Categories
বিবিধ

বর্ষার খড়ি নদীতে বিপজ্জনক পারাপার, নৌকাডুবির পর স্থায়ী সেতুর দাবিতে এলাকাবাসী।

দাদপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা:- সাত সকালে নৌকাডুবি। অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পেলেন কয়েকজন স্কুল পড়ুয়া এবং স্থানীয় কয়েকজন মানুষ। ঘটনাটি ঘটেছে নাদনঘাট থানার অন্তর্গত দাদপুর এলাকায়। জানা গিয়েছে দাদপুর এবং কুতিরডাঙ্গার মাঝখান দিয়ে বয়ে চলেছে খড়ি নদী। বর্ষায় সেই খড়ি নদীর অবস্থা ভয়ানক। যেমন বেড়েছে জল, তেমনি অনবরত যাচ্ছে নদীর জলের উপর দিয়ে পানা। আর সেই পানা নৌকাতে বেঁধেই বিপত্তি। নৌকা পারে পৌঁছানোর কয়েক সেকেন্ড আগেই পানায় লেগে আচমকা উল্টে যায় নৌকা। পাড়ের কাছাকাছি থাকায় লাফ মেরে নৌকা থেকে পারে নেমে পড়েন যাত্রী এবং ছাত্ররা। নৌকাটি ডুবে গেল কোন বড় বিপদ ঘটেনি। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি অবিলম্বে প্রশাসন এই এলাকার মানুষের পারাপারের জন্য একটি ব্রিজের ব্যবস্থা করুক। তাহলে এমন সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে। উল্লেখ্য ছোট নৌকা দিয়েই দুই পাড়ে দড়ি বেঁধে দড়ি টেনেই যাতায়াত করেন মানুষজন। বর্ষার সময় তৈরি হয় একটি অস্থায়ী বাসের সেতুও। কিন্তু সেই সেতুও জলে তোরে ভেঙে যায়। এবছর যদিও এখনো পর্যন্ত তৈরি হয়নি সেই সেতু, দড়ি টেনেই পারাপার চলছিল ছিল এদিন শুক্রবার। আর সেই সময়তেই বিপত্তি।

Share This
Categories
বিবিধ

নিট ২০২৬-এ দারুণ ফল, কৃতি পড়ুয়াদের সংবর্ধনা জানিয়ে গর্বিত জেড অ্যাকাডেমি।

মুর্শিদাবাদ, নিজস্ব সংবাদদাতা:-মুর্শিদাবাদের সারগাছিতে অবস্থিত জেড অ্যাকাডেমি অডিটোরিয়ামে আয়োজিত হলো নিট ২০২৬-এর কৃতি ছাত্র-ছাত্রীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান। এবারের নিট পরীক্ষায় একাধিক ছাত্র-ছাত্রী উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করে অ্যাকাডেমির মুখ উজ্জ্বল করেছে।

অনুষ্ঠানে সফল ছাত্র-ছাত্রীদের উত্তরীয় পরিয়ে, ফুলের তোড়া, স্টেথোস্কোপ ও ব্যাগ তুলে দিয়ে সংবর্ধনা জানান জেড অ্যাকাডেমির কর্ণধার আক্তারুজ্জামান।

উল্লেখ্য, নিট ২০২৬ পরীক্ষায় জেড অ্যাকাডেমি দারুণ সাফল্য অর্জন করেছে, যা শিক্ষা মহলে বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছে।

এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এলাকার বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি, অভিভাবক, শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং জেড অ্যাকাডেমির বর্তমান ও প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রীরা। সফল পড়ুয়াদের এই সম্মাননা অনুষ্ঠান উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়।

নিটে ধারাবাহিক সাফল্যের রহস্য কী? ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী? এই বিষয়ে জেড অ্যাকাডেমির কর্ণধার আক্তারুজ্জামান কী বললেন, শুনুন তাঁর মুখেই।

