Categories
বিবিধ

মালদার বামনগোলায় ১৮ হাত বিশিষ্ট মহালক্ষ্মীর পুজো, ২৬ বছর ধরে চলছে অনন্য ঐতিহ্য।

নিজস্ব সংবাদদাতা, মালদা—- দশভুজা মানে আমরা জানি মা দুর্গা। আপনারা কি জানেন মা লক্ষ্মীর হাতেও অস্ত্র থাকে ? এই মা লক্ষ্মীর দু’টি কিংবা চারটি হাতে নয়, ১৮টি হাত রয়েছে । মালদহের বামনগোলায় ব্লকের জগদল্লা গ্রাম পঞ্চায়েতের সারদা তীর্থ আশ্রমে, ১৮ হাতের মহালক্ষ্মী পূজিত হন।শ্রী শ্রী সারদা তীর্থ আশ্রমে ২৬ বছর ধরে মহা শক্তি রূপে পুজো করা হয় মা লক্ষ্মীকে।এই লক্ষ্মী প্রতিমার দুই পুজিত হয়, রাতে কোজাগরী ও লক্ষ্মী রূপে পূজিত হবেন দেবী লক্ষ্মী।দীর্ঘ ২৬ বছর ধরে প্রাচীন নিয়ম নিষ্ঠার সঙ্গে কোজাগরী পূর্ণিমা তিথিতে ১৮ হাত বিশিষ্ট দেবী লক্ষ্মীর প্রতিমা পূজিত হয়ে আসছেন বামনগোলা ব্লকের গাঙ্গুরিয়া সারদা তীর্থ আশ্রমে। সোমবার সকাল থেকেই ওই আশ্রমে মহালক্ষ্মী রূপে এবং রাতে কোজাগরী লক্ষ্মী রূপে পূজিত হবেন দেবী লক্ষ্মী।

সংশ্লিষ্ট আশ্রমের স্বামী আত্মাপ্রেনান্দ মহারাজ জানান, ১৯৯৮ সালে এই আশ্রমটির প্রতিষ্ঠা করা হয়।তার পরে থেকে ১৯৯৯ সাল থেকে তিনি ১৮ হাত বিশিষ্ট মহালক্ষ্মী পুজোর সূচনা করেন। তবে দেবী এখানে, সকালে এক রূপে, ও রাতে একরূপে পূজিত হয়ে আসছে সেই থেকেই।এখানে দেবীর এক হাতে থাকে চক্র এবং অন্যান্য হাতে থাকে ত্রিশূল, গদা, তীর-ধনুক, বজ্র্য, কুঠার, পদ্ম, শঙ্খ-সহ অন্যান্য অস্ত্র। অসুরদের বধ করার জন্যই নাকি তাঁর এই রূপ। পুজোর আচারেও আছে ভিন্নতা। কোজাগরী পূর্ণিমার রাতে ১৬ রকম উপাচারের মাধ্যমে পূজিত হন তিনি। পুজোর দিন সকালে বস্ত্র, আলতা, কাজল, চিরুনি, ধুপচি এবং অন্যান্য জিনিস দিয়ে মাকে পুজো করা হয়। ১০৮টি বেল পাতা অর্পণ করা হয় যজ্ঞে।ভোগে থাকে ৫ রকমের ভাজা, তিন রকমের তরকারি, ডাল এবং মিষ্টি। রাতে এখানে চিত্রপটে মহালক্ষ্মীকে পুজো করা হয়। এই পুজো দেখার জন্য বিভিন্ন দূর-দূরান্ত থেকে ভক্তদের ঢল নামে। এদিন কোজাগরী লক্ষ্মী পূর্ণিমা। এই পূর্ণিমার তিথিতে দেবীর সকালে মহালক্ষ্মী রূপে পূজিত হয়েছে। রাতে কোজাগরের লক্ষ্মী রূপে তিনি পূজিত হবেন। এই পুজো গোটা পশ্চিমবাংলার মধ্যে একমাত্র মালদার বামনগোলা ব্লকের গাংগুরিয়া আশ্রমে ১৮ হাত যুক্ত মহালক্ষ্মী পুজো হয়ে থাকে।আশ্রম কর্তাদের বক্তব্য, দেবী এখানে লক্ষ্মী, মা দুর্গা, চণ্ডী রুপী সহ বিভিন্ন ভাবে পূজিত হয়ে থাকেন। তাই কাল্পনিক চিন্তাধারায় দেবীকে এখানে ১৮ হাত বিশিষ্ট হিসাবে পুজা করা হয়। লক্ষ্মী পুজার পর ভক্তদের মধ্যে প্রসাদ বিতরণের আয়োজন করা হয়ে থাকে।

