Categories
প্রবন্ধ বিবিধ

জার্মানির হাইডেলবার্গ – নেকার নদীর তীরে ইউরোপের সবচেয়ে রোমান্টিক শহর।।।

জার্মানির দক্ষিণ-পশ্চিমে নেকার নদীর তীরে অবস্থিত হাইডেলবার্গ (Heidelberg) এমন এক শহর, যেখানে ইতিহাস, সৌন্দর্য, কবিতা এবং যুবসমাজের প্রাণচাঞ্চল্য একসাথে মিশে আছে। জার্মানির সবচেয়ে প্রাচীন বিশ্ববিদ্যালয়, প্রাচীন দুর্গ, মনোমুগ্ধকর পুরনো শহর—সব মিলিয়ে হাইডেলবার্গ এমন একটি শহর যা ভ্রমণকারীর মনকে প্রথম দেখাতেই জয় করে নেয়।


হাইডেলবার্গের প্রথম ছাপ – নেকার নদী আর লাল-ইটের সেতু

শহরে ঢুকতেই চোখে পড়বে শান্ত নেকার নদী আর তার উপর দাঁড়িয়ে থাকা ঐতিহাসিক ওল্ড ব্রিজ (Alte Brücke)। লাল পাথরের এই সেতু শহরের এক অনন্য প্রতীক। নদীর জল, শহরের রঙিন বাড়ি আর সবুজ পাহাড়—এমন দৃশ্য যেন কোনো রূপকথার বই থেকে তুলে আনা।


হাইডেলবার্গ ক্যাসল – ইউরোপের সবচেয়ে সুন্দর ধ্বংসাবশেষ

হাইডেলবার্গ মানেই হাইডেলবার্গ ক্যাসল
১৩শ শতকে নির্মিত এই দুর্গটি আজ ধ্বংসাবশেষ হলেও এর সৌন্দর্য অপরূপ। দুর্গ থেকে পুরনো শহর ও নেকার নদীর প্যানোরামিক দৃশ্য চোখে না দেখলে বিশ্বাসই করা যায় না।

দুর্গের ভেতরে রয়েছে—

  • বিশ্বের সবচেয়ে বড় ওয়াইন ব্যারেল,
  • রেনেসাঁ সময়ের চমৎকার স্থাপত্য,
  • আর একটি রূপকথার মতো বাগান—হর্টাস প্যালাটিনাস

এখানে দাঁড়ালে মনে হয় ইতিহাস ফিসফিস করে কথা বলছে।


হাইডেলবার্গ ইউনিভার্সিটি – জার্মানির সবচেয়ে প্রাচীন বিশ্ববিদ্যালয়

১৩৮৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হাইডেলবার্গ ইউনিভার্সিটি ইউরোপের অন্যতম সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ছাত্রছাত্রী আসে এখানে পড়তে, তাই পুরো শহরটিই মনে হয় এক বিশাল ক্যাম্পাস।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অদ্ভুত আকর্ষণ হলো—

“স্টুডেন্ট জেল (Studentenkarzer)”

আগে ছাত্রদের দুষ্টুমি করার জন্য এখানে আটক রাখা হতো।
ভেতরের দেয়ালে লেখা ছাত্রদের আঁকিবুকি আজও পর্যটকদের আকর্ষণ করে।


আল্টস্টাড (Old Town) – রঙিন আর ঐতিহাসিক

হাইডেলবার্গের পুরনো শহর ছোট ছোট মনোরম রাস্তা, ক্যাফে, জার্মান বার, দোকান আর গির্জায় ভরপুর। হাঁটতে হাঁটতে পৌঁছে যাবেন—

হোলি স্পিরিট চার্চ (Heiliggeistkirche)

শহরের প্রতীকী চার্চ, যার ওপর থেকে দেখা যায় পুরো আল্টস্টাডের সৌন্দর্য।

হাউপ্টস্ট্রাসে (Hauptstraße)

ইউরোপের অন্যতম দীর্ঘ ও সুন্দর pedestrian street।
এখানে কেনাকাটা, কফি, আইসক্রিম—সবই মিলবে প্রাণবন্ত পরিবেশে।


ফিলজোসোফেনভেগ (Philosophenweg) – দার্শনিকদের হাঁটার পথ

এটি নেকার নদীর উত্তর তীরে পাহাড়ের ওপর একটি চমৎকার হাঁটার পথ।
কথিত আছে, এখানকার শান্ত পরিবেশে বসে দার্শনিকরা তাদের চিন্তা-ভাবনা করতেন।

পথের শেষে পৌঁছালে আপনি পাবেন—

  • শহরের সবচেয়ে সুন্দর দৃশ্য,
  • দুর্গের রঙিন প্রতিচ্ছবি,
  • নিচে ঝলমলে পুরনো শহর।

এটি ফটোগ্রাফারদের জন্য স্বর্গ।


হাইডেলবার্গে কী কী করবেন

  • নেকার নদীতে বোট ক্রুজ
  • পুরনো শহরে হাঁটা
  • দুর্গে কেবল কারে চড়ার অভিজ্ঞতা
  • স্থানীয় জার্মান খাবার—বিশেষ করে Schweinshaxe, Pretzel, Schnitzel
  • ইউনিভার্সিটির জাদুঘর ভ্রমণ

