বালুরঘাট, নিজস্ব সংবাদদাতা:- এমআরপি দামে রাসায়নিক সার বিক্রি না হওয়া ও ধলতা সমস্যাকে ঘিরে চলতে থাকা কৃষক আন্দোলনের আবহে অবশেষে জেলা প্রশাসন ও কৃষি দপ্তরের সঙ্গে বৈঠকে বসেন কৃষক নেতারা। বুধবার জেলা পরিষদ ভবনে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলাশাসক নবীন কুমার চন্দ্র, জেলা কৃষি আধিকারিক পার্থ মুখার্জি-সহ প্রশাসনের একাধিক কর্তা।
বৈঠক শেষে প্রশাসনের তরফে একাধিক আশ্বাস পাওয়ায় আপাতত কিছুটা আশাবাদী কৃষক মহল। যদিও আন্দোলন প্রত্যাহার করা হবে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পরে নেওয়া হবে বলেই জানিয়েছেন কৃষক নেতারা।
কৃষক সমিতির অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই জেলার বিভিন্ন সার দোকানে এমআরপি-র চেয়ে বেশি দামে রাসায়নিক সার বিক্রি করা হচ্ছে। কোথাও কোথাও জোর করে অতিরিক্ত পণ্য কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ। ফলে চাষের খরচ বেড়ে গিয়ে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন কৃষকরা। পাশাপাশি ধলতা নেওয়ার অভিযোগে ধান চাষেও ক্ষতি হচ্ছে বলে দাবি তাঁদের। এই সব দাবিতেই মঙ্গলবার থেকে জেলা শাসকের দপ্তরের সামনে অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্নায় বসেন কৃষক সমিতির সদস্যরা।
বৈঠকের পর কৃষক সমিতির জেলা সম্পাদক সঞ্জিত কুমার মণ্ডল জানান, তাঁদের আন্দোলনের মোট আটটি দাবি ছিল। প্রধান দাবিগুলির মধ্যে অন্যতম ছিল এমআরপি দামে সার বিক্রি নিশ্চিত করা। প্রশাসনের তরফে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, আগামী সপ্তাহ থেকেই এমআরপি দামে সার বিক্রি শুরু হবে এবং বিষয়টি নিয়ে মাইকিংও করা হবে। পাশাপাশি সহায়ক মূল্যে ধান কেনার বিষয়েও প্রশাসন উদ্যোগী হবে বলে জানানো হয়েছে।
ধর্না প্রত্যাহারের প্রশ্নে সঞ্জিতবাবু বলেন, “আমরা আগে প্রশাসনের আশ্বাস কতটা কার্যকর হয়, তা দেখব। তারপরই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”
প্রশাসনের এই আশ্বাসে আপাতত স্বস্তি পেলেও, প্রতিশ্রুতি বাস্তবে কতটা রূপ পায়, সেদিকেই এখন তাকিয়ে জেলার কৃষক