Categories
বিবিধ

বিচারাধীন বন্দীর মৃত্যুকে ঘিরে উত্তেজনা, রতুয়া থানার সামনে বিক্ষোভ ও পথ অবরোধ।

মালদা, নিজস্ব সংবাদদাতা: বিচারাধীন এক বন্দীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠল রতুয়া থানা এলাকা। শনিবার সন্ধ্যায় থানার সামনে মৃতদেহ রেখে বিক্ষোভ দেখান মৃতের পরিবার ও আত্মীয়রা। বিক্ষোভ চলাকালীন পুলিশের সঙ্গে বচসা ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগ। পরে থানার সামনে পথ অবরোধ করায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
জানা গিয়েছে, মৃত বন্দীর নাম ভোলা মণ্ডল (৫৫)। তাঁর বাড়ি রতুয়া থানার অন্তর্গত ভাদো গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায়। গত ৯ ফেব্রুয়ারি ভাদো এলাকায় সেতাবুদ্দিন নামে এক ব্যবসায়ীর আমবাগান থেকে তাঁকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। ওই ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ ভোলা মণ্ডলসহ আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করে।
প্রথমে তাঁকে চাঁচল সংশোধনাগার-এ রাখা হয়। পরে স্থানান্তর করা হয় মালদা জেলা সংশোধনাগার-এ। পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ১১ মার্চ হঠাৎ বুকে ব্যথা ও শ্বাসকষ্ট অনুভব করলে সংশোধনাগার কর্তৃপক্ষ তাঁকে মালদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল-এ ভর্তি করে। সেখানে পুলিশ সেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার ভোরে তাঁর মৃত্যু হয়।
মৃতদেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়ার পর শনিবার সন্ধ্যায় ভোলা মণ্ডলের পরিবার ও আত্মীয়রা রতুয়া থানার সামনে এসে পুলিশের গাফিলতির অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। মৃতদেহ থানার সামনে রেখে তারা প্রতিবাদ জানান।
বিক্ষোভের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান সমর মুখার্জি। তিনি মৃতের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। তবে উত্তেজনা পুরোপুরি কমেনি। একসময় বিক্ষোভকারীরা থানায় ঢোকার চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি শুরু হয়।
পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠলে বিক্ষোভকারীরা থানার সামনে জাতীয় সড়ক ১৩১এ-এ বসে পড়ে পথ অবরোধ করেন। এর ফলে জাতীয় সড়কে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়। পরে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। এরপর মৃতের পরিবারের সদস্যরা মৃতদেহ নিয়ে সেখান থেকে চলে যান।
তবে এই ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও সরকারি প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

Share This

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *