Categories
বিবিধ

ভিনরাজ্যে কাজে গিয়ে মৃত্যু, দিপু বর্মনের নিথর দেহ বাড়ি ফিরতেই কান্নায় ভেঙে পড়ল পরিবার।

আলিপুরদুয়ার, নিজস্ব সংবাদদাতা :- পেটের টানে ভিন রাজ্যে পাড়ি দিয়েছিলেন। স্বপ্ন ছিল পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর। কিন্তু কাজের জায়গা থেকে আর জীবিত ফেরা হল না পূর্ব বেংকান্দি গ্রামের দিপু বর্মনের। কেরালায় কাজে গিয়ে অস্বাভাবিক মৃত্যু হল জটেশ্বর-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের পূর্ব বেংকান্দির বাসিন্দা দিপু বর্মনের। সোমবার রাতে বাড়িতে দিপুর নিথর দেহ পৌঁছতেই কান্নায় ভেঙে পড়ে পরিবার। গোটা গ্রামজুড়ে নেমে আসে শোকের ছায়া।পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, গত জুন মাসে কাজের উদ্দেশ্যে কেরালায় পাড়ি দিয়েছিলেন দিপু। হঠাৎ গত ২০ আগস্ট, বৃহস্পতিবার পরিবারের কাছে খবর আসে, অসুস্থ হয়ে পড়েছেন তিনি। পরে সেখানকার একটি হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয় বলে পরিবারকে জানানো হয়। তবে কীভাবে তাঁর মৃত্যু হল, তা এখনও পরিষ্কার নয় পরিবারের কাছে।সোমবার রাতে দিপুর মৃতদেহ পূর্ব বেংকান্দির বাড়িতে পৌঁছতেই শোকস্তব্ধ হয়ে পড়ে পরিবার। বাবা-মা, ভাই ও স্ত্রীকে রেখে চলে গেলেন পরিবারের অন্যতম উপার্জনকারী সদস্য দিপু বর্মন। তাঁর মৃত্যুতে দিশেহারা পরিবার। শোকস্তব্ধ গোটা এলাকা।

Share This
Categories
বিবিধ

বাড়িতে ঢুকে ঘুমন্ত মহিলাকে নিশানা, সোনার মালা ছিনিয়ে পালাল দুষ্কৃতী।।

মুর্শিদাবাদ, নিজস্ব সংবাদদাতা:-নিমতিতার দুর্গাপুর গ্রামে
চোরের দৌরাত্ম্যে ফের আতঙ্ক! গভীর রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় এক মহিলার গলা থেকে সোনার মালা ছিঁড়ে নিয়ে পালিয়ে গেল দুষ্কৃতী। ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে সামশেরগঞ্জের নিমতিতা অঞ্চলের দুর্গাপুর গ্রামে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো রাতের খাবার খেয়ে বাড়িতে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন দুর্গাপুর গ্রামের বাসিন্দা রেহেনা বিবি। ঘড়িতে তখন আনুমানিক রাত ২টা ৫০ মিনিট। বাড়ির সকলে যখন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন, ঠিক সেই সময় বাড়িতে ঢুকে পড়ে এক চোর। ঘুমন্ত অবস্থায় থাকা রেহেনা বিবির গলা থেকে আচমকাই সোনার চেইন ছিঁড়ে নেওয়ার চেষ্টা করে ওই দুষ্কৃতী।

হঠাৎ গলায় টান অনুভব করলেও কিছু বুঝে ওঠার আগেই সোনার মালাটি ছিঁড়ে নিয়ে পালিয়ে যায় চোর। ঘটনার পর আতঙ্কিত হয়ে পড়েন পরিবারের সদস্যরা।

অভিযোগকারী রেহেনা বিবির দাবি, চোরের মুখ তিনি দেখতে পাননি। তবে মালা ছিঁড়ে নেওয়ার সময় তার হাত দেখতে পেয়েছিলেন। অন্ধকারের সুযোগ নিয়েই ওই দুষ্কৃতী পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ।

ঘটনার পর বিষয়টি নিয়ে সামশেরগঞ্জ থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। গোটা ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, গভীর রাতে এ ধরনের চুরির ঘটনায় এলাকায় নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত করে অভিযুক্তকে দ্রুত চিহ্নিত করে গ্রেফতার করুক—এমনই দাবি জানিয়েছেন পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা।

এখন দেখার বিষয়, রেহেনা বিবির গলা থেকে সোনার মালা ছিনিয়ে নিয়ে পালানো ওই চোরকে পুলিশ কত দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পারে।

Share This
Categories
বিবিধ

নির্মাণ ভাঙার প্রক্রিয়ায় আপাতত স্থগিতাদেশ, রাসবিহারীতে স্বস্তির হাওয়া।

কলকাতা, নিজস্ব সংবাদদাতা :- রাসবিহারী বিধানসভা কেন্দ্রের সতীশ মুখার্জী রোডে একটি নির্মাণ ভাঙাকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিতর্কে স্বস্তির খবর। সংশ্লিষ্ট ঘটনায় কলকাতা হাইকোর্টের স্থগিতাদেশের খবর সামনে আসতেই এলাকায় আনন্দের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ এই সিদ্ধান্তে খুশি হয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।

বাসিন্দাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা ছিল। নির্মাণ ভাঙার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় তাঁরা ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছিলেন। হাইকোর্টের স্থগিতাদেশের খবর পাওয়ার পর পরিস্থিতি সাময়িকভাবে বদলেছে এবং স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।

উল্লেখ্য, কলকাতায় বেআইনি নির্মাণ সংক্রান্ত একাধিক মামলায় আদালত বিভিন্ন ক্ষেত্রে আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণের উপর গুরুত্ব দিয়েছে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশও দিয়েছে।

তবে এই ঘটনায় আদালতের পরবর্তী নির্দেশ এবং সংশ্লিষ্ট পুরসভা কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপের দিকেই এখন নজর রয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের।

Share This
Categories
বিবিধ

ঝুলন উৎসবের আগেই নান্দাইয়ে দুর্ঘটনা, ১১ হাজার ভোল্টের তারে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট ব্যক্তি।

পূর্ব বর্ধমান, নিজস্ব সংবাদদাতা:- কালনা থানার অন্তর্গত নান্দাই ধো বা এলাকায় ঝুলন উৎসবকে কেন্দ্র করে মেলায় বসার জন্য অস্থায়ী দোকানের প্যান্ডেল তৈরি করতে গিয়ে, ওপরে থাকা এগারো হাজারের তারে লেগে বিদ্যুৎপৃষ্ঠ হয়ে গুরুতর জখম এক ব্যক্তি। আহত ওই ব্যক্তিকে তড়িঘড়ি উদ্ধার করে কালনা মহকুমা হসপিটালে পাঠানো হয়। জানা গিয়েছে আহত ওই ব্যক্তির নাম জয় গোপাল রায়। তার বাড়ি নবদ্বীপের কলাবাগান এলাকায়। এদিন রবিবার দুপুরে প্যান্ডেলের কাজ করার সময় অসাবধানতাবশত তিনি বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে যান। তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য কালনা হসপিটালে পাঠানো হয়। উল্লেখ্য নান্দাই এলাকার এই ঝুলন উৎসবকে কেন্দ্র করে বহু মানুষের সমাগম হয় এলাকায়। মানুষ ঝুলন দেখতে দূরদূরান্ত থেকে লোকও হাজির হয়, আর তার আগেই এই বিপত্তি।

Share This
Categories
বিবিধ

ক্ষুদ্র শিল্পে গভীর সংকটের আশঙ্কা, ভর্তুকি নির্ভর রাজনীতি নিয়ে বেকার্স অ্যাসোসিয়েশনের উদ্বেগ।

