Categories
বিবিধ

সুভাষিনি চা বাগানে বন্যা দূর্গত এলাকা পরিদর্শনে এল মুখ্যমন্ত্রী।

আলিপুরদুয়ার, নিজস্ব সংবাদদাতা :- মুখ্যমন্ত্রী কাছে তোর্ষা নদীর বাঁধ নির্মাণের দাবি জানালো এলাকার।
সুভাষিনি চা বাগানে বন্যা দূর্গত এলাকা পরিদর্শনে এল মুখ্যমন্ত্রী। এদিন সুভাষিনি চা বাগানে ক্ষতিগ্ৰস্থ পরিবারের সাথে দেখা করেন মুখ্যমন্ত্রী তাদের সাথে কথা বলেন এবং ত্রাণ তুলে দেন।
মুখ্যমন্ত্রী কাছে এলাকার বাসিন্দারা বাঁধ নির্মাণের দাবি জানান।

Share This
Categories
বিবিধ

প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা বার্তা দুষ্কৃতীদের হাত না লাগে, রাজ্যে নতুন প্রযুক্তির হাতেখড়ি।

সোদপুর, নিজস্ব সংবাদদাতাঃ- আচ্ছা আমরা বা প্রসানিক স্তরে ওয়ারলেস এ যে বার্তা বিনিময় করি তা অন্য কেউ শুনছে না তো ? প্রশাসনিক গোপন বার্তা দুষ্কৃতীরা যেনে ফেলছে না তো ? হ্যাঁ শুনছে । তাই সেনার গতিবিধি জেনে পথে মাইন বিস্ফোরণ ঘটানো। বা পুলিশ আসছে জেনে আগে থেকেই পালানো । যা এই রাজ্যে ও একাধিক বার ঘটেছে। এই ধরনের সমস্যার সমাধান করতে হ্যামেরা এবার নতুন প্রযুক্তি অবলম্বন করতে চলেছে । এতে রেডিও তরঙ্গে বার্তা শুধুমাত্র যাকে পাঠানো হবে শুধু মাত্র সেই শুনতে পাবে । সাথে ওয়ারলেস হ্যান্ড সেট দিয়েই টেক্সট মেসেজ পাঠানো যাবে । সব থেকে বড় বিষয় ওয়াকিটকি দিয়েই সারা বিশ্বে কথা বলা যাবে । এই ধরনের প্রযুক্তির ব্যবহার শেখাতে ওয়েস্ট বেঙ্গল রেডিও ক্লাব ও ইন্ডিয়ান একাডেমি অফ কমিউনিকেশন এন্ড ডিসাস্টার ম্যানেজমেন্ট যৌথ উদ্যোগে সোদপুরে রবিবারে দেশবন্ধু বিদ্যাপিঠ ফর বয়েস স্কুলে এই ধরনের ওয়ার্কশপ রাজ্যে প্রথম আয়োজন করা হলো। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বৈধ রেডিও অপারেটরা এই ওয়ার্কশপে অংশগ্রহণ করেছেন।

Share This
Categories
বিবিধ

ডোমজুড় গ্রামে নোংরা জল ও দুর্গন্ধ নিয়ে জনমত রীতিমতো ক্ষুব্ধ ও হতাশ।

হাওড়া, নিজস্ব সংবাদদাতাঃ- স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ এনারা প্রায় ৩ বছর ধরে এই দুর্গন্ধ যুক্ত জল পাড়িয়ে যাতায়াত করতে হয় খুব কষ্ট করে সদস্য কে একাধিক বার জানিয়েও এই সমস্যার সমাধান হয়নি, আর জমা জলের মধ্যে কার্যত ভর্তি পোকামাকড়, এখান থেকে হতে পারে নানা রোগ জীবাণু তাহলে এখানকার স্থানীয় বাসিন্দারা ভোট দিয়ে তৃনমূল কংগ্রেসের সদস্য কে জয়ী করে পেলেন নানা রোগ প্রশ্ন তো উঠবেই। আর বাচ্ছা ছেলে মেয়েরা বুট জুতো পরা ভূলেই গেছে বলা যায়। আমাদের ক্যামেরার সামনে আরো কি কি বললেন আসুন শুনে নিন।

