Categories
রিভিউ

আজ ১৩ ডিসেম্বর, ইতিহাসের দিকে চোখ বুলিয়ে দেখে নেব ইতিহাসের এই দিনে বিশিষ্টজনদের জন্ম-মৃত্যু, দিনসহ ঘটে যাওয়া ঘটনা।

আজ ১৩ ডিসেম্বর। এক নজরে দেখে নিই ইতিহাসের এই দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য ঘটনা, বিশিষ্টজনদের জন্ম-মৃত্যু দিনসহ গুরুত্বপূর্ণ আরও কিছু বিষয়।

 

আজ যাদের জন্মদিন—-

১৯০৩ – জনপ্রিয় বাঙালি সাহিত্যিক শিবরাম চক্রবর্তী।

 

১৯২৩ – ফিলিপ ওয়ারেন অ্যান্ডারসন, নোবেল পুরস্কার বিজয়ী আমেরিকান পদার্থবিদ ও একাডেমিক।

 

১৯৩৪ – জটিলেশ্বর মুখোপাধ্যায়, কিংবদন্তি বাঙালি সঙ্গীতশিল্পী ও সুরকার।

 

১৯৩৬ – প্রিন্স করিম আগা খান ।

 

১৯৪৫ – হারমান কেইন, আমেরিকান ব্যবসায়ী, সাংবাদিক ও রাজনীতিক।

 

১৯৬০ – ডাগুবাটি ভেঙ্কটেশ, ভারতীয় তেলুগু অভিনেতা।

 

১৯৬৭ – জেমি ফক্স, মার্কিন অভিনেতা, কৌতুকাভিনেতা, গায়ক, গীতিকার ও প্রযোজক।

 

১৯৭৩ – এমরে আশিক, সাবেক তুর্কি ফুটবলার।

 

১৯৮৪ – সান্তি কাজোরলা, স্প্যানিশ ফুটবলার।

১৯৮৭ – নাজমুন মুনিরা ন্যান্সি, বাংলাদেশী সংগীতশিল্পী।

১৯৮৯ – টেইলর অ্যালিসন সুইফট, আমেরিকান গায়ক-গীতিকার, রেকর্ড প্রযোজক ও অভিনেত্রী।

 

১৮৯১ – কমিউনিস্ট দর্শনে বিশ্বাসী ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামী সতীশচন্দ্র পাকড়াশী।

 

১৭৯৭ – ক্রিশ্চিয়ান যোহান হাইনরিশ হাইনে, জার্মান সাংবাদিক, কবি ও সমালোচক।

 

১৫৩৩ – সুইডেনের এরিক ওয়াসা ।

 

ইতিহাসের পাতায় আজকের দিনের ঘটনাবলী—-

২০০১ – রাত ১১টায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডাবলিও বুশ আনুষ্ঠানিকভাবে ১৯৭২ সালে স্বাক্ষরিতমার্কিন-রাশিয়া আন্টি ব্যালিষ্টিক ক্ষেপণাস্ত্র চুক্তি’ থেকে বেরিয়ে আসার কথা ঘোষণা করেন।

২০০১ – ২৯তম অলিম্পকস ক্রীড়া সংস্থার কমিটি পেইচিংএ প্রতিষ্ঠিত হয়।

২০০৩ – ইরাকের সাবেক একনায়ক সাদ্দাম হোসেন সেদেশের উত্তরাঞ্চলীয় শহর তিকরিতের কাছে একটি গোপন আস্তানা থেকে গ্রেফতার হন।

১৯২১ – ওয়াশিংটন সম্মেলন সফল্যজনকভাবে সমাপ্ত হয়। যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, ফ্রান্স আর জাপানের মধ্যে প্রশান্ত মহা সাগর চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

১৯২৩ – ডা. লি.ডি ফরেস্ট মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সর্বপ্রথম সবাক চলচ্চিত্র প্রদর্শন করেন।

 

১৯৩০ – গ্রেফতার এগড়াতে ইংরেজ শাসন বিরোধি বিপ্লবী বিনয় বসু পটাশিয়াম সায়োনেট খেয়ে আত্মহত্যা করেন।

১৯৩৭ – চীনের নানচিং শহরে জাপানী আগ্রাসীসেনাবাহিনীর গণহত্যা যঞ্জশুরু হয়। জাপানের সৈন্যবাহিনী নানচিন শহরে প্রবেশ করার পর পেশাচিক গনহত্যা শুরু করে। এই বিশ্ব-কাঁপানো গণহত্যায় ৩ লক্ষাধিক লোকের প্রাণহানি হয়।

 

১৯৭১ – মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিকসন আর ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট পমপেইটুর মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

১৯৭৮ – চীনের কমিউনিস্ট পাটির ত্রয়োদশ কংগ্রেসের তৃতীয় পূর্ণাংগ অধিবেশন পেইচিংএ সমাপ্ত হয়।

১৯৮১ – পোল্যান্ডের রাষ্ট্রপ্রধান জেরুজালেস্কি পোল্যান্ডে সামরিক শাসন জারি করেন।

১৯৮২ – উত্তর হয়েমেনে ভূমিকম্পে ২ সহস্রাধিক নিহত।

১৯৮৮ – অ্যাঙ্গোলা, কিউবা ও দক্ষিণ আফ্রিকা কঙ্গোর ব্রাজাভিলে নামিবিয়ার স্বাধীনতা ও অ্যাঙ্গোলার শান্তিসংক্রান্ত চুক্তিতে স্বাক্ষর করে।

১৯৯০ – ত্রিশ বছর জাম্বিয়ায় নির্বাসিত জীবন শেষে এএনসি রাষ্ট্রপতি অলিভার পাম্বো দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রত্যাবর্তন করেন।

১৯৯১ – উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়া শান্তি ও অনাক্রমণ সংক্রান্ত ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষর করে।

১৯৯১ – কিশোরগঞ্জে পাকুন্দিয়া পীর মতিউর রহমানের সশন্ত্র বাহিনীর সঙ্গে পুলিশের ৩ দিনব্যাপী সংঘর্ষ শুরু হয় এতে ২ পুলিশসহ ২১ জন নিহত হন।

১৯৯৬ – সন্ধ্যায় জাতি সংঘ নিরাপত্তা পরিষদে কোফি আনান জাতি সংঘ মহাসচিব নিবার্চিত হন।

১৮৭০ – পশ্চিম আফ্রিকার কয়েকটি দেশ দখলের উদ্দেশ্যে ফ্রান্সের আগ্রাসী অভিযান শুরু হয়।

১৮৭৯ – মুসলিম সমাজ সম্মিলনী সভা প্রতিষ্ঠিত হয়।

১৮৮৯ – বেলজিয়াম নারী ও শিশু শ্রম বিষয়ে আইন জারি করে।

১৭৩৪ – ইংল্যান্ড ও রাশিয়া বাণিজ্য চুক্তি করে।

১৭৫৯ – আমেরিকায় প্রথম মিউজিক স্টোর চালু হয়।

১৬৪২ – পর্তুগিজ নাবিক আবেল তাসমান নিউজিল্যান্ড আবিষ্কার করেন।

 

১৫৭৭ – স্যার ফ্রান্সিস ড্রেক বিশ্বভ্রমণের উদ্দেশ্যে প্লিমাউথ থেকে যাত্রা শুরু করেন।

 

এই দিনে মৃত্যুবরণ করেন যারা—-

২০১০ – রিচার্ড হোলব্রকে, আমেরিকান সাংবাদিক ও কূটনীতিক ও জাতিসংঘের ২২ তম মার্কিন রাষ্ট্রদূত।

২০১১ – কবীর চৌধুরী বাংলাদেশের প্রথিতযশা শিক্ষাবিদ, প্রাবন্ধিক ও অনুবাদক।

২০১২ – নাতালিয়া কুস্টিন্সকায়া, রাশিয়ান অভিনেত্রী।

২০২০ – নূর হুসাইন কাসেমী, দেওবন্দি ইসলামি পণ্ডিত ও হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব।

 

১৯৩০ – বিনয় বসু, একজন ব্রিটিশ বিরোধী বাঙালি বিপ্লবী।

১৯৩০ – ফ্রিটজ প্রেগ্ল, নোবেল পুরস্কার বিজয়ী স্লোভেনিয়ান বংশোদ্ভূত অস্ট্রিয়ান রসায়নবিদ ও চিকিৎসক।

১৯৩৫ –  ভিক্টর গ্রিগনারড, নোবেল পুরস্কার বিজয়ী ফরাসি রসায়নবিদ।

১৯৫৫ – এগাস মনিয, নোবেল পুরস্কার বিজয়ী পর্তুগিজ সাইকোলজিস্ট ও নিউরোসার্জন।

১৯৮১ – প্রখ্যাত বাঙালি বিজ্ঞান গবেষক গিরিজাপতি ভট্টাচার্য।

১৯৮৬ – স্মিতা পাতিল বিখ্যাত ভারতীয় চলচ্চিত্র অভিনেত্রী, টেলিভিশন ও থিয়েটার কর্মী।

১৯৯২ – ভারতীয় বাঙালি সঙ্গীতশিল্পী সতীনাথ মুখোপাধ্যায়।

 

১৯৯৩ – অশোকতরু বন্দ্যোপাধ্যায়, ভারতীয় বাঙালি রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী।

 

১৯৯৬ – চীনের নাটকের প্রতিষ্ঠাতা চাও ইউ।

 

১৭৮৪ – ইংরেজ লেখক ও অভিধান প্রণেতা স্যামুয়েল জনসন।

 

১৫৬০ – পোপ দ্বিতীয় ক্যালিস্টাস।

 

১৪৬৬ – দোনাতেল্লো, ইতালিয়ান চিত্রশিল্পী ও ভাস্কর।

 

১২৫০ – রোমান সম্রাট দ্বিতীয় ফেডরিখ।

১০৪৮ – আবু রায়হান মোহাম্মদ ইবনে আহমদ আল বিরুনি, বিশ্বখ্যাত ফার্সি পণ্ডিত, আরবীয় শিক্ষাবিদ ও গবেষক।

 

।।তথ্য : সংগৃহীত ইন্টারনেট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ

ভারতীয় সিনেমায় “অভিনয় দেবতা” হিসেবে আজও জনপ্রিয় ‘থালাইভা’ রজনীকান্ত।

তিনি ‘থালাইভা’ রজনীকান্ত। রঙিন দুনিয়ার এই মানুষটির জনপ্রিয়তা আকাশ ছোঁয়া। শিবাজি রাও গায়কওয়াড়, যিনি তার মঞ্চ নাম রজনীকান্ত নামে পরিচিত, একজন অভিনেতা এবং তামিল চলচ্চিত্র শিল্পের একজন মেগাস্টার। তিনি একজন অভিনেতা, প্রযোজক ও চিত্রনাট্যকার। তিনি এশিয়ার সর্বোচ্চ উপার্জনকারী অভিনেতাদের একজন।  তামিল সিনেমা ছাড়াও, তিনি হিন্দি, তেলেগু, কন্নড় এবং ইংরেজি সিনেমাতেও কাজ করেছেন।  ব্যাঙ্গালোর ট্রান্সপোর্ট সার্ভিসে বাস কন্ডাক্টর হিসেবে কাজ করার সময় তিনি নাটকে অভিনয় শুরু করেন।  ১৯৭৩ সালে, তিনি অভিনয়ে ডিপ্লোমা করার জন্য মাদ্রাজ ফিল্ম ইনস্টিটিউটে যোগ দেন।  এখানেই তিনি কে. বালাচন্দরের নজরে পড়েন, যিনি তাঁকে ১৯৭৫ সালের চলচ্চিত্র অপূর্ব রাগাঙ্গালে তার প্রথম বিরতি দেন।  অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি প্রযোজক ও চিত্রনাট্যকার হিসেবেও কাজ করেছেন।  তাঁর চলচ্চিত্র কর্মজীবন ছাড়াও, তিনি একজন জনহিতৈষী, আধ্যাত্মবাদী এবং দ্রাবিড় রাজনীতিতে একটি প্রভাব হিসাবে কাজ করেন।  শিল্পকলায় অবদানের জন্য ভারত সরকার তাকে ২০০০ সালে পদ্মভূষণ এবং ২০১৬ সালে পদ্মবিভূষণে ভূষিত করেছে।   রজনীকান্তের ব্যাপক জনপ্রিয়তা এবং আবেদন মূলত তাঁর আচরণ এবং সংলাপের স্টাইলাইজড ডেলিভারি থেকে টানা হয়েছে।

রজনীকান্ত ১৯৫০ সালে ১২ ডিসেম্বরে জন্মগ্রহণ করেন,তিনি জন্মগ্রহণ করেন ভারতের মিসোর রাজ্যের বেঙ্গালুরুতে একটি মারাঠি পরিবারে, যা বর্তমানে কার্নাটকের একটি অংশ। তাঁর নাম রাখা হয় ছত্রপতি শিবাজীর নাম অনুসারে শিবাজী রাও গায়েকোয়াড ,একজন যোদ্ধা, এবং যিনি মারাঠি এবং কন্নড় ভাষার মানুষদের আনেন।

ছয় বছর বয়সে, রজনীকান্ত “গাভিপুরাম সরকারি কন্নড় মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে” ভর্তি হন এবং সেখানে তার প্রাথমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন। শিশু হিসেবে, তিনি ক্রিকেট, ফুটবল এবং বাস্কেটবল খেলতে অনেক আগ্রহী চিলেন এবং অনেক দুষ্ট ছিলেন। এই সময় তার ভাই তাকে রামকৃষ্ণ মিশন কর্তৃক স্থাপিত রামকৃষ্ণ মঠে নিয়ে যান। মঠে তিনি বেদ শিখতেন, ঐতিহ্যবাহী এবং ঐতিহাসিক গ্রন্থ, যা মনে প্রভাব ফেলে। আধ্মাতিক শিক্ষার সাথে, তিনি মঠে নাটকে অভিনয়ও করা শুরু করেন। মঠে অভিনয়ের পর থেকে অভিনয়ের প্রতি তার অদম্য স্পৃহা জাগে এবং তিনি হিন্দু মহাকাব্য মহাভারত-এ “একলব‌্য” এর বন্ধুর চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পান। তাঁর পরিবেশনা দর্শকের কাছ থেকে এবং কন্নড় কবি ডি.আর.বেন্দ্রের কাছ থেকে আলাদাভাবে প্রশংসা অর্জন করেন।

ভারতীয় শহর বেঙ্গালুরুতে বেড়ে উঠেন, রজনীকান্ত অসচ্ছল জীবনের সাথে লড়াই করে কাটিয়েছেন তাঁর শৈশব। রজনীকান্ত লাতা রাঙ্গাচড়িকে বিয়ে করেন। লতা এথিরাজ মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন, যিনি তাঁদের কলেজ ম্যাগাজিনের জন্য রজনীকান্তের সাক্ষাৎকার নেওয়ার জন্যে গিয়েছিলেন। তাদের বিয়ে হয় ১৯৮১ সালে ২৬ ফেব্রুয়ারি, অন্ধ্র প্রদেশের ত্রিপাটিতে। তাঁদের দুই মেয়ে “ঐশ্বর্য্য রজনীকান্ত” এবং “সৌন্দর্য্য রজনীকান্ত”। তার স্ত্রী, লতা রজনীকান্ত, বর্তমানে একটি “আশ্রম” নামে একটি বিদ্যতালয় পরিচালনা করেন।
বেঙ্গালুরু মেট্রোপলিটন ট্রান্সপোর্ট কর্পোরেশনের বাসের সহকারী হিসেবে কাজ করা অবস্থায় তিনি নাটকে অভিনয় করতেন। তিনি ১৯৭৩ সালে মাদ্রাজ আসেন “মাদ্রাজ ফিল্ম ইনিস্টিটিউট” থেকে অভিনয়ের উপর ডিপ্লোমা পড়ার জন্য। তামিল চলচ্চিত্রে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করতে করতে রজনীকান্ত একসময় অভিনেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। তারপর থেকে, ভারতীয় জনপ্রিয় সংস্কৃতিতে তিনি “ অভিনয় দেবতা” হিসেবে জনপ্রিয় হন।রজনীকান্ত ১৯৮৩ সালে হিন্দি সিনেমায় আত্মপ্রকাশ করেন, একটি চরিত্রেআন্ধা কানুন , একটি চলচ্চিত্র যা তাঁকে বলিউড মেগাস্টারের সাথে জুটিবদ্ধ করেছিলঅমিতাভ বচ্চন । তিনি মুকুল আনন্দের হাম (১৯৯১) সহ আরও দুটি হিন্দি ছবিতে বচ্চনের সাথে অভিনয় করেছিলেন । রজনীকান্ত ভারতের অনেক বড় ব্লকবাস্টার চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন , যার মধ্যে রয়েছে মুন্ড্রু মুগাম (১৯৮২), থালাপাথি (১৯৯১), বাশা (১৯৯৫), পদয়াপ্পা (১৯৯৯), এবং সায়েন্স-ফিকশন থ্রিলার।Enthiran (২০১০) এবং এর সিক্যুয়াল,2.0 (২০১৮); পরবর্তী দুটি সিনেমায় তিনি রোবট চিট্টি বাবু এবং এর নির্মাতা ডক্টর ভাসিগারন উভয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন।ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলের সিনেমায় অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি যুক্তরাষ্ট্রের চলচ্চিত্রসহ অন্যান্য দেশের সিনেমাতেও অভিনয় করেছেন। তবে সম্প্রতি রজনীকান্তের দীর্ঘ কেরিয়ার জীবনে অন্যতম সফল ছবি হিসেবে থেকে গেল জেলার বক্সফিসে যা ইতিহাস সৃস্টি করেছে।

রজনীকান্ত তার অভিনীত অনেক সিনেমার জন্য অসংখ্য পুরস্কার অর্জন করেন, বিশেষভাবে তামিল সিনেমার জন্যে। তিনি প্রথম “ফিল্মফেয়ার সেরা তামিল অভিনেতা পুরস্কার” অর্জন করেন ১৯৮৪ সালে “নাল্লাভানুকু নাল্লাভান” সিনেমার জন্যে।তিনি ২০১৯ সালে দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার লাভ করেন। ২০১৩ সালে, তিনি ছয়টি “তামিলনাড়ু স্টেট চলচ্চিত্র পুরস্কার” অর্জন করেন। যার মধ্যে চারটি সেরা অভিনেতা এবং বাকি দুইটি সেরা অভিনেতা হিসেবে বিশেষ পুরস্কার এবং ফিল্মফেয়ার সেরা অভিনেতা পুরস্কার – তামিল। তিনি ভারতের তৃতীয় বেসামরিক সম্মান পদ্মভূষণ অর্জন করেন।

।। তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

 

Share This
Categories
রিভিউ

আজ ১২ ডিসেম্বর, ইতিহাসের দিকে চোখ বুলিয়ে দেখে নেব ইতিহাসের এই দিনে বিশিষ্টজনদের জন্ম-মৃত্যু, দিনসহ ঘটে যাওয়া ঘটনা।

আজ ১২ ডিসেম্বর। এক নজরে দেখে নিই ইতিহাসের এই দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য ঘটনা, বিশিষ্টজনদের জন্ম-মৃত্যু দিনসহ গুরুত্বপূর্ণ আরও কিছু বিষয়।

 

দিবস—–

 

(ক)  কেনিয়ার জাতীয় দিবস।

 

(খ) ডিজিটাল বাংলাদেশ দিবস।

 

আজ যাদের জন্মদিন—-

১৯০৫ – ইংরাজী সাহিত্যের ভারতীয় লেখক মুলকরাজ আনন্দ।

 

১৯১০ – বিমল ঘোষ, খ্যাতনামা বাঙালি শিশুসাহিত্যিক।

 

১৯১৫ – আমেরিকান গায়ক ও অভিনেতা ফ্রাঙ্ক সিনাত্রার।

 

১৯২৭ – ইন্টেলের সহ প্রতিষ্ঠাতা রবার্ট নর্টন নয়েস।

 

১৯৩৪ – আবদুল গাফফার চৌধুরী, সাংবাদিক

১৯৪০ – বাঙালি কবি পবিত্র মুখোপাধ্যায়।

 

১৯৫০ – রজনীকান্ত, ভারতীয় অভিনেতা, প্রযোজক ও চিত্রনাট্যকার।

 

১৯৮০ – ভারতীয় অভিনেতা সিদ্ধার্থ শুক্লা।

 

১৯৮১ – যুবরাজ সিং, ভারতীয় ক্রিকেটার।

 

১৯৮৪ – পাকিস্তানি ক্রিকেটার সোহেল তানভীর।

১৯৮৬ – ইংরেজ অভিনেতা টমাস ওয়ান্সেয়।

 

১৮৬৬ – আলফ্রেড ওয়ের্নার, নোবেল পুরস্কার বিজয়ী সুইস রসায়নবিদ ও একাডেমিক।

 

১৮৮০ – আবদুল হামিদ খান ভাসানী, বাংলাদেশী রাজনীতিবিদ।

 

১৭৩১ – ইরাসমাস ডারউইন, ইংরেজ চিকিৎসক, প্রাকৃতিক দার্শনিক, চিকিৎসাবিজ্ঞানী, উদ্ভাবক এবং কবি।

 

