Categories
রিভিউ

আজ ১৭ ডিসেম্বর, ইতিহাসের দিকে চোখ বুলিয়ে দেখে নেব ইতিহাসের এই দিনে বিশিষ্টজনদের জন্ম-মৃত্যু, দিনসহ ঘটে যাওয়া ঘটনা।

আজ ১৭ ডিসেম্বর। এক নজরে দেখে নিই ইতিহাসের এই দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য ঘটনা, বিশিষ্টজনদের জন্ম-মৃত্যু দিনসহ গুরুত্বপূর্ণ আরও কিছু বিষয়।

 

দিবস—–

 

 

(ক) পেনশনভোগী দিবস। (ভারত)

 

আজ যাদের জন্মদিন—-

১৯০০- ব্রিটিশ গণিতবিদ মেরি কার্টরাইট।

 

১৯০২ – মালতী ঘোষাল, ভারতীয় রবীন্দ্র সংগীত শিল্পী।

 

১৯০৪ – মোহনানন্দ ব্রহ্মচারী, ভারতীয় বাঙালি ধর্মগুরু ও যোগী পুরুষ।

 

১৯২০ – কেনেথ আইভার্সন, টুরিং পুরস্কার বিজয়ী কম্পিউটার বিজ্ঞানী।

 

১৯৩১ – দিলীপ রায়,ভারতীয় বাঙালি চলচ্চিত্র অভিনেতা।

১৯৩৬ – বাঙালি কথাসাহিত্যিক ও সাংবাদিক দেবেশ রায়।

 

১৯৭৯ – শাবনূর, বাংলাদেশি চলচ্চিত্র অভিনেত্রী।

 

১৮৫৭ – সুন্দরীমোহন দাস, প্রখ্যাত ভারতীয় চিকিৎসক, বিশিষ্ট লেখক ও সমাজসেবী।

 

১৮৯২ – ভারতীয় বাঙালি সাংবাদিক বঙ্কিমচন্দ্র সেন।

 

১৭৭০ – লুড‌উইগ ভ্যান বেইটোভেন, জার্মান সুরকার ও পিয়ানো বাদক।

 

ইতিহাসের পাতায় আজকের দিনের ঘটনাবলী—-

১৯০৩ – রাইট ভ্রাতৃদ্বয় প্রথম উড়োজাহাজে উড্ডয়ন করেন। দিনটি আমেরিকায় রাইট ব্রাদার্স দিবস।

১৯৩১ – প্রশান্ত চন্দ্র মহলানবীশ কলকাতায় ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করেন।

 

১৯৪২ – বিপ্লবী সতীশচন্দ্র সামন্ত তাম্রলিপ্ত জাতীয় সরকার গঠন করেন।

১৯৯৬ – পেরুর জিম্মি সংকট শুরু।

১৮৭৩ – বুদাপেস্ট নগরীর পত্তন হয়।

 

১৩৯৯ – পানিপথের যুদ্ধে তৈমুর লঙ দিল্লির সুলতান মুহম্মদ তুঘলককে পরাস্ত করেন।

 

এই দিনে মৃত্যুবরণ করেন যারা—-

২০০২ – আইদেউ সন্দিকৈ, অসমীয়া চলচ্চিত্রের প্রথম মহিলা অভিনেত্রী।

 

২০১১ – কিম জং-ইল, গণতান্ত্রিক গণপ্রজাতন্ত্রী কোরিয়া বা উত্তর কোরিয়ার শাসক ও প্রধান ব্যক্তিত্ব।

 

২০১৯ – ড.শ্রীরাম লাগু, নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞ ভারতীয় চিকিৎসক এবং মঞ্চ ও চলচ্চিত্র অভিনেতা।

 

১৯৩৮ – চারুচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়,প্রখ্যাত বাঙালি লেখক, সম্পাদক ও অনুবাদক।

 

১৯৬১ – শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক গোলাম মাকসুদ হিলালী।

 

।।তথ্য : সংগৃহীত ইন্টারনেট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ

অখিলচন্দ্র নন্দী, ব্রিটিশবিরোধী বিপ্লবী ও সাম্যবাদী কর্মী – প্রয়াণ দিবসে শ্রদ্ধাঞ্জলি।

ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন ছিল কিছু মানুষের কঠোর পরিশ্রম যার ফলেই ব্রিটিশদের থেকে ভারত রাজনৈতিক দিক থেকে মুক্তি পেয়েছে। ভারত উপমহাদেশের বিংশ শতাব্দীতে ব্রিটিশ সম্রাজ্যবাদ বিরোধী যে সশস্ত্র বিপ্লববাদী লড়াই-সংগ্রাম সংগঠিত হয় এবং যার ধারাবাহিকতায় ভারত স্বাধীন হয়। এই অন্দোলনে যে সকল বিপ্লবীর নাম সর্বজন স্বীকৃত তাঁদের মধ্যে অখিলচন্দ্র নন্দী   প্রথমসারির একজন অন্যতম বিপ্লবী ছিলেন। অখিলচন্দ্র নন্দী  ভারতীয় উপমহাদেশের ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনে এক উল্লেখযোগ্য নাম, যিনি দেশমতৃকার শৃঙ্খল মুক্তির জন্য নিজেকে সঁপে দিয়েছিলেন সম্পূর্ণ রূপে। অখিলচন্দ্র নন্দী একজন ব্রিটিশবিরোধী বিপ্লবী ও সাম্যবাদী কর্মী।

 

বংশ পরিচয়—-

 

অখিলচন্দ্র নন্দী ৭ মার্চ ১৯০৭ বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার কালিকচ্ছ গ্রামে তাঁর জন্ম।এই এলাকার নন্দী বংশ সুপরিচিত। কালিকচ্ছ গ্রামের নন্দী বংশের অনেকেই ব্রিটিশ বিরোধী সশস্ত্র আন্দোলনে অংশ নেন।  বিখ্যাত বাঙালি লেখক জ্যোতিরিন্দ্র নন্দীও একই পরিবারের সদস্য।  তঁর স্ত্রী শেফালী নন্দী একজন লেখিকা।

 

বিপ্লবী আন্দোলন—

 

অখিল চন্দ্র যৌবন থেকেই স্বাধীনতা আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন।  কুমিল্লা শহরের নারীরা একসময় তাঁর সক্রিয় সমর্থনে ব্যাপকভাবে স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশগ্রহণ করেছিল।  শান্তি ঘোষ ও সুনীতি চৌধুরী নামে দুই নারী বিপ্লবী কুমিল্লার ম্যাজিস্ট্রেট স্টিভেনসকে হত্যা করেন, যিনি তাঁর সহযোগী ছিলেন।  তিনি স্টিভেনস হত্যা মামলায় ধরা পড়েন এবং আট বছর কারাগারে কাটান। জেলে থাকা অবস্থায় অখিলচন্দ্র বিএ পাস করেন।

 

পরবর্তী জীবন—

 

জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পর তিনি বিপ্লবী আন্দোলনের পথ পরিহার করেন এবং মার্কসবাদের প্রতি আকৃষ্ট হন।  তিনি ১৯৩৯ সালে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য হন। স্বাধীনতার পর পিসি চ্যাটার্জি অ্যান্ড কোম্পানিতে কাজ করেন।  এছাড়াও বিভিন্ন জনহিতকর কাজের সাথে জড়িত। ‘বিপ্লবীর স্মৃতিচারণ’  নামে একটি জীবনীগ্রন্থ লিখেছেন।

 

মৃত্যু—

 

মহান এই স্বাধীনতা সংগ্রামী ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৮৫ সালে প্রয়াত হন।

 

।।তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
রিভিউ

আজ ১৬ ডিসেম্বর, ইতিহাসের দিকে চোখ বুলিয়ে দেখে নেব ইতিহাসের এই দিনে বিশিষ্টজনদের জন্ম-মৃত্যু, দিনসহ ঘটে যাওয়া ঘটনা।

আজ ১৬ ডিসেম্বর। এক নজরে দেখে নিই ইতিহাসের এই দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য ঘটনা, বিশিষ্টজনদের জন্ম-মৃত্যু দিনসহ গুরুত্বপূর্ণ আরও কিছু বিষয়।

 

দিবস—–

 

(ক) বিজয় দিবস, বাংলাদেশ।

 

আজ যাদের জন্মদিন—-

১৯১৭ – আর্থার সি ক্লার্ক, একজন বিখ্যাত বিজ্ঞান কল্পকাহিনী লেখক এবং উদ্ভাবক।

 

১৯০৬ – মাহমুদা খাতুন সিদ্দিকা, বাঙালি কবি।

 

১৯৩৬ – বাঙালি কবি ও লেখক সামসুল হক।

 

১৯৪০ – মাহমুদুন্নবী, বাংলাদেশি সঙ্গীতশিল্পী।

 

১৯৪০ – শিশুসাহিত্যিক এখলাসউদ্দিন আহমদ।

 

১৯৪২ – কবি হায়াৎ সাইফ।

 

১৯৪৭ – বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী মোস্তফা কামাল।

 

১৮৪০ -উমেশচন্দ্র দত্ত,সমাজ সংস্কারক ও শিক্ষাবিদ।

 

১৮৮২ – বাঙালি সঙ্গীতজ্ঞ দিনেন্দ্রনাথ ঠাকুর।

 

১৭৭৫ – জেন অস্টেন একজন ইংরেজ ঔপন্যাসিক।

 

ইতিহাসের পাতায় আজকের দিনের ঘটনাবলী—-

২০২১ – স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে দেশবাসীকে শপথ পড়ান তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী – শেখ হাসিনা।

১৯৫০ – সাইপ্রাসের জনগণ তাদের দেশের ওপর ব্রিটিশ আধিপত্যের পরিসমাপ্তির লক্ষ্যে স্বাধীনতা আন্দোলন শুরু করে।

১৯৫১ – ভারতের হায়দ্রাবাদে সালারজং জাদুঘরের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়।

১৯৭১

পাকিস্তান সেনাবাহিনী বিকালে ৪-২১ মিনিটে ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় মিত্রবাহিনীর কাছে আনুষ্ঠানিক আত্মসমর্পণ করে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের অবসান হয় ও বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করে।

বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হয়।

১৯৭২ – বঙ্গবন্ধু সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

১৯৯১ – কাজাখস্তান নিজেদের স্বাধীনতা ঘোষণা করে।

১৯৯৮ – প্যারিসের একটি আপীল আদালত ফ্রান্সের বিশিষ্ট মুসলিম দার্শনিক, ইতিহাসবিদ ও লেখক রজার গারুদিকে হোলোকাস্টের কথিত গণহত্যার কল্পকাহিনী অস্বীকার করার অপরাধে জেল ও জরিমানা করে।

১৯০৪ – কলকাতার প্রথম দৈনিক সান্ধ্য পত্রিকা ‘সন্ধ্যা’ প্রকাশিত হয়।

১৯২৫ – কাজী নজরুল ইসলামের সম্পাদনায় সাপ্তাহিক পত্রিকা ‘লাঙ্গল’ কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়।

১৯৩৯ – ঢাকা থেকে প্রথম বেতার অনুষ্ঠান সম্প্রচার।

 

এই দিনে মৃত্যুবরণ করেন যারা—-

১৯০১ – নবাব খাজা আহসানউলস্নাহর।

 

১৯৭৫ – প্রখ্যাত বাঙালি সঙ্গীতজ্ঞ অনাথনাথ বসু।

 

১৯৬৫ -ইংরেজ কথাসাহিত্যিক ও নাট্যকার উইলিয়াম সমারসেট মম্‌।

১৯৮৭ – অখিলচন্দ্র নন্দী – ব্রিটিশবিরোধী বিপ্লবী ও সাম্যবাদী কর্মী।

 

১৯৯৫ – কণ্ঠশিল্পী ফিরোজ সাই।

 

১৮৫৯ – ভিলহেল্ম গ্রিম, জার্মান লেখক।

 

১২৭৩ – কবি জালাল উদ্দিন রুমী।

 

।।তথ্য : সংগৃহীত ইন্টারনেট।।

Share This
Categories
রিভিউ

আজ ১৫ ডিসেম্বর, ইতিহাসের দিকে চোখ বুলিয়ে দেখে নেব ইতিহাসের এই দিনে বিশিষ্টজনদের জন্ম-মৃত্যু, দিনসহ ঘটে যাওয়া ঘটনা।

আজ ১৫ ডিসেম্বর। এক নজরে দেখে নিই ইতিহাসের এই দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য ঘটনা, বিশিষ্টজনদের জন্ম-মৃত্যু দিনসহ গুরুত্বপূর্ণ আরও কিছু বিষয়।

 

দিবস—–

 

(ক)  আন্তর্জাতিক চা দিবস

(খ) খাগড়াছড়ি হানাদারমুক্ত দিবস (বাংলাদেশ)

 

আজ যাদের জন্মদিন—-

১৯০০ – সতীশচন্দ্র সামন্ত, ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামী ও সাবেক লোকসভা সদস্য।

 

১৯০৫ – ইরাবতী কার্বে ভারতের নৃবিজ্ঞানী, সমাজবিজ্ঞানী, শিক্ষাবিদ এবং লেখক।

 

১৯০৬ – বন্দে আলী মিয়া, বাঙালি কবি।

 

১৯০৮ – রামকৃষ্ণ মিশনের ত্রয়োদশ অধ্যক্ষ স্বামী রঙ্গনাথানন্দ।

১৯১৬ – মরিস উইলকিন্স, নোবেল পুরস্কার বিজয়ী ইংরেজ জীবপদার্থবিজ্ঞানী।

১৯৩৩ – এমাজউদ্দিন আহমদ, বাংলাদেশি রাষ্ট্রবিজ্ঞানী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য।

 

১৯৩৫ – একেএম আবদুর রউফ, বাংলাদেশি চিত্রশিল্পী, বাংলাদেশের প্রথম সংবিধানের হস্তলেখক।

১৮৩২ – গুস্তাভ আইফেল, ফরাসি প্রকৌশলী, আইফেল টাওয়ারের স্থপতি।

 

১৮৫২ – অঁরি বেকেরেল, নোবেল পুরস্কার বিজয়ী ফরাসি পদার্থবিজ্ঞানী।

১৮৫৯ – লুডভিক লাযারুস জামেনহোফ, পোলিশ চিকিৎসক, সাহিত্যিক ও ভাষাবিদ।

 

১৮৭০ – জোসেক হফম্যান, মার্কিন স্থপতি।

১৭৯৭ – উইলিয়াম ইয়েটস, শিক্ষাবিদ ও বহু ভাষাবিদ, বাংলা মুদ্রণ শিল্পের পথিকৃৎ।

 

১৬২৬ – গ্রেগরি কিং, ইংরেজ পরিসংখ্যানবিদ।

৩৭ – নিরো, রোমক সম্রাট।

 

ইতিহাসের পাতায় আজকের দিনের ঘটনাবলী—-

২০০৪ – ইংরেজিতে ২৪ ঘণ্টা সম্প্রচারিত স্যাটেলাইট চ্যানেল চালুর বিষয়ে আল-জাজিরার ঘোষণা।

২০০৬ – ঢাকার ধানমন্ডির শংকরে ছায়ানট সংস্কৃতি ভবনের উদ্বোধন করা হয়।

২০০৭ – অস্ট্রেলিয়ায় পার্লামেন্ট নির্বাচনে দেশটির ৭৮ বছরের ইতিহাসে কোনো প্রধানমন্ত্রী (জন হাওয়ার্ড) নিজ আসনে পরাজিত হন।

২০২১ – কলকাতার দুর্গাপূজা ইউনেস্কোর আবহমান অধরা বা অস্পর্শনীয় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের শিরোপা লাভ করে।

১৯০৬ – লন্ডনের পাতাল রেলপথ চালু।

১৯১৪ – গ্যাস বিস্ফোরনে জাপানের মিটসুবিসি কয়লা খনিতে ৬৮৭ জন নিহত।

১৯১৪ – প্রথম বিশ্বযুদ্ধ: সার্বিয়ার সেনাবাহিনী অস্ট্রো-হাঙ্গেরিয়ান সেনাবাহিনীকে পরাজিত করে বেলগ্রেড দখল করে।

১৯২৮ – ব্রিটেনে সর্বপ্রথম টিভি নাটক প্রদর্শিত হয়।

১৯২৯ – কলকাতায় কবি নজরুলকে গণসংবর্ধনা দেয়া হয়।

১৯৩৯ – বিশ্বখ্যাত সিনেমা গন্ড অব দ্য উইন্ড এর প্রিমিয়ার হয় জর্জিয়ার আটলান্টার লুইস গ্যান্ড থিয়েটারে।

