Categories
বিবিধ

রায়পুরে ট্রাফিক আইন ভাঙল বাইক, চালানের মেসেজ গেল চন্দ্রকোনারোডের আসল মালিকের ফোনে।

পশ্চিম মেদিনীপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা:- একই নম্বর প্লেট ব্যবহার করে চলছে দুটি বাইক! একটি বাঁকুড়া জেলার রায়পুরে, অন্যটি পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার গড়বেতা-৩ ব্লকের চন্দ্রকোনারোড শহরে। এই ঘটনায় রীতিমতো আতঙ্কে রয়েছেন চন্দ্রকোনারোড শহরের বাসিন্দা সন্দীপ চৌধুরী।
জানা গিয়েছে, বাঁকুড়ার রায়পুর এলাকায় একটি বাইক ট্রাফিক আইন ভঙ্গ করায় সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক পুলিশের তরফে অনলাইনে চালান কাটা হয়। কিন্তু সেই চালানের মেসেজ এসে পৌঁছয় চন্দ্রকোনারোডের বাসিন্দা সন্দীপ চৌধুরীর মোবাইলে। গত ১৯ আগস্ট তাঁর মোবাইলে আসা মেসেজে জানানো হয়, তাঁর গাড়ির বিরুদ্ধে একটি চালান কাটা হয়েছে এবং আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে তা পরিশোধ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।
মেসেজটি দেখে কার্যত আকাশ থেকে পড়েন সন্দীপবাবু। কারণ, তিনি দাবি করেন, ওই সময় তিনি কোনও ট্রাফিক আইন ভঙ্গ করেননি। বিষয়টি অভিজ্ঞ কয়েকজনের সঙ্গে আলোচনা করার পর জানতে পারেন, তাঁর গাড়ির নম্বরের সঙ্গে মিলে যাচ্ছে বাঁকুড়ার রায়পুর এলাকার একটি বাইকের নম্বর। সন্দীপ চৌধুরী প্রায় দশ বছর ধরে তাঁর Hero CD Deluxe বাইকটি ব্যবহার করছেন। তাঁর বাইকের নম্বর WB-34A Y-0823। একই নম্বর অন্য একটি বাইকে কীভাবে ব্যবহার হচ্ছে, তা নিয়েই এখন প্রশ্ন উঠছে। এই ঘটনার পর বিষয়টি নিয়ে চন্দ্রকোনারোড পুলিশ বিট হাউসে অভিযোগ করেছেন সন্দীপবাবু। পাশাপাশি পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলা পুলিশ সুপার এবং আরটিওর কাছেও ই-মেইলের মাধ্যমে অভিযোগ জানিয়েছেন বলে তিনি জানান।
এই বিষয়ে মেদিনীপুরের আরটিও সন্দীপ সাহা জানান, গাড়ির ছবি এবং নম্বর যাচাই করে দেখা হয়েছে। যে গাড়িটির বিরুদ্ধে চালান কাটা হয়েছে, সেটি ‘ফলস গাড়ি’। অন্যদিকে, যার মোবাইলে চালানের মেসেজ এসেছে, তাঁর গাড়িটিই আসল গাড়ি এবং নম্বর প্লেটও আসল। বিষয়টি পুলিশের তদন্তের আওতায় রয়েছে বলে জানান তিনি। ঘটনাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। অনেকের আশঙ্কা, একই নম্বর ব্যবহার করা অন্য বাইকটি কোনও অপরাধমূলক কাজে ব্যবহার করা হলে তার মাশুল গুনতে হতে পারে আসল গাড়ির মালিককে। সমাজমাধ্যমেও বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকে গাড়ির চোরাই কারবারের সঙ্গে এর যোগসূত্র থাকার সম্ভাবনা নিয়ে মন্তব্য করেছেন। সন্দীপ চৌধুরীর কথায়, “একই নম্বর ব্যবহার করে দুটো গাড়ি চলছে কীভাবে? ওই অন্য গাড়ি দিয়ে যদি বড় কোনও অপরাধ হয়, তাহলে তো আমাকে ফাঁসিয়ে দেওয়া হতে পারে। তাই বিষয়টি প্রশাসনকে জানিয়েছি।”
এখন পুলিশের তদন্তেই স্পষ্ট হবে, একই নম্বরের দ্বিতীয় বাইকটি কীভাবে রাস্তায় চলছে এবং এর পিছনে কোনও চক্র কাজ করছে কি না।

Share This

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *