Categories
বিবিধ

ভোটের আগে দলবদল: দুই শতাধিক বিজেপি কর্মী তৃণমূলে, রাজনীতি তাপমাত্রা বৃদ্ধি।

মালদহ, নিজস্ব সংবাদদাতাষ:- ভোট আসলেই বঙ্গ রাজনীতিতে দলবদলের হিড়িক ওঠে। বিশেষ করে বঙ্গ রাজনীতির দুই জুজুধান পক্ষ একে অপরের দল ভাঙ্গিয়ে শক্তি প্রদর্শনের চেষ্টা করে। তা হেবিওয়েট নেতা দিয়ে হোক বা কর্মীদের দিয়ে। অনেকটা যেন বাংলার ফুটবল ময়দানের দলবদলের মত। এবার বিজেপির গড় পুরাতন মালদহে তৃণমূলের যোগদান কর্মসূচি। বিজেপির শ্রমিক সংগঠন সহ অন্যান্য রাজনৈতিক দল থেকে প্রায় দুই শতাধিক কর্মী যোগ দিলো তৃণমূলে। জেলা তৃণমূল শ্রমিক সংগঠনের সভাপতি বিশ্বজিৎ হালদারের নেতৃত্বে এই যোগদান কর্মসূচি হয় পুরাতন মালদহের একটি বেসরকারি হোটেলে। সেখানে উপস্থিত ছিলেন জেলা যুব তৃণমূলের সভাপতি প্রসেনজিৎ দাস, পুরাতন মালদা পুরসভার চেয়ারম্যান কার্তিক ঘোষ প্রমুখ। মূলত, পুরাতন মালদহের শহর এবং গ্রামীণ এলাকার শ্রমিক সংগঠনের সাংগঠনিক সভাতে এই যোগদান কর্মসূচি হয়। তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি একদিকে বিজেপির মিথ্যাচার অন্যদিকে তৃণমূলের উন্নয়ন। সেই মিথ্যাচার বুঝতে পেরে যোগদানকারীরা এদিন তৃণমূলে এসেছে। দলের সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি হবে বলেও আশা করছে ঘাসফুল শিবির। মূলত সাম্প্রতিক কয়েক বছর ধরে পুরাতন মালদহ বিজেপির দুর্ভেদ্য ঘাটি। সেই জায়গায় ভোটের প্রাক্কালে এই যোগদান শাসকের পালে কতটা হাওয়া দেয় তা বলবে সময়। যদিও এই যোগদান সম্পূর্ণ ভুয়ো যোগদান বলে দাবি বিজেপির। তৃণমূল নিজেদের লোকেদেরই যোগদান করিয়ে বিভ্রান্ত করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিজেপি বিধায়ক।সমগ্র ঘটনায় শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা।

Share This
Categories
বিবিধ

মালদহের হোটেলে দক্ষিণ ও উত্তরের কর্মীদের সঙ্গে মিঠুনের বিশেষ সভা, ভোটের আগে রাজনৈতিক প্রস্তুতি ত্বরান্বিত।

মালদা, নিজস্ব সংবাদদাতা :- প্রতিটি বিধানসভাতে বিজেপির ১৫০ জন করে কর্মীদের নিয়ে মিঠুন যোদ্ধা নাম দিয়ে গ্রুপ তৈরী করতে বললেন মিঠুন চক্রবর্তী। মালদহে বিজয়া সম্মেলন এসে অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী এই নির্দেশ দেন দলীয় কর্মীদের। এর পাশাপাশি সবাইকে নিজের দুটি মোবাইল নম্বর দিয়ে বলেন, যখন ফোন করবেন তখনই পাবেন। দুটি নম্মরের মধ্যে একটি আইনী সহায়তা দেয়ার জন্যে। অপরটি সংগঠনের খবরাখবর দেওয়ার জন্যে। আপনারা আমার সঙ্গে যেকোনো সময় ফোন করবেন। মিঠুন বলেন আমি এই রাজ্যের প্রতিটি জেলাতে যাবো ভোটের আগে। আপনারা প্রতিরোধ গড়ে তুলুন। ভয় পেলে ভয় দেখাবে পাল্টা ভয় দেখান দেখবেন আর ওদের ধারে কাছে পাবেন না। মঙ্গলবার এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এসআইআর এর প্রতিবাদে বিদেশীদের জন্যে রাস্তাতে মিছিল করছে। এটাই নজিরবিহীন ঘটনা। মালদহের একটি হোটেলে মালদহ উত্তর ও মালদহ দক্ষিণীনের কর্মীদের নিয়ে মিঠুন চক্রবর্তী এই বিজয়া সম্মেলন করেন।

