Categories
বিবিধ রিভিউ

ফালাকাটায় তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে ৩০ পরিবার, নির্বাচনের আগে জোরদার পালাবদল।

আলিপুরদুয়ার, নিজস্ব সংবাদদাতা:
নির্বাচনের আগে ফের দলবদলের ছবি সামনে এল আলিপুরদুয়ারের ফালাকাটায়। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ফালাকাটা ব্লকের গুয়াবর নগর গ্রাম পঞ্চায়েতের ১৩/১৬২ নম্বর বুথের বাড়ই পাড়ায় তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে মোট ৩০টি পরিবার ভারতীয় জনতা পার্টি-তে যোগদান করে।
এদিন ফালাকাটা বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী দীপক বর্মন-এর হাত ধরে নবাগতরা আনুষ্ঠানিকভাবে দলে সামিল হন। তাঁদের হাতে দলীয় পতাকা তুলে দিয়ে স্বাগত জানান বিজেপি নেতৃত্ব।
এই যোগদান কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির রাজ্য কমিটির সদস্য ভূষণ মোদক, ৪ নম্বর মণ্ডল সভাপতি ফণীভূষণ রায়, সাধারণ সম্পাদক সুব্রত সাহা, মণ্ডল সম্পাদক অর্ণব ঘোষ, সম্পাদক মলিন রায় এবং সহ-সভানেত্রী শিল্পী সরকার সহ অন্যান্য নেতৃত্বরা।
রাজনৈতিক মহলের মতে, এই ধরনের যোগদান আসন্ন নির্বাচনের আগে এলাকায় রাজনৈতিক সমীকরণে প্রভাব ফেলতে পারে।

Share This
Categories
বিবিধ রিভিউ

ভোটের আগে ফালাকাটায় বিজেপির শক্তি বৃদ্ধি, একাধিক পরিবারের যোগদান।।

আলিপুরদুয়ার, নিজস্ব সংবাদদাতা:
নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক পালাবদলের ছবি ফের ধরা পড়ল আলিপুরদুয়ারের ফালাকাটায়। শনিবার ফালাকাটা ব্লকের গুয়াবর নগর গ্রাম পঞ্চায়েতের ১৩/১৭২ নম্বর বুথে তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে মোট ১০টি পরিবার আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতীয় জনতা পার্টি-তে যোগদান করে।
এদিন ফালাকাটা বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী দীপক বর্মন-এর হাত ধরে নবাগতদের দলে স্বাগত জানানো হয়। তাঁদের হাতে দলীয় পতাকা তুলে দিয়ে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান বিজেপি নেতৃত্ব।
অন্যদিকে, তপসিতালা বাজার এলাকায় একটি নতুন নির্বাচনী কার্যালয়ের উদ্বোধন করা হয়। এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির ৪ নম্বর মণ্ডল সভাপতি ফণীভূষণ রায়, সাধারণ সম্পাদক মাখন রায়, অঞ্চল প্রমুখ দুলাল রায় এবং ৭ নম্বর মহিলা মোর্চার সভানেত্রী নয়নশরী কার্জি সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
এই যোগদান ও নতুন কার্যালয় উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে বিজেপি শিবিরে উৎসাহের পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

Share This
Categories
বিবিধ রিভিউ

উন্নয়ন না হলে ভোট নয়—সাহাপুর হাজিটোলায় চরম বার্তা।

মালদা, নিজস্ব সংবাদদাতা:— বেহাল রাস্তার প্রতিবাদ। রাস্তায় জমে থাকা হাটু জলে নেমে ধানের গাছ লাগিয়ে বিক্ষোভ গ্রামবাসীদের। ভোট বয়কটের হুঁশিয়ারি গ্রামবাসীদের। মালদহের তুয়া ১ নং ব্লকের বাহারাল অঞ্চলের সাহাপুর হাজিটোলা এলাকা। বছরের বেশীর ভাগ সময় রাস্তায় জল জমে থাকছে। বার বার নেতা মন্ত্রীকে বলেও সমাধান হয়নি।জেলা তৃণমূল সভাপতির বুথেই জল যন্ত্রণায় ভুগছে সাধারণ মানুষ। তৃণমূলের বর্শিয়ান বিধায়ক সমর মুখার্জির বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে জমা জলে ধানের গাছ লাগিয়ে বিক্ষোভ দেখালেন সাধারণ মানুষ। শুধু তাই নয় রাস্তার দ্রুত সমাধান না হলে ভোট বয়কটের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্থানীয় জনসাধারণ। যদিও রতুয়া ১ নং ব্লক মিম সভাপতি শেখ জাহাঙ্গীর আশ্বাস দিয়ে বলেন আমরা ভোটে জিতলে জল নিকাশী ব্যবস্থা করে দেবো।

Share This
Categories
বিবিধ রিভিউ

পানীয় জলের সংকটে আদিবাসী গ্রাম, প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ — পাল্টা রাজনৈতিক তরজা।

মালদা, বার সংবাদদাতা: মালদা ক্যামেরা গাজোল ব্লকের হারিয়াগুড়ি পটকপাড়া এলাকায় পানীয় জলের তীব্র অভিযোগের অভিযোগ। প্রায় ৫০টি আদিবাসী বাস এই দীর্ঘ। স্থানীয়দের দাবি, দাবি ধরে রাখতে পানীয় জলের কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করতে তাদের মধ্যে দিন শুতে হচ্ছে।
গ্রামবাসীদের অভিযোগ পানীয় জল সংগ্রহ করতে অনেক যেতে পারে। অনেক সময় তারাকে পুকুর বা কুকুরের জল সংগ্রহ করে তা ফুটিয়ে তুলেছে। এর ফলে পেটের সমস্যা ও চর্মরোগের মতো সমস্যাও দেখাতে আপনাকে জানায় বাসিন্দারা।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, বাজারে পাকার বাজারও অভাব রয়েছে। বর্ষাকাল খুব কষ্টকর হওয়া আরও অনেক পরিবারের সদস্য আবাসন না তালির ছাউনি বা অস্থায়ী স্থায়ী বসবাস করা হচ্ছে। বাসিন্দাদের অংশের নির্বাচন, নির্বাচনের আগে বিভিন্ন সম্ভাব্য প্রার্থীরা এলাকায় আসতে পারে, পানীয় জল ও পাকা বাড়ির প্রতিশ্রুতি নিয়ে পরে আর খোঁজ না নিয়ে।
এই উদীয়মান আদিবাসী সংস্থার এক নেতা মোন হাঁসদা অভিযোগ করেছেন, আদিবাসী উন্নয়নের উন্নয়নের বারবার প্রশাসনের নজরে আনার চেষ্টা করা এখনও সমাধান হয়নি।
নাগরিক জনতা পার্টি-র গাজোয়ক চিন্ময় দেব বর্মণকে অনুরোধ করেন, আমি মনের জল জীবন মিশন প্রকল্পে বহুবিধ অর্থ বরাদ্দ করা শহরের রাজ্যে সেই প্রকল্পটি সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, শুধুমাত্র পাইপ বসানো হয়েছে কিন্তু অনেক জায়গায় জল জগৎ।
তবে এই অভিযোগ করেছে তৃণমূল গাজোল পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য মোজাম্মেল হোসেন বলেন, বর্তমান বাস্তবে পানীয় জলের ব্যবস্থা এমন গ্রাম কার্য নেই। তাঁর অনুরোধ, “আমার পাড়া আমার সমাধান” প্রকল্পের মাধ্যমে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করা হয়েছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, সক্রিয় দলগুলি পরিকল্পিতভাবে প্রচারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।
পানীয় জল ও পরিকাঠা সমস্যাকে কেন্দ্র করে এখন শুরু হয়েছে চাপানউতোর। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত সমাধানের সমাধান করতে পারেন।