কবে যাবেন

হাইডেলবার্গ সারাবছরই সুন্দর, তবে সেরা সময়—

  • এপ্রিল–জুন (বসন্তের ফুলে রঙিন)
  • সেপ্টেম্বর–অক্টোবর (পাতাঝরার অসাধারণ রং)
  • ডিসেম্বর (ক্রিসমাস মার্কেট একেবারে স্বপ্নের মতো)

শেষ কথা – রোমান্টিক, ঐতিহাসিক, কবিতার শহর

হাইডেলবার্গ এমন একটি শহর, যেখানে এসে মনে হবে—
জীবন একটু ধীরে বয়ে যাক, একটু বেশি উপভোগ করা যাক।

নেকার নদীর তট, লাল ইটের দুর্গ, রঙিন পুরনো শহর—সব মিলিয়ে হাইডেলবার্গ হলো ইউরোপের এক চিরন্তন প্রেমের কবিতা


 

Share This
Categories
বিবিধ

এসআই রিসিভ কপিতে ভোটের দাবি, মালদায় প্রশাসনের দরজায় হিন্দু কমিউনিটি ট্রাস্ট।

মালদা, নিজস্ব সংবাদদাতাঃ— এস আই এর ফলে কেবল মুসলিমরা নয় সমস্যায় পড়তে চলেছে বাংলাদেশ থেকে উদ্বাস্তু হয়ে আসা বড় অংশের হিন্দুরা। তাদেরকে নতুন করে সিএএ র মাধ্যমে নাগরিকত্ব নিতে হবে। সেক্ষেত্রে তারা ২০২৬ এর নির্বাচনে ভোট দিতে পারবে না। এস আই আর এর রিসিভ কপি দিয়ে যাতে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ ভোট দিতে পারে সেই ব্যবস্থা করতে হবে নির্বাচন কমিশনকে। এই দাবি নিয়ে মালদা জেলা শাসকের দপ্তরে স্মারকলিপি জমা দিল হিন্দু কমিউনিটি ট্রাস্ট। তাদের দাবি মালদার হবিবপুর ,বামন গোলা, পুরাতন মালদা গাজোল সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় বাংলাদেশ থেকে আসা বহু হিন্দু রয়েছে। ওদের দাবি পূরণ না হলে আগামী দিনের বৃহত্তম আন্দোলনের নামব।

Share This
Categories
বিবিধ

১০ হাজার টাকার মোবাইল–কিন্তু কঠোর শর্ত! ক্ষোভে বিক্ষোভে মালদার আশা কর্মীরা।

দেবাশীষ পাল মালদা– কর্মক্ষেত্রে কাজের জন্য মোবাইল কেনার টাকা দিয়েছে রাজ্য সরকার। কিন্তু সেই ক্ষেত্রে একাধিক বিধি নিষেধ আরোপ করা হয়েছে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে। এরই প্রতিবাদে আন্দোলনে নামলেন পশ্চিমবঙ্গ আশা কর্মী ইউনিয়নের মালদা জেলা শাখা। তারই অঙ্গ হিসাবে মঙ্গলবার দুপুরে সংগঠনের পক্ষ থেকে জেলাশাসকের দপ্তরের সামনে বিক্ষোভ দেখানো হয় আশা কর্মীদের পক্ষ থেকে। বেশ কিছুক্ষণ বিক্ষোভ দেখানোর পর জেলা শাসকের হাতে একটি ডেপুটেশন তুলে দেওয়া হয়। আশা কর্মীদের বক্তব্য রাজ্য সরকার তাদের কর্ম ক্ষেত্রে সুবিধার্থে ১০ হাজার টাকা করে মোবাইল কেনার জন্য দিয়েছেন। কিন্তু যাদের এই মোবাইল দেওয়া হচ্ছে তারা মারা গেলে সেই মোবাইল ফেরত দিতে হবে, চুরি হলে সেই মোবাইলের টাকা দিতে হবে, নির্দিষ্ট দু একটি অ্যাপ ছাড়া মোবাইলে অন্য কোন কাজ করা যাবে না এইরকমই একাধিক বিধি নিষেধ আরোপ করা হয়েছে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে। এরই প্রতিবাদে তাদের আজকের এই আন্দোলন।

Share This
Categories
প্রবন্ধ বিবিধ রিভিউ

ফ্লোরেন্স (Florence) এমন এক শহর, যা শুধু ইতিহাসের অংশ নয়— এটি এক জীবন্ত ক্যানভাস।