Share This
Categories
বিবিধ

ফারাক্কা ব্লক হাসপাতালের এম্বুলেন্স গাফিলতি: স্বাস্থ্য দপ্তরের কাছে অবিলম্বে পদক্ষেপের দাবি।

মু্র্শিদাবাদ, নিজস্ব সংবাদদাতাঃ- রেফার করার পর টানা দেড় ঘণ্টা ধরে মরিয়া চেষ্টা। ফোনের পর ফোন। তবুও মিলল না সরকারি এম্বুলেন্স! শেষমেশ নবজাতক সন্তানকে জন্ম দিয়েই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন এক তরুণী মা। হৃদয়বিদারক ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে মুর্শিদাবাদের ফরাক্কার নবনির্মিত ব্লক প্রাথমিক হাসপাতালে।

পরিবার সুত্রে জানাযায়, মৃত গৃহবধূর নাম জামিলা খাতুন (২৫), বাড়ি ফারাক্কার ইমামনগর গ্রামে। অভিযোগ, রবিবার সকালে প্রসব যন্ত্রণায় কাতর জামিলাকে ফারাক্কা ব্লক হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। সেখানে তিনি এক পুত্রসন্তানের জন্ম দেন। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই তাঁর শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়ে ওঠে। হাসপাতালের চিকিৎসকরা দ্রুত তাঁকে জঙ্গিপুর সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে রেফার করেন। এরপর শুরু হয় অপেক্ষা—একবার নয়, বারবার ফোন করা হয় ১০২ নম্বর সরকারি এম্বুলেন্স সার্ভিসে। তবুও দেড় ঘণ্টা কেটে যায়, কিন্তু দেখা মেলেনি এম্বুলেন্সের। অবশেষে দীর্ঘক্ষণ পর নিজেদের উদ্যোগেই অর্জুনপুর হাসপাতাল থেকে একটি অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে এসে ওই গৃহবধূকে জঙ্গিপুর নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু না, অসহায় পরিবারের চোখের সামনেই মৃত্যু হয় জামিলা খাতুনের বলে জানাযায়। নবজাতককে কোলে নিয়েই ভেঙে পড়েন স্বজনরা। আজ দুপুরে মুহূর্তে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে শুরু হয় বিক্ষোভ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, “সরকারি এম্বুলেন্স সার্ভিস যদি সময়মতো না আসে, তাহলে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে? এটা সরাসরি প্রশাসনিক ব্যর্থতা।” ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ফরাক্কা থানার পুলিশ। এম্বুলেন্স না আসার বিষয়টি স্বীকার করেছেন ফারাক্কা ব্লক হাসপাতাল এক চিকিৎসক। এদিকে এক নবজাতক পৃথিবীর আলো দেখল ঠিকই, কিন্তু জন্মের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মাকে হারাল। প্রশ্ন উঠছে—একটি ফোনকলের জবাব সময়মতো পেলে কি বাঁচানো যেত না এই তরুণী মাকে? স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

সাধারণ মানুষের অভিযোগ, শুধু ফারাক্কা ব্লক নয়, সর্বত্রই ১০২ নম্বর এম্বুলেন্সের গাফিলতি পরিলক্ষিত হচ্ছে। অবিলম্বে বিষয়টি স্বাস্থ্য দপ্তরকে গুরুত্ব সহকারে দেখার দাবি জানিয়েছেন আমজনতা।

Share This
Categories
বিবিধ

কৃষক সম্মেলনে সার, বীজ ও কীটনাশকের দাম বৃদ্ধি এবং ফসলের ন্যায্য মূল্য নিয়ে আলোচনা।

