Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

আজ ১১ জুন, ইতিহাসের দিকে চোখ বুলিয়ে দেখে নেব ইতিহাসের এই দিনে বিশিষ্টজনদের জন্ম-মৃত্যু, দিনসহ ঘটে যাওয়া ঘটনা।।।

আজ ১১ জুন। এক নজরে দেখে নিই ইতিহাসের এই দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য ঘটনা, বিশিষ্টজনদের জন্ম-মৃত্যু দিনসহ গুরুত্বপূর্ণ আরও কিছু বিষয়।
আজ যাদের জন্মদিন—-

খ্রিস্টপূর্ব ৩২৩ – মহান আলেকজান্ডার, গ্রীক বীর ও সম্রাট।

১৫৭২ – বেন জনসন, ইংরেজ নাট্যকার, কবি এবং সাহিত্য সমালোচক।
১৮৮৫ – উকিল মুন্সী, বাংলাদেশী বাঙালি গীতিকবি।

১৮৯৭ – রামপ্রসাদ বিসমিল, মণিপুর ষড়যন্ত্র মামলায় যুক্ত বৃটিশ বিরোধী বিপ্লবী।
১৮৯৯ – নোবেলজয়ী (১৯৬৮) জাপানি সাহিত্যিক ইয়াসুনারি কাওয়াবাতা।

১৯০১ – প্রমথনাথ বিশী, বাঙালি লেখক, শিক্ষাব্রতী ও সাংসদ।
১৯০৮ – জর্জ পেইন, ইংরেজ সাবেক আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার।
১৯১৯ – রিচার্ড টড, ইংরেজ অভিনেতা।

১৯৩৭ – ভারতীয় বাঙালি চিত্রশিল্পী ও নকশাকার গণেশ পাইন।
১৯৩৯ – র‌্যাচেল হেহো ফ্লিন্ট, ইংরেজ সাবেক প্রমীলা ক্রিকেটার।
১৯৪২ – সোমাচন্দ্র ডি সিলভা, শ্রীলঙ্কান সাবেক আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার।

১৯৪৭ – বিহারের রাজনীতিবিদ লালু প্রসাদ যাদব।
১৯৫১ – কলিস কিং, ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাবেক ক্রিকেটার।
১৯৬০ – মেহমেত ওজ, টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব, কার্ডিওথোরাসিক সার্জন, অধ্যাপক, ছদ্মবিজ্ঞান প্রবর্তক এবং লেখক।
১৯৬২ – মানো মেনেজেস, ব্রাজিলীয় সাবেক ফুটবলার ও কোচ।
১৯৬৯ – পিটার ডিংকলেজ, মার্কিন অভিনেতা ও প্রযোজক।
১৯৭৮ – ড্যারিল টাফি, সাবেক ও প্রথিতযশা নিউজিল্যান্ডীয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার।

১৯৮৬ – মিচেল ম্যাকক্লেনাগান, নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটার।
১৯৮৯ – রিচমন্ড মুতুম্বামি, জিম্বাবুয়ের ক্রিকেটার।
১৯৯১ – স্তাফানি টেলর, ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিকেটার।

ইতিহাসের পাতায় আজকের দিনের ঘটনাবলী—-

১৫০৯ – ক্যাথরিনকে ইংল্যান্ডের রাজা ৮ম হেনরির বিয়ে করেন।
১৭২৭ – দ্বিতীয় জর্জ ইংল্যান্ডের রাজা হিসেবে অভিষিক্ত।
১৭৬০ – মহীশুরের নবাব হায়দার আলির সঙ্গে ব্রিটিশদের যুদ্ধ শুরু হয়।
১৭৮৮ – রাশিয়ার অভিযাত্রী গেরাসিম ইসমাইলভ আলাস্কায় পৌঁছেন।
১৮৪৬ – মৌলবি ফরিদ উদ্দিন খাঁর সম্পাদনায় বহুভাষিক সাপ্তাহিক পত্রিকা ‘জগদুদ্দীপক ভাস্কর’ প্রকাশিত হয়।
১৮৫৫ – বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি ব্যবহারের মাধ্যমে সূর্য রশ্মির বিভাজন আবিষ্কার হয়।
১৯৪২ – সোভিয়েত ইউনিয়ন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ফ্যাসিবাদ বিরোধী সামরিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
১৯৬৩ – রাজা পলের ব্রিটেনে রাষ্ট্রীয় সফরের প্রতিবাদে গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী কনস্টান্টিন কারমানসিসের পদত্যাগ।
১৯৮১ – ইরানে ভূমিকম্পে দেড় হাজার লোক নিহত ।
১৯৯১ – নোবেল শান্তি পুরস্কার ভূষিত মাদার তেরেসা বাগদাদ সফরে যান।
২০০৭ – বাংলাদেশে চট্টগ্রাম মহানগরীতে ভয়াবহ প্লাবন ও পাহাড় ধ্বসের ঘটনায় কমপক্ষে ৮৪ জন নিহত হয়েছিল।
২০১৭ – চট্টগ্রামসহ রাঙামাটি ও বান্দরবানে দুই দিনের টানা বর্ষণে পাহাড় ধসের ঘটনায় কমপক্ষে ১২৫ জন নিহত হয়েছিল।

এই দিনে মৃত্যুবরণ করেন যারা—-

১৮৫৯ – ক্লেমেন্স ভন মেটরনিখ, অস্ট্রীয় সাম্রাজ্য-এর বিদেশমন্ত্রী।
১৮৬০ – রামকমল ভট্টাচার্য, সংস্কৃত পণ্ডিত, গ্রন্থকার এবং লেখক।
১৯০৩ – সার্বিয়ার রাজা আলেকজান্ডার ও রানী দ্রাগা বেলগ্রেডে আততায়ীর হাতে নিহত।

১৯০৪ – চন্দ্রশেখর সিংহ সামন্ত, প্রখ্যাত ভারতীয় পণ্ডিত ও জ্যোতির্বিজ্ঞানী।
১৯২৭ – উইলিয়াম অ্যাটওয়েল, ইংরেজ সাবেক ঘরোয়া ক্রিকেটার।

১৯২৮ – শৈলেশ্বর বসু, বাঙালি, ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের বিপ্লবী।
১৯৩৬ – আমেরিকার লেখক রবার্ট ই. হাওয়ার্ড।

১৯৬২ – ছবি বিশ্বাস, ভারতীয় বাঙালি অভিনেতা।

১৯৭০ – লীলা নাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ছাত্রী।
১৯৭৯ – জন ওয়েন, মার্কিন চলচ্চিত্র অভিনেতা ও চলচ্চিত্র নির্মাতা।

১৯৯৭ – মিহির সেন, বাঙালি আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ও পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ দূরগামী সাঁতারু।
২০০১ – টিমোথি ম্যাকভেই, আমেরিকান সন্ত্রাসী।
২০০৫ – ভাস্কো গনসালভস পর্তুগালের ১০৩তম প্রধানমন্ত্রী।
২০১৫ – রন মুডি, ইংরেজ অভিনেতা, গায়ক, সুরকার এবং লেখক।
২০১৬ – ডোনাল্ড কার, জার্মান বংশোদ্ভূত ইংরেজ ক্রিকেটার।

।।তথ্য : সংগৃহীত ইন্টারনেট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ

বঙ্কিমচন্দ্র সেন, বাঙালি সাংবাদিক ও দেশ (পত্রিকা)র সম্পাদক।।।।

বিংশ শতকের প্রথমার্ধে বাংলার সাংবাদিকতার জগতে এক বিশেষ পরিচিত নাম বঙ্কিমচন্দ্র সেন  । তিনি স্বদেশচেতনায় ও সাহিত্যানুরাগে সাংবাদিকতা ও পত্রিকা সম্পাদনা করেছেন।

জন্ম ও শিক্ষা জীবন——

বঙ্কিমচন্দ্র সেন বর্তমান বাংলাদেশের অবিভক্ত বাংলার ময়মনসিংহ জেলার টাঙ্গাইলের ঘরিন্দা গ্রামে ১৮৯২ সালের ১৭ই ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করেন।   পিতা জগৎচন্দ্র সেন ছাত্রাবস্থায় সাহিত্যের প্রতি অনুরাগী ছিলেন।   তাঁর প্রথম কবিতা ১৯১৬ সালে ময়মনসিংহের কেদারনাথ মজুমদারের “সৌরভ” পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।   তারপর একে একে বিভিন্ন পত্রিকায়।   দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের ‘নারায়ণ’ পত্রিকাতেও তাঁর কবিতা প্রকাশিত হয়।

কর্মজীবন——

পড়াশোনা শেষ করে শিক্ষকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করলেও স্বদেশচেতনা তাঁকে আবদ্ধ রাখতে পারে নি। ১৯১৭ খ্রিস্টাব্দে কলকাতায় এসে স্যার সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের “বেঙ্গলী” পত্রিকার প্রুফ রিডার হন এবং পরে ওই পত্রিকাতেই তিনি সাংবাদিকতা শুরু করেন। সাংবাদিকতা তার কাছে ছিল দেশসেবা। তিনি পরবর্তীতে ১৯৪৪ খ্রিস্টাব্দে দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত “প্রফুল্লকুমারের সাধনা” শীর্ষক এক নিবন্ধে লিখেছেন-
‘‘আমি যখন সংবাদপত্র সেবার ব্রত গ্রহণ করি, তখন চাকুরীর টানে তা গ্রহণ করি নাই, দেশসেবার নেশার ঝোঁকেই এপথে পা দিয়েছিলাম।’’
১৯১৯ খ্রিস্টাব্দে জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ড সংগঠিত হলে ওই পত্রিকার সম্পাদকীয় স্তম্ভে তার লেখা ‘‌জেনারেল ডায়ার’‌ হইচই ফেলে দেয়। আনন্দবাজার পত্রিকার সম্পাদক বাল্যসঙ্গী সত্যেন্দ্রনাথ মজুমদারের অনুরোধে ১৯২৬ খ্রিস্টাব্দে বঙ্কিমচন্দ্র ‘আনন্দবাজারে’ যোগ দেন। ১৯৩০ খ্রিস্টাব্দে পত্রিকার সম্পাদক গ্রেফতার হলে তিনি কিছু দিন অস্থায়ী সম্পাদক হন। ১৯৩৩ খ্রিস্টাব্দে ২৪ শে নভেম্বর আনন্দবাজার পত্রিকা গোষ্ঠীর সাপ্তাহিক সাহিত্য পত্রিকা দেশ প্রকাশিত হলে ১৮৩৪ খ্রিস্টাব্দের ১৭ ফেব্রুয়ারি দেশ পত্রিকারও সম্পাদক হন তিনি । এই সময় তিনি একসঙ্গে আনন্দবাজারের সম্পাদকীয় বিভাগের কাজ এবং ‘দেশ’ পত্রিকার সম্পাদনা করতেন। তিনি দীর্ঘ তেইশ বছর দেশ পত্রিকার সম্পাদনা করে ১৯৫৬ খ্রিস্টাব্দে অবসর নেন। ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দে আইন অমান্য আন্দোলনের সমর্থনে প্রবন্ধ লেখার জন্য কারাবরণ করেন। ১৯৪৪ খ্রিস্টাব্দ হতে আধ্যাত্মিক জগতে আকৃষ্ট হয়ে সাধনমার্গে যান। বৈষ্ণবশাস্ত্র ও ধর্ম বিষয়ে বক্তৃতা দিতে থাকেন।
তার রচিত গ্রন্থগুলি সমূহ-
বৈষ্ণব ধর্মের উপর কয়েকটি গ্রন্থও রচনা করেন। তার রচিত
গ্রন্থগুলি হল –

গীতামাধুরী, লোকমাতা রানী রাসমণি,জীবনমৃত্যুর সন্ধিস্থলে, নাম মাধুরী।

মৃত্যু——

খ্যাতিমান দেশব্রতী বাঙালি সাংবাদিক বঙ্কিমচন্দ্র সেন ১৯৬৮ খ্রিস্টাব্দের ৯ই জুন প্রয়াত হন।

।। তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

আবার পাহাড়ে – এক ভ্রমণ কাহিনী।।।।

পাহাড় আমার ভালোবাসা। পাহাড় আমাকে ডাকে । তাই জীবনের অনেক গুলো বছর শুধু হিমালয়ের কোলে কোলে ঘুরে বেড়িয়েছি। পাহাড়ের মানুষদের ভালো বেসেছি।যে কটি দিন থাকতাম ওদের সুখ ওদের দুঃখ ভাগ করে নিয়েছি।আমাদের সমতলের মানুষের মতো ওরা জটিল নয়।সাদা মনের মানুষ। খুব সহজেই সবাইকে আপন করে নেয় । সেবারে আমরা খাটলিং গ্লেসিয়ার ট্রেকিং করতে গিয়েছিলাম ।

সংগে আমাদের আট বছরের ছেলে ও সংগী হয়েছিল। আমাদের গাইড পোর্টার তো ছিলই । ওর জন্য একজন আলাদা গাইড নেওয়া হয়েছিল যে ওর ছায়া সঙ্গী র মতো পাশে পাশে থাকবে । দুর্গম হাঁটাপথে আমরা নিশ্চিন্ত হতে চেয়েছিলাম। নাম ছিল তার সাম সিং।গাঁট্টাগোট্টা অথচ খুব সুন্দর ।আমার ছেলে’ বব।’খুব ভাব হয়ে গেল দুজনের। জনমানবহীন পাহাড়ি পথে ছোট্ট হলেও আমাদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে মনের আনন্দে ট্রেক করেছিল সাম সিং বন্ধু হয়ে গিয়েছিল বলে।সারা রাস্তা ছোট্ট বাবু টিকে কতো যে পাহাড়ের গল্প বলতো সেই গল্প শুনতে শুনতে কতো চড়াই উতরাই অক্লেশে পার হয়ে ছিল ভাবলে আমরাও আশ্চর্য হয়ে যাই।
গাড়োয়াল হিমালয়ের টেহেরি ডিসট্রিক্টে
খাটলিং গ্লেসিয়ার। এর তলায় একদম নীচে ভীলাঙ্গনা নদীর উৎস।বাবল্ এর মতো বুদবুদ করে নদী বেরিয়ে আসছে।অপূর্ব তার সৌন্দর্য ।চারিদিকে বরফে ঢাকা পাহাড় ।যতদূর দৃষ্টি যায় শুধু পাহাড় আর পাহাড় । ঘুত্তু ,রী , গাঙ্গীখরশোলি, বেদিখরাগ ,খাটলিং। এই আমাদের যাত্রা পথ। ঘুত্তু থেকে শুরু হাঁটা।এতো সবুজ গাছগাছালির মধ্যে দিয়ে হাঁটাপথ আমরা খুব সুন্দর দৃশ্যাবলি দেখতে দেখতে রী তে এসে পৌঁছলাম। এরপর খরস্রোতা নদী পার হয়ে পরদিন সকালে রওনা হলাম খরশোলি হয়ে বেদি খরাগে।খরশোলি পাহাড়ের কোলে সবুজে মোড়া বিশাল এক ময়দান।সে যে কি অপূর্ব। আর সেখানে চরে বেড়াচ্ছে শত শত ঘোড়া। জোড়ায় জোড়ায়।বাচ্চা নিয়ে মা ঘোড়া। সাদা কালো জোড়া সাদা সাদা জোড়া বাদামি খয়েরি সব জোড়ায় জোড়ায়।কি সে দৃশ্য না দেখলে বলে বোঝানো যাবে না। আমার ছোট্ট ছেলে বিস্ময়ে চেঁচিয়ে বলে উঠলো ঐ দেখো সাম সিং সাদা ঘোড়ার কালো বাচ্চা। তার হাততালি তে সারা পাহাড় মুখর হয়ে উঠলো।আমি সারা জীবনে এরকম স্বর্গীয় সৌন্দর্য কখনও আর দেখিলি। আসলে এটা ঘোড়া দের ব্রিডিং সেন্টার। আমরা ট্রেকিং এর পথে অনেক কিছু দেখেছি কিন্তু এরকম বুনো ঘোড়ার সম্মেলন কখনও কোথাও দেখতে পাইনি। হাঁটাপথের সব ক্লান্তি নিমেষে দূর হয়ে গেল ।দূরে একটি চালা ঘরে এদের বৃদ্ধ মালিক চুল করে বসে হাসছে আমাদের আনন্দ দেখে। এখনও অনেক পথ বাকী ।গাইড তাড়া দিয়ে আমাদের এগিয়ে নিয়ে গেল।
ঠিক হল বেদিখরাগে একটু নাস্তা করে খাটলিং এর পথে এগিয়ে যাবো।মাঝে মাঝেই রাস্তা জুড়ে বরফের জমে যাওয়া স্রোত পথ বন্ধ করে নেমেছে নীচে।আইস এক্স দিয়ে গাইডেরা পা রাখার মতো গর্ত খুঁড়ে দিয়ে আমাদের পথচলা র পথ তৈরি করে দিচ্ছে । আমরা অতি সাবধানে সেই পথ এক পা এক পা করে পার হয়ে যাচ্ছি। একবার পা ফসকে গেলেই কোথায় যে তলিয়ে যাব কেউ জানে না। এরকম তিন চারটি গ্লেসিয়ার পার হয়ে আমরা
বেদি খারগে পৌঁছালাম।সবাই বেশ ক্লান্ত। একমাত্র আমার খুদে সদস্য আর তার বন্ধু বহালতবিয়তে গল্প করে চলেছে। আমি ও আমার দলের সবাই তাই দেখে খুব নিশ্চিন্ত বোধ করলাম। সামান্য খাওয়া দাওয়া করে আমরা খাটলিং এর উদ্দেশ্যে রওনা হলাম।
এই পথটি ঘন জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে যাওয়া। অজস্র নাম না জানা বৃহৎ গাছের ডালপালা সরিয়ে সরু পাহাড়ীপথে আমরা চুপচাপ চলেছি। যেমন সুন্দর তেমন বিভীষিকা। থমথমে সবাই নিস্তব্ধতায় হেঁটে চলেছি। গাইড রাও কেমন চুল করে গেছে। চার পাঁচ মাইল আসার পর সামনে উন্মুক্ত তুষারশৃঙ্গ বলে দিল যেন আমরা এসে গেছি।কতো রূপে যে চোখের সামনে খাটলিংগ্লেসিয়ার আবির্ভূত হয়ে এলো।আজও চোখ বুজলে তিরিশ বছর আগের দেখা স্বপ্ন মাখা দৃশ্য ভেসে ওঠে। অনেক নীচে নদী। সেই গভীর ময়দানে নদীর উৎসে আর যাওয়া হলো না।গাইবার প্রচন্ড তাড়া দিয়ে নামিয়ে নিয়ে এলো আমাদের। আবার সেই বুনো পথ। আমার ছেলের ঘুম পেয়ে যাচ্ছে। সাম সিংওকে পিঠে তুলে নিয়ে দুদ্দাড় করে এগিয়ে গেল। অনেক পথ পেরিয়ে আমরা আবার বেদিখরাগে এসে পৌঁছালাম। ওখানে একটু রান্নার আয়োজন করা হয়েছে। খিচুড়ি আর আলুভাজি।পোর্টাররা খুব ব্যস্ত হয়ে চটপট রান্না করে খাইয়ে দাইয়ে আমাদের বিশ্রাম করতেও দিল না। শুধু তাড়া দিয়ে রী এর পথে নামতে বললো। আমরা এতো খানি ট্রেকিং করে রিল্যাক্সড মুডে আড্ডা দিতে চাইলে গাইড গম্ভীর মুখে বললো আভি রী মে চলো।বাদ মে ক্যাম্প ফায়ার হো গা। এতো রাগ হলো গোমড়ামুখো গাইডের ওপর। আমরা কোন কথা না বলে রী এর পথে পা বাড়ালাম।
রী এর বাংলোতে দেখি সাম সিং আমার ছেলেকে কোলে নিয়ে বসে আছে।মুখ টা খুব বিষন্ন। আমরা ভাবলাম বেচারি র খুব কষ্ট হয়েছে। রাত্রে আমরা টেন্টে নিজেরাই হৈ হুল্লোড়।করলাম। ছেলে আমার ক্লান্ত হয়ে ঘুমোচ্ছে। সাম সিং অনেক রাতে খবর নিয়ে গেল ছোটা সাব ঠিক হ্যায় কিনা। আমরা তখন মজা মস্তি গল্পে মশগুল। আর ছেলে তো আরামসে ঘুমোচ্ছে। আজ ট্রেকিং এর শেষ রাত।মনে স্ফূর্তি একটু নাচা গানা না হলে মন ভরে না। কিন্তু এবারের গাইড আর পোর্টারগুলো যেন কেমন। কাল তো ঘুত্তু। থেকে সোজা ঋষিকেশ। টায়ার্ড ছিলাম সবাই কখন ঘুমিয়ে পড়লাম।
পরদিন সকালে দেখি সাম সিং দুজন গাইড দুজন পোর্টার দুজন ঘোড়াওলা একসঙ্গে আমাদের টেন্টের বাইরে জোড়হাতে দাঁড়িয়ে আছে চোখমুখ রাত জাগা য় ক্লান্ত বিষন্ন। আমরা বেরোতেই একসাথে সবাই জিজ্ঞেস করে উঠলো ছোটা সাবধানে ঠিক হ্যায়? আমার ছেলে রিনরিন করে বলে উঠলো হাম ঠিক হ্যায়।আচ্ছা হ্যায়।গুড মর্নিং সবকো।ওরা হাউমাউ করে কেঁদে উঠলো। দেবতার ফুল ওর গায়ে মাথায় ঠেকিয়ে বললো ভগবান মালা করে গা জরুর। হামলোক সারারাত পূজা কিয়া আপ কো লিয়ে সাব।
পরে জানলাম ওখানে গাছের এক রকমের গন্ধ আছে।সেই গন্ধে মানুষ ঘুমিয়ে পড়ে। আর সেই ঘুম ভাঙে না কোনও দিন। ছোটাসাবের সেই গন্ধ লেগেছিল সাব। হাউহাউ করে কাঁদছে তো কাঁদছে। আমি শুনেই ওদের সঙ্গে কাঁদতে শুরু করে দিলাম। আমাদের এক দাদা হিমালয়ে তার জীবন কেটেছে।আমাদের অভিভাবক এবং সহ যাত্রী। তিনি সবাইকে ধমক দিয়ে চুপ করালেন। আভি তো সব ঠিক হ্যায়।রোনা দোনা বন্ধ্ করো। খুশি বানাও।মিঠাই খিলাও। কলকাতা থেকে আনা ভীমনাগের কড়াপাকের একবড়বাক্স সন্দেশ ওদের হাতে দিয়ে বললেন আভি মু মিঠা করো। আমার ছেলেকে ডেকে বললেন বব যাও নিজের হাতে ওদের মিষ্টি খাইয়ে দাও। আমার ছেলে ওদের কোলে উঠে সবাইকে যত্ন করে মিষ্টি খাইয়ে দিল। ওদের চোখে তখনও জল মুখে সলাজ হাসি। তখনই উপলব্ধি করলাম পাহাড়ের মানুষের ভালোবাসা কতো গভীর। দুদিনের চলা পথের সাথী কে কতো আপন করে নিয়েছে তাদের হৃদয়ের মাঝে। এবার আমার কান্না হলো শুরু।আমার কতো বড়ো বিপদের দিন ওরা নিজেদের মধ্যে লুকিয়ে রেখেছিল। আমার কান্না র আওয়াজ ওদের কানে যেতে ই ওরা সবাই দৌড়ে এসে আমাকে জড়িয়ে ধরে বলতে থাকে মাতাজী মাত্ রো। মাত্ রো বিটিয়া। ওরা আমার মাথায় হাত বোলাতে বোলাতে বলতে থাকবো মাত রো বিটিয়া।সেই স্নেহের পরশ এখনও আমার শরীরে মাখানো আছে।সএতোদিন পরে লিখছি চোখে জলে ভেসে যাচ্ছে ।
এবার আমরা ঘুত্তু তে ফিরে এলাম। তারপর ঋষিকেশ হয়ে দিল্লি ।তারপরে কোলকাতা ।আমার এই লেখা ভ্রমণের। কিন্তু তার সাথে নিয়ে এলাম এক সুন্দর অভিজ্ঞতা। উপলব্ধি করে এলাম পাহাড়ের মানুষের কোমল হৃদয় আর তাদের প্রাণের ভালোবাসা।

।। কলমে : শীলা পাল।।

Share This
Categories
কবিতা প্রবন্ধ

অতীন্দ্রনাথ বসু : ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনকারী বাঙালি বিপ্লবী – প্রয়াণ দিবসে শ্রদ্ধাঞ্জলি।।।।

ভূমিকা:—

ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন ছিল কিছু মানুষের অব্যর্থ পরিশ্রম যার ফলেই ব্রিটিশদের থেকে ভারত রাজনৈতিক দিক থেকে মুক্তি পেয়েছে। ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসে এমন ই এক বাঙালি বিপ্লবী ছিলেন অতীন্দ্রনাথ বসু।

পরিবার—

অতীন্দ্রনাথ বসু ১৮৭৩ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি কলকাতার জোড়াবাগানের বসু পরিবারে জন্ম গ্রহন করেন।

তার পিতার নাম অপূর্বকৃষ্ণ বসু।অতীন্দ্রনাথের পুত্র উত্তর কলকাতার নেতৃস্থানীয় অমর বসু পিতার সকল কাজে যুক্ত ছিলেন।

কুস্তি প্রতিযোগিতার আয়োজন—

অতীন্দ্রনাথ নিজে একজন কুস্তিগীর ছিলেন। ময়মনসিংহের রাজা জগৎকিশোর আচার্য চৌধুরী ছিলেন তার শিক্ষাগুরু। সিমলা ব্যায়াম সমিতির প্রাঙ্গনে ভারতীয় প্রথায় কুস্তি প্রতিযোগিতার আয়োজন তিনিই প্রথম করেছিলেন।

স্বদেশী মেলার আয়োজন—

অতীন্দ্রনাথ বসু যুবকদের দেহে ও মনে শক্তিমান করে তোলার উদ্দেশ্যে সিমলা ব্যায়াম সমিতি।

বিপ্লবী কর্মকান্ড—।
যুগান্তর বিপ্লবী দলের অন্যতম নেতৃস্থানীয় ছিলেন অতীন্দ্রনাথ বসু । তিনি স্বাধীনতা সংগ্রামে কয়েকবার কারাবরণ করেছিলেন, পাশাপাশি তাঁকে ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দ থেকে পরবর্তী পাঁচবছর ব্রিটিশবিরোধী বিপ্লবী কেন্দ্র পরিচালনার অপরাধে নির্বাসনদণ্ড ভোগ করতে হয়।১৯৩২ খ্রিষ্টাব্দে ইংরেজ সরকার সিমলা ব্যায়াম সমিতিকে শরীরচর্চার আড়ালে বিপ্লবী তৈরির আখড়া সন্দেহ করে এটিকে বেআইনি বলে ঘোষণা করে। নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু, দেশপ্রিয় যতীন্দ্রমোহন সেনগুপ্ত, ডাঃ জে. এম. দাশগুপ্ত প্রভৃতি নেতৃবর্গ সিমলা ব্যায়াম সমিতির কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

বিদ্যালয় স্থাপন—

তিনি রবীন্দ্রনাথের পরামর্শে ‘মহেশালয়’ নামের একটি বিদ্যালয় স্থাপনা করেছিলেন। ১৯০৫ খ্রিষ্টাব্দে তিনি ‘ভারত ভান্ডার’ নামের একটি সংস্থা তৈরি করেন।
অতীন্দ্রনাথ যুবকদের দেহে ও মনে শক্তিমান করে তোলার উদ্দেশ্যে ১৯২৬ খ্রিষ্টাব্দের ২রা এপ্রিল সিমলা ব্যায়াম সমিতি প্রতিষ্ঠা করেন।

দুর্গা পূজা ও স্বদেশী মেলার আয়োজন—

১৯২৫ খ্রিষ্টাব্দে তিনি সার্বজনীন দুর্গা পূজার প্রচলন করেন যাতে দেশের মানুষ বিভেদ ভুলে একত্রে উৎসবে মেতে উঠতে পারে। এই পূজা প্রাঙ্গনে স্বদেশী মেলারও আয়োজন হত। অতীন্দ্রনাথ যুবকদের দেহে ও মনে শক্তিমান করে তোলার উদ্দেশ্যে ১৯২৬ খ্রিষ্টাব্দের ২রা এপ্রিল সিমলা ব্যায়াম সমিতি প্রতিষ্ঠা করেন।

মৃত্যু—

মহান এই বিপ্লবী ১৯৬৫ সালের ১০ জুন মৃত্যুবরণ করেন। কিন্তু আজও তিনি স্মরনীয় হয়ে রয়েছেন তাঁর কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে।

।।তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও ইন্টারনেট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ

স্মরণে লোকশিক্ষা ও নারীশিক্ষার বিস্তারে অন্যতম ব্যক্তিত্ব – অতুলচন্দ্র সেন।।।

ভূমিকা:- অতুল চন্দ্র সেন ছিলেন একজন ছাত্রপ্রেমী এবং জাতীয়তাবাদী শিক্ষক, লেখক, প্রকাশক ও সমাজকর্মী, স্বদেশী আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণকারী এবং শিক্ষার উন্নয়নে, বিশেষ করে লোকশিক্ষা ও নারী শিক্ষার বিস্তারে অন্যতম ব্যক্তিত্ব।

জন্ম——-

১৮৭০ খ্রিস্টাব্দের ১লা এপ্রিল বৃটিশ ভারতের অধুনা বাংলাদেশের ঢাকা বিক্রমপুরের বাহেরক গ্রামে অতুলচন্দ্র সেনের জন্ম ।

পিতা কালীপ্রসন্ন সেন ছিলেন স্ত্রীশিক্ষা বিস্তারে আগ্রহী।

শিক্ষা জীবণ——

ঢাকায় অতুলচন্দ্রের স্কুল ও কলেজের পড়াশোনা । ১৮৯৩ খ্রিস্টাব্দে ঢাকা কলেজিয়েট স্কুল থেকে বৃত্তি পেয়ে এন্ট্রান্স পরীক্ষা, ১৮৯৭ খ্রিস্টাব্দে সংস্কৃত ও দর্শনে অনার্স সহ বি.এ.পাশ করেন। এর পরে দর্শন শাস্ত্রে এম.এ. পাশ করেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ।

কর্মজীবন——

এমএ পাশ করার পর তিনি ১৮৯৯ সালে বিক্রমপুরের স্বর্ণগ্রামের রাধানাথ স্কুলের প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। পরবর্তীতে ১৯০৩ খ্রিস্টাব্দে কলকাতা সিটি কলেজ থেকে আইন পাস করে কুমিল্লার জজ-কোর্টে আইন পেশা শুরু করেন। ১৯০৮ সালে, তিনি আবার বার ত্যাগ করেন এবং বীরভূমের হেতমপুর রাজ কলেজের অধ্যক্ষ হন। শিক্ষার্থীদের শৃঙ্খলা নিয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মতবিরোধের কারণে তিনিও অধ্যাপকদের সঙ্গে পদত্যাগ করেন। পরে ১৯১১ সালে তিনি পাবনার এডওয়ার্ড কলেজের অধ্যক্ষ এবং তারপর রিপন কলেজের কলা বিভাগের ভারপ্রাপ্ত অধ্যাপক হন।

স্বাধীনতা আন্দোলনে ভূমিকা—

অধ্যাপক প্রমথ মুখোপাধ্যায় (স্বামী প্রত্যগাত্মানন্দ), নৃপেন দে এবং জগদ্রীন্দ্র রায়ের সাথে, ১৯২১ সালে অসহযোগ আন্দোলনে ছাত্রদের অংশগ্রহণ সংক্রান্ত কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে বিজ্ঞপ্তির প্রতিবাদে পদত্যাগ করেন। তারপর অতুলচন্দ্রের কর্মজীবন ব্যাহত হয়। তাঁর কৃতি ছাত্রদের মধ্যে ছিলেন শ্রীকুমার ব্যানার্জী, রাজকুমার চক্রবর্তী, বিপ্লবী কালীচরণ ঘোষ প্রমুখ। স্বাধীনতা আন্দোলনে জড়িত নিজ গ্রামের ‘সত্যশ্রম’ সংগঠনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিলেন। তিনি ১৯৩০ – ৩১ খ্রিস্টাব্দে জ্ঞানজ্ঞান নিয়োগী এবং শরৎ ঘোষের নেতৃত্বে স্বদেশী আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন। প্রবাসী পত্রিকার কয়েকটি সংখ্যায় স্বদেশী আন্দোলনের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন।

প্রকাশনা সংস্থা স্থাপন—

পরে কলকাতায় এসে ‘উমা প্রেস’ নামে এক ছাপাখানা ও ‘সেনগুপ্ত অ্যান্ড কোম্পানি” নামে এক প্রকাশনা সংস্থা স্থাপন করেন। সেখান থেকে তার লোকশিক্ষা মূলক পুস্তক “চরিতমালা”, ‘শিক্ষা ও স্বাস্থ্য’ প্রভৃতি প্রকাশিত হয়। তিনি ১৯২৬ খ্রিস্টাব্দ হতে ১৯২৯ খ্রিস্টাব্দ কাশীতে ছিলেন। সেখানে অবস্থান কালে বাঙালিটোলায় প্রাথমিক স্কুল ও গরুড়েশ্বরে উচ্চ ইংরাজী স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন এবং তিনি স্কুলের অবৈতনিক প্রধান শিক্ষক হন। তার প্রতিষ্ঠিত ‘নারী শিক্ষা মন্দির’ই পরে ইন্টারমিডিয়েট কলেজে পরিণত হয়। কাশীর মদনপুরাতে ‘শাস্ত্রপ্রচার কার্যালয়ে’ তিনি “গীতা” সম্পাদনায় কাজ শুরু করেন। সেই কাজের সূত্রে তিনি প্রমথনাথ তর্কভূষণ ও অন্নদাচরণ চূড়ামণির ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে আসেন।
১৯৩৬ খ্রিস্টাব্দে মুন্সীগঞ্জে থাকার সময় তার বৃহৎ গ্রন্থ “শ্রীমদ্ভগবদগীতা” ব্যাখ্যা সহ প্রকাশিত হয় এবং এখানে সমাজসেবামূলক কাজে লিপ্ত ছিলেন।

মানব কল্যাণকর কাজ—

গরীবদের সেবা, অস্পৃশ্যতা দূরীকরণ, দরিদ্র ছাত্রদের শিক্ষার ব্যবস্থা ইত্যাদির জন্য বিখ্যাত বিপ্লবী অমূল্য অধিকারীর সাথে “কল্যাণ সমিতি” গঠন করেন। ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দে কলকাতায় থাকার সময় তিনি কাঠোপনিষদের উপর একটি ব্যাখ্যামূলক বই প্রকাশ করেন। বিহারের আরাতে দুই বছর অবস্থানকালে তিনি সেখানকার বাঙালিদের জন্য ১৯৪৩ সালে ‘সাহিত্য সমাজ ও পুস্তকালয়’ নামে একটি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ও গ্রন্থাগার স্থাপন করেন। ১৯৪৫ সালে, মধুপুরে তার অসুস্থ ছেলের সাথে থাকার সময়, তিনি বাঙালি মেয়েদের প্রাথমিক বিদ্যালয়কে একটি উচ্চ বিদ্যালয়ে উন্নীত করেন। পুত্রের মৃত্যুর পর তিনি কলকাতায় ফিরে আসেন এবং উপনিষদের অবশিষ্ট অংশ ভাষ্য সহ প্রকাশ করেন।

মৃত্যু—

১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দের ১০ ই জুন প্রয়াত হন অতুলচন্দ্র সেন ।

।। তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দলনের সংক্ষিপ্ত বিবরণ ।।।

সূচনা :-
বাঙালী জাতির জাতীয় সংহতি জাতীয়তাবাদকে আঘাত করার জন্য লর্ড কার্জন ১৯০৫ খ্রীষ্টাব্দে বঙ্গভঙ্গের পরিকল্পনা প্রকাশ করেন। এটি প্রকাশিত হলে সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর “বেঙ্গলী পত্রিকায় বঙ্গভঙ্গের কুফল সম্পর্কে একে “একটি গভীর জাতীয় বিষাদ” বলে ব্যাখ্যা করে জাতিকে সজাগ করেন। তিনি লেখেন যে “আমরা অপমানিত, লাঞ্ছিত ও প্রতারিত হয়েছি …… এখনও সরকার যদি বঙ্গভঙ্গ সম্পর্কে মত না বদলান তবে স্বাধীনতা আন্দোলন নতুন পথে মোড় নেবে। সারা ভারতে আগুন জ্বলবে।”
আন্দোলনের পর্যায় :-
বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে এই আন্দোলন দুটি পর্যায়ে ঘটে ছিল। প্রথমে সভা, সমিতি, আবেদনের মাধ্যমে নিয়মতান্ত্রিক পথে প্রতিবাদ জ্ঞাপন।

দ্বিতীয় পর্যায়ে বয়কট স্বদেশী আইনভঙ্গ এবং সর্বশেষে সহিংস প্রতিবাদ। বঙ্গভঙ্গ বাঙালী তথা ভারতীয়দের কাছে ছিল এক জতীয় অপমান। তাই এর বিরুদ্ধে উপরোক্ত পর্যায়ে আন্দোলন চালানোর মাধ্যমে সমগ্র ভারতবাসী ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল।
বয়কট আন্দোলন:-
১৯০৫ খ্রীঃ এর ১লা জুলাই ‘সুঞ্জীবণী’ পত্রিকার সম্পাদক কৃষ্ণকুমার মিত্র দেশোবাসীকে ব্রিটিশ পন্য বয়কট স্বদেশী দ্রব্য ব্যবহারে আহ্বান জানান। তাঁর এই প্রস্তাব বাংলাদেশের সর্বত্র সমর্থন লাভ করেন। এরপর বাঙলার সকল স্থানে বয়কট আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। বিলাতি কাপড়, লবন, চিনি, সিগারেট, কাচের চুড়ি প্রভৃতি সকল দ্রব্য বয়কট করা হয়। বিলাতী জিনিসের দোকানের সামনে ছাত্ররা পিকেটিং করে ক্রেতাদের নিরস্ত্র করতে থাকেন। বয়কট আন্দোলন ভারতবসীদের মধ্যে এমন উন্মাদনা সৃষ্টি করে যে ব্রাহ্মণ পণ্ডিতেরাও বিলাতি চিনির দ্বারা প্রস্তুত মিষ্টানও ঠাকুরকে দিতে অস্বীকার করে। ধোপারা বিলিতি কাপড় কাচতে অস্বীকার করে। নারীরা মিহি বিলাতি কাপড় ছেড়ে মোটা তাঁতের কাপড় ব্যবহার করেন এবং বিলাতী চুড়ি পড়া বর্জন করেন। ছাত্ররা ইংরেজদের স্কুল কলেজ ছেড়ে বেরিয়ে আসে, উকিল ব্যারিষ্টাররা ইংরেজদের অফিস আদালত বয়কট করেন।
রাখীবন্ধন ও অরন্ধন :-
বঙ্গভঙ্গ কার্যকলাপের দিন অর্থাৎ ১৯০৫ খ্রীষ্টাব্দের ১৬ই অক্টোবর দিনটি রবীন্দ্রনাথের প্রস্তাব অনুযায়ী ‘রাখী বন্ধন দিবস’ হিসাবে পালিত হয়। সূর্যোদয়ের পূর্বে হাজার হাজার মানুষ গঙ্গাস্নান করে মুখে বন্দেমাতরম ধ্বনি তুলে হিন্দু –মুসলমান নির্বিশেষে পরস্পর এর হাতে রাখী বেঁধে দেন।  এছাড়া রামেন্দ্র সুন্দর ত্রিবেদীর প্রস্তাব অনুযায়ী ঐ দিনটি আবার ‘অরন্ধন দিবস’ হিসাবেও পালিত হয়। মুসলমান সম্প্রদায়ের এক অংশ, এই আন্দোলনকে সমর্থন না করলেও এই আন্দোলন ব্যর্থ হয় নি।
স্বদেশী আন্দোলন :-
বঙ্গভঙ্গ বরোধী এই আন্দোলন পরবর্তী পর্যায়ে দ্বদেশী আন্দোলনে পরিনত হয়। কেনপ্না মানুষ বুঝতে পারে শুধুমাত্র বয়কট আন্দোলনে কাজ চলবে না। কারণ বয়কট আন্দোলনের ফলে বাজারে মানুষের প্রয়োজনীয় জিনিসের অভাব দেখা দেবে। আর সে সময় পরিষধরক হিসাবে কোন কিছু না পেলে এ আন্দোলন ব্যর্থ হয়ে যাবে। ফলে স্বদেশী মোটা কাপড়, চিনি, গুড়, ব্যবহার শুরু হয়। বিদেশী সিগারেট বর্জন করে মানুষ দেশীয় বিড়ি-সিগারেট ব্যবহার করতে শুরু করে জনসাধারণের স্বদেশী জিনিসের প্রতি আগ্রহ বাড়ায় স্বদেশী শিল্পের প্রসার ঘটে। দ্বদেশী ভাবধারার অনুপ্রেরণায় বহু কাপড়ের কল, ব্যাঞক, জীবনবিমা কোম্পানি , গেঞ্জি-মোজা, সাবান-চিনি, চামড়া, ঔষধ প্রভৃতির কারখানা গড়ে ওঠে। কুটির শিল্পেরও উন্নতি সাধন ঘটে।
জাতীয় ঐক্য  :-
লর্ড কার্জন বঙ্গভঙ্গ কায়েম করলে সমগ্র বাঙালী জাতি বেদনায় শিউরে ওঠে। এটা তাদের জীবনে এক জাতীয় অপমান এই অপমান ও বেদনা থেকে তাদের মনে জমা হয় ক্রোধ ও প্রতিজ্ঞা। তাই রাখী বন্ধন ও অরন্ধন এর মাধ্যমে সমগ্র হিন্দু –মুসলমান ঐক্য বদ্ধ হয়ে ইংরেজদের বিরুদ্ধে জাতীয় আন্দোলনের শপথ নেয়।
জাতীয় শিক্ষা-পরিষদ :-
স্বদেশী আন্দোলনের প্রভাব শিক্ষা ক্ষেত্রেও পরিলক্ষিত হয়। নবজাগ্রত জাতীয় চেতনার এক বলিষ্ঠ পদক্ষেপ ছিল ইংরাজী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিবর্তে জাতীয় শিক্ষালয়ের প্রতিষ্ঠা। সতীশ চন্দ্র মুখোপাধ্যায়ে ‘ডন সোস্যাইটি’ এই ক্ষেত্রে প্রধান ভূমিকা গ্রহণ করে। এই সোস্যাইটির আহ্বানে ১৯০৫ খ্রীষ্টাব্দে ৫ই নভেম্বর জনসভা ডাকা হয়। সেখানে সতীশচন্দ্র কলিকাতা বিশ্ব বিদ্যালয়ের ‘গোলদীঘির গোলাম খানা’ পরিত্যাগ করার আহ্বান জানান। ১৯০৬ খ্রীষ্টাব্দের ১৪ই আগস্ট ‘জাতীয় শিক্ষা পরিষদ’ গঠিত হয়। এই পরিষদ অনেক বিদ্যালয়ে স্থাপন করেছিল। যেখানে বৈজ্ঞানিক যান্ত্রিক ও মানবিক শিক্ষাকে জাতীয় অবধারায় পরিচালিত করা হত।
পুলিশী দমন নীতি :-
সরকার বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলন দমন করার জন্য প্রচণ্ড দমন নীতির আশ্রয় নেয়, কার্ললাইল সার্কুলার দ্বারা ছাত্রদের দমন করার ব্যবস্থা করা হয়। বঙ্গভঙ্গের প্রতিবাদে বরিশালে প্রাদেশিক সম্মেলন ডাকা হলে পুলিশ প্রচণ্ড দমন নীতি ও গ্রেপ্তার দ্বারা সম্মেলন ভণ্ড করে।
উপসংহার :-
ক্রমশ স্বদেশী আন্দোলনের মূল আদর্শ গুলি ভারতের অন্যত্র বিস্তার লাভ করে এবং বঙ্গভঙ্গ আন্দোলন ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে পরিণত হয়। শেষ পর্যন্ত আন্দোলনের চাপে পড়ে ইংরেজ সরকার ১৯১১ খ্রীষ্টাব্দে বপঙ্গভঞগ রদ করতে বাধ্য হয়।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

আজ ১০ জুন, ইতিহাসের দিকে চোখ বুলিয়ে দেখে নেব ইতিহাসের এই দিনে বিশিষ্টজনদের জন্ম-মৃত্যু, দিনসহ ঘটে যাওয়া ঘটনা।।।

আজ ১০ জুন। এক নজরে দেখে নিই ইতিহাসের এই দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য ঘটনা, বিশিষ্টজনদের জন্ম-মৃত্যু দিনসহ গুরুত্বপূর্ণ আরও কিছু বিষয়।

আজ যাদের জন্মদিন—-

১৮৩২ – নিকোলাস অটো, জার্মান প্রকৌশলী।  .

১৮৩৬ – সন্তদাস কাঠিয়াবাবা নিম্বার্ক সম্প্রদায়ের প্রখ্যাত ভারতীয় বাঙালি যোগসাধক, দার্শনিক ও ধর্মগুরু।  .
১৯১৫ – সল বেলো, কানাডীয়-আমেরিকান লেখক।  .