ইতালির ফ্লোরেন্স — রেনেসাঁর হৃদয়ে এক শিল্পভরা শহর।

ইতালির টাস্কানি (Tuscany) প্রদেশের বুকে অবস্থিত ফ্লোরেন্স (Florence) এমন এক শহর, যা শুধু ইতিহাসের অংশ নয়— এটি এক জীবন্ত ক্যানভাস, যেখানে প্রতিটি গলি, প্রতিটি পাথর, প্রতিটি চার্চের দেয়ালে লুকিয়ে আছে শিল্প, ভালোবাসা ও সভ্যতার নবজাগরণের গল্প। রেনেসাঁ যুগের সূতিকাগার বলা হয় এই শহরকে। মাইকেলএঞ্জেলো, দান্তে, লিওনার্দো দা ভিঞ্চি, গ্যালিলিও — সকলেই এই শহরের কোনো না কোনো পথে রেখে গেছেন তাঁদের অমর পদচিহ্ন।


🏛️ ফ্লোরেন্স — ইতিহাসে রেনেসাঁর জন্মস্থান

চতুর্দশ শতাব্দীতে ইউরোপ যখন অন্ধকার যুগে নিমজ্জিত, তখন ফ্লোরেন্স জেগে ওঠে নবজাগরণের আলোর উৎস হিসেবে। মেডিচি পরিবার (Medici Family)-এর পৃষ্ঠপোষকতায় এখানে শুরু হয় শিল্প, বিজ্ঞান ও সাহিত্য বিপ্লব। এই পরিবারই লিওনার্দো দা ভিঞ্চি ও মাইকেলএঞ্জেলোর মতো শিল্পীদের সামনে এনে দেয় পৃথিবীর নতুন রূপ।

ফ্লোরেন্সে হাঁটলে মনে হয় যেন এক বিশাল যাদুঘরে প্রবেশ করেছি, যেখানে প্রতিটি ভবনই একটি গল্প বলে, প্রতিটি গির্জাই একেকটি শিল্পকর্ম।


🕍 সান্তা মারিয়া দেল ফিওরে — দ্য ফ্লোরেন্স ডোম

শহরের আকাশরেখায় সবচেয়ে চোখে পড়ে সান্তা মারিয়া দেল ফিওরে ক্যাথেড্রাল (Cathedral of Santa Maria del Fiore) — সংক্ষেপে দ্য ডোম (The Duomo) নামে পরিচিত। স্থপতি ব্রুনেলেস্কি (Brunelleschi)-র নকশা করা এর বিশাল গম্বুজটি বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ স্থাপত্য কীর্তি। লাল ইটের সেই গম্বুজ সূর্যের আলোয় ঝলমল করে, আর তার নিচে দাঁড়িয়ে থাকা গির্জার মার্বেল দেয়ালে খোদাই করা সূক্ষ্ম শিল্পকর্ম চোখ ফেরাতে দেয় না।

এর পাশেই আছে জিওত্তোর ক্যাম্পানাইল (Giotto’s Campanile) — ঘণ্টাঘর, যার চূড়া থেকে পুরো ফ্লোরেন্স শহরের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য দেখা যায়।


🎨 উফিজি গ্যালারি — শিল্পের তীর্থস্থান

বিশ্বের অন্যতম বিখ্যাত আর্ট গ্যালারি উফিজি গ্যালারি (Uffizi Gallery) ফ্লোরেন্সের হৃদয়। এখানে সংরক্ষিত আছে রেনেসাঁ যুগের শ্রেষ্ঠ শিল্পকর্ম — বোটিচেল্লির “Birth of Venus”, দা ভিঞ্চির “Annunciation”, মাইকেলএঞ্জেলোর “Doni Tondo” — এবং আরও শত শত মহাকীর্তি।
গ্যালারিতে প্রবেশ করলে মনে হয় ইতিহাসের গর্ভে ডুব দিয়ে শিল্পের আত্মাকে ছুঁয়ে দেখছি।


🕊️ পিয়াজা দেলা সিগনোরিয়া — ইতিহাসের সাক্ষী

Piazza della Signoria হলো ফ্লোরেন্সের অন্যতম প্রাণকেন্দ্র। এখানেই একসময় অনুষ্ঠিত হত নাগরিক সভা, যুদ্ধের পর বিজয় উদযাপন, কিংবা শিল্পীদের প্রকাশ্য প্রদর্শনী।
চত্বরের পাশে দাঁড়িয়ে আছে Palazzo Vecchio, ফ্লোরেন্সের পুরোনো রাজপ্রাসাদ। তার সামনে রয়েছে মাইকেলএঞ্জেলোর “David” ভাস্কর্যের প্রতিলিপি— যা স্বাধীনতা, শক্তি ও মানবসৌন্দর্যের প্রতীক।


🌉 পন্তে ভেক্কিও — প্রেম ও ইতিহাসের সেতু

Arno নদীর ওপর দাঁড়িয়ে থাকা Ponte Vecchio (পন্তে ভেক্কিও) ইউরোপের প্রাচীনতম পাথরের সেতুগুলির একটি। এর ওপরের দোকানগুলিতে বিক্রি হয় সোনার অলংকার ও শিল্পবস্তু।
সন্ধ্যার আলোয় যখন সেতুর নিচে জল ঝিকমিক করে আর দূরে ডোমের গম্বুজ আলোকিত হয়— তখন মনে হয় যেন শহরটি কোনো স্বপ্নের মধ্যে ভেসে রয়েছে।