উত্তর দিনাজপুর, নিজস্ব সংবাদদাতাঃ- উত্তর দিনাজপুর জেলার চাকুলিয়ায় সিপিআই(এম)-এর ডাকে সারা ভারত কৃষক সভার ব্লক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় রবিবার। দুপুরে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সম্মেলনের সূচনা হয় এবং বিকেল পর্যন্ত চলে আলোচনা পর্ব।

বক্তারা অভিযোগ করেন, ২০১৪ সালে কেন্দ্রে বিজেপি সরকার আসার পর থেকেই কৃষকরা নানা সমস্যায় জর্জরিত। সার, বীজ ও কীটনাশকের দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি ফসলের ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় কৃষকদের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। তাই সার ও ওষুধের বাজার নিয়ন্ত্রণ এবং উৎপন্ন ফসলের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করার দাবি ওঠে মঞ্চ থেকে।

সম্মেলনে গঠিত হয় ২৭ সদস্যের নতুন ব্লক কমিটি। সভাপতি নির্বাচিত হন আব্দুল মান্নান এবং সম্পাদক জাকির হোসেন।
জেলা সম্পাদক সুরজিৎ কর্মকার বলেন, “কৃষকদের আর্থিক সুরক্ষা ও প্রকৃত এমএসপি নিশ্চিত করাই আমাদের প্রধান দাবি।” তিনি জানান, শীঘ্রই জেলা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে পরবর্তী কর্মসূচি নির্ধারণ করা হবে।

Share This
Categories
বিবিধ

হরিশ্চন্দ্রপুরে ‘গরিবের বন্ধু’ মতিউর রহমানের স্বাস্থ্য শিবিরে হাজার মানুষের সাড়া।

হরিশচন্দ্রপুর, মালদা, নিজস্ব সংবাদদাতা :- একের পর এক সামাজিক কল্যাণমূলক কর্মসূচিতে ব্যাপক সাড়া। ক্রমশ বাড়ছে জনপ্রিয়তা। সাথে তৃণমূলে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনাও হচ্ছে জোড়ালো।চিন্তার ভাঁজ বাড়ছে মন্ত্রী থেকে শুরু করে তৃণমূলের অন্যান্য দাপুটে নেতাদের কপালে।সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হরিশ্চন্দ্রপুরের ব্যবসায়ী গরিবের বন্ধু মতিউর রহমান কে নিয়ে ব্যাপক চর্চা জেলা রাজনৈতিক মহলে। সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তৃণমূলে যোগ দেওয়ার জল্পনাও জিইয়ে রাখলেন মতিউর। হরিশ্চন্দ্রপুরের বিভিন্ন এলাকায় গরিব দুঃস্থ মানুষের জন্য বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষা শিবিরের আয়োজন করছেন তিনি। সেখানে স্বাস্থ্য পরীক্ষার পাশাপাশি দেওয়া হচ্ছে ওষুধ। প্রয়োজন অনুযায়ী যাদের পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন।সেই দায়িত্বও নিয়ে নিচ্ছেন গরীবের বন্ধু।এদিন হরিশ্চন্দ্রপুরের চিতলিয়া হাই মাদ্রাসায় তৃতীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা শিবিরের আয়োজন করা হয়। মতিউর রহমান সমগ্র শিবির পরিদর্শন করেন। সকলের সঙ্গে কথা বলেন। প্রায় হাজার মানুষ এসে ছিলেন স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে।সেখানেই সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হন তিনি। প্রসঙ্গত এই বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির হয়ে হরিশ্চন্দ্রপুরে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ছিলেন। যদিও তারপর থেকে সক্রিয় রাজনীতিতে তাকে দেখা যায়নি। সাম্প্রতিক কালে বিভিন্ন সমাজ সেবামূলক কর্মসূচি করে এলাকায় তিনি জনপ্রিয়। সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল গরিবের বন্ধু নামে। তাকে নিয়ে জল্পনা চলছে তৃণমূলে যোগ দিতে পারেন তিনি।গোষ্ঠীদ্বন্ধে জর্জরিত মন্ত্রী তাজমুল হোসেনের হরিশ্চন্দ্রপুরে টিকিট পাওয়ার দৌড়ে তিনি রয়েছেন বলেও জেলা রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন চলছে। এই পরিস্থিতিতে মতিউর দাবি করেন,’ মানুষ যেটা চাইবে তিনি করবেন। তার কাছে কোন রাজনৈতিক দল প্রস্তাব দিলে অবশ্যই ভেবে দেখবেন। তৃণমূল প্রস্তাব দিলে দৌড়ে যাবেন। সাথে নাম না করে এলাকার জনপ্রতিনিধিদের নিশানা করে বলেন কিছু মানুষ চোখ বন্ধ করলেই তাকে দেখছে।’ তার এই ধরনের বিভিন্ন মন্তব্যের পর জল্পনা আরো জোড়ালো হয়েছে।মূলত হরিশ্চন্দ্রপুরে স্থানীয় বিধায়ক তথা প্রতিমন্ত্রী তাজমুল হোসেনের সঙ্গে জেলা পরিষদ সদস্য বুলবুল খানের দ্বন্দ্ব বার বার সামনে এসেছে। নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষে জড়িয়েছে দুই পক্ষ। পঞ্চায়েত নির্বাচন থেকে হরিশ্চন্দ্রপুরে খারাপ ফলাফল তৃণমূলের। এই পরিস্থিতিতে যেভাবে এলাকায় জনপ্রিয়তা বাড়ছে মতিউরের। তাই তাকে মুখ করে লড়ার সম্ভাবনা থেকে যাচ্ছে।যদিও এই নিয়ে তাজমুল হোসেনের দাবি তিনি বিজেপির প্রার্থী ছিলেন তার কথা বিজেপি বলতে পারবে। অন্যদিকে বুলবুলের বক্তব্য কেউ দলে যোগ দিবে কি দিবে না সেটা মমতা ব্যানার্জি অভিষেক ব্যানার্জি ঠিক করবে। সমগ্র বিষয় নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানোতোর।

Share This
Categories
বিবিধ

ভ্রমণকাহিনি: ঐতিহ্যের প্রতীক চারমিনার।

ভ্রমণকাহিনি: ঐতিহ্যের প্রতীক চারমিনার
(Charminar, Hyderabad, Telangana)

দক্ষিণ ভারতের তেলেঙ্গানার রাজধানী হায়দরাবাদ — এক শহর, যেখানে ইতিহাস, সংস্কৃতি, রাজকীয় আভিজাত্য এবং আধুনিকতার মেলবন্ধন দেখা যায় অনন্যভাবে। আর এই শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত এক স্থাপত্যের বিস্ময় — চারমিনার। এটি কেবল হায়দরাবাদের প্রতীক নয়, ভারতের স্থাপত্য ঐতিহ্যের এক অবিচ্ছেদ্য অংশও বটে।


🕌 ইতিহাসের পাতায় চারমিনার

১৫৯১ খ্রিস্টাব্দে কুতুব শাহী রাজবংশের শাসক মহম্মদ কুলি কুতুব শাহ চারমিনার নির্মাণ করেন। কিংবদন্তি আছে, এক মারাত্মক মহামারী (সম্ভবত প্লেগ) থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য ঈশ্বরের প্রতি কৃতজ্ঞতা স্বরূপ রাজা এই অসাধারণ স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করেছিলেন।
“চারমিনার” শব্দের অর্থই হলো — চারটি মিনার, যা এর গঠনশৈলীর মূল বৈশিষ্ট্য।


🏛️ স্থাপত্যের অনন্য রূপ

চারমিনারের প্রতিটি দিকেই একটি করে উঁচু মিনার রয়েছে, যার উচ্চতা প্রায় ৫৬ মিটার। এগুলি সূক্ষ্ম ইসলামিক এবং ইন্দো-সারাসেনিক নকশায় নির্মিত, আর উপরের গম্বুজগুলিতে রয়েছে ফুলের নকশা ও কারুকাজ।

স্থাপনাটি সম্পূর্ণভাবে চুন, বালি ও গ্রানাইট পাথর দিয়ে তৈরি, এবং এর চারপাশের খিলানগুলো সূক্ষ্ম গাণিতিক সমতা ও সৌন্দর্যের প্রতীক। অভ্যন্তরে সরু পাকানো সিঁড়ি বেয়ে উপরে ওঠা যায়, যেখান থেকে হায়দরাবাদের পুরনো শহরের দৃশ্য চোখে পড়ে অপূর্বভাবে।


🌆 চারমিনারের চারপাশে জীবন্ত ইতিহাস

চারমিনার ঘিরে থাকা লাাড বাজার (Laad Bazaar) একেবারেই আলাদা অভিজ্ঞতা দেয়। এটি বিখ্যাত চুড়ি বাজার, যেখানে হাজারো রঙিন কাঁচের চুড়ি, মুক্তার অলংকার ও হায়দরাবাদী আতর বিক্রি হয়। বাজারের ঘ্রাণ, রঙ এবং হইচই— সবই যেন এক জীবন্ত সংস্কৃতি উৎসব।

চারমিনারের কাছেই অবস্থিত মক্কা মসজিদ, যা ভারতের অন্যতম বৃহৎ মসজিদ। এর ভেতরে প্রায় দশ হাজার মানুষ একসঙ্গে নামাজ পড়তে পারেন।


🍛 হায়দরাবাদের স্বাদ

চারমিনারের আশেপাশের রাস্তায় ভেসে আসে হায়দরাবাদি বিরিয়ানির সুবাস। এখানে এসে নেহারি, হালিম, হায়দরাবাদি চা, ওস্মানিয়া বিস্কুট না খেলে যেন ভ্রমণ অসম্পূর্ণ থেকে যায়। সন্ধ্যায় চারমিনারের গম্বুজগুলিতে আলোকসজ্জা হলে, তার সামনে বসে এক কাপ ইরানি চা হাতে শহরের ছন্দ উপভোগ করাই প্রকৃত আনন্দ।


🕰️ যাওয়ার সেরা সময়

অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময়টি হায়দরাবাদ ঘোরার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত। তখন আবহাওয়া মনোরম থাকে, আর উৎসবের মৌসুমে চারমিনারের আশেপাশে একেবারে মেলার আবহ তৈরি হয়।


🚗 কীভাবে পৌঁছাবেন

  • বিমানপথে: রাজীব গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (Shamshabad) থেকে চারমিনার প্রায় ২০ কিমি দূরে।
  • রেলপথে: হায়দরাবাদ দেকান স্টেশন শহরের সঙ্গে সংযুক্ত।
  • সড়কপথে: শহরের যেকোনো প্রান্ত থেকে ট্যাক্সি, অটো বা বাসে সহজেই পৌঁছানো যায়।

🌙 শেষকথা

চারমিনার শুধু একটি স্থাপনা নয় — এটি ইতিহাসের নিঃশব্দ সাক্ষী, প্রেমের প্রতীক, ধর্মীয় সম্প্রীতির বার্তা এবং হায়দরাবাদের আত্মা। চারটি মিনার যেন চারটি যুগের প্রতীক, যা আজও দাঁড়িয়ে আছে তার রাজকীয় গরিমা নিয়ে।

চারমিনারের নিচে দাঁড়িয়ে যখন আকাশের দিকে তাকাবেন, মনে হবে ইতিহাস যেন এখনো শ্বাস নিচ্ছে, প্রতিটি খিলানের ফাঁকে লুকিয়ে আছে শতাব্দীর গল্প।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