কলকাতা, নিজস্ব সংবাদদাতা, ২৩ আগস্ট, ২০২৬ :: পশ্চিমবঙ্গ বেকার্স অ্যাসোসিয়েশন এর ২৬ তম বার্ষিক রাজ্য সম্মেলন রবিবার কলকাতার মিলন মেলায় অনুষ্ঠিত হলো। বেকারী শিল্পের সঙ্গে যুক্ত রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের দুশো প্রতিনিধি এই সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন। অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হাওড়া চেম্বার অফ কমার্সের চেয়ারম্যান বিশিষ্ট সমাজসেবী শংকর সান্যাল, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক প্রশান্ত কুমার বিশ্বাস,ক্ষুদ্র শিল্পের বিশিষ্ট আধিকারিক দেবদত্ত ব্যানার্জি, সংগঠনের সভাপতি বজরং প্রসাদ আগরওয়াল, সহ সভাপতি শেখ আবু জাফর ও অমিতাভ জানা, সংগঠনের সম্পাদক নূর হোসেন মল্লিক, সিইও আরিফুল ইসলাম প্রমুখ।
এই সম্মেলনে বিশেষ করে রাজ্য তথা দেশের ভর্তুকি নির্ভার রাজনীতির ধারা অব্যাহত থাকলে ছোট ও ক্ষুদ্র শিল্প দেশের অর্থনীতির গতি শ্লথ পাশাপাশি ছোট ও ক্ষুদ্র শিল্পে গভীরভাবে সংকট নেমে আসবে বলে মত প্রকাশ করা হয়েছে।
রাজ্যে ছোট শিল্পের জন্য সিঙ্গেল উইন্ডো এক জানালা লাইসেন্সিং ব্যবস্থা চালু হওয়ার কথা বললেও এখনো সেই ব্যবস্থা চালু হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়।
ভারী শিল্পের মত ক্ষুদ্র শিল্পের বিদ্যুৎ মাসুল
সমান করার দাবি জানানো হয়।
সম্মেলনে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয় শিল্পে মুনাফার হার ৫ থেকে ৭ শতাংশ কমে আসায় এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত বেকারী শিল্পের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা কঠিন সংকটের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। এই শিল্পের উপর এর উপর নিয়ন্ত্রণ মূলক ব্যবস্থা চাপানো হলে বেকারী কারখানা গুলি বন্ধের মুখে পড়বে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

Share This
Categories
বিবিধ

হারানো ফোন ফিরে পেয়ে মুখে হাসি, শামসেরগঞ্জ পুলিশের মানবিক উদ্যোগে খুশি সাধারণ মানুষ।

শামসেরগঞ্জ, নিজস্ব সংবাদদাতা :- হারিয়ে যাওয়া কিংবা চুরি হয়ে যাওয়া মোবাইল ফোন উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকদের হাতে ফিরিয়ে দিয়ে মানবিকতার নজির গড়ল শামসেরগঞ্জ থানার পুলিশ। প্রযুক্তির সাহায্যে প্রায় ৩০টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করে সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে সেগুলি মালিকদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। ফোন ফিরে পেয়ে স্বাভাবিকভাবেই খুশি ও স্বস্তির ছাপ দেখা যায় মালিকদের মুখে।

বর্তমান সময়ে মোবাইল ফোন মানুষের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। পড়াশোনা থেকে ব্যবসা-বাণিজ্য, অফিসের কাজ, অনলাইন ব্যাঙ্কিং, গুরুত্বপূর্ণ নথি থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও—অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এখন মোবাইলেই সংরক্ষিত থাকে। ফলে একটি ফোন হারিয়ে গেলে আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি তৈরি হয় চরম মানসিক উদ্বেগও।

এই পরিস্থিতিতে শামসেরগঞ্জ থানার পুলিশের এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে সাধারণ মানুষের কাছে অত্যন্ত প্রশংসনীয়। ফারাক্কার এসডিপিও শেখ সামসুদ্দিনের তত্ত্বাবধানে এবং শামসেরগঞ্জ থানার আইসি সুব্রত ঘোষের নেতৃত্বে পুলিশ প্রযুক্তিগত পদ্ধতিতে হারিয়ে যাওয়া ও চুরি হওয়া মোবাইলগুলির সন্ধান শুরু করে। অল্প সময়ের মধ্যেই প্রায় ৩০টি মোবাইল উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকদের হাতে ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব হয় বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।

সোমবার থানায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ফারাক্কার এসডিপিও শেখ সামসুদ্দিন এবং শামসেরগঞ্জ থানার আইসি সুব্রত ঘোষ। পুলিশের এই সাফল্যের পিছনে আইসি সুব্রত ঘোষের সক্রিয় উদ্যোগ, দক্ষ নেতৃত্ব এবং থানার পুলিশকর্মীদের নিরলস প্রচেষ্টার বিশেষ ভূমিকা রয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

মোবাইল ফিরে পেয়ে মালিকদের অনেকেই জানান, ফোনে থাকা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এবং ব্যক্তিগত নথির কারণে তাঁরা অত্যন্ত চিন্তায় ছিলেন। পুলিশের তৎপরতায় সেই হারানো ফোন ফিরে পাওয়ায় তাঁরা অত্যন্ত খুশি। পুলিশের এই দ্রুত পদক্ষেপের জন্য শামসেরগঞ্জ থানার পুলিশ এবং বিশেষ করে আইসি সুব্রত ঘোষকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান তাঁরা।

শুধু একটি দিনের অভিযান নয়, শামসেরগঞ্জ থানার পক্ষ থেকে নিয়মিতভাবেই হারিয়ে যাওয়া মোবাইল উদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হয় বলে পুলিশ সূত্রে জানা যায়। প্রতি মাসে প্রযুক্তির সাহায্যে বিভিন্ন হারিয়ে যাওয়া মোবাইলের সন্ধান চালিয়ে সেগুলি প্রকৃত মালিকদের হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও স্বার্থরক্ষায় পুলিশের এমন ধারাবাহিক উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে। এসডিপিও শেখ সামসুদ্দিনের দিকনির্দেশনা এবং আইসি সুব্রত ঘোষের দক্ষ নেতৃত্বে শামসেরগঞ্জ থানার এই তৎপরতা পুলিশের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা আরও বাড়িয়ে তুলছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি মানুষের হারানো সম্পদ ফিরিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে শামসেরগঞ্জ থানার এই উদ্যোগ মানবিক পুলিশিংয়ের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।

Share This
Categories
বিবিধ

ধুলিয়ান থেকে বৈষ্ণবনগর—পিতার স্মরণে দুস্থদের মুখে হাসি ফোটাল সাহা পরিবার।

বৈষ্ণবনগর, মালদা, নিজস্ব সংবাদদাতা : – পিতার আদর্শকে পাথেয় করে এবং সমাজের অন্তিম সারির মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ব্রত নিয়ে এক অনন্য ভালোবাসার দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন প্রয়াত শ্যামাচরণ সাহার তিন ছেলে। সুশীলা শ্যামাচরণ সাহা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে প্রতি বছরের মতো এবছরও সমাজসেবামূলক কাজের মাধ্যমে পালিত হলো তাঁর ২৫ তম মৃত্যুবার্ষিকী।
২৫ তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে মুর্শিদাবাদের ধুলিয়ান কিষান বিড়ি ফ্যাক্টরি সংলগ্ন এলাকায় এক বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। প্রয়াত শ্যামাচরণ সাহার স্মৃতি রক্ষার্থে এবং তাঁর মানবতাবাদী আদর্শকে বাঁচিয়ে রাখতে তাঁর তিন সন্তান বহু দুস্থ ও অসহায় মানুষের হাতে নতুন বস্ত্র তুলে দেন। এলাকার দরিদ্র মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে এই দীর্ঘস্থায়ী সামাজিক উদ্যোগটি স্থানীয় মহলে ও বিশিষ্টজনেদের কাছ থেকে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।
মুর্শিদাবাদের ধুলিয়ানের পাশাপাশি কালিয়াচক ৩ ব্লকের অন্তর্গত বৈষ্ণবনগর চামাগ্রাম কিষান বিড়ি ফ্যাক্টরিতেও সপরিবারে উপস্থিত থেকে এদিন সেবা কার্য পরিচালনা করা হয়।
এদিনের এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রয়াত শ্যামাচরণ সাহার তিন কৃতি সন্তান সন্তোষ কুমার সাহা, প্রশান্ত কুমার সাহা এবং জয়ন্ত কুমার সাহা পাশাপাশি সাহা পরিবারের অন্যান্য সকল সদস্যের সক্রিয় উপস্থিতি অনুষ্ঠানটিকে আরও বেশি মর্যাদাপূর্ণ করে তোলে।
এছাড়াও বৈষ্ণবনগর চামাগ্রাম কিষান বিড়ি ফ্যাক্টরির ম্যানেজমেন্ট ও সমস্ত স্তরের কর্মরত কর্মীদের স্বতঃস্ফূর্ত সহযোগিতায় এবং সুশীলা শ্যামাচরণ সাহা ফাউন্ডেশনের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় এদিনও প্রায় কয়েক শতাধিক দুস্থ মানুষের হাতে পরিবারের সদস্যরা নতুন বস্ত্র তুলে দেন ৷
বাবার স্মৃতিকে অম্লান রাখতে এবং সাধারণ মানুষের সেবায় এই ধরনের উদ্যোগ আগামী দিনেও অব্যাহত রাখা হবে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এই ধরনের জনকল্যাণমূলক কাজ সমাজের অনগ্রসর অংশের মানুষদের জীবনে সত্যিতেই এক নতুন আশার আলো ছড়িয়ে দিচ্ছে।

Share This
Categories
বিবিধ

রায়পুরে ট্রাফিক আইন ভাঙল বাইক, চালানের মেসেজ গেল চন্দ্রকোনারোডের আসল মালিকের ফোনে।

পশ্চিম মেদিনীপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা:- একই নম্বর প্লেট ব্যবহার করে চলছে দুটি বাইক! একটি বাঁকুড়া জেলার রায়পুরে, অন্যটি পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার গড়বেতা-৩ ব্লকের চন্দ্রকোনারোড শহরে। এই ঘটনায় রীতিমতো আতঙ্কে রয়েছেন চন্দ্রকোনারোড শহরের বাসিন্দা সন্দীপ চৌধুরী।
জানা গিয়েছে, বাঁকুড়ার রায়পুর এলাকায় একটি বাইক ট্রাফিক আইন ভঙ্গ করায় সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক পুলিশের তরফে অনলাইনে চালান কাটা হয়। কিন্তু সেই চালানের মেসেজ এসে পৌঁছয় চন্দ্রকোনারোডের বাসিন্দা সন্দীপ চৌধুরীর মোবাইলে। গত ১৯ আগস্ট তাঁর মোবাইলে আসা মেসেজে জানানো হয়, তাঁর গাড়ির বিরুদ্ধে একটি চালান কাটা হয়েছে এবং আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে তা পরিশোধ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।
মেসেজটি দেখে কার্যত আকাশ থেকে পড়েন সন্দীপবাবু। কারণ, তিনি দাবি করেন, ওই সময় তিনি কোনও ট্রাফিক আইন ভঙ্গ করেননি। বিষয়টি অভিজ্ঞ কয়েকজনের সঙ্গে আলোচনা করার পর জানতে পারেন, তাঁর গাড়ির নম্বরের সঙ্গে মিলে যাচ্ছে বাঁকুড়ার রায়পুর এলাকার একটি বাইকের নম্বর। সন্দীপ চৌধুরী প্রায় দশ বছর ধরে তাঁর Hero CD Deluxe বাইকটি ব্যবহার করছেন। তাঁর বাইকের নম্বর WB-34A Y-0823। একই নম্বর অন্য একটি বাইকে কীভাবে ব্যবহার হচ্ছে, তা নিয়েই এখন প্রশ্ন উঠছে। এই ঘটনার পর বিষয়টি নিয়ে চন্দ্রকোনারোড পুলিশ বিট হাউসে অভিযোগ করেছেন সন্দীপবাবু। পাশাপাশি পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলা পুলিশ সুপার এবং আরটিওর কাছেও ই-মেইলের মাধ্যমে অভিযোগ জানিয়েছেন বলে তিনি জানান।
এই বিষয়ে মেদিনীপুরের আরটিও সন্দীপ সাহা জানান, গাড়ির ছবি এবং নম্বর যাচাই করে দেখা হয়েছে। যে গাড়িটির বিরুদ্ধে চালান কাটা হয়েছে, সেটি ‘ফলস গাড়ি’। অন্যদিকে, যার মোবাইলে চালানের মেসেজ এসেছে, তাঁর গাড়িটিই আসল গাড়ি এবং নম্বর প্লেটও আসল। বিষয়টি পুলিশের তদন্তের আওতায় রয়েছে বলে জানান তিনি। ঘটনাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। অনেকের আশঙ্কা, একই নম্বর ব্যবহার করা অন্য বাইকটি কোনও অপরাধমূলক কাজে ব্যবহার করা হলে তার মাশুল গুনতে হতে পারে আসল গাড়ির মালিককে। সমাজমাধ্যমেও বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকে গাড়ির চোরাই কারবারের সঙ্গে এর যোগসূত্র থাকার সম্ভাবনা নিয়ে মন্তব্য করেছেন। সন্দীপ চৌধুরীর কথায়, “একই নম্বর ব্যবহার করে দুটো গাড়ি চলছে কীভাবে? ওই অন্য গাড়ি দিয়ে যদি বড় কোনও অপরাধ হয়, তাহলে তো আমাকে ফাঁসিয়ে দেওয়া হতে পারে। তাই বিষয়টি প্রশাসনকে জানিয়েছি।”
এখন পুলিশের তদন্তেই স্পষ্ট হবে, একই নম্বরের দ্বিতীয় বাইকটি কীভাবে রাস্তায় চলছে এবং এর পিছনে কোনও চক্র কাজ করছে কি না।

Share This
Categories
বিবিধ

পদযাত্রা শেষে পথসভায় তুমুল সংঘর্ষ, কেশপুরে মুখোমুখি বিজেপির আদি ও নব্য গোষ্ঠী।।

পশ্চিম মেদিনীপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা:- নির্বাচন থাক বা না থাক, ভোটের আগে হোক কিংবা পরে—রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে বারবারই শিরোনামে উঠে আসে কেশপুর। এবার তৃণমূল বা সিপিএম নয়, বিজেপির অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠী কোন্দলকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠল পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশপুর। জানা গিয়েছে, রবিবার কেশপুরের ১১ নম্বর অঞ্চলের চাঁদচোখ বুথে বিজেপির তরফে একটি পদযাত্রার আয়োজন করা হয়। পদযাত্রা শেষে সেখানে পথসভারও আয়োজন করা হয়েছিল। অভিযোগ, সেই সময় আচমকাই বিজেপির অপর গোষ্ঠীর সদস্যরা হামলা চালায়। বাঁশ, লাঠি ও পাথর নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে শুরু হয় সংঘর্ষ। হাতাহাতিতে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন কর্মী আহত হন বলে জানা গিয়েছে। ঘটনার পর থেকেই এলাকায় রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। বিজেপির নেতা অজয় প্রধানের অভিযোগ, “৪ তারিখের পর কেশপুরে নব্য বিজেপিরা সন্ত্রাস চালাচ্ছে। এদের জন্য আদি বিজেপির কর্মীরা কাজ করতে পারছেন না।”
অন্যদিকে, বিজেপি নেতা তনময় ঘোষের পাল্টা অভিযোগ, “কিছু নাম-ভাঙানো বিজেপি অত্যাচারী তৃণমূলীদের সঙ্গে নিয়ে গন্ডগোল করছে।” ফলে একই দলের দুই গোষ্ঠীর পরস্পরবিরোধী অভিযোগকে কেন্দ্র করে আরও বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তেজনা। এই দিকে, এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে বিজেপি সরকারকে কটাক্ষ করেছেন তৃণমূল নেতা তথা পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পরিষদের দলনেতা মোঃ রফিক। তাঁর দাবি, ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বিজেপির অন্দরে গোষ্ঠী কোন্দল প্রকাশ্যে আসছে। সব মিলিয়ে, কেশপুরে এবার বিরোধী দলের সঙ্গে সংঘর্ষ নয়, বিজেপিরই আদি ও নব্য গোষ্ঠীর সংঘাতে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

Share This
Categories
বিবিধ

সরকারি সুবিধা নিয়ে সরকারের বদনাম নয়! অন্নপূর্ণা নিয়ে বিজেপি নেতার মন্তব্যে রাজনৈতিক বিতর্ক।

মালদা, নিজস্ব সংবাদদাতা:—- সরকারের নামে কুৎসা করলে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা বন্ধ করে দেব। যদি নাম উঠাতে পারি , নাম কাটতেও পারবো। পথসভা থেকে বিজেপির জেলা পরিষদ সদস্যের হুংকার, সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল।
মালদার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী হবিবপুর থানার কলাইবাড়ি এলাকাতে অন্নপূর্ণা ও আবাসের ঘর নিয়ে বিজেপির জেলা পরিষদ সদস্য হুঁশিয়ারি। সেই বক্তব্য ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে।
মালদা জেলা পরিষদের সদস্য তারাশঙ্কর রায় এদিন অন্নপূর্ণা ও আবাসের ঘর নিয়ে একটি পথসভা করেন।এদিন তিনি কলাইবাড়ি, ঋষিপুর গ্রামে সেই পথসভা থেকে মানুষকে অন্নপূর্ণা নিয়ে হুঁশিয়ারি করে দেন। তিনি বলেন বিজেপি সরকারের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নেবেন তারপরও এই সরকারের বদনাম করবেন এটা চলবে না। যারা যারা অন্নপূর্ণা পেয়েছেন তারপরেও সরকারের নামে বদনাম করছেন, যারা প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার ঘরের নাম তুলেছেন তারাও সরকারের নামে বদনাম করছেন। আমি তাদেরকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলতে চাই সাবধান হয়ে যান বন্ধু নামটা ওঠানোর যদি ক্ষমতা রাখতে পারি নামটা কেটে দেওয়ার ক্ষমতাও আমরা রাখতে পারি। বিজেপির সুনাম করতে হবে না কিন্তু সরকারের খাব সরকারের সুযোগ-সুবিধা নেব আর সরকারের নামে চায়ের দোকানে মিষ্টি দোকানে সরকারি নামে বদনাম করব এই সমস্ত নাম যদি আমার কানে আসতে পেরেছে এই শ্রীরামপুর ঋষিপুর কলাইবাড়িতে আইহো বুলবুলিতে তাহলে জেলা পরিষদ মেম্বার হিসেবে তারা কিভাবে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার ঘর পাচ্ছে আর অন্নপূর্ণা পরের মাস থেকে কিভাবে পাচ্ছে তার ব্যবস্থা করব। সরকারের যদি খেয়ে থাকো সরকারের গুণাগুণ গাইতে হবে। সরকারের সুনাম যদি করতে পারো তাহলেই সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাবে। সরকারি সুযোগ-সুবিধা নেব আর সরকারের নামে দুর্নাম করব, সরকারের নামে মিথ্যা গুজব রটাবো ওগুলো চলবে না। আমরা চাই অন্নপূর্ণা বলুন আর প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা বলুন আর অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বলুন আমরা সমস্ত