Categories
প্রবন্ধ

স্মরণে – কিংবদন্তী কণ্ঠসঙ্গীত শিল্পী,সুরকার,সঙ্গীত পরিচালক এবং প্রযোজক হেমন্ত মুখোপাধ্যায়।।।।

সঙ্গীতের আকাশে হেমন্ত মুখোপাধ্যায় এক কিংবদন্তীর নাম। আজও তিনি মানুষের হৃদয়ে বিরাজমান। হেমন্ত মুখোপাধ্যায় (১৬ জুন ১৯২০ – ২৬ সেপ্টেম্বর ১৯৮৯), পেশাগতভাবে হেমন্ত কুমার এবং হেমন্ত মুখার্জি নামে পরিচিত, ছিলেন একজন কিংবদন্তি ভারতীয় সঙ্গীত পরিচালক এবং প্লেব্যাক গায়ক যিনি প্রাথমিকভাবে বাংলা এবং হিন্দি, ও র-এর মতো অন্যান্য ভাষায় গাইতেন।

, আসামীয়া, তামিল, পাঞ্জাবি, ভোজপুরি, কোঙ্কানি, সংস্কৃত এবং উর্দু। তিনি বাংলা ও হিন্দি চলচ্চিত্র সঙ্গীত, রবীন্দ্র সঙ্গীত এবং অন্যান্য অনেক ঘরানার একজন শিল্পী ছিলেন। তিনি সেরা পুরুষ প্লেব্যাক গায়কের জন্য দুটি জাতীয় পুরস্কারের প্রাপক ছিলেন এবং “ঈশ্বরের কণ্ঠস্বর” নামে জনপ্রিয় ছিলেন।
হেমন্তের তিন ভাই ও এক বোন নীলিমা ছিল। তার ছোট ভাই তারাজ্যোতি ছিলেন একজন বাঙালি ছোটগল্পকার। তার কনিষ্ঠ ভাই অমল সঙ্গীত রচনা করার পাশাপাশি কিছু বাংলা সিনেমার জন্য গান গেয়েছেন, বিশেষ করে আবাক পৃথিবী ও হাসপাতালের জন্য। অমল ১৯৬০ এর দশকে হেমন্তের সাথে সঙ্গীত পরিচালক হিসাবে কয়েকটি গান রেকর্ড করেছিলেন, সবচেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে জীবনর অনেকটা পথ একলাই গানটি। ১৯৪৫ সালে, হেমন্ত বাংলার গায়িকা বেলা মুখার্জিকে বিয়ে করেন। যদিও তিনি কাশীনাথ চলচ্চিত্রে কিছু জনপ্রিয় গান গেয়েছিলেন, তবে বিয়ের পর তিনি সক্রিয়ভাবে তার সঙ্গীতজীবনে এগিয়ে যাননি। তাদের দুটি সন্তান ছিল, একটি ছেলে জয়ন্ত এবং একটি মেয়ে রানু। রানু ১৯৬০-এর দশকের শেষের দিকে এবং ১৯৭০-এর দশকের শুরুতে কিছুটা সীমিত সাফল্যের সাথে একটি সঙ্গীত কর্মজীবনও অনুসরণ করেছিলেন। জয়ন্ত একজন বাংলা চলচ্চিত্র অভিনেত্রী মৌসুমী চ্যাটার্জিকে বিয়ে করেছেন।
হেমন্ত বারাণসীতে তার মাতামহের বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেছিলেন যিনি একজন চিকিৎসক ছিলেন। তার পৈতৃক পরিবার জয়নগর মজিলপুর শহর থেকে উদ্ভূত হয়েছিল এবং ১৯০০-এর দশকের গোড়ার দিকে কোলকাতায় চলে আসে। হেমন্ত বড় হন এবং নাসিরুদ্দিন স্কুলে এবং পরে ভবানীপুর এলাকার মিত্র ইনস্টিটিউশন স্কুলে পড়াশোনা করেন, যেখানে তিনি তার দীর্ঘদিনের বন্ধু সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের সাথে দেখা করেন যিনি পরে একজন বাঙালি কবি হয়েছিলেন। পড়াশোনার সময় প্রখ্যাত লেখক সন্তোষ কুমার ঘোষের সঙ্গেও তার বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে।
হেমন্ত ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপ্লোমা করার জন্য যাদবপুরে (বর্তমানে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়) বেঙ্গল টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটে যোগ দেন। যাইহোক, তিনি তার বাবার আপত্তি সত্ত্বেও স্বাস্থ্যগত সমস্যার কারণে এবং সঙ্গীতে ক্যারিয়ার গড়ার জন্য শিক্ষা ত্যাগ করেন। তিনি সাহিত্য নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন এবং একটি বাংলা ম্যাগাজিন দেশ-এ একটি ছোট গল্প প্রকাশ করেন, তবে ১৯৩০-এর দশকের শেষের দিকে তিনি সঙ্গীতের দিকে মনোনিবেশ করেন।
১৯৫০-এর দশকের মাঝামাঝি, হেমন্ত একজন বিশিষ্ট গায়ক এবং সুরকার হিসেবে তার অবস্থানকে সুসংহত করেছিলেন। বাংলায়, তিনি ছিলেন রবীন্দ্রসঙ্গীতের অন্যতম প্রধান প্রবক্তা এবং সম্ভবত সবচেয়ে বেশি চাওয়া-পাওয়া পুরুষ গায়ক। ১৯৮০ সালের মার্চ মাসে কলকাতায় কিংবদন্তি রবীন্দ্রসংগীত বিবৃতি দেবব্রত বিশ্বাসকে সম্মান জানাতে হেমন্ত মুখার্জি আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে, দেবব্রত বিশ্বাস নিঃসংকোচে হেমন্তকে “দ্বিতীয় নায়ক” হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন, রবীন্দ্রসঙ্গীতকে জনপ্রিয় করে তোলার জন্য তিনি হেমন্তকে প্রথম লেগ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। পঙ্কজ কুমার মল্লিক। মুম্বাইতে, প্লেব্যাক গানের পাশাপাশি, হেমন্ত সুরকার হিসেবে একটি বিশেষ স্থান তৈরি করেছিলেন। তিনি নাগিন (১৯৫৪) নামে একটি হিন্দি চলচ্চিত্রের জন্য সঙ্গীত রচনা করেছিলেন যা মূলত এর সঙ্গীতের কারণে একটি বড় সাফল্য লাভ করে। নাগিন-এর গান দুই বছর ধরে একটানা চার্ট-টপার হিসেবে রয়ে গেছে এবং ১৯৫৫ সালে হেমন্ত মর্যাদাপূর্ণ ফিল্মফেয়ার সেরা সঙ্গীত পরিচালকের পুরস্কার লাভ করে। একই বছর, তিনি একটি বাংলা সিনেমা শাপ মোচন এর জন্য সঙ্গীত করেছেন যাতে তিনি বাংলার জন্য চারটি গান গেয়েছিলেন। অভিনেতা উত্তম কুমার। এটি একটি প্লেব্যাক গায়ক-অভিনেতা জুটি হিসাবে হেমন্ত এবং উত্তমের মধ্যে দীর্ঘ অংশীদারিত্ব শুরু করে। পরবর্তী দশকে বাংলা চলচ্চিত্রের সবচেয়ে জনপ্রিয় গায়ক-অভিনেতা জুটি ছিলেন তারা।
১৯৫০ এর দশকের শেষভাগে, হেমন্ত সঙ্গীত রচনা করেন এবং বেশ কয়েকটি বাংলা এবং হিন্দি চলচ্চিত্রের জন্য গান করেন, বেশ কয়েকটি রবীন্দ্র সঙ্গীত এবং বাংলা অ-চলচ্চিত্র গান রেকর্ড করেন। এগুলোর প্রায় সবগুলোই বিশেষ করে তার বাংলা গানগুলো খুবই জনপ্রিয় হয়েছিল। এই সময়টিকে তার ক্যারিয়ারের শীর্ষস্থান হিসাবে দেখা যেতে পারে এবং প্রায় এক দশক ধরে চলেছিল। সলিল চৌধুরী এবং লতা মঙ্গেশকর হেমন্তকে ঈশ্বরের কণ্ঠস্বর বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি নচিকেতা ঘোষ, রবিন চ্যাটার্জি এবং সলিল চৌধুরীর মতো বাংলার প্রধান সঙ্গীত পরিচালকদের দ্বারা সুর করা গান গেয়েছেন। এই সময়ের মধ্যে হেমন্ত নিজেই যে কয়েকটি উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের জন্য সঙ্গীত রচনা করেছিলেন তার মধ্যে রয়েছে হারানো সুর, মরুতীর্থ হিংলাজ, নীল আকাশের নিচে, লুকোচুরি, স্বরলিপি, দীপ জুয়েলে জাই, শেশ পারজান্তা, কুহক, দুই ভাই, এবং বাংলা, তি ও এবং সপ্তপদীতে। হিন্দিতে রাস্তা।
পুরস্কার—-
১৯৭০:পদ্মশ্রী(অস্বীকৃতি)
১৯৮৭:পদ্মভূষণ(অস্বীকৃতি)
১৯৫৬: ফিল্মফেয়ার বেস্ট মিউজিক ডাইরেক্টর অ্যাওয়ার্ড: নাগিন
১৯৭১: ন্যাশনাল ফিল্ম অ্যাওয়ার্ড ফর বেস্ট মেল প্লেব্যাক সিঙ্গার: নিমন্ত্রণ
১৯৮৬: ন্যাশনাল ফিল্ম অ্যাওয়ার্ড ফর বেস্ট মেল প্লেব্যাক সিঙ্গার: লালন ফকির
১৯৬২: বিএফজেএ বেস্ট মিউজিক ডাইরেক্টর অ্যাওয়ার্ড স্বরলিপি – বিজয়ী
১৯৬৩: বিএফজেএ বেস্ট মিউজিক ডাইরেক্টর অ্যাওয়ার্ড (হিন্দি); বিস সাল বাদ – বিজয়ী
১৯৬৪: বিএফজেএ বেস্ট মিউজিক ডাইরেক্টর অ্যাওয়ার্ড পলাতক – বিজয়ী
১৯৬৭: বিএফজেএ বেস্ট মিউজিক ডাইরেক্টর অ্যাওয়ার্ড মণিহার – বিজয়ী
১৯৬৮: বিএফজেএ বেস্ট মিউজিক ডাইরেক্টর অ্যাওয়ার্ড বালিকা বধূ – বিজয়ী
১৯৭৫: বিএফজেএ বেস্ট মিউজিক ডাইরেক্টর অ্যাওয়ার্ড ফুলেশ্বরী – বিজয়ী
১৯৮৬: বিএফজেএ বেস্ট মিউজিক ডাইরেক্টর অ্যাওয়ার্ড ভালোবাসা ভালোবসা – বিজয়ী
১৯৮৭: বিএফজেএ বেস্ট মিউজিক ডাইরেক্টর অ্যাওয়ার্ড পথভোলা – বিজয়ী
১৯৮৮: বিএফজেএ বেস্ট মিউজিক ডাইরেক্টর অ্যাওয়ার্ড আগমন – বিজয়ী
১৯৭২: বিএফজেএ বেস্ট মেল প্লেব্যাক সিঙ্গার অ্যাওয়ার্ড ধন্যি মেয়ে – বিজয়ী
১৯৭৫: বিএফজেএ বেস্ট মেল প্লেব্যাক সিঙ্গার অ্যাওয়ার্ড ফুলেশ্বরী – বিজয়ী
১৯৭৬: বিএফজেএ বেস্ট মেল প্লেব্যাক সিঙ্গার অ্যাওয়ার্ড প্রিয় বান্ধবী – বিজয়ী
১৯৮৫: বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক সাম্মানিক ডি.লিট
১৯৮৬: সংগীত নাটক আকাদেমি পুরস্কার
১৯৮৯: মাইকেল মধুসূদন পুরস্কার
১৯৭১: প্রথম ভারতীয় গায়ক হিসেবে হলিউডের সিনেমায় নেপথ্য কন্ঠ দান ও আমেরিকা সরকার কর্তৃক বাল্টিমোর এর নাগরিকত্ব লাভ
২০১২: বাংলাদেশের স্বাধীনতা মৈত্রী পুরস্কার (মরণোত্তর) ।
২৬ সেপ্টেম্বর ১৯৮৯, হেমন্ত ঢাকায় একটি কনসার্ট থেকে ফেরার পর অসুস্থ হয়ে পড়েন। হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হওয়ার কিছুক্ষণ পরেই তিনি মারা যান। তার পুত্রবধূ মৌসুমী চ্যাটার্জির মতে, তার শেষ কথা ছিল “কি কষ্ট, কি কষ্ট” (‘এমন ব্যথা, এমন ব্যথা’)।
হেমন্তের উত্তরাধিকার এখনও বেঁচে আছে তিনি তার জীবদ্দশায় যে গানগুলি রেকর্ড করেছেন, সেইসাথে তিনি সুর করেছেন সঙ্গীতের মাধ্যমে। তার গানের বাণিজ্যিক কার্যকারিতার কারণে, গ্রামোফোন কোম্পানি অফ ইন্ডিয়া (বা সারেগামা) এখনও প্রতি বছর তার অন্তত একটি অ্যালবাম প্রকাশ করে, তার পুরোনো গানগুলিকে পুনরায় প্যাকেজ করে।

।। তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ

প্রখ্যাত বিজ্ঞানী আচার্য স্যার প্রফুল্ল চন্দ্র রায়-একটি পর্যালোচনা : প্রশান্ত কুমার দাস।।।।

বাংলার মাটিতে যে কজন বিজ্ঞানী জন্ম গ্রহণ করে তাদের গবেষণা ও কর্মধারায় উজ্জ্বল ভূমিকা গ্রহণ করেছিলেন তাদের মধ্যে অন্যতম বিজ্ঞানী প্রফুল্ল চন্দ্র রায় । তিনি শুধু বিজ্ঞানী এবং রসায়নবিদ ছিলেন না, তিনি একাধারে ছিলেন শিক্ষক, দার্শনিক, শিল্পপতি, কবি, এবং লোকহিতৈষী।

তার জন্ম অবিভক্ত বাংলার যশোর জেলায় রারুলী নামক (বর্তমানে বাংলাদেশের অন্তর্গত) স্থানে ১৮৬১ সালের ২রা আগস্ট ।

পিতা হরিশচন্দ্র রায় এবং মাতা ভুবনমোহন দেবী। বাবা স্থানীয় জমিদার ছিলেন। বনেদি পরিবারের সন্তান প্রফুল্ল চন্দ্রের ছোটবেলা থেকেই সব বিষয়ে তুখোড় বুদ্ধি ছিলো। ১৮৭২ সালে বাবা কলকাতায় এনে হেয়ার স্কুলে ভর্তি করান । কিন্তু রক্ত আমাশায় রোগে ভুগতে থাকেন, তাই আবার গ্রামে ফিরে যান । সেখানে বাবার নিজস্ব গ্রন্থাগারে বিভিন্ন বই পাঠ করতে থাকেন। এতে তার আলাদা জ্ঞান চক্ষু খুলে যায়। এরপর ১৮৭৪সালে আবার কলকাতায় ফিরে আসেন। এবার তিনি অ্যালবাট স্কুলে ভর্তি হন।

তিনি এই আলবার্ট স্কুল থেকেই প্রবেশিকা পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে পাশ করেন। এরপরে মেট্রোপলিটন কলেজে ভর্তি হয়ে এফ এ পাশ করেন । এরপর প্রেসিডেন্সী কলেজে ভর্তি হয়ে বি.এ পাশ করে গিলক্রিষ্ট বৃত্তি নিয়ে স্কটল্যন্ডে এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করতে যান। এবং সেখান থেকেই B.Sc (1887) পাশ করেন। পরে সেখানে ডি.এস.সি ডিগ্রী লাভের জন্য গবেষণা শুরু করেন। তাঁর গবেষণার বিষয় ছিল-কপার ম্যাগনিসিয়াম শ্রেণীর সম্মিলিত সংযুক্তি পর্যবেক্ষণ। দুই বছরের কঠোর সাধনায় তিনি গবেষনা সমাপ্ত করেন এবং পি.এইচ.ডি ও ডি.এস.সি ডিগ্রী একসাথে লাভ করেন। তার এই গবেষনাপত্রটি শ্রেষ্ঠ বিবেচিত হওয়ায় তাঁকে “হোপ” প্রাইজে ভূষিত করা হয়।ইউরোপের বিভিন্ন দেশ ঘুরে ১৮৮৮ সালে তিনি স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করেন। দেশে ফিরে প্রেসিডেন্সি কলেজের সহকারী অধ্যাপক হিসাবে যোগদান করেন এবং প্রায় ২৪ বছর এই কলেজে অধ্যাপনা করেন। এখানে তিনি রসায়ন নিয়ে নতুন নতুন গবেষণা শুরু করেন। তাঁর উদ্দ্যোগে তাঁর নিজস্ব গবেষণা থেকেই বেঙ্গল কেমিক্যাল কারখানা তৈরী করেন ।পরবর্তীকালে ১৯০১ সালে কলকাতার মানিকতলায় ৪৫ একর জমিতে এই কারখানা স্থানান্তরিত করেন। এর নতুন নামকরণ হয় বেঙ্গল কেমিক্যালস এন্ড ফার্মাসিউটিক্যাল ওয়ার্কস লিমিটেড।

শুধু তাই নয়, প্রফুল্লচন্দ্র রায় নিজের বাসভবনে দেশীয় ভেষজ নিয়ে গবেষনার কর্ম শুরু করেন। এই গবেষণাস্থল থেকেই পরবর্তীকালে বেঙ্গল কেমিক্যাল কারখানা সৃষ্টি হয় যা ভারতের শিল্পায়নে উল্লেখযোগ্য ভুমিকা গ্রহণ করে। তাই বলা যায় , বিংশ শতকের গোড়ায় ভারতীয় উপমহাদেশের শিল্পায়নে তাঁর ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য । ১৮৯৫ সালে তিনি মারকিউরাস (HgNo2) নাইট্রেট আবিষ্কার করেন,
যা বিশ্বব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি করে। তিনি সারাজীবনে ১২ টি যৌগিক লবন ,৫টি থায়োএষ্টার আবিষ্কার করেন।
অন্যদিকে সমবায়ের পুরোধা প্রফুল্লচন্দ্র রায় ১৯০৯ সালে নিজ জন্মভূমিতে একটি কো-অপারেটিভ ব্যঙ্ক প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯০৩ সালে তিনি পিতার নামে হরিশচন্দ্র বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন ।এছাড়া বাগেরহাট জেলায় ১৯১৮ সালে পি.সি.কলেজ নামে একটি কলেজের প্রতিষ্ঠা করেন।
শিক্ষক হিসাবেও তিনি আচার্য নামে পরিচিত ছিলেন । তিনি ইংল্যণ্ড থেকে সি.আই.ই উপাধি লাভ করেন। ১৯১১ সালে ডারহাম বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে ডক্টরেট উপাধি দেয়। পরে মহীশূর ও বেনারস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডক্টরেট হন। তিনি ১৯১৯ সালে ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক নাইট উপাধি লাভ করেন।
তিনি লেখক হিসাবেও সুপরিচিত ছিলেন-
তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলি হল –
১। ভারতঃ-সিপাহী বিদ্রোহের আগে এবং পরে ।
২. সরল প্রাণীবিজ্ঞান,বাঙ্গালী মস্তিষ্ক ও তার অপব্যবহার।
৩. হিন্দু রসায়নী বিদ্যা ইত্যাদি । মোট ১৪৫টি গবেষণাপত্র করেছিলেন।

তাঁর দেশের প্রতি এবং বাংলার ভাষার প্রতি অগাধ প্রেম ও ভক্তি পরিচয় বিভিন্ন ক্ষেত্রে পাওয়া যায়। তিনি ক্লাসে পড়ানোর সময়ে বাংলায় লেকচার দিতেন। বাংলা ভাষা তাঁর অস্তিত্বের সঙ্গে মিশে ছিল। তার বাচনভঙ্গি এতো অপূর্ব ছিলো যে সকল ছাত্র মনোমুগ্ধ হয়ে শুনতো। তার দুই উল্খেযোগ্য ছাত্র হলেন বিজ্ঞানী সত্যেন্দ্রনাথ বসু ও মেঘনাদ সাহা। বৈজ্ঞানিক জগদীশ চন্দ্র বসু ছিলেন তার সহকর্মী। তিনি ছিলেন একাধারে উদারপন্থী এবং অসাম্প্রদায়িক চিন্তাধারার আদর্শে বিশ্বাসী । বাংলায় বিজ্ঞানের প্রসারে, শিল্পায়নে, শিক্ষাক্ষেত্রে যে সব মহান বিজ্ঞানী চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন তাদের মধ্যে প্রফুল্ল চন্দ্র রায় এক উল্লেখযোগ্য নক্ষত্র এবং ভবিষ্যতেও থাকবেন।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

আজ ১৫ জুন, ইতিহাসের দিকে চোখ বুলিয়ে দেখে নেব ইতিহাসের এই দিনে বিশিষ্টজনদের জন্ম-মৃত্যু, দিনসহ ঘটে যাওয়া ঘটনা।।।।।

আজ ১৫ জুন। এক নজরে দেখে নিই ইতিহাসের এই দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য ঘটনা, বিশিষ্টজনদের জন্ম-মৃত্যু দিনসহ গুরুত্বপূর্ণ আরও কিছু বিষয়।

দিবস—–

(ক) বিশ্ব বায়ু দিবস।

আজ যাদের জন্মদিন—-

১৮৭৮ – মারগারেট অ্যাবট মার্কিন গল্ফ খেলোয়াড়, আমেরিকার প্রথম অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ান।

১৮৮৪ – তারকনাথ দাস, ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের বিপ্লবী নেতা এবং একজন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বুদ্ধিজীবী।
১৮৯৯ – দেবীপ্রসাদ রায়চৌধুরী, ভারতীয় ভাস্কর,চিত্রশিল্পী এবং ললিত কলা একাডেমীর প্রতিষ্ঠাতা-সভাপতি ।
১৯১৫ – নোবেলজয়ী (১৯৫৪) মার্কিন চিকিৎসক টমাস ওয়েলার।
১৯১৬ – নোবেলজয়ী (১৯৭৮) মার্কিন অর্থনীতিবিদ হার্বটি আলেকজান্ডার।
১৯৩৩ – কাজী মুতাসিম বিল্লাহ, বাংলাদেশি দেওবন্দি ইসলামি পণ্ডিত।
১৯৩৭ – লেখক শামসুজ্জামান খান।
১৯৩৮ – বিদিত লাল দাস, বাংলাদেশী বাউল গায়ক ও সুরকার।
১৯৫২ – শাবানা, বাংলাদেশি অভিনেত্রী।
১৯৭০- বাংলাদেশের টেলিভিশন জগতের একসময়ের দারুণ জনপ্রিয় অভিনেতা লিটু আনাম।
১৯৮২ – আব্দুর রাজ্জাক, বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের অন্যতম খেলোয়াড়।

ইতিহাসের পাতায় আজকের দিনের ঘটনাবলী—-

১২১৫ – ইংল্যান্ডের রাজা জন ব্যারনদের চাপে ম্যাগনা কার্টা ( অধিকার সনদে) স্বাক্ষর করেন ।
১৭০৮ – বৃটিশ শাসন থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য আন্দোলনরত স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতাকামীদেরকে কঠোরভাবে দমন করা হয়।
১৭৫২ – আমেরিকার বিজ্ঞানী বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিন ঘুড়ির সাহায্যে বিদ্যুতের অস্তিত্ব প্রমাণ করেন।
১৭৫৯ – আওরঙ্গজেব আনুষ্ঠানিকভাবে আগ্রার সিংহাসনে আরোহণ করেন।
১৮০৮ – জোসেফ বোনাপার্ট স্পেনের রাজা হিসেবে অভিষিক্ত হন।
১৮৩৬ – যুক্তরাষ্ট্রের আরকানসাস ২৫তম রাজ্য হিসেবে স্বীকৃতি পায়।
১৮৪৮ – জার্মানীর চ্যান্সেলর বিসমার্ক বিখ্যাত ও ঐতিহাসিক বার্লিন শহরকে রাজধানী হিসাবে ঘোষণা করেন।
১৮৫৪ – কলকাতায় ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির উদ্যোগে প্রেসিডেন্সি কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়।
১৮৫৫ – ব্রিটেনে সংবাদপত্রের উপর থেকে কর তুলে দেওয়া হয়।
১৮৯৬ – জাপানে ভূমিকম্প ও জলোচ্ছ্বাসে ২৭ হাজার নিহত।
১৯০৪ – নিউইয়র্কে জাহাজ ডুবে ১২ হাজার পর্যটকের মৃত্যু।
১৯০৮ – কলকাতা স্টক এক্সচেঞ্জ চালু হয়।
১৯৪১ – নাৎসি বাহিনীর হাতে প্যারির পতন ঘটে।
১৯৬০ – বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হয়।
১৯৭৭ – দীর্ঘ ৪০ বছর পর স্পেনে প্রথম সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
১৯৭৮ – জর্ডানের বাদশা হোসেন আমেরিকান লিসা হালাবিকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর তিনি নুর নাম গ্রহণ করেন। তখন থেকেই তিনি রানি নুর হিসেবে পরিচিত।
১৯৭৯ – পরমাণু অস্ত্র সীমিতকরণ সংক্রান্ত স্ট্রাটেজিক আর্মস্‌ লিমিটেশন টকস্‌ সংক্ষেপে “সল্ট-দুই” চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
১৯৮২ – রংপুর, যশোর ও কুমিল্লায় হাইকোর্ট স্থাপন।
১৯৯৩ – বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি আনুষ্ঠানিকভাবে ভেঙে যায়।
১৯৯৪ – ইসরায়েল এবং ভ্যাটিকান সিটির মধ্যে পূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়।

এই দিনে মৃত্যুবরণ করেন যারা—-

১৩৮৯ – প্রথম মুরাদ, উসমানীয় সুলতান।
১৮৪৯ – জেমস কে. পোক, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একাদশ রাষ্ট্রপতি।

১৯৭০ – রবার্ট মরিসন ম্যাকাইভার, একজন স্কটীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন সমাজবিজ্ঞানী।
১৯৭১ – ওয়েন্ডেল মেরেডিথ স্ট্যানলি ১৯৪৬ সালে নোবেলজয়ী মার্কিন রসায়নবিদ এবং ভাইরাসবিদ।
১৯৮৬ – ভারতে বিপ্লবী সমাজতন্ত্রী দলের (R.S.P.) অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা-সদস্য তারাপদ লাহিড়ী।

১৯৮৮ – রথীন্দ্রকান্ত ঘটক চৌধুরী, প্রাবন্ধিক, রবীন্দ্র গবেষক এবং সমাজ কর্মী।
১৯৯১ – আর্থার লিউইস, অর্থনীতিবিদ।
১৯৯৫ – জন ভিনসেন্ট আটানসফ, বুলগেরীয় বংশোদ্ভুত একজন মার্কিন পদার্থবিদ।
২০০৯ – অমলেন্দু চক্রবর্তী, প্রখ্যাত বাঙালি ঔপন্যাসিক, ছোটগল্পকার এবং প্রাবন্ধিক।
২০১৩ – কেনেথ জি উইলসন, মার্কিন তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানী।
২০১৪ – রেজাউল বারী ডিনা, বাংলাদেশী রাজনীতিবিদ।
২০২০ – বদর উদ্দিন আহমেদ কামরান, রাজনীতিবিদ, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রথম নির্বাচিত মেয়র।

।।তথ্য : সংগৃহীত ইন্টারনেট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ

জন্মদিবসে স্মরণে, বাঙালি ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের বিপ্লবী নেতা এবং আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বুদ্ধিজীবী তারকনাথ দাস।।।।

ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন ছিল বহু মানুষের কঠোর পরিশ্রম যার ফলেই ব্রিটিশদের থেকে ভারত রাজনৈতিক দিক থেকে মুক্তি পেয়েছে। হিন্দু মুসলিম সকল শ্রেণীর মানুষ এই মুক্তির আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ে ছিলেন। আর তাঁদের সেই বলিদনের ইতিহাসে অনেকের কথাই অজানা। ভারত উপমহাদেশের বিংশ শতাব্দীতে ব্রিটিশ সম্রাজ্যবাদ বিরোধী যে সশস্ত্র বিপ্লববাদী লড়াই-সংগ্রাম সংগঠিত হয় এবং যার ধারাবাহিকতায় ভারত স্বাধীন হয়।

এই অন্দোলনে যে সকল বিপ্লবীর নাম সর্বজন স্বীকৃত তাঁদের মধ্যে তারকনাথ দাস প্রথমসারির একজন অন্যতম বিপ্লবী ছিলেন। তারকনাথ দাস ভারতীয় উপমহাদেশের ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনে এক উল্লেখযোগ্য নাম, যিনি দেশমতৃকার শৃঙ্খল মুক্তির জন্য নিজেকে সঁপে দিয়েছিলেন সম্পূর্ণ রূপে। তারকনাথ দাস ছিলেন ভারতীয় উপমহাদেশের ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের একজন অন্যতম বিপ্লবী নেতা এবং একজন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বুদ্ধিজীবী। তারকনাথ দাসের প্রধান অবদান প্রথম বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন হিন্দু-জার্মান ষড়যন্ত্রের প্রস্থাপনা।
তারাকানাথ দাস ১৮৮৪ সালের ১৫ জুন চব্বিশ পরগনার মাঝিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম কালীমোহন দাস। স্কুল ছাত্র থাকাকালীনই তিনি রাজনৈতিক কাজে জড়িয়ে পড়েন। ১৯০১ সালে, কলকাতার আর্য মিশন ইনস্টিটিউশন থেকে প্রবেশিকা পাশ করার পর, তিনি কিছুকাল কলেজে অধ্যয়ন করেন। ছাত্র অবস্থায় উত্তর ভারতে বিপ্লবী রাজনীতির প্রচার করতে গিয়ে পুলিশের নজরে আসেন তিনি।
গ্রেফতার হওয়ার আগে তিনি ১৯০৫ সালে জাপান এবং পরের বছর আমেরিকা চলে যান। আমেরিকার ফ্রি হিন্দুস্তান পত্রিকার মাধ্যমে প্রবাসী ভারতীয় বিপ্লবী ও গদর পার্টির কর্মীরা যোগাযোগের চেষ্টা করেন। ১৯১১ সালে তিনি ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ পাস করেন এবং কাজে যোগ দেন এবং ১৯১৬ সালে তিনি বার্লিন কমিটির প্রতিনিধি হিসেবে চীন ভ্রমণ করেন। আমেরিকায় ভারতীয় বিপ্লবী কার্যকলাপের জন্য তিনি ২২ মাস কারাবরণ করেন। বিপ্লবী কাজের পাশাপাশি পড়াশোনা করেছেন। ১৯২৪ সালে, তিনি তার পিএইচ.ডি. জর্জ টাউন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও আন্তর্জাতিক আইন’ বিষয়ে ডিগ্রি অর্জন করেন।
তারকানাথ দাস পিএইচডি করার পর নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেন১৯২৪ সালে। বিবাহ করেন আমেরিকান মহিলা মেরি কিটিং মোর্স কে। যাইহোক, ১৯২৫-৩৪ খ্রিস্টাব্দে ইউরোপে থাকার সময়, তিনি ভারতীয় ছাত্রদের বিজ্ঞানে উচ্চ শিক্ষার সুবিধা দেওয়ার জন্য নিজের প্রচেষ্টায় ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট তৈরি করেছিলেন। আর এই উদ্দেশ্যেই তারাকানাথ দাস ফাউন্ডেশনের অস্তিত্ব। ফাউন্ডেশনটি ১৯৩৫ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নিবন্ধিত হয়েছিল। ১৯৫০ সালে, কলকাতায় একটি শাখা রেজিস্ট্রিও প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
রামানন্দ চট্টোপাধ্যায়ের মডার্ন রিভিউতে প্রবন্ধ লিখতেন। ১৯৩৫ সালে ক্যাথলিক ইউনিভার্সিটিতে দেওয়া ‘ফরেন পলিসি ইন ফার ইস্ট’ বিষয়ক একটি বক্তৃতা একটি সাড়া জাগিয়েছিল, যা পরে একটি বইতে প্রকাশিত হয়েছিল।
তার রচিত গ্রন্থগুলির মধ্যে——
ইন্ডিয়া ইন ওয়ার্ল্ড পলিটিকস ও বাংলায়, বিশ্ব রাজনীতির কথা বিশেষ উল্লেখযোগ্য।
১৯৫৮ সালে ২২ ডিসেম্বর তিনি নিউইয়র্কে মারা যান।

।। তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ

প্রাবন্ধিক, রবীন্দ্র গবেষক এবং সমাজ কর্মী – রথীন্দ্রকান্ত ঘটক চৌধুরী, প্রয়াণ দিবসে শ্রদ্ধাঞ্জলি।।।।

রথীন্দ্রকান্ত ঘটক চৌধুরী এক অতি পরিচিত নাম। তিনি ছিলেন একজন বাংলাদেশী কবি, লেখক, প্রাবন্ধিক, রবীন্দ্র গবেষক এবং সমাজসেবক। বামপন্থায় বিশ্বাসী হয়ে তিনি ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক আন্দোলন, ধর্মের ভিত্তিতে দেশভাগ, কৃষক তেভাগা আন্দোলন, ভাষা আন্দোলন, ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দের মুক্তিসংগ্রামসহ এবং অন্যান্য প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন।

জন্ম—––

রথীন্দ্রকান্ত তার পিতামাতার নয়টি সন্তানের তৃতীয় সন্তান ছিলেন। ১৯২১ খ্রিস্টাব্দের ২৬ ডিসেম্বর অবিভক্ত বাংলার তৎকালীন ঢাকা জেলার কলাগাছিয়া থানার অধুনা শরীয়তপুর জেলার পালং থানার দক্ষিন বালুচর গ্রামে রথীন্দ্রকান্ত ঘটক চৌধুরীর জন্ম। পিতা ছিলেন জমিদার সূর্যকান্ত ঘটক চৌধুরী এবং মাতা রত্নাবালা দেবী।

প্রারম্ভিক জীবন ও শিক্ষা——

তুলাসার গুরুদাস উচ্চ ইংরেজী বিদ্যালয়ে তার শিক্ষাজীবন শুরু হয়। তিনি 1939 খ্রিস্টাব্দে প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। প্রবেশিকা পাশ করে তিনি তাঁর বড় ভাই রথীন্দ্রকান্তের মতো শান্তিনিকেতনে যান। সেখান থেকে ১৯৪১ সালে আই.এ পাশের পর এরপর কলকাতার বিদ্যাসাগর কলেজে ভর্তি হন এবং বি.এ পাস করেন।

ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে——–

ছাত্রাবস্থায় তিনি ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন। তিনি “অনুশীলন সমিতি’’-র” সদস্য ছিলেন। ১৯৪৩ সালে কমিউনিস্ট পার্টিতে যোগ দেন। তিনি অবিভক্ত বাংলায় ‘প্রগতি প্রকাশ ও শিল্পী সংঘ’-এর একজন সক্রিয় কর্মীও ছিলেন। ১৯৪৪ সালে তিনি ফরিদপুর জেলার সংগঠক এবং ১৯৪৭ সালে তিনি সেই জেলা কমিটির সদস্য হন। ১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত তিনি এবং শান্তি সেন তে-ভাগা আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

কর্মজীবন——-

রথীন্দ্রকান্ত ১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দে চকন্দী হাই স্কুলে শিক্ষকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন। স্বাধীনতা লাভ আর দেশ বিভাগের পর ১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দে তার বাড়িতে পুলিশি তল্লাশি শুরু হলে তিনি কলকাতায় চলে আসেন এবং যোগদান করেন স্বর্ণকমল ভট্টাচার্যের “অগ্রণী” পত্রিকায়। কিছুদিন কলকাতায় অবস্থান করার পর ১৯৫০ খ্রিস্টাব্দে নিজের গ্রামে ফিরে আসেন এবং পালং হাই স্কুলে অস্থায়ী শিক্ষক হিসাবে যোগ দেন। ১৯৫৪ খ্রিস্টাব্দে তুলাসার গুরুদাস উচ্চ বিদ্যালয়ে যোগ দিয়ে শিক্ষকতা করেন ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত।

রবীন্দ্র গবেষক হিসাবে ——–

রথীন্দ্রকান্ত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্নেহধন্য ছিলেন। শান্তিনিকেতনে অধ্যয়ন কালে তিনি কবিগুরুর সঙ্গ লাভ করেছিলেন। শান্তিনিকেতনের সাহিত্যসংস্থা সাহিত্যিকা-র সম্পাদক হিসাবে কৃতিত্বের পরিচয় দেন। ১৯৪০ খ্রিস্টাব্দে কবির সভাপতিত্বে সাহিত্য সভায় রথীন্দ্রনাথ স্বরচিত কবিতা পাঠ করেন। রথীন্দ্রকান্ত রবীন্দ্রনাথের দুষ্প্রাপ্য কবিতার আবিষ্কার ও রবীন্দ্র গবেষক হিসাবে উভয় বাংলার বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। রবীন্দ্রনাথের শেষ শ্রদ্ধাবাসরের সম্মাননাপত্র রচনা ও পাঠ করার দায়িত্ব পালন ছিল তার সাহিত্যকীর্তির উদাহরণ।

সাহিত্যকর্ম——-

রথীন্দ্রকান্ত ঘটক চৌধুরী বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় অসংখ্য কবিতা, ছোটগল্প, প্রবন্ধ নাটক ইত্যাদি রচনা করেছেন। তার রচিত ও প্রকাশিত গ্রন্থ ছয়টি। সেগুলি গ্রন্থগুলি হল-
পূর্বাপর , কয়েকজন লোককবি ও প্রসঙ্গত, সুকান্তের হস্তাক্ষরে কবিতার পাণ্ডুলিপি, রবীন্দ্র তরুমূলে, ঝরাপাতা , অভ্যুদয় – তার অনেক লেখা এখনও অপ্রকাশিত ও অগ্রন্থিত রয়ছে।

জীবনাবসান——

রথীন্দ্রকান্ত ঘটক চৌধুরী অসুস্থতার জন্য ঢাকার সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ভরতি হয়ছিলেন। ১৯৮৮ খ্রিস্টাব্দের ১৫ জুন শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

।। তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

আজ বিশ্ব বায়ু দিবস, জানুন কেন পালিত হয় এবং পালনের গুরুত্ব।।।।

বিশ্ব বায়ু দিবস প্রতি বছর ১৫ জুন পালিত হয় বায়ু শক্তির তাৎপর্য এবং শক্তির একটি বিশুদ্ধতম রূপ হিসাবে এর গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করার জন্য। বিশ্ব বায়ু দিবস উদযাপনের পিছনে অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য হল বায়ু শক্তি সংগ্রহের সুবিধা সম্পর্কে মানুষকে শিক্ষিত করা। ক্ষতিকারক গ্রিন হাউস গ্যাস নির্গমন কমানো থেকে শুরু করে জলবায়ু পরিস্থিতির উন্নতি।

বায়ু শক্তির ব্যবহার টেকসই ভবিষ্যত নিশ্চিত করার পাশাপাশি আমাদের অনেক উপায়ে সাহায্য করে।
বিশ্ব বায়ু দিবসে বায়ু শক্তির ইতিবাচক পরিবেশগত প্রভাব তুলে ধরতে বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন কার্যক্রম, কর্মশালা, সম্মেলন, সেমিনার এবং ইভেন্টের আয়োজন করা হয়।
বিশ্ব বায়ু দিবসের স্বীকৃতি শুধুমাত্র টেকসই শক্তি অনুশীলনকে উৎসাহিত করে না বরং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াই করতেও সাহায্য করে।
গ্লোবাল উইন্ড ডে বা বিশ্ব বায়ু দিবস হল একটি বিশ্বব্যাপী ইভেন্ট। এটি উইন্ডইউরোপ এবং GWEC (গ্লোবাল উইন্ড এনার্জি কাউন্সিল) দ্বারা আয়োজিত হয়। এটি এমন একটি দিন যখন বায়ু শক্তি উদযাপন করা হয়, তথ্যের আদান-প্রদান করা হয় এবং প্রাপ্তবয়স্ক এবং শিশুরা বায়ু শক্তি, এর শক্তি এবং বিশ্বকে পরিবর্তন করার সম্ভাবনা সম্পর্কে জানতে পারে। EWEA এবং GWEC এর সহযোগিতায়, জাতীয় বায়ু শক্তি সমিতি এবং বায়ু শক্তি উৎপাদনের সাথে জড়িত কোম্পানিগুলি বিশ্বের অনেক দেশে ইভেন্টের আয়োজন করে। ২০১১ সালে, 4টি মহাদেশে 30টি দেশে ইভেন্ট সংগঠিত হয়েছিল। ইভেন্টগুলির মধ্যে রয়েছে উপকূলীয় এবং উপকূলীয় বায়ু খামার পরিদর্শন, তথ্য প্রচার, শহরগুলিতে প্রদর্শনী টারবাইন স্থাপন, বায়ু কর্মশালা এবং একটি বায়ু কুচকাওয়াজ। গ্লোবাল উইন্ড ডে (১৫ জুন) নিজেই অনেক ঘটনা ঘটেছে, তবে তার আগের দিন এবং সপ্তাহগুলিতেও ঘটনা ঘটেছে। ২০১২ সালে বিশ্বজুড়ে ২৫০টি ইভেন্ট ছিল এবং একটি খুব জনপ্রিয় ফটো প্রতিযোগিতা ছিল।

বিশ্ব বায়ু দিবস পর্যবেক্ষণের ইতিহাস—

ইউরোপিয়ান উইন্ড এনার্জি অ্যাসোসিয়েশন (EWEA) দ্বারা 2007 সালে প্রথম বায়ু দিবসের আয়োজন করা হয়েছিল কিন্তু এটি শুধুমাত্র 2009 সালে ছিল যে EWEA গ্লোবাল উইন্ড এনার্জি কাউন্সিল (GWEC) এর সাথে মিলিত হয়েছিল এবং এটিকে একটি বিশ্বব্যাপী ইভেন্টে পরিণত করেছিল। উদ্দেশ্য ছিল বিশ্বজুড়ে মানুষকে বায়ু শক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার করতে উৎসাহিত করা।

বিশ্ব বায়ু দিবস পালন—

ইউরোপিয়ান উইন্ড এনার্জি অ্যাসোসিয়েশন এবং গ্লোবাল উইন্ড এনার্জি কাউন্সিল প্রতি বছর গ্লোবাল উইন্ড ডে উপলক্ষে বায়ু শক্তির প্রচারে বিভিন্ন ইভেন্টের আয়োজন করে। অনেক জাতীয় বায়ু শক্তি সমিতি এবং বায়ু শক্তি উৎপাদনের সাথে জড়িত কোম্পানিগুলিও তাদের সমস্ত দেশে ইভেন্ট করে। তথ্য প্রচার, উপকূলীয় এবং উপকূলীয় বায়ু খামার পরিদর্শন, শহরগুলিতে টারবাইন স্থাপনের প্রদর্শনী, বায়ু কর্মশালা এবং বায়ু প্যারেড এই দিনে বিভিন্ন দেশে অনুষ্ঠিত কিছু জনপ্রিয় অনুষ্ঠান। অন্যান্য মজার ক্রিয়াকলাপ যেমন উইন্ড ফার্ম ওপেন ডে, ওয়ার্কশপ, রেগাটাস, ফটো প্রদর্শনী, অঙ্কন প্রতিযোগিতা, ঘুড়ি ওড়ানো প্রতিযোগিতা ইত্যাদিও বিশ্ব বায়ু দিবস উদযাপনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ গঠন করে।

বিশ্ব বায়ু দিবসের তাৎপর্য—

বিশ্ব বায়ু দিবস হল বায়ু শক্তি, এর শক্তি এবং এটি ধারণ করতে পারে এমন সমস্ত বর্তমান এবং ভবিষ্যতের সম্ভাবনা উদযাপন করার একটি দিন। এটি মানুষকে, বিশেষ করে শিশুদের, বায়ু শক্তির গুরুত্ব সম্পর্কে শিক্ষিত করার একটি দিন। বিশ্বব্যাপী জলবায়ু সংকট গভীর হওয়ার সাথে সাথে এবং জলবায়ুর প্রতি রাজনৈতিক মনোযোগ বৃদ্ধি পাওয়ার সাথে সাথে বৈশ্বিক বায়ু দিবস পালন করা আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে। বায়ু শক্তির সঠিক ব্যবহার অর্থনীতিকে ডিকার্বনাইজ করতে সাহায্য করতে পারে এবং চাকরি ও প্রবৃদ্ধি বাড়াতে সাহায্য করতে পারে এবং তাই এই দিনে আরও বেশি সংখ্যক কোম্পানিকে তাদের ব্যবসায়কে শক্তি দিতে পরিষ্কার, নির্ভরযোগ্য এবং সাশ্রয়ী বায়ু শক্তির দিকে যেতে উৎসাহিত করা হয়।

বায়ু শক্তি সম্পর্কে আকর্ষণীয় তথ্য—

বিশ্ব বায়ু দিবস ২০২৪ উপলক্ষ্যে, আসুন বায়ু শক্তি সম্পর্কে কিছু আকর্ষণীয় তথ্য জেনে নিই:
বায়ু শক্তি সবচেয়ে কার্যকরী এবং পরিবেশ বান্ধব শক্তির উত্সগুলির মধ্যে একটি।
২০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ থেকে উইন্ডমিল ব্যবহার করা হচ্ছে।
এটি শুধুমাত্র ১৯৪০ এর দশকে প্রথম আধুনিক বায়ু টারবাইন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভার্মন্টে নির্মিত হয়েছিল।
বায়ু শক্তি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ১১ টি রাজ্যে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ২০% এরও বেশি সরবরাহ করে।
সবচেয়ে বড় উইন্ড টারবাইন যা ২০ তলা লম্বা এবং একটি ফুটবল মাঠের দৈর্ঘ্যের ব্লেড যুক্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াইতে অবস্থিত।
বায়ু শক্তির সবচেয়ে ইনস্টল ক্ষমতা জার্মানিতে।
জার্মান পদার্থবিদ, আলবার্ট বেটজ, বায়ু টারবাইন প্রযুক্তির প্রবর্তক।
উইন্ড টারবাইনগুলি দেখতে সহজ হতে পারে তবে বাস্তবে প্রায় ৮০০০ বিভিন্ন অংশ রয়েছে। যদি বাতাস প্রতি ঘন্টায় ১৩০ কিমি বেগে প্রবাহিত হয়, তাহলে নিরাপত্তা সতর্কতা হিসাবে ব্লেডগুলি বাঁকানো বন্ধ করে দেয়।
বায়ু শক্তি বিদ্যুৎ উৎপাদনের দ্রুততম বর্ধনশীল মোড।
তাই, প্রতি বছরের মতো আজ ১৫ জুন সারা বিশ্বে পালিত হচ্ছে বিশ্ব বায়ু দিবস। বায়ু শক্তিকে ব্যবহারে সবাইকে উৎসাহিত করতেই বিশ্বব্যাপী এই দিবসটি পালিত হয়ে থাকে।

।।তথ্য : সংগৃহীত ইন্টারনেট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

আজ বিশ্ব রক্তদাতা দিবস, জানুন কেন পালিত হয় এবং দিনটির গুরুত্ব।।।।

স্বেচ্ছায় রক্তদান এক মহৎ কাজ। রক্তের অভাব একজন ব্যক্তির জীবনকে বিপদে ফেলতে পারে। রক্তের প্রয়োজনে সময়মতো রক্ত সরবরাহ করা না হলে একজনের জীবনও হারাতে পারে। রক্তের ঘাটতি পূরণ করে রক্তদানের মাধ্যমে জীবন বাঁচানো যায়। এই কারণে মানুষকে রক্তদানের জন্য সচেতন করা হয়, যাতে একজন সুস্থ মানুষ প্রয়োজনে রক্ত দান করতে পারে এবং একটি জীবন বাঁচাতে পারে।

হাসপাতালগুলোতে জীবন-মৃত্যুর যুদ্ধে লিপ্ত মানুষ যাতে নতুন জীবন পায় সেজন্য বেশি বেশি মানুষ রক্তদান করার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। তাই বিশ্ব রক্তদাতা দিবসের বিশেষ উপলক্ষ্য জীবন বাঁচাতে রক্তদানের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়া। প্রতি বছর ১৪ জুন সারা বিশ্বে দিনটি উদযাপন করা হয়।এবার দিবসটির প্রতিপাদ্য নির্ধারিত হয়েছে- ‘রক্ত দান করুন, দান করুন প্লাজমা, যতবার সম্ভব গ্রহণ করুন জীবন বাঁচানোর এ অনন্য সুযোগ’।
আন্তর্জাতিকভাবে এবছর বিশ্ব রক্তদাতা দিবসের বিশ্বব্যাপী অনুষ্ঠানের আয়োজক দেশ আলজেরিয়া। ২০০৪ সালে দিবসটি প্রথম পালিত হয়। নিরাপদ রক্ত নিশ্চিতকরণ ও স্বেচ্ছা রক্তদাতাদের উৎসাহ দিতেই বিশ্বব্যাপী উদযাপিত হয়ে আসছে দিবসটি।
১৯৯৫ সাল থেকে আন্তর্জাতিক রক্তদান দিবস পালন এবং ২০০০ সালে ‘নিরাপদ রক্ত’-এই থিম নিয়ে পালিত বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবসের অভিজ্ঞতা নিয়ে ২০০৪ সালে প্রথম পালিত হয়েছিল বিশ্ব রক্তদান দিবস। ২০০৫ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য অধিবেশনের পর থেকে প্রতিবছর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও এ দিবস পালনের জন্য তাগিদ দিয়ে আসছে।
প্রতিবছর ৮ কোটি ইউনিট রক্ত স্বেচ্ছায় দান হয়, অথচ এর মাত্র ৩৮ শতাংশ সংগ্রহ হয় উন্নয়নশীল দেশগুলো থেকে, যেখানে বাস করে বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ৮২ শতাংশ মানুষ। এ ছাড়া এখনো বিশ্বের অনেক দেশে মানুষের রক্তের চাহিদা হলে নির্ভর করতে হয় নিজের পরিবারের সদস্য বা নিজের বন্ধুদের রক্তদানের ওপর, আর অনেক দেশে পেশাদারি রক্তদাতা অর্থের বিনিময়ে রক্ত দান করে আসছে রোগীদের।
আমাদের দেশে রক্তের চাহিদার একটা বড় অংশ প্রয়োজন হয় থ্যালাসেমিয়া রোগীদের জন্যে।একজন থ্যালাসেমিয়া রোগীর প্রতি মাসে ১ থেকে ৩ ব্যাগ রক্তের প্রয়োজন হয়। থ্যালাসেমিয়া ছাড়াও রক্তস্বল্পতা, প্রসূতির রক্তক্ষরণ, অগ্নিদগ্ধ রোগী, বড় অপারেশন, দুর্ঘটনা, ইত্যাদি নানা কারণে রক্তের প্রয়োজন হয়। রক্তের এ চাহিদা পূরণে নতুন করে স্বেচ্ছায় রক্তদাতার কোনও বিকল্প নেই। সাধারণত ১৮ থেকে ৬০ বছর বয়সী যেকোনও শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ-সক্ষম ব্যক্তি প্রতি চার মাস পরপর রক্ত দিতে পারেন। তবে সব রক্ত ​​সবাইকে দেওয়া যায় না। যদি কারো A+ রক্তের গ্রুপ থাকে, তাহলে এই ধরনের রক্ত ​​A+ এবং AB+ কে দেওয়া যেতে পারে। A- ব্লাড গ্রুপের মানুষের রক্ত ​​AB-, A-, A+-তে স্থানান্তর করা যেতে পারে। B+ ব্যক্তি B+ এবং AB+ রক্ত ​​দিতে পারেন। যদি কারো রক্তের গ্রুপ O+ হয়, তাহলে সে তার রক্ত ​​A+, B+, AB+, O+ কে দিতে পারে। AB+ রক্তের গ্রুপের একজন ব্যক্তি AB+ কে রক্ত ​​দিতে পারেন।চিকিৎসকদের মতে, যে কোনো সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক, নারী-পুরুষ উভয়েই রক্ত ​​দিতে পারেন। পুরুষরা প্রতি তিন মাসে একবার নিরাপদে রক্ত ​​দান করতে পারে এবং মহিলারা প্রতি চার মাসে একবার রক্তদান করতে পারে। রক্তদাতার ন্যূনতম বয়স হতে হবে ১৮ বছর, ৬৫ বছরের বেশি বয়সীরা রক্ত ​​দিতে পারবেন। ওজন ৪৫ কেজির কম হওয়া উচিত নয়।
অথচ বিশ্বের নানা দেশ থেকে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে জানা যায়, ‘নিরাপদ রক্ত সরবরাহের’ মূল ভিত্তি হলো স্বেচ্ছায় ও বিনামূল্যে দান করা রক্ত। কারণ তাদের রক্ত তুলনামূলকভাবে নিরাপদ এবং এসব রক্তের মধ্য দিয়ে গ্রহীতার মধ্যে জীবনসংশয়ী সংক্রমণ, যেমন এইচআইভি ও হেপাটাইটিস সংক্রমণের আশঙ্কা খুবই কম।
স্বেচ্ছায় ও বিনামূল্যে রক্তদানকারী আড়ালে থাকা সেসব মানুষের উদ্দেশে, এসব অজানা বীরের উদ্দেশে, উৎসর্গীকৃত ১৪ জুনের বিশ্ব রক্তদান দিবস।
তবে ১৪ জুন এই দিনটি উদযাপনের একটি বিশেষ কারণ রয়েছে। বিজ্ঞানী কার্ল ল্যান্ডস্টেইনার রক্তের গ্রুপ পদ্ধতি আবিষ্কার করেন।এই নোবেলজয়ী বিজ্ঞানী আবিষ্কার করেছিলেন রক্তের গ্রুপ ‘এ, বি, ও,এবি’। এই অবদানের জন্য, কার্ল ল্যান্ডস্টেইনার ১৯৩০ সালে নোবেল পুরস্কার পান । রক্তদাতা দিবসটি বিজ্ঞানী কার্ল ল্যান্ডস্টেইনারকে উৎসর্গ করা হয়েছে। তার জন্মদিন ১৪ জুন।

বিশ্ব রক্তদাতা দিবস ২০২৫ : তারিখ

বিশ্ব রক্তদাতা দিবস প্রতি বছর ১৪ জুন পালিত হয়। এই বছর, ২০২৫, একটি বিশেষ মাইলফলক চিহ্নিত করে – স্বেচ্ছায় রক্তদাতাদের তাদের জীবন রক্ষাকারী অবদানের জন্য স্বীকৃতি দেওয়ার ২১ তম বার্ষিকী।

বিশ্ব রক্তদাতা দিবস ২০২৫: থিম

বিশ্ব রক্তদাতা দিবস ২০২৫-এর থিম হল “রক্ত দিন, আশা দিন: একসাথে আমরা জীবন বাঁচাই”। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এই থিমটি প্রকাশ করেছে, যা রক্তদানের মাধ্যমে জীবন বাঁচানোর গুরুত্ব এবং একতাবদ্ধভাবে কাজ করার মাধ্যমে সমাজের উপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলানোর উপর জোর দেয়। PACE Hospitals এই থিমের মাধ্যমে নিয়মিত রক্তদানের প্রয়োজনীয়তা, বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে এই বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে। Netmeds এই থিমটি রক্তদানের মাধ্যমে জীবন পরিবর্তনকারী প্রভাবকে তুলে ধরে। Artemis Hospitals এই থিমটি রক্তদানের গুরুত্ব এবং সমাজের উপর এর প্রভাবকে আরও বেশি করে তুলে ধরেছে।

যারা স্বেচ্ছায় ও বিনামূল্যে রক্তদান করে লাখ লাখ মানুষের প্রাণ বাঁচাচ্ছেন তাদেরসহ সাধারণ জনগণকে রক্তদানে উৎসাহিত করাই এ দিবসের উদ্দেশ্য।রক্তদানকে উৎসাহিত করা এবং রক্তদাতাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের লক্ষ্যে প্রতি বছর রক্তদাতা দিবস উদযাপিত হয়। এই উপলক্ষে সারা বিশ্বে মানুষকে অনুপ্রাণিত করা হয়, যেন রক্তের অভাবে কোনো রোগীর মৃত্যু না হয়।

।।তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

দাক্ষিনাত্য কৃষক হাঙ্গামার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস।।।।

সূচনা:- মাড়োয়াড়ী সান্থকর মহাজনদের অত্যাচারে ও নিপীড়নে দাক্ষিনাত্যের কৃষকেরা বিদ্রোহী হয়ে ওঠে । ১৮৭৫ খ্রীষ্টাব্দে মহারাষ্ট্রের পুনা ও আহমদ নগরের কৃষক দের, নেতৃত্বে যে প্রবল বিদ্রোহ সংগঠিত হয়েছিল তা ডেকানরাষ্ট্র বা দাক্ষিনাত্যর কৃষক বিদ্রোহ নামে পরিচিত । দাক্ষিনাত্যের কৃষকেরা বিদ্রোহ সংগঠনের মূলে কতগুলি কারন বিদ্যমান ।

রাজস্ব বৃদ্ধি —
বাংলায় জমিদারদের সঙ্গে ইংরেজদের চিরস্থায়ী বন্দোবস্তোর ফলে রাজস্বের পরিমান নির্দিষ্ট হয়ে গিয়েছিল এবং এ রাজস্ব আর বাড়ানো সম্ভব হল না । ফলে ইংরেজ সরকার দাক্ষিনাত্যে অন্য ভাবে রাজস্ব ব্যবস্থা প্রচলন করেন । এই রাজস্ব আদায়ের ভার মোড়লদের উপর ন্যস্ত ছিল । মোড়লরা এই সমস্ত টাকা বেশি পরিমানে আত্মসাৎ করার জন্য কৃষক দের উপর নিষ্ঠুর ভাবে নিপীড়ন চালাত । রাজস্ব মেটাবার জন্য কৃষকরা মহাজনদের কাছে চড়াসুদে জমি বন্দক রাখত । এই চড়াসুদ চক্রবৃদ্ধি হারে বাড়তে বাড়তে এমন জায়গায় পৌঁছুত যে কৃষকদের পক্ষে তা শোধ করা সম্ভব হত না । ফলে বন্দকী জমি মহাজনদের দখলে চলে যেত । ফলে কৃষকরা ক্রমশই নিজেদের জমি থেকে নিজেরা উৎখাত হয়ে যেতে থাকে । এর ফলে কৃষকরা মহাজন বা সালুকার দের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী হয়ে ওঠে ।
তুলার উৎপাদন ও বিক্রির অসামজস্য
১৮৬০ খ্রীষ্টাব্দে তুলার দাম বাড়লে তুলা চাষ করে রাজস্বের ঘাটতি কিছুটা মেটানো সম্ভব হয় । এই সুযোগে গ্রামাঞ্চলের সম্পন্ন চাষীরা অধিক লাভের আশায় জমিতে তুলোর চাষ বাড়ান । ১৮৬৭ খ্রীঃ রাজস্বের পরিমান আরো বাড়ে । এদিকে ১৮৭০ খ্রীষ্টাব্দ থেকে বাজারে তুলোর দাম পড়ে যায় । ফলে চাষীদের দুরাবস্থা আরো বেড়ে যায় । এর ফলে সাধারন চাষী থেকে ততাকথিত সম্পন্ন চাষীরাও মহাজনদের কাছ থেকে ঋন নিতে বাধ্য হয় । কৃষকদের এমন দুরবস্থায় সরকার নীরব দর্শকের ভূমিকা গ্রহণ করে । এই সুযোগে মহাজনরা কৃষক দের জমি দখল করতে থাকে ফলে শোষিত নীপিড়ীত কৃষকরা ক্রমশ বিদ্রোহী হয়ে ওঠে ।
বিদ্রোহের বিবরন ঃ-
কৃষকরা মহাজনদের বিরুদ্ধে কৃষকরা সামাজিক ও অর্থনৈতিক বয়কট আরম্ভ করে , কিন্তু তাতে কোনো লাভ না হওয়ায় তারা কয়েকটি পথ অবলম্বন করে । তাদের সেই বিদ্রোহের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য লক্ষণীয়। প্রথমতঃ , এই বিদ্রোহের বিদ্রোহীদের লক্ষ্য ছিল মাহাজনদের ঋণপত্র , দলিল ও হিসেবের যাতাপত্র ধংস করে ফেলা , কারন তারা বুঝেছিল এই সব জিনিসই তাদের জীবনের চরম দূর্দশা দেকে এনে ছিল। দিতীয়তঃ , বিদ্রোহের ব্যাপকতা থাকলেও মহাজন বা সাহুকারদের প্রানহানি খুব কম ছিল। তৃতীয়তঃ , অনেক স্থানে মহাজনদের ঘর বাড়ীতে অগ্নিসংযোগ করে দেয় বিদ্রোহীরা । পুনা ও আহামদনগরের প্রায় ৩৩ টি অঞ্চলে এরূপ হিংসাত্মক ঘটে । ক্যাংলিয়া নামে এক কৃষক নেতা এই বিদ্রোহের নেতৃত্ব দিয়েছিল । কৃষকরা তাঁকে ‘গরীবের বন্ধু’ মনে করতেন । চতুর্থতঃ , এই বিদ্রোহে দুর্ধর্ষ নিন্মশ্রেনীর কৃষকরা অংশ গ্রহন করলেও , কিছু সম্পন্ন চাষী এই বিদ্রোহে অংশগ্রহন করায় , এই বিদ্রোহ রক্তক্ষরা সংগ্রামে পরিনত হয়নি । পঞ্চমতঃ, এই বিদ্রোহ কোন ব্রিটিশ বিরোধী সংগ্রামের রাজনৈতিক আদর্শ দ্বারা প্রত্যক্ষভাবে পরিচালিত হয়নি । মহাজন গোষ্ঠীর শোষনের হাতিয়ার গুলিকে ধবংস করাই ছিল এই বিদ্রোহের প্রধান লক্ষ্য ।
ফলাফল ঃ
প্রত্যক্ষভাবে ব্রিটিশ বিরোধী না হলেও দাক্ষিনাত্যের কৃষক বিদ্রোহ ইংরেজদের মনে ভয়ের উদ্রেক করে । তারা বুঝেছিল এইভাবে মহাজন শ্রেনী ধবংস হয়ে গেলে তাদের অতিরিক্ত রাজস্ব আদায়ের পথ বন্ধ হয়ে যাবে, যা ভবিষ্যতে তাদের পক্ষে মারাত্মক হতে পারে । ইংরেজরা ক্যাংলিয়াকে গ্রেপ্তার করলে কৃষক দের এই বিদ্রোহ নেতৃত্ব হয়ে পড়ে । ১৮৭৬ খ্রীষ্টাব্দে নিযুক্ত ‘দাক্ষিনাত্য বিদ্রোহ কমিশন’ এর সুপারিশে ১৮৭৯ খ্রীষ্টাব্দে ‘দাক্ষিনাত্যে কৃষক আইন’ পাশ হয় । এই আইনের ফলে কৃষকদের জমি হস্তান্তর ব্যাপারে কিছুটা আইন বিধিবদ্ধ হয় । এছাড়া মহাজনদের সুদের হার ও নিদিষ্ট করা হয় । কৃষকরাও মহাজনদের বিরুদ্ধে ও আদালতের সাহায্য লাভের সুযোগ পায় । ফলে ক্রমশ আন্দোলনে ভাটা পড়ে কিন্তু কৃষক দের অবস্থার বিশেষ কোন উন্নতি সাধন হয় নি ।