রামোজি ফিল্ম সিটি — যেখানে প্রতিটি ফ্রেমে লুকিয়ে থাকে ভারতের সৃজনশীলতার দীপ্তি।

ভারতের দক্ষিণের মনোরম রাজ্য তেলেঙ্গানার রাজধানী হায়দরাবাদের উপকণ্ঠে অবস্থিত রামোজি ফিল্ম সিটি। এটি শুধুমাত্র একটি পর্যটন কেন্দ্র নয়, বরং এক বিস্ময়কর দুনিয়া — যেখানে বাস্তবের সঙ্গে মিশে যায় রূপালি পর্দার কল্পনা। বিশ্বের বৃহত্তম ফিল্ম সিটি হিসেবে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে নাম থাকা রামোজি ফিল্ম সিটি যেন এক জাদুর দেশ, যেখানে প্রতিটি ইটের গায়ে লেখা আছে সিনেমার গল্প।


📍 কীভাবে পৌঁছানো যায়

রামোজি ফিল্ম সিটি হায়দরাবাদ শহর থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। হায়দরাবাদ বিমানবন্দর, রেলস্টেশন বা বাসস্ট্যান্ড থেকে ট্যাক্সি, ক্যাব কিংবা ট্যুর বাসে সহজেই এখানে পৌঁছানো যায়। যারা নিজস্ব গাড়িতে ঘুরতে ভালোবাসেন, তাদের জন্য ভালো রাস্তা ও স্পষ্ট দিকনির্দেশনা আছে।


🎬 ফিল্ম সিটির ইতিহাস

১৯৯৬ সালে বিশিষ্ট চলচ্চিত্র প্রযোজক রামোজি রাও-এর উদ্যোগে নির্মিত হয় এই ফিল্ম সিটি। তাঁর স্বপ্ন ছিল এমন একটি জায়গা গড়ে তোলা, যেখানে একসঙ্গে সিনেমা নির্মাণ, সেট ডিজাইন, সম্পাদনা এবং প্রদর্শনের কাজ সম্পূর্ণভাবে করা যাবে। আজ সেই স্বপ্নই পরিণত হয়েছে এক আন্তর্জাতিক পর্যটন কেন্দ্রে, যেখানে প্রতিবছর লক্ষ লক্ষ মানুষ ভিড় জমায়।


🌆 রামোজি ফিল্ম সিটির বিস্ময়কর দুনিয়া

রামোজি ফিল্ম সিটি প্রায় ২০০০ একর জমির ওপর বিস্তৃত। এখানে আছে বিশাল ফিল্ম সেট, কৃত্রিম শহর, বিদেশি লোকেশনের প্রতিরূপ, বাগান, থিম পার্ক এবং থ্রিল রাইড — সব মিলিয়ে যেন এক মায়াবী জগৎ।

🎥 ফিল্ম সেট ও শ্যুটিং জোন

এখানে আপনি দেখতে পাবেন মুম্বাইয়ের রাস্তা, দিল্লির রাস্তাঘাট, বিদেশি শহরের অনুকরণে তৈরি ইউরোপীয় বিল্ডিং, বিমানবন্দর, রেলস্টেশন, গ্রামীণ বাজার থেকে শুরু করে রাজকীয় প্রাসাদ পর্যন্ত। ভাগ্য ভালো থাকলে চলমান কোনো সিনেমার শ্যুটিংও দেখতে পেতে পারেন!

🌺 গার্ডেন ও থিম পার্ক

মার্বেল গার্ডেন, মুঘল গার্ডেন, এবং নানা রঙের ফুলে ভরা “ফ্লোরাল কিংডম” প্রকৃতিপ্রেমীদের মন ভরিয়ে দেয়। শিশুদের জন্য রয়েছে ফান-টাইম থিম পার্ক, যেখানে রোলার কোস্টার, ৪ডি শো, জঙ্গল বুক অ্যাডভেঞ্চার এবং স্টান্ট শো দর্শকদের চমকে দেয়।

🏰 ইউরোপীয় ও জাপানি স্টাইলের সেট

রামোজি ফিল্ম সিটির অন্যতম আকর্ষণ হল ইউরোপীয় ক্যাফে, জাপানি গার্ডেন এবং আমেরিকান টাউনশিপের নিখুঁত কপি। এই স্থানগুলোতে ঘুরে বেড়ালে মনে হবে যেন আপনি এক মুহূর্তে ভারত থেকে ইউরোপে পৌঁছে গেছেন।