Share This
Categories
বিবিধ রিভিউ

থ্যালাসেমিয়া ও মুমূর্ষ রোগীদের সাহায্যে রক্তদান শিবির ডাবচা-য়।

পশ্চিম মেদিনীপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা: থ্যালাসেমিয়া ও মুমূর্ষ রোগীদের সাহায্যার্থে রক্তদান শিবিরের আয়োজন করল যুবভারতী স্পোর্টিং ক্লাব। শুক্রবার চন্দ্রকোনা রোড শহর সংলগ্ন ডাবচা হরি মন্দির প্রাঙ্গণে এই রক্তদান শিবির অনুষ্ঠিত হয়।
উদ্যোক্তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এদিনের শিবিরে মহিলা ও পুরুষ মিলিয়ে মোট ৬০ জন স্বেচ্ছায় রক্তদান করেন। সংগৃহীত রক্ত থ্যালাসেমিয়া ও সংকটাপন্ন রোগীদের চিকিৎসার জন্য ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
এই মানবিক উদ্যোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় যথেষ্ট উৎসাহ দেখা যায়। শিবিরে উপস্থিত ছিলেন অজয় কুমার সামন্ত, কাশীনাথ সামন্ত, শুভজিৎ মান্না, অলোক কুমার মাইতি, প্রসেনজিৎ কুণ্ডু সহ এলাকার বিশিষ্ট সমাজসেবীরা।
উদ্যোক্তাদের দাবি, ভবিষ্যতেও সমাজের কল্যাণে এই ধরনের মানবিক উদ্যোগ অব্যাহত রাখা হবে।

Share This
Categories
বিবিধ রিভিউ

আলুর ন্যায্য দামের দাবিতে চন্দ্রকোনারোডে বিজেপির বিক্ষোভ, রাস্তায় আলু ঢেলে প্রতিবাদ।

পশ্চিম মেদিনীপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা: আলুর ফলন ভালো হলেও ন্যায্য মূল্য না পাওয়ার অভিযোগে পথে নামল Bharatiya Janata Party। বুধবার বিকেলে Chandrakona Road শহরে আলুর ন্যূনতম মূল্য প্রতি কুইন্টাল ১২০০ টাকা নির্ধারণের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও রাস্তা অবরোধ কর্মসূচি পালন করে বিজেপি নেতৃত্ব।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার Garbeta III Block এলাকার বহু আলু চাষি অভিযোগ করছেন যে এ বছর আলুর ফলন ভালো হলেও বাজারে তারা ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না। সেই দাবিতেই বিজেপির উদ্যোগে এই প্রতিবাদ কর্মসূচি সংগঠিত হয়।
বিক্ষোভকারীরা শহরের বিভিন্ন রাস্তা পরিক্রমা করে মিছিল করেন এবং পরে প্রতীকী প্রতিবাদ হিসেবে রাস্তায় আলু ঢেলে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। কিছু সময়ের জন্য রাস্তা অবরোধও করা হয়।
এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির রাজ্য কমিটির সদস্য ধীমান কোলে ও তাপস মিশ্র, ঝাড়গ্রাম সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সাধারণ সম্পাদক গৌতম কৌড়ী, মণ্ডল সভাপতি পলাশ সেন সহ অন্যান্য নেতা-কর্মীরা। কর্মসূচিতে কয়েকশো বিজেপি কর্মী ও সমর্থক অংশগ্রহণ করেন।
বিক্ষোভকারীদের দাবি, কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় অবিলম্বে আলুর ন্যূনতম মূল্য প্রতি কুইন্টাল ১২০০ টাকা নির্ধারণ করতে হবে।

Share This
Categories
বিবিধ রিভিউ

নতুন পিচের রাস্তা তৈরি, স্বস্তি তাসাটি চা বাগানের বাসিন্দাদের।

আলিপুরদুয়ার, নিজস্ব সংবাদদাতা:- দীর্ঘদিনের সমস্যার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে নতুন পিচের রাস্তা তৈরি হল তাসাটি চা বাগান এলাকায়।ফালাকাটা ব্লকের দলগাঁও গ্রাম পঞ্চায়েতের তাসাটি চা বাগানে NH-17 রোড থেকে সান্তাল লাইন পর্যন্ত প্রায় ১.৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পিচের রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই ওই নতুন রাস্তা দিয়ে মানুষের যাতায়াত শুরু হয়েছে। জানা গিয়েছে, রাজ্য সরকারের পথশ্রী প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ৭০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে এই রাস্তা তৈরি করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে রাস্তার বেহাল অবস্থার কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের যাতায়াতে চরম সমস্যার মুখে পড়তে হত। বিশেষ করে স্কুল পড়ুয়া, চা বাগানের শ্রমিক এবং সাধারণ মানুষের প্রতিদিনের চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হত। অবশেষে নতুন পিচের রাস্তা তৈরি হওয়ায় এখন এলাকার মানুষ সহজেই যাতায়াত করতে পারছেন। দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধান হওয়ায় খুশি স্থানীয় বাসিন্দারা।

Share This
Categories
বিবিধ রিভিউ

ধর্মীয় আচার ও সেবামূলক কর্মসূচিতে উৎসাহ গড়বেতা তিন নম্বর ব্লকে।।

পশ্চিম মেদিনীপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা:- পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার গড়বেতা তিন নম্বর ব্লকের চন্দ্রকোনারোড বিলা শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ সারদা সেবা সংঘের উদ্যোগে পুজোআর্চনা ও অন্নভোগ বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় শনিবার। এইদিন সকল থেকে মঙ্গল আরতি চন্ডীপাঠ,পুজোআর্চনা ও হোম যজ্ঞের মধ্য দিয়ে পালিত হলো ভক্ত সম্মেলন।এইদিন উপস্থিত ছিলেন রামকৃষ্ণ মো মঠের অধ্যক্ষ স্বামী নিহিতানন্দ জি, ও লালগড় রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের অধ্যক্ষ দেববরানন্দ জি, এছাড়া উপস্থিত ছিলেন সম্পাদক পীযূষ তেওয়ারী সহ অন্যান্য ভক্তবৃন্দ।

Share This
Categories
বিবিধ রিভিউ

‘ইন্ডিয়ান এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান ও ‘উত্তরায়ণ’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন।

রাজীব দত্ত, রথীন্দ্র মঞ্চ:- ২২ ফেব্রুয়ারি, রবিবার রথীন্দ্র মঞ্চ প্রাঙ্গণে আয়োজিত হলো কলম শিল্পী ইন্টারন্যাশনাল লিটারারি এন্ড কালচারাল অর্গানাইজেশন–এর উদ্যোগে “কলম শিল্পী গ্র্যান্ড ফেস্টিভ্যাল – সিজন ১”। জোড়াসাঁকোর সাংস্কৃতিক আবহে এদিন রথীন্দ্র মঞ্চ সাক্ষী থাকল এক বর্ণাঢ্য সাহিত্য–সংস্কৃতি মিলনমেলার।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট অভিনেত্রী ও চিকিৎসক দীপান্বিতা হাজারিকা, মিস বেঙ্গল
সপ্তমী ব্যানার্জী, কাজল সুর, পার্থ সারথী মুখার্জী, আন্তর্জাতিক তবলা বাদক মল্লার ঘোষ, প্রাক্তন ডেপুটি কমিশনার গৌতম দাস সহ বহু গুণী ব্যক্তিত্ব। তাঁদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি বিশেষ মর্যাদা লাভ করে।

নাচ, গান, আবৃত্তি এবং “ইন্ডিয়ান এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড” প্রদান পর্বে সেজে ওঠে পুরো মঞ্চ।
শিক্ষা ,সাহিত্য, সংস্কৃতি, বিজ্ঞান, সমাজসেবা তথা
সমাজের বিভিন্ন স্তরের গুনিজনদের প্রদান করা হয়
“ইন্ডিয়ান এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড”। প্রদান পর্বে সেজে ওঠে পুরো মঞ্চ। সঙ্গীত, আবৃত্তি, নৃত্য ‌শিল্পীদের পরিবেশনা দর্শকদের মুগ্ধ করে।

অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল যৌথ কবিতা সংকলন “উত্তরায়ণ”–এর মোড়ক উন্মোচন এবং জার্নাল কাব্যগ্রন্থ “মন বিকাশের দর্শন”–এর প্রকাশ। উত্তরায়ণ গ্রন্থটি প্রকাশিত হয়েছিল ভোরের আলো প্রকাশনী থেকে। সাহিত্যচর্চার পাশাপাশি মননশীল ভাবনার দিকটিও এই উৎসবে বিশেষ গুরুত্ব পায়।

সমগ্র অনুষ্ঠানটি সুচারুভাবে পরিচালনা করেন সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা ও ডিরেক্টর পূর্বাশা মিত্র। মুখ্য ভূমিকায় ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির সভাপতি কলকাতার সিট কলেজের উপাধ্যক্ষ বিশিষ্ট লেখক, গবেষক, সম্পাদক ড. মহীতোষ গায়েন । সহযোগিতায় ছিলেন চিফ এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ড. অর্ণব দত্ত, সহদেব দোলুই, সান্ত্বনা তরফদার এবং কালচারাল ডিরেক্টর অজয় ভট্টাচার্য্য। অনুষ্ঠানের শুভানুধ্যায়ী হিসেবে সহযোগিতা করেন কেয়া চক্রবর্তী ও শুচীতা গাঙ্গুলী ফুল। এবং অনুষ্ঠান টিকে সুন্দরভাবে সাজিয়ে সাফল্যমন্ডিত করার জন্য যিনি অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন প্রায় এক মাস ধরে তিনি হলেন ভোরের আলো প্রকাশনীর প্রকাশক আহেদা খাতুন।

সাহিত্য ও সংস্কৃতির এক সুন্দর মেলবন্ধনে “কলম শিল্পী গ্র্যান্ড ফেস্টিভ্যাল – সিজন ১” হয়ে উঠেছিল এক স্মরণীয় আয়োজন, যা আগামী দিনে আরও বৃহত্তর পরিসরে আয়োজনের প্রত্যাশা জাগিয়ে রাখলো। এদিনের রথীন্দ্র মঞ্চের প্রেক্ষাগৃহে চার শতাধিক শিল্পী, সাহিত্যিক তথা লেখক, বাচিক শিল্পীও সমাজের বিভিন্ন স্তরের গুনিজনদের উপস্থিতি অনুষ্ঠানটিকে মহিমান্বিত করে তোলে।

