Categories
কবিতা

অরণ্যে রোদন : রাণু সরকার।

এক বৃদ্ধ বাবা রিক্সা চালায় নিজের রুটিরুজির জন্য,
চলার পথে মনে মনে কষ্টের দর্পণ বিক্রয় চলে-
কিন্তু সেই আরশিতে হিংস্রের প্রতিচ্ছবি ভেসে ওঠে না,
এতোটাই পাষাণ তার ঔরসজাতরা।

বৃদ্ধ বাবার কান্নাটা তো অরণ্যের রোদন।

যৌবনের উদযাপন সমাপ্তি-
এই বয়সে এসে মা-বাবা দু’ভাগে হয় বিভক্ত।
কিন্তু পারেনি বিভক্ত করতে বৃদ্ধ-বৃদ্ধাকে,
তারা দূরে অনেক দূরে চলে যায়, লোকালয়ের আড়ালে।

Share This
Categories
কবিতা

হলো না দেখা : রাণু সরকার।

সুখ-দুঃখ-আনন্দ, আরো কত কি লিখলাম-
লেখার শেষে সবটাই দেখলাম কিন্তু শেষের লাইন কটা হলো দেখা,
জানেন খুঁজে পেলাম না শেষের কয়েকটা
লাইনের মানে–
তাই না বলুন-লেখা তো শুধু মন কলমের হয়!
মন কালির যে কত কষ্ট ভাবুন,কে তা বোঝে
তার আঘাতে কতটা ক্ষত হলো কেউ কি তা জানে!
শেষের লাইন কটা লিখলাম বটে নেশার ঘোরে ভয়ে আর দেখিনি যদি ক্ষতের গভীরতা যায় বেরে!
তাই ওদের সাধিন করলাম অন্যের দৃষ্টিপাত থেকে!!

Share This
Categories
কবিতা

এসো হে বৈশাখ :: অজয় কুমার রজক।

মাঠ- ঘাট ফুটি ফাটা জলাশয় শুন্য,
লু বয় চারিদিকে বিমর্ষ অরণ্য।
শুকিয়ে গেছে নদী- নালা- পুকুর,
পথপাশে ক্লান্তিতে ধুঁকছে কুকুর।
সারাদিন ঘাম ঝরে,
গাছের পাতা কই নড়ে?
শ্রমজীবী মানুষগুলির নিদারুণ কষ্ট,
কত কত শ্রম দিবস হচ্ছে নষ্ট।
পাখিরা উড়ে জলের খোঁজে,
তাদের ব্যথা কয়জন বোঝে?
স্কুল কলেজ বন্ধ আজ,
শিকেয় উঠেছে পড়াশোনার কাজ।
উগ্রমদ্য সম রৌদ্র, তপ্ত বালুকণা,
যেন বিষাক্ত কাল নাগিনীর উদ্ধত ফনা।
দুপুর রাতে ঘুম নেই গরমে জেরবার,
তারই মাঝে লোডশেডিং বারবার।
প্রাণ করে হাঁসফাঁস,
কি নির্মম বৈশাখ মাস।
এনো কালবৈশাখী, এনো শান্তির বারি,
তোমার সাথে নেই মোদের কোন আড়ি,
এসো হে বৈশাখ, এসো এসো।

Share This
Categories
কবিতা

তাপদগ্ধ ::: রাণু সরকার।।

নিস্তব্ধ সন্ধ্যায় একা বসে-
পুরোন কিছু স্মৃতি দ্রুতবেগে
এসে বসলো মনের
কোণে,
লাগছিলো বেশ-

সযত্নে নিলাম তাদের-
রাত কাটে পুরোন কথা বলে বলে–
ভালোবেসে একসময় স্পর্শও
করেছিলো!
রেখেছি বুকের অগোচরে
বেঁধে ইতিবৃত্ত!

যে-মালাটি পরিয়েছিলো-
ফুলগুলো তাপদগ্ধ
ঝরে পড়তে দেইনি নিচে!

Share This
Categories
কবিতা

অব্যক্ত  ::: রাণু সরকার।।।

মাঝে মাঝে অব্যক্ত কথারা দেয় হানা
যায় না প্রকাশ করা-
একেবারেই একান্ত সংলাপ,
উচ্চারণ করলে ভ্রষ্টচরিত্র ভাবাটাই স্বাভাবিক,
মনের চোখে হয়তো সে- বাঁধা-
খুঁজে পেলে মন চাইবে ঘনিষ্ঠ হতে
যদিও সম্ভব না-

ইচ্ছেদের ভীষণ ধৈর্য্য হয়-
তবুও অপেক্ষা করা;
অপেক্ষা করে না পেলে হয় যন্ত্রণা-
মনের চাওয়া পাওয়া বোঝা কষ্টকল্পিত,
মন কোন দিন পাবে না যাকে
তাকেই চায়-
মন যমুনার জল ঢালের দিকে যায় গড়িয়ে।

Share This
Categories
কবিতা

মধুর বন্ধন : রাণু সরকার।।

যৌবনের লাবন্য হলো কলাশাস্ত্র
ঘুমিয়ে থাকে কল্পনার কুটিরে
একান্ত আপন দোঁহে গোপনে!
সমাজ সাদরে সম্ভাষণ করে মধুর এক বন্ধনে,
সৃষ্টি হয় সুন্দর এক জীবনের চিত্রনাট্য!

আজ যৌনতা খুবই উদ্দাম-
সংযমহীন, চলে দিশাহীন সংসর্গে,
অদমিত কিছু বাসনা অতৃপ্ত থাকে-
অতিক্রম করার কোন প্রচেষ্টা নেই,
নেই কোন সৃষ্টির আকুতি,
শুধুই জৈবিক!

Share This
Categories
কবিতা

সত্য : রাণু সরকার।

রাত শেষ হলেই ভোর,
ভোর থাকে লক্ষ্যের বাহিরে,
আসতে দেরি হলেও সে আসবেই।

চিত্রণ শিল্পকর্ম,কঠিন ক্রিয়াকলাপ
ঘটে ঘনান্ধকারে,
চলে দখলদারি,
মন বিক্রি হয়-
সত্যিই কি অন্তর বিক্রি হয়?
জোরপূর্বক দাম দর নিয়ে চলে মন
কষাকষি,
এক রাতের অভন্তরে কত না কি ঘটে।

এই সত্য কি সূক্ষ্মদৃষ্টিতে অনুভব করি সবসময়?

Share This
Categories
কবিতা

তুলির টান : রাণু সরকার।

জল তুলিতে এঁকে ছিলাম আত্মভাব,
তুলি দিয়ে যত টান দেই ততই আঘাত-যন্ত্রণারা হুটোপপাটি করে বেরিয়ে এলো-
ভেতরের আরো অনেক রূপও বেরিয়ে এলো বাহিরে;
হয়তো অপেক্ষায় ছিলো তুলির টানের সব টানের-
সত্য বড্ড কঠিন,
কঠিনের সাথেই চললো গার্হস্থ্যজীবন!

Share This
Categories
কবিতা

বেদনাহত : রাণু সরকার।

পেয়েছি অনেক প্রাণ গেছে ভরে,
একটুও দুঃখ নেই যাই যদি মরে।

দিন-রাত এক হয়ে কাটে কষ্টের সুখে,
অনুক্ত স্বরাঘাত এলো কোথা থেকে-
ভাবনা চলে এতো কিছু কিকরে থাকে
ছোট্ট এ বুকে!

আহ্লাদে থেকেছে যখন- রূপ-রস সব করেছে হরণ!
বেঁচে থেকে কীবা লাভ, তাই বলি, আসুক না মরণ।

অজ্ঞাত বাসনা আছে কিছু বাকি-
পূর্ণ কি হবে,
অদৃষ্ট বলে-
পেয়েছি যা তা মেনে নিতে হবে।

কাছে গেলে সরে যাও, দাওনা স্পর্শখানি,
তুমি আছো, থাকবে সকলেই- তা জানি।

যাবো যাবো বলি রোজ- পারি কি যেতে,
একদিন যাবো চলে ওই তরী বাঁধা ঘাটে
যেতে চাইলেও পারবো না কাউকে সাথে
নিয়ে যেতে!

Share This
Categories
কবিতা

তাপদগ্ধ : রাণু সরকার।

নিস্তব্ধ সন্ধ্যায় একা বসে-
পুরোন কিছু স্মৃতি দ্রুতবেগে
এসে বসলো মনের
কোণে,
লাগছিলো বেশ-

সযত্নে নিলাম তাদের-
রাত কাটে পুরোন কথা বলে বলে–
ভালোবেসে একসময় স্পর্শও
করেছিলো!
রেখেছি বুকের অগোচরে
বেঁধে ইতিবৃত্ত!

যে-মালাটি পরিয়েছিলো-
ফুলগুলো তাপদগ্ধ
ঝরে পড়তে দেইনি নিচে!

Share This