প্রতিদিন বিকেল পাঁচটায় বৃদ্ধ অমলেন্দু বাবু বাড়ির সামনের লোহার গেট খুলে বসে থাকেন। হাতে এক কাপ চা, চোখ দুটো রাস্তার দিকে স্থির। পাড়ার সবাই জানে— তিনি কারও জন্য অপেক্ষা করেন।
ডাকপিয়ন রফিক প্রায়ই হেসে বলে,
— “কাকু, আজও কোনো চিঠি নেই।”
অমলেন্দু বাবু মৃদু হাসেন।
— “আসবে রে… একদিন ঠিক আসবে।”
বছর দশেক আগে ছেলে অরিজিৎ বিদেশে গিয়েছিল। যাওয়ার সময় বলেছিল, “বাবা, পৌঁছে প্রথমেই তোমাকে চিঠি লিখবো।”
প্রথম কয়েক বছর ফোন আসত, ভিডিও কলও হতো। তারপর ধীরে ধীরে সব কমে গেল। ব্যস্ততা বেড়েছে— এমনটাই ভাবতেন অমলেন্দু বাবু। কিন্তু তিনি আজও বিশ্বাস করেন, ছেলে একদিন একটা চিঠি পাঠাবেই। হাতে লেখা, ঠিক ছোটবেলার মতো।
সেদিনও বিকেলে তিনি গেটের পাশে বসে ছিলেন। আকাশে কালো মেঘ, হালকা বৃষ্টি পড়ছে। ঠিক তখনই রফিক ছাতা মাথায় দৌড়ে এসে বলল,
— “কাকু! আপনার নামে একটা চিঠি এসেছে!”
কাঁপা হাতে খামটা নিলেন অমলেন্দু বাবু। চশমার কাঁচ ঝাপসা হয়ে গেছে জল আর অশ্রুতে। ধীরে ধীরে খাম খুললেন।
ভেতরে মাত্র এক লাইন লেখা—
“বাবা, এত দেরির জন্য ক্ষমা করো। খুব শিগগিরই বাড়ি ফিরছি।”
চিঠিটা বুকের কাছে চেপে ধরে বৃদ্ধ মানুষটা অনেকদিন পর শিশুর মতো কেঁদে ফেললেন। বাইরে তখন বৃষ্টি পড়ছে, আর ভেজা বাতাসে যেন ফিরে আসার গন্ধ।
Categories
শেষ চিঠির অপেক্ষা।