১৯৪১ – আজাদ হিন্দ ফৌজ গঠিত হয়।

১৯৪১ – ইউক্রেনের কিয়েভে জার্মান সেনাবাহিনী ১৫০০০ ইহুদিকে হত্যা করে।

১৯৪৫ – জাপান দখলের পর জেনারেল ডগলাস ম্যাকআর্থার শিন্তো ধর্মকে জাপানের রাষ্ট্র ধর্ম বাতিল করেন।

১৯৪৯ – পেইচিংয়ে চীনা গণ পররাষ্ট্র ইনস্টিডিউট প্রতিষ্ঠার অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয় ।

১৯৬১ – জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ জাতিসংঘে চীনের অন্তর্ভুক্তির পক্ষে ভোট দেয়।

১৯৬১ – বিখ্যাত নাজি নেতা অ্যাডলফ আইখম্যানকে ইহুদি হত্যাসহ পনেরটি অপরাধে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয় ইজরাইলের রাজধানী জেরুজালেমে।

১৯৬৫ – বাংলাদেশে ঘূর্ণিঝড়ে ১০ হাজার লোকের প্রাণহানি ঘটে।

১৯৭০ – সোভিয়েত মহাকাশযান ভিনিরা-৭ সফলভাবে ভেনাসে ল্যান্ড করে।

১৯৭৫ – পশ্চিম আফ্রিকায় অবস্থিত পশ্চিম সাহারা এলাকা থেকে স্পেনীয়রা সরে আসার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে।

১৯৭৬ – সামোয়া জাতিসংঘের সদস্য পদ পায়।

১৯৭৭ – জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক দল (জাগ দল) গঠিত হয়।

১৯৮৮ – মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পিএলওর সঙ্গে সরাসারি সংস্রবের ক্ষেত্রে ১৩ বছরের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেয়।

১৯৯৩ – সাত বছর আলোচনার পর ১১৭টি দেশ গ্যাট চুক্তিতে সম্মত হয়।

১৯৯৪ – পালউ জাতিসংঘে সদস্যপদ লাভ করে।

১৮৫৭ – সিলেটের সিপাহীদের বিদ্রোহ হয়।

১৮৫৯ – চার্লস ডারউইনের বিবর্তনবাদ সম্পর্কিত গ্রন্থ ‘অরিজিন অফ দ্য এস্পিচেস’-এর প্রকাশ।

১৮৭৭ – টমাস এডিসন ফোনোগ্রাফ প্যাটেন্ট করেন।

১৭৯১ – যুক্তরাস্ট্র বিল আইন হয়ে ভার্জিনিয়া সাধারণ অধিবেশনে আইন হিসাবে গৃহীত হয়।

১৭৯২ – মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম জীবন বীমা পলিসি জারি হয়।

১৬৪০ – পর্তুগালের রাজা হিসেবে চতুর্থ জোহানের অভিষেক।

১৫১৬ – সালের এই দিনে দক্ষিণ আমেরিকায় আর্জেন্টিনার উপকূল আবিস্কৃত হওয়ার এক বছর পর স্পেনের প্রথম অভিবাসি দলটি ঐ এলাকায় প্রবেশ করে।

১২৫৬ – হালাকু খান বর্তমান ইরানের আলামুত ও হাসাসুন শহর দখল ও ধ্বংস করেন। এর মাধ্যমে এ এলাকার ইসলামী শক্তির উপর প্রথম আঘাত আনেন।

 

এই দিনে মৃত্যুবরণ করেন যারা—-

২০০০ – গৌরকিশোর ঘোষ, বাঙালি সাংবাদিক ও সাহিত্যিক।

 

২০০৬ – নিতুন কুণ্ডু, বাংলাদেশী চিত্রশিল্পী ও উদ্যোক্তা।

 

২০০৭ – নবেন্দু ঘোষ, ভারতীয় বাঙালি লেখক ও চিত্রনাট্যকার।

২০১৬ – হাইকোর্টের বিচারপতি জে এন দেব চৌধুরী।

 

২০২০ – সুধীর চক্রবর্তী, বাঙালি অধ্যাপক, লেখক,সঙ্গীত-গবেষক এবং লোকসংস্কৃতি বিশেষজ্ঞ।

 

১৯২৫ – প্রগতিবাদী সমাজসেবী শশীপদ বন্দ্যোপাধ্যায়।

১৯৪০ – মোহাম্মদ এয়াকুব আলী চৌধুরী বাংলাভাষার লেখক এবং সাংবাদিক।

১৯৪১ – গাব্রিয়েল পেরি, জার্মান নাৎসি বাহিনী ফরাসি কমিউনিস্ট নেতা।

 

১৯৫০ – বল্লভভাই প্যাটেল উপমহাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামী ও জাতীয়তাবাদী নেতা।

 

১৯৬৬ – ওয়াল্টার এলিয়াস ডিজনি, মার্কিন চলচ্চিত্র প্রযোজক, নির্দেশক, কাহিনীকার, নেপথ্য কন্ঠ শিল্পী ও অ্যানিমেটর।

 

।।তথ্য : সংগৃহীত ইন্টারনেট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

আজ আন্তর্জাতিক চা দিবস, জানুন দিনটি কেন পালিত হয় এবং দিনটির ইতিহাস।

চা বা চা-এর সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক তাৎপর্য উদযাপনের জন্য প্রতি বছর আন্তর্জাতিক চা দিবস পালন করা হয় যেখানে দিবসটির উদ্দেশ্য চায়ের ইতিহাস, উৎপাদন, ব্যবহার এবং স্বাস্থ্য সুবিধা সহ চায়ের বিভিন্ন দিক সম্বন্ধে প্রচার ও সচেতনতা বৃদ্ধি করা।  আন্তর্জাতিক চা দিবস আমাদের দৈনন্দিন জীবনে চায়ের তাৎপর্য তুলে ধরতে, চা শিল্পে টেকসই অনুশীলনের প্রচার এবং এই প্রিয় পানীয়ের সাথে যুক্ত সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের প্রশংসা করার জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম হিসাবে কাজ করে এবং এটি একটি বিশ্বব্যাপী চায়ের গুরুত্বকে প্রতিফলিত করার সময়।  ঘটনাটি এবং অন্যদের সাথে চায়ের অভিজ্ঞতা উপভোগ করা এবং ভাগ করা।

 

২০০৫ সালে ভারতের রাজধানী শহর নয়াদিল্লিতে প্রথম আন্তর্জাতিক চা দিবস পালিত হয় এবং পরবর্তীতে অন্যান্য চা উৎপাদনকারী দেশগুলি – শ্রীলঙ্কা, নেপাল, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, বাংলাদেশ, কেনিয়া, মালাউই, মালয়েশিয়া, উগান্ডা এবং তানজানিয়া এই উদযাপনগুলি অনুসরণ করে।  দশ বছর পরে, ভারত সরকার ২০১৫ সালে চায়ের উপর FAO আন্তঃসরকার গ্রুপের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক চা দিবস পালনের প্রসারিত করার প্রস্তাব দেয় যা বিশ্ব চা অর্থনীতিকে সমর্থন করার জন্য বহুপাক্ষিক প্রচেষ্টার নেতৃত্ব দেয় এবং আন্তর্জাতিক চা দিবস ঘোষণার ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

 

একই বছরে ইতালির মিলানে একটি বৈঠকের সময় এই ধারণাটি এগিয়ে নেওয়া হয়েছিল যখন প্রস্তাবটি পণ্য সমস্যা সম্পর্কিত FAO কমিটি দ্বারা অনুমোদিত হয়েছিল।  ডিসেম্বর ২০১৯-এ, চাহিদা সম্প্রসারণের দিকে বৃহত্তর প্রচেষ্টার নির্দেশ দেওয়ার জন্য চায়ের উপর আন্তঃসরকারি গোষ্ঠীর আহ্বানের উপর পুনরায় জোর দেওয়া, বিশেষ করে চা-উৎপাদনকারী দেশগুলিতে, যেখানে মাথাপিছু ব্যবহার তুলনামূলকভাবে কম এবং ঐতিহ্যগত আমদানিতে মাথাপিছু ব্যবহার হ্রাস পেতে সহায়তা করার প্রচেষ্টা।  দেশগুলি, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ২১ মে আন্তর্জাতিক চা দিবস হিসাবে মনোনীত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

 

১৫ ডিসেম্বর জাতিসংঘ কর্তৃক স্বীকৃত আন্তর্জাতিক চা দিবসের লক্ষ্য বিশ্বব্যাপী চায়ের সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক তাত্পর্যকে স্বীকার করা, জীবিকা ও স্থায়িত্বের উপর এর প্রভাবের উপর জোর দেওয়া।  এই পালনের উদ্দেশ্য চায়ের মূল্য সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি টেকসই চা উৎপাদন এবং ন্যায্য বাণিজ্য অনুশীলনকে উন্নীত করার জন্য যখন ২১শে মে পালিত আন্তর্জাতিক চা দিবসের শিকড় রয়েছে বিশ্ব চা সম্মেলনের চা-উৎপাদনকারী দেশগুলিতে, যেটি তারিখটি প্রস্তাব করেছিল।  ২০০৫ সালে প্রথম আন্তর্জাতিক চা চুক্তি স্বাক্ষরের স্মরণে এবং এই পালনটি চা উৎপাদন, ব্যবহার এবং সাংস্কৃতিক দিকগুলির প্রচারের উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে।

 

ইতিহাস—-

 

জাতিসংঘের মতে, চীনে ৫০০০ বছর আগে চা খাওয়ার প্রমাণ রয়েছে।  গল্পটি বলে যে চীনা সম্রাট শেন নুং প্রথম পানীয়ের স্বাদ গ্রহণ করেছিলেন যখন তিনি এবং তার সৈন্যরা একটি গাছের নীচে আশ্রয় নিতে ব্যস্ত ছিলেন এবং কিছু বাতাসের চা পাতা ফুটন্ত জলের পাত্রে পড়েছিল যা পরে এটিতে মিশে যায় এবং আজকের সবচেয়ে বেশি খাওয়া পানীয়তে পরিণত হয়েছিল।
২৭৩৭ খ্রিস্টপূর্বাব্দে চীনে প্রথম আবিষ্কৃত হয়, চা এশিয়ান সংস্কৃতির মধ্যে একটি প্রধান উপাদান হয়ে ওঠে যেখানে এটি একটি পানীয় এবং একটি ঔষধি নিরাময়ে পরিণত হওয়ার আগে এটি ধর্মীয় আচারের একটি প্রতীকী অংশ ছিল।  চীনের চা উৎপাদনের একচেটিয়াতার সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য, ব্রিটিশরা ১৮২৪ সালে ভারতে বাণিজ্যিকভাবে চা ফসলের সূচনা করে এবং তখন থেকেই দার্জিলিং, নীলগিরি এবং আসাম জুড়ে ৯০০০০০ টন চা উৎপাদিত হয় বলে জানা গেছে।

 

আন্তর্জাতিক চা দিবস ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। প্রস্তাবটি অনেক সংস্কৃতিতে একটি ঐতিহ্যবাহী পানীয় হিসাবে চায়ের গুরুত্ব এবং বিশ্বব্যাপী লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবিকা নির্বাহে এর অবদানকে স্বীকৃতি দেয়।

 

তাৎপর্য—-

 

চায়ের একটি দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে এবং এটি বিভিন্ন দেশের সংস্কৃতিতে গভীরভাবে জড়িয়ে আছে যেখানে এটি শুধুমাত্র একটি জনপ্রিয় পানীয় নয় বরং অনেক সমাজে সামাজিক রীতিনীতি, অনুষ্ঠান এবং আতিথেয়তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।  চা শিল্প সারা বিশ্বের লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবিকার প্রধান উৎস, বিশেষ করে চা-উৎপাদনকারী অঞ্চলে এবং আন্তর্জাতিক চা দিবস চা খাতের অর্থনৈতিক মূল্যকে স্বীকৃতি দেয় এবং টেকসই চা উৎপাদন ও ন্যায্য বাণিজ্য অনুশীলনকে উন্নীত করার লক্ষ্য রাখে।

টেকসইতা প্রচার করে, আন্তর্জাতিক চা দিবস টেকসই চা উৎপাদন ও সেবনের গুরুত্বের উপর জোর দেয়, পরিবেশ সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্য রক্ষা, শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করে এবং চা-উত্পাদিত অঞ্চলে সামাজিক উন্নয়নের প্রচার করে এমন অনুশীলনকে উৎসাহিত করে।  চা, বিশেষ করে সবুজ এবং ভেষজ চা, বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকারিতার সাথে যুক্ত কারণ এটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং ফাইটোকেমিক্যাল সমৃদ্ধ যা সামগ্রিক স্বাস্থ্য এবং সুস্থতার উপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে তাই, আন্তর্জাতিক চা দিবস চা খাওয়ার সম্ভাব্য স্বাস্থ্য উপকারিতা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ায়।

 

উদযাপন—–

 

আন্তর্জাতিক চা দিবসে, চা এবং এর সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য উদযাপনের জন্য বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন অনুষ্ঠান, সেমিনার, কর্মশালা এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের আয়োজন করা হয়।  এই ইভেন্টগুলির মধ্যে চা খাওয়া, প্রদর্শনী, চা অনুষ্ঠান, শিক্ষামূলক সেশন এবং চা শিল্পের সামাজিক ও অর্থনৈতিক দিকগুলির উপর আলোচনা অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।

 

আন্তর্জাতিক চা দিবস চা উৎপাদনকারী দেশ, আন্তর্জাতিক সংস্থা, সরকার এবং চা উত্সাহীদের চা উৎপাদন, বাণিজ্য এবং ব্যবহার সম্পর্কিত জ্ঞান এবং অভিজ্ঞতা বিনিময় করার সুযোগ দেয়।

 

।। সংগৃহীত।।

 

 

 

 

 

 

Share This
Categories
প্রবন্ধ

ভারতীয় চলচ্চিত্রের সেরা পথপ্রদর্শক রাজ কাপুর – জন্ম দিবসে শ্রদ্ধাঞ্জলি।

রণবীর রাজ কাপুর ১৪ ডিসেম্বর, ১৯২৪ সালে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশের পেশাওয়ারে জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ভারতীয় চলচ্চিত্র অভিনেতা, চলচ্চিত্র নির্মাতা ও হিন্দি চলচ্চিত্রের পরিচালক ছিলেন। রাজ কাপুরকে ‘ভারতীয় চলচ্চিত্রের সেরা পথপ্রদর্শকরূপে’ আখ্যায়িত করা হয়ে থাকে। রাজ কাপুর এর হিন্দি ভাষার চলচ্চিত্রগুলি সমগ্র ভারত, মধ্যপ্রাচ্যে জনপ্রিয় ছিল।

 

 

তার অনেক চলচ্চিত্রই দেশপ্রেমে অনুপ্রাণিত।  আগ, শ্রী 420, জিস দেশ মে গঙ্গা বেহতি হ্যায় নব্য স্বাধীন ভারতকে ঘিরে।  ফলে দর্শকরা দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়।  এর মধ্যে শ্রী 420 সিনেমার গানের সংলাপ মেরা জুতা হ্যায় জাপানি বেশ জনপ্রিয়তা পায়।  কাপুরকে ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে সর্বশ্রেষ্ঠ এবং সবচেয়ে প্রভাবশালী চলচ্চিত্র নির্মাতা এবং অভিনেতাদের একজন হিসাবে বিবেচনা করা হয়। তার চলচ্চিত্রসমূহ বিশ্বের সর্বত্র বিশেষ করে এশিয়া ও ইউরোপে ব্যাপক সফলতা লাভে সক্ষমতা দেখায়। ভারতের চলচ্চিত্র শিল্পে তাকে ক্লার্ক গেবল নামে আখ্যায়িত করা হয়।

 

