Categories
বিবিধ

পলাতক রজত সিংকে কলকাতা থেকে পাকড়াও বারুইপুর পুলিশের স্পেশাল অপারেশন টিমের।

মালদা, নিজস্ব সংবাদদাতা:– আগামী ১০ জুন মালদায় আসছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, এই সফরে মালদায় একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বৈঠক করবেন মুখ্যমন্ত্রী। ওই বৈঠকে মালদা, উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর ও মুর্শিদাবাদ জেলার প্রশাসনিক আধিকারিকদের নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। পাশাপাশি চার জেলার জনপ্রতিনিধি, বিধায়ক, সাংসদ এবং বিরোধী রাজনৈতিক দলের জনপ্রতিনিধিদেরও উপস্থিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও সরকারি ভাবে এখনও বৈঠকের নির্দিষ্ট স্থান ঘোষণা করা হয়নি।

উত্তর মালদা বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মুএই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলা হয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় গিয়ে প্রশাসনিক বৈঠক করছেন, সরকারি আধিকারিকদের পাশাপাশি জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করছেন এবং সাধারণ মানুষের সমস্যার কথাও শুনছেন। সরকারের এই প্রশাসনিক তৎপরতা জেলার উন্নয়ন ও জনসংযোগ বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছে বলে মত প্রকাশ করা হয়েছে।
এছাড়াও সীমান্ত এলাকায় অনুপ্রবেশ রোধ এবং ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের কাজও জোরকদমে এগিয়ে চলছে বলে দাবি করা হয়েছে। সরকারের পূর্বঘোষিত সংকল্প অনুযায়ী উন্নয়ন ও নিরাপত্তার বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের বিষয়ও তুলে ধরা হয়েছে।
প্রশাসনিক বৈঠকে সরকার পক্ষ ও বিরোধী পক্ষের জনপ্রতিনিধিদের একসঙ্গে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলেও জানা গিয়েছে। এর মাধ্যমে রাজনৈতিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে প্রশাসনিক সমন্বয়ের বার্তা দেওয়া হয়েছে বলে মত রাজনৈতিক মহলের একাংশের।

Share This
Categories
বিবিধ

গড়বেতা ৩ ব্লকে অন্নপূর্ণা ভান্ডার প্রকল্পের শুভ সূচনা, প্রথম দিনেই ৬ মহিলার ফর্ম পূরণ।

পশ্চিম মেদিনীপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা:- বৃহস্পতিবার পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার গড়বেতা তিন নম্বর ব্লকের দ্বারিগেড়িয়া গ্রামীণ হাসপাতালের পরিকাঠামো পরিদর্শনের পাশাপাশি ব্লক স্বাস্থ্য কর্মীদের সঙ্গে বৈঠক সেরে ফেললেন শালবনী বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক বিমান মাহাতো, এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন BDO দীপাঞ্জন ভট্টাচার্য,ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক সহ অন্যান্য প্রশাসনিক ব্যক্তিবর্গ। পাশাপাশি এই দিন BDO অফিসে রাজ্য সরকারের অন্নপূর্ণা ভান্ডার প্রকল্পের ফরম পূরণের শুভ সূচনা করা হয়। জানা গিয়েছে এই দিন ব্লকের ৬ জন মহিলার অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের ফরম পূরণ করা হয়েছে।উপস্থিত BDO সহ অন্যান্য প্রশাসনিক ব্যক্তিবর্গ।

Share This
Categories
বিবিধ

মনোহরপুরে লক্ষ্মীর ভান্ডার কাণ্ডে গ্রেফতার উত্তম কুমার সাউ, জানালেন পুলিশ সুপার।

পশ্চিম মেদিনীপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা:- তৃণমূল নেতার নামে লক্ষ্মীর ভান্ডারের টাকা ঢুকছে। এমন ঘটনা ঘটনায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার চন্দ্রকোনা ১ ব্লকের মনোহরপুর ২ গ্রাম পঞ্চায়েতে। ঘটনার কথা স্বীকার করেছে গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান থেকে শুরু করে অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা। জেলা পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানা বৃহস্পতিবার সাংবাদিক সম্মেলন করে জানালেন অভিযুক্ত উত্তম কুমার সাউ কে পুলিশ গ্রেফতার করেছে, বৃহস্পতিবার তাকে কোর্টে তোলা হয় ।
এলাকার বিজেপি কর্মীদের অভিযোগ এলাকার তৃণমূল নেতা পেশায় একজন ঠিকা কর্মী উত্তম কুমার সাউ এর নাম লক্ষীর ভান্ডারে তালিকায় রয়েছে । তাহলে উত্তম কি করে লক্ষ্মীর ভান্ডার পাচ্ছে একজন ছেলে হয়ে। এই ঘটনায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে । বিজেপির তরফ থেকে দাবি তোলা হচ্ছে, অবিলম্বে টাকা ফেরত দিক ঐ তৃণমূল নেতা এবং আইনানুর ব্যবস্থাও নেওয়া হোক তার বিরুদ্ধে।