ইতিহাসের পাতায় আজকের দিনের ঘটনাবলী—-

২০১৩ –  দেশের সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে জামায়াত নেতা আবদুল কাদের মোল্লার ফাঁসি রাত ১০ টা এক মিনিটে কার্যকর করা হয় ।

১৯০১ – ইতালির পদার্থবিদ এবং বেতার যন্ত্রের অগ্রদূত গুগলিয়েলমো মার্কনি আটলান্টিক মহাসাগরের এক কুল থেকে অপর কুলে প্রথম সফল ভাবে বেতার বার্তা প্রেরণ করতে সক্ষম হয়েছিলেন।

১৯০৪ – আলেম ও স্বাধীনতাকামীরা তেহরান ত্যাগ করে পবিত্র নগরী কোমে অভিবাসন শুরু করেছিলেন।

 

১৯১১ – বঙ্গভঙ্গ আইন রদ করা হয় এবং ব্রিটিশ ভারতের রাজধানী কলকাতা থেকে দিল্লিতে স্থানান্তরিত করা হয়।

১৯২৫ – ইরানের রাজবংশের পরিবর্তন ঘটে। ১৫৩ বছরের কাজার রাজ বংশের অবসান ঘটে এবং পাহলভী বংশের ৫৩ বছরের শাসনের শুরু হয়।

১৯২৫ – ইরানের মজলিশ রেজা খানকে ইরানের নতুন শাহ মনোনীত করা হয়।

১৯৪১ – যুক্তরাজ্য বুলগেরিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। হাঙ্গেরী ও রোমানিয়া আমেরিকার যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। ভারত জাপানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে।

১৯৫২ – জেনিভায় অনুষ্ঠিত বিশ্ব সম্মেলনকে অভিনন্দন জানানোর জন্যে ফ্রান্সের বিখ্যাত চিত্রশিল্পী পিকাসোর নতুন চিত্রাঙ্কন শান্তির কপোত প্রদান করেন।

১৯৫৮ – গায়না জাতিসংঘে যোগ দেয়।

১৯৬৩ – কেনিয়া ব্রিটেনের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভ করে।

১৯৬৪ – কেনিয়ার স্বাধীনতার অগ্রাধিনায়ক জোমো কেনিয়াত্তা কেনিয়ার প্রথম প্রেসিডেন্ট হন।

১৯৭১ – কক্সবাজার ও নরসিংদী জেলা পাক হানাদার মুক্ত হয়।

১৯৭৯ – চীনের বিখ্যাত আধুনিক লেখক লুসুইন গবেষণা সমিতি পেইচিংএ প্রতিষ্ঠিত হয়।

১৯৭৯ – কলম্বিয়ায় ভূমিকম্পে ৭শ’ লোকের প্রাণহানি ঘটে।

১৯৮৫ – ভোরবেলায় যুক্তরাষ্ট্রের একটি বে-সামরিক ভাড়াটে বিমান ক্যানাডার নিউফান্ডল্যান্ডে ভূপাতিত হয়। বিমানের ২৫০ জন যাত্রী আর ৮ জন ক্রু সদস্য প্রাণ হারান।

 

১৯৮৮ – অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি গুলাম ইসহাক খান পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।

১৯৮৯ – জাতিসংঘ শিশুর নাগরিক অধিকার সংক্রান্ত একটি সনদ গ্রহণ করে।

১৯৯০ – দুর্নীতির অভিযোগে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে সপরিবারে গ্রেফতার করা হয়।

১৯৯১ – রাশিয়ান ফেডারেশন সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে স্বাধীন হয়।

১৯৯১ – উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে অনাক্রমণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

১৯৯২ – দু’দিনব্যাপী ইইউর শীর্ষ সম্মেলন জেনিভায় সমাপ্ত হয়।

 

১৯৯২ – ইন্দোনেশিয়ায় প্রচন্ড ভূমিকম্পে ২৫০০ লোকের প্রাণহানি।

১৯৯৩ – অক্টোবরের বিপ্লবের পর [১৯১৭] প্রথমবারের মতো রাশিয়ায় বহুদলীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

১৯৯৪ – চীনের সাংহাইয়ের ১ নম্বর পাতাল রেলপথ আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়।

 

১৯৯৬ – শেখ হাসিনা ও দেবগেওড়ার মধ্যে বাংলাদেশ-ভারত ৩০ বছর মেয়াদী পানিবণ্টন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

১৯৯৭ – বিশ্বের এক নম্বর সন্ত্রাসবাদী কালোসের বিচার হয়।

১৮০৪ – ব্রিটেনের বিরুদ্ধে স্পেনের যুদ্ধ ঘোষণা করা হয়।

 

১৮৯৭ – ব্রাজিলের প্রথম পরিকল্পিত শহড় বেলো হরিজন্টে প্রতিষ্ঠিত হয়।

 

১৩৩৮ – দিল্লীতে তৈমুর লং কর্তৃক ১ লাখ লোক খুন হয়।

১০৯৮ – প্রথম ধর্মযুদ্ধে মা’নাত আল নুমানের গণহত্যা:

 

এই দিনে মৃত্যুবরণ করেন যারা—-

২০০১ – জাঁ রিচার্ড, ফরাসি অভিনেতা ও গায়ক।

 

২০০৩ – আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট হায়দার আলিয়েভ।

২০০৫ – সন্দীপন চট্টোপাধ্যায় বাংলা সাহিত্যের ‘আভা গার্দ’ লেখকগোষ্ঠির অন্যতম ভারতীয় বাঙালি সাহিত্যিক।

২০১০- পিটার পাগেল, জার্মান ফুটবল খেলোয়াড়।

 

২০১৩ – এজরা সেলার্স, আমেরিকান মুষ্টিযোদ্ধা।

 

১৯৫১ – মিলড্রেড বেইলি, আমেরিকান গায়ক।

১৯৫৪ – ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামী, বিপ্লবী কিরণশঙ্কর রায়।

 

১৯৫৬ – খ্যাতনামা ভারতীয় বাঙালি সুরকার, গীতিকার ও সঙ্গীত পরিচালক অনুপম ঘটক।

 

১৯৬৩ – জাপানি চলচ্চিত্রকার ইয়াসুজিরো ওজু।

১৯৬৫ – হেমেন্দ্রনাথ ঘোষ,ভারতে প্রথম সিরাম ভ্যাকসিন ও পেনিসিলিন প্রস্তুতকারক বিশিষ্ট ভেষজ বিজ্ঞানী ও চিকিৎসক।

১৯৭১ – সাংবাদিক নিজামুদ্দিন আহমদ শহীদ হন।

 

১৯৭৮ – ইংরেজ অভিনেত্রী ও গায়ক ফায় কম্পটন।

 

১৯৮৬ – রশিদ চৌধুরী, একুশে পদক প্রাপ্ত বাংলাদেশী চিত্রশিল্পী।

 

১৮৮৯ – ইংরেজ কবি রবার্ট ব্রাউনিং।

 

১৬৮৫ – জন পেল, ইংরেজ বীজগণিতবিদ, জ্যামিতিজ্ঞ এবং জোতির্বিদ।

 

।।তথ্য : সংগৃহীত ইন্টারনেট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

আজ আন্তর্জাতিক পর্বত দিবস, জানুন দিনটি কেন পালিত হয় ও গুরুত্ব।

প্রতি বছর প্রতি মাসের নির্দিষ্ট কিছু দিনে বিভিন্ন দেশেই কিছু না কিছু দিবস পালিত হয়। ঐ নির্দিষ্ট দিনে অতীতের কোনো গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাকে স্মরণ করা বা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরি করতেই এই সমস্ত দিবস পালিত হয়। এমনি ভাবে প্রতিবছর ১১ ডিসেম্বর বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক পর্বত দিবস দিনটি পালিত হয়ে আসছে। পার্বত্য এলাকার মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ও টেকসই ভবিষ্যতকে সামনে রেখে জাতিসংঘ ২০০৩ সালের ১১ ডিসেম্বরকে আন্তর্জাতিক পর্বত দিবস হিসেবে ঘোষণা করে।রাষ্ট্রসংঘ ২০০২ সালটিকে প্রথম ‘আন্তর্জাতিক পর্বত বছর’ (International Mountain Year) হিসেবে ঘোষণা করে। এই আন্তর্জাতিক পর্বত বছর পালন শুরু হয় নিউ ইয়র্কে। আর ঠিক তার পরের বছর অর্থাৎ ২০০৩ সাল থেকে ১১ ডিসেম্বর ‘আন্তর্জাতিক পর্বত দিবস’ পালন করা শুরু হয় সমগ্র বিশ্ব জুড়ে। রাষ্ট্রসংঘের উদ্যোগে বিভিন্ন খাদ্য ও কৃষিকেন্দ্রিক সংস্থাগুলি এই দিবস পালনের জন্য বেশি সক্রিয় থাকে।
তাই প্রকৃতির অপরূপ দান পাহাড়-পর্বত সুরক্ষা করে প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে পালিত হয় ‘আন্তর্জাতিক পর্বত দিবস’।

 