1930-এর দশকে কাপুর বোম্বে টকিজের জন্য একজন ক্ল্যাপার-বয় এবং পৃথ্বী থিয়েটার্সের অভিনেতা হিসাবে কাজ করেছিলেন, তার বাবার মালিকানাধীন দুটি কোম্পানি,পৃথ্বী রাজ কাপুর । রাজ কাপুরের প্রথম প্রধান পর্দার ভূমিকা ছিল আগ (1948; “ফায়ার”), যেটি তিনি প্রযোজনা ও পরিচালনা করেছিলেন। 1950 সালে তিনি তার নিজস্ব বোম্বে ফিল্ম স্টুডিও, আরকে গঠন করেন এবং পরের বছর আওয়ারা (1951; “দ্য ভ্যাগাবন্ড” বা “দ্য ট্র্যাম্প”) ছবিতে রোমান্টিক স্টারডম অর্জন করেন। তিনি বারসাত (1949; “বৃষ্টি,” বা “দ্য মনসুন”), শ্রী 420 (1955; “মিস্টার 420”), জাগতে রাহো (1956; “জেগে থাকুন,” “এ নাইট ইন দ্য সিটি” এর মতো সফল চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেছেন । ,” অথবা “আন্ডার কভার অফ নাইট”), এবং মেরা নাম জোকার (1970; “মাই নেম ইজ জোকার”), যার অনেকগুলি তিনি লিখেছেন, প্রযোজনা করেছেন এবং পরিচালনা করেছেন। তার পরিচালিত কিছু ছবিতে তার দুই ভাই এবং তার তিন ছেলেকে দেখা গেছে।

 

যদিও কাপুর তার প্রথম দিকের সিনেমাগুলিতে রোমান্টিক প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন, তার সবচেয়ে পরিচিত চরিত্রগুলি চার্লি চ্যাপলিনের দরিদ্র কিন্তু সৎ ট্র্যাম্পের মডেল ছিল। তার যৌন চিত্রের ব্যবহার প্রায়শই ঐতিহ্যগতভাবে কঠোর ভারতীয় চলচ্চিত্রের মানকে চ্যালেঞ্জ করে। তার অনেক চলচ্চিত্রের গান মিউজিক্যাল হিট হয়েছে।

 

তিনি বেশ কিছুসংখ্যক পুরস্কারে ভূষিত হন। তন্মধ্যে তিনবার ভারতের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ও এগারোবার ফিল্মফেয়ার পুরস্কার পেয়েছেন। রাজকাপুরের সম্মানার্থে ও তার নামানুসারে ফিল্মফেয়ার আজীবন সম্মাননা পুরস্কারের নাম রাখা হয়। শিল্পকলায় অসামান্য অবদানের প্রেক্ষিতে ১৯৭৯ সালে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে তাকে পদ্মভূষণ পদকে ভূষিত করা হয়। এছাড়াও ১৯৮৭ সালে ভারত সরকার কর্তৃক ভারতের চলচ্চিত্রের সর্বোচ্চ সম্মাননা দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার পান তিনি।

 

মৃত্যু পরবর্তীকালে ২০০১ সালে স্টারডাস্টের মিলেনিয়ামের সেরা পরিচালক মনোনীত হন। ২০০২ সালে স্টার স্ক্রিন কর্তৃক মিলেনিয়ামের শোম্যানরূপে বিবেচিত হন। ১৪ ডিসেম্বর, ২০০১ তারিখে ভারতীয় ডাকবিভাগ তার সম্মানার্থে মুখমণ্ডলকে ঘিরে ডাকটিকেট প্রকাশ করা হয়। ২০১৪ সালে গুগল তার ৯০তম জন্মদিন উপলক্ষ্যে স্মারক তুলে ধরে।

 

2 মে, 1988-এ, একটি পুরষ্কার অনুষ্ঠানের সময় যেখানে তিনি ভারতীয় ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির সর্বোচ্চ সম্মান পেয়েছিলেন, কাপুর অ্যাজমা অ্যাটাকের শিকার হন এবং ভেঙে পড়েন; এক মাস পরে তিনি মারা যান।

 

 

।।তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
রিভিউ

আজ ১৪ ডিসেম্বর, ইতিহাসের দিকে চোখ বুলিয়ে দেখে নেব ইতিহাসের এই দিনে বিশিষ্টজনদের জন্ম-মৃত্যু, দিনসহ ঘটে যাওয়া ঘটনা।

আজ ১৪ ডিসেম্বর। এক নজরে দেখে নিই ইতিহাসের এই দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য ঘটনা, বিশিষ্টজনদের জন্ম-মৃত্যু দিনসহ গুরুত্বপূর্ণ আরও কিছু বিষয়।

 

দিবস—–

 

(ক) শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস (বাংলাদেশ)।

 

আজ যাদের জন্মদিন—-

১৯১২ – হেমাঙ্গ বিশ্বাস, সঙ্গীতশিল্পী ও সুরকার।

 

১৯২২ – নিকোলাই বাসভ, নোবেল পুরস্কার বিজয়ী সোভিয়েত পদার্থবিজ্ঞানী এবং শিক্ষাবিদ।

 

১৯২৪ – রাজ কাপুর, ভারতীয় চলচ্চিত্র অভিনেতা, চলচ্চিত্র নির্মাতা ও হিন্দি চলচ্চিত্রের পরিচালক।

 

১৯৩৪ – শ্যাম বেনেগল, ভারতীয় চলচ্চিত্র পরিচালক ও চিত্রনাট্যকার।

১৯৪৬ – এন্টোনি বিভোর্‌, ইংরেজ ঐতিহাসিক।

 

১৯৫৩ – বিজয় অমৃতরাজ, ভারতীয় টেনিস খেলোয়াড়, ক্রীড়া ভাষ্যকার ও অভিনেতা।

১৯৫৪ – মাকসুদুল আলম, বাংলাদেশী জিনতত্ত্ববিদ, পেঁপে, রাবার, পাট এবং ছত্রাক জিনোম উদ্ভাবক।

 

১৯৬৭ – সন্দীপ গোস্বামী, ভারতীয় বাঙালি কবি, সমালোচক।

১৮৭৮ – হরিহর শেঠ, সাহিত্যিক ও ইতিহাসবেত্তা।

১৬২৬ – গো-সুজাকো, জাপানের সম্রাট।

 

১৫০৩ – নসট্রাদামুস, ফরাসি ভবিষ্যদ্বক্তা, জ্যোতিষী, লেখক এবং ঔষধ প্রস্তুতকারক ও চিকিৎসা সামগ্রী বিক্রেতা।

১৫৪৬ – টাইকোব্রাহে, ড্যানীয় জোতির্বিদ ও রসায়নবিদ।

 

ইতিহাসের পাতায় আজকের দিনের ঘটনাবলী—-

১৯০১ – বিজ্ঞানী ম্যাক্স প্ল্যাংকের কোয়ান্টাম তত্ত্ব উপস্থাপন করেন।

১৯০৩ – বিমান আবিষ্কারকারী রাইট ভাতৃদ্বয় উত্তর ক্যারোলিনায় প্রথম আকাশযান উড্ডয়নের প্রচেষ্টা চালান।

১৯১১ – নরওয়েজীয় অভিযাত্রী রোল্ড আমুন্ডেসন ওলাভ জালান্ড, হেলমার হ্যানসেন, স্ভেরে হ্যাসেল ও অস্কার উইস্টিংকে নিয়ে গড়া তার দল নিয়ে প্রথম দক্ষিণ মেরুতে পা রাখে।

১৯১৫ – জ্যাক জনসন কৃষ্ণাঙ্গ হিসেবে প্রথম হেভিওয়েট মুষ্টিযুদ্ধে বিজয়ী হন।

১৯১৮ – ব্রিটেনের সাধারণ নির্বাচনে নারীরা সর্বপ্রথম ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।

১৯৪৬ – আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) জাতিসংঘের সহায়ক সংস্থা হিসাবে স্বীকৃতি লাভ করে।

১৯৪৬ – জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ নিউ ইয়র্কে সদর দপ্তর স্থাপনের পক্ষে ভোট দেয়।

১৯৪৭ – রোমানিয়া প্রজাতন্ত্রী দেশে পরিণত হয়।

১৯৫৫ – আলবেনিয়া, অস্ট্রিয়া, বুলগেরিয়া, ক্যাম্বোডিয়া, ফিনল্যান্ড, হাঙ্গেরি, আয়ারল্যান্ড, ইতালি, জর্ডান, লাওস, লিবিয়া, পর্তুগাল, রোমানিয়া, স্পেন ও শ্রীলঙ্কা জাতিসংঘে যোগ দেয়।

১৯৬০ – সোমালিয়ার সঙ্গে চীনের কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়।

১৯৬১ – তাঞ্জানিয়া জাতিসংঘে যোগ দেয়।

১৯৭১ – মুক্তিযুদ্ধের শেষ পর্যায়ে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের দেশীয় দোসররা বুদ্ধিজীবীদের ধরে নিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে।

১৯৮১ – ইহুদিবাদী ইসরাইলের সংসদ অধিকৃত গোলান মালভূমিকে আনুষ্ঠানিকভাবে ইসরাইলের ভূখণ্ড বলে ঘোষণা করে।

১৯৯৪ – সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে চীনের তখনকার রাষ্ট্রীয় পরিষদের প্রধানমন্ত্রী লি ফেং সারা বিশ্বের কাছে “ইয়াংসি নদীর তিনগিরিখাত প্রকল্পের নির্মাণকাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু” হবার কথা ঘোষণা করেন।

১৯৯৫ – প্যারিসে বসনীয় শান্তিচুক্তি (ডেইটন চুক্তি) আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হয়।

১৯৯৬ – বাংলাদেশে ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিল বিলে রাষ্ট্রপতি স্বাক্ষর করেন।

১৯৯৯ – কিরিবাশ, নাউরু ও টোঙ্গা জাতিসংঘে যোগ দেয়।

১৮০৫ – ফসিল জ্বালানী হিসেবে পাথুরে কয়লার তীব্র তাপ শক্তি উৎপাদনের ক্ষমতার বিষয়টি আবিষ্কৃত হয়।

১৬৫৬ – প্রথম কৃত্রিম মুক্তা তৈরি করা হয়।

১৫৬৮ – রাজকুমারী মেরি স্টুয়ার্ট স্কটল্যান্ডের রানি হন।

১৫৭৫ – ইস্টভান বাথোরি পোল্যান্ডের রাজা নির্বাচিত হন।

১১২৪ – থিওবাল্ড বুক্কাপেকাস পোপ নির্বাচিত হন।

 

এই দিনে মৃত্যুবরণ করেন যারা—-

২০১৮ – আমজাদ হোসেন, বাংলাদেশী অভিনেতা, লেখক এবং চলচ্চিত্রকার।

১৯৩৬ – ইয়োসেফ ব্লক, জার্মান সমাজতান্ত্রিক সাংবাদিক।

 

১৯৭০ – কুমুদরঞ্জন মল্লিক, বাঙালি কবি ও শিক্ষাবিদ।

 

১৯৮৪ – ধীর আলী মিয়া, বাংলাদেশী যন্ত্রবাদক, সঙ্গীত পরিচালক, ও সুরকার।

 

১৯৮৯ – আন্দ্রে শাখারভ, সোভিয়েত পরমাণু বিজ্ঞানী, ভিন্নমতাবলম্বী এবং মানবাধিকার কর্মী।

 

১৯৯৯ – আবদুল লতিফ, ভাষাসৈনিক।

 

১৭৯৯ – জর্জ ওয়াশিংটন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম রাষ্ট্রপতি।

 

১৫৪২ – পঞ্চম জেমস, স্কটল্যান্ডের রাজা।

 

১১৩৬ – চতুর্থ হেরাল্ড, নরওয়ের সম্রাট।

 

।।তথ্য : সংগৃহীত ইন্টারনেট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ

কমিউনিস্ট দর্শনে বিশ্বাসী ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামী সতীশচন্দ্র পাকড়াশী – জন্মদিবসে শ্রদ্ধাঞ্জলি।

ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন ছিল কিছু মানুষের কঠোর পরিশ্রম যার ফলেই ব্রিটিশদের থেকে ভারত রাজনৈতিক দিক থেকে মুক্তি পেয়েছে। ভারত উপমহাদেশের বিংশ শতাব্দীতে ব্রিটিশ সম্রাজ্যবাদ বিরোধী যে সশস্ত্র বিপ্লববাদী লড়াই-সংগ্রাম সংগঠিত হয় এবং যার ধারাবাহিকতায় ভারত স্বাধীন হয়। এই অন্দোলনে যে সকল বিপ্লবীর নাম সর্বজন স্বীকৃত তাঁদের মধ্যে  সতীশচন্দ্র পাকড়াশী সরকার প্রথমসারির একজন অন্যতম বিপ্লবী ছিলেন। সতীশচন্দ্র পাকড়াশী সরকার ভারতীয় উপমহাদেশের ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনে এক উল্লেখযোগ্য নাম, যিনি দেশমতৃকার শৃঙ্খল মুক্তির জন্য নিজেকে সঁপে দিয়েছিলেন সম্পূর্ণ রূপে। সতীশ চন্দ্র পাকড়াশী ছিলেন ভারতীয় উপমহাদেশের ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম ব্যক্তিত্ব এবং একজন বাঙালি সশস্ত্র বিপ্লবী।

 

সতীশ চন্দ্র পাকড়াশী ১৮৯১ সালের ১৩ ডিসেম্বর ব্রিটিশ ভারতের নরসিংদীর মাধবদীতে জন্মগ্রহণ করেন। পিতার নাম জগদীশচন্দ্র পাকড়াশী, মাতা মৃণালিনী।

 

১৪ বছর বয়সে, সতীশচন্দ্র তার ছাত্রাবস্থায় বিখ্যাত বিপ্লবী ত্রৈলোক্যনাথ চক্রবর্তী মহারাজের সান্নিধ্যে আসার পর গুপ্ত বিপ্লবী পার্টি অনুশীলন সমিতির সদস্য হন।  ১৯১১ সালে ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর একই বছর অস্ত্র আইনে তাকে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।  মুক্তি পেয়ে তিনি নরসিংদীতে ফিরে গোপনে আবার দলে যোগ দেন।  তাকে মালদায় পাঠানো হয়েছে।  ১৯১৪ সালে তিনি কলকাতায় যান।  সতীশ পাকড়াশি আইবি পুলিশ সুপারকে হত্যা করার দায়িত্ব নেন কিন্তু পরিকল্পনা অনুযায়ী সুপারিনটেনডেন্টের সভাকক্ষে বোমা নিক্ষেপ করা হয় কিন্তু ভুলের কারণে সতীশ নিজেই বোমা নিক্ষেপে গুরুতর আহত হন।  রাজশাহী বিজ্ঞান কলেজের ছাত্ররা তাকে তাদের হোস্টেলে আশ্রয় দিয়ে চিকিৎসা সেবা দেয়।  ব্রিটিশ সরকার তার নামে একাধিক রাজনৈতিক ডাকাতির জন্য পরোয়ানা জারি করে।

 

১৯১৭ সালে, তার সহকর্মী নলিনীকান্ত বাগচীর সাথে তিনি ঢাকায় পুলিশের দমন-পীড়নের জন্য গা ঢাকা দেন।  আরও কয়েকজন সদস্যের সাথে তারা গৌহাটিতে যান এবং সেখান থেকে সারা বাংলাদেশে সশস্ত্র বিপ্লবের কাজ শুরু করেন।  ১৯১৮ সালের ১২ জানুয়ারি পুলিশ তাদের গোপন ঘাঁটি ঘেরাও করলে, ৭ জন পার্শ্ববর্তী নবগ্রহ পাহাড়ে পালিয়ে যায় এবং রিভলবার নিয়ে পুলিশের সাথে লড়াই করে।  ৫ জন ধরা পড়লেও সে ও নলিনীকান্ত বাগচী পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।  দুজনেই পায়ে হেঁটে কলকাতায় চলে যান।  এর কিছুদিন পরই ঢাকায় নলিনীকান্ত শহীদ হন।

 

 

 

১৯১৮ সালে কলকাতায় ধরা পড়লে তাকে প্রথমে প্রেসিডেন্সি জেল ও পরে রাজসাহী জেলে পাঠানো হয়। তিন বছর পরে মুক্তি পান। ১৯২৩ সালে সোভিয়েত রাশিয়া থেকে আগত বিপ্লবী অবনী মুখোপাধ্যায়ের সাথে তাকে রাশিয়ায় পাঠানোর চেষ্টা করে সমিতি তবে তা ব্যর্থ হয়। ১৯২৩ এর সেপ্টেম্বর মাসে তিনি আবার গ্রেফতার হন এবং রাজবন্দী হিসেবে ৫ বছর জেল খাটেন। এই সময় তিনি অলিপুর, মেদিনীপুর, ঢাকা, মহারাষ্ট্রের যারবেদা এবং কর্ণাটকের বেলগাঁও জেলে আটক থাকেন। ১৯২৯ এ মেছুয়াবাজার বোমা মামলায় গ্রেপ্তার হলে তার আন্দামানে দ্বীপান্তর হয়। ১৯৩৩ থেকে ছয় বছর সেলুলার জেলে বন্দী থাকেন। এই সময় তিনি কমিউনিজমে আকৃষ্ট হন। তার জীবনের ৩২ বছর কারান্তরালে কেটেছে। ১১ বছর আত্মগোপন করে ছিলেন।

