Categories
বিবিধ

বিজেপির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অভিযোগ, মোথাবাড়িতে কুশপুতুল দাহ ও প্রতিবাদ সভা তৃণমূলের।।

মালদা, নিজস্ব সংবাদদাতা:— দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর কোষ পুতুল দাহ করে তীব্র প্রতিবাদ জানাল ৫২ মোথাবাড়ি তৃণমূল কংগ্রেস।
তৃণমূল নেতৃত্বের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সংস্থা ইডিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করে বিরোধী দলকে চাপে ফেলার চেষ্টা করছে বিজেপি। সেই অভিযোগের বিরুদ্ধে এদিন পথে নেমে সরব হলেন তৃণমূল কর্মী-সমর্থকেরা।
তৃণমূলের আইপ্যাক অফিসে ইডির আকস্মিক হানার প্রতিবাদে কালিয়াচক দুই ব্লকে তৃণমূল কংগ্রেসের ডাকে মহা মিছিল ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। শনিবার বিকেলে সংশ্লিষ্ট এলাকার বিধায়ক কার্যালয় থেকে মিছিলটি শুরু হয়। বিশাল কর্মী-সমর্থকের ভিড় নিয়ে মিছিল মোথাবাড়ি গ্রীন মার্কেট পর্যন্ত পরিক্রমা করে। স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে গোটা এলাকা।
পরিক্রমা শেষে মোথাবাড়ি চৌরঙ্গী মোড়ে আয়োজিত হয় প্রতিবাদ সভা।“
নেতাদের বক্তব্যে আরও উঠে আসে—এই অগণতান্ত্রিক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে আগামী দিনেও রাস্তায় নেমে আরও জোরদার আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

Share This
Categories
বিবিধ

গাড়ি হামলার ঘটনার প্রতিবাদে চন্দ্রকোনারোড উত্তাল, বিজেপির মিছিলে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।।

পশ্চিম মেদিনীপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা:- বিরোধী দলনেতার উপর হামলার প্রতিবাদে মঙ্গলবার বিকেলে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার গড়বেতা তিন নম্বর ব্লকের চন্দ্রকোনারোড শহরে বিজেপির প্রতিবাদ মিছিলের আয়োজন করা হয়,এই দিন চন্দ্রকোনারোড শহরের সাতবাঁকুড়া থেকে স্টেশনপাড়া পর্যন্ত এই প্রতিবাদ মিছিলে কয়েক হাজার কর্মী সমর্থক পা মিলিয়েছেন,যেখানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী, প্রসঙ্গত গত শনিবার পুরুলিয়া জেলা থেকে দলীয় কর্মসূচি সেরে বাড়ির উদ্দেশ্যে যাওয়ার সময় চন্দ্রকোনারোডে তার গাড়ির উপর হামলার ঘটনা ঘটে আর অভিযোগ উঠে তৃণমূলের উপর। এই দিন মিছিল শেষে স্টেশন পাড়া এলাকায় প্রতিবাদ সভার আয়োজন করা হয়। যেখানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যারা অভিযুক্ত রয়েছে তাদের উপর কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Share This
Categories
বিবিধ

শেখ মন্টুর গুদামে আগুন, পরিত্যক্ত সামগ্রী পুড়ে ছাই।

পশ্চিম মেদিনীপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা:- পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার খড়গপুর লোকাল থানার অন্তর্গত কলাইকুন্ডা এলাকার শোভাপুরে সোমবার রাত আনুমানিক আটটা নাগাদ একটি গুদামে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে, শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।

ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় রশ্মি মেটালিকসের দুটি দমকল ইঞ্জিন। দমকলকর্মীদের তৎপরতায় কিছুক্ষণের মধ্যেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। এই ঘটনায় বড় কোনও হতাহতের খবর নেই বলে জানা গেছে।

জেলা আইএনটিটিইউসির সভাপতি গোপাল খাটুয়া জানান, অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত গুদামটি স্থানীয় বাসিন্দা শেখ মন্টুর মালিকানাধীন। গুদামটিতে পরিত্যক্ত ড্রাম সহ বিভিন্ন ধরনের জিনিসপত্র মজুত রাখা ছিল। আগুনে সেগুলির একাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা যায়।

ঘটনার জেরে এলাকায় কিছুক্ষণের জন্য আতঙ্ক ছড়ালেও দমকল বাহিনীর দ্রুত পদক্ষেপে বড় বিপদ এড়ানো সম্ভব হয়েছে। পুলিশ ও দমকল সূত্রে জানানো হয়েছে, অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ জানতে তদন্ত শুরু করা হয়েছে।

Share This
Categories
বিবিধ

৩৫তম বর্ষে পা দিয়ে ধাদিকায় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার আয়োজন দূরবীনের।

পশ্চিম মেদিনীপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা:- ৪ঠা জানুয়ারি অর্থাৎ রবিবার পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার গড়বেতার ছোট আঙারিয়া দিবস। প্রত্যেক বছরের মতো তৃণমূলের তরফ থেকে শহীদ সভার আয়োজন করা হয়।এইদিন শহীদ সভার মূল বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য তৃণমূলের মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী, এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সাংগঠনিক জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি তথা বিধায়ক সুজয় হাজরা,এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক প্রদ্যুৎ ঘোষ, উত্তরা সিংহ হাজরা,জেলা পরিষদের পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ নির্মল ঘোষ সহ জেলা ও ব্লকের এক ঝাঁক নেতৃত্ব। এই দিন বক্তব্য রাখতে গিয়ে এক জোটে বিজেপি ও সিপিআইএমকে নিশানা করলেন তৃণমূল নেতৃত্ব। প্রসঙ্গত ২০০১ সালের ৪ঠা জানুয়ারি ছোট আঙ্গারিয়াতে গণহত্যার ঘটনা ঘটে। এই গণহত্যায় ১১ জন তৃণমূল কর্মীর মৃত্যু হয় বলে দাবি করেন তৃণমূল নেতৃত্ব। আর অভিযোগ ওঠে CPI(M) এর দুষ্কৃতীদের উপর। এরপর ২০১১ সালে তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর থেকেই প্রত্যেক বছর এই দিনে শহীদ স্মরণ সভা করছে তৃণমূল।

Share This
Categories
বিবিধ

সারের বাড়তি দাম ও ধলতা সমস্যা: প্রশাসনের আশ্বাসে কিছুটা আশাবাদী কৃষক, আন্দোলন প্রত্যাহার নিয়ে অপেক্ষা।

বালুরঘাট, নিজস্ব সংবাদদাতা:- এমআরপি দামে রাসায়নিক সার বিক্রি না হওয়া ও ধলতা সমস্যাকে ঘিরে চলতে থাকা কৃষক আন্দোলনের আবহে অবশেষে জেলা প্রশাসন ও কৃষি দপ্তরের সঙ্গে বৈঠকে বসেন কৃষক নেতারা। বুধবার জেলা পরিষদ ভবনে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলাশাসক নবীন কুমার চন্দ্র, জেলা কৃষি আধিকারিক পার্থ মুখার্জি-সহ প্রশাসনের একাধিক কর্তা।
বৈঠক শেষে প্রশাসনের তরফে একাধিক আশ্বাস পাওয়ায় আপাতত কিছুটা আশাবাদী কৃষক মহল। যদিও আন্দোলন প্রত্যাহার করা হবে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পরে নেওয়া হবে বলেই জানিয়েছেন কৃষক নেতারা।
কৃষক সমিতির অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই জেলার বিভিন্ন সার দোকানে এমআরপি-র চেয়ে বেশি দামে রাসায়নিক সার বিক্রি করা হচ্ছে। কোথাও কোথাও জোর করে অতিরিক্ত পণ্য কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ। ফলে চাষের খরচ বেড়ে গিয়ে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন কৃষকরা। পাশাপাশি ধলতা নেওয়ার অভিযোগে ধান চাষেও ক্ষতি হচ্ছে বলে দাবি তাঁদের। এই সব দাবিতেই মঙ্গলবার থেকে জেলা শাসকের দপ্তরের সামনে অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্নায় বসেন কৃষক সমিতির সদস্যরা।
বৈঠকের পর কৃষক সমিতির জেলা সম্পাদক সঞ্জিত কুমার মণ্ডল জানান, তাঁদের আন্দোলনের মোট আটটি দাবি ছিল। প্রধান দাবিগুলির মধ্যে অন্যতম ছিল এমআরপি দামে সার বিক্রি নিশ্চিত করা। প্রশাসনের তরফে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, আগামী সপ্তাহ থেকেই এমআরপি দামে সার বিক্রি শুরু হবে এবং বিষয়টি নিয়ে মাইকিংও করা হবে। পাশাপাশি সহায়ক মূল্যে ধান কেনার বিষয়েও প্রশাসন উদ্যোগী হবে বলে জানানো হয়েছে।
ধর্না প্রত্যাহারের প্রশ্নে সঞ্জিতবাবু বলেন, “আমরা আগে প্রশাসনের আশ্বাস কতটা কার্যকর হয়, তা দেখব। তারপরই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”
প্রশাসনের এই আশ্বাসে আপাতত স্বস্তি পেলেও, প্রতিশ্রুতি বাস্তবে কতটা রূপ পায়, সেদিকেই এখন তাকিয়ে জেলার কৃষক

Share This
Categories
প্রবন্ধ বিবিধ

২৫ ডিসেম্বর — তুলসী পূজন দিবস: সনাতন সংস্কৃতি, ইতিহাস, ঐতিহ্য ও প্রাসঙ্গিকতা।

ভূমিকা:-  ভারতের সাংস্কৃতিক ভিত্তি যতটা বৈচিত্র্যময়, ততটাই প্রাচীন। এখানকার ঋষি-ঋষিকারা শুধু ধর্মীয় আচরণই গড়ে দেননি—তাঁরা প্রকৃতি, মানবতা, বৈদিক দর্শন, উপনিষদীয় জ্ঞান ও জীবনযাপনের এক চিরন্তন সহাবস্থান তৈরি করেছিলেন। সেই সহাবস্থানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে—তুলসী

ভারতের প্রতিটি ঘর, প্রতিটি উঠোন, প্রতিটি গ্রাম—একসময় তুলসীর সুগন্ধে ভরে থাকত। তুলসী শুধু গাছ নয়—এ এক বিশ্বাস, এক দর্শন, এক জীবনযাপন পদ্ধতি। তাই তো সনাতনের ঘরে ঘরে প্রতিদিন সন্ধ্যায় প্রদীপ জ্বলে তুলসীর তলায়। সেই তুলসীকে কেন্দ্র করে হাজার বছরের প্রাচীন একটি বিশেষ দিন পালন করা হয়—২৫ ডিসেম্বর: তুলসী পূজন দিবস (Tulsi Pujan Diwas)

এই দিনটি পশ্চিমা বিশ্বের “ক্রিসমাস”-এর সঙ্গে এক সময়ে পড়লেও, এর উৎস, উদ্দেশ্য, দর্শন, ইতিহাস—সবই সম্পূর্ণ আলাদা। এটি সনাতন সংস্কৃতির এক অসাধারণ পরিচয় বহন করে।


অধ্যায় ১ : তুলসী — সনাতন ধর্মে পবিত্রতার প্রতীক

১.১ তুলসীর নাম ও অর্থ

“তুলসী” শব্দের অর্থ—অতুলনীয়া, যার তুলনা নেই।
আর “বৃন্দা” নামে তাঁকে ডাকা হয়—যার অর্থ—শক্তির আধার।

তুলসীকে সনাতন ধর্মে দেবীরূপে পূজা করা হয়।
কারণ—

  • তিনি বিষ্ণুর অর্ধাঙ্গিনী (বৃন্দাবতীরূপে)
  • তিনি পরিশুদ্ধির প্রতীক
  • তিনি আয়ুর্বেদের মা
  • তিনি পরিবেশের রক্ষক

১.২ বৈদিক শাস্ত্রে তুলসীর গুরুত্ব

স্কন্দ পুরাণ, পদ্ম পুরাণ, ব্রহ্ম বৈবর্ত পুরাণ, গরুড় পুরাণ—সব পুরাণেই তুলসীর পবিত্রতার বর্ণনা পাওয়া যায়।

স্কন্দ পুরাণে বলা হয়েছে:
“তুলসীর স্পর্শ, দর্শন, সেবন বা পূজা — যে কোন একটি করলেও পাপমুক্ত হওয়া যায়।”

ব্রহ্ম বৈবর্ত পুরাণ (কৃষ্ণজন্ম খণ্ড)-এ বলা হয়:
“যেখানে তুলসী আছে, সেখানে বিষ্ণুর নিজ উপস্থিতি আছে।”


অধ্যায় ২ : তুলসী পূজার ইতিহাস

২.১ তুলসী পূজা কখন শুরু হয়?

তুলসী পূজার সূচনা অতিমাত্রায় প্রাচীন—বৈদিক যুগ থেকেই।
ইতিহাসবিদদের মতে—

  • খ্রিস্টান সভ্যতার প্রাথমিক অস্তিত্বের বহু হাজার বছর আগে
  • মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ বা রোমান সভ্যতার পূর্বে
  • মিশর বা ব্যাবিলনের বহু আগে থেকেই

ভারতের গৃহে তুলসী ছিল নিয়মিত পূজার অংশ।

বৈদিক যুগ (প্রায় ৫,০০০–১০,০০০ বছর পূর্বে) থেকেই “সমিদা” হিসেবে যজ্ঞে তুলসীর ব্যবহার ছিল।
আর পরে পুরাণ যুগে তুলসীদেবীর পূজা প্রতিষ্ঠা পায়।

২.২ প্রথম কে তুলসী পূজা শুরু করেন?

শাস্ত্রের তথ্য অনুযায়ী:

  1. তুলসী (বৃন্দা)-ই ছিলেন প্রথম দেবী যাঁকে বিষ্ণু নিজেই আশীর্বাদ দেন,
    এবং তাঁর পূজা নির্ধারিত করেন।
  2. ধর্মরাজ, ঋষিমুনিরা—গৃহস্থ আশ্রমে নিয়মিত তুলসী পূজা করতেন।
  3. শ্রীকৃষ্ণ নিজে গোকুলে ব্রজবাসীদের তুলসী সেবার পরামর্শ দিতেন।

অতএব—
তুলসী পূজার প্রতিষ্ঠাতা কোনো মানুষের নাম নয় — দেবতাই এর সূচনা করেন।
বরং ঋষিমুনিরা সেই ঐতিহ্যকে গৃহস্থ জীবনে ছড়িয়ে দেন।


অধ্যায় ৩ : ২৫ ডিসেম্বর — তুলসী পূজন দিবস

৩.১ কেন ২৫ ডিসেম্বরেই তুলসী পূজন দিবস?

অনেকেই মনে করেন, “ক্রিসমাস” এর প্রতিযোগী হিসাবে এই দিনটি নির্ধারণ করা হয়েছে।
কিন্তু বাস্তব তা নয়।

তুলসী পূজন দিবস পালন করা হয়—

কারণ ১:

মার্গশীর্ষ মাসে তুলসীর বৃদ্ধি ও পবিত্রতম অবস্থা থাকে।

কারণ ২:

এই দিনটি উত্তরের দিকে সূর্যের গতিপথ পরিবর্তনের পূর্বসময়—
অর্থাৎ সূর্য দক্ষিণায়নের শেষ পর্যায়
এই সময়ে তুলসীর ঔষধি-ক্ষমতা সর্বোচ্চ থাকে।

কারণ ৩:

পরিবেশ রক্ষার দিক থেকেও ডিসেম্বর মাস ভারতীয় ঋতুচক্রে গাছ লাগানো বা পুনর্নবীকরণের উপযুক্ত সময়।

কারণ ৪:

ক্রিসমাসের প্রভাব থেকে বিচ্ছিন্ন রেখে নিজস্ব সনাতন ঐতিহ্যকে পুনরুজ্জীবিত করা—এটিও একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য।


অধ্যায় ৪ : তুলসী বনাম ক্রিসমাস — সাংস্কৃতিক প্রাসঙ্গিকতা

এখানে কোনো ধর্মবিরোধী আলোচনা নয়—
বরং ভারতীয় সংস্কৃতি বনাম পাশ্চাত্য সংস্কৃতির ভেদ তুলে ধরা।

৪.১ ক্রিসমাস কী?

ক্রিসমাস হল—

  • খ্রিস্টান ধর্মের একটি ধর্মীয় উৎসব
  • যিশু খ্রিস্টের সম্ভাব্য জন্মদিন (বাস্তবে ঐ দিন জন্ম নাও হতে পারে)
  • মূলত মধ্যযুগে রোমান পৌত্তলিক উৎসব “Saturnalia” থেকে রূপান্তরিত

অর্থাৎ এটি তুলনামূলকভাবে নতুন উৎসব, বয়স সর্বোচ্চ ১৫০০–১৭০০ বছর।

৪.২ তুলসী পূজা কী?

তুলসী পূজা—

  • ভারতীয় বৈদিক যুগের বৈশিষ্ট্য
  • বয়স ৫,০০০ বছর নয়—সম্ভবত ১০,০০০+ বছর
  • বৈদিক চিকিৎসা, দর্শন, যোগ, আয়ুর্বেদ ও পরিবেশচেতনার প্রতিনিধিত্ব করে

৪.৩ কীভাবে দুটো সম্পূর্ণ আলাদা?

বিষয় তুলসী পূজা ক্রিসমাস
উৎপত্তি বৈদিক যুগ মধ্যযুগীয় রোমান সংস্কৃতি
ভিত্তি আয়ুর্বেদ, পরিবেশ, প্রকৃতি ধর্মীয় বিশ্বাস
প্রধান প্রতীক তুলসী গাছ ক্রিসমাস ট্রি
উদ্দেশ্য শুদ্ধতা, প্রকৃতির পূজা, পরিবেশ সুরক্ষা যিশুর জন্মোৎসব
বয়স ১০,০০০+ বছর ~১৭০০ বছর
দর্শন প্রকৃতি-মানবের ঐক্য একেশ্বরবাদ

ভারতের প্রেক্ষাপটে—
তুলসী পূজন দিবস আমাদের আত্মপরিচয়, আর ক্রিসমাস বিদেশি সাংস্কৃতিক আমদানী।
দুটো পালন করা ভুল নয়, কিন্তু নিজের শিকড় ভোলা ঠিক নয়।


অধ্যায় ৫ : তুলসীর বৈজ্ঞানিক গুরুত্ব

৫.১ আয়ুর্বেদে তুলসীকে “ঘরোয়া হাসপাতাল” বলা হয়

তুলসীতে প্রায় ২০০টিরও বেশি ঔষধি রাসায়নিক আছে—

  • উজেনল
  • কারভিওল
  • লিনালুল
  • β–caryophyllene
  • অ্যাপিজেনিন
  • অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট
  • ভিটামিন K
  • অ্যান্টিবায়োটিক গুণ

৫.২ তুলসীর বৈজ্ঞানিক উপকারিতা

  • রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়
  • শ্বাসযন্ত্র সুস্থ রাখে
  • ক্যানসার প্রতিরোধে ভূমিকা
  • ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ
  • হজম শক্তি বৃদ্ধি
  • মানসিক চাপ কমানো
  • ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধ
  • হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখা
  • বায়ুদূষণ কমানোর বিশেষ ক্ষমতা

অধ্যায় ৬ : তুলসীর ধর্মীয়-দর্শনগত তাৎপর্য

৬.১ তুলসী ও বিষ্ণুভক্তি

বলা হয়—
“তুলসী ছাড়া বিষ্ণু পূজা অসম্পূর্ণ।”

৬.২ তুলসী বিবাহ

কার্তিক মাসে দেব-দেবীর বিয়ের যে উৎসব হয়, তার শীর্ষে থাকে—
তুলসী বিবাহ, যা ভারতের সবচেয়ে প্রাচীন সামাজিক-ধর্মীয় রীতি।

এটি প্রমাণ করে—
ভারতে নারীর পূজা ছিল হাজার বছরের প্রথা।


অধ্যায় ৭ : ভারত কেন বলছে— “২৫ ডিসেম্বর তুলসী পূজন দিবস”

কারণ ১ : বিদেশি উৎসবের আধিপত্য থেকে মুক্তি

ভারতের শহরগুলোতে ২৫ ডিসেম্বর মানেই—

  • লাল টুপি
  • সান্তা
  • কেক
  • পার্টি
  • বিদেশি পোশাক
  • শপিংমল সংস্কৃতি

এগুলো ভারতীয় নয়।
তাই নিজের ঐতিহ্যকে পুনরুদ্ধারের প্রয়োজন।

কারণ ২ : পরিবেশ রক্ষার আন্দোলন

২৫ ডিসেম্বর তুলসী লাগানো মানে—

  • প্রকৃতির প্রতি কৃতজ্ঞতা
  • বাস্তুসামঞ্জস্য
  • বায়ুদূষণ রোধ
  • ঔষধি গাছ সংরক্ষণ

কারণ ৩ : ভারতীয়দের সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয় প্রকাশ

যে জাতি নিজের ইতিহাস ভুলে যায়—
সে জাতি টিকে থাকে না।

কারণ ৪ : তুলসীর প্রকৃত ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা

নতুন প্রজন্ম বিদেশি উৎসব সম্পর্কে জানে—
কিন্তু তুলসী সম্পর্কে জানে না।
তাই এই দিন বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।


