Categories
রিভিউ

টলিউড তারকা দর্শনা বণিক পাপাকাতের পুজো প্রতিযোগিতার মুখ।

এই দুর্গাপুজোয়, শহরের উৎসবমুখর পরিবেশে পাপাকাত তাদের আকর্ষণীয় ট্যাগলাইন “ফুচকা খাও, ফুকেট যাও” সহ পুজো ফুচকা অফারটি উন্মোচন করেছে। এই উত্তেজনাপূর্ণ প্রতিযোগিতা খাদ্যপ্রেমীদের তাদের প্রিয় ফুচকা উপভোগ করার এবং থাইল্যান্ডের ফুকেটের বিদেশী সমুদ্র সৈকতে একটি অবিস্মরণীয় ছুটি জেতার সুযোগ দেয়।

এই উৎসব উদযাপনটি গ্ল্যামারাস হয়ে উঠেছে জনপ্রিয় টলিউড অভিনেত্রী দর্শনা বণিককে প্রতিযোগিতার দূত হিসেবে ঘোষণা করায়। তাঁর প্রাণবন্ত উপস্থিতি এবং স্টাইলিশ ব্যক্তিত্বের জন্য পরিচিত দর্শনা এই অনন্য প্রচারণায় আকর্ষণ এনেছেন যা কলকাতার প্রিয় স্ট্রিট ফুডকে স্বপ্নের ছুটি কাটানোর সুযোগের সাথে মিলিয়ে দিয়েছে।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

ফুলের ময়দান – জম্মু ও কাশ্মীরের গুলমার্গ নিয়ে একটি সুন্দর ভ্রমণ কাহিনী।

যখন কেউ “কাশ্মীর” শব্দটি শোনে, মনের মধ্যে যে ছবিটি প্রথম আঁকা হয় তা হলো তুষারে মোড়া পাহাড়, সবুজ মেদিনী এবং নীরব সৌন্দর্য। সেই ছবির বাস্তব রূপ হলো গুলমার্গ। জম্মু ও কাশ্মীরের বারামুলা জেলায় অবস্থিত এই মনোরম হিল স্টেশনটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, শীতকালীন খেলাধুলা এবং রোমাঞ্চের এক অনন্য মিলন। গুলমার্গকে বলা হয় “Meadow of Flowers” – অর্থাৎ ফুলের ময়দান, কারণ গ্রীষ্মে এখানে ফুটে ওঠে অসংখ্য বুনো ফুল, আর শীতে এটি রূপ নেয় বরফের রাজ্যে।


🏞 অবস্থান ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য

গুলমার্গ প্রায় ২,৬৫০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত। চারদিকে পির পাঞ্জাল পর্বতমালার তুষারাবৃত চূড়া একে সত্যিই স্বর্গীয় সৌন্দর্য দেয়। গ্রীষ্মকালে সবুজ ঘাস, রঙিন ফুল এবং হিমালয়ের শীতল বাতাস পর্যটকদের মন জয় করে। আর শীতে গুলমার্গ রূপ নেয় আন্তর্জাতিক মানের স্কি রিসোর্টে


🚡 গন্ডোলা রাইড – আকাশে ভেসে ওঠার অনুভূতি

গুলমার্গের সবচেয়ে বিখ্যাত আকর্ষণ হলো গুলমার্গ গন্ডোলা, যা বিশ্বের অন্যতম উচ্চতম কেবল কার।

  • প্রথম ধাপ পর্যটকদের নিয়ে যায় কংদোর বেস স্টেশনে (প্রায় ৩,০৮০ মিটার)।
  • দ্বিতীয় ধাপ নিয়ে যায় আফারওয়াত শিখরের কাছে (প্রায় ৩,৯৭৯ মিটার) – যেখানে চারপাশের তুষারাবৃত পাহাড় চোখ ধাঁধিয়ে দেয়।
    এই রাইডে দাঁড়িয়ে মনে হয় যেন আপনি আকাশ ছুঁয়ে ফেলছেন।

🎿 শীতকালীন খেলাধুলা

গুলমার্গকে বলা হয় ভারতের স্কি রাজধানী

  • এখানে স্কি, স্নোবোর্ডিং, স্নো ট্রেকিং, স্লেজ রাইড, স্নোম্যান বানানো ইত্যাদি অসাধারণ অভিজ্ঞতা নেওয়া যায়।
  • প্রতি বছর আন্তর্জাতিক পর্যটকরা গুলমার্গে এসে স্কি করার আনন্দ উপভোগ করেন।

🌸 গ্রীষ্মকালীন সৌন্দর্য

শুধু শীতেই নয়, গুলমার্গ গ্রীষ্মকালেও স্বর্গের মতো সুন্দর।

  • পাহাড়ি পথ ধরে ঘোড়ায় চড়ে ঘুরে দেখা যায় খিলানমার্গ, আলপাথর লেক ইত্যাদি।
  • গ্রীষ্মকালে এখানে অসংখ্য বুনো ফুল ফোটে – পপি, ব্লুবেল, ডেইজি, বাটারকাপ – যা প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য এক রঙিন অভিজ্ঞতা।

🕌 আশেপাশের দর্শনীয় স্থান

  • শ্রাইন অব বাবা রেশি – ১৫শ শতকের সুফি সন্তের সমাধি।
  • খিলানমার্গ – ঘোড়ায় চেপে বা ট্রেক করে যাওয়া যায়, এখান থেকে পুরো গুলমার্গ ভ্যালি দেখা যায়।
  • আলপাথর লেক – বরফে ঢাকা সুন্দর হ্রদ, গ্রীষ্মেও যার জল বরফশীতল।

🏨 আবাসন ও আতিথেয়তা

গুলমার্গে রয়েছে নানা ধরনের হোটেল, কটেজ ও রিসোর্ট – বিলাসবহুল থেকে বাজেট ফ্রেন্ডলি সব ধরনের। শীতকালে গরম কাঠের কটেজে বসে বাইরে বরফঝড় দেখা এক অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতা। স্থানীয় কাশ্মীরি কাহওয়া চা ও গুসতাবা, রোগানজোশের মতো খাবার স্বাদে এনে দেয় বাড়তি আনন্দ।


📸 ফটোগ্রাফির স্বর্গ

গুলমার্গে গেলে ক্যামেরা না থাকাটা অপরাধ! বরফের মধ্যে স্কি করা মানুষ, গন্ডোলার আকাশযাত্রা, সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের দৃশ্য, পাহাড়ের মাঝে ছোট ছোট গ্রাম – সব কিছুই পোস্টকার্ডের মতো সুন্দর।


🛡 সংরক্ষণ ও দায়িত্বশীল ভ্রমণ

গুলমার্গের সৌন্দর্য রক্ষার জন্য পর্যটকদের সচেতন থাকা জরুরি। প্লাস্টিক বর্জ্য ফেলা থেকে বিরত থাকা, প্রকৃতি নষ্ট না করা – এই জায়গার ভবিষ্যৎ সৌন্দর্য রক্ষায় সবার দায়িত্ব।


🏁 উপসংহার

গুলমার্গ এমন এক জায়গা, যেখানে একসঙ্গে শান্তি, রোমাঞ্চ ও সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়। তুষারে ঢাকা ঢাল, আকাশছোঁয়া গন্ডোলা রাইড, গ্রীষ্মে ফুলের মেলা – সব মিলিয়ে এটি যেন এক রূপকথার দেশ। কাশ্মীর ভ্রমণ যদি করেন, তবে গুলমার্গ না গেলে আপনার যাত্রা অসম্পূর্ণ থেকে যাবে।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

