Categories
প্রবন্ধ বিবিধ রিভিউ

আমালফি উপকূল (Amalfi Coast) — ইউরোপের অন্যতম সুন্দর ও মনোমুগ্ধকর সমুদ্রতীরবর্তী অঞ্চল।

🌅 ইতালির আমালফি উপকূল — ভূমধ্যসাগরের এক স্বর্গভূমি 🌊

ইতালির দক্ষিণ অংশে, নেপলস উপসাগরের ঠিক দক্ষিণে অবস্থিত আমালফি উপকূল (Amalfi Coast) — ইউরোপের অন্যতম সুন্দর ও মনোমুগ্ধকর সমুদ্রতীরবর্তী অঞ্চল। পাহাড়, সাগর, রঙিন গ্রাম আর সরু আঁকাবাঁকা পথের এই মিশ্রণ যেন কোনো শিল্পীর তুলিতে আঁকা এক জীবন্ত চিত্রপট। এই উপকূলের প্রতিটি কোণে মিশে আছে ইতিহাস, সৌন্দর্য আর রোমান্সের সুর।


🌄 যাত্রার সূচনা — নেপলস থেকে আমালফি উপকূলে

আমালফি উপকূলে পৌঁছানোর জন্য সবচেয়ে সহজ রাস্তা হলো নেপলস (Naples) থেকে যাত্রা শুরু করা। সেখান থেকে গাড়িতে বা বাসে করে সোরেন্টো (Sorrento) হয়ে উপকূল ধরে যাওয়া যায়। পথটা আঁকাবাঁকা, কিন্তু জানালার বাইরে যখন বিশাল নীল সাগর আর সবুজ পাহাড় চোখে পড়ে, তখন প্রতিটি বাঁকই হয়ে ওঠে এক নতুন কবিতার পঙক্তি।


🌸 পজিতানো (Positano) — রঙিন বাড়ির শহর

আমালফি উপকূলের সবচেয়ে জনপ্রিয় গন্তব্য পজিতানো। পাহাড়ের গায়ে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকা লাল, কমলা, হলুদ রঙের ঘরগুলো যেন কল্পনার জগৎ থেকে উঠে এসেছে। সরু গলিপথ, ছোট ছোট কফিশপ, সাগরপাড়ের বুটিক দোকান আর পাথুরে সৈকত—সবকিছুই মিলেমিশে এক অনন্য আবহ তৈরি করে। সূর্যাস্তের সময় পজিতানোর সৌন্দর্য যেন জাদু ছড়ায়।


🏛️ আমালফি টাউন — ইতিহাস ও ধর্মের পবিত্র ভূমি

এই উপকূলের নামই এসেছে এই শহরের নাম থেকে — আমালফি। একসময় এটি ছিল এক শক্তিশালী সামুদ্রিক প্রজাতন্ত্র। শহরের কেন্দ্রস্থলে দাঁড়িয়ে থাকা Amalfi Cathedral (Duomo di Amalfi) গির্জাটি ৯ম শতকে নির্মিত। এর বাইজেন্টাইন গম্বুজ, মোজাইক শিল্প আর সোনালি দরজা দর্শকদের বিমোহিত করে।

আমালফির পাথরের রাস্তাগুলি, হাতে তৈরি লেবুর সুগন্ধি সাবান, লিমোঞ্চেল্লো (Limoncello) লিকার — সবকিছুতেই মিশে আছে স্থানীয় জীবনের সরলতা ও আনন্দ।


🌿 রাভেলো (Ravello) — সুর ও স্বপ্নের রাজ্য

আমালফি থেকে কিছুটা উঁচুতে অবস্থিত রাভেলো, যেখানে পাহাড়ের কোলে ঝুলে থাকা বাগান আর প্রাসাদ যেন রূপকথার দৃশ্য। বিখ্যাত Villa Rufolo এবং Villa Cimbrone থেকে দেখা ভূমধ্যসাগরের দৃশ্য একবার দেখলে চিরস্মরণীয় হয়ে যায়। এখানে প্রতি বছর গ্রীষ্মে হয় Ravello Music Festival, যেখানে বিশ্ববিখ্যাত শিল্পীরা খোলা আকাশের নিচে সুরের জাদু ছড়ান।


🏖️ প্রাইয়ানো ও মাইওরি — শান্ত সমুদ্রের আহ্বান

যদি কেউ জনসমাগম এড়িয়ে একটু নিরিবিলি সময় কাটাতে চান, তাহলে প্রাইয়ানো (Praiano) বা মাইওরি (Maiori)-র সৈকতই আদর্শ। এখানে ঢেউয়ের গর্জন, মাছ ধরার নৌকা, আর অলস দুপুরের রোদ মিলে গড়ে তোলে শান্ত, কবিতার মতো পরিবেশ।


🍋 লিমোনচেল্লো ও স্থানীয় খাবার

আমালফি উপকূলের প্রতিটি শহরেই লেবু গাছের উপস্থিতি চোখে পড়ে। এখানকার বিশাল লেবু থেকেই তৈরি হয় বিখ্যাত Limoncello, যা ইতালির অন্যতম জনপ্রিয় লিকার। স্থানীয় খাবারের মধ্যে আছে তাজা সামুদ্রিক মাছ, হাতে বানানো পাস্তা, এবং মিষ্টি লেবুর টার্ট — প্রতিটি পদই স্বাদের নতুন দিগন্ত খুলে দেয়।


🌅 সূর্যাস্তের সোনালি আলো

সন্ধ্যার সময় আমালফি উপকূল যেন রঙে রঙে ভরে ওঠে। পাহাড়ের কোলে বসে যখন সূর্য ধীরে ধীরে ভূমধ্যসাগরের জলে মিলিয়ে যায়, তখন মনে হয়, সময় থেমে গেছে। প্রকৃতির এমন সৌন্দর্যের সামনে শব্দ হারিয়ে যায়, শুধু থেকে যায় এক গভীর প্রশান্তি।


🏞️ শেষ কথা

আমালফি উপকূল কেবল একটি ভ্রমণ গন্তব্য নয়, এটি এক অনুভূতি। এখানে মানুষ আসে শুধু দৃশ্য দেখতে নয়, নিজের মনকে বিশ্রাম দিতে, জীবনের সৌন্দর্যকে আবার নতুন করে অনুভব করতে। পাহাড়, সাগর, সঙ্গীত আর ভালোবাসায় মোড়া এই উপকূল যেন স্বপ্নের কোনো রাজ্য, যেখানে প্রতিটি দিনই এক নতুন কবিতা।

Share This
Categories
প্রবন্ধ বিবিধ রিভিউ

ইতালির পিসা — হেলানো টাওয়ারের শহরে ইতিহাসের হাতছানি।

ইতালির হৃদয়ে, টাস্কানি প্রদেশের এক শান্ত শহর পিসা (Pisa) — নাম শুনলেই সবার মনে ভেসে ওঠে সেই বিস্ময়কর হেলানো টাওয়ার, যা সারা পৃথিবীর মানুষের কাছে এক অদ্ভুত স্থাপত্য বিস্ময় হিসেবে পরিচিত। কিন্তু পিসা কেবল এই টাওয়ারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, এর প্রতিটি গলিতে লুকিয়ে আছে রোমান সাম্রাজ্যের ইতিহাস, শিল্প, সংস্কৃতি এবং এক অপরূপ ইউরোপীয় সৌন্দর্যের ছোঁয়া।


🏙️ পিসা শহরের পরিচয়

পিসা অবস্থিত আরনো নদীর তীরে, ফ্লোরেন্স থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার দূরে। একসময় এটি ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী, যা রোমান আমল থেকেই ইউরোপের বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত ছিল। আজ পিসা তার সমৃদ্ধ অতীতের স্মৃতি বুকে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে এক ঐতিহাসিক ও শিক্ষানগরী হিসেবে — কারণ এখানেই রয়েছে বিখ্যাত University of Pisa, ইউরোপের প্রাচীনতম বিশ্ববিদ্যালয়গুলির একটি।


🕍 লিনিং টাওয়ার অফ পিসা — বিস্ময়ের প্রতীক

পিসা শহরের কেন্দ্রবিন্দু হলো Piazza dei Miracoli (Square of Miracles) — অর্থাৎ “অলৌকিক চত্বর”। এই চত্বরে দাঁড়িয়ে আছে চারটি বিশ্ববিখ্যাত স্থাপনা —
1️⃣ The Cathedral (Duomo di Pisa)
2️⃣ The Baptistery
3️⃣ The Camposanto Monumentale (শ্মশান উদ্যান)
4️⃣ এবং সর্বাধিক পরিচিত Leaning Tower of Pisa

হেলানো এই টাওয়ারটির নির্মাণ শুরু হয় ১১৭৩ সালে, কিন্তু মাটি দুর্বল হওয়ায় এটি ধীরে ধীরে এক পাশে হেলতে থাকে। টাওয়ারের উচ্চতা প্রায় ৫৬ মিটার, এবং আজ এটি প্রায় ৪ ডিগ্রি কোণে হেলানো। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বিজ্ঞানী ও স্থপতিরা চেষ্টা করেছেন এটি স্থিতিশীল রাখতে, আর এখন এটি নিরাপদভাবে দাঁড়িয়ে আছে — পৃথিবীর অন্যতম স্থাপত্য আশ্চর্য হিসেবে।

যখন আপনি টাওয়ারের নিচে দাঁড়িয়ে তাকান, মনে হয় যেন আকাশের দিকে ঝুঁকে পড়েছে এক বিশাল সাদা মার্বেলের স্তম্ভ। আর টাওয়ারে উঠতে উঠতে যখন চারপাশে শহরের দৃশ্য চোখে পড়ে, তখন মনে হয় — ইতিহাসের বুক থেকে যেন এক নতুন পৃথিবী জেগে উঠেছে।


The Cathedral of Santa Maria Assunta — ধর্মীয় ঐশ্বর্যের নিদর্শন

হেলানো টাওয়ারের পাশেই রয়েছে Duomo di Pisa, এক অপূর্ব রোমানেস্ক স্থাপত্যশৈলীর গির্জা। এর বাহিরের মার্বেল কারুকাজ, অভ্যন্তরের সোনালি মোজাইক ও গম্বুজের শিল্পকর্ম প্রতিটি দর্শককে বিমোহিত করে। এখানে দাঁড়িয়ে যেন অনুভব করা যায় মধ্যযুগীয় ইউরোপের শিল্প ও ধর্মের মিলন।


💧 The Baptistery — সুরের মন্দির

Duomo-র সামনে দাঁড়িয়ে আছে Baptistery of St. John, যা ইউরোপের সবচেয়ে বড় ব্যাপ্টিস্ট্রি। এর ভেতরের গম্বুজে এমন অনন্য শব্দ প্রতিফলন ঘটে যে, একজন গায়ক একা দাঁড়িয়ে গান গাইলেও শুনতে পাওয়া যায় বহুস্বরের সুর। এই স্থাপনাটি শিল্প, সঙ্গীত ও ধর্মের এক অপূর্ব সংমিশ্রণ।


🏛️ Camposanto Monumentale — ইতিহাসের নিঃশব্দ সাক্ষী

চত্বরের শেষ প্রান্তে রয়েছে Camposanto, যেখানে পবিত্র মাটিতে বহু বিখ্যাত ব্যক্তির সমাধি। এর দেয়ালে মধ্যযুগীয় চিত্রকর্মগুলো একসময়ে ইউরোপীয় শিল্পের মহিমা প্রকাশ করত।


🎓 জ্ঞান ও বিজ্ঞানের শহর

পিসা শুধু ঐতিহাসিক স্থাপত্যের জন্যই নয়, বরং তার বিজ্ঞান ও শিক্ষার ঐতিহ্যের জন্যও বিখ্যাত। এখানেই জন্ম নিয়েছিলেন গ্যালিলিও গ্যালিলেই, যিনি পদার্থবিজ্ঞান ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের নতুন যুগের সূচনা করেছিলেন। কিংবদন্তি আছে, গ্যালিলিও নাকি পিসার টাওয়ার থেকেই তার বিখ্যাত ‘free fall’ পরীক্ষা করেছিলেন!


🌇 নদীর ধারে পিসার সন্ধ্যা

সন্ধ্যার সময় যখন আরনো নদীর তীরে সূর্যের আলো ম্লান হয়ে আসে, তখন নদীর ওপরের সেতুগুলি, পুরোনো বাড়িগুলি আর ক্যাফেগুলির আলো ঝিলিক দেয়। নদীর ধারে বসে এক কাপ ইতালীয় কফি হাতে, পর্যটকের মনে জেগে ওঠে এক অদ্ভুত প্রশান্তি।


🍕 ইতালীয় স্বাদের আসর

পিসায় আসলে অবশ্যই চেখে দেখতে হয় স্থানীয় ইতালিয়ান খাবার — পাস্তা, পিজ়া, তিরামিসু, এবং জেলাটো আইসক্রিম। ছোট ছোট রেস্টুরেন্ট বা “Trattoria”-তে বসে স্থানীয় ওয়াইন আর সুস্বাদু খাবারের সঙ্গে উপভোগ করা যায় শহরের উষ্ণ আতিথেয়তা।


শেষ কথা

পিসা কেবল একটি পর্যটনকেন্দ্র নয়, এটি ইউরোপীয় ইতিহাস ও বিজ্ঞানের এক জীবন্ত প্রতীক। এখানে একদিকে রয়েছে ধর্ম ও শিল্পের ঐতিহ্য, অন্যদিকে জ্ঞানের আলোকশিখা। হেলানো টাওয়ারটি যেন সময়ের প্রতীক — যে বলছে, সবকিছুই হেলে পড়তে পারে, কিন্তু সৌন্দর্য ও ইতিহাস কখনো পতিত হয় না।

 

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

ইতালির নেপলস — আগ্নেয়গিরি, সমুদ্র আর শিল্পের মিলনভূমি।

🇮🇹 ইতালির নেপলস — আগ্নেয়গিরি, সমুদ্র আর শিল্পের মিলনভূমি 🌋🌊

ইতালির দক্ষিণ অংশে অবস্থিত এক ঐতিহাসিক শহর নেপলস (Naples) — যাকে বলা হয় “দক্ষিণ ইতালির প্রাণকেন্দ্র”। এটি এমন এক শহর যেখানে অতীতের রাজকীয় ইতিহাস, ভূমধ্যসাগরের নীল জলরাশি, আগ্নেয়গিরির রহস্য আর ইতালীয় খাবারের সুবাস একসঙ্গে মিশে গেছে এক জাদুকরী অভিজ্ঞতায়। নেপলস মানেই রোমান সভ্যতার ছায়ায় বেঁচে থাকা এক পুরনো ইউরোপীয় শহর, যা আজও প্রাণবন্ত, রঙিন এবং অনন্ত জীবন্ত।


🏛️ নেপলসের পরিচয় ও ইতিহাস

নেপলসের প্রাচীন নাম ছিল Neapolis, যার অর্থ “নতুন শহর”। এটি প্রতিষ্ঠিত হয় খ্রিস্টপূর্ব অষ্টম শতকে গ্রিকদের দ্বারা। রোমান সাম্রাজ্যের সময় থেকেই নেপলস ছিল সংস্কৃতি ও বাণিজ্যের এক প্রধান কেন্দ্র। ইউরোপের অনেক রাজা, শিল্পী ও চিন্তাবিদ এই শহরে এসে অনুপ্রেরণা পেয়েছেন।

দীর্ঘ ইতিহাসে এটি একাধিকবার রাজ্য পরিবর্তনের মুখ দেখেছে — রোমান, নরম্যান, স্প্যানিশ, ফরাসি — সবাই কোনো না কোনো সময় শাসন করেছে এই ভূমি। সেই ইতিহাস আজও লুকিয়ে আছে নেপলসের দুর্গ, গির্জা, প্রাসাদ আর গলিগুলির মাঝে।


🌋 মাউন্ট ভিসুভিয়াস — আগুনের পাহাড়ের রহস্য

নেপলস শহরের কাছে দাঁড়িয়ে আছে বিশ্বের অন্যতম বিখ্যাত আগ্নেয়গিরি Mount Vesuvius। খ্রিস্টাব্দ ৭৯ সালে এর ভয়ংকর অগ্নুৎপাতেই ধ্বংস হয়েছিল পম্পেই ও হারকুলেনিয়াম — দুটি সমৃদ্ধ রোমান শহর। আজ সেই স্থানগুলো প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘরে পরিণত হয়েছে, যেখানে সময় যেন থেমে আছে।

ভিসুভিয়াসের গায়ে চড়ে যখন পর্যটকরা উপরে ওঠেন, নিচে তখন দেখা যায় নেপলস উপসাগরের অপূর্ব দৃশ্য — একদিকে সমুদ্র, অন্যদিকে পাহাড়, আর মাঝখানে এক জীবন্ত শহর।


🏰 নেপলস শহরের দর্শনীয় স্থানসমূহ

🕍 Castel Nuovo (নিউ ক্যাসেল)

নেপলস বন্দরের কাছে দাঁড়িয়ে আছে এই বিশাল মধ্যযুগীয় দুর্গ, যা ১৩শ শতকে নির্মিত। কালো পাথরে গড়া এই দুর্গের মধ্য দিয়ে হেঁটে গেলে মনে হয় যেন রণক্ষেত্রের রাজ্যে প্রবেশ করেছেন।

🎭 Teatro di San Carlo

ইউরোপের প্রাচীনতম ও অন্যতম সুন্দর অপেরা হাউস। এর অভ্যন্তরের সোনালি অলংকরণ ও শিল্পসম্ভার আজও সঙ্গীতপ্রেমীদের মুগ্ধ করে রাখে।

Naples Cathedral (Duomo di San Gennaro)

এই গির্জাটি শহরের রক্ষাকর্তা সেন্ট জানুয়ারিও-এর নামে নির্মিত। প্রতি বছর সেপ্টেম্বর মাসে এখানে তাঁর অলৌকিক “রক্ত তরল হওয়ার” উৎসব পালিত হয়, যা হাজারো ভক্তের ভিড় টানে।

🏛️ National Archaeological Museum of Naples

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘর, যেখানে সংরক্ষিত আছে পম্পেই ও হারকুলেনিয়ামের অবশিষ্ট শিল্পকর্ম, মূর্তি, ও প্রাচীন রোমান ফ্রেস্কো।


🌊 নেপলস উপসাগর — নীল জলের শহর

Gulf of Naples ইউরোপের সবচেয়ে সুন্দর উপসাগরগুলির একটি। এখানে ভেসে থাকা ছোট ছোট দ্বীপ — Capri, Ischia, Procida — যেন সমুদ্রের বুকের রত্নখানি।
ক্যাপ্রি দ্বীপের Blue Grotto গুহায় ঢুকে যখন সূর্যের আলো নীল জলে প্রতিফলিত হয়, তখন মনে হয়, প্রকৃতি নিজেই যেন সংগীত বাজাচ্ছে।


🍕 নেপলস — পিজ্জার জন্মভূমি! 🍕

নেপলস মানেই Pizza Napoletana। এখানেই জন্মেছিল বিশ্বের প্রথম আসল পিজ্জা — Margherita, যা বানানো হয় টমেটো, মোজারেলা চিজ এবং তুলসীপাতা দিয়ে।
শহরের পুরোনো পাথুরে গলিতে বসে যখন এক টুকরো গরম পিজ্জা হাতে নেওয়া হয়, তখন বোঝা যায় — খাবারও হতে পারে ইতিহাসের অংশ।


🚶‍♀️ নেপলসের গলিপথে হাঁটাহাঁটি

নেপলসের পুরোনো শহর Spaccanapoli যেন জীবন্ত এক জাদুঘর। সরু গলিগুলিতে ঝুলে থাকা কাপড়, মোটরবাইক, বাজারের ডাক, গির্জার ঘণ্টাধ্বনি, আর কোণায় কোণায় ছড়িয়ে থাকা রাস্তার কফিশপ — সব মিলিয়ে এক অসাধারণ ইউরোপীয় প্রাণচাঞ্চল্য।

রাতের বেলায় এই গলিগুলো আরও জীবন্ত হয়ে ওঠে — আলো, গান আর মানুষের উচ্ছ্বাসে।


🌅 নেপলসের সূর্যাস্ত

যখন সূর্য ধীরে ধীরে ভূমধ্যসাগরের জলে মিশে যায়, তখন দূরে আগ্নেয়গিরির ছায়া আর শহরের আলো মিলে তৈরি করে এক অপূর্ব চিত্র। সেই দৃশ্য দেখতে দেখতে বুঝতে পারা যায় — এই শহর ধ্বংসের মুখ দেখেছে, আবার নতুন জীবনে ফিরে এসেছে বারবার।


শেষ কথা

নেপলস এমন এক শহর, যেখানে ইতিহাস ও আধুনিকতা পাশাপাশি হাঁটে। একদিকে প্রাচীন ধ্বংসস্তূপ, অন্যদিকে সজীব রাতের রাস্তা। আগ্নেয়গিরির ছায়ায় গড়ে উঠেও এই শহর বারবার পুনর্জন্ম নিয়েছে।
তাই বলা যায় —
“নেপলস শুধু দেখা যায় না, নেপলসকে অনুভব করতে হয়।” 🌋🌊

 

Share This
Categories
বিবিধ রিভিউ

অপরাজেয় সংগঠনের সহযোগিতায় অনন্য উদ্যোগ, জন্মদিনে সামাজিক দায়বদ্ধতার নজির।

পশ্চিম মেদিনীপুর, নিজস্ব সংবাদদাতাঃ- মেয়ের জন্মদিনকে সামনে রেখে শনিবার পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার গড়বেতা তিন নম্বর ব্লকের চন্দ্রকোনারোড শহর সংলগ্ন ডুকির তুঁতবাড়ীতে খুদে পড়ুয়াদের নিয়ে বৃক্ষরোপণ, তিথি ভোজন সহ ক্ষুদে পড়ুয়াদের শিক্ষার সামগ্রী বিতরণ করা হয়। এই দিন জানা গিয়েছে বিশিষ্ট সমাজসেবী ঝুনু ঘোষের কন্যা লাজোরিকার ২০তম জন্মদিন উপলক্ষে এই কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে,এই দিন তুঁতবাড়ী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সমস্ত ক্ষুদে পড়ুয়াদের নিয়ে সারাদিন ধরে এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে,আর সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছেন অপরাজেয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, এই দিন উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষিকা সহ সংগঠনের প্রসেনজিৎ কুণ্ডু, পলাশ ঘোষ,দিব্যেন্দু সিংহ রায়,সুমন বিসই, উদয় মাহাতো, প্রসেনজিৎ মাঝি, সমীর কোটাল সহ অন্যান্য ব্যক্তিবর্গ।

Share This
Categories
বিবিধ রিভিউ

চন্দ্রকোনারোডে রেল বিপর্যয়, ঘণ্টাখানেক পর স্বাভাবিক চলাচল আপ লাইনে।

পশ্চিম মেদিনীপুর, নিজস্ব সংবাদদাতাঃ- পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার খড়গপুর স্টেশন থেকে হাটিয়া স্টেশন যাওয়ার সময় শনিবার গড়বেতা তিন নম্বর ব্লকের চন্দ্রকোনারোড স্টেশনের কাছে বিকল হয়ে পড়ে যাত্রীবাহী ট্রেনের ইঞ্জিন,এর ফলে চরম সমস্যায় পড়ে যাত্রীরা, অন্যদিকে আপ লাইনে সমস্ত ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল,প্রায় ঘন্টাখানেকের পর রেলের তৎপরতায় অন্য একটি রেল ইঞ্জিন এসে যাত্রীবাহী ট্রেনটিকে গন্তব্যস্থলে উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হয়।

Share This
Categories
বিবিধ রিভিউ

‘প্রতি শুক্রবার হাট বসবে’— দোমুয়ানীতে শাকসবজি থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, উচ্ছ্বসিত এলাকাবাসী।

পশ্চিম মেদিনীপুর, নিজস্ব সংবাদদাতাঃ- শুক্রবার থেকে শুরু হল পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার গড়বেতা তিন নম্বর ব্লকের চন্দ্রকোনারোড শহর সংলগ্ন দোমুয়ানী এলাকায় শুরু হয়েছে হাট, জানা গিয়েছে প্রত্যেক শুক্রবার সকাল থেকে বসবে হাট-বাজার, নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস সহ পাওয়া যাবে শাকসবজি, জানা গিয়েছে দোমুয়ানী ইসলামিয়া ক্লাবের সহযোগিতায় এবং স্থানীয় মানুষজনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। তবে প্রথম দিনে যথেষ্ট ভিড় লক্ষ্য করা গিয়েছে হাট বাজারে।

Share This
Categories
বিবিধ রিভিউ

হাইকোর্টের নির্দেশে সচেতনতা প্রচার ও নিয়ন্ত্রিত বলি, জানালেন বোল্লা কালী মন্দির ট্রাস্টের আইনজীবী।

দক্ষিণ দিনাজপুর, নিজস্ব সংবাদদাতাঃ- উত্তরবঙ্গের প্রসিদ্ধ বোল্লা রক্ষাকালী মাতার পুজোর সময় পাঁঠা বলি নিয়ে গত ৪ঠা নভেম্বর, ২০২৫ (মঙ্গলবার) কলকাতা হাইকোর্টের দেওয়া অর্ডারের বিষয় নিয়ে প্রেস বিবৃতি দিলেন বোল্লা ঈশ্বরী শ্রী শ্রী রক্ষা কালী মাতা মন্দির ট্রাস্টের হয়ে কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবী ড. বিনয় ব্রত ভৌমিক, এই দিন তিনি বোল্লা কালী মাতা মন্দির ট্রাস্টের অফিস ঘরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জানান “গত ৪ঠা নভেম্বর, ২০২৫,মহামান্য কার্যনির্বাহী প্রধান বিচারপতি শ্রী সুজয় পাল এবং মহামান্য বিচারপতি শ্রী পার্থ সরথি সেন কর্তৃক প্রদত্ত আদেশে কলিকাতা উচ্চ ন্যায়ালয় নির্দেশ প্রদান করেন যে, গত ৩রা শে নভেম্বর ২০২৫ তারিখে বালুরঘাট সদর Sub-Divisional Officer সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো কঠোরভাবে মেনে চলে এবং নিশ্চিত করে যে কোনো গণবলি অনুষ্ঠিত না হয়। বলিদান শুধুমাত্র লাইসেন্সপ্রাপ্ত স্থানে হতে হবে, অন্য কোথাও নয়।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে বোল্লা মন্দিরের বলি ঘরে কোন কালেই গণ বলি অনুষ্ঠিত হয় না। প্রতিটা পশু এক এক করে সরকারি পশু চিকিৎসক দ্বারা পরীক্ষিত হওয়ার পর অনুমোদিত লাইসেন্স প্রাপ্ত বলির স্থানে শুধুমাত্র মানবজাতিকে আহার পরিবেশন করার জন্য বলি হয়। এখানে কোন গর্ভবতী পশু বা বাচ্চাসহ পশু, তিন মাসের কম বয়সী বাচ্চা পশু অথবা অসুস্থ প্রাণীকে বলি দেওয়া হয় না। এগুলো আমাদের শাস্ত্রেও বারণ আছে। পশুগুলিকে কখনোই একে অপরের সামনে বলি দেওয়া হয় না। এই প্রসঙ্গে মাননীয় সুপ্রিম কোর্ট লক্ষীনারায়ণ বনাম ইউনিয়ন অফ ইন্ডিয়া এবং অন্যান্য ২০২৩ মামলার সুনির্দিষ্ট নিয়মাবলী মেনে বলি দেওয়া হয়। কলকাতা হাইকোর্ট নির্দেশ দেন যে,এই আদেশটি সাধারণ মানুষের নিকট সচেতনতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে সরকার এবং বোল্লা কালী পূজা ট্রাস্টের কর্তৃপক্ষ গত ৫ই নভেম্বর তারিখের মধ্যে সকল স্তরে, ইলেকট্রনিক মাধ্যমে উক্ত আদেশ প্রচারের চেষ্টা করবে।
মা বোল্লা কালী মাতার কৃপায় মাননীয় কলকাতা হাইকোর্টের আদেশ অনুসারে অনুমোদিত লাইসেন্স প্রাপ্ত বলি ঘরেই এবারে বোল্লা কালী মাতা মন্দিরের বলি সুসম্পন্ন হবে।”

