Categories
বিবিধ

জিবি মিটিংয়ের বিরোধিতা ABVP-র, যাদবপুরে বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে সংঘর্ষ।

যাদবপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা:- জেনারেল বডি মিটিং বা জিবি কে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। বুধবার ক্যাম্পাসে SFI এবং ABVP সমর্থকদের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ। সংঘর্ষে দুই পক্ষেরই বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। আহতদের হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করা হয়েছে।

জানা গিয়েছে বুধবার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে SFI সহ বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলির উদ্যোগে জেনারেল বডি মিটিংয়ের আয়োজন করা হয়েছিল। সেই বৈঠকের বিরোধিতা করে ABVP। তাদের দাবি বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনও নির্বাচিত ছাত্র সংসদ নেই। পাশাপাশি ছাত্র সংসদ সংক্রান্ত কোনও নতুন নির্দেশিকাও জারি হয়নি। এই পরিস্থিতিতে কীভাবে জিবি মিটিং ডাকা হল তা নিয়েই প্রশ্ন তোলে ABVP।

অভিযোগ জিবি মিটিংয়ের বিরোধিতা করতে গিয়ে ABVP সমর্থকদের সঙ্গে বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলির সদস্যদের বচসা শুরু হয়। পরে তা হাতাহাতি ও সংঘর্ষের আকার নেয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে। ঘটনায় দুই পক্ষেরই বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে খবর।

সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন স্থানীয় বিধায়িকা শর্বরী মুখোপাধ্যায়। আহত পড়ুয়াদের নিয়ে তিনি যাদবপুর থানায় যান। সেখানে বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলির বিরুদ্ধে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার অভিযোগ তোলেন তিনি। SFI-এর সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্যের নাম উল্লেখ করেও হুঁশিয়ারি দেন বিধায়িকা বলে দাবি।

এরপর যাদবপুর থানার সামনে ABVP সমর্থকরা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে বিক্ষোভ দেখান। অন্যদিকে বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলিও পাল্টা ABVP-র বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তুলেছে।

ঘটনাকে কেন্দ্র করে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে এখনও উত্তেজনা রয়েছে। সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশ কী পদক্ষেপ করে এখন সেদিকেই নজর।

Share This
Categories
বিবিধ

অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের আনন্দে পথে মহিলারা, নিমতিতায় মিছিল শেষে লাড্ডু বিতরণ।

মুর্শিদাবাদ, নিজস্ব সংবাদদাতা:- অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার পর শামশেরগঞ্জের নিমতিতা অঞ্চলের ২১৮ ও ২১৯ নম্বর বুথে বিজেপির উদ্যোগে প্রায় ৫০০ মহিলাকে নিয়ে মিছিল অনুষ্ঠিত হল। মিছিল শেষে মহিলাদের মধ্যে লাড্ডু বিতরণ করা হয়।

এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন শামশেরগঞ্জ বিধানসভার বিজেপি কনভেনার ষষ্ঠীচরণ দাস, নিমতিতা গ্রাম পঞ্চায়েতের বিরোধী দলনেত্রীর প্রতিনিধি অশান্ত হালদার এবং ৩ নম্বর মণ্ডলের সম্পাদক আস্তিক সিংহ-সহ বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্ব।

প্রথমে এলাকায় মিছিল করা হয়। এরপর কলোনি এলাকায় মহিলাদের মধ্যে লাড্ডু বিতরণ করা হয়। কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া মহিলাদের মুখে ছিল হাসি। বিজেপির দাবি, অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার নিয়ে আগে যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তা পূরণ হওয়ার পরই এই আনন্দ মিছিল ও লাড্ডু বিতরণের আয়োজন।

বিজেপি নেতৃত্বের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, এখনও যাঁরা অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের সুবিধা পাননি, তাঁরা তাঁদের স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্যের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি জানাতে পারেন।

ষষ্ঠীচরণ দাস বলেন, “অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার নিয়ে যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তা পূরণ হয়েছে। মহিলাদের মুখে আজকের এই হাসিই তার প্রমাণ।”

অশান্ত হালদার বলেন, “প্রায় ৫০০ মহিলা স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই মিছিলে অংশ নিয়েছেন। যাঁরা এখনও এই সুবিধা পাননি, তাঁরা স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্যের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।”

আস্তিক সিংহ বলেন, “অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের সুবিধা পাওয়ার আনন্দেই আজকের এই কর্মসূচি। মহিলাদের উৎসাহ ও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে অনুষ্ঠান আরও প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে।”

Share This
Categories
বিবিধ

ডিভিসির জল ছাড়ায় বাড়ছে নদীর জলস্তর, বন্যা পরিস্থিতি দেখতে পশ্চিম মেদিনীপুর ও হুগলিতে মুখ্যমন্ত্রী।

পশ্চিম মেদিনীপুর – সবং , নিজস্ব সংবাদদাতা:-পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার সবং পিংলা এবং ডেবরা সহ বিস্তীর্ণ এলাকা বন্যার জলে প্লাবিত, সেই সঙ্গে সঙ্গে হুগলি জেলার আরামবাগের বিস্তীর্ণ এলাকা জলমগ্ন।
ডিবিসি জল ছাড়াই আরো নদীর জলস্তর বৃদ্ধি পেয়েছে, তাই সারা জমিনে বন্যা পরিদর্শনে আজ উপস্থিত হয়েছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
আকাশ পথে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার সব অঙ্গে উপস্থিত হন এবং ওই এলাকার বিস্তীর্ণ জলমগ্ন অঞ্চল ঘুরে দেখেন, এবং তারপর আরামবাগে গিয়ে বন্যা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন।
সবরকম সহযোগিতার ও বানভাসে মানুষের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

Share This
Categories
বিবিধ

শিল্পায়নের নতুন সম্ভাবনা বাংলায়, কলকাতায় ইনার-আউটার রিং রোডের ঘোষণা পূর্তমন্ত্রীর।

কলকাতা, নিজস্ব সংবাদদাতা:- পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পূর্ত বিভাগ (PWD) এবং জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল (PHE)-এর দায়িত্বপ্রাপ্ত মাননীয় মন্ত্রী ডঃ অজয় ​​পোদ্দার ঘোষণা করেন যে কলকাতা শীঘ্রই একটি রিং রোড পেতে চলেছে এবং সেই সাথে তিনি বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে শিল্পায়নের এক নতুন সূর্য উদিত হয়েছে।”

কলকাতায় অনুষ্ঠিত CII রিয়েলটি ইস্ট ২০২৬ এবং বিল্ড এক্সপো ২০২৬-এর দ্বিতীয় দিনে ডঃ পোদ্দার এই ঘোষণাটি করেন এবং রাজ্যের ক্রমবর্ধমান পরিকাঠামো ও শিল্প সম্ভাবনার উপর আলোকপাত করেন।

রাজ্যের সড়ক পরিকাঠামো নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ডঃ পোদ্দার বেশ কয়েকটি রাজ্য মহাসড়ককে জাতীয় মহাসড়কে রূপান্তরিত করার সম্ভাবনার বিষয়েও আলোচনা করেন। তিনি দার্জিলিংকে সুন্দরবনের সাথে সংযোগকারী একটি সড়ক সংযোগ প্রকল্পের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন, যা তাঁর মতে পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে সংযোগ ব্যবস্থাকে উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত করতে পারে।

রাজ্যের শক্তির উপর জোর দিয়ে ডঃ পোদ্দার বলেন, পশ্চিমবঙ্গে উৎপাদনের মূল উপাদান, সম্ভাব্য মানব সম্পদ এবং জমির কোনো অভাব নেই। “বিক্ষুব্ধ ভারত ২০৪৭ অর্জনের যাত্রাপথে পশ্চিমবঙ্গের অবদান হবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ,” ডঃ পোদ্দার বলেন এবং আগামী বছরগুলিতে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও শিল্প উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি হিসেবে রাজ্যের আবির্ভূত হওয়ার সম্ভাবনার উপর গুরুত্বারোপ করেন।

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের গণপূর্ত বিভাগের (পিডব্লিউডি) সচিব শ্রীমতি অন্তরা আচার্য (আইএএস) শিল্প সংশ্লিষ্টদের তাদের সম্মুখীন হওয়া প্রতিবন্ধকতাগুলি ভাগ করে নিতে এবং কার্যকর ও বাস্তবসম্মত সমাধান তৈরির জন্য সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