🕯️ মাইকেলএঞ্জেলোর ফ্লোরেন্স

ফ্লোরেন্সেই জন্মেছিলেন রেনেসাঁর শ্রেষ্ঠ শিল্পী মাইকেলএঞ্জেলো বুয়োনারোত্তি। তাঁর স্মৃতি আজও জড়িয়ে আছে শহরের প্রতিটি কোণে।
Galleria dell’Accademia-তে রয়েছে তাঁর অমর সৃষ্টি David — একটি মার্বেল মূর্তি, যা মানবশক্তি ও আত্মবিশ্বাসের চিরন্তন প্রতীক। মূর্তিটির সামনে দাঁড়ালে বোঝা যায়— পাথরও কেমন করে জীবন্ত হয়ে উঠতে পারে একজন শিল্পীর হাতে।


☕ ফ্লোরেন্সের রাস্তা, খাবার ও সংস্কৃতি

ফ্লোরেন্সের রাস্তাগুলি পাথরে বাঁধানো, সরু, আর ঐতিহাসিক বাড়িঘরে ঘেরা। প্রতিটি মোড়ে আছে ক্যাফে, ছোট ছোট বুকস্টোর আর রাস্তার সঙ্গীতশিল্পী।
এখানকার খাবারের মধ্যে Florentine Steak (Bistecca alla Fiorentina) বিশ্ববিখ্যাত। এছাড়াও স্থানীয় ওয়াইন, পাস্তা, আর জেলাটো (আইসক্রিম) ফ্লোরেন্স ভ্রমণকে করে তোলে আরও মধুর।


🌅 ফ্লোরেন্স ভ্রমণের সেরা সময়

ফ্লোরেন্স ঘোরার উপযুক্ত সময় হলো বসন্ত (এপ্রিল–জুন) এবং শরৎকাল (সেপ্টেম্বর–অক্টোবর)। এসময় আবহাওয়া মনোরম, আকাশ নীল, আর শহরটি পর্যটকে ভরে ওঠে প্রাণে।


✨ উপসংহার

ফ্লোরেন্স কেবল একটি শহর নয়, এটি মানবসভ্যতার নবজন্মের প্রতীক। এখানে ইতিহাস জীবন্ত, শিল্প শ্বাস নেয়, আর প্রতিটি প্রাচীর যেন ফিসফিস করে বলে— “সৌন্দর্যই মানবজীবনের আসল পরিচয়।”
যে একবার ফ্লোরেন্সে আসে, সে আর আগের মানুষ থাকে না। তার হৃদয়ে থেকে যায় এক অপার আলো, এক চিরন্তন ভালোবাসা—

“Florence doesn’t just show you art, it makes you feel like a part of it.” 🎨

 

Share This
Categories
প্রবন্ধ বিবিধ রিভিউ

আমালফি উপকূল (Amalfi Coast) — ইউরোপের অন্যতম সুন্দর ও মনোমুগ্ধকর সমুদ্রতীরবর্তী অঞ্চল।

🌅 ইতালির আমালফি উপকূল — ভূমধ্যসাগরের এক স্বর্গভূমি 🌊

ইতালির দক্ষিণ অংশে, নেপলস উপসাগরের ঠিক দক্ষিণে অবস্থিত আমালফি উপকূল (Amalfi Coast) — ইউরোপের অন্যতম সুন্দর ও মনোমুগ্ধকর সমুদ্রতীরবর্তী অঞ্চল। পাহাড়, সাগর, রঙিন গ্রাম আর সরু আঁকাবাঁকা পথের এই মিশ্রণ যেন কোনো শিল্পীর তুলিতে আঁকা এক জীবন্ত চিত্রপট। এই উপকূলের প্রতিটি কোণে মিশে আছে ইতিহাস, সৌন্দর্য আর রোমান্সের সুর।


🌄 যাত্রার সূচনা — নেপলস থেকে আমালফি উপকূলে

আমালফি উপকূলে পৌঁছানোর জন্য সবচেয়ে সহজ রাস্তা হলো নেপলস (Naples) থেকে যাত্রা শুরু করা। সেখান থেকে গাড়িতে বা বাসে করে সোরেন্টো (Sorrento) হয়ে উপকূল ধরে যাওয়া যায়। পথটা আঁকাবাঁকা, কিন্তু জানালার বাইরে যখন বিশাল নীল সাগর আর সবুজ পাহাড় চোখে পড়ে, তখন প্রতিটি বাঁকই হয়ে ওঠে এক নতুন কবিতার পঙক্তি।


🌸 পজিতানো (Positano) — রঙিন বাড়ির শহর

আমালফি উপকূলের সবচেয়ে জনপ্রিয় গন্তব্য পজিতানো। পাহাড়ের গায়ে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকা লাল, কমলা, হলুদ রঙের ঘরগুলো যেন কল্পনার জগৎ থেকে উঠে এসেছে। সরু গলিপথ, ছোট ছোট কফিশপ, সাগরপাড়ের বুটিক দোকান আর পাথুরে সৈকত—সবকিছুই মিলেমিশে এক অনন্য আবহ তৈরি করে। সূর্যাস্তের সময় পজিতানোর সৌন্দর্য যেন জাদু ছড়ায়।