Share This
Categories
প্রবন্ধ

সুশান্ত সিং রাজপুত – তাঁর আকালে চলে যাওয়া ভক্তরা আজও মেনে নিতে পারেনি- প্রয়াণ দিবসে শ্রদ্ধাঞ্জলি।।।।

সূচনা—- সুশান্ত সিং রাজপুত একজন সুখ্যাতিমান, দক্ষ, প্রতিভাবান ভারতীয় চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন অভিনেতা, নৃত্যশিল্পী, টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব, উদ্যোক্তা এবং একজন লোকহিতৈষী ছিলেন। সুশান্ত, টেলিভিশন ধারাবাহিকে কাজ করার মধ্যে দিয়ে তাঁর অভিনয় জীবন শুরু করেছিলেন।

জন্ম ও শিক্ষা জীবন —

সুশান্ত ১৯৮৬ সালের ২১শে জানুয়ারি তারিখে ভারতের বিহারের পাটনায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তার বাবা ছিলেন একজন সরকারি কর্মচারী। তাঁর পৈতৃক বাড়ি বিহারের পূর্ণিয়া জেলায় অবস্থিত। তার এক বোন, মিতু সিং রাজ্য পর্যায়ের একজন ক্রিকেটার। ২০০২ সালে তার মায়ের মৃত্যু ঘটে।
সুশান্ত পাটনার সেন্ট কারেন উচ্চ বিদ্যালয় এবং নতুন দিল্লির কুলাচি হাঁসরাজ মডেল স্কুল হতে তার স্কুল জীবনের শিক্ষা সম্পন্ন করেছিলেন। তিনি ২০০৩ সালে ডিসিই প্রবেশিকা পরীক্ষায় সপ্তম স্থান অর্জন করেছিলেন এবং তিনি দিল্লি প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের যন্ত্র প্রকৌশল বিভাগে ভর্তি হন।এছাড়াও তিনি পদার্থবিজ্ঞানে জাতীয় অলিম্পিয়াড বিজয়ীও ছিলেন। সর্বোপরি তিনি ভারতীয় খনি বিদ্যাপীঠের জন্য প্রায় ১১টি প্রকৌশল প্রবেশিকা পরীক্ষা দিয়েছিলেন; যার সবগুলোতে তিনি উত্তীর্ণ হয়েছিলেন। মঞ্চ এবং নৃত্যে অংশগ্রহণ করার ফলে, তিনি তার পড়াশুনার জন্য খুব কমই সময় পেতেন, যার ফলস্বরূপ তিনি বেশ কয়েকটি ব্যাকব্লগের সম্মুখীন হয়েছিলেন, যার ফলে শেষ পর্যন্ত তাকে ডিসিই ছেড়ে দিতে হয়েছিল।অভিনয়ের জীবনে প্রবেশ করার পূর্বে, তিনি তার চার বছরের কোর্সের শুধুমাত্র তিন বছর পূর্ণ করেছিলেন। তিনি নাট্যপরিচালক ব্যারি জনের নাটকের ক্লাসেও অংশগ্রহণ করেছিলেন।
২০০৮ সালে রাজপুত বালাজি টেলিফিল্মস প্রযোজিত কিস দেশ মে হ্যায় মেরা দিল ধারাবাহিকে প্রিত জুনেজার চরিত্রে অভিনয় করেন। ২০০৯ সালে তিনি পবিত্র রিস্তা ধারাবাহিকে মানব দেশমুখের চরিত্রে অভিনয় করেন। ২০১০ সালে তিনি ড্যান্স আপাতবাস্তব টেলিভিশন অনুষ্ঠান ঝলক দিখলা জা ২-এ মস্ত কলন্দর বয়েজ টিমে অংশগ্রহণ করেন।
২০১০ সালে তিনি ঝলক দিখলা যা ৪-এ অংশগ্রহণ করে “মোস্ট কনসিস্টেন্ট পারফর্মার” পুরস্কার পান।
অভিনয় ও কর্ম জিবন—
২০১৩ সালে, সুশান্ত বন্ধুকেন্দ্রিক নাট্য-চলচ্চিত্র কাই পো চে!-তে ইশান ভট্ট চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে চলচ্চিত্রে জগতে পদার্পণ করেছিলেন; যার জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ নবাগত অভিনেতা বিভাগে ফিল্মফেয়ার পুরস্কার এবং শ্রেষ্ঠ নবাগত অভিনেতা বিভাগে জি সিনে পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন গ্রহণ করেছিলেন। অতঃপর ২০১৩ সালে, তিনি প্রণয় ও কৌতুকধর্মী চলচ্চিত্র শুধ দেশী রোমান্স রঘু রাম এবং ২০১৫ সালে অ্যাকশন ও গোয়েন্দা ভিত্তিক চলচ্চিত্র ডিটেকটিভ ব্যোমকেশ বক্সী-তে গোয়েন্দা চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। তার অভিনীত চলচ্চিত্রের মধ্যে সর্বাধিক অর্থ-উপার্জন করা চলচ্চিত্র, ২০১৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র পিকে; যেখানে তিনি আমির খান, অনুষ্কা শর্মা এবং বোমান ঈরানীর মতো অভিনয়শিল্পীদের সাথে পার্শ্বচরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। অতঃপর ২০১৬ সালে, তিনি ভারতীয় ক্রিকেটার মহেন্দ্র সিংহ ধোনির জীবনী নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্র এম.এস. ধোনি: দ্য আনটোল্ড স্টোরি-তে কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন;
(এম.এস. ধোনি : দ্য আনটোল্ড স্টোরি হল নিরাজ পাণ্ডে পরিচালিত একটি বলিউডের জীবনী মূলক চলচ্চিত্র। চলচ্চিত্রটি যৌথভাবে প্রযোজনা করেছে হৃতি স্পোর্টস ম্যানেজমেন্ট, ইন্সপ্রাইড এন্টারটেইনমেন্ট এবং আদর্শ টেলিমিডিয়া। চলচ্চিত্রটি নির্মিত হয়েছে ভারতীয় জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও সাবেক ক্রিকেটার মহেন্দ্র সিং ধোনির জীবনীর উপর ভিত্তি করে। সুশান্ত সিং রাজপুত চলচ্চিত্রের প্রধান চরিত্র ধোনির ভূমিকায় অভিনয় করেন। এছাড়াও পার্শ্ব চরিত্রে অভিনয় করেছেন কিয়ারা আদভানি, হ্যারি তেঙ্গরি, অনুপম খের, রাজেশ শর্মা এবং ভূমিকা চাওলা।)
এম.এস. ধোনি: দ্য আনটোল্ড স্টোরি-তে কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করে তিনি প্রথমবারের মতো শ্রেষ্ঠ অভিনেতা বিভাগে ফিল্মফেয়ার পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন গ্রহণ করেছিলেন। অতঃপর সুশান্ত ২০১৮ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত কেদারনাথ এবং ২০১৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ছিছোড়ের মতো বাণিজ্যিকভাবে সফল চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছিলেন।
ভারত সরকারের নীতিনির্ধারক ধারণা নীতি আয়োগ, মহিলা উদ্যোক্তা মাধ্যম (ডাব্লিউইপি) প্রচার করার জন্য তার সাথে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল।অভিনয় এবং চলমান ইনসায়েই উদ্যোগ ছাড়াও, তরুণ শিক্ষার্থীদের সহায়তার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে তিনি সুশান্ত৪এডুকেশন-এর মতো বিভিন্ন কার্যক্রমের সাথে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন।
সুশান্ত সিং রাজপুতের ১০টি চিরস্মরণীয় গান যা আজীবন আপনার মন ছুঁয়ে যাবে।
১) মাঞ্জা
কাই পো চে’ ছবির এই গানটির সংগীত পরিচালনা করেছেন স্বনান্দ কিরকিরে। মহান কানন এবং অমিত ত্রিবেদির গলায় এই গানটি নতুন করে বাঁচার অনুপ্রেরণা যোগায়।
২) খেরিয়াত
ছিছরে ছবির এই গানটিতে গলা মিলিয়েছেন অরিজিৎ সিং। গানটি প্রকাশ পাওয়ার পরেই এই গানটি সবার প্লেলিস্টে জায়গা করে নিয়েছে।
৩) কাফিরানা
কেদারনাথ ছবির এই গানটিতে একসাথে গলা মিলিয়েছেন অরিজিত সিং এবং নিকিতা গান্ধী। গানের কথা এবং সুর অশান্ত মন কে শান্ত করে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।
৪) মে তেরা বয়ফ্রেন্ড
রাবটা ছবির এই গানটিতে সুশান্তের নাচ দর্শকদের মন কেড়ে নিয়েছিল। পাশাপাশি কৃতি সানন এবং সুশান্তের যুগলবন্দী গানের কথা এবং সুর এটাকে একটি পারফেক্ট পার্টি সং বানিয়ে দেয়।
৫) যব তাক
এম এস ধোনি দ্য আনটোল্ড স্টোরি ছবির এই গানটি মানুষকে যেন বারবার প্রেমে পড়তে বাধ্য করে। গানটি গেয়েছেন আরমান মালিক এবং গানটির সুর দিয়েছেন আমান মালিক।
৬) শুভআরম্ভ
কাই পো চে’ ছবির এই গানটি বিখ্যাত হয়। সুতি পাঠক এবং দিব্যা কুমার এই গানটি গেয়েছেন। গানটিতে সুর দিয়েছেন অমিত ত্রিবেদী এবং গানটির কথা স্বনান্দ কিরকিরের। মুক্তি পাওয়ার পর থেকেই বিশেষ সব অনুষ্ঠানেই এই গানটি আকছার শোনা যায়।
৭) গুলাবি
শুদ্ধ দেশি রোমান্স’ সিনেমার এই গানটি ছিল একটি লিরিক্যাল ট্রিট। বহুদিন পর্যন্ত এই গানটি সবার ফোনের প্লেলিস্টটি একটি বাঁধাধরা জায়গা করে নিয়েছিল
৮) কৌন তুঝে
পালাক মুছাল এর গাওয়া এই গানটি এখনো পর্যন্ত সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘুরপাক খায়। এই গানটি ছিল বলিউড ইন্ডাস্ট্রি একটা মাইলস্টোনের মত। গানটির সুর এবং কথা সবার মন জয় করে নেয়।
৯) নমো নমো
কেদারনাথ ছবির এই গানটি সরাসরি ভারতীয় দর্শকদের মনের সাথে যুক্ত হয়ে যায়। গানটির ছবিতে দৃশ্যায়ন মানুষকে মুগ্ধ করে।অরিজিত সিং অমিত ত্রিবেদী এবং সুশান্ত সিং তিনজনের যুগলবন্দীতে গানটি একটি মাইলস্টোন হয়ে ওঠে।
১০) তেরে মেরে বিচ মে
শুদ্ধ দেশি রোমান্স’ মেমারি এই গানটায় সুশান্তের সাথে পরিনীতি চোপড়ার কেমিস্ট্রি দর্শকদের মন জয় করে দিয়েছিল। এই গানটি ও বেশ হিট হয়।
মৃত্যু—
৩৪ বছর বয়সী সুশান্ত সিং রাজপুতকে ২০২০ সালের ১৪ জুন, মুম্বাইয়ের বান্দ্রায় নিজের বাড়িতে সিলিং ফ্যানের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় তার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয় । তার মৃত্যুতে আলোড়িত হয়েছিলো গোটা দেশ।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

আজ ১৪ জুন, ইতিহাসের দিকে চোখ বুলিয়ে দেখে নেব ইতিহাসের এই দিনে বিশিষ্টজনদের জন্ম-মৃত্যু, দিনসহ ঘটে যাওয়া ঘটনা।।।।

আজ ১৪ জুন। এক নজরে দেখে নিই ইতিহাসের এই দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য ঘটনা, বিশিষ্টজনদের জন্ম-মৃত্যু দিনসহ গুরুত্বপূর্ণ আরও কিছু বিষয়।

দিবস—–

(ক) বিশ্ব রক্তদাতা দিবস।

আজ যাদের জন্মদিন—-

১৮৬৮ – কার্ল লান্ডষ্টাইনার, ১৯৩০ সালে নোবেলজয়ী অষ্ট্রীয় জীববিজ্ঞানী ও চিকিৎসক।  .
১৮৭৫ – জার্মান বিজ্ঞানী ও নেপচুনের আবিষ্কর্তা হাইনরিখ লুই দ্য আরেস্ট।

১৮৮০ – সতীশচন্দ্র দাশগুপ্ত, প্রখ্যাত গান্ধীবাদী নেতা ও গঠনমূলক সেবাকার্য ও পল্লীউন্নয়নের বিভিন্ন পদ্ধতির আবিষ্কারক।
১৯০৩ – আলোন্‌জো চার্চ, মার্কিন গণিতবিদ এবং যুক্তিবিদ।
১৯০৯ – বার্ল আইভস, আমেরিকান অভিনেতা এবং গায়ক।

১৯১৭ – বিনয় ঘোষ, বাঙালি সমাজবিজ্ঞানী, সাহিত্য সমালোচক, সাহিত্যিক, লোকসংস্কৃতি সাধক, চিন্তাবিদ ও গবেষক।
১৯১৬ – ডরোথি ম্যাকগুইয়ার, আমেরিকান অভিনেত্রী।
১৯২৪ – জেমস হোয়াইট ব্ল্যাক, স্কটিশ ডাক্তার এবং ওষুধবিদ।
১৯২৮ – চে গেভারা, আর্জেন্টিনীয় বিপ্লবী।

১৯২৯ – অ্যালান ডেভিডসন, বিখ্যাত ও সাবেক অস্ট্রেলীয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট তারকা।
১৯৩২ – কবি হাসান হাফিজুর রহমান।

১৯৪৬ – (ক)  ডোনাল্ড ট্রাম্প, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ধনাঢ্য ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী, বিশিষ্ট সামাজিক ব্যক্তিত্ব, লেখক এবং ৪৫ তম রাষ্ট্রপতি।

(খ) বিশিষ্ট ভারতীয় বাঙালি রাজনীতিক কলকাতা পুরসভার সাবেক মেয়র সুব্রত মুখোপাধ্যায়।
১৯৪৭ – সেলিনা হোসেন, বাংলাদেশী লেখিকা।

১৯৫৫ – কিরণ খের, ভারতীয় মঞ্চ, চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন অভিনেত্রী।
১৯৬৩ – মিজানুর রহমান সাঈদ, বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান মুফতি
১৯৬৯ – স্টেফি গ্রাফ, জার্মান মহিলা টেনিস খেলোয়াড়।
১৯৭৭ – বোয়েতা ডিপেনার, দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার।
ইতিহাসের পাতায় আজকের দিনের ঘটনাবলী—-
১৮২০ – মোহাম্মদ আলী পাশার নেতৃত্বে মিশরীয় বাহিনী, সুদানে হামলা চালিয়ে দেশটির একটি বড় অংশ দখল করে নেয়।
১৮৩০ – ফরাসি বাহিনী আলজেরিয়ায় অভিযান শুরু করে। তবে ফ্রান্সের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আলজেরিয়ার জনগণ প্রথম থেকেই সোচ্চার ছিল।
১৮৩৯ – কলকাতায় বাংলা পাঠশালার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়।
১৮৩৯ – সংবাদ প্রভাকর বাংলা ভাষার প্রথম দৈনিক সংবাদপত্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
১৮৫৫ – ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের বর্ণপরিচয় দ্বিতীয় ভাগ প্রকাশিত হয়।
১৯০৭ – নরওয়েতে নারীর ভোটাধিকার স্বীকৃত হয়।
১৯২৭ – ব্রিটিশ নারীদের ভোটাধিকার স্বীকৃত হয়।
১৯৪৯ – সাবেক সম্রাট বাও দাই’র নেতৃত্বে সায়গলে ভিয়েতনামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা।
১৯৬৩ – বিশ্বের প্রথম মহিলা নভোচারী ভ্যালেনটিনা তেরেশকোভার মহাশূন্য যাত্রা।
১৯৭৫ – বেতবুনিয়ায় বাংলাদেশের প্রথম ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র স্থাপন।
১৯৮২ – ফক্‌ল্যান্ডস যুদ্ধ শেষ হয়।
১৯৯১ – ঐতিহাসিক নগরী লেনিনগ্রাদের নতুন নামকরণ পিটার্সবার্গ।
১৯৯৩ – তানসু সিলার তুরস্কের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত।
১৯৯৫ – (ক)  আন্তর্জাতিক রক্তদাতা ফেডারেশনের উদ্যোগে প্রথম বিশ্ব রক্তদাতা দিবস পালিত হয়।
(খ) ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক দেশে ব্যাঙ্কিং পরিষেবা সম্পর্কিত “ব্যাঙ্কিং ন্যায়পাল প্রকল্প” প্রথম চালু করে।
১৯৯৭ – সিলেটের মাগুরছড়া গ্যাস ফিল্ডে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ড ঘটে।
১৯৯৯ – কসোভোতে প্রথম গণকবরের সন্ধান লাভ। ৮১টি কঙ্কাল উদ্ধার।
২০১৮ – রাশিয়ায় ২০১৮ ফিফা বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হয়।

এই দিনে মৃত্যুবরণ করেন যারা—-

১৫৫৮ – সুলতান গিয়াসউদ্দিন বলবন।
১৮৮৬ – আলেকজান্ডার নিকোলাইভিচ অস্ট্রোফস্কি, রাশিয়ান লেখক।

১৮৮৭ – মেরি কার্পেন্টার, ইংরেজ ভারতপ্রেমিক মহিলা শিক্ষাব্রতী ও সমাজসংস্কারক।
১৯২০ – মাক্স ভেবার, জার্মান সমাজবিজ্ঞানী, দার্শনিক ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানী।

১৯২৭ – জেরোম কে জেরোম, ইংরেজ লেখক।
১৯৪৬ – জন বেয়ার্ড, টেলিভিশনের আবিস্কারক।
১৯৮৬ – (ক) খুর্খা লুইস বুরখাস, লাতিন আমেরিকান লেখক।
(খ) হোর্হে লুইস বোর্হেস, আর্জেন্টিনার সাহিত্যিক।

১৯৯১ – পেগি অ্যাশক্রফ্‌ট, ইংরেজ অভিনেত্রী।
১৯৯৫ – ররি গ্যালাগার, আইরিশ ব্লুস অ্যান্ড রক বহু-যন্ত্রবাদক, সঙ্গীত রচয়িতা ও প্রযোজক।
২০০৭ – কার্ট ওয়াল্ডহেইম, অস্ট্রিয়ান কূটনীতিবীদ এবং রক্ষনশীল রাজনীতিবিদ।
২০২০ – (ক)  সাইফুল আজম – বাংলাদেশ, পাকিস্তান, জর্ডান ও ইরাক-এই চারটি দেশের বিমানবাহিনীতে দায়িত্ব পালনকারী বাংলাদেশি বৈমানিক ও রাজনীতিবিদ।
(খ) সুশান্ত সিং রাজপুত, ভারতীয় চলচ্চিত্র অভিনেতা।

।।তথ্য : সংগৃহীত ইন্টারনেট।।

Share This