Categories
বিবিধ

ভাইরাল মানবিক ছবি: এলাকাবাসীর সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে রাস্তা সারাইয়ে বিধায়ক।।

মালদা, নিজস্ব সংবাদদাতা:- গাজোলের বিধায়ক চিন্ময় দেব বর্মনের নিজস্ব উদ্যোগে ও এলাকাবাসীদের সহযোগিতা নিয়ে বেহাল রাস্তা সংস্কার করছেন ।গাজোলের বিধায়ক চিন্ময় দেব বর্মন নিজে মাথায় করে ভাঙ্গা ইট বেহাল রাস্তার গর্তে ফেলছেন। কোদাল হাতে নিয়ে বেহাল রাস্তা সংস্কার করছেন। তার সাথে এলাকার মহিলা পুরুষ ও যুবক এ রাস্তা সংস্কার কাজে হাত লাগিয়েছেন। গাজোলের মাঝরা অঞ্চলের পাতাল সিং গ্রাম্য এলাকার রাস্তার বেহাল রাস্তা দীর্ঘদিনের ।এই বেহাল রাস্তার কারণে মানুষের এ রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করতে খুব অসুবিধা হয়। বিশেষ করে গর্ভবতী মহিলাদের ও মুমূর্ষ রোগীদের নিয়ে বেশি অসুবিধা হয়। বর্ষার সময় এ রাস্তা দিয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের যাতায়াত করতে খুব অসুবিধা হয়। বেহাল রাস্তার কারণে এ রাস্তা দিয়ে কোন এম্বুলেন্স যাতায়াত করতে চায়না ফলে এলাকার রোগীদের নিয়ে খুব সমস্যা সৃষ্টি হয়। এই বেহাল রাস্তা নিয়ে এলাকাবাসী বিভিন্ন জায়গায় জানিয়ে কোন কাজ হয়নি। তারা বারবার গাজোলের বিধায়কে জানিয়েছেন বেহালা রাস্তা নিয়ে । বিধায়ক চিন্ময় দেব বর্মন বলেন এই বেহাল রাস্তা দীর্ঘদিন ধরে বেহাল হয়ে আছে। এলাকাবাসী বারবার আমাকে জানিয়েছেন খুব বড় রাস্তা তাই কাজ করতে পারছিলাম না। ২২ শে জানুয়ারি এই এলাকায় ভগবান রামচন্দ্রের পূজা অনুষ্ঠিত হয় ।এলাকাবাসী আমাকে আমন্ত্রণ করেছিলেন। আমি এসেছিলাম তখন কথা দিয়েছিলাম এ রাস্তার কাজ করব। তাই নিজস্ব ব্যক্তিগত উদ্যোগ নিয়ে এই বেহাল রাস্তা সংস্কার করা হচ্ছে।কোন বিধায়কের তহবিল থেকে এ রাস্তার কাজ হচ্ছে না ।আমার ব্যক্তিগত উদ্যোগে এ রাস্তার কাজ করা হচ্ছে এলাকার মহিলা পুরুষ ও যুবক ভাইয়েরা নানাভাবে সহযোগিতা করছেন। ভাঙ্গা ইট এনে রাস্তায় ফেলে রাস্তা সংস্কার করা হচ্ছে। এ রাস্তা সংস্কার করা হলে এলাকার মানুষ ব্যাপকভাবে উপকৃত হবেন।এলাকাবাসীদের দাবি পাকা রাস্তা করতে হবে কিন্তু আমার ব্যক্তিগত উদ্যোগে এ পাকা রাস্তা করা সম্ভব নয়। তাই ভাঙ্গা ইট দিয়ে রাস্তা সংস্কার করা হচ্ছে। এলাকাবাসীদের দাবি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। তবে বেহাল রাস্তার কারণে এলাকাবাসী খুব অসুবিধার মধ্যে ছিলেন। বিশেষ করে গর্ভবতী মহিলা এবং মুমূর্ষ রোগীদের নিয়ে খুব অসুবিধা হতো ।বেহাল রাস্তার কারণে অত্র এলাকায় কোন অ্যাম্বুলেন্স ঢুকছে না বর্ষার সময় ছাত্র-ছাত্রীদের যাতায়াত করতে খুব অসুবিধা হয়। তাই এলাকাবাসীদের সুবিধার্থে এ রাস্তা সংস্কার করা হচ্ছে। এ রাস্তা সংস্কার করতে প্রায় 2 লক্ষ টাকা ব্যয় হবে। প্রায় দুই কিমি রাস্তার কাজ করা হবে।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

