Categories
প্রবন্ধ

প্রতুলচন্দ্র গাঙ্গুলী : ভারতীয় উপমহাদেশের ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের বিশিষ্ট বিপ্লবী।

ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন ছিল কিছু মানুষের অব্যর্থ পরিশ্রম যার ফলেই ব্রিটিশদের থেকে ভারত রাজনৈতিক দিক থেকে মুক্তি পেয়েছে। ভারত উপমহাদেশের বিংশ শতাব্দীতে ব্রিটিশ সম্রাজ্যবাদ বিরোধী যে সশস্ত্র বিপ্লববাদী লড়াই-সংগ্রাম সংগঠিত হয় এবং যার ধারাবাহিকতায় ভারত স্বাধীন হয়, তার মূলে যে সকল বিপ্লবীর নাম সর্বজন স্বীকৃত তাঁদের মধ্যে প্রতুলচন্দ্র গাঙ্গুলী প্রথমসারির একজন অন্যতম বিপ্লবী ছিলেন। প্রতুলচন্দ্র গাঙ্গুলী ভারতীয় উপমহাদেশের ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনে এক উল্লেখযোগ্য নাম, যিনি দেশমতৃকার শৃঙ্খল মুক্তির জন্য নিজেকে সঁপে দিয়েছিলেন সম্পূর্ণ রূপে।

 

প্রাথমিক জীবন—-

 

মহিমচন্দ্র গাঙ্গুলীর পুত্র প্রতুলচন্দ্র গাঙ্গুলী  ঢাকার চাঁদপুরের কাছে চালতাবাড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন ১৬ এপ্রিল ১৮৯৪।  নারায়ণগঞ্জের চাঁদপুরের নিকটবর্তী চালতাবাড়ি গ্রামে প্রতুলচন্দ্র গাঙ্গুলী মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন। ছাত্র জীবনে নারায়ণগঞ্জ শাখায় অনুশীলন সমিতিতে বিপ্লবীজীবন শুরু করেন। নিষ্ঠা এবং কর্ম তৎপরতার জোরে নেতারূপে সুপ্রতিষ্ঠিত হন তিনি। তবে তার প্রাথমিক জীবন ও শিক্ষা সম্পর্কে সেভাবে কিছুই জানা যায়নি।

 

গৃহত্যাগ—-

 

জানা যায়  ১৯০৮-১৯০৯ সালে বিপ্লবী প্রয়াসকে ব্যাপক করবার জন্য তিনি গৃহত্যাগ করেন।স্কুল ছাত্র হিসেবে তিনি অনুশীলন সমিতির নারায়ণগঞ্জ ইউনিটে যোগ দেন;  ১৯৩০-এর দশকে এর মুখপাত্র হন।  রাশবিহারী বসুর মতো প্রতুলচন্দ্রও তার পরিচয় গোপন করতে পারদর্শী ছিলেন;  তাই পুলিশের নথিতে তিনি ভিন্নভাবে পরিচিত ছিলেন।

 

বিপ্লবী কর্মজীবন—-

ঢাকার অদূরে স্বদেশী ডাকাতির মামলায় তার নাম সবার আগে উঠে আসে;  যেখানে তার বেশিরভাগ সিনিয়রকে সেলুলার জেলে পাঠানো হয়েছিল;  রিভিউ পিটিশনের পর কলকাতা হাইকোর্ট তাকে অব্যাহতি দেয়।  ১৯১৩ সালে, প্রতুলচন্দ্র রবীন্দ্র মোহন সেনের সাথে কলেজ স্কোয়ারে আইবি অফিসার হরিপদ দেকে হত্যা করেন;  তারপর বিশ্বযুদ্ধের সময় রাসবিহারী বসুর সাথে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করতে বারাণসীতে চলে যান।  তিনি ১৯১৪ সালে গ্রেফতার হন এবং ১৯২০ সাল পর্যন্ত বরিশাল কারাগারে বন্দী ছিলেন। চার বছর পরে, তাকে রাজনৈতিক বন্দী ঘোষণা করা হয় এবং বিনা বিচারে মিয়ানমারের (১৯২৭) কারাগারে পাঠানো হয়।
তিনি অসহযোগ আন্দোলনের সময় কংগ্রেসের প্রাদেশিক অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।  ১৯৩০ সালে আবার গ্রেপ্তার হন, তিনি ১৯৩৮ সাল পর্যন্ত রিমান্ডে ছিলেন;  এক বছর পরে আবার গ্রেপ্তার হতে হয়, যখন নেতাজির সাথে জেলের ভিতরে অনশন করায় তার স্বাস্থ্যের ক্ষতি হয়, তাই পরবর্তীকালে মুক্তি পান।  কিন্তু, বোসের গ্রেট পালানোর পর;  প্রতুলচন্দ্রকে আবার গ্রেফতার করা হয় এবং ১৯৪৬ সাল পর্যন্ত বাংলার বিভিন্ন কারাগারে পাঠানো হয়। দেশভাগের পর প্রতুলচন্দ্রের মতো একজন ব্যক্তিকেও কলকাতায় চলে যেতে হয়।

 

মৃত্যু—

 

সুভাষচন্দ্র বসুর সঙ্গে জেলে অনশন করে স্বাস্থ্য ভঙ্গ হওয়ায় সুভাষচন্দ্র বসুর সঙ্গে মুক্তি পান তিনি। এরপর সুভাষচন্দ্রের অর্ন্তধ্যানের সঙ্গে সঙ্গে পুনরায় গ্রেপ্তার হয়ে ১৯৪৬ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন জেলে আটক থাকেন। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর তিনি কলকাতায় বসবাস করেন এবং ১৯৫৭ সালের ৫ জুলাই তাঁর মৃত্যু হয়।

।। তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ

আফসোস কি আজ হয় আমেরিকার? : তন্ময় সিংহ রায়।

বেনারসের এক মন্দির থেকে বের হওয়ার পথে একবার স্বামী বিবেকানন্দকে ঘিরে ধরেছিল
বেশ কিছু বানর ,
এমত পরিস্থিতিতে স্বামীজি অপ্রস্তুতরূপে ছুটতে লাগলেন দিগভ্রান্ত হয়ে , কিন্তু তা হলে হবে আর কি?
বানর কি আর আধুনিক মানুষ?
স্বভাবতই বানরগুলো সে অবস্থাতে দাঁড়িয়েও অব্যাহত রেখেছে এঁদের বাঁদরামি কর্মকাণ্ড।
কাছে দাঁড়িয়ে থাকা একজন বৃদ্ধ সন্ন্যাসী তা লক্ষ্য করে তাঁকে বলে বসলেন , ‘মশাই! থামুন এবং ওদের মুখোমুখি হোন।’
তা শুনে বিবেকানন্দ তৎক্ষণাৎ ঘুরে এগোতে লাগলেন বানরগুলোর দিকে ,
আর এই মনোভাবের কারণে সব বানর পালিয়েও গেল সেখান থেকে।

 

শেষে এই ঘটনা থেকে তিনি শিখলেন যে , ভয়ে পালিয়ে না গিয়ে তার মুখোমুখি হতে হবে , অর্থাৎ পিছনে না হটে , জয় করতে হবে ভয়কেই।
এর বহু বছর পর তিনি এক সম্বোধনের মাধ্যমে  বলেছিলেন , ‘যদি কোনও কিছু কারণ হয় তোমার ভয়ের , তবে তা থেকে পালিয়ে যেও না , ভয়ের মুখোমুখি হও আর জিতে নাও ভয়কে।’

বিদেশ যাওয়ার সময় স্বামী বিবেকানন্দকে একবার জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে , ‘আপনার পরিধেয় বাকি জিনিসগুলো কোথায়?’
‘এইতো সব’ , তিনি উত্তর দিলেন।
কেউ কেউ তো আবার ব্যঙ্গ করে বসলেন বলেই , ‘আরে! আপনার সংস্কৃতি কেমন? শরীরে শুধু জাফরানের চাদর জড়ানো?’

 

এ নিয়ে তিনি হেসে বললেন , ‘আমাদের সংস্কৃতি তোমাদের সংস্কৃতি থেকে আলাদা।
আপনাদের সংস্কৃতি গড়ে তোলে আপনাদের
দর্জিরা , অন্যদিকে আমাদের সংস্কৃতি আমাদের চরিত্র দ্বারা তৈরি।
সংস্কৃতি পোশাকে গড়ে ওঠে না , গড়ে চরিত্রের বিকাশে।’
তো এমনই ছিল স্বামীজির জীবন দর্শন।

যাইহোক , জাহাজ ও খান দুয়েক ট্রেন পাল্টে অবশেষে ৩০ শে জুলাই রাত ১১ টায় তিনি উপস্থিত হলেন শিকাগোয়।
ক্লান্ত , অবসন্ন শরীরটা সম্পূর্ণ অপরিচিত পরিবেশে তাঁকে ফেলেছে এক চরম অস্বস্তিজনক পরিস্থিতিতে , এমনটাই যেন তাঁর মনে হচ্ছিল।
অবশেষে পরিস্থিতি ধারণ করলো আরো জটিল আকার যখন তিনি জানতে পারলেন যে , ধর্মমহাসভায় পরিচয়পত্র আবশ্যক ও  যোগদানের তারিখও গেছে রীতিমতন পেরিয়ে।
এ হেন সংবাদ কানে প্রবেশ করা মাত্রই মুহুর্তের মধ্যে তাঁর মনে হতে লাগলো যে , অতি যত্নে সাজানো সমস্ত রঙীন স্বপ্নগুলো তাঁর চোখের সামনেই হয়ে যাচ্ছে ভেঙে-চুরে , দুমড়ে-মুষড়ে!
একদিকে শিকাগোর মতন বড়লোকি শহরে থাকার খরচ ,
অন্যদিকে সামান্য পুঁজি , তাও আবার ফুরিয়ে আসার মুহুর্তে।
হঠাৎই তিনি আবিষ্কার করলেন বস্টন নামক এক শহর , যেখানে থাকা-খাওয়ার খরচ অনেকাংশে কম। অবশেষে বস্টন অভিমুখে রওনাকালীন ট্রেনে স্বামীজির পরিচয় হয় ক্যাথেরিন স্যানবর্ন নামক এক ধনী ও প্রভাবশালী মহিলার সাথে।

 

প্রতিভাদীপ্ত , সুদর্শন ও সুঠামদেহী এক পুরুষের সাথে তিনি নিজেই এসে পরিচয় করে দু-এক কথায় মুগ্ধ হয়ে তাঁর বাড়িতে থাকার জন্যে সেই মহিলা স্বামীজিকে জানালেন হার্দিক আমন্ত্রণ।
এমনই এক সুযোগের একান্ত ইচ্ছায় যেন অপেক্ষা করছিলেন অধীর আগ্রহে তিনি , অতএব সেমত অবস্থায় স্বামীজি সাদরে গ্রহণ করলেন সে আমন্ত্রণ।
ক্যাথেরিন স্যানবর্নের বাড়িতে থাকাকালীন স্বামীজি তাঁর এক শিষ্যকে চিঠিতে জানালেন ,
‘এখানে থাকায় আমার প্রতিদিনের এক পাউন্ড করে বেঁচে যাচ্ছে , আর তাঁর (ক্যাথেরিন স্যানবর্ন) প্রাপ্তি হল এই যে , তিনি তাঁর বন্ধুদের আমন্ত্রণ করে দেখাচ্ছেন আমি নামক ভারতের এক বিচিত্র জীবকে!’

বস্টনে থাকাকালীন ক্যাথেরিন স্যানবর্নের সূত্রে সেখানকার শিক্ষিত সমাজে স্বামীজি ক্রমশই হয়ে উঠেছিলেন ভীষণভাবে পরিচিত।
আর এভাবেই কোনো এক মাহেন্দ্রক্ষণে অকস্মাৎ ক্যাথেরিনের মাধ্যমে স্বামীজির পরিচয় হয় হাভার্ড ইউনিভার্সিটির এমন একজন সুবিখ্যাত প্রফেসার জন হেনরি রাইটের সাথে , যাকে বলা হত ‘বিশ্বকোষতুল্য জ্ঞানভাণ্ডারের অধিকারী।’

 

কিন্তু স্বামীজির তেজোদীপ্ত প্রতিভার আলোকরশ্মির বিচ্ছুরণে বিষ্ময়ে হতবাক হয়ে গেলেন তিনি নিজেই। পরিচয়পত্র না থাকায় তিনি (স্বামীজি) মহাধর্মসম্মেলনে যোগ না দিতে পারার সংক্ষিপ্ত কারণ বিশ্লেষণে প্রফেসার প্রত্যুত্তর করলেন ,
‘মহাশয় , আপনার কাছে পরিচয়-পত্র চাওয়ার অর্থ এমন যে , সূর্যকে প্রশ্ন করা যে তাঁর কিরণ দেওয়ার অধিকার আছে কিনা?’
অতঃপর মহাধর্মসম্মেলনের এক কর্মকর্তার উদ্দেশ্যে প্রফেসার রাইট লিখলেন :
‘ইনি (স্বামীজি) এমন একজন ব্যক্তি যে , আমেরিকার সমস্ত প্রফেসারের পান্ডিত্য এক করলেও এঁর পান্ডিত্যের সমান হবে না।’
অতঃপর বস্টনে সপ্তা তিনেক থাকার পর শেষে তিনি রওনা হলেন শিকাগো অভিমুখে।

১১ সেপ্টেম্বর  ১৮৯৩ , শিকাগোর কলম্বাস হলে সকাল ১০ টায় বিশ্ব ইতিহাসে এক যুগান্তকারী ঘটনা ভূমিষ্ঠ হয়েছিল যে আধিদৈবিক , সিংহপুরুষের দ্বিতীয় অধিবেশনের কালজয়ী ও ঐতিহাসিক ভাষণের মাধ্যমে তিনি আর কেউ নন , স্বয়ং স্বামী বিবেকানন্দ।
“সিস্টার্স এন্ড ব্রাদার্স অব আমেরিকা”……
হাজার হাজার দর্শকমণ্ডলীর হর্ষধ্বনি ও করতালিতে ফেটে পড়েছিল সে মঞ্চ।
মনে হচ্ছিল এক সংক্ষিপ্ত কিন্তু শক্তিশালী আঁধি সেই মুহুর্তে , সেই স্থানের উপস্থিতজনেদের উপর দিয়ে গেল বয়ে।
না , কোনো নির্দিষ্ট ধর্মের জয়ঢাক তিনি বাজাননি। মহাধর্মসম্মেলনে যেখানে সবাই নিজ নিজ ধর্ম সম্বন্ধেই বক্তৃতা দিয়েছিলেন , সেখানে স্বামীজি দেখিয়েছিলেন , সব ধর্মই সত্য , কারণ প্রতিটা ধর্মই মানুষকে পৌঁছে দেয় একই সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের কাছে।

১৯৯২ সালে স্বামীজির শিকাগো বক্তৃতার একশত বছর পূর্তির আগে এলেনর স্টার্ক নামক এক আমেরিকান মহিলা স্বামীজিকে নিয়ে ‘দ্য গিফট্ আন-ওপেন্ড.. এ নিউ আমেরিকান রেভলিউশন’ নামক একটি বই লিখেছিলেন , যাতে লেখিকা স্বামীজির বাণীকে বর্ণনা করেছেন ‘উপহার’ বলে অর্থাৎ , ভারতবর্ষ থেকে আমেরিকাকে দেওয়া উপহার।
তিনি বলেছেন , ‘সেই উপহারের প্যাকেট আমেরিকা খুলে পর্যন্ত দেখেনি , স্বামীজির বাণীকে তাঁরা জীবনে ব্যবহারও করেননি।

