মালদা, নিজস্ব সংবাদদাতা:— চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নামে এক কৃষক পরিবারের কাছ থেকে ৬ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক গ্রাম পঞ্চায়েত কর্মী তথা স্থানীয় তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে। অভিযোগ, প্রায় ছয় বছর আগে দুই ছেলেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ওই টাকা নেওয়া হয়। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও চাকরি না মেলায় টাকা ফেরত চাইলে তা না দিয়ে উল্টে অভিযোগকারীকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেওয়া হয় বলেও দাবি।
ঘটনাটি কালিয়াচক থানার গোলাপগঞ্জ এলাকার। অভিযোগকারী খগেন মণ্ডল, পেশায় কৃষিজীবী। তাঁর দাবি, অভিযুক্ত অমল কান্তি সরকার, যিনি হরিশ্চন্দ্রপুর-১ ব্লকের এক গ্রাম পঞ্চায়েতের কর্মী এবং স্থানীয় তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত, প্রথমে ২০ লক্ষ টাকা দাবি করেন। পরে জমি বিক্রি করে নগদ ৬ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা তিনি অভিযুক্তের হাতে তুলে দেন।
অভিযোগকারীর দাবি, টাকা দেওয়ার সময় গোপনে একটি ভিডিও রেকর্ড করা হয়েছিল। সেই ভিডিও বর্তমানে সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। তবে রিপাবলিক বাংলা স্বাধীনভাবে ওই ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি।
খগেন মণ্ডলের অভিযোগ, বহুবার টাকা ফেরত চাইলেও অভিযুক্ত তা ফেরত দেননি। বরং মামলা করলে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। এরপর ২০২৪ সালে কালিয়াচক থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হলেও দেড় বছর পেরিয়ে গেলেও অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়নি বলে দাবি তাঁর। বর্তমানে রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর তিনি ফের জেলা শাসক ও পুলিশ প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন। প্রশাসন ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে বলে জানা গিয়েছে।
এই ঘটনায় তৃণমূল নেতা কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরী বলেন, “প্রশাসন বিষয়টি তদন্ত করে দেখুক। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হোক।”
অন্যদিকে রাজ্য বিজেপির সদস্য অজিত রায় বলেন, “আমাদের সরকার কোনও অন্যায় বরদাস্ত করবে না। যদি সরকারি কর্মচারী চাকরি দেওয়ার নামে টাকা নিয়ে থাকেন, তবে তদন্তের মাধ্যমে তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রশাসনের কাছে আমরা নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানাচ্ছি।”
প্রশাসনের তদন্তের পরই অভিযোগের সত্যতা এবং পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ সম্পর্কে স্পষ্ট ছবি সামনে আসবে।
Categories
টাকা ফেরত চাইতেই মিথ্যা মামলার হুমকির অভিযোগ, কালিয়াচকে তোলপাড়।