মহালয়া মানেই আবেগ, স্মৃতি ও বাঙালির চিরন্তন উৎসবের ডাক।

ভূমিকা:-  ভোর রাত পেরিয়ে অন্ধকার যখন ফিকে হতে থাকে, আকাশে তখনও একফোঁটা চাঁদের আলো। ঠিক তখনই বাজতে শুরু করে সেই চেনা কণ্ঠস্বর—
“যা দেবী সর্বভূতেষু শক্তিরূপেণ সংস্থিতা…”

এ এক এমন মুহূর্ত যা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বাঙালির হৃদয়ে আবেগের জোয়ার বইয়ে দেয়। এ হলো মহালয়ার সকাল, এ হলো বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কণ্ঠে মহিষাসুরমর্দিনী। বাঙালি জীবনে মহালয়া মানে শুধু পিতৃপক্ষের অবসান নয়, এটি দুর্গাপুজোর সূচনা এবং এক অনন্য সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতার নাম। আর এই অভিজ্ঞতার কেন্দ্রবিন্দু হলেন বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র।

মহালয়া: এক ঐতিহ্যের নাম

হিন্দু শাস্ত্রমতে, মহালয়া হল ভাদ্র মাসের পূর্ণিমা থেকে শুরু হওয়া পিতৃপক্ষের শেষ দিন। এই দিনে পূর্বপুরুষদের উদ্দেশ্যে তর্পণ করলে তাঁদের আত্মা শান্তি পায় বলে বিশ্বাস করা হয়। কিন্তু বাংলার মানুষের কাছে মহালয়ার আরও এক তাৎপর্য রয়েছে — দেবীপক্ষের সূচনা। এই দিন থেকেই শুরু হয় দুর্গাপুজোর কাউন্টডাউন।

মহিষাসুরমর্দিনীর জন্মকথা

১৯৩১ সালে আকাশবাণী কলকাতা প্রথম সম্প্রচার করে মহিষাসুরমর্দিনী নামের এক অনন্য সঙ্গীতনাট্য। স্ক্রিপ্ট লিখেছিলেন বাণী কুমার (বাণীশরণ চট্টোপাধ্যায়) এবং সঙ্গীত পরিচালনা করেছিলেন পঙ্কজকুমার মল্লিক।
এটি মূলত চণ্ডীপাঠ, শাস্ত্রোক্ত স্তোত্র, গান ও সংগীতের মিশ্রণে তৈরি একটি আধুনিক শ্রবণনাট্য, যা ভোরবেলা আকাশবাণী থেকে সম্প্রচারিত হয়।

প্রথম দিন থেকেই এটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায় এবং বাঙালির দুর্গোৎসবের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ওঠে।

বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র: কণ্ঠযাদুকরের আবির্ভাব

মহিষাসুরমর্দিনীর প্রাণ হলেন বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র।

জন্ম: ১৯০৫ সালে কলকাতায়।

শিক্ষা: সংস্কৃত ভাষা ও শাস্ত্রে পারদর্শী ছিলেন।

আকাশবাণীর সঙ্গে যুক্ত হয়ে তিনি মহিষাসুরমর্দিনীর আবৃত্তিকার হিসেবে নির্বাচিত হন।

তাঁর কণ্ঠে চণ্ডীপাঠের যে গভীরতা ও ভক্তিভাব প্রতিফলিত হয়েছে, তা আজও অপ্রতিদ্বন্দ্বী। তাঁর উচ্চারণে ছিল প্রাঞ্জলতা, ছন্দে ছিল অনন্য গাম্ভীর্য, আর স্বরে ছিল এমন এক শক্তি যা শুনলেই শ্রোতা দেবীর রূপ কল্পনা করতে পারেন।

“যা দেবী সর্বভূতেষু”: এক চিরন্তন ধ্বনি

মহিষাসুরমর্দিনীর প্রথম শব্দ থেকেই যে ভক্তিময় পরিবেশ তৈরি হয়, তা অনন্য।
বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের আবৃত্তি শুরু হয়—
“যা দেবী সর্বভূতেষু শক্তিরূপেণ সংস্থিতা…”

এই মন্ত্রোচ্চারণ যেন পুরো মহালয়ার আবহকে ভরিয়ে তোলে এক আধ্যাত্মিক শক্তিতে। সেই সঙ্গে গান—

“শুনো শুনো শুনো শোভন…”

“জাগো দুর্গা…”

“বাজলো তোমার আলোর বেণু…”

সব মিলিয়ে ভোরবেলার কলকাতার আকাশে এক অন্যরকম আবহ তৈরি হয়।

বাঙালির আবেগ ও স্মৃতি

মহালয়া শুনতে মানুষ ভোরবেলায় ঘুম থেকে ওঠে, রেডিও বা এখন টিভি/মোবাইলে অনুষ্ঠান শোনে। বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কণ্ঠে মহিষাসুরমর্দিনী বাঙালির কাছে এক স্মৃতি, আবেগ ও নস্টালজিয়ার উৎস।

বহু মানুষ বলেন, মহিষাসুরমর্দিনী শুনলেই দুর্গাপুজোর গন্ধ পাওয়া যায়।

পরিবারের সবাই একসঙ্গে বসে শোনেন, ছোটদের বোঝানো হয় দেবীর আগমনের কাহিনি।

এমনকি বিদেশে থাকা বাঙালিরাও অনলাইনে মহালয়ার দিন এই অনুষ্ঠান শোনেন।

 

বিরাট বিতর্ক: কণ্ঠ বদলের চেষ্টা

১৯৭৬ সালে আকাশবাণী প্রথমবার বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কণ্ঠ বাদ দিয়ে নতুন সংস্করণ সম্প্রচার করেছিল, যেখানে আবৃত্তি করেছিলেন উত্তমকুমার। কিন্তু শ্রোতারা এই পরিবর্তন মেনে নেননি। প্রচণ্ড সমালোচনার মুখে পড়ে পরের বছরই আকাশবাণী আবার পুরনো সংস্করণ ফিরিয়ে আনে।
এটি প্রমাণ করে যে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কণ্ঠ শুধু আবৃত্তি নয়, এটি বাঙালির আবেগের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

মহালয়া আজকের দিনে

আজ মহালয়া শুধু রেডিওতে সীমাবদ্ধ নয়, টেলিভিশনে বিশেষ অনুষ্ঠান, লাইভ শো, এবং অনলাইনে স্ট্রিমিংয়ের মাধ্যমে মানুষ মহিষাসুরমর্দিনী শোনেন। কিন্তু বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের রেকর্ডিং এখনও সবচেয়ে বেশি শোনা হয়।

এটি প্রমাণ করে—

প্রযুক্তি বদলেছে, কিন্তু আবেগ একই রয়ে গেছে।

প্রজন্ম পাল্টেছে, কিন্তু মহালয়ার সকাল এখনও বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কণ্ঠ ছাড়া অসম্পূর্ণ।

 

উপসংহার

মহালয়া ও বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র একে অপরের সমার্থক। মহালয়ার আসল আবহ তৈরি হয় তাঁর কণ্ঠেই। তিনি শুধু একটি অনুষ্ঠানকে জনপ্রিয় করেননি, বাঙালির আবেগকে এক অমর রূপ দিয়েছেন। যতদিন বাঙালি থাকবে, দুর্গাপুজো থাকবে, ততদিন মহালয়ার সকাল শুরু হবে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কণ্ঠে মহিষাসুরমর্দিনী দিয়ে।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