 

যদি তাঁরা তা করত , একটা নতুন ধরণের বিপ্লব ঘটে যেত সমগ্র আমেরিকাবাসীদের জীবনে।’
ঐ বইতেই তিনি উল্লেখ করেছেন এও যে ,
‘কলম্বাস আবিষ্কার করেছিলেন আমেরিকা মহাদেশের ভূখন্ডটা , কিন্তু বিবেকানন্দ আবিষ্কার করেছিলেন আমেরিকার আত্মাকে।’

‘আমি মুসলমানের মসজিদে যাব , খৃষ্টানদের গির্জায় প্রবেশ করে ক্রুশবিদ্ধ যীশুর সামনে হব নতজানু , বৌদ্ধদের বিহারে প্রবেশ করে আমি বুদ্ধের শরণাপন্ন হব , আবার অরণ্যে প্রবেশ করে হিন্দুদের পাশে বসে ধ্যানমগ্নও হব ,
শুধু তাই নয় , ভবিষ্যতে যে সব ধর্ম আসতে পারে ,
সেগুলোর জন্যেও আমার হৃদয় আমি উন্মুক্ত রাখবো  সর্বদাই।’

কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় আজ ,
একবিংশ শতাব্দীতে এই প্রথম ভাগে দাঁড়িয়েও আমরা চুড়ান্ত সাম্প্রদায়িক মনোভাবাপন্ন , আত্মকেন্দ্রিকতায় নিমজ্জিত ও চরম ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা যেন বইছে আমাদের রক্তে।
রাজনীতি আমাদের রন্ধ্রে রন্ধ্রে।
বইয়ের পাতা ও মূর্তিতেই অসহায়ভাবে যেন আটকে আছে তাঁর অমূল্য সব আদর্শগাথা।
তাঁর আদর্শের পরমানুটুকুও যেন ক্রমশঃ আমাদের শরীর থেকে হতে চলেছে নিশ্চিহ্ন!
শরীরের লজ্জা আমরা সহজেই ঢাকতে পারি পোষাক দিয়ে কিন্তু মনুষ্যত্বের এ লজ্জা আমরা ঢাকবো কোন পোষাকে??

 

এলেনর স্টার্ক চিনেছিলেন স্বামীজি নামক
কোহিনূরকে , প্রফেসর জন হেনরি রাইট জেনেছিলেন
বিবেকানন্দকে , চিনেছিলেন ক্যাথরিন স্যানবর্ণ ,
কিন্তু আমরা তাঁকে জেনেছি কি তাঁকে আজও?
তাঁর দেখানক পথ কি বাস্তবে আদৌ আমরা করি মিনিমাম অনুসরণ?
মহাসমাধী দিবসের এই পূণ্যলগ্নে বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি ও
সশ্রদ্ধ প্রণাম , পাশ্চাত্যে যোগ ও বেদান্ত দর্শনের সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার জন্যে।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

ঘুরে আসুন দার্জিলিং এর এক সুন্দর দর্শনীয় স্থান তাবাকোশি।

 

ভ্রমণ পিপাসু বাঙালি। আর ঘুররতে কে না ভালোবাসে। তবে বিশেষ করে বাঙালিরা সুযোগ পেলেই বেরিয়ে পড়ে ভ্রমনের নেশায়। কেউ পাহাড়, কেউ সমুদ্র আবার কেউ প্রাচীন ঐতিহাসিক স্থান ভালোবাসে ভ্রমণ করতে। প্রকৃতি কত কিছুই না আমাদের জন্য সাজিয়ে রেখেছে। কতটুকুই বা আমরা দেখেছি। এ বিশাল পৃথিবীতে আমরা অনেক কিছুই দেখিনি। তবে সোশ্যাল মিডিয়ার দুনিয়ায় আজ গোটা পৃথিবীটা হাতের মুঠোয়় এলেও প্রকৃতিকে চাক্ষুষ প্রত্যক্ষ করা এ এক আলাদা রোমাঞ্চ, আলাদা অনুভূতি যার রেষ হৃদয়ের মনিকোঠায় থেকে যায় চিরকাল।। তাইতো আজও মানুষ বেরিয়ে পড়়ে প্রকৃতির কে গায়ে মেখে  রোমাঞ্চিত হওয়ার নেশায়।  আসুন ঘুরে আসি ভারতের ই  দার্জিলিং এর এক সুন্দর দর্শনীয় স্থান তাবাকোশি।

তাবাকোশি মিরিক এর কাছে রংভাং নদীর ধারে ছোট্টো একটি পাহাড়ি গ্রাম যার উচ্চতা প্রায় ৩০০০ ফুট l কমলালেবু গাছ আর চা বাগানে ঘেরা একটা মিষ্টি পাহাড়ি জনপদl নামটা শুনতে কিছুটা জাপানি মনে হলেও আদতে এটি ভারতের উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং জেলায় অবস্থিত একটি ছোট্ট গ্রাম। তাবাকোশী, যা এক কথায় প্রকৃতিপ্রেমীর কাছে স্বর্গরাজ্য। মিরিক থেকে খুব কাছে এই জনপদ হই হট্টগোল কাটিয়ে শুধু সিনিক বিউটির জন্য সেরা ডেস্টিনেশন।

 

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের টানেই বার বার পর্যটকরা ফিরে আসেন এই পাহাড়ি গ্রামে। উত্তরঙ্গের জনপ্রিয় গোপালধারা চা বাগানের লাগোয়া জায়গা জুড়েই অবস্থিত এই পাহাড়ি অঞ্চলটি। মিরিকের নীচে চায়ের বাগানে ঘেরা ছোট্ট সাজানো গ্রাম এই তাবাকোশি। উত্তরকন্যার কোলে লুকিয়ে থাকা যে সব পাহাড়ি গ্রামগুলোতে এখন পর্যটনদের আনাগোনা বাড়ছে, তাদের মধ্যেই অন্যতম এই তাবাকোশি। সামনে দিয়ে বয়ে গেছে ছোট পাহাড়ি নদী। রাম্মামখোলা নদীর ঢালে অপরূপ প্রাকৃতিক শোভা একে অপরূপা করে তুলেছে। মিরিক থেকে মাত্র আট কিমি, গোপালধারা টি এসেস্টের কাছেই এর অবস্থান। রংভাঙ মোড় থেকে ছয় কিমি নিচে রংভাঙ নদীর পাশেই ছবির মতো সুন্দর তাবাকোশি। মিরিক থেকে দার্জিলিং রোড ধরে আরও খানিকটা এগিয়ে থুরবো চা বাগানের বুক চিরে গাড়ি নিয়ে চলে যেতে হবে রাঙ্গভং নদীর ধারে। গ্রামটি শহরের কোলাহল থেকে দূরে পরিবারের সাথে বা একাকি সময় কাটানোর জন্য একটি আদর্শ স্থান হয়ে উঠতে পারে আপনাদের কাছে , পাহাড়ের কোলে বসে নদির জলের আওয়াজ ও সাথে পাখিদের কুঞ্জন শুনতে শুনতে সামনের পাহাড়ের ঢালে সবুজে ঘেরা চা বাগানের মধ্যে হারিয়ে যেতে মন করবে এই তাবাকোশীতে ।

 

নামকরণ এর ইতিহাস–

‘তাম্বা’ যার অর্থ তামা আর ‘কোশি’ মানে নদী। রাংভাং নদীর উপর ঘন জঙ্গলকে দেখে মনে হয় যেন নদীর ওপর তামার দেশ, এখান থেকে গ্রাম নাম ‘তাবাকোশি’। বিস্তারিত ভাবে তাবাকোশি গ্রামের নামকরণের পিছনে একটা ইতিহাস রয়েছে। অনেক অনেক আগে এই জায়গাটির নাম ছিল গোপালখাড়া, অনেকে আবার গোপালধারাও বলে থাকেন। ঠিক একই নামের একটি চা বাগান রয়েছে এই অঞ্চলে। চা বাগানের মধ্য দিয়ে বয়ে গেছে ক্ষীণস্রোতা পাহাড়ি নদী রংভাং খোলা যার নেপালি নাম তাম্বাকোশি। বর্ষাকালে আগে যখন প্রচুর বৃষ্টি হত, শোনা যায় সেই সময় নাকি এই নদীর জল-কাদা সব একত্রে গুলে গিয়ে তামাটে রঙ ধারণ করে। সেই থেকেই সম্ভবত এই নদীর নাম হয়েছে তাম্বা। নেপালি ভাষায় ‘কোশি’ বলতে নদীকে বোঝায়। এই লোকশ্রুতি থেকেই সম্ভবত এই জায়গার নাম হয়েছে তাবাকোশি। তাই এই ব্যস্ততার সময় জীবনে আনন্দ পেতে অনায়াসেই কিছু দিন এখানে কাটিয়ে দিতে পরেন গোটা পরিবার নিয়ে।

 

 

তাবাকোশিতে কি দেখবেন—

মূলত প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের টানেই বার বার পর্যটকরা ফিরে আসেন এই পাহাড়ি গ্রামে। উত্তরঙ্গের জনপ্রিয় গোপালধারা চা বাগানের লাগোয়া জায়গা জুড়েই অবস্থিত এই পাহাড়ি অঞ্চলটি। জোড়পোখরি, লেপচাজগত, সিমনা ভিউ পয়েন্ট, পশুপতির মার্কেট, গোপালধারা চা বাগান, মিরিক লেক, মিরিক মনেস্ট্রি । এখান থেকে দূরে মিরিক টা দেখা যায় পাহাড়ের উপর। এখানে একটা ছোট্ট ঝর্ণা আছে, তার পাশে এলাচ বাগানে তাবুতে রাত কাটানোর ব্যবস্থা আছে। চা বাগানের মধ্যে দিয়ে হেঁটে ঘুরতে ঘুরতে দেখা যায় নানান পাখির আনাগোনা, চারদিকে সবুজের সমারোহ।  তাবাকশির আনাচে-কানাচে রয়েছে কমলালেবুর বাগান, রয়েছে ভুট্টার ক্ষেত, এলাচের বাগান, আদার বাগান। উপরে চা বাগান থেকে নিচে রঙভঙ নদী ও মন্দির দেখতে দারুন লাগে। পথ চলতে চলতে No Hunting বোর্ড চোখে পড়লে বুঝে নিবেন এখানে মাঝেমধ্যে হরিণ চলে আসে জঙ্গল থেকে।  আরও নানা জায়গা ঘুরে নিতে পারেন তাবাকোশিতে দু’দিন থেকে।

 

কি কি দেখবেন—-

 

চাইলে খুব সকালে এখান থেকে গাড়ি নিয়ে টারজাম জায়গাটা ঘুরে আসা যায় যা তাবাকোশী থেকে ৩০ মিনিটের পথ। সৌন্দর্য ভাষায় প্রকাশ করা যায় না, পুরোটা চা বাগানের মধ্যে দিয়ে। তাবাকশি থেকে জোড়পোখরি, লেপচাজগৎ, পশুপতির মার্কেট (ভারত-নেপাল সীমান্ত), গোপালধারা চা বাগান, মিরিক লেক, মিরিক মনেস্ট্রি ও পার্শ্ববর্তী এলাকা দেখতে পারবেন। ইচ্ছা হলে সময় কাটাতে পারেন রাম্মামখোলা নদীর পারেও। পক্ষী প্রেমীদের স্বর্গরাজ্য এই তাবাকোশি। তবে এখানে শান্ত, শীতল, নৈসর্গিক পরিবেশই বেশি আকর্ষণীয়।

 

তাবাকোশির আসেপাশে আরো যে গুলি দেখতে পারেন…

 

পশুপতি মার্কেট : তাবাকোশী থেকে খুব কাছে এই স্থানটি ভারত ও নেপালের বর্ডার , এখানের বিশেষত্ব হল এখানকার বাজার যেখানে কম দামে নেপালের ও বিভিন্ন বিদেশী জিনিসপত্র পাওয়া যায় , আপানরা এখান থেকে শপিং করতে পারেন।

 

মিরিক ঝিলঃ মিরকি থেকে তাবাকোশী খুব একটা দূরে না হওয়ায় এখান থেকে সহজেই মিরিক ঝিল ঘুরে দেখে নিতে পারেন। মিরিক ঝিলে Boating করে এখানে একটা দারুন সময় কাটিয়ে নিতে পারেন।

 

গোপালধারা চাবাগান : তাবাকোশী থেকে গোপালধারা চাবাগান ও খুব কাছাকাছি তাই এই স্থানটিও ঘুরে দেখে নিতে পারেন, দেখে নিতে পারেন এখানের চা ফ্যাক্টরি গুলি ।

 

তাই তবাকোশীর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও এখানকার নিরিবিলি পরিবেশ আপানাদের মনের সকল চিন্তামুক্ত করে মনে এক শান্তির অনুভুতি এনে দিবে যার ফলে এই স্থানটি ছেড়ে অন্য কোথাও যেতে মন চাইবে না। যারা শান্তশিষ্ট পরিবেশে কিছু দিন পাহাড়ে কাটাতে চান তাদের কাছে এই স্থানটি আদর্শ।

 

 

ভ্রমণের সেরা সময়—

বছরের যে কোনও সময় তাবাকোশি যাওয়া যায়। তবে মার্চ মাস থেকে জুন মাসের মাঝামাঝি সময় অথবা অক্টোবর থেকে নভেম্বরের মাঝামাঝি উৎকৃষ্ট সময়।

 

তাবাকোশি যাওয়ার উপায়—-

নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশন থেকে তাবাকোশির দূরত্ব মাত্র ৬০ কিলোমিটার। বাগডোগরা দিয়ে যেতে চাইলে সেই সুযোগও রয়েছে এখানে। বিমানবন্দর বা রেলস্টেশন থেকে গাড়ি ভাড়া করে সোজা পৌঁছে যেতে পারেন তাবাকোশি। সকালে এনজেপি (NJP) স্টেশন পৌঁছে একটা অটো নিয়ে শিলিগুড়ি জংশন চলে যেতে পারেন। তারপর সেখান থেকে মিরিক যাওয়ার একটা শেয়ার গাড়িতে চেপে বসুন। শিলিগুড়ি থেকে শেয়ার গাড়িতে মিরিক পৌঁছে একটা গাড়ি নিয়ে তাবাকোশি রওনা দিয়ে দিন। দু’দিনের হাওয়া বদলে আপনার মন ভাল হয়ে যেতে বাধ্য।

 

 

কোথায় থাকবেন—-

এখানের চা বাগানের সঙ্গেই রয়েছে একাধিক হোমস্টে। মূলত চা বাগানের মালিকরাই এই হোমস্টেগুলোর মালিক। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য টি-ভিলেজ হোমস্টে, সুনাখারী  হোমস্টে। একেবারে চায়ের বাগানের পরে ছোট্ট গ্রামের শুরুতেই সুন্দর সাজানো গোছানো হোমস্টে। হোমস্টেতে তিন রকমের ঘর রয়েছে নরমাল, ডিলাক্স আর স্টোন কটেজ।

টি ভিলেজ হোমস্টে।  এছাড়া হোম স্টে’তে না থেকে, তাঁবুতে থাকার ইচ্ছা হলে সে ব্যাবস্থাও আছে। চারজনের জন্য তাঁবুর ভাড়া তিন হাজার রুপী। তবে তাঁবুতে থাকলে খাবার আলাদা খরচ আছে। এছাড়া বেশি স্বাছন্দ পেতে বেশি ভাড়ার হোম স্টে’ও পাবেন।”

 

উপসংহার—-

 

মিরিক থেকে ঢিলে ছোঁড়া দূরত্বে থাকা তাবাকোশি। হাল ফ্যাশনের যুগে উত্তরকন্যার কোলে লুকিয়ে থাকা যে সব পাহাড়ি গ্রামগুলোতে এখন পর্যটনদের আনাগোনা বাড়ছে, তাদের মধ্যেই অন্যতম এই তাবাকোশি। পূর্ব হিমালয়ের কোলে রাংভাং নদীর উপর এক ঘুমন্ত গ্রাম তাবাকোশি। দার্জিলিং এর বিখ্যাত গোপালধারা চা-বাগানের একটি অংশ এই তাবাকোশী।চারদিকে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা ও সবুজ চা-বাগান দিয়ে মোড়া পাহাড়ের মাঝে এক শান্ত শিষ্ট নিরিবিলি গ্রাম এই তাবাকোশী ।সকালে সারাদিন অফিস ও রাতে বাড়ী এই করতে করতে দিন কেটে যাচ্ছে , এক ঘেয়েমি জীবনযাপন থেকে মুক্তি পেতে দূরে কোথাও ছুটে যেতে মন চাইছে, তবে চলে আসতে পারেন উত্তরবঙ্গের এক নিরিবিলি ছোট পাহাড়ি গ্রাম তাবাকোশীতে।

।।তথ্য : সংগৃহীত।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ

আজ বিশ্ব ক্রীড়া সাংবাদিক দিবস, জানুন কেন পালিত হয় এবং দিনটির গুরুত্ব।

ক্রীড়া সাংবাদিকতা যে কোনো সংবাদ মাধ্যমের প্রতিষ্ঠানের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।  এটি খেলাধুলার কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরে।  এটিকে হাস্যকরভাবে খেলনা বিভাগ নামকরণ করা হয়েছে কারণ খেলাধুলার বিষয়বস্তু একটি খেলা হিসেবে গুরুত্ব পেয়েছে। আজ ২ জুলাই, বিশ্ব ক্রীড়া সাংবাদিক দিবস (World Sports Journalists Day)। আজ থেকে ৯৯ বছর আগে প্যারিস অলিম্পিকের সময় ১৯২৪ সালের এই দিনে ফ্রান্সে এআইপিএস (আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সাংবাদিক সংস্থা) প্রতিষ্ঠিত হয়। সেই দিনটিকে স্মরণে রেখেই প্রতি বছর ২ জুলাই ক্রীড়া সাংবাদিক দিবস পালিত হয়।
সাংবাদিকরা সমাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আমাদের সামনে সুগবেষণাকৃত তথ্য তুলে ধরে।  ক্রীড়া সাংবাদিকরা বিভিন্ন স্থানীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক খেলার বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন করেন।  ক্রীড়া লেখকদের তৎপরতা এবং রিপোর্টিং দক্ষতার কারণে বিশ্বব্যাপী ক্রীড়া অনুরাগীরা ক্রীড়া ইভেন্ট এবং ক্রীড়া খেলোয়াড়দের সম্পর্কে সর্বশেষ তথ্য অ্যাক্সেস করতে সক্ষম হয়।  আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপ ক্রীড়া জগতের বর্তমান সেনসেশন এবং ক্রীড়া লেখকরা এটিকে কভার করতে কোন কসরত ছাড়ছেন না।  ক্রীড়া প্রচারে ক্রীড়া সাংবাদিকদের অবদানকে স্বীকৃতি দিতে প্রতি বছর ২ জুলাই বিশ্ব ক্রীড়া সাংবাদিক দিবস পালন করা হয়।  এই উপলক্ষ্যে, আমরা বিশ্ব ক্রীড়া সাংবাদিক দিবস সম্পর্কে কিছু তথ্য নিয়ে এসেছি।

বিশ্ব ক্রীড়া সাংবাদিক দিবসের ইতিহাস—

১৯৯৪ সালে, ইন্টারন্যাশনাল স্পোর্টস প্রেস অ্যাসোসিয়েশন (A.I.P.S.) তার ৭০তম বার্ষিকীর সম্মানে প্রথমবারের মতো বিশ্ব ক্রীড়া সাংবাদিক দিবস উদযাপন করে।  ১৯২৪ সালে, A.I.P.S.  প্যারিস, ফ্রান্সে L’Association Internationale de la Presse Sportive হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।  যাইহোক, সমিতির সদর দপ্তর এখন অলিম্পিক রাজধানী লুসানে, সুইজারল্যান্ডে।  A.I.P.S.  ১৬০টি সদস্য সমিতি সহ একটি স্বাধীন সংস্থা, যেখান থেকে এটি সদস্যতা ফি এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং ফেডারেশনের অবদানের মাধ্যমে অর্থায়ন পায়।
এর ওয়েবসাইট অনুসারে, A.I.P.S এর লক্ষ্য।  “ক্রীড়া এবং সদস্যদের পেশাগত স্বার্থ রক্ষায় এর সদস্য অ্যাসোসিয়েশনগুলির মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি করা, সমস্ত জাতির ক্রীড়া সাংবাদিকদের মধ্যে বন্ধুত্ব, সংহতি এবং সাধারণ স্বার্থ জোরদার করা এবং সদস্যদের জন্য সর্বোত্তম সম্ভাব্য কাজের পরিস্থিতি নিশ্চিত করা।”
ক্রীড়া সাংবাদিকতা এমন এক ধরনের লেখা যা ক্রীড়া-কেন্দ্রিক বিষয়গুলিতে ফোকাস করে।  ক্রীড়া সাংবাদিকতা ১৮০০-এর দশকে, বিশেষ করে ১৮২০ এবং ১৮৩০-এর দশকে বিকশিত হয়েছিল।  শুরুতে, রিপোর্টিং প্রাথমিকভাবে ঘোড়দৌড় এবং বক্সিং-এর মতো অভিজাত ক্রীড়াগুলির উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে, প্রধানত উচ্চ শ্রেণীকে লক্ষ্য করে কারণ সংবাদপত্রগুলি জনসাধারণের নাগালের বাইরে ছিল।  যাইহোক, পেনি প্রেসের বিকাশ সাশ্রয়ী মূল্যের সংবাদপত্র উত্পাদনের দ্বার উন্মুক্ত করেছে, শেষ পর্যন্ত তাদের সমাজের নিম্ন স্তরের কাছে আরও অ্যাক্সেসযোগ্য করে তুলেছে।  বিংশ শতাব্দীতে ক্রীড়া সাংবাদিকতার জনপ্রিয়তা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।  ১৮৮০ সালে, সংবাদপত্রে খেলাধুলার জন্য মাত্র ০. ৪% স্থান উৎসর্গ করা হয়েছিল।  এই সংখ্যা ১৯২০ সালের মধ্যে ২০%-এ উন্নীত হয়, কারণ সংবাদপত্রগুলি ক্রীড়া কভারেজের জন্য একচেটিয়াভাবে সাংবাদিকদের নিয়োগ করা শুরু করে।  আজ, ক্রীড়া সাংবাদিকতা শুধুমাত্র প্রিন্ট মিডিয়াই নয়, রেডিও, টেলিভিশন এবং ইন্টারনেটকেও ব্যবহার করে।

বিশ্বব্যাপী ক্রীড়া সাংবাদিকরা একত্রিত হয়েছে ISPA।
আজ, স্পনসরশিপ থেকে শুরু করে অলিম্পিক গেমস এবং বিশ্বকাপের মঞ্চায়ন পর্যন্ত বিপুল অর্থের সাথে খেলাধুলা একটি ক্রমবর্ধমান বিশ্বব্যাপী ব্যবসায় পরিণত হয়েছে।
এই ইভেন্টগুলি বিশ্বজুড়ে সুপরিচিত অনুসন্ধানী এবং দক্ষ সাংবাদিকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে।
বিশ্ব ক্রীড়া সাংবাদিক দিবস প্রতি বছর অনেক আড়ম্বর ও আনন্দের সাথে বিশ্বব্যাপী পালিত হয়। এই দিনটি বিশেষ করে ক্রীড়া মিডিয়ার সদস্যদের অর্জন উদযাপন করার জন্য তৈরি করা হয়েছিল।
এটির লক্ষ্য ক্রীড়া সাংবাদিকদের তাদের কাজের শ্রেষ্ঠত্বের জন্য প্রচেষ্টা করতে এবং বিশ্বের কাছে একটি উদাহরণ স্থাপন করতে উত্সাহিত করা। এই দিনটি সাংবাদিকদের আরও কঠোর পরিশ্রম করতে উৎসাহিত করে এবং আরও বেশি লোককে পেশায় আমন্ত্রণ জানায়।
বেশিরভাগ দেশে ক্রীড়া সাংবাদিকদের জন্য তাদের পৃথক জাতীয় সমিতি রয়েছে।  স্পোর্টস জার্নালিস্টস ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়া (SJFI) ২৭ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
ভারতেও বিভিন্ন ক্রীড়া সংস্থা, এবং SJFI খেলাধুলার প্রতি লেখকদের অবদানকে স্বীকৃতি দিয়ে এই দিনটি উদযাপন করে।

খেলাধুলা নিবন্ধের অর্থ—

খেলাধুলা প্রতিটি মানুষের জীবনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।  এটি তাদের সুস্থ ও সুন্দর রাখে এবং শারীরিক শক্তিও রাখে।  জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে খেলাধুলার গুরুত্ব অপরিসীম।  এটি মানুষের মেজাজকেও প্রসারিত করে।  খেলাধুলা আমাদের শরীরের সমস্ত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে সজাগ রক্ষা করে এবং বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলার মাধ্যমে আমাদের হৃদয় সক্রিয় হয়ে ওঠে।

ক্রীড়া সাংবাদিকতা—

ক্রীড়া সাংবাদিকতা হলো সাংবাদিকতার এমন ধারা, যারা ক্রীড়া এবং প্রতিযোগিতা সম্পর্কিত বিষয়গুলির উপর প্রতিবেদন করে। ১৮০০ এর দশকের গোড়ার দিকে ক্রীড়া সাংবাদিকতা শুরু হয় এবং এটি খবরের কাগজের নিবেদিত সংস্থাগুলির সাথে সংবাদ ব্যবসায়ের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশে রূপান্তরিত হয়। মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত শ্রেণীর মধ্যে খেলাধুলার বর্ধমান জনপ্রিয়তার কারণে প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানগুলো খেলাধুলার সামগ্রীর আরও বেশি প্রচার শুরু করে, খেলাধুলার প্রতি মানুষের এই আগ্ৰহের ফলে কেবল খেলাধুলার সংবাদ প্রচারের জন্য ইএসপিএন এবং স্পোর্টস ইলাস্ট্রেটেডের মতো ক্রীড়া প্রকাশনা সংস্থা তৈরি হয়। ক্রীড়া সাংবাদিকতার বিভিন্ন রূপ রয়েছে, যা খেলা থেকে শুরু করে খেলা থেকে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনগুলো বিশ্লেষণ এবং খেলায় অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা পর্যন্ত চলে। প্রযুক্তি ও ইন্টারনেটের যুগে ক্রীড়া সাংবাদিকতার জায়গাগুলি ব্যাপকভাবে পরিবর্তিত হয়েছে কারণ এটি এখন মুদ্রণ সাংবাদিকতার বিস্তৃত বিভাগের সাথে একই সমস্যার সাথে লড়াই করে চলেছে, এরা এখন সাবস্ক্রিপশনের ব্যয় কাটাতে সক্ষম হচ্ছে না। বর্তমান সহস্রাব্দে ইন্টারনেট ব্লগিং এবং টুইটের নতুন রূপগুলি ক্রীড়া সাংবাদিকতাকে শেষ সীমানা পর্যন্ত ঠেলে দিয়েছে।

ক্রীড়া সাংবাদিকতা কি?

দেশের ক্রীড়াঙ্গনের বিকাশ ঘটলে ক্রীড়া সাংবাদিকতা দিনে দিনে বিকশিত হতে পারে।  ক্রীড়া বিভাগ সবসময় একটি প্রবণতা বিষয়.  যেকোনো দেশের মানুষ যখন খেলাধুলাকে গুরুত্ব সহকারে নেবে, তখন ক্রীড়া সাংবাদিকতা তার অবস্থান শক্তভাবে ধরে রাখবে এবং মিডিয়া সংস্থার একটি প্রধান অংশ হয়ে উঠবে।  একটি উন্নয়নশীল সরকার সর্বদা ক্রীড়া বিভাগগুলির উন্নতির জন্য কঠোর চেষ্টা করে।  ১৯৯০ সাল থেকে খেলাধুলার গুরুত্ব বাড়ছে।  এটি অলিম্পিক, ফুটবল বিশ্বকাপ এবং ক্রিকেট বিশ্বকাপ ইত্যাদির মাধ্যমে বিপুল আয়ের সাথে জড়িত একটি বিশ্বব্যাপী ব্যবসা। ক্রীড়া সাংবাদিকতা যেকোন সংবাদ মাধ্যম সংস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।  এটি খেলাধুলার কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরে।  খেলাধুলার বিষয়বস্তু একটি খেলা হিসেবে গুরুত্ব পেয়েছে বলে হাস্যকরভাবে এর নামকরণ করা হয়েছে খেলনা বিভাগ।  এটা সম্পদ, শক্তি এবং প্রভাব উচ্চতর হয়েছে।

 

ক্রীড়া সাংবাদিকতার ভবিষ্যৎ—-

গত দশকে খেলাধুলার মধ্যে একটি বড় পরিবর্তন ঘটেছে কারণ আরও ক্রীড়া দলগুলো বিশ্লেষণগুলি ব্যবহার করে চলেছে। একটি খেলার কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিতে বিশ্লেষণগুলো ব্যবহারের বর্ধিত সুবিধা সম্পর্কে অনেক নিবন্ধ প্রকাশিত হওয়ায় এখানে স্থানান্তরিত হওয়ার এটি একটি বড় কারণ(ক্রীড়া সাংবাদিকতায়)। যেহেতু প্রতিটি খেলায় প্রতিটি উদাহরণের তথ্য সংগ্রহ করা হয়, স্পোর্টসের ডেটা বিশ্লেষণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই দলগুলি পরিচালনা করছে এমন বিশ্লেষণের নিবন্ধ প্রকাশের জন্য স্পোর্টস পাবলিকেশনগুলি এখন পরিসংখ্যান এবং গণিতে বিস্তৃত পটভূমির লোকদের নিযুক্ত করছে। খেলোয়াড়ের পারফরম্যান্সের গুণমান অধ্যয়নের জন্য নতুন মেট্রিক তৈরি করা হয়েছে। মেট্রিকগুলি খেলোয়াড় এবং দলগুলির র‌্যাঙ্কিং সংকলন করতেও ব্যবহৃত হয়। ফাইভ থার্টিইটির মতো ব্লগ সাইটগুলি ফুলটাইম স্পোর্টস অ্যানালিটিক সাইট হিসাবে অঙ্কিত হতে শুরু করেছিল যারা উপলব্ধ ডেটা নিয়েছিল এবং ক্রীড়া সম্পর্কিত বিশ্লেষণী ভারী নিবন্ধগুলি তৈরি করেছিল। ইএসপিএন তাদের অনুষ্ঠানগুলিতে ‘স্পোর্টস সায়েন্স’ নামে একটি বিভাগ প্রয়োগ করেছে যেখানে উন্নত বিশ্লেষণগুলি ক্ষেত্রের পারফরম্যান্সকে কীভাবে প্রভাবিত করে তা পরীক্ষা করতে প্রতিটি খেলার তারকারা উপস্থিত হন। খেলাধুলায় বিশ্লেষণ ব্যবহারের কারণে অনেকেরই প্রচুর পুশব্যাক রয়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠিত কোচ দ্রুত বিশ্লেষণকে গুরুত্ব দেন এবং এক্ষেত্রে পেশাদার ক্রীড়া সাংবাদিক নিয়োগের অনেক উদাহরণ রয়েছে।।।তথ্য : সংগৃহীত ইন্টারনেট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

আজ জাতীয় চিকিৎসক দিবস, জানুন কেন পালিত হয় এবং দিনটির গুরুত্ব।

চিকিৎসা ক্ষেত্রে ডাক্তাররা সমাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছেন। সমাজে তাদের আবাদান অনস্বীকার্য। ঈশ্বরের পরে আমরা ডাক্তারদের স্থান দিয়ে থাকি।  ডাক্তাররা দেশের এমন এক সৈনিক, যারা সীমান্তে যুদ্ধ করে না কিন্তু জীবন বাঁচাতে এবং জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে রেখে মানুষের আয়ু বাড়াতে নিবেদিতপ্রাণ কাজ করে।  জাতীয় চিকিৎসক দিবস হল এমন একটি দিন যা ব্যক্তিগত জীবন ও সম্প্রদায়ের জন্য চিকিৎসকদের অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য উদযাপিত হয়। কিছু দেশে দিনটিকে ছুটির দিন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। তবে দিনটিতে ডাক্তার ও স্বাস্থ্য কর্মীদের সম্মান জানাতে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।  জাতীয় ডাক্তার দিবসের এই বছরের থিম হল “সেলিব্রেটিং রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড হিলিং হ্যান্ডস”৷ এই বছরের থিমের মাধ্যমে, আমরা সেই চিকিৎসক পেশাদারদের উদযাপন করতে চাই যারা মহামারীর কারণে কঠিন সময়ের মুখোমুখি হয়ে কঠোর পরিশ্রম করেছেন৷

ভারতে জাতীয় চিকিৎসক দিবসের ইতিহাস—

ভারতে, স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে তাঁর অবদানের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ডাঃ বিধান চন্দ্র রায়ের সম্মানে ১৯৯১ সালের ০১শে জুলাই প্রথম জাতীয় ডাক্তার দিবস পালন করা হয়েছিল।  ডাঃ বি.সি.  রয়, ১৮৮২ সালের ০১শে জুলাই জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৬২ সালের ০১ জুলাই মৃত্যুবরণ করেন, একটি অদ্ভুত কাকতালীয় ঘটনা।

ডঃ বিধান চন্দ্র রায়  একজন সুপরিচিত ডাক্তার, শিক্ষাবিদ, মুক্তিযোদ্ধা, সমাজসেবক এবং রাজনীতিবিদ ছিলেন।  তিনি ১৯৮৪ থেকে ১৯৬২ সাল পর্যন্ত ১৪ বছর পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীও ছিলেন। ০৪ ফেব্রুয়ারি ১৯৬১ তারিখে তিনি ভারতের সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার “ভারত রত্ন” লাভ করেন।  তিনি মানুষের জন্য তার জীবন দিয়েছেন, অনেক ব্যক্তির চিকিৎসা করেছেন এবং লক্ষ লক্ষ মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছেন।  তিনি মহাত্মা গান্ধীর ব্যক্তিগত চিকিৎসকও ছিলেন।

১৯৭৬ সালে, B.C.  চিকিৎসা, বিজ্ঞান, পাবলিক অ্যাফেয়ার্স, দর্শন, শিল্প ও সাহিত্যের ক্ষেত্রে কাজ করা বিশিষ্ট ব্যক্তিদের স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য তাঁর স্মরণে রায় জাতীয় পুরস্কারও প্রতিষ্ঠিত হয়।

জাতীয় চিকিৎসক দিবসের তাৎপর্য—

সমাজে চিকিৎসকদের ভূমিকার গুরুত্বকে স্বীকৃতি দিতে এবং উপলব্ধি করতে ভারতে জাতীয় ডাক্তার দিবস পালিত হয়েছে।  এটি সাধারণ জনগণকে ডাক্তারদের দ্বারা রোগীর যত্নের প্রতি গুরুত্ব, গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা এবং দায়িত্বগুলি জানতে সহায়তা করে।

এই বিশেষ দিনে, প্রত্যেক ভারতীয়ের দক্ষ চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গর্ব বোধ করা উচিত যারা তাদের দেশের স্বাস্থ্যের উন্নতির জন্য তাদের জীবন উৎসর্গ করেন এবং চিকিৎসা জরুরী পরিস্থিতিতে তাদের প্রচেষ্টা ও অবদানের জন্য কৃতজ্ঞ হন।

প্রতিটি ভারতীয় নাগরিককে অবশ্যই শ্রদ্ধা জানাতে হবে এবং চিকিৎসা জরুরী অবস্থা এবং মহামারী পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে সাধারণ জনগণকে সহায়তা করার জন্য প্রতিটি ডাক্তারের প্রচেষ্টার প্রশংসা করতে হবে।  COVID-19 মহামারী চলাকালীন চিকিৎসা কর্মীদের (ডাক্তার এবং নার্স) বীরত্বপূর্ণ প্রচেষ্টা অক্ষয়, যদিও আজ বিশ্ব করোনাভাইরাস মুক্ত।

ডাক্তারদের গুরুত্ব ও ভূমিকা—

 

সমাজে ডাক্তারদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে;  তারা রোগীদের সুস্থতার জন্য তাদের জীবন উৎসর্গ করে, রোগ বা অবস্থা থেকে দ্রুত পুনরুদ্ধারে সহায়তা করে এবং তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করে।  তারা চিকিৎসা বিজ্ঞানকে ব্যাপকভাবে বোঝে এবং রোগীদের চিকিৎসার অবস্থার চিকিৎসা এবং আয়ু বাড়ানোর জন্য তাদের জ্ঞানকে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ করে।

এমন অনেক ঘটনায় যেখানে রোগী ও তাদের স্বজনদের দ্বারা আক্রান্ত হয়েও চিকিৎসকরা হাল ছাড়েননি।  সাধারণ জনগণের জন্য তাদের চিকিৎসা সেবা অব্যাহত রেখেছে।  তাদের অবদান ও অক্লান্ত পরিশ্রম কেউ ভুলতে পারবে না।

ইতিহাস—-

প্রথম ডাক্তার দিবস পালন করা হয়েছিল ২৮ মার্চ, ১৯৩৩, উইন্ডার, জর্জিয়া, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে।  এই প্রথম পালনের মধ্যে ছিল চিকিত্সক এবং তাদের স্ত্রীদের কাছে কার্ড পাঠানো, ডক্টর লং সহ মৃত ডাক্তারদের কবরে ফুল দেওয়া এবং ডক্টর এবং মিসেস উইলিয়াম টি. র্যান্ডলফের বাড়িতে একটি আনুষ্ঠানিক নৈশভোজ।  ব্যারো কাউন্টি অ্যালায়েন্স চিকিৎসকদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে মিসেস অ্যালমন্ডের প্রস্তাব গৃহীত হওয়ার পরে, ব্যারো কাউন্টি অ্যালায়েন্সের সভাপতি মিসেস ই.আর. হ্যারিস অফ উইন্ডার দ্বারা ১৯৩৩ সালে জর্জিয়া স্টেট মেডিকেল অ্যালায়েন্সের কাছে পরিকল্পনাটি উপস্থাপন করা হয়েছিল।  ১০ মে, ১৯৩৪-এ, অগাস্টা, জর্জিয়ার বার্ষিক রাষ্ট্রীয় সভায় প্রস্তাবটি গৃহীত হয়েছিল।  সাউদার্ন মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের উইমেনস অ্যালায়েন্সের কাছে প্রস্তাবটি পেশ করা হয়েছিল তার ২৯তম বার্ষিক সভায় সেন্ট লুইস, মিসৌরিতে, ১৯-২২ নভেম্বর, ১৯৩৫, অ্যালায়েন্স প্রেসিডেন্ট মিসেস জে বোনার হোয়াইট দ্বারা।  সেই থেকে, ডাক্তার দিবস সাউদার্ন মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন অ্যালায়েন্সের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং সমার্থক হয়ে উঠেছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট এবং প্রতিনিধি পরিষদ পাস করেছে S.J.  RES  #৩৬৬ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ১০১তম কংগ্রেসের সময়, যা রাষ্ট্রপতি বুশ ৩০ অক্টোবর, ১৯৯০ তারিখে স্বাক্ষর করেছিলেন (পাবলিক ল ১০১-৪৭৩ তৈরি করে), ৩০ মার্চ পালিত হবে এমন একটি জাতীয় ছুটি হিসাবে ডাক্তার দিবসকে মনোনীত করে।
ডাঃ মেরিয়ন মাস ডঃ কিম্বার্লি জ্যাকসন এবং ডাঃ ক্রিস্টিনা ল্যাং এর সাথে আনুষ্ঠানিকভাবে চিকিৎসক দিবসকে  চিকিৎসক সপ্তাহে পরিবর্তিত করার জন্য আবেদন করেছেন।  এটি মার্চ ২০১৭ এ গৃহীত হয়েছিল।
২০১৭ সালে ফিজিশিয়ান ওয়ার্কিং টুগেদার (PWT, ডক্টর কিম্বার্লি জ্যাকসন প্রতিষ্ঠিত) কেভিনএমডি-তে আয়োজিত জাতীয় চিকিৎসক সপ্তাহ উদযাপনের জন্য নিবন্ধের একটি সিরিজ স্পনসর করেছে।  ২০১৮ সালে PWT ওপেনক্সমেডের সাথে চিকিৎসকের সুস্থতা এবং অ্যাডভোকেসির উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে একটি বিনামূল্যের অনলাইন কনফারেন্স স্পনসর করেছে।  ২০১৯ সালে, PWT এবং Openxmed মেডিকেল ছাত্র এবং বাসিন্দাদের জন্য একটি স্কলারশিপ প্রোগ্রাম স্পনসর করেছে।  সপ্তাহব্যাপী ইভেন্টটি চিকিৎসক সম্প্রদায়কে সমর্থন এবং সমর্থন করার উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে।

 

বিভিন্ন দেশে উদযাপন—

 

তবে  জাতীয় চিকিৎসক দিবস পালনের তারিখ বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন সময়ে পালিত হয়। এক ই তারিখে সকল দেশে পালিত হয় না। যেমন—

ব্রাজিল–

ব্রাজিলে, জাতীয় ডাক্তার দিবস ১৮ অক্টোবর ছুটির দিন হিসেবে পালিত হয়, যেদিন ক্যাথলিক চার্চ সেন্ট লুকের জন্মদিন উদযাপন করে।  গির্জার ঐতিহ্য অনুসারে প্রেরিত এবং ধর্মপ্রচারক সেন্ট লুক একজন ডাক্তার ছিলেন, যেমনটি নিউ টেস্টামেন্টে লেখা আছে (কলোসিয়ান ৪:১৪)।

কানাডা—

জাতীয় চিকিৎসক দিবস ১ মে কানাডায় পালিত হয়। তারিখটি কানাডিয়ান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন দ্বারা কানাডায় অনুশীলন করা প্রথম মহিলা চিকিৎসক ডঃ এমিলি স্টো-এর স্বীকৃতিতে বেছে নেওয়া হয়েছিল।

 

অস্ট্রেলিয়া—

অস্ট্রেলিয়াতে, বিভিন্ন তারিখে জাতীয় ডাক্তার দিবস স্বীকৃত হতে পারে, সবচেয়ে বেশি অংশগ্রহণ করা হয় ৩০ শে মার্চ।

চীন—

চাইনিজ ডক্টরস ডে বার্ষিক ১৯ আগস্ট চীনে একটি জাতীয় ছুটির দিন হিসেবে পালিত হয়।  তারিখটি গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের ন্যাশনাল হেলথ অ্যান্ড ফ্যামিলি প্ল্যানিং কমিশন (পিআরসি) দ্বারা ২০১৬ সালের চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য ও সুস্থতা সম্মেলনে নির্বাচিত হয়েছিল এবং ২০ নভেম্বর, ২০১৭ পিআরসি-এর স্টেট কাউন্সিল দ্বারা অনুমোদিত হয়েছিল। এর তাৎপর্য  চীনা ডাক্তার দিবস হল তাদের সম্প্রদায় এবং সমাজে চীনা ডাক্তারদের মহান অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়া, স্বাস্থ্যকর্মীদের ইতিবাচকভাবে ‘জীবনের প্রতি শ্রদ্ধা, আহতদের নিরাময় এবং মৃত ব্যক্তিদের বাঁচানোর, অবদান রাখতে ইচ্ছুক হওয়া এবং ভালোবাসা ছাড়াই’ মহৎ মনোভাব পোষণ করতে উত্সাহিত করা।

তুরস্ক—

তুরস্কে, ১৯১৯ সাল থেকে প্রতি বছর ১৪ মার্চ মেডিসিন দিবস হিসেবে পালিত হয়।

যুক্তরাষ্ট্র—

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে, জাতীয় চিকিৎসক দিবস হল এমন একটি দিন যেখানে চিকিৎসকদের দেশের প্রতি বার্ষিক পরিষেবা স্বীকৃত হয়।  ডক্টর চার্লস বি. অ্যালমন্ডের স্ত্রী ইউডোরা ব্রাউন অ্যালমন্ড থেকে ধারণাটি এসেছে এবং যে তারিখটি বেছে নেওয়া হয়েছে সেটি ছিল অস্ত্রোপচারে সাধারণ অ্যানেস্থেশিয়ার প্রথম ব্যবহারের বার্ষিকী।

নেপাল—

নেপালও ২০ ফাল্গুন (৪ মার্চ) নেপালী তারিখে নেপালী জাতীয় ডাক্তার দিবস উদযাপন করে।  নেপাল মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন প্রতিষ্ঠার পর থেকে নেপাল প্রতি বছর এই দিবসের আয়োজন করে আসছে।  ডাক্তার-রোগীর যোগাযোগ, ক্লিনিকাল চিকিৎসক এবং সম্প্রদায়-ভিত্তিক স্বাস্থ্য প্রচার এবং যত্ন নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

এই ভাবে আরো দেশ গুলিতে ভিন্ন তারিখে পালন করা হয় জতিয় চিকিৎসক দিবস। তবে যে দেশে যে তারিখেই পালন হোক না কেনো, এই দিনটি পলের মূল উদ্দেশ্য ই হল ডাক্তারদের সম্মান জানানো।

।।তথ্য : সংগৃহীত ইন্টারনেট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ

বীরভূমের  রাঙা মাটির রাঙ্গা-পথে সিধু-কানুর নেতৃত্বে সাঁওতাল বিদ্রোহ : প্রশান্ত কুমার দাস।

উনিশ শতকে বঙ্গীয় ‘রেনেসান্স’ বা রেনেসাঁ যে সময়ে প্রকৃত জাতিয়তাবাদের ভিত্তি রচনা করতে ব্যর্থ হয়েছিল ঠিক সেই সময়েই ইংরেজ শাসকের অপশাসন ও জমিদার শ্রেণী আর মহাজনদের শোষণের বিরুদ্ধে সশস্ত্র কৃষক- সংগ্রাম সমগ্র জাতির সামনে এক নতুন সংগ্রামী ঐতিহ্য  সৃষ্টি করেছিল যাকে ভারতের বৈপ্লবিক জাতিয়তাবাদের ভিত্তিভূমি বলা চলে।
ব্রিটিশ শাসনকালে যে সমস্ত কৃষক বিদ্রোহ হয়েছিল তাদের মধ্যে অত্যন্ত  উল্লেখযোগ্য ছিল সাঁওতাল বিদ্রোহ বা খেরওয়ারি হুল বিদ্রোহ।
১৮৫৫ সালের সাঁওতাল বিদ্রোহ ও ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহ বা মহাবিদ্রোহ – দুটোকেই ভারতের প্রথম ঐক্যবদ্ধ স্বাধীনতা সংগ্রাম বলা চলে। এই উভয় সংগ্রামই শুরু হয়েছিল ইংরেজ শাসনের কবল থেকে, শোষণ থেকে মুক্তি ও স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার ধ্বনি নিয়ে।
সাঁওতাল বিদ্রোহের প্রকৃত কারণ ছিল জমির উপর একছত্র অধিকার প্রতিষ্ঠার অকাঙ্খা এবং তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল স্বাধীনতা স্পৃহা- যার ফলে তারা ধ্বনি তুলেছিল – “আমাদের নিজ সম্পত্তির অধীনে স্বাধীন সাঁওতাল রাজ্য চাই।”

 

এই প্রসঙ্গে ওল্ডহাম সাহেব মন্তব্য করেছিলেন – “পুলিশ ও মহাজনের অত্যাচারের স্মৃতি যাহাদের দেশপ্রেম জাগাইয়া তুলিয়াছিল সেই আন্দোলন তাহাদের সকলকেই আকৃষ্ট করিল,কিন্তু যে মূল ভাবধারাকে কার্যে পরিণত করিবার চেষ্টা হইতেছিল তাহা ছিল সাঁওতাল অঞ্চল ও সাঁওতাল রাজ্য প্রতিষ্ঠার চিন্তা।”
সাঁওতালী ভাষার বিদ্রোহকে বলা হয় ‘হুল’,সুতরাং সাঁওতাল বিদ্রোহ ‘সাঁওতাল হুল’ নামেই বেশি পরিচিত । ১৮৫৪ সাল থেকেই এই বিদ্রোহের অগ্নিস্ফুলিঙ্গ উঠতে আরম্ভ করেছিল,তারপর ১৮৫৫ সালে সেই বিদ্রোহ পরিপূর্ণ ভাবে আত্মপ্রকাশ করে দাবাগ্নির মতো চতুর্দিকে বিস্তৃত হলো।শত শত বছরের প্রায় বিচ্ছিন্ন সমাজ জীবনের ধারা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য সাঁওতালরা পথ খোঁজে মুক্তি আন্দোলনের মাধ্যমে। জমির অধিকার,জঙ্গলের অধিকার,ফসলের অধিকার,জমিদার ও মহাজনদের শোষণমুক্তির অধিকার  ফিরে পাওয়ার স্বপ্ন যেন এই প্রথম ঘুম থেকে হঠাৎ জেগে ওঠে তারা দেখতে পায়।

 

সাঁওতালরা তাদের সমাজের দুর্দশার কথা গানের মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে কোম্পানির কুশাসনের স্বরূপ তুলে ধরেছিল । যেমন –
“নেরা নিয়া নুরু নিয়া
ডিণ্ডা নিয়া ভিটা নিয়া
হায়রে হায়রে! মাপাঃ গপচদ,
নুরিচ নাড়াঁড় গাই কাডা নাচেল লৌগিৎ পাচেল লৌগিৎ
সেদায় লেকা বেতাবেতেৎ ঞাম রুওয়ৌড় লৌগিৎ
তবে দ বোন লুনাগেয়া হো।”
এর অর্থ হচ্ছে –  “স্ত্রীপুত্রের জন্য
জমি জায়গা বাস্তুভিটার জন্য
হায় হায় ! এ মারামারি কাটাকাটি
গো-মহিষ-লাঙ্গল ধন-সম্পত্তির জন্য
পূর্বের মত আবার ফিরে পাবার জন্য
আমরা বিদ্রোহ করবো।“
গানটির প্রতিটি লাইনে প্রতিটি শব্দে শোষণ আর উৎপীড়নে গুমড়ে ওঠা সাঁওতালদের মনের গোপন কথা প্রকাশ পেয়েছিল। সেদিন এই প্রকার আরও অনেক গান তারা রচনা করেছিল সংগ্রাম করে নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে।
এরূপ আরো একটা গান এখানে তুলে ধরা হলে –
“আদ বাংবন পৌচঃ সিধু আদ বাংবন থিরঃ,
বাইরি ঞেলতে লৌড়হাই ঘন বাংবন ঞিরঃ।
বহঃক্ ঞুরুঃ রেহঁ সিধু মায়াম লিঙ্গি রেহঁ,
বাংবন পাচঃ লৌড়হাই আবন দেবন সহরঃ।।

এই গানের অর্থ হচ্ছে –
“আর আমরা পিছু হঠব না সিধু আর চুপ থাকবে না,
শত্রু দেখে লড়াই থেকে পালাব না,
মাথা উড়ে গেলেও সিধুর রক্ত বইতে থাকলেও,
আমরা আর পিছু হটবনা,লড়াই মুখো হব।।”

 

এই সব কবিতা বা গানের মধ্য থেকে বোঝা যাচ্ছে আদিবাসী সহজ সরল সাঁওতালরা যুগ যুগ ধরে শোষণ-অত্যাচারের শিকার হওয়ার জন্য তারা বাধ্য হয়ে সশস্ত্র বিপ্লবের পথ বেছে নিয়েছিল। এভাবে ইংরেজ শাসক,জমিদার ও মহাজনদের শোষন –অত্যাচার-অবিচার থেকেই এই বিদ্রোহের সৃষ্টি হয়েছিল এবং বিদ্রোহের মধ্য থেকেই জন্ম নিয়েছিল নেতৃত্ব। সাঁওতাল পরগনার ধূমায়িত বিদ্রোহের মধ্য থেকে বার হয়ে এলেন ঐতিহাসিক সাঁওতাল বা হূল বিদ্রোহের নায়ক সিধু, কানু, চাঁদ ও ভৈরব নামে চার ভাই। এছাড়া এই নেতাদের মধ্যে ছিলেন কালো প্রামানিক, ডোমন মাঝি,বীরসিংহ মাঝি, গোক্ক ইত্যাদি সাওতাঁল আদিবাসী ।
১৮৫৫ সালের ৩০ শে জুন এই সব নেতাদের নেতৃত্বে প্রায় ১০ হাজার সাঁওতাল ভাগনাডিহির মাঠে সমবেত হয়েছিল। তাদের মধ্যে রটনা করে দেওয়া হয়েছিল যে , সিধু, কানু, দৈব নির্দেশপ্রাপ্ত। বিভিন্ন এলাকার কামার, কুমোর, তাঁতি, ছুতোর প্রভৃতি নিম্নশ্রেণির মানুষও এই বিদ্রোহে যোগদান করেছিল, শোনা যায়, দুই লক্ষ সাঁওতাল এই বিদ্রোহে সামিল হয়েছিল,ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে সাঁওতালরা গেরিলা পদ্ধতিতে হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে জমিদার ও মহাজনদের আক্রমণ করে। এই বিদ্রোহীরা এক সময় রাজমহল ভাগলপুরের মধ্যে রেল ও ডাক যোগাযোগের ব্যবস্থা বিছিন্ন করে দেয়,তাদের হাতে শতাধিক ইংরেজ নিহত হয়।”ক্যলকাটা রিভিউ” পত্রিকা থেকে জানা যায় যে, একজন ইংরেজ সেনাপতি মেজর বরোজ সাঁওতালদের সঙ্গে যুদ্ধে পরাজিত হন।

 

এই বিদ্রোহের সংবাদ বিনা মেঘে বজ্রাঘাতের মতো সমস্ত শাসকগোষ্ঠীকে স্তম্ভিত করে দেয়। “ক্যালকাটা রিভিউ” পত্রিকার একজন ইংরেজ মন্তব্য করেছিলেন – “এই রূপ আর কোনো অদ্ভুত ঘটনা ইংরেজের স্মরণকালের মধ্যে দক্ষিণবঙ্গের সমৃদ্ধিকে বিপদগ্রস্ত করিয়া তোলে নাই।“
এই সংবাদে সেনাপতি মেজর বরোজ ভাগলপুরের দিকে সাঁওতাল বাহিনীর গতিরোধ করেন। ১৮৫৫ সালের ১৬ই আগষ্ট ভাগলপুর জেলায় পীরপাইতির ময়দানে উভয়পক্ষের মধ্যে প্রচন্ড রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ হয়। শোনা যায়, মেজর বরোজের বাহিনী চূড়ান্তভাবে অপদস্থ ও  পরাজিত হয়, এতে একজন ইংরেজ অফিসারসহ কয়েক জন ইংরেজ সৈন্য এবং  বেশকিছু সাওতাঁল বিদ্রোহী নিহত হয়। ভাগলপুরের কমিশনার এই যুদ্ধের একটা বিবরণ দিয়েছিলেন – “বিদ্রোহীরা নির্ভিক চিত্তে প্রাণপণে যুদ্ধ করিয়াছিল।তাহাদের যুদ্ধাস্ত্র কেবল তীর ধনুক আর কুঠার। তাহারা মাটির উপর বসিয়া পায়ের দ্বারা ধনুক হইতে তীর ছুড়িতে অভ্যস্ত।”
এক সময়ে বীরভূম জেলার সমগ্র উত্তর পশ্চিমাংশে বিদ্রোহীদের দখলভুক্ত হয়েছিল। সরকারের আত্মসমর্পণ নির্দেশকে বিদ্রোহীরা ঘৃণাভরে পরিত্যাগ করেছিল। সিধু ও কানুর নেতৃত্বে সাঁওতাল বাহিনী পাকুড়ে পৌঁছায় এবং তিনদিন ও তিনরাত্রি পাকুড়কে অবরোধ করে রাখে। এভাবে তারা বীরভূম থেকে ভাগলপুর পর্যন্ত এক বিরাট ভূখন্ডকে অধিকার করে। ডাক-তার ব্যবস্থা, রাস্তাঘাট প্রভৃতি সমস্ত রকমের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে বিছিন্ন করে দেয়।
কিন্তু কয়েকদিন পরেই ইংরেজশাসক চরমপন্থা গ্রহণ করে সামরিক আইন জারি করে অবাধে লুণ্ঠন, নরহত্যা ও ধ্বংস সাধন করে মানুষের মনে এক বিভীষিকার সৃষ্টি করে। তখন সাঁওতালরা বাধ্য হয়ে পশ্চাৎপদ হতে থাকে।জনৈক ইংরেজ সেনাপতি নিজেই স্বীকার করেছিলেন – “আমরা যুদ্ধ করিনি, করেছিলাম গণহত্যা।”

 

১৮৫৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে একদল সাঁওতাল হতাশাগ্রস্ত হয়ে সিধুর গোপন আশ্রয় স্থল জানিয়ে দেয়। তাই ইংরেজরা সহজেই সিধুকে গ্রেপ্তার করে নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করে। এভাবে পরাধীন ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম বীরসন্তান সিধু ইংরেজ শত্রুর হাতে প্রাণ বিসর্জন দিয়ে ভারতের ইতিহাসে অমর হয়ে রয়েছেন। এর কিছুদিন পরে আর এক নায়ক কানু বীরভূমের ওপারবাঁধের নিকটে সশস্ত্র পুলিশের হাতে ধরা পড়েন।তাকেও ইংরেজ বাহিনী নৃশংসভাবে গুলি করে হত্যা করে। প্রকৃতপক্ষে,এই সাওতাঁল বিদ্রোহে অন্ততপক্ষে ২৫ হাজার সাঁওতাল নিহত হয়েছিলেন ।এভাবে বীরভূম থেকে ভাগলপুর পর্যন্ত বিশাল অঞ্চল সাঁওতালদের রক্তস্রোতে রঞ্জিত হয়েছিল।
সাঁওতাল বিদ্রোহের প্রচন্ড আঘাত থেকে ইংরেজ সরকার উপলব্ধি করে যে, যারা অনায়াসে প্রাণ দিতে পারে, যারা আত্মসমর্পণ করতে চায় না তাদের সঙ্গে সাধারণ মানুষের মিশ্রণের ফলে সারাভারতে আরও বিদ্রোহের বীজ ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই তারা কৌশল করে সাঁওতালদের জনজীবন থেকে বিছিন্ন করার উদ্দেশ্যে সাঁওতাল পরগণাকে ‘সাঁওতাল ডিহি পরগণা’ নামে একটা পৃথক পরগণা গঠন করে।
দুঃখের বিষয় মৃত্যুভয়হীন বীরত্ব ও শৌর্য থাকা সত্ত্বেও সেদিন সাঁওতাল বিদ্রোহের ভবিষ্যৎ ছিল অন্ধকারাচ্ছন্ন, কারন ভারতের অন্য অঞ্চলসমূহ এই বিদ্রোহের সময়েও ছিল শান্ত, নির্লিপ্ত,ও নিস্তরঙ্গ । তাই ইংরেজ শাসক এই বিদ্রোহকে সহজেই দমন করতে সক্ষম হয়েছিল। তা সত্ত্বেও একথা বলা যেতে পারে শুধুমাত্র তীর-ধনুক-টাঙ্গিকে সম্বল করে ত্রিশ থেকে পঞ্চাশ হাজার সাওতাঁল আধুনিক কামান-বন্দুক সজ্জিত পনের হাজার  সুশিক্ষিত সেনার বিরুদ্ধে বীরবিক্রমে যুদ্ধ পরিচালনা করে সমগ্র ভারতবাসীর সম্মুখে যে পথনির্দেশ করেছিল, সেই পথ ১৮৫৭ সালে মহাবিদ্রোহের মধ্য দিয়ে ভারতের মুক্তি সংগ্রামের সুপ্রশস্ত রাজপথে পরিণত হয়েছিল আর সেই রাজপথই পরবর্তীকালে বিংশ শতাব্দীর মধ্য দিয়ে প্রসারিত হলো। ভারতের এই অশিক্ষিত দরিদ্র আদিবাসী সাঁওতাল তথা কৃষক সমাজ সেই রাজপথেরই অভিযাত্রী-  তাঁরাই হচ্ছেন ভারত মাতার  মহান বীর সন্তান, বীরযোদ্ধা – তাই আমরা তাঁদেরই জয়গান গাইবো।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

ঘুরে আসুন প্রজাপতিরদের স্বর্গরাজ্য ইয়েলবং।

ঘুরতে কে না ভালোবাসে। বিশেষ করে বাঙালিরা সুযোগ পেলেই বেরিয়ে পড়ে ভ্রমনের নেশায়। কেউ পাহাড়, কেউ সমুদ্র আবার কেউ প্রাচীন ঐতিহাসিক স্থান ভালোবাসে ভ্রমণ করতে। প্রকৃতি কত কিছুই না আমাদের জন্য সাজিয়ে রেখেছে। কতটুকুই বা আমরা দেখেছি। এ বিশাল পৃথিবীতে আমরা অনেক কিছুই দেখিনি। তবে সোশ্যাল মিডিয়ার দুনিয়ায় আজ গোটা পৃথিবীটা হাতের মুঠোয়় এলেও প্রকৃতিকে চাক্ষুষ প্রত্যক্ষ করা এ এক আলাদা রোমাঞ্চ, আলাদা অনুভূতি যার রেষ হৃদয়ের মনিকোঠায় থেকে যায় চিরকাল।। তাইতো আজও মানুষ বেরিয়ে পড়়ে প্রকৃতির কে গায়ে মেখে  রোমাঞ্চিত হওয়ার নেশায়।  আসুন ঘুরে আসি ভারতের ই জম্মু ও কাশ্মীরের এক গুরুত্বপূর্ণ দর্শনীয় স্থান ইয়েলবং।

 

 

ইয়েলবং হল কালিম্পং পাহাড়ের একটি ছোট গ্রাম, যা ফ্রান্সিস রাই অন্বেষণ করেছিলেন।  আপনি শিলিগুড়ি বা নিউ মাল জংশন স্টেশন থেকে সাধারণত ৩ ঘন্টার মধ্যে এই জায়গায় পৌঁছাতে পারেন।  বাগরাকোটের দিকে রাস্তা ধরুন যা এই উভয় জায়গা থেকে ১৮ কিমি দূরে এবং এখান থেকে ইয়েলবং মাত্র ৭ কিমি দূরে।  ইয়েলবং কালিম্পং এর উপত্যকা এবং হিমালয়ের কুয়াশা দ্বারা লুকিয়ে আছে, ইয়েলবং হল উত্তরবঙ্গের একটি অজানা রত্ন যা জলপ্রপাত, গভীর জঙ্গল, প্রজাপতি প্রেমীদের জন্য একটি স্বর্গ, ইয়েলবং রিভার ক্যাম্পিং, Yelbong রিভার ক্যাম্পিং,  এবং এর মধ্যে সেরা হল ইয়েলবং নদী ক্যানিয়ন গুহা।  গুহাটি ২ কিলোমিটার দীর্ঘ এবং এটিই একমাত্র নদী গিরিখাত গুহা যা উত্তরবঙ্গে ২ কিলোমিটার দীর্ঘ।

ইয়েলবং, পশ্চিমবঙ্গের কালিম্পং জেলার একটি ছোট্ট গ্রামীণ পাহাড়ি জনপদ যেখানে সুন্দর গ্রামবাসীরা আপনাকে স্বাগত জানাতে এবং লুকানো ধন, মাতৃ প্রকৃতি তাদের চারপাশে রাখা এবং তারা তাদের খুব ভালভাবে রক্ষা করছে।  আপনি যদি সিনেমার মতো বনের মধ্যে লুকানো জলপথ এবং উঁচু জলপ্রপাত দ্বারা বেষ্টিত অন্বেষণ এবং ট্রেকিংয়ের পাগল হন, তাহলে আপনাকে উত্তরবঙ্গের ইয়েলবং ছাড়া আর যেতে হবে না।  জলপ্রপাতের মধ্য দিয়ে এর উত্তেজনাপূর্ণ সরু পথের কারণে নদীর গিরিখাত দ্রুত জনপ্রিয়তা লাভ করে, জায়গাটি এখন দ্রুত একটি অ্যাডভেঞ্চারের জন্য এলাকার পছন্দসই স্থান হয়ে উঠছে।  এই ছোট্ট পাহাড়ি গ্রামের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আপনার আত্মাকে ভরিয়ে দেবে।  এটি পাহাড়ি ঢাল, বন এবং নদী দ্বারা বেষ্টিত।  সূর্যোদয়ের আশ্চর্যজনক দৃশ্য, সেইসাথে সূর্যাস্ত, আপনাকে মন্ত্রমুগ্ধ করে তুলবে।  পাখির কিচিরমিচির, সুন্দর প্রজাপতির চুম্বন, পাহাড়ের ঢালে বয়ে যাওয়া নদীর শব্দ, মনোরম, যত্নশীল মানুষ সব মিলে এই জায়গাটিকে একটি স্বপ্নময় গন্তব্য করে তোলে।

 

ইয়েলবং রিভার ক্যানিয়ন ট্রেকিংয়ের জন্য বিখ্যাত, রুমটি নদীর ধার বরাবর পাথরের উপর দিয়ে পায়ের টাল সামলে কেভে পৌঁছানো একটা চ্যালেঞ্জ। এটি প্রায় ২ কিলোমিটার বিস্তৃত নদীর পাড় ঘেঁষে ট্রেকপথ যার শেষে একটি গুহার দেখা মিলে যেরকমটা হয়ত ভারতের পশ্চিমবঙ্গে সেরকম খুব একটা নেই। পাহাড়ী নদী তার আপন ছন্দে কখনো উত্তাল কখনো নিস্তরঙ্গ ঝিরিঝিরি হয়ে বয়ে চলেছে গুহার বুক চিরে। তবে এতোটুকু বলা যেতেই পারে – কেভে প্রবেশ করার পর নিজেকে খুঁজে পাবেন অন্য এক দুনিয়ায়। কেভের পথও বেশ চ্যালেঞ্জিং। নিজেকে মেন্টালি ও ফিজিক্যালি আগে থেকে তৈরি করে এই ট্রেকে আসা বাধ্যতামূলক। ।  সিনেমার মতোই লুকানো জলপথ এবং বনের মধ্যে উঁচু জলপ্রপাত দ্বারা বেষ্টিত এবং এটি অ্যাডভেঞ্চার প্রেমীদের মধ্যে দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জনের প্রধান কারণ।
একটি গিরিখাত হল একটি গভীর, সরু উপত্যকা যার চারপাশে পাথুরে খাড়া দেয়াল রয়েছে, সাধারণত একটি নদী যার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়।  নদীর গিরিখাত একই সাথে ভুতুড়ে এবং রোমাঞ্চকর।  ইয়েলবং এ উত্তরবঙ্গের সেরা ক্যানিয়ন ট্রেক রয়েছে।  আপনি জঙ্গলের গভীরে অনেক সুন্দর এবং দর্শনীয় জলপ্রপাত দেখতে পাবেন, যা বিশ্রাম এবং শান্তিপূর্ণ সময় উপভোগ করার জন্য উপযুক্ত।  এই ট্র্যাক চলাকালীন ২ প্রকৃতির লুকানো ধন আপনাকে লালন করবে, একটি হল ‘রেনবো জলপ্রপাত’ – একটি জলপ্রপাত যা রংধনু রঙ ছড়িয়ে দেয় এবং অন্যটি ‘থ্রি-স্টেপ জলপ্রপাত’।  মূল অ্যাডভেঞ্চার ট্রেক এখান থেকে শুরু হয় যা র‌্যাপেলিং, সাঁতার কাটা, বোল্ডারিং, গুহায় স্ক্রলিং, রিভার ক্রসিং এবং অ্যাডভেঞ্চার অ্যাক্টিভিটিগুলির আরও অনেক শর্তকে একত্রিত করে।

 

 

ইতিহাস—

“ইয়েলবং এর স্থানীয় ছেলে ফ্রানচিস ছোট বেলায় কয়লার খনিতে হিরে খুঁজতে গিয়ে প্রথম এই রিভার ক্যানিয়নটি আবিষ্কার করেন। প্রথমে ভয়ে ফিরে এলেও পরে দলবল নিয়ে পুরো টাই খুঁজে বের করেন। আগে এই পুরো রিভার বেড টাই কয়লার খনি হলেও পরে ১৯৬২ সালের দিকে ধস নেমে খননকার্য বন্ধ হয়ে যায়। পুরো ট্রেক টাই বেশ রোমহর্ষক এবং খুব সোজা মোটেই নয়। প্রথমে গ্রাম থেকে ট্রেক করে ৫ কিলোমিটার এর মতো নামতে হবে রিভার বেডে। এরপর ক্যানিয়নে জল, পাথর ডিঙিয়ে এগিয়ে চলতে হবে পুরোটা দেখতে। পুরো ব্যাপার টাই বেশ থ্রিলিং এবং অনবদ্য।

 

ইয়েলবং যাওয়ার উপায়—

এবার জেনে নেবো ইয়েলবং যাওয়ার উপায়। ট্রেনে করে নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশন, তারপর ওখান থেকে গাড়ি ভাড়া করে ইয়েলবং। গাড়ি বাগরাকোট স্টেশন থেকে ইয়েলবং এর দিকে যাবে। গোটা রাস্তা ৩০ কিলোমিটার মতো , তবে সময় লাগবে ৩ ঘন্টার মতো। গাড়ি একদম গ্রামের ভিতর এর রাস্তায় না যেতে চাইলে অগত্যা ৪ কিলোমিটার মতো পায়ে হাঁটাই ভরসা।

 

কোথায় থাকবেন—

ইয়েলবং একটি ইকো ফ্রেন্ডলি গ্রাম। ইয়েলবং রিভার ক্যানিয়ন প্রকৃতির এক বিরল সৃষ্টি যা ভারতে খুব কমই পাওয়া যায়। এখানে এখন বেশ কিছু হোম স্টে চালু হয়েছে।

 

 

ইয়েলবং-এ কি করবেন–

ইয়েলবং রিভার ক্যানিয়নে ট্রেক করুন।
প্রজাপতি দেখুন।
পাখি দেখুন।
ফরেস্ট হাইক করুন।
মাউন্টেন ভিউ।
ট্রেক করুন বা ইয়েলবং-এ অন্যান্য লুকানো জায়গাগুলি অন্বেষণ করুন।
নদীর ধারে নাইট ওয়াক করুন। আপনাদের মন ভোরে যাবে।

 

সর্বপরি বলা যেতে পারে ইয়েলবং প্রকৃতি প্রেমীদের জন্য এক টুকরো স্বর্গ।  সেগুলি পর্যবেক্ষণ করতে এবং কিছু স্ন্যাপ নিতে ভুলবেন না।  আপনার ফটোগ্রাফিক দক্ষতা অন্বেষণ একটি নিখুঁত জায়গা। আপনি অফবিট লুকানো জলপ্রপাত দেখতে পারেন।  স্থানীয় বন্ধু তৈরি করুন, দেশীয় ছেলেদের সাথে খেলুন। জীবনের সরলতা পর্যবেক্ষণ করতে ইয়েলবং গ্রামের চারপাশে হাঁটুন।

 

।।ছবি ও তথ্য : সংগৃহীত গুগল ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

 

 

 

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

ভারতের জম্মু ও কাশ্মীরের এক গুরুত্বপূর্ণ দর্শনীয় স্থান তুরতুক — এক ভ্রমণ কাহিনী।

ঘুরতে কে না ভালোবাসে। বিশেষ করে বাঙালিরা সুযোগ পেলেই বেরিয়ে পড়ে ভ্রমনের নেশায়। কেউ পাহাড়, কেউ সমুদ্র আবার কেউ প্রাচীন ঐতিহাসিক স্থান ভালোবাসে ভ্রমণ করতে। প্রকৃতি কত কিছুই না আমাদের জন্য সাজিয়ে রেখেছে। কতটুকুই বা আমরা দেখেছি। এ বিশাল পৃথিবীতে আমরা অনেক কিছুই দেখিনি। তবে সোশ্যাল মিডিয়ার দুনিয়ায় আজ গোটা পৃথিবীটা হাতের মুঠোয়় এলেও প্রকৃতিকে চাক্ষুষ প্রত্যক্ষ করা এ এক আলাদা রোমাঞ্চ, আলাদা অনুভূতি যার রেষ হৃদয়ের মনিকোঠায় থেকে যায় চিরকাল।। তাইতো আজও মানুষ বেরিয়ে পড়়ে প্রকৃতির কে গায়ে মেখে  রোমাঞ্চিত হওয়ার নেশায়।  আসুন ঘুরে আসি ভারতের ই জম্মু ও কাশ্মীরের এক গুরুত্বপূর্ণ দর্শনীয় স্থান তুরতুক।

 

তুর্তুক বাল্টিস্তান অঞ্চলে অবস্থিত, একটি অঞ্চল প্রায় সম্পূর্ণরূপে পাকিস্তান দ্বারা নিয়ন্ত্রিত।  তুর্তুক হল ভারতের নিয়ন্ত্রণাধীন পাঁচটি বাল্টি-জনবহুল গ্রামের মধ্যে একটি, বাকি চারটি হল বোগদাং, ত্যাক্ষী, চালুনখা এবং ধোথাং।  এটি গ্রামের মধ্যে সবচেয়ে বড় এবং এটির দাবি রয়েছে শ্যাওক উপত্যকার দক্ষিণ চোরবাট অংশের ঐতিহাসিক রাজধানী।  যদিও বোগডাং ১৯৪৮ সাল থেকে ভারত-শাসিত লাদাখের অংশ ছিল, অন্য চারটি গ্রাম ১৯৭১ সালের যুদ্ধের সময় ভারতীয় সেনাবাহিনী দখল করে নেয়।

 

তুর্তুক হল একটি গ্রাম এবং লাদাখের ভারতীয় কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে একটি নামী সম্প্রদায় উন্নয়ন ব্লকের সদর দফতর।  এটি কারাকোরাম রেঞ্জ এবং হিমালয়ের মধ্যে স্যান্ডউইচ করা একটি ছোট গ্রাম এবং ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে নিয়ন্ত্রণ রেখার কাছাকাছি ভারতের উত্তরের গ্রামগুলির মধ্যে একটি।  তুর্তুক লেহ জেলার নুব্রা তহসিলে, শেওক নদীর তীরে অবস্থিত।  ভৌগোলিকভাবে, গ্রামটি বালতিস্তান অঞ্চলে, যেটি পাকিস্তানি প্রশাসনের অধীনে ছিল, তুরতুক ব্লকের পাঁচটি গ্রাম ছাড়া যা ভারতের অংশ।  এই গ্রামগুলিই ভারতের একমাত্র অঞ্চল যেখানে বাল্টি জনগোষ্ঠী রয়েছে।  Turtuk তার ফলের জন্য পরিচিত, বিশেষ করে এপ্রিকট। ১৯৭১ সালের যুদ্ধ পর্যন্ত তুর্তুক পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণে ছিল, যখন ভারতীয় সেনাবাহিনী গ্রামটি দখল করে নেয়।  এটি সিয়াচেন হিমবাহের প্রবেশদ্বারগুলির মধ্যে একটি।

 

“তুরতুক (Turtuk) বিধাতার বিশেষ আশীর্বাদপ্রাপ্ত ভারতের সীমানার শেষ গ্রাম যা সমুদ্র সীমা থেকে ৯৮৪৬ ফিট (৩০০১ মিটার) উচুতে অবস্থিত। অদ্ভুত সুন্দর তুরতুক গ্রামটি সায়ক ভ্যালীতে অবস্থিত যা নুব্রা ভ্যালী এর অংশ বিশেষ। লেহ শহর থেকে এই গ্রামের দূরত্ব ২০৫ কিলোমিটার এবং নুব্রা ভ্যালীর ডিস্কিট শহর থেকে ৮৮ কিলোমিটার। ৩০০০ এর চেয়ে কিছু বেশি লোকের বসবাস আছে এই গ্রামে। ২০১০ সালে ট্যুরিস্টদের জন্যে এই গ্রামকে খুলে দেয়া হয়।

 

তুর্তুকের আশেপাশে পর্যটন—-

 

২০১০ সালে তুর্তুক পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছিল। গ্রামটি শ্যাওক উপত্যকার দৃশ্য দেখায়।
শ্যাওক নদীর উপরে মালভূমিতে অবস্থিত কয়েকটি গোম্পা রয়েছে এবং গ্রামে একটি পুরানো রাজকীয় বাড়ি রয়েছে।  তুর্তুক ভারতের কয়েকটি স্থানের মধ্যে একটি যেখানে কেউ বাল্টি সংস্কৃতির সাক্ষী হতে পারে এবং গ্রামে কয়েকটি হোমস্টে এবং গেস্ট হাউস পাওয়া যায়।  এটিই শেষ বড় গ্রাম যেখানে নিয়ন্ত্রণ রেখার আগে পর্যটন কার্যকলাপের অনুমতি দেওয়া হয়

 

 

এই গ্রামের চারপাশ পাহাড় দিয়ে ঘেরা। এই গ্রামের সবটুকু সবুজে মোড়ানো। এখানে ধান থেকে শুরু করে গম, জব, আলু, কপিসহ অন্যান্য তরকারি, আপেলসহ নানা রকম ফলমূল হয় নিয়মিত। নানা রকম ফুল, পাথুরে বাড়ি, ঝরনার বিশুদ্ধ পানি সবই আছে এখানে। গায়ে গায়ে লেপটে থাকা পাহাড়ের সারি, পাহাড় থেকে বয়ে চলা ঝরনা, ঝিরি ও নদী। এই গ্রামের বাইরের পাহাড়গুলো যখন বরফে বরফে মোড়ানো থাকে, তখনো এখানে বরফ পড়লেও সেটা খুব বেশি নয়, যাতে করে জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়। বরফ পড়ে ঠিকই, কিন্তু একটু রোদের পরশ পেলেই সেই বরফ দ্রুত গলে গিয়ে পাশের সায়ক নদীতে গিয়ে পতিত হয়।”

 


সংস্কৃতি ও প্রাকৃতিক পরিবেশ—-

 

“তুরতুক এর সব ঘর বাড়িই একদম নিখাদ পাথরের তৈরি। শুধু পার্থক্য এই যে, যাদের আর্থিক অবস্থা একটু ভালো, তারা পাথর সাইজ মতো করে কেটে নিয়ে কিছু সিমেন্টের ব্যবহার করে সাজানো বাড়ি বানাতে পারে। আর যাদের সেই অবস্থা নেই তারা নিজেদের মতো করে পাথর সংগ্রহ করে একটার পর একটা বসিয়ে দেয়, কখনো নদীর কাদার সাহায্যে বা শুধু পাথরের স্তূপ সাজিয়েই বানিয়ে ফেলে বসবাসের জন্য আস্ত ঘর বা বাড়ি। এখানে আছে বিদ্যুৎ, টিভি, ডিশের সংযোগসহ আর নানা রকম সুযোগ সুবিধা। এমনকি আছে মোবাইলও। এই গ্রামের যারা একটু অবস্থা সম্পন্ন বা যাদের নিজেদের থাকার ঘর ছাড়াও আছে দু-একটি বেশি বা তার চেয়ে বেশি রুম, সেগুলো ওরা টুরিস্টদের জন্য ভাড়া দিয়ে থাকে। যেখানে একদম কোলাহলমুক্ত একটি দিন বা রাত কাটিয়ে দেওয়া যেতে পারে নিশ্চিন্তে।

 

কিভাবে যাবেন—-

তুরতুক এ যেতে হলে আপনাকে বেশ রোমাঞ্চপ্রিয় হতে হবে। কলকাতা থেকে ট্রেনে দিল্লি, দিল্লি থেকে শ্রীনগর বা মানালি হয়ে বাসে বা রিজার্ভ জিপে করে লেহ শহরে। দিল্লি থেকে বাই রোডে লেহ যেতে সময় লাগবে অন্তত তিনদিন। দুই জায়গায় রাতে থাকতে হবে, শ্রীনগর বা মানালিতে এক রাত আর লেহ যেতে পথে আর এক রাত। রাতের থাকার খরচ নির্ভর করবে রুচি আর মানসিকতার ওপরে ৫০০ থেকে ২৫০০ টাকা পর্যন্ত পাবেন, মানালি বা শ্রীনগর থাকতে। তবে এই রাস্তায় যেতে হলে বেশ কিছু ঝুকির ব্যাপার মাথায় রাখতে হবে।”
খাওয়া দাওয়া—–

 

তুরতুকে থাকার পাশাপাশি টুরিস্টদের জন্য আছে কিছু খাবার হোটেলও, যেখানে বেশ সহনীয় মূল্যে পাবেন নানা রকম পছন্দের খাবার।

 

ইতিহাস—

 

ব্রগপা যুগ—-

 

তুর্তুকে বসবাসকারী প্রাচীনতম পরিচিত উপজাতি ছিল একটি দারদিক উপজাতি, স্থানীয়ভাবে ব্রোগপা নামে পরিচিত, যারা এখন পাকিস্তানের চিলাস থেকে স্থানান্তরিত হয়েছে বলে মনে করা হয়।  তারা তুর্তুকে একটি অজানা সময় থেকে, বেশিরভাগ সম্ভবত, খ্রিস্টীয় ১৩ শতক পর্যন্ত বাস করত।  খ্রিস্টীয় ১৩ শতকের দিকে কোন এক সময়ে, চুলি এবং ইয়াংদ্রুং নামে দুই যোদ্ধা তুর্তুকে আসেন।  তারা রাজাকে হত্যা করে এবং অবশেষে স্থানীয়দের বেশিরভাগই তুর্তুককে স্রোতের ধারে এবং পাহাড়ের ওপারে, এখন হানু, দাহ এবং ডোমখার নামক গ্রামে পালিয়ে যায়।  এই মুহূর্তে, তুর্তুকের জনসংখ্যার অধিকাংশই চুলি এবং ইয়াংড্রং-এর সরাসরি বংশধর।  সময়ের সাথে সাথে, বাইরে থেকে লোকেরা কাজের সন্ধানে তুর্তুকে আসে, আরও বৈচিত্র্য আনে।  শিখ সাম্রাজ্য কর্তৃক বাল্টিস্তান জয়ের আগ পর্যন্ত তুর্তুক একটি স্বাধীন রাজ্য ছিল বলে মনে করা হয়।
তুর্তুকের লোকেরা ইসলামের আগে বন ধর্মের অনুসারী ছিল।  বনের আচারগুলি ঐতিহ্যের পাশাপাশি স্থাপত্য উভয় ক্ষেত্রেই দেখা যায়।  বিখ্যাত পারস্যের সুফি কবি ও ধর্ম প্রচারক সৈয়দ আলী শাহ হামদানির কারণে তুর্তুকে ইসলাম এসেছে।  বাল্টিস্তানের অন্যান্য জায়গার মতো তুর্তুকের লোকেরাও শাহ হামদানির একজন শিষ্য সৈয়দ মোহাম্মদ নূরবকশের নামানুসারে সুফি সম্প্রদায়ের সুফি নূরবকশিয়া অনুশীলন করে।  কিন্তু ঊনবিংশ শতাব্দীর মধ্যে, শিয়া, হানাফী এবং পরবর্তীতে ওহাবিদের মত বাইরের প্রভাবশালী সম্প্রদায় বাল্টিস্তানের সুফি নূরবকশিয়া এবং তুরতুকের নূরবকশিয়াকেও ধর্মান্তরিত করতে শুরু করে।  অতি সম্প্রতি, তুরতুকের হানাফীরাও সুন্নিদের আরও চরম উপসেটে রূপান্তরিত হয়েছে।  এই মুহুর্তে, জনসংখ্যার মাত্র অর্ধেকই নূরবকশিয়াদের চর্চা করে আর বাকিরা হয় সুন্নি বা ওয়াহাবি সম্প্রদায়ের।

 

ইয়াবগো রাজবংশ—-

 

তুর্তুক সহ বাল্টিস্তানের চোরবাত-খাপলু অঞ্চলটি এক হাজার বছর ধরে তুর্কিস্তানি ইয়াবগো রাজবংশ দ্বারা শাসিত হয়েছিল।  তাদের শাসন শুরু হয়েছিল যখন বেগ মানথাল ৯ম শতাব্দীতে ইয়ারকান্দ থেকে এই অঞ্চলে আসেন এবং খাপলু জয় করেন।  ১৩শ শতাব্দীতে ইসলামী পণ্ডিত ও কবি মীর সাইয়্যেদ আলী হামাদানির আগমনের আগ পর্যন্ত এই অঞ্চলে বৌদ্ধধর্মের আধিপত্য ছিল।

 

ডোগরা রাজবংশ—

 

হাজার বছরের ইয়াবগো শাসন ১৮৩৪ সাল পর্যন্ত অব্যাহত ছিল, যখন শিখ সাম্রাজ্যের একজন ভাসাল জম্মুর রাজা গুলাব সিং এই অঞ্চলটি জয় করেছিলেন।  রাজত্ব হারানোর পর, ইয়াবগো আবদুল্লাহ খান পরিবারের নাম পরিবর্তন করে কাচো (“হালকা ওজনের জন্য বাল্টি) রেখেছিলেন, যদিও পরিবারটি একটি ধনী, শক্তিশালী পরিবার ছিল।
প্রথম অ্যাংলো-শিখ যুদ্ধের পর, ব্রিটিশরা গুলাব সিং-এর অধীনে জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্য প্রতিষ্ঠা করে।  গুলাব সিংয়ের ডোগরা রাজবংশ ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত ব্রিটিশ রাজের অধীনে এই অঞ্চল শাসন করেছিল।

।। তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

 

 

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

আজ ‘আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবস’ ও ‘আন্তর্জাতিক নির্যাতনবিরোধী দিবস’, জানব দিন দুটি পালনের গুরুত্ব সম্পর্কে কিছু কথা।

 

আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবস।

 

মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচার রোধে সারা বিশ্বে দিবসটি পালিত হয়। এবারের প্রতিপাদ্য- ‘মাদক সেবন রোধ করি, সুস্থ সুন্দর জীবন গড়ি’। মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য ১৯৮৭ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভায় ২৬ জুনকে মাদকবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস হিসাবে পালনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।পরের বছর থেকে বিশ্বব্যাপী দিবসটি পালিত হয়ে আসছে।

মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার এবং অবৈধ পাচারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক দিবস হল মাদকের অপব্যবহার এবং অবৈধ মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে জাতিসংঘের একটি আন্তর্জাতিক দিবস । এটি ১৯৮৯ সাল থেকে প্রতি বছর ২৬ জুন পালিত হয়। চীনে প্রথম আফিম যুদ্ধের ঠিক আগে ২৫ জুন, ১৮৩৯-এ শেষ হয়েছিল হুমেন , গুয়াংডং -এ লিন জেক্সুর আফিম ব্যবসার অবসানের স্মরণে ২৬ জুন তারিখটি। ৭ ডিসেম্বর ১৯৮৭-এর সাধারণ পরিষদের রেজোলিউশন ৪২/১১২ দ্বারা এই পালন করা হয়েছিল ।

২৬ জুন ১৯৮৭, ভিয়েনায় অনুষ্ঠিত মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার এবং অবৈধ পাচার সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সম্মেলনে দুটি গুরুত্বপূর্ণ পাঠ্য ( মাদক অপব্যবহার নিয়ন্ত্রণে ভবিষ্যত কার্যক্রমের ব্যাপক বহুবিভাগীয় রূপরেখা এবং মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার এবং অবৈধ পাচার সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সম্মেলনের ঘোষণা ) গৃহীত হয়েছিল। ১৭-২৬ জুন ১৯৮৭ সময়কালে। সম্মেলন সুপারিশ করে যে মাদকের অপব্যবহার এবং অবৈধ পাচারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের গুরুত্ব চিহ্নিত করার জন্য একটি বার্ষিক দিবস পালন করা উচিত। ১৭ জুন এবং ২৬ জুন উভয় তারিখই প্রস্তাব করা হয়েছিল এবং পরবর্তী বৈঠকে ২৬ জুন বেছে নেওয়া হয়েছিল এবং খসড়া এবং চূড়ান্ত রেজোলিউশনে লিখিত হয়েছিল।

 

সারা পৃথিবী জুড়ে আজ মাদক পাচার একটি গভীর সঙ্কটের রূপ নিয়েছে, বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলিতে, যেসব দেশে অর্থের অভাবে ভুগছেন বহু সংখ্যক মানুষ, এবং নিরাপত্তার অভাবে আটকানো যায় না বহু অপরাধ। এই পরিস্থিতিতে অপরাধের পথে মানুষকে চালিত করা সহজতর হয়ে পড়ে। সমীক্ষায় প্রকাশ, মাদক পাচারের ফলে ব্যাহত হয় শিক্ষা, বাড়ে অপরাধ। আন্তর্জাতিক স্তরে মাদক বিরোধী দিবস পালনের উদ্দেশ্য, সমস্যাটির প্রতি আন্তর্জাতিক দৃষ্টি আকর্ষণ করা, এবং বিভিন্ন স্তরে আলচনার মঞ্চ গড়ে তোলা। এই দিনটি পালন করার প্রধান উদ্দেশ্য হলো মাদক সেবন ও পাচারের মারাত্মক প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা, এবং প্রতিরোধের ব্যবস্থা করা।

 

বিভিন্ন দেশের মানুষ একসঙ্গে দিবসটি উদযাপন করে। যেহেতু ওষুধের ব্যবহার বৃদ্ধি পায়, দিনটি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ইন্টারন্যাশনাল ড্রাগ পলিসি কনসোর্টিয়াম দ্বারা সমন্বিত , এটি দাবি করে যে ওষুধ নীতির পন্থাগুলি স্বাস্থ্য, মানবাধিকার এবং মাদক ব্যবহারকারী লোকেদের অপরাধীকরণের অবসানের দিকে মনোনিবেশ করা উচিত। আজ ২৬ জুন, আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবস। মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচার রোধে বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ভারতেও দিবসটি পালিত হচ্ছে। এবারে দিবসটির  প্রতিপাদ্য- ‘মাদক সেবন রোধ করি, সুস্থ সুন্দর জীবন গড়ি’।