কার্শিয়াং এক অনুভূতির নাম।

কার্শিয়াং—নামটুকুই যেন পাহাড়ি কুয়াশার ভেতর থেকে ভেসে আসা এক শান্ত আহ্বান। দার্জিলিং জেলার বুকে অবস্থিত এই ছোট্ট পাহাড়ি শহরটি বহুদিন ধরেই পর্যটকদের কাছে তুলনামূলকভাবে নীরব, নিরিবিলি ও আত্মমগ্ন এক গন্তব্য। দার্জিলিং বা কালিম্পঙের মতো অতিরিক্ত ভিড় নয়, আবার একেবারে অচেনাও নয়—কার্শিয়াং ঠিক মাঝামাঝি এক অনুভূতির নাম। এই প্রবন্ধে আমরা কার্শিয়াং-এর প্রকৃতি, ইতিহাস, সংস্কৃতি, দর্শনীয় স্থান, খাবার, মানুষের জীবনধারা ও ভ্রমণ-অভিজ্ঞতার গভীরে প্রবেশ করব।

নামের উৎস ও ইতিহাস

কার্শিয়াং নামটির উৎস নিয়ে নানা মত প্রচলিত। অনেকে বলেন, লেপচা ভাষায় ‘খারসাং’ শব্দ থেকে এসেছে কার্শিয়াং—যার অর্থ ‘কালো অর্কিড’। আবার কেউ কেউ মনে করেন, এটি কোনও প্রাচীন পাহাড়ি গাছ বা স্থানের নাম থেকে উদ্ভূত। ব্রিটিশ আমলে এই অঞ্চলটি বিশেষ গুরুত্ব পায়, কারণ দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ের (DHR) একটি গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন ছিল কার্শিয়াং। ১৮৮০-এর দশকে যখন ‘টয় ট্রেন’ পাহাড় বেয়ে উঠতে শুরু করে, তখন কার্শিয়াং হয়ে ওঠে এক বিশ্রাম ও প্রশাসনিক কেন্দ্র।

কার্শিয়াং শুধু একটি পর্যটন শহর নয়; এটি ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসেও স্মরণীয়। দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাস, বিপ্লবী যতীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় (বাঘা যতীন) এবং বিশেষত নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু—এই শহরের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। নেতাজির পিতা জানকীনাথ বসুর বাড়ি আজও কার্শিয়াং-এ সংরক্ষিত, যা ইতিহাসপ্রেমীদের কাছে এক পবিত্র তীর্থস্থান।

ভৌগোলিক অবস্থান ও প্রকৃতি

কার্শিয়াং সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৪৮৬৪ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত। চারদিকে সবুজ পাহাড়, চা-বাগান, পাইন ও ওক গাছের সারি, আর দূরে তিস্তা ও মহানন্দার উপত্যকা—সব মিলিয়ে প্রকৃতি এখানে যেন নীরব কবিতা লিখে চলে। সকালে কুয়াশার চাদর, দুপুরে রোদের মৃদু উষ্ণতা আর সন্ধ্যায় ঠান্ডা হাওয়া—এই তিনের মেলবন্ধনেই কার্শিয়াং-এর দৈনন্দিন জীবন।

বর্ষাকালে কার্শিয়াং আরও সবুজ হয়ে ওঠে, যদিও ভূমিধসের ঝুঁকি থাকে। শীতকালে কনকনে ঠান্ডা, তবে তুষারপাত সাধারণত হয় না। বসন্ত ও শরৎকাল ভ্রমণের জন্য সবচেয়ে আদর্শ।

টয় ট্রেন ও রেল-রোমাঞ্চ

কার্শিয়াং ভ্রমণের এক অনন্য আকর্ষণ হলো দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে বা টয় ট্রেন। ইউনেস্কো স্বীকৃত এই ঐতিহ্যবাহী রেলপথ পাহাড়ের বুক চিরে এগিয়ে যায় ধীরে ধীরে। কার্শিয়াং স্টেশনটি নিজেই এক ঐতিহাসিক নিদর্শন। কাঠের বেঞ্চ, পুরনো সাইনবোর্ড, লাল-হলুদ রঙের ছোট ইঞ্জিন—সব মিলিয়ে যেন সময় থমকে আছে।