বাসযোগ্য শহর গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথা বলতে গিয়ে, যেখানে অর্থনৈতিক প্রাণশক্তির সাথে সম্পদের দক্ষতাও থাকবে, সিআইআই সাউদার্ন রিজিয়নের চেয়ারম্যান এবং ড্যানফস ইন্ডিয়ার প্রেসিডেন্ট পি. রবি চন্দ্রন শক্তি দক্ষতা, ডিজিটাল একীকরণ এবং টেকসই সবুজ প্রবৃদ্ধির গুরুত্বের উপর জোর দেন।

এসআরএমবি সৃজন প্রাইভেট লিমিটেডের ডিরেক্টর শ্রী নবীন ভুওয়ালকা কলকাতা, শিলিগুড়ি এবং মালদায় রিয়েল এস্টেট শিল্পের যে রমরমা অবস্থা দেখা গেছে, সেদিকে ইঙ্গিত করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, আবাসন খাত প্রায় ২০০টি সহযোগী শিল্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত এবং এই খাতের টেকসই প্রবৃদ্ধিকে সমর্থন করার জন্য সরবরাহ শৃঙ্খলকে শক্তিশালী ও সুসংহত করার প্রয়োজন রয়েছে।

সিআইআই ইস্টার্ন রিজিয়নের প্রাক্তন চেয়ারম্যান এবং বার্জার পেইন্টস ইন্ডিয়া লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও শ্রী অভিজিৎ রায় উল্লেখ করেন যে, কৃষির পর নির্মাণ শিল্প দ্বিতীয় বৃহত্তম কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী খাত এবং তিনি এই শিল্প ও রাজ্য সরকারের মধ্যে বৃহত্তর সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, সঠিক নীতি প্রণয়ন এবং তার কার্যকর বাস্তবায়ন এই অংশীদারিত্বের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা উচিত।

সিআইআই পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য পরিষদের সদ্য প্রাক্তন চেয়ারম্যান, সিআইআই ইস্টার্ন রিজিয়ন ইনফ্রাস্ট্রাকচার অ্যান্ড লজিস্টিকস সাবকমিটির চেয়ারম্যান এবং বিজিএস গ্রুপের পরিচালক শ্রী দেবাশিস দত্ত বলেন, “ভারতের ক্রমবর্ধমান মধ্যবিত্ত জনগোষ্ঠীর আকাঙ্ক্ষা পূরণের জন্য উদ্ভাবন, সাশ্রয়ী মূল্য এবং সরকার, ডেভেলপার, ঋণদাতা ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।”

তিন দিনব্যাপী এই সম্মেলন-কাম-প্রদর্শনীতে ১০০টিরও বেশি স্টল ছিল, যেখানে শিল্পখাত জুড়ে ১,০০০-এর বেশি উদ্ভাবনী পণ্য ও পরিষেবা প্রদর্শন করা হয়।

Share This
Categories
বিবিধ

নতুন প্রধান নির্বাচিত হতেই পঞ্চায়েত চত্বরে আবিরের উৎসব, উন্নয়নকে অগ্রাধিকার শাকিলা বিবির।

ফারাক্কা, নিজস্ব সংবাদদাতা:- ফারাক্কা ব্লকের অর্জুনপুর গ্রাম পঞ্চায়েতে কাটল দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক জটিলতা। প্রাক্তন প্রধান সাবিনা বিবি অপসারিত হওয়ার পর এতদিন পঞ্চায়েতের প্রশাসনিক দায়িত্ব সামলাচ্ছিলেন উপপ্রধান বদরুল হক। অবশেষে সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে অর্জুনপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের নতুন প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন শাকিলা বিবি।

স্থানীয় ও প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ২৫ সদস্য বিশিষ্ট অর্জুনপুর গ্রাম পঞ্চায়েতে বর্তমানে আসন সংখ্যা ২৪ (একজন সদস্যের মৃত্যুর কারণে একটি আসন শূন্য রয়েছে)। অর্জুনপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের নবগঠিত বোর্ড গঠনে শাকিলা বিবির পক্ষে সমর্থন জানান পঞ্চায়েতের ২৪ জন সদস্যর মধ্যে ১৮টি এবং বিরোধী শূন্য । দলমত নির্বিশেষে সমস্ত সদস্যদের পূর্ণ সমর্থনে পঞ্চায়েতের নতুন প্রধান নির্বাচিত হন তিনি।