১৯২৮ সালে তিনি কলকাতায় ধরা পড়লে প্রথমে তাকে প্রেসিডেন্সি জেলে এবং পরে রাজশাহী জেলে পাঠানো হয়।  তিন বছর পর মুক্তি পান তিনি।  ১৯২৩ সালে, সমিতি তাকে সোভিয়েত রাশিয়ার একজন বিপ্লবী অবনী মুখার্জির সাথে রাশিয়ায় পাঠানোর চেষ্টা করে, কিন্তু তা ব্যর্থ হয়।  ১৯২৩ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি আবার গ্রেপ্তার হন এবং রাজকীয় বন্দী হিসাবে ৫ বছর দায়িত্ব পালন করেন।  এসময় তাকে ঢাকার আলিপুর, মেদিনীপুর, মহারাষ্ট্রের জারবেদা ও কর্ণাটকের বেলগাঁও থেকে আটক করা হয়।  ১৯২৯ সালে মেশুবাজার বোমা মামলায় গ্রেফতার হলে তাকে আন্দামান দ্বীপপুঞ্জে স্থানান্তর করা হয়।  ১৯৩৩ সাল থেকে তিনি ছয় বছর সেলুলার জেলে বন্দী ছিলেন।  এ সময় তিনি কমিউনিজমের প্রতি আকৃষ্ট হন।  তার জীবনের 32 বছর কারাগারে কেটেছে।  তিনি ১১ বছর ধরে আত্মগোপনে ছিলেন। তার রচিত গ্রন্থ অগ্নিযুগের কথা। এছাড়া স্বাধীনতা ও অনুশীলন পত্রিকায় তিনি বহু লেখা লিখেছিলেন। ঢাকার প্রগতি লেখক সংঘের প্রবীণ সদস্য ও বাংলাদেশ শহীদ প্রীতি সমিতির সভাপতিও ছিলেন।

 

মৃত্যু—

 

৩০ ডিসেম্বর, ১৯৭৩ সালে  বিপ্লবী সতীশচন্দ্র পাকড়াশী প্রয়াত যান।

 

।।তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ

বিনয় বসু, ব্রিটিশ বিরোধী বাঙালি বিপ্লবী – প্রয়াণ দিবসে শ্রদ্ধাঞ্জলি।

ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন ছিল কিছু মানুষের কঠোর পরিশ্রম যার ফলেই ব্রিটিশদের থেকে ভারত রাজনৈতিক দিক থেকে মুক্তি পেয়েছে। ভারত উপমহাদেশের বিংশ শতাব্দীতে ব্রিটিশ সম্রাজ্যবাদ বিরোধী যে সশস্ত্র বিপ্লববাদী লড়াই-সংগ্রাম সংগঠিত হয় এবং যার ধারাবাহিকতায় ভারত স্বাধীন হয়। এই অন্দোলনে যে সকল বিপ্লবীর নাম সর্বজন স্বীকৃত তাঁদের মধ্যে বিনয় কৃষ্ণ বসু  প্রথমসারির একজন অন্যতম বিপ্লবী ছিলেন। বিনয় কৃষ্ণ বসু  ভারতীয় উপমহাদেশের ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনে এক উল্লেখযোগ্য নাম, যিনি দেশমতৃকার শৃঙ্খল মুক্তির জন্য নিজেকে সঁপে দিয়েছিলেন সম্পূর্ণ রূপে।

 

বিনয় কৃষ্ণ বোস বা বিনয় বোস বা বিনয় বসু ছিলেন ভারতে ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে একজন ভারতীয় বিপ্লবী, যিনি সেক্রেটারিয়েট ভবনে আক্রমণ শুরু করেছিলেন;  বাদল গুপ্ত ও দীনেশ চন্দ্র গুপ্তের সাথে কলকাতার ডালহৌসি স্কোয়ারে রাইটার্স বিল্ডিং।

বোস ১৯০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের মুন্সিগঞ্জ জেলার রোহিতভোগ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।  তার বাবা রেবতীমোহন বসু ছিলেন একজন প্রকৌশলী।  মা ক্ষীরদাবাসিনী দেবী।

বিনয় খুব মেধাবী ছাত্র ছিল।  শৈশব থেকেই বিনয় খুব জেদী এবং আক্রমণাত্মক ছিলেন।  তার বড় সাহস ছিল এবং কোন কিছুতেই তার ভয় ছিল না।  তিনি মধ্যরাতে একাই বেরিয়ে যেতেন বিপ্লবী নেতা হেমচন্দ্র ঘোষের গোপন আস্তানায় এবং অন্যান্য বিপ্লবীদের সাথে দেখা করতেন।  স্কুল শেষ.  বিনয় পড়াশোনায় খুব মনোযোগী ছিল।  কিছুক্ষণ পড়ার সুযোগ পেতেন।  কিন্তু তিনি যা পড়েছেন, মন দিয়ে পড়েছেন।  ডাক্তার হতে চেয়েছিলেন কিন্তু সবকিছু উপেক্ষা করে সশস্ত্র বিপ্লব, স্বদেশী আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়েন।  মেডিকেল কলেজের ছাত্র থাকাকালীন তিনি হেমচন্দ্র ঘোষের কাছ থেকে বিপ্লবের দীক্ষা নেন।

 

নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু ১৯২৮ সালে বেঙ্গল ভলান্টিয়ার্স গঠন করেন। বিশ বছর বয়সী বিনয় বসু বেঙ্গল ভলান্টিয়ার্সের ঢাকা শাখায় যোগদান করেন এবং নেতৃত্ব দেন। ঢাকার কুখ্যাত পুলিশ কর্মকর্তা লোম্যান একের পর এক অন্যায় করে যাচ্ছেন।  অনেককে বিনা বিচারে আটক করা হয়েছে।  এমনকি বাড়ির মহিলাদের শ্লীলতাহানিও করে।  বিপ্লবী দলটি একটি গোপন বৈঠকের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেয় যে লোমানকে যেকোনো উপায়ে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দিতে হবে।  বিপ্লবীরা বিপ্লবীদের বিরুদ্ধে পুলিশের অকথ্য বর্বরতার প্রতিশোধ নেওয়ার সংকল্প করেছিল।  কিন্তু এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব কাকে ন্যস্ত করা যায়?  বিনয় বোসকে অনেক ভেবেচিন্তে নির্বাচিত করা হয়।  ২৯ আগস্ট, ১৯৩০ সালে, পুলিশের মহাপরিদর্শক লোম্যান মিটফোর্ড মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একজন ব্রিটিশ অফিসারকে দেখতে যান।  বিনয় দিবালোকে লোম্যানকে গুলি করে হত্যা করে।  বিনয় বোসের গুলিতে গুরুতর আহত হন লোম্যান এবং তার সঙ্গী পুলিশ সুপার হডসন।  একটি মেডিকেল টিম কলকাতা থেকে বিমানযোগে এসেছিল কিন্তু কুঁচকি এলাকায় গুলিবিদ্ধ লোম্যানকে বাঁচাতে পারেনি।  ধারণা করা হচ্ছে গুলি মাথার খুলিতেও লেগেছে।  পুলিশ এলাকা ঘিরে ফেলে।  কে খুন করেছিল?  খুনি কোথায়?  পুলিশ একে একে সবাইকে জিজ্ঞাসাবাদ করে।  হাসপাতালের মেঝে ঝাড়ু দেওয়া ঝাড়ুদারকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।  কিন্তু ঝাড়ুদার বনে যাওয়া বিনয়কে মুহূর্তের মধ্যে চিনতে পারেনি পুলিশ।  বিনয় বোস মুহুর্তে হাসপাতাল ছেড়ে নিরাপদ স্থানে চলে যেতে সক্ষম হন।

 

