Categories
প্রবন্ধ

ক্রিকেটের কিংবদন্তী, ক্রিকেটের বরপুত্র, শেন ওয়ার্ন এক বর্ণময় চরিত্রের নাম।

ক্রিকেট খেলা কেনা ভালোবাসে। আর যারা ক্রিকেট ভালোবাসেন তাদের কাছে শেন ওয়ার্ন এক অতি পরিচিত নাম। যেমন তার ক্রিকেট জীবন তেমনই বর্ণময় তার ব্যক্তিগত জীবন।

শেন কিথ ওয়ার্ন (১৩ সেপ্টেম্বর ১৯৬৯ – ৪ মার্চ ২০২২) ছিলেন একজন অস্ট্রেলিয়ান আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার, যার ক্যারিয়ার ১৯৯২ থেকে ২০০৭ পর্যন্ত চলেছিল। ওয়ার্ন ভিক্টোরিয়া, হ্যাম্পশায়ার ও হ্যাম্পশায়ারের হয়ে ডানহাতি লেগ স্পিন বোলার এবং ডানহাতি ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলেছিলেন।  খেলাধুলার ইতিহাসের অন্যতম সেরা বোলার হিসেবে বিবেচিত, তিনি ১৪৫ টেস্টে উপস্থিত ছিলেন, ৭০৮ উইকেট নিয়েছিলেন এবং টেস্ট ক্রিকেটে যে কোনো বোলারের সবচেয়ে বেশি উইকেট নেওয়ার রেকর্ড গড়েছিলেন, এই রেকর্ডটি ২০০৭ সাল পর্যন্ত তার ছিল। ওয়ার্ন ছিলেন  ১৯৯৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপ জয়ী অস্ট্রেলিয়ান দলের একজন সদস্য।
ওয়ার্ন ছিলেন একজন দরকারী নিম্ন-অর্ডার ব্যাটসম্যান যিনি ৩০০০-এর বেশি টেস্ট রান করেছিলেন, যার সর্বোচ্চ স্কোর ছিল ৯৯। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে অস্ট্রেলিয়ার ২০০৬-০৭ অ্যাশেজ সিরিজ জয়ের শেষে তিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেন।  ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) প্রথম চারটি মৌসুমে, ওয়ার্ন রাজস্থান রয়্যালস-এর একজন খেলোয়াড়-প্রশিক্ষক ছিলেন এবং উদ্বোধনী মৌসুমে দলকে জয়ের জন্য অধিনায়কত্ব করেছিলেন।  ওয়ার্ন তার কর্মজীবনে মাঠের বাইরে কেলেঙ্কারিতে জড়িত ছিলেন;  তার নিন্দার মধ্যে একটি নিষিদ্ধ পদার্থের জন্য ইতিবাচক পরীক্ষার জন্য ক্রিকেট থেকে নিষেধাজ্ঞা এবং যৌন অবজ্ঞার অভিযোগ এবং খেলাটিকে অসম্মানে আনার অন্তর্ভুক্ত ছিল।
ওয়ার্ন তার লেগ স্পিনে দক্ষতার সাথে ক্রিকেট চিন্তায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছিলেন, যাকে তখন একটি মৃতপ্রায় শিল্প হিসেবে গণ্য করা হয়।  অবসর গ্রহণের পর, তিনি নিয়মিত ক্রিকেট ধারাভাষ্যকার হিসেবে কাজ করেন এবং দাতব্য প্রতিষ্ঠানের জন্য এবং বাণিজ্যিক পণ্য অনুমোদন করেন।  তার দক্ষতার স্বীকৃতিস্বরূপ, মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ড (MCG) এর বাইরে ওয়ার্ন বোলিংয়ের একটি মূর্তি স্থাপন করা হয়েছিল, যেখানে তাকে একটি রাষ্ট্রীয় স্মারক পরিষেবা দিয়ে সম্মানিত করা হয়েছিল, সেইসাথে তার সম্মানে একটি গ্র্যান্ডস্ট্যান্ড নামকরণ করা হয়েছিল।  ওয়ার্নকে ক্রিকেটে তার সেবার জন্য মরণোত্তর অফিসার অফ দ্য অর্ডার অফ অস্ট্রেলিয়া (AO) হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছিল।

 

জীবনের প্রথমার্ধ—

 

ওয়ার্ন ১৩ সেপ্টেম্বর ১৯৬৯ তারিখে মেলবোর্নের একটি শহরতলী ভিক্টোরিয়ার আপার ফার্নট্রি গালিতে জন্মগ্রহণ করেন, তিনি ব্রিগেট এবং কিথ ওয়ার্নের পুত্র।  তার মা ছিলেন জার্মান।  মেন্টোন গ্রামারে যোগ দেওয়ার জন্য স্পোর্টস স্কলারশিপের প্রস্তাব পাওয়ার আগে তিনি হ্যাম্পটন হাই স্কুলে ৭-৯ গ্রেড থেকে পড়াশোনা করেছিলেন, যেখানে তিনি তার শেষ তিন বছর স্কুলে কাটিয়েছিলেন।

 

ঘরোয়া পেশা—

 

মেলবোর্নের জংশন ওভালে ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ভিক্টোরিয়ার হয়ে ০/৬১ এবং ১/৪১ নিয়ে ১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৯১-এ ওয়ার্ন তার প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেক করেন।
ওয়ার্ন ২০০০ মৌসুমে ইংল্যান্ডের হ্যাম্পশায়ার কাউন্টি ক্রিকেট ক্লাবের হয়ে খেলার জন্য $৪০০,০০০ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।  তিনি ২০০৪ থেকে ২০০৭ সালের মৌসুমে হ্যাম্পশায়ারে অধিনায়ক হিসেবে ফিরে আসেন। হ্যাম্পশায়ারের হয়ে তিনি তার মাত্র দুটি প্রথম-শ্রেণীর সেঞ্চুরি করেন এবং ২৫.৫৮ গড়ে ২৭৬ উইকেট নেন।

 

টেস্ট ক্যারিয়ার—-

 

ভারতের বিপক্ষে টেস্ট ম্যাচ দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তার অভিষেক হয় ১৯৯২ সালের ২রা জানুয়ারি। ১৪৫ টি টেস্ট ম্যাচের ২৭৩ টি ইনিংসে তিনি ৭০৮টি উইকেট নিয়েছেন। এছাড়াও, লোয়ার অর্ডারে ১৯৯ ইনিংসে ব্যাট করে তুলেছেন ১২ টি হাফ সেঞ্চুরি। তার ইনিংস সেরা বোলিং ফিগার ছিলো ৮/৭১। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তিনি টেস্ট ক্যারিয়ারে সর্বোচ্চ ৯৯ রান করেন। ২০০৭ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তিনি শেষ টেস্ট ম্যাচ খেলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেন। ৩ ডিসেম্বর, ২০০৭ সালে ‪‎মুরালিধরন‬ তাকে টপকাবার আগ পর্যন্ত তিনিই ছিলেন টেস্ট ইতিহাসের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি।

 

ওয়ানডে ক্যারিয়ার—

 

ওয়ানডেতে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ২৯৩ টি উইকেট নেন তিনি। তার অসাধারণ পারফরমেন্সে অস্ট্রেলিয়া ১৯৯৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপ জিতে, যেখানে তিনি সেমিফাইনাল ও ফাইনালের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ বিশ্বকাপের রানার্সআপ দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি।

 

টি২০ ক্যারিয়ার—–

 

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের পরে ওয়ার্ন আইপিএল ও বিগ ব্যাশে টি ২০ লীগ খেলতে থাকেন, তার নেতৃত্বেই রাজস্থান রয়েলস প্রথম আইপিএল চ্যাম্পিয়ন হয়, যেখানে তার অধিনায়কত্ব প্রশংসিত হয়েছিল। বিগ ব্যাশে তিনি মেলবোর্ন স্টার্সের অধিনায়ক ছিলেন। ২০১৩ সালে তিনি বিগ ব্যাশ খেলে সব ধরনের ক্রিকেট থেকে অবসর নেন।

 

ব্যক্তিগত জীবন—

 

ওয়ার্নের সম্পূর্ণ হেটেরোক্রোমিয়া ছিল, যার ফলস্বরূপ তার একটি চোখ নীল এবং অন্যটি সবুজ। ওয়ার্নের প্রাক্তন স্ত্রী সিমোন ক্যালাহানের সাথে তিনটি সন্তান ছিল।  দম্পতি ১৯৯৫ থেকে ২০০৫ পর্যন্ত বিবাহিত ছিলেন। এর পরেও তিনি বহু সম্পর্কে জড়িয়ে বিতর্কে ছিলেন।

 

বিতর্ক—-

 

২০০৩ সালের বিশ্বকাপের আগে তার ক্রিকেট খেলার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি হয়। বিশ্বকাপের আগে তার ডোপ টেস্টে ফলাফল পজিটিভ আসে, ২০০৪ সালে তিনি ক্রিকেটে ফিরেন, অস্ট্রেলিয়ার হয়ে আর ওয়ানডে না খেললেও টেস্ট খেলে যান।

 

সম্মাননা ও স্বীকৃতি—

 

২০০০ সালে শতাব্দীর সেরা অস্ট্রেলীয় ক্রিকেট বোর্ড দলে তাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।  ২০০৭ সালে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া ও শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ড ওয়ার্ন ও মুত্তিয়া মুরালিধরনের সম্মানে অস্ট্রেলিয়া-শ্রীলঙ্কা টেস্ট ক্রিকেট সিরিজের নাম ওয়ার্ন-মুরালিধরন ট্রফি রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।

 

মৃত্যু—

 

হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ২০২২-এর ৪ মার্চ থাইল্যান্ডে মৃত্যুবরণ করেন তিনি। একই দিনে মারা যান আরেক অস্ট্রে্লীয় ক্রিকেট তারকা রড মার্শ, যাকে ওয়ার্ন তার নিজের মৃত্যুর কয়েক ঘন্টা আগে একটি টুইট বার্তায় শ্রদ্ধা জানিয়েছিলেন। মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৫২ বছর।

 

।। তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ

৬৩ দিন অনশনের পর মৃত্যু, ভারত মাতার বীর সন্তান ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের শহীদ বিপ্লবী, যতীন্দ্র নাথ দাস।

ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন ছিল কিছু মানুষের অব্যর্থ পরিশ্রম যার ফলেই ব্রিটিশদের থেকে ভারত রাজনৈতিক দিক থেকে মুক্তি পেয়েছে। ভারত উপমহাদেশের বিংশ শতাব্দীতে ব্রিটিশ সম্রাজ্যবাদ বিরোধী যে সশস্ত্র বিপ্লববাদী লড়াই-সংগ্রাম সংগঠিত হয় এবং যার ধারাবাহিকতায় ভারত স্বাধীন হয়, তার মূলে যে সকল বিপ্লবীর নাম সর্বজন স্বীকৃত তাঁদের মধ্যে যতীন্দ্র নাথ দাস প্রথমসারির একজন অন্যতম বিপ্লবী ছিলেন। যতীন্দ্র নাথ দাস ভারতীয় উপমহাদেশের ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনে এক উল্লেখযোগ্য নাম, যিনি দেশমতৃকার শৃঙ্খল মুক্তির জন্য নিজেকে সঁপে দিয়েছিলেন সম্পূর্ণ রূপে।

 

সূচনা—

 

যতীন্দ্র নাথ দাস, যতীন দাস নামেই বেশি পরিচিত, ছিলেন একজন ভারতীয় স্বাধীনতা কর্মী এবং বিপ্লবী যিনি ব্রিটিশ রাজ থেকে ভারতকে স্বাধীন করতে কাজ করেছিলেন এবং হিন্দুস্তান সোশ্যালিস্ট রিপাবলিকান অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য ছিলেন। জেলবন্দীদের অধিকারের দাবিতে ওই বছরই ১৩ই জুলাই অনশন শুরু করেন তিনি। ৬৩ দিন অনশনের পর ১৩ই সেপ্টেম্বর মাত্র ২৪ বছর বয়সে লাহোর কেন্দ্রীয় কারাগারে মারা যান।।
স্বাধীনতার পর তার সম্মানে কলকাতা মেট্রোর হাজরা অঞ্চলের মেট্রো স্টেশনটির নামকরণ করা হয় যতীন দাস পার্ক মেট্রো স্টেশন।

জন্ম শৈশব ও শিক্ষা—-

 

যতীন্দ্রনাথ দাস ১৯০৪ সালে কলকাতায় মানিকগঞ্জ, ঢাকা (বর্তমানে বাংলাদেশে) একটি দাস পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম বঙ্কিমবিহারী দাস এবং মাতার নাম সুহাসিনী দেবী। তিনি ম্যাট্রিকুলেশন ও ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হন।  ১৯২০ সালে ভবানীপুর মিত্র ইন্সটিটিউশন থেকে ম্যাট্রিক পাস করে কংগ্রেসের সদস্য হয়ে অসহযোগ আন্দোলনে যোগ দেন। ১৯২৮-২৯ সনে বঙ্গবাসী কলেজের ছাত্র ছিলেন।

 

বিপ্লবী জীবন—–

 

তিনি বাংলার একটি বিপ্লবী গোষ্ঠী অনুশীলন সমিতিতে যোগদান করেন এবং ১৭ বছর বয়সে ১৯২১ সালে মহাত্মা গান্ধীর অসহযোগ আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন।  কলকাতার বঙ্গবাসী কলেজে, দাসকে তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য গ্রেফতার করা হয় এবং ময়মনসিংহের কারাগারে বন্দী করা হয়।  সেখানে বন্দি থাকাকালীন, তিনি রাজনৈতিক বন্দীদের প্রতি অশোভন আচরণের প্রতিবাদে অনশন করেন।  বিশ দিন অনশন করার পর জেল সুপার ক্ষমা চেয়ে অনশন ছেড়ে দেন।  শচীন্দ্র নাথ সান্যাল তাকে বোমা বানাতে শিখিয়েছিলেন।
১৪ জুন ১৯২৯ তারিখে, তিনি আবার বিপ্লবী কার্যকলাপের জন্য গ্রেফতার হন এবং সম্পূরক লাহোর ষড়যন্ত্র মামলার বিচারের জন্য লাহোর কারাগারে বন্দী হন। পরবর্তী সময়ে এরা জেলের ভেতর রাজনৈতিক বন্দিদের মর্যাদার দাবীতে এবং মানবিক সুযোগ সুবিধার আন্দোলনে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছিল। তারা ১৩ জুলাই থেকে ভগৎসিং ও বটুকেশ্বর দত্তের সমর্থনে অনশন সংগ্রাম আরম্ভ করে। যতীন দাস ছাড়া আর কারো অনশন আন্দোলনের অভিজ্ঞতা ছিল না। ভাবাবেগে চালিত হয়ে অনশন সংগ্রামে যোগ দিতে নিষেধ করেছিল অন্য সাথীদের। সে বলল, রিভলবার পিস্তল নিয়ে লড়াই করাই চেয়ে অনেক বেশি কঠোর এক অনশন সংগ্রামে আমরা নামছি। অনশন সংগ্রামীকে তিল তিল করে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যেতে হয়।

 

লাহোর ষড়যন্ত্র মামলা ও অনশন—

 

১৯২৩ সনে বিপ্লবী শচীন্দ্রনাথ সান্যাল কলকাতার ভবানিপুরে ঘাঁটি করলে তিনি এই দলে যোগ দেন। পরে দক্ষিণেশ্বরের বিপ্লবী দলের সংগেও তার যোগাযোগ হয়। ১৯২৪ সালে দক্ষিণ কলকাতায় “তরুণ সমিতি” প্রতিষ্ঠা করেন এবং এই সময় গ্রেপ্তার হয়ে ঢাকা জেলে প্রেরিত হন। জেল কর্তৃপক্ষের আচরণের প্রতিবাদে ২৩ দিন অনশন করেন। ১৯২৯ সালের ১৪ জুন লাহোর ষড়যন্ত্র মামলার অন্যতম আসামি হিসেবে লাহোর সেন্ট্রাল জেলে প্রেরিত হন। এখানে রাজবন্দিদের উপর জেল কর্তৃপক্ষের দুর্ব্যবহারের জন্য অনশন শুরু করেন। এই সময় তাকে বহুবার জোর করে খাওয়াবার চেষ্টা করা হয়।দাসের অনশন ১৩ জুলাই ১৯২৯ সালে শুরু হয় এবং ৬৩ দিন স্থায়ী হয়।  জেল কর্তৃপক্ষ তাকে এবং অন্যান্য স্বাধীনতা কর্মীদের জোর করে খাওয়ানোর ব্যবস্থা নেয়।  অবশেষে, জেল কর্তৃপক্ষ তাকে নিঃশর্ত মুক্তির সুপারিশ করে, কিন্তু সরকার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে এবং তাকে জামিনে মুক্তি দেওয়ার প্রস্তাব দেয়। ৬৩ দিন অনশনের পর তিনি ১৩ সেপ্টেম্বর ১৯২৯ তারিখে মারা যান। দুর্গাবতী দেবী অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার নেতৃত্ব দেন, যা ট্রেনে লাহোর থেকে কলকাতা পর্যন্ত গিয়েছিল।  দাসকে শ্রদ্ধা জানাতে হাজার হাজার মানুষ রেলস্টেশনে ভিড় করেন।  কলকাতায় দুই মাইল দীর্ঘ মিছিল কফিনটি শ্মশানে নিয়ে যায়।  সুভাষ চন্দ্র বসু, যিনি হাওড়া রেলস্টেশনে দাসের কফিন গ্রহণ করেছিলেন এবং শ্মশানে শবযাত্রার নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।  কারাগারে দাসের অনশন ছিল অবৈধ আটকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। অনশন চলাকালীন শান্তিনিকেতনে তপতী নাটকের মহড়া চলছিল, এই ঘটনায় মর্মাহত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নাটকের মহড়া বন্ধ রাখেন এবং সেই রাতেই রচনা করেন ‘সর্ব খর্ব তারে দহে তব ক্রোধ দাহ’ গানটি , যেটি পরে ‘তপতী’ নাটকে অন্তর্ভুক্ত হয়। এইভাবে মৃত্যুবরণ করার ফলে রাজবন্দিদের উপর অত্যাচার প্রশমিত হয়েছিলো। এই বীর শহিদের মৃতদেহ কলকাতায় আনা হলে দুই লক্ষ লোকের এক বিরাট মিছিল নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর নেতৃত্বে শোকযাত্রায় কেওড়াতলা শ্মশানঘাট পর্যন্ত অনুগমন করে।

 

।।তথ্য : সংগৃহীত ইন্টারনেট।।

Share This
Categories
রিভিউ

আজ ১৩ সেপ্টেম্বর, ইতিহাসের দিকে চোখ বুলিয়ে দেখে নেব ইতিহাসের এই দিনে বিশিষ্টজনদের জন্ম-মৃত্যু, দিনসহ ঘটে যাওয়া ঘটনা।

আজ ১৩ সেপ্টেম্বর। এক নজরে দেখে নিই ইতিহাসের এই দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য ঘটনা, বিশিষ্টজনদের জন্ম-মৃত্যু দিনসহ গুরুত্বপূর্ণ আরও কিছু বিষয়।

 

আজ যাদের জন্মদিন—-

 

১৯০৪ – সৈয়দ মুজতবা আলী, বাংলাদেশী বাঙালি সাহিত্যিক।

 

সৈয়দ মুজতবা আলী (১৩ সেপ্টেম্বর ১৯০৪ – ১১ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৪) একজন প্রখ্যাত সাহিত্যিক। তিনি আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম ঔপন্যাসিক, ছোটগল্পকার, অনুবাদক ও রম্যরচয়িতা। তিনি তার ভ্রমণকাহিনির জন্য বিশেষভাবে জনপ্রিয়। বহুভাষাবিদ সৈয়দ মুজতবা আলীর রচনা একই সঙ্গে পাণ্ডিত্য এবং রম্যবোধে পরিপুষ্ট।[

 

 

১৯১৬ – রুয়াল দাল, ওয়েল্‌সীয় সাহিত্যিক।

রুয়াল দাল (নরওয়েজীয়: Roald Dahl) (১৩ সেপ্টেম্বর ১৯১৬ – ২৩ নভেম্বর, ১৯৯০) একজন ওয়েল্‌সীয় ঔপন্যাসিক এবং ছোটগল্প লেখক; তিনি বড়-ছোট সবার জন্যই লিখেছেন। তার বই বিশ্বব্যাপী ২৫ কোটিরও বেশি কপি বিক্রি হয়েছে।তার সব থেকে বিখ্যাত বইয়ের মধ্যে চার্লি অ্যান্ড দ্য চকলেট ফ্যাক্টোরি, জেমস অ্যান্ড দ্য জায়েন্ট পীচ (James and the Giant Peach), মাটিল্ডা (Matilda), দ্য উইচেস (The Witches), দ্য বি.এফ.জি (The BFG) এবং কিস্‌ কিস্‌ (Kiss Kiss) রয়েছে। ইংরেজিতে অনেক সময় তার নাম রোল্ড বা রোয়াল্ড ডাল হিসেবে উচ্চারণ করা হয়। তার অনেক বইয়ে কুয়েন্টিন ব্লেক ছবি এঁকেছেন।

 

 

১৯৬৯ – শেন ওয়ার্ন, অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটার, এবং হ্যাম্পশায়ারের অধিনায়ক।

 

শেন কেইথ ওয়ার্ন (১৩ সেপ্টেম্বর ১৯৬৯ – ৪ মার্চ ২০২২) ছিলেন ভিক্টোরিয়ার ফার্নট্রি গুল্লি এলাকায় জন্মগ্রহণকারী অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটার, যিনি একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচে অস্ট্রেলিয়া জাতীয় দলের অধিনায়কত্ব করেছিলেন। তাকে ক্রিকেট ইতিহাসের সর্বকালের অন্যতম সেরা বোলার বিবেচনা করা হয়ে থাকে। ওয়ার্ন ১৯৯৪ সালে উইজডেন ক্রিকেটার্স অ্যালম্যানাক-এ বর্ষসেরা উইজডেন ক্রিকেটার নির্বাচিত হয়েছিলেন।

 

১৯৭৩ – ফাবিও কান্নাভারো, ইতালীয় ফুটবলার।

ফ্যাবিও ক্যানাভারো (জন্ম ১৩ সেপ্টেম্বর ১৯৭৩) একজন ইতালীয় পেশাদার ফুটবল কোচ এবং প্রাক্তন খেলোয়াড়।  তাকে সর্বকালের সেরা ডিফেন্ডারদের একজন হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

 

১৯৮৯ – টমাস মুলার, জার্মান ফুটবল খেলোয়াড়।

থমাস মুলার হলেন জার্মানির জাতীয় ফুটবল দলের একজন খেলোয়াড়। তিনি একজন স্ট্রাইকার। ফিফার জরিপে ২০১০ এর আসরে সবচেয়ে উদীয়মান তরুণ খেলোয়াড় হলো জার্মানির মিডফিল্ডার থমাস মুলার। একাটি জরিপের মাধ্যমে এ তরুণ খেলোয়াড়কে নির্বাচন করে ফিফা। ২০০৮ সালে ইউরো সেরা মুলার এ আসরে চারটি গোল করে ফেবারিটের তালিকায় চলে আসেন।

 

১৮৮৬ – রবার্ট রবিনসন, নোবেলজয়ী ইংরেজ রসায়নবিদ।

রবার্ট রবিনসন (জন্ম: ১৩ সেপ্টেম্বর, ১৮৮৬ – মৃত্যু: ৮ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৫) একজন ব্রিটিশ জৈব রসায়নবিদ। তিনি ১৯৪৭ সালে রসায়নে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। রবিনসন ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯০৬ সালে বিএসসি এবং ১৯১০ সালে ডিএসসি ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি ১৯১২ সালে সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশুদ্ধ ও ফলিত জৈব রসায়নের প্রথম পূর্ণ অধ্যাপক নিযুক্ত হন। তিনি ১৯১৫ সালে ব্রিতেনে ফিরে লিভারপুল বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেন। ১৯২১ সালে তিনি সেন্ট অ্যান্ড্রুজ বিশ্ববিদ্যালয়ে রসায়নের অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন। ১৯২২ সালে তিনি ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ে জৈব রসায়নের চেয়ারম্যান নিযুক্ত হন এবং ১৯২৮ সালে লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ে জৈব রসায়নের চেয়ারম্যান নিযুক্ত হন। তিনি ১৯৩০ সালে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে রসায়নের পূর্ণ অধ্যাপক নিযুক্ত হন। ১৯৪৫ থেকে ১৯৫০ সাল পর্যন্ত রয়েল সোসাইটির প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করেন।

 

১৮৮৭ – লেওপল্ড রুজিচকা, রসায়নে নোবেলজয়ী সুইস বিজ্ঞানী।

লেওপল্ড রুজিচকা (১৩ সেপ্টেম্বর ১৮৮৭-২৬ সেপ্টেম্বর ১৯৭৬) একজন ক্রোয়েশীয়-সুইস বিজ্ঞানী ছিলেন, যিনি ১৯৩৯ সালে যৌথভাবে রসায়নে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। কর্মজীবনের অধিকাংশই তিনি সুইজারল্যান্ডে অতিবাহিত করেন। তিনি বিজ্ঞান, চিকিৎসা ও আইন বিষয়ে আটটি সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করেছেন। এছাড়াও তিনি সাতটি পুরস্কার ও পদক এবং চব্বিশটি রাসায়নিক, প্রাণরাসায়নিক ও অন্যান্য বৈজ্ঞানিক সমিতির সদস্যপদ অর্জন করেছিলেন।

 

১৬৯৪ – (ক) জগন্নাথ তর্কপঞ্চানন,বাঙালী শ্রুতিধর ও পণ্ডিত।

 

জগন্নাথ তর্কপঞ্চানন (১৩ সেপ্টেম্বর, ১৬৯৪ – ১৯ অক্টোবর ১৮০৭) একজন বাঙালী শ্রুতিধর ও পণ্ডিত। জন্মস্থান ত্রিবেণী, হুগলি। তাঁর পিরর নাম পণ্ডিত রুদ্রদেব তর্কবাগীশ। পিতা ও জেষ্ঠতাত ভবদেব ন্যায়ালঙ্কারের নিকট ব্যাকরণ ও স্মৃতি শাস্ত্র শিক্ষা, মুখে মুখেই ব্যকরনের সূত্রগুলি শিখে ফেলেছিলেন অতি অল্প বয়েসে। পরে রঘুদেব বাচষ্পতির কাছে আইনের পাঠ নেন। ত্রিবেনীতে তার টোল বা চতুষ্পাঠী ছিল। তার অসামান্য স্মৃতিশক্তির গল্প প্রায় প্রবাদের আকারে প্রতিষ্ঠিত। সেযুগে নবদ্বীপ সংস্কৃত চর্চা ও বিদ্যার পীঠস্থান হলেও ত্রিবেনীর জগন্নাথ তর্কপঞ্চানন ছিলেন পণ্ডিতশ্রেষ্ঠ যিনি নবদ্বীপের খ্যাতি একাকী ম্লান করে দিয়েছিলেন। তবে কলকাতার মহারাজ নবকৃষ্ণ দেব আয়োজিত সভায় এক নৈয়ায়িক দিগবিজয়ের উদ্দেশ্যে আসলে সেই সভায় উপস্থিত নবদ্বীপের পণ্ডিতমণ্ডলীর নৈয়ায়িক শিবনাথ বিদ্যাবাচস্পতি ও বংশবাটীর জগন্নাথ তর্কপঞ্চানন কেউই আগত নৈয়ায়িকের সঙ্গে যুক্তিতে পেরে উঠতে পারে না। তখন নবদ্বীপের পণ্ডিত বুনো রামনাথ সেখানে উপস্থিত হয়ে যুক্তিতর্কের মাধ্যমে তাঁকে পরাজিত করে নবদ্বীপের ন্যায়চর্চার মান বজায় রাখেন।

 

১০৮৭ – জন দ্বিতীয় কমনেনাস, বাইজেনটাইন সম্রাট।

জন II কোমনেনোস বা কমনেনাস ( ১৩ সেপ্টেম্বর ১০৮৭ – ৮ এপ্রিল ১১৪৩) ছিলেন বাইজান্টাইন সম্রাট যিনি ১১৩৮ সাল থেকে ” জন বা জন ” নামেও পরিচিত ছিলেন। তিনি ছিলেন সম্রাট অ্যালেক্সিওস I Komnenos এবং Irene Doukaina এর জ্যেষ্ঠ পুত্র এবং বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের কমনেনিয়ান পুনরুদ্ধারের সময় শাসনকারী দ্বিতীয় সম্রাট. যেহেতু তিনি একজন শাসক সম্রাটের কাছে জন্মগ্রহণ করেছিলেন, তিনি একটি পোরফাইরোজেনেটোসের মর্যাদা পেয়েছিলেন । জন একজন ধার্মিক এবং নিবেদিতপ্রাণ রাজা ছিলেন যিনি অর্ধ শতাব্দী আগে মানজিকার্টের যুদ্ধের পরে তার সাম্রাজ্যের ক্ষতি পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে আনতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলেন ।

 

ইতিহাসের পাতায় আজকের দিনের ঘটনাবলী—-

২০০০ – তুরস্কে ভূমিকম্পে ১০৮ জনের মৃত্যু।

২০০১ – পূর্ব তিমুরে পার্লামেন্ট সদস্যরা শপথ গ্রহণ করেন। গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত এটাই প্রথম পার্লামেট।

২০০৮ – দিল্লীতে এক সিরিজ বোমা হামলায় ৩০ নিহত ও ১৩০ জন আহত হয়।

১৯২২ – লিবিয়ার আজিজিয়ায় পৃথিবীতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা হয় ১৩৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট।

 

১৯২৯ – ৬৩ দিন অনশনের পর বিপ্লবী যতীন দাস লাহোর কারাগারে মৃত্যুবরণ করেন।

১৯৪০ – বাকিংহাম প্যালেসে বোমাবর্ষণ করে জার্মানি।

১৯৪৩ – জেনারেল চিয়াং কাইশেক চীনা প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রপতি পদে পুনর্নির্বাচিত হন।

১৯৪৮ – ভারতের ডেপুটি প্রধানমন্ত্রী বল্লভভাই পাতিল স্বাধীন হায়দ্রাবাদ রাজ্যকে ভারতের সাথে যুক্ত করতে হায়দ্রাবাদে সেনাবাহিনীকে প্রবেশের অনুমতি দেন।

 

১৯৫৯ – চাঁদের উদ্দেশে রাশিয়ার লুনিক-২ নামক রকেট উৎক্ষেপণ করা হয়।

লুনা ২, মূলত দ্বিতীয় সোভিয়েত মহাজাগতিক রকেটের নাম এবং সমসাময়িক মিডিয়ায় ডাকনাম লুনিক ২, ছিল সোভিয়েত ইউনিয়নের লুনা প্রোগ্রাম মহাকাশযানের মধ্যে ষষ্ঠ যা চাঁদে উৎক্ষেপণ করা হয়েছে, E-1 নং 7।  এটি ছিল প্রথম মহাকাশযান যা চাঁদের পৃষ্ঠে পৌঁছেছিল এবং অন্য কোন মহাকাশীয় বস্তুর সাথে যোগাযোগ করার জন্য মানবসৃষ্ট প্রথম বস্তু।

 

১৯৯৫ – শ্রীলঙ্কায় এক বিমান দুর্ঘটনায় ৭৫ জন নিহত হন।

১৯৯৮ – বুরকিনো যশো স্থলমাইন নিষিদ্ধ চুক্তিতে স্বাক্ষর করে।

১৮৪৭ – আমেরিকা-মেক্সিকো যুদ্ধে মেক্সিকো দখল করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

১৮৯৮ – প্যারিসের ২০ হাজার রাজমিস্ত্রি ধর্মঘট করে।

 

১৭৮০ – বহুতল ভবনে উঠানামা করার জন্য ব্যবহৃত লিফট বা এলিভেটর আবিস্কৃত হয়।

লিফট  বা এলিভেটর হলো একধরনের যন্ত্র যা উল্লম্বভাবে বিভিন্ন স্তরের মধ্যে মানুষ ও পণ্য স্থানান্তরিত করে। এটি সাধারণত ট্র্যাকশন কেবলকে চালিত করে এমন বৈদ্যুতিক মোটর দ্বারা কিংবা হোইস্টের মতো কাউন্টারওয়েট ব্যবস্থা দ্বারা চালিত হয়, যদিও কিছু লিফট উদপ্রবাহ জ্যাকের মতো চোঙাকার পিস্টনকে তোলার জন্য উদপ্রবাহ প্রবাহীকে পাম্প করে।

 

১৭৮৮ – নিউ ইয়র্ক সিটি আমেরিকার প্রথম রাজধানী হয়।

১৭৮৯ – মার্কিন সরকার নিউ ইয়র্ক ব্যাংক থেকে প্রথম ঋণ নেয়।

১৬০৯ – অভিযাত্রী হেনরী হাডসন আমেরিকার নিউ জার্সিতে একটি নদী খুঁজে, পরবর্তীতে নদীটির নাম রাখা হয় হাডসন নদী।

১৫০১ – মাইকেল এঞ্জেলো বিখ্যাত ডেভিড মূর্তি নির্মাণ শুরু করেন।

১২৫০ – ক্রসেড যুদ্ধের ধারাবাহিকতায় খ্রিস্টান ও মুসলমানদের মধ্যে ঐতিহাসিক মানসুরিয়ে যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল।

১১২৫ – ডিউক লোথারিয়াস জার্মানির রাজা হিসেবে অভিষিক্ত হন।

 

এই দিনে মৃত্যুবরণ করেন যারা—-

২০১৩ – আনোয়ার হোসেন, বাংলা চলচ্চিত্রের ‘নবাব সিরাজউদ্দৌলা’ খ্যাত কিংবদন্তি অভিনেতা।

আনোয়ার হোসেন বাংলাদেশের একজন চলচ্চিত্র অভিনেতা। তিনি চলচ্চিত্র ভুবনে নবাব সিরাজউদ্দৌলা ও মুকুটহীন নবাব নামে খ্যাত। তিনি ঐতিহাসিক, রাজনৈতিক, নাট্যধর্মী, লোককাহিনীভিত্তিক, পোশাকি ফ্যান্টাসি, সাহিত্যনির্ভর, শিশুতোষ, পারিবারিক মেলোড্রামা, বক্তব্যধর্মীসহ বিভিন্ন ধরনের চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন।

 

 

১৯১০ – রজনীকান্ত সেন, বিশিষ্ট বাঙালি কবি এবং সুরকার।

 

রজনীকান্ত সেন (২৬ জুলাই, ১৮৬৫ – ১৩ সেপ্টেম্বর, ১৯১০) প্রখ্যাত কবি, গীতিকার এবং সুরকার হিসেবে বাঙালি শিক্ষা-সংস্কৃতিতে চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন। তিনি “কান্তকবি” নামেও পরিচিত। দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের সমসাময়িক এই গীতিকারের গানগুলো খুবই জনপ্রিয়। ঈশ্বরের আরাধনায় ভক্তিমূলক ও দেশের প্রতি গভীর মমত্ববোধ বা স্বদেশ প্রেমই তাঁর গানের প্রধান বৈশিষ্ট্য ও উপজীব্য বিষয়। বঙ্গভঙ্গ আদেশ রদের জন্য ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দে যে স্বদেশী আন্দোলনের সূত্রপাত হয় সেই সময় কান্ত কবি রচনা করলেন বিখ্যাত গান ‘মায়ের দেওয়া মোটা কাপড় মাথায় তুলে নেরে ভাই’ এই গান বিপ্লবীদের অনুপ্রেরণা দিত। অবশ্য তিনি অনেক হাসির গান লিখেছেন। তার বিখ্যাত দুটি কাব্যগ্রন্থ ‘বাণী’ এবং ‘কল্যাণী’। অনেক গানে তিনি সুরও দিয়েছেন।

 

১৯২৪ – ভূপেন্দ্রনাথ বসু, ভারতীয় রাজনীতিবিদ, আইনজীবী এবং ১৯১৪ সালে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতি।

 

ভূপেন্দ্রনাথ বসু ১৮৫৯ সালে পশ্চিমবঙ্গের খানাকুলে রাধানগর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তিনি ১৮৭৫ সালে খানাকুলের কৃষ্ণনগর স্কুলে ভর্তি হন। তারপর তিনি ১৮৮০ সালে কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন এবং অ্যাটর্নি পরীক্ষার নিমিত্ত শিক্ষানবীশ হন। শিক্ষানবীশ থাকা কালেই ১৮৮১ সালে তিনি স্নাতকোত্তর ডিগ্রি এবং ১৮৮৩ সালে অ্যাটর্নি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে আইন ডিগ্রির অসামান্য সাফাল্য অর্জন করেন। তিনি বি.এন.বসু অ্যান্ড কোম্পানি নামে ল ফার্ম প্রতিষ্ঠা করেন, যার অফিস কলকাতার ওল্ড পোস্ট অফিস স্ট্রিটে এখনও “Temple Chamber” নামে পরিচিত।

 

১৯২৯ – যতীন্দ্র নাথ দাস, ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের শহীদ বিপ্লবী।

যতীন্দ্র নাথ দাস, ছিলেন একজন ভারতীয় মুক্তিযোদ্ধা এবং বিপ্লবী ভগৎ সিংয়ের সহকর্মী। আত্মত্যাগী, সাহসী মানুষটি লাহোর ষড়যন্ত্র মামলায় অভিযুক্ত হয়ে ১৯২৯ সালের ১৪ই জুন গ্রেপ্তার হন। জেলবন্দীদের অধিকারের দাবিতে ওই বছরই ১৩ই জুলাই অনশন শুরু করেন তিনি। ৬৩ দিন অনশনের পর ১৩ই সেপ্টেম্বর মাত্র ২৪ বছর বয়সে জেলেই মৃত্যু হয় তার।

 

১৮৭২ – লুডউইগ ফয়েরবাক, জার্মানীর একজন বস্তুবাদী দার্শনিক।

 

লুডভিগ আন্দ্রেয়াস ফন ফুরবাখ (২৮ জুলাই ১৮০৪ – ১৩ সেপ্টেম্বর ১৮৭২) ছিলেন একজন জার্মান নৃতত্ত্ববিদ এবং দার্শনিক, যিনি তাঁর বই দ্য এসেন্স অফ ক্রিশ্চিয়ানটির জন্য সবচেয়ে বেশি পরিচিত, যেটি খ্রিস্টধর্মের একটি সমালোচনা প্রদান করেছিল যা চার্লস ডারউইন সহ পরবর্তী চিন্তাবিদদের প্রজন্মকে দৃঢ়ভাবে প্রভাবিত করেছিল।  , সিগমুন্ড ফ্রয়েড, ফ্রেডরিখ এঙ্গেলস, রিচার্ড ওয়াগনার এবং ফ্রিডরিখ নিটশে।
তরুণ হেগেলীয় চেনাশোনাগুলির একজন সহযোগী, ফুরবাখ নাস্তিকতা এবং নৃতাত্ত্বিক বস্তুবাদের পক্ষে ছিলেন।  তার অনেক দার্শনিক লেখায় ধর্মের সমালোচনামূলক বিশ্লেষণ দেওয়া হয়েছে।  তাঁর চিন্তাধারা ঐতিহাসিক বস্তুবাদের বিকাশে প্রভাবশালী ছিল, যেখানে তিনি প্রায়শই হেগেল এবং মার্কসের মধ্যে সেতু হিসেবে স্বীকৃত।

 

 

১৫৯৮ – স্পেনের রাজা দ্বিতীয় ফিলিপ।

 

ফিলিপ II (২১ মে ১৫২৭ – ১৩ সেপ্টেম্বর ১৫৯৮), ফিলিপ দ্য প্রুডেন্ট (স্প্যানিশ: ফেলিপে এল প্রুডেন্ট) নামেও পরিচিত), ১৫৫৬ সাল থেকে স্পেনের রাজা, ১৫৮০ সাল থেকে পর্তুগালের রাজা এবং নেপলস-এর রাজা ৫ এবং ৫ সিআইসি-এর মৃত্যু পর্যন্ত ছিলেন  ১৫৯৮ সালে। তিনি ১৫৫৪ সালে রানী মেরি I-এর সাথে তার বিবাহ থেকে ১৫৫৮ সালে তার মৃত্যু পর্যন্ত ইংল্যান্ড ও আয়ারল্যান্ডের জুরি উক্সোরিস রাজা ছিলেন। তিনি ১৫৪০ সাল থেকে মিলানের ডিউকও ছিলেন। ১৫৫৫ থেকে, তিনি ছিলেন ভিনসেভেনের সাতটি দেশের প্রভু  .

 

।।তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

পন্ডিচেরির কয়েকটি দর্শনীয় স্থান।

 

ঘুরতে কে না ভালোবাসে। বিশেষ করে বাঙালিরা সুযোগ পেলেই বেরিয়ে পড়ে ভ্রমনের নেশায়। কেউ পাহাড়, কেউ সমুদ্র আবার কেউ প্রাচীন ঐতিহাসিক স্থান ভালোবাসে ভ্রমণ করতে। প্রকৃতি কত কিছুই না আমাদের জন্য সাজিয়ে রেখেছে। কতটুকুই বা আমরা দেখেছি। এ বিশাল পৃথিবীতে আমরা অনেক কিছুই দেখিনি। তবে সোশ্যাল মিডিয়ার দুনিয়ায় আজ গোটা পৃথিবীটা হাতের মুঠোয়় এলেও প্রকৃতিকে চাক্ষুষ প্রত্যক্ষ করা এ এক আলাদা রোমাঞ্চ, আলাদা অনুভূতি যার রেষ হৃদয়ের মনিকোঠায় থেকে যায় চিরকাল।। তাইতো আজও মানুষ বেরিয়ে পড়়ে প্রকৃতির কে গায়ে মেখে  রোমাঞ্চিত হওয়ার নেশায়। কেউ চায় বিদেশে ভ্রমণে, আবার কেউ চায় দেশের বিভিন্ন স্থান ভ্রমণে। এমনি এক ভ্রমণ এর জায়গা হলো  পন্ডিচেরি। পন্ডিচেরির এমন কিছু জায়গা রয়েছে যা ভ্রমণ পিপাসু মানুষ দের আকৃষ্ট করবে। আসুন জেনে নেওয়া যাক সেই সকল জায়গা গুলি সম্পর্কে কিছু কথা—

 

পন্ডিচেরি স্থাপত্য এবং সংস্কৃতির অনন্য শৈলী সহ একটি সুন্দর জায়গা।  শহরটি আনুষ্ঠানিকভাবে ফরাসিদের কাছ থেকে ১৯৬৪ সালে স্বাধীনতা লাভ করে।  কিন্তু আপনি এখনও এখানে ফরাসি সংস্কৃতির অবশিষ্টাংশ দেখতে পারেন।  পুরানো বোগেনভিলিয়া-ড্রাপ করা ফ্রেঞ্চ-স্টাইলের বাড়ি, গীর্জা, এবং কিছু সদ্য নির্মিত ফ্রেঞ্চ-স্টাইলের দোকান এবং উজ্জ্বল রঙের ক্যাফেগুলি পন্ডিচেরিকে ব্যতিক্রমী করে তুলেছে।  পন্ডিচেরিতে থাকার সময় আপনার যে সেরা জায়গাগুলি দেখতে হবে তা এখানে রয়েছে-

 

 

অরোভিল——

 

অরোভিল, ভোরের শহর, শ্রী অরবিন্দের আধ্যাত্মিক সহযোগী মীরা আলফাসা দ্বারা প্রতিষ্ঠিত একটি ভবিষ্যৎ জনপদ।  এই আশ্রমটি কোন পক্ষপাত ছাড়াই সকল স্তরের মানুষকে একত্রিত করার উদ্দেশ্য নিয়ে নির্মিত হয়েছিল।  অরোভিলের কেন্দ্রে বিশাল গোল্ডেন গ্লোবের মতো কাঠামো।  মাতৃমন্দির, ধ্যানের জায়গা।  এই আশ্রমটি তৈরি করার সময়, ১২৪টি দেশ থেকে মাটি আনা হয়েছিল এবং মিশ্রিত করা হয়েছিল এবং একটি কলসে রাখা হয়েছিল যা এখন ধ্যান কেন্দ্রে স্থাপন করা হয়েছে।

 

শ্রী অরবিন্দ আশ্রম—-

 

রুয়ে দে লা মেরিনে অবস্থিত শ্রী অরবিন্দ আশ্রম ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আশ্রম।  এটি বিখ্যাত আধ্যাত্মিক দার্শনিক ঋষি শ্রী অরবিন্দ ১৯২৬ সালে একটি বড় আধ্যাত্মিক উপলব্ধির পরে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।  আশ্রমে সুন্দর লাইব্রেরি আছে, এবং মানুষের জন্য বিভিন্ন কার্যক্রমের আয়োজন করে।  এই স্থানটি আধ্যাত্মিক প্রবণতা সহ লোকেদের জন্য একটি দর্শনীয় স্থান।

 

যীশুর পবিত্র হৃদয়ের ব্যাসিলিকা—

 

ব্যাসিলিকা খ্রিস্টানদের জন্য বিখ্যাত তীর্থস্থানগুলির মধ্যে একটি।  এটি একটি সুন্দর গির্জা যা এর মার্জিত গথিক স্থাপত্যের জন্য পরিচিত।  এটিতে ২৮ জন সাধুর কাঁচের ছবি এবং আরও অনেক কাচের প্যানেল রয়েছে যা যিশু খ্রিস্টের জীবন দেখায়।  এটি পন্ডিচেরির একটি বড় পর্যটন আকর্ষণ।

 

ফরাসি যুদ্ধ স্মৃতিসৌধ—

 

গউবার্ট অ্যাভিনিউতে অবস্থিত, এই যুদ্ধ স্মৃতিসৌধটি প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় দেশের জন্য প্রাণ দেওয়া ফরাসি ভারতীয়দের জন্য উৎসর্গ করা হয়।  অনেক পর্যটক এই সাইটটি পরিদর্শন করেন এবং প্রতি ১৪ জুলাই বাস্তিল দিবস (ফরাসি জাতীয় দিবস) উপলক্ষে স্মৃতিসৌধটি আলো দিয়ে সজ্জিত করা হয় এবং স্থানীয়রা এবং পর্যটকরা তাদের শ্রদ্ধা জানাতে এখানে জড়ো হয়।

 

প্যারাডাইস সৈকত—

 

 

একটি উপকূলীয় শহর হওয়ায়, পন্ডিচেরিতে প্রচুর সমুদ্র সৈকত রয়েছে যা দেখার মতো।  সেখানে ভ্রমণের জন্য সেরা সমুদ্র সৈকত হল প্যারাডাইস বিচ।  এটি একটি অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ জায়গা, চুননাম্বারে কুড্ডালোর রাস্তার পাশে অবস্থিত।  এটি ঘন ম্যানগ্রোভ বন দ্বারা বেষ্টিত, যা ব্যাক ওয়াটারকে সবুজ দেখায়।  পন্ডিচেরিতে সপ্তাহান্তে ছুটি কাটাতে এটি একটি নিখুঁত গন্তব্য।

।।তথ্য : সংগৃহীত ইন্টারনেট।।

Share This
Categories
রিভিউ

আজ ১২ সেপ্টেম্বর, ইতিহাসের আজকের এই দিনে যা ঘটেছিল।

আজ ১২ সেপ্টেম্বর। ইতিহাস ঘেটে দেখা যায় বছরের প্রতিটি দিনে ঘটেছে অনেক উল্লেখযোগ্য ঘটনা। আসুন আজকের দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য কিছু বিষয় একনজরে দেখে নিই।  ইতিহাসের আজকের এই দিনে কী কী ঘটেছিল, কে কে জন্ম নিয়েছিলেন ও মৃত্যুবরণ করেছিলেন——-

 

দিবস—–

 

(ক) বিশ্ব মনোসংযোগ দিবস ৷

 

আজ যাদের জন্মদিন—-

১৯১৩ – উইলিস ইউগেন ল্যাম্ব, নোবেলজয়ী মার্কিন পদার্থবিদ।

১৯১৩ – জেসি ওয়েন্স, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দৌড়বিদ।

১৯১৬ – ওয়েল্সীয় সাহিত্যিক রুয়াল দাল।

১৯২৩ – অরুণাচল বসু একজন বাঙালি কবি এবং অনুবাদক।

১৯৩১ – নিমাইসাধন বসু, বিশিষ্ট বাঙালি ইতিহাসবিদ।

১৯৩৭ – লিওনেল জস্প্যাঁ, ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী।

১৯৭৩ – ইতালীয় ফুটবলার ফাভিয়ো কানাভারো।

১৯৭৭ – নাথান ব্রাকেন, অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটার।

১৯৮৯ – জার্মান ফুটবলার থমাস মুলার।

১৮৬৫ – আফ্রো-আমেরিকান বিজ্ঞানী জর্জ ওয়াশিংটন কার্ভার।

১৮৮৬ – রবার্ট রবিনসন, নোবেলজয়ী ইংরেজ রসায়নবিদ।

১৮৮৭ – রসায়নে নোবেলজয়ী [১৯৩৯] সুইস বিজ্ঞানী পিওপোল্ড রুৎসিকা।

১৮৯৪ – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, জনপ্রিয় বাঙালী কথাসাহিত্যিক।

১৮৯৭ – এরিন জুলিও কুরি, প্রখ্যাত ফরাসী রসায়ন ও পদার্থবিদ।

১৬৯৪ – কোরিয়ার শাসক ইয়ংজো জোসেওন।

১০৮৭ – বাইজেনটাইন সম্রাট জন দ্বিতীয় কমনেনাস।

৭৮৬ – আব্বাসীয় খলিফা আল মামুন ইবনে হারুন।

 

ইতিহাসের পাতায় আজকের দিনের ঘটনাবলী—-

২০০০ – তুরস্কে ভূমিকম্পে ১০৮ জনের মৃত্যু।

২০০১ – পূর্ব তিমুরে পার্লামেন্ট সদস্যরা শপথ গ্রহণ করেন। গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত এটাই প্রথম পার্লামেন্ট।

২০০২ – চট্টগ্রামের বহদ্দারহাটে সংঘর্ষে ৮ ছাত্রলীগ নেতা নিহত।

২০০৩ – যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী ভুল করে আট ইরাকি পুলিশকে হত্যা করে।

২০০৮ – দিল্লীতে এক সিরিজ বোমা হামলায় ৩০ নিহত ও ১৩০ জন আহত হয়।

১৯০৫ – নরওয়ের স্বাধীনতার শর্তাবলী ঘোষিত হয়।

১৯১২ – যুক্তরাষ্ট্রে প্রথমবারের মতো বিদেশি চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হয়।

১৯১৫ – ব্রিটিশবিরোধী সশস্ত্র অভ্যুত্থান প্রচেষ্টার অভিযোগে গদর পার্টির ২৪ জন কর্মীর ফাঁসি হয়।

১৯১৯ – অ্যাডলফ হিটলার জার্মান ওয়ার্কার্স পার্টিতে যোগ দেন।

১৯২০ – কাজী নজরুল ইসলাম ও মোজাফ্ফর আহমদের সম্পাদনায় দৈনিক ‘নবযুগ’ পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয়।

১৯২২ – লিবিয়ার আজিজিয়ায় পৃথিবীতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা হয় ১৩৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট।

১৯২৪ – চীনে গৃহযুদ্ধ বাঁধে।

১৯৪০ – বাকিংহাম প্যালেসে বোমাবর্ষণ করে জার্মানি।

১৯৪১ – মস্কোতে ইঙ্গ-রুশ চুক্তি স্বাক্ষর।

১৯৪১ – মস্কোতে প্রথমবারের মতো জার্মান বাহিনী বোমা বর্ষণ করে।

১৯৪৩ – জার্মানি মুসোলিনিকে বন্দীদশা থেকে মুক্ত করে।

১৯৪৩ – জেনারেল চিয়াং কাইশেক চীনা প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রপতি পদে পুনর্নির্বাচিত হন।

১৯৪৪ – দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে জার্মানির উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে লন্ডনে যুক্তরাষ্ট্র, বৃটেন ও সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রতিনিধিদের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

১৯৪৮ – ভারতের ডেপুটি প্রধানমন্ত্রী বল্লভভাই প্যাটেল স্বাধীন হায়দ্রাবাদ রাজ্যকে ভারতের সাথে যুক্ত করতে হায়দ্রাবাদে সেনাবাহিনীকে প্রবেশের অনুমতি দেন।

১৯৫৯ – সোভিয়েত মহাকাশযান লুনিক-২ চাঁদে অবতরণ করে।

১৯৬১ – পরমাণু পরীক্ষা বিরোধী বার্ট্রান্ড রাসেল ও আর্নল্ড ওয়েস্কার গ্রেফতার হন।

১৯৭৪ – সামরিক অভুত্থানে ইথিওপিয়ার সম্রাট হাইলে সেলাসি ক্ষমতাচ্যুত হন।

১৯৭৫ – ব্রিটেনে নগ্ন দৌড়ের ঘটনা দেখা দেয়।

১৯৭৫ – ব্রিটিশ কমনওয়েলডের রাগবির ফাইনাল খেলা চলছিল।

১৯৮০ – তুরস্কে সেনা অভ্যুত্থান হয়।

১৯৯০ – মস্কোয় দুই জার্মানির একত্রীকরণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

১৯৯১ – হংকংয়ের ছিডে বিমানবন্দরে হংকংয়ের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় টাকা ছিনতাই ঘটনা ঘটে।

১৯৯৩ – যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউসে ইসরাইল ও পিএলও ফিলিস্তিনিদের মধ্যে সীমিত স্বায়ত্বশাসন সংক্রান্ত ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

১৯৯৩ – জাপানের উত্তরাঞ্চলের ৭.৮ মাত্রার এক ভূমিকম্পে ১৯৬ জন মারা যান।

১৯৯৫ – শ্রীলঙ্কায় এক বিমান দুর্ঘটনায় ৭৫ জন নিহত হন।

১৯৯৮ – বুরকিনো যশো স্থলমাইন নিষিদ্ধ চুক্তিতে স্বাক্ষর করে।

১৯৯৮ – ফ্রান্সের প্যারিসে ফুটবল বিশ্বকাপ ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয়, সেই খেলায় ফ্রান্স ব্রাজিলকে ৩-০ গোলে পরাজিত করে। ম্যাচটি সারা বিশ্বে ১.৭ বিলিয়ন লোক প্রত্যক্ষ করে।

১৯৯৯ – শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ঢাকায় আগমন।

১৮২৩ – ভারতে তৈরি প্রথম বাষ্পীয় জাহাজ ‘ডায়না’ আনুষ্ঠানিকভাবে কলকাতা বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করে।

১৮৪৭ – আমেরিকা-মেক্সিকো যুদ্ধে মেক্সিকো দখল করে আমেরিকা।

১৮৪৮ – সুইজারল্যান্ড ফেডারেল স্টেটে পরিণত হয়।

১৮৭৮ – ব্রিটিশ সেনারা সাইপ্রাস দখল করে।

১৮৯৮ – প্যারিসের ২০ হাজার রাজমিস্ত্রি ধর্মঘট করে।

১৭০০ – গ্রিনল্যান্ড গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার গ্রহণ করে।

১৭৮০ – বহুতল ভবনে উঠানামা করার জন্য ব্যবহৃত এলিভেটর বা লিফ্ট আবিস্কৃত হয়।

১৭৮৮ – নিউ ইয়র্ক সিটি আমেরিকার প্রথম রাজধানী হয়।

১৭৮৯ – মার্কিন সরকার নিউ ইয়র্ক ব্যাংক থেকে প্রথম ঋণ নেয়।

১৬০৯ – অভিযাত্রী হেনরী হাডসন আমেরিকার নিউ জার্সিতে একটি নদী খুঁজে, পরবর্তীতে নদীটির নাম রাখা হয় হাডসন নদী। স্থানীয় আদিবাসীরা নদীটিকে ডাকতো মু-হে-কুন-নে-তুক (Muh-he-kun-ne-tuk) নামে।

১৬৭৪ – শিবাজি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সঙ্গে মৈত্রী চুক্তি করেন।

১৬৮৩ – অষ্ট্রিয়া ও পোল্যান্ডের সেনাদের সাথে ওসমানীয় বাহিনীর রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ সংঘটিত হয়।

১৫০১ – মাইকেল এঞ্জেলো বিখ্যাত ডেভিড মূর্তি নির্মান শুরু করেন।

১৫৪৩ – ইংল্যান্ডের রাজা অষ্টম হেনরি ষষ্ঠবারের মতো বিয়ে করেন।

১৫৭৬ – হোসেন কুলি খান বাংলার শাসক নিযুক্ত হন।

১৫৮০ – স্লাভিক ভাষায় বাইবেল প্রকাশিত হয়।

১৪৪২ – আলফনসো নেপলসের রাজা হন।

১২৩৩ – ক্রুসেডার নৌ-সেনারা মিশরের ঐতিহাসিক আলেক্সান্দার বন্দরটি অবরোধ করে।

১২৫০ – ক্রসেড যুদ্ধের ধারাবাহিকতায় খ্রিস্টান ও মুসলমানদের মধ্যে ঐতিহাসিক মানসুরিয়ে যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল।

