Categories
অনুগল্প গল্প

গল্প : হারিয়ে পাওয়া কণিকা।

অরূপ ট্রেনে বসে ছিল। তাকে বিপরীতে বসা মেয়েটির চোখ বারবার কিছু বলতে চাইছিল।
নাম—কণিকা।
দু’জনের কথাবার্তা মিলল, গল্প জমল, হাসি থামছিল না।

স্টেশন এলে কণিকা নেমে গেল। কিন্তু তার ব্যাগে ভুল করে অরূপের দেওয়া বইটা থেকে গেল।
বইয়ের ভিতরে অরূপের নম্বর।

দু’দিন পর অরূপের ফোনে একটি মিষ্টি কণ্ঠস্বর—
“আমি কণিকা… আপনার বইটা আছে আমার কাছে।”

এভাবেই শুরু তাদের নিয়মিত কথা…
একদিন কণিকা বলল—“এবার দেখা হবে?”

সেই দেখা-টাকেই তারা দু’জনই আজীবন মনে রাখল।
মনে হল—যেন একে অপরকে তারা আগেই চিনত… শুধু সময়ই তাদের মিলিয়ে দিল।

Share This
Categories
অনুগল্প গল্প

গল্প : ফুলওয়ালার প্রেম।

রাজীব শহরের একটি ফুলের দোকানে কাজ করত। প্রতিদিন সকালে সে ফুল সাজাতে ব্যস্ত থাকত।
একদিন দেখল—একটা মেয়ে প্রতিদিন একই সময় একটা গোলাপ কিনে নিয়ে যায়।
মেয়েটির নাম—মেঘলা।

রাজীবের মনে প্রশ্ন—কার জন্য এত গোলাপ?

একদিন সাহস করে জিজ্ঞেস করল—“আপনি কি কারো জন্য ফুল নেন?”
মেঘলা একটু দুঃখ নিয়ে বলল—“না। আমার মা গোলাপ খুব ভালোবাসতেন… তাই তাঁর স্মৃতিতে রাখি।”

রাজীব বুঝল—মেঘলার চোখের হাসির পিছনে লুকানো বিষাদ।
পরের দিন সে তাকে একটা সাদা গোলাপ উপহার দিল।
মেঘলা অবাক—“এর দাম?”
রাজীব বলল—“কখনো কখনো কিছু জিনিস দামের নয়—অনুভূতির।”

সেই দিন থেকে তাদের আলাপ বাড়ল, আর ধীরে ধীরে মেঘলার চোখের দুঃখটা একটু একটু করে কমতে থাকল।

Share This
Categories
অনুগল্প গল্প নারী কথা

গল্প : নীল শাড়ির মেয়ে।

অভি প্রতিদিন কলেজে যাওয়ার পথে বাসস্ট্যান্ডে একই মেয়েটিকে দেখত—নীল শাড়ি, কপালে ছোট টিপ, আর শান্ত দু’টো চোখ।
মেয়েটির নাম ছিল—ঋদ্ধিমা।

অভি সাহস করে কোনও দিন কথা বলেনি, শুধু দূর থেকে দেখেই যেত।
একদিন কলেজে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। অভি গান গাইছিল। গান শেষে কেউ একজন বলল—
“তুমি খুব সুন্দর গাও।”
অভি তাকিয়ে দেখল—ঋদ্ধিমা!

তারপর থেকেই দু’জনের মধ্যে ছোট ছোট কথা, হাসি…
একদিন ঋদ্ধিমা বাসে উঠতে গিয়ে হঠাৎ পড়ে যাচ্ছিল। অভি ধরল তাকে।
ঋদ্ধিমা হেসে বলল—“তুমি না থাকলে আজ হাড্ডি ভেঙে যেত।”

অভি সাহস সঞ্চয় করে বলল—“দূর থেকে দেখতাম… কিন্তু বলতে পারিনি—তোমাকে ভালো লাগে।”

ঋদ্ধিমা প্রথমে অবাক, তারপর মুখটা লজ্জায় লাল।
সে বলল—“আমি ভেবেছিলাম শুধু আমিই দেখি তোমাকে।”

সেইদিন প্রথমবার দু’জন একসঙ্গে হাঁটল—ফুটপাতের পাশে কাঁচের দোকানে নিজেদের প্রতিচ্ছবি দেখে দু’জনই হেসে ফেলল।

Share This
Categories
অনুগল্প গল্প

গল্প : বৃষ্টিভেজা দুপুরে।

মেঘভাঙা বৃষ্টির দুপুরে অফিস ছুটি হয়ে গিয়েছিল। ঝর্ণা বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে ছিল—ভিজে যাওয়ার ভয় নেই, কিন্তু একা থাকার ভয় ছিল। বৃষ্টি সবসময়ই তাকে অতীতের কোনো অদ্ভুত স্মৃতিতে ফিরিয়ে দিত।

হঠাৎ একটা ছাতা মাথার উপরে থামল।
তপন—ওদের অফিসের নতুন ছেলেটা।
সে হাসলো—“এভাবে দাঁড়িয়ে থাকলে তো পুরোপুরি ভিজে যাবে।”

ঝর্ণা একটু অপ্রস্তুত হলেও ছাতার নিচে দাঁড়াল। বৃষ্টির শব্দে কথাগুলো ভেঙে যাচ্ছিল, কিন্তু একটা অদ্ভুত শান্তি নেমে এলো দুই জনের মাঝে।

বাস এল না। রাস্তায় জল জমে গিয়েছে।
তপন বলল—“চলো, ওখানে চায়ের দোকান আছে। বৃষ্টি থামা পর্যন্ত বসি।”

চায়ের কাপে গরম ধোঁয়া। বাইরে মেঘের গর্জন।
ঝর্ণা আস্তে বলল—“বৃষ্টি আমার ভালো লাগে না।”
তপন জিজ্ঞেস করল—“তবে এতক্ষণ ভিজে দাঁড়িয়ে ছিলে?”
ঝর্ণা উত্তর দিল—“কারো জন্য অপেক্ষা করছিলাম… কিন্তু সে আর আসে না।”

তপন কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলল—
“কখনো কখনো যারা আসে না, তাদের জন্য অপেক্ষা করাটাই ভুল। বরং যারা পাশে দাঁড়ায়—তাদের চিনতে পারাটাই গুরুত্বপূর্ণ।”

ঝর্ণা তাকাল তপনের দিকে।
এ প্রথম অনুভব করল—কেউ তাকে বোঝার চেষ্টা করছে।

বৃষ্টি থামার পর দু’জন পাশাপাশি হাঁটতে হাঁটতে বাড়ি ফিরল।
সেদিনের বৃষ্টিটা ঝর্ণার আর খারাপ লাগল না।

Share This
Categories
অনুগল্প গল্প

গল্প: “শেষ বিকেলের চিঠি”

সন্ধ্যার শেষে রং মাখা আকাশের নিচে রুদ্রর হাতে কাঁপছিল একটি পুরনো খাম। গ্রামের স্কুলের শেষ বেঞ্চে বসে পড়াশোনা করা দুই বন্ধু—রুদ্র আর মহুয়া। তাদের বন্ধুত্বটা ছিল খুব স্বাভাবিক, কিন্তু বয়সের সঙ্গে সঙ্গে অদৃশ্য একটা অনুভূতি ভিড় জমিয়েছিল দু’জনের হৃদয়ে।

মহুয়া কলকাতায় নার্সিং পড়তে যাবে—এই খবরটা শোনার পর থেকেই রুদ্রর ভিতরটা ফাঁকা হয়ে গেল। বহুদিন ধরে বলতে চেয়েছিল, কিন্তু সাহস পাইনি। তাই লিখে ফেলেছিল একটা চিঠি—কিন্তু সেই চিঠি কখনোই দেওয়া হয়নি।

যেদিন বিদায় নেবে মহুয়া, সেদিন রুদ্র তাকে নিয়ে গেল তাদের প্রিয় নদীর ধারে। চারদিক নরম বাতাসে ভরে আছে। তার হাত কাঁপছিল, গলা শুকিয়ে যাচ্ছিল। অবশেষে চিঠিটা বাড়িয়ে দিয়ে বলল—
“তুই চলে যাওয়ার আগেই এটা তোকে দিতে চাই।”