অধ্যায় ৮ : ২৫ ডিসেম্বর তুলসী পূজন দিবস পালন করার পদ্ধতি

  1. ঘরের উঠোন বা বারান্দায় তুলসী রোপণ
  2. প্রদীপ জ্বালানো
  3. গঙ্গাজলে স্নান করিয়ে তুলসী পূজা
  4. ধূপ-দীপ-ফুল
  5. তুলসীর প্রণাম ও সংকল্প
  6. তুলসীপত্র মন্দির বা গৃহদেবতার কাছে নিবেদন
  7. পরিবেশ রক্ষার শপথ
  8. পরিবারসহ জ্ঞানচর্চা—তুলসীর ইতিহাস আলোচনা

অধ্যায় ৯ : তুলসী — ভারতীয় সভ্যতার আত্মা

তুলসী আমাদের—

  • ঘরের সুরক্ষা
  • মন-শরীরের আরোগ্য
  • পরিবেশের পরিচর্যা
  • দেবতার প্রতি ভক্তি
  • নারীত্বের সম্মান
  • প্রকৃতির প্রতি কৃতজ্ঞতা

সবকিছুর প্রতীক।

যেখানে তুলসী—
সেখানে সনাতন।
সেখানে ভারতীয়ত্ব।


উপসংহার

২৫ ডিসেম্বর তুলসী পূজন দিবস শুধু একটি উৎসব নয়—
এটি একটি সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণ,
মাটির প্রতি ভালবাসা,
ঐতিহ্যের প্রতি গর্ব,
আর প্রকৃতির প্রতি শ্রদ্ধার প্রতীক।

ক্রিসমাস হয়তো পাশ্চাত্যের নিজস্ব ও গুরুত্বপূর্ণ উৎসব—
তবে
সনাতন সংস্কৃতির হাজার বছরের ঐতিহ্য এর চেয়ে অসীম পুরোনো, বৈচিত্র্যময় ও গভীর।

আমাদের শিকড় হলো—
বেদ, উপনিষদ, পুরাণ, আয়ুর্বেদ, যোগ, আর তুলসী

তাই ২৫ ডিসেম্বর—
তুলসীর তলায় প্রদীপ জ্বালানো মানে
নিজেকে নিজের কাছে ফিরিয়ে আনা।

 

Share This
Categories
বিবিধ

গড়বেতার জঙ্গল থেকে বেরিয়ে ৬০ নম্বর জাতীয় সড়কের উপর কেরামতি দাঁতাল হাতির,অবরুদ্ধ জাতীয় সড়ক।।

গড়বেতা, নিজস্ব সংবাদদাতা:- পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার গড়বেতার জঙ্গল থেকে বেরিয়ে ৬০ নম্বর জাতীয় সড়কের উপর দলছুট দাঁতাল হাতি,ঘটনায় বেশ কিছুক্ষণ জাতীয় সড়ক অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে,মঙ্গলবার দুপুর নাগাদ এমনই চিত্র উঠে এলো,জানা গিয়েছে এই দিন দলছুট একটি দাঁতাল হাতি গড়বেতা জঙ্গলে প্রবেশ করার আগেই সতর্কতা জারি করেছিল বনদপ্তর,এই দিন দুপুর নাগাদ হঠাৎই ওই দলছুট দাঁতাল হাতিটি জাতীয় সড়কের উপর উঠে যায়,বেশ কিছুক্ষণ কেরামতি দেখানোর পর অবশেষে পুনরায় জঙ্গলে প্রবেশ করলে ফের জানি চলাচল স্বাভাবিক হয়। ঘটনায় আতঙ্কের বাতাবরণ সৃষ্টি হয়েছে এলাকা জুড়ে।

Share This
Categories
বিবিধ

গড়বেতার গ্রামীন এলাকায় ব্যাহত বিদ্যুৎ পরিষেবা,আমলাগোড়া বৈদ্যুতিক স্টেশনে বিক্ষোবে সামিল বিধায়ক।

পশ্চিম মেদিনীপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা:-পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার গড়বেতা এক নম্বর ব্লকের গ্রামীন এলাকায় ব্যাহত বিদ্যুৎ পরিষেবার অভিযোগ তুলে বুধবার আমলাগোড়া বৈদ্যুতিক স্টেশনে এলাকার মহিলাদের সঙ্গে বিক্ষোবে সামিল হলেন গড়বেতা বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক উত্তরা সিংহ হাজরা, এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মিঠু প্রতিহার সহ অন্যান্যরা। এলাকার মহিলাদের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যুৎ পরিষেবা ঠিকঠাক না পাওয়ায় এই পদক্ষেপ নিয়েছে এলাকার মহিলারা। তবে আগামী দিনে এই ধরনের ঘটনা ঘটলে আরো বৃহত্তর আন্দোলনে সামিল হবে এলাকার মহিলারা।

Share This
Categories
প্রবন্ধ বিবিধ

জার্মানির কোলোন – রাইন নদীর তীরে ইতিহাস, শিল্প ও সুগন্ধি মেখে থাকা এক রাজসিক শহর।।।

জার্মানির পশ্চিমাঞ্চলের সবচেয়ে প্রাণবন্ত ও ঐতিহাসিক শহরগুলোর একটি হলো কোলোন। রোমান সাম্রাজ্যের যুগ থেকে শুরু করে মধ্যযুগীয় ইউরোপ, আধুনিক শিল্প-বিপ্লব, যুদ্ধ-উত্তর পুনর্গঠন—সব মিলে কোলোন এমন একটি নগরী যা প্রতিটি স্তরেই ইতিহাসের গল্প বহন করে। রাইন নদীর তীরে দাঁড়ানো এই শহর শুধু জার্মানির সংস্কৃতি-রাজধানীই নয়, বরং ইউরোপের অন্যতম সুন্দর নদীতীরবর্তী নগরী।


🛕 কোলোন ক্যাথেড্রাল – শহরের হৃদস্পন্দন

কোলোন বলতেই সবার আগে মনে পড়ে—

Cologne Cathedral (Kölner Dom)

ইউরোপের সবচেয়ে মহৎ গথিক স্থাপত্যগুলোর একটি এবং ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট।

  • নির্মাণ শুরু: ১২৪৮ খ্রিস্টাব্দ
  • উচ্চতা: প্রায় ১৫৭ মিটার
  • বিশেষত্ব: বিশ্বের দ্বিতীয়-উচ্চতম গথিক চার্চ

চার্চের সামনে দাঁড়ালে মনে হবে আপনি সময়ের সুড়ঙ্গে ঢুকে পড়েছেন। সূক্ষ্ম মিনার, প্রতিটি খোদাই, বিশাল জানালায় রঙিন কাঁচ—সব মিলিয়ে যেন এক জীবন্ত শিল্পকলার বিস্ময়।

⛰️ দৃশ্য উপভোগ
টাওয়ারের ৫০০+ ধাপ উঠলে দেখা যায়—

  • রাইন নদীর বাঁক
  • পুরো পুরনো শহর (Altstadt)
  • দূরের পর্বতশ্রেণী

এটি কোলোন ভ্রমণের প্রথম ও অবধারিত গন্তব্য।


🌉 রাইন নদী ও হোহেনজোলার্ন সেতু – প্রেমে বাঁধা একটি শহর

কোলোনের প্রাণ হলো রাইন নদী (River Rhine)। নদীর উপর বিস্তৃত আইকনিক সেতু—

Hohenzollern Bridge

বিশেষ করে বিখ্যাত এর “Love Locks”—প্রেমিক-প্রেমিকারা এখানে ঝুলিয়ে দেন তাদের ভালোবাসার স্মৃতি।

সেতু থেকে ক্যাথেড্রালের যে দৃশ্য দেখা যায়, তা যেন এক পোস্টকার্ডের মতো।

নদীর ধারে সন্ধ্যার আলো, জলস্রোতের শব্দ আর রাস্তার পাশে বসে থাকা কফি শপ—সব মিলে রোম্যান্সে ভরপুর একটি পরিবেশ।


🧱 Old Town (Altstadt) – রঙিন ঘর আর পুরনো ইউরোপের ছোঁয়া

কোলোনের পুরনো শহর মানেই—

  • পাথরের সরু রাস্তা
  • মধ্যযুগীয় বাড়ি
  • রঙিন জানালা
  • ছোট ছোট কফি শপ
  • ঐতিহ্যবাহী জার্মান রেস্তোরাঁ

এখানেই আছে Great St. Martin Church, যা রোমানেস্ক স্থাপত্যের এক দুর্দান্ত নিদর্শন।

এই এলাকার প্রতিটি গলিই যেন গল্প বলে—রোমান সৈন্য, মধ্যযুগের বণিক, পুরনো বাজার—সবকিছু এখানেই এক সময়ে ছিল।


🏺 Roman-Germanic Museum – দুই হাজার বছরের ইতিহাস

কোলোন হলো রোমানদের প্রতিষ্ঠিত শহর। আর সেই ইতিহাসকে বহন করছে—

Roman-Germanic Museum

এখানে পাবেন—

  • রোমান যুগের মোজাইক ফ্লোর
  • মূর্তি
  • প্রাচীন গহনা
  • কাঁচের শিল্পকর্ম
  • প্রাচীন রোমান বন্দর এলাকার নিদর্শন

ইতিহাসপ্রেমী হলে এটি আপনার জন্য এক স্বর্গ।


👃 Eau de Cologne – সুগন্ধির জন্মভূমি

বিশ্বের বিখ্যাত পারফিউম “Eau de Cologne” জন্ম নিয়েছে এখানেই।
আপনি চাইলে দেখতে পারেন—

Farina Fragrance Museum

যেখানে পাবেন শতাব্দী পুরনো পারফিউম তৈরির কৌশল, বোতল এবং ব্র্যান্ডের গল্প।


🖼️ Museum Ludwig – আধুনিক শিল্পের একটি বিশাল ভাণ্ডার

যদি আধুনিক শিল্প ভালোবাসেন, তবে এই মিউজিয়াম আপনাকে মুগ্ধ করবে।
এখানে আছে—

  • পিকাসো
  • অ্যান্ডি ওয়ারহল
  • মার্ক রথকো
  • ২০তম শতাব্দীর অসংখ্য মাস্টারপিস

এটি ইউরোপের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আধুনিক শিল্পজাদুঘর।


🍺 স্থানীয় খাবার ও Kölsch – কোলোনের গর্ব

কোলোনে আসলে অবশ্যই চেখে দেখবেন—

Kölsch Beer

এটি কোলোনের নিজস্ব হালকা, সোনালি বিয়ার। ছোট গ্লাসে পরিবেশন করা হয়।

এছাড়াও—

  • রোস্ট ব্রাটওয়ার্স্ট
  • Sauerbraten
  • Himmel un Ääd (আপেল ও আলুর ঐতিহ্যবাহী খাবার)

পুরনো শহরে ছোট ছোট বিয়ার বার (Brauhaus) অভিজ্ঞতাকে আরও আনন্দময় করে।


🛍️ শপিং – Hohe Straße এবং Schildergasse

দুটি রাস্তা কোলোনের শপিং স্বর্গ—

  • Hohe Straße – আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড
  • Schildergasse – ইউরোপের ব্যস্ততম শপিং স্ট্রিটগুলোর একটি

🌳 Cologne Zoo ও Rheinpark – পরিবারের জন্য আদর্শ

কোলোনে জার্মানির সবচেয়ে পুরনো চিড়িয়াখানাগুলোর একটি আছে।
আর নদীর ধারের Rheinpark হলো—

  • হাঁটার পথ
  • ঘাসের প্রান্তর
  • শহর দেখার দারুণ ভিউ

🚆 কীভাবে পৌঁছাবেন?

কোলোনের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর—
✈️ Cologne Bonn Airport (CGN)
শহরের ট্রেন, ট্রাম (U-Bahn), বাস—সবকিছুই অত্যন্ত সুসংগঠিত।


শেষ কথা – কোলোন এক অনুভূতির নাম

কোলোন এমন একটি শহর যেখানে—
ইতিহাস মিশে আছে সুগন্ধিতে,
শিল্প মিলেছে নদীর স্রোতে,
আর আধুনিকতা ছুঁয়ে আছে প্রাচীন ইউরোপকে।

যে কেউ এখানে এলে মুগ্ধ হয়ে যায় শহরের প্রাণচঞ্চলতা, হাসিমুখ মানুষ, নদীর সৌন্দর্য এবং ক্যাথেড্রালের জাদুকরী উপস্থিতিতে।

এটি এমন একটি ভ্রমণ গন্তব্য যা স্মৃতিতে চিরকাল রং ধরে রাখে।

Share This
Categories
প্রবন্ধ বিবিধ

ড্রেসডেন – এলবে নদীর তীরে দাঁড়িয়ে থাকা শিল্প, স্থাপত্য ও পুনর্জাগরণের এক জীবন্ত নগরী।।।

জার্মানির সাক্সনি প্রদেশের রাজধানী ড্রেসডেন এমন একটি শহর, যার সৌন্দর্য, ইতিহাস আর সংস্কৃতি মিলে গড়ে উঠেছে এক অনন্য নগরচিত্র। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসস্তূপ থেকে উঠে এসে আবার নিজের জৌলুস ফিরে পাওয়া—এমন নাটকীয় আত্মপ্রত্যাবর্তনের গল্প বিশ্বে খুব কমই পাওয়া যায়। শহরটিকে বলা হয়—

“Florence on the Elbe”

কারণ এর স্থাপত্য, শিল্পসম্পদ এবং নদীতীরের সৌন্দর্য ইতালির ফ্লোরেন্সের কথা মনে করিয়ে দেয়।


🏛️ Frauenkirche – ধ্বংসস্তূপ থেকে ফিরে আসা এক বিস্ময়

ড্রেসডেন ভ্রমণে সবচেয়ে প্রথম যে স্থাপত্য নজর কেড়ে নেয়, তা হলো—

Frauenkirche (Church of Our Lady)

  • গম্বুজ-শৈলীর অপূর্ব বারোক স্থাপত্য
  • দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বোমাবর্ষণে সম্পূর্ণ ধ্বংস
  • ১৯৯৪–২০০৫ সালে পাথর-পাথর জোড়া দিয়ে পুনর্নির্মাণ
  • শান্তি ও পুনর্জাগরণের আন্তর্জাতিক প্রতীক

এর ভেতরের প্রশান্ত পরিবেশ, সোনালি রঙের বেদি আর চমৎকার গ্যালারি যে কারও মন স্পর্শ করে।


🏰 Zwinger Palace – শিল্প, স্থাপত্য ও রাজকীয় এলিগ্যান্স

ড্রেসডেনের সবচেয়ে বিখ্যাত আকর্ষণগুলোর একটি হলো—

Zwinger Palace

যা সাক্সনি রাজাদের প্রাসাদসমূহের মধ্যে অন্যতম।

এখানে আছে—

  • Old Masters Picture Gallery
    (রাফায়েল, রুবেন্সসহ বিশ্বখ্যাত শিল্পীদের আঁকা ছবি)
  • Porcelain Collection
    বিশ্বসেরা চীনামাটির সংগ্রহ
  • Mathematical and Physics Salon
    পুরোনো বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতির দুর্লভ প্রদর্শনী

প্রাসাদের আঙিনায় দাঁড়ালে এর সমমিত সৌন্দর্য এবং ভাস্কর্যের সূক্ষ্ম কারুকার্য আপনাকে মুগ্ধ করবেই।


🏛️ Semperoper – সঙ্গীতের জাদুকরি আসন

ড্রেসডেনের সাংস্কৃতিক হৃদয় হলো—

Semperoper (Dresden Opera House)

  • ইউরোপের সবচেয়ে সুন্দর অপেরা-হাউসগুলোর একটি
  • নিও-রেনেসাঁ শৈলীর অপূর্ব স্থাপত্য
  • রিচার্ড ওয়াগনারের বহু অপেরার প্রথম প্রদর্শনী এখানেই

একটি অপেরা শো বা ক্লাসিকাল কনসার্ট দেখা মানে যেন অন্য জগতে প্রবেশ করা।


🌉 Elbe River & Brühl’s Terrace – ‘ইউরোপের বারান্দা’

ড্রেসডেনের নদীতীর হলো এর প্রাণ।

Brühlsche Terrasse

যাকে বলা হয়—

“The Balcony of Europe”

এলবে নদীর ধারের এই প্রমেনাডে দাঁড়িয়ে দেখা যায়—

  • শান্ত নদীর ধারা
  • নদীতে ভেসে চলা স্টিমার
  • পুরোনো শহরের অপূর্ব স্কাইলাইন

সন্ধ্যায় পুরো জায়গাটি সোনালি আলোতে জ্বলে ওঠে, আর তখন হাঁটতে হাঁটতে মনে হয়—জীবন যেন কিছুটা জাদুকরি।


🧱 Dresden Castle (Residenzschloss) – সাক্সনি রাজাদের রাজপ্রাসাদ

ড্রেসডেন ক্যাসেল হলো শহরের শক্তি, বুদ্ধিমত্তা এবং শিল্পরুচির প্রতীক।

এখানে আছে—

Green Vault (Grünes Gewölbe)

বিশ্বের সেরা ধনভাণ্ডারের একটি, যেখানে প্রদর্শিত হয়—

  • সোনা-রুপার অলংকার
  • মূল্যবান রত্ন
  • রাজপ্রাসাদের অমূল্য সংগ্রহ
  • বিখ্যাত “Dresden Green Diamond”

Armory Museum

অশ্বারোহী বর্ম, তলোয়ার, ঢাল ও যুদ্ধ-সামগ্রীর দুর্দান্ত সংগ্রহ।

এই দুর্গটি নিজেই একটি জীবন্ত ইতিহাস।


🖼️ Dresden Neustadt – আধুনিক, বর্ণিল ও জীবন্ত

নিউস্টাড্ট হলো ড্রেসডেনের তরুণ অংশ—

  • স্ট্রিট আর্ট
  • ক্যাফে
  • থিয়েটার
  • বিকল্প সংস্কৃতি
  • অনন্য ডিজাইন দোকান

এখানে আছে বিখ্যাত

Kunsthofpassage

যার দেয়ালজুড়ে নান্দনিক আর্ট, রঙিন পাইপ-ইনস্টলেশন এবং সৃজনশীল সাজসজ্জা।

বর্ষার দিনে “Singing Drain Pipes” দেওয়াল দিয়ে নেমে আসা বৃষ্টির ধারা চমৎকার সুর তোলে।


🌳 Großer Garten – প্রকৃতির কোলে জার্মান শান্তি

ড্রেসডেনের অন্যতম সুন্দর পার্ক হলো—

Großer Garten

যেখানে আছে—

  • আকর্ষণীয় প্যাভিলিয়ন
  • বাগানঘেরা হাঁটার পথ
  • চিড়িয়াখানা
  • বোটানিকাল গার্ডেন
  • ছোট লোকোমোটিভ ট্রেন

শহরের কোলাহল থেকে দূরে গিয়ে যারা প্রকৃতি উপভোগ করতে চান, তাঁদের জন্য আদর্শ।


🚢 Elbe River Cruise – নদীর বুকে রাজকীয় ভ্রমণ

এলবে নদীতে স্টিমার ভ্রমণ ড্রেসডেনের অন্যতম সেরা অভিজ্ঞতা।
স্টিমার থেকে দেখা যায়—

  • মনোরম গ্রাম
  • দুর্গ
  • সবুজ উপত্যকা
  • আঙ্গুরের বাগান

বিশেষ করে Saxon Switzerland National Park এর দিকে যাত্রা করলে পাহাড়ি খাড়া প্রাকৃতিক দৃশ্য মনে দাগ কাটবে।


🎄 Christmas Market – জার্মানির সবচেয়ে প্রাচীন উৎসব মার্কেট

ড্রেসডেনের ক্রিসমাস মার্কেট

Striezelmarkt

জার্মানির সবচেয়ে পুরনো— প্রতিষ্ঠিত ১৪৩৪ সালে।

এখানে পাওয়া যায়—

  • স্টোলেন কেক
  • কাঠের হাতের কাজ
  • মোমের লণ্ঠন
  • গ্লুহভাইন (গরম মসলাদার ওয়াইন)
  • ক্রিসমাসের ঐতিহ্যবাহী উপহার

শীতের রাতে পুরো বাজারটি আলোয় ঝলমল করে ওঠে।


🍽️ স্থানীয় খাবার

ড্রেসডেনে অবশ্যই চেখে দেখার মতো কিছু খাবার—

  • Saxon Sauerbraten
  • Dresden Stollen
  • স্থানীয় জার্মান সসেজ
  • Elbe Sandstone বিয়ার

Altstadt-এর ছোট পাবগুলোতে পাওয়া যায় সবচেয়ে অরিজিনাল স্বাদ।


🚆 কীভাবে পৌঁছাবেন?

✈️ Dresden Airport (DRS)
ট্রেন, ট্রাম, বাস—সবই সু-সংগঠিত।
বার্লিন বা প্রাগ থেকেও সরাসরি ট্রেনে সহজেই পৌঁছানো যায়।


শেষ কথা – শিল্প, স্থাপত্য আর পুনর্জন্মের শহর ড্রেসডেন

ড্রেসডেন এমন এক শহর—
যেখানে ইতিহাস ধ্বংসের গল্প বলে,
আবার সেই ইতিহাসই পুনর্জন্মের সাক্ষী থাকে।

এলবে নদীর তীরে দাঁড়ানো এই নগরী দু’চোখ ভরে দেখতে হলে সময় চাই, মন চাই এবং একটু শিল্পবোধও চাই।
ড্রেসডেন আপনাকে মুগ্ধ করবে তার—

  • অপূর্ব প্রাসাদ
  • জাদুঘরের সংগ্রহ
  • নদীতীরের সৌন্দর্য
  • বারোক স্থাপত্য
  • এবং অসাধারণ শান্ত পরিবেশ

এটি এমন একটি ভ্রমণস্থান, যা ভ্রমণপিপাসুদের হৃদয়ে চিরকালের মতো থেকে যায়।

Share This