Share This
Categories
বিবিধ

গুরু পূর্ণিমায় উৎসবের সূচনা, ১৫ লক্ষ টাকার বাজেটে জমজমাট প্রস্তুতি শান্তিনগর সর্বজনীনের।

পশ্চিম মেদিনীপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা:- গুরু পূর্ণিমা উপলক্ষে ধর্মীয় আচার ও পূজার্চনার মধ্য দিয়ে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার গড়বেতা ৩ নম্বর ব্লকের চন্দ্রকোনারোড শান্তিনগর সর্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটির খুঁটি পুজো সম্পন্ন হলো বুধবার। জানা গিয়েছে এই বছর এই পুজোর ৭৭ তম বর্ষে পদার্পণ করল,পুজো কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে,চলতি বছরে দুর্গোৎসবের আনুমানিক বাজেট ধরা হয়েছে আনুমানিক ১৫ লক্ষ টাকা। এবারের মণ্ডপ নির্মিত হবে ভারত মাতার বীর শহীদ সন্তানদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বিশেষ ভাবনায়। পাশাপাশি দুর্গাপুজোর কয়েকদিন জুড়ে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং সমাজসেবামূলক কর্মসূচিরও আয়োজন করা হবে। পুজো কমিটির সভাপতি সঞ্জয় সরকার জানান,প্রতিবছরের মতো এবারও দর্শনার্থীদের জন্য আকর্ষণীয় ও ভাবনাসমৃদ্ধ পুজোর আয়োজন করা হয়েছে। এদিনের খুঁটি পুজো অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পুজো কমিটির সহ-সম্পাদক সঞ্জীব দাস, কোষাধ্যক্ষ অমিত মজুমদার, প্রবীণ সদস্য হিমাংশু সরকার, কিংকর কুণ্ডুসহ কমিটির অন্যান্য সদস্যরা।

Share This
Categories
বিবিধ

তৃণমূল কর্মীর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ, ডাম্পার হাইজ্যাক কাণ্ডে তদন্তে নেমেছে পুলিশ।

ধূপগুড়ি, নিজস্ব সংবাদদাতা:- ধূপগুড়িতে দিনদুপুরে ডাম্পার হাইজ্যাক ও চালক অপহরণের অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগ, ‘সিন্ডিকেট’-এর নামে দেড় লক্ষ টাকা দাবি করা হয়। টাকা না দেওয়ায় ১৬ চাকার একটি ডাম্পার আটক করে চালককে অপহরণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ ডাম্পার মালিক সলিম হোসেনের। এই ঘটনায় ধূপগুড়ি পুরসভার ১১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ও তৃণমূল কর্মী হিসেবে পরিচিত টুকাই ঘোষের বিরুদ্ধে ধূপগুড়ি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে। ঘটনাস্থল পুলিশের নাকা চেকিং পয়েন্টের অদূরে হওয়ায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অতিরিক্ত জেলা পুলিশ সুপার সৌতম ব্যানার্জি জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং ডাম্পার ও চালকের খোঁজে তল্লাশি চলছে।