মহালয়া আসলে পিতৃপক্ষের সমাপ্তি এবং দেবীপক্ষের সূচনা।

ভূমিকা

বাংলার দুর্গোৎসবের সূচনা হয় মহালয়ার মাধ্যমে। এই দিনটিকে বাঙালি সমাজে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হয়। মহালয়া মানেই এক অদ্ভুত আবেগ, এক আশার প্রতীক্ষা। রেডিও বা টেলিভিশনে ভোরবেলা মহিষাসুরমর্দিনী শোনা, গঙ্গার ঘাটে পিতৃতর্পণ, ঘরে ঘরে দুর্গাপুজোর প্রস্তুতি — সব মিলিয়ে মহালয়া এক অনন্য দিন। মহালয়া আসলে পিতৃপক্ষের সমাপ্তি এবং দেবীপক্ষের সূচনা। অর্থাৎ এই দিন থেকেই দেবী দুর্গার আগমনের পথ প্রশস্ত হয়।


মহালয়ার আক্ষরিক অর্থ

“মহালয়া” শব্দটি এসেছে সংস্কৃত থেকে — “মহা” অর্থাৎ মহান, এবং “আলয়” অর্থাৎ আবাস। এই দিনে পূর্বপুরুষদের আত্মা মহালয়ে বা পিতৃলোকে আবাস নেন বলে বিশ্বাস করা হয়। আবার এটি এমন এক দিন, যখন আমরা আমাদের পূর্বপুরুষদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করি।


পিতৃপক্ষ ও তার তাৎপর্য

হিন্দু ধর্মশাস্ত্র অনুসারে, ভাদ্র মাসের পূর্ণিমা থেকে শুরু হয় পিতৃপক্ষ, যা চলে আশ্বিন মাসের অমাবস্যা পর্যন্ত। এই সময়কালে পূর্বপুরুষদের আত্মা পৃথিবীতে আসে বলে বিশ্বাস করা হয়। এই দিনগুলিতে মানুষ শ্রাদ্ধ, পিণ্ডদান, তর্পণ ইত্যাদি করে তাঁদের আত্মার শান্তি কামনা করেন।

মহালয়া হল পিতৃপক্ষের শেষ দিন। এই দিন তর্পণ করলে পূর্বপুরুষরা সন্তুষ্ট হন এবং আশীর্বাদ দেন বলে বিশ্বাস রয়েছে।


দেবীপক্ষের সূচনা

মহালয়ার আরেকটি দিক হলো দেবীপক্ষের সূচনা। শাস্ত্রমতে, এই দিন থেকেই দেবী দুর্গার মহিষাসুর বধযাত্রা শুরু হয়। দেবলোক থেকে তিনি তাঁর সন্তানদের নিয়ে মর্ত্যে আগমন করেন। মহালয়ার পর থেকে ষষ্ঠী পর্যন্ত পাঁচদিন ধরে দেবীর পৃথিবীতে আগমনের কাহিনি কল্পনায় বাঙালি হৃদয়ে প্রতিফলিত হয়।


মহালয়া ও মহিষাসুরমর্দিনী

মহালয়ার সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে আছে মহিষাসুরমর্দিনী নামের একটি রেডিও প্রোগ্রাম। ১৯৩১ সালে প্রথম আকাশবাণী কলকাতা থেকে সম্প্রচারিত হয় এই অনুষ্ঠান। স্ক্রিপ্ট লিখেছিলেন বাণী কুমার (বাণীশরণ চট্টোপাধ্যায়) এবং সঙ্গীত পরিচালনা করেছিলেন পঙ্কজকুমার মল্লিক।

সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ছিল বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কণ্ঠস্বর। তাঁর আবৃত্তি — “যা দেবী সর্বভূতেষু শক্তিরূপেণ সংস্থিতা…” — আজও কোটি বাঙালির কানে প্রতিধ্বনিত হয়। এই আবৃত্তি, গান এবং সংগীতের সমন্বয়ে মহালয়া এক অনন্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হিসেবে পরিচিত।


পিতৃতর্পণ ও আচার-পদ্ধতি

মহালয়ার ভোরে বহু মানুষ গঙ্গার ঘাটে যান পিতৃতর্পণের জন্য।
আচারগুলো সাধারণত এইভাবে পালিত হয়:

  1. ভোরবেলা স্নান করে পবিত্র হওয়া।
  2. গঙ্গা বা পবিত্র জলের তীরে দাঁড়িয়ে পিণ্ডদান ও জলতর্পণ করা।
  3. পিতৃদের নাম স্মরণ করে মন্ত্রোচ্চারণ।
  4. দরিদ্র ব্রাহ্মণদের খাদ্যদান ও দক্ষিণা প্রদান।

এই সমস্ত আচার মূলত আত্মার শান্তি ও পারিবারিক সুখশান্তির জন্য করা হয়।


মহালয়ার সাংস্কৃতিক গুরুত্ব

মহালয়া শুধু একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, এটি বাংলার সাংস্কৃতিক পরিচয়ের অংশ।

  • শিল্প ও সংগীত: মহিষাসুরমর্দিনীর সুর, সংগীত, আবৃত্তি আজও মানুষের হৃদয়ে এক বিশেষ আবেগ জাগিয়ে তোলে।
  • পুজোর প্রস্তুতি: মহালয়ার পর থেকেই শুরু হয় প্রতিমা গড়ার শেষ ধাপ — চোখ আঁকা বা চক্ষুদান। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ রীতি।
  • সামাজিক দিক: মহালয়া এমন এক সময় যখন পরিবার একত্রিত হয়, পূর্বপুরুষদের স্মরণ করে, এবং নতুন প্রজন্মকে সেই ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়।

মহালয়ার বৈজ্ঞানিক দিক

অনেক পণ্ডিত মহালয়ার সময়কে প্রকৃতির সঙ্গে যুক্ত করেন। আশ্বিন মাসে ঋতুচক্রে পরিবর্তন আসে, বর্ষা বিদায় নেয় এবং শরতের নির্মল আকাশে শিউলি ফুটতে শুরু করে। প্রকৃতি যেন নিজেই দুর্গাপুজোর জন্য প্রস্তুতি নেয়। এই সময় কৃষিকাজেরও এক নতুন সূচনা হয়।


মহালয়া: আধুনিক প্রেক্ষাপটে

আজকের দিনে মহালয়ার গুরুত্ব কিছুটা পাল্টেছে। আকাশবাণীর বদলে এখন টেলিভিশনে মহালয়ার স্পেশাল শো হয়, যেখানে নাচ, গান, অভিনয়ের মাধ্যমে দেবীর আগমনের কাহিনি দেখানো হয়। তবে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কণ্ঠের মহিষাসুরমর্দিনীর আবেদন আজও অপরিবর্তিত। বহু মানুষ আজও ভোরে উঠেই রেডিও বা মোবাইল অ্যাপে সেই অনুষ্ঠান শোনেন।


সমাজ ও প্রজন্মের জন্য শিক্ষণীয়

মহালয়া আমাদের শেখায় —

  • পূর্বপুরুষদের সম্মান করতে হবে।
  • পারিবারিক ঐতিহ্য ধরে রাখতে হবে।
  • ধর্মীয় উৎসবের মাধ্যমে সমাজে ঐক্য, আনন্দ এবং সাংস্কৃতিক চেতনা জাগিয়ে তুলতে হবে।

উপসংহার

মহালয়া শুধুমাত্র একটি দিন নয়, এটি এক আবেগ, এক সাংস্কৃতিক বন্ধন, এক আধ্যাত্মিক যাত্রা। এই দিন থেকে শুরু হয় বাঙালির সবচেয়ে বড় উৎসব — দুর্গাপুজোর কাউন্টডাউন। মহালয়ার সকাল যেন আকাশে বাজিয়ে দেয় নতুন আশার সুর, যেখানে ভক্তির সঙ্গে মিশে থাকে নস্টালজিয়া, পারিবারিক মিলন এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের আবহ।

 

