Categories
নারী কথা প্রবন্ধ রিভিউ

আজ নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতার অবসান ঘটানোর আর্ন্তজাতিক দিবস – জানব আধুনিক সমাজ ব্যবস্থায় তাদের অবস্থান আজ কোথায়!

আজ ২৫ নভেম্বর সারাবিশ্বে পালিত হচ্ছে ‘ইন্টারন্যাশনাল ডে ফর দ্য এলিমিনেশন অব ভায়োলেন্স এগেইনস্ট উইমেন’ বা আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস। দিন দিন বাড়ছে নারীর প্রতি নির্যাতনের মাত্রা। পরিবার, সমাজ কোথাও রেহাই পাচ্ছেন না তারা। নারী নির্যাতন বলতে নারীদের ওপর দৈহিক, মানসিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক যে কোনো ধরনের নিপীড়ন ও নির্যাতনকে বোঝায়।
নারীর প্রতি সহিংসতার অবসান ঘটানোর আন্তর্জাতিক দিবস হলো জাতিসংঘ কর্তৃক প্রবর্তিত একটি বিশেষ দিবস যার লক্ষ্য হলো নারীর প্রতি সহিংসতা রোধ করা। ১৯৬০ সালের ২৫ নভেম্বর লাতিন আমেরিকার দেশ ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্রের স্বৈরাচারী শাসকের বিরুদ্ধে ন্যায়সংগত আন্দোলন করার জন্য প্যাট্রিয়া, মারিয়া তেরেসা ও মিনার্ভা মিরাবেল—এই তিন বোনকে হত্যা করা হলে তাদের স্মরণে ১৯৮১ সাল থেকে এই দিনটি আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিবাদ দিবস হিসেবে পালিত হয়।

নারী পুরুষের সম-অধিকারের দাবিতে গলা ফাটানো চিৎকার আজকের নয়। বহুকাল আগে থেকেই শুরু হয়েছে এই জাগরণ।বিশ্বজুড়ে প্রতি ১০০ জনে ৭ জন নারী কোনো না কোনোভাবে যৌন নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, ৭ শতাংশ নারী সরাসরি ধর্ষণের শিকার হচ্ছেন। উন্নত-অনুন্নত সব দেশে নারীর প্রতি সহিংসতার চিত্র আরও অমানবিক।
এই দিবস পালনের পেছনে রয়েছে এক হৃদয়স্পর্শী ঘটনা। ১৯৬০ সালের ২৫ নভেম্বর লাতিন আমেরিকার দেশ ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্রের স্বৈরাচারী শাসকের বিরুদ্ধে ন্যায়সঙ্গত আন্দোলন করার জন্য প্যাট্রিয়া, মারিয়া তেরেসা ও মিনার্ভা মিরাবেল নামের তিন বোনকে হত্যা করা হলে তাদের স্মরণে ১৯৮১ সাল থেকে এই দিনটি আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিবাদ দিবস হিসেবে পালিত হয়।
এই দিবস পালনের মূল লক্ষ্য হচ্ছে নারীর প্রতি সহিংসতা রোধ করা। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতিবছর ২৫ নভেম্বর থেকে ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত এই প্রতিরোধ পক্ষ উদযাপনে নানা কর্মসূচি নেয়।
মানবসভ্যতা গড়ে ওঠার পেছনে নারীর অবদানকে ছোট করে দেখার কোনো অবকাশ নেই।   লাখ লাখ বছর আগে গুহাবাসী নারী-পুরুষ যৌথ প্রচেষ্টায় যে জীবন শুরু করেছিল, তা ক্রমেই বিকশিত হয়ে আজকের সভ্যতার সৃষ্টি। নারী-পুরুষের স্বার্থ এক ও অভিন্ন।
তাই নারীকে ভোগ্যপণ্য হিসেবে না দেখে তার সঠিক মর্যাদা তাকে দিতে হবে। সকল অভিশাপ থেকে নারীকে মুক্ত করতে হবে। নারীরা প্রতিনিয়ত কোনো না কোনোভাবে নির্যাতনের শিকার হন। নির্যাতিত নারীদের অধিকাংশই নীরবে নির্যাতন সহ্য করেন। এই নির্যাতন নারীর অগ্রগতির পথে একটি মারাত্মক হুমকি বা বাধা।
নারীর ওপর নির্যাতনের প্রভাব সমাজের সব ক্ষেত্রে পড়বে, এটাই স্বাভাবিক। তাই নারীর প্রতি সব ধরনের নির্যাতন ও সহিংসতা বন্ধ করতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখতে হবে।

 

।।তথ্য : সংগৃহীত ইন্টারনেট ও বিভিন্ন ওয়েবপেজ।।

 

Share This
Categories
নারী কথা রিভিউ

প্রায় শতাধিক বছর ধরে চলে আসছে কুলাডাবর গ্রামের জগদ্ধাত্রী পুজো ।

হেমন্তের শুক্লপক্ষ নবমী তিথিতে শ্রী শ্রী জগদ্ধাত্রী মাতার পুজো হয়। করিন্দাসুর কে বধ করার জন্য মা দূর্গা জগদ্ধাত্রী রূপ ধারণ করেছিলেন ।নবমী তিথিতে তান্ত্রিক মতে ত্রিসন্ধ্যা পুজো হয় । সকালে সপ্তমী বিহিত পুজো, দুপুরে অষ্টমী এবং রাত্রে নবমী বিহিত পুজো হয় ।

পুজোয় কুস্মান্ড, ইক্ষুদণ্ড ইত্যাদি বলি দেওয়া হয় । মা জগদ্ধাত্রীর দুই পাশে নারদ ও  মার্কন্ডেয় ঋষি   এবং জয়া ও বিজয়া । মা সিংহের উপর উপবেশন করে করিন্দাসুর কে বধে উদ্দত । মায়ের গায়ের রং সকল বেলার সূর্যের রং এর মতো । মায়ের ধ্যানের মন্ত্রের মধ্যেও তা আছে -” বালার্ক সাদৃশ্যাংতনু “। মা “রক্ত বস্ত্র পরিধানাং “।

 

 

বঙ্গদেশে নাদিয়ার কৃষ্ণচন্দ্র মহারাজ জগদ্ধাত্রী পুজো প্রচলন করেছিলেন বলে জানা যায় । শ্রীরামকৃষ্ণর সহধর্মিনী মা সারদামনি
জইরামবাটিতে জগদ্ধাত্রী পুজো করেছিলেন ।

ছোটনাগপুর মালভূমির অন্তর্গত বাঁকুড়া জেলার অধীন জিড়রা গ্রামপঞ্চায়তের কুলাডাবর গ্রামে জগদ্ধাত্রী পুজো প্রায় শতাধিক বছর ধরে চলে আসছে ।

তার আগে এই পুজো এই গ্রাম থেকে পশ্চিমে 5-6 মাইল দূরে বিগত বিহার রাজ্যের মানভূম জেলার বারমাগুড়া অথবা শিয়ালডাঙ্গা গ্রামে হতো । বর্তমানে গ্রামটি পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়া গ্রামের অন্তর্গত । এই পুজো স্রাবর্ন গোত্রীয় ব্রাহ্মণ গঙ্গোপাধ্যায় উপাধীধারী “আচার্য রাজউপাধি ধারী ” দের পুজো । গঙ্গোপাধ্যায় উপাধি ধারী ব্রাহ্মণ দের ভূতপূর্ব বসবাস ছিলো হুগলি জেলার  আমাটা গ্রামে ।

 

 

পঞ্চকোটাধীপতি কাশিপুর মহারাজ গঙ্গোপাধ্যায় ব্রাহ্মণ দের জমিদারি দান করে বসবাসের ব্যাবস্থা করেন এই এলাকায়। এই মহারাজের দেওয়া উপাধি “আচার্য্য”। এই কুলাডাবর গ্রামে গদাধর আচার্য্য ও তার পুত্র কাশীনাথ আচার্য্য বসবাস করার জন্য মনস্থির করেন । কাশীনাথ আচার্যের 7জন ছেলে – ভৈরব, গোপাল, বামাপদ, শ্যাম, নন্দ, অনন্ত, রক্ষাকর । কুলাডাবর গ্রামে তৃতীয় সন্তান বামাপদ আচার্য্য কে জমিদারি দেখা শুনার জন্য  প্রেরণ করেন । পরে অনন্যা ছয় ভাই কুলাডাবর এসে বসবাস করতে থাকেন ।

বামাপদ মারা যাওয়ার পর তাহার দুই পুত্র রাবিলোচন ও জয়রাম জগদ্ধাত্রী পুজো শুরু করেন | রাবিলোচন এর কোনো পুত্র, কন্যা না থাকায় তিনি মায়ের পুজোর খরচ নিমিত্ত ছয় বিঘা কৃষি যোগ্য জমির ব্যাবস্থা করেন ||

উক্ত জমির ও জয়রাম আচার্য্য এর পৌত্র ও প্রো পৌত্র গন নিজেরাই অর্থ দিয়ে পুজোর কার্য ও অথিতি অভ্যাগতদের ভোজনের ব্যাবস্থা করে এসেছেন।

 

 

বহূ মানুষ পাশাপাশি গ্রাম থেকে পুজো উপলক্ষেই এই গ্রামে অথিতি হিসেবে আসেন। এই পুজোয় মায়ের প্রতিমা মৃন্ময়মূর্তি, একচালা ডাকে সজ্জিত ।

শিয়ালডাঙ্গা গ্রাম থেকে মাটি এনে মায়ের মূর্তি গড়ে তোলা হয় । পূর্বে কর্মকার পরিবারের শিল্পীরা এবং বর্তমানে পালপারিবারে শিল্পী “নিমাই পাল ” মায়ের মূর্তি গড়েন। এই পুজোয় মনিহারা গ্রামের চক্রবর্তী পরিবার বংশ পরম্পরায় এই পুজোর সাথে যুক্ত পুরোহিত হিসাবে । বর্তমানে সন্তোষ চক্রবর্তী (ভট্টাচার্য )মহাশয় পুরোহিত কার্যে নিযুক্ত থাকেন।

নবমীর সকাল বেলায় পুরোহিত মহাশয় “কাশির বাঁধ ” হইতে বারী আনেন। এই সময় বহূ ভক্ত স্নান করে মা এর মন্দির পর্যন্ত ডন্ডি  দিয়ে আসেন।

 

 

বর্তমানে এই ডন্ডির রাস্তা টি সুন্দর ভাবে সিমেন্ট দিয়ে ঢালাই করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও এই গ্রামে জগদ্ধাত্রী পুজো উপলক্ষে মেলাও বসে। সমস্ত গ্রাম আলোকসজ্জায় সজ্জিত থাকে । কলকাতার সুবিখ্যাত যাত্রাপার্টির যাত্রানুষ্টান ও সংস্কৃতিক অনুষ্টান অনুষ্টিত হয়। পুজো উপলক্ষে বহূ আত্মীয় ও যারা বাইরে থাকেন তারা সবাই পুজোর সময় সমবেত হন। পুজোর সময় কয়েক দিন গ্রাম টা যেন জাকজমকপূর্ণ ও আনন্দ মুখরিত থাকে । এরপর অবশেষে ক্লান্ত মনে, অশ্রু নেত্রে গ্রামের কাশীরবাঁধে মাকে নিমজ্জিত করা হয়।

 

।। কলমে : আবদুল হাই,বাঁকুড়া।।

 

 

Share This
Categories
নারী কথা প্রবন্ধ রিভিউ

জগদ্ধাত্রী পূজার সূচনার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট।

জগদ্ধাত্রী বা জগদ্ধাত্রী দুর্গা হিন্দু শক্তি দেবী। ইনি দেবী দুর্গার (পার্বতী) অপর রূপ। উপনিষদে তার নাম উমা হৈমবতী। বিভিন্ন তন্ত্র ও পুরাণ গ্রন্থেও তার উল্লেখ পাওয়া যায়। যদিও জগদ্ধাত্রী আরাধনা বিশেষত বঙ্গদেশেই প্রচলিত। আবার পশ্চিমবঙ্গের নদিয়া জেলার কৃষ্ণনগর ও হুগলি জেলার চন্দননগর, গুপ্তিপাড়া জগদ্ধাত্রী উৎসব জগদ্বিখ্যাত। কার্তিক মাসের শুক্লা নবমী তিথিতে দেবী জগদ্ধাত্রীর বাৎসরিক পূজা অনুষ্ঠিত হয়। হিন্দু বাঙালির ধর্মীয় মানসে রাজসিক দেবী দুর্গা (পার্বতী) ও তামসিক কালীর পরেই স্থান সত্ত্বগুণের দেবী জগদ্ধাত্রীর।

জগদ্ধাত্রী কৃষ্ণনগর ও চন্দননগরের প্রাণাত্মিকা। কিন্তু এই জগদ্ধাত্রী পূজার সূচনার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট কি তা নিয়ে রয়েছে বহু মতান্তর। ইদানীং কালে কৃষ্ণনগর রাজবাড়ি তথা নদীয়ার ব্রাহ্মশাসন গ্রামের জগদ্ধাত্রীপূজার কিছু কাহিনী পাঠক মহলে খুবই জনপ্রির হয়ে উঠেছে। উইকিপিডিয়াতেও লেখা আছে রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের জগদ্ধাত্রী পূজা সূচনার কথা। মজার কথা হল এই পূজা আদৌ কবে ও কোথায় শুরু হয়েছিল তার ঐতিহাসিক বিশ্লেষণ কি? কৃষ্ণনগর রাজবাড়ির মতে এই পূজা মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র রায় (১৭১০ খৃষ্টাব্দ) দ্বারা শুরু হয়েছে। তিনি নাকি তৎকালীন নবাবের কাছে কোন এক কারণে দুর্গা পূজার সময়ে বন্দি হন এবং পরে দুর্গা পূজার পর ছাড়া পেলে স্বপ্নাদেশে পরের মাসের অর্থাৎ কার্তিক শুক্লা নবমীতে এই পূজার প্রচলন করেন। সময়কাল নিয়ে মতভেদ থাকলেও অনুমানিক সূচনাকাল সর্বপ্রথম কৃষ্ণনগর। এর পর চন্দননগর বা অন্যান্য স্থানে জগদ্ধাত্রীপূজার সূচনা হয়।
এই কৃষ্ণচন্দ্রের পৌত্র ছিলেন গিরীশচন্দ্র রায়। তিনি নদীয়ার শান্তিপুরের কাছে ১০৮ঘর ব্রাহ্ম পরিবারকে থাকতে দিয়ে একটি গ্রামপত্তন করেন যার নাম “ব্রাহ্মশাসন”। তার পর থেকে শুরু হয় শান্তিপুরে জগদ্ধাত্রী পুরো প্রচলন।
জগদ্ধাত্রী সম্পূর্ণ তান্ত্রিক দেবী। বঙ্গ তান্ত্রিক সিদ্ধপুরুষ কৃষ্ণানন্দ আগমবাগীশবংশীয় মহাপন্ডিত তন্ত্রজ্ঞ সিদ্ধসাধক কৌলাবধূতাচার্য্য রঘুনাথ তর্কবাগীশ মহাশয় (কাল গ্রহ বিষৎ ষট্ চন্দ্র শাকে) অর্থাৎ ১৬১০ শতাব্দে বা ১৬৮১খৃষ্টাব্দে প্রায় ১৬০ টি তন্ত্র ও প্রায় শতাধীক বেদ বেদান্ত পুরাণাদি গ্রন্থ মন্থন করে রচনা করেন “আগমতত্ব বিলাস” নামক এক অনর্ঘ্য মহাপুস্তক। সেই পুস্তকে স্পষ্টতই জগদ্ধাত্রী দেবীর সম্পূর্ণ মূর্তিবিবরণ, পূজাকাল, পূজা পদ্ধতি, পূজার বীজ মন্ত্র,দীক্ষাবিধি সব সুনিপুণ ভাবে বিস্তৃত উল্লেখ করেছেন রঘুনাথ জি।
ইন্দ্রনারায়ণের দেহরক্ষার ৬-৭ বছর বহু আগে থেকে কৃষ্ণনগরে পূজার সূচনা হয়। চন্দননগরে আদি মা তথা আরো কিছু বারোয়ারী পূজা সহ আদি হালদার পাড়ার বারোয়ারীর পূজার সচিত্র তথ্য প্রকাশিত হয়। ১৯৬১সালে আনন্দবাজার পত্রিকায় স্পষ্টতই উল্লেখ আছে যে সেই পূজা প্রায় ৪০০বছরে প্রাচীন। সেই হিসাবে বর্তমান কাল ধরে সেই পূজা ৪৬০বছরে প্রাচীন।  তাহলে প্রসঙ্গক্রমে বলতে হয় আদি হালদার পাড়ার পূজাটিও পূর্বে কোন এক সাধক পরিবারের পূজা ছিল। তারাও মানে যে আদিমা তাদের থেকেও প্রাচীন।অর্থাৎ আদিমায়ের প্রাচীনত্ব স্বীকৃত। ১৮২০সালে Friends of India নামক পত্রিকায় চন্দননগরে  জগদ্ধাত্রী পূজার উল্লেখ আছে। সেই স্থানে আছে রবার্টক্লাইভ চন্দননগরের চাউলপট্টিকে Granary of bengal বলে উল্লেখ করেছিলেন। এবং সেই সময় আদিমায়ের পূজার কথাও ছিল। ক্লাইভের ১৭৫৭ খৃষ্টাব্দে চন্দননগর অভিযানের কথা সকলেই জানেন। এতদ্দ্বারা প্রমাণ হয় যে কৃষ্ণচন্দ্রের বহুপরে আদিমায়ের পূজা প্রচলিত ছিল। নদিয়ারাজ কৃষ্ণচন্দ্র রায়ের রাজত্বকাল থেকেই বঙ্গদেশে জগদ্ধাত্রী পূজার জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পায়।
জগদ্ধাত্রী পূজার নিয়মটি একটু স্বতন্ত্র। দুটি প্রথায় এই পূজা হয়ে থাকে। কেউ কেউ সপ্তমী থেকে নবমী অবধি দুর্গাপূজার ধাঁচে জগদ্ধাত্রী পূজা করে থাকেন। আবার কেউ কেউ নবমীর দিনই তিন বার পূজার আয়োজন করে সপ্তমী, অষ্টমী ও নবমী পূজা সম্পন্ন করেন। এই পূজার অনেক প্রথাই দুর্গাপূজার অনুরূপ।
জগদ্ধাত্রী পূজা বাঙালি হিন্দু সমাজের একটি বিশিষ্ট উৎসব হলেও, দুর্গা বা কালীপূজার তুলনায় এই পূজার প্রচলন অপেক্ষাকৃত আধুনিক কালে ঘটে। অষ্টাদশ শতকে নদিয়ারাজ কৃষ্ণচন্দ্র রায় তার রাজধানী কৃষ্ণনগরে এই পূজার প্রচলন করার পর এর জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পায়। যদিও দেবী জগদ্ধাত্রী যে বাঙালি সমাজে একান্ত অপরিচিত ছিলেন না, তার প্রমাণও পাওয়া যায়। শূলপাণি খ্রিস্টীয় পঞ্চদশ শতকে কালবিবেক গ্রন্থে কার্তিক মাসে জগদ্ধাত্রী পূজার উল্লেখ করেন। পূর্ববঙ্গের বরিশালে খ্রিস্টীয় অষ্টম শতকে নির্মিত জগদ্ধাত্রীর একটি প্রস্তরমূর্তি পাওয়া যায়। বর্তমানে এই মূর্তিটি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের আশুতোষ সংগ্রহশালার প্রত্নবিভাগে রক্ষিত। কৃষ্ণচন্দ্রের রাজত্বকালের আগে নির্মিত নদিয়ার শান্তিপুরের জলেশ্বর শিবমন্দির ও কোতোয়ালি থানার রাঘবেশ্বর শিবমন্দিরের ভাস্কর্যে জগদ্ধাত্রীর মূর্তি লক্ষিত হয়। তবে বাংলার জনসমাজে কৃষ্ণচন্দ্রে পূর্বে জগদ্ধাত্রী পূজা বিশেষ জনপ্রিয়তা অর্জন করেনি। কেবল কিছু ব্রাহ্মণগৃহে দুর্গাপূজার পাশাপাশি জগদ্ধাত্রী পূজা অনুষ্ঠিত হত।

 

 

।।সংগৃহীত : উইকিপিডিয়া।।

Share This
Categories
নারী কথা প্রবন্ধ

রনা ডাকাত ও সিদ্ধেশ্বরীমায়ের গল্প আজও মানুষের মুখে মুখে।

আনুমানিক প্রায় ৪৫০বছর আগে নদিয়ার রাজা কৃষ্ণ চন্দ্রের পিতা রঘুরামের রাজত্বে জঙ্গল ময় অঞ্চল ছিল চূর্ণী নদীর ধার। আর সেই জঙ্গলে থাকতো ডাকাত এর দল। ডাকাত দলের সর্দার ছিলেন রনা ডাকাত। তিনি রনো পা দিয়ে ডাকাতি করতেন বলে তার নাম রনাডাকাত।সে ডাকাতি করে সেই সব অর্থ ধন সম্পদ দরিদ্রদের মধ্যে বিলিয়ে দিতেন ।ডাকাতি করার আগে তিনি মা কালী কে পূজো করে বের হতেন।যেহেতু সমস্ত মনের ইচ্ছা সিদ্ধ করতেন মা কালী তাই তার কালী মায়ের নাম দিয়েছিলেন সিদ্ধেশরী মা ।পরবর্তী কালে রনাডাকাত সাধুর সংস্পর্শে এসে তার মানসিক ও স্বভাব পরিবর্তন হয়। ডাকাতি ছেড়ে মায়ের সাধনায় মনোনিবেশ করেন ।কথিত আছে রনাডাকাতের নাম অনুসারে রানাঘাট নাম হয় ।রনা ডাকাতের মৃত্যু হলে মা সিদ্ধেশ্বরী জঙ্গলের মধ্যেই পরে ছিলেন । এরপর নদিয়ার রাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায় চূর্ণী নদী দিয়ে বজরা করে যাওয়ার পথে বজরা থামিয়ে খাওয়া দাওয়া করে চূর্ণী নদীর এই স্থানে তিনি স্বপ্নাদেশ পান মা সিদ্ধেশ্বরীমায়ের জঙ্গলের মধ্যে এরপর এইখানেয় মায়ের প্রতিষ্ঠা করেন ।সেই সময় মায়ের পুজোর দায়িত্ব দেন ভোলানাথ চট্টোপাধ্যায় কে তার কোনো পুত্র সন্তান ছিলো না তার পিসি ছিলেন ইচ্ছাময়ী দাসী তার সম্পর্কে ভাইপোরা পরবর্তী কালে সিদ্ধেশ্বরী মায়ের পূজো শুরু করেন আজ ও সেই পূর্ব পুরুষের হাত ধরে মায়ের পূজো হয়ে আসছে তবে রনাডাকতের সিদ্ধেশ্বরী মা কে এক ইংরেজসাহেব ছুঁয়ে ফেলাতে মূর্তি টি নদীতে বিসর্জন দিয়ে কোস্টি পাথরের মূর্তিতে সিদ্ধেশ্বরী মা প্রতিষ্ঠা করে পূজো হয়ে আসছে ।মায়ের করুণা ও আশীর্বাদ পেতে শুধু রানাঘাট নয় আশেপাশের থেকে বিভিন্ন রাজ্য দেশে বিভিন্ন জায়গা থেকে এমন কি বিদেশ থেকেও পূজো ও মায়ের আশীর্বাদ নিতে ভিড় করেন রানাঘাট সিদ্ধেশ্বরী মন্দিরে।আর প্রত্যেক দিন পুজো হলেও কালীপুজোর দিন দূরদূরান্ত থেকে ভক্ত বৃন্দের ঢল নামে এই মন্দিরে

Share This
Categories
নারী কথা প্রবন্ধ

মাতা আগমেশ্বরীর সূচনা ও কিছু রীতি নীতি – একটি বিশেষ পর্যালোচনা।

মাতা আগমেশ্বরীর সূচনা করেছিলেন পন্ডিত কৃষ্ণানন্দ আগমবাগীশ। এই কৃষ্ণানন্দ আগমবাগীশ নবদ্বীপের বাসিন্দা। তিনি তন্ত্রসার গ্রন্থ রচনা করেছিলেন অর্থাৎ তান্ত্রিকের নির্দিষ্ট পূজা বিধি। তিনি ধ্যানযোগে তাঁর আরাধ্যা দেবীর মূর্তি দেখেছিলেন। সেই মূর্তিকেই তিনি মাতা আগমেশ্বরীর  মধ্যে চিত্রিত করেছিলেন। যখন তিনি ধ্যান করছিলেন সেই সময় তিনি ধ্যানের মধ্য দিয়ে দেবীর আদেশে জানতে পারেন যে আগামীকাল প্রত্যুষে তুই যাকে দেখতে পাবি সেই তোর আরাধ্যা দেবী। সেই অনুযায়ী তিনি ঘুম থেকে উঠে চোখ মেরে দেখেন কালো এক কন্যা একহাতে গোবর নিয়ে অন্য হাতে ঘুটে দিচ্ছে দেওয়ালে। উনাকে দেখে উনি লজ্জায় জিভ কেটে ফেললেন। কৃষ্ণানন্দের মনে হল উনি হচ্ছেন তার আরাধ্যা দেবী কালী। উনি পড়ে সেই দেবীর মূর্তি গঙ্গা মৃত্তিকা এনে নির্মাণ করলেন এবং নির্মাণ করে পুজো করার সেই রাতেই তিনি তাকে বিসর্জন দিয়ে দিলেন। সেই থেকে প্রথম দক্ষিণা কালীর সৃষ্টি হল মূর্তি গড়িয়ে। পরবর্তীকালে কৃষ্ণানন্দ আগমবাগিশের প্রপুত্র সার্বভৌম আগমবাগীশ তিনি শান্তিপুরে মূর্তি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। সার্বভৌম হলেন কৃষ্ণানন্দ আগমবাগিশের প্রপুত্র। তাঁরা শাক্ত ছিলেন। কিন্তু শান্তিপুরে অদ্বৈত আচার্যের পুত্র মথুরেশ গোস্বামী চেয়েছিলেন তদানীন্তনকালে শক্ত এবং বৈষ্ণবের মধ্যে বিরোধ টা দূর করতে। তাই তিনি তার মেয়ের বিয়ে দেন সার্বভৌম আগমবাগিসশের সঙ্গে। কিন্তু তদানীন্তন শাক্ত সমাজে এই বিয়েটা ভালোভাবে মেনে নেননি। মেনে না নেওয়ার ফলে তাদের সংসারে নানা সমস্যা দেখা দিতে শুরু করল। পরে তিনি মেয়ে জামাইকে নবদ্বীপ থেকে নিয়ে আসেন শান্তিপুরে। শান্তিপুরের বড় গোস্বামী পরিবার যেহেতু প্রত্যক্ষভাবে শক্তির উপাসনা করেন না সেহেতু মধুরেশ গোস্বামী সেই সময় তার বাড়ির কাছেই পূর্ব দিকে একটি পঞ্চমুন্ডির আসন স্থাপন করেন। সেখানেই সাধনা করে সিদ্ধিলাভ করেন সার্বভৌম আগমবাগীশ। তিনিও সাধনায় অনুরূপভাবে মূর্তি দেখলেন এবং শান্তিপুরে আগমেশ্বরীর প্রতিষ্ঠা করলেন। এখানে সার্বভৌমের নিয়মানুযায়ী একদিনে মূর্তি তৈরি করা হতো কিন্তু এখন যেহেতু মূর্তি অনেক বড় সেই কারণেই কৃষ্ণপক্ষ পরার পর মূর্তির কাজ শুরু হয়। ৮-১০ দিনের মধ্যে মায়ের মূর্তি তৈরি হয়। এবং পুজোর দিন মৃৎশিল্পী সুবীর পাল চক্ষুদান করে নিচে নেমে আসেন তারপরই পুজো শুরু হয়। সেই রীতি এখনো আছে এবং পুজো হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘট বিসর্জন হয়ে যায়। পরে মূর্তি নিরঞ্জন হয়। শান্তিপুর তথা বাংলার  বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বহু দূর দূরান্ত থেকে ভক্তরা আসেন তাঁদের মনস্কামনা পূর্ণ করতে। দেবীকে নানান ধরনের স্বর্ণালংকার টাকা-পয়সা মিষ্টি বাতাসা ভক্তরা দিয়ে যান। আনুমানিক ১০-১২ লক্ষ টাকার প্রতিবছর খরচ হয় এই পুজোয়। এই টাকাটা পুরোটাই ভক্তদের প্রদেয় দান। জোর করে কারো কাছ থেকে পুজোর চাঁদা নেওয়া হয় না। পুজো কমিটির অফিসে এসে ভক্তরা তাদের সাধ্যমত চাঁদা দিয়ে যান। করোনা বিধি কাটিয়ে উঠে এ বছর ১৪ কুইন্টাল পুষ্পান্ন ভক্তদের বিলি করা হচ্ছে।
মন্দিরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিনয় অধিকারী জানান, আমি দীর্ঘ ৪০ থেকে ৪৫ বছর মার মন্দির দেখাশোনা করি। করোনা আবহে দু বছর ভোগ হয়নি। এ বছর নতুন করে আবার ভোগ চালু হচ্ছে। করোণা আবহে দু বছর পুষ্পান্ন বাদ দিলে প্রতিবছরই ৮ থেকে ৯ হাজার সড়া করা হয়। এই ভোগ সবাইকে বিতরণ করা হয়।
শান্তিপুরের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে পুজো পরিচালনার জন্য একটি উপদেষ্টা মন্ডলী আছে। মূলত বড় গোস্বামী বাড়ির উত্তর পুরুষ এই পুজোর পরিচালনার দায়িত্বে। তাদের মাথার উপর শান্তি পুরের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে একটি উপদেষ্টা কমিটি এই পুজো পরিচালনা করে। কৃষ্ণানন্দ আগমবাগীশ দক্ষিণা কালীর যে ধান রীতি রচনা করেছিলেন সেই ধ্যানীতিতে বলা হয় মার কর্ণের পাশ দিয়ে দুটি শব শিশু ভয়ানক রূপে বিরাজ করছে। আগে কঢড়ি বর্গার বাড়ির মতন মন্দিরটা ছিল। বর্তমানে ২৫- ৩০ বছর এই মন্দিরটি সংস্কার করা হয়েছে। আগে এই মন্দিরটি ঘন জঙ্গলের মধ্যে ছিল।মানুষের বসবাসের উপযোগী ছিল না। বড় গোস্বামী বাড়ির শশুরকুল এই পুজোর পরিচালনা করে। আগে মশালের আলো দিয়ে প্রতিমা নিরঞ্জন হত। কিন্তু পরবর্তীকালে প্রশাসনের নির্দেশে তারা মশাল বন্ধ করে দেয়।

Share This
Categories
নারী কথা প্রবন্ধ

সুনীতি দেবী, তিনিই ভারতবর্ষের প্রথম নারী যিনি ‘সি.আই.ই’ উপাধি পান।

ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন ছিল কিছু মানুষের কঠোর পরিশ্রম যার ফলেই ব্রিটিশদের থেকে ভারত রাজনৈতিক দিক থেকে মুক্তি পেয়েছে। ভারত উপমহাদেশের বিংশ শতাব্দীতে ব্রিটিশ সম্রাজ্যবাদ বিরোধী যে সশস্ত্র বিপ্লববাদী লড়াই-সংগ্রাম সংগঠিত হয় এবং যার ধারাবাহিকতায় ভারত স্বাধীন হয়। এই অন্দোলনে যে সকল বিপ্লবীর নাম সর্বজন স্বীকৃত তাঁদের মধ্যে কানাইলাল দত্ত  প্রথমসারির একজন অন্যতম বিপ্লবী ছিলেন। কানাইলাল দত্ত  ভারতীয় উপমহাদেশের ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনে এক উল্লেখযোগ্য নাম, যিনি দেশমতৃকার শৃঙ্খল মুক্তির জন্য নিজেকে সঁপে দিয়েছিলেন সম্পূর্ণ রূপে।

 

কানাইলাল দত্ত (বাংলা: কানাইলাল দত্ত; ৩০ আগস্ট ১৮৮৮ – ১০ নভেম্বর ১৯০৮) ছিলেন যুগান্তর গ্রুপের অন্তর্গত ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের একজন বিপ্লবী।  তিনি পশ্চিমবঙ্গের চন্দননগরে জন্মগ্রহণ করেন।  তিনি, সত্যেন্দ্রনাথ বসুর সাথে, ৩১ আগস্ট ১৯০৮ তারিখে আলিপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেল হাসপাতালে ব্রিটিশদের অনুমোদনকারী নরেন্দ্রনাথ গোস্বামীকে হত্যার জন্য ব্রিটিশদের দ্বারা দোষী সাব্যস্ত হন। সত্যেন্দ্রনাথ বসুকে ২১ নভেম্বর ১৯০৮-এ মৃত্যু পর্যন্ত ফাঁসি দেওয়া হয়। কানাইল  দত্ত পশ্চিমবঙ্গের চন্দন নগরে একটি তাঁতি (তাঁতি) পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।  তার বাবা, চুনিলাল দত্ত, বোম্বেতে একজন হিসাবরক্ষক ছিলেন  কানাইলালের প্রাথমিক বিদ্যালয় জীবন শুরু হয়েছিল গিরগাঁও আরিয়ান এডুকেশন সোসাইটি স্কুল, বোম্বেতে এবং পরে তিনি চন্দননগরে ফিরে আসেন এবং চন্দননগরের ডুপ্লেক্স কলেজে ভর্তি হন।  ১৯০৮ সালে, তিনি হুগলি মহসিন কলেজ থেকে বিএ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন, যা কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে অধিভুক্ত ছিল।

তার প্রথম কলেজের দিনগুলিতে, কানাইলাল চারু চন্দ্র রায়ের সাথে দেখা করেছিলেন, যিনি তাকে বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে আন্দোলনের সময় বিপ্লবী আন্দোলনে যোগ দিতে অনুপ্রাণিত করেছিলেন।  ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে আন্দোলনের সময় কানাইলাল দত্ত চন্দননগর গ্রুপ থেকে অগ্রণী ছিলেন।  শ্রীশচন্দ্র ঘোষের নেতৃত্বে গন্ডোলপাড়া বিপ্লবী দলের সাথেও তিনি ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ গড়ে তোলেন।  ১৯০৮ সালে, তিনি কলকাতায় চলে আসেন এবং কলকাতা ভিত্তিক বিপ্লবী গ্রুপ যুগান্তরে যোগ দেন।  কিংসফোর্ডকে হত্যার লক্ষ্যে মুজাফফরপুর বোমা হামলার (৩০ এপ্রিল ১৯০৮) মাত্র দুই দিন পর, ২ মে ১৯০৮ সালে পুলিশ বাংলায় বেশ কয়েকজন বিপ্লবীকে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করে। ৩৩ জন বিপ্লবীর বিরুদ্ধে সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালানোর অভিযোগ আনা হয়। কানাইলাল দত্ত তাদের একজন ছিলেন।  এই ব্যক্তি, যারা ২ মে ১৯০৮-এ গ্রেফতার হয়ে আলিপুর জেলে আটক ছিলেন।

১৯০৮ সালের ২ মে কলকাতার ৩২ মুরারি পুকুর রোডে পুলিশ প্রাঙ্গণে অভিযান চালায় এবং একটি বোমা-ফ্যাক্টরি আবিষ্কৃত হয় যেমন অস্ত্রের মজুত, প্রচুর পরিমাণে গোলাবারুদ, বোমা, ডেটোনেটর এবং অন্যান্য সরঞ্জাম ছিল।  তারা বিপ্লবী সাহিত্যও বাজেয়াপ্ত করে।  সারা বাংলা ও বিহার জুড়ে বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালানো হচ্ছে এবং আরও আটক করা হচ্ছে।  অরবিন্দ ঘোষ, বারীন্দ্র কুমার ঘোষ, উল্লাসকর দত্ত, ইন্দু ভূষণ রায়সহ আরও অনেকে গ্রেফতার হন।  এই সময়ে একজন বন্দী, নরেন্দ্রনাথ গোস্বামী (ওরফে নরেন্দ্র নাথ গোসাইন), ব্রিটিশদের অনুমোদনকারী হয়ে ওঠেন এবং পুলিশের কাছে অনেক ব্যক্তির নাম প্রকাশ করতে শুরু করেন, যার ফলে আরও গ্রেপ্তার করা হয়।
গোস্বামী ছিলেন চন্দননগরের কাছে শ্রীরামপুরের বাসিন্দা।  তিনি বিপ্লবীদের সমস্ত পরিকল্পনা ও তৎপরতা জানতেন।  সাক্ষী বাক্সে উপস্থিত হয়ে তিনি তার অনেক প্রাক্তন সহকর্মীর নাম উল্লেখ করে ফাঁসানো শুরু করেন।  বারীন ঘোষ, শান্তি ঘোষ এবং উল্লাসকর দত্তের নাম ১৯০৮ সালে চন্দরনাগর স্টেশনে গভর্নরের ট্রেন উড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টায় উল্লেখ করা হয়েছিল;  মেয়রের বাড়িতে বোমা হামলার কথা উল্লেখ করে তিনি চন্দননগরের বিপ্লবী দলের নেতা চারু চন্দ্র রায়ের নাম উল্লেখ করেন;  এবং ২৪ জুন বিপ্লবী কর্মকাণ্ডের সাথে যুক্ত অরবিন্দ ঘোষ এবং সুবোধ চন্দ্র মল্লিকের নাম উল্লেখ করেন।

 

 

 

।।তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
নারী কথা প্রবন্ধ

মুসলিম মহিলার হাতে কালীপুজো শুনতে অবাক লাগলেও এটাই সত্যি, জানুন ইতিহাস।

 মুসলিম মহিলার হাতে কালীপুজো শুনতে অবাক লাগলেও এটাই সত্যি। এমনই ঘটনা নজির কেড়েছে মালদহে হবিবপুর ব্লকের, মধ্যমকেন্দুয়া গ্রামে।শেফালিদেবী প্রথমে নিজেও হিন্দু দেবীর এই স্বপ্নাদেশ পেয়ে হতভম্ব হয়ে যান। এরপর স্বপ্নাদেশের কথা তিনি গ্রামবাসীকে জানালে প্রথমে কেউ বিশ্বাস করেননি। মুসলিম মহিলা হয়ে কালীপুজো করবে, এই কথা গ্রামে ছড়িয়ে পড়তেই সমালোচনার ঝড় ওঠে। তারপর হঠাৎ একদিন এলাকাবাসীর সামনেই শেফালিদেবীর শরীরে ভর করেন মা কালী। তখনও শেফালিকে পুজো করার আদেশ দেন দেবী।

 

 

এরপরই শেফালিকে এই পুজো করার সম্মতি দেন এলাকাবাসী। সেই থেকে আজও একইভাবে ভক্তি ও নিষ্ঠার সঙ্গে কালীপুজো করে আসছেন শেফালি বেওয়া ও তাঁর পরিবার।কালীপুজোয় সম্প্রীতির অনন্য নজির কারে মধ্যমকেন্দুয়া রেললাইনের পুজো। বছরের পর বছর ধরে মুসলিম মহিলার হাত ধরেই হয়ে আসছে এই কালীপুজো। আর এই পুজোকে ঘিরে হিন্দু, মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের মানুষই আনন্দে মেতে ওঠেন।সংখ্যালঘু মহিলার মা কালীর প্রতি প্রেমভক্তি সকলকেই আকর্ষণ করে।শেফালী বেওয়া জানান–মুসলিম মহিলা কালী পূজা করবে গ্রামবাসীরা এই শুনে অবাক হয়েছিলেন।প্রথমদিকে কালীপুজো করার অনুমতি দিতে চাইনি । কিন্তু যত দিন যায় দেখা যায়, পুজোয় বসে যা বলতেন, অধিকাংশ সময়ই সেটা লেগে যেত। এমনকি কারোর অসুখ করলে পুজোয় বসে শেফালিদেবী নিধান দিতেন এবং সেটা করে রোগী সুস্থ হয়ে যেত।

 

 

এরপর সকল গ্রামবাসীই জাত-ধর্মের ঊর্ধ্বে উঠে গ্রামবাসীরা সেই থেকে মায়ের নাম শেফালি কালী নামে পরিচিত।গ্রামবাসীরাই মিলিতভাবে রেললাইনের ধারে মা কালীর একটি বেদি করে দিয়েছেন। সেখানে নিত্যপুজো হয়। আর এই কালীপুজোর দিন মূর্তি পুজো করা হয়। টানা ১৫ দিন ধরে এই পুজো চলে। তারপর সামনের পুকুরে মূর্তি বিসর্জন করা হয়। শেফালির নাম থেকে এই পুজোর নাম হয়ে গিয়েছে শেফালি-কালী পুজো।এই পুজোতে যে যা মনোসকামনা,তাই মা কালী পূরণ করে দেয়। এই মায়ের বহু দূর দুরান্ত থেকে ভক্তরা বহু অলংকারের দিয়ে থাকে।

Share This
Categories
নারী কথা প্রবন্ধ

প্রথাগত ‘‘নারীবাদী লেখক“ তকমার বিরোধী হলেও মেয়েদের কথা বারবার উঠে এসেছে নবনীতার লেখনীতে।

            নবনীতা দেবসেন একজন বাঙ্গালি কবি, লেখক এবং শিক্ষাবিদ।  নবনীতা দেবসেন দক্ষিণ কলকাতায় হিন্দুস্থান পার্কে তার বাবা- মা’র ‘ভালবাসা’ গৃহে জন্মগ্রহণ করেন । পিতা নরেন্দ্র দেব ও মাতা রাধারাণী দেবী সেযুগের বিশিষ্ট কবি দম্পতি। নবনীতা দেবসেনের বাবা নরেন্দ্র দেব, মা রাধারানী দেবী ছিলেন কলকাতার এলিট ঘরানার মানুষ। গত শতকের ত্রিশের দশক বাংলা সাহিত্যে আধুনিক যুগ বলে কথিত। ওই যুগের কবি তাঁরা। রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে ছিল সুসম্পর্ক। রাধারানী দেবী একসময় ‘অপরাজিতা দেবী’ নামে লিখতেন। ওই নামে রবীন্দ্রনাথ, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর পত্রালাপ হয়, যা বাংলা সাহিত্যে বহুল আলোচিত। তাঁদের কন্যা নবনীতা অধিকতর আধুনিকতায় দীপ্ত হবেন, খুব স্বাভাবিক।
একজন নারীর দৃষ্টিভঙ্গি থেকে সাহিত্যকে বিচার-বিশ্লেষণ করার রসদ নবনীতা পেয়েছিলেন মায়ের জীবন এবং সাহিত্যচর্চা থেকে।

 

 

শৈশব থেকে এক বিশেষ সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক পরিবেশে তিনি বড় হয়েছেন। বাংলা ও ইংরেজি ছাড়া উনি হিন্দি, ওড়িয়া, অসমীয়া, ফরাসী, জার্মান, সংস্কৃত এবং হিব্রু ভাষাগুলি পড়তে পারেন। গোখলে মেমোরিয়াল গার্লস, লেডি ব্রেবোর্ণ ও প্রেসিডেন্সি কলেজ, যাদবপুর , হার্ভার্ড, ইণ্ডিয়ানা (ব্লুমিংটন) ও কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা ও গবেষণা করেছেন। ১৯৭৫- ২০০২ তিনি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনামূলক সাহিত্যের অধ্যাপিকা ও বেশ কিছুকাল বিভাগীয় প্রধান ছিলেন। এছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপেরও কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিজিটিং প্রফেসর ছিলেন। তাকে তুলনামূলক সাহিত্যের একজন বিশিষ্ট অথরিটি মানা হয়। যাদবপুরে তিনি কবি বুদ্ধদেব বসু ও সুধীন্দ্রনাথ দত্তের স্নেহধন্য ছাত্রী ছিলেন। ১৯৯৯ সালে তিনি সাহিত্য একদেমি পুরস্কার পান তার আত্মজীবনী মূলক রম্যরচনা ‘নটী নবনীতা’ গ্রন্থের জন্যে। এছাড়াও তিনি মহাদেবী বর্মা ও ভারতীয় ভাষা পরিষদ ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান থেকেও বিভিন্ন পুরস্কার পেয়েছেন।

 

নবনীতার প্রতিভার বিচ্ছুরণ ঘটেছে জীবনের একাধিক ক্ষেত্রে। গল্প, উপন্যাস, কবিতা, গবেষণা, প্রবন্ধ,  ভ্রমণকাহিনী, অনুবাদসাহিত্য, শিশুসাহিত্যে এক উজ্জ্বল উপস্থিতি ছিল তাঁর। ১৯৫৯ এ তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘প্রথম প্রত্যয়’ প্রকাশিত হয় দেশ পত্রিকায় অমিয় বাগচী ও প্রণবেন্দু দাশগুপ্তের আগ্রহে। প্রথম উপন্যাস ‘আমি অনুপম’ ১৯৭৬-এ। কবিতা, প্রবন্ধ, রম্যরচনা, ভ্রমণ কাহিনী, উপন্যাস মিলে তার প্রকাশিত গ্রন্থ সংখ্যা ৩৮।নবনীতা ছিলেন ভার্সেটাইল লেখক। বিংশ-একবিংশ শতকের বাংলা সাহিত্যে নবনীতা দেবসেন একজনই। তিনি উচ্ছল, সহাস্য, সুদূরপিয়াসী, কখনো তির্যক, কখনো ক্রুদ্ধ, প্রয়োজনে কঠোর। ছেলেভোলানো রূপকথা থেকে অচঞ্চল কবিতা, সরস ট্রাভেলগ থেকে প্রশ্নাত্মক অ্যাকাডেমিক রচনা – সবকিছুতেই তাঁর অনায়াস বিচরণ। তিনি ঠিক যতটাই ধ্রুপদি, ততটাই আধুনিক বা সমকালীন।
কলকাতার একটি পত্রিকার রোববারের ম্যাগাজিনে ‘ভালো-বাসার বারান্দা’ নামে তাঁর ধারাবাহিক রচনা অতি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল, যেটি পরে বই হিসেবেও প্রকাশিত হয়। তাঁর উল্লেখযোগ্য বই : কবিতা – প্রথম প্রত্যয়, স্বাগত দেবদূত, তুমি মনস্থির করো; উপন্যাস – আমি অনুপম, প্রবাসে দৈবের বশে, অন্য দ্বীপ; গল্প – মঁসিয়ে হুলোর হলিডে, গল্পগুজব, খগেন বাবুর পৃথিবী, নাটক – অভিজ্ঞান দুষ্মন্তম; শিশু-কিশোর – পলাশপুরে পিকনিক, চাকুম চুকুম, স্বপ্নকেনার সওদাগর; গবেষণা – ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দ্বী, সীতা থেকে শুরু।
ভ্রমণ আর ভ্রমণ রচনায় সিদ্ধপা, সিদ্ধহস্ত ছিলেন। ট্রাকবাহনে ম্যাকমাহনে তাঁর একটি অসাধারণ ভ্রমণবিষয়ক গ্রন্থ।

 

 

ভ্রমণ-সাহিত্যে যেমন ছিলেন অনন্য, তেমনি ছিল তাঁর অসাধারণ রসবোধ। রসজ্ঞান ছিল রুচিসম্মত। ‘সেন্স অব হিউমার’ শব্দটার বোধহয় একটাই সংজ্ঞা, নবনীতা দেবসেন। নিজেকে নিয়েও রসিকতা করতেন।

নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়েছিল ১৯৫৯ সালে।  ১৯৭৬ সালে তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে যায়। তবে আমৃত্যু তাঁরা ভালো বন্ধু ছিলেন। তাদের দুই কন্যা। অন্তরা দেবসেন এবং নন্দনা সেন।জ্যেষ্ঠা অন্তরা সাংবাদিক ও সম্পাদক এবং কনিষ্ঠা নন্দনা অভিনেত্রী ও সমাজকর্মী।

 

বর্ণময় জীবন নবনীতার। নবনীতাই একমাত্র বাঙালি লেখক, যিনি ভারতীয় নানা সাহিত্য পুরস্কার কমিটির বিচারক-সদস্য ছিলেন। যেমন জ্ঞানপীঠ, সাহিত্য অ্যাকাডেমি, বিশ্ববিদ্যালয় (কেন্দ্রীয়) গ্রান্টস কমিশন। বাংলা একাডেমির সঙ্গেও তিনি আমরণ যুক্ত ছিলেন। অসংখ্য গল্প, কবিতা, রম্যরচনা ও উপন্যাসের স্রষ্টা নবনীতা দেবসেন পদ্মশ্রী(২০০০ সাল) , সাহিত্য অ্যাকাডেমি, কমলকুমারী জাতীয় পুরস্কারে ভূষিত হন।

 

 

প্রথাগত ‘‘নারীবাদী লেখক“ তকমার বিরোধী হলেও মেয়েদের কথা বারবার উঠে এসেছে নবনীতার লেখনীতে।
নবনীতা মনে করতেন মেয়েদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হওয়া এবং সেই অধিকারকে বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করতে তাঁদের প্রয়োজনীয় সাহায্য জোগানোটাই ফেমিনিজ়মের নির্যাস। সারা জীবন অসংখ্য বিষয়ে কলম ধরেছেন, তার মধ্যে সামাজিক সমস্যা, দেশভাগের যন্ত্রণা যেমন আছে, তেমনই আছে সমকাম, এইডস বা বার্ধক্যের মতো বিষয়। তাঁর একাধিক রূপকথার গল্পের কেন্দ্রেও রাজপুত্র নয়, থেকে গেছেন রাজকন্যারাই!

 

অসুস্থতা নিত্যসঙ্গী ছিল তাঁর, কিন্তু কোনও অসুস্থতাকে কখনও নিজের সামনে বাধা হয়ে দাঁড়াতে দেননি অত্যন্ত ঋজু মনের মানুষটি। ক্যান্সারের মতো মারণরোগকেও চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন নিজের কলামে, মৃত্যুর চোখে চোখ রেখে হেসে উঠেছেন। ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার পরও রসিকতা করতেন নিজেকে নিয়ে। লিখেছিলেন, ‘এই যে এত লম্বা জীবনটা কাটালুম, এর একটা যথাযথ সমাপন তো দরকার। পাঁজি-পুঁথি দেখে শুভদিন, শুভলগ্ন স্থির করে, স্বজন-বান্ধব খাইয়ে তবেই তো শুভযাত্রা।’ নিজের মৃত্যু নিয়ে এমন রসিকতা অল্প মানুষই করতে পারে। তাঁর প্রাণ ভরপুর ছিল রসের স্ফূর্তিতে, সঙ্গে ছিল বুদ্ধির দীপ্তি। আর কী আশ্চর্য, চলেও গেলেন পাঁজি-পুঁথি দেখে ক্যানসার সচেতনতা দিবসে। ২০১৯ সালের ৭ নভেম্বর ৮১ বছর বয়সে কলকাতায় তার নিজের বাড়িতে প্রয়াত হন তিনি।

 

।। তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবপেজ।।

Share This
Categories
নারী কথা প্রবন্ধ

“আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের মা” হিসাবে পরিচিত মারি ক্যুরি প্রথম মহিলা বিজ্ঞানী যিনি নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।

মেরি কুরি ছিলেন আধুনিক বিশ্বের প্রথম সত্যিকারের বিখ্যাত নারী বিজ্ঞানী । তেজস্ক্রিয়তা সম্পর্কে গবেষণায় তাঁর অগ্রণী কাজের জন্য তিনি “আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের মা” হিসাবে পরিচিত ছিলেন , একটি শব্দ যা তিনি তৈরি করেছিলেন। তিনি ছিলেন পিএইচডি প্রাপ্ত প্রথম মহিলা। ইউরোপের গবেষণা বিজ্ঞানে এবং সোরবনে প্রথম মহিলা অধ্যাপক। মাদাম কুরী একবার নয় , দু’বার বিজ্ঞান গবেষণায় অনন্যসাধারণ কৃতিত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ যে মহীয়সী নারী নােবেল পুরস্কারে ধন্য হয়েছিলেন  । বিশ্বের কোনাে নারীর ভাগ্যে এমনটি আর ঘটেনি । এমন কি দু’বার নােবেল পুরস্কার পেয়েছেন একই ক্ষেত্রে , এমন নজির বিশ্বে বিরল । কুরি পলোনিয়াম এবং রেডিয়াম আবিষ্কার করেন এবং বিচ্ছিন্ন করেন এবং বিকিরণ এবং বিটা রশ্মির প্রকৃতি প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি ১৯০৩ (পদার্থবিদ্যা) এবং ১৯১১ (রসায়ন) নোবেল পুরস্কার জিতেছিলেন এবং নোবেল পুরস্কারে ভূষিত প্রথম মহিলা এবং দুটি ভিন্ন বৈজ্ঞানিক শাখায় নোবেল পুরস্কার জয়ী প্রথম ব্যক্তি ছিলেন তেজস্ক্রিয়তা গবেষণা এবং পোলোনিয়াম এবং রেডিয়াম আবিষ্কার। তিনি ছিলেন প্রথম মহিলা যিনি নোবেল পুরস্কার জিতেছিলেন এবং প্রথম ব্যক্তি যিনি দ্বিতীয় নোবেল পুরস্কার জিতেছিলেন, এ জন্যে তাঁকে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানী বলা হয়ে থাকে ।

জীবনের শুরুতে দুঃখ দারিদ্র্য আর প্রিয় ব্যক্তিকে কাছে পাওয়ার মর্মবেদনায় যিনি আত্মহত্যা করতে চেয়েছিলেন , বলেছিলেন এই ঘৃণিত পৃথিবী থেকে বিদায় নিলে ক্ষতি খুব সামান্যই হবে — সেই অভিমানী তরুণীটিই নিজের প্রচেষ্টায় পরবর্তীকালে হয়েছিলেন জগদ্বিখ্যাত বিজ্ঞানী এবং বিশ্বের সর্বকালের সেরা মানুষদের একজন ।

মারি ক্যুরি ১৮৬৭ সালের ৭ই নভেম্বর পোল্যান্ডের ওয়ারশতে জন্মগ্রহণ করেন, যেটি তখন রাশিয়ান সাম্রাজ্যের অংশ ছিলো। মারি কুরি ওয়ারশর গোপন ভাসমান বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করেছিলেন এবং ওয়ার্সাতেই তার ব্যবহারিক বৈজ্ঞানিক প্রশিক্ষণ শুরু করেছিলেন। ১৮৯১ সালে ২৪ বছর বয়সে সে তাঁর বড় বোন ব্রোনিস্লাভাকে অনুসরণ করে প্যারিসে পড়তে যান। সেখানেই সে তার পরবর্তি বৈজ্ঞানিক কাজ পরিচালিত করেছিলেন। ১৯০৩ সালে মারি কুরি তাঁর স্বামী পিয়েরে কুরি এবং পদার্থবিদ হেনরি বেকেরেলের সাথে পদার্থ বিদ্যায় নোবেল পুরস্কার জেতেন। তিনি এককভাবে ১৯১১ সালে রসায়নেও নোবেল পুরস্কার জেতেন।
পদার্থবিজ্ঞানে তিনি নোবেল পান তেজষ্ক্রিয়তা নিয়ে কাজ করার জন্য। আর রসায়নে নোবেল পান পিচব্লেন্ড থেকে রেডিয়াম পৃথক করার জন্য।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় হাসপাতালগুলোতে এক্স-রের সরঞ্জামের ঘাটতি ছিল। যুদ্ধাহত রোগিদের এক্স রে সঠিকভাবে করানোর অর্থ যোগাতে তিনি তহবিল সংগ্রহে নামেন। এসময় অসুস্থ শরীর নিয়ে তিনি ২২০ টি রেডিওলোজি স্টেশন গড়ে তোলেন। এর মধ্যে ২০০ টি ছিল বিভিন্ন জায়গায় স্থায়ী ছিল, এবং ২০ টি ছিল ভ্রাম্যমাণ। এগুলো তিনি বিভিন্ন ধনী মহিলাদের কাছ থেকে গাড়ি ধার নিয়ে তৈরী করেছিলেন। তিনি নিজেও বিভিন্ন স্টেশনে এক্সেরে করতে সাহায্য করতেন এবং যুদ্ধের সময় তার গড়া এই রঞ্জনবিদ্যা ইনস্টিটিউটগুলোয় প্রায় ১০ লাখ যুদ্ধাহতের এক্স রে করা হয়েছিল।
পোল্যান্ডের রাজধানী ওয়ারসতে নিজের গড়া রেডিয়াম ইনস্টিটিউটসহ তিনি অন্য একটি রেডিয়াম ইনস্টিটিউটে কাজ করতেন। রেডিয়াম বিষয় নিয়ে রেডিয়াম ইনস্টিটিউটে গবেষণা করে তিনি তাঁর মেয়ে ইরিন, মেয়ের স্বামী ফ্রেডরিক জুলিয়েটের সাথে যৌথভাবে নোবেল পান।

 

 

ফ্রান্সের একজন নাগরিক হিসেবে থাকা অবস্থায়ও মারি স্ক্লদভস্কা ক্যুরি (তিনি তাঁর দুটো উপাধিই লিখতেন ) তিনি কখনোই তার পোলিশ পরিচয় ভুলে যাননি। তিনি তাঁর কন্যাদের পোলিশ ভাষা শিখিয়েছিলেন এবং তাদের পোল্যান্ডে নিয়েও গিয়েছিলেন। তিনি নিজে প্রথম যে মৌলটি আবিষ্কার করেন, তাঁর জন্মভূমির নামানুসারে ঐ মৌলের নাম দেন পোলনিয়াম।

মারি ক্যুরি ইউনিভার্সিটি (প্যারিস ৬) এবং ১৯৪৪ সালে লুবলিনে প্রতিষ্ঠিত মারি ক্যুরি-স্ক্লদভস্কা ইউনিভার্সিটিকে সহযোগিতা দিয়েছিলেন। ১৯৪৮ সালে ব্রিটেনে অসুস্থতার শেষ সীমার রোগীদের জন্য মারি ক্যুরি ক্যান্সার কেয়ার আয়োজন করা হয়। মারি ক্যুরিকে উৎসর্গ করে ২টি জাদুঘর আছে। ১৯৬৭ সালে ওয়ার্সর “নিউ টাউনে” উলিকা ফ্রেটা (ফ্রেটা সড়ক) অর্থাৎ মারি ক্যুরির জন্মস্থানে মারিয়া স্ক্লদভস্কা-ক্যুরি মিউজিয়াম প্রতিষ্ঠা করা হয়।প্যারিসে তাঁর গবেষণাগারটি মিউজি ক্যুরি হিসেবে সংরক্ষিত যা ১৯৯২ সালে উন্মুক্ত করা হয়।
তাঁর প্রতিকৃতি হিসেবে অনেক চিত্রকর্ম তৈরি করা হয়েছে। ১৯৩৫ সালে পোলিশ প্রেসিডেন্ট ইগান্সি মজচিকের স্ত্রী মিচালিনা মজচিকা ওয়ার্সর রেডিয়াম ইন্সটিটিউটের সামনে মারি ক্যুরির একটি প্রতিকৃতি বা মূর্তি উন্মুক্ত করেন। ১৯৪৪ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে নাৎসি জার্মানিদের বিরুদ্ধে ওয়ার্স জাগরণ ঘটে এবং গোলাগুলিতে প্রতিকৃতিটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যুদ্ধের পর প্রতিকৃতি ও এর পাদস্তম্ভে গুলির চিহ্ন রেখে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ১৯৫৫ সালে জোযেফ মাজুর কাচ দিয়ে মারি ক্যুরির প্রতিকৃতি মারিয়া স্ক্লদভস্কা-ক্যুরি মেডালিয়ন নির্মাণ করেন যা ইউনিভার্সিটি অফ বুফালোর পোলিশ রুমের বিশেষ আকর্ষণ।
তাঁকে উৎসর্গ করে বেশকিছু জীবনী লেখা হয়। ১৯৩৮ সালে তাঁর মেয়ে ইভ ক্যুরি মাদাম ক্যুরি প্রকাশ করেন। ১৯৮৭ সালে ফ্রাঙ্কইজ গিরৌড লিখেন মারি ক্যুরি: আ লাইফ। ২০০৫ সালে বারবারা গোল্ডস্মিথ লিখেন অবসেসিভ জিনিয়াস: দ্য ইনার ওয়ার্ল্ড অফ মারি ক্যুরি । ২০১১ সালে লরেন রেডনিজ প্রকাশ করেন রেডিওএকটিভ: মারি এবং পিয়েরে ক্যুরি, এ টেল অফ লাভ অ্যান্ড ফলআউট।
১৯৪৩ সালে গ্রির গারসন এবং ওয়াল্টার পিজন অস্কারের জন্য মনোনীত আমেরিকান চলচ্চিত্র মাদাম ক্যুরি (চলচ্চিত্র)-তে অভিনয় করেন।সাম্প্রতিককালে ১৯৯৭ সালে পিয়েরে ও মারি ক্যুরির উপর একটি ফরাসি চলচ্চিত্র উন্মুক্ত করা হয় যার নাম লেস পামেস ডি এম. সুতজ। এটি একই নামে একটি লিখিত একটি নাট্যগ্রন্থের উপর রচিত। এখানে ইসাবেলে হাপার্ট মারি ক্যুরির ভূমিকা পালন করেন।
লরেন্স আরনোভিচের ‘’ফলস এজাম্পসন্স’’ নাটকে মারি ক্যুরির ভূমিকা দেখা যায়, যেখানে অন্য তিন মহিলা বিজ্ঞানীর ভূত তাঁর জীবনের ঘটনাবলী পর্যবেক্ষণ করে। সুসান মারি ফ্রন্তচজাক তাঁর এক-নারীর নাটক মানিয়া: দ্য লিভিং হিস্টোরি অফ মারি ক্যুরি-এ মারি ক্যুরিকে উপস্থাপন করেন যা ২০১৪ সাল নাগাদ যুক্তরাষ্ট্রের ৩০টি রাজ্য ও নয়টি দেশে প্রদর্শন করা হয়।
বিশ্বজুড়ে বিল, ডাকটিকিট এবং মুদ্রায় ক্যুরির ছবি দেখা গেছে। পোল্যান্ডে ১৯৮০ পরবর্তী সময়ের ব্যাংকনোট জিটটিতে মারি ক্যুরির ছবি দেখা গিয়েছিল এমনকি ইউরো প্রচলনের পূর্বে ফ্রান্সের সর্বশেষ ৫০০-ফ্রাংক নোটে ক্যুরির ছবি ছিল।  দারুণ বিষয় হল মালি, টোগো প্রজাতন্ত্র, জাম্বিয়া, এবং গিনি প্রজাতন্ত্রে ডাকটিকিটে পল স্ক্রোডার পরিচালিত ২০০১ সালের ছবিতে সুসান মারি ফ্রন্তচজাকের মারি ক্যুরির ভুমিকায় অভিনয়ের দৃশ্য দেখা যায়।
২০১১ সালে মারি ক্যুরির দ্বিতীয় নোবেল পুরস্কার প্রাপ্তির শতবর্ষ পূর্তিতে ওয়ার্সতে তার জন্মস্থানের সদর দরজায় একটি রূপক (বা প্রতীকী) দেয়ালচিত্র দেখা যায়। এতে দেখা যায় শিশু মারিয়া স্ক্লদভস্কা ক্যুরি একটি টেস্টটিউব ধরে ছিলেন যা থেকে দুইটি পদার্থ নির্গত হচ্ছিল যেগুলো তার প্রাপ্তবয়স্কে আবিষ্কারের কথা: পোলোনিয়াম এবং রেডিয়াম।
এছাড়া ২০১১ সালে ভিস্তুলা নদীর উপর নতুন একটি ওয়ার্স ব্রিজের নাম তার নামে রাখা হয়।