তাছাড়া, বিশ্বের বহু মানুষের জীবিকা পর্যটনের উপর নির্ভরশীল। সেই কারণে পর্বত পর্যটনকে টিকিয়ে রাখা বহু মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। পর্বত পর্যটন যেমন বহু মানুষের জীবিকার ব্যবস্থা করতে পারে, তেমনই দারিদ্র্য দূর করে, সামাজিক মেলবন্ধন ঘটায় এবং প্রকৃতির ভারসাম্য বজায় রাখতেও সাহায্য করে। পাশাপাশি পর্যটনের মাধ্যমে প্রকৃতি, সংস্কৃতি, আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য তুলে ধরার সুযোগ পাওয়া যায়। পাহাড় কে না ভালোবাসে। বহু মানুষই পাহাড়ে বেড়াতে যেতে ভালবাসেন। তাই তাঁদের জন্য আজকের দিনটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত পাহাড়ে গেলে যেমন প্রকৃতির সঙ্গে একাত্মতা তৈরি হয়, তেমনই মন উদার হয়। যাঁরা পাহাড়ে বেড়াতে যান, তাঁদের দায়িত্ব হল প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রাখা। যত্রতত্র আবর্জনা ফেলে প্রাকৃতিক পরিবেশ নষ্ট করা কোনওভাবেই কাম্য নয়।
রাষ্ট্রসংঘের পরিসংখ্যান অনুযায়ী বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় ১৫ শতাংশ মানুষ পার্বত্য অঞ্চলে বসবাস করেন। এমনকি জীববৈচিত্র‍্যের ৫০ শতাংশ হটস্পট এলাকাই বিভিন্ন পর্বতের অন্তর্গত। প্রায় অর্ধেক মানবসম্প্রদায় পর্বতজাত মিষ্টি জল খেয়ে জীবনধারণ করে থাকে। পৃথিবীর প্রায় ২২ শতাংশই পার্বত্য অঞ্চল। এই অঞ্চলগুলি ৬০ থেকে ৮০ শতাংশ মিষ্টি জলের উৎস। পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের জীবন অত্যন্ত বৈচিত্র্যময়। পর্বতমালা, নদ-নদী, বহু প্রজাতির উদ্ভিদ ও প্রাণী এ অঞ্চলকে করেছে বৈচিত্র্যপূর্ণ। যেকোনো দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের স্বার্থে পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়ন অপরিহার্য। তাই এইসকল কারণে পর্বতের উন্নয়নসাধন আমাদের কাছে অত্যন্ত প্রয়োজনীয় এবং তাৎপর্যপূর্ণ। কিন্তু আজকের বিশ্বে প্রকৃতি পরিবর্তিত হচ্ছে। অতিমাত্রায় বিশ্ব উষ্ণায়ন প্রাকৃতিক পরিবেশের স্বাভাবিকতাকে ব্যাহত করছে। পর্বতমালার জলবায়ু পরিবর্তিত হওয়ায় সেখানকার জীবকুল অত্যন্ত সংকটাপন্ন। বিশ্ব উষ্ণায়নের কারণে পার্বত্য অঞ্চলের মানুষদের জীবনধারণ আরো কঠিন হয়ে পড়েছে কারণ হিমবাহগুলি এত দ্রুত হারে গলে যাচ্ছে যে তা স্বাভাবিক জলের উৎসকে প্রভাবিত করছে। আর তার থেকেও বড় অতিরিক্ত জলে প্লাবিত হবার আশঙ্কাও বেড়ে যাচ্ছে। তাই আমাদের সকলকেই দূষণ রোধে অগ্রণী হতে হবে যাতে উষ্ণতা বৃদ্ধি কমানো যায়। তা না হলে আগামীতে বিপন্ন হবে এখনকার জীবনযাত্রা। তাই সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রতি বছর ১১ ডিসেম্বর বিশ্বজুড়ে ‘আন্তর্জাতিক পর্বত দিবস’ পালিত হয়। আধুনিক বিশ্বে বিপন্ন প্রকৃতির কথা মাথায় রেখে পর্বতের রক্ষণাবেক্ষণ এবং তার উন্নয়নের ধারণা থেকেই এই দিনটি পালন করা হয়ে থাকে। পাশাপাশি পর্বতের পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন, জলবায়ু পরিবর্তন, জীববৈচিত্র্য ইত্যাদি বিষয়ের গুরুত্ব তুলে ধরাই এই দিবসের উদ্দেশ্য।

 

আন্তর্জাতিক পর্বত দিবস কীভাবে উদযাপন করবেন।

আন্তর্জাতিক পর্বত দিবস আনন্দ এবং শিক্ষামূলক উপায়ে উদযাপন করা যেতে পারে। হাইকিং উত্সাহীরা আনন্দের সাথে সাথে দূরবর্তী স্থানগুলি উপভোগ করতে সক্ষম হবেন যেগুলি খুব কমই ভ্রমণ করেন। আপনি শহরের জীবনের আলোক দূষণ এবং কোলাহল থেকে দূরে ক্যাম্পে বসতি স্থাপন করতে পারেন।
অথবা হয়ত আপনি ড্রাইভ করতে পছন্দ করেন, পাহাড়ের ধারে ঘুরাঘুরির রাস্তার মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর কিছু দেশ আছে যা কাছে বা দূরে পাওয়া যায়।
আপনি এই দিনে পর্বতারোহণ বা হাইক করার পরিবর্তে আপনার মাউন্টেন বাইক নিয়ে যেতে পারেন। পাহাড়ের দর্শনীয় স্থানগুলি উপভোগ করতে পারেন।  তবে সর্ব প্রথম আপনি নিরাপত্তা অগ্রাধিকার নিশ্চিত করুন। সর্বদা একটি হেলমেট পরুন এবং আপনার বাইকটি আগে থেকেই পরীক্ষা করে নেওয়া ভাল।

ক্যাম্পিং করতে আপনি আন্তর্জাতিক পর্বত দিবসও ব্যবহার করতে পারেন।  পাহাড়ে সপ্তাহান্তে ক্যাম্পিং একটি অবিশ্বাস্য অভিজ্ঞতা।  আপনি সম্পূর্ণ ক্যাম্পিং অভিজ্ঞতার জন্য যেতে চাইতে পারেন। সিদ্ধান্ত আপনার।  আপনার চারপাশের পাহাড় এবং আকাশের তারা দেখার মতো কিছু নেই।  এটি একটি অবিশ্বাস্য অভিজ্ঞতা, এবং অবশ্যই আন্তর্জাতিক পর্বত দিবস কাটানোর সেরা উপায়গুলির মধ্যে একটি।  সুতরাং, এভাবে আপনি একটি দুর্দান্ত ক্যাম্পিং উইকএন্ড উপভোগ করুন।

 

।।তথ্য : সংগৃহীত ইন্টারনেট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ

জন্মদিনে স্মরণে, আরামবাগের গান্ধী নামে খ্যাত ,ভারতীয় বাঙালি স্বাধীনতা সংগ্রামী -বিভূতিভূষণ সরকার ।

ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন ছিল কিছু মানুষের কঠোর পরিশ্রম যার ফলেই ব্রিটিশদের থেকে ভারত রাজনৈতিক দিক থেকে মুক্তি পেয়েছে। ভারত উপমহাদেশের বিংশ শতাব্দীতে ব্রিটিশ সম্রাজ্যবাদ বিরোধী যে সশস্ত্র বিপ্লববাদী লড়াই-সংগ্রাম সংগঠিত হয় এবং যার ধারাবাহিকতায় ভারত স্বাধীন হয়। এই অন্দোলনে যে সকল বিপ্লবীর নাম সর্বজন স্বীকৃত তাঁদের মধ্যে  বিভূতিভূষণ সরকার প্রথমসারির একজন অন্যতম বিপ্লবী ছিলেন।  বিভূতিভূষণ সরকার ভারতীয় উপমহাদেশের ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনে এক উল্লেখযোগ্য নাম, যিনি দেশমতৃকার শৃঙ্খল মুক্তির জন্য নিজেকে সঁপে দিয়েছিলেন সম্পূর্ণ রূপে।

 

বিভূতিভূষণ সরকার ছিলেন একজন ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রামী ও সমাজসেবী।  তিনি পশ্চিমবঙ্গের তৃতীয় মুখ্যমন্ত্রী, ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের নেতা, আরামবাগের গান্ধী নামে পরিচিত প্রফুল্ল চন্দ্র সেনের বিশ্বস্ত জেনারেলদের একজন ছিলেন।

বিভূতিভূষণ সরকার ১১ ডিসেম্বর, ১৯১৫ সালে ব্রিটিশ ভারতের হুগলি জেলার পশ্চিমবঙ্গের পুরশুরার ভূয়েরা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।  তিনি ছিলেন যতীন্দ্রনাথ সরকার ও শৈলবালা দেবীর জ্যেষ্ঠ সন্তান।  বিভূতিভূষণ সরকার প্রমীলা দেবীকে বিয়ে করেন।  নবকুমার সরকার ওরফে স্বামী অসীমানন্দ তাদের সাত সন্তানের মধ্যে দ্বিতীয়।

ছোটবেলায় স্বাধীনতা আন্দোলনে যোগ দেন।  যে কারণে স্কুলের পর তাঁর লেখাপড়ার অগ্রগতি হয়নি।  এক পর্যায়ে তিনি জাতীয় কংগ্রেসের গান্ধীবাদী নেতা প্রফুল্ল চন্দ্র সেনের কাছাকাছি আসেন।  তাঁর সঙ্গে ‘সত্যাগ্রহ’ ও ‘ভারত ছাড়ো’ আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।  কিন্তু তিনি ছিলেন চরমপন্থী।  ১৯৩০-এর দশকে ঘাটাল থানার কনস্টেবল ব্রিটিশ শাসকদের অনুগত হয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করছিলেন।  ভার পড়ল বিভূতিভূষণের উপর তাঁকে শাস্তি দেওয়ার।  বিভূতিভূষণ তাকে ঘাটাল বাজারে কঠিন শাস্তি দেন।  তিনি দীর্ঘদিন ধরে কারাবরণ করেন।  এসময় তাঁর হাতের প্রতিটি আঙুলে সূঁচ পেঁচিয়ে নির্যাতন করা হয়।  ফলে শেষ জীবনে তাঁর সমস্ত আঙ্গুল অকেজো হয়ে পড়ে।  ১৯৪০-৪১ সালে, সুভাষ চন্দ্র বসু দলীয় কর্মসূচিতে একবার পুরশুরা এসেছিলেন।  সেখান থেকে তিনি বিভূতিভূষণের সঙ্গে একটি হাতিতে চড়ে চন্দ্রকোনার কালিকাপুরে যান।  স্বাধীনতা আন্দোলনের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে বিভূতিভূষণকে অনেক দিন আরামবাগ ও চুঁচুড়া জেলে কাটাতে হয়েছে।  যদিও প্রফুল্ল চন্দ্র সেন বড়ডোঙ্গালে ‘সাগরকুঠি’ নির্মাণ করে একদিকে সমাজসেবা হিসেবে স্বাধীনতা আন্দোলনের কাজ চালিয়ে গেলেও, সেই সময় স্বাধীনতা আন্দোলনের মূল ঘাঁটি ছিল শ্রীমন্তপুরে বিভূতিভূষণের দ্বিতীয় তলায়।  ভগ্নিপতির গোয়ালঘর।  সেখান থেকে প্রফুল্ল চন্দ্র সেনের সংগ্রামের বিশ্বস্ত সেনাপতি ছিলেন বিভূতিভূষণ।
স্বাধীনতার পর, বিভূতিভূষণ স্বদেশমন্ত্রে দীক্ষিত অনেক ব্যক্তিত্বের সাথে রাজনীতি থেকে সরে আসেন এবং পুরোপুরি সমাজসেবায় নিযুক্ত হন।  জীবনের শেষ অধ্যায়টা কাটাও তোমার কামারপুকুর বাড়িতে।  পরে তিনি দক্ষিণপন্থী হিন্দুত্ববাদী সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের আদর্শে বিশ্বাসী হয়ে ওঠেন।

 

সমাজসেবামূলক কাজে তিনি স্থানীয় মানুষের কল্যাণে যে কাজ শুরু করেছিলেন তা তাঁর উত্তরসূরিরা তাঁর নামে গঠিত ট্রাস্ট- ‘বিভূতিভূষণ সরকার সেবা সংস্থা’র মাধ্যমে চালিয়ে যাচ্ছেন। ভুঁয়েড়া গ্রামে তার নামে একটি দাতব্য হাসপাতাল, একটি বিনা বেতন শিক্ষা কেন্দ্র এবং একটি এতিমখানা রয়েছে।

 

স্বাধীনতার পঁচিশ বৎসর পূর্তিতে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতী ইন্দিরা গান্ধী ১৯৭২ খ্রিস্টাব্দের ১৫ আগস্ট তাকে ‘তাম্রপত্র স্বাধীনতা সংগ্রামী পুরস্কার’ দিয়ে সম্মানিত করেন।

 

বিভূতিভূষণ সরকার ১৯৮৮ খ্রিস্টাব্দের ১৯ জুলাই কামারপুকুরে প্রয়াত হন।

 

।।তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
রিভিউ

আজ ১১ ডিসেম্বর, ইতিহাসের দিকে চোখ বুলিয়ে দেখে নেব ইতিহাসের এই দিনে বিশিষ্টজনদের জন্ম-মৃত্যু, দিনসহ ঘটে যাওয়া ঘটনা।

আজ ১১ ডিসেম্বর। এক নজরে দেখে নিই ইতিহাসের এই দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য ঘটনা, বিশিষ্টজনদের জন্ম-মৃত্যু দিনসহ গুরুত্বপূর্ণ আরও কিছু বিষয়।

 

দিবস—–

 

(ক)  জাতীয় ট্যাঙ্গো দিবস। (আর্জেন্টিনা)

 

(খ) আজ আন্তর্জাতিক পাহাড় দিবস।

 

আজ যাদের জন্মদিন—-

২০০০ – দীপঙ্কর সাহা (দীপ) আধুনিক বাংলার আধুনিক যুগের কবি বা খুদে কবি।

 

১৯১১ – নাগিব মাহফুজ, নোবেল বিজয়ী মিশরীয় সাহিত্যিক।

 

১৯১৫ – বিভূতিভূষণ সরকার,ভারতীয় বাঙালি স্বাধীনতা সংগ্রামী।

 

১৯১৮ – নোবেলজয়ী [১৯৭০] রুশ লেখক আলেক্সান্দ্র্‌ সলজেনিৎসিন।

 

১৯২২ – দিলীপ কুমার (জন্ম নাম মুহাম্মদ ইউসুফ খান)’ট্রাজেডি কিং’নামে সুপরিচিত ভারতীয় চলচ্চিত্র অভিনেতা।

 

১৯২৪ – কথাসাহিত্যিক সমরেশ বসুর (কালকূট)।

 

১৯২৮ – খান আতাউর রহমান, বাংলাদেশী চলচ্চিত্রাভিনেতা, সুরকার, গায়ক ও চলচ্চিত্র নির্মাতা।

 

১৯৩৫ – ভারতরত্ন প্রণব মুখোপাধ্যায়, ভারতীয় বাঙালি রাজনীতিবিদ তথা জাতীয় কংগ্রেসের শীর্ষস্থানীয় নেতা পরবর্তীতে ভারতের প্রথম বাঙালি ও ত্রয়োদশ রাষ্ট্রপতি।

 

১৯৪২ – আনন্দশঙ্কর বিশ্ববিখ্যাত বাঙালি সঙ্গীতজ্ঞ, ফিউশন মিউজিকের গুরু।

১৯৫৪ – জ্যাকসন ৫-এর সদস্য ও মাইকেল জ্যাকসনের ভাই জার্মেইন জ্যাকসন।

 

১৯৬৯ – বিশ্বনাথন আনন্দ, ভারতীয় দাবা গ্র্যান্ডমাস্টার।

১৯৮১ – হাভিয়ের সাভিয়োলা আর্জেন্টাইন ফুটবলার।

১৮১০ – ঊনবিংশ শতাব্দির বিখ্যাত কবি ও লেখক আলফ্রেড ডি মুসেট।

১৮৪৩ – রবার্ট কখ, নোবেল পুরস্কার বিজয়ী জার্মান জীব বিজ্ঞানী।

 

১৮৪৬ – অক্ষয়চন্দ্র সরকার, বাংলা সাহিত্যের কবি ও সাহিত্য সমালোচক।

 

১৮৬৮ – বাঙালি অভিনেতা সুরেন্দ্রনাথ ঘোষ (দানীবাবু)।

১৮৮৩ – শ্রীঅরবিন্দের ঘনিষ্ঠ সহযোগী মাস্টারমশাই নামে পরিচিত জ্যোতিষ ঘোষ।

 

ইতিহাসের পাতায় আজকের দিনের ঘটনাবলী—-

২০০১ – ১৫ বছরব্যাপী আলোচনার পর চীন আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সদস্যপদ লাভ করে।

১৯০১ – মার্কনি প্রথম বেতার সংকেত প্রেরণ করেন।

১৯০৭ – নিউজিল্যান্ডের সংসদ ভবন আগুনে ধ্বংস হয়ে যায়।

 

১৯১৭ – ব্রিটিশ জেনারেল অ্যাডমন্ড অ্যালানবি জেরুজালেমে প্রবেশ করেন এবং জেরুজালেমে সামরিক আইন ঘোষণা করেন।

১৯২৭ – সোভিয়েত সেনাবাহিনী চীনের গুয়ানজুতে প্রবেশ করে এবং শহরের বেশিরভাগ অংশ দখল করে সোভিয়েত ইউনিয়নের অংশ হিসাবে ঘোষণা দেয়।

১৯৩০ – ইতালি জাতিসংঘ পরিত্যাগ করে।

১৯৩৭ – দ্বিতীয় ইতালি-আবিসিনিয়া যুদ্ধ শুরু হয়। ইতালি জাতিপুঞ্জ ত্যাগ করে।

১৯৪১ – জাপানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করায় যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে জার্মানি ও ইতালি।

১৯৪৬ – নিউইয়র্কে জাতিসংঘ শিশু তহবিল বা ইউনিসেফ প্রতিষ্ঠিত হয়।

১৯৫৮ – আপার ভোল্টা (বর্তমানে বুরকিনা ফাসো) ফ্রান্সের নিকট থেকে স্বায়ত্বশাসন লাভ করে।

 

১৯৬৪ – চে গুয়েভারা জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বক্তৃতা দেন।

 

১৯৭১ – বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ: টাঙ্গাইল, নীলফামারীর ডিমলা ও দিনাজপুরের হিলি শত্রুমুক্ত হয়।

১৯৮১ – সালভাদর গৃহ যুদ্ধের সময় এল সালভাদরের সেনাবাহিনী গেরিলা বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার সময় গেরিলা সন্দেহে প্রায় ৯০০ সাধারণ নাগরিককে হত্যা করে।

১৯৯১ – ইসির রাষ্ট্রপ্রধানরা রাজনৈতিক ইউনিয়ন গঠনের চুক্তিতে উপনীত হয়।

১৯৯৪ – প্রথম চেচনিয়া যুদ্ধে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট বরিস ইয়েলৎসিন সেনাবাহিনীকে চেচনিয়ায় প্রবেশের আদেশ দেন।

১৮১৬ – ইন্ডিয়ানা ১৯তম রাজ্য হিসেবে আমেরিকার যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যুক্ত হয়।

 

১৮২৩ – ইংরেজি শিক্ষা প্রসারের উদ্দেশ্যে রাজা রামমোহন রায় নিজ ব্যয়ে অ্যাংলো হিন্দু স্কুল স্থাপন করেন।

 

১৮৫১ – স্ত্রী শিক্ষার প্রসার ও সমাজকল্যাণমূলক কাজের জন্য কলকাতায় বেথুন সোসাইটি প্রতিষ্ঠিত হয়।

১৮৬২ – আর্থার লুকাস নামক ব্যক্তিকে ফাঁসি দেওয়ার মাধ্যমে কানাডায় সর্বশেষ ফাঁসির আদেশ কার্যকর করা হয়।

১৮৯৪ – সারে পারিতে প্রথম মটর প্রদর্শনী শুরু হয়।

১৭৯২ – ফ্রান্সের রাজা ষোড়শ লুইয়ের বিচার শুরু হয়।

১৬১৮ – রাশিয়া ও পোল্যান্ডের মধ্যে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

১৬৮৭ – ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি সর্বপ্রথম মাদ্রাজে পৌরসভা প্রতিষ্ঠার সনদ তৈরির অনুমোদন দেয়।

১৬৮৮ – রাজা দ্বিতীয় জেমসকে গ্রেপ্তার করা হয়।

 

এই দিনে মৃত্যুবরণ করেন যারা—-

২০০৪ – কর্ণাটক শাস্ত্রীয় সংগীতের সংগীত শিল্পী ভারতরত্ন এম এস শুভলক্ষ্মী।

২০০৬ – বিনয় মজুমদার, বাঙালি কবি।

২০১২ – মুফতি ফজলুল হক আমিনী বাংলাদেশের একজন ইসলামী চিন্তাবিদ ও রাজনীতিবিদ।

 

২০১২ – পণ্ডিত রবি শঙ্কর, ভারতের বাঙালি সঙ্গীতজ্ঞ ও কিংবদন্তি সেতার বাদক।

 

১৯৬১ – তুলসী চক্রবর্তী,বাংলা সিনেমার স্বনামধন্য কমিক অভিনেতা।

১৯৭১ – আ. ন. ম. গোলাম মোস্তফা, বাংলাদেশী সাংবাদিক।

১৯৭৮ – নোবেলজয়ী মার্কিন জীবরসায়নবিদ ভিনসেন্ট ড্যু ভিগনাউড।

 

১৯৮০ – সাংবাদিক জহুর হোসেন চৌধুরী।

১৯৮২ – আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন রসায়নবিদ ড. প্রিয়দারঞ্জন রায়।

১৮৪০ – জাপানের সম্রাট কোকাকুর।

 

।।তথ্য : সংগৃহীত ইন্টারনেট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ

মূল্যবান মনুষ্য জীবন ও সত্যমেব জয়তে : স্বামী আত্মভোলানন্দ।

ওঁ নমঃ শ্রী ভগবতে প্রণবায় ।

 