🏛️ আমালফি টাউন — ইতিহাস ও ধর্মের পবিত্র ভূমি

এই উপকূলের নামই এসেছে এই শহরের নাম থেকে — আমালফি। একসময় এটি ছিল এক শক্তিশালী সামুদ্রিক প্রজাতন্ত্র। শহরের কেন্দ্রস্থলে দাঁড়িয়ে থাকা Amalfi Cathedral (Duomo di Amalfi) গির্জাটি ৯ম শতকে নির্মিত। এর বাইজেন্টাইন গম্বুজ, মোজাইক শিল্প আর সোনালি দরজা দর্শকদের বিমোহিত করে।

আমালফির পাথরের রাস্তাগুলি, হাতে তৈরি লেবুর সুগন্ধি সাবান, লিমোঞ্চেল্লো (Limoncello) লিকার — সবকিছুতেই মিশে আছে স্থানীয় জীবনের সরলতা ও আনন্দ।


🌿 রাভেলো (Ravello) — সুর ও স্বপ্নের রাজ্য

আমালফি থেকে কিছুটা উঁচুতে অবস্থিত রাভেলো, যেখানে পাহাড়ের কোলে ঝুলে থাকা বাগান আর প্রাসাদ যেন রূপকথার দৃশ্য। বিখ্যাত Villa Rufolo এবং Villa Cimbrone থেকে দেখা ভূমধ্যসাগরের দৃশ্য একবার দেখলে চিরস্মরণীয় হয়ে যায়। এখানে প্রতি বছর গ্রীষ্মে হয় Ravello Music Festival, যেখানে বিশ্ববিখ্যাত শিল্পীরা খোলা আকাশের নিচে সুরের জাদু ছড়ান।


🏖️ প্রাইয়ানো ও মাইওরি — শান্ত সমুদ্রের আহ্বান

যদি কেউ জনসমাগম এড়িয়ে একটু নিরিবিলি সময় কাটাতে চান, তাহলে প্রাইয়ানো (Praiano) বা মাইওরি (Maiori)-র সৈকতই আদর্শ। এখানে ঢেউয়ের গর্জন, মাছ ধরার নৌকা, আর অলস দুপুরের রোদ মিলে গড়ে তোলে শান্ত, কবিতার মতো পরিবেশ।


🍋 লিমোনচেল্লো ও স্থানীয় খাবার

আমালফি উপকূলের প্রতিটি শহরেই লেবু গাছের উপস্থিতি চোখে পড়ে। এখানকার বিশাল লেবু থেকেই তৈরি হয় বিখ্যাত Limoncello, যা ইতালির অন্যতম জনপ্রিয় লিকার। স্থানীয় খাবারের মধ্যে আছে তাজা সামুদ্রিক মাছ, হাতে বানানো পাস্তা, এবং মিষ্টি লেবুর টার্ট — প্রতিটি পদই স্বাদের নতুন দিগন্ত খুলে দেয়।


🌅 সূর্যাস্তের সোনালি আলো

সন্ধ্যার সময় আমালফি উপকূল যেন রঙে রঙে ভরে ওঠে। পাহাড়ের কোলে বসে যখন সূর্য ধীরে ধীরে ভূমধ্যসাগরের জলে মিলিয়ে যায়, তখন মনে হয়, সময় থেমে গেছে। প্রকৃতির এমন সৌন্দর্যের সামনে শব্দ হারিয়ে যায়, শুধু থেকে যায় এক গভীর প্রশান্তি।


🏞️ শেষ কথা

আমালফি উপকূল কেবল একটি ভ্রমণ গন্তব্য নয়, এটি এক অনুভূতি। এখানে মানুষ আসে শুধু দৃশ্য দেখতে নয়, নিজের মনকে বিশ্রাম দিতে, জীবনের সৌন্দর্যকে আবার নতুন করে অনুভব করতে। পাহাড়, সাগর, সঙ্গীত আর ভালোবাসায় মোড়া এই উপকূল যেন স্বপ্নের কোনো রাজ্য, যেখানে প্রতিটি দিনই এক নতুন কবিতা।

Share This
Categories
প্রবন্ধ বিবিধ রিভিউ

ইতালির পিসা — হেলানো টাওয়ারের শহরে ইতিহাসের হাতছানি।

ইতালির হৃদয়ে, টাস্কানি প্রদেশের এক শান্ত শহর পিসা (Pisa) — নাম শুনলেই সবার মনে ভেসে ওঠে সেই বিস্ময়কর হেলানো টাওয়ার, যা সারা পৃথিবীর মানুষের কাছে এক অদ্ভুত স্থাপত্য বিস্ময় হিসেবে পরিচিত। কিন্তু পিসা কেবল এই টাওয়ারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, এর প্রতিটি গলিতে লুকিয়ে আছে রোমান সাম্রাজ্যের ইতিহাস, শিল্প, সংস্কৃতি এবং এক অপরূপ ইউরোপীয় সৌন্দর্যের ছোঁয়া।


🏙️ পিসা শহরের পরিচয়

পিসা অবস্থিত আরনো নদীর তীরে, ফ্লোরেন্স থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার দূরে। একসময় এটি ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী, যা রোমান আমল থেকেই ইউরোপের বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত ছিল। আজ পিসা তার সমৃদ্ধ অতীতের স্মৃতি বুকে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে এক ঐতিহাসিক ও শিক্ষানগরী হিসেবে — কারণ এখানেই রয়েছে বিখ্যাত University of Pisa, ইউরোপের প্রাচীনতম বিশ্ববিদ্যালয়গুলির একটি।


🕍 লিনিং টাওয়ার অফ পিসা — বিস্ময়ের প্রতীক

পিসা শহরের কেন্দ্রবিন্দু হলো Piazza dei Miracoli (Square of Miracles) — অর্থাৎ “অলৌকিক চত্বর”। এই চত্বরে দাঁড়িয়ে আছে চারটি বিশ্ববিখ্যাত স্থাপনা —
1️⃣ The Cathedral (Duomo di Pisa)
2️⃣ The Baptistery
3️⃣ The Camposanto Monumentale (শ্মশান উদ্যান)
4️⃣ এবং সর্বাধিক পরিচিত Leaning Tower of Pisa

হেলানো এই টাওয়ারটির নির্মাণ শুরু হয় ১১৭৩ সালে, কিন্তু মাটি দুর্বল হওয়ায় এটি ধীরে ধীরে এক পাশে হেলতে থাকে। টাওয়ারের উচ্চতা প্রায় ৫৬ মিটার, এবং আজ এটি প্রায় ৪ ডিগ্রি কোণে হেলানো। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বিজ্ঞানী ও স্থপতিরা চেষ্টা করেছেন এটি স্থিতিশীল রাখতে, আর এখন এটি নিরাপদভাবে দাঁড়িয়ে আছে — পৃথিবীর অন্যতম স্থাপত্য আশ্চর্য হিসেবে।

যখন আপনি টাওয়ারের নিচে দাঁড়িয়ে তাকান, মনে হয় যেন আকাশের দিকে ঝুঁকে পড়েছে এক বিশাল সাদা মার্বেলের স্তম্ভ। আর টাওয়ারে উঠতে উঠতে যখন চারপাশে শহরের দৃশ্য চোখে পড়ে, তখন মনে হয় — ইতিহাসের বুক থেকে যেন এক নতুন পৃথিবী জেগে উঠেছে।


The Cathedral of Santa Maria Assunta — ধর্মীয় ঐশ্বর্যের নিদর্শন

হেলানো টাওয়ারের পাশেই রয়েছে Duomo di Pisa, এক অপূর্ব রোমানেস্ক স্থাপত্যশৈলীর গির্জা। এর বাহিরের মার্বেল কারুকাজ, অভ্যন্তরের সোনালি মোজাইক ও গম্বুজের শিল্পকর্ম প্রতিটি দর্শককে বিমোহিত করে। এখানে দাঁড়িয়ে যেন অনুভব করা যায় মধ্যযুগীয় ইউরোপের শিল্প ও ধর্মের মিলন।


💧 The Baptistery — সুরের মন্দির

Duomo-র সামনে দাঁড়িয়ে আছে Baptistery of St. John, যা ইউরোপের সবচেয়ে বড় ব্যাপ্টিস্ট্রি। এর ভেতরের গম্বুজে এমন অনন্য শব্দ প্রতিফলন ঘটে যে, একজন গায়ক একা দাঁড়িয়ে গান গাইলেও শুনতে পাওয়া যায় বহুস্বরের সুর। এই স্থাপনাটি শিল্প, সঙ্গীত ও ধর্মের এক অপূর্ব সংমিশ্রণ।


🏛️ Camposanto Monumentale — ইতিহাসের নিঃশব্দ সাক্ষী

চত্বরের শেষ প্রান্তে রয়েছে Camposanto, যেখানে পবিত্র মাটিতে বহু বিখ্যাত ব্যক্তির সমাধি। এর দেয়ালে মধ্যযুগীয় চিত্রকর্মগুলো একসময়ে ইউরোপীয় শিল্পের মহিমা প্রকাশ করত।


🎓 জ্ঞান ও বিজ্ঞানের শহর

পিসা শুধু ঐতিহাসিক স্থাপত্যের জন্যই নয়, বরং তার বিজ্ঞান ও শিক্ষার ঐতিহ্যের জন্যও বিখ্যাত। এখানেই জন্ম নিয়েছিলেন গ্যালিলিও গ্যালিলেই, যিনি পদার্থবিজ্ঞান ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের নতুন যুগের সূচনা করেছিলেন। কিংবদন্তি আছে, গ্যালিলিও নাকি পিসার টাওয়ার থেকেই তার বিখ্যাত ‘free fall’ পরীক্ষা করেছিলেন!


🌇 নদীর ধারে পিসার সন্ধ্যা

সন্ধ্যার সময় যখন আরনো নদীর তীরে সূর্যের আলো ম্লান হয়ে আসে, তখন নদীর ওপরের সেতুগুলি, পুরোনো বাড়িগুলি আর ক্যাফেগুলির আলো ঝিলিক দেয়। নদীর ধারে বসে এক কাপ ইতালীয় কফি হাতে, পর্যটকের মনে জেগে ওঠে এক অদ্ভুত প্রশান্তি।


🍕 ইতালীয় স্বাদের আসর

পিসায় আসলে অবশ্যই চেখে দেখতে হয় স্থানীয় ইতালিয়ান খাবার — পাস্তা, পিজ়া, তিরামিসু, এবং জেলাটো আইসক্রিম। ছোট ছোট রেস্টুরেন্ট বা “Trattoria”-তে বসে স্থানীয় ওয়াইন আর সুস্বাদু খাবারের সঙ্গে উপভোগ করা যায় শহরের উষ্ণ আতিথেয়তা।


শেষ কথা

পিসা কেবল একটি পর্যটনকেন্দ্র নয়, এটি ইউরোপীয় ইতিহাস ও বিজ্ঞানের এক জীবন্ত প্রতীক। এখানে একদিকে রয়েছে ধর্ম ও শিল্পের ঐতিহ্য, অন্যদিকে জ্ঞানের আলোকশিখা। হেলানো টাওয়ারটি যেন সময়ের প্রতীক — যে বলছে, সবকিছুই হেলে পড়তে পারে, কিন্তু সৌন্দর্য ও ইতিহাস কখনো পতিত হয় না।

 

Share This
Categories
বিবিধ

ভাঙা স্ল্যাব থেকে শুরু বচসা, শেষ মারধরে! ইসলামপুরে কাউন্সিলরের প্রতিনিধির নামে লিখিত অভিযোগ।

ইসলামপুর, নিজস্ব সংবাদদাতাঃ- ইসলামপুরে স্ল্যাব মেরামতকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য। অভিযোগ, শনিবার সকালে ইসলামপুর থানার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলরের প্রতিনিধি রঞ্জিত দে এক ব্যক্তিকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি ও মারধর করেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, চিরঞ্জিত পাল নামে এক ব্যক্তি পাড়ার একটি ভাঙা স্ল্যাব মেরামতের আবেদন জানাতে যান রঞ্জিত দে-র কাছে। তিনি অভিযোগপত্রের রিসিভ কপি চাইলে, সেখান থেকেই শুরু হয় বচসা। অভিযোগ, এরপরই রঞ্জিত দে তাঁকে গালাগালি করে মারধর করেন।

পরবর্তীতে চিরঞ্জিত পাল ইসলামপুর পৌরসভার চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। চেয়ারম্যান বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন।

অন্যদিকে, কাউন্সিলরের প্রতিনিধি রঞ্জিত দে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, “রিসিভ করার কোনও ক্ষমতা আমার নেই। পৌরসভার চেয়ারম্যানই সেটি করেন।” পাশাপাশি তিনি জানান, “যে স্ল্যাবটির কথা বলা হচ্ছে, সেটি তাঁরই গাড়ি ঢোকার সময় ভেঙে গিয়েছিল। সেটি দ্রুত মেরামতের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।”

Share This
Categories
বিবিধ

নির্বাচনী নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন, ক্লাব থেকে ভোটার ফর্ম বিলি করায় উত্তাল উনসানি।

হাওড়া, নিজস্ব সংবাদদাতা:- দক্ষিণ হাওড়া বিধানসভা কেন্দ্রের উনসানি সর্দারপাড়ায় ঘটেছে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা। স্থানীয় একটি ক্লাবের বাইরে ঝুলছে তৃণমূল কংগ্রেসের ব্যানার— “বাংলার ভোট রক্ষা শিবির” এবং “এসআইআর বিষয়ক বিশেষ প্রশিক্ষণ শিবির”— আর সেই ক্লাবের ভেতরেই বসে ভোটার তালিকা সংশোধনের এনুমারেশন ফর্ম বিলি করছেন এক বিএলও!

রবিবার সকালে এই দৃশ্য দেখা যায় উনসানির ২ নম্বর বুথ এলাকায়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিএলও শেখ খাজা খইরুল ইসলাম ওই ক্লাবের মেঝেতে বসে স্থানীয় বাসিন্দাদের নিজে হাতে ফর্ম দিচ্ছিলেন। সেই সময় তাঁকে ঘিরে ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের বিএলএ ও অন্যান্য কর্মীরা। তবে আশ্চর্যের বিষয়, বিরোধী দলের কোনো প্রতিনিধিকে সেখানে দেখা যায়নি।

নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, বিএলওদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার তালিকার ফর্ম বিতরণ ও সংগ্রহ করার কথা। কিন্তু কেন তিনি রাজনৈতিক দলের ব্যানারঘেরা ক্লাব থেকে ফর্ম বিলি করছিলেন, সেই প্রশ্ন উঠছে এলাকায়।

