Categories
কবিতা

দামোদর ব্যারেজের কথা : মহীতোষ গায়েন।।

দামোদর ব্যারেজে সকাল১০ টা,আমরা নেমেছি একটু চা জলপানের জন্য,জল,চা খেলাম,সঙ্গে উপাদেয় চপ ও মুড়ি,পাশে তপন সেনের পানের দোকান,পান খেলাম।

তপনদার সঙ্গে কিছু গল্প হলো,তখন কুয়াশার চাদরের দফারফা করছে সূর্য,পান বেচে তপনদার মাসিক ৫০০০আয়ে ৪জনের চলে;খাদ্যসাথী প্রকল্প আছে।

আমাদের গাড়ি বাঁকুড়ার দিকে,
সংসদ সেমিনার যাব,এখানে ফিতা বিখ্যাত,কিনবো,কিন্তু বিনা পয়সায় কিনলাম তপনদার মন,তপনদাও তাই,
চরাচরে তখন বিরাজমান শান্তি।

এটাই পশ্চিমবঙ্গ,এখানে মা মাটি মানুষের প্রাণ,এখানে মণিপুর,বাংলাদেশের নির্মমতা নেই, জঙ্গলের পাশ দিয়ে গাড়ি চলছে,জানালা দিয়ে মিষ্টি হাওয়া মুখ‌ ছোঁয় প্রেমের আভা,দামোদরও মমতাময়।

————-

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

অজানার পথে এক দুপুর।

ভ্রমণ মানে শুধু স্থান বদল নয়—ভ্রমণ মানে নিজের ভেতরের মানুষটিকে একটু দূরে রেখে আসা, আর নতুন করে নিজেকে আবিষ্কার করা। এমনই এক অচেনা দুপুরে, ব্যস্ত শহরের ক্লান্তি ঝেড়ে ফেলে, আমি বেরিয়ে পড়েছিলাম অজানার পথে।
শীতের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকা সেই দিনটিতে আকাশ ছিল পরিষ্কার। ট্রেনের জানালা দিয়ে ছুটে চলা মাঠ, খাল আর ছোট ছোট গ্রাম যেন চোখের সামনে এক চলমান ছবির অ্যালবাম খুলে ধরছিল। মাঝে মাঝে কাঁচা রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে থাকা তালগাছ, কখনো লাল মাটির বাড়ি—সব মিলিয়ে এক নিঃশব্দ সৌন্দর্য।
গন্তব্য ছিল পাহাড়ঘেরা এক ছোট্ট শহর। নাম খুব পরিচিত নয়, কিন্তু শান্তি ভরা। স্টেশন থেকে নামতেই যে জিনিসটা সবচেয়ে আগে টের পেলাম, তা হলো—নীরবতা। শহরের কোলাহলের অভ্যাসে অভ্যস্ত কান যেন কিছুক্ষণের জন্য বিভ্রান্ত হয়ে পড়ল। বাতাসে ছিল হালকা শীতের গন্ধ, আর রোদের উষ্ণ ছোঁয়া।
হেঁটে চললাম সরু রাস্তা ধরে। রাস্তার ধারে চা-দোকান, যেখানে কেটলিতে ফুটছে দুধ-চা। দোকানদার হাসিমুখে চা বাড়িয়ে দিল—সেই চায়ের স্বাদ যেন শহরের দামি ক্যাফের চেয়েও অনেক বেশি আপন। পাশেই কয়েকজন স্থানীয় মানুষ গল্পে মশগুল, তাদের কথার ফাঁকে ফাঁকে জীবনের সহজ সত্যগুলো যেন ঝরে পড়ছিল।
দুপুর গড়াতেই পাহাড়ের ছায়া লম্বা হয়ে এল। একপাশে নীলচে পাহাড়, অন্য পাশে সবুজ উপত্যকা। সেই দৃশ্যের সামনে দাঁড়িয়ে মনে হলো—প্রকৃতি যেন নিজেই শিল্পী, আর আমরা কেবল দর্শক। মোবাইল তুলে ছবি তুললাম ঠিকই, কিন্তু বুঝলাম—এই অনুভূতি কোনো ক্যামেরায় বন্দি করা যায় না।
ভ্রমণের আরেকটি বড় প্রাপ্তি হলো মানুষ। অচেনা হলেও তাদের আন্তরিকতা আপন করে নেয়। এক বৃদ্ধ মানুষ গল্প করছিলেন তাঁর জীবনের কথা—কীভাবে পাহাড় আর প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করেই কেটে গেছে তাঁর জীবন। সেই গল্পে ছিল কষ্ট, ছিল ধৈর্য, আর ছিল অদ্ভুত এক শান্তি।
সন্ধ্যা নামার আগেই ফিরে আসার পালা। সূর্য পাহাড়ের আড়ালে ঢুকে পড়ছে, আকাশ রঙিন হয়ে উঠছে কমলা আর বেগুনিতে। মনে হলো—এই ভ্রমণ শুধু কিছু দৃশ্য নয়, কিছু অনুভূতি জমা করে দিল বুকের ভেতর।
ফিরতি পথে ভাবছিলাম—ভ্রমণ আসলে কোথাও যাওয়া নয়, বরং নিজের কাছে ফিরে আসা। ব্যস্ততার ভিড় থেকে বেরিয়ে এসে এই কয়েকটা ঘণ্টা আমাকে শিখিয়ে দিল—জীবন আসলে খুব সহজ, যদি আমরা তাকে সহজভাবে দেখতে শিখি।