১৯১৮ – ফররুখ আহমদ, বাঙালি কবি।  .

১৯২২ – জুডি গারল্যান্ড, মার্কিন গায়িকা ও অভিনেত্রী ছিলেন।

১৯৪২ – আমানুল্লাহ আসাদুজ্জামান, তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের (বর্তমান: বাংলাদেশ) একজন শহীদ ছাত্রনেতা।

১৯৫৫ – প্রকাশ পাডুকোন, ভারতের অন্যতম ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড়।

১৯৬০ – নন্দমুরি বলকৃষ্ণ, ভারতের তেলুগু চলচ্চিত্র শিল্পের একজন অভিনেতা।
১৯৬৫ – এলিজাবেথ হার্লি, ইংরেজ অভিনেত্রী ও মডেল।
১৯৭২ – এরিক উপশান্ত, শ্রীলঙ্কান সাবেক আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার।
১৯৮১ – আলবি মরকেল, দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেটার।

১৯৮৯ – ডেভিড মিলার, দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেটার।
১৯৮৯ – আলেক্সান্দ্রা স্তান, রোমানীয় সঙ্গীত শিল্পী এবং সঙ্গীত লেখক।
ইতিহাসের পাতায় আজকের দিনের ঘটনাবলী—-
১৬১০- গ্যালিলিও শনি গ্রহের দ্বিতীয় চক্র আবিষ্কার করেন।
১৭৫২- বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিন ঘুড়ি উড়িয়ে বজ্র থেকে বিদ্যুৎ আহরণ করতে সক্ষম হন।
১৭৯০- ইংরেজ সেনাবাহিনী মালয় নামে পরিচিত বর্তমানকালের মালয়েশিয়ার ওপর হামলা চালায়।
১৮৮১- রাশিয়ার বিখ্যাত লেখক কাউন্ট লিও তলস্তয় চাষির ছদ্মবেশে একটি মঠের দিকে তীর্থযাত্রা শুরু করেন।
১৮৯০ – আজকের দিন রবিবার ছিল। এদিন থেকেই ভারতে সাপ্তাহিক ছুটি রবিবার নির্ধারিত হয় এবং এখনও অপরিবর্তিত রয়েছে।
১৯০৫- অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উদ্যোগে বঙ্গীয় শিল্পকলা তথা বেঙ্গল স্কুল অব আর্ট গঠিত হয়।
১৯১৬ – হুসাইন বিন আলি উসমানীয় সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে আরব বিদ্রোহের ঘোষণা দেন।
১৯২৬- তুরস্কে সর্বশেষ জানেসারী বিপ্লবের সূচনা।
১৯৪০- ইংল্যান্ড ও ফ্রান্সের বিরুদ্ধে ইতালির যুদ্ধ ঘোষণা।
১৯৪০- উইনস্টন চার্চিল তার নতুন মন্ত্রিসভা গঠন করেন।
১৯৭২- ভারতের প্রথম তাপানুকূল যাত্রীবাহী জাহাজ হর্ষবর্ধনের সমুদ্রযাত্রা।
২০০১- মিডিয়া সম্রাট সিলভিও বালুসকনি দ্বিতীয়বারের মতো ইতালির প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত।

এই দিনে মৃত্যুবরণ করেন যারা—-

১৮৭৭ – বাংলার অগ্রগণ্য সমাজপতি মহারাজা রমানাথ ঠাকুর।

১৯০২ – জ্যাসিন্ট ভার্ডাগুয়ের, কাতালান কবিদের মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি।

১৯২৬ – অ্যান্টনি গাউদি, স্প্যানিশ কাতালান স্থপতি ছিলেন।

১৯৪৮- বাঙালি লেখক অতুলচন্দ্র সেন।
১৯৪৯ – সিগ্রিড উন্ড্‌সেট, নরওয়ান ঔপন্যাসিক।
১৯৫১ – এস ওয়াজেদ আলি, বাঙালি সাহিত্যিক।

১৯৬৫ – অতীন্দ্রনাথ বসু, ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনকারী বাঙালি বিপ্লবী।
১৯৬৭ – স্পেন্সার ট্রেসি, মার্কিন অভিনেতা।

১৯৮২ – রাইনার ভের্নার ফাসবিন্ডার, পশ্চিম জার্মান চলচ্চিত্র নির্মাতা, অভিনেতা এবং নাট্যকার।

১৯৮৭ – এলিজাবেথ হার্টম্যান, মার্কিন মঞ্চ ও চলচ্চিত্র অভিনেত্রী।
১৯৯৩ – বিশিষ্ট বাঙালি বিজ্ঞানী ও চিকিৎসক সুধীরনাথ সান্যাল।
১৯৯৬ – জো ভ্যান ফ্লিট, আমেরিকান অভিনেত্রী।
২০০০ – হাফেজ আল-আসাদ, সিরিয়ার রাষ্ট্রপতি ছিলেন।
২০০০ – ব্রায়ান স্ট্যাদাম, ইংলিশ ক্রিকেটার।
২০০১ – লেইলা পাহলভি, ইরানের রাজকন্যা।
২০১৪ – গ্যারি গিলমোর, প্রখ্যাত অস্ট্রেলীয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার ছিলেন।
২০১৯ – গিরিশ কারনাড, ভারতীয় ভাষাবিজ্ঞানী ও চলচ্চিত্র পরিচালক।
২০২১ – বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত, ভারতীয় বাঙালি কবি ও চলচ্চিত্র পরিচালক।

।।তথ্য : সংগৃহীত ইন্টারনেট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

আজ বিশ্ব নিরাপদ খাদ্য দিবস, জানুন দিনটি কেন পালিত হয় এবং গুরুত্ব।।।।

মানুষের মৌলিক চাহিদার মধ্যে প্রথমেই রয়েছে খাদ্য। সেই খাদ্যকে গুরুত্ব দিতেই ৭ জুনকে বিশ্ব নিরাপদ খাদ্য দিবস হিসেবে পালন করা হয় যাতে খাদ্যজনিত ঝুঁকি প্রতিরোধ, সনাক্তকরণ ও ব্যবস্থাপনা এবং মানব স্বাস্থ্যের উন্নতির জন্য দৃষ্টি আকর্ষণ এবং পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়।

বিশ্ব খাদ্য নিরাপত্তা দিবস ২০২৫ এর থিম

২০২৫ সালের বিশ্ব খাদ্য নিরাপত্তা দিবসের প্রতিপাদ্য হল :

“খাদ্য নিরাপত্তা: বিজ্ঞানের প্রয়োগ”

এই বছরের প্রতিপাদ্য বিষয় হল বৈজ্ঞানিক গবেষণা, প্রযুক্তি এবং উদ্ভাবন কীভাবে খাদ্যজনিত ঝুঁকি প্রতিরোধ, সনাক্তকরণ এবং পরিচালনা করতে সাহায্য করে তা তুলে ধরা হয়েছে । এটি নিম্নলিখিত বিষয়গুলির ভূমিকা তুলে ধরে:

বিপদ সনাক্তকরণে ডেটা এবং ডায়াগনস্টিকস ,

উন্নত অনুশীলন বিকাশে গবেষণা ,

এবং খামার থেকে শুরু করে কাঁটা পর্যন্ত সমগ্র খাদ্য শৃঙ্খলে স্বাস্থ্যবিধি এবং সুরক্ষা বৃদ্ধির বৈজ্ঞানিক সমাধান ।

বিজ্ঞানের উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে , ২০২৫ সালের প্রতিপাদ্য প্রমাণ-ভিত্তিক নীতি নির্ধারণকে উৎসাহিত করে এবং নিরাপদ খাদ্য জীবন বাঁচায় এই ধারণাটিকে আরও শক্তিশালী করে ।