১১০৯ – ক্রুসেডাররা ত্রিপোলি নগরী দখল করে।

১১২৫ – ডিউক লোথারিয়াস জার্মানির রাজা হিসেবে অভিষিক্ত হন।

১০৯৬ – পিটার দি হারমিটের অধীনস্থ একদল ক্রুসেডার বুলগেরীয়ার সোফিয়ায় পৌঁছায়।

৭১১ –  তারেক বিন যিয়াদ তার বিশাল সেনাবাহিনী নিয়ে স্পেনে প্রবেশ করে।

 

এই দিনে মৃত্যুবরণ করেন যারা—-

২০০৯ – শাহ আবদুল করিম, বাংলাদেশি বাউল গানের শিল্পী।

২০১৪ – প্রণোদিত প্রজননের জনক ড.হীরালাল চৌধুরী,প্রখ্যাত ভারতীয় বাঙালি মৎসবিজ্ঞানী।

১৯০২ – ইতালির সন্ত জোহানেস গোয়ালবার্তাস।

১৯৮১ – ইউজিনিও মন্তাল, নোবেলজয়ী ইতালিয় কবি ও গল্পকার।

১৯৯১ – ইরানের বিশিষ্ট মনীষী আল্লামা সাইয়্যেদ তাহের সাইয়্যেদযাদেহ হাশেমী।

১৯৯২ – অ্যান্থনি পারকিন্স, মার্কিন অভিনেতা।

১৮৭২ – জার্মান বস্তুবাদী দার্শনিক ল্যুদভিক ফয়েরবাখ।

১৫৯৮ – স্পেনের রাজা দ্বিতীয় ফিলিপ।

 

।।তথ্য : সংগৃহীত ইন্টারনেট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ

আজ বিশ্ব মনোসংযোগ দিবস, জানুন দিনটি কেন পালিত হয় ও গুরুত্ব।

আজ বিশ্ব মনোসংযোগ দিবস।  প্রতি বছর, ১২ই সেপ্টেম্বরকে মাইন্ডফুলনেস ডে হিসেবে পালন করা হয়, যাতে মননশীলতার অন্তর্দৃষ্টিপূর্ণ মূল্য এবং উপকারিতা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা হয়।মাইন্ডফুলনেস ডে হল একটি উদীয়মান বার্ষিক ইভেন্ট, যা ১২ সেপ্টেম্বর উদযাপিত হয়, যেদিন মননশীলতার গভীর মূল্য এবং উপকারিতা সম্পর্কে সাধারণ জনগণকে সচেতন করার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন কর্মশালা এবং মেডিটেশন গ্রুপগুলি অনুষ্ঠিত হয়।  ২০১১ সালে, মাইন্ডফুলনেস ডে উইজডম পাবলিকেশন্স দ্বারা ১২ সেপ্টেম্বর হিসাবে মনোনীত করা হয়েছিল।

 

মাইন্ডফুলনেস ডে তৈরি করা হয়েছিল মননশীলতার মূল্য এবং সুবিধা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে এবং এটিকে প্রশিক্ষণের উপায় সম্পর্কে লোকেদের শিক্ষিত করতে।  এই দিনে, লোকেদের মননশীলতা উপভোগ করার এবং এটিকে তাদের জীবনে সংহত করার জন্য তাদের নিজস্ব উপায় খুঁজে পেতে সাহায্য করার জন্য ধ্যান গ্রুপ এবং কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

 

মনোযোগের গুরুত্ব ও এর প্রতি মানুষের সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক উইজডম পাবলিকেশন্সের উদ্যোগে পালন করা হয় দিবসটি। বিভিন্ন দেশে মানুষ ওয়ার্কশপ, সেমিনার, মেডিটেশন ইত্যাদির মাধ্যমে দিবসটি পালন করে। মাইন্ডফুল ডট ওআরজি ওয়েবসাইটে দিবসটি উদযাপনের কিছু বিষয় তুলে ধরেছে। এর মধ্যে মেডিটেশন বা যোগব্যায়ামের কথা রয়েছে সর্বাগ্রে। এ ছাড়া একসঙ্গে চা খাওয়া, হাঁটা, ব্যায়াম করা ইত্যাদির কথাও বলা হয়েছে।এর সহজ স্তরে, মননশীল হওয়া হল উদ্দেশ্যের দিকে মনোযোগ দেওয়া।  সচেতন হতে হবে, শ্বাস, স্থির থাকতে।

 

আসলে মাইন্ডফুলনেস হল এমন একটি ধারণা যা অনেক সুস্থতার অনুশীলন অন্তর্ভুক্ত করে এবং সঙ্গত কারণে – আপনি যদি মননশীলভাবে জীবনযাপন করেন, তাহলে আপনি আপনার বর্তমান মানসিক, শারীরিক এবং মানসিক সুস্থতার বিষয়ে সক্রিয়ভাবে সচেতন থাকেন।  এই সচেতনতা শেষ পর্যন্ত আরও উদ্দেশ্যমূলক এবং মনোযোগী জীবনের দিকে পরিচালিত করে।

 

 

দিবসটি আসলে বুদ্ধের ধ্যান অনুসরণে এসেছে। উইজডম প্রকাশনী বিশেষত বুদ্ধের ওপর লিখিত বইয়ের প্রধান পৃষ্ঠপোষক। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রতিটি কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য মনোযোগের বিকল্প নেই। দিবসটি তার গুরুত্বই বোঝানোর চেষ্টা করছে।

 

মাইন্ডফুলনেস ডে তৈরি করা হয়েছিল মননশীলতার মূল্য এবং সুবিধা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে এবং এটিকে প্রশিক্ষণের উপায় সম্পর্কে লোকেদের শিক্ষিত করতে।  এই দিনে, লোকেদের মননশীলতা উপভোগ করার এবং এটিকে তাদের জীবনে সংহত করার জন্য তাদের নিজস্ব উপায় খুঁজে পেতে সাহায্য করার জন্য ধ্যান গ্রুপ এবং কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

 

 

।।তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট ।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ

মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ, পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা ও ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রধান মুসলিম নেতা।

মূহাম্মদ আলী জিন্নাহ একজন ব্যারিস্টার, রাজনীতিবিদ এবং পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন, তিনি ১৯৪৭ থেকে সেপ্টেম্বর ১৯৪৮ সালে তার মৃত্যু পর্যন্ত দেশের প্রথম গভর্নর-জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৮৭৬ সালে করাচিতে একটি ধনী বণিক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন, জিন্নাহ লন্ডনের লিঙ্কনস ইনে আইন অধ্যয়ন করেন।

 

মুহাম্মদ আলি জিন্নাহ ছিলেন একজন গুজরাটি বংশদ্ভুত আইনজীবী, রাজনীতিবিদ ও পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা। ১৯১৩ সাল থেকে শুরু করে ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট পাকিস্তানের স্বাধীনতা পর্যন্ত জিন্নাহ নিখিল ভারত মুসলিম লীগের নেতা ছিলেন। স্বাধীনতার পর তিনি পাকিস্তানের প্রথম গভর্নর জেনারেল হন এবং আমৃত্যু এই পদে বহাল থাকেন। পাকিস্তানে তাকে কায়েদে আজম (মহান নেতা) ও বাবায়ে কওম (জাতির পিতা) হিসেবে সম্মান করা হয়।

 

জিন্নাহ করাচিতে জন্মগ্রহণ করেন। লন্ডনের লিঙ্কনস ইন থেকে তিনি ব্যরিস্টার হন। বিশ শতকের প্রথম দুই দশকে তিনি ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের গুরুত্বপূর্ণ নেতা হয়ে উঠেন। এসময় তিনি হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের পৃষ্ঠপোষকতা করেন। ১৯১৬ সালে কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের মধ্যে লখনৌ চুক্তির সময় তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। এসময় জিন্নাহ মুসলিম লীগেরও সদস্য ছিলেন। হোম রুল আন্দোলন সংগঠনে জিন্নাহ অন্যতম প্রধান নেতা হয়ে উঠেন। মুসলিমদের রাজনৈতিক অধিকার রক্ষার জন্য তিনি চৌদ্দ দফা সাংবিধানিক সংস্কার পরিকল্পনা প্রস্তাব করেন। কংগ্রেস মহাত্মা গান্ধীর সত্যাগ্রহে অংশ নিলে ১৯২০ সালে তিনি কংগ্রেস থেকে পদত্যাগ করেন। রাজনৈতিক দাবি আদায়ের ক্ষেত্রে তিনি নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার পক্ষে ছিলেন।

 

১৯৪০ সালের মধ্যে, জিন্নাহ বিশ্বাস করেছিলেন যে উপমহাদেশের মুসলমানদের একটি স্বাধীন হিন্দু-মুসলিম রাষ্ট্রে সম্ভাব্য প্রান্তিক অবস্থা এড়াতে তাদের নিজস্ব রাষ্ট্র থাকা উচিত।  জিন্নাহর নেতৃত্বে মুসলিম লীগ ভারতীয় মুসলমানদের জন্য একটি পৃথক জাতির দাবিতে লাহোর প্রস্তাব পাস করে।

একই বছরে লাহোর প্রস্তাব পাশ হয়। এতে আলাদা রাষ্ট্রের দাবি তোলা হয়।

 

জিন্নাহ মূলত পাকিস্তানের কার্যকারিতা নিয়ে সন্দেহজনক ছিলেন, এমন একটি ধারণা যা কবি ও দার্শনিক স্যার মুহম্মদ ইকবাল ১৯৩০ সালের মুসলিম লীগের সম্মেলনে উত্থাপন করেছিলেন, কিন্তু অনেক আগেই তিনি নিশ্চিত হয়েছিলেন যে ভারতীয় উপমহাদেশে একটি মুসলিম স্বদেশই একমাত্র পথ।  মুসলিম স্বার্থ এবং মুসলিম জীবনধারা রক্ষা করা।  এটা ধর্মীয় নিপীড়ন ছিল না যে তিনি হিন্দু সামাজিক সংগঠনের ঘনিষ্ঠ কাঠামোর মধ্যে ক্ষমতা অর্পিত হওয়ার সাথে সাথে ভারতের অভ্যন্তরে অগ্রগতির সমস্ত সম্ভাবনা থেকে মুসলমানদের ভবিষ্যত বাদ দেওয়ার মতো ভয় পেয়েছিলেন।  সেই বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য, তিনি তার সহধর্মবাদীদের তাদের অবস্থানের বিপদ সম্পর্কে সতর্ক করার জন্য দেশব্যাপী প্রচার চালান এবং তিনি মুসলিম লীগকে মুসলিমদের একটি জাতিতে ঐক্যবদ্ধ করার জন্য একটি শক্তিশালী হাতিয়ারে রূপান্তরিত করেন।
সেই সময়ে, জিন্নাহ একটি পুনর্জাগরিত মুসলিম জাতির নেতা হিসাবে আবির্ভূত হন।  ঘটনা দ্রুত এগোতে থাকে।  ২২-২৩ মার্চ, ১৯৪০ সালে, লাহোরে, লীগ একটি পৃথক মুসলিম রাষ্ট্র, পাকিস্তান গঠনের জন্য একটি প্রস্তাব গ্রহণ করে।  পাকিস্তান ধারণাটি প্রথমে উপহাস করেছিল এবং তারপর কংগ্রেস পার্টি কঠোরভাবে বিরোধিতা করেছিল।  কিন্তু এটি মুসলমানদের কল্পনাকে ধারণ করে।  গান্ধী এবং জওহরলাল নেহেরু সহ অনেক প্রভাবশালী হিন্দু জিন্নাহর বিরুদ্ধে ছিলেন।  এবং ব্রিটিশ সরকার ভারতীয় উপমহাদেশের রাজনৈতিক ঐক্য বজায় রাখার জন্য অভিপ্রেত বলে মনে হয়েছিল।

 

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়, কংগ্রেসের নেতাদের বন্দী করার সময় লীগ শক্তি অর্জন করে এবং যুদ্ধের কিছু পরেই অনুষ্ঠিত প্রাদেশিক নির্বাচনে, এটি মুসলমানদের জন্য সংরক্ষিত বেশিরভাগ আসন জিতেছিল।  শেষ পর্যন্ত, কংগ্রেস এবং মুসলিম লীগ এমন একটি ক্ষমতা ভাগাভাগি সূত্রে পৌঁছাতে পারেনি যা স্বাধীনতার পর সমগ্র ব্রিটিশ ভারতকে একক রাষ্ট্র হিসেবে একত্রিত করার অনুমতি দেবে, যা প্রধানত হিন্দু ভারতের স্বাধীনতার পরিবর্তে সমস্ত দলকে একমত হতে পরিচালিত করবে, এবং  পাকিস্তানের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রাষ্ট্রের জন্য।  শেষপর্যন্ত কংগ্রেস ও মুসলিম লীগ ঐক্যবদ্ধ ভারতের ক্ষমতার ভাগাভাগির জন্য একটি সাধারণ সিদ্ধান্তে পৌছতে ব্যর্থ হলে দেশ বিভাগের সিদ্ধান্ত হয়।কিন্তু জিন্নাহ তার আন্দোলনকে এমন দক্ষতা ও দৃঢ়তার সাথে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন যে শেষ পর্যন্ত কংগ্রেস পার্টি এবং ব্রিটিশ সরকার উভয়ের কাছেই ভারত বিভাজনে সম্মত হওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না।  এভাবে ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

 

১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট পাকিস্তান একটি স্বাধীন দেশ হয়ে ওঠে যেখানে ভারত একদিন পরে স্বাধীনতা লাভ করে।  উপমহাদেশের মুসলমানদের একটি পৃথক জাতি প্রয়োজন কারণ হিন্দু-অধ্যুষিত ভারতে তাদের আকাঙ্ক্ষা চুরমার হয়ে যাবে এই ধারণাটি প্রথম দ্বি-জাতি তত্ত্বে প্রতিধ্বনিত হয়েছিল।

জিন্নাহ নতুন রাষ্ট্রের প্রথম প্রধান হন।  পাকিস্তানের প্রথম গভর্নর জেনারেল হিসেবে জিন্নাহ নতুন রাষ্ট্রের সরকার ও নীতি প্রণয়নের কাজ শুরু করেন। এছাড়া ভারত থেকে আসা লক্ষাধিক অভিবাসীর পুনর্বাসনের জন্যও তাকে কাজ করতে হয়। উদ্বাস্তু শিবির স্থাপনের কাজ তিনি ব্যক্তিগতভাবে তদারক করেন। একটি তরুণ দেশের গুরুতর সমস্যার মুখোমুখি হয়ে, তিনি কর্তৃত্বের সাথে পাকিস্তানের সমস্যাগুলি মোকাবেলা করেছিলেন।  তাকে নিছক গভর্নর-জেনারেল হিসেবে গণ্য করা হতো না।  তিনি জাতির পিতা হিসেবে সম্মানিত ছিলেন।  বয়স এবং রোগের দ্বারা কাবু না হওয়া পর্যন্ত তিনি কঠোর পরিশ্রম করেছিলেন। স্বাধীনতার এক বছর পর ১৯৪৮ সালের সেপ্টেম্বরে জিন্নাহ জন্মস্থান করাচিতে মৃত্যুবরণ করেন।

 

।। তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া।।

Share This
Categories
রিভিউ

আজ ১১ সেপ্টেম্বর, ইতিহাসের আজকের এই দিনে যা ঘটেছিল।

আজ ১১ সেপ্টেম্বর। ইতিহাস ঘেটে দেখা যায় বছরের প্রতিটি দিনে ঘটেছে অনেক উল্লেখযোগ্য ঘটনা। আসুন আজকের দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য কিছু বিষয় একনজরে দেখে নিই।  ইতিহাসের আজকের এই দিনে কী কী ঘটেছিল, কে কে জন্ম নিয়েছিলেন ও মৃত্যুবরণ করেছিলেন——-

 

আজ যাদের জন্মদিন—-

১৯০৭ – কবি সুফী মোতাহার হোসেন।

১৯০৮ – বিনয় বসু, ব্রিটিশ বিরোধী বাঙালি বিপ্লবী।

১৯১১ – লালা অমরনাথ, ভারতীয় ক্রিকেটার।

১৯২৪ – তাপস সেন , আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ভারতীয় বাঙালি আলোকসম্পাত শিল্পী।

১৯৫০ – শাহাবুদ্দিন আহমেদ, বাংলাদেশী চিত্রশিল্পী।

১৯৫৩ – শহীদুল জহির, বাংলাদেশি গল্পকার ও ঔপন্যাসিক।

১৯৬৯ – কনক চাঁপা, বাংলাদেশী কন্ঠশিল্পী।

১৯৭০ – কালিকাপ্রসাদ ভট্টাচার্য, ভারতীয় বাঙালি লোকসঙ্গীত শিল্পী ও লোকসঙ্গীত গবেষক।

১৮৪৯ – উইলিয়াম কুপার, অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটার।

১৮৬২ – ও হেনরি, প্রখ্যাত মার্কিন ছোট গল্পকার।

১৮৭৭ – জেমস জিন্স, ৩/৩৩ প্রখ্যাত ইংরেজ প্রাবন্ধিক ও বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী লেখক।

১৮৮৫ – ডেভিড হারবার্ট লরেন্স, ইংরেজ সাহিত্যিক।

১৮৯৫ – বিনোবা ভাবে , ভারতে অহিংসা ও মানবাধিকারের প্রবক্তা ও সমর্থক।

 

ইতিহাসের পাতায় আজকের দিনের ঘটনাবলী—-

২০০১ – মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক শহরের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার এ দুইটি ও পেন্টাগনে ১টি উগ্রবাদীর সালাফিবাদ জঙ্গি সংগঠন – আল কায়েদা সন্ত্রাসী বিমান হামলায় আঘাত করে এবং ৩০০০ এর অধিক ব্যক্তির প্রাণহানি ঘটে। এছাড়া আর একটি বিমান ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স ফ্লাইট ৯৩ পেন্সিল্‌ভেনিয়ায় ভূপাতিত হয়।

২০০৭ – প্রথম টুয়েন্টি ২০ বিশ্বকাপ ক্রিকেট দক্ষিণ আফ্রিকায় শুরু হয়।

২০১৫ – ‎মক্কা ক্রেন দুর্ঘটনায় নির্মাণ কাজে ব্যবহৃত একটি ভ্রাম্যমাণ ক্রেন ভেঙে পড়ে যার ফলে ১০৭ জন মারা যান এবং ২৩৮ জন আহত হন।

১৯০৯ – ম্যাক্স উলফ হ্যালির ধূমকেতু নতুন কারে আবিষ্কার করেন।

১৯২৬ – কলকাতায় নাখোদা মসজিদের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপিত হয়।

১৯৪৮ – নিজামের হায়দারাবাদ রাজ্যের দখল নেয় ভারত সরকার।

১৯৭০ – আন্তর্জাতিক ইসলামী সম্মেলন সংস্থা (ওআইসি) প্রতিষ্ঠিত হয়।

১৯৭৩ – চিলির নির্বাচিত সরকারের প্রধান ও প্রগতিশীল দেশনায়ক সালভেদর আলেন্দেকে হত্যা করে প্রতিবিপ্লবীরা ক্ষমতা দখল করে।

১৮৫৩ – প্রথম বৈদ্যুতিক টেলিগ্রাফ চালু হয়।

১৮৭৫ – সংবাদপত্রে প্রথম কার্টুন স্ট্রিপ প্রকাশিত হয়।

১৮৯৩ – মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরে প্রথম বিশ্ব মহা ধর্ম সম্মেলনে ভারতবর্ষের প্রতিনিধি হয়ে স্বামী বিবেকানন্দ তার ঐতিহাসিক বক্তৃতাটি দিয়েছিলেন। শুরু করেছিলেন এইভাবে – আমেরিকার ভাইবোনেরা। দর্শকবৃন্দ তার গুণমুগ্ধ হয়ে পড়েন।

১৮৯৫ – বার্মিংহাম থেকে এফএ কাপ চুরি হয়ে যায়।

১৩০৪ – তৃতীয় উইলিয়াম হল্যান্ডের আর্ল মনোনীত হন।

 

এই দিনে মৃত্যুবরণ করেন যারা—-

১৯৪৮ – মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ, পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা ও ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রধান মুসলিম নেতা।

১৯৫৮ – রবার্ট সার্ভিস, বিখ্যাত কানাডীয় কবি।

১৯৭১ – নিকিতা ক্রুশ্চেভ, সোভিয়েত রাষ্ট্রনায়ক।

১৯৮৭ – মহাদেবী বর্মা, প্রখ্যাত হিন্দি ভাষার কবি।

১৯৮৭ – মণিকুন্তলা সেন, প্রগতিবাদী রাজনৈতিক নেত্রী।

১৮২৩ – ডেভিড রিকার্ডো, অর্থনীতিবিদ।

 