Share This
Categories
বিবিধ রিভিউ

কার্তিক পূর্ণিমায় ময়নাগড়ে ৪৬৫ তম রাসযাত্রার মহোৎসব, ধর্মীয় আচার ও সংস্কৃতির মেলবন্ধন।।

পূর্ব মেদিনীপুর, নিজস্ব সংবাদদাতাঃ- পূর্ব মেদিনীপুর জেলার ময়নাগড়ের রাসযাত্রা
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও লোকসংস্কৃতির ঐতিহ্যবাহী ময়নাগরের রাসযাত্রা এই বছর ৪৬৫ বছরে পদার্পণ করেছে |এই রাসযাত্রা ও রাসমেলা পূর্ব মেদিনীপুর জেলা তথা পশ্চিমবঙ্গের প্রাচীনতম ও বৃহত্তম মেলা হিসেবে পরিচিত | এই মেলার অন্যতম আকর্ষণ হল কার্তিক পূর্ণিমার মধ্যরাতে রাজ পরিবারের কুল দেবতা শ্যামসুন্দর জীউকে নিয়ে রঙিন আলোক সজ্জার নৌবিহার, যা হাজার হাজার মানুষ এই রাসযাত্রা দর্শন করে আনন্দ উপভোগ করে থাকেন |কালিদহ ও মাকড়দহ দিয়ে ঘেরা ধর্মমঙ্গলে লাউসেন রাজপরিবার (বিতর্কীত)খ্যাত গোবর্ধন বাহুবলীন্দ্র ১৫৬১ সালে কালিদহে তীরে কুলদেবতা শ্যামসুন্দর জিউ মন্দিরে প্রথম রাস মেলা সূচনা করেন, সেই থেকে মেলা হয়ে আসছে | বর্তমান বছরে ময়না রাসমেলা কমিটির কার্যকর সভাপতি অশোকানন্দ বাহুবলীন্দ্র ও সাধারণ সম্পাদক স্বরূপানন্দ বাহুবলীন্দ্র জানান ধর্মীয় আচার অনুযায়ী কার্তিক মাসের শুক্লপক্ষের উত্থান একাদশী দিন অর্থাৎ আজ ২রা নভেম্বর থেকে নয় নভেম্বর পর্যন্ত আট দিন ভোর পাঁচটার সময় শ্যামসুন্দর জিও রাজবাড়ীর মূল মন্দির থেকে নৌকা বিহারে কালিদহের লাবণ্যময় জল পরিক্রম করে প্রবেশ করবেন |কেবল পূর্ণিমার দিন অর্থাৎ আগামী 5ই নভেম্বর সন্ধ্যে ছটার সময় রাজবাড়ীর কুল দেবতা শ্যামসুন্দর জিউ নৌকা বিহারে ফিরে যাবেন মূল মন্দিরে, যা দেখার জন্য হাজার হাজার দর্শনার্থী ভিড় জমায় ঐদিন |আর ওই দিনই আনুষ্ঠানিকভাবে রাসমেলার শুভ সূচনা হবে |

Share This
Categories
বিবিধ রিভিউ

আলো, মেলা আর দেবীমূর্তির জৌলুস — শুরু হচ্ছে বুলবুলচন্ডী বাজার সার্বজনীন কালীপুজো।

মালদা, নিজস্ব সংবাদদাতাঃ —-মালদার হবিবপুর ব্লকের বুলবুলচন্ডী বাজারে কালীপুজো মানেই বিশাল আকৃতির দেবীমূর্তি। চিরাচরিত সেই ঐতিহ্য বজায় রেখে এবছরও তৈরি হচ্ছে ৪২ ফুট দৈর্ঘ্যের বিশালাকায় কালী প্রতিমা। ইতিমধ্যেই পুজো প্রস্তুতির শেষ মুহূর্তের কাজ চলছে, উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে সর্বত্র।

১৯৪৯ সাল থেকে অনুষ্ঠিত হয়ে আসা বুলবুলচন্ডী বাজার সার্বজনীন কালীপুজো এখন উত্তরবঙ্গবাসীর অন্যতম আকর্ষণ। বিশাল দেবীমূর্তিই এই পুজোর মূল আকর্ষণ। এবছর প্রতিমার উচ্চতা রাখা হয়েছে ৪২ ফুট। প্রতিমা গড়ছেন মালদার স্বনামধন্য মৃৎশিল্পী ভেলুচরণ পাল। আগে তাঁর বাবা এই প্রতিমা গড়তেন, বর্তমানে সেই দায়িত্ব সামলাচ্ছেন তিনিই। প্রতিমা নির্মাণে সহযোগিতা করছেন তাঁর ভাইপো অমিত কুমার পালসহ অন্যান্য সহকর্মীরা।

মৃৎশিল্পী ভেলু চরণ পাল রবিবার জানিয়েছেন প্রতিমা তৈরিতে ব্যবহৃত হচ্ছে প্রায় ৩ কাহন খড়, ৫০ কেজি সুতলি, ৫০ কেজি পেরেক এবং ১৫০টি বাঁশ। ইতিমধ্যেই প্রতিমা গড়ার কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে।

পুজো কমিটির সভাপতি প্রশান্ত রায় জানান, “আজ থেকে বহু বছর আগে জমিদারি প্রথার সময় স্থানীয় কয়েকজনের উদ্যোগেই এই পুজোর সূচনা হয়। সেই ধারাবাহিকতা এখনও অটুট রয়েছে।”

এবছরও চন্দননগরের সুদৃশ্য আলোকমালায় সাজানো হচ্ছে গোটা এলাকা। পাশাপাশি থাকছে পনেরো দিনব্যাপী মেলা,সহ নানা আকর্ষণ।এই পুজোর সম্পর্কে আরো কি জানালেন কমিটির সম্পাদক পীযূষ মন্ডল ও যুগ্ম সম্পাদক চন্দন দাস বক্তব্য শুনুন তাদের।

পুজোকে ঘিরে গোটা বুলবুলচন্ডীজুড়ে এখন সাজো সাজো রব। স্থানীয় ব্যবসায়ী, পূজারি ও ভক্তদের মধ্যে উৎসাহ চোখে পড়ার মতো।

Share This
Categories
বিবিধ রিভিউ

শতবর্ষের ঐতিহ্যে টিকে আছে পাহাড়েশ্বরের শ্মশান কালী — ভক্তদের ঢল অমাবস্যা থেকে কালীপুজোয়।

বীরভূম, নিজস্ব সংবাদদাতাঃ- পাহাড়েশ্বর শ্মশান কালীর মাহাত্ম্য
মাঝে একটি দিন। তারপরেই কালীপুজো।চারিদিকে সাজো সাজো রব।
বীরভূম জেলার দুবরাজপুর পাহাড়েশ্বরের শ্মশান কালী সর্বজন বিদিত। শতাব্দী প্রাচীন এই কালী মন্দিরের নানান মাহাত্ম্য রয়েছে। কালীপুজোর দিন মায়ের পূজো হলেও বিসর্জন হয় প্রায় এক বছর পর দুর্গাপুজোর পর একাদশীর দিন। স্থানীয় দাস সম্প্রদায়ের মানুষরা বংশ পরম্পরায় বিসর্জন করে থাকেন।পরদিন শুরু হয় কাঠামো তৈরি ও ম্যাড় বাঁধা। ত্রয়োদশীর দিন মাটি লাগানো শুরু হয়। যেহেতু শ্মশান কালী তাই শ্মশানের বাঁশ , মাটি দিয়ে মায়ের প্রতিমা তৈরি হয়। এজন্য যে জলের প্রয়োজন তা মন্দিরের নিকট দু ফুট গর্ত খুঁড়ে পাওয়া যায় যেটা গঙ্গাকুণ্ড নামে খ্যাত। প্রতিমা তৈরি সম্পূর্ণ হলে গঙ্গা কুণ্ডের জল আপনা আপনি শুকিয়ে যায়।এছাড়াও মায়ের নির্ণীয়মান মাটি শুকানোর জন্য শ্মশানের অঙ্গার জ্বালিয়ে সেঁক দেওয়া হয় । সারা বছর মায়ের নিত্য সেবা হয়। তবে অমাবশ্যা তিথিতে ভক্তদের ভীড় বেশি থাকে।আর কালীপুজোর দিন তো ভীড় উপচে পড়ে।কালীপুজোর অমানিশিতে কাঁটার আসনে বসে পুজো করা হয় শ্মশান কালীর। বর্তমানের সেবাইত তন্ময় দাস জানান শতাধিক বছরের শ্মশান কালী তারা বংশ পরম্পরায় পুজো করে আসছেন। এবিষয়ে তিনি বিশদে জানান।

Share This