Share This
Categories
প্রবন্ধ বিবিধ রিভিউ

লাভা : মেঘের ভেতর লুকিয়ে থাকা উত্তরবঙ্গের নীরব পাহাড়।

পাহাড়ে যাওয়ার কথা উঠলেই অনেকের মনে ভেসে ওঠে জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রের নাম। কিন্তু যারা ভিড়ের বাইরে, প্রকৃতির গভীর নীরবতার মধ্যে নিজেকে খুঁজে নিতে চান, তাঁদের জন্য উত্তরবঙ্গের ছোট্ট হিল স্টেশন লাভা এক অনন্য আশ্রয়। এখানে নেই বড় শহরের কোলাহল, নেই পর্যটনের অতিরিক্ত ব্যস্ততা; আছে শুধু মেঘের ভেসে বেড়ানো, পাইন বনের গন্ধ, আর দূরে তুষারঢাকা শিখরের আবছা হাসি।
পাহাড়ে পৌঁছোনোর অনুভূতি
শিলিগুড়ি ছেড়ে পাহাড়ি পথে গাড়ি যখন ধীরে ধীরে ওপরে উঠতে থাকে, তখনই বদলে যেতে শুরু করে দৃশ্যপট। সমতলের গরম হাওয়া মিলিয়ে যায়, তার জায়গায় আসে ঠান্ডা, স্নিগ্ধ বাতাস। বাঁক নিতে নিতে রাস্তা একসময় ঢুকে পড়ে গভীর সবুজের ভেতর। সেই সবুজের মাঝেই কোথাও যেন লুকিয়ে আছে লাভা।
সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় সাত হাজার ফুট উচ্চতায় অবস্থিত এই ছোট্ট পাহাড়ি জনপদটি উত্তরবঙ্গের অন্যতম উঁচু বসতি অঞ্চল। পথের দু’ধারে পাইন, ওক আর শ্যাওলাধরা গাছের সারি, মাঝেমধ্যে কুয়াশা এসে ঢেকে দেয় চারপাশ। মনে হয়, যেন প্রকৃতি নিজেই এখানে পর্দা টেনে রেখেছে—শুধু ধৈর্য ধরলেই ধীরে ধীরে উন্মোচিত হবে তার রূপ।
নিওরা ভ্যালির সবুজ রহস্য
লাভার অন্যতম আকর্ষণ হলো পাশেই অবস্থিত নিওরা ভ্যালি ন্যাশনাল পার্ক। এই সংরক্ষিত অরণ্য উত্তরবঙ্গের সবচেয়ে সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্যের ভাণ্ডারগুলোর একটি। ঘন বন, উঁচু গাছ, অদ্ভুত নীরবতা—সব মিলিয়ে এক রহস্যময় পরিবেশ।
ভোরবেলায় যদি কেউ জঙ্গলের কিনারে দাঁড়ায়, শুনতে পাবে অচেনা পাখির ডাক। ভাগ্য ভালো হলে দেখা মিলতে পারে বিরল লাল পান্ডার, কিংবা দূরে হিমালয়ান কালো ভালুকের উপস্থিতির চিহ্ন। এই অরণ্য শুধু প্রাণীজগতের আশ্রয় নয়, প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্যও এক বিশাল শিক্ষালয়। এখানে দাঁড়ালে বোঝা যায়, মানুষের চেয়ে প্রকৃতির অস্তিত্ব কত বড়, কত গভীর।
ভোরের কাঞ্চনজঙ্ঘা
লাভায় রাত নামে দ্রুত। সন্ধ্যার পর পাহাড়ি হাওয়ায় শীত বাড়তে থাকে, আর আকাশ ভরে যায় তারায়। কিন্তু প্রকৃত বিস্ময় অপেক্ষা করে ভোরবেলায়। আকাশ পরিষ্কার থাকলে দূরে দেখা যায় মহিমান্বিত কাঞ্চনজঙ্ঘা।
প্রথম সূর্যালোক যখন তুষারঢাকা চূড়ায় পড়ে, তখন সেই সাদা বরফ সোনালি আভায় ঝলমল করে ওঠে। চারপাশে তখনও মেঘের আস্তরণ, কিন্তু শিখর যেন আলোয় জেগে ওঠে। সেই মুহূর্তে মনে হয়, পৃথিবীর সব শব্দ থেমে গেছে—শুধু পাহাড় আর আকাশের নীরব সংলাপ চলছে।
লাভা মনাস্ট্রির শান্তি