মহুয়া চিঠি খুলে দেখল—মাত্র তিনটি শব্দ: “আমি তোকে ভালবাসি।”
নীরবতা তৈরি হল। বাতাসের শব্দও যেন থেমে গেল।

মহুয়া রুদ্রর দিকে তাকিয়ে চোখের জল আটকাতে পারল না।
“এতদিন বলতে পারলি না?”
রুদ্র মাথা নিচু করে বলল, “হারানোর ভয় ছিল।”
মহুয়া তার হাত ধরল—“তুই আমাকে হারাবি না, রুদ্র। আমি ফিরব। আমার পড়াশোনা শেষ হলে এ নদীর ধারে আবার দাঁড়াব—তোর পাশে।”

রুদ্র কিছু বলল না। কিন্তু সে জানল—এ অপেক্ষাই হবে তার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর প্রতীক্ষা।

Share This
Categories
বিবিধ

গড়বেতার জঙ্গল থেকে বেরিয়ে ৬০ নম্বর জাতীয় সড়কের উপর কেরামতি দাঁতাল হাতির,অবরুদ্ধ জাতীয় সড়ক।।

গড়বেতা, নিজস্ব সংবাদদাতা:- পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার গড়বেতার জঙ্গল থেকে বেরিয়ে ৬০ নম্বর জাতীয় সড়কের উপর দলছুট দাঁতাল হাতি,ঘটনায় বেশ কিছুক্ষণ জাতীয় সড়ক অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে,মঙ্গলবার দুপুর নাগাদ এমনই চিত্র উঠে এলো,জানা গিয়েছে এই দিন দলছুট একটি দাঁতাল হাতি গড়বেতা জঙ্গলে প্রবেশ করার আগেই সতর্কতা জারি করেছিল বনদপ্তর,এই দিন দুপুর নাগাদ হঠাৎই ওই দলছুট দাঁতাল হাতিটি জাতীয় সড়কের উপর উঠে যায়,বেশ কিছুক্ষণ কেরামতি দেখানোর পর অবশেষে পুনরায় জঙ্গলে প্রবেশ করলে ফের জানি চলাচল স্বাভাবিক হয়। ঘটনায় আতঙ্কের বাতাবরণ সৃষ্টি হয়েছে এলাকা জুড়ে।

Share This
Categories
বিবিধ

গড়বেতার গ্রামীন এলাকায় ব্যাহত বিদ্যুৎ পরিষেবা,আমলাগোড়া বৈদ্যুতিক স্টেশনে বিক্ষোবে সামিল বিধায়ক।

পশ্চিম মেদিনীপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা:-পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার গড়বেতা এক নম্বর ব্লকের গ্রামীন এলাকায় ব্যাহত বিদ্যুৎ পরিষেবার অভিযোগ তুলে বুধবার আমলাগোড়া বৈদ্যুতিক স্টেশনে এলাকার মহিলাদের সঙ্গে বিক্ষোবে সামিল হলেন গড়বেতা বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক উত্তরা সিংহ হাজরা, এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মিঠু প্রতিহার সহ অন্যান্যরা। এলাকার মহিলাদের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যুৎ পরিষেবা ঠিকঠাক না পাওয়ায় এই পদক্ষেপ নিয়েছে এলাকার মহিলারা। তবে আগামী দিনে এই ধরনের ঘটনা ঘটলে আরো বৃহত্তর আন্দোলনে সামিল হবে এলাকার মহিলারা।

Share This
Categories
নারী কথা প্রবন্ধ রিভিউ

পরিবারে নারীদের ভূমিকা: ঐতিহ্য, পরিবর্তন ও আধুনিক বাস্তবতা।

ভূমিকা

মানবসভ্যতার সূচনালগ্ন থেকে পরিবার সমাজের মূল ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়ে এসেছে। পরিবারের গঠন, পরিচালনা, মূল্যবোধ সংরক্ষণ এবং প্রজন্মের পর প্রজন্মে সংস্কৃতি ও নৈতিকতার বাহক হিসেবে পরিবার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আর এই পরিবারের কেন্দ্রবিন্দুতে যে ব্যক্তি সবচেয়ে নিবিড়ভাবে যুক্ত থাকেন, তিনি একজন নারী। নারী শুধু পরিবারের সদস্য নন, তিনি এর প্রাণ, ভারসাম্য, দিকনির্দেশনা ও আবেগী স্তম্ভ।

অতীতের ঐতিহ্য থেকে বর্তমানের গতিশীল সামাজিক বাস্তবতায় নারীর ভূমিকা বিস্তৃত হয়েছে, রূপান্তরিত হয়েছে, আবার অনেক ক্ষেত্রে গভীর চ্যালেঞ্জের মুখোমুখিও হয়েছে। একসময় পরিবার বলতেই বোঝাত গৃহস্থালি কাজের চেনা দৃশ্য—নারী যেন পরিবার পরিচালনার একমাত্র অবলম্বন। কিন্তু সময় বদলেছে। নারীর শিক্ষা, কর্মসংস্থান, আর্থিক স্বাধীনতা, সামাজিক সচেতনতা ও অধিকারপ্রাপ্তি পরিবারে তার ভূমিকা পুনর্নির্ধারণ করেছে।

এই প্রবন্ধে পরিবারে নারীর ভূমিকার ঐতিহাসিক বহুমাত্রিক দিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ভিন্নতা, আধুনিক যুগের নতুন বাস্তবতা, চ্যালেঞ্জ, এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে গভীর আলোকপাত করা হয়েছে।

১. ঐতিহাসিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট

১.১ প্রাচীন সমাজে নারীর অবস্থান

ইতিহাসের বিভিন্ন যুগে নারী কখনো দেবী, কখনো শ্রমিক, কখনো বঞ্চিত, কখনো সমাজের কেন্দ্রীয় শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার সংস্কৃতিতে নারীকে শক্তুি বা শক্তির প্রতীক হিসেবে দেখা হলেও বাস্তব জীবনে তাকে গৃহবন্দী ও নির্ভরশীল করে রাখার প্রবণতা ছিল প্রবল।

প্রাচীন কৃষিনির্ভর সমাজে নারীরা মূলত গৃহকর্ম, সন্তান প্রতিপালন, খাদ্য সংরক্ষণ এবং পরিবার রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করতেন। পুরুষরা বাহিরের কাজ করতেন, আর নারী গৃহের অভিভাবক হিসেবে অবস্থান করতেন। নারীর ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু তা প্রকাশ্য বা সামাজিক স্বীকৃতি ততটা পায়নি।

১.২ মধ্যযুগে নারীর ভূমিকা

মধ্যযুগে ধর্মীয়, সামাজিক এবং রাজনৈতিক কাঠামোগুলো নারীর চলার পথকে আরও সীমাবদ্ধ করলেও পরিবারে তাদের গুরুত্ব কমেনি। পরিবারে নারী ছিলেন শৃঙ্খলা, নৈতিকতা ও ঐতিহ্য রক্ষার প্রধান বাহক। সন্তানদের শিক্ষাদীক্ষা, পরিবারের মূল্যবোধ গঠন তাদের হাতেই নির্ভর করত। তবে সেই মূল্যায়ন ছিল “গৃহস্থালী”র সীমানার মধ্যে সীমাবদ্ধ।

১.৩ উপনিবেশকাল ও নারীশিক্ষার উত্থান

উপনিবেশ ও সংস্কার আন্দোলনের যুগে নারীশিক্ষার প্রসার ঘটে। রামমোহন রায়, ইশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরদের প্রচেষ্টায় নারীরা শিক্ষার আলো পেতে শুরু করেন। এতে নারীর চিন্তাধারায়, আত্মবিশ্বাসে নতুন মাত্রা যোগ হয় যা পরিবারে তাদের দায়িত্বের পাশাপাশি পরামর্শদাতা ও সিদ্ধান্তগ্রহণকারীর ভূমিকাও বাড়িয়ে দেয়।

২. পরিবারে নারীর বহুমাত্রিক ভূমিকা

নারীর দায়িত্ব শুধু একটি ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়; পরিবারে তার উপস্থিতি আকাশের মতো বিস্তৃত। নিচে পরিবারে নারীর প্রধান কিছু ভূমিকা তুলে ধরা হলো।