Share This
Categories
বিবিধ

মাথাভাঙ্গা-শীতলকুচি সড়কে মরণফাঁদ! সংঘর্ষে নিহত ১, আহত একাধিক যাত্রী।

কোচবিহার, নিজস্ব সংবাদদাতা:-কোচবিহার জেলার মাথাভাঙ্গায় ভয়াবহ পথ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন এক টোটোচালক। এই ঘটনায় শিশু ও মহিলা-সহ অন্তত পাঁচজন গুরুতর জখম হয়েছেন। শুক্রবার শীতলকুচি-মাথাভাঙ্গা সড়কের বড় কাউয়ারডেরা এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, একটি নীল-সাদা যাত্রীবোঝাই টোটো মাথাভাঙ্গা থেকে শীতলকুচির দিকে যাচ্ছিল। সেই সময শীতলকুচি থেকে মাথাভাঙ্গার দিকে আসা একটি ট্রাকের সঙ্গে টোটোটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় টোটোটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই টোটোচালকের মৃত্যু হয়। মৃত এছাড়াও শিশু ও মহিলা-সহ অন্তত পাঁচজন আহত হন।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান মাথাভাঙ্গা মহকুমা পুলিশ আধিকারিক সমরেন হালদার, মাথাভাঙ্গা থানার আইসি শুভজিৎ ঝা, ট্রাফিক ওসি তেনজিং ভুটিয়া-সহ অন্যান্য পুলিশ আধিকারিকরা। ঘটনাস্থলে দমকলের একটি ইঞ্জিনও পৌঁছে উদ্ধারকাজে অংশ নেয়। স্থানীয় বাসিন্দারাও আহতদের উদ্ধারে এগিয়ে আসেন।
প্রত্যক্ষদর্শী টিংকু দাস ও সঞ্জিত বর্মন জানান, তাঁরা দোকানে বসে ছিলেন। হঠাৎ বিকট শব্দ শুনে বাইরে বেরিয়ে দেখেন টোটোটি সম্পূর্ণ দুমড়ে-মুচড়ে গিয়েছে এবং কয়েকজন রাস্তায় ছিটকে পড়ে রয়েছেন।
মৃত টোটো চালকের নাম নজরুল ইসলাম বলে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে। আহতদের মাথাভাঙ্গা মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেখানে আহতদের চিকিৎসা চলছে।
দুর্ঘটনার জেরে মাথাভাঙ্গা-শীতলকুচি সড়কে বেশ কিছুক্ষণ যান চলাচল ব্যাহত হয়। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে যান চলাচল স্বাভাবিক করে। দুর্ঘটনার সঠিক কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

Share This
Categories
বিবিধ

ভোরবেলার তল্লাশিতে চাঞ্চল্য! লেকটাউনে গাড়ি থেকে উদ্ধার বিপুল পরিমাণ সোনা।

কোলকাতা, নিজস্ব সংবাদদাতা:-গোপন সূত্রে খবর পেয়ে লেকটাউন এলাকায় সাত সকালে নাকা চেকিংয় চলাকালীন একটি চার চাকার গাড়ি থেকে ৪ কেজি সোনার বিস্কুট উদ্ধার করলো পুলিশ। উদ্বার হওয়া এই ৪ কেজি সোনার বিস্কুট কোথা থেকে নিয়ে আসা হচ্ছিল। যাচ্ছিল ও বা কোথায় । এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর জানতে ইতিমধ্যে উদ্বার হওয়া ৪ কেজি সোনার বিস্কুট সহ গাড়ির চালককে আটক করেছে পুলিশ। গোটা বিষয়ের তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

Share This
Categories
বিবিধ

‘মৈনাকের মৃত্যুর বিচার চাই’— সিউড়িতে মোমবাতি মিছিলে গর্জে উঠলেন প্রতিবাদকারীরা।

বীরভূম-সিউড়ি, নিজস্ব সংবাদদাতা:- বীরভূম জেলার সিউড়িতে বেসরকারী নার্সিংহোমে দশম শ্রেণীর ছাত্র মৈনাক দাসের রহস্যজনক মৃত্যুর প্রতিবাদে একটি মোমবাতি মিছিল বের হয়। মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা ঘটনার নিরপেক্ষ ও যথাযথ তদন্তের দাবি জানান৷ দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার ও কঠোর শাস্তির দাবিও জানান তাঁরা৷ অসংখ্য সাধারণ মানুষ এদিনের প্রতিবাদ কর্মসূচিতে ও মোমবাতি মিছিলে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন৷ তাঁরা বলেন, ” চিকিৎসায় গাফিলতি ও ভুল চিকিৎসার কারণে তার মৃত্যু ঘটেছে৷ আমরা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানাচ্ছি যাতে এই ঘটনাটি দ্রুত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়৷ নিরপেক্ষ যথাযথ তদন্তের ব্যবস্থা করুক সরকার৷ দোষীদের কঠোর শাস্তি হোক৷ দ্রুত প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হোক৷ মৃত ছাত্রের পরিবার সুবিচার পাক৷”

Share This
Categories
বিবিধ

‘জুয়া নয়, সুস্থ সমাজ চাই’— রসগোল্লার হাড়ি নিয়ে অভিনব কর্মসূচি গয়েশপুরে।

নদীয়া, নিজস্ব সংবাদদাতা:-যারা অবৈধ জুয়া ও সাট্টা চালায় তাদের মুখে তুলে দেওয়া হলো রসগোল্লা!
শুনতে একটু অবাক লাগলেও এমনি এক প্রতিবেদন তুলে ধরবো আমরা।

গয়েশপুরে অসামাজিক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে অভিযান বঙ্গীয় হিন্দু সমাজের!
গয়েশপুর মন্ডল বঙ্গীয় হিন্দু সমাজের পক্ষথেকে মঙ্গলবার সকাল থেকে গয়েশপুর অঞ্চলে অসামাজিক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযানে পথে নামে।
এদিন বঙ্গীয় হিন্দু সমাজের কার্যকতারা গয়েশপুর বেদী ভবন ও গোকুল পুর অঞ্চলে বিশেষ করে অবৈধভাবে যারা সাট্তা ও জুয়ার আসর বসায় তাদের হাত জোড় করে বন্ধ করার আহ্বান করেন এবং মিষ্টি মুখ করান।
প্রসঙ্গত জুয়া সামাজিক ব্যাধি, পরিবার ও সমাজ প্রতিমুহূর্তে ধ্বংস হচ্ছে।
অনেকে জুয়া খেলে সর্বস্বান্ত হয়ে ভুল পথ বেছে নেয়।
বর্তমান সমাজে যুব সমাজ এই ব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছে।
তাই আগামী দিনে পরিছন্ন সমাজ তৈরি করতে এদিন বঙ্গীয় হিন্দু সমাজের পক্ষথেকে মিষ্টি নিয়ে অভিযান চালায়।
এদিন বঙ্গীয় হিন্দু সমাজের গয়েশপুর মন্ডলের কার্যকতাদের সঙ্গে অনেক সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করেন এই অভিযানে।

Share This
Categories
বিবিধ

স্বনির্ভর গোষ্ঠীতে অনিয়মের অভিযোগ, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে সিঙ্গুরে বিক্ষোভ।

হুগলী, নিজস্ব সংবাদদাতা:- স্বনির্ভর গোষ্ঠীর নামে দীর্ঘদিন ধরে চলা অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে আজ সিঙ্গুর বিডিও অফিসে জোরালো প্রতিবাদ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। সাধারণ মানুষের দাবি, স্বচ্ছতা ও গণতান্ত্রিক পদ্ধতি বজায় রেখে নির্বাচনের মাধ্যমে স্বনির্ভর গোষ্ঠী গঠন করতে হবে।

আমাদের স্পষ্ট দাবি—• স্বনির্ভর গোষ্ঠী গঠনে অবিলম্বে নির্বাচন করতে হবে।• সমস্ত অনিয়ম ও দুর্নীতির নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে।• প্রকৃত উপভোক্তাদের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে।

গণতন্ত্রে মানুষের মতামতই শেষ কথা। তাই স্বনির্ভর গোষ্ঠী গঠনে স্বচ্ছ ও নির্বাচিত প্রতিনিধিত্বের দাবিতে এই আন্দোলন চলবে।

Share This
Categories
বিবিধ

ঔপনিবেশিক নামের বদলে স্বাধীনতার প্রতীক! হেস্টিংস হাউসের নাম পরিবর্তনের দাবিতে সরব বিধায়ক।

