Categories
কবিতা

কালো রঙের সানগ্লাস : মহীতোষ গায়েন। 

বেশ কিছুদিন ধরে ভোরের স্বপ্নে
আসছে কালো রঙের সানগ্লাস…
এর কারণ বুঝি নি,বুজলাম গতকাল;
যা হয়তো হওয়ার ছিল না,ঘটার ছিল না।

কোথা থেকে কি হলো বোঝা যায় নি,সে রাতে চোখে ঘুম ছিল না পাখিরা রোজকার মত রাত ৩টেয় দক্ষিণ জানালার ধারে বকুল গাছে মিঠে সুরে ডেকে ডেকে ঘুম পাড়াতো,আজ পারে নি।

নির্ঘুম রাতে বাথরুমের জানালা দিয়ে দেখি
চাঁদ ডুবে যাচ্ছে চরাচরে,এভাবে কত কিছু
ডুবে যায়,কেউ তার খোঁজ রাখে না,যতদিন তোমার রঙ আছে,ক্ষমতা আছে,মূল্য আছে।

কালো সানগ্লাস পরলে অন্যেরা দেখতে
পাবে না তোমার চোখে সমুদ্র,তোমার বুক
মোচড়ানো ব্যথার অভিব্যক্তি,তবে এতে
দেখা যায় বেশ কিছু মানুষের রঙ,অভিনয়।

কালো রঙের সানগ্লাস ব্যবহার করছি…
অনেক কিছু দেখছি,জানছি, বুঝছি;
কোথায় কি হচ্ছ?কেন কিছু হয়নি তাও
বোঝা যায়,তবে সময় তো সব বলবে।

কালো রঙের সানগ্লাস পরে এখনো
শিখছি,দেখছি, দিবারাত্রির কাব্য-মানুষ;
এই চশমায় অনেক সময় বুঝে নেওয়া যায়
অনেক কিছুই হচ্ছে এবং হবে কালো।

একদিন আসবে ঠিকই,তোমাকেও
পরতে হবে কালো রঙের সানগ্লাস,
তোমরা না চিনলেও তোমাদের চিনে নেবে
ভূবনডাঙায় পড়ে থাকা কালো রঙের সানগ্লাস।

Share This
Categories
কবিতা

শুধু মনে রেখো : মহীতোষ গায়েন।

সব দেখো শান্ত ভাবে,উপলব্ধি
করো,ঝড় দেখ, উড়ে যেও না,
বৃষ্টি দেখ,গায়ে মেখো না হঠাৎ
মেঘ দেখ কিন্তু ভয় পেয়ো না।

সব নারীকে দেখ ,সমঝে চলো
সব পুরুষকে দেখ,মেলে ধরো না,
কান্না বুকে চেপে রাখো,কষ্ট মনে পুষে রাখো,বলো না,অবিরত পরীক্ষা নাও।

যে শুধু তোমার জন্য ভাবে,কষ্ট পায় গোপনে শুধু তাকে বলো মনের কথা,সংসারকে নয়..
যে তোমার অসুস্থ শরীরে হাতটা ধরে এগিয়ে তোলে,প্রতিষ্ঠার জন্য লড়ে,সে তোমার ঐশ্বরিক প্রেম।

যে কষ্টে আছে,তাকে স্বান্তনা দাও-
যে তোমার কপালে স্নেহের চুম্বন দেয়;
তাকে বলো,যে তোমার মাথার যন্ত্রণার
সময় শুধু শরীরে দৃষ্টি দেয়,তাকে ত্যাগ করো।

যে তোমার অসুস্থতার খোঁজ নেয় অহরহ
সময়ে খাচ্ছো কিনা,রাত জাগছো কিনা ;
তার খোঁজ নেয়,যে তোমার অস্থিরতা,রাগ,
অভিমান,জেদ মেনে নেয়,তাকে মনে রেখো।

যে তোমার মুখে হাসি,মনে শান্তি আনতে মাথায় হাত বুলিয়ে দেয় কখনো,তাকে বলো তোমার কষ্টের কথা দুঃখের কথা,যন্ত্রণার কথা তাকে শুধু মনে রেখো;দিন রাত্রি দিন সে ভালোবাসা অপ্রকাশিত।
———–

Share This
Categories
বিবিধ

ভোটের আগে প্রস্তুতি তুঙ্গে, কালিয়াচকে বৈঠক পুলিশ কর্তাদের।

মালদা, নিজস্ব সংবাদদাতা:– আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে রবিবার সন্ধ্যায় মালদা জেলার কালিয়াচক থানায় আকস্মিক পরিদর্শনে যান জেলা পুলিশ সুপার অনুপম সিং। সন্ধ্যা প্রায় সাড়ে সাতটা নাগাদ থানায় পৌঁছে তিনি প্রথমেই থানার পরিকাঠামো, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং দৈনন্দিন প্রশাসনিক কার্যক্রম খতিয়ে দেখেন।
এ সময় তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন এসডিপিও ফয়সাল রেজা। কালিয়াচক থানার আইসি লিটন রক্ষীত ও অন্যান্য পুলিশ আধিকারিকদের নিয়ে পুলিশ সুপার একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন। বৈঠকে আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা, স্পর্শকাতর এলাকায় নজরদারি বাড়ানো, রুট মার্চের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং টহলদারি আরও জোরদার করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
পুলিশ সুপার স্পষ্ট নির্দেশ দেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোনও ধরনের গণ্ডগোল বা অশান্তির চেষ্টা বরদাস্ত করা হবে না। এলাকায় শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও তিনি জানান।
পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অনুপম সিং বলেন, “সাধারণ মানুষ যেন নির্ভয়ে ভোট দিতে পারেন, সেটাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। প্রশাসন সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।” তিনি আরও জানান, নির্বাচন প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও শান্তিপূর্ণ রাখতে পুলিশ সর্বদা সতর্ক থাকবে।

Share This
Categories
বিবিধ

বাঁশের সেতুই ভরসা, বর্ষায় বিচ্ছিন্ন গ্রাম—ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা।

মালদা, নিজস্ব সংবাদদাতা:– ভোট আসলে প্রতিশ্রুতি মেলে, কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবে রূপ নেয়নি। তাই সেতুর দাবি নিয়ে বিধানসভা নির্বাচনে ভোট বয়কটের ডাক দিল ছয়টি বুথের মানুষ। সেতু না হলে বুথে গিয়ে ভোট দেবেন না সাফ জানাচ্ছে ছয়টি বুথের মানুষ। মালদহের মানিকচক ব্লকের নাজিরপুর অঞ্চলের হাহাজান ঘাটে ভোট বয়কটের প্ল্যাকার্ড হাতে আন্দোলনে এলাকার মহিলা পুরুষরা।
নাজিরপুর অঞ্চলের লস্করপুর, লক্ষীকোল,জিতমানপুর সহ একাধিক গ্রামের মানুষের যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম কালিন্দ্রী নদীর ওপর অবস্থিত বাঁশের সেতু। বর্ষার সময় প্রায় চার মাস যাতায়াত একমাত্র নৌকা ছাড়া কোনো ভরসা থাকে না। প্রায় কুড়ি হাজার মানুষের বসবাস ছয়টি বুথ রয়েছে এলাকায়। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে তারা পাকা সেতুর দাবি তুললেও কেবলমাত্র প্রতিশ্রুতি মিলেছে। বাস্তবে কাজ না হওয়ায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন এলাকাবাসী। এবারের বিধানসভা নির্বাচনে বুথে গিয়ে ভোট দেবেন না। ছয়টি বুথের মানুষ সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভোট বয়কটের। সেতু না হলে ভোট দেবেন না বলে সাফ জানাচ্ছেন তারা।

Share This
Categories
বিবিধ রিভিউ

উন্নয়ন না হলে ভোট নয়—সাহাপুর হাজিটোলায় চরম বার্তা।

মালদা, নিজস্ব সংবাদদাতা:— বেহাল রাস্তার প্রতিবাদ। রাস্তায় জমে থাকা হাটু জলে নেমে ধানের গাছ লাগিয়ে বিক্ষোভ গ্রামবাসীদের। ভোট বয়কটের হুঁশিয়ারি গ্রামবাসীদের। মালদহের তুয়া ১ নং ব্লকের বাহারাল অঞ্চলের সাহাপুর হাজিটোলা এলাকা। বছরের বেশীর ভাগ সময় রাস্তায় জল জমে থাকছে। বার বার নেতা মন্ত্রীকে বলেও সমাধান হয়নি।জেলা তৃণমূল সভাপতির বুথেই জল যন্ত্রণায় ভুগছে সাধারণ মানুষ। তৃণমূলের বর্শিয়ান বিধায়ক সমর মুখার্জির বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে জমা জলে ধানের গাছ লাগিয়ে বিক্ষোভ দেখালেন সাধারণ মানুষ। শুধু তাই নয় রাস্তার দ্রুত সমাধান না হলে ভোট বয়কটের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্থানীয় জনসাধারণ। যদিও রতুয়া ১ নং ব্লক মিম সভাপতি শেখ জাহাঙ্গীর আশ্বাস দিয়ে বলেন আমরা ভোটে জিতলে জল নিকাশী ব্যবস্থা করে দেবো।

Share This
Categories
বিবিধ

১২ হাজার হেক্টর জমি জলে, ক্ষোভে ফুঁসছে মালদহের কৃষক।

মালদহ, নিজস্ব সংবাদদাতা:- উত্তরবঙ্গ জুড়ে দুদিনের টানা অকাল বৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন মালদহের আলু চাষিরা। জেলার প্রায় ১২ হাজার হেক্টর আলুর জমি জলের তলায় চলে যাওয়ায় চাষিদের মাথায় হাত পড়েছে। আলুর বাজারদরও নিম্নমুখী, ফলে দ্বিগুণ সমস্যায় পড়েছেন কৃষকরা। বাধ্য হয়ে অনেকেই জলে ডুবে থাকা জমি থেকে আলু তুলতে নামছেন।
এই পরিস্থিতিতে নির্বাচনী প্রচারে নেমে চাষিদের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দিতে মাঠে নামলেন মালদহ বিধানসভার বিজেপি প্রার্থী তথা বিদায়ী বিধায়ক গোপাল চন্দ্র সাহা। রবিবার মহিষবাথানি পঞ্চায়েত এলাকায় প্রচারে গিয়ে প্রথমে জনসংযোগ করেন তিনি। পরে সহরা এলাকায় আলু চাষিদের সঙ্গে সরাসরি আলু তোলার কাজে হাত লাগান।
এই সময় তিনি রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করে বলেন, “রাজ্য সরকার কৃষক বিরোধী। চাষিদের পাশে দাঁড়ানোর মতো কোনও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।”
অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে পাল্টা অভিযোগ করা হয়েছে, গত পাঁচ বছরে বিধায়ককে এলাকায় দেখা যায়নি। এখন ভোটের মুখে সহানুভূতি অর্জনের জন্য আলু তোলার নামে জমিতে নেমে শুধুমাত্র প্রচারের ছবি তোলা হচ্ছে।
রাজনৈতিক তরজার মাঝেই বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে—এই পরিস্থিতিতে আদৌ কি চাষিদের সমস্যার সমাধান হবে?

Share This
Categories
বিবিধ

তিনবারের বিধায়ক, এবার চতুর্থবার জয়ের লক্ষ্যে শ্রীকান্ত মাহাতো।

পশ্চিম মেদিনীপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা:
বিধানসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ ও প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যের শাসক দল ও বিরোধী দলগুলি জোরকদমে প্রচারে নেমে পড়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় সোমবার পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার গড়বেতা তিন নম্বর ব্লকের এক নম্বর অঞ্চলের রসকুণ্ডু বাবা বসন্ত রায়ের মন্দির-এ পুজো দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ভোট প্রচার শুরু করলেন শালবনী বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী শ্রীকান্ত মাহাতো।
এদিনের এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের সদস্য তথা অধ্যাপিকা অঞ্জনা মাহাতো, ব্লক যুব তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি প্রসেনজিৎ রানা, অঞ্চল তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি সুমন্ত পাল সহ দলের অন্যান্য নেতা-কর্মীরা।
পুজো পর্বের মাধ্যমে প্রচার সূচনা করে শ্রীকান্ত মাহাতো জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মানুষের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। তিনবারের বিধায়ক এবং দু’বারের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা নিয়ে এবারও তিনি মানুষের সমর্থন পাবেন বলে আশাবাদী। চতুর্থবারের জন্য জয়লাভের লক্ষ্যেই তিনি প্রচারে নেমেছেন বলে জানান তৃণমূল প্রার্থী।

Share This
Categories
বিবিধ

আলুর দাম কুইন্টাল প্রতি ১২০০ টাকার দাবিতে এবং কৃষকদের ঋণ মুক্তি সহ ৯ দফা দাবি নিয়ে চন্দ্রকোনারোড শহরে বিক্ষোভ মিছিল বাম সংগঠনের।

পশ্চিম মেদিনীপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা:- আলুর দাম কুইন্টাল প্রতি ১২০০ টাকার দাবিতে এবং কৃষকদের ঋণ মুক্তি সহ ৯ দফা দাবি নিয়ে রবিবার পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার গড়বেতা তিন নম্বর ব্লকের চন্দ্রকোনারোড শহরে বিক্ষোভ মিছিল করল বাম সংগঠন। এই দিন বাম সংগঠনের ডাকে সারা ভারত কৃষক সভা সহ বেশ কয়েকটি বাম সংগঠন যুক্ত হয় এই বিক্ষোভ মিছিলে। এই দিন এই বিক্ষোভ মিছিল চন্দ্রকোনারোড কার্যালয় থেকে বেরিয়ে গোটা শহর পরিক্রমা করে। এই দিন এই বিক্ষোভ মিছিলে কয়েকশো বাম সংগঠনের কর্মী সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন।এইদিন উপস্থিত ছিলেন সনৎ চক্রবর্তী,নীলাঞ্জন ব্যানার্জি,শ্যাম পাত্র সহ অন্যান্য বাম সংগঠনের কর্মী সমর্থকেরা।

Share This
Categories
বিবিধ

লেদাগামায় স্লোগানে মুখর মিছিল, মাঠে নেমেছে ঘাসফুল শিবির।

পশ্চিম মেদিনীপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা:- নির্বাচনের দিন ও প্রার্থী ঘোষণার পর সাংগঠনিক ও প্রচারকার্যে নেমে পড়েছে শাসক দল সহ রাজ্যের বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি। বুধবার বিকেলে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার গড়বেতা এক নম্বর ব্লকের ৯ নম্বর অঞ্চলের লেদাগামাতে বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে মিছিল করার পাশাপাশি আমলাগোড়া অঞ্চল তৃণমূল দলীয় কার্যালয় কর্মী বৈঠক সেরে ফেললেন ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি অসীম সিংহ রায়, এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ব্লক যুব তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি শুভজিৎ বাগ সহ অন্যান্য অঞ্চল ব্লকের নেতা কর্মীরা।

Share This
Categories
প্রবন্ধ বিবিধ

মদনমোহন তর্কালঙ্কার — বাংলার নবজাগরণের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র : দিলীপ রায় (৯৪৩৩৪৬২৮৫৪)

মদনমোহন তর্কালঙ্কারের জন্ম ১৮১৭ খ্রিষ্টাব্দের ৩রা জানুয়ারী । তিনি ছিলেন ভারতীয় উপমহাদেশের উনবিংশ শতাব্দীর অন্যতম পণ্ডিত ব্যক্তিত্ব । অর্থাৎ উনিশ শতকে বাংলার নবচেতনার জাগরণের যুগের অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব, বিদগ্ধ শিক্ষাবিদ, সমাজ সংস্কারক, কবি ও সাহিত্যিক মদনমোহন তর্কালঙ্কার । তিনি লেখ্য বাংলা ভাষার বিকাশে বিশেষ অবদান রেখে গেছেন । তিনি বাংলার নবজাগরণের অন্যতম অগ্রদূত হিসাবেও পরিগণিত । তিনি পশ্চিমবঙ্গের ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের অধ্যাপক ছিলেন এবং বাল্যশিক্ষার জন্য একাধিক পাঠ্যপুস্তক রচনা করেন।
তিনি ১৮১৭ খ্রিষ্টাব্দে নদীয়া জেলার বেথুয়াডহরী নাকাশীপাড়ার বিল্বগ্রামে হিন্দু ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন । তাঁর পিতার নাম রামধন চট্টোপাধ্যায় ও মাতার নাম বিশ্বেশ্বরী দেবী ৷ পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে মদনমোহন ছিলেন জ্যেষ্ঠ পুত্র । এখানে একটি কথা উল্লেখ করা প্রনিধানযোগ্য, সেটা হচ্ছে পারিবারিক উপাধি “চট্টোপাধ্যায়” হলেও পরবর্তীকালে প্রাপ্ত উপাধি “তর্কালঙ্কার” এবং সেই উপাধি “তর্কালঙ্কার” হিসে বেই তিনি সুপরিচিত । তাঁর দুই সন্তান, নাম – ভুবনমালা ও কুন্দমালা ।
তিনি সংস্কৃত কলেজে শিক্ষাগ্রহণ করার সময় ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের সহপাঠী ছিলেন । দু’জনেই পণ্ডিত জয়গোপাল তর্কালঙ্কার ও প্রেমচাঁদ তর্কবাগীশের কাছে সাহিত্য, ব্যাকরণ, অলঙ্কারশাস্ত্র, জ্যোতিষ ও স্মৃতিশাস্ত্র অধ্যয়ন করেন । পরবর্তীতে তিনি কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজে পড়াশুনা করেন ।
তিনি ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন । পরবর্তীতে তাঁর পদোন্নতি হয় । ১৮৫০ খ্রিষ্টাব্দের নভেম্বরে তিনি মুর্শিদাবাদ জেলার বিচারক নিযুক্ত হন । ১৮৫৫ খ্রিষ্টাব্দের ডিসেম্বরে মুর্শিদাবাদের এবং ১৮৫৬ খ্রিষ্টাব্দে কান্দির ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট নিযুক্ত হয়েছিলেন ।
তিনি ছিলেন “হিন্দু বিধবা বিবাহ” প্রথার অন্যতম উদ্যোক্তা । ১৮৫৭ খ্রিষ্টাব্দে প্রথম বিধবা বিবাহ হয় । ঐ বিয়ের পাত্র ছিলেন শ্রীশচন্দ্র বিদ্যারত্ন এবং পাত্রী ছিলেন কালীমতি । তাঁদের দুজনের সন্ধান ও যোগাযোগ করিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে মদনমোহন তর্কালঙ্কার ছিলেন অন্যতম । স্ত্রী শিক্ষা প্রসারে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য । এইজন্য “সমাজ সংস্কার ও নারীশিক্ষা প্রসার” উনিশ শতকের সমাজ সংস্কার আন্দোলনে এবং নারীশিক্ষা প্রসারের কর্মকাণ্ডে মদনমোহন তর্কালঙ্কারের অবদান চিরস্মরণীয় । ১৮৪৯ খ্রিষ্টাব্দে বেথুন সাহেব হিন্দু মহিলা স্কুল প্রতিষ্ঠা করলে সেখানে নিজের দুই মেয়ে, ভুবনমালা ও কুন্দমালাকে ভর্তি করান । নিজে বিনা বেতনে এই স্কুলে বালিকাদের শিক্ষা দিতেন । ১৮৫০ খ্রিষ্টাব্দে সর্বশুভকরী পত্রিকায় স্ত্রী শিক্ষার পক্ষে একটি যুগান্তকারী প্রবন্ধও লেখেন । শিক্ষিত উচ্চবিত্ত ও মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মেয়েদের শিক্ষাদানে বিদ্যালয়টির ভূমিকা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ ।
মদনমোহন তর্কালঙ্কার বাংলা ভাষায় শিক্ষা বিস্তারের জন্য যথেষ্ট পরিশ্রম করেন । কবিতা রচনায় তার অসামান্য দক্ষতা ছিল । তাই তাঁর শিক্ষক ও অধ্যাপকগণ “কাব্যরত্নাকর” উপাধিতে ভূষিত করেন । তাঁর বন্ধুরা মদনমোহন তর্কালঙ্কারকে ‘তর্কালঙ্কার’ উপাধিতে ভূষিত করেন । তিনি কলকাতায় একটি ছাপাখানা খোলেন । এরপর তিনি অসংখ্য সংস্কৃত ও বাংলা বই প্রকাশ করেন । তাঁর রচিত “শিশুশিক্ষা” গ্রন্থটি ঈশ্বরচন্দ্র রচিত “বর্ণপরিচয়” গ্রন্থটিরও পূর্বে প্রকাশিত । তিনি ‘শিশুশিক্ষা’ পুস্তকটির ‘প্রথম ভাগ’ ১৮৪৯ খ্রিষ্টাব্দে এবং ‘দ্বিতীয় ভাগ’ ১৮৫০ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশ করেন । পরবর্তীতে পুস্তকটির ‘তৃতীয় ভাগ’ এবং ‘বোধোদয়’ শিরোনামে ‘চতুর্থ ভাগ’ প্রকাশিত হয় । ‘বাসবদত্তা’ ও ‘রসতরঙ্গিনী’ নামে তাঁর দুটি গ্রন্থ ছাত্রাবস্থায় রচিত হয় এবং এই গ্রন্থ দুটি তাঁর উল্লেখযোগ্য সাহিত্য সৃষ্টি ।
তাঁর রচিত ‘আমার পণ’ কবিতাটি বাংলাদেশে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বাংলা পাঠ্যবইয়ের অন্যতম একটি পদ্য । [ তাঁর বিখ্যাত কিছু পংক্তির মধ্যে রয়েছে: “পাখী সব করে রব, রাতি পোহাইল” / “সকালে উঠিয়া আমি মনে মনে বলি, সারা দিন আমি যেন ভালো হয়ে চলি” / “লেখাপড়া করে যে, গাড়ি ঘোড়া চড়ে সে” ইত্যাদি । শোনা যায় রবীন্দ্রনাথের শিক্ষা আরম্ভ হয়েছিল মদনমোহনকৃত “শিশুশিক্ষা” বই দিয়ে এবং তারপর সম্ভবত “বর্ণপরিচয়” বইয়ে তাঁর শিক্ষার হাতেখড়ি ।
৯ই মার্চ ১৮৫৮ খ্রিষ্টাব্দে মাত্র একচল্লিশ বছর বয়সে কলেরা রোগে আক্রান্ত হয়ে সমাজ সংস্কারক, কবি এই মহৎপ্রাণ মহামানবটি কান্দিতে মৃত্যু বরণ করেন ।
পরিশেষে এটা দুর্ভাগ্যজনক, এত কৃতিত্বের অধিকারী হয়েও জন্মের দুশো বছর পরেও বঙ্গ সমাজে তিনি একপ্রকার বিস্মৃতির অতল তলে রয়ে গেলেন । (তথ্যসূত্রঃ সংগৃহীত) ।
//এ১০ক্স/৩৪, কল্যাণী (৭৪১২৩৫) //৯৪৩৩৪৬২৮৫৪

Share This