পশ্চিম মেদিনীপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা:- পশ্চিম মেদিনীপুরের গড়বেতা ৩ নম্বর ব্লকের কড়সা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় বিপুল পরিমাণ সরকারি নথি উদ্ধারের ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ছোটতাড়া এলাকার একটি রাজনৈতিক কার্যালয় থেকে রাশি রাশি ১০০ দিনের কাজের জব কার্ড, ভোটার কার্ড, স্বাস্থ্য সাথী কার্ডের টোকেন এবং অবৈধ সালিশি সভার মীমাংসানামা উদ্ধার হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় শাসকদলের পরিচালনাধীন পঞ্চায়েত ও প্রশাসনের বিরুদ্ধে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির বড়সড় প্রমাণ সামনে এল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহল।
এই অঞ্চলের শাসকদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ দীর্ঘদিনের। স্থানীয়দের দাবি, পঞ্চায়েতের তৎকালীন টেকনিক্যাল কর্মী থেকে শুরু করে প্রধান-উপপ্রধান, সকলেই একযোগে সরকারি প্রকল্পগুলোকে নিজেদের উপার্জনের উৎসে পরিণত করেছিলেন। কোনো কাজ না করেই ১২ লক্ষ টাকার পাইপ লাইনের তহবিল আত্মসাৎ এবং হাজার হাজার শৌচালয় নির্মাণের টাকা সাধারণ মানুষকে বঞ্চিত করে পকেটে পুরেছে শাসকদলের একাংশ। এমনকি, ইতিপূর্বে এই পঞ্চায়েতের তত্ত্বাবধানে হওয়া কুখ্যাত গাছ কাটা কেলেঙ্কারি রাজ্য রাজনীতিতে এতটাই শোরগোল ফেলেছিল যে স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রীকে হস্তক্ষেপ করতে হয়েছিল।
এছাড়া বালি, মোরাম, পাথর ও মাটি মাফিয়াদের অবাধ সাম্রাজ্য এই এলাকায় শাসকদলের মদতেই পুষ্ট বলে অভিযোগ।
সরকারি নথির পাশাপাশি ওই দলীয় কার্যালয় থেকে বেআইনি সালিশি সভার নথি মেলায় ক্ষোভে ফুঁসছেন গ্রামবাসীরা। তাঁদের অভিযোগ, পঞ্চায়েত বা আদালতকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে শাসকদলের স্থানীয় নেতারাই সমান্তরাল প্রশাসন চালাতেন এবং সাধারণ মানুষকে ব্ল্যাকমেইল করতেন। ক্ষমতার অপব্যবহার করে দলবাজি ও সরকারি টাকা লুটের এই চক্রটির শিকড় অনেক গভীরে।
তীব্র ক্ষোভের মুখে পড়ে বর্তমান পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ সুকৌশলে দায় এড়িয়ে কেবল “তদন্ত হোক” বলে দায় ঝেড়ে ফেলতে চাইছে। অথচ অভিযুক্ত বর্তমান নেতৃত্বের বিরুদ্ধেও রয়েছে ভুরিভুরি দুর্নীতির অভিযোগ। সব মিলিয়ে, এই বিপুল পরিমাণ কার্ড উদ্ধার হওয়ার পর কড়সা গ্রাম পঞ্চায়েতে শাসকদলের লাগামহীন দুর্নীতি ও কাটমানি সংস্কৃতির কঙ্কালসার রূপটিই সাধারণ মানুষের সামনে আবারও উন্মোচিত হলো।