এ বিষয়ে বিএলও শেখ খাজা খইরুল ইসলামের বক্তব্য, “আমি ওখানে বসে ফর্ম বাছাই করছিলাম। তখন আশেপাশের কয়েকজন বাসিন্দা এসে সুবিধার জন্য ফর্ম নিয়ে যান। বাইরে যে ব্যানার ছিল, সেটা আমি খেয়াল করিনি।”

তৃণমূলের বিএলএ জানান, “বিএলও বাড়ি বাড়ি গিয়েছিলেন। পরে স্থানীয়রা তাঁকে ক্লাবে বসতে বলেন। সেখানেই প্রায় পঞ্চাশজনকে ফর্ম দেওয়া হয়েছে। কে বাইরে ব্যানার টাঙিয়েছে, সেটা আমরা জানি না।”

অন্যদিকে, বিরোধী রাজনৈতিক শিবিরের অভিযোগ, সরকারি কাজের নামে তৃণমূল তাদের দলীয় কর্মসূচির আড়ালে ভোটার এনুমারেশন প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে।

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের তরফে এখনো কোনও সরকারি প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে ঘটনার জেরে এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়েছে।

Share This
Categories
বিবিধ

গাড়ির হুকে আটকে গেল শাড়ির আঁচল, বাইক উল্টে মৃত্যু সিভিক ভলেন্টিয়ারের স্ত্রীর।

পশ্চিম মেদিনীপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা: এক মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন এক সিভিক ভলেন্টিয়ারের স্ত্রী। শনিবার ক্ষীরপাই থেকে রামজীবনপুর রাজ্য সড়কের কাছে ঘটে দুর্ঘটনাটি। মৃতার নাম পিউ মলস (২৪)।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সেদিন সকালে স্বামী ও সন্তানকে নিয়ে বাইকে চেপে বাপের বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন পিউ। তার স্বামী একজন সিভিক ভলেন্টিয়ার। পথেই হঠাৎ চলন্ত একটি গ্যাসবাহী গাড়ির হুকে পিউ-এর শাড়ির আঁচল আটকে যায়। মুহূর্তের মধ্যে ভারসাম্য হারিয়ে উল্টে যায় মোটরবাইকটি। গুরুতর আহত অবস্থায় পিউ মাটিতে পড়ে যান এবং ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।

দুর্ঘটনায় অল্প আহত হন পিউ-এর স্বামী তথা সিভিক ভলেন্টিয়ার এবং তাঁদের ছোট সন্তান। স্থানীয়রা ছুটে এসে তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।

ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। এই দুর্ঘটনায় এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

Share This
Categories
বিবিধ

ঐতিহ্যের শহরে তীব্র বিস্ফোরণ! লালকেল্লা চত্বরে আগুন, ছুটছে দমকল ও পুলিশ।

নয়াদিল্লি, নিজস্ব সংবাদদাতা: রাজধানী দিল্লির বুকেই নেমে এল আতঙ্ক! সোমবার সন্ধ্যা সাতটার কিছু আগে লালকেল্লার সামনে ভয়াবহ বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল গোটা এলাকা। পরপর তিনটি গাড়ি উড়ে যায় আগুনে। মুহূর্তে আগুনের লেলিহান শিখা ছড়িয়ে পড়ে আশপাশে। এখনও পর্যন্ত অন্তত ১০ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে, আহতের সংখ্যা বহু।

বিস্ফোরণের ঠিক আগেই হরিয়ানার ফরিদাবাদে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক উদ্ধার হওয়ায় জঙ্গি হামলার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না বলে মনে করছে নিরাপত্তা বাহিনী। ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে গিয়েছে ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (NIA) ও ন্যাশনাল সিকিউরিটি গার্ড (NSG)-এর বিশেষ দল।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, লালকেল্লা মেট্রো স্টেশনের ১ নম্বর গেটের কাছে পার্কিং লটে দাঁড়িয়ে থাকা তিনটি গাড়িতে আচমকাই পরপর বিস্ফোরণ হয়। আশপাশের দুটি মন্দির — জৈন মন্দির ও উমাশঙ্কর মন্দির — থেকে বেরোচ্ছিলেন বহু মানুষ। ফলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে, সৃষ্টি হয় হুড়োহুড়ি।

দমকলের একাধিক ইঞ্জিন আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে, তবে সম্পূর্ণ পরিস্থিতি এখনও নিয়ন্ত্রণে আসেনি। পুলিশ গোটা এলাকা ঘিরে রেখেছে, বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে মেট্রো স্টেশনের প্রবেশপথ।

প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, এটি পূর্বপরিকল্পিত জঙ্গি নাশকতা হতে পারে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক ইতিমধ্যেই দিল্লি পুলিশের কমিশনারের কাছ থেকে বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়েছে।

👉 ঘটনার তদন্তে একসঙ্গে নেমেছে এনআইএ ও দিল্লি পুলিশ।
👉 হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা।

চলছে উদ্ধারকাজ ও ফরেনসিক পরীক্ষা — রাজধানীর বুকে ফের একবার জঙ্গি আতঙ্ক!

Share This