লাভার কেন্দ্রে দাঁড়িয়ে আছে একটি বৌদ্ধ মঠ, পরিচিত লাভা মনাস্ট্রি নামে। রঙিন প্রার্থনাধ্বজা বাতাসে উড়তে থাকে, মাঝে মাঝে শোনা যায় প্রার্থনার ঘণ্টাধ্বনি। মঠের ভেতরে প্রবেশ করলে যে প্রশান্তি অনুভূত হয়, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন।
লাল-হলুদ রঙের দেয়াল, প্রার্থনার চাকা, ধূপের মৃদু গন্ধ—সব মিলিয়ে এক আধ্যাত্মিক পরিবেশ। এখানে বসে অনেকেই ধ্যান করেন, কেউ বা শুধু চুপচাপ বসে থাকেন। পাহাড়ি নীরবতার সঙ্গে এই প্রার্থনাস্থলের মিলন যেন মনকে অন্য এক স্তরে নিয়ে যায়।
গ্রামের জীবন ও মানুষ
লাভার মানুষজন সরল, আন্তরিক এবং অতিথিপরায়ণ। লেপচা, ভুটিয়া ও নেপালি সম্প্রদায়ের মানুষেরাই এখানে প্রধানত বসবাস করেন। তাঁদের জীবন প্রকৃতিনির্ভর। ছোট চাষের জমি, পশুপালন, আর পর্যটকদের জন্য হোমস্টে—এই নিয়েই তাঁদের দৈনন্দিন জীবন।
হোমস্টেতে থাকলে বোঝা যায় পাহাড়ি জীবনের প্রকৃত স্বাদ। সকালের গরম চা, ঘরে তৈরি খাবার, আর পরিবারের সদস্যদের আন্তরিকতা—সব মিলিয়ে মনে হয় যেন আত্মীয়ের বাড়িতে এসেছি। পাহাড়ের ঠান্ডা রাতে আগুন জ্বালিয়ে গল্প করার আনন্দ শহুরে জীবনে দুর্লভ।
ঋতুর বদলে বদলে লাভা
লাভার রূপ ঋতুভেদে বদলে যায়।
বসন্তকালে রডোডেনড্রনের লাল ফুল পাহাড়কে রাঙিয়ে তোলে। গ্রীষ্মে আবহাওয়া মনোরম, আর কুয়াশা ভোরবেলায় নরম চাদরের মতো ছেয়ে থাকে। বর্ষায় চারদিক সবুজে ভরে ওঠে, যদিও তখন রাস্তা কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। শীতে তাপমাত্রা অনেকটাই নেমে যায়; কখনও কখনও হালকা তুষারপাতও হয়, যা পাহাড়কে আরও রূপকথার মতো করে তোলে।
খাবার ও পাহাড়ি স্বাদ
লাভার খাবার সাদামাটা হলেও স্বাদে অনন্য। গরম মোমো, থুকপা, পাহাড়ি সবজির ঝোল—এইসব খাবার ঠান্ডায় শরীর গরম রাখে। চা এখানে শুধু পানীয় নয়, এক অনুভূতি। সকালের কুয়াশার মধ্যে ধোঁয়া ওঠা চায়ের কাপ হাতে দাঁড়ালে মনে হয়, এই মুহূর্তটাই জীবনের সবচেয়ে শান্ত সময়।
নীরবতার মূল্য
লাভার সবচেয়ে বড় সম্পদ তার নীরবতা। এখানে রাত গভীর হলে শুধু বাতাসের শব্দ শোনা যায়। শহরের হর্ন, যানজট বা কোলাহল নেই। এই নীরবতাই মানুষকে নিজের ভেতরে ফিরিয়ে নিয়ে যায়।
অনেকেই বলেন, পাহাড় মানুষকে বদলে দেয়। লাভায় কয়েকদিন কাটালে বোঝা যায় কথাটা মিথ্যে নয়। এখানে সময়ের গতি ধীর, চিন্তাভাবনা স্বচ্ছ, আর মন অকারণেই হালকা হয়ে যায়।
উপসংহার
লাভা কোনও ঝাঁ-চকচকে পর্যটনকেন্দ্র নয়। এটি এক শান্ত পাহাড়ি গ্রাম, যেখানে প্রকৃতি এখনো তার প্রাচীন রূপ ধরে রেখেছে। যারা সত্যিকারের পাহাড়ের স্বাদ নিতে চান—মেঘের ভেতর হাঁটতে চান, ভোরের আলোয় তুষারশিখর দেখতে চান, কিংবা নিঃশব্দে বসে নিজের সঙ্গে সময় কাটাতে চান—তাঁদের জন্য লাভা এক অনন্য গন্তব্য।
পাহাড় সবসময় বড় নয়, উঁচু নয়, বিখ্যাতও নয়—কখনও কখনও পাহাড় মানে শুধু শান্তি। আর সেই শান্তির আরেক নাম—লাভা।

Share This