Share This
Categories
বিবিধ

বুনিয়াদপুর থেকে রাজ্যের মঞ্চে— আরণী নাট্য সংস্থার জয়যাত্রা অব্যাহত।

বুনিয়াদপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা : – এক সাথে তিন বিভাগে প্রথম স্থান ও এক বিভাগে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে রাজ্যব্যাপী নাট্য প্রতিযোগিতায় অনন্য রেকর্ড করলো দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বুনিয়াদপুর পৌর শহরের আরণী নাট্য সংস্থা। দেহশ্রী ব্যাযামাগার -এর ব্যবস্থাপনায় তিন দিন ব্যাপী চলা রায়গঞ্জ দিপালী উৎসব ২০২৫ নাট্য প্রতিযোগিতায় মোট নয়টি নাট্য সংস্থা তাদের নাটক পরিবেশন করেন। এর মধ্যে শ্রেষ্ঠ প্রযোজনা,শ্রেষ্ঠ নির্দেশক, শ্রেষ্ঠ নায়ক ও শ্রেষ্ঠ দ্বিতীয় অভিনেত্রীর পুরস্কার অর্জন করে নেয় বুনিয়াদপুর আরণী নাট্য সংস্থা।

সংস্থার পক্ষ থেকে জানা যায়, মুকাদ্দার কা সিকান্দার ‘ নাটক পরিবেশন করে এই অর্জন। একটি নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের বেঁচে থাকার লড়াই কে কেন্দ্র করে এই নাটক। আর এতেই বাজিমাত পুরস্কৃত হলো শ্রেষ্ঠত্বের পুরস্কারে, শ্রেষ্ঠ প্রযোজনা – মুকাদ্দার কা সিকান্দার,শ্রেষ্ঠ নির্দেশক- শুভাশিস চক্রবর্তী ।
শ্রেষ্ঠ অভিনেতা- জগৎ সিংহ
শ্রেষ্ঠ দ্বিতীয় অভিনেত্রী- সুস্মিতা দাস।

উল্লেখ্য, ১৯৯৮ সালে কিছু নাট্য প্রেমী মানুষ ছোট্ট শহর বুনিয়াদপুরে স্থাপিত করে বুনিয়াদপুর আরণী নাট্য সংস্থা, এর পরে টাঙ্গন দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে বহু স্রোত। দীর্ঘ প্রচেষ্টায় আরণী নাট্য সংস্থা অর্জন করেছে নানান পুরস্কার। দেশ থেকে বিদেশে মাটিতেও পরিবেশন করেছে নাটক। কুড়িয়েছে বহু নাট্য প্রেমীদের ভালোবাসা। আর রায়গঞ্জ দিপালী উৎসব ২০২৫ এ শ্রেষ্ঠত্বের পুরস্কার আর এক নতুন পালকের সংযোজন হলো আরণী নাট্য সংস্থার মুকুটে। আবার রাজ্যের দরবারে নাম উজ্জ্বল হল বুনিয়াদপুরের।

Share This
Categories
বিবিধ

আতশবাজি, পতাকা আর উচ্ছ্বাস— ভারতের জয়ে কোলাঘাটে উৎসবের রেশ।

পূর্ব মেদিনীপুর, নিজস্ব সংবাদদাতাঃ- বহুপ প্রতীক্ষার পর অবশেষে মাঝরাতে বিশ্বকাপ ছিনিয়ে নিলো ভারতের মহিলা ক্রিকেটাররা, আর এই খবর ছড়িয়ে পড়তে যথেষ্ট উচ্ছ্বাসিত হয়ে পড়ে গোটা ভারতবাসী, সারা দেশের পাশাপাশি রাতভর উচ্ছ্বাসিত হয় কোলাঘাটের মানুষজন, ইতিমধ্যেই এই জয়ের পরে সোশ্যাল মিডিয়ায় শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, শুভেচ্ছা জানিয়েছেন উচ্চপদস্থ প্রশাসনিক ব্যক্তিবর্গ। আতশ বাজি এবং জাতীয় পতাকা নিয়ে কার্যত উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা দিয়েছে কোলাঘাটে। সকাল থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভারতের মহিলা ক্রিকেটারদের মুহুর্তের ছবি পোস্ট করে শুভেচ্ছা জানিয়েছে ক্রিকেটপ্রেমীরা।

Share This
Categories
বিবিধ

বীরভূমে স্বাস্থ্যকর্মীর ওপর হামলার প্রতিবাদে দক্ষিণ দিনাজপুরে ডেপুটেশন জমা স্বাস্থ্যকর্মীদের।

দক্ষিণ দিনাজপুর, নিজস্ব সংবাদদাতাঃ- বীরভূম জেলার মোহাম্মদ বাজারের কাইজুলি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে স্বাস্থ্যকর্মীর ওপর হামলা ও তাকে ধর্ষণের চেষ্টা আর ঘটনায় রাজ্য জুড়ে ক্ষোভ ছড়িয়েছে। সেই ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার জেলাশাসক এবং মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক এর কাছে ডেপুটেশন জমা দিল স্বাস্থ্য কর্মীরা। আশা কর্মী ও স্বাস্থ্যকর্মী এদিন মিছিল করে এসে প্রথম জেলাশাসক এবং পরে মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক এর কাছে ডেপুটিশন জমা দেয়। জানা গেছে ওই স্বাস্থ্যকর্মীর উপর আক্রমণের ঘটনায় ধর্ষণের চেষ্টা ও খুনের চেষ্টা অভিযোগ দায়ের হয়েছে। আহত স্বাস্থ্যকর্মীর ২২ টি সেলাই পড়েছে বলে জানা যায়। স্বাস্থ্য কর্মীরা জানিয়েছেন আজ তারা কোন সংগঠনের পক্ষ থেকে নয় দলমত নির্বিশেষে একত্রিত হয়ে বীরভূমের ঘটনার প্রতিবাদে এই ডেপুটেশন জমা দিলেন। স্বাস্থ্যকর্মীদের পক্ষ থেকে নমিতা মহন্ত বলেন বীরভূমের মোহাম্মদ বাজারে কাইজুলি স্বাস্থ্য কেন্দ্রের স্বাস্থ্যকর্মীর ওপর আক্রমণের প্রতিবাদে আজ আমরা এই ডেপুটেশন জমা দিলাম। ওই স্বাস্থ্যকর্মীর ওপর ধর্ষণের চেষ্টা ও তাকে খুন করার চেষ্টা করা হয়েছে। আহত ওই স্বাস্থ্যকর্মীর ২২ টি সেলাইও পড়েছে। দিনের পর দিন যেভাবে এই রাজ্যে নারী নির্যাতনের সংখ্যা বেড়ে চলেছে প্রথম আমরা ঘটনা দেখলাম তারপরে দুর্গাপুর থেকে শুরু করে বিভিন্ন জায়গায় নারী নির্যাতনের সংখ্যা বেড়েই চলেছে তাই আমরা স্বাস্থ্যকর্মীরা একত্রিত হয়ে মোহাম্মদ বাজারের ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে এই ডেপোজিশন জমা দিলাম।

Share This
Categories
বিবিধ

বয়স নয়, ইচ্ছে-ই বড়—‘চা উইথ টা’-য় আশির কোঠায় কিরণ শঙ্কর ঘোষের নবজীবনের গল্প।

নিজস্ব সংবাদদাতা, বালুরঘাট:- বার্ধক্যে পৌঁছালে অনেকে যখন বিশ্রামের পথে হাঁটেন, তখন বালুরঘাটের বিশ্বাসপাড়ার আশি বছর বয়সি কিরণ শঙ্কর ঘোষ যেন জীবনের নতুন অধ্যায় লিখে চলেছেন। তাঁর সঙ্গী এখন এক কাপ গরম চা, কফি আর মানুষের গল্প। ‘চা উইথ টা’—নামেই যেমন মিষ্টতা, তেমনি এর আবহেও মিশে আছে ভালোবাসা, উষ্ণতা আর নতুন করে বাঁচার প্রেরণা। দোকানের এক কোণে লেখা—“It is always tea and coffee time.” যেন এই বার্তাই প্রতিদিন মনে করিয়ে দেয়, জীবন কখনও থেমে থাকে না।
দু’দেড় মাস আগে খোলা ছোট্ট এই খাবারঘর এখন বিশ্বাসপাড়ার চেনা আড্ডাস্থল। চা, কফি, স্ন্যাকস, হালকা খাবারের সুবাসে ম-ম করছে দোকানটি। তবে শুধু ব্যবসা নয়—এই জায়গা যেন এক বৃদ্ধ মানুষের একাকীত্বের বিরুদ্ধে ভালোবাসার লড়াই।
কিরণবাবুর জীবনের পথ ছিল কণ্টকময়। একসময় পাড়ার ফুটপাথে সবজি বিক্রি করে সংসার চালিয়েছেন তিনি। পরিশ্রম, ধৈর্য আর নিঃশব্দ সংগ্রামেই এগিয়েছিলেন জীবনপথে। কিন্তু কিছু বছর আগে স্ত্রীর মৃত্যুতে যেন থেমে গিয়েছিল সবকিছু। চার সন্তানের মধ্যে এক কন্যা প্রয়াত। একমাত্র পুত্র সত্যজিৎ ঘোষ রাজ্য সরকারি স্কুলের শিক্ষক, পুত্রবধূ স্বাতি সরকার ঘোষও বালুরঘাটের এক সরকারি স্কুলে পড়ান।
স্বাতির চিন্তাতেই জন্ম ‘চা উইথ টা’র। শ্বশুর যেন আবার হাসি ফিরে পান, সেই ভাবনাই তাঁকে এই পদক্ষেপে অনুপ্রাণিত করেছিল। দীর্ঘদিন কিরণবাবুর দিনের আনন্দের কেন্দ্র ছিল নাতি—যাকে স্কুল, টিউশন, নানা কাজে পৌঁছে দিতেন তিনি। কিন্তু নাতি যখন উচ্চশিক্ষার জন্য কল্যাণীতে চলে গেল, তখন নিঃসঙ্গতা তাঁর নিত্যসঙ্গী হয়ে উঠেছিল।
সেই শূন্য বিকেলগুলো আজ আবার রঙিন। দোকানের কাউন্টারের পেছনে বসে থাকা এক আশি বছরের মানুষকে দেখলে বোঝা যায়, জীবনের প্রতি তাঁর ভালোবাসা এখনও অটুট। প্রতিবেশীরা, পুরোনো বন্ধুরা, নতুন মুখ—সবাই এসে চায়ের কাপে গল্পের সুর তোলে। কারও জন্মদিনের ছোট আয়োজন, কারও পারিবারিক আড্ডা—সব মিলিয়ে ‘চা উইথ টা’ আজ শুধু একটি খাবারঘর নয়, একটি অনুভূতির নাম।
একসময় যে বাড়ি নিঃস্তব্ধ ছিল, আজ সেখানে প্রতিদিন চায়ের কাপের টুংটাং আওয়াজে ভরে ওঠে জীবন। কিরণ শঙ্কর ঘোষের এই উদ্যোগ যেন এক নীরব বার্তা—বয়স কখনও বাঁধা নয়, ইচ্ছে থাকলে প্রতিদিনই নতুন করে শুরু করা যায়।
এক কাপ চা, একটু হাসি, আর কিছু ভালোবাসা—এই তিনেই যেন আশি বছরের কিরণ শঙ্কর ঘোষ আবার খুঁজে পেয়েছেন জীবনের মানে।

Share This
Categories
বিবিধ

বিশেষ অতিথি ডক্টর চন্দ্রচূড় গোস্বামী: “লৌহ পুরুষ প্যাটেলের আদর্শে দেশপ্রেমের সুশক্ত শিক্ষা”।

সব খবর, নিজস্ব সংবাদদাতাঃ- ভারতের লৌহ পুরুষ সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের একশপঞ্চাশতম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে দেশের যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় অধিনস্ত “মেরা যুব ভারত” সংস্থার মাধ্যমে দেশজুড়ে একটি ঐতিহাসিক ঐক্য পদযাত্রা আয়োজিত হতে চলেছে । ২০১৪ সালের ৩১ অক্টোবর থেকে সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের জন্মদিনটি জাতীয় একতা দিবস হিসেবে উজ্জাপিত হওয়া শুরু হলেও এই বছর রাজ্য ও জাতীয় স্তরে দুটি পর্যায়ে আলাদা ভাবে ঐক্য পদযাত্রাটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে বলে ঘোষণা করেছেন ভারতের ক্রীড়ামন্ত্রী ডক্টর মনসুখ মান্ডাভিয়া । তিনি বলেন দেশের ঐক্য ও অখন্ডতা সুনিশ্চিত করতে ও তরুণ প্রজন্মের মনে দেশপ্রেম জাগিয়ে তুলতে অবশ্যই আমাদের সর্দার প্যাটেলের চারিত্রিক দৃঢ়তা দ্বারা অনুপ্রাণিত হওয়া উচিত । এই সংস্থার পশ্চিমবঙ্গ এবং আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের ডিরেক্টর অশোক সাহা বলেন সমগ্র রাজ্যের প্রতিটি জেলায় Sardar@150 উদযাপন করার পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়ায় অভিনব রিল প্রতিযোগিতা এবং প্রবন্ধ লেখার প্রতিযোগিতাকে অনুষ্ঠানের কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে । এই কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী ১৫০ জন সফল প্রতিযোগী সরাসরি জাতীয় পদযাত্রায় অংশগ্রহণ করার সুযোগ পাবেন । এই সমস্ত নিবন্ধন এবং কার্যক্রম দেশজুড়ে MY Bharat পোর্টালের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে । আজকের প্রেসমিট অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অখিলভারত হিন্দুমহাসভার পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশের রাজ্য সভাপতি ডক্টর চন্দ্রচূড় গোস্বামী । চন্দ্রচূড় বাবুর কথায় স্বাধীনতার প্রাক্কালে আমাদের দেশ প্রায় ৫৬৫ টি খন্ডে বিভক্ত ছিল, ফলে আজ আমরা গর্ব করে ভারত রাষ্ট্রের যে অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্বের কথা বলছি তার অস্তিত্বই থাকতো না যদিনা লৌহ পুরুষ সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল এই দেশে আবির্ভূত হতেন । আজও আমাদের সমাজে যখন কেউ দেশপ্রেমকে নিয়ে বিদ্রুপ করে বা ভারতীয় সেনা জওয়ানদের বিরোধিতা করে “কিসের ভারত”, “হমে চাহিয়ে আজাদী” বা “ভারত তেরে টুকরে হোঙ্গের” মত দেশ বিরোধী স্লোগান দেয় তখন বুঝতে হবে জিন্নাদের ডি.এন.এ. বহনকারী এইসব দেশের শত্রুরা আজও ঘুণপোকার মত দেশের ক্ষতি করে চলেছে । বিদেশি শত্রু রাষ্ট্রের কাছে আর্থিক ভাবে বিক্রি হয়ে যাওয়া এই দেশদ্রোহী সন্ত্রাসীদের প্রভাব থেকে তরুণ প্রজন্মকে যদি রক্ষা করতে হয় তাহলে অবশ্যই আমাদেরকে সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের আদর্শে অনুপ্রাণিত হতে হবে । অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত সমাজসেবী যশবন্ত সিং বলেন মেরা যুব ভারত সংগঠনের সাথে যুক্ত ইউথ ক্লাব গুলোকে যতটা বেশি সম্ভব যুক্ত করে এই কর্মসূচিকে সাফল্য মন্ডিত করার উদ্যোগ আমাদের সবাইকে নিতে হবে । হিন্দু মহাসভার অফিস সেক্রেটারি অনামিকা মন্ডল বলেন সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের আদর্শ সমগ্র দেশজুড়ে প্রচারের জন্য মেরা যুব ভারত সংস্থা যে অভাবনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করেছে তাকে আমরা আন্তরিকভাবে কুর্নিশ জানাচ্ছি । আমাদের বিখ্যাত সামাজিক প্রতিষ্ঠান “সনাতন ভারত” এই সংস্থার সাথে যুক্ত, ফলে “মেরা যুব ভারত” এবং সনাতন ভারতের যৌথ উদ্যোগে এই রকম একাধিক ঐতিহাসিক কর্মসূচিতে যুক্ত থাকার অভিজ্ঞতা আমার রয়েছে । আজকের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার জন্য অনামিকা মন্ডল হিন্দুমহাসভার রাজ্য সভাপতি ডক্টর চন্দ্রচূড় গোস্বামী এবং “মেরা যুব ভারত” সংস্থার পশ্চিমবঙ্গ এবং আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের ডিরেক্টর শ্রী অশোক সাহাকে বিশেষ ভাবে ধন্যবাদ জানালেন ।

Share This
Categories
বিবিধ

“ভারত অতিথি আপ্যায়ন জানে, কিন্তু অনুপ্রবেশ নয়”— সোশ্যাল মিডিয়ায় কড়া বার্তা শ্রীরূপা মিত্র চৌধুরীর।

মালদা, নিজস্ব সংবাদদাতাঃ— তৃণমূল কংগ্রেসের মন্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিনের মন্তব্যকে ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানালেন বিজেপির বিধায়িকা শ্রীরূপা মিত্র চৌধুরী।

তিনি পোস্টে লেখেন, “মন্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন বলছেন মোথাবাড়ি তথা গোটা পশ্চিমবঙ্গকে লণ্ডভণ্ড করে দেওয়ার কথা! আপনার এই আগ্রাসী মনোভাব আজ দেখল গোটা রাজ্যবাসী।”

একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য নিয়েও প্রশ্ন তোলেন শ্রীরূপা দেবী। তিনি লেখেন, “মুখ্যমন্ত্রী বলছেন S.I.R.-এ ভোটার লিস্ট থেকে নাম বাদ গেলে দেখে নেবেন, কিন্তু কাদের নাম বাদ যাবে? যারা অনুপ্রবেশকারী, তাদের নামই তো বাদ যাবে।”

বিজেপি বিধায়িকা আরও বলেন, “ভারতবর্ষ অতিথি আপ্যায়ন করতে জানে, কিন্তু তার মানে এই নয় যে কেউ অনুপ্রবেশ করে সন্ত্রাস চালাবে, আমরা সেটা মেনে নেব না। মুখ্যমন্ত্রীর অনুপ্রেরণায় মন্ত্রীর এই বক্তব্য প্রমাণ করে, মুসলিম ভোটব্যাঙ্ক রক্ষায় তাঁরা কতটা মরিয়া।”

তিনি শেষ করেন সতর্কবার্তা দিয়ে— “পশ্চিমবঙ্গের এই মাটি বিপ্লবের মাটি। রাজ্যবাসী এই ধরনের আগ্রাসী মনোভাব কখনওই মেনে নেবে না।”

Share This
Categories
বিবিধ

ভ্রমণকাহিনি: ঐতিহ্যের প্রতীক চারমিনার।

ভ্রমণকাহিনি: ঐতিহ্যের প্রতীক চারমিনার
(Charminar, Hyderabad, Telangana)

দক্ষিণ ভারতের তেলেঙ্গানার রাজধানী হায়দরাবাদ — এক শহর, যেখানে ইতিহাস, সংস্কৃতি, রাজকীয় আভিজাত্য এবং আধুনিকতার মেলবন্ধন দেখা যায় অনন্যভাবে। আর এই শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত এক স্থাপত্যের বিস্ময় — চারমিনার। এটি কেবল হায়দরাবাদের প্রতীক নয়, ভারতের স্থাপত্য ঐতিহ্যের এক অবিচ্ছেদ্য অংশও বটে।


🕌 ইতিহাসের পাতায় চারমিনার

১৫৯১ খ্রিস্টাব্দে কুতুব শাহী রাজবংশের শাসক মহম্মদ কুলি কুতুব শাহ চারমিনার নির্মাণ করেন। কিংবদন্তি আছে, এক মারাত্মক মহামারী (সম্ভবত প্লেগ) থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য ঈশ্বরের প্রতি কৃতজ্ঞতা স্বরূপ রাজা এই অসাধারণ স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করেছিলেন।
“চারমিনার” শব্দের অর্থই হলো — চারটি মিনার, যা এর গঠনশৈলীর মূল বৈশিষ্ট্য।


🏛️ স্থাপত্যের অনন্য রূপ

চারমিনারের প্রতিটি দিকেই একটি করে উঁচু মিনার রয়েছে, যার উচ্চতা প্রায় ৫৬ মিটার। এগুলি সূক্ষ্ম ইসলামিক এবং ইন্দো-সারাসেনিক নকশায় নির্মিত, আর উপরের গম্বুজগুলিতে রয়েছে ফুলের নকশা ও কারুকাজ।

স্থাপনাটি সম্পূর্ণভাবে চুন, বালি ও গ্রানাইট পাথর দিয়ে তৈরি, এবং এর চারপাশের খিলানগুলো সূক্ষ্ম গাণিতিক সমতা ও সৌন্দর্যের প্রতীক। অভ্যন্তরে সরু পাকানো সিঁড়ি বেয়ে উপরে ওঠা যায়, যেখান থেকে হায়দরাবাদের পুরনো শহরের দৃশ্য চোখে পড়ে অপূর্বভাবে।


🌆 চারমিনারের চারপাশে জীবন্ত ইতিহাস

চারমিনার ঘিরে থাকা লাাড বাজার (Laad Bazaar) একেবারেই আলাদা অভিজ্ঞতা দেয়। এটি বিখ্যাত চুড়ি বাজার, যেখানে হাজারো রঙিন কাঁচের চুড়ি, মুক্তার অলংকার ও হায়দরাবাদী আতর বিক্রি হয়। বাজারের ঘ্রাণ, রঙ এবং হইচই— সবই যেন এক জীবন্ত সংস্কৃতি উৎসব।

চারমিনারের কাছেই অবস্থিত মক্কা মসজিদ, যা ভারতের অন্যতম বৃহৎ মসজিদ। এর ভেতরে প্রায় দশ হাজার মানুষ একসঙ্গে নামাজ পড়তে পারেন।


🍛 হায়দরাবাদের স্বাদ

চারমিনারের আশেপাশের রাস্তায় ভেসে আসে হায়দরাবাদি বিরিয়ানির সুবাস। এখানে এসে নেহারি, হালিম, হায়দরাবাদি চা, ওস্মানিয়া বিস্কুট না খেলে যেন ভ্রমণ অসম্পূর্ণ থেকে যায়। সন্ধ্যায় চারমিনারের গম্বুজগুলিতে আলোকসজ্জা হলে, তার সামনে বসে এক কাপ ইরানি চা হাতে শহরের ছন্দ উপভোগ করাই প্রকৃত আনন্দ।


🕰️ যাওয়ার সেরা সময়

অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময়টি হায়দরাবাদ ঘোরার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত। তখন আবহাওয়া মনোরম থাকে, আর উৎসবের মৌসুমে চারমিনারের আশেপাশে একেবারে মেলার আবহ তৈরি হয়।


🚗 কীভাবে পৌঁছাবেন

  • বিমানপথে: রাজীব গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (Shamshabad) থেকে চারমিনার প্রায় ২০ কিমি দূরে।
  • রেলপথে: হায়দরাবাদ দেকান স্টেশন শহরের সঙ্গে সংযুক্ত।
  • সড়কপথে: শহরের যেকোনো প্রান্ত থেকে ট্যাক্সি, অটো বা বাসে সহজেই পৌঁছানো যায়।

🌙 শেষকথা

চারমিনার শুধু একটি স্থাপনা নয় — এটি ইতিহাসের নিঃশব্দ সাক্ষী, প্রেমের প্রতীক, ধর্মীয় সম্প্রীতির বার্তা এবং হায়দরাবাদের আত্মা। চারটি মিনার যেন চারটি যুগের প্রতীক, যা আজও দাঁড়িয়ে আছে তার রাজকীয় গরিমা নিয়ে।

চারমিনারের নিচে দাঁড়িয়ে যখন আকাশের দিকে তাকাবেন, মনে হবে ইতিহাস যেন এখনো শ্বাস নিচ্ছে, প্রতিটি খিলানের ফাঁকে লুকিয়ে আছে শতাব্দীর গল্প।

Share This
Categories
প্রবন্ধ বিবিধ

পুরুলিয়া ভ্রমণ: অযোধ্যা পাহাড়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও অ্যাডভেঞ্চার।।

পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়া জেলা তার অনন্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, পাহাড়ি এলাকা এবং অ্যাডভেঞ্চার প্রেমীদের জন্য পরিচিত। এ জেলার অন্যতম আকর্ষণ অযোধ্যা পাহাড়। হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত এই পাহাড়ি অঞ্চল প্রকৃতি ও অভিযাত্রীদের জন্য এক স্বর্গীয় স্থান। সবুজ পাহাড়, ঝরনা, নদী এবং শান্ত পরিবেশ মিলিয়ে এটি ভ্রমণকারীদের জন্য এক অনন্য অভিজ্ঞতা প্রদান করে।


অযোধ্যা পাহাড়ের পরিচিতি

অযোধ্যা পাহাড় তার চমৎকার সবুজ পাহাড়ি দৃশ্য, পাহাড়ি ঝরনা এবং শান্ত পরিবেশের জন্য খ্যাত। এটি প্রধানত ট্রেকিং, রক ক্লাইম্বিং এবং প্রকৃতি দর্শনের জন্য উপযুক্ত। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পাহাড়ের শীতল বাতাস এখানে ভ্রমণকারীদের মনে শান্তি ও আনন্দ দেয়।


দর্শনীয় স্থানসমূহ

  1. কংসাবতী নদী – পাহাড়ের কোলে বয়ে যাওয়া নদী যা নৌকা ভ্রমণ ও নদীর ধারে পিকনিকের জন্য আকর্ষণীয়।
  2. বাঘমুন্ডি জলপ্রপাত – পাহাড়ি ঝরনার স্বচ্ছ জল, ঝর্ণার পাশ দিয়ে হাঁটা এবং প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগ করার জন্য উপযুক্ত।
  3. মায়াবিনী পাহাড় – পাহাড়ের শীর্ষ থেকে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখা যায়। পাহাড়ি ট্রেকিং এবং ফটোগ্রাফির জন্য আদর্শ।
  4. রক ক্লাইম্বিং ও ট্রেকিং – পাহাড়ের প্রাকৃতিক প্রলেপযুক্ত পাথর ও বিভিন্ন চূড়া অভিযাত্রীদের জন্য উত্তেজনাপূর্ণ।

ভ্রমণকারীর জন্য আকর্ষণ

  • প্রকৃতি দর্শন – সবুজ পাহাড়, নদী, ঝরনা এবং বনভূমির দৃশ্য।
  • অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টস – ট্রেকিং, হাইকিং, রক ক্লাইম্বিং।
  • ফটোগ্রাফি – পাহাড়ি প্রকৃতি ও ঝর্ণার দৃশ্য ধারণ করা।
  • নিরিবিলি প্রাকৃতিক পরিবেশ – শহরের ভিড় থেকে দূরে, শান্তিতে প্রকৃতির সঙ্গে মিলিত হওয়া।

সেরা ভ্রমণের সময়

  • শীতকাল (অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারি) – আবহাওয়া শীতল ও মনোরম।
  • বর্ষাকাল (জুন থেকে সেপ্টেম্বর) – সবুজ পাহাড় ও ঝরনার সৌন্দর্য আরও বৃদ্ধি পায়, তবে ভিজে পরিবেশ থাকতে পারে।

কীভাবে পৌঁছাবেন

  • রাস্তা – পুরুলিয়া জেলা সদর থেকে স্থানীয় সড়ক ধরে অযোধ্যা পাহাড় সহজেই পৌঁছানো যায়।
  • ট্রেন বা বাস – ঝাড়গ্রাম, বিন্ধ্যসাগর বা পুরুলিয়ার কাছাকাছি রেলওয়ে স্টেশন থেকে ট্যাক্সি বা বাসে পৌঁছানো সম্ভব।

উপসংহার

অযোধ্যা পাহাড় শুধুমাত্র একটি পাহাড়ি স্থান নয়, এটি প্রকৃতি ও অ্যাডভেঞ্চারের মিলনস্থল। কংসাবতী নদী, বাঘমুন্ডি জলপ্রপাত, সবুজ পাহাড় এবং ট্রেকিং পথ—সবকিছু মিলিয়ে এই স্থান ভ্রমণকারীর মনে এক অনন্য অভিজ্ঞতা তৈরি করে। যারা প্রকৃতি, শান্তি এবং অ্যাডভেঞ্চার একসাথে খুঁজছেন, তাদের জন্য পুরুলিয়ার অযোধ্যা পাহাড় নিঃসন্দেহে এক স্বর্গীয় গন্তব্য। 🌄🌿🗻

Share This