Share This
Categories
প্রবন্ধ বিবিধ

পুরুলিয়া ভ্রমণ: অযোধ্যা পাহাড়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও অ্যাডভেঞ্চার।।

পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়া জেলা তার অনন্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, পাহাড়ি এলাকা এবং অ্যাডভেঞ্চার প্রেমীদের জন্য পরিচিত। এ জেলার অন্যতম আকর্ষণ অযোধ্যা পাহাড়। হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত এই পাহাড়ি অঞ্চল প্রকৃতি ও অভিযাত্রীদের জন্য এক স্বর্গীয় স্থান। সবুজ পাহাড়, ঝরনা, নদী এবং শান্ত পরিবেশ মিলিয়ে এটি ভ্রমণকারীদের জন্য এক অনন্য অভিজ্ঞতা প্রদান করে।


অযোধ্যা পাহাড়ের পরিচিতি

অযোধ্যা পাহাড় তার চমৎকার সবুজ পাহাড়ি দৃশ্য, পাহাড়ি ঝরনা এবং শান্ত পরিবেশের জন্য খ্যাত। এটি প্রধানত ট্রেকিং, রক ক্লাইম্বিং এবং প্রকৃতি দর্শনের জন্য উপযুক্ত। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পাহাড়ের শীতল বাতাস এখানে ভ্রমণকারীদের মনে শান্তি ও আনন্দ দেয়।


দর্শনীয় স্থানসমূহ

  1. কংসাবতী নদী – পাহাড়ের কোলে বয়ে যাওয়া নদী যা নৌকা ভ্রমণ ও নদীর ধারে পিকনিকের জন্য আকর্ষণীয়।
  2. বাঘমুন্ডি জলপ্রপাত – পাহাড়ি ঝরনার স্বচ্ছ জল, ঝর্ণার পাশ দিয়ে হাঁটা এবং প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগ করার জন্য উপযুক্ত।
  3. মায়াবিনী পাহাড় – পাহাড়ের শীর্ষ থেকে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখা যায়। পাহাড়ি ট্রেকিং এবং ফটোগ্রাফির জন্য আদর্শ।
  4. রক ক্লাইম্বিং ও ট্রেকিং – পাহাড়ের প্রাকৃতিক প্রলেপযুক্ত পাথর ও বিভিন্ন চূড়া অভিযাত্রীদের জন্য উত্তেজনাপূর্ণ।

ভ্রমণকারীর জন্য আকর্ষণ

  • প্রকৃতি দর্শন – সবুজ পাহাড়, নদী, ঝরনা এবং বনভূমির দৃশ্য।
  • অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টস – ট্রেকিং, হাইকিং, রক ক্লাইম্বিং।
  • ফটোগ্রাফি – পাহাড়ি প্রকৃতি ও ঝর্ণার দৃশ্য ধারণ করা।
  • নিরিবিলি প্রাকৃতিক পরিবেশ – শহরের ভিড় থেকে দূরে, শান্তিতে প্রকৃতির সঙ্গে মিলিত হওয়া।

সেরা ভ্রমণের সময়

  • শীতকাল (অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারি) – আবহাওয়া শীতল ও মনোরম।
  • বর্ষাকাল (জুন থেকে সেপ্টেম্বর) – সবুজ পাহাড় ও ঝরনার সৌন্দর্য আরও বৃদ্ধি পায়, তবে ভিজে পরিবেশ থাকতে পারে।

কীভাবে পৌঁছাবেন

  • রাস্তা – পুরুলিয়া জেলা সদর থেকে স্থানীয় সড়ক ধরে অযোধ্যা পাহাড় সহজেই পৌঁছানো যায়।
  • ট্রেন বা বাস – ঝাড়গ্রাম, বিন্ধ্যসাগর বা পুরুলিয়ার কাছাকাছি রেলওয়ে স্টেশন থেকে ট্যাক্সি বা বাসে পৌঁছানো সম্ভব।

উপসংহার

অযোধ্যা পাহাড় শুধুমাত্র একটি পাহাড়ি স্থান নয়, এটি প্রকৃতি ও অ্যাডভেঞ্চারের মিলনস্থল। কংসাবতী নদী, বাঘমুন্ডি জলপ্রপাত, সবুজ পাহাড় এবং ট্রেকিং পথ—সবকিছু মিলিয়ে এই স্থান ভ্রমণকারীর মনে এক অনন্য অভিজ্ঞতা তৈরি করে। যারা প্রকৃতি, শান্তি এবং অ্যাডভেঞ্চার একসাথে খুঁজছেন, তাদের জন্য পুরুলিয়ার অযোধ্যা পাহাড় নিঃসন্দেহে এক স্বর্গীয় গন্তব্য। 🌄🌿🗻

Share This
Categories
বিবিধ

২৮ বছরে মালদার দশেরা উৎসব, দুর্যোগ উপেক্ষা করে হাজারো মানুষের ভিড়।

মালদা, নিজস্ব সংবাদদাতাঃ – মালদায় অনুষ্ঠিত হলো দশেরার।মালদা জেলা ক্রীড়া সংস্থার স্টেডিয়ামে বিকেল থেকেই দর্শনার্থীদের ভিড় উপচে পড়তে থাকে দশেরা উৎসব দেখতে। অশুভ শক্তির প্রতীক রাবণ বধের সাক্ষী হলেন কয়েক হাজার মানুষ। রাম রূপে জীতেন্দ্র জৈন এবং লক্ষণ রূপে শোভন সাহা। রাম লক্ষণ রাবণকে বধ করেন। রাবণ বধের পাশাপাশি ছিল আতশবাজির প্রদর্শনী। দীর্ঘ সময় ধরে চলে রঙিন রকমারি বাজির প্রদর্শনী। প্রাকৃতিক দুর্যোগকে উপেক্ষা করে বিকাল থেকেই বহু মানুষ এসে হাজির হন স্টেডিয়ামে। মালদা দশেরার উদ্যোক্তা ইংরেজবাজার পুরসভার পুরপ্রধান কৃষ্ণেন্দু নারায়ন চৌধুরী। কালিতলা ক্লাবের উদ্যোগে এবার মালদার দশেরা উৎসব ২৮ বছরে পড়ল।

Share This
Categories
বিবিধ

১৭ লক্ষ টাকায় নির্মিত অটোমেটিক হাইড্রোলিক মেশিনে হবে প্রতিমা নিরঞ্জন, স্বস্তিতে পৌরবাসী।

দঃ দিনাজপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা : – বুনিয়াদপুর পৌরবাসীর বহুদিনের চাহিদা পূরণ, বুনিয়াদপুর পৌরসভার উদ্যোগে টাঙ্গন নদীর ঘাটে বিদ্যুৎ চালিত অটোমেটিক প্রতিমা নিরঞ্জনের হাইড্রোলিক মেশিনের শুভ উদ্বোধন হলো মহা নবমীর দিনে। হাইড্রোলিক মেশিনের শুভ উদ্বোধন করেন রাজ্যের ক্রেতা সুরক্ষা দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী তথা হরিরামপুর বিধানসভার বিধায়ক বিপ্লব মিত্র। বুধবার দুপুরে নারিকেল ফাটিয়ে এবং ফিতে কেটে এই মেশিনের শুভ উদ্বোধন করা হয়।

বেশ কয়েক বছর যাবত বুনিয়াদপুর পৌরসভার উদ্যোগে ৯ নাম্বার ওয়ার্ড-এ টাঙ্গন নদীর ঘাটে প্রতিমা নিরঞ্জনের ব্যবস্থা করা হয়ে আসছে,তবে এতদিন প্রতিমা নিরঞ্জন করা হতো মানুষের সাহায্যে। বুনিয়াদপুর পৌরসভার পৌর প্রশাসক কমল সরকার ও উপ পৌর প্রশাসক জয়ন্ত কুন্ডুর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় আনুমানিক ১৭ লক্ষ টাকা ব্যয়ে বিদ্যুৎ চালিত অটোমেটিক প্রতিমা নিরঞ্জনের হাইড্রোলিক মেশিনের শুভ সূচনা হল এদিন। এর ফলে মানুষের সাহায্য ছাড়াই মেশিনের মাধ্যমে প্রতিমা নিরঞ্জন করা যাবে খুব সহজেই।

এদিনের এই অনুষ্ঠানের উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী বিপ্লব মিত্র, বুনিয়াদপুর পৌরসভার পৌর প্রশাসক কমল সরকার, উপ পৌর প্রশাসক জয়ন্ত কুন্ডু, বিশিষ্ট সমাজসেবী শার্দুল মিত্র, বুনিয়াদপুর পৌরসভার আধিকারিকগণ সহ অগণিত পৌরবাসী।

Share This
Categories
বিবিধ

দশমীর বিশেষ ভোগে ভিড় উপচে পড়ল গৌরী পালবাড়ী পূজা মন্ডপে।

দঃ দিনাজপুর, নিজস্ব সংবাদদাতাঃ- বালুরঘাটের গৌরী পালবাড়ী পূজা মন্ডপে বিজয়া দশমীতে বাপের বাড়ি থেকে কৈলাসে ফিরে যাবার আগে দেবীকে পান্তা ভাতের সাথে বোয়াল মাছ ও রাইখোর মাছ ভাজা ভোগ দেওয়া হয় :-

বালুরঘাটের গৌরী পালবাড়ী পূজা মন্ডপে বিজয়া দশমীতে বাপের বাড়ি থেকে সন্তানদের নিয়ে কৈলাসে স্বামীর ঘরে ফিরে যাবার আগে দেবীকে পান্তা ভাতের সাথে বোয়াল মাছ ও রাইখোর মাছ ভাজা ভোগ দেওয়া হয়। দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার প্রাচীন দুর্গাপুজোগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো বালুরঘাটের গৌরী পালবাড়ী পূজা মন্ডপের পুজো। আনুমানিক সাড়ে তিনশো বছরেরও বেশি সময় ধরে বালুরঘাটের গৌরী পালবাড়ী পূজা মন্ডপে বিজয়া দশমীতে ধর্মীয় রীতিনীতি মেনে নিষ্ঠা সহকারে পান্তা ভাতের সাথে লেবু লঙ্কা দিয়ে বোয়াল মাছ ও রাইখোর মাছ ভাজা ভোগ দেওয়া হয়। বিজয়া দশমীতে এই পান্তা ভাতের ভোগ পাওয়ার জন্য দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ এসে ভিড় করে গৌরী পালবাড়ী পূজা মন্ডপে। এখানে মহানবমীতেও দুপুরে মাকে অন্ন ভোগের সাথে আত্রেয়ী নদীর রাইখোর মাছ ও বোয়াল মাছ ভোগ দেওয়া হয়। এই বিষয়ে সরাসরি শুনে নেব পুজো কমিটির সদস্য মাধব সরকারের কাছ থেকে —

Share This
Categories
বিবিধ

দশমীর সিঁদুর খেলায় মাতলেন কোয়েল মজুমদার, খুশি বালুরঘাটবাসী।

দঃ দিনাজপুর, নিজস্ব সংবাদদাতাঃ- দুর্গাপূজা মানেই বাঙালির আচার-অনুষ্ঠানের উৎসব। তারই অঙ্গ সিঁদুর খেলা। দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাট শহরের ঐতিহ্যবাহী শংকর স্মৃতি মন্দির প্রাঙ্গণে বৃহস্পতিবার দুপুরে সেই সিঁদুর খেলায় সামিল হলেন সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারের স্ত্রী কোয়েল মজুমদার।

বেলা প্রায় বারোটার সময় তিনি মন্দিরে পৌঁছে স্থানীয় গৃহবধূদের সঙ্গে সিঁদুর খেলায় যোগ দেন। মায়ের চরণে প্রণাম করার পর গৃহবধূদের কপালে সিঁদুর পরিয়ে দুর্গার কাছে সবার মঙ্গল কামনা করেন তিনি।

মন্ত্রী পত্নীকে কাছ থেকে দেখে এবং সিঁদুর খেলায় তাকে অংশ নিতে দেখে স্বভাবতই খুশি এলাকার বাসিন্দারা। অনেকে আবার কোয়েল দেবীর সঙ্গে ছবি তুলে সেই মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দি করেন।

Share This
Categories
বিবিধ

আনন্দ-আড্ডায় পরিণত হলো এক বড় পরিবার, বিদায়ের ক্ষণে হাসিখুশিতে মুখর দিপালী নগর।

দঃ দিনাজপুর, নিজস্ব সংবাদদাতাঃ- বালুরঘাট শহরের দিপালী নগর এলাকার বিনায়ক অ্যাপার্টমেন্টে আজ মহালয়ার পর থেকে চলা আনন্দঘন পুজোর সমাপ্তি ঘটল সিদূর খেলায়। প্রতিবারের মতো এবছরও মায়ের বিদায় বেলায় আবাসনের মহিলারা একে অপরকে সিদূর পরিয়ে মাতলেন আনন্দে। দুই বছর আগে শুরু হওয়া এই পুজো আজ আবাসনের অন্যতম বড় মিলনমেলা হয়ে উঠেছে। পুজোর চারদিনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আড্ডা আর একসঙ্গে কাটানো সময়ে প্রতিবেশীরা যেন পরিণত হয়েছিলেন এক বড় পরিবারে। আজ বিদায়ের ক্ষণেও হাসি-খুশির আবহেই ভেসে উঠল পুরো আবাসন চত্বর। উপস্থিত মহিলারা জানালেন, মায়ের আগমন মানেই আনন্দ আর মায়ের বিদায় মানেই অপেক্ষা—আবার আসার আশায়।

Share This
Categories
বিবিধ

আত্রেয়ী নদীতে নিরাপদ বিসর্জন: হাইড্রোলিক ট্রলি থেকে পরিবেশ রক্ষার উদ্যোগ।

বালুরঘাট, দক্ষিণ দিনাজপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা :- দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাটে আত্রেয়ী নদীতে বিসর্জন চলছে। জেলা পুলিশ ও বালুরঘাট পৌরসভার তত্ত্বাবধানে।
এই মুহূর্তে একে একে প্রতিমা আসতে শুরু করেছে নদীর ঘাটে। পৌরসভার হাইড্রোলিক ট্রলি এবং ম্যানুয়ালি প্রতিমা বিসর্জন চলছে।
পরিবেশ দূষণের দিকেও নজর রাখা হয়েছে পৌরসভার পক্ষ থেকে। ভুল বেলপাতা আলাদা স্থানে সংগ্রহের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি নদীতে প্রতিমা বিসর্জনের সাথে সাথেই তুলে ফেলা হচ্ছে সেই প্রতিমা।

Share This
Categories
বিবিধ

দশমীর আনন্দে মাতলেন রাজনৈতিক ও সমাজকর্মী নেতারা।

নিজস্ব সংবাদদাতা, মালদা—- বিজয়া দশমীতে সিঁদুর খেলায় মাতলেন বিজেপির বিধায়ক গোপালচন্দ্র সাহা ও পুরাতন মালদহ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি রুম্পা রাজবংশী সরকার। পুরাতন মালদহের সমাজ কল্যাণ সমিতিতে এই মুহূর্তে চলছে সিঁদুর খেলা ও নাচ।

Share This
Categories
প্রবন্ধ বিবিধ রিভিউ

গোয়ার দুধসাগর জলপ্রপাত – প্রকৃতির এক বিস্ময়।।

গোয়া মানেই সাধারণত বিচ, নাইটলাইফ আর পার্টি কালচার – কিন্তু প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য গোয়ার অন্যতম রত্ন হলো দুধসাগর জলপ্রপাত (Dudhsagar Waterfalls)। পশ্চিমঘাট পর্বতের কোলে অবস্থিত এই জলপ্রপাত যেন প্রকৃতির এক অপূর্ব উপহার, যা প্রতি বছর অসংখ্য পর্যটককে তার দিকে টেনে আনে।


