ – জ্যানেট গেনর, মার্কিন অভিনেত্রী ও চিত্রশিল্পী।

জ্যানেট গেনর ছিলেন একজন মার্কিন অভিনেত্রী ও চিত্রশিল্পী। তিনি একাডেমি পুরস্কারের প্রথম আয়োজনে শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী বিভাগে পুরস্কার লাভ করেন। গেনর স্বল্পদৈর্ঘ্য ও নির্বাক চলচ্চিত্রে অতিরিক্ত শিল্পী হিসেবে তার কর্মজীবন শুরু করেন।

 

১৮৫১ – জেমস ফেনিমরে কুপার, আমেরিকান সৈন্য ও লেখক।

জেমস ফেনিমোর কুপার (সেপ্টেম্বর ১৫, ১৭৮৯ – ১৪ সেপ্টেম্বর, ১৮৫১) ছিলেন ১৯ শতকের প্রথমার্ধের একজন আমেরিকান লেখক, যার ১৭ থেকে ১৯ শতক পর্যন্ত ঔপনিবেশিক এবং আদিবাসী চরিত্রগুলিকে চিত্রিত করে ঐতিহাসিক রোম্যান্স তাকে খ্যাতি ও খ্যাতি এনে দেয়।  তিনি তার শৈশব এবং জীবনের শেষ পনেরো বছর কুপারস্টাউন, নিউ ইয়র্ক-এ কাটিয়েছেন, যেটি তার পিতা উইলিয়াম কুপার তার মালিকানাধীন সম্পত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন।  কুপার তার মৃত্যুর কিছুদিন আগে এপিস্কোপাল চার্চের সদস্য হয়েছিলেন এবং এতে উদারভাবে অবদান রেখেছিলেন।  তিনি ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ে তিন বছর পড়াশোনা করেছেন, যেখানে তিনি লিনোনিয়ান সোসাইটির সদস্য ছিলেন।

 

১৭১২ – জিওভান্নি ডোমেনিকো ক্যাসিনি, ইতালীয় ফরাসি গণিতবিদ, জ্যোতির্বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলী।

জিওভান্নি ডোমেনিকো ক্যাসিনি একজন ইতালীয় জ্যোতির্বিজ্ঞানী, প্রকৌশলী এবং জ্যোতিষী। তার অপর নাম হচ্ছে জিয়ানডোমেনিকো ক্যাসিনি। তিনি সানরেমো অঞ্চলের নিকটবর্তী পেরিনালদোতে জন্মগ্রহণ করেন। তখন ইতালীর এই অঞ্চল নিয়ে জেনোয়া প্রজাতন্ত্র গঠিত হয়েছিলো এবং এর কার্যকাল চলছিল।

 

১৬৩৮ – জন হার্ভার্ড, ইংরেজ বংশোদ্ভূত আমেরিকান মন্ত্রী ও সমাজসেবী।

জন হার্ভার্ড (১৬০৭-১৬৩৮) ছিলেন ঔপনিবেশিক নিউ ইংল্যান্ডের একজন ইংরেজ ভিন্নমত পোষণকারী মন্ত্রী যার মৃত্যুশয্যা ম্যাসাচুসেটস বে কলোনি দ্বারা দুই বছর আগে প্রতিষ্ঠিত “স্কুল বা কলেজ”-এর প্রতি কৃতজ্ঞতার সাথে গৃহীত হয়েছিল যে ফলস্বরূপ আদেশ দেওয়া হয়েছিল যে “কলেজ সম্মত হয়েছে”  আগে হার্ভার্ড কলেজ নামে কেমব্রিজ শালবীতে নির্মিত হয়েছিল।”  জন হার্ভার্ড ইংল্যান্ডের সাউথওয়ার্কে জন্মগ্রহণ করেন।  কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমানুয়েল কলেজের স্নাতক, তিনি ১৬৩৭ সালে নিউ ইংল্যান্ডে চলে আসেন। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় তাকে এর প্রতিষ্ঠাতাদের মধ্যে সবচেয়ে সম্মানিত বলে মনে করে- যাদের প্রচেষ্টা এবং অবদান তার প্রথম দিনগুলিতে “এর স্থায়ীত্ব নিশ্চিত করে” – এবং একটি  তার সম্মানে মূর্তি হার্ভার্ড ইয়ার্ডের একটি বিশিষ্ট বৈশিষ্ট্য।

 

 

১৩২১ – দান্তে আলিগিয়েরি, ইতালিয় কবি।

 

দুরান্তে দেইলি আলিগিয়েরি বা দান্তে ছিলেন এক বিখ্যাত ইতালীয় কবি। দান্তের জন্ম ইতালির ফ্লোরেন্সে। তার পরিবার তেমন একটা বিত্তশালী না হলেও অভিজাত হিসেবে পরিচিত ছিল। ব্রুনেত্তো লাটিনি এর কাছে তিনি ক্ল্যাসিক্যাল লিবারেল আর্টস এর জ্ঞান লাভ করেন। এর মধ্যে ল্যাটিন এবং গ্রিক ভাষা সংক্রান্ত জ্ঞানও ছিল।

 

।।তথ্য : সংগৃহীত ইন্টারনেট।।

Share This