পশ্চিম মেদিনীপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা:- পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার মেদিনীপুর শহরের ঐতিহ্যবাহী জেলা শাসকের সরকারি বাংলো ‘হেস্টিংস হাউস’–এর নাম পরিবর্তনের দাবিতে জেলা শাসকের কাছে আবেদন জানালেন মেদিনীপুরের বিধায়ক শঙ্কর গুছাইত। মঙ্গলবার জেলা শাসকের উদ্দেশে পাঠানো এক চিঠিতে তিনি ভবনটির নাম পরিবর্তন করে ‘শহীদ ক্ষুদিরাম বসু ভবন’ রাখার প্রস্তাব দেন। মেদিনীপুর শহরে জেলা শাসকের কার্যালয়ের পাশেই অবস্থিত এই ঐতিহাসিক ভবনটি দীর্ঘদিন ধরে জেলা শাসকের সরকারি বাংলো হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ইতিহাস অনুযায়ী, ব্রিটিশ শাসনামলে বাংলার গভর্নর এবং পরবর্তীকালে ভারতের প্রথম গভর্নর জেনারেল ওয়ারেন হেস্টিংসের নাম অনুসারেই ভবনটির নামকরণ করা হয়। উপনিবেশিক প্রশাসনিক ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে বহু বছর ধরে এই নামই প্রচলিত রয়েছে।
তবে স্বাধীনতার পর থেকেই ভবনটির নাম পরিবর্তনের দাবি বিভিন্ন সময়ে উঠেছে। বিধায়ক শঙ্কর গুছাইত তাঁর আবেদনে উল্লেখ করেছেন, ওয়ারেন হেস্টিংসের নামে এই ভবনের নামকরণ ব্রিটিশ উপনিবেশিক শাসনের স্মারক বহন করে। স্বাধীনতার সাত দশকেরও বেশি সময় পর জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবনের নাম এমন হওয়া উচিত, যা স্বাধীন ভারতের মূল্যবোধ, জাতীয় গৌরব এবং স্বাধীনতা সংগ্রামীদের আত্মত্যাগকে সম্মান জানায়। চিঠিতে তিনি আরও বলেন, মেদিনীপুরের এই ঐতিহাসিক ভবনের সঙ্গে স্বাধীনতা আন্দোলনের নানা স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে। পশ্চিম মেদিনীপুরের বহু বিপ্লবী দেশের স্বাধীনতার জন্য আত্মত্যাগ করেছেন। তাই ভবনটির নাম যদি দেশের এক মহান স্বাধীনতা সংগ্রামীর নামে রাখা হয়, তবে তা ইতিহাস ও আত্মবলিদানের প্রতি যথার্থ সম্মান প্রদর্শন করবে। বিধায়ক বিশেষভাবে শহীদ ক্ষুদিরাম বসু–র নাম প্রস্তাব করে বলেন, পশ্চিম মেদিনীপুর ক্ষুদিরাম বসুর গর্বের ভূমি। ভারতের সর্বকনিষ্ঠ এবং অন্যতম শ্রদ্ধেয় স্বাধীনতা সংগ্রামী হিসেবে ক্ষুদিরাম বসুর অসীম দেশপ্রেম, সাহসিকতা ও আত্মত্যাগ আজও নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে। তাঁর নামে সরকারি বাংলোটির নামকরণ হলে তা শুধু একজন মহান বিপ্লবীর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনই হবে না, বরং স্বাধীনতা, আত্মত্যাগ এবং জাতীয় চেতনার আদর্শকেও আরও সুদৃঢ় করবে।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালে পশ্চিমবঙ্গ সরকার হেস্টিংস হাউসকে হেরিটেজ ভবনের স্বীকৃতি দেয়। ফলে ভবনটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব অক্ষুণ্ণ রেখেই নাম পরিবর্তনের বিষয়টি এখন প্রশাসনিক ও সরকারি সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।
চিঠির শেষে বিধায়ক জেলা প্রশাসনের কাছে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, ‘হেস্টিংস হাউস’–এর পরিবর্তে ‘শহীদ ক্ষুদিরাম বসু ভবন’ নামকরণ করা হলে তা পশ্চিম মেদিনীপুরের মানুষের অনুভূতি, স্বাধীনতা সংগ্রামীদের প্রতি শ্রদ্ধা এবং স্বাধীন ভারতের আত্মপরিচয়ের যথাযথ প্রতিফলন ঘটাবে।

Share This