🎭 শো এবং বিনোদন

প্রতিদিন সকালে থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এখানে চলে বিভিন্ন স্টান্ট শো, ম্যাজিক শো, ডান্স পারফর্মেন্স, এবং লাইভ সিনেমা সেট ট্যুর। সন্ধ্যার পর লাইট অ্যান্ড সাউন্ড শো-তে ফিল্ম সিটির সৌন্দর্য নতুন রূপ পায় — ঝলমলে আলোয় পুরো এলাকা যেন রূপকথার শহরে পরিণত হয়।


🍴 খাবার ও বিশ্রাম

ফিল্ম সিটির ভেতরেই রয়েছে অসংখ্য রেস্তোরাঁ ও ফুড কোর্ট। দক্ষিণ ভারতীয় দোসা-ইডলি থেকে শুরু করে উত্তর ভারতীয় থালি, চাইনিজ ও কন্টিনেন্টাল খাবার — সবই পাওয়া যায়। যারা রাত কাটাতে চান, তাদের জন্য আছে বিলাসবহুল হোটেল যেমন Sitara Luxury HotelTara Comfort Hotel, যা নিজেই এক অভিজ্ঞতা।


🛍️ শপিং ও স্মারক সংগ্রহ

ফিল্ম সিটির ভেতরে ছোট ছোট দোকানে পাওয়া যায় সিনেমা-থিমযুক্ত পণ্য, স্থানীয় হস্তশিল্প ও স্মারক সামগ্রী। “মেমরি লেন” থেকে আপনি নিতে পারেন এই জাদুর রাজ্যের এক টুকরো স্মৃতি।


🌄 ভ্রমণ পরামর্শ

  • সকাল সকাল পৌঁছালে পুরো ফিল্ম সিটি ঘোরা সম্ভব।
  • আরামদায়ক জুতো পরুন, কারণ হাঁটাহাঁটি বেশ করতে হয়।
  • টিকিট অনলাইনে বুক করা সুবিধাজনক।
  • ফটো তোলার সুযোগ প্রচুর, তাই ক্যামেরা সঙ্গে রাখুন।

🌠 শেষ কথা

রামোজি ফিল্ম সিটি শুধু একটি পর্যটন কেন্দ্র নয়, এটি এক রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা। এখানে বাস্তব ও স্বপ্ন একাকার হয়ে যায়। শিশু থেকে প্রবীণ — সকলের জন্যই এই স্থান আনন্দ ও বিস্ময়ের উৎস। যদি আপনি কখনও সিনেমার ভেতরে প্রবেশ করার স্বপ্ন দেখে থাকেন, তবে রামোজি ফিল্ম সিটি আপনাকে সেই স্বপ্ন স্পর্শ করার সুযোগ দেবে।


✈️ রামোজি ফিল্ম সিটি — যেখানে প্রতিটি ফ্রেমে লুকিয়ে থাকে ভারতের সৃজনশীলতার দীপ্তি।

Share This
Categories
বিবিধ

বেসরকারি কলেজগুলিকে সজাগ থাকার নির্দেশ, ক্যাম্পাসের বাইরে শিক্ষার্থীর সুরক্ষা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা।

কলকাতা, নিজস্ব সংবাদদাতাঃ- পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি সাম্প্রতিক ঘটনায় একজন মেডিকেল শিক্ষার্থীর যৌন নির্যাতনের অভিযোগে জড়িত ঘটনা নিয়ে শোক প্রকাশ করেছেন, উল্লেখ করেছেন যে এটি বেসরকারী মেডিকেল কলেজের দায়িত্ব যেখানে শিক্ষার্থীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য ভুক্তভোগী ভর্তি হয়েছিল।

গণমাধ্যমকে সম্বোধন করে মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, *”এটি একটি বেসরকারী কলেজের বিষয়, এবং কেউ এ জাতীয় ঘটনা সমর্থন করছে না। তদন্ত চলছে বর্তমানে, এবং আমি পুলিশকে কঠোর সম্ভাব্য পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছি। জড়িত কাউকে এড়িয়ে যাওয়া হবে না – তিন জনকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়নি।” * * * * * *

অন্যান্য রাজ্যে ঘটনার সাথে তুলনা করে তিনি বলেছিলেন, *“ওড়িশায় তিন মেয়েকে একটি সৈকতে ধর্ষণ করা হয়েছিল – ওড়িশা সরকার কী পদক্ষেপ নিয়েছে? মণিপুর, উত্তর প্রদেশ, বিহার এবং ওড়িশায়ও একই রকম বিষয় রয়েছে। এই সমস্ত রাজ্য অবশ্যই একই স্তরের গুরুতরতার সাথে কাজ করতে হবে। আমাদের এই ধরনের ক্রাইমস টোলারেন্স রয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে দায়বদ্ধতার প্রয়োজনীয়তার উপরও জোর দিয়েছিলেন এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিশেষত রাতের সময় সতর্কতার আহ্বান জানিয়েছেন। * “মেয়েটি একটি প্রাইভেট মেডিকেল কলেজে পড়াশোনা করছিল। কে তাদের রাতে বাইরে যেতে দিয়েছিল, বিশেষত একটি জঙ্গলে অঞ্চলে? রাতে, মেয়েদের বাচ্চাদের অবাধে ঘোরাঘুরি করার অনুমতি দেওয়া উচিত নয় – সুরক্ষা অবশ্যই প্রথমে আসতে হবে,”* তিনি বলেছিলেন।

তিনি বেসরকারী কলেজগুলিকে আরও সজাগ থাকার এবং ক্যাম্পাসের বাইরে এবং বাইরে উভয় শিক্ষার্থীর সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য আবেদন করেছিলেন। * “এটি একটি অত্যন্ত নিন্দনীয় ঘটনা। আমি সকলের কাছে বিশেষত যুবতী মেয়েদের কাছে আবেদন করি, একেবারে প্রয়োজন না হলে রাতে বাইরে না যেতে। বেসরকারী কলেজগুলিকেও জবাবদিহি করতে হবে,”* তিনি যোগ করেছেন।

চলমান তদন্তের অংশ হিসাবে পুলিশ অতিরিক্ত সন্দেহভাজনদের সন্ধান করতে থাকে।

Share This
Categories
বিবিধ

বাজি তৈরি করার সময় আচমকা বিস্ফোরণ হলো, আর সেই বিস্ফোরণে গুরুতর জখম হলেন এক শ্রমিক।

হাওড়া, নিজস্ব সংবাদদাতাঃ- একটি বাড়ির একতলায় বসে বাজি তৈরি করার সময় আচমকা বিস্ফোরণ হলো। আর সেই বিস্ফোরণে গুরুতর জখম হলেন এক শ্রমিক। পাশাপাশি ওই বাড়ির একতলায় আগুন লেগে যায়। আকাশ হেলা (৩২) নামে গুরুতর জখম ওই শ্রমিককে কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় ভর্তি করা হয়। সেখানেই রাত পর্যন্ত চিকিৎসা চলে আকাশের। প্রথমে এলাকার বাসিন্দারা আগুন নেভানোর কাজ কোরে দমকলকে খবর দেওয়া হয় ঘটনা অস্থলে একটি ইঞ্জিন এসে আগুন নিয়ন্ত্রনে আনে ঘটনাস্থলে ছুটে যায় চ্যাটার্জি হাট থানার পুলিশ।
ঘটনাটি ঘটে রামরাজাতলার অম্বিকা কুন্ডু লেনে।আতঙ্কিত হয়ে পড়েন বাসিন্দারা। পুজোয় ব্যবহার করার জন্য বিভিন্ন প্রকারের আতশবাজি তৈরি হতো এখানে। কোনও বেআইনি বাজি মজুত করা হয়েছিলো কি না তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। কীভাবে আচমকা বিস্ফোরণ হলো তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Share This