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে পুজোর সেরা গন্তব্য।।

পশ্চিমবঙ্গের সমুদ্র দর্শনের নাম এলেই সবার আগে মনে পড়ে দীঘা-র কথা। কলকাতা থেকে মাত্র কয়েক ঘণ্টার দূরত্বে অবস্থিত এই সমুদ্রসৈকত শহর বছরের সবসময়ই জনপ্রিয়, তবে দুর্গাপুজোর ছুটিতে দীঘার আবহ থাকে একেবারে অন্যরকম।


🏖️ দীঘার সমুদ্রসৈকত – প্রকৃতির খোলা রূপ

দীঘার মূল আকর্ষণ হল তার দীর্ঘ সমুদ্রসৈকত।

  • ওল্ড দীঘা: এখানকার পাথরের বাঁধে বসে ঢেউয়ের শব্দ শোনা এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা।
  • নিউ দীঘা: এখানে রয়েছে প্রশস্ত বালুকাবেলা, যা হাঁটাহাঁটির জন্য আদর্শ। সন্ধ্যায় পুরো সৈকত ভরে ওঠে আলো, দোকান ও মানুষের ভিড়ে।

🪔 পুজোর ছুটিতে দীঘা – উৎসবের বাড়তি রঙ

পুজোর সময় দীঘায় পর্যটকের সংখ্যা বেড়ে যায়।

  • অনেক হোটেল ও রিসর্ট বিশেষ আলোকসজ্জা করে।
  • সৈকতে প্যান্ডেলও তৈরি হয়, যেখানে ঢাকের বাজনা, ধুনুচি নাচ হয়।
  • পর্যটক ও স্থানীয় মানুষ মিলে একসাথে পুজোর আনন্দ উপভোগ করে।

🚶 কাছাকাছি দর্শনীয় স্থান

পুজোর ছুটিতে শুধুই সমুদ্র নয়, দীঘার আশেপাশের কয়েকটি জায়গা ঘুরে দেখা যায় –

  • উদয়পুর সৈকত: নিরিবিলি পরিবেশ ও প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য আদর্শ।
  • শঙ্করপুর: এখানে রয়েছে মৎস্যবন্দর ও নির্জন সৈকত।
  • তাজপুর ও মন্দারমণি: যারা আরও কিছুটা দূরে যেতে চান তাদের জন্য এই সৈকতগুলো দারুণ পছন্দ।
  • আমরাবতী পার্ক: শিশুদের জন্য আকর্ষণীয় জায়গা।
  • সায়েন্স সেন্টার: বিজ্ঞানপ্রেমীদের জন্য ছোট কিন্তু ইন্টারেস্টিং প্রদর্শনী।

🍤 দীঘার খাবার

সমুদ্রতীরের শহরে এসে সি-ফুড না খেলে ভ্রমণ সম্পূর্ণ হয় না।

  • কাঁকড়া, প্রন, পোমফ্রেট – সবই তাজা ও সুস্বাদু।
  • রাস্তার ধারে ভাজা মাছ, পকোড়া ও আইসক্রিমও সমান জনপ্রিয়।

🛍️ কেনাকাটা

দীঘার সৈকতের পাশে ছোট দোকানগুলোতে পাওয়া যায় –

  • ঝিনুক ও শাঁখের তৈরি জিনিস
  • বাঁশ ও কাঠের হস্তশিল্প
  • শাড়ি, গামছা ও ছোট ছোট স্মারক

🚆 কিভাবে পৌঁছবেন

  • ট্রেন: হাওড়া থেকে সরাসরি দীঘার ট্রেন চলে।
  • রাস্তায়: কলকাতা থেকে প্রায় ৪-৫ ঘণ্টার ড্রাইভ (NH-116B)।
  • পুজোর সময় আগে থেকে হোটেল বুক করে রাখা জরুরি, কারণ ভিড় অনেক বেড়ে যায়।

❤️ উপসংহার

দীঘা শুধুই সমুদ্র দেখার জায়গা নয় – এটি এক আবেগ, এক স্মৃতি। দুর্গাপুজোর ছুটিতে এখানে বেড়াতে গেলে পরিবার, বন্ধু বা প্রিয়জনের সঙ্গে এক অমলিন সময় কাটানো যায়। ঢেউয়ের শব্দ, ঠান্ডা হাওয়া, বালুকাবেলার হাঁটাহাঁটি আর সুস্বাদু সি-ফুড – সব মিলিয়ে দীঘা হল পুজোর ছুটির জন্য একদম পারফেক্ট গন্তব্য।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

বিদেশ ভ্রমণ : প্রস্তুতি, অভিজ্ঞতা ও প্রেরণা।

✈️ ভূমিকা: কেন বিদেশ ভ্রমণ?

মানুষের মন স্বভাবতই অজানাকে জানতে চায়। নিজের দেশ ছাড়িয়ে পৃথিবীর অন্য প্রান্তে যাওয়া শুধু বিনোদনের জন্য নয়, বরং শেখার জন্য, নতুন সংস্কৃতি জানার জন্য, দৃষ্টিভঙ্গি প্রসারিত করার জন্য। বিদেশ ভ্রমণ আমাদের মনকে নতুন করে সাজায়, জীবনকে নতুনভাবে দেখতে শেখায়।


🧳 অধ্যায় ১: বিদেশ ভ্রমণের মানসিক প্রস্তুতি

বিদেশ যাওয়ার আগে প্রথমেই মানসিকভাবে নিজেকে প্রস্তুত করতে হয়।

  • ভাষার বাধা কাটানোর মানসিকতা
  • সংস্কৃতির পার্থক্যকে সম্মান করার অভ্যাস
  • নতুন মানুষের সাথে মিশতে শেখা
  • অচেনা জায়গায় খাপ খাওয়ানোর সাহস

অনেকেই প্রথমবার বিদেশ গেলে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। বিমানবন্দর, ইমিগ্রেশন, কাস্টমস—সবই নতুন অভিজ্ঞতা। মানসিক প্রস্তুতি নিলে ভ্রমণ অনেক সহজ হয়।


🛂 অধ্যায় ২: পাসপোর্ট ও ভিসা প্রক্রিয়া

বিদেশ ভ্রমণের প্রথম ধাপ হলো বৈধ পাসপোর্ট থাকা।

  • পাসপোর্ট: ভারতের পাসপোর্ট আবেদন এখন সহজ। অনলাইনে ফর্ম পূরণ, ডকুমেন্ট যাচাই, পুলিশ ভেরিফিকেশন এবং কিছুদিনের মধ্যে পাসপোর্ট হাতে পাওয়া যায়।
  • ভিসা: গন্তব্য দেশের উপর নির্ভর করে ভিসার ধরন আলাদা হয়।
    • পর্যটক ভিসা
    • স্টুডেন্ট ভিসা
    • ব্যবসায়িক ভিসা
    • অন-অ্যারাইভাল ভিসা (যেমন থাইল্যান্ড, মালদ্বীপ)
    • ভিসা-ফ্রি দেশ (যেমন নেপাল, ভুটান – ভারতীয়দের জন্য)

💰 অধ্যায় ৩: বাজেট ও আর্থিক পরিকল্পনা

বিদেশ ভ্রমণের খরচ প্রধানত তিন ভাগে ভাগ করা যায় –

  1. ফ্লাইট টিকিট – আগেভাগে বুকিং করলে খরচ কম হয়।
  2. আবাসন – হোটেল, হোস্টেল, এয়ারবিএনবি – বাজেট অনুসারে বেছে নেওয়া যায়।
  3. খাবার ও যাতায়াত – স্থানীয় স্ট্রিট ফুড, পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ব্যবহার করলে খরচ বাঁচে।

ট্রাভেল ইন্স্যুরেন্স করাও বুদ্ধিমানের কাজ। হঠাৎ অসুস্থতা বা লাগেজ হারালে এটি কাজে লাগে।


🗺️ অধ্যায় ৪: জনপ্রিয় গন্তব্য ও তাদের বিশেষত্ব

১. ইউরোপ

  • প্যারিস – আইফেল টাওয়ার, লুভর মিউজিয়াম
  • সুইজারল্যান্ড – পাহাড়, ট্রেন ভ্রমণ
  • ইতালি – রোমের কলোসিয়াম, ভেনিসের খাল

২. এশিয়া

  • সিঙ্গাপুর – আধুনিক শহর, সেন্তোসা
  • থাইল্যান্ড – সমুদ্র সৈকত, রাতের বাজার
  • জাপান – টোকিও, কিয়োটো, চেরি ব্লসম

৩. আমেরিকা

  • নিউইয়র্ক – টাইমস স্কোয়ার, স্ট্যাচু অফ লিবার্টি
  • ক্যালিফোর্নিয়া – ডিজনিল্যান্ড, সিলিকন ভ্যালি
  • লাতিন আমেরিকা – মাচু পিচু, ব্রাজিলের রিও

৪. আফ্রিকা

  • মিশর – পিরামিড, নীল নদের ক্রুজ
  • কেনিয়া – সাফারি, বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য

📱 অধ্যায় ৫: ভাষা ও যোগাযোগ

বিদেশে গেলে অনেক সময় ভাষার সমস্যায় পড়তে হয়।

  • গুগল ট্রান্সলেট, অফলাইন ডিকশনারি কাজে লাগে
  • কিছু সাধারণ বাক্য শিখে রাখা ভালো
  • শরীরী ভাষা অনেক সাহায্য করে

🍲 অধ্যায় ৬: বিদেশি খাবারের অভিজ্ঞতা

প্রতিটি দেশের খাবারের আলাদা বৈশিষ্ট্য রয়েছে।

  • ইতালিতে পাস্তা, পিৎজা
  • জাপানে সুশি
  • থাইল্যান্ডে টম ইয়াম স্যুপ
  • ফ্রান্সে ক্রোসঁ ও ওয়াইন

তবে নিজের দেশের খাবার মিস করলে ভারতীয় রেস্টুরেন্টও খুঁজে পাওয়া যায় প্রায় সব বড় শহরে।


🛡️ অধ্যায় ৭: নিরাপত্তা ও ভ্রমণ শিষ্টাচার

  • পাসপোর্ট ও গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্টের ফটোকপি রাখুন
  • স্থানীয় আইন-কানুন মেনে চলুন
  • রাতে নির্জন জায়গায় একা ঘুরবেন না
  • স্থানীয় সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকুন

📸 অধ্যায় ৮: স্মৃতি ধরে রাখা

বিদেশ ভ্রমণের সবচেয়ে বড় আনন্দ স্মৃতি ধরে রাখা।

  • ছবি ও ভিডিও তুলুন
  • ট্রাভেল ডায়েরি লিখুন
  • স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলুন
  • ছোটখাটো সুভেনির সংগ্রহ করুন

🌏 অধ্যায় ৯: ভ্রমণের প্রভাব ও শিক্ষা

বিদেশ ভ্রমণ আমাদের মনের পরিধি প্রসারিত করে।

  • সহনশীলতা বাড়ায়
  • নতুন বন্ধু তৈরি হয়
  • দৃষ্টিভঙ্গি বড় হয়
  • আত্মবিশ্বাস বাড়ে

🏠 অধ্যায় ১০: ফিরে এসে অভিজ্ঞতা শেয়ার

দেশে ফিরে পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে ভ্রমণের গল্প শেয়ার করুন। ছবি দেখান, নতুন সংস্কৃতি সম্পর্কে বলুন। অনেক সময় এই অভিজ্ঞতা অন্যদেরও ভ্রমণে উৎসাহিত করে।


✨ উপসংহার

বিদেশ ভ্রমণ কেবল বিলাসিতা নয়, এটি একধরনের শিক্ষা। পৃথিবীর নানান মানুষের জীবনযাত্রা, সংস্কৃতি, ইতিহাস দেখতে পারা জীবনের বড় সৌভাগ্য। ভ্রমণ শেষে মানুষ আরও বিনম্র, আরও কৃতজ্ঞ হয়ে ওঠে।


 

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

একটি মোবাইল যখন সম্পর্কের মাঝে দেওয়াল হয়ে দাঁড়ায়।

 

ভূমিকা

২১শ শতাব্দীকে আমরা ডিজিটাল যুগ বলি। মোবাইল ফোন এখন শুধু একটি যোগাযোগের মাধ্যম নয়; এটি আমাদের ব্যক্তিগত সহচর, আমাদের বিনোদনের উৎস, আমাদের অফিস, এমনকি অনেক ক্ষেত্রে আমাদের পরিচয়ের অংশ। কিন্তু যে যন্ত্র মানুষকে কাছাকাছি আনার জন্য তৈরি হয়েছিল, সেটাই কি আজ মানুষের মধ্যে অদৃশ্য দেওয়াল তৈরি করছে? দাম্পত্য সম্পর্ক, প্রেমের সম্পর্ক, পিতা-মাতা ও সন্তান সম্পর্ক—সব ক্ষেত্রেই মোবাইল কখনও কখনও এক নীরব তৃতীয় পক্ষ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।


মোবাইল ফোনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব

  • পরিসংখ্যান: ২০২৪ সালের একটি আন্তর্জাতিক জরিপ অনুসারে, একজন গড় মানুষ প্রতিদিন গড়ে ৩-৫ ঘণ্টা স্মার্টফোন ব্যবহার করে। কিশোর-কিশোরীদের ক্ষেত্রে এটি ৭ ঘণ্টা ছাড়িয়ে যায়।
  • সামাজিক বাস্তবতা: আগে পরিবারের সবাই একসাথে গল্প করত, খেলাধুলা করত, সিনেমা দেখত। এখন প্রত্যেকে নিজের স্ক্রিনে ডুবে থাকে।
  • যোগাযোগের নতুন রূপ: মোবাইল ফোনে WhatsApp, Messenger, Instagram, ইত্যাদি থাকায় যোগাযোগ অনেক বেড়েছে, কিন্তু ব্যক্তিগত সংলাপ (face-to-face communication) কমেছে।

সম্পর্কের মাঝে দেওয়াল: সমস্যার মূল

১. অতিরিক্ত ব্যবহার (Overuse)

যখন একজন সঙ্গী সারাক্ষণ মোবাইলে ব্যস্ত থাকে—গেম খেলে, সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রল করে, ভিডিও দেখে—অন্যজন নিজেকে উপেক্ষিত মনে করে।

২. মোবাইল আসক্তি (Nomophobia)

গবেষণা বলছে, যারা মোবাইল ছাড়া থাকতে পারে না, তাদের মধ্যে মানসিক চাপ, উদ্বেগ এবং সম্পর্কের জটিলতা বেড়ে যায়।

৩. বিশ্বাসের সংকট

মোবাইলে ব্যক্তিগত চ্যাট, কল লিস্ট, সোশ্যাল মিডিয়া ফ্রেন্ড লিস্ট নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়। অনেক সময় ভুল বোঝাবুঝি সম্পর্ক ভেঙে দেয়।

৪. প্রেমের উষ্ণতা হারিয়ে যাওয়া

দাম্পত্য সম্পর্কে শারীরিক ও মানসিক ঘনিষ্ঠতা কমে যায়। একে বলে “ফোন ফ্যাটিগ”—যেখানে সঙ্গীরা একসাথে থাকলেও মানসিকভাবে দূরে থাকে।