রকমের সুযোগ সুবিধা কোন কংগ্রেস দেখব না, আমরা কোন তৃণমূল দেখবো না, আমরা কোন সিপিএম দেখবো না, আমরা বিজেপি দেখব না। সমস্ত রকম সুযোগ সুবিধা অনলাইনে এর মাধ্যমে করতে হবে। কোন নেতাকে ধরার দরকার নাই। তৃণমূলের যে কোনো নেতাকে ধরে কাজ হয় আপনার সেই আবেদন এখানে জমা পড়বে। জেলা লেবেলে গিয়ে আমরা নাম কেটে দেব। ১৫ বছর ধরে অনেক অত্যাচার করেছেন। এই পনেরো বছরে ২১ টা মিথ্যা কেস দিয়েছেন। এখনো মালদা আদালতে হাজিরা দিতে দৌড়াতে হয়। আপনারা গরীব মানুষ আপনাদের ওপর কিছু করতে চাই না। কিন্তু এখনো যদি তৃণমূলের ছত্রছায়াতে থেকে কেউ যদি সরকারের নামে দুর্নাম করে সে বড়লোক হন বা গরিব হন আপনাদের ব্যবস্থা আমরা নেব।
কেন তিনি এই মন্তব্য করলেন, এই প্রশ্নের জবাবে বিজেপির ওই জেলার পরিষদ সদস্য বলেন মানুষ অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা পাচ্ছে। শহর গ্রামে। কিছু তৃণমূলের লোক ভুল তথ্য দিয়ে নিজেদের পরিবারের একাউন্টে টাকা ঢুকিয়েছে। এখন সরকারের নামে কুৎসা করে বেড়াচ্ছে। আর সেই কারণেই আমি এই মন্তব্য করেছি। অনেকেই আছে যারা পাওয়ার যোগ্য না তারা নিজেদের লোকেদের কাজে লাগিয়ে সেই টাকা নিয়েছে এদের নামে আমরা অভিযোগ জানাবো। যাতে তাদের নাম বাতিল হয়। এই সরকার ঝুকবে না।
জেলা তৃণমূল নেতা বিশ্বজিৎ ঘোষ বলেন, জেলা পরিষদ সদস্য কলায় বাড়ি এলাকায় মানুষকে হুমকি দিচ্ছেন সরকারি সুযোগ সুবিধা পেলে বিজেপি সরকারের ভুল ধারণা গাইতে হবে। এটা কি ধরনের কথা। একটা সরকার যখন তৈরি হয় তখন সেটা জনসাধারণের সরকার তৈরি হয়। আপনি সাধারণ মানুষের মুখ বন্ধ করতে চাইছেন। আপনারা যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে সরকারে এসেছেন সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ করুন। এই প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে আপনারা ব্যর্থ হচ্ছেন। তাই সাধারণ মানুষ আন্দোলন করছে। আপনাদের বিরুদ্ধে বলছে। এইভাবে আপনারা জনসাধারণের মুখ বন্ধ করবেন। আমরা অনুরোধ করি এইসব নেতাদের আপনারা মুখে লাগাম দেন। সাধারণ মানুষকে বঞ্চিত করা থেকে আটকান। এইভাবে হুমকি দেবেন না। কারণ সাধারণ মানুষের ভোটেই আপনারা নির্বাচিত হয়েছেন। সরকারে এসেছে। আমি এর তীব্র প্রতিবাদ জানালাম। আগামী দিনে এই ধরনের ঘটনা ঘটলে আমরা আন্দোলনের নামবো প্রতিবাদ জানাবো।
যারা জনপ্রতিনিধি হয়েছেন তাদের মাপ যোগ করে কথা বলা উচিত। দাবি বিজেপি দক্ষিণ মালদা সাংগঠনিক জেলার সভাপতি অজয় গঙ্গোপাধ্যায়ের।

Share This