Share This
Categories
বিবিধ

দীর্ঘদিনের দাবিদাওয়া নিয়ে বিধায়ক প্রদীপ লোধাকে স্মারকলিপি ও সংবর্ধনা।।

পশ্চিম মেদিনীপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা:- আদিবাসী সমাজের দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সাংবিধানিক, ভাষাগত, শিক্ষাগত ও উন্নয়নমূলক দাবিদাওয়া নিয়ে বৃহস্পতিবার পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার গড়বেতা বিধানসভার বিধায়ক প্রদীপ লোধাকে স্মারকলিপি তুলে দিলেন ভারত জাকাত মাঝি পারগানা মহল,পাশাপাশি বিধায়ক প্রদীপ লোধাকে সংবর্ধনাও জানানো হয় সংগঠনের পক্ষ থেকে। সংগঠনের তরফে শিবলাল মুরমু জানান, দীর্ঘদিন ধরে আদিবাসী সমাজ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বঞ্চনার শিকার হয়ে আসছে। সেই কারণেই সমাজের ভাষা, সংস্কৃতি, ধর্মীয় ঐতিহ্য, শিক্ষার অধিকার ও সাংবিধানিক সুরক্ষার দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে ।

Share This
Categories
বিবিধ

কালচিনি চা বাগানে আজগর উদ্ধারে ভিড় সাধারণ মানুষের, পরে জঙ্গলে ছাড়ার সিদ্ধান্ত।

আলিপুরদুয়ার, নিজস্ব সংবাদদাতা : চা বাগান থেকে এক বিশাল আজগর উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ালো আলিপুরদুয়ার জেলার কালচিনি চা বাগানে। বৃহস্পতিবার প্রতিদিনের মতো চা বাগানের শ্রমিকরা কাজে ব্যস্ত ছিলেন। সেই সময় বাগানের ৭ নম্বর সেকশনের কাছে হঠাৎই একটি বিশাল অজগর দেখতে পান শ্রমিকরা। মুহূর্তের মধ্যেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। ভয়ে শ্রমিকরা কাজ বন্ধ করে দ্রুত বিষয়টি বন দপ্তরকে জানান। খবর পেয়ে বক্সা টাইগার রিজার্ভের বনকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। এরপর দীর্ঘক্ষণ চেষ্টার পর বিশাল অজগরটিকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়। অজগর উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়তেই ঘটনাস্থলে ভিড় জমায় বহু মানুষ। বন দপ্তরের প্রাথমিক অনুমান, উদ্ধার হওয়া অজগরটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১৫ ফুট। বনকর্মীরা জানিয়েছেন, অজগরটিকে নিরাপদে গভীর জঙ্গলে ছেড়ে দেওয়া হবে।

Share This
Categories
বিবিধ

আলিঙ্গন ও শুভেচ্ছা বিনিময়ে ঈদের আনন্দ, সুজাপুর ঈদগাহে উপচে পড়া ভিড়।

মালদা, নিজস্বসংবাদদাতা:– পবিত্র ঈদুল আযহাকে ঘিরে উৎসবের আবহে বৃহস্পতিবার ভোর থেকেই ভিড় জমতে শুরু করে মালদা জেলার কালিয়াচকের সুজাপুর ঈদগাহ ময়দানে। নতুন পোশাকে সেজে বিপুল সংখ্যক মুসল্লিম ঈদের নামাজে অংশ নেন। গোটা এলাকা ছিল প্রশাসনের কড়া নিরাপত্তা বলয়ে মুড়ে রাখা।নামাজ শেষে দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। পাশাপাশি বিশ্বশান্তি, সম্প্রীতি ও সকল মানুষের সুখ-সমৃদ্ধির জন্য প্রার্থনা করেন ধর্মপ্রাণ মানুষজন।এদিন ঈদের আনন্দ ভাগ করে নিতে একে অপরকে শুভেচ্ছা ও আলিঙ্গনে মেতে ওঠেন সাধারণ মানুষ। ধর্মীয় বক্তারা জানান, ঈদুল আযহার প্রকৃত শিক্ষা হলো ত্যাগ, সহনশীলতা ও মানবসেবার মানসিকতা গড়ে তোলা। সমাজে ভেদাভেদ ভুলে শান্তি ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও মজবুত করার আহ্বানও জানানো হয়।প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সকলের সহযোগিতায় শান্তিপূর্ণভাবেই সম্পন্ন হয়েছে ঈদের নামাজ ও উৎসব।

Share This
Categories
বিবিধ

বিশ্বশান্তির কামনায় ইদগাহে দোয়া, ইদের শুভেচ্ছা বিনিময়ে উৎসবের আবহ মালদার আইহোতে।

মালদা, নিজস্ব সংবাদদাতা:- মালদা বৃহস্পতিবার সারা দেশের সাথে মালদা জেলা জুড়েও সাড়ম্বরে পালিত হচ্ছে পবিত্র ইদ-উল-আযহা অর্থাৎ কুরবানির ইদ। দিনটি উপলক্ষে এদিন সকাল সকাল মালদার আইহো ইদগাহ ময়দানে ইদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। তবে এবছর প্রশাসনিক নজরদারি চিলো চোকে পরার মতো। মুসলিম ধর্মাবলম্বী মানুষ আইহোর বিভিন্ন বাসিন্দা ইদগাহ ময়দানে সমবেত হয়ে সুষ্ঠুভাবে নমাজ় পাঠ করেন। তারা সকলে মিলে বিশ্বশান্তির দোয়া প্রার্থনা করেন সর্বশক্তিমান আল্লার নিকট। নমাজ পর্ব শেষ হতেই সকলে ইদের শুভেচ্ছা বিনিময়ে মেতে ওঠেন। যাকে কেন্দ্র করে উৎসব মুখরিত হয়ে ওঠে গোটা হবিবপুর ব্লকের আইহো এলাকা।

Share This
Categories
বিবিধ

“অভিযান চলবে ধারাবাহিকভাবে” — অবৈধ মদের বিরুদ্ধে কড়া বার্তা জটেশ্বর ফাঁড়ির ওসির।

আলিপুরদুয়ার, নিজস্ব সংবাদদাতা:- জটেশ্বর ফাঁড়ির পুলিশ ও আবগারি দপ্তরের যৌথ অভিযানে বিপুল পরিমাণ অবৈধ চোলাই মদ নষ্ট করা হলো। ফালাকাটা ব্লকের দলগাঁও ফরেস্ট বস্তি, দলগাঁও ডিপু, ভান্ডানির হাট সহ বেশ কিছু এলাকায় অভিযান চালিয়ে চোলাই মদ, মদ তৈরির সরঞ্জাম নষ্ট করা হয়।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই এলাকায় অবৈধভাবে চোলাই মদ তৈরি ও বিক্রির অভিযোগ উঠছিল।
গোপন সূত্রে খবর পেয়ে জটেশ্বর ফাঁড়ির পুলিশ ও আবগারি দপ্তরের কর্মীরা যৌথভাবে অভিযান চালায়।অভিযানে বেশ কয়েকটি অস্থায়ী চোলাই মদের ঠেক চিহ্নিত করা হয় ও সেখান থেকে প্রচুর পরিমাণে তৈরি চোলাই মদ, ড্রাম সহ মদ তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করে নষ্ট করা হয়। জটেশ্বর ফাঁড়ির ওসি জগদীশ রায় জানান, অবৈধ মদের বিরুদ্ধে এই ধরনের অভিযান আগামী দিনেও ধারাবাহিকভাবে চালানো হবে।

Share This
Categories
বিবিধ

অলক ফাউন্ডেশন ও রিপোর্টারস এন্ড ফটোগ্রাফার অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে সমাজকল্যাণ রত্ন সম্মান প্রদান।

নিজস্ব প্রতিবেদন, কলকাতা:- প্রতিবারের মতো এবারেও সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিদেরকে সম্মানিত করে তাদেরকে কুর্নিশ জানালো রিপোটার্স এন্ড ফটোগ্রাফার এ্যাসোসিয়েশন। বুধবার কলকাতা প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত-হয়ে গেল নবম সমাজ কল্যান রত্ন সম্মান-২০২৬। রিপোর্টারস এন্ড ফটোগ্রাফার অ্যাসোসিয়েশন ও অলক ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে সমগ্র অনুষ্ঠান পরিচালিত হয়। এদিন মঞ্চে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড. মদন চন্দ্রকরণ বিদ্যালঙ্কার ও বিশেষ অতিথি নন্দিনী ভট্টাচার্য। এছাড়া সংস্থার সভাপতি দেবযানী ঘোষ, সম্পাদক অনুপ কুমার বর্ধন, সহঃসম্পাদিকা শুভ্রা নায়েক, সাংস্কৃতিক সম্পাদক মৌসুমী বর্ধন ও অপরাজিতা বোস। এবারে মোট ১৩ জনকে সামাজ কল্যাণের কাজের ভিত্তিতে সমাজকল্যাণ রত্ন সম্মানে সম্মানিত করা হয়। সম্মান প্রাপকেরা হলেন যথাক্রমে দেবকুমার দে, শ্যামল তালুকদার (রোটারি ক্লাব অফ ক্যালকাটা সুন্দরবন), শুভ্রা নায়েক, অপরাজিতা বোস, শাগুপ্তা হানাফি, নন্দিনী ভট্টাচার্য্য, রঞ্জিতা সিনহা, তপন সর্দার, সুশান্ত কুমার মন্ডল, শ্রী আতঙ্ক, জয়দেব দাস, লক্ষ্মী নারায়ণ জানা। সমগ্র অনুষ্ঠানটি পরিকল্পনায় ও পরিচালনায় ছিলেন সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক অনুপ কুমার বর্ধন ও সহযোগীতায় সাংস্কৃতিক সম্পাদক মৌসুমী বর্ধন, সহঃসম্পাদিকা শুভ্রা নায়েক।

Share This
Categories
বিবিধ

ডুমুরগেড়িয়ায় আগুনের তাণ্ডব, সর্বস্ব হারিয়ে পথে বহু পরিবার।

নিজস্ব প্রতিনিধি, ডুমুরগেড়িয়া: ভরদুপুরে আচমকাই এক ভয়াবহ এবং বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তীব্র আতঙ্ক ও চাঞ্চল্য ছড়াল নয়াবসতের ডুমুরগেড়িয়া এলাকায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এদিন দুপুরের দিকে যখন সাধারণ মানুষ ঘরের কাজকর্ম শেষ করে বিশ্রামের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, ঠিক তখনই একটি বন্ধ বসত বাড়ি থেকে প্রথম গলগল করে কালো ধোঁয়া বেরোতে দেখেন প্রতিবেশীরা। কিছু বুঝে ওঠার আগেই, গ্রীষ্মের চড়া রোদ আর বাতাসের তীব্র গতিবেগের কারণে সেই আগুন অত্যন্ত দ্রুত ভয়াবহ রূপ ধারণ করে। মুহূর্তের মধ্যে আগুনের লেলিহান শিখা সংলগ্ন চারপাশের বেশ কয়েকটি ঘরবাড়িতে ছড়িয়ে পড়ে এবং এলাকাটি কার্যত এক নরককুণ্ডে পরিণত হয়।

আগুনের শিখা আকাশছোঁয়া হয়ে উঠতেই শুরুতে স্থানীয় বাসিন্দারাই এলাকা জুড়ে চিৎকার-চেঁচামেচি করে সবাইকে সতর্ক করতে শুরু করেন। আগুনের গ্রাস থেকে বাঁচতে হুড়োহুড়ি পড়ে যায় আবালবৃদ্ধবনিতার মধ্যে। পরিস্থিতি দ্রুত হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে দেখে, স্থানীয় যুবকেরা এবং প্রতিবেশীরা নিজস্ব উদ্যোগে বিপর্যয় সামলানোর চেষ্টা চালান। তাঁরা আশেপাশের কুয়ো, টিউবওয়েল এবং পুকুর থেকে বালতি বালতি জল এনে আগুনের ওপর ঢালতে থাকেন। একই সাথে পাশের একটি নির্মাণকাজ থেকে বস্তা ভরে বালি এনেও তা নেভানোর মরিয়া চেষ্টা চালানো হয়।
কিন্তু আগুনের তীব্রতা ও উত্তাপ এতটাই বেশি ছিল যে সাধারণ মানুষের পক্ষে খালি হাতে তা নিয়ন্ত্রণে আনা কোনোভাবেই সম্ভব হচ্ছিল না। বিশালাকার কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় গোটা আকাশ, যার ফলে শ্বাসকষ্ট শুরু হয় অনেকের। চারপাশে তৈরি হয় চরম আতঙ্ক, কান্না আর হুড়োহুড়ি। আগুনের গতি এতই দ্রুত ছিল যে, আতঙ্কিত বাসিন্দাদের অনেকেই ঘর থেকে নিজেদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, টাকা-পয়সা কিংবা মূল্যবান জিনিসপত্র বের করার সামান্য সুযোগটুকুও পাননি। চোখের সামনে নিজেদের সারাজীবনের উপার্জনকে ছাই হয়ে যেতে দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা।

অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়েই কালবিলম্ব না করে অতি দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দমকলের একটি ইঞ্জিন। ডুমুরগেড়িয়া এলাকাটি অত্যন্ত ঘিঞ্জি এবং এখানকার রাস্তাগুলি বেশ সংকীর্ণ হওয়ায় প্রাথমিক অবস্থায় দমকলের বড় গাড়িটি ভেতরে ঢোকাতে চালক ও কর্মীদের কিছুটা বেগ পেতে হয়। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের সক্রিয় এবং তাৎক্ষণিক সহায়তায় বিকল্প রাস্তা দিয়ে দমকলকর্মীরা অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং যুদ্ধকালীন তৎপরতায় আগুন নেভানোর কাজ শুরু করেন। এলাকার ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও দমকলকর্মীদের নিরলস ও পেশাদারী প্রচেষ্টায় আগুন চারপাশের অন্যান্য বাড়িতে আরও ছড়িয়ে পড়া আটকানো সম্ভব হয়েছে। পাইপের মাধ্যমে দূরবর্তী জলের উৎস থেকে জল এনে অবিরাম স্প্রে করা হতে থাকে জ্বলন্ত ঘরগুলিতে। দমকলের পাশাপাশি স্থানীয় যুবকেরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে জল সরবরাহের কাজে হাত লাগান, যার ফলে পরিস্থিতি আরও বড় কোনো বিপর্যয়ের দিকে মোড় নেয়নি।

ঠিক কী থেকে এই বিধ্বংসী আগুনের সূত্রপাত, তা নিয়ে এখনও সম্পূর্ণ নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে দমকল বাহিনী এবং পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, কোনো একটি বাড়ির ভেতরের বৈদ্যুতিক লাইনে শর্ট সার্কিট হওয়ার কারণেই এই বিপত্তি ঘটেছে। আবার কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন, রান্নার গ্যাস সিলিন্ডার লিক করে বা রান্নার উনুন থেকেও আগুন ছড়াতে পারে। দমকলের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের মতে, আগুন সম্পূর্ণ পকেট স্তরে নিয়ন্ত্রণে আসার পরেই ফরেনসিক ও অন্যান্য বিভাগীয় তদন্ত করে এর প্রকৃত এবং সঠিক কারণটি জানা সম্ভব হবে। স্বস্তির বিষয় এই যে, ঘটনার সময় বাসিন্দারা দ্রুত ঘর থেকে বেরিয়ে আসায় এখনও পর্যন্ত কোনো প্রাণহানি বা গুরুতর হতাহতের খবর মেলেনি। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নেহাত কম নয়। প্রাথমিক রিপোর্টে জানা গেছে, অন্ততপক্ষে চার থেকে পাঁচটি বাড়ি আগুনে সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে গেছে। ঘরের আসবাবপত্র, জামাকাপড়, খাদ্যশস্য থেকে শুরু করে সমস্ত কিছু পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ লক্ষাধিক টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ও ক্ষতিগ্রস্তরা।

এই আকস্মিক বিপর্যয়ের খবর পেয়েই স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রতিনিধি এবং ব্লক প্রশাসনের আধিকারিকেরা দ্রুত দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেন। তাঁরা দমকলের কাজের তদারকি করার পাশাপাশি সর্বস্ব হারানো পরিবারগুলির সাথে কথা বলেন এবং তাঁদের সান্ত্বনা দেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির জন্য আপৎকালীন খাবার, পানীয় জল এবং অস্থায়ী ত্রিপল বা ছাউনির ব্যবস্থা করার তৎপরতা শুরু হয়েছে।
এলাকার সমাজকর্মীরা ও বাসিন্দারা দাবি জানিয়েছেন, যেহেতু এই পরিবারগুলি মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে সম্পূর্ণ নিঃস্ব হয়ে পড়েছে, তাই সরকারি তহবিল থেকে যাতে দ্রুত আর্থিক ক্ষতিপূরণ এবং স্থায়ী ঘর তৈরির ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়। বর্তমানে আগুন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হলেও, এলাকা জুড়ে এখনও এক থমথমে পরিস্থিতি ও পোড়া গন্ধ বিরাজ করছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার ওপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সব ধরনের সরকারি সাহায্য দেওয়া হবে।

Share This