নতুন প্রধানের নাম ঘোষণার পরপরই অর্জুনপুর গ্রাম পঞ্চায়েত চত্বর উৎসবের আঙিনায় পরিণত হয়। দলীয় কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে শুরু হয় আনন্দ-উচ্ছ্বাস। পঞ্চায়েত অফিসের সামনে শুরু হয় আবির খেলা ও একে অপরকে মিষ্টি মুখ করানোর পর্ব। পঞ্চায়েত চত্বরে উড়তে দেখা যায় কংগ্রেসের দলীয় পতাকা।

দায়িত্ব গ্রহণের পর নতুন প্রধান শাকিলা বিবি জানান, অর্জুনপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বকেয়া উন্নয়নমূলক কাজগুলো দ্রুত শেষ করাই হবে তাঁর প্রথম অগ্রাধিকার। পাশাপাশি, এলাকার মানুষের জল, রাস্তা ও অন্যান্য সামাজিক পরিষেবা নিশ্চিত করতে তিনি সব পক্ষের সহযোগিতা নিয়ে কাজ করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন।

Share This
Categories
বিবিধ

রেল ‘সিনার্জি’ ও এমএসএমই সামিটে বড় ঘোষণা, পূর্ব রেলের আগামী দিনের উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রকাশ।।

কলকাতা, নিজস্ব সংবাদদাতা:- আগামী চার থেকে পাঁচ বছরে পূর্ব রেলের পরিকাঠামো উন্নয়নে প্রায় ১২,০০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানালেন পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজার শ্রীমতি গীতিকা পান্ডে। কলকাতায় অনুষ্ঠিত ‘রেল সিনার্জি’ ও ‘বেঙ্গল এমএসএমই ভেন্ডর কানেক্ট সামিট ২০২৬’-এর দ্বিতীয় সংস্করণে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এই ঘোষণা করেন।

পূর্ব রেলের সক্ষমতা বাড়ানো, মাল্টি-ট্র্যাকিং ব্যবস্থার উন্নয়ন, রেল ইয়ার্ড আধুনিকীকরণ এবং বিভিন্ন টার্মিনালের পরিকাঠামোগত উন্নয়নকে আগামী দিনের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরেন গীতিকা পান্ডে। তাঁর বক্তব্য, বাণিজ্য ও শিল্পের বিকাশে শক্তিশালী রেল পরিকাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

গীতিকা পান্ডে বলেন, “রেলপথ বাজার, মানুষ এবং আকাঙ্ক্ষাকে সংযুক্ত করে।” তাঁর মতে, শক্তিশালী রেল নেটওয়ার্ক লজিস্টিকসের খরচ কমানোর পাশাপাশি সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করবে এবং উৎপাদন শিল্পের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করবে।

এমএসএমই ক্ষেত্রের ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন তিনি। অর্থনীতিতে নিজেদের অবদান আরও বাড়াতে এমএসএমই সংস্থাগুলিকে উদ্ভাবনী পণ্য এবং সাশ্রয়ী সমাধান তৈরিতে আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজার।

অনুষ্ঠানে ইন্ডিয়া ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফাইন্যান্স কোম্পানি লিমিটেডের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর পলাশ শ্রীবাস্তব শিল্পক্ষেত্রে শক্তিশালী ভ্যালু-চেইন অর্থায়নের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। উৎপাদন খাতের দ্রুত প্রসারের জন্য নতুন উদ্যোগ গ্রহণের পাশাপাশি শিল্প ব্যবস্থায় ‘মিসিং মিডল’ বা মধ্যবর্তী স্তরের ঘাটতি পূরণের ওপর জোর দেন তিনি। ক্লাস্টার-ভিত্তিক অর্থায়ন এবং সামাজিক পরিকাঠামোর উন্নয়নের মাধ্যমে আরও শক্তিশালী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শিল্প-পরিবেশ গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

কলকাতার এমএসএমই ডিএফও-এর ডিরেক্টর পি কে দাস সম্প্রতি সংসদে পাস হওয়া এমএসএমই উন্নয়ন (সংশোধনী) বিল, ২০২৬ সম্পর্কে উপস্থিতদের অবহিত করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে এমএসএমই সংস্থাগুলির ক্ষেত্রে অর্থপ্রদানে বিলম্ব একটি বড় সমস্যা। নতুন সংশোধনী এই সমস্যার সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি অর্থায়ন, প্রযুক্তি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং রপ্তানি বাজারে সুযোগের ক্ষেত্রে রাজ্যের এমএসএমই ক্ষেত্রের বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

টেক্সম্যাকো রেল অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সুদীপ্ত মুখার্জি ভারতের বিশাল রেল পরিকাঠামোর কথা উল্লেখ করে দেশের রেল ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও সম্প্রসারিত করার জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা এবং কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গির প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।

অন্যদিকে, কলকাতা মেট্রো রেলওয়ের জেনারেল ম্যানেজার প্রেম সাগর গুপ্ত জানান, কলকাতা মেট্রোতে প্রতিদিন প্রায় ৬.৫ লক্ষ যাত্রী যাতায়াত করেন। বর্তমানে শহরে ৫৭টি মেট্রো স্টেশন চালু রয়েছে এবং শীঘ্রই আরও ৩১টি স্টেশন চালু হওয়ার কথা রয়েছে। এর ফলে কলকাতা ও সংলগ্ন অঞ্চলের মেট্রো যোগাযোগ আরও সম্প্রসারিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সিআইআই পশ্চিমবঙ্গ রেলওয়ে টাস্ক ফোর্সের সহ-চেয়ারম্যান এবং রাহী ইনফ্রাটেক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাহুল খৈতান বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে ভারতীয় রেল ব্যবস্থাকে শুধু ট্র্যাকের দৈর্ঘ্য বা মালবাহী পরিবহণের পরিমাণের বিচারে নয়, নির্ভরযোগ্যতা, টার্নঅ্যারাউন্ড টাইম এবং সংশ্লিষ্ট শিল্প-পরিকাঠামোর ক্ষেত্রেও বিশ্বমানের প্রতিযোগিতামূলক ব্যবস্থায় পরিণত করতে হবে।

সিআইআই পশ্চিমবঙ্গ রেলওয়ে টাস্ক ফোর্সের চেয়ারম্যান এবং জুপিটার ওয়াগন্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিবেক লোহিয়া পশ্চিমবঙ্গে শিল্প বিকাশের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। দক্ষ কর্মীর সহজলভ্যতা, খনি ও খনিজ সম্পদের নৈকট্য এবং মালবাহী করিডোরের উপস্থিতিকে রাজ্যের শিল্পোন্নয়নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

‘বেঙ্গল এমএসএমই ভেন্ডর কানেক্ট সামিট ২০২৬’-এ পূর্বাঞ্চলের শিল্প ও রেলক্ষেত্রের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার অংশ নেন। বি২বি ও বি২জি বৈঠকের মাধ্যমে বিভিন্ন বিক্রেতা, শিল্পপ্রতিনিধি এবং সরকারি প্রতিনিধিদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হয়। ফলে রেল পরিকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি রাজ্যের এমএসএমই ক্ষেত্রের জন্য নতুন ব্যবসায়িক সম্ভাবনার পথও খুলে যেতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Share This
Categories
বিবিধ

মন্দির রক্ষায় অর্থ দেবে পরিবার, সরকারি অনুমোদনের উদ্যোগ—কমলনগরের শিবমন্দির ঘিরে আশার আলো।

পূর্ব বর্ধমান, নিজস্ব সংবাদদাতা: গঙ্গার ভাঙনে ক্রমশ বিপন্ন হয়ে পড়েছে পূর্বস্থলীর কমলনগর ফেরিঘাটের ঐতিহ্যবাহী শিবমন্দির। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে যেকোনও সময় মন্দিরটি গঙ্গার গর্ভে তলিয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে মন্দিরটির বিপন্ন অবস্থার ছবি ছড়িয়ে পড়ে। এরপর বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ বাড়লেও প্রশাসনের তরফে এখনও কোনও দৃশ্যমান উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। পরিস্থিতির গুরুত্ব উপলব্ধি করে মাজিদা অঞ্চলবাসীর উদ্যোগে গড়ে ওঠে ‘মঠ মন্দির সংস্কার কমিটি’। কমিটির সভাপতি গৌড় ঘোষ-সহ সদস্যরা বিভিন্ন সনাতনী সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন।

এরই মধ্যে মন্দির রক্ষায় সামনে এসেছে প্রথম সম্ভাব্য সমাধান। একসময় নিজেদের আর্থিক সহায়তায় এই মন্দির নির্মাণে সহযোগিতা করা ধর কনস্ট্রাকশন পরিবারের সদস্যরা কমলনগর ঘাটে পৌঁছে বর্তমান পরিস্থিতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখেন। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রয়োজন হলে নিজেদের উদ্যোগেই মন্দিরটি সংস্কারের কাজ করতে তাঁরা প্রস্তুত। সেই কাজের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের জোগানও তাঁরাই দেবেন বলে জানানো হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পর চলতি মাসের শেষ দিক থেকেই কাজ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা যায়।

অন্যদিকে, মন্দির রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি সরকারি উদ্যোগের সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যায় কমলনগর জল প্রকল্পের কাছে মঠ মন্দির সংস্কার কমিটি ও বিভিন্ন সনাতনী সংগঠনের উদ্যোগে একটি ধর্মীয় সভার আয়োজন করা হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন স্বামী প্রজ্ঞানন্দজি ওরফে কার্তিক মহারাজ।

মন্দির ও গঙ্গাভাঙনের পরিস্থিতি স্থায়ীভাবে মোকাবিলার জন্য ইঞ্জিনিয়ার দিয়ে এলাকা পরিদর্শন করিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ প্ল্যান-এস্টিমেট তৈরির পরামর্শ দেন তিনি। সেই রিপোর্ট মুখ্যমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় অনুমোদন করানোর চেষ্টা করবেন বলেও জানান তিনি।

এদিন ঐতিহ্যবাহী শিবমন্দিরে হাজার হাজার পুণ্যার্থীর সমাগম হয়। মন্দিরকে ঘিরে মানুষের আবেগ যেমন রয়েছে, তেমনই গঙ্গার ভাঙন নিয়ে তৈরি হয়েছে গভীর উদ্বেগ। একদিকে ব্যক্তিগত উদ্যোগে দ্রুত সংস্কারের সম্ভাবনা, অন্যদিকে ইঞ্জিনিয়ারিং পরিকল্পনার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি সরকারি সমাধানের উদ্যোগ—এই দুই পথের মধ্যে কোনটি আগে কার্যকর হয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে কমলনগরের মানুষ।

স্থানীয়দের একটাই দাবি, স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি আপাতত গঙ্গার ভাঙন ঠেকিয়ে ঐতিহ্যবাহী শিবমন্দিরটিকে দ্রুত রক্ষা করা হোক।

Share This
Categories
বিবিধ

বর্ষা এলেই জলবন্দি সাপুঁইপাড়া, বছরের পর বছর সমস্যা না মেটায় ক্ষোভে ফুঁসছেন বাসিন্দারা।

ডোমজুড়, নিজস্ব সংবাদদাতা:- হাওড়া জেলার ডোমজুড় বিধানসভার সাপুঁইপাড়া–বসুকাটি গ্রাম পঞ্চায়েতের একাধিক এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই জমা জলের সমস্যা যেন নিত্যসঙ্গী। কোথাও হাঁটুসমান, আবার কোথাও কোমরসমান জল—বর্ষাকাল তো বটেই, বছরের বিভিন্ন সময়েই জলমগ্ন হয়ে পড়ে বিস্তীর্ণ এলাকা।
সাপুঁইপাড়ার মিতালি সংঘ থেকে শুরু করে প্রান্তিক, জামতলা, সাপুঁইপাড়া, রবীন্দ্র কল্যাণী, বসুকাটি, চাপামারি, অভয়নগর, অরবিন্দনগর-সহ একাধিক এলাকা কার্যত বছরের একটা বড় সময় জলযন্ত্রণায় ভোগে। জলমগ্ন রাস্তায় যাতায়াত করতে গিয়ে চরম সমস্যায় পড়তে হয় সাধারণ মানুষকে। সমস্যায় পড়ছেন শিশু, বয়স্ক থেকে শুরু করে স্কুল-কলেজ পড়ুয়া এবং কর্মজীবী মানুষজনও।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে এই সমস্যা চলে আসছে। ভোটের সময় রাজনৈতিক নেতারা এলাকায় এসে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন। কিন্তু ভোট মিটে গেলে সেই প্রতিশ্রুতির আর দেখা মেলে না।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, ডোমজুড় বিধানসভায় বর্তমান জয়ী বিধায়ক তাপস মাইতি নির্বাচনের পর প্রায় চার মাস কেটে গেলেও এখনও পর্যন্ত এই সমস্যাকবলিত এলাকায় এসে সাধারণ মানুষের সঙ্গে দেখা করেননি।
তবে একাধিকবার সংবাদমাধ্যমে এই জলযন্ত্রণার খবর প্রকাশিত হওয়ার পর অবশেষে এলাকায় আসেন বিডিও। তাঁর সামনে নিজেদের ক্ষোভ ও সমস্যার কথা তুলে ধরে প্রতিবাদে সরব হন স্থানীয় বাসিন্দারা।
এবার সেই ক্ষোভের আঁচ পৌঁছল পঞ্চায়েত স্তরেও। দীর্ঘদিন পর এলাকায় পঞ্চায়েত সদস্যাকে দেখতে পেয়ে তাঁকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা। তাঁদের একটাই দাবি—প্রতিশ্রুতি নয়, এবার চাই স্থায়ী সমাধান।
প্রশ্ন উঠছে, বছরের পর বছর ধরে কেন এই জলযন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাচ্ছেন না সাপুঁইপাড়ার মানুষ? কোথায় গিয়ে আটকে রয়েছে সমস্যার স্থায়ী সমাধান?

Share This
Categories
বিবিধ

পাক চর-কাণ্ডে তদন্তে নয়া মোড়, পুলিশের নজর এড়িয়ে রিষড়ায় আশ্রয় নিয়েও শেষরক্ষা হল না সানির।

হুগলি, নিজস্ব সংবাদদাতা:- ধৃতের নাম জাফর শাম ওরফে সানি। হুগলির রিষড়ার সন্ধা বাজার এলাকা থেকে সানিকে গ্রেফতার করে এসটিএফ। সূত্রে খবর,
পাকিস্তানী চর আইএসআই এজেন্ট রানা রউফ ওরফে ওয়াহাব আলমকে গত ১২ আগস্ট হাবড়া থেকে গ্রেফতার করে এসটিএফ।সে পাকিস্তান থেকে নেপাল হয়ে ভারতে ঢুকেছিল।

তার থেকে
তপসিয়ার ইমরান হোসেনের খোঁজ পায় ইমরান রানার ভারতীয় নথি বানাতে সাহায্য করেছিল।

এরপর তপসিয়ার বাসিন্দা ইজাজ আলি গ্রেফতার করে এসটিএফ।

এবার তপসিয়ার আরেক যুবক জাফর শাম ওরফে সানিকে রিষড়া থেকে গ্রেফতার করল।

জানা গেছে রানার নেটওয়ার্কে কাজ করত সানি।
হাওড়ার সালকিয়ায় রানাকে একটি কারখানায় কাজ পাইয়ে দিয়েছিল সানি।
রানাকে বন্ধু হিসাবে পরিচয় দিয়েছিল।

চন্দননগর পুলিশের এক আধিকারীক জানান,দীর্ঘদিন ধরে জাল নথি তৈরীর কাজ করত ধৃত যুবক।
হাবড়ায় ফরেনার্স এক্টে মামলা দায়ের হওয়ার পর পাক চর রানা গ্রেফতার হতেই তার সঙ্গে যোগ আছে,তাকে সাহায্য করেছে,জাল নথি তৈরীতে সাহায্য করেছেন এমন ব্যাক্তিদের খোঁজ শুরু করে এসটিএফ।সেই সূত্রেই সানির নাম পায়।

জানা গেছে,গোপন তথ্য সংগ্রহের জন্য লোক নিয়োগ করে রানা।
কাঠমান্ডু হয়ে কলকাতায় আসে।
পেট্রাপোল দিয়ে বাংলাদেশ পালানোর ছক কষেছিল।তার আগেই সে ধরা পরে যায়।

পুলিশি ধরপাকড় শুরু হওয়ার পরেই নিজের এলাকা ছেড়ে রিষড়ায় চলে আসে সানি।পুলিশ তাকে ধাওয়া করে রিষড়ার সন্ধা বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে গতকাল গভীর রাতে তাকে পাকড়াও করে।

Share This
Categories
বিবিধ

বাবার হাত ধরে সাঁতারে সাফল্য, জাতীয় স্তরে তিন পদক জিতে আন্তর্জাতিক স্বপ্ন অংশুমানের।

হাওড়া, নিজস্ব সংবাদদাতা: সাঁতারে জাতীয় স্তরে জোড়া সোনা ও একটি রুপোর পদক জিতে বাংলার মুখ উজ্জ্বল করেছে বালির খুদে সাঁতারু অংশুমান। তার এই সাফল্যে খুশি পরিবার থেকে শুরু করে এলাকার ক্রীড়াপ্রেমীরা। কৃতী এই সাঁতারুকে সংবর্ধনা জানাতে তাঁর বাড়িতে পৌঁছন বালির বিধায়ক সঞ্জয় সিং।

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ৪২তম সাব-জুনিয়র অ্যাকোয়াটিক চ্যাম্পিয়নশিপে তৃতীয় গ্রুপে অংশ নিয়ে নজরকাড়া সাফল্য অর্জন করে অংশুমান। ১০০ মিটার ব্যাকস্ট্রোক ইভেন্টে প্রথম হয়ে সোনা জয়ের পাশাপাশি ৪×৫০ মিটার ব্যাকস্ট্রোক রিলেতেও প্রথম স্থান অর্জন করে আরও একটি সোনার পদক পায় সে। এছাড়াও ৪×৫০ মিটার ফ্রিস্টাইল রিলে দ্বিতীয় হয়ে রুপোর পদক জয় করেছে অংশুমান।

বর্তমানে অষ্টম শ্রেণির ছাত্র অংশুমান বালির একটি বেসরকারি স্কুলে পড়াশোনা করে। ছোটবেলা থেকেই সাঁতারের প্রতি তার বিশেষ আগ্রহ। মজার বিষয়, অংশুমানের বাবা নিজেও একজন সাঁতারু ছিলেন। তিনি ভারতীয় সেনাবাহিনীতে কর্মরত থাকাকালীন স্পোর্টস কোটায় সাঁতারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বাবার কাছ থেকেই সাঁতারের প্রতি আরও অনুপ্রেরণা পেয়েছে অংশুমান।

মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান অংশুমানের স্বপ্ন অবশ্য অনেক বড়। ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক স্তরের সাঁতারু হয়ে বাংলার পাশাপাশি ভারতের নাম বিশ্বের দরবারে তুলে ধরতে চায় সে। জাতীয় স্তরে একের পর এক সাফল্য সেই স্বপ্নের পথেই তার আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

ছেলের এই সাফল্যে স্বাভাবিকভাবেই অত্যন্ত খুশি তার মা ও দিদা। তবে অংশুমানের বাবা-মায়ের আক্ষেপ, সাঁতারের মতো ব্যয়বহুল খেলায় নিয়মিত প্রশিক্ষণ, পরিকাঠামো ও অন্যান্য খরচ সামলানো মধ্যবিত্ত পরিবারের পক্ষে সহজ নয়। সরকারি বা অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে যদি অংশুমানের পাশে দাঁড়িয়ে আর্থিক ও পরিকাঠামোগত সাহায্য করা হয়, তাহলে আগামী দিনে সে আরও ভালোভাবে এগিয়ে যেতে পারবে বলে তাঁদের আশা।

জাতীয় স্তরে জোড়া সোনা ও একটি রুপো জয়ের পর এখন অংশুমানের চোখ আন্তর্জাতিক মঞ্চের দিকে। তার প্রতিভা, পরিশ্রম এবং স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে প্রয়োজন যথাযথ প্রশিক্ষণ ও সহযোগিতা। বাংলার এই উঠতি সাঁতারু আগামী দিনে দেশের হয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রতিনিধিত্ব করতে পারে—এমনই প্রত্যাশা পরিবার ও শুভানুধ্যায়ীদের।

Share This