স্বামীর শােক এবং দীর্ঘদিনের একটানা পরিশ্রমে মাদাম কুরীর শরীর ভেঙে পড়ে । ১৯৩৪ সালের মে মাসে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং এর দু’মাস পরেই জুলাই মাসে ৬৭ বছর বয়সে পরলােক গমন করেন । জানা যায় , রেডিয়ামের তেজস্ক্রিয়তাই তার অকাল মৃত্যুর কারণ ছিলাে ।
বিশ্বের বিজ্ঞানের ইতিহাসে এই মহীয়সী নারীর নাম চিরস্মরণীয় শুধু তাই নয় , প্রাতঃস্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

 

তথ্য : সংগৃহীত ইন্টারনেট ও বিভিন্ন ওয়েবপেজ।

Share This
Categories
নারী কথা প্রবন্ধ

কবি, চিত্রশিল্পী ও নৃত্যবিশারদ, প্রতিমা দেবী – অবিস্মরণীয় এক নারী।

প্রতিমা ঠাকুর লেখিকা, কবি, চিত্রশিল্পী এবং নৃত্যবিশারদ ছিলেন। তিনিরবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পুত্রবধূ এবং রথীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্ত্রী। তাঁর  জন্ম ৫ নভেম্বর ১৮৯৩ খ্রি.।  তাঁর পিতার নাম  শেষেন্দ্রভূষণ চট্টোপাধ্যায়।  মায়ের নাম বিনয়িনী দেবী।  ১১ বছর বয়সে, গুণেন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোট বোন কুমুদিনীর ছোট নাতি নীলনাথের সাথে প্রতিমার বিয়ে হয়।  নীলনাথ গঙ্গায় সাঁতার কাটতে গিয়ে ডুবে যায়।  রবীন্দ্রনাথের স্ত্রী মৃণালিনী দেবী ছোট প্রতিমাকে দেখে তাঁকে পুত্রবধূ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।  কিন্তু মৃণালিনীর অকাল মৃত্যুর কারণে তা সম্ভব হয়নি।  রথীন্দ্রনাথের সফর থেকে ফিরে আসার পর রবীন্দ্রনাথ প্রতিমা কে আবার বিয়ে করার প্রস্তাব দেন।  তিনি সামাজিক সংস্কার উপেক্ষা করে প্রতিমাও রথীন্দ্রনাথকে বিয়ে করেন।  এই বিয়েই ছিল জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ির প্রথম বিধবা বিবাহ।

কর্মজীবন তিনি বিশ্বভারতী এবং শান্তিনিকেতনে বিভিন্ন কাজে রবীন্দ্রনাথ ও তাঁর স্বামীর সাথে নিজেকে নিযুক্ত করেছিলেন।  তিনি বিভিন্ন হস্তশিল্প এবং রবীন্দ্রনাথের নৃত্য-নাট্য পরিকল্পনা প্রবর্তনে সহায়তা করেছিলেন।  তিনি একজন ভালো চিত্রশিল্পীও ছিলেন।  তিনি ইতালীয় শিক্ষক গিলহার্দির অধীনে কিছুকাল চিত্রকলা অধ্যয়ন করেন।

বিয়ের কিছুদিন পর, তিনি শান্তিনিকেতনের প্রথম মেয়েদের নাটক লক্ষ্মী প্রকর্ণ-এ খিরি চরিত্রে অভিনয় করেন।  তিনি শান্তিনিকেতনে মেয়েদের নাচ শেখানোর ব্যবস্থা করেন।  তিনি রবীন্দ্রনাথের বাল্মীকি প্রতিভা ও মায়ার খিলে নাচতেন।  তিনি রবীন্দ্র নৃত্যনাট্যের প্রধান উদ্যোক্তা ছিলেন।  তাঁর আগ্রহে রবীন্দ্রনাথ চিত্রাঙ্গদা বা পেইং-এর ওপর একটি নৃত্যনাট্য রচনার পরিকল্পনা করেন।  তিনি প্রথমে কয়েকটি বর্ষমঙ্গল নৃত্য রূপান্তরিত করার পর, তিনি রবীন্দ্রনাথকে পূজারিণীর কবিতার একটি নৃত্য সংস্করণ লিখতে অনুরোধ করেন।  রবীন্দ্রনাথের জন্মদিনে তিনি মেয়েদের নিয়ে অনুষ্ঠান করার উদ্যোগ নেন।  এরপর রবীন্দ্রনাথ রচনা করেন নটীরপূজা।  প্রতিমা দেবী অনেক চেষ্টার মাধ্যমে শান্তিনিকেতনের মেয়েদের সাথে এটি করেছিলেন।  নন্দলাল বসুর কন্যা গৌরী শ্রীমতীর ভূমিকায় নেচেছিলেন। ‘নবীন’-এর অভিনয়ের সময় বেশিরভাগ নাটকের পরিকল্পনা করেছিলেন প্রতিমা দেবী।  প্রায় চৌদ্দ বছরের কঠোর পরিশ্রমের পর তিনি রবীন্দ্রনাথের চিত্রাঙ্গদা নৃত্যনাট্যকে স্থায়ী রূপ দিতে সক্ষম হন।  চিত্রাঙ্গদার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে তিনি চণ্ডালিকা নৃত্য তৈরি করেন।
নৃত্যেও তিনি পোশাক ও মঞ্চ সজ্জায় শান্তিনিকেতনের ঐতিহ্য বজায় রেখেছিলেন।  শেষে, তিনি মঞ্চের নকশা স্কেচ করতেন।  তিনি কলা ভবনের শিল্পীদের সঙ্গে নাচের ভঙ্গি আঁকার চেষ্টা করতেন।  মায়া খেলা নাট্যকেও তিনি নতুন রূপ দিয়েছেন।  ক্ষুধার্ত পাষাণ এবং ডালিয়া, শব্দ এবং গল্পের সামান্য ক্ষতি ইত্যাদি মূকনাট্য-ধরনের ছক-এ রূপান্তরিত হয়েছিল।

 

প্রতিমা কল্পিতাদেবী ছদ্মনামে প্রবাসী পত্রিকায় অনেক কবিতা লিখেছেন।  রবীন্দ্রনাথ তার কল্পিতাদেবী ছদ্মনাম ঠিক করেন।  রবীন্দ্রনাথ মাঝে মাঝে তাঁর কবিতা সংশোধন করতেন।  তাঁর গদ্য রচনায় লেখকের চারিত্রিক শৈলী দেখা যায়।  তাঁর লেখা স্বপ্নবিলাসী পড়ে রবীন্দ্রনাথ মুগ্ধ হয়ে মন্দিরার উদ্ধৃতি লেখেন।

প্রতিমা দেবীর লেখা নির্বাণ গ্রন্থে রবীন্দ্র জীবনের শেষ বছরগুলোর ঘটনা বর্ণনা করা হয়েছে।  স্মৃতিকথার বইটিতে রয়েছে অবনীন্দ্রনাথ ও রবীন্দ্রনাথের কথা।  এছাড়া এতে বাড়ির মেয়েদের কথা, উৎসবের কথা বলা হয়েছে।  শান্তিনিকেতনের নৃত্যশৈলী নিয়ে তিনি নৃত্য গ্রন্থে লিখেছেন।  চিত্রলেখা তাঁর লেখা কবিতা ও ছোটগল্পের সংকলন।

তিনি শান্তিনিকেতনে নারী শিক্ষা ও নারী কল্যাণেরও দেখাশোনা করেন।  তিনি মেয়েদের নিয়ে আলাপিনী সমিতি গঠন করেন।  অভিনয় ও গান এই সমাজে স্থান করে নিয়েছে।  তার ব্যবস্থাপনায় আশ্রমের মেয়েরা গ্রামে গ্রামে গিয়ে গ্রামের অশিক্ষিত মেয়েদের স্বাস্থ্যকর খাবার তৈরি, শরীরের যত্ন, হাতের কাজ ইত্যাদি শেখাতেন।

 

।।তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

 

 

 

Share This