আমাদের মানুষের এই  বৈচিত্র্যময়  জীবনে ঘটে অসংখ্য  ঘটনা, সত্য মিথ্যা, সুখ দুঃখ, হাসি কান্না, আনন্দ  বেদনা,  সব মিলিয়ে চলে জীবন। পৃথিবীর  সবচেয়ে জটিল  অঙ্কের  নামই  জীবন। আমরা সবাই জানি *সত্যমেব জয়তে* সত্যের জয় অবশ্যম্ভাবী, সত্য সবসময় সুন্দর,  কিন্তু *সবসময় সত্যের জয় হয় না, এটি ও একটি অপ্রিয় সত্য।*  সত্যমেব জয়তে (সংস্কৃত: सत्यमेव जयते) আমাদের এই সুন্দর তপোভূমি, পুণ্যভূমি ভারতের রাষ্ট্রীয় নীতিবাক্য। এর অর্থ “সত্যের জয় অবশ্যম্ভাবী।” সত্যমেব জয়তে মুন্ডক উপনিষদের একটি মন্ত্র। ১৯১৮ খ্রিষ্টাব্দে মহাত্মা পণ্ডিত মদন মোহন মালব্য ভারতের জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতি থাকার সময় এই মন্ত্রটিকে জাতীয় রাজনীতিতে নিয়ে এসে খুব জনপ্রিয় করেন।
*सत्यमेव जयते नानृतं सत्येन पंथा विततो देवयानः।
येनाक्रमंतयषयो दृत्कामा यत्र सत्यस्य परमं निधानभ।।*
(মুন্ডক উপনিষদ)
অর্থ :— সত্যেরই জয় হয়, মিথ্যার নয়। সত্যের দ্বারা ঐশ্বরিক পথ পরিপূর্ণ হয়, যারা ইচ্ছা থেকে মুক্ত, সত্যের সর্বোচ্চ আবাসে পৌঁছায়।
*सत्यमेव जयते*এই সুন্দর মন্ত্রটি দেবনাগরী হরফে আমাদের তপোভূমি, পুণ্যভূমি ভারতের জাতীয় প্রতীকের নিচের অংশে এবং সমস্ত ভারতীয় মুদ্রায় লেখা আছে ।

আমরা যদি  পৌরাণিক ভারতের  দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করি, মহাভারতের মহানযোদ্ধা মহাবীর কর্ণের  দিকে। কি দেখি? প্রথমত, সে ছিলো একজন যোগ্য সন্তান। দ্বিতীয়ত, সে ছিল একজন দানবীর রাজা। তৃতীয়ত, সে ছিল একজন মহাবীর যোদ্ধা। চতুর্থত, সে ছিল একজন মিত্রপ্রেমী মানুষ। পঞ্চমত, সে ছিল একনিষ্ঠ ও ধার্মিক চরিত্রের অধিকারী। কিন্তু কর্ণের জন্ম ইতিহাস গোপনীয় ছিল। জন্মদাত্রী মায়ের অবহেলার জন‍্য ক্ষত্রিয় পরিচয় থেকে বঞ্চিত হয়েছিল। অন্যদিকে পালিত মায়ের থেকে প্রাপ্ত নৈতিক শিক্ষা ও আদর্শ তাকে নিজের অধিকারের দাবিতে লড়াই করতে শিখিয়ে ছিল। যার জন্য কর্ণের জন্ম থেকে মৃত্যু অবধি সংগ্রামের সাথে অবহেলিত, লাঞ্চিত জীবন কেটেছে। সত্যের জয় (প্রকাশ) যখন হলো, মৃত্যুর সময়ে, কর্ণের জীবন তখন শেষ। এটি একটি অপ্রিয় সত্য। *সত্যমেব জয়তে* সত্যের জয় অবশ্যম্ভাবী, সত্য সবসময় সুন্দর, কিন্তু *সবসময় সত্যের জয় হয় না, এটিও একটি অপ্রিয় সত্য।* সত্যের  সুফল কর্ণের জীবনে, জীবদ্দশায় কোনো কাজেই লাগলো না।

শ্রীকৃষ্ণ বললেন- দেখো পার্থ, তুমি জানো না , কর্ণ কৌরবপক্ষের সেনাপতি হওয়ার পর আমি তার শিবিরে গিয়েছিলাম কর্ণকে পাণ্ডবপক্ষে আসার নিমন্ত্রণ দিতে, ধর্মপক্ষে আসার সুযোগ দিতে। কিন্তু কর্ণ বলেছিল যতই দুর্যোধন অধর্মের পথে থাকুক, কিন্তু বিপদের দিনে সে আমাকে আশ্রয় দিয়েছে। অতএব সেই মিত্রতার ঋণ শোধ করাই হবে তার প্রথম ধর্ম। কর্ণ এও বলেছিল এই যুদ্ধে জয় পাণ্ডবদেরই হবে। কিন্তু তাই বলে সে দুর্যোধনকে ধোঁকা দিতে পারবে না। সে প্রাণ দিয়ে দেবে তবু কৌরবপক্ষ ছাড়বে না। আর কর্ণ তাই করলো। একদিকে প্রাণ দিয়ে দুর্যোধনের মিত্রতার ঋণ শোধও করলো অন্যদিকে ধর্মের বিজয়ের পথও প্রশস্ত করে দিল। হে পার্থ! যদি কোনোদিন কর্ণের জীবনের পূর্ণ কথা জানার সুযোগ পাও সেদিন তুমি মাটিতে শুয়ে ওকে প্রণাম করবে। তাহলে এবার ভাবো শ্রেষ্ঠ ধনুর্ধর যোদ্ধা আসলে কে? অর্জুন না কর্ণ!
শ্রীকৃষ্ণ বললেন তাছাড়া তুমি কর্ণকে হারাওনি অর্জুন। শ্রীকৃষ্ণ বললেন- দেখো পার্থ পিতামহ ভীষ্ম তোমার সামনে যুদ্ধে নিষ্ক্রিয় হয়েছিলেন, তার মানে কি তুমি পিতামহ ভীষ্মের চেয়েও বড় ধনুর্ধর হয়ে গেলে?
মহাভারতে শ্রেষ্ঠ ধনুর্ধর আসলে কে??? তাই, সবসময় সত্যের জয় হয় না, এটিও একটি অপ্রিয় সত্য।

আমরা যদি সুন্দর তপোভূমি,পুণ্যভূমি ভারতের স্বাধীনতার পূর্ববর্তী সময়ের দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করি।  ভারতের স্বাধীনতা প্রাপ্তির ৭৬ বৎসরপূর্তি, অমৃত মহোৎসব এরপর ও মহান স্বাধীনতা সংগ্রামী নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর মৃত্যু রহস্য উদ্‌ঘাটন হলো না। তাই, সবসময় সত্যের জয় হয় না, এটিও একটি অপ্রিয় সত্যের  উজ্জ্বল উদাহরণ।*সত্যমেব জয়তে* সত্যের জয় অবশ্যম্ভাবী, সত্য সবসময় সুন্দর, কিন্তু *সবসময় সত্যের জয় হয় না, এটিও একটি অপ্রিয় সত্য।*

আমরা যদি স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ের দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করি। পণ্ডিত লালবাহাদুর শাস্ত্রী  ভারতের মতো, মহান গণতান্ত্রিক দেশের  দ্বিতীয় প্রধানমন্ত্রী। ভারতের স্বাধীনতা প্রাপ্তির ৭৬ বৎসরপূর্তির পর ও পণ্ডিত লালবাহাদুর শাস্ত্রীজী মৃত্যু-রহস্য উদ্‌ঘাটন হলো না। তাই, সবসময় সত্যের জয় হয় না, এটিও একটি অপ্রিয় সত্যের  উজ্জ্বল উদাহরণ।*সত্যমেব জয়তে* সত্যের জয় অবশ্যম্ভাবী, সত্য সবসময় সুন্দর, কিন্তু *সবসময় সত্যের জয় হয় না, এটিও একটি অপ্রিয় সত্য।*

আমরা যদি স্বাধীন ভারতের শত শত আদালত গুলির দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করি। দৈনিক শত শত নিষ্পাপ জনগণ নৈতিক ন্যায়বিচার এর আশায়, সত্যের জয়এর আশায়, বছরের পর বছর, প্রজন্ম পর প্রজন্ম ঘূরপাক খায় ন্যায়বিচার এর আশায় সত্যের জয়এর জন্য। এটি ও একটি অপ্রিয় সত্যের  উজ্জ্বল উদাহরণ।*সত্যমেব জয়তে* সত্যের জয় অবশ্যম্ভাবী, সত্য সবসময় সুন্দর, *কিন্তু সবসময় সত্যের জয় হয় না, এটিও একটি অপ্রিয় সত্য।*
আমরা যদি  বর্তমান আধুনিক ভারতের দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করি। উদাহরণ স্বরূপ আদালত এর ন্যায়বিচার পুরুলিয়ার দরিদ্র ধনঞ্জয়! *ধনঞ্জয় এর ফাঁসি* যাত্রাপালা ধনঞ্জয় কি ন্যায়বিচার পেয়েছে? আসলে কে দোষী? ধনঞ্জয় কি আসল দোষী? না, আসল দোষী কোনো ধনীর দুলাল টাকার বলে মেঘএর আড়ালে উঁকি দিচ্ছে হাসতে হাসতে। তাই, *সত্যমেব জয়তে* সত্যের জয় অবশ্যম্ভাবী, সত্য সবসময় সুন্দর, কিন্তু সবসময় সত্যের জয় হয় না, এটিও একটি অপ্রিয় সত্য।

আমাদের  এই পবিত্র  তপোভূমি, জন্মভূমিতে এই ধরনের  অপ্রিয় সত্য ঘটনা, বাস্তব ঘটনা, আমাদের জীবনে, অনেক ব্যক্তির জীবনে, অনেক প্রতিষ্ঠানে এই পবিত্র  ভূমিতে প্রতিদিন প্রতি-নিয়ত ঘটছে। এই রকম কত শত শত সত্যের উদ্‌ঘাটন হয় না। তাই, সবসময় সত্যের জয় হয় না, এটিও একটি অপ্রিয় সত্য। তাই, আমরা মানি বা না মানি, *সবসময় সত্যের জয় হয় না, এটিও একটি অপ্রিয় সত্য।* তাই, বিশ্বকবি  রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলছেন ‘বিচারের বাণী নীরবে নিভৃতে কাঁদে’।

শ্রী শ্রী জগৎ গুরু ভগবান স্বামী প্রণবানন্দজী মহারাজের  শুভ ও মঙ্গলময় আশির্বাদ আপনাদের সকলের শিরে বর্ষিত হোক… এই প্রার্থনা করি…!***
ওঁ গুরু কৃপা হি কেবলম্ ।
স্বামী আত্মভোলানন্দ

তথ্যসূত্র: ১) মহাভারত ও অন্যান্য বই।
২) ইন্টারনেট এবং ফেসবুক ইত্যাদি।

NB:-এই লেখাটি বর্তমান, ইতিহাস ও পৌরাণিক কাহিনীর অনন্য মিলন ও সুন্দর সংগ্রহ। মানুষ মরতে পারে কিন্তু ইতিহাস চিরকাল থেকে যায়।এটি কোনো ব্যক্তি বিশেষ বা প্রতিষ্ঠান এর উদ্দেশ্য করে লেখা নয়। মূল্যবান মনুষ্য জীবনের জন্য এই বিশ্লেষণী তথ্যাবলী। সুতরাং, কোন ত্রুটি হয়ে থাকলে তা উদ্দেশ্য মূলক বা ইচ্ছা কৃত নয়।
~~ স্বামী আত্মভোলানন্দ