🏞️ অবস্থান ও সৌন্দর্য

দুধসাগর জলপ্রপাত গোয়া ও কর্ণাটকের সীমান্তে অবস্থিত। এটি ভারতের অন্যতম উঁচু জলপ্রপাত – প্রায় ৩১০ মিটার (১০১৭ ফুট) উঁচু থেকে জল নেমে আসে চার ধাপে। দূর থেকে তাকালে মনে হয় যেন পাহাড় বেয়ে দুধের স্রোত নেমে আসছে, তাই এর নাম “দুধসাগর” – অর্থাৎ দুধের সাগর

বর্ষার সময় যখন মন্ডোভী নদীর জলপ্রবাহ তীব্র হয়, তখন জলপ্রপাতের সৌন্দর্য চরমে পৌঁছায়। চারপাশের সবুজ বন, ঝোপঝাড় আর পাহাড়ের গর্জন মিলিয়ে এক স্বর্গীয় দৃশ্য তৈরি করে।


🚆 যাত্রা ও রোমাঞ্চ

দুধসাগর ভ্রমণের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর অংশ হলো সেখানে পৌঁছানো।

  • ট্রেনপথে: মাদগাঁও থেকে কোল্লেম (Kulem) বা কাসেলরক (Castle Rock) পর্যন্ত ট্রেন ধরে তারপর জঙ্গলপথে হেঁটে যাওয়া যায়। অনেকেই ট্রেনের জানলা থেকে জলপ্রপাতের দৃশ্য দেখতে পছন্দ করেন।
  • জিপ সাফারি: কোল্লেম থেকে জিপ সাফারি নিয়ে জঙ্গলের মধ্য দিয়ে অ্যাডভেঞ্চার ভ্রমণের অভিজ্ঞতা পাওয়া যায়।

🐾 প্রকৃতি ও বন্যপ্রাণী

দুধসাগর জলপ্রপাত ভগবান মহাবীর ওয়াইল্ডলাইফ স্যাংচুয়ারির অংশ। তাই এখানে বানর, হরিণ, পাখি, এমনকি বন্য মোষের ঝাঁকও দেখা যায়। প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য এটি এক স্বর্গরাজ্য।


📸 ফটোগ্রাফির স্বর্গ

জলপ্রপাতের কাছাকাছি গেলে চারপাশে জলকণা ছড়িয়ে পড়ে, যা এক অদ্ভুত অনুভূতি তৈরি করে। এখানে দাঁড়িয়ে ছবি তোলা, ভিডিও করা এক অনন্য অভিজ্ঞতা – বিশেষত ট্রেন যখন জলপ্রপাতের সামনের সেতু পেরিয়ে যায়, তখন সেই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরার জন্য অনেক পর্যটক অপেক্ষা করে।


🏖️ ভ্রমণ টিপস

  • সেরা সময়: জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর (বর্ষাকাল) – জলপ্রপাত তখন সবচেয়ে মনোমুগ্ধকর থাকে।
  • নিরাপত্তা: বৃষ্টির সময় পিচ্ছিল পথ সাবধানে চলতে হবে।
  • প্রস্তুতি: সঙ্গে জলরোধী ব্যাগ, হালকা খাবার ও ক্যামেরা রাখতে ভুলবেন না।

🏁 উপসংহার

দুধসাগর জলপ্রপাত শুধু একটি প্রাকৃতিক বিস্ময় নয়, এটি এক অনন্য অ্যাডভেঞ্চার। জঙ্গলের পথ, পাহাড়ের সৌন্দর্য আর গর্জনরত জলপ্রপাতের দৃশ্য আপনার মনকে পরিপূর্ণ আনন্দ দেবে। গোয়া ভ্রমণে যদি একটু অফবিট অভিজ্ঞতা চান, তাহলে দুধসাগর জলপ্রপাত আপনার ট্রাভেল লিস্টে অবশ্যই থাকা উচিত।

Share This