লোম্যানের হত্যাকারী আততায়ীকে পুলিশ ধরতে সক্ষম না হলেও আততায়ী যুবক সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করতে পেরেছিল। বিনয়ের সন্ধানদাতার জন্য ১০ হাজার টাকা পুরস্কারও ঘোষনা করল পুলিস। ওই সময় ভারতীয়দের উপর ইংরেজদের অত্যাচার-নির্যাতন শতগুণে বেড়ে যায় । শত শত রাজনৈতিক নেতা-কর্মী ও বিপ্লবীদের গ্রেফতার করে জেলে আটক রেখে চলে নির্যাতন । এই সময় ব্রিটিশ পুলিশ সুভাষচন্দ্র বসু, যতীন্দ্রমোহন সেনগুপ্ত এবং সত্য বক্সীর মতো নেতৃত্বকেও গ্রেফতার করে আলিপুর সেন্ট্রাল জেলে আটকে রাখে । একের পর এক নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করায় আলিপুর সেন্ট্রাল জেলের নির্দিষ্ট ওয়ার্ডে নতুন বন্দীদের জায়গা দেওয়া যাচ্ছিল না । জেলের মধ্যে সৃষ্টি হলো এক অসহনীয় অবস্থা। চলে নির্মম-নিষ্ঠুর অত্যাচার । সুভাষ বসু, যতীন্দ্রমোহন এবং সত্য বক্সীরাও বাদ গেলেন না এই অত্যাচার থেকে । এ ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ল জেলের ভিতরে । জানা গেল এই অত্যাচারের পিছনে রয়েছে ইন্সপেক্টর জেনারেল কর্নেল এনএস সিম্পসন । বিপ্লবীদের টার্গেট হলো কারা বিভাগের ইন্সপেক্টর জেনারেল লে. কর্নেল সিম্পসন ।  তাই বিপ্লবীদের পরবর্তী অভিযান ছিল কোলকাতার ‘রাইটার্স বিল্ডিং’ আক্রমণ । তাকে হত্যার দায়িত্ব পড়ে বিনয় বসু, বাদল গুপ্ত এবং দীনেশচন্দ্র গুপ্ত-এর ওপর । ৯৩০ সালের ৮ ই ডিসেম্বর দীনেশ তার দুই সঙ্গী বিনয় বসু এবং বাদল গুপ্তসহ ইউরোপীয় পোশাকে রাইটার্স বিল্ডিংয়ে প্রবেশ করেন এবং সিম্পসনকে গুলি করে হত্যা করেন । ব্রিটিশ পুলিশও তদের ওপর গুলি চালানো শুরু করেন । ফলে এই তিন তরুণ বিপ্লবীর সাথে পুলিশের সাথে বন্দুক যুদ্ধ শুরু হয় । টোয়াইনাম , প্রেন্টিস ও নেলসন সহ আরো বেশ কিছু অফিসার তাদের গুলিতে আহত হয় । পুলিশ দ্রুতই তাদেরকে যুদ্ধে পরাজিত করে ফেলে । কিন্তু এই তিনজন কোনোভাবেই ইংরেজদের হাতে ধরা দেবেন না প্রতিজ্ঞা করলেন তারা সিদ্ধান্ত নিলেন আত্মহত্যা করবেন । বাদল গুপ্ত সাথে সাথেই পটাশিয়াম সায়ানাইড খেয়ে নিয়েছিলেন, অন্যদিকে বিনয় এবং দিনেশ নিজেদের রিভলবার দিয়ে নিজেদেরকেই গুলি করেছিলেন । বিনয়কে আর দীনেশকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় । সেখানে বিনয়ের চিকিৎসায় সাড়া দিয়ে সবে যখন মাথার ক্ষত শুকাতে শুরু করেছে ডাক্তারির ছাত্রটি ব্যান্ডেজ খুলে নিজেই ওর মধ্যে আঙ্গুল ঢুকিয়ে দিলেন। ১৩ ই ডিসেম্বর সবার অজান্তে মহান এই বিপ্লবী পাড়ি দিলেন মহাপ্রস্থানের পথে মৃত্যুবরণ করলেন।

 

।।তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

 

Share This
Categories
প্রবন্ধ

স্মরণে কিংবদন্তি বাঙালি সঙ্গীতশিল্পী ও সুরকার – জটিলেশ্বর মুখোপাধ্যায়।

জটিলেশ্বর মুখোপাধ্যায় হলেন ভারতের একজন প্রখ্যাত সঙ্গীত পরিচালক, গায়ক ও গীতিকার। তিনি গানকে ভালোবেসেছিলেন, ভালোবাসতেও শিখিয়েছিলেন। বাংলা রবীন্দ্রপরবর্তী যুগে বাংলা গানের জগতে নতুন দিশা দেখিয়েছিলেন জটিলেশ্বর মুখোপাধ্যায়। তাঁর হাত ধরেই বাংলা গানের স্বর্ণযুগের সেতুবন্ধন হয়েছিল। ‘বধূয়া আমার চোখে জল এনেছে’, ‘এ কোন সকাল রাতের চেয়ে অন্ধকার’ তাঁর বিখ্যাত গানগুলোর মধ্যে অন্যতম৷ ২০১৩ সালে তাঁকে রাজ্য সঙ্গীত আকাদেমি থেকে জ্ঞানপ্রকাশ ঘোষ পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। তাঁর এই সৃষ্টি বাঙালির তথা বাংলা গানের হৃদয়ে অমর হয়ে আছে ও থাকবে।

জন্ম ও পারিবারিক পরিচিতি—

 

১৯৩৪ সালের ১৩ ডিসেম্বর অবিভক্ত বাংলার চুঁচুড়ায় জন্মগ্রহণ করেন জটিলেশ্বর মুখোপাধ্যায়। আট ভাইয়ের মধ্যে জটিলেশ্বর সবচেয়ে ছোট। দাদারা অনেকেই ভালো গান গাইতেন । গান গাওয়ার পেছনে তাঁর অনুপ্রেরণা মা অন্নপূর্ণা ও দাদা কপিলেশ্বর মুখোপাধ্যায়। ১৯৫৫ সালে প্রথম আকাশবাণীতে গান গাওয়ার সুযোগ পান জটিলেশ্বর মুখোপাধ্যায়। ১৯৭৪ সালে তাঁর রেকর্ড করা ‘এ কোন সকাল’ গানটি আজো বিভিন্ন ক্ষেত্রে নানা দুরবস্থার কথা তুলে ধরতে ব্যবহার করা হয়।

 

সঙ্গীত চর্চা—

 

সতীনাথ মুখোপাধ্যায়, চিন্ময় লাহিড়ী ও সুধীন দাশগুপ্তের কাছ থেকে তিনি সঙ্গীতের শিক্ষা নেন।১৯৬৩ সালে মেগাফোন থেকে প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম গানের ‘রেকর্ড’। তাঁর প্রথম রেকর্ড সুর ও কথা ছিল সুধীন দাশগুপ্তের। এরপর ১৯৬৪ সালে সলিল চৌধুরীর কথা ও সুরে মেগাফোন থেকেই বের হয় তাঁর দ্বিতীয় রেকর্ড, সেই বিখ্যাত গান ‘পাগল হাওয়া’। এর পর মেগাফোন, এইচএমভি থেকে নিয়মিত প্রকাশিত হতে শুরু করে তাঁর গাওয়া গান।  বাংলা আধুনিক গানের স্বর্ণযুগে অন্য মাত্রা যোগ করে তাঁর কণ্ঠ ও সঙ্গীতারোপের কুশলতা। তাঁর জনপ্রিয় সৃষ্টির মধ্যে অন্যতম ”কেউ বলে ফাগুন/ কেউ বলে পলাশের মাস..”, ”আমার স্বপন কিনতে পারে”, ”আহা ভালোবেসে এই বুঝেছি”, ”এ কোন সকাল রাতের চেয়েও অন্ধকার”, ”কাঁদে গো শচীমাতা নিমাই নিমাই”, ”যদি সত্যিই আমি গান ভালোবেসে থাকি”..প্রভৃতি।

 

পুরস্কার ও সম্মাননা—

 

২০১৩ সালে তিনি পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সঙ্গীত আকাদেমি কর্তৃক জ্ঞানপ্রকাশ ঘোষ পদকে ভূষিত হন। এছাড়াও তিনি সেরা সঙ্গীত পরিচালকের পুরস্কার পেয়েছেন ‘দামু’ ও ‘নটী বিনোদিনী’ চলচ্চিত্রে সুরারোপ করে।

 

মৃত্যু—

 

২১ ডিসেম্বর ২০১৭সালে তিনি প্রয়াত হন। মৃত্যু কালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর। দীর্ঘদিন ধরে শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি। মাল্টি-অরগ্যান ফেলিওর হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়।

।।তথ্য: সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This