Share This
Categories
প্রবন্ধ

ভারতীয় উপমহাদেশের ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম সর্বকনিষ্ঠ মুক্তিযোদ্ধা -প্রফুল্ল চাকী ।

ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন ছিল কিছু মানুষের কঠোর পরিশ্রম যার ফলেই ব্রিটিশদের থেকে ভারত রাজনৈতিক দিক থেকে মুক্তি পেয়েছে। ভারত উপমহাদেশের বিংশ শতাব্দীতে ব্রিটিশ সম্রাজ্যবাদ বিরোধী যে সশস্ত্র বিপ্লববাদী লড়াই-সংগ্রাম সংগঠিত হয় এবং যার ধারাবাহিকতায় ভারত স্বাধীন হয়। এই অন্দোলনে যে সকল বিপ্লবীর নাম সর্বজন স্বীকৃত তাঁদের মধ্যে প্রফুল্ল চাকী   প্রথমসারির একজন অন্যতম বিপ্লবী ছিলেন।   প্রফুল্ল চাকী ভারতীয় উপমহাদেশের ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনে এক উল্লেখযোগ্য নাম, যিনি দেশমতৃকার শৃঙ্খল মুক্তির জন্য নিজেকে সঁপে দিয়েছিলেন সম্পূর্ণ রূপে।

 

প্রফুল্ল চাকী ছিলেন ভারতীয় উপমহাদেশের ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের সর্বকনিষ্ঠ মুক্তিযোদ্ধা এবং অগ্নিযুগের বিপ্লবী।  পূর্ব বাংলায় জন্মগ্রহণকারী এই বাঙালি বিপ্লবী তৎকালীন ব্রিটিশ বিরোধী সশস্ত্র আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন এবং জীবন উৎসর্গ করেন।

 

প্রফুল্ল চাকী ১৮৮৮ সালের ১০ ডিসেম্বর ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির অধীনে বগুড়া জেলার বিহার গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।  শৈশবে তিনি বগুড়ার ‘নমুজা জ্ঞানদা প্রসাদ মধ্য বিদ্যালয়ে’ ভর্তি হন।  পরে বগুড়ার মাইনর স্কুলে ভর্তি হন।  ১৯০২ সালে তিনি রংপুর জেলা স্কুলে ভর্তি হন।  পূর্ববঙ্গ সরকারের কার্লাইল সার্কুলারের বিরুদ্ধে ছাত্র আন্দোলনে অংশগ্রহণের জন্য নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় তাকে রংপুর জিলা স্কুল থেকে বহিষ্কার করা হয়।  এরপর ভর্তি হন রংপুরের কৈলাস রঞ্জন উচ্চ বিদ্যালয়ে।  সেখানে অধ্যয়নকালে তিনি জিতেন্দ্র নারায়ণ রায়, অবিনাশ চক্রবর্তী, ঈশান চন্দ্র চক্রবর্তী সহ অন্যান্য বিপ্লবীদের সংস্পর্শে আসেন এবং বিপ্লবী আদর্শে অনুপ্রাণিত হন।

 

১৯০৬ সালে কলকাতার বিপ্লবী নেতা বারীন ঘোষ প্রফুল্ল চাকীকে কলকাতায় নিয়ে আসেন।  যেখানে যুগান্তর দলে যোগ দেন প্রফুল্ল।  তার প্রথম কাজ ছিল পূর্ববঙ্গ ও আসামের প্রথম লেফটেন্যান্ট গভর্নর স্যার জোসেফ ব্যামফিল্ড ফুলার কে হত্যা করা।  কিন্তু এই পরিকল্পনা সফল হয়নি।  এর পরে, প্রফুল্ল চাকি ক্ষুদিরাম বোসের সাথে কলকাতা প্রেসিডেন্সির অত্যাচারী ম্যাজিস্ট্রেট কিংসফোর্ডকে এবং পরে বিহারের মুজাফফরপুরকে হত্যা করার পরিকল্পনা করেন।

 

ক্ষুদিরাম এবং প্রফুল্ল কিংসফোর্ডের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করেন এবং ১৯০৮ সালের ৩০ এপ্রিল সন্ধ্যায় তাকে হত্যা করার পরিকল্পনা করেন।  ইউরোপিয়ান ক্লাবের প্রবেশপথে তারা কিংসফোর্ডের গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছিল।  একটি গাড়ি আসতে দেখে বোমা ছুড়ে মারে।  দুর্ভাগ্যবশত, কিংসফোর্ড সেই গাড়িতে ছিলেন না, কিন্তু দুই ব্রিটিশ মহিলা মারা যান, ভারতপ্রেমী ব্যারিস্টার কেনেডির স্ত্রী ও কন্যা।  সঙ্গে সঙ্গে প্রফুল্ল ও ক্ষুদিরাম এলাকা ছেড়ে চলে যান।

 

প্রফুল্ল এবং ক্ষুদিরাম পৃথক উপায়ে পালানোর সিদ্ধান্ত নেয়।  প্রফুল্ল ছদ্মবেশে ট্রেনে কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা হলেন।  ২ মে নন্দলাল ব্যানার্জী নামে এক পুলিশ কনস্টেবল একটি ট্রেনে ষষ্ঠিপুর রেলস্টেশনের কাছে প্রফুল্লকে সন্দেহ করেন।  মোকামা স্টেশনে পুলিশের মুখোমুখি হয়ে প্রফুল্ল পালানোর চেষ্টা করে।  কিন্তু কোণঠাসা, ধরা না পড়ে আত্মত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নেন।  নিজের মাথায় পিস্তল দিয়ে গুলি করে আত্মহত্যা করেন তিনি।  পরে অনেক ইতিহাসবিদ অনুমান করেন যে প্রফুল্ল আত্মহত্যা করেননি, তাকে পুলিশ হত্যা করে শিরশ্ছেদ করেছে।  পরে ক্ষুদিরামকে ধরা হয় এবং ফাঁসি দেওয়া হয়।  অন্য দুই বাঙালি বিপ্লবী রণেন গাঙ্গুলী এবং শ্রীশচন্দ্র পাল ১৯০৮ সালের ৯ নভেম্বর ব্রিটিশ পুলিশ ইন্সপেক্টর নন্দলালকে হত্যা এবং প্রফুল্ল চাকীকে হস্তান্তরের প্রতিশোধ নেন।

 

।।তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ

ভারতীয় চলচ্চিত্র কিংবদন্তি অভিনেতা- অশোক কুমার।

অশোক কুমার গঙ্গোপাধ্যায়, (জন্ম ১৩ অক্টোবর) বিহারের ভাগলপুর জেলায় জন্মগ্রহণকারী একজন বিখ্যাত ভারতীয় চলচ্চিত্র অভিনেতা।  জন্মের সময় তিনি কুমুদলাল গঙ্গোপাধ্যায় নামে পরিচিত ছিলেন এবং বাড়িতে মজা করে দাদামণি নামে ডাকা হতো।  অশোক কুমার ভারতীয় ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে নিজেকে একজন কিংবদন্তি করে তুলেছেন।  ছোটবেলা থেকেই তিনি চলচ্চিত্র শিল্পে অংশগ্রহণের স্বপ্ন দেখতেন।

 

তৎকালীন বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির (বর্তমানে বিহার) ভাগলপুরে কুমুদলাল নামে জন্মগ্রহণ করেন।  বাবা কুঞ্জলাল গঙ্গোপাধ্যায় পেশায় আইনজীবী এবং মা গৌরী দেবী ছিলেন গৃহিণী।  চার ভাইবোনের মধ্যে কুমুদলাল ছিলেন সবার বড়।  তাঁর একমাত্র বোন, সতী দেবী, তাঁর থেকে কয়েক বছরের ছোট, খুব অল্প বয়সে শশধর মুখোপাধ্যায়ের সাথে গাঁটছড়া বাঁধেন এবং একটি বৃহৎ চলচ্চিত্র পরিবারের সদস্য হন।  অনুপ কুমার, প্রায় চৌদ্দ বছরের ছোট এবং আভাস (কিশোর কুমার), সর্বকনিষ্ঠ, ছিলেন হিন্দি চলচ্চিত্রের সবচেয়ে সফল প্লেব্যাক গায়ক।
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে প্রেসিডেন্সি কলেজে আইনজীবী হওয়ার জন্য পড়াশোনা করেছেন।  কিন্তু তিনি আইনশাস্ত্র অধ্যয়ন করতে আগ্রহী ছিলেন না।  তার মন ছিল চলচ্চিত্রে।  টেকনিশিয়ান হিসেবে যোগদানের মধ্য দিয়ে তার স্বপ্ন পূরণ হলো।
১৯৩০-এর দশকে বোম্বেতে চলে আসেন তাঁর ভগ্নিপতি শশধর মুখোপাধ্যায়ের সাথে যোগ দিতে, যিনি বম্বে টকিজের একজন সিনিয়র ছিলেন।  তিনি সেই সময়ের অন্যতম বড় ফিল্ম স্টুডিও বোম্বে টকিজে পরীক্ষাগার সহকারী হিসেবে কাজ করতেন।
দৈবক্রমে তার অভিনয় জীবন শুরু হয় ——–
অশোক কুমার স্বাভাবিকভাবে অভিনয় করে হিন্দি ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে পথপ্রদর্শক হয়ে উঠেছেন।  প্রথম সুপারস্টার হিসেবে তিনি খলনায়কের ভূমিকায়ও অভিনয় করেন।  ভারতীয় চলচ্চিত্রে ব্যক্তিত্ব প্রতিষ্ঠায় বেশ কিছু তারকা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।

 

 

ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতে তাঁর অবদান কখনোই ভোলার নয়। তাঁর অভিনয়ের জন্য অনেক সম্মানে ভূষিত হয়েছেন তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল ১৯৮৮ সালে ভারত সরকার কর্তৃক চলচ্চিত্র কলা-কুশলীদের জন্য প্রণীত সর্বোচ্চ জাতীয় সম্মাননা হিসেবে বিবেচিত দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কারে ভূষিত হন। এছাড়াও, ১৯৯৯ সালে ভারতীয় চলচ্চিত্রে অসামান্য অবদান রাখায় পদ্মভূষণ পদকে ভূষিত হন তিনি। তাঁকে ভারতের চলচ্চিত্রের ইতিহাসে অন্যতম সেরা অভিনেতাদের একজনরূপে গণ্য করা হয়ে থাকে। এছাড়াও ১৯৯৪ সালে ফিল্মফেয়ার আজীবন সম্মাননা, ২০০১ সালে উত্তরপ্রদেশ সরকারের বেসামরিক সম্মান ও ২০০৭ সালে স্টার স্ক্রিন বিশেষ পুরস্কার পান তিনি। শীর্ষ কিংবা খলনায়ক বা চরিত্রধর্মী অভিনয়ের সর্বত্রই সমানভাবে নিজেকে উপস্থাপন করতে সচেষ্ট ছিলেন।

 

সবচেয়ে বড় হলেও অশোক কুমার সবচেয়ে বেশি দিন বেঁচে ছিলেন।  তিনি চোখের সামনে তাঁর ছোট ভাই-বোনদের চলে যেতে দেখেছেন।  দাদা মনি খুব আড়ম্বরে জন্মদিন পালন করতেন।  যাইহোক, ১৯৮৭ সালে তার জন্মদিনে, তিনি তাঁর ছোট ভাইকে হারিয়েছিলেন।  কিশোর কুমার খুব অল্প বয়সে এই দিনে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।  এবং সেদিন তিনি প্রতিজ্ঞা করেছিলেন যে তিনি আর কখনও তার জন্মদিন পালন করবেন না।

১০ ডিসেম্বর, ২০০১ তারিখে ৯০ বছর বয়সে দেহাবসান ঘটে তাঁর। মুম্বইয়ের চেম্বার এলাকায় অবস্থিত নিজ বাসভবনে হৃদরোগে আক্রান্ত হন তিনি। তাঁর মৃত্যুতে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ী গভীর শোকপ্রকাশ করেন। এ প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন যে, তিনি অনেক প্রজন্মের অভিনেতাদেরকে অণুপ্রেরণা জুগিয়েছেন।

।।তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
রিভিউ

আজ ১০ ডিসেম্বর, ইতিহাসের দিকে চোখ বুলিয়ে দেখে নেব ইতিহাসের এই দিনে বিশিষ্টজনদের জন্ম-মৃত্যু, দিনসহ ঘটে যাওয়া ঘটনা।

আজ ১০ ডিসেম্বর। এক নজরে দেখে নিই ইতিহাসের এই দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য ঘটনা, বিশিষ্টজনদের জন্ম-মৃত্যু দিনসহ গুরুত্বপূর্ণ আরও কিছু বিষয়।

 

দিবস—–

 

(ক) মানবাধিকার দিবস – জাতিসংঘের নির্দেশনায় বিশ্বের সকল দেশে প্রতি বছর পালিত হয়।

 

আজ যাদের জন্মদিন—-

১৯০৯ – শিশু ও কিশোর সাহিত্যের সুপরিচিত লেখক মোহনলাল গঙ্গোপাধ্যায়।

 

১৯২৫ –  সংগীত পরিচালক সমর দাস।

১৯২৯ – সমর দাস, বিখ্যাত বাংলাদেশী সুরকার ও সঙ্গীত পরিচালক।

 

১৯৩৪ –  হাওয়ার্ড মার্টিন টেমিন, নোবেল পুরস্কার বিজয়ী আমেরিকান জেনেটিসিস্ট ও অধ্যাপক।

১৯৪১ –  কয়ু সাকামটো, জাপানি শিল্পী, গীতিকার ও অভিনেতা।

 

১৯৪৮ –  পিএলএফ-এর (ফিলিস্তিন লিবারেশন ফ্রন্ট) প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্দ জাইদান (আবু আব্বাস)।

১৯৬০ –  কেনেথ ব্রানাঘ, উত্তর আইরিশ বংশোদ্ভূত ইংরেজ অভিনেতা পরিচালক, প্রযোজক ও চিত্রনাট্যকার।

১৯৭৫ –  জসিপ স্ককো, অস্ট্রেলিয়ান ফুটবল।

১৯৮৫ –  চার্লি অ্যাডাম, স্কটিশ ফুটবল।

১৯৮৭ – গঞ্জালো ইগুয়াইন, ফরাসি বংশোদ্ভূত আর্জেন্টাইন ফুটবল খেলোয়াড়।

১৯৮৮ –  নেভেন সুবটিক, সার্বিয়ার ফুটবল।

১৮০৪ – কার্ল গুস্তাফ ইয়াকপ ইয়াকবি, বিখ্যাত জার্মান গণিতবিদ।

১৮১৫ – অ্যাডা লাভলেস, কম্পিউটার প্রোগ্রামিং ধারণার একজন প্রবর্তক।

১৮২১ –  নিকোলাই নেক্রাসভ, রাশিয়ান কবি ও সমালোচক।

১৮৩০- বিখ্যাত মার্কিন কবি এমিলি ডিকেনসন।

১৮৪৫ – পুরাতত্ত্ব বিষয়ক রচনার জন্য খ্যাতিমান লেখক রামদাস সেন।

 

১৮৭০ – স্যার যদুনাথ সরকার, স্বনামধন্য বাঙালি ইতিহাসবিদ।

 

১৮৭৮ – চক্রবর্তী রাজাগোপালাচারী, বিশিষ্ট ভারতীয় আইনজীবী, স্বাধীনতা সংগ্রামী, রাজনীতিবিদ, ইতিহাসবিদ এবং ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের অন্যতম নেতা।

 

১৮৮৮ – প্রফুল্ল চাকী, ভারতীয় উপমহাদেশের ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম সর্বকনিষ্ঠ মুক্তিযোদ্ধা।

১৮৯১- নোবেলজয়ী সুইডিশ নারী কবি ও নাট্যকার নেলি সাকস।

 

ইতিহাসের পাতায় আজকের দিনের ঘটনাবলী—-

২০০১ – সুইডেন ও নরওয়ের রাজধানীতে আলাদা আলাদাভাবে ২০০১ সালের নোবেল পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

২০০৭ – ক্রিস্টিনা ফর্নান্দেজ আর্জেন্টিনার প্রথম নির্বাচিত নারী প্রেসিডেন্ট হন।

১৯০১- আলফ্রেড নোবেলের অন্তিম ইচ্ছা অনুযায়ী নোবেল পুরস্কার দেওয়া শুরু হয়।

১৯০২- তাসমানিয়ায় (অস্ট্রেলিয়া) নারীরা ভোটাধিকার পায়।

১৯০৩ – ব্রিগেডিয়ার থাংনার নেতৃত্বে ইংগো-ভারতীয় যুক্ত বাহিনীর দু হাজারেরও বেশি সৈন্য জারিলা অতিক্রম করে তিববতের বিরুদ্ধে আগ্রাসী দ্বিতীয় যুদ্ধ বাঁধায় ।

১৯০৬- যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট থিওডোর রুজভেল্ট প্রথম আমেরিকান হিসেবে নোবেল পুরস্কার পান।

১৯২১ – নাট্যাচার্য্য শিশিরকুমার ভাদুড়ী প্রথম ম্যাডান কোম্পানির রঙ্গালয়ে ‘আলমগীর’নাটকে নামভূমিকায় আবির্ভূত হন ও জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।

১৯৪৮- জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ বিশ্ব মানবাধিকার ঘোষণা দেয় এবং মানুষের ব্যক্তিগত ও সামাজিক অধিকারের বিষয়টি অনুমোদন করে। এই দিন থেকেই বিশ্ব মানবাধিকার দিবস পালন করা শুরু হয়।

১৯৬৩ –  জাঞ্জিবার স্বাধীনতা লাভ করে।

১৯৭১ – সাংবাদিক সিরাজুদ্দীন হোসেন নিখোঁজ হন।

১৯৮৩ – রাউল আনফোন্সিনের ক্ষমতাগ্রহণের মাধ্যমে আর্জেন্টিনায় গণতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠা।

১৯৮৮ – আর্মেনিয়ায় এক ভয়াবহ ভূমিকম্পে ৪৫ হাজারেরও বেশি মানুষ মারা যায়, ৫ লাখ লোক গৃহহীন হয়।

১৯৮৯ – চেকোশ্লাকিভিয়ায় ৪১ বছর পর অকমিউনিস্ট সরকার ক্ষমতায় আসে।

১৮১৭- মিসিসিপি ২০তম অঙ্গরাজ্য হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্ত হয়।

১৮৬৮- বিশ্বের প্রথম ট্রাফিক বাতি বসানো হয় লন্ডনের প্যালেস অব ওয়েস্টমিনস্টারের সামনে। লাল ও সবুজ গ্যাস বাতি ছিল সেগুলো।

১৮৮৪- মার্ক টোয়েনের বর্ণবাদবিরোধী উপন্যাস ‘অ্যাডভেঞ্চার অব হাকলবেরি ফিন’ প্রথম প্রকাশিত হয়।

১৮৯৮- স্পেন থেকে কিউবা স্বাধীনতা লাভ করে।

 

এই দিনে মৃত্যুবরণ করেন যারা—-

২০০১ -অশোক কুমার, ভারতীয় চলচ্চিত্র অভিনেতা।

 

২০০৪ – গ্যারি ওয়েব্ব, তিনি ছিলেন আমেরিকান সাংবাদিক ও লেখক।

 

২০১০ – জন বেনেট ফেন, তিনি ছিলেন নোবেল পুরস্কার বিজয়ী আমেরিকান রসায়নবিদ ও অধ্যাপক।

২০১২ – ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ, বাংলাদেশের ১৩ তম রাষ্ট্রপতি।

 

১৯২৬ – নিকোলা পাসিক, সার্বীয় রাজনীতিবিদ ও ৪৬ তম প্রধানমন্ত্রী।

১৯৩৬ – লুইগি পিরান্ডেলো, নোবেল পুরস্কার বিজয়ী ইতালিয়ান লেখক ও নাট্যকার।

 

১৯৫৩ – আবদুল্লাহ ইউসুফ আলী, ভারতীয় বংশোদ্ভূত ইংরেজ পণ্ডিত ও অনুবাদক। আল কুরআনের ইংরেজী অনুবাদক হিসেবে সমগ্র বিশ্বে খ্যাতি লাভকারী একজন মুসলিম ব্যাক্তিত্ব ছিলেন।

 

১৯৬৮ – চীনের বিখ্যাত নাট্যকার থিয়ান হান।

 

১৯৭১ – বীরশ্রেষ্ঠ মোহাম্মদ রুহুল আমিন।

১৯৮২ – ইরানের বিশিষ্ট লেখক ও অনুবাদক আলি আসগর সুরূশ।

১৯৮৮ – রিচার্ড এস. কাস্তেলানো, মার্কিন অভিনেতা।

 

১৯৯৫ –  স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের প্রথম কণ্ঠদাতা আবুল কাসেম সন্দ্বীপের মৃত্যু।

 

১৯৯৮ – (ক) কিরণময় সেন বাঙালি ভারতীয় স্বাধীনতা কর্মী।

(খ) চীনের বিখ্যাত পারমাণবিক পদার্থবিদ ওয়াং কানছাং।

 

১৮৯৬- সুইডিশ বিজ্ঞানী ও নোবেল পুরস্কার প্রবর্তক আলফ্রেড নোবেল।

 

।।তথ্য : সংগৃহীত ইন্টারনেট।।

Share This