২.১ গৃহিণী হিসেবে ভূমিকা

গৃহিণীর দায়িত্ব মানবসভ্যতার প্রাচীনতম ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। রান্না, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, পরিবারের সদস্যদের সুস্থতা, অর্থব্যয়ের হিসাব রাখা—এই সবই দীর্ঘদিন ধরে নারীর ওপর বর্তেছে।

অনেকে এটিকে ‘অসম্মানজনক’ কাজ ভাবলেও বাস্তবে এ সব দায়িত্ব পরিবার পরিচালনার ভিত্তি। একজন দক্ষ গৃহিণী পুরো পরিবারের জীবনযাপনকে সহজ, সুন্দর ও সুস্থ রাখেন। সমাজে গৃহিণীর শ্রম অদৃশ্য হলেও এর গুরুত্ব অপরিসীম।

২.২ মা হিসেবে ভূমিকা

মায়ের ভূমিকা পরিবারে সবচেয়ে আবেগী, তবু সবচেয়ে দায়িত্বপূর্ণ। সন্তানের শারীরিক পরিচর্যা ছাড়াও নৈতিকতা, সহমর্মিতা, সামাজিক বোধ, ভাষা, মূল্যবোধ—সব প্রথম শেখানো হয় মায়ের কাছেই।

একজন মা শুধু সন্তান জন্ম দেন না; তিনি গড়ে তোলেন ভবিষ্যৎ মানুষ। তাই পরিবারে নারীর এই ভূমিকা অন্য যে কোনো দায়িত্বের চেয়ে বিস্তৃত।

২.৩ স্ত্রী হিসেবে সহযাত্রী

পরিবারের স্থিতিশীলতার অন্যতম শর্ত হলো দাম্পত্যজীবনের ভারসাম্য। স্ত্রী হিসেবে নারী শুধু আবেগী সমর্থনই দেন না, তিনি পরিবারের অর্থনীতি, সন্তান শিক্ষা, সামাজিক সম্পর্ক, আত্মীয়তা—সবকিছুর সাথে যুক্ত হয়ে থাকেন।

আধুনিক যুগে দাম্পত্য সম্পর্ক আর কর্তৃত্বের নয়, বরং অংশীদারিত্বের। নারী-পুরুষ উভয়েই সমানভাবে সিদ্ধান্ত নেন, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা করেন, দায়িত্ব ভাগ করে নেন।

২.৪ পরিবারের ‘সংস্কৃতির ধারক’ হিসেবে নারী

পরিবারের রীতি, নীতি, প্রথা, উৎসব, ভাষা—সবকিছুই নারী প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে এগিয়ে দেন।
তিনি শেখান—

কীভাবে অতিথিকে আপ্যায়ন করতে হয়

কোন উৎসবে কোন খাবার রান্না হয়

কিভাবে বড়দের সম্মান করতে হয়

সামাজিক আচরণ কেমন হওয়া উচিত

নারী পরিবারকে শুধু চালান না; তিনি পরিবারকে “সংস্কৃতি” দেন।

২.৫ শিক্ষিকা ও দিকনির্দেশক

ছোটো বাচ্চার প্রথম শিক্ষক মা। স্কুল শিক্ষা শুরু হওয়ার আগেই শিশুর মধ্যে—

ভাষাচর্চা

সামাজিক নিয়ম

আত্মবিশ্বাস

আচরণগত বোধ

ধর্মীয় বা নৈতিক মূল্যবোধ

সবকিছু গড়ে ওঠে নারীর মাধ্যমে। একজন শিক্ষিত মা পুরো পরিবারকে প্রভাবিত করেন।

২.৬ কর্মজীবী নারী হিসেবে ভূমিকা

আজকের বিশ্বে নারীর কর্মজীবনের পরিধি বেড়েছে। এখন তিনি—

ব্যাংকার

শিক্ষক

ডাক্তার

প্রকৌশলী

উদ্যোক্তা

সরকারি কর্মকর্তা

রাজনীতিক

হিসেবে সমান সফল।

এর ফলে পরিবারে তার ভূমিকা আরও দৃঢ় হয়েছে। তিনি শুধু গৃহস্থালিই নয়, পরিবারের অর্থনীতিরও অন্যতম ভিত্তি হয়ে উঠেছেন।

Share This
Categories
কবিতা

জ্বলে ওঠা আগুন।।

যে দেয়াল চেপে ধরে শ্বাস,
আমি সেই দেয়াল ভাঙব আজই—
রক্তের ভেতর জ্বলে ওঠা আগুন
দমাতে পারে কারা, বলো, কই?