।।তথ্য : সংগৃহীত ইন্টারনেট।।

Share This
Categories
নারী কথা প্রবন্ধ

জানুন, ভগবান যখন ভক্তের সেবা করলো তখন কি হলো : রাধাবিনোদিনী বিন্তি বণিক।

শ্রীকৃষ্ণদাস সোণার নামক এক কৃষ্ণভক্ত ছিলেন । তিনি অত্যন্ত সেবাপরায়ণ ছিলেন।  সারা দিনের সমস্ত কর্ম ভগবান শ্রীকৃষ্ণের চরণে নিবেদিত ছিল তাঁর। সকল কাজের মধ্যেই তিনি এমন মনোভাব রাখতেন যে, এই কর্ম তো শ্রীকৃষ্ণের জন্য করা ! এ কাজ করলে আমার শ্রীকৃষ্ণের এ জাতীয় সেবা হবে। আর তাতে আমার প্রাণগোবিন্দ অত্যন্ত প্রীত হবেন, সুখী হবেন ।—–  ঠিক যেমন ব্রজগোপিনীদের কথা আমরা জানি , তেমন । একটা উদাহরণ দেই। যেমন,  —গোপিনীরা নিজেদেরকে খুব সুন্দর ভাবে সাজিয়ে রাখতেন সবসময়।  তাঁরা ভাবতেন আমি যদি সুন্দর করে সেজে থাকি আর আমাকে সুন্দর লাগে দেখতে তবে শ্রীকৃষ্ণ আমায় দেখে খুব আনন্দ পাবেন। অর্থাৎ নিজেদের আনন্দের জন্য নয়। বা নিজে সুন্দরী হব এই ভাব তাদের থাকতোই না । বরং শ্রীকৃষ্ণকে সুখ দেবার জন্য ব্রজগোপিনীরা পরিপাটী করে সেজে থাকতেন। তাঁদের প্রতিটি কাজেই এ জাতীয় বোধ কাজ করতো । আবার যেমন বলা যায়,  রামায়ণের সেই বৃদ্ধা শবরী মায়ের কথা । দক্ষিণ ভারতের সেই বৃদ্ধাকে তাঁর গুরুদেব মাতঙ্গ বলেছিলেন , একদিন ভগবান শ্রীরামচন্দ্র রূপে তোমার কাছে সাক্ষাৎ দর্শন দিতে তোমার কুটীরে আসবেন। শবরী এতটাই ভালোবাসতেন রামচন্দ্রকে যে, রামচন্দ্র যাতে কুল খেয়ে আনন্দ পান তাই তিনি বনের কুলগাছ থেকে রামচন্দ্রের জন্য সংগ্রহ করা প্রতিটি কুল নিজে আগে একটু খেয়ে দেখতেন । মিষ্টি হলে তবেই তা তাঁর প্রভু রামচন্দ্রের সেবার জন্য রাখতেন। এভাবে তিনি বছরের পর বছর ধরে অপেক্ষা করেছেন রামচন্দ্রের আগমনের জন্য । গুরুর কথা সত্য হয়েছিল । বাস্তবিক একদিন রামচন্দ্র হাজির হয়েছিলেন বনের মধ্যে বৃদ্ধা শবরী মায়ের কুটীরে । অতএব , নিজে খেয়ে দেখব বলে বা নিজের জিহ্বাকে আস্বাদন-আনন্দ দিতে , শবরী মে কুলগুলো খেয়ে রাখতেন তা নয় । রামচন্দ্রকে আনন্দ দেবেন বলে বাছাই করে কুল নিজে খেয়ে আগে দেখে নিতেন।  কৃষ্ণদাস সোণারও এমনই ছিলেন । তিনি যে অর্থ উপার্জন করতেন , ভাবতেন তা সব গোবিন্দের। আমার তো কিছু নয় । অর্থ দ্বারা গোবিন্দের সেবা করবো। এ সংসার তো তাঁর । এভাবে গঙ্গার স্রোত যেমন অবিচ্ছিন্নভাবে নিরবধি বয়ে যায় তেমন করে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কৃষ্ণদাস প্রতিটি কাজ কৃষ্ণকে স্মরণ করে , কৃষ্ণের প্রীত্যর্থে করতেন।
একদিনের ঘটনা ।  কৃষ্ণদাস ভাবে বিভোর হয়ে মুখে গীত গাইছেন আর নৃত্য করছেন তাঁর ইষ্ট কৃষ্ণবিগ্রহের সামনে। মনের ভাবখানা এমন যে—- আমার নৃত্য দেখে, সংগীত শুনে আমার প্রাণনাথ, প্রাণারাম শ্রীশ্যামসুন্দর অত্যন্ত আনন্দ পাচ্ছেন তো ! আর তাই আরও দরদ ভরে গীত গাইছেন ,  আরও সুন্দর করে নৃত্যটি করার চেষ্টা করছেন তিনি ।‌ এমন সময় হলো কি চরণের নূপুরখানি খুলে পড়ে গেল তালঠোকার সময় ভুমিতে। কৃষ্ণদাস ভাবলেন , “ইস্ , নৃত্যরসের ব্যাঘাত ঘটলো !” অর্থাৎ,  যেভাবে নৃত্যটি হচ্ছিল সেই পর্যায় থেকে চ্যূত হল নৃত্যটি।  আর তাই তিনি নৃত্যের বিরাম দিয়ে তৎক্ষণাৎ দাঁড়িয়ে পড়লেন পুনরায় নূপুরটি চরণে পড়ে নেবেন বলে । হঠাৎ এক বালক  বলে বসলো,  “দাঁড়াও , দাঁড়াও। তোমায় কষ্ট করতে হবে না। আমি পড়িয়ে দিচ্ছি। তুমি যে ভঙ্গীমায় ছিলে সেই ভঙ্গীমাতেই স্থির হয়ে দাঁড়াও।” বলতে বলতেই অপূর্ব দর্শন  বালকটি নূপুরটি চোখের নিমেষে কুড়িয়ে নিয়ে কৃষ্ণদাসের চরণে পড়িয়ে দিল। বালকের তৎপরতা দেখে কৃষ্ণদাসের ভারী ভালো লাগলো ;  বলে বসলেন, “কে গো বাছা ? কে তুমি? নাম কি তোমার ? দেখিনি তো আগে । এখানে কোথায় থাকো?” কিন্তু জিজ্ঞাসাই সার হলো। প্রশ্ন শেষ হতে না হতেই বালকটি চোখের নিমেষে উধাও হয়ে গেল।  মিলিয়ে গেল  জলছবির বা মরীচিকার মতন বাতাসে। বালক নেই , অথচ চরণে নূপুর তো রয়ে গেছে। অর্থাৎ এ তো চোখের বা মনের ভ্রম নয় । বালকটি যে সত্যই এসেছিল তার প্রমাণ খুলে যাওয়া , ছিটকে পড়া নূপুরের পুনরায় চরণে উঠে আসা। তবে কে সে বালক ? কে প্রভু ? এ প্রশ্নের উত্তর পেতে শ্রীকৃষ্ণ বিগ্রহের দিকে তাকাতেই যেন সব উত্তর ঠোঁটে নিয়ে হাসির মধ্য দিয়ে জানিয়ে দিলেন শ্রীকৃষ্ণ— তিনিই তো সে-ই । কৃষ্ণদাস যখন বুঝলেন বালকবেশে এসে আসলে শ্রীকৃষ্ণই তাঁকে চরণের নূপুরটি পরিয়ে দিয়ে গেছেন,   তখন চোখের জল  যেন আর তাঁর বাঁধ মানে না । বক্ষ ভেসে গেল আনন্দে আবেগে। “আমার জীবন ধন্য আজ তোমার দর্শন পেয়ে প্রভু । আমি ধন্য সত্যই। আমি এ আনন্দ কাকে বোঝাবো !”— এসব বলে কৃষ্ণদাস আবেগে আপ্লুত হচ্ছেন।
কিন্তু পরক্ষণেই কৃষ্ণদাস সোণারের বড় রাগ হলো শ্রীকৃষ্ণের উপর। “এলে তো এলে,  শেষে আমার পায়ে হাত দিলে ! ছিঃ, ছিঃ।  ধিক্ আমায় ! কেন তুমি আমার পায়ে হাত দিতে গেলে বলতো, প্রভু ? কে বলেছিল, তোমায় নূপুরটা পরিয়ে দিতে ?  আমি কি নূপুরটা নিজে নিয়ে পড়তে পারতাম না ! আমার পায়ে হাত দিয়ে এভাবে আমাকে অপরাধী করলে ! দোষী বানালে ! এখন তো আমার ইচ্ছে করছে এই পা-টাকেই কেটে বাদ দিয়ে দেই।……..” —এভাবে কত না অনুযোগ করলেন সাধু কৃষ্ণদাস স্নেহাবেশে তাঁর শ্রীকৃষ্ণকে । কত না  প্রণয়কলহ চললো। কত না  ধিক্কার দিলেন । “ভৃত্যের চরণে নুপুর পড়াতে গেলে  প্রভু হয়ে ? ছিঃ, ছিঃ !  তোমার কি লজ্জাও করলো না একবারের জন্য !……” ইত্যাদি , ইত্যাদি বলেই চলেছেন কৃষ্ণদাস।
আজ শ্রীকৃষ্ণ সত্যিই বড় আনন্দ পেয়েছেন। একে তো  নিজের প্রিয় ভক্তের চরণে নূপুর পরিয়ে দিয়ে সেবা করেছেন ভক্তের।  আর তার উপর রোজ আদর খান,  আজ এত তিরস্কার পাচ্ছেন সেই ভক্তের থেকে ‌ । ভক্তের প্রণয়ভরা তিরস্কার যে তাঁর কাছে বেদ-স্তুতি মন্ত্রের চেয়েও অনেক বেশি প্রিয় ! অনেক বেশি আনন্দদায়ক ! তাঁর ঠোঁটের কোণের হাসি তাই থামছেই না যেন আজ….।

—-ভক্তকৃপাভিখারিণী
রাধাবিনোদিনী বিন্তি বণিক।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

মূল্যবান মনুষ্য জীবন ও দেহ মন্দির : স্বামী আত্মভোলানন্দ।

ওঁ নমঃ শ্রী ভগবতে প্রণবায় ।
—————————————–
***সর্বোত্তম জীবন হল সেই জীবন যা অন্যের দ্বারা কিছুই না করে সুখে যাপন করা হয় l’এই চলমান জীবনে কেউ না আছে আমাদের  থেকে  এগিয়ে না কেউ  পিছিয়ে ৷ এখানে কেউ  বেশী উন্নত নই ৷ আবার কেউ নই অকাট মূর্খ ৷ জীবন একবারে আমাদের  সঠিক অবস্থানে দাঁড় করিয়ে রেখেছে ৷ সেই জায়গায় কোথাও আমরা শিক্ষক আবার কোথাও ছাত্র ৷ জীবন আসলে সেটা নয় যা তুমি পেয়েছো , জীবন তো সেটাই,যা তুমি তোমার মেধা আর পরিশ্রম দিয়ে তৈরি করেছো l
কেউই আসলে খারাপ হয় না জানো, খারাপ হয় শুধু সময়টা । আর সেই খারাপ সময়টা অনেকটা উড়ো মেঘের মতো । তাই মেঘ কেটে গেলেই আকাশ পরিষ্কার হয়ে যায়। সূর্য ওঠে। ফুল ফোটে । পাখিরা ওড়ে মুক্ত আকাশে । জীবন ও তাই, জীবন একটা সফর !
মানুষ কখনোই ব্যর্থ হয় না, হয়তো সে সফল হয় নয়তো সে অভিজ্ঞতা অর্জন করে ।জীবন একটি বই
কিছু অধ্যায় দুঃখজনক। কিছু খুশি, এবং কিছু উত্তেজনাপূর্ণ৷ কিন্তু আপনি যদি পৃষ্ঠাটি না উল্টান তবে আপনি কখনই জানতে পারবেন না যে পরবর্তী অধ্যায়টি কী রয়েছে৷

মৃগনাভির গন্ধের উৎস খুঁজতে গিয়ে মৃগ সারা জঙ্গলের দূর দীগন্ত ছুটে ছুটে একসময় ক্লান্ত হয়ে নিজের এলাকায় ফিরে আসে।ক্লান্ত বিষন্ন শরীরে বিশ্রাম নিতে তার চেনা মাটিতে বসে পড়ে ।তারপর যখন নিজের মুখ জিভ  দিয়ে গা পরিষ্কার করতে থাকে, একদা বুঝতে পারে যে, এতদিন ধরে সে যে মনমাতানো পাগল করা সুবাসের উৎস খুঁজতে  সারা বন-জঙ্গল তন্য তন্য করে পাড়ি দিয়েছে, তার উৎস দূর দূরন্তে নেই । যে গন্ধ সে খুঁজে বেড়িয়েছে এতদিন, তা তার নিজের নাভি থেকেই নির্গত হচ্ছে। ঐ গন্ধ প্রাণ ভরে শুঁকতে শুঁকতে পরম শান্তিতে সে ঘুমাতে থাকে । আর অকারণ ছুটতে হয়না তাকে ।

সাধনের জন্য নিজের পরিসরেই সব মন্দির পীঠ অবস্থান করে। যারা সত্যিকার সাধন ভজনে লিপ্ত তারা সাধ্যাতীত তীর্থ ভ্রমনে লিপ্ত হন না।পকেটের টাকা দিয়ে ভগবান বা ঈশ্বর  কাউকেই কেনা যায় না। নিজের পরিসরে বিরাজ করেই তাঁকে ডাকার মত ডাকতে পারলেই সব তীর্থ একাকার হয় নিজের মধ্যেই ।
যেমন নেপালের দেবদেবী কেবল নেপালে বন্দী নয়।ভারতের দেবদেবী কেবল ভারতে বন্দী নয়। তিনি ঈশ্বর,  তাই তিনি প্রতি অনুতেই বিরাজমান।
“তোরে ডাকার মতো ডাকতে যদি পারি, আসবি নি তোর এমন সাধ্য নেই। আমি মন্ত্র-তন্ত্র কিছুই জানিনে মা ।।”
অহংকার বর্জন করে তাঁকে ভালোবাসা দিয়ে ডাকলেই তিনি তুষ্ট ।***
ॐ গুরু কৃপাহি কেবলম….!

Share This