 

 

আন্তর্জাতিক নির্যাতনবিরোধী দিবস।

 

নির্যাতনের শিকারদের সমর্থনে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক দিবস হল প্রতি বছর ২৬ জুন নির্যাতনের অপরাধের বিরুদ্ধে কথা বলার জন্য এবং সারা বিশ্বে ভুক্তভোগী এবং বেঁচে থাকা ব্যক্তিদের সম্মান ও সমর্থন করার জন্য একটি আন্তর্জাতিক পালন করা হয়।

 

এই দিনটি সমাজে অগ্রহণযোগ্য মানবিক নির্যাতন সম্পর্কে জনগণের মধ্যে শুধু সচেতনতাই ছড়ায় না, তাদের জানিয়ে দেয় যে এটি একটি অপরাধ।

বিশ্ব জুড়ে, অসংখ্য মানুষ আছে যারা শারীরিক বা মানসিক নির্যাতনের সম্মুখীন হয়।  যদিও এটি আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে একটি অপরাধ, এমন অনেক ঘটনা রয়েছে যা রিপোর্ট করা হয়নি।  তাই, সমস্ত স্টেকহোল্ডারদেরকে একত্রিত হওয়ার জন্য আহ্বান জানানোর জন্য যারা অপব্যবহার ও নির্যাতনের মুখোমুখি হয়েছেন এবং অব্যাহত রেখেছেন, প্রতি বছর ২৬ জুন নির্যাতনের শিকারদের সমর্থনে আন্তর্জাতিক দিবস হিসাবে পালন করা হয়।  জাতিসংঘ দাবি করে যে নির্যাতনের পরিণতি হল এটি সহিংসতার চক্রে পরিণত হতে পারে এবং পরবর্তী প্রজন্মের উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে।

 

ইতিহাস—-

 

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ দুটি কারণে দিনটিকে বেছে নেয় । প্রথমত, ২৬ জুন ১৯৪৫ সালে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মাঝখানে জাতিসংঘের সনদ স্বাক্ষরিত হয়েছিল – প্রথম আন্তর্জাতিক উপকরণ যা জাতিসংঘের সদস্যদের মানবাধিকারকে সম্মান ও প্রচার করতে বাধ্য করে । দ্বিতীয়ত, ২৬ জুন ১৯৮৭ ছিল যখন নির্যাতন এবং অন্যান্য নিষ্ঠুর, অমানবিক বা অবমাননাকর আচরণ বা শাস্তির বিরুদ্ধে জাতিসংঘের কনভেনশন কার্যকর হয়েছিল।
বার্ষিক নির্যাতনের শিকারদের সমর্থনে আন্তর্জাতিক দিবস পালনের সিদ্ধান্তটি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ডেনমার্কের প্রস্তাবে গৃহীত হয়েছিল, যা বিশ্বখ্যাত আন্তর্জাতিক পুনর্বাসন কাউন্সিল ফর টর্চার ভিকটিম (আইআরসিটি) এর আবাসস্থল।

 

১৯৯৮ সালের ২৬ জুন নির্যাতনের শিকারদের সমর্থনে প্রথম আন্তর্জাতিক দিবস উদযাপন করে, জাতিসংঘ সমস্ত সরকার, স্টেকহোল্ডার এবং বৈশ্বিক সমাজের সদস্যদের এই আইনের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে এবং নির্যাতনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য এবং যারা  বিশ্বের প্রতিটি কোণে এটি কার্যকর করুন।  দিনটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এটি তাদের সমর্থনে সকলকে ঐক্যবদ্ধ করে যারা মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এর তারপর থেকে, সারা বিশ্বের কয়েক ডজন দেশে প্রায় ১০০টি সংস্থা প্রতি বছর ইভেন্ট, উদযাপন এবং প্রচারাভিযানের মাধ্যমে দিবসটিকে চিহ্নিত করে।
১৬ জুলাই ২০০৯ তারিখে, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনাতে নির্যাতনের শিকারদের সমর্থনে আন্তর্জাতিক দিবসটিকে সরকারী ছুটি হিসাবে বেছে নেওয়া হয়েছিল ।

সর্বশেষ ২৬ জুন গ্লোবাল রিপোর্ট (২০১২) অনুসারে, বিশ্বের ৬০টি দেশে অন্তত ১০০টি সংস্থা সম্মেলন, কর্মশালা, শান্তিপূর্ণ সমাবেশ, সাংস্কৃতিক ও সঙ্গীত অনুষ্ঠান, শিশুদের জন্য অনুষ্ঠান ইত্যাদির মাধ্যমে দিবসটি উদযাপন করেছে। এশিয়ায় এশিয়ান হিউম্যান রাইটস কমিশন প্রতি বছর আঞ্চলিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এশিয়ার বিভিন্ন দেশে নির্যাতন বিরোধী নেটওয়ার্ক যারা এখনও নির্যাতনের ব্যাপক ব্যবহারে ভুগছে তারা সমাবেশ এবং জনসাধারণের অনুষ্ঠান করে। এই কারণেই জাতিসংঘ এই দিনটিকে নির্যাতনের শিকারদের সমর্থনে আন্তর্জাতিক দিবস হিসাবে বেছে নিয়েছে।

 

।। তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

ঘুরে আসুন জম্মু ও কাশ্মীরের এক গুরুত্বপূর্ণ দর্শনীয় স্থান সোনমার্গ।

ঘুরতে কে না ভালোবাসে। বিশেষ করে বাঙালিরা সুযোগ পেলেই বেরিয়ে পড়ে ভ্রমনের নেশায়। কেউ পাহাড়, কেউ সমুদ্র আবার কেউ প্রাচীন ঐতিহাসিক স্থান ভালোবাসে ভ্রমণ করতে। প্রকৃতি কত কিছুই না আমাদের জন্য সাজিয়ে রেখেছে। কতটুকুই বা আমরা দেখেছি। এ বিশাল পৃথিবীতে আমরা অনেক কিছুই দেখিনি। তবে সোশ্যাল মিডিয়ার দুনিয়ায় আজ গোটা পৃথিবীটা হাতের মুঠোয়় এলেও প্রকৃতিকে চাক্ষুষ প্রত্যক্ষ করা এ এক আলাদা রোমাঞ্চ, আলাদা অনুভূতি যার রেষ হৃদয়ের মনিকোঠায় থেকে যায় চিরকাল।। তাইতো আজও মানুষ বেরিয়ে পড়়ে প্রকৃতির কে গায়ে মেখে  রোমাঞ্চিত হওয়ার নেশায়।  আসুন ঘুরে আসি ভারতের ই জম্মু ও কাশ্মীরের এক গুরুত্বপূর্ণ দর্শনীয় স্থান সোনমার্গ  ।

 

সোনমার্গ বা সোনামার্গ যার জন্য দাঁড়ায় সোনার তৃণভূমি জম্মু ও কাশ্মীরের গান্দেরবাল জেলায় অবস্থিত একটি হিল স্টেশন। এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বিস্ময়কর। এখানে, আপনি প্রকৃতির বিস্ময় অন্বেষণ করতে পাবেন। চমত্কার কনিফার গাছগুলি পুরো পর্বতকে উজ্জ্বল করে তোলে। তুষার যা পাহাড়ের সুন্দর বাদামী রঙকে ঢেকে দেয় তা আশ্চর্যজনকভাবে অন্বেষণ, লালন এবং অভিজ্ঞতার জন্য মনোরম দৃশ্য তৈরি করে।

 

শ্রীনগর থেকে ৮২ কিমি উত্তর-পূর্বে অবস্থিত কাশ্মীর এর আর এক স্বর্গ সোনমার্গ। এপ্রিল মে মাসে সোনমার্গ তার রূপের ডালি উজাড় করে দেয় পর্যটকদের কাছে। শ্রীনগর থেকে সোনমার্গ যেতে পথে পড়বে গান্দেরবল, কঙ্গন, গুন্দ প্রভৃতি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পাহাড়ি জনপদ। আর পুরো পথটাই সাথে থাকবে দামাল সিন্ধুনদ। পাইন, ফার, বার্চ আর দূর দুরান্তের পাহাড়শ্রেণীর শোভা দেখতে দেখতে আপনি মোহিত হয়ে পড়বেন। চারপাশে পাহাড় আর সোনালি ঘাসে ঢাকা সোনমার্গ নিয়ে জনশ্রুতি রয়েছে যে এই উপত্যকার কোথাও এক কুপ আছে জার জলে সোনালি রঙ ধরে উপত্যকায়। এই জন্য নাম সোনমার্গ অর্থাত্‍ সোনালী উপত্যকা। সোনমার্গ থেকে পায়ে পায়ে বা ঘোড়ায় চেপে পৌঁছে যাওয়া যায় খাজিয়ার হিমবাহের কোলে। শীতের সময় এখানে বরফ নিয়ে মেতে ওঠে সবাই।

 

সোনমার্গ এর দর্শনীয় স্থানসমূহ–

 

সোনমার্গ অন্যতম কাশ্মীরে দেখার জন্য সেরা জায়গা. সোনমার্গের কাছে আপনি যে পর্যটন স্থানগুলি ঘুরে দেখতে পারেন তার তালিকা এখানে রয়েছে।

১. থাজিওয়াস হিমবাহ

সোনমার্গ যার অর্থ ‘সোনার তৃণভূমি’ অনায়াসে তার আকর্ষণ বহন করে। তুষারে পূর্ণ হওয়ায়, এই হিমবাহটি ভ্রমণের জন্য সবচেয়ে আকর্ষণীয় ভ্রমণ গন্তব্যগুলির মধ্যে একটি জম্মু ও কাশ্মীর. শহর থেকে 3 কিমি দূরে অবস্থিত এবং আনুমানিক 9,186 ফুট উচ্চতায় অবস্থিত, এই স্থানটি তার মনোরম কাশ্মীর উপত্যকা সহ তুষার এর কবজ দেখার জন্য বেশ মনোরম।

২. জোজি-লা-পাস

এই সুন্দর পাসটিই কাশ্মীর উপত্যকাকে একত্রিত করে লাদাখ. জোজি-লা পাস সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় 3,528 মিটার উচ্চতায় অবস্থিত। এই জায়গাটি অভিজ্ঞতার জন্য অবিশ্বাস্য এবং আপনার প্রিয়জনদের সাথে লালন-পালন করে।

৩. বিষনসার লেক

সোনমার্গের একটু বাইরে অবস্থিত, এই হ্রদের ফিরোজা নীল জল রূপালী পাহাড়ের সাথে একটি সবুজ তৃণভূমি দ্বারা বেষ্টিত। এই পর্বতগুলি একটি উত্তেজনাপূর্ণ দূরত্বে অবস্থিত। আপনার প্রিয়জনের সাথে কিছু আশ্চর্যজনক স্মৃতি উপভোগ করার ক্ষেত্রে এটি বেশ দুর্দান্ত জায়গা।

৪. হোয়াইট রিভার রাফটিং

এটা কোনো অ্যাডভেঞ্চার রাইডের চেয়ে কম নয়। এই রাইডটি আপনাকে একটি অ্যাড্রেনালিন রাশ দিতে যথেষ্ট চিত্তাকর্ষক। এবং এই কার্যকলাপ সম্পর্কে অধিকাংশ মানুষ কি পছন্দ করে. আপনি একটি দীর্ঘ র‌্যাফটিং অভিযানে যাওয়ার কথাও বিবেচনা করতে পারেন যা শুরু হয় বালতাল এবং সোনমার্গে অবস্থিত শুটকারি ব্রিজে শেষ হয়।

৫. নীলাগ্রাদ নদী

এটি তার নিরাময় ক্ষমতার জন্য পরিচিত এবং এই কারণেই এটি অত্যন্ত সম্মানিত। প্রতি রবিবার প্রচুর স্থানীয় মানুষ এখানে আসেন শুধু এর পবিত্র জলে স্নান করতে।

৬. কৃষ্ণসার লেক

কৃষ্ণসার হ্রদটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় 3,801 মিটার উচ্চতায় অবস্থিত। এখানকার মনোরম দৃশ্য মুগ্ধ করে। ঘন আলপাইন দ্বারা বেষ্টিত, এই জায়গাটি একটি খুব শীতল এবং মনোরম পরিবেশ রয়েছে। লোকেরা মাছ ধরার জন্য এবং দুঃসাহসিক জলের ক্রিয়াকলাপ উপভোগ করার জন্য প্রায়শই এই জায়গায় আসে।

 

ভ্রমণের উপযুক্ত সময়—

সোনমার্গ ভ্রমনের উপযুক্ত সময় মার্চ – নভেম্বর। এটি সবচেয়ে বেশি আকর্ষণীয় রূপ নেয় এপ্রিল-মে মাসে। তবে যারা স্নোফল দেখতে কাশ্মীর যেতে চান তাদের জন্যে ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি উত্তম। কারন এ সময়টায় কাশ্মীরে সব থেকে বেশী স্নোফল পাবার সম্ভাবনা থাকে। এই সময়ে, সার্বিক তাপমাত্রা দর্শনীয় কার্যকলাপের জন্য বেশ মনোরম।

 

সোনমার্গ কিভাবে যাবেন—-

যদি অফবীট জায়গা গুলো আপনার ভ্রমণ লিস্টে না থাকে তাহলে শ্রীনগর থেকে দিনে দিনে সেরে নিতে পারেন সোনমার্গ ভ্রমণ। তবে পথের শোভা উপভোগ করতে হলে এ পথে নিজস্ব গাড়ি ভাড়া করে আসাই ভালো। মারুতি ওমনি ভাড়া পাওয়া যায়। টাটা সুমোও রয়েছ কারগিলগামী শেয়ার সুমোও যাচ্ছে এ পথে।

 

কোথায় থাকবেন—

সোনমার্গে থাকবার সেরা জায়গা জম্মু কাশ্মীর পর্যটনের ট্যুরিস্ট হাটে, এছাড়া হোটেল রয়্যাল, হোটেল স্নো ল্যান্ড, হোটেল পিকস, রয়েছে।

 

সোনমার্গের ইতিহাস—-

 

ঐতিহাসিক লেন্স থেকে দেখলে, আমরা জানতে পারি যে প্রাচীন কাল থেকেই সোনামার্গ ভারতীয় ইতিহাসের বর্ণনায় একটি বিশিষ্ট ভূমিকা পালন করেছে, কারণ এটি সিল্ক রোডের প্রবেশদ্বার হিসাবে পরিচিত ছিল যা কাশ্মীর ভূমিকে সংযুক্ত করেছিল। গিলগিট হয়ে চীন ও অন্যান্য উপসাগরীয় দেশ।
১৯৪৭ সালে ভারত স্বাধীন হওয়ার সাথে সাথে সোনমার্গ, যা তখন কাশ্মীরের একটি স্থানীয় শহর ছিল জম্মু ও কাশ্মীরের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ওঠে। আজ, এই জায়গাটি অমরনাথ মন্দির এবং লাদাখ অঞ্চলের মতো কাছাকাছি অবস্থিত পর্যটন এলাকার জন্য বেস ক্যাম্প হিসাবে পরিচিত।

।।তথ্য: সংগৃহীত ইন্টারনেট ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

 

 

 

Share This