Share This
Categories
বিবিধ

শেখ মন্টুর গুদামে আগুন, পরিত্যক্ত সামগ্রী পুড়ে ছাই।

পশ্চিম মেদিনীপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা:- পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার খড়গপুর লোকাল থানার অন্তর্গত কলাইকুন্ডা এলাকার শোভাপুরে সোমবার রাত আনুমানিক আটটা নাগাদ একটি গুদামে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে, শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।

ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় রশ্মি মেটালিকসের দুটি দমকল ইঞ্জিন। দমকলকর্মীদের তৎপরতায় কিছুক্ষণের মধ্যেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। এই ঘটনায় বড় কোনও হতাহতের খবর নেই বলে জানা গেছে।

জেলা আইএনটিটিইউসির সভাপতি গোপাল খাটুয়া জানান, অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত গুদামটি স্থানীয় বাসিন্দা শেখ মন্টুর মালিকানাধীন। গুদামটিতে পরিত্যক্ত ড্রাম সহ বিভিন্ন ধরনের জিনিসপত্র মজুত রাখা ছিল। আগুনে সেগুলির একাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা যায়।

ঘটনার জেরে এলাকায় কিছুক্ষণের জন্য আতঙ্ক ছড়ালেও দমকল বাহিনীর দ্রুত পদক্ষেপে বড় বিপদ এড়ানো সম্ভব হয়েছে। পুলিশ ও দমকল সূত্রে জানানো হয়েছে, অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ জানতে তদন্ত শুরু করা হয়েছে।

Share This
Categories
বিবিধ

৩৫তম বর্ষে পা দিয়ে ধাদিকায় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার আয়োজন দূরবীনের।

পশ্চিম মেদিনীপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা:- ৪ঠা জানুয়ারি অর্থাৎ রবিবার পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার গড়বেতার ছোট আঙারিয়া দিবস। প্রত্যেক বছরের মতো তৃণমূলের তরফ থেকে শহীদ সভার আয়োজন করা হয়।এইদিন শহীদ সভার মূল বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য তৃণমূলের মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী, এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সাংগঠনিক জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি তথা বিধায়ক সুজয় হাজরা,এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক প্রদ্যুৎ ঘোষ, উত্তরা সিংহ হাজরা,জেলা পরিষদের পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ নির্মল ঘোষ সহ জেলা ও ব্লকের এক ঝাঁক নেতৃত্ব। এই দিন বক্তব্য রাখতে গিয়ে এক জোটে বিজেপি ও সিপিআইএমকে নিশানা করলেন তৃণমূল নেতৃত্ব। প্রসঙ্গত ২০০১ সালের ৪ঠা জানুয়ারি ছোট আঙ্গারিয়াতে গণহত্যার ঘটনা ঘটে। এই গণহত্যায় ১১ জন তৃণমূল কর্মীর মৃত্যু হয় বলে দাবি করেন তৃণমূল নেতৃত্ব। আর অভিযোগ ওঠে CPI(M) এর দুষ্কৃতীদের উপর। এরপর ২০১১ সালে তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর থেকেই প্রত্যেক বছর এই দিনে শহীদ স্মরণ সভা করছে তৃণমূল।

Share This
Categories
বিবিধ

সারের বাড়তি দাম ও ধলতা সমস্যা: প্রশাসনের আশ্বাসে কিছুটা আশাবাদী কৃষক, আন্দোলন প্রত্যাহার নিয়ে অপেক্ষা।

বালুরঘাট, নিজস্ব সংবাদদাতা:- এমআরপি দামে রাসায়নিক সার বিক্রি না হওয়া ও ধলতা সমস্যাকে ঘিরে চলতে থাকা কৃষক আন্দোলনের আবহে অবশেষে জেলা প্রশাসন ও কৃষি দপ্তরের সঙ্গে বৈঠকে বসেন কৃষক নেতারা। বুধবার জেলা পরিষদ ভবনে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলাশাসক নবীন কুমার চন্দ্র, জেলা কৃষি আধিকারিক পার্থ মুখার্জি-সহ প্রশাসনের একাধিক কর্তা।
বৈঠক শেষে প্রশাসনের তরফে একাধিক আশ্বাস পাওয়ায় আপাতত কিছুটা আশাবাদী কৃষক মহল। যদিও আন্দোলন প্রত্যাহার করা হবে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পরে নেওয়া হবে বলেই জানিয়েছেন কৃষক নেতারা।
কৃষক সমিতির অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই জেলার বিভিন্ন সার দোকানে এমআরপি-র চেয়ে বেশি দামে রাসায়নিক সার বিক্রি করা হচ্ছে। কোথাও কোথাও জোর করে অতিরিক্ত পণ্য কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ। ফলে চাষের খরচ বেড়ে গিয়ে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন কৃষকরা। পাশাপাশি ধলতা নেওয়ার অভিযোগে ধান চাষেও ক্ষতি হচ্ছে বলে দাবি তাঁদের। এই সব দাবিতেই মঙ্গলবার থেকে জেলা শাসকের দপ্তরের সামনে অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্নায় বসেন কৃষক সমিতির সদস্যরা।
বৈঠকের পর কৃষক সমিতির জেলা সম্পাদক সঞ্জিত কুমার মণ্ডল জানান, তাঁদের আন্দোলনের মোট আটটি দাবি ছিল। প্রধান দাবিগুলির মধ্যে অন্যতম ছিল এমআরপি দামে সার বিক্রি নিশ্চিত করা। প্রশাসনের তরফে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, আগামী সপ্তাহ থেকেই এমআরপি দামে সার বিক্রি শুরু হবে এবং বিষয়টি নিয়ে মাইকিংও করা হবে। পাশাপাশি সহায়ক মূল্যে ধান কেনার বিষয়েও প্রশাসন উদ্যোগী হবে বলে জানানো হয়েছে।
ধর্না প্রত্যাহারের প্রশ্নে সঞ্জিতবাবু বলেন, “আমরা আগে প্রশাসনের আশ্বাস কতটা কার্যকর হয়, তা দেখব। তারপরই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”
প্রশাসনের এই আশ্বাসে আপাতত স্বস্তি পেলেও, প্রতিশ্রুতি বাস্তবে কতটা রূপ পায়, সেদিকেই এখন তাকিয়ে জেলার কৃষক

Share This