টয় ট্রেনে বসে জানালা দিয়ে বাইরে তাকালে দেখা যায় চা-বাগানের ঢেউ, পাহাড়ি ঘরবাড়ি, আর হাসিমুখ শিশুদের হাত নাড়ার দৃশ্য। এই যাত্রা কেবল এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাওয়া নয়; এটি এক আবেগী অভিজ্ঞতা।

দর্শনীয় স্থান

নেতাজি ভবন (নেতাজি মিউজিয়াম): কার্শিয়াং-এর অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। এখানে নেতাজির ব্যবহৃত জিনিসপত্র, চিঠি, ছবি ও নথি সংরক্ষিত আছে। ইতিহাসের পাতায় ফিরে যাওয়ার এক দুর্লভ সুযোগ।

ঈগলস ক্র্যাগ (Eagle’s Crag): এখান থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা না দেখা গেলেও উপত্যকার বিস্তৃত দৃশ্য মনকে ভরিয়ে দেয়। সূর্যাস্তের সময় এই স্থান বিশেষ মনোরম।

ডাও হিল (Dow Hill): কার্শিয়াং-এর কাছে অবস্থিত এই পাহাড়টি রহস্য ও প্রকৃতির মিশেলে অনন্য। এখানে রয়েছে ঐতিহাসিক ডাও হিল ফরেস্ট ও একটি পুরনো বোর্ডিং স্কুল। অনেকেই জায়গাটিকে ‘হন্টেড’ বলেন, যদিও প্রকৃতপক্ষে এটি শান্ত ও গভীর সবুজে ঢাকা।

চা-বাগান: কার্শিয়াং-এর চারপাশে ছড়িয়ে থাকা চা-বাগানগুলো ভ্রমণকারীদের জন্য এক স্বর্গ। সকালবেলা চা-পাতা তোলার দৃশ্য, কারখানায় প্রক্রিয়াকরণ—সবই দেখার মতো।

সংস্কৃতি ও মানুষের জীবন

কার্শিয়াং-এ বসবাস করেন নেপালি, লেপচা, ভুটিয়া ও বাঙালি সম্প্রদায়ের মানুষ। এই বৈচিত্র্যই শহরের সংস্কৃতিকে করেছে সমৃদ্ধ। দুর্গাপূজা, দশাইন, লোসার, বড়দিন—সব উৎসবই এখানে মিলেমিশে পালিত হয়।

মানুষজন শান্ত, অতিথিপরায়ণ ও পরিশ্রমী। পাহাড়ি জীবনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া এক ধীরস্থির জীবনধারা এখানে দেখা যায়। সকালে দোকান খুলে সন্ধ্যায় তাড়াতাড়ি বন্ধ—শহরের গতি যেন প্রকৃতির সঙ্গে তাল মিলিয়েই চলে।

খাবার ও স্বাদ

কার্শিয়াং-এর খাবার মানেই পাহাড়ি স্বাদ। মোমো, থুকপা, ফাক্সা, শা-ফালে—এই সব নেপালি ও তিব্বতি খাবার সহজেই পাওয়া যায়। সঙ্গে অবশ্যই চাই গরম দার্জিলিং চা। স্থানীয় বেকারির কেক ও পাউরুটি এখানকার আরেক আকর্ষণ।

থাকার ব্যবস্থা ও যাতায়াত

কার্শিয়াং-এ ছোট-বড় নানা হোটেল, গেস্টহাউস ও হোমস্টে রয়েছে। বিলাসিতা কম, কিন্তু আরাম ও আন্তরিকতার অভাব নেই। দার্জিলিং, শিলিগুড়ি বা নিউ জলপাইগুড়ি থেকে সড়ক ও রেলপথে সহজেই কার্শিয়াং পৌঁছানো যায়।

উপসংহার

কার্শিয়াং কোনও চমকপ্রদ পর্যটন কেন্দ্র নয়; এটি ধীরে ধীরে অনুভব করার এক জায়গা। এখানে এসে মনে হয়, পাহাড় শুধু দেখার নয়—শোনার, ছোঁয়ার ও অনুভব করার বিষয়। কুয়াশার ভেতর দিয়ে হেঁটে যাওয়া, টয় ট্রেনের হুইসেল শোনা, গরম চায়ের কাপ হাতে পাহাড়ের দিকে তাকিয়ে থাকা—এই সব ছোট ছোট মুহূর্তই কার্শিয়াং ভ্রমণের আসল প্রাপ্তি। যারা ভিড় এড়িয়ে শান্ত পাহাড় খুঁজছেন, তাদের জন্য কার্শিয়াং নিঃসন্দেহে এক আদর্শ গন্তব্য।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

পথচলার গল্প: সুন্দরবনের পথে।

ভূমিকা

বাংলার মানচিত্রে দক্ষিণ ২৪ পরগনা এক রহস্যময় নাম। নদী, খাঁড়ি, জঙ্গল, চর, লোনা হাওয়া আর মানুষের নিরন্তর লড়াই—এই সবকিছুর সম্মিলিত পরিচয় দক্ষিণ ২৪ পরগনা। এটি শুধুমাত্র একটি জেলা নয়, এটি একটি জীবন্ত অনুভূতি। এই ভ্রমণ প্রবন্ধে দক্ষিণ ২৪ পরগনার প্রকৃতি, ইতিহাস, মানুষ, সংস্কৃতি ও সংগ্রামের গল্প একসাথে ধরা পড়বে।


ইতিহাসের পটভূমি

দক্ষিণ ২৪ পরগনার ইতিহাস বহু প্রাচীন। পাল যুগ থেকে শুরু করে সেন, সুলতানি ও মুঘল শাসনের ছাপ এখানে স্পষ্ট। পরবর্তীকালে ব্রিটিশ শাসন এই জেলাকে নতুন প্রশাসনিক রূপ দেয়। সুন্দরবনের গভীর জঙ্গলে এখনও ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা প্রাচীন মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ সেই ইতিহাসের সাক্ষ্য বহন করে।


নদী ও ভূপ্রকৃতি

এই জেলার প্রাণ হল নদী—গঙ্গা, বিদ্যাধরী, মাতলা, ঠাকুরান, রায়মঙ্গল। জোয়ার-ভাটার নিয়মেই এখানকার মানুষের জীবন চলে। নদীর পাড়ে গড়ে ওঠা জনপদ, নৌকা, খেয়াঘাট—সব মিলিয়ে দক্ষিণ ২৪ পরগনা যেন জল ও স্থলের এক অদ্ভুত সহাবস্থান।


সুন্দরবন: অরণ্যের রাজ্য

দক্ষিণ ২৪ পরগনার সর্বশ্রেষ্ঠ পরিচয় সুন্দরবন। বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বনভূমি এই জেলা গর্ব করে ধারণ করেছে। রয়েল বেঙ্গল টাইগার, কুমির, চিত্রা হরিণ, অসংখ্য পাখির আবাস এই অরণ্য। জঙ্গলের ভিতর দিয়ে বয়ে যাওয়া নদীপথে নৌকাভ্রমণ এক অনন্য অভিজ্ঞতা।


মানুষ ও জীবনযাত্রা

এখানকার মানুষ প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করেই বাঁচে। মাছ ধরা, মধু সংগ্রহ, কাঁকড়া ধরা, কৃষিকাজ—সবই ঝুঁকিপূর্ণ। তবুও জীবনের প্রতি অদম্য আকর্ষণ তাদের থামতে দেয় না। বনবিবি ও দক্ষিণ রায়ের পূজা এখানকার মানুষের বিশ্বাসের কেন্দ্র।


লোকসংস্কৃতি ও বিশ্বাস

দক্ষিণ ২৪ পরগনার লোকসংস্কৃতি অত্যন্ত সমৃদ্ধ। বনবিবির পালা, ভাটিয়ালি গান, কীর্তন—সবকিছুতেই নদী ও জঙ্গলের ছাপ। ধর্মীয় বিশ্বাসে হিন্দু ও মুসলিম সংস্কৃতির এক অনন্য মেলবন্ধন এখানে দেখা যায়।


খাদ্যাভ্যাস

মাছ এখানকার প্রধান খাদ্য। ইলিশ, ভেটকি, পার্শে, ট্যাংরা—নানান স্বাদের মাছ রান্না হয় ঘরে ঘরে। নারকেল, সর্ষে ও লঙ্কার ব্যবহারে তৈরি হয় স্বতন্ত্র রান্নার ধারা।


দুর্যোগ ও সংগ্রাম

ঘূর্ণিঝড় আইলা, আমফান, ইয়াস—প্রাকৃতিক দুর্যোগ দক্ষিণ ২৪ পরগনার মানুষের জীবনে নিয়মিত অতিথি। বাঁধ ভাঙে, জল ঢোকে গ্রামে। তবুও মানুষ আবার ঘুরে দাঁড়ায়। এই লড়াইই এই জেলার সবচেয়ে বড় পরিচয়।


পর্যটন সম্ভাবনা

সাগরদ্বীপ, বকখালি, হেনরি আইল্যান্ড, ঝড়খালি—পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় স্থান। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও গ্রামীণ জীবনের স্বাদ নিতে এই জেলা অনন্য।


উপসংহার

দক্ষিণ ২৪ পরগনা শুধুমাত্র ভ্রমণের স্থান নয়, এটি উপলব্ধির জায়গা। এখানে প্রকৃতি নিষ্ঠুর আবার মমতাময়ী। এই জেলার প্রতিটি ঢেউ, প্রতিটি গাছ, প্রতিটি মানুষের চোখে লুকিয়ে আছে জীবনের গভীর দর্শন।

Share This
Categories
বিবিধ

নোনা মাটির নন্দনতত্ত্ব ও আর্তের সেবা: দক্ষিণ ২৪ পরগনার সাংস্কৃতিক জাগরণে লিটন রাকিব।

তিতাস চট্টোপাধ্যায়:- দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার ক্যানিং ও সুন্দরবনের লোনা মাটির ঘ্রাণ আর মাতলা নদীর পলি যেখানে জীবনের আখ্যান লেখে, সেখানেই জন্ম নেয় এক অনন্য শিল্পবোধ। এই অঞ্চলের সমকালীন সাহিত্য, নির্ভীক সাংবাদিকতা ও সমাজকর্মের ইতিহাসে লিটন রাকিব একটি বলিষ্ঠ নাম। ২০২৬ সালের প্রেক্ষাপটে তিনি কেবল একজন কবি বা সংবাদকর্মী নন, বরং আর্তমানবতার সেবায় নিবেদিতপ্রাণ এক সামাজিক যোদ্ধা।

সাংবাদিকতা ও সত্য উদঘাটন: সংবাদ জগতের নির্ভীক কণ্ঠস্বর

লিটন রাকিব দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে এক বিশ্বস্ত ও আপসহীন নাম। একাধিক প্রথম সারির দৈনিক সংবাদপত্রের মাধ্যমে তিনি দীর্ঘকাল ধরে সুন্দরবনের প্রান্তিক মানুষের কণ্ঠস্বর তথা বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন মানুষের অদিকারের দাবী তুলে ধরছেন। সত্য উদঘাটনে তাঁর সাহসিকতা এবং জনসমস্যাগুলোকে প্রশাসনের নজরে আনার ভূমিকা তাঁকে জেলার অন্যতম প্রধান সংবাদকর্মী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

সমাজসেবা ও মানবিকতা: বিপর্যয়ের দিনে অতন্দ্র প্রহরী

লিটন রাকিবের সমাজসেবার রূপটি সবচেয়ে উজ্জ্বল হয়ে উঠেছিল মানবজাতির চরম সংকটের সময়ে।

করোনাকালীন ও প্রাকৃতিক বিপর্যয় বিধ্বস্ত সময়ের ভূমিকা: অতিমারি এবং আমফান বা ইয়াসের মতো প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে যখন সাধারণ মানুষের জীবন বিপর্যস্ত, তখন তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। কমিউনিটি কিচেন পরিচালনার মাধ্যমে ক্ষুধার্ত মানুষের মুখে অন্ন তুলে দেওয়া এবং ত্রাণ পরিষেবা প্রদানের মাধ্যমে তিনি দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার অন্যতম অগ্রগণ্য সমাজকর্মী হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।

প্রাতিষ্ঠানিক সেবা: তাঁর প্রতিষ্ঠিত সংগঠন ‘আলোপথ’ এবং অনাথ শিশু শিক্ষা আশ্রম  আজও সুন্দরবনের পিছিয়ে পড়া শিশুদের ভবিষ্যৎ গড়ার কাজ করে যাচ্ছে।

নোনা মাটির নন্দনতত্ত্ব: সাহিত্যিক অবদান

তাঁর কাব্যে সুন্দরবনের ভৌগোলিক বাস্তবতা ও মানুষের আবেগ মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়। ‘ঋতুর দান’ এবং ‘ব্যথাদের আলো-গান’ কাব্যগ্রন্থ দুটিতে তিনি প্রান্তিক জীবনের যন্ত্রণাকে নন্দনতাত্ত্বিক মহিমায় ফুটিয়ে তুলেছেন। তাঁর সম্পাদিত লিটল ম্যাগাজিন ‘তরঙ্গ’ এবং গবেষণাগ্রন্থ ‘গ্রামনগর’ এই অঞ্চলের সাংস্কৃতিক চেতনার প্রসারে এক বিশেষ ভূমিকা পালন করে। এছাড়া অতি নেই নরওয়ে থেকে প্রকাশিত সময় কি পত্রিকার সাহিত্য সম্পাদক হিসেবে কাজ করেছেন এবং বর্তমানে সময়ের শব্দ পত্রিকা ও প্রকাশনের সম্পাদনার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।

বহুমুখী প্রতিভা ও সাংস্কৃতিক নেতৃত্ব:

শুধু সাহিত্য বা সেবা নয়, লিটন রাকিব সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা এবং সুন্দরবনের পরিবেশ রক্ষায় নিরন্তর কাজ করে চলেছেন। তাঁর বাচনভঙ্গি ও মঞ্চ উপস্থাপনা জেলার সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানগুলোতে এক অনন্য মাত্রা যোগ করে। তিনি কেবল নিজে সৃষ্টি করেন না, বরং তরুণ প্রজন্মের মধ্যে সাহিত্য ও সাংবাদিকতার বীজ বপন করে চলেছেন।

পরিশেষে বলা যায়, লিটন রাকিবের পরিচিতি কেবল শব্দের কারুকার্যে সীমাবদ্ধ নয়; তাঁর কাজের পরিধি বিস্তৃত মানুষের হৃদয়ে। ‘নোনা মাটির নন্দনতত্ত্ব ও আর্তের সেবা’—এই দুই জীবনদর্শনকে পাথেয় করে তিনি দক্ষিণ ২৪ পরগনার এক উজ্জ্বল অভিভাবক ও আলোকবর্তিকা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

Share This
Categories
বিবিধ

শিক্ষাঙ্গনে মনীষীদের স্মরণ, প্রজাতন্ত্র দিবসে কেশপুরে বিশেষ অনুষ্ঠান।

পশ্চিম মেদিনীপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা:- সোমবার ৭০ তম প্রজাতন্ত্র দিবসের দিনে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার কেশপুর ব্লকের ১২ নম্বর সরিষাখোলা অঞ্চলের কাঞ্চনতলা N.S হাইস্কুলে চার মনীষীর আবক্ষ মূর্তি উন্মোচন করলেন কেশপুর বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক তথা রাজ্যের প্রতিমন্ত্রী শিউলি সাহা। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন এলাকার বিশিষ্ট সমাজসেবী সহ হাই স্কুলের ছাত্র-ছাত্রী থেকে শুরু করে শিক্ষক শিক্ষিকারা।এই দিন বিশ্বকবি কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর,ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর,নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু,স্বামী বিবেকানন্দের আবেক্ষ মূর্তি উন্মোচন করা হয়।

Share This
Categories
বিবিধ

খেলাধুলার মধ্য দিয়ে প্রজাতন্ত্র দিবস উদযাপন, চন্দ্রকোনারোডে সাইকেল রেসে সাফল্য প্রতিযোগীদের।।

পশ্চিম মেদিনীপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা:- ৭০ তম প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষে সোমবার পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার গড়বেতা তিন নম্বর ব্লকের চন্দ্রকোনারোড শহরের স্টেশনপাড়া স্পোটিং ক্লাবের উদ্যোগে ৫ কিলোমিটার সাইকেল রেস প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। জানা গিয়েছে কিয়ামাচা থেকে শুরু হয় এই সাইকেল রেস এবং শেষ হয় স্টেশনপাড়া ফুটবল ময়দান পর্যন্ত। জানা গিয়েছে এই সাইকেল রেস প্রতিযোগিতায় একজন মহিলা সহ ৪৮ জন প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করে এই প্রতিযোগিতায়। এই দিন এই প্রতিযোগিতায় প্রথম হয়েছে অজয় মান্ডি,দ্বিতীয় হয়েছে কুশ সাহানি, দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছে প্রতাপ মূর্মূ। এই দিন স্টেশনপাড়া ফুটবল ময়দানে পুরস্কৃত করা হয়। উপস্থিত ছিলেন একাধিক স্থানীয় সমাজকর্মী সহ ক্লাব সংগঠনের সদস্যরা।

Share This
Categories
বিবিধ

প্রকৃত নাগরিক যেন হয়রানির শিকার না হন—হিলিতে এসআইআর ইস্যুতে কড়া বার্তা তৃণমূলের।।

বালুরঘাট, নিজস্ব সংবাদদাতা:- রাজ্য জুড়ে চলছে এসআইআর প্রক্রিয়া। সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বর্তমানে বিভিন্ন জায়গায় শুরু হয়েছে হিয়ারিং। আর ঠিক এই হিয়ারিং প্রক্রিয়াতেই নাম উঠে আসায় চরম সমস্যায় পড়েন হিলি ব্লকের এক বাসিন্দা। ঘটনাটি হিলি ব্লকের দক্ষিণ জামালপুর অঞ্চলের ১৯৯ নম্বর বুথের। এখানকার বাসিন্দা কাঞ্চন মণ্ডলের নাম হিয়ারিং তালিকায় উঠে আসে। জানাজায় এনার বাবার নাম অনিল দাস সেই নথী দেওয়া সত্ত্বেও কাঞ্চন মন্ডলের নাম আসে হিয়ারিং এ। যদিও কাঞ্চন মণ্ডল তাঁর বাবার সমস্ত বৈধ নথি যথাযথভাবে জমা দিয়েছিলেন, তবুও নাম ওঠায় তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় তৈরি হয় অস্বস্তিকর পরিস্থিতি।
এই অবস্থায় এদিন হিলি ব্লকে আয়োজিত ‘উন্নয়নের সংলাপ’ কর্মসূচিতে এসে কাঞ্চন মণ্ডলের সমস্যার কথা জানতে পারেন তৃণমূল নেতৃত্ব। জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অশোক কুমার মিত্র নিজে সরেজমিনে তাঁর বক্তব্য শোনেন। শুধু শোনা নয়, সঙ্গে সঙ্গেই সংশ্লিষ্ট বিএলএ-টু কর্মীকে নির্দেশ দেন বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখার এবং দ্রুত সমস্যার সমাধান করার।
অশোক কুমার মিত্র স্পষ্টভাবে জানান, আগামী যে হিয়ারিং ডেট রয়েছে, সেখানে যেন বিএলএ-টু কর্মী উপস্থিত থেকে কাঞ্চন মণ্ডলের সমস্যার সমাধান নিশ্চিত করেন। সমস্ত নথি খতিয়ে দেখে যাতে কোনওভাবে প্রকৃত নাগরিকের উপর অন্যায় না হয়, সে বিষয়েও কড়া নির্দেশ দেন তিনি। তৃণমূল নেতার এই তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন কাঞ্চন মণ্ডল ও তাঁর পরিবার। পাশাপাশি অশোক বাবুর এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন এলাকার বাসিন্দারাও। তাঁদের বক্তব্য, সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সমস্যা শোনার এমন উদ্যোগই মানুষের আস্থা বাড়ায়।

Share This
Categories
বিবিধ

বাজার চলাকালীন কঙ্কাল দেখতে পেয়ে চাঞ্চল্য, আত্রাই খারিতে ভিড় জমল।

বালুরঘাট, নিজস্ব সংবাদদাতা : – দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বালুরঘাট শহরের আত্রাই খারিতে একটি কঙ্কাল ভেসে আসার ঘটনাকে ঘিরে মঙ্গলবার চাঞ্চল্য ছড়ায় এলাকায়। বালুরঘাট শহরের আন্দোলন সেতু সংলগ্ন আত্রাই খারির পাশে প্রতিদিনের মতো এদিনও বালুরঘাট পৌরসভার পার্কিং এলাকায় পাইকারি বাজার বসেছিল। সেই বাজারে আসা কয়েকজন ব্যক্তি আচমকাই আন্দোলন সেতুর নিচে আত্রাই খারিতে একটি কঙ্কাল ভেসে থাকতে দেখতে পান।ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই দ্রুত সেখানে ভিড় জমে যায়। বিষয়টি জানানো হয় বালুরঘাট থানায়। খবর পেয়ে বালুরঘাট থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। কঙ্কালটি কোথা থেকে ভেসে এসেছে কিংবা সেটি মানবদেহের আসল কঙ্কাল নাকি নকল, সে বিষয়ে নিশ্চিত হতে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ।আন্দোলন সেতুর পার্শ্ববর্তী এক দোকানদার বিজয় রবিদাস জানান, সেতুর দিক থেকে আত্রাই খারিতে একটি কঙ্কাল ভেসে আসতে দেখেছেন তিনি। তবে সেটি আসল নাকি প্লাস্টিকের, তা তিনি নিশ্চিত নন। তাঁর কথায়, পুলিশি তদন্তের পরেই বিষয়টি স্পষ্ট হবে।অন্যদিকে, ঘটনাস্থলে ছুটে আসা প্রত্যক্ষদর্শী দেবানন্দ পালও জানান, খারিতে ভেসে থাকা কঙ্কালটির গায়ে কোনও মাংস বা টিস্যু নেই। তাই সেটি আসল কঙ্কাল না থার্মোকলের তৈরি, তা বলা কঠিন। পুলিশি তদন্তেই পুরো বিষয়টি পরিষ্কার হবে বলে মনে করছেন।

Share This
Categories
বিবিধ

পাঁশকুড়া ব্লক অফিসে উত্তেজনা, SIR ইস্যুতে CPI(M)-এর বিক্ষোভে হস্তক্ষেপ BDO-র।

পশ্চিম মেদিনীপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা:- এই হাড় হীম করা ঠান্ডায় এলাকার দুঃস্থ অসহায় মানুষজনের স্বার্থে এবার এগিয়ে এলো কর্মচারী তথা বিশিষ্ট সমাজসেবীরা। সোমবার পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার গড়বেতা শহর জুড়ে কর্মচারী তথা বিশিষ্ট সমাজসেবীদের উদ্যোগে এলাকার দুঃস্থ অসহায় মানুষদের শীতবস্ত্র তুলে দেওয়া হয়। জানা গিয়েছে এই দিন শতাধিক দুঃস্থ অসহায় মানুষদের শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়। এই দিন উপস্থিত ছিলেন কর্মচারী তথা বিশিষ্ট সমাজসেবী সোমনাথ সাহু, এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন অভিজিৎ বেরা, অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়, সঞ্জয় বাজপায়ী, সৌমেন চন্দ্র ও পার্থ রুইদাস সহ অন্যান্য বিশিষ্টজনেরা। আগামী দিনেও এই ধরনের কর্মসূচি নেওয়া হবে বলে কর্মচারী তথা বিশিষ্ট সমাজসেবীদের তরফে জানানো হয়েছে।

Share This
Categories
বিবিধ

সাকরুল এলাকায় হাতির তাণ্ডবে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা, ক্ষতিপূরণের দাবি।।

পশ্চিম মেদিনীপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা:- সোমবার ভোট নাগাদ পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার গড়বেতা তিন নম্বর ব্লকের আড়াবাড়ি রেঞ্জের সাকরুল এলাকায় তান্ডব চালায় ১০ থেকে ১২ টি হাতির একটি ছোট্ট দল। এই তান্ডবের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয় ৮ থেকে ১০ বিঘা জমির আলু। এই দিন সকালে এমনটাই জানা গিয়েছে স্থানীয় সূত্রে, বর্তমানে হাতি গুলি আঁধারনয়ন বিটের সোনারবের জঙ্গলে প্রবেশ করেছে। তাই ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে আগেভাগেই সতর্কতা জারি করেছে বনদপ্তর। অন্যদিকে ক্ষতিগ্রস্ত চাষিরা ক্ষতিপূরণের আর্জি জানানোর পাশাপাশি আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে এলাকা জুড়ে।

Share This