যে হাত করে শৃঙ্খল শক্ত,
আমি সেই হাতেই আগুন ধরাব—
এক ফোঁটা অন্যায়ের ছায়াও যদি পড়ে,
মাটি কাঁপিয়ে উত্তর দেব, দাঁড়াব।

শব্দ চুরি ক’রে নেবে?
শ্বাস আটকে রাখবে?
না—আমার বুকের ভেতর বজ্র গর্জে ওঠে,
যে গর্জন থামানোই যায় না, রেখে।

আমি জন্মেছি শুধু বাঁচতে নয়,
লড়তে—ভাঙতে—নতুন পথ বানাতে।
অতীতের কাঁটাঝোপ পুড়িয়ে
সকালের আলো নিজেই জ্বালাতে।

যারা ভেবে বসে ভয় দেখালে থেমে যাব,
তাদের ভুল ভাঙবে আজই—
আমার চোখের আগুন দেখে
তারাই শিখবে বিদ্রোহ কাকে বলে, ঠিক আজই।

Share This
Categories
অনুগল্প গল্প

“শেষ বিকেলের আলো” — একটি প্রেমের গল্প।

শহরের ব্যস্ত রাস্তাটা প্রতিদিনের মতোই শব্দে ভরা। কিন্তু সেই দিনের শেষ বিকেলটা অদ্ভুত নরম ছিল। রোদটা যেন একটু বেশি কোমল, আর বাতাসে ছিল কেমন যেন অজানা এক টান।

নীলা কলেজ থেকে ফিরছিল। হাতে আঁকা খাতাটা বুকে জড়িয়ে হাঁটছিল ধীর পায়ে। রাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে ছিল অয়ন—তার পুরোনো স্কুল বন্ধু। বহুদিন পর দেখা হওয়ায় তারা দু’জনেই একটু অবাক, একটু অস্বস্তি।

“এতদিন কোথায় ছিলে?” নীলা হেসে জিজ্ঞেস করল।

অয়নও হেসে বলল, “ছিলাম তো… এখানেই। তুমি-ই ব্যস্ত হয়ে পড়লে।”

তাদের কথাবার্তা ধীরে ধীরে নরম হতে লাগল। পুরোনো দিনের স্মৃতি, ছোটখাটো দুষ্টুমি, ক্লাস ফাঁকি—সব ফিরে আসতে লাগল। অয়ন বুঝতে পারছিল, এত বছর পরও নীলার চোখের সেই কোমল হাসিটা তাকে ঠিক একইভাবে নাড়া দেয়।

কথা বলতে বলতে তারা হাঁটতে লাগল। হঠাৎ করে নীলা থেমে গেল।

“ওই রোদের আলোটা দেখো না… কত সুন্দর, তাই না?”
অয়ন তাকাল। রোদের আলো নীলার চুলে পড়ে যেন সোনালি হয়ে উঠেছে।

তার বুকের ভেতর অদ্ভুত একটা অনুভূতি জমতে লাগল।
কথা না ভেবে বলে ফেলল—
“নীলা, তুমি জানো… তুমি হাসলে মনে হয় পুরো দিনটাই সুন্দর হয়ে গেল।”

নীলা অবাক হয়ে তাকাল। চোখে একফোঁটা লাজুক ঝিলিক।

“এতদিন পর আজ এটা বললে?”
“হ্যাঁ… কারণ আজ বুঝলাম, কথা না বললে বোধহয় ভুল হয়ে যাবে।”

নীলা ধীরে ধীরে মাথা নিচু করল।
তারপর খুব নরম স্বরে বলল—
“তুমি দেরি করেছ, অয়ন… কিন্তু তবুও… আমি অপেক্ষা করছিলাম।”

শেষ বিকেলে দু’জনের ছায়া লম্বা হয়ে একসাথে মিশে গেল।
রাস্তা একই রইল, শহরও একই। কিন্তু তাদের জন্য পৃথিবীটা ঠিক তখনই একটু বদলে গেল।

Share This