এই খাদ্য নিরাপত্তা মানগুলি কৃষক এবং যারা খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ করে তাদের গাইড করে। সংযোজন, দূষক, কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ এবং পশুচিকিত্সা ওষুধের পরিমাণ যা আমাদের দ্বারা নিরাপদে সেবন করা যায়, পরিমাপ করা, প্যাকেজিং এবং পরিবহন করা যায়, সেগুলিও এই মানগুলির অধীনে নির্ধারিত হয়। পুষ্টি এবং অ্যালার্জেনের লেবেলগুলি গ্রাহকদের একটি জ্ঞাত সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করে।
WHO প্রতি বছরের বিশ্ব খাদ্য নিরাপত্তা দিবসের থিম ঘোষণা করে বিশ্বব্যাপী অংশগ্রহণকে অনুপ্রাণিত করার জন্য সংগঠিত প্রচারাভিযান চালু করেছে। নিরাপদ খাদ্য সুস্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গ্যারান্টারগুলির মধ্যে একটি। অনিরাপদ খাবার অনেক রোগের কারণ এবং অন্যান্য খারাপ স্বাস্থ্যের অবস্থার জন্য অবদান রাখে, যেমন প্রতিবন্ধী বৃদ্ধি এবং বিকাশ, মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টের ঘাটতি, অসংক্রামক বা সংক্রামক রোগ এবং মানসিক অসুস্থতা। বিশ্বব্যাপী, প্রতি দশজনের মধ্যে একজন খাদ্যবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়। ক্যাম্পেইনটি বেশিরভাগ খাদ্যবাহিত রোগ প্রতিরোধ করার জন্য একটি টেকসই পদ্ধতিতে উন্নত স্বাস্থ্য সরবরাহ করার জন্য খাদ্য ব্যবস্থার রূপান্তর করার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেয়। খাদ্য ব্যবস্থার নীতি-নির্ধারক, অনুশীলনকারী এবং বিনিয়োগকারীদের স্বাস্থ্যের ফলাফলের উন্নতির জন্য নিরাপদ খাদ্যের টেকসই উৎপাদন এবং ব্যবহার বাড়ানোর জন্য তাদের কার্যক্রম পুনর্বিন্যাস করার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়।
বিশ্ব খাদ্য নিরাপত্তা দিবস এর ইতিহাস–
কোডেক্স অ্যালিমেন্টারিয়াস কমিশন (সিএসি), যা এফএও/ডব্লিউএইচও ফুড স্ট্যান্ডার্ড প্রোগ্রাম বাস্তবায়ন করে, ২০১৬ সালে বিশ্ব খাদ্য নিরাপত্তা দিবস উদযাপনের একটি প্রস্তাবকে সমর্থন করে। এক বছর পরে, জুলাই মাসে, খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) সম্মেলন। এর ৪০ তম অধিবেশন ডব্লিউএইচও দ্বারা সমর্থিত একটি রেজোলিউশন গ্রহণ করে ধারণাটিকে সমর্থন করেছে।
অবশেষে, ২০ ডিসেম্বর, ২০১৮ তারিখে, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ তার রেজোলিউশন ৭৩/২৫০ দ্বারা বিশ্ব খাদ্য নিরাপত্তা দিবস প্রতিষ্ঠা করে। আরও, বিশ্ব স্বাস্থ্য পরিষদ বিশ্বব্যাপী খাদ্য নিরাপত্তা, খাদ্যজনিত অসুস্থতা প্রতিরোধ এবং বিশ্বব্যাপী খাদ্য নিরাপত্তা সম্পর্কে সর্বাত্মক সচেতনতা সৃষ্টির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ হিসেবে বিশ্ব খাদ্য নিরাপত্তা দিবসের গুরুত্বকে স্বীকৃতি দিতে এবং তুলে ধরার জন্য 3 আগস্ট, ২০২০ তারিখে WHA73.5 রেজুলেশন পাস করে। খাদ্য নিরাপত্তা বজায় রাখার জন্য বিশ্বব্যাপী প্রচেষ্টা জোরদার করা।
বিশ্ব খাদ্য নিরাপত্তা দিবস এর তাৎপর্য—
আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি খাদ্যে কীটনাশক, রাসায়নিক এবং সংযোজন বৃদ্ধির দিকে পরিচালিত করেছে যা নিয়ন্ত্রিত না হলে ভোক্তাদের ক্ষতি করবে। পানি দূষণও একটি বড় সমস্যা। বিশ্ব খাদ্য নিরাপত্তা দিবস নিশ্চিত করে যে সমস্ত ভোক্তাদের জন্য সর্বোত্তম স্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে খাদ্যের মান মেনে চলা হয়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য মতে, প্রতিবছর প্রায় ৬০ কোটি মানুষ দূষিত খাবার খেয়ে অসুস্থ হয়। এ কারণে প্রতিবছর মারা যায় ৪ লাখ ৪২ হাজার মানুষ। এ ছাড়া পাঁচ বছরের চেয়ে কম বয়সী শিশুদের ৪৩ শতাংশই খাবারজনিত রোগে আক্রান্ত হয়। এর মধ্যে প্রতিবছর প্রাণ হারায় ১ লাখ ২৫ হাজার শিশু।
পরিবেশ দূষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে কমে গেছে জীববৈচিত্র্য। অর্থাৎ, ফসলের জন্য উপকারী কীটপতঙ্গ কমে গেছে, বেড়েছে কিছু ক্ষতিকর পতঙ্গ। যার ফলে ব্যবহৃত হচ্ছে পতঙ্গনাশক ও রাসায়নিক সার। তাই প্রতি বছর খাদ্যজনিত সমস্যায় প্রায় ৬ কোটি মানুষ অসুস্থতায় ভোগেন। তাই নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতরকণ বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
খাদ্যজনিত অসুস্থতা সাধারণত সংক্রামক ও বিষাক্ত পদার্থের কারণে হয়ে থাকে। ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, পরজীবী ও নানা রাসায়নিক পদার্থের কারণে খাদ্য অনিরাপদ হয়ে পড়ে। আর, এই অনিরাপদ খাদ্য গ্রহণের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করে রোগ জীবাণু ও দূষিত পদার্থ, যা অসুস্থতা এমনকি মৃত্যুরও কারণ হতে পারে।
পরিবেশ দূষণ দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে জমির মাটি ও ফসল। একই সাথে দূষিত পদার্থ প্রবেশ করছে শস্যের মাঝে। পরিবেশ দূষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে কমে গেছে জীববৈচিত্র্য। অর্থাৎ, ফসলের জন্য উপকারী কীটপতঙ্গ কমে গেছে, বেড়েছে কিছু ক্ষতিকর পতঙ্গ। যার ফলে ব্যবহৃত হচ্ছে পতঙ্গনাশক ও রাসায়নিক সার। যা পরোক্ষ ভাবে আমাদের ই শরীরে প্রবেশ করছে। এতে মানুষের শরীরে ক্ষতি ছাড়া লাভ কিছু হচ্ছে না।
তাই মানুষের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে নিরাপদ খাদ্যের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনিরাপদ খাদ্য সৃষ্টি করে নানা রকম রোগ-বালাই ও দুর্বল দেহ। যেমন, শিশুর দুর্বল বা অক্ষম হয়ে বেড়ে ওঠা, পুষ্টির অভাব, সংক্রামক কিংবা অসংক্রামক রোগের সৃষ্টি এবং মানসিক অসুস্থতা।
তাই প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) উদ্যোগে ৭ই জুন পৃথিবীব্যাপী দিবসটি পালন করা হচ্ছে। খাদ্যজনিত রোগের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ, চিহ্নিতকরণ, প্রতিরোধ ও তার ব্যবস্থা গ্রহণ এবং মানুষের স্বাস্থ্যের উন্নতির জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করতে এই দিনটি আয়োজিত হয়।

।।তথ্য : সংগৃহীত ইন্টারনেট ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ

স্মরণে প্রথিতযশা বাঙালি কথাসাহিত্যিক ও স্বাধীনতা সংগ্রামী সতীনাথ ভাদুড়ী।।।।

সতীনাথ ভাদুড়ী (২৭ সেপ্টেম্বর ১৯০৬ – ৩০ মার্চ ১৯৬৫) ছিলেন একজন বাঙালি ভারতীয় ঔপন্যাসিক এবং রাজনীতিবিদ। তিনি তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনামে চিত্রা গুপ্ত নামে পরিচিত ছিলেন।

প্রাথমিক জীবন —–

সতীনাথ ভাদুড়ী ২৭ সেপ্টেম্বর ১৯০৬ সালে বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির পূর্ণিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন, যেখানে তার পিতা ইন্দুভূষণ ভাদুড়ি আইন অনুশীলন করতেন।

বিজয়া দশমী, মায়ের বিদায়ের দিন সন্ধেয়। চার দিকে উৎসব শেষের বিষণ্ণতা। তার মধ্যেই কোশী নদীর পাড়ে পূর্ণিয়ার ‘সবুজকুন্তলা’ ভাট্টাবাজারে ইন্দুভূষণ ভাদুড়ী ও রাজবালাদেবীর ঘরে এলেন ষষ্ঠ সন্তান সতীনাথ। তার পৈতৃক নিবাস ছিল নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগরে।১৯২৮ খ্রীস্টাব্দে মা রাজবালা এবং দিদি করুণাময়ীর সাতদিনের আগে-পরে মৃত্যু ঘটে। পিতা ইন্দুভূষণের অভিজাত গম্ভীর ব্যবহারে সতীনাথ প্রথম থেকেই ছিলেন নিঃসঙ্গ এবং অন্তর্মুখিন।
শিক্ষা—
তার বাল্যশিক্ষা, আইনকর্ম, রাজনীতিতে যোগদান ও ত্যাগ, সাহিত্য-সাধনা, এমনকি মৃত্যুও পূর্ণিয়া জেলাতেই নিবদ্ধ থাকে। ১৯২৪ খ্রীস্টাব্দে ডিভিশনার স্কলারশিপ নিয়ে ফার্স্ট ডিভিশনে ম্যাট্রিক পাশ, ১৯২৬-এ পাটনা সায়েন্স কলেজ থেকে আই. এস. সি., ১৯২৮-এ অর্থনীতিতে অনার্স নিয়ে বি. এ. ১৯৩০-এ অর্থনীতিতে এম. এ. এবং ১৯৩১-এ পাটনা ল কলেজ থেকে বি. এ. পাশ করে ওকালতিতে যোগদান করেন।
তিনি তার বিএল ডিগ্রি সম্পন্ন করে ১৯৩২ এবং ১৯৩৯ সালের মধ্যে পাটনায় আইন অনুশীলন শুরু করেন।

কর্মজীবন ও স্বাধীনতার অন্দলন —
এরপর তিনি ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসে যোগ দেন এবং পূর্ণিয়ার জেলা সম্পাদক হন। এর পর ব্রিটিশ সরকারের ‘নেক নজরে’ পড়লেন তিনি। গ্রেফতার করা হল। পাঠানো হল পূর্ণিয়া জেলে। তিনি ভাগলপুর কারাগারে দুইবার বন্দী ছিলেন: ১৯৪০-৪১ এবং ১৯৪২-৪৫। ১৯৪২ সাল। ‘ভারত ছাড়ো’ আন্দোলনে উত্তাল হল দেশ। তিনিও তখন গভীর রাতে ‘জল কাদা ভেঙে বিনা টর্চের আলোয় ১৫-২০ মাইল’ হেঁটে গ্রামে গ্রামে গিয়ে সভা সংগঠিত করছেন। ১৯৪৮ সালে, তিনি কংগ্রেস থেকে ছিটকে পড়েন এবং সমাজতান্ত্রিক দলে যোগ দেন।

তার কাজ——

সতীনাথের প্রথম উপন্যাস জাগরী , যার জন্য তিনি প্রথম রবীন্দ্র পুরস্কার পেয়েছিলেন। এই বইটি তাকে যথেষ্ট খ্যাতি এনে দেয় এবং ১৯৬৫ সালে UNESCO কালেকশন অফ রিপ্রেজেন্টেটিভ ওয়ার্কসের অংশ হিসেবে ইংরেজিতে অনুবাদ করা হয়। একটি রাজনৈতিক উপন্যাস হিসেবে, জাগরী বাংলা সাহিত্যে একটি অনন্য স্থান দখল করে আছে। তিনি প্যারিসে তার অভিজ্ঞতা নিয়ে একটি ভ্রমণকাহিনী লিখেছেন, সত্যি ভ্রমন কাহিনী । তাঁর অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে গণনায়ক, চিত্রগুপ্তর ফাইল , ধোরাই চরিত মানস, অচিন রাগিনী, অপরিচিত, সঙ্গত, পারুয়ার নোটবুক ইত্যাদি।

সমালোচনামূলক প্রশংসা—

তাঁর ছোট গল্পগুলি হল বিচার ব্যবস্থার ব্যঙ্গাত্মক সমালোচনা, পক্ষপাতদুষ্ট রাজনীতি, অশোধিত নারীবাদ ইত্যাদি। প্যারোডি-টেক্সট বা এই কালো কমেডিগুলি বিশ্লেষণ করা খুবই কঠিন বা প্রায় অসম্ভব কারণ সমালোচনাগুলি স্ব-স্বীকৃত প্রাতিষ্ঠানিক সংগঠিত অর্থায়নে পরিচালিত বিজ্ঞান বা অ্যানাটোমো-বায়ো সম্পর্কে মন্তব্য করতে পারে না। ল্যাব-স্টেট বিজ্ঞানের রাজনীতি, জরিপ কৌশল, পরিসংখ্যান ইত্যাদি। ভাদুড়ির বক্তৃতার সমালোচনামূলক বিশ্লেষণ প্যারোডির প্যারোডির দিকে পরিচালিত করেছিল। একটি সমালোচক প্রমিত এবং সেইসাথে প্রাক-অনুমিত আনুষ্ঠানিক সরঞ্জাম দিয়ে গল্প-লাইন পরিমাপ করার জন্য একটি দুঃখিত চিত্র কাটাতে পারে। ভাদুড়ীর গল্পগুলি দ্বৈত অধিবেশনের দৃষ্টান্ত, যেখানে বিদ্যমান নাগরিক ও রাজনৈতিক সমাজ এবং স্টিরিওটাইপিকাল সাহিত্য সমালোচকগুলি এক সময়ে সূক্ষ্ম বুদ্ধি দ্বারা আক্রমণ করা হয়। ভাদুড়ী মডেল-তাত্ত্বিক ফর্মুলারাইজড সমালোচনার মৃত্যু ঘোষণা করেন।
তার বেশিরভাগ লেখাই বাংলা ও পূর্ব বিহারের মানুষের জীবনধারাকে চিত্রিত করে।
সতীনাথ ভাদুড়ীর রচনাসমূহ:
(ক) সতীনাথ ভাদুড়ীর উপন্যাস : ‘জাগরী’ (১৯৪৫), ‘ঢেঁাড়াই চরিতমানস’ (প্রথম চরণ ১৯৪৯, দ্বিতীয় চরণ ১৯৫১), ‘চিত্রগুপ্তের ফাইল’ (১৯৪৯), ‘সত্যি ভ্রমণকাহিনী’ (১৯৫১), ‘অচিনরাগিণী’ (১৯৫৪), ‘সংকট’ (১৯৫৭), ‘দিকভ্রান্ত’ (১৯৬৬)।
(খ) সতীনাথ ভাদুড়ীর গল্প সংকলন : ‘গণনায়ক’ (১৯৪৮), ‘অপরিচিতা’ (১৯৫৪), ‘চকাচকি’ (১৯৫৬), ‘পত্রলেখার বাবা’ (১৯৬০), ‘জলভ্রমি’ (১৯৬২), ‘আলোকদৃষ্টি’ (১৯৬২), ‘সতীনাথ-বিচিত্রা’ (মৃত্যুর পর প্রকাশিত)।
ঔপন্যাসিক সতীনাথ বেশ কিছু সার্থক ছোটগল্পেরও স্রষ্টা। তাঁর গল্প সংখ্যা ৬২। দেশ, আনন্দবাজার, অমৃতবাজার, যুগান্তর, পরিচয়, বিচিত্রা, চতুরঙ্গ, পূর্বাশা, দৈনিক কৃষক, স্বাধীনতা, বিশ্বভারতী ইত্যাদি খ্যাতনামা পত্রিকায় তার গল্পগুলি প্রকাশিত হয়। তাঁর গল্পের উৎস বাস্তব অভিজ্ঞতা। বৈশিষ্ট্য : মানবিক দৃষ্টিভঙ্গী, ব্যঙ্গপ্রবণতা, মননশীলতা ও নিরাসক্তি। তাঁর গল্পের পটভূমি পূর্ণিয়ার মাটি ও মানুষজন।

প্রয়াণ —

তাঁর প্রয়াণ ছিল বড়ই বেদনার। ১৯৬৫ সালের ৩০ মার্চ তিনি ইহলোক ত্যগ করেন।

।।তথ্য ঋণ : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন পেজ।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ

স্মরণে, খ্যাতিমান বাঙালি সঙ্গীতশিল্পী, গীতিকার ও সঙ্গীত পরিচালক-সতীনাথ মুখোপাধ্যায়।।।।।

সতীনাথ মুখোপাধ্যায় ছিলেন একজন বিখ্যাত বাঙালি কণ্ঠশিল্পী, গীতিকার এবং সঙ্গীত পরিচালক। তিনি আধুনিক বাংলা গান, নজরুল সঙ্গীত ও গজল শিল্পী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

প্রথম জীবন——

৭ জুন, ১৯২৩ সালে ভারতের লখনউতে জন্মগ্রহণ করেন সতীনাথ মুখোপাধ্যায়। তার বাবা তারকদাস মুখোপাধ্যায়।

পিতার চাকরিসূত্রে লক্ষ্ণৌতে জন্ম হলেও ছোটবেলাতেই সতীনাথ চলে আসেন হুগলির চুঁচুড়ায়। এখানেই তার বেড়ে ওঠা ও বিএ পর্যন্ত লেখাপড়া সম্পন্ন করেন। এরপর এমএ পড়ার জন্য কলকাতা আসেন।
শৈশব থেকেই সতীনাথ সঙ্গীতের প্রতি অনুরাগী ছিলেন এবং ধ্রুপদ-ধামার-টপ্পা শাস্ত্রীয় সঙ্গীত অধ্যয়ন করেছিলেন। তাঁর পিতামহ রামচন্দ্র বেহালা বাজাতেন এবং পিতা তারাকদাস গান গাইতেন। কিন্তু কেউ পেশাদার ছিলেন না। কলকাতায় পড়াশোনা ছাড়াও, সতীনাথ চিন্ময় লাহিড়ীর অধীনে শাস্ত্রীয় সঙ্গীত অধ্যয়ন করেছিলেন। কলকাতায় অ্যাকাউন্টেন্স জেনারেল (এজি বেঙ্গল) যোগদান করেন।

ব্যক্তিগত জীবন—

সতীনাথ মুখোপাধ্যায় ১৯৬৮ সালে সংগীত শিল্পী উৎপলা সেন এর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।

জনপ্রিয় গানসমূহ—-

জানি একদিন, তুমি সুন্দর তাই চেয়ে থাকি, কত না হাজার ফুল, হায় বরষা, এখনো আকাশ, বন্ধু হয় অনেকে, আকাশ এত মেঘলা, জীবনে যদি দীপ, মরমীয়া তুমি, পাষাণের বুকে, ও আকাশ প্রদীপ।

মৃত্যু—

সতীনাথ মুখোপাধ্যায় কলকাতায় পিজি হাসপাতালে বক্ষ ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন ১৯৯২ সালের ১৩ ডিসেম্বর।

।। তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This