মনোবিজ্ঞানের বিশ্লেষণ

  • ডোপামিন এফেক্ট: সোশ্যাল মিডিয়ার লাইক, কমেন্ট আমাদের মস্তিষ্কে ডোপামিন ক্ষরণ বাড়ায়, যা এক ধরনের আসক্তি তৈরি করে। ফলে সঙ্গীর সঙ্গে কথা বলার চেয়ে ফোন দেখা বেশি আকর্ষণীয় লাগে।
  • অ্যাটাচমেন্ট থিওরি: সম্পর্কের নিরাপত্তা বোধ নষ্ট হলে মানুষ সঙ্গীর বদলে ফোনে আশ্রয় খোঁজে।
  • ফোমো (FOMO): ফোন না দেখলে কিছু মিস হয়ে যাবে—এই ভয় মানুষকে সারাক্ষণ ফোনের দিকে টেনে নেয়।

বাস্তব উদাহরণ

উদাহরণ ১:

সুদীপ ও মেঘলা বিবাহিত দম্পতি। অফিস থেকে ফিরে দুজনেই ক্লান্ত। একসময় তারা একসাথে গল্প করত, হাঁটতে যেত। এখন দুজনেই সোফায় বসে ফোনে ডুবে থাকে। ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে কথা বলা কমে যায়, ভুল বোঝাবুঝি বাড়ে।

উদাহরণ ২:

একটি পরিবারে খাওয়ার টেবিলে প্রত্যেকে ফোন ব্যবহার করছে। বাবা সংবাদ পড়ছে, মা অনলাইন শপিং করছে, ছেলে গেম খেলছে। ফলে পরিবারে একসাথে সময় কাটানোর ঐতিহ্য হারিয়ে যাচ্ছে।


সমাজে প্রভাব

  • বিবাহবিচ্ছেদের সংখ্যা বৃদ্ধি: বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে যে অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহার এবং সোশ্যাল মিডিয়ার কারণে বিবাহবিচ্ছেদ ও বিচ্ছেদের মামলা বেড়েছে।
  • শিশুদের উপর প্রভাব: যখন পিতা-মাতা ফোনে বেশি সময় দেয়, শিশুরা অবহেলিত বোধ করে। তাদের আবেগিক বিকাশে প্রভাব পড়ে।
  • বন্ধুত্ব ও সামাজিক সম্পর্ক ক্ষীণ হওয়া: অফলাইন সামাজিক মেলামেশা কমে যাচ্ছে।

সম্ভাব্য সমাধান

১. ডিজিটাল ডিটক্স: প্রতিদিন অন্তত ১-২ ঘণ্টা মোবাইল ছাড়া সময় কাটানো।
২. ফোন-মুক্ত সময়: খাওয়ার সময়, শোবার সময়, বা পরিবার একসাথে থাকলে ফোন দূরে রাখা।
৩. ওপেন কমিউনিকেশন: সঙ্গীর সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করা যে অতিরিক্ত ফোন ব্যবহার তাকে কষ্ট দিচ্ছে।
৪. রিয়েল-টাইম এক্টিভিটি: একসাথে হাঁটা, রান্না করা, ভ্রমণ করা—যাতে একে অপরের সান্নিধ্যে সময় কাটানো যায়।
৫. মাইন্ডফুলনেস: সচেতনভাবে ফোন ব্যবহার করা এবং সময়সীমা নির্ধারণ করা।


প্রযুক্তি বনাম মানবিক সম্পর্ক

প্রযুক্তি খারাপ নয়—এটি আমাদের জীবনের অংশ। কিন্তু প্রযুক্তিকে যদি আমরা নিয়ন্ত্রণ না করি, তাহলে এটি আমাদের নিয়ন্ত্রণ করে নেয়। মোবাইল ফোনকে এমনভাবে ব্যবহার করতে হবে যাতে এটি সম্পর্কের উন্নয়ন ঘটায়, বিনাশ নয়।


উপসংহার

মোবাইল ফোন আমাদের জীবনকে সহজ করেছে, কিন্তু সম্পর্ককে জটিলও করেছে। এই অদৃশ্য দেওয়াল ভাঙার দায়িত্ব আমাদেরই। আমাদেরই ঠিক করতে হবে, আমরা কি চাই—ডিজিটাল জগতে হারিয়ে যাওয়া, নাকি বাস্তব জীবনের ভালোবাসা ও সম্পর্ককে ফিরিয়ে আনা।

প্রযুক্তি ব্যবহার হবে আমাদের নিয়ন্ত্রণে, সম্পর্কের ক্ষতি না করে বরং সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করার জন্য।


এই প্রবন্ধটি সমাজবিজ্ঞান, মনোবিজ্ঞান ও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার আলোকে এক বাস্তব সমস্যার বিশ্লেষণ।

 

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

তুংনাথের পথে – এক অবিস্মরণীয় যাত্রা।

১. যাত্রার শুরু

সকালবেলায় কলকাতার হাওড়া স্টেশন।
প্ল্যাটফর্ম ভরতি মানুষের কোলাহল, গরম চা আর খবরের কাগজের গন্ধ—যেন এক বিশেষ ভ্রমণের ডাক।
আমরা চারজন বন্ধু—আমি, অর্ক, স্নিগ্ধা আর রোহন—নিশ্চিন্ত মনে দাঁড়িয়ে আছি।
আজ থেকে শুরু হচ্ছে আমাদের বহু প্রতীক্ষিত উত্তরাখণ্ড ভ্রমণ।

গন্তব্য—তুংনাথ
বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু শিবমন্দির। পাহাড়ের কোলে বসে থাকা এক দেবালয়, যার পথও এক আশ্চর্য অভিজ্ঞতা।


২. প্রথম গন্তব্য – হরিদ্বার ও ঋষিকেশ

ট্রেনে রাত কাটিয়ে সকালে পৌঁছলাম হরিদ্বারে।
সকালবেলার গঙ্গার ঘাট যেন স্বর্গীয় দৃশ্য—হালকা কুয়াশা, ঘণ্টাধ্বনি, ধূপের গন্ধ।
আমরা সকলে মিলে গঙ্গাজলে হাত ডুবিয়ে প্রণাম করলাম। মনে হল, ভ্রমণের শুরুতেই আশীর্বাদ পেয়ে গেলাম।

তারপর ছোট্ট বাসযাত্রা করে পৌঁছলাম ঋষিকেশ।
লক্ষ্মণ ঝুলা পার হওয়ার সময় গঙ্গার গর্জন কানে আসছিল।
স্নিগ্ধা ছবি তুলতে ব্যস্ত, অর্ক বলল—
— “দেখো না, আমরা যেন অন্য দুনিয়ায় এসে পড়েছি!”

ঋষিকেশের নিরিবিলি ক্যাফেতে বসে গরম কফি খেলাম। পাহাড়ি বাতাসে ক্লান্তি উড়ে গেল।


৩. চন্দ্রশিলা ট্রেকের সূচনা

পরদিন সকালে আমরা গাড়িতে করে পৌঁছলাম চোপতা।
এখান থেকেই শুরু হবে তুংনাথ ট্রেক।
চোপতার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখলে মনে হয়, প্রকৃতি এখানে নিজের হাতে ছবি এঁকেছে—
সবুজ তৃণভূমি, বরফে ঢাকা দূরের শৃঙ্গ, আর পাখিদের গান।

ট্রেক শুরু করতেই প্রথমেই বোঝা গেল—এটা সহজ হবে না।
রাস্তা ঢালু, শ্বাস নিতে কষ্ট, কিন্তু দৃশ্য এত সুন্দর যে কষ্ট ভুলে যাচ্ছিলাম।
পথে দেখা পেলাম পাহাড়ি গ্রামের ছোট্ট বাচ্চাদের। তাদের হাসি যেন পাহাড়ের ঝর্ণার মতো স্বচ্ছ।


৪. তুংনাথ মন্দিরে পৌঁছানো

প্রায় তিন ঘণ্টার চড়াই পেরিয়ে অবশেষে আমরা পৌঁছলাম তুংনাথ মন্দিরে।
এখানে দাঁড়িয়ে মনে হল—মেঘের ওপরে দাঁড়িয়ে আছি।
নীচে সবুজ উপত্যকা, উপরে নীল আকাশ আর চারপাশে বরফে ঢাকা শৃঙ্গ।

মন্দির ছোট্ট, কিন্তু শান্তির অনুভূতি অসীম।
মন্দিরের ঘণ্টাধ্বনি, ঠান্ডা হাওয়া, আর পাহাড়ের নীরবতা—সব মিলে মনে হল যেন শিব স্বয়ং এখানে বিরাজমান।

আমরা চারজনই মন্দিরের সিঁড়িতে বসে চা খেলাম।
ক্লান্ত শরীরের মধ্যে এক অদ্ভুত শক্তি ফিরে এল।
এমন মুহূর্তে মনে হয়—এই কষ্টটাই তো আসল আনন্দের মূল্য।


৫. চন্দ্রশিলার শীর্ষে

মন্দির থেকে আরও এক ঘণ্টার ট্রেক করে আমরা পৌঁছলাম চন্দ্রশিলার শীর্ষে।
সেখান থেকে ৩৬০ ডিগ্রি ভিউ—নন্দাদেবী, ত্রিশূল, চৌখাম্বা, কেদারনাথের শৃঙ্গ—সব একসঙ্গে দেখা যায়।

রোহন চুপ করে দাঁড়িয়ে ছিল। আমি জিজ্ঞাসা করলাম—
— “কি ভাবছিস?”
সে হেসে বলল—
— “মনে হচ্ছে জীবনের সবচেয়ে সুন্দর দিন আজ।”

আমি মনে মনে ভাবলাম, এ সত্যিই এমন এক জায়গা যেখানে মানুষ নিজেকে নতুন করে খুঁজে পায়।


৬. ফেরার পথে অনুভূতি

নামার সময় সূর্যাস্ত হচ্ছিল।
আকাশে কমলা-গোলাপি রঙের মেলা বসেছে।
মনে হচ্ছিল পাহাড় আমাদের বিদায় জানাচ্ছে।

চোপতায় ফিরে আমরা আগুন জ্বালিয়ে বসে গান গাইলাম, গল্প করলাম।
সেই রাতের তারা ভরা আকাশ আজও আমার মনে সবচেয়ে সুন্দর স্মৃতি হয়ে আছে।


গল্পের সারমর্ম

তুংনাথ ভ্রমণ আমাদের শিখিয়েছে—
জীবনের সৌন্দর্য খুঁজে পাওয়া যায় তখনই, যখন কষ্টকে জয় করে এগিয়ে যেতে পারো।
পাহাড়ের প্রতিটি বাঁকে, প্রতিটি নিঃশ্বাসে ছিল নতুন এক অনুভূতি।

এই ভ্রমণ কেবল একটি ট্রেক ছিল না—এটা ছিল এক আত্মঅন্বেষণ।
আজও যখন চোখ বন্ধ করি, মনে হয় আমি সেই তুংনাথের সিঁড়িতে বসে আছি, আর দূরে নীল আকাশে ভেসে যাচ্ছে মেঘের দল।

 

Share This
Categories
রিভিউ

আজ ২৬ আগস্ট, ইতিহাসের আজকের এই দিনে যা ঘটেছিল।।।

আজ ২৬ আগস্ট। ইতিহাস ঘেটে দেখা যায় বছরের প্রতিটি দিনে ঘটেছে অনেক উল্লেখযোগ্য ঘটনা। আসুন আজকের দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য কিছু বিষয় একনজরে দেখে নিই।  ইতিহাসের আজকের এই দিনে কী কী ঘটেছিল, কে কে জন্ম নিয়েছিলেন ও মৃত্যুবরণ করেছিলেন——-
দিবস—–
(ক) ফুলবাড়ী দিবস।
(খ) নারী সমতা দিবস।
আজ যাদের জন্মদিন—-
১৯১০ – মাদার তেরেসা, (শান্তিতে নোবেল বিজয়ী ভারতীয় ক্যাথলিক সন্ন্যাসিনী ও ধর্মপ্রচারক দা মিশনারিজ অব চ্যারিটির প্রতিষ্ঠাত্রী।)।
১৯২০- ভানু বন্দ্যোপাধ্যায় (পশ্চিমবঙ্গের বাংলা চলচ্চিত্রের অত্যন্ত জনপ্রিয় অভিনেতা)।
১৯৫১ – এডওয়ার্ড উইটেন, (ফিল্ড্‌স পদক বিজয়ী মার্কিন তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানী)।
১৯৮৮ – লার্স স্টিন্ডল, (জার্মান ফুটবল খেলোয়াড়)।
১৯৯০ – মাতেও মুসাচিও, আর্জেন্টিনার ফুটবলার।
১৯৯১ -(ক) ডিলান ও’ব্রায়েন, (আমেরিকান অভিনেতা)।
(খ) – আহমেদ দীপ্ত- সাংবাদিক, (লেখক)।
১৮৬৯ – দীনেন্দ্রকুমার রায়, (রহস্য কাহিনীকার ও সম্পাদক)।
১৮৭৩ – (মার্কিন বেতার ও টিভি উদ্ভাবক) ডি ফরেস্ট।
১৮৮০ – (ফরাসি কবি) গিইয়াম আপোলিন্যায়ার।
১৮৮৫ – (বিখ্যাত ফরাসী লেখক) জুলিয়াস রোমেইন্স।
ইতিহাসের পাতায় আজকের দিনের ঘটনাবলী—-
২০০৫ – বুরুন্ডির এনকুরুন জিজার প্রেসিডেন্ট হিসাবে শপথ গ্রহণ করেন।
২০০৬ – দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে এশিয়া এনার্জি নামের একটি কোম্পানির কয়লা প্রকল্পের বিরুদ্ধে স্থানীয় মানুষের বিশাল সমাবেশে সেই সময়ের বিডিআর গুলি চালালে তিনজন নিহত হন। আহত হন দুই শতাধিক আন্দোলনকারী।
১৯১৪ – জার্মান উপনিবেশ টোগোল্যান্ড দখল করে ফ্রান্স ও ব্রিটেন।
১৯২০ – মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নারীদের ভোটাধিকার স্বীকৃত হয়।
১৯২৭ – ইন্ডিয়ান ব্রডকাস্টিং কোম্পানি কলকাতায় প্রথম বেতার সম্প্রচার শুরু করে।
১৯৪৩ – আজাদ হিন্দ ফৌজ আনুষ্ঠানিকভাবে গঠিত হয়।
১৯৫৫ – সত্যজিৎ রায়ের চলচ্চিত্র ‘ পথের পাঁচালীর’ মুক্তি লাভ করে।
১৯৭০ – সুদান সরকার সংবাদ পত্র শিল্পকে জাতীয়করণ করে।
১৮৮৩ – ইন্দোনেশিয়ায় ক্রাকাতোয়া আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাতে ৩৬ হাজার লোকের মৃত্যু হয়।
১৭৬৮ – ক্যাপ্টেন জেমস কুক জাহাজ এইচএমএস এনডিভার নিয়ে ইংল্যান্ড থেকে যাত্রা শুরু করেন।
১৭৮৯ – ফরাসি বিপ্লব বিজয়ের পর দেশটির সংসদ মানবাধিকারের ঘোষণাকে অনুমোদন করে।
১৩০৩ – আলাউদ্দিন খিলজি রাজস্থানের চিতোরগড় দখলে নেন।
এই দিনে মৃত্যুবরণ করেন যারা—-
২০০৩ – বিমল কর,(ভারতীয় বাঙালি লেখক ও ঔপন্যাসিক)।
২০০৬ – সুবোধ রায় (স্বাধীনতা সংগ্রামী, কমিউনিস্ট নেতা ও কমিউনিস্ট আন্দোলনের বিশিষ্ট গবেষক)।
২০২১ – গৌরী ঘোষ, (প্রখ্যাত বাঙালি বাচিক শিল্পী)।
১৯১০ – উইলিয়াম জেম্‌স, (মার্কিন অগ্রজ মনোবিজ্ঞানী ও দার্শনিক)।
১৯৩৪ – অতুলপ্রসাদ সেন, (বাঙালি কবি, গীতিকার এবং গায়ক) ।
১৯৬১ – চারুচন্দ্র ভট্টাচার্য, (প্রখ্যাত অধ্যাপক ও লেখক )।
১৯৮২ – সুশোভন সরকার (প্রখ্যাত বাঙালি ঐতিহাসিক )।
১৯৮৮ – (প্রগতিবাদী নাট্যকার ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব) মন্মথ রায়।
১৭২৩ – (অণুবীক্ষণ যন্ত্রের উদ্ভাবক ওলন্দাজ বিজ্ঞানী) আন্তেনি ভান লিউভেনহুক।
।।তথ্য : সংগৃহীত ইন্টারনেট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

আজ ২৪ আগস্ট, ইতিহাসের আজকের এই দিনে যা ঘটেছিল।।।।

আজ ২৪ আগস্ট। ইতিহাস ঘেটে দেখা যায় বছরের প্রতিটি দিনে ঘটেছে অনেক উল্লেখযোগ্য ঘটনা। আসুন আজকের দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য কিছু বিষয় একনজরে দেখে নিই।  ইতিহাসের আজকের এই দিনে কী কী ঘটেছিল, কে কে জন্ম নিয়েছিলেন ও মৃত্যুবরণ করেছিলেন——-
আজ যাদের জন্মদিন—-
১৯০৮ – শিবরাম রাজগুরু, (ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের বিপ্লবী)।
১৯১১ – বীণা দাস (ভারতীয় উপমহাদেশের ব্রিটিশ বিরোধী বিপ্লবী ও অগ্নিকন্যা)।
১৯২৮ – টমি ডোচার্টি, ( স্কটিশ ফুটবলার ও ফুটবল ম্যানেজার)।
১৯২৯ – ইয়াসির আরাফাত, (ফিলিস্তিনী নেতা ও নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী)।  .
১৯৪৭ – অ্যান আর্চার, (মার্কিন অভিনেত্রী)।
১৯৫৯ – আদ্রিয়ান কুইপার, (দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটার)।
১৯৬৫ – মার্লি ম্যাটলিন, (মার্কিন অভিনেত্রী, লেখিকা ও সমাজকর্মী)।
১৯৯১ – পুনম যাদব,( ভারতীয় প্রমীলা ক্রিকেটার)।
১৮০৮ – জয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় (বাঙালি সমাজসেবী ও শিক্ষাবিদ)।
১৮৫১ – টম কেন্ডল, (অস্টেলীয় ক্রিকেটার)।
১৮৯৩ – কৃষ্ণচন্দ্র দে (বাংলাসঙ্গীতের আদি ও প্রবাদ পুরুষ, কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী)।
১৮৯৮ – অ্যালবার্ট ক্লুঁদে (নোবেলবিজয়ী বেলজিয়ান-আমেরিকান চিকিৎসক ও কোষ জীববিজ্ঞানী)।
১৮৯৯ – হোর্হে লুইস বোর্হেস, (আর্জেন্টিনীয় সাহিত্যিক)।
ইতিহাসের পাতায় আজকের দিনের ঘটনাবলী—-
১৯০২ – জোয়ান অব আর্কের মূর্তি উন্মোচন করা হয় সেইন্ট পিয়েরে-লে-তে।
১৯১৩ – ফ্রান্স ও সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে এই দিনে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় পরস্পরকে আক্রমণ না করার।
১৯১৪ – প্রথম বিশ্বযুদ্ধে জার্মান বাহিনী নামুর দখল করে।
১৯২৯ – বায়তুল মোকাদ্দাসে নুদবা প্রাচীর আন্দোলন শুরু হয়।
১৯৪৪ – জার্মান থেকে প্যারিস মুক্ত।
১৯৪৯ – উত্তর আটলান্টিক চুক্তি সংস্থা (ন্যাটো) গঠিত হয়।
১৯৬৬ – ভারতীয় সাঁতারু মিহির সেন জিব্রাল্টার প্রণালী অতিক্রম করেন।
১৯৭২ – বাংলাদেশকে স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয় পানামা ও উরুগুয়ে।
১৯৭৪ – ফখরুদ্দিন আলী আহমেদ ভারতের পঞ্চম রাষ্ট্রপতি হন।
১৯৮৮- সাংবাদিক, সাহিত্যিক আবু জাফর শামসুদ্দীন মৃত্যুবরণ করেন।
১৯৮৯ – ৪৫ বছরের কমিউনিস্ট শাসনের পর পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী হলেন তাদেউজ মাজোউইকি।
১৯৯১ – তুর্ক মেনিয়ার সার্বভৌমত্ব ঘোষণা।
১৯৯১ – পূর্ব ইউরোপের দেশ ইউক্রেন সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে আলাদা হয়ে স্বাধীনতা লাভ করে।
১৮১৪ – ব্রিটিশ সেনাদল ওয়াশিংটন ডিসি অধিকার করে এবং হোয়াইট হাউস জ্বালিয়ে দেয়।
১৮১৫ – নেদারল্যান্ডসের আধুনিক সংবিধান এই দিনে গৃহীত হয়।
১৮২১ – মেক্সিকো স্পেনের উপনিবেশ থেকে মুক্ত হয়ে স্বাধীনতা লাভ করে ।
১৮৭৫ – ক্যাপ্টেন ম্যাথুওয়েব প্রথম ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দেন সাঁতার কেটে।
১৬০৮ – প্রথম সরকারিভাবে ইংলিশ প্রতিনিধি ভারতের সুরাতে আসেন।
১৬৯০ – ইংরেজ ব্যবসায়ী জব চার্নক সদলে সুতানুটিতে ইংল্যান্ডের জাতীয় পতাকা ওড়ান। দিনটিকে কলকাতা নগরীর পত্তন দিবস হিসেবে ধরা হয়।
এই দিনে মৃত্যুবরণ করেন যারা—-
২০০৪ – আইভি রহমান, (বাংলাদেশী রাজনীতিবিদ ও সমাজকর্মী)।
২০১৩ – নিউটন ডি সর্দি, (ব্রাজিলীয় ফুটবলার।)
২০১৪ – রিচার্ড অ্যাটনবারা (ইংরেজ চলচ্চিত্র অভিনেতা, পরিচালক, প্রযোজক)।
১৯২৭ -( মিশরের জাতীয় নেতা) সাদ জগলুল পাশা।
১৯৫০ – আর্তুরো আলেস্‌সান্দ্রি, (চিলির রাষ্ট্রপতি)।
১৯৫৪ – (ব্রাজিলিয়ান স্বৈরশাসক) গেতুলিও বার্গাস।
১৯৫৬ – কেনজি মিজোগুচি, (জাপানি চলচ্চিত্র পরিচালক ও চিত্রনাট্যকার)।
১৯৬৮ – সিরিল ভিনসেন্ট, (দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটার)।
১৯৮৮ – লিওনার্ড ফ্রে, (মার্কিন অভিনেতা)।
১৮৯৪ – (প্রথম বাঙালী স্থপতি) নীলমণি মিত্র।
।।তথ্য